রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

0949569001246416251 (1)
ছবি: বায়ে: বারট্রাম বরডেন বোল্টউড (Bertram Borden Boltwood) , ডানে: আর্থার হোমস (Arthur Holmes),  রেডিওমেট্রিক ডেটিং ( রেডিওঅ্যাকটিভ ডেটিং ও বলা হয় মাঝে মাঝে) হচ্ছে যে কৌশল ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা কিছু জিনিস যেমন পাথর এর বয়স নিরুপন করেতে পারেন। এই কাজটি করা হয় পাথরের মধ্যে উপস্থিত প্রাকৃতিক ভাবে পাওয়া যায় এমন তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ ও তাদের ক্ষয় হবার পর যে মৌলটি সৃষ্টি হয় তার একটি তুলনামুলক অনুপাত ব্যবহার করে, যেখানে আমরা সেই তেজষ্ক্রিয় পদার্থটির ক্ষয় হবার হারটি আমাদের জানা। ১৯০৭ সালে রেডিওমেট্রিক ডেটিং প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে দেখাতে সক্ষম হয় পৃথিবী অনেক প্রাচীন ( সেই সময়ের হিসাব অনুযায়ী ২.২ বিলিয়ন বছর, যদিও আমরা আজ জানি পৃথিবী আসলে এর চেয়ে দ্বিগুন প্রাচীন); ১৯০২ সালে আর্ণেষ্ট রাদারফোর্ড এবং ফ্রেরেরিখ সডি প্রথম লক্ষ করেন কিছু রেডিওঅ্যাকটিভ বা তেজষ্ক্রিয় মৌল, যেমন ইউরেনিয়াম এবং থোরিয়াম একটি নির্দিষ্ট এবং পুর্বধারনা করা যায় এমন এটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় ক্ষয় হয়ে ভিন্ন মৌলে রুপান্তরিত হয়; অনেকের কাছে এই তথ্যটি আলকেমীর মত মনে হলেও বারট্রাম বরডেন বোল্টউড (Bertram Borden Boltwood) নামের এক আমেরিকার রসায়নবিকে একটু বেশী কৌতুহলী করে তুলেছিল। তার নিজের এবিষয়ে গবেষনায় তিনি লক্ষ্য করেন ইউরেনিয়াম ও থোরিয়াম খনিজ আকরে সবসময়ই সীসা উপস্থিতি; ১৯০৭ সালে তিনি প্রস্তাব করলেন যে সীসা নিশ্চয়ই  ইউরেনিয়াম আর থোরিয়াম তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়েছে। যেহেতু তিনি জানতেন ইউরেনিয়ামের কি হারে ক্ষয় হয় যার একটি সুচক  হচ্ছে হাফ লাইফ, তিনি কোন ইউরেনিয়াম আকরে ইউরেনিয়াম আর সীসার অনুপাতকে একধরনের সময় নিরুপনের ঘড়ি হিসাবে ব্যবহার করেন, এবং তিনি তার গবেষনায় দেখেন ইউরেনিয়াম আকর এবং সেই সুত্রে আকরটি যেখানে পাওয়া যাচ্ছে ভুত্বক এর বয়স হচ্ছে প্রায় ২.২ বিলিয়ণ। সেই সময় এটি একটি নাটকীয়ভাবে বিশাল একটি সংখ্যা; এরপরে এই দৃশ্যে আসেন একজন বৃটিশ ভুতাত্ত্বিক আর্থার হোমস (Arthur Holmes), ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি বোল্টউড এর টেকনিককে আরো সুক্ষ করে ইউরেনিয়াম-সীসা রেডিওমেট্রিক ডেটিং এর মাধ্যমে সঠিকভাবে একটি ডেভোনিয়ান পর্বের পাথরের বয়স নির্ণয় করেন। এরপরে তিনি এই প্রক্রিয়াটিকে আরো সুক্ষ করে তোলেন, এজন্যই তাকে বলা হয় আধুনিক জিওক্রোনোলজীর জনক। পরবর্তীতে আইসোটোপের আবিষ্কার এবং আরো বেশ কয়েকজনের ( আলফ্রেড ও নাইয়ের) গবেষনায় পৃথিবীর বয়স চল্লিশের দশকেই স্থির হয় ৪.৫ বিলিয়নের কাছাকাছি। পাথরের বয়স নির্ণয়ের সেই প্রক্রিয়া এখন পরিচিত হোমস-হোটারমেন মডেল ( ফ্রিটজ হোটারম্যানস ও হোমস এর নামানুসারে); আর্থার হোমস এর আরেকটি মৌলিক অবদান হলো, তিনি প্রথম প্লেট টেকটোনিক এর মেকানিজম ব্যাখ্যা করেন, আলফ্রেড ওয়াগেনার (Alfred Wegener) এর প্রস্তাবিত যে তত্ত্বটি তখনও বিজ্ঞানীরা আমলে নেননি।

16-05-2013 11-07-38 PM

ছবি: ঘড়ির মত এই ডায়াগ্রামটি ভুতাত্ত্বিক সময় এবং পৃথিবীর ইতিহাসে ঘটা কিছু গুরুত্বপুর্ণ সময়কে নির্দেশ করছে। Hadean বা হেডিয়ার ইয়ন পৃথিবীতে জীবনের জীবাশ্ম আবিষ্কার হবার আগের সময়কে প্রতিনিধিত্ব করে। িএর উপরের সীমা এখন ধারনা করা হয় প্রায় ৪.০ Ga বা গিগাঅ্যানাম ( বা বিলিয়ন) আগে।

373px-Bust_of_William_Smith,_Oxford_University_Museum_of_Natural_History (1)ছবি: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে  উইলিয়াম স্মিথ ( বায়ে) এবং জন ফিলিপস এর আবক্ষ মুর্তি; ১৭৮৭ সালে উইলিয়াম স্মিথ সমারসেট ইংল্যান্ডে এক ভুমি জরিপের কাজ পেয়েছিলেন, সেখানে একটি পুরোনো খনির ভিতরে ও এর আশে পাশে উন্মুক্ত হয়ে থাকা ভুত্বকের স্তরগুলো তার নজর কেড়েছিল, তিনি লক্ষ্য করেন এদের স্তরগুলো তিনি তাদের বৈশিষ্টসুচক কিছু প্রকৃতি দিয়ে আলাদা করা যাচ্ছে। একই রকম স্তরের বিন্যাস সেই জমির আশে পাশেও তিনি দেখেন। ভালো করে আরো পরীক্ষা করার পর তিনি বুঝতে পারেন যে প্রতিটি স্তর আসলে বিশেষ ধরনের শিলা দিয়ে তৈরী এবং তাদের প্রতিটি স্তরেই পাওয়া যাচ্ছে বৈশিষ্টসুচক কিছু জীবাশ্ম।তিনি দেখলেন জিগশ ধাধার মত কোন একটি স্তরের জীবাশ্ম দিয়ে অন্য কোথাও একই স্তরকে শনাক্ত করতে পারছেন। তার এই খুব সাধারণ একটি অর্ন্তদৃষ্টি উইলিয়াম স্মিথ এর তুলে দিয়েছিল পৃথিবী ভুতাত্ত্বিক মানচিত্রের চাবি: পাথর এবং জীবাশ্মরা স্তরে স্তরে বিন্যস্ত থাকে। উইলিয়াম স্মিথ একাই সারা বৃটেনের ভুতাত্ত্বিক মানচিত্রটি তৈরী করে ফেলেন। ভীষন কাজ পাগল সাংসারিক জীবনে অদক্ষ মানুষটা আবিষ্কারের নেশায় উত্তর প্রজন্মকে উপহার দিয়ে যান অসাধারন একটি আবিষ্কার। তার নিজের জীবন ভালো কাটেনি, দেনা শোধ না করতে পেরে তাকে জেল খাটতে হয়েছে, স্ত্রী মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন; কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত না থাকা, পৃষ্ঠপোষকতার কোন নিশ্চয়তা ছাড়াই তিনি তার বিশাল কাজটি করে ফেলেছিলেন, তার সাথে ছিল তার ভাগ্নে জন ফিলিপস, বাবা মা হারা ফিলিপস এর অভিভাবক ছিলেন তিনি। ১৮১৫ সালে তার ম্যাপটি শেষ হলে স্পষ্টতই বোঝা যায় কি অসাধারন কাজটি তিনি করেছেন; কিন্তু দুর্ভাগ্য তখন লন্ডনের জিওলজিকাল সোসাইটির প্রধান ছিলেন জর্জ বেলাস গ্রীনফ, তিনি উইলিয়াম স্মিথকে কোন সমর্থন জানালেন না.. আর ম্যাপটি বিক্রি করে তার দেনা শোধ করারও সম্ভব হয়না। ১৮৩১ সালে অ্যাডাম সেজউইক ( ডারউইনের শিক্ষক) অবশেষে উইলিয়াম স্মিথকে তার প্রাপ্য স্বীকৃতি দেবার ব্যবস্থা করেন। তিনি প্রথম দেখিয়েছিলেন পাথরের সবচেয়ে নীচের স্তর থেকে কিভাবে জীবাশ্ম সবচেয়ে গভীর, অর্থাৎ নীচে থেকে ক্রমাগত উপরে বদলাতে থাকে, তিনি এটাও দেখান যে কিভাবে বিশেষ বৈশিষ্টসুচক জীবাশ্ম কে আমরা ব্যবহার করতে পারি ভুত্বকের স্তরকে যে কোন জায়গায়। আর সবচেয়ে বড় যে অবদান,সেটি হলো তার ভাগ্নে জন ফিলিপসকে শিখিয়ে ছিলেন কিভাবে ভুত্বকের স্তর আর জীবাশ্ম চিনতে হয়। জন ফিলিপস প্রথাবিরুদ্ধ ছিলেন না, তার ছিল অক্সফোর্ডের শিক্ষা..প্রাতিষ্ঠানিক সেই শক্তি নিয়ে তিনি মামার কাজটি শেষ করতে আত্মনিয়োগ করেন, ভুত্বকের যে স্তরগুলো মামা তাকে চিনিয়েছেন, তিনি এর অর্থ খোজার চেষ্টা করেন। তিনি প্রতিটি স্তরের জীবাশ্মদের তালিকা করেন, মামার ম্যাপটি নিয়ে তিনি প্রতিটি স্তরে পাওয়া জীবাশ্মদের বিন্যাসের একটি অর্থ খোজার চেষ্টা করেন। ফিলিপস ই প্রথম সময়ের তিনি এরা কে চিহ্নিত করেন, যেখানে প্রত্যেকটি এরার কিছু নিজস্ব জীবাশ্মর অস্তিত্ত্ব আছে। এই এরা গুলোর মধ্যে পার্থক্য চিহ্নিত হয়েছে সুস্পষ্ট বিভেদরেখায়, যেখানে একটি এরার জীবাশ্মগুলো অন্য একটি এরায় আর দেখা যায় না।যেখানে জায়গা করে নেয় নতুন সব প্রজাতি। এর উপর ভিত্তি করে তিনি প্রধান জিওলজিক্যাল এরার নাম দেন, ১৮৫৫ সালে তার একটি পেপারে তিনি এদের নাম উল্লেখ করেন: Paleozoic, Mesozoic, এবং Cenozoic ; বর্তমানে যে কোন মিউজিয়ামে গেলেই এর গুরুত্ব আপনি বুঝতে পারবেন।

