জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : চতুর্থ অধ্যায় (শেষ পর্ব)

6279312949_42dd205dc1_b

বিস্ময়কর হাওয়াই দ্বীপের হানিক্রিপাররা। Hawaiian honeycreepers. মাঝখানে তরুন Laysan finch আর ঘড়ির কাটার দিক অনুযায়ী উপর থেকে: Hawai’i ‘akepa, Maui parrotbill, po’ouli, i’iwi, Maui ‘alauahio and ʻakiapōlāʻau. [Cover, Current Biology, volume 21, issue 22 (8 November 2011)]. Image: H. Douglas Pratt [velociraptorise].

6305462557_05d4b731c1
The Nihoa finch, Telespiza ultima, dines on birds’ eggs, arthropods, flowers and seeds. (Image: Jack Jeffrey.)

6305462811_7109d2ee5d_z
Hawai’i ʻAkepa, Loxops coccineus. This species has a crossed bill that it uses to pry open leafbuds to extract tiny caterpillars.
mage: Jack Jeffrey.

6305986830_df02ba0959
‘I’iwi, Vestiaria coccinea, is a nectarivorous species. Image: Jack Jeffrey.

6305986920_6a67afd810_z
Akiapōlāʻau, Hemignathus munroi, is a passerine version of the woodpecker, feeding on insects hiding within the branches of trees.

time-calibrated mitochondrial-genome phylogeny  অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে জানা গেছে প্রাচীন রোস ফিন্চ যারা ৭.২ মিলিয়ন আর ৫.৮ মিলিয়ন বছর আগে হাওয়াইতে বসতি গড়েছিল, তাদের থেকে বিবর্তিত হয়েছে েএই বিচিত্র হানিক্রিপার রা, যারা দ্বীপের নানা ইকোলজিক্যাল নীশ দখল করে আছে।

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : চতুর্থ অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)

(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব ;  দ্বিতীয় পর্ব ; তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব , দ্বিতীয় পর্ব , তৃতীয় পর্ব , শেষ পর্ব
চতুর্থ অধ্যায়: প্রথম পর্ব ; দ্বিতীয় পর্ব

জীবনের ভুগোল

দ্বীপ..

কোন দ্বীপে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীদের বিস্তারের এর প্যাটার্ণে যে বিবর্তনের স্বপক্ষে চুড়ান্ত কিছু প্রমান দেয় এটি অনুধাবন করতে পারাটি জীব বিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অনুসন্ধানী গবেষনার ফসল। আর এটাও ডারউইনেরই কাজ, যার ধারনাগুলো এখন বায়োজিওগ্রাফীর ক্ষেত্রে প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। তার অরিজিন (The Origin) বইটির ১২ তম অধ্যায়ে ডারউইন একের পর এক তথ্য উপস্থাপন করেন। বহু বছরের কষ্টসাধ্য পর্যবেক্ষন, বিভিন্ন গবেষকদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে সযত্নে সংগ্রহ করা সেই সব প্রমান দিয়ে দুর্দান্ত মেধাবী কোন আইনজীবির মত তিনি তার ধারনা স্বপক্ষে এই কেসটি তৈরী করেন। আর যখন আমি আমার ছাত্রদের বিবর্তন তত্ত্ব পড়াতে যাই, এটাই আমার প্রিয় লেকচার। যেন প্রায় এক ঘন্টা দীর্ঘ রহস্য রোমানঞ্চ কাহিনী, যেখানে আপাতদৃষ্টিতে সংযোগহীন সব উপাত্ত পরিশেষে একীভুত হয়ে তৈরী করে বিবর্তনের পক্ষে অকাট্য প্রমান।

কিন্তু সেই সব প্রমানে যাবার আগে আমাদের দুই ধরনের দ্বীপ এর মধ্যে পার্থক্য করা দরকার। প্রথমটি হলো মহাদেশীয় বা কন্টিনেন্টাল (Continental) দ্বীপ, যে দ্বীপগুলো কোন একসময় মহাদেশের সাথে যুক্ত ছিল এবং পরে তারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে  সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বাড়ার কারনে, যা সেই স্থল সংযোগ সেতুকে নিমজ্জিত করেছিল পানির নীচে কিংবা সেই পৃথক হবার কারণ কন্টিনেন্টাল বা মহাদেশীয় প্লেট এর অবস্হান পরিবর্তন। এরকম কিছু দ্বীপের উদহারণ, যেমন বৃটিশ দ্বীপপুন্জ্ঞ, জাপান, শ্রীলঙ্কা, তাসমানিয়া আর মাদাগাষ্কার ইত্যাদি; কিছু যেমন অনেক প্রাচীন ( মাদাগাষ্কার আফ্রিকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে ১৬০ মিলিয়ন বছর আগে), অন্যগুলো আরো নবীন ( গ্রেট ব্রিটেন ইউরোপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে ৩০০,০০০ বছর আগে, খুব সম্ভবত কোন বিশাল বন্যার কারনে যা উত্তরে কোন আটকে থাকা হৃদের বাধ ভাঙ্গার কারনে ঘটেছিল); ওসিয়ানিক বা সামুদ্রিক (Oceanic) দ্বীপগুলো আবার ব্যতিক্রম, কারন তারা কখনই কোন মহাদেশ এর অংশ ছিল না, তারা সমুদ্রতলদেশ থেকেই সৃষ্টি হয়েছে, শুরুতে যেখানে কোন প্রাণের অস্তিত্ব থাকে না, যেমন ক্রমেই বাড়তে থাকা আগ্নেয়গিরি বা প্রবাল প্রাচীর। হাওয়াই দ্বীপপুন্জ্ঞ, গালাপাগোস দ্বীপপুন্জ্ঞ, সেন্ট হেলেনা এবং হুয়ান ফারনানডেজ গ্রুপ, যা এই অধ্যায়ের শুরুতেই বর্ণনা করেছিলাম।

বিবর্তনের ’দ্বীপ’ সংক্রান্ত যুক্তি শুরু হয় এই পর্যবেক্ষনটি দিয়ে: ওসিয়ানিক বা সামুদ্রিক দ্বীপগুলো অনেক ধরনের স্থানীয় বা নেটিভ প্রজাতির অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যাদের আমরা বিভিন্ন মহাদেশ ও মহাদেশীয় দ্বীপগুলোয় দেখতে পাই। যেমন হাওয়াই এর কথা ধরুন, একটি ক্রান্তীয় দ্বীপপুন্জ্ঞ, যার সবগুলো দ্বীপের মোট স্থলসীমা প্রায় ৬৪০০ বর্গ মাইল, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের চেয়ে সামান্য একটু ছোট। যদিও হাওয়াই দ্বীপে স্থানীয় পাখি, উদ্ভিদ আর কীট পতঙ্গ র নানা প্রজাতির উপস্থিতি আছে যথেষ্ট, কিন্তু সেখানে সম্পুর্ণভাবে অনুপস্থিত স্থানীয় বা নেটিভ কোন সুপেয় পানির মাছ, সরীসৃপ আর স্থলবাসী স্তন্যপায়ী প্রজাতির প্রানী। নেপোলিয়নের সেন্ট হেলেনা এবং হুয়ান ফারনানদেজ এ এই একই শ্রেনীর প্র্রজাতিগুলোও অনুপস্থিত। কিন্তু সেখানে প্রচুর পরিমান স্থানীয় উদ্ভিদ, পাখি আর কীট পতঙ্গ প্রজাতি আছে। গালাপাগোস দ্বীপপুন্জে অল্প কিছু স্থানীয় বা নেটিভ সরীসৃপ প্রজাতি আছে ( যেমন স্থল এবং সামুদ্রিক ইগুয়ানা, এছাড়া বিখ্যাত জায়ান্ট টরটয়েস কা কচ্ছপরা); কিন্তু সেখানেও অনুপস্থিত স্থানীয় স্তন্যপায়ী, উভচরী আর মিঠা পানির মাছ। বার বারই প্রশান্ত মহাসাগর আর দক্ষিন আটলান্টিক, ভারত মহাসাগরে এর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দ্বীপগুলোয় আমরা একই প্যাটার্নেরই পুনরাবৃত্তি ,সেখানে কিছু গ্রুপের স্থানীয় প্রজাতির প্রানীদের অনুপস্থিতি এবং আরো বিশেষভাবে লক্ষ্য করার বিষয় যে  একই প্রানী গ্রুপগুলোর অনুপস্থিতি।

শুরুতে এই অনুপস্থিতি মনে হতে পারে আজব। আপনি যদি এমন কি খুব ক্রান্তীয় মহাদেশ বা মহাদেশী দ্বীপের এর কোন একটি অংশ বেছে নেন, যেমন পেরু, নিউ গিনি, জাপান, আপনি প্রচুর পরিমানে স্থানীয় মাছ, উভচরী, সরীসৃপ আর স্তন্যপায়ী প্রানীদের খুজে পাবেন।

ডারউইন ব্যাপারটা লক্ষ্য করেছিলেন যে, বিভিন্ন শ্রেনীর প্রজাতিদের উপস্থিতির এই বৈষম্যটা সৃষ্টিবাদী মতবাদের আলোকে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব: যিনি এমন কোন মতবাদে বিশ্বাস করেন যা দাবী করে প্রতিটি প্রজাতি সৃষ্টি হয়েছে পৃথক পৃথকভাবে, তাদের স্বীকার করতেই হবে যে যথেষ্ট সংখ্যক খুব ভালোভাবেই অভিযোজন করতে সক্ষম এমন প্রজাতির প্রানী সৃষ্টি করা হয়নি এই সব সামুদ্রিক দ্বীপগুলোতে।” কিন্তু আমরা কিভাবে জানলাম যে, স্তন্যপায়ী, উভচরী আর মিঠাপানির মাছরা আসলেই সামুদ্রিক দ্বীপে খুব ভালোভাবে খাপ খাওয়াতে সক্ষম? হয়তো সৃষ্টিকর্তা তাদের সেখানে সৃষ্টি করেননি কারন তারা সেখানে ভালোভাবে টিকে থাকতে পারবে না এমন কি হতে পারেনা? এই ধরনের প্রশ্নের একটি স্পষ্ট উত্তর হচ্ছে, মহাদেশীয় দ্বীপগুলোয় এই সব প্রজাতির প্রানীদের উপস্থিতি আছে, তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা কেনই বা সামুদ্রিক আর মহাদেশীয় দুধরণের দ্বীপে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের প্রজাতি সৃষ্টি করবেন? দ্বীপ কিভাবে সৃষ্টি হচ্ছে সেই বিষয়টির তো কোন প্রভাব থাকার কথা না। কিন্তু ডারউইন তার উপরের মন্তব্যটি শেষ করেছিলেন আরো উত্তম একটি প্রত্যুত্তরে: ’কারণ মানুষ কোন উদ্দেশ্য ছাড়াই এই সব দ্বীপগুলোকে নানা অনুপস্থিত প্রজাতির প্রাণী দিয়ে পরিপুর্ণ করেছে আরো নিখুত আর ব্যপকভাবে যা প্রকৃতি নিজে করতে পারেনি।’

অন্যার্থে, স্তন্যপায়ী, উভচরী, মিঠাপানির মাছ এবং সরীসৃপ সামুদ্রিক দ্বীপগুলোতে প্রায়ই দেখা যায় খুবই ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারে যখন মানুষ তাদের এই নতুন পরিবেশে নিয়ে আসে। এমনকি বাস্তবিকভাবেই দেখা যায় যে তারা তাদের ব্যপক বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে এমনকি প্রায় অবলুপ্ত করে দেয় স্থানীয় প্রজাতির জীবদের। মানুষের সাথে নিয়ে আসা ছাগল আর শুকর হাওয়াই দ্বীপে লাগামহীন বংশ বিস্তার করেছে, বহু স্থানীয় উদ্ভিদকে তারা তাদের খাদ্য বানিয়েছে প্রায় বিলুপ্তির পথে নিয়ে গেছে। এছাড়া একইভাবে মানুষের সঙ্গে আসা আনা ইদুর কিংবা বেজী হাওয়াই এর বহু স্থানীয় দুর্লভ পাখিদের ধ্বংস করেছে ইতিমধ্যে কিংবা তাদের কারে প্রায় অবলুপ্ত হবার পথে হাওয়াই দ্বীপের অসাধারণ পাখির প্রজাতিদের। কেন টোড (Cane Toad)  বিশালাকার বড় বিষাক্ত এই উভচরী প্রানী যারা মুলত ক্রান্তীয় আমেরিকার স্থানীয় প্রজাতি, তাদের হাওয়াই দ্বীপের আখের ক্ষেতে বীটল পোকা দমনে ব্যবহার করার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল, তারা এখন রীতিমত পেষ্ট, সংখ্যায় বেড়েছে বহুগুনে, বহু কুকুর আর বিড়ালরা এদেরকে তাদের খাদ্য ভেবে খেয়ে মারা পড়ছে অহরহ। গালাপাগোস দ্বীপপুন্জ্ঞে কোন স্থানীয় উভচরী প্রানী নেই, কিন্ত একটি ইকুয়েডোরিয়ার ট্রি ফ্রগ, যাদের এই দ্বীপে আনা হয়েছিল, ১৯০০ সালে, তারা নিজেদের ভালোভাবে স্থায়ী করে নিয়েছে এখানকার তিনটি দ্বীপে। আফ্রিকার পশ্চিম উপকুলে সাও তোমে আগ্নেয় দ্বীপে যেখানে আমি আমার গবেষনার জন্য ফ্রুট ফ্লাই সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম, সেখানে কালো কোবরা সাপের অনুপ্রবেশ ঘটেছিল আফ্রিকার মুল মহাদেশ থেকে হয়তো আকস্মিকভাবেই। তারা সেখানে এতই ভালোভাবে টিকে গেছে যে আমরা দ্বীপের কোন কোন জায়গায় কাজ করতে পারিনি, কারন তাদের সংখ্যা এখন সেখানে এত বেশী যে, যে কোন দিনে আমি কমপক্ষে ডজন খানেক এইসব ভয়ঙ্কর আর আগ্রাসী মনোভাবের সাপের দেখা পাবেন। স্থলবাসী স্তন্যপায়ীরা দ্বীপের পরিবেশে খুবই ভালো ভাবে টিকে থাকে। হুয়ান ফারনানদেজে কোন একসময় বাইরে থেকে নিয়ে আসা ছাগলরা  আলেকজান্ডার সেলকার্ককে সাহায্য করেছিল সেখানে টিকে থাকার জন্য। এবং তাদের দারুন বংশবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায় সেন্ট হেলেনা দ্বীপেও। সারা পৃথিবী জুড়েই একই কাহিনী। মানুষের মাধ্যমে নতুন কোন অনুপ্রবেশ করা প্রজাতিগুলো সামুদ্রিক দ্বীপে, যেখানে আগে তাদের অস্তিত্বই ছিল না, সেখানে স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতিদের সরিয়ে বা ধ্বংশ করে খুব সহজেই তারা বংশ বৃদ্ধি করতে পারে। তাহলে স্পষ্টতই সৃষ্টিবাদীদের যুক্তি যে, সামুদ্রিক দ্বীপগুলো কোন না কোন ভাবে স্তন্যপায়ী,উভচরী,সরীসৃপ আর মাছের জন্য উপযুক্ত না আসলে নীরিক্ষায় টেকে না।

