রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

zuni douglas-fir pinaleno spruce small red oak small red pine
ছবি: গাছে কান্ডে বলয় বা রিং কিছু প্যাটার্ণ;  িএই রিং প্যাটার্ণগুলোর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে Dendrochronology বা Tree Ring dating প্রক্রিয়া। িএটি একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া যা গাছের রিং প্যাটার্ণ বিশ্লেষন করার মাধ্যমে কোন কাঠের নমুনার বয়স নিরুপন করতে পারি। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে এর ব্যবহার আছে, তার একটি হলো প্যালিওইকোলজী অতীতে পরিবেশ সম্বন্ধে ধারনা, প্রত্নতত্ববিদ্যা,যেখানে পুরোনো কোন বাড়ির বয়স নির্ণয়, এবং রেডিওকার্বন ডেটিং, যেখানে এটি ব্যবহার করা হয় রেডিওকার্বন ডেটিং ক্যালিব্রেট করার জন্য।

_________________________
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)
তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)
তৃতীয় অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব)

নীরবতা এবং মন্থর সময় ….

চতুর্থ অধ্যায়: দ্বিতীয় পর্ব

গাছের কান্ডের বলয় বা ট্রি রিং

ট্রি রিং ঘড়ি ব্যবহার করা একটুকরো কাঠের বয়স নিরুপন করা যেতে পারে, যেমন ধরুন একটি টুডোর রাজবংশর (টুডোর বৃটিশ এক রাজ পরিবারের নাম, যারা ১৪৮৫ সাল থেকে ১৬০৩ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল) শাসনামলে নির্মিত কোন বাড়ীর কাঠের একটি বীম, এই প্রক্রিয়ায় বিস্ময়করভাবে ‍নিকটবর্তী বছর অবধি নিঁখুতভাবে বয়স নিরুপন করা যেতে পারে। কিভাবে এটি সময় নিরুপন করে ? প্রথমে, যেমনটা বেশীর ভাগ মানুষই জানেন, কোন একটি নতুন কাটা গাছের বয়স নির্ণয় করা যায় এর কান্ডের মধ্যে সাজানো ট্রি রিং বা বলয় গুনে, ধারনা করে নেয়া হয় সবচেয়ে বাইরের দিকে থাকা রিংটি হলো সাম্প্রতিকতম, যা বর্তমান সময়কে প্রতিনিধিত্ব করছে।এই রিংগুলো বছরের ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে – গ্রীষ্ম ও শীত, শুষ্ক এবং বর্ষা মৌসুম – বৈষ্যম্যমুলক বৃদ্ধির হারকে প্রতিনিধিত্ব করে। রিং গুলো বিশেষভাবে স্পষ্ট হয় উচ্চতর অক্ষাংশে, যেখানে ঋতুগুলোর মধ্যে বৈষম্য প্রকট। সৌভাগ্যক্রমে, কোন গাছের বয়স মাপার জন্য আপনাকে আসলেই পুরো গাছ কেটে ফেলতে হবে না। আপনি চাইলে এর বৃদ্ধির রিং গুলো দেখতে পাবেন গাছের গুড়ি না কেটেই, শুধু এর কান্ডের মধ্যে একটি ছিদ্র করে আপনাকে প্রয়োজনীয় নমুনা কেটে বের করে আনতে হবে। কিন্তু শুধু রিং গুনে আপনি বলতে পারবেন না আপনার বাসার কাঠের বীম বা আপনার সংগৃহীত ভাইকিং জাহাজের মাস্তুল এর কাঠের টুকরাটি ঠিক কোন শতাব্দীতে একটি জীবিত গাছের অংশ ছিল। বহুদিন আগে মৃত কোন কাঠের যদি আপনি সঠিক বয়স নির্ণয় করতে চান তাহলে আপনাকে বাড়তি কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। শুধু রিং গুনলেই হবে না, এর মোটা আর সরু রিং গুলোর প্যাটার্ণ বা সজ্জাও ভালো করে লক্ষ্য করতে হবে।