ছবি: জিওলজিক্যাল টাইম স্কেল: উইলিয়াম স্মিথ এবং জন ‍ফিলিপস এর সাথে জর্জ কুভিয়ের,জ্যা দ’ওমালিয়াস দালোয় এবং আলেকজান্ডার ব্রোনিয়ার্ট উনিশ শতকের প্রথমাংশে ভুত্বকের স্তরকে সেখানে থাকা বৈশিষ্টসুচক জীবাশ্ম দিয়ে চিহ্নিত করেছিলেন, যা ভুতত্ত্ববিদদের সহায়তা করেছিল পৃথিবীর ইতিহাসকে শ্রেনীবিভক্ত করার জন্য সারা পৃথিবী জুড়ে ।পুরো প্রক্রিয়াটিতে প্রাধান্য বিস্তার করেছিল বৃটিশ ভুতত্ত্ববিদরা।ভুত্বকের স্তরের নামকরনে তার প্রমাণ আমরা দেখতে পাই, যেমন ক্যাম্ব্রিয়ান ( Cambrian: ওয়েলস এর ঐতিহ্যবাহী নাম), অরডোভিসিয়ার, সিলুরিয়ান, ওয়েলস এর প্রাচীন দুটি গোত্রদের নামের সাথে মিলিয়ে রাখা; ডেভোন এসেছে ইংলিশ কাউন্টি ডেভন থেকে। কার্বনিফেরাস নামটি কয়লার স্তর থেকে আসা, পার্মিয়ান নামটি এসেছে রুশ এলাকা পার্ম এর নামের সাথে যেখানে এই স্তরটি ব্যাখ্যা করেন স্কটিশ ভুতাত্ত্বিক রোডেরিক মার্চিসন ট্রায়াসিক নামটি এসেছে এর তিনটি স্তর থেকে, জুরা পর্বতের সামুদ্রিক লাইমস্টোন থেকে এসেছে জুরাসিক, ক্রিটাশিয়াস ( ক্রিটা মানে চক), ক্যালসিয়াম কার্বনেট এর স্তর থেকে এর নাম; জন ফিলিপস ( উপরে ) এই সব পর্বগুলো এরা এবং নানা সাবডিভিশনে ভাগ করেন, টারশিয়ারী এবং কোয়াটারনারী পর্ব ও ইপোক এ।তিনি প্রথম গ্লোবাল জিওলজিকাল টাইম স্কেল প্রকাশ করেন, প্রতিটি এরায় পাওয়া জীবাশ্মর বিন্যাস লক্ষ্য করে।

জ্যোতির্বিদ দ্বীপেন ভট্টাচার্যের একটি ভিডিও;

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)
তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)
তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

নীরবতা এবং মন্থর সময় ….

চতুর্থ অধ্যায়: তৃতীয় পর্ব

রেডিওঅ্যাকটিভ ঘড়ি:

এবার তেজষ্ক্রিয় বা রেডিওঅ্যাকটিভ ঘড়ির কথা আলোচনা করা যাক ; আমাদের বেছে নেবার মত বেশ অনেকগুলো এধরনের ঘড়ি আছে। এবং আমি যেমনটি বলেছিলাম, সৌভাগ্যক্রমে এরা শতাব্দী থেকে বহু মিলিয়ন বছর পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রত্যেকটিরই একটি ভুল হবার সীমা আছে, সাধারণত যা ১ শতাংশ। সুতরাং আপনি যদি কোন পাথরের বয়স নির্ণয় করতে চান, যার বয়স হতে পারে শত মিলিয়ন বছর, আপনি নিশ্চয়ই ১ মিলিয়ন বছরের ভ্রান্তি সন্তুষ্ট হয়েই মেনে নেবেন। যদি দশ মিলিয়ণ বছরের কোন পাথরের বয়স নির্ণয় করতে চান, তাহলে কম বেশী লক্ষ বছরের ভ্রান্তি আপনাকে মেনে নিতে হবে।

কিভাবে তেজষ্ক্রিয় ঘড়ি কাজ করে সেটা বুঝতে তেজষ্ক্রিয় বা রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ আসলে কি সেটি আগে জানতে হবে। প্রতিটি পদার্থ তৈরী হয় এলিমেন্ট বা মৌল দিয়ে, যারা সাধারণত রাসায়নিক সংযোগের মাধ্যমে অন্য মৌলের সাথে যুক্ত থাকে; প্রায় ১০০ টি মৌল আছে, অবশ্য সংখ্যাটা সামান্য কিছু বেশী হতে পারে যদি আপনি সেই মৌলগুলোকেও গণনা করেন যাদের শুধুমাত্র ল্যাবরেটরীতেই শনাক্ত করা গেছে, এবং কিছুটা কম হবে যদি শুধুমাত্র প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এমন মৌলদের গণনা করেন।

কিছু মৌল’র উদহারন যেমন কার্বন,লোহা,নাইট্রোজেন, অ্যালুমিনিয়াম,ম্যাগনেশিয়াম, ফ্লোরিন, আরগন, ক্লোরিন, সোডিয়াম, ইউরেনিয়াম, সীসা, অক্সিজেন,পটাশিয়াম এবং টিন। পারমানুর বা পারমানবিক তত্ত্ব – আমার মনে হয় সবাই সেটি মেনে নিয়েছেন এমনকি সৃষ্টিবাদীরাও-আমাদের জানাচ্ছে প্রতিটি মৌল’রই তার নিজস্ব বৈশিষ্টসুচক পরমানু বা অ্যাটম আছে, আর অ্যাটম হচ্ছে কোন মৌলের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম অংশ, সেই মৌলর বৈশিষ্ট অক্ষুন্ন রেখে যাকে আর কোন ক্ষুদ্রাংশে বিভাজিত করা সম্ভব না, অ্যাটম দেখতে কেমন, ধরুন সীসার একটি পরমানু বা তামার বা কার্বনের? বেশ, পরমানুর চেহারা কিন্তু তামা, সীসা বা কার্বনের মত না; এটি কোন কিছুর মতই দেখতে না, কারন এটি আপনার রেটিনায় কোন ইমেজ বা ছবি সৃষ্টি করতে পারার মত আকারে বড় না, এবং অতিশক্তিশালী মাইক্রোস্কোপ সাহায্য নিলেও হবে না। আমরা কিছু রুপক বা মডেল ব্যবহার করি অ্যাটমের গঠনের একটি দৃশ্যকল্প কল্পনা করে নেবার জন্য। সবচেয়ে বিখ্যাত মডেলটি প্রস্তাব করেছিলেন ডেনমার্কের পদার্থবিজ্ঞানী নীলস বোর; বোর মডেল, যা এখন খানিকটা পুরোনো হয়ে গেছে বলা যেতে পারে, দেখতে আসলে একটি ক্ষুদ্রকার সৌরজগত এর মত। যেখানে সুর্যের দায়িত্ব পালন করে পরমানুটির কেন্দ্র এটির নিউক্লিয়াস। এবং এর চারদিকে প্রদক্ষিন করছে ইলেক্ট্রণগুলো, যা গ্রহের মতই কেন্দ্রে থাকা নিউক্লিয়াসকে ঘিরে আবর্তিত হয়। আমাদের সৌরজগতের মতই কোন পরমানুর প্রায় পুরো ভরটি আসলে থাকে কেন্দ্রের নিউক্লিয়াস ( যেমন এই রুপক কল্পনায় সুর্য) এবং প্রায় সব জায়গা পুর্ণ করে থাকে শুন্যতা যা ইলেকট্রন ( বা গ্রহ) দের পৃথক করে রাখে কেন্দ্রের নিউক্লিয়াস থেকে। প্রতি ইলেকট্রনই খুব ক্ষুদ্র যদি নিউক্লিয়াসের সাথে তুলনা করা হয়। এবং পৃথক পৃথক ভাবে তাদের আকারের সাথে তুলনা করলে তাদের মধ্যবর্তী শুন্য স্থানের আকার তুলনামুলকভাবে অনেক বিশাল। একটি জনপ্রিয় তুলনামুলক চিত্র উল্লেখ করা যেতে পারে, যেখানে নিউক্লিয়াস কোন বিশাল ক্রীড়া স্টেডিয়ামের ঠিক মধ্যখানে বসে থাকা একটি মাছির মত। এবং এর নিকটবর্তী নিউক্লিয়াসটি ও আরেকটি মাছি, পার্শ্ববর্তী আরেকটি স্টেডিয়ামের ঠিক মাঝখানে যা বসে আছে। আর প্রতিটি পরমানুর ইলেক্ট্রনরা তাদের নিজস্ব নিউক্লিয়াসকে (মাছি) ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে, আরো ক্ষুদ্র কোনো পোকার মত, এত ছোট যে মাছিদের দেখার মত একই স্কেলে তাকে দেখা যাবে না। আমরা যখন এক টুকরো পাথর বা লোহার খন্ডকে দেখি, আমরা আসলে দেখি প্রায় সম্পুর্ণ শুন্য স্থানকে, যদিও দেখতে বা অনুভব করতে এটি ঘন, শক্ত ও অস্বচ্ছ, কারন আমাদের স্নায়ুতন্ত্র এবং ব্রেণ এটিকে ঘন ও অস্বচ্ছ কোন পদার্থ হিসাবে অনুভব করাকে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। আমাদের ব্রেণের জন্য সুবিধাজনক কোন পাথরকে ঘন একটি বস্তু হিসাবে অনুভব করানোর জন্য, কারন আমরা এর ভিতর দিয়ে যেতে পারবো না; ’ঘণ’ হচ্ছে আমাদের  কোন কিছু অনুভব করার প্রক্রিয়া, যার ভিতর দিয়ে আমরা হেটে যেতে পারবো না বা নীচের পড়ে যেতে পারবো না, কারন এর প্রতিটি পরমানুর মধ্যে আছে তীব্র  তড়িৎচৌম্বকীয় শক্তি। আর ’অস্বচ্ছ’, যে অভিজ্ঞতা আমরা পাই যখন কোন বস্তুর পৃষ্ঠদেশ ধেকে যখন সবটুকু আলো প্রতিফলিত হয়ে আসে, আলোর কোন অংশ যখন তার মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করতে পারেনা।

ছবি: অ্যাটম বা পরমানুর গঠন।

একটি পরমানুর গঠনে তিন ধরনের পার্টিকেল ব্যবহৃত হয়, অন্তত বোর মডেলে যেমনটি প্রস্তাব করা হয়েছে।  ইলেকট্রনের কথা আমরা আগেই বলেছি, অন্য দুটি, ইলেকট্রনের চেয়ে অনেক বড় হলেও, আমাদের বোধগম্য সীমায় থাকা যে কোন কিছুর সাথে তুলনা করলে যা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র, এরা হচ্ছে প্রোটোন এবং নিউট্রোন এবং তাদের পাওয়া যায় নিউক্লিয়াসে। প্রোটন এবং নিউট্রন আকারে প্রায় সমান। প্রোটনের সংখ্যা কোন মৌলের জন্য স্থির বা নির্দিষ্ট, যা ইলেক্ট্রন এর সংখ্যার সমান, এই সংখ্যাটিকে বলা হয় পারমানবিক সংখ্যা। কোন মৌলের জন্য এ সংখ্যাটি বৈশিষ্টসুচক, এবং বিখ্যাত পর্যায় সারণীতে মৌলগুলোর তালিকায় কোন ফাকা জায়গা নেই। এবং সেখানে ধারবাহিকভাবে সাজানো প্রতিটি মৌলর জন্য একটি মাত্র পারমানবিক সংখ্যা বরাদ্দ আছে। পারমানবিক সংখ্যা ১ এমন মৌলটি হচ্ছে হাইড্রোজেন, ২ হিলিয়াম, ৩ লিথিয়াম, ৪ বেরিলিয়াম, ৫ বোরোন, ৬ কার্বন, ৭ নাইট্রোজেন, ৮ অক্সিজেন এভাবে ক্রমেই উপরের দিকে বাড়তে থাকে, বড় সংখ্যা যেমন.. ৯২, যা ইউরেনিয়ামের এর পারমানবিক সংখ্যা।

প্রোটন এবং ইলেকট্রন বৈদ্যুতিক চার্জ বহন করে, বীপরিত ধর্মী, আমরা তাদের একটিকে বলি ধনাত্মক আর অপরটিকে ঋণাত্মক, আমাদের নিজেদের তৈরী করা প্রচলিত নিয়মানুযায়ী। আর চার্জ গুলো জরুরী যখন মৌলগুলো একে অপরের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয়, যা ঘটে সাধারনত ইলেকট্রনের মাধ্যমে। পরমানুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াসে প্রোটোনের সাথেই থাকে নিউট্রন, তবে প্রোটোনের মত এটির কোন বৈদ্যুতিক চার্জ বহন করেনা এবং কোন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা কোন ভুমিকা পালন করেনা।  প্রতিটি মৌলেরই এই পরমানু কণিকাগুলো, প্রোটন, ইলেকট্রন আর নিউট্রোন কিন্তু একই রকম। এমন কিছু নেই, যেমন সোনায় মোড়া প্রোটন বা তামার মত ইলেক্ট্রন বা পটাশিয়ামগন্ধী নিউট্রণ। একটি প্রোটোন হচ্ছে প্রোটোন হচ্ছে প্রোটন, এবং তামার পরমানুকে যা আসলে তামা বানাচ্ছে, তাহলো এর ঠিক ২৯টি  প্রোটন ( এবং  ঠিক ২৯ টি ইলেকট্রন); আমরা সাধারণত তামার প্রকৃতি সম্বন্ধে যা ভাবি, সেটা রসায়নের বিষয়।আর রসায়ণ হচ্ছে ইলেক্ট্রনের নৃত্য, পরমানুদের ইলেকট্রনের মাধ্যমে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়াই তো রসায়ন; রাসায়নিক বন্ধন সহজে তৈরী হয় এবং ভাঙ্গে, কারন শুধু ইলেকট্রন বিচ্ছিন্ন বা স্থানান্তরিত হয়। পারমানবিক নিউক্লিয়াসের মধ্যে আকর্ষন অনেক বেশী শক্তিশালী, যেটা ভাঙ্গা অত্যন্ত দুরুহ। সেজন্যই পরমানুকে বিভক্ত করার বিষয়টির এমন দুরুহ ও ভয়ঙ্কর মনে হয় কিন্তু সেটা হতে পারে, রাসায়নিক বিক্রিয়া নয় নিউক্লিয়ার  বা পারমানবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আর সকল রেডিওঅ্যাকটিভ বা তেজষ্ক্রিয় ঘড়িগুলো এর উপর নির্ভর করে।

ইলেক্ট্রনের ভর খুব সামান্যই, সুতরাং কোন পরমানুর মোট ভর, যাকে বলা হয় এর পারমানবিক ওজন, হচ্ছে এর প্রোটোন এবং নিউট্রনের মোট সংখ্যা, সাধারণত এটি পারমানবিক সংখ্যার দ্বিগুন এর চেয়ে খানিকটা বেশী, কারন নিউক্লিয়াসে নিউট্রনের সংখ্যা আসলে প্রোটন সংখ্যার চেয়ে খানিকটা বেশী, কিন্তু কোন পরমানুর প্রোটনের সংখ্যা যেমন পরমানুর বৈশিষ্ট নির্ধারণ করে, নিউট্রন সংখ্যার তারতম্য কিন্তু কোন একটি মৌলের মৌলিক শনাক্তকারী কোন বৈশিষ্টকে পরিবর্তন করে না;  কোন একটি মৌলের ভিন্ন ভিন্ন  সংস্করণ থাকতে পারে, যাদের বলা হয় আইসোটোপ, যাদের নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তবে প্রোটোন সংখ্যা একই। কিছু মৌল, যেমন ফ্লোরিন, যার শুধু একটি আইসোটোপই প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, ফ্লোরিন এর পারমানবিক সংখ্যা ৯, এর পারমানবিক ওজন ১৯, এর থেকে আমি সহজে হিসাব করে বলতে পারবেন,এর ৯ টি প্রোটন আছে, ১০ টি নিউট্রন আছে। অন্যান্য মৌলের বহু আইসোটোপ থাকতে পারে, যেমন লেড বা সীসার আছে পাচটি আইসোটোপ, যাদের সবার প্রোটন সংখ্যা (এবং ইলেকট্রন) হচ্ছে ৮২, যা এর পারমানবিক সংখ্যা, কিন্তু এর পারমানবিক ওজন হতে পারে ২০২ থেকে ২০৮;এছাড়া কার্বনের প্রাকৃতিকভাবে ৩টি আইসোটোপ দেখা যায়, যাদের মধ্যে কার্বন ১২ হচ্ছে সবচেয়ে বেশী হারে বিদ্যমান, কার্বনের আইসোটোপগুলোর সবার প্রোটন সংখ্যা ৬, এছাড়া কার্বন ১৩ ও আছে, খুব ক্ষণস্থায়ী যার অস্তিত্ব এবং এছাড়া কার্বন ১৪, যদিও কদাচিৎ এর দেখা মেলে, কিন্তু একেবারে দুষ্প্রাপ্য নয় সুতরাং তারা বিশেষভাবে উপযোগী হতে পারে অপেক্ষাকৃত কম প্রাচীন জৈব পদার্থ সমুহের সময়কাল বা ডেটিং নিরুপনে, যা আমরা পরবর্তী আলোচনায় দেখবো।