এই যুক্তির পরবর্তী পর্যায় হচ্ছে এটি: যদিও সামুদ্রিক দ্বীপগুলোয় অনেক মুল গ্রুপের প্রজাতির অনুপস্থিতি থাকে ঠিকই, কিন্তু যে গ্রুপগুলো পাওয়া যায় তাদের মধ্যে প্রায়শই ব্যাপক বৈচিত্র দেখা যায়, বিশেষ করে অসংখ্য সদৃশ প্রজাতির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। গালাপাগোস দ্বীপের কথা ধরুন, সেখানে ২৮ ধরনের পাখির প্রজাতি আছে যা আর কোথাও দেখা যায় না। এবং এই ২৮ টির মধ্যে ১৪ টি একটি পরস্পর সদৃশ খুব নিকটবর্তী পাখি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত: বিখ্যাত গালাপাগোস ফিন্চ। কোন মহাদেশ বা মহাদেশী দ্বীপে পাখি কুলের এরকম একটি মাত্র পাখি, ফিন্চদের এত ব্যপক প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়না। তারপও তাদের ফিন্চ সদৃশ বৈশিষ্ট থাকা সত্ত্বেও, পরিবেশগত ভাবে গালাপোগোসে এই পাখিদের গ্রুপ কিন্তু আসলেই ভীষন বৈচিত্রময়। যেখানে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতি ভিন্ন ভিন্ন খাদ্য যেমন পোকামাকড়, বীজ, অন্য প্রজাতির ডিম ইত্যাদি খাদ্য হিসাবে গ্রহন করার জন্য বিশেষায়িত হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে। কার্পেন্টার ফিন্চ, হচ্ছে সেই সব দুর্লভ পাখিদের একটি, সাধারন কোন টুল বা যন্ত্র ব্যবহার করে, যন্ত্রটি এক্ষেত্রে হচ্ছে কাকটাসের কাটা বা কোন গাছের ভাঙ্গা ডাল, তারা সেটি ব্যবহার করে গাছের বাকলের নিচে লুকিয়ে থাকা পোকামাকড় বের করে খাওয়ার জন্য। কার্পেন্টার ফিন্চ এখানে কাঠ ঠোকরাদের সেই পরিবেশগত শুন্যস্থান দখল করেছে, যাদের অস্তিত্ব গালাপাগোস দ্বীপে নেই। এমনকি সেখানে ভ্যামপায়ার ফিন্চও আছে যারা সামুদ্রিক পাখিদের পেছনে খোচা মেরে সেই ক্ষত থেকে রক্ত চুষে খায়।

হাওয়াই তে আরো বহু বিচিত্র প্রজাতিগত বিভাজন দেখা যায় পাখিদের,  যেমন হানিক্রিপারদের ক্ষেত্রে। যখন পলিনেশীয় মানুষরা ১৫০০ বছর আগে হাওয়াই এ এসে বসতি গড়েছিল, তখন তারা দেখেছিল মাত্র  ১৪০ টি স্থানীয় পাখি প্রজাতি (আমরা এটি জানতে পারি, পাখিদের সাব ফসিল নিয়ে গবেষনার মাধ্যমে যা প্রাচীন আবর্জনার স্তুপে আর লাভা টিউবের মধ্যে সংরক্ষিত হয়ে আছে); এর প্রায় ৬০ টি, প্রায় অর্ধেক পাখির প্রজাতিদের মধ্যে আসলে হানিক্রিপার। যারা সবাই একটি মাত্র ফিন্চের বংশধর যা এই দ্বীপে এসেছিল প্রায় চার মিলিয়ন বছর আগে। দু:খজনকভাবে মাত্র ২০ প্রজাতির হানিক্রিপার এখন বেচে আছে  সবগুলো বিলুপ্তপ্রায়। বাকীগুলো ধ্বংস হয়েছে অতি শিকার, বাসস্থান ধ্বংশ এবং মানুষের নিয়ে আসা শিকারী প্রানী যেমন ইদুর আর বেজী র কারনে। কিন্তু এমনকি যে কয়টি প্রজাতি অবশিষ্ট আছে তারাও সেই বিস্ময়কর ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশগত দ্বায়িত্ব পালনের জন্য বিশেষায়িত প্রজাতি রুপ নানা বৈচিত্রতার স্বাক্ষ্য দেয় (যেমন ছবিতে); পাখির ঠোট আমাদের তার খাদ্য সম্বন্ধে অনেক কিছু বলে। কোন কোন প্রজাতির বাকা ঠোট আছে ফুলের মধু খাবার জন্য। আবার কারো কারো মোটা খাটো টিয়া পাখির মত ঠোট আছে শক্ত বীজ ভেঙ্গে খাবার জন্য বা গাছের ডাল ভাঙ্গার জন্য এছাড়া অন্য কারো সরু পাতলা সুচোলো ঠোট আছে গাছের পাতার ভীড়ে পোকা খুজে খাবার জন্য। এবং কি কারো কারো আকশী র মত বাকানো ঠোট আছে গাছের গর্তের মধ্য থেকে পোকা বের করে খাবার জন্য, ঠিক কাঠঠোকরা অন্য জায়গায় যে কাজটা করে। ঠিক গালাপাগোস এর মতো আমরা একটি গ্রুপকে দেখি সংখ্যায় আর বৈচিত্রে প্রাধান্য বিস্তার করতে, যেখানে প্রজাতিরা সুনির্দিষ্ট পরিবেশগত স্থান দখল করে রেখেছে, মহাদেশীয় দ্বীপ বা মহাদেশে যা করছে সম্পুর্ণ ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতিরা।

31-08-2013 7-25-10 PM
((((((একটি অভিযোজনীয় রেডিয়েশন, Hawaiian honeycreepers দের কিছু সম্পর্কযুক্ত প্রজাতি যা এই দ্বীপে বসতি গাড়া ফিন্চ অনুরুপ কোন পাখি পুর্বসুরী থেকে বিবর্তিত হয়েছে। প্রতিটি ফিন্চ এর একটি বিশেষ ধরনের ঠোট আছে যা তারা ব্যবহার করে তাদের জন্য বিশেষ কোন খাদ্য খাবার জন্য। ‘i’iwi র সরু ঠোট সাহায্য করে লম্বা নলাকৃতি ফুলের মধ্য খেকে মধু খাবার জন্য। আর akepa র খানিকটা বাকানো ঠোট আছে, যা তাদের কোন ফলের বা পাতার কুড়ি খুলে সেখানে লুকানো পোকামাকড় বা মাকড়শা খুজতে সাহায্য করে খাবার জন্য। Maui parrotbill বেশ বড় ভারী শক্ত ঠোট যা গাছের বাকল আর কান্ড খুড়ে বা গাছের ডাল ফেড়ে বীটল দের লার্ভা খুজতে সাহায্য করে আর palila র ছোট তবে শক্ত ঠোট বীজের দানী ভেঙ্গে বীজ খুটে খুটে খেতে সাহায্য করে))))

মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোতে আমরা উদ্ভিদ এবং কীটপতঙ্গদের র‌্যাডিয়েশন (divergence out from a central point, in particular evolution from an ancestral animal or plant group into a variety of new forms) লক্ষনীয়। সেন্ট হেলেনা, যেখানে বহু গ্রুপের কীটপতঙ্গ নেই ঠিকই, কিন্তু সেখানে খুব ছোট উড়তে পারেনা এমন বীটলদের ( বিশেষ করে উড উইভিল) বহু বিরল প্রজাতির দেখা মেলে।এছাড়া হাওয়াই দ্বীপপুন্জে, যে গ্রুপটিকে আমি স্টাডি করেছি, Drosophila  জীনাসের ফ্রুট ফ্লাই, তারা সেখানে ব্যপকভাবে বৈচিত্রময়। যদিও হাওয়াই দ্বীপ পৃথিবীর মুল ভুখন্ডের মাত্র শতকরা ০.০০৪ ভাগ, কিন্তু পৃথিবীতে পাওয়া যায় এমন Drosophila  র ৪০০০ প্রজাতির অর্ধেক প্রজাতিই সেখানেই পাওয়া যায়। এবং হুয়ান ফারনানডেজ এ দেখা যায় সুর্যমুখী পরিবারে উদ্ভিদের বিস্ময়কর ব্যপক বৈচিত্রময়তা আর সেন্ট হেলেনায় তাদের কোন কোনটা কাঠের কান্ড সহ বৃক্ষরুপও নিয়েছে। শুধুমাত্র সামুদ্রিক কোন দ্বীপে কোন ছোট ফুলের গাছ, যাদের বড় কোন গুল্ম বা গাছের সাথে কোন প্রতিদ্বন্দীতা করতে হয়না, তারাই ‍ বড় আকারের বৃক্ষের রুপে বিবর্তিত হয়।

এপর্যন্ত আমরা দুই সেট ফ্যাক্ট জানলাম সামুদ্রিক দ্বীপগুলো নিয়ে: সেখানে অনেক গ্রুপের প্রজাতির অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যারা মহাদেশগুলোতে আর মহাদেশীয় দ্বীপগুলোয় আমরা সাধারণত ব্যপকহারেই দেখি। এবং তারপরও অল্পকিছু যে গ্রুপগুলো আমরা সামুদ্রিক দ্বীপগুলোয় দেখি, আমরা দেখতে পাই বহু সদৃশ রুপ প্রজাতি দিয়ে দ্বীপগুলো তাদের সেই শুন্যস্থান পুরণ করে। এই দুটি পর্যবেক্ষন একই সাথে আমাদের দেখায় যে, পৃথিবী অন্য কোন অঞ্চল এর তুলনায়, সামুদ্রিক দ্বীপগুলোয় জীবনের বন্টনে ভারসাম্যহীন। আর বায়োজিওগ্রাফীর যে কোন তত্ত্বই শুধু পারে এই দৃশ্যমান বৈষম্যটিকে ব্যাখ্যা করতে।

কিন্তু আরো কিছু আছে এখানে। নীচের এই তালিকাটি লক্ষ্য করুন, এখানে সেই গ্রুপের প্রানীদের নাম আছে যাদের সামুদ্রিক নানা দ্বীপে প্রায়ই স্থানীয়ভাবে আমরা খুজে পাই আর যেগুলো আমরা সেখানে পাই না (হুয়ান ফারনানদেজ হচ্ছে এই গুচ্ছ দ্বীপগুলোর একটি মাত্র যা এই সুত্র মেনে চলে);

table

উপরের এই দুই কলামের মধ্যে পার্থক্যটা কি? একটু ভাবলে উত্তর মিলবে। প্রথম কলামে প্রজাতিগুলো একটি সামুদ্রিক দ্বীপে তাদের বসতি গড়তে পারবে অনেক দুরত্ব অতিক্রম করে বিস্তার হবার মাধ্যমে।দ্বিতীয় কলামের প্রজাতিগুলোর এই ক্ষমতা নেই। পাখিরা উড়ে সমুদ্রের উপর দিয়ে অনেক দুর অতিক্রম করতে পারে, তারা তাদের সাথে শুধু নিজেদের ডিমই না বহু উদ্ভিদের বীজও বহন করে আনতে পারে যা তারা খাদ্য হিসাবে খেয়েছে যেগুলো তারা তাদের পাকস্থলীতে করে বহন করে আনতে পারে ( যা অঙ্কুরোদগম হতে পারে তাদের মলের সাথে নির্গত হবার মাধ্যমে), তাদের পালকে তারা বহন করতে পারে পরজীবি কোন প্রানী এবং তাদের পায়ে লাগা কাদার সাথে আসতে পারে আরো ক্ষুদ্র কোন প্রানী। উদ্ভিদরা কোন দ্বীপে  এসে হাজির হতে পারে বীজ হিসাবে, বহু দুর সাগরে পানিতে ভেসে। কাটা সহ বা আঠালো বীজ কোন দ্বীপে আসতে পারে পাখির পালকের সাথে বাহিত হয়ে। ফার্ণের ছত্রাক আর মস এর হালকা স্পোর বহু দুর বাতাসে ভেসে আসতে পারে। কিছু পতঙ্গও পারে উড়ে বা বাতাসে ভেসে আসতে।

এর বীপরিত, দ্বিতীয় কলামে প্রানীরা সাগরের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কোন দ্বীপে বসতি গড়তে পারেনা। আর বেশীর ভাগ উভচরী আর মিষ্ট পানির মাছ নোনা জলে বাচতে পারে না।

সুতরাং সামুদ্রিক দ্বীপে আমরা যে সব প্রজাতি দেখি তারা আসলেই সেই সব প্রজাতির প্রানী, যারা বহুদুর কোন দুরবর্তী এলাকা থেকে সমুদ্র অতিক্রম করে সেই দ্বীপে এসে বসতি গড়তে পারে। কিন্তু প্রমান কি তারা এভাবেই আসতে পারে? প্রতিটি পক্ষীবিশারদ জানেন মাঝে মাঝে কোন অতিথি পাখি তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান থেকে হাজার মাইল দুরে খুজে পাওয়া যায়, বাতাসের কারনে কিংবা ‍ক্রটিপুর্ণ নেভিগেশনের ফলে। কিছু পাখি এমনকি বহু প্রাচীন কাল থেকেই কিছু সামুদ্রিক দ্বীপে প্রজননের জন্য বসতি স্থাপন করেছে। পার্পল গালিনিউল ( Purple Gallinule), যেমন বহু দুরের দ্বীপ দক্ষিন আটলান্টিকের Tristan da Cunha র অকস্মাৎ ক্ষনকালীন অতিথি হিসাবে আসতো, পরে তারা সেখানে প্রজনন শুরু করে ১৯৫০ এর দশকে।

ডারউইন নিজেও খুব সরল কিন্তু অসাধারণ কিছু পরীক্ষা করে দেখিয়েছিলেন যে কোন কোন উদ্ভিদের বীজ সমুদ্রের পানিতে বহু সময় ডুবে থাকার পরও অঙ্কুরোদগম হতে পারে। ওয়েষ্ট ইন্ডিজ থেকে গাল্ফ স্রোতের সাথে ভেসে আসা বীজ পাওয়া গেছে সুদুর স্কটল্যান্ডে। এবং এই ’ভেসে আসা বীজ’ অন্য কোন মহাদেশ বা দ্বীপ থেকে দক্ষিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপের তীরেও পাওয়া যায়। খাচায় বন্দী পাখি তাদের পাকস্থলীতে উদ্ভিদের বীজ ধরে রাখতে পারে এক সপ্তাহ বা তারও বেশী, যা প্রমান করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়া সম্ভব এভাবে। বহু সফল পরীক্ষা প্রমান করে দেখিয়েছে উড়োজাহাজ বা জাহাজে বিশেষ ট্র্যাপ ব্যবহার করে বাতাস থেকে কীট পতঙ্গ সংগ্রহ করে শুমারী করা সম্ভব। সেই সব প্রজাতির মধ্যে আছে লোকাষ্ট, মথ, প্রজাপতি, মাছি, আফিড আর বীটলরা। চার্লস লিন্ডবার্গ ১৯৩৩ সালে আটলান্টিক এর উপর দিয়ে ওড়ার সময় কাচের মাইক্রোস্কোপ স্লাইড বাতাসে উন্মুক্ত করেছিলেন, যেখানে আটকে গিয়েছিল অসংখ্য প্রানী আর কীটপতঙ্গের অংশ বিশেষ। অনেক মাকড়শা তাদের তরুন বয়সে তাদের তৈরী জালের প্যারাসুট এ বেলুনিং এর মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এই ভেসে থাকা উড়ন্ত মাকড়শাদের কোন নিকটবর্তী স্থল থেকে বহু শত মাইল দুরেও পাওয়া গেছে।

প্রানী এবং উদ্ভিদ কোন দ্বীপে পাড়ি জমাতে পারে, ভেলায়, কাঠের গুড়ি কিংবা কোন ভেসে থাকা উদ্ভিদের সমষ্টির মাধ্যমে, সাধারণত নদীর মুখ থেকে। ১৯৯৫ সালে এরকম  প্রায় ২০০ মাইল দুর থেকে, একটি বিচ্ছিন্ন আর উপড়ে পড়া উদ্ভিদের ভেলায়, খুব সম্ভবত কোন হারিকেন বয়ে নিয়ে এসেছিল ১৫ টি গ্রীন ইগুয়ানা, ক্যারীবিয় দ্বীপ অ্যাঙগিলায়, যেখানে এদের আগে তাদের কখনোই দেখা যায়নি। বড় ডগলাস ফার গাছের গুড়ি উত্তর আমেরিকা থকে ভেসে এসেছে হাওয়াই দ্বীপে, দক্ষিন আমেরিকার গাছের গুড়ি দেখা গেছে তাসমানিয়ায়। এই ধরনের রাফটিং বা ভেলায় ভেসে আসা ব্যাখ্যা করে মাঝে মাঝে কিছু সামুদ্রিক দ্বীপে খুজে যাওয়া স্থানীয় সরীসৃপ প্রজাতিদের উপস্থিতি, যেমন, গালাপাগোস ইগুয়ানা এবং টরটয়েস।

এছাড়া আপনি যদি কীটপতঙ্গ ও বৃক্ষের প্রকার লক্ষ্য করেন যারা সামুদ্রিক দ্বীপে স্থানীয়, দেখা যায় আসলে তারা সেই সব গ্রুপের সদস্য কোন অঞ্চলে বসতি গড়ার জন্য  যারা খুব দক্ষ। বেশীর ভাগ কীটপতঙ্গেই আকারে ছোট, ঠিক যেগুলো অনায়াসে বাতাস বহন করে আনতে পারে। আগাছা জাতীয় উদ্ভিদদের তুলনায় বড় বৃক্ষ অপেক্ষাকৃত ভাবে দুর্লভ সামুদ্রিক দ্বীপগুলোতে। এবং অবশ্যম্ভাবী কারণটি হচ্ছে বহু বৃক্ষের বীজ ভারী আর বড় যা না পারে বাসতে এবং পাখিরাও তাদের খায় না ( নারিকেল, আর এর হালকা ভাসতে পারে এমন বীজ উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম, যা প্রায় সকল প্রশান্ত মহাসাগরী ও ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপে দেখা যায়। গাছের অপেক্ষাকৃত দুষ্প্রাপ্যতা আসলে ব্যাখ্যা করে কেন অনেক উদ্ভিদ যা কিনা খর্বকায় আগাছা গুল্মের মত আকার নেয় মহাদেশে, তারা দ্বীপে বিবর্তিত হয় কাঠ সহ গাছের মত আকার ধারণ করার মাধ্যমে।

স্থল নিবাসী স্তন্যপায়ী প্রানীরা নতুন দ্বীপে বসতি স্থাপন করতে তেমন দক্ষ না আর সেই কারনেই সামুদ্রিক দ্বীপে তাদের অুনপস্থিতি লক্ষ্য করার মত। কিন্তু সেখানে একেবারে কোন স্তন্যপায়ী প্রানী নেই তা কিন্তু না। এই বিষয়টি দুটি ব্যতিক্রম আলোচনায় নিয়ে আসে যা মুল সুত্রের ব্যতিক্রম তবে সুত্রটিকেই প্রমান করে। এটি লক্ষ্য করেছিলেন ডারউইন নিজে:

 যদিও স্থানীয় স্থলবাসী স্তন্যপায়ীরা সামুদ্রিক দ্বীপে দেখা যায় না, তবে উড্ডয়নক্ষম স্তন্যপায়ীদের দেখা যায় প্রায় প্রত্যেকটি দ্বীপেই।নিউজিল্যান্ডে দেখা মিলবে দুটি বাদুড় প্রজাতির যাদের আর কোনখানেই দেখা যাবে না। নরফোক দ্বীপ, ভিটি দ্বীপপুন্জ্ঞ  বনিন দ্বীপপুন্জ্ঞ, কারোলাইন আর মারিয়ান দ্বীপপুন্জ্ঞ এবং মরিশাস, সব দ্বীপের নিজস্ব বৈশিষ্টপুর্ণ বাদুড় প্রজাতি আছে। তাই এই প্রশ্নটি করা যেতে পারে যে, কেন এই দুর দুর্গম দ্বীপে ধারনাকৃত সৃষ্টিশীল শক্তি বাদুর সৃষ্টি করতে পারেন কিন্তু অন্য কোন স্তন্যপায়ী সৃষ্টি করতে পারেননি? আমার  দৃষ্টিভঙ্গীতে এই প্রশ্নটির উত্তর খুব সহজে দেয়া যেতে পারে; কারন কোন স্থলবাসী স্তন্যপায়ী প্রানী সাগরের বিশাল ‍দুরত্ব অতিক্রম করে প্রাকৃতিকভাবে এই দুর্গম পথ পাড়ি দিতে পারেনা, কিন্তু বাদুড় যা উড়ে অতিক্রম করতে পারে।

আর পানি নিবাসী বা জলজ স্তনপায়ীরও দেখা মেলে দ্বীপে। হাওয়াই এর একটি আছে, স্থানীয় মঙ্ক সীল এবং হুয়ান ফারনানদেজ এর আছে স্থানীয় ফার সীল। যদি কোন একটি দ্বীপের নিবাসী স্তন্যপায়ীরা সৃষ্টি না হয়ে থাকে বরং তারা এখানে বসতি স্থাপনকারী প্রানীদের বিবর্তিত উত্তরসুরী, সেক্ষেত্রে আপনি ভবিষ্যদ্বানী করতে পারেন সেই সব পুর্বসুরী স্তন্যপায়ী হয় উড়তে জানতো কিংবা সাতার কাটতে জানতো।

অবশ্যই  একটা বিষয় স্পষ্ট যে কোন একটি বিশেষ প্রজাতির এই অনেক দুরত্ব অতিক্রম করে একটি দ্বীপে এসে বসতি স্থাপন করার খুব নৈমিত্তিক কোন ঘটনা হতে পারেনা। কোন একটি পতঙ্গ বা পাখি র শুধুমাত্র যে বিশাল সমুদ্র পথ পাড়ি দিয়ে কোন একটি স্থলে বা দ্বীপে আসবে এবং সেখানে পৌছে বংশ বৃদ্ধি করতে পারবে এই সম্ভাবনা অবশ্যই খুব বেশী হবার কথা না ( এর জন্য প্রয়োজন নিষিক্ত ডিম বহন কারী স্ত্রী প্রানী অথবা কমপক্ষে দুজন বীপরিত লিঙ্গের সদস্য); এবং এই বিস্তার যদি খুব নিয়মিত কোন ঘটনা হতো তাহলে সামুদ্রিক দ্বীপে জীবনের বিস্তার মহাদেশ কিংবা মহাদেশীয় দ্বীপগুলোর মতই হতো। তবে যাই হোক বেশীর ভাগ সামুদ্রিক দ্বীপের বয়স বহু মিলিয়ন বছর, যথেষ্ট সময় কিছু না কিছু  বসতি স্থাপনের জন্য। প্রানীবিজ্ঞানী  জর্জ গ্রেলর্ড সিম্পসন মন্তব্য করেছিলেন, ’কোন একটি ঘটনা যা একেবারে অসম্ভব না সেটাই সম্ভাব্য হতে পারে যদি যথেষ্ট সময় যদি অতিক্রান্ত হয়।’ একটি অনুকল্পীয় উদহারণ ধরা যাক, একটি নির্দিষ্ট প্রজাতি যার প্রতি বছর এক মিলিয়নে মাত্র একবার সম্ভাবনা আছে কোন দ্বীপে বসতি স্থাপন করার জন্য, খুব সহজে দেখানো যেতে পারে বেশ বড় সম্ভাবনা আছে এক মিলিয়ন বছর পর কোন একটি দ্বীপে অন্তত একবার বসতি স্থাপন করা হয়েছে : ৬৩ শতাংশ, যদি সঠিক সংখ্যাটি জানতে চান।

আর একটি চুড়ান্ত পর্যবেক্ষন যা দ্বীপে বিবর্তনের প্রক্রিয়াটিকে পাকাপোক্ত করে তা হলো: খুব সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, কোন একটি সামুদ্রিক দ্বীপে লক্ষ্য করা যায় এমন সব উদ্ভিদ আর প্রানী প্রজাতিগুলো তাদের নিকটবর্তী মুল ভুখন্ডে দেখা প্রজাতিদের সদৃশ। এটি সত্যি যেমন, গালাপাগোস দ্বীপপুন্জ্ঞ, যাদের প্রজাতিরা দুক্ষিন আমেরিকার পশ্চিম উপকুলে বসবাসকারী প্রজাতি সদৃশ। এই সদৃশ্যতা কিন্তু ব্যাখ্যা করা সম্ভব না সৃষ্টিবাদীদের যুক্তি ব্যবহার করে, যে দ্বীপ আর দক্ষিন আমেরিকার জলবায়ু, ভুপ্রকৃতি সদৃশ সেকারনে সেখান স্বর্গীয়ভাবে সৃষ্ট প্রজাতিরাও সদৃশ, কারন গালাপাগোস কিন্তু শুষ্ক, বৃক্ষহীন, আগ্নেয়শিলায় তৈরী, যা দক্ষিন আমেরিকার ক্রান্তিয় আবহাওয়া্র আর ভুপ্রকৃতির সাথে কোন মিল নেই। ডারউইন খুব চমৎকারভাবে এই বিষয়টি বর্ণনা দিয়েছেন:

 কোন প্রকৃতিবিদ, এই ধরনের প্রশান্ত মহাসাগরের আগ্নেয়দ্বীপগুলো, যারা নিকটবর্তী কোন মহাদেশ থেকে কয়েক শত মাইল দুরে অবস্থিত, অধিবাসীদের দিকে তাকিয়ে অনুধাবন করতে পারেন তিনি আমেরিকার ভুখন্ডেই হয়তো দাড়িয়ে আছেন। কেন এমন মনে হবে ? কেন এমন সব প্রজাতি যাদের নাকি গালাপোগোস দ্বীপপুন্জ্ঞে সৃষ্টি হয়েছে অন্যকোথাও না, তারা কেন যে প্রজাতিগুলো আমেরিকায় সৃষ্টি হয়েছে তাদের সাথে সেই সদৃশ্যতার সুস্পষ্ট চিহ্ন বহন করবে? দ্বীপের ভুতাত্ত্বিক প্রকৃতি, তাদের উচ্চতা, জলবায়ু, জীবনের পরিস্থিতি বা যে হারে নানা শ্রেনী একই সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে তার কোনটাই দক্ষিন আমেরিকার উপকুলের সাথে তেমন বিশেষ কোন মিল নেই বরং বাস্তবিকভাবে অমিলই উল্লেখযোগ্য এই প্রতিটি ক্ষেত্রে। এই সব বাস্তব তথ্যগুলো কোন ধরনের স্বতন্ত্র ভাবে সৃষ্টি হবার সাধারণ ধারনার ব্যাখ্যার সাথে মানানসই নয়, বরং যে দৃষ্টিভঙ্গীটা এখানে ধারণ করা হয়েছে  তা হলো খুবই স্পষ্ট যে গালাপাগোস দ্বীপপুন্জগুলো আমেরিকার ভুখন্ড থেকে বসতি স্থাপনকারী প্রজাতিদের গ্রহন করেছে অতীতের কোন একটি সময়ে, হতে পারে তা আকস্মিক কোন পরিবহনের মাধ্যমে বা ( যদিও আমি এই মতবাদে বিশ্বাস করিনা) ইতিপুর্বে কোন একসময় বিদ্যমান স্থল সংযোগ এর মাধ্যমে। এই সব বসতি স্থাপনকারী প্রজাতিরা বাধ্য পরিবর্তিত হবার জন্য, তবে বংশধারার ‍মুলনীতিগুলো তারপরও তাদের মুল জন্মস্থানটি উন্মোচন করে।

যা গালাপাগোস এর জন্য সত্য তা অন্যান্য সামুদ্রিক দ্বীপগুলোর জন্যও সত্য। হুয়ান ফারনানদেজ দ্বীপের স্থানীয় উদ্ভিদ আর প্রানীর সবচেয়ে নিকটবর্তী স্বজনরা এসেছে দক্ষিন আমেরিকার দক্ষিনাংশের টেম্পারেট বনভুমি থেকে, সবচেয়ে কাছে মহাদেশীয় ভুখন্ড। হাওয়াই এর বেশীর ভাগ প্রজাতিরা সদৃশ ( তবে হুবুহু একই না) নিকটবর্তী ইন্দোপ্রশান্ত মহাসাগরীয় ভুখন্ডের বসবাসরত প্রজাতির মত- যেমন ইন্দোনেশিয়া, ফিজি,সামোয়া আর তাহিতি বা আমেরিকা থেকে। এখন বাতাস আর সমুদ্র স্রোতের অকস্মাৎ নানা পরিবর্তন মাথায় রেখেই আমরা এমন কোন আশা করিনা যে প্রতিটি দ্বীপে বসতি স্থাপনকারী প্রজাতিরা এসেছে তাদের নিকটবর্তী উৎস থেকে। হাওয়াই এর ৪ শতাংশ উদ্ভিদ আর প্রানী যেমন তাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী স্বজন প্রজাতি আছে সাইবেরিয়া বা আলাস্কায়। তা সত্ত্বেও কোন দ্বীপের উদ্ভিদ ও প্রানীকুলের প্রজাতিদের নিকটবর্তী ভুখন্ডের প্রজাতিদের সাথে সাদৃশ্য অবশ্যই ব্যাখ্যার দাবী রাখে।

মোট কথা হচ্ছে, সামুদ্রিক দ্বীপগুলো এমন কিছু বৈশিষ্ট আছে যা তাদের মহাদেশ ও মহাদেশী দ্বীপগুলো থেকে ভিন্ন করে। সামুদ্রিক দ্বীপের জীবজগতে বা বায়োটায় একধরনের ভারসাম্যহীনতা আছে – কারন সেখানে প্রধান প্রধান কিছু গ্রুপের জীবের অনুপস্থিতি এবং  একই ভাবে সেই একই গ্রুপগুলোর অনুপস্থিতি দেখা যায় অন্যান্য দ্বীপগুলোয়। কিন্তু সামুদ্রিক দ্বীপে যে প্রজাতিগুলো থাকে, সেখানে দেখা যায় অনেকগুলো সদৃশ বা অনুরুপ প্রজাতিদের উপিস্থিতি- একটি রেডিয়েশন বা বহুবিভাজন, এবং তারা হচ্ছে সেই প্রকারের প্রজাতি, যেমন পাখি আর পতঙ্গ, যারা কিনা সমু্দ্রের উপর দিয়ে বেশ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পারে। এবং সামুদ্রিক দ্বীপে বাস করা প্রজাতিদের সদৃশ প্রজাতি সাধারণত পাওয়া যায় নিকটবর্তী মুল ভুখন্ডে এমনকি যদি তাদের বসবাসস্থান অনেক ভিন্ন।

এই সবকিছুকে কিভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব? এই ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব খুব সরল বিবর্তনীয় ব্যাখ্যায়: সামুদ্রিক দ্বীপের অধিবাসী প্রজাতিরা হচ্ছে এই দ্বীপে আগেই বসতি স্থাপনকারী প্রজাতিদের উত্তরসুরী, মুলত তারা এখানে এসেছিল নিকটবর্তী কোন মহাদেশ থেকে এবং কদাচিৎে ক্ষেত্রে আরো দুর থেকে। একবার সেখানে বসতি গাড়ার পর এই আকস্মিক বসতি স্থাপনকারীরা বিবর্তিত হয়েছে আরো অনেক প্রজাতিতে কারন সামুদ্রিক দ্বীপগুলো অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন ধরনে শুন্য পরিবেশগত হ্যাবিটেট এর সুযোগ দেয়, যেখানে কোন প্রতিদ্বন্দীও থাকে না, তেমনি শিকারী প্রানীও থাকে না।এটাই ব্যাখ্যা করে কেন প্রজাতিকরণ এবং প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্বীপে প্রায় উন্মত্তের মত কাজ করে, নানা ধরনের অভিযোজনীয় প্রজাতি বিভাজন বা অ্যাডাপটিভ রেডিয়েশনের সৃষ্টি করে, যেমন হাওয়াই এর হানিক্রিপাররা। সবকিছু ব্যাখ্যা যোগ্য হয় যদি আপনি এখানে অ্যাক্সিডেন্টাল বা আকস্মিক বিস্তার এর বিষয়টি যোগ করেন, যা আমরা জানি এখানে ঘটছে, ডারউইনীয় নির্বাচন, বিবর্তন আর সাধারণ বংশঐতিহ্য ও প্রজাতিকরণ প্রক্রিয়াগুলোর সাথে। সংক্ষেপে সামুদ্রিক দ্বীপগুলো বিবর্তনীয় তত্ত্বের প্রতিটি মুল সুত্রকে প্রদর্শন করে।