গাছের রিং গুলো ঋতু চক্রানুযায়ী ভালো আর খারাপ বৃদ্ধির কে যেমন বোঝায়, তেমনি কোন বছর বৃদ্ধি ভালো অন্য কোন বছরের তুলনায়, কারন আবহাওয়ার ভিন্নতাও লক্ষ্য করা যায় ভিন্ন ভিন্ন বছরে: যেমন কোন বছর খরা হতে পারে যা গাছের বৃদ্ধি ব্যহত করে এবং এর পরের বছরে এর বীপরিত চিত্রে দেখা যায় বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে; কোন বছর বেশী ঠান্ডা বা কোন বছর গরম বেশী হতে পারে, এমনকি সেই অদ্ভুত এল নিনো বা ক্রাকাতোয়া ধরনের কোন বিপর্যয় হতে পারে কোন বছরে।ভালো বছরগুলো, বেশী চওড়া রিং তৈরী করবে খারাপ বছরগুলোর তুলনায়; এবং চওড়া আর সরু রিং এর প্যাটার্ণ কোন একটি এলাকায় সৃষ্টি হবে বৈশিষ্টসুচকভাবেই খারাপ আর ভালো বছরের ক্রমধারাহিকতার কারনে। এবং এই প্যাটার্ণটি যথেষ্ট পরিমান বৈশিষ্টসুচক – অনেকটা ফিংগারপ্রিন্টের মত,  যা ঠিক কোন বছরে রিং গুলো সৃষ্টি হয়েছে তা চিহ্নিত করতে পারে – যা বিভিন্ন গাছে শনাক্ত করা সম্ভব।

ডেনড্রোক্রোনোলজিষ্ট( Dendrochoronologist) রা সাম্প্রতিক গাছগুলোর রিং গুলো পরিমাপ করেন, যেখানে প্রতিটি রিং এর সঠিক তারিখ নির্ণয় কারা হয় যে বছরে সেই গাছটি কাটা হয়েছে, সেই বছর থেকে উল্টো দিকে গুনে । এই ধরনের নানা সময়ে কাটা গাছের রিং থেকে পরিমাপ থেকে  তারা গাছের রিং প্যাটার্ণ এর একটি রেফারেন্স কালেকশন বা সংগ্রহ তৈরী করেন, সময় জানতে চান এমন কোন  প্রত্নতাত্ত্বিক নমুনার রিং প্যাটার্ণ সেই কালেকশন রিং প্যাটার্নের সাথে তুলনামুলক একটি পর্যালোচনা করে দেখতে পারেন। সুতরাং এভাবে আপনি হয়তো রিপোর্ট পেতে পারেন যে: টুডোর সময়ে তৈরী বাড়িটির কাঠের বীমটির বৈশিষ্টসুচক রিং প্যাটার্ণটির রেফারেন্স সংগ্রহের একটি প্যাটার্ণ সিকোয়েন্স এর সাথে মিল পাওয়া গেছে, যা তৈরী হয়েছে ১৫৪১ থেকে ১৫৪৭ সালে। সুতরাং এই বাড়িটি তৈরী হয়েছে ১৫৪৭ সালের পরে।

nancy li linville Kernentnahme
ছবি: জীবিত কোন গাছের কোর নমুনা সংগ্রহ

সবই ঠিক আছে, কিন্তু বর্তমান সময়ে খুব কম গাছই টুডোর দের সময়ে জীবিত ছিল, এর আরো আগের কথা নাহয় বাদই দিলাম। কিছু গাছ আছে যেমন, ব্রিসলকোন পাইন, কিছু জায়ান্ট রেডউড ট্রি, যারা হাজার বছর বাচে, কিন্তু বেশীর ভাগ গাছই ব্যবহৃত হয়েছে তাদের কাঠের জন্য যখন তাদের বয়স এক শতাব্দীরও কম ছিল।তাহলে আমরা কিভাবে  উপরে বর্ণিত সেই রেফারেন্স ট্রি রিং প্যাটার্ণ এর সংগ্রহটি তৈরী করতে পারি যেখানে আরো প্রাচীন বৃক্ষের রিং এর প্যাটার্ণও রেকর্ড করা থাকতে পারে ? সেই সময়ের জন্য যা সবচেয়ে প্রাচীনতম জীবিত ব্রিসলকোন পাইন এর চেয়ে পুরোনো হবে? আমার ধারনা, আপনি ইতিমধ্যেই এর উত্তর অনুমান করতে পেরেছেন; হ্যা ওভারল্যাপ, একটি সাথে আরেকটি সময়ের রিং প্যাটার্ণের মাধ্যমে একটি ধারাবাহিক সংযোগ তৈরী করে।

dend05 crossdatingfigure

ছবি ডেনড্রোক্রোনোলজী কিভাবে কাজ করে..

কোন একটি মোটা শক্ত দড়ি হয়তো ১০০ গজ লম্বা হতে পারে, তবে তার  কোন একটি একক ফাইবার বা আশ কিন্তু এককভাবে এর পুরো দৈর্ঘ্যর শুধুমাত্র আংশিক দুরত্ব অতিক্রম করে। ডেনড্রোক্রোনোলজীর ওভারল্যাপ মুলনীতি ব্যবহার করতে, আপনাকে একটি রেফারেন্স রিং এর বৈশিষ্টসুচক প্যাটার্ণ বা বলতে পারেন ট্রি রিং এর ’ফিংগার প্রিন্ট’ প্যাটার্ণ নিতে হবে যার সময়কাল  সমসাময়িক কোন গাছ থেকে  আমাদের আগেই জানা; তারপর আধুনিক কোন গাছের কান্ডে পুরোনো একটি বৈশিষ্টসুচক রিং প্যাটার্ণ বা ফিঙ্গার প্রিন্ট প্যাটার্ণ শনাক্ত করতে হবে, এবং এরপর বহু আগেই মৃত কোন গাছের অপেক্ষাকৃত তরুনতম কোন রিং প্যাটার্ণ এর মধ্যে সেই একই বৈশিষ্টসুচক প্যাটার্ণটি   খুজতে হবে। এরপর আবার সেই একই বেশ আগে মৃত গাছের কান্ডে পুরোনো একটি বৈশিষ্টসুচক রিং প্যাটার্ণ লক্ষ্য করি এবং আরো পুরোনো গাছের কান্ডে তরুনতম রিং প্যাটার্নে  সেই বৈশিষ্টসুচক রিং টি খুজে বের করতে হবে, এভাবে প্রক্রিয়াটা চলতে থাকে।  একের পর এক ধারাবাহিকভাবে আপনি পেছন দিকে অগ্রসর হতে পারবেন, তাত্ত্বিকভাবে মিলিয়ন বছর অবধি, প্রস্তুরীভুত বনভুমির গাছ ব্যবহার করে। যদিও প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ডেনড্রোক্রোণোলজী সাধারণত কয়েক হাজার বছরের প্রত্নতাত্ত্বিক সময়ের স্কেলেই কাজ করে। সবচেয়ে মজার ব্যপার হলো প্রায়োগিক ক্ষেত্রে না হলেও অন্তত তাত্ত্বিকভাবে অন্তত আপনি ১০০ মিলিয়ন বছর পুরোনো পেট্রিফায়েড বনাঞ্চলের প্রস্তরীভুত গাছের একবারে নিকটবর্তী বছর পর্যন্ত বয়স নির্ণয় করতে পারবেন;  আপনি আক্ষরিকভাবেই কিন্তু বলতে পারবেন যে জুরাসিক পর্বের এই জীবাশ্ম বৃক্ষে এই রিংটি সৃষ্টি হয়েছিল, ঠিক ২৫৭ বছর পরে, অন্য আরেকটি জুরাসিক বৃক্ষের অন্য এই রিং টি সৃষ্টি হবার পরে! যদি আমাদের হাতে যথেষ্ট পরিমান প্রস্তুরীভুত বনাঞ্চল থাকতো তাহলে সেটি  ধারাবাহিকভাবে ব্যবহার করে বর্তমান থেকে, আপনি হয়তো বলতে পারতেন এই গাছটি শুধু জুরাসিক পর্বে শেষ দিকেরই না, এট জীবিত ছিল ঠিক ১৫১,৪৩২,৬৫৭ খৃষ্ট পুর্বাব্দে !

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের  সেটা করার মত নিরবিচ্ছিন্ন কোন ধারাবাহিক রেফারেন্স ‍রিং প্যাটার্ণেরে সংগ্রহ নেই। আর তাই ডেনড্রোক্রনোলজী প্রায়োগিক ক্ষেত্রে আমাদের শুধুমাত্র প্রায় ১১,৫০০ বছর পেছনে নিয়ে যেতে পারে। তারপরও একটি সম্ভাবনার ভাবনা আমাদের মনে উকি দেয়, যদি আমরা  যথেষ্ট পরিমান পেট্রিফায়েড ফরেষ্ট খুজে পেতাম,  কয়েক শত মিলিয়ণ বছরের সময়ের ব্যাপ্তিতে কোন গাছের বয়স নির্ণয় করতে সক্ষম হতাম একেবারে নিকটবর্তী বছরের হিসাব পর্যন্ত।

ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় পেট্রিফায়েড ফরেষ্ট ন্যাশনাল পার্কের কিছু দৃশ্য; আজ থেকে প্রায় ২২৫ মিলিয়ন বছর আগে, মেসোজোয়িক এরায় লেট ট্রায়াসিক পর্বে অর্থাৎ প্রায় ২২৫ মিলিয়ন বছর পুর্বে এই অংশটি বিষুব রেখার নীচে প্যানজিয়া সুপার কন্টিনেন্ট একটি অংশ ছিল..; প্রায় ক্রান্তীয় আবহাওয়া ছিল তখন; এখানেই লেট ট্রায়াসিক যুগে পানির ধারা বা নদীর পাশে থাকা গাছগুলো মাঝে মাঝেই শিকড় উপড়ে বা ভেঙ্গে পড়ে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল, আর সেখানেই তারা পললের নীচে আটকা পড়ে, সেই পলল বা সেডিমেন্ট এ ছিল ভলকানিক অ্যাশ, যার সিলিকা পানিতে মিশে গাছের গুড়ির মধ্যে সকল জৈব পদার্থকে প্রতিস্থাপিত করে কোয়ার্টজ ক্রিষ্টাল তৈরী করে। এর মধ্যে কিছু আয়রন অক্সাইডের উপস্থিতির তারতম্য এই সব প্রস্তুরীভুত গাছের কান্ডগুলোকে দিয়েছে নানা রঙের দ্যুতি। প্রায় ২০০ ট্যাক্সা বা গ্রুপের বৃক্ষকে এখানে শনাক্ত করা হয়েছে, তবে সবচেয়ে বেশী দেখা মেলে েএকধরণের বিলুপ্ত কনিফার (Araucarioxylon arizonicum ) বৃক্ষের।

গাছের রিং প্যাটার্ণই কিন্তু এককভাবে শুধুমাত্র একটি পদ্ধতি না, যা দিয়ে আমরা কোন গাছের বয়স তার নিকটবর্তী বছর পর্যন্ত পরিমাপ করার নিশ্চয়তা দিতে পারি। হিমাবাহ বা গ্লেসিয়াল হৃদে যে পলির স্তর পড়ে যা পরিচিত ভার্ভ (Varves) হিসাবে, ভার্ভ ও গাছের রিং এর মত ঋতু এবং বছরে বছরে ভিন্ন, সুতরাং তাত্ত্বিকভাবে একই মুলনীতি ব্যবহার করে প্রায় একই নির্ভুলতার সাথে সময় পরিমাপ করা যেতে পারে। প্রবাল প্রাচীর এর একটি বার্ষিক গ্রোথ রিং আছে, গাছের মতই। বিস্ময়করভাবে এদের ব্যবহার করা হয়েছে প্রাচীন ভুমিকম্পের সময়কাল খুজে বের করতে। বাকী যে সব ডেটিং বা সঠিক সময়কাল নির্দেশ করার পদ্ধতি আমাদের জানা আছে, যেমন রেডিওঅ্যাকটিভ পদ্ধতি, যা আসলেই আমার শত হাজার মিলিয়ন বা বিলিয়ন বছরের সময় স্কেলে ব্যবহার করি, যেখানে ভুল হবার পরিমান আনুপাতিকভাবে প্রায় সেই সময় স্কেলের সাথে সামন্জষ্যপুর্ণ।

_________________________________________________ চলবে…

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : চতুর্থ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s