জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

ছবি:  উপরে: Opuntia জীনাসের Opuntia littoralis var. vaseyi  (প্রিকলী পিয়ার ক্যাকটাস) ; নীচে: Ferocactus cylindraceus (ব্যারেল ক্যাকটাস)
Cacti দের প্রায় ১৬০০ প্রজাতি আছে, যারা আমেরিকার ( New World) মরু অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দা। Cactaceae পরিবার খুবই বৈচিত্রময়, তারা বিবর্তিত হয়েছে  Rhodocactus এবং Pereskia সদৃশ উদ্ভিদ থেকে। পাতা হারানো আর মাংশল সালোক সংশ্লেষন সক্ষম কান্ড দুটি মুল ক্যাকটাস গ্রুপেই স্বতন্ত্রভাবে বিবর্তিত হয়েছে : Opuntioidea ( যেমন  the prickly pear cactus Opuntia cochenillifera যাদের চ্যাপ্টা প্যাডের মত কান্ড) এবং আরো বিবর্তিত Cactoidea ( যেমন the barrel cactus Ferocactus acanthodes); মরুভুমির মত আবহাওয়ায় এদের সফলভাবে বেচে থাকার জন্য দায়ী করা হয় তাদের পরিবহন নালীকার (vascular) বিবর্তনকে। কান্ডের স্ফীতি বা Stem succulence , পত্রহীনতা, (যা কন্টকে রুপান্তরিত হয়) ক্যাকট্যাস দের মধ্যেই কনভার্জেন্ট বৈশিষ্ট ( একই ধরণের প্রাকৃতিক নির্বাচনী চাপ যখন একই ধরনের বৈশিষ্ট সৃষ্টি করে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতিতে); অথচ আমরা এই একই ধরনের বৈশিষ্ট দেখতে পাই পুরোনো পৃথিবী.. আফ্রিকা কিংবা এশিয়ার মরুভুমির দেখা অন্যান্য সাকুলেন্ট দের মধ্যে যেমন: Euphorbiaceae আর Asclepiadaceae দের মধ্যে। এবার নীচের ছবি দেখুন:

উপরে Euphorbia resinifera , মরোক্কোর স্থানীয় এই উদ্ভিদটি কিন্তু ক্যাকটাস না, এটি ক্যাকটাসের মত একই বৈশিষ্ট বিবর্তিত করেছে একই ধরনের প্রাকৃতিক নির্বাচনী চাপে। নীচের ছবিটি Euphorbia enopla , দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় এরাও ইউফর্ব। সৃষ্টিবাদীরা যারা দাবী করেন বিভিন্ন প্রজাতি সৃষ্টি হয়েছে আলাদা আলাদা ভাবে তারা বায়োজিওগ্রাফীর এই সব প্রমানগুলোকে না দেখার ভান করেন। কেন একজন বুদ্ধিমান সৃষ্টি কর্তা এই আবহাওয়ার উপযোগী ভিন্ন প্রজাতির সব উদ্ভিদ সৃষ্টি করবেন, যাদের বাইরে থেকে দেখতে একই রকম দেখতে লাগে।  নতুন পৃথিবী ( আমেরিকা) র ক্যাকটাস আর পুরোনো পৃথিবী ( আফ্রিকা যেমন) র ইউফর্বরা মৌলিক ভাবে ভিন্ন অথব এই দুই সাকুলেন্ট গ্রুপের উদ্ভিদরা একই ধরনের কিছু বৈশিষ্ট প্রদর্শন করে। এটি ব্যাখ্যা করা সম্ভব শুধু বিবর্তনের ধারণা দিয়েই । Euphorbiaceae পরিবারের প্রায় ৭৫০০ প্রজাতি আছে, ক্যাকটাসদের সাথে সবচেয়ে বেশী মিল দেখা যায় Euphorbia জীনাসের ৮৫০ টি সাকুলেন্ট। মুলত তারা আফ্রিকার আদিবাসী। ক্যাকটাসের যেমন পানির মত রস থাকে এদের আছে বিষাক্ত সাদা রস ( এটি অবশ্য কনভার্জেন্ট বিবর্তনের আরেকটি উদহারণ) ; ক্যাকটাসের সাথে এদের আলাদা করার আরেকটি উপায় হচ্ছে  ফুলের গঠন। তবে তাদের সাকুলেন্ট আর CAM ফটোসিনথেটিক কান্ড বিস্ময়করভাবে ক্যাকটাই দের মত।

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : চতুর্থ অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)
(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব ;  দ্বিতীয় পর্ব ; তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব , দ্বিতীয় পর্ব , তৃতীয় পর্ব , শেষ পর্ব
চতুর্থ অধ্যায়: প্রথম পর্ব

জীবনের ভুগোল
মহাদেশ:

একটি বিশেষ পর্যবেক্ষন দিয়ে শুরু করি, যে বিষয়টি যারা অনেক জায়গায় ভ্রমন করেছেন তাদেরও দৃষ্টি আকর্ষন করেছে। আমি যদি দুটো এলাকায় যান, যারা ভৌগলিকভাবে বহু দুরে অবস্থিত তবে তাদের একই ধরনের ভৌগলিক গঠন আর জলবায়ুর  সদৃশ্যতা আছে, সেখানে আপনি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের সব জীবন দেখবেন। মরুভুমির কথা ধরুন, অনেক মরুভুমির উদ্ভিদই আসলে সাকুলেন্ট (Succulents: In botany, succulent plants, also known as succulents or sometimes fat plants, are plants having some parts that are more than normally thickened and fleshy, usually to retain water in arid climates or soil conditions. Succulent plants may store water in various structures, such as leaves and stems.) জাতীয় উদ্ভিদ: তারা কিছু বিশেষ অভিযোজনীয় কৌশল ব্যবহার করে, মরুভুমির বৈরী পরিবেশে টিকে থাকতে, যেমন আকারে বড়, ফোলা মাংশল কান্ড যেখানে পানি জমা থাকে, শিকারী প্রানী থেকে বাচার জন্য থাকে কাটা, খুব ছোট বা পাতা থাকেই না পানি যেন না হারায়। কিন্তু বিভিন্ন মরুভুমিতে বিভিন্ন ধরনের সাকুলেন্ট জাতীয় উদ্ভিদদের দেখা যায়, দক্ষিন আর উত্তর আমেরিকার মরুভুমিতে সাকুলেন্ট রা হচ্ছে ক্যাকটাস পরিবারের। কিন্তু এশিয়া অষ্ট্রেলিয়া আর আফ্রিকায় তারা আবার সম্পুর্ণ ভিন্ন পরিবারের সদস্য, ইউফর্বস (Euphorbia)। আপনি দুই ধরনের সাকুলেন্ট এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন, তাদের ফুল এবং তাদের স্যাপ বা কান্ড রস দিয়ে, ক্যাকটাসে যা স্বচ্ছ পানির মত, ইউফর্ব দের তা দুধের মত, স্বাদে যা তেতো। এইসব মৌলিক কিছু পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ক্যাকটাস আর ইউফর্বরা দেখতে প্রায় একই রকম, আমার জানালায় দুই ধরনের সাকুলেন্ট আছে, এবং ট্যাগ ছাড়া তাদের পার্থক্য করতে পারবেন না অনেকেই।

কেনই বা কোন সৃষ্টিকর্তা  মৌলিকভাবে আলাদা কিন্তু দেখতে প্রায় একই রকম দুই ধরনের উদ্ভিদের সৃষ্টি করলেন, পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়, যে জায়গাগুলোর ভুপ্রাকৃতিক ও জলবায়ু আর পরিবেশগতভাবে একই রকম? একই প্রজাতির গাছগুলোকে একই ধরনের মাটি আর পরিবেশগতভাবে  জায়গায় সৃষ্টি করাটা কি তার জন্য বুদ্ধিমানের মত কাজ হতো না?

Continue reading “জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)”

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

MMR ভ্যাক্সিন আর অটিজম বিতর্ক

1098463_10151663597443521_1738257782_n
ছবি: Jeryl Lynn Hilleman with her sister, Kirsten, in 1966 as a doctor gave her the mumps vaccine developed by their father ( Dr. Maurice Hilleman)

বিস্ময়করভাবে এম এম আর (MMR: Mumps,Measles,Rubella Vaccine) ভ্যাক্সিন আর অটিজম এর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক এখনও চলছে। সকল বৈজ্ঞানিক প্রমানের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে শক্তিশালী ভ্যাক্সিন বিরোধী গ্রুপ এর মদদ দিয়ে যাচ্ছে এখনও। সম্প্রতি ফেসবুকেও একটি নিউজ শেয়ার করা হয়েছে, সেখান থেকেই আসলে এই লেখার সুত্রপাত। যারা এই বিতর্কটি সম্বন্ধে জানেন না তাদের জন্য শুরু থেকে শুরু করাই ভালো।
Continue reading “MMR ভ্যাক্সিন আর অটিজম বিতর্ক”

MMR ভ্যাক্সিন আর অটিজম বিতর্ক

The Philosophical Breakfast Club

philosophical-breakfast-club-final-jacket

কিছুটা দেরী হলেও আমি অবশেষে বিজ্ঞান ইতিহাসবিদ ও দার্শনিক ল্যরা স্নাইডার এর অসাধারণ বই , The Philosophical Breakfast Club: Four Remarkable Friends who Transformed Science and Changed the World, বইটি খুজে পেলাম। তবে তার আগে সেখান থেকেই বিজ্ঞানের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপুর্ণ তথ্য জেনে নেই। ১৮৩৩ সাল, জুন মাসের ২৪ তারিখ, he British Association for the Advancement of Science ( সংক্ষেপে ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন) এর তৃতীয় বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেদিন ছিল এই বার্ষিক সভার প্রথম দিন। সেদিন সেখানে একটি বিতর্ক হয়েছিল, ল্যরা স্নাইডার মনে করেন, সেই বিতর্কটি বিজ্ঞানের অনেক কিছু চিরকালের জন্য বদলে দিয়েছিল। সভা শুরু হবার কিছুক্ষনের মধ্যে একজন বয়স্ক মানুষ উঠে দাড়ালেন কিছু বলবেন বলে.. সবাই খানিকটা হতবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন, মানুষটি দার্শনিক কবি স্যামুয়েল টেলর কোলরীজ (Samuel Taylor Coleridge), যাকে অনেকেই দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে কেউ আসতে দেখেননি। বিস্ময়ের আরো বাকী ছিল, যখন তিনি মুখ খুললেন..

Continue reading “The Philosophical Breakfast Club”

The Philosophical Breakfast Club