মনে রাখা খুব জরুরী যে এইসব প্যাটার্ণ সাধারণত দেখা যায়না মহাদেশীয় দ্বীপগুলোয় ( আমরা কিছুক্ষনের মধ্যে এর ব্যতিক্রম নিয়ে আলোচনা করবো), যেখানে সেই সব প্রজাতিদেরই দেখা যায় যা সেই সব মহাদেশেও দেখা যায়, যার সাথে তারা একসময় যুক্ত ছিল। গ্রেট ব্রিটেনের উদ্ভিদ আর প্রানীরা যেমন, অনেক বেশী ভারসাম্যময় একটি পরিবেশ সৃষ্টি করে। যেখানে সেই সব প্রজাতিরা আছে যারা বহুলাংশে মুল ইউরেোপ ভুখন্ডে দৃশ্যমান প্রজাতিদের মতই। সামুদ্রিক দ্বীপগুলোর ব্যতিক্রম মহাদেশীয় দ্বীপগুলো বিচ্ছিন্ন হয়েছে প্রজাতিদের সেখানে থাকা অবস্থাতেই।

এখন একটা তত্ত্ব কল্পনা করার চেষ্টা করুন, যা এই প্যটার্ণটা ব্যাখ্যা করবে যা আমরা আলোচনা করলাম, বিশেষভাবে আলাদা আলাদা ভাবে সামুদ্রিক আর মহাদেশে দ্বীপে  প্রজাতি সৃষ্টি করার ধারণাটি দিয়ে। কেন একজন সৃষ্টিকর্তা সামুদ্রিক দ্বীপে উভচরী, স্তন্যপায়ী, মাছ আর সরীসৃপ সৃষ্টি করেননি কিন্তু  সেই কাজটি তিনি করেছেন মহাদেশীয় দ্বীপগুলোতে? কেনই বা সৃষ্টিকর্তা সামুদ্রিক দ্বীপে সদৃশ প্রজাতির রেডিয়েশন সৃষ্টি করবে যা মহাদেশীয় দ্বীপে দেখা যায় না? আর কেনই বা সামুদ্রিক দ্বীপগুলোর প্রজাতিরা তাদের নিকটবর্তী ভুখন্ডের প্রজাতিদের সদৃশ? এর কোন ভালো উত্তর সৃষ্টিবাদীরা দিতে পারবেন না, যদি না অবশ্যই আপনি ধরে নেন যে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্য হচ্ছে সেই সব প্রজাতি সৃষ্টি করা যাদের দেখলে মনে হবে তারা যেন দ্বীপেই বিবর্তিত হয়েছে।  কেউই উৎসাহী নয় এই উত্তর মেনে নেবার জন্য, এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করে কেন সৃষ্টিবাদীরা দ্বীপ সংক্রান্ত  বায়োজিওগ্রাফি সন্তর্পনে এড়িয়ে যায়।

আমরা এখন আরো একটি চুড়ান্ত ভবিষ্যদ্বানী করতে পারি। অনেক পুরোনো মহাদেশীয় দ্বীপগুলো, যারা তাদের নিকর্টবর্তী মুল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে বহু সময় আগে সেখানে আমাদের এমন বিবর্তীয় প্যাটার্ণ লক্ষ্য করা উচিত  যা কিনা নতুন কোন  অপেক্ষাকৃত নবীন মহাদেশীয়  দ্বীপ আর সামুদ্রিক দ্বীপগুলোর মাঝামাঝি একটি পর্যায়ে আছে। প্রাচীন মহাদেশীয় দ্বীপগুলো যেমন মাদাগাস্কার এবং নিউজীল্যান্ড তাদের মুল মহাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে যথাক্রমে ১৬০ আর ৮৫ মিলিয়ন বছর আগে- তারা বিচ্ছ্নি হয়েছে অনেক গ্রুপ, যেমন প্রাইমেট এবং আধুনিক উদ্ভিদ বিবর্তনের আগেই। একবার যখন এই দ্বীপগুলো মুল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তাদের কিছু পরিবেশগত নীশ অপুর্ণ থেকে যায়। আর এটাই উন্মুক্ত করে দেয় পরবর্তীতে বিবর্তিত প্রজাতিদের সফলতার সাথে বসতি স্থাপন আর বংশ বিস্তার করা জন্য। তাই আমরা ধারনা করতে পারি, যে এই সব পুরোনো মহাদেশীয় দ্বীপগুলোয় কিছুটা ভারসাম্যহীন উদ্ভিদ ও প্রানীর সমারোহ দেখতে পারা উচিৎ এবং সত্যিকারের সামুদ্রিক দ্বীপগুলোতে যে বিশেষ বৈশিষ্ট চোখে পড়ে তার সাথে কিছু মিলও পাওয়া যায়।

এবং আসেলেই ঠিক এটাই আমরা দেখতে পাই। মাদাগাষ্কার বিখ্যাত তার ভিন্ন ভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ আর প্রানীদের জন্য,যেখানে অসংখ্য স্থানীয় উদ্ভিদ আমরা দেখি এবং অবশ্যই উল্লেখযোগ্য এর অন্যন্য লেমুর প্রজাতিরা – সবচেয়ে প্রাচীনতম এই প্রাইমেট প্রজাতি, যাদের পুর্বসুরী মাদাগাস্কারে প্রায় ৬০ মিলিয়ন বছর আগে এসে বিবর্তিত হয়েছে ৭৫ টি স্বতন্ত্র স্থানীয় ভাবে দেখা যায় এমন প্রজাতিতে। নিউ জীল্যান্ডও, সেখানে অসংখ্য স্থানীয় প্রজাতি আছে, সবচেয়ে বিখ্যাত  এর উড্ডয়নঅক্ষম পাখি প্রজাতিরা, বিশালাকৃতির মোয়া, প্রায় ১৩ ফুট লম্বা এই দানবাকৃতির পাখিটি শিকারের কারনে বিলুপ্ত হয়ে ১৫০০ সালের আগে,  কিউ ই, মোটাসোটা মাটিতে বসবাস কারী টিয়া পাখি কাকাপো। সামুদ্রিক দ্বীপের ভারসাম্যহীনতা আমরা নিউজীল্যান্ডেও দেখতে পাই। কারন এখানেও অল্প কয়েকটি স্থানীয় সরীসৃপ ও একটি মাত্র উভচরী প্রজাতি ও দুটি স্থানীয় স্তন্যপায়ী ( দুটোই বাদুড়, যদিও কিছুদিন আগে একটি ক্ষুদ্রাকৃতির স্তন্যপায়ীর জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে); প্রজাতিররেডিয়েশন আমরা এখানেও দেখতে পাই। প্রায় ১১ প্রজাতি মোয়া এখানে ছিল, তারা সবাই বিলুপ্ত এখন।  এবং সামুদ্রিক দ্বীপগুলোর মতই মাদাগাষ্কার আর নিউ জীল্যান্ডের বসবাস কারী প্রজাতিরা যথাক্রমে তাদের নিকটবর্তী ভুখন্ড যথাক্রমে আফ্রিকা আর অষ্ট্রেলিয়ার সাথে সম্পর্কযুক্ত।

_____________________ শেষ চতুর্থ অধ্যায়

Advertisements
জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : চতুর্থ অধ্যায় (শেষ পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s