এর পরের গুরুত্বপুর্ণ বিষয়টি যা আমাদের বুঝতে হবে সেটা হলো এই আইসোটোপগুলোর মধ্যে কিছু আইসোটোপ হচ্ছে স্থিতিশীল, আর কয়েকটি অস্থিতিশীল। সীসা ২০২ যেমন অস্থিতিশীল আইসোটোপ, তবে সীসা ২০৪, সীসা ২০৬,সীসা ২০৭, ও সীসা ২০৮ হচ্ছে স্থিতিশীল আইসোটোপ এর উদহারণ। এখানে আনস্টেবল বা অস্থিতিশীল কথাটা দিয়ে আসলে কি বোঝাতে চাচ্ছে ? অস্থিতিশীল মানে এর পরমানুগুলো স্বতস্ফুর্তভাবে ক্ষয় হবার মাধ্যমে ভিন্ন কোন মৌলে রুপান্তরিত হয়, এবং সেই ক্ষয় হবার হারটা আগে থেকে ধারনা করা সম্ভব, যদিও ঠিক কখন হবে সেটা আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব না। এই ডিকে বা ক্ষয় হবার হারটি পুর্বঅনুমান করার বিষয়টি প্রতিটি রেডিওমেট্রিক ঘড়ির মুল বিষয়। অস্থিতিশীল শব্দটির আরেকটি অর্থ আসলে তেজষ্ক্রিয় বা রেডিওঅ্যাকটিভ। বেশ কয়েক ধরনে তেজষ্ক্রিয়তার মাধ্যমে ক্ষয় হতে পারে, যা কিনা সময় নিরুপনের জন্য উপযোগী ঘড়ি হবার প্রয়োজনীয় সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। আপাতত আমাদের আলোচনার জন্য সেটা এত গভীরে বোঝার কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমি খানিকটা বর্ণনা করতে চাই যে পদার্থবিদরা কি বিস্ময়কর ভাবে সেই সব বিস্তারিত প্রক্রিয়ার নানা খুটিনাটি ইতিমধ্যেই উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছেন। এই বিস্তারিত এই সব খুটিনাটি বর্ণনাগুলো সৃষ্টিবাদীদের সেই অশুভ আপ্রান প্রচেষ্টার অসারতাকেই উন্মোচিত করে, যে প্রচেষ্টার মাধ্যমে তারা রেডিওঅ্যাকটিভ ডেটিং প্রক্রিয়ায় সব ফলাফলগুলো বাতিল করার চেষ্টায় ব্যস্ত , তারা পৃথিবীকে পিটার প্যান এর মত চিরতরুন দেখাতে চান।

এই ধরনের সব অস্থিতিশীলতার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে নিউক্লিয়াসের মধ্যে থাকা নিউট্রণ; এদের একটি পক্রিয়ায় দেখা যায় নিউট্রন রুপান্তরিত হয় প্রোটনে। এর অর্থ পারমানবিক ভর সেই পরমানুর সব সময় একই থাকছে (কারণ প্রোটন এবং নিউট্রন সম্মিলিত সংখ্যাই আসলে এর ভর) কিন্তু পারমানবিক সংখ্যা বেড়ে যায় আরো এক সংখ্যা। সুতরাং সেই পরমানুটি আসলে রুপান্তরিত হয় ভিন্ন একটি মৌলে। পর্যায় সারনীতে তার পুর্ববর্তী অবস্থানের একধাপ উপরে; যেমন সোডিয়াম ২৪ রুপান্তরিত হয় ম্যাগনেশিয়াম ২৪ এ। অন্য একধরনের তেজষ্ক্রিয় ক্ষয় হবার প্রক্রিয়াটি ঠিক এর বীপরিত। প্রোটন রুপান্তরিত হচ্ছে নিউট্রনে, আবারো পারমানবিক ভর একই থাকে কিন্তু এ ক্ষেত্রে পারমানবিক সংখ্যা কমে যায় এক সংখ্যা এবং পরমানু রুপান্তরিত হয় পর্যায় সারণীতে এর আগের অবস্থানে থাকা কোন মৌলে। আর তৃতীয় ধরনের তেজষ্ক্রিয় ক্ষয় হবার প্রক্রিয়াটির ফলাফলও একই, সেখানে একটি এলোমেলো নিউট্রন নিউক্লিয়াসে আঘাত করে, এবং একটি প্রোটনকে সরিয়ে দিয়ে তার জায়গাটা নেয়। পারমানবিক ভরের কোন পরিবর্তন হয় না, আবারও, পারমানবিক সংখ্যা এক সংখ্যা কমে যায়, এবং পর্যায় সারণীতের এটি এর আগের মৌলে রুপান্তরিত হয়। এছাড়াও আরো একটি জটিল ধরনের প্রক্রিয়াও আছে, যেখানে পরমানু একটি আলফা পার্টিকল এর ভিতর থেকে বের করে দেয় বাইরে। একটি আলফা পার্টিকেল এ দুটি প্রোটন আর দুটি নিউট্রন একসাথে সংযুক্ত থাকে। এর অর্থ হচ্ছে পারমানবিক ভর কমে যায় চার সংখ্যা আর পারমানবিক সংখ্যা কমে যায় দুই সংখ্যা। এবং পরমানু রুপান্তরিত হয় পর্যায় সারণীতে দুই ঘর নীচে যে মৌল আছে সেটিতে। এই আলফা ক্ষয় হবার একটি উদহারণ হলো অত্যন্ত তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ ইউরেনিয়াম ২৩৮ (যার আছে ৯২ টি প্রোটন এবং ১৪৬ নিউট্রন) থেকে থোরিয়াম ২৩৪ ( ৯০ টি প্রোটন এবং ১৪৪ টি নিউট্রন);

এবার আমরা প্রবেশ করবো পুরো ব্যাপারটার মধ্যে; প্রতিটি অস্থিতিশীল বা তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ ক্ষয় হয়ে থাকে তার একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্টসুচক হারে, যা আমদের জানা আছে আগে থেকে বা আমরা জানতে পারি। উপরন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে আইসোটোপ বিশেষে এই হার তুলনামুলভাবে খুবই মন্থর ; কিন্তু সব ক্ষেত্রে এই হারটি সুচকীয় বা এক্সপোনেনশিয়াল, এক্সপোনেনশিয়াল মানে বোঝাচ্ছে, ধরুন, আপনি যদি ১০০ গ্রাম রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ নিয়ে শুরু করেন, এখানে কিন্তু নির্দিষ্ট একটি পরিমান ধরুন সেটা ১০ গ্রাম, কোন একটি প্রদত্ত সময়পরে অন্য মৌলে রুপান্তরিত হবে তা কিন্ত না বোঝাচ্ছে না; বরং এটি বোঝাচ্ছে একটি নির্দিষ্ট শতাংশ বা আনুপাতিক অংশ, যা অবশিষ্ট আছে তা রুপান্তরিত হবে অন্য একটি মৌলে। এই ক্ষয় হবার হার পরিমাপ করার সবচে পছন্দনীয় প্রচলিত প্রক্রিয়াটি হচ্ছে সেই আইসোটোপের হাফ লাইফ পরিমাপ করা। কোনে তেজষ্ক্রিয় পদার্থের আইসোটোপ এর অর্ধ জীবন বা ‍হাফ লাইফ মানে হলো সেই সময়টুকুর পরিমান, যে সময়ে কোন একটি রেডিওআইসোটোপের ঠিক অর্ধেক পরিমান পরমানু ক্ষয় হয়ে যায়।  এই হাফ লাইফ সবসময় একই থাকে, যে পরিমান পরমানু ইতিমধ্যে ক্ষয় হয়ে থাকুক না কেন এবং সেটাই এক্সপোনেনশিয়াল বা সুচকীয় গানীতিক হারে ক্ষয় হওয়া প্রক্রিয়াটিকে বোঝায়। আপনি সেটা ভালো বুঝতে পারবেন এখন যে, ক্রমাগতহারে এখাবে অর্ধেক পরিমান করে ক্ষয় হবার কারনে আমরা আসলেই কখনো জানতে পারিনা কখন আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। তবে আমরা যা বলতে পারি সেটা হলো, যথেষ্ট একটি সময় অতিক্রান্ত হবার পর, ধরুন সেটি সেই আইসোটোপটি দশটি হাফ লাইফ – এর পরে সেখানে পরমানুর সংখ্যা এতই কম থাকে যে, ব্যবহারিকভাবে ধরে নেয়া হয় আর কিছু সেখানে অবশিষ্ট নেই। উদহারণ হিসাবে, কার্বন ১৪ র হাফ লাইফ ৫০০০ থেকে ৬০০০ বছর;  এমন কোন নমুনা যার বয়স কিনা ৫০০০০ থেকে ৬০০০০ বছর, সেখানে কার্বন ডেটিং কোন কাজে লাগে না। সেখানে আমাদের আমাদের আরো ধীর কোন ঘড়ির সন্ধান করতে হয় (যাদের হাফ লাইফ আরো দীর্ঘ)।


ছবি: রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ

রুবিডিয়াম ৮৭ র অর্ধ জীবন বা হাফ লাইফ হচ্ছে প্রায় ৪৯ বিলিয়ন বছর, অন্যদিকে আবার ফার্মিয়াম -২৪৪ এর হাফ লাইফ হচ্ছে মাত্র ৩.৩ মিলিসেকেন্ড; এই বিস্ময়কর কম আর বেশী হাফ লাইফের বিন্যাস ইঙ্গিত দিচ্ছে, যে অসংখ্য সময়ের ব্যাপ্তির বা টাইম স্কেল পরিমাপ করার জন্য প্রয়োজনীয় ঘড়ি প্রকৃতিতে বিদ্যমান। যদিও কার্বন ১৫ র হায় লাইফ ২.৪ সেকেন্ড, বিবর্তন সংক্রান্ত কোন প্রশ্নের জবাব দেবার জন্য যা খুবই সংক্ষিপ্ত। কার্বন ১৪ র হাফ লাইফ ৫৭৩০ বছর, যা প্রত্নতাত্ত্বিক কোন নমুনার সময় নিরুপনে বেশ উপযোগী; যে আইসোটোপটি বিবর্তনী সময়ের স্কেলে সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত হয় সেটি হচ্ছে পটাশিয়াম ৪০, যার হাফ লাইফ ১.২৬ বিলিয়ন বছর। এবং রেডিও অ্যাকটিভ ঘড়ির পুরো ধারনাটি বোঝানোর উদহারনে আমি এটি ব্যবহার করবো। একে অনেক সময় বলা হয় পটাশিয়াম আর্গন ঘড়ি, কারন আর্গন ৪০ (পর্যায় সারনীতে পটাশিয়ামের এক ঘর নীচে যার অবস্থান), হচ্ছে একটি মৌল যা পটাশিয়াম ৪০ ক্ষয় হয়ে রুপান্তরিত হয়। (অন্যটি, যা ভিন্নধরনের তেজষ্ক্রিয় ক্ষয়ের মাধ্যমে তৈরী হয়, সেটা হতে পারে ক্যালসিয়াম ৪০, যা পর্যায় সারণীতে পটাশিয়ামের ঠিক এক ঘর উপরে);  আপনি যদি কিছু পরিমান পটাশিয়াম ৪০ নিয়ে শুরু করেন, ১.২৬ বিলিয়ন বছর পরে সেই পটাশিয়াম ৪০ এর অর্ধেকটি রুপান্তরিত হবে আর্গন ৪০ এ। হাফ লাইফ বলতে সেটাই বোঝায়। এর আরো ১.২৬ বিলিয়ন বছর পর, সেই বাকী অবশিষ্টাংশর অর্ধেক ( মুল পরিমানে সিকি ভাগ) ক্ষয় হয়ে যাবে, এবং এভাবেই চলতে থাকবে। তাহলে ১.২৬ বিলিয়ন এর চেয়ে কম সময় পর, আমরা একটি আনুপাতিক হারে অপেক্ষাকৃত কম পরিমান মুল পটাশিয়াম ক্ষয়ীভুত হবে, সুতরাং কল্পনা করুন, যে আপনি  একটি কিছু পরিমান পটাশিয়াম ৪০ নিয়ে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় শুরু করলেন, যেখানে সেই শুরুতে কোন আর্গন ৪০ নেই। এর পরে কিছু শত মিলিয়ন বছর পার হলে, বিজ্ঞানীরা সেই বন্ধ জায়গায় এসে পটাশিয়াম ৪০ এবং আর্গন ৪০ এর আনুপাতিক পরিমান নির্ণয় করেন। মুল পরিমান যাই থাকুক না কেন, এই আনুপাতিক পরিমান থেকে, পটাশিয়াম ৪০ এর হাফ লাইফ জেনে এবং শুরুতে কোন আর্গন ৪০ এর উপস্থিতি ছিল না এমন ধরে নিয়ে, বিজ্ঞানীরা এই পক্রিয়াটি শুরু হবার পর থেকে বা অন্যার্থে  গণনার ঘড়িটি শুণ্যে স্থির বা জিরো  স্থির হওয়া থেকে সেখানে কতটা সময় অতিবাহিত হয়েছে সেটা নিরুপন করতে পারেন। লক্ষ্য করুন আমাদের সেখানে গণনার সময় মুল ( পটাশিয়াম ৪০) আইসোটোপের সাথে এর এর উপজাত (আর্গন ৪০) আইসোটোপ এর অনুপাতটি কিন্তু জানতে হবে। উপরন্তু, এই অধ্যায়ের শুরুতে আমরা যেমন দেখেছি, গুরুত্বপুর্ণ একটি বিষয় হচ্ছে যে, আমাদের ব্যবহৃত সেই প্রাকৃতিক ঘড়িটিকে অবশ্যই স্টপওয়াচের মতই শুন্যতে বা শুরতে সেট করার সুবিধা থাকতে হবে। কিন্তু কোন রেডিও অ্যাকটিভ ঘড়ি এই জিরো করা বা শুরু থেকে সেট করা বলতে আসলে কি বোঝানো হয়ে থাকে ?  এর উত্তর পাওয়া যাবে স্ফটিকীকরণ বা ক্রিষ্টালাইজেশন প্রক্রিয়ায়।


ছবি: পাথর স্ফটিকীকরণের সময় শুন্য হয়ে যাওয়ার বা জিরো হবার প্রক্রিয়া।

ভুতত্ত্ববিদরা ব্যবহার করেন এমন সকল রেডিওঅ্যাকটিভ ঘড়ির মত, পটাশিয়াম/আর্গন এই সময় নিরুপন প্রক্রিয়া শুধু মাত্র কাজ করে ইগনেয়াস বা আগ্নেয় শিলার ক্ষেত্রে। ইগনেয়াস (igneous) নামটি এসেছে আগুন এর ল্যাটিন নাম থেকে, আগ্নেয়শিলা ঘনীভুত বা কঠিনাকার ধারণ করে গলিত পাথর থেকে। ভু অভ্যন্তরের গলিত ম্যাগমা যেমন গ্রানাইট পাথরের ক্ষেত্রে, ব্যসল্ট যেমন আগ্নেয়গিরির গলিত লাভা থেকে সৃষ্টি হয়। গলিত শিলা যখন ঘনীভুত হয়ে গ্র্যনাইট বা ব্যসল্ট তৈরী করে, সেই সময় তারা স্ফটিক তৈরী করেই কাজটি করে। এগুলো সাধারণদ আকারে বড় বা কোয়ার্টজ এর মত স্বচ্ছ স্ফটিক না, আকারে খুব ছোট বলে খালি চোখে তাদের ঠিক স্ফটিক হিসাবে দেখা যায় না। স্ফটিকগুলো বিভিন্ন রকম হতে পারে এবং এর অনেকগুলো, যেমন কিছু অভ্র বা  মাইকা, পটাশিয়াম পরমানু ধারণ করে।  এই পরমানুর মধ্যে কিছু থাকে রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ পটাশিয়াম ৪০;  ঠিক যখন ক্রিষ্টাল বা স্ফটিকটি কেবল সৃষ্টি হয়, বা যে মুহুর্তে গলিত পাথর ঘনীভুত হয়ে শক্ত শিলার আকার ধারন করে, তখন সেখানে শুধু পটাশিয়াম ৪০ থাকে, কোন আর্গন থাকে না। সুতরাং এখানে পটাশিয়াম ৪০ আইসোটোপ ঘড়িটি জিরো অবস্থায় স্থির হয় এই অর্থে যে সেই স্ফটিকে ঠিক সেই সময় কোন আর্গন পরমানুর অস্তিত্ব থাকে না। এবং পরে যখন মিলিয়ন বছর অতিবাহিত হয়, এই পটাশিয়াম ৪০ ও ক্ষয় হতে থাকে, এবং একটি একটি করে আর্গন ৪০ এর পরমানু পটাশিয়াম ৪০ এর সকল পরমানুকে প্রতিস্থাপিত করতে থাকে সেই স্ফটিকের মধ্যে। স্ফটিকের মধ্যে ধীরে ধীরে জমতে থাকা আর্গন ৪০ এর বাড়তে থাকা পরিমানই আসলে ঠিক কতটা সময় অতিক্রান্ত হয়েছে সেই পাথরটি সৃষ্টি হবার পর থেকে তার পরিমান নির্দেশ করে। কিন্তু যে কারনটা আমি আগেই ব্যাখ্যা দিয়েছি, এই পরিমানটি অর্থবহ হয় শুধুমাত্র আর্গন ৪০ এর সাথে পটাশিয়াম ৪০ এর অনুপাতে যদি তা প্রকাশ করা হয়। পাথরের স্ফটিক সৃষ্টি হবার সময় ,যখন ঘড়িটি শুন্যে স্থির হলো, তখন এই অনুপাত শতকরা ১০০ ভাগ পটাশিয়াম ৪০ এর দিকে, ১.২৬ বিলিয়ন বছর পর এই অনুপাত হবে ৫০: ৫০, এর আরো ১.২৬ বিলিয়ন বছর পর অবশিষ্ট পটাশিয়াম ৪০ এর অর্ধেকটা রুপান্তরিত হবে আর্গন ৪০ এ, এভাবে চলতে থাকবে। এবং এর মাঝামাঝি সময়ে কোন অনুপাত যখন থেকে স্ফটিক ঘড়িটি শুন্য হয়েছে তখন থেকে অতিক্রান্ত অন্তর্বতী সময়কেই ইঙ্গিত করে সুতরাং ভুতত্ত্ববিদরা আজ যে কোন একটি আগ্নেয়শিলা হাতে নিয়ে এই পটাশিয়াম ৪০ আর আর্গন ৪০ এর অনুপাত পরিমাপ করে তারা বলতে পারবেন ঠিক কত দিন আগে এই পাথরটি গলিত অবস্থা থেকে কঠিনাকার ধারন করেছিল। আগ্নেয়শিলারা সাধারণত বহু বিভিন্ন ধরনের তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ ধারন করে, শুধু পটাশিয়াম ৪০ না। একটি সৌভাগ্যজনক ব্যপার হচ্ছে আগ্নেয় শিলারা যখন গলিত অবস্থা থেকে স্ফটিকাকার ধারন করে কঠিন আগ্নেয় শিলা সৃষ্টি করে, তখন সেই প্রক্রিয়াটি একটি মুহুর্তে হঠাৎ করেই ঘটে থাকে, সুতরাং কোন একটি শিলাখন্ডে থাকা সব ঘড়িগুলো একই সাথে শুন্য থেকে স্থির হয়ে যায়।

ছবি: হাফ লাইফ ও রেডিও অ্যাকটিভ ডিকে;

শুধু আগ্নেয়শিলারাই আমাদের রেডিওঅ্যাকটিভ ঘড়ির যোগান দেয়, কিন্তু কোন জীবাশ্মই প্রায় কোন সময়ই আগ্নেয়শিলায় মধ্যে খুজে পাওয়া যায় না, জীবাশ্ম তৈরী হয় সেডিমেন্টারী বা পাললিক শিলার স্তরে, যেমন লাইমস্টোন বা স্যান্ড স্টোন, তারা কোন গলিত লাভা বা শিলা থেকে থেকে শক্ত হয়ে জমাট বেধে তৈরী হয়নি। তারা মুলত: কাদা, পলি বা বালিন স্তর, ধীরে ধীরে যা সমুদ্রের তলদেশে বা কোন হৃদের তলদেশে জমা হয়; বালি বা কাদা প্রচন্ড চাপ এবং সময়ের ধারাবাহিকতায় শক্ত হয়ে তৈরী করে পাথরে; যে মৃতদেহগুলো কাদায় আটকা পড়েছিল, শুধু তাদের জীবাশ্ম হবার সম্ভাবনা থাকে, যদিও শুধুমাত্র মুষ্টিমেয় সংখ্যক মৃতদেহ আসলেই জীবাশ্মীভুত হয়, পাললিক শিলা হচ্ছে একমাত্র শিলা যা উল্লেখযোগ্য কোন জীবাশ্ম খুজে পাই আমরা।

পাললিক শিলা দুর্ভাগ্যজনকভাবে তেজষ্ক্রিয়তার মাধ্যমে ডেটিং করা যায়না; সম্ভবত পলি বা বালির প্রতিটি পার্টিকল বা কণা যারা পাললিক শিলা তৈরী করে তাদের মধ্যেও পটাশিয়াম ৪০ এবং অন্যান্য রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ আছে, সুতরাং তারাও রেডিও অ্যাকটিভ ঘড়ি ধারন করে। কিন্তু দু:খজনকভাবে এই ঘড়িগুলো শুন্যতে সেট করা থাকে না বা তারা স্থির হয়নি সঠিকভাবে বা অন্যভাবে বলতে পারি তারা শুন্যতে স্থির হয়েছে পরস্পরের থেকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে, আগ্নেয়শিলার মত একসাথে নয়। বালির কনারা, যারা প্রচন্ড চাপের মাধ্যমে কমপ্যাক্ট হয়ে স্যান্ডস্টোন তৈরী করে, তারা মুলত আগ্নেয়শিলা থেকে বিভিন্ন সময়ে ঘর্ষনের কারনে সৃষ্টি হয়েছিল, কিন্তু যে আগ্নেয়শিলা ঘর্ষনের ফলে তাদের সৃষ্টি হয়েছে, তারা হয়তো স্ফটিকসৃষ্টির মাধ্যমে কঠিন হয়েছিল ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। সুতরাং বালির প্রতিটি কনায় একটি ঘড়ি আছে, যারা শুন্যতে স্থির হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। আর সেই সময়টা সম্ভবত তাদের নিয়ে তৈরী হওয়া কোন পাললিক শিলা সৃষ্টি হবার বহু আগে, যেখানে আটকে থাকা জী্বাশ্মর সময়কাল আমরা নির্ণয় করার চেষ্টা করছি। সুতরায় সময়ের রেকর্ড রাখার পেক্ষাপটে, পাললিক শিলা আসলেই বড় এলোমেলো, সেকারনে এটি ব্যবহার করা যায় না কোন জীবাশ্মর সময় কাল নিরুপনে। আমরা যেটা সবচেয়ে ভালোভাবে এখানে করতে পারি, এবং যেটা আসলেই অতন্ত্য কার্যকর ভাবেই ভালো, সেটা হলো আগ্নেয় শিলার বয়স নিরুপন করা যাদের আমরা জীবাশ্মকে ধারণ করা পাললিক শিলার আশে পাশে বা এর মধ্যে খুজে পাই।

কোন জীবাশ্মর বয়স নিরুপনের জন্য সেটাকে আক্ষরিক অর্থে দুটি আগ্নেয়শিলার স্তর বা খন্ডের মধ্যে পেতে হবে তা কিন্তু নয়, যদিও মুলনীতিটা বোঝানোর জন্য সেটি বেশ পরিষ্কার একটি উদহারণ হতে পারে। সত্যিকারের প্রক্রিয়া যেটি ব্যবহার করা হয় সেটি আসলে আরো জটিল আর সুক্ষ। স্পষ্টতই শনাক্ত করা সম্ভব এমন একই পাললিক শিলার স্তর সারা পৃথিবীতে বিদ্যমান। আর রেডিওঅ্যাকটিভ ডেটিং আবিষ্কার হবার বহুদিন আগেই শিলার এই স্তরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের নামকরণও করা হয়েছে: যেমন ক্যামব্রিয়ান, অরডোভিসিয়ান, ডেভোনিয়ান, জুরাসিক, ক্রিটাসিয়াস, ইকোসিন, অলিগোসিন, মাইওসিন ইত্যাদি। ডেভোনিয়ান পর্বের পাললিক শিলার স্তর ডেভোনিয়ান পর্বের জন্য বৈশিষ্টসুচক,. শুধু ডেভোনেই  না (ইংল্যান্ডের দক্ষিন পশ্চিম ইংল্যান্ডে যে অঞ্চলের নামে এর নাম করণ করা হয়েছে), পৃথিবী যে কোন প্রান্তে যা শনাক্ত করা সম্ভব এবং

তারা একই রকম দেখতে, সহজে শনাক্ত করা সম্ভব এবং এখানে খুজে পাওয়া জীবাশ্ম জীবের তালিকাও একই। ভুতত্ত্বুবিদরা বহুদিন আগেই থেকে জানেন কি ধারাবাহিকতায় বা কোনটার পর কোনটা এই সব নামকরণ করা ভুতাত্ত্বিক স্তরগুলো সৃষ্টি হয়েছে, এটকুই শুধু তাদের জানা ছিল এবং কোন রেডিওঅ্যাকটিভি ঘড়ি আবিষ্কার আগে কিন্তু আমরা জানতাম না ঠিক কখন কোন সময়ে কোন স্তরটি  সৃষ্টি হয়েছে;  আমরা তাদের ধারাবাহিকভাবে সাজাতে পারি, কারন অবশ্যই পুরোনো পলির স্তর অপেক্আকৃত নতুনতর পলির স্তরের নিচেই অবস্থান করে, যেমন ডেভোনিয়ান স্তর, কার্বনিফেরাস স্তরের চেয়ে পুরোনো (কার্বনিফেরাস নাম এসেছে, কারন এই স্তরে কয়লা পাওয়া যায় সাধারণত) এবং আমরা সেটা জানি কারন, এবং পৃথিবীর যে অংশেই এই দুই স্তর একই সাথে দেখা যায়, সেখানে ডেভোনিয়ান স্তরকে দেখা গেছে কার্বনিফেরাস স্তরের নীচে অবস্থান করতে ( এই নিয়মের ব্যতিক্রম যেখানে হয়েছে, সেখানে আমরা বলতে পারি, অন্যান্য সম্পুরক প্রমানের মাধ্যমে, শিলাস্তরগুলো এক পাশে হেলে গেছে বা একেবারে পুরোপুরি উল্টো গেছে), সাধারণত আমরা এতটা সৌভাগ্যবান না যে পুরো সব স্তরের একটি সেট খুজে পাই যেখানে নীচের ক্যামব্রিয়ান স্তর থেকে উপরের সব স্তর অবধি বিদ্যমান। কিন্তু স্তরগুলো এত সহজেই চেনা যায় যে, আপনি বিভিন্ন স্তরের তথ্য সংযোগ করে ও  সারা পৃথিবীতে দৃশ্যমান নানা স্তরের উপাত্ত নিয়ে প্রতিটি স্তরের আপেক্ষিক বয়স নিরুপন করতে পারবেন।

সুতরাং জীবাশ্মরা কত প্রাচীন সেটা জানার বহু আগে, আমরা সেই স্তরের ধারাবাহিকতা, বা কি ক্রমপর্যায়ে তাদের সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা জানি, বা অন্ততপক্ষে কি ধারাবাহিকতায় নেই নামকৃত স্তরগুলো সৃষ্টি হয়েছে;  আমরা জানি যে ক্যামব্রিয়ান জীবাশ্ম, সারা পৃথিবীতে, অরডোভিসিয়ান পর্বের জীবাশ্মদের তুলনায় বহু পুরোনো, যা আবার পুরোনো সিলুরিয়ান পর্বের চেয়ে। এরপর এসেছে ডেভোনিয়ান, তারপর কার্বনিফেরাস, পার্মিয়ান, ট্রায়াসিক, জুরাসিক,ক্রিটাসিয়াস এবং এভাবে অন্যগুলো। এবং এই প্রধান নামকরন কৃত স্তরের বাইরেও ভুতাত্ত্বিকরা আরো উপ স্তরও শনাক্ত করেছেন, যেমন আপার জুরাসিক, মধ্য জুরাসিক, লোয়ার জুরাসিক ইত্যাদি।

ভুত্বকের নামকরণকৃত প্রতিটি স্তর সাধারণত শনাক্ত করা যায় কি ধরণের জীবাশ্ম তারা ধারন করছে তা দিয়ে। এবং আমরা জীবাশ্মদের বিভিন্ন স্তরে উপস্থিতির সেই ক্রমধারাবাহিকতাকে ব্যবহার করবো বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমান হিসাবে! এটা কি একটি আবদ্ধ বা সারকুলার যুক্তি হবার ঝুকিতে আছে ? অবশ্য না, ব্যপারটা একটু চিন্তা করে দেখুন, ক্যামব্রিয়ান জীবাশ্মরা একটি বৈশিষ্টসুচক প্রানীদের সমারোহ। যাদের ক্যামব্রিয়ান জীবাশ্ব হিসাবে কোন ভুল হয় না। এখনও এই মহুর্তে আমরা বিশেষ কিছু বৈশিষ্টসুচক জীবাশ্ম জীবের সমষ্ঠির সমারোহকে ব্যবহার করছি ক্যামব্রিয়ান স্তরের শিলাকে শনাক্ত করার জন্য- বিশেষ করে সুচক কোন প্রানীর জীবাশ্ম (ডায়াগনষ্টিক ফসিল), যেখানেই আমরা তা পাই না কেন। আসলেই এই জন্যই তেল কোম্পানীগুলো জীবাশ্মবিদদের নিয়োগ করে, পাথরের কোন বিশেষ স্তরটি খুজে বের করার জন্য, বিশেষ করে বিশেষ কিছু মাইক্রোফসিল এর উপস্থিতি লক্ষ্য করে, খুবই ক্ষুদ্রপ্রানী ফোরামিনিফেরা, বা রেডিওলারিয়া;

অরডোভিসিয়ান পর্বের শিলাস্তরকে চিহ্নিত করার জন্য বৈশিষ্ট সুচক কিছু  ডায়াগনষ্টিক জীবাশ্মর তালিকা আছে, এভাবে ডেভোনিয়ান ও অন্যান্য শিলা স্তরকেও শনাক্ত করা যায় কিছু বিশেষ জীবাশ্মর উপস্থিতি লক্ষ্য করে। আপাতত আমরা এই সব জীবাশ্ম গুচ্ছর উপস্থিতি ব্যবহার করছি কোন বিশেষ পাথরের একটি টুকরো কোন পর্বের হতে পারে, যেমন পার্মিয়ান বা সিলুরিয়ান, তার নিরুপনে। এর পর আমরা সেই ক্রমধারাবাহিকতাকে ব্যবহার করবো যেভাবে এই নামকৃত স্তরগুলো সৃষ্টি হয়েছে, এটা করতে আমাদের দরকার সারা বিশ্ব থেকে পাওয়া উপাত্ত, আমরা একটির সাথে আরেকটি যোগ করে পুরো স্তরগুলোর একটি বিন্যাস তৈরী করতে পারি, সেখানেই আমরা প্রমান পাবো কোন স্তরটি পুরোনো বা কোনটি  কার চেয়ে বেশী সাম্প্রতিক। এবং এই দুটি সেট তথ্য প্রতিষ্ঠা করার পর, আমরা ‌ক্রমান্বয়ে নবীন ও অপেক্ষাকৃত নতুস স্তরের থাকা জীবাশ্মদের লক্ষ্য করি, দেখি যে বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় তারা একটি বোধগম্য ব্যাখ্যা দিতে পারছে কিনা যখন পারস্পরিক তুলনা করা হচ্ছে সেই ধারাবাহিকতায়। তার কি কোন একটি যৌক্তিক দিকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? বিশেষ ধরনে কোন জীবাশ্ম, ধরুন স্তন্যপায়ী,  কি কোন একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর জীবাশ্ম রেকর্ডে আবির্ভুত হচ্ছে, এর আগে কখনোই না? এই সব প্রশ্নের উত্তর হ্যা; সবসময় হ্যা: কোন ব্যতিক্রম নেই। বিবর্তনের স্বপক্ষে সেটি শক্তিশালী প্রমান, তবে  এটি কখনোই অবশ্য প্রয়োজনীয় ফ্যাক্ট ছিল না বিবর্তনের সত্যতা প্রমান করার চন্য, কখনোই তা ভুত্বকের স্তর শনাক্ত করার প্রক্রিয়ারই উপজাত বা সময়ের ধারাবাহিকতায় এই স্তরগুলো বিন্যাস করার প্রক্রিয়া থেকে উদ্ভুত।

আসলেই আক্ষরিক অর্থে এটি সত্য যে, আপনি কোন না কোন ভাবে স্তন্যপায়ী বলতে পারেন এমন কোন প্রানীর অস্তিত্ব ডেভোনিয়ান শিলা স্তরে বা এর চেয়ে পুরোনো কোন স্তরে কখনোই খুজে পাবেন না। কিন্তু যদি এর পরবর্তী স্তরের সাথে তুলনা করা হয় তাহলে দেখা যায় ডেভোনিয়ান শিলা স্তরেও তারা পরিসংখ্যানগত খুব  দুষ্প্রাপ্য, আক্ষরিকভাবে কোন স্তন্যপায়ী প্রানী জীবাশ্ম একটি নির্দিষ্ট সময়ের আগের কোন শিলা স্তরে পাওয়া যায় না;  কিন্তুর এমন যে হতে হবে এমন তো কোন বাধ্যকতা ছিল না। এমনও তো হতে পারতো আমরা ডেভোনিয়ান থেকে ক্রমশ নীচে.. আরো নীচে খনন করছি, সিলুরিয়ান , এমন কি আরো পুরোনো. অরডোভিসিয়ান পর্ব পার হয়ে আমরা হঠাৎ করে ক্যামব্রিয়ান স্তরে পৌছে গেলাম যা এদের সবার চেয়ে পুরোনো, সেখানে দেখলাম স্তন্যপায়ী প্রানীদের জীবাশ্মর সমারোহ করছে। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো আমরা কিন্তু এমনটা কোথাও যে পাইনা তবে সম্ভাবনার বিষয়টি বলছে আপনি এই যুক্তিটি আবদ্ধ বা সার্কুলার বলতে পারবেন না: কারন যে কোন মুহুর্তে কেউ হয়তো ক্যামব্রিয়ার শিলা স্তর থেকে স্তন্যপায়ী প্রানীর জীবাশ্ম খুজে আনতেও পারেন এবং সাথে সাথে পুরো বিবর্তন তত্ত্বও ধ্বসে পড়বে, যদি আসলেই তা কেউ করতে সক্ষম হন। এর কথাটি অন্য অর্থ হলো, বিবর্তনকে মিথ্যা প্রমান করা যেতে পারে এবং সেকারণেই এটি বৈজ্ঞানিক একটি ত্ত্ত্ব। এই বিষয়টি নিয়ে আবার আলোচনায় ফিরে আসবে অধ্যায় ৬ এ।

সৃষ্টিবাদীদের এই বাস্তব পর্যবেক্ষনকে ব্যাখ্যা করার প্রচেষ্ঠায় প্রায়শই পরিণত হয় হাস্যকর কৌতুকে। তাদের দাবী নোয়া‘র বা নুহ নবীর সময় ঘটা মহাপ্লাবন, প্রধান প্রধান প্রানী গ্রুপদের জীবাশ্ম আমরা যেভাবে পেয়েছি বা যে ধারাবাহিকতায় তারা আছে তা ব্যাখ্যা করার মুল চা্বিকাঠি। বিশেষ পুরষ্কার পাওয়া একটি সৃষ্টিবাদীদের এমনই একটি ওয়েবসাইট থেকে নেয়া একটি উদ্ধৃতি লক্ষ্য করুন:

ভুতাত্ত্বিক শিলা স্তরে জীবাশ্ম উপস্থিতির ধারাবাহিকতা প্রদর্শন করছে:

(১) অমেরুদন্ডী : ( ধীরগতির সামুদ্রিক জীব) আগে ধ্বংশ হয়েছে, এর পরে আরো গতিশীল মাছেরা প্লাবনের পলির নীচে আটকা পড়ে।

(২) উভচরী : (যারা সাগরের কাছে বসবাস করে), এর পর তারা ধ্বংস হয় , যখন পানির স্তর বাড়তে থাকে

(৩) সরীসৃপ :  (ধীর গতির স্থল প্রানী) এর পর মারা যায়,

(৪) স্তন্যপায়ী: যারা ক্রমশ বাড়তে থাকা পানি থেকে দুরে পালাতে সক্ষম, সুতরাং বড় এবং দ্রুতগতি সম্পন্নরা বেশী দিন বেচেছিল।

(৫) মানুষ: যারা তাদের অসাধারন বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে, গাছের গুড়িতে ঝুলে ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় প্লাবন থেকে নিজেদের বাচিয়েছিল।

এই ধারাবাহিকতা কিন্তু সন্তোষজনক মিলে যাচ্ছে যে ক্রমে বিভিন্ন শ্রেনীর প্রানীদের জীবাশ্ম আমরা খুজে পেয়েছি ভুত্বকের বিভিন্ন শিলাস্তরে। কিন্ত মুল বিষয়টি হলো এই আবির্ভাবের ক্রম কিন্তু তারা কিভাবে বিবর্তিত হয়েছে সেই বিষয়টি বলছে না, বরং বলছে নোয়ার সেই মহাপ্লাবনের সময় তারা কি ধারাবাহিকতায় নিমজ্জিত হয়েছিল।

এই বিস্ময়কর ব্যাখ্যার অন্য নানা ধরনের আপত্তি বাদ দিয়েও সম্পুর্ণ ভিন্ন ব্যাপার হলো, একটি পরিসংখ্যানগত সম্ভাবনা বা প্রবণতা থাকা সম্ভাবনা যে, স্তন্যপায়ীরা ক্রমশ বাড়তে থাকা পানি থেকে বাচার জন্য সরীসৃপদের চেয়ে গড় পড়তায় বেশী দক্ষ ; বরং আমরা বিবর্তন তত্ত্বের আলোকে যা আশা করি, আক্ষরিক অর্থেই কোন স্তন্যপায়ী প্রানীর অস্তিত্ব নেই ভুত্বকের একটি বিশেষ সময়ে সৃষ্ট নীচের স্তরগুলোতে, এই উদ্ভট তত্ত্বটি খানিকটা মাটি পেত যদি পাথরের শিলাস্তরে আমরা স্তন্যপায়ীদের ক্রমশঃ কমে আসতে থাকার এমন একটি পরিসংখ্যানগত বিন্যাস দেখতে পেতাম নীচের সেই স্তন্যপায়ী জীবাশ্ম শুন্য শিলা স্তর গুলোতে। পার্মিয়ান স্তরে যেমন আসলেই কোন ট্রিলোবাইটদের অস্তিত্ব নেই। ক্রিটাশিয়াস স্তরের উপরে ( পাখিরা ছাড়া) কোন ডায়নোসরেরও জীবাশ্ম মিলবে না। আবারো সেই উদ্ভট তত্ত্বটিতে সম্ভাবনা ছিল, পরিসংখ্যানগত একটি প্রান্তীয় বিন্যাসের।

আবারো রেডিওঅ্যাকটিভ ঘড়ি এবং তাদের দিয়ে সময় নিরুপনের বিষয়ে ফিরে আসি। যেহেতু নামকরণ করা হয়েছে এমন পাললিক শিলার স্তরের আপেক্ষিক ধারাবাহিকতার সাথে আমরা সুপরিচিত, এবং সারা পৃথিবীতেও তাদের একই বিন্যাস দেখা যায়; সেক্ষেত্রে আমরা আগ্নেয় শিলা ব্যবহার করতে পারি, যা পাললিক শিলার স্তরের নীচে,উপরে কিংবা ভিতরে অবস্থান করে এই সব নামকৃত পাললিক শিলার স্তরের সময়কাল এবং সেভাবেই সেই স্তরে থাকা কোন জীবাশ্মর বয়স নিরুপনে। এই প্রক্রিয়াটিকে আরো সুক্ষ করে, আমরা যেমন কোন স্তরের উপরে থাকা কোন জীবাশ্মকে, যেমন ধরুন কার্বনিয়েরাস বা ক্রিটাশিয়াস স্তরে, একই স্তরের নীচের দিকে থাকা কোন জীবাশ্মর তুলনায় যে অপেক্ষাকৃত সাম্প্রতিক তাও নিরুপন করতে পারি। সময় নিরুপন করতে যাচ্ছি এমন কোন একটি নির্দিষ্ট জীবাশ্মর আশে পাশে কোন আগ্নেয়শিলাকে থাকতেই হবে তার কোন প্রয়োজনীয়তা নেই।  কারন কোন স্তরে জীবাশ্মর অবস্থান দেখেই আমরা বলতে পারি জীবাশ্মটি কোন সময় পর্বের , যেমন ধরুন সেটি ডেভোনিয়ান পর্বের শেষের দিকে, যা আমরা এই স্তরের মধ্যে জীবাশ্মটির আপেক্ষিক অবস্থান দেখেই বলতে পারি। এবং ডেভোনিয়ান পর্বের সাথে সম্পর্কযুক্ত আগ্নেয়শিলার তেজষ্ক্রিয় ডেটিং এর মাধ্যমে আমরা আগেই থেকেই জানি যে, ডেভোনিয়ান পর্বটিশেষ হয়েছিল প্রায় ৩৬০ মিলিয়ন বছরের আগে।

পটাশিয়াম আর্গন ঘড়ি হচ্ছে অনেকগুলো ব্যবহার উপযোগী রেডিওঅ্যাকটিভ ঘড়ির মধ্যে একটি মাত্র, যাদের ভুতাত্ত্বিকরা ব্যবহার করতে পারেন তাদের প্রয়োজনে। সবগুলো ঘড়ির মুলনীতি কিন্তু একই, পার্থক্য শুধু তাদের ভিন্ন ভিন্ন সময়ের স্কেল বা সীমা পরিমাপ করার আপেক্ষিক ক্ষমতা। উপরের টেবিলে একটি তালিকা দেখতে পাবেন সেই সব ঘড়ির, যা দ্রুত থেকে মন্থর এই ধারাবাহিকতায় সাজানো হয়েছে। লক্ষ্য করুন, আবারও, এদের হাফ লাইফ এর বিস্ময়কর বিস্তৃতি, ধীর প্রান্তর দিকে যেমন ৪৯ বিলিয়ন বছর থেকে  ৬০০০ হাজার বছরেরও কম আমরা দেখছি দ্রুত প্রান্তের বিন্যাসে। দ্রুততর ঘড়িগুলো যেমন কার্বন ১৪, কাজ করে একটু ভিন্ন উপায়ে, এর কারন শুন্য থেকে শুরু হওয়া বা জিরোইং বা জিরো তে স্থির হবার ঘটনাটি দ্রুত ঘড়িগুলো ক্ষেত্রে একটু ভিন্নভাবে ঘটে। যে আইসোটোপগুলোর হাফ লাইফ সংক্ষিপ্ত, পৃথিবী যখন প্রথম সৃষ্টি হয়েছিল, তখন তাদের যে সব পরমানুর অস্তিত্ত্ব ছিল তারা বহু আগেই হারিয়ে গেছে; কিন্ত কার্বন ডেটিং কিভাবে কাজ করে তা নিয়ে কথা বলার আগে, আমার মনে হয় আরো একটি প্রমান নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে,যা স্পষ্টতই দেখাচ্ছে পৃথিবীর বয়স অনেক প্রাচীন, যার বয়স মাপা হয় কয়েক  বিলিয়ন বছরের হিসাবে।

যে সমস্ত মৌল পৃথিবীতে পাওয়া যায়, তাদের মধ্যে ১৫০ টি স্থিতিশীল আইসোটোপ এবং ১৫৮ টি অস্থিতিশীল, সব মিলিয়ে মোট ৩০৮টি; ১৫৮টি অস্থিতিশীল আইসোটোপের মধ্য ১২১টি হয় অবলুপ্ত বা তাদের অস্তিত্ব আছে কারন তারা নিরন্তরভাবে পুণঃনবায়িত হচ্ছে। যেমন, কার্বন ১৪ (আমরা একটু পরে দেখবো); এখন যদি আমরা বাকী ৩৭ টি আইসোটোপ যারা বিলুপ্ত হয়ে যায়নি তাদের বিবেচনা করি, সেখানে আমরা একটি গুরুত্বপুর্ণ বিষয় দেখতে পাবো, তাদের প্রত্যেকটির হাফ লাইফ ৭০০ মিলিয়ন বছরের বেশী। আর আমরা যদি ১২১ টা আইসোটোপ যারা বিলুপ্ত হয়েছে তাদের লক্ষ্য করি দেখবো তাদের প্রত্যেকটির হাফ লাইফ ২০০ মিলিয়ন বছরের নীচে। এখানে বিভ্রান্ত হবেন না, মনে রাখবেন আমরা হাফ লাইফ নিয়ে কথা বলছি এখানে, লাইফ না। এবার সেই আইসোটোপের নিয়তির কথা ভাবুন, যার হাফ লাইফ ১০০ মিলিয়ন বছর;  আইসোটোপ যাদের হাফ লাইফ পৃথিবীর বয়সে এক দশমাংশ বা তারও কম , তারা আসলে ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক দৃষ্টিকোন থেকে বিলুপ্ত হয়েছে এবং বিশেষ কোন পরিস্থিতি ছাড়া এটির আসলে অস্তিত্ত্ব নেই। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, যারা কিছু বিশেষ কারনে টিকে থাকে, যে আইসোটোপগুলো এই পৃথিবীতে পাওয়া যায়, তাদের হাফ লাইফ যথেষ্ট দীর্ঘ খুব প্রাচীন একটি গ্রহে টিকে থাকার জন্য। কার্বন ১৪ হচ্ছে এরকম একটি ব্যতিক্রম, এটি ব্যতিক্রম খুব কৌতুহলোদ্দীপক মজার কিছু কারনে, এর কারন এটি নিরন্তরভাবে নবায়িত হচ্ছে আমাদের পরিবেশে। কার্বন ১৪ র ঘড়ি হিসাবে ব্যবহারের উপায় ভুমিকা সুতরাং আমাদের বুঝতে হবে অন্যান্য দীর্ঘজীবী আইসোটোপ থেকে কিছুটা আলাদা ভাবে, বিশেষ করে কোন ঘড়িকে জিরো বা শুন্য থেকে সেট করা বলতে আসলে কি বোঝায়?

_________________________________________________ চলবে…

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s