রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব)

jk
ছবি: Jon Krause এর একটি ইলাসট্রেশন, 

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব)

( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The God Delusion by Richard Dawkins

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায়
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) , চতুর্থ অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) ,
চতুর্থ অধ্যায় ( তৃতীয় পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( চতুর্থ পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
 পঞ্চম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)পঞ্চম অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) , পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ,  পঞ্চম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব) ,পঞ্চম অধ্যায় (ষষ্ঠ পর্ব)
ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; ষষ্ঠ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)
সপ্তম অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) ;
সপ্তম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
অষ্টম অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; অষ্টম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) ; অষ্টম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) ;
অষ্টম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

ধর্মের সমস্যাটা আসলে কি? ধর্ম কেন এত হিংস্র ?

দি গ্রেট বীটহোভেন ফ্যালাসী:

সাধারনত গর্ভপাত বিরোধীদের এই মৌখিক শব্দের দাবা খেলায় পরবর্তী পদক্ষেপ হচ্ছে খানিকটা এরকম: মুল বিষয়টি কিন্তু এই মহুর্তে মানুষের ভ্রুণ কোন কিছু অনুভব করতে পারে কি পারেনা, সেটি না, কথা হচ্ছে এর সেটি করার সম্ভাব্য ক্ষমতাটি। গর্ভপাতের ফলে এই ভ্রুণটি ভবিষ্যতে তার সম্ভাব্য একটি পুর্ণ মানব জীবন পাবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে, এধারনাটি তাদের বাকস্বর্বস্ব যুক্তিকে নির্দেশিত করে যার চুড়ান্ত নির্বুদ্ধিতা এর অসততার অভিযোগের প্রত্যুত্তরে একমাত্র অজুহাত হতে পারে; আমি সেই প্রখ্যাত গ্রেট বিটহোভেন ফ্যালাসী বা ভ্রান্ত যুক্তির কথা বলছি। বেশ কয়েকটি সংস্করণ আছে এই ফ্যালাসিটির। পিটার এবং জীন মেদাওয়ার ( স্যার পিটার মেদাওয়ার ১৯৬০ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার জয় করেছিলেন) তাদের  The  Life Science এ নিম্নোক্ত সংস্করণটির সুত্র হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন নরমান সেন্ট জন স্টেভাস ( এখন লর্ড সেন্ট জন) এর নাম;  যিনি একজন বৃটিশ সংসদ সদস্য, সুপরিচিত একজন রোমান ক্যাথলিক মুখপাত্র, তিনি আবার এটি সংগ্রহ করেছে মরিস বারিঙ (১৮৭৪-১৯৪৫) এর সংগ্রহ থেকে, একজন প্রখ্যাত ব্যক্তি যিনি রোমান ক্যাথলিকে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন এবং ক্যাথলিকদের অন্যতম শক্তিশালী সমর্থক জি কে চেষ্টারটন এবং হিলেয়ার বেলক এর নিকট সহযোগী। তিনি দুটি চিকিৎসকের মধ্যে একটি কাল্পনিক কথোপকথনের মাধ্যমে যুক্তিটি গড়ে তুলেছিলেন:

একটি গর্ভপাতের বিষয়ে আমি আপনার মতামত চাইছি;
বাবাটির সিফিলিস আছে, মায়ের আছে যক্ষা, যে চারটি সন্তান তাদের আছে ইতিমধ্যে তার প্রথমটি অন্ধ, দ্বিতীয়টি মারা গেছে,তৃতীয়টি মুক এবং বধির, চতুর্থটিরও যক্ষা আছে..
এই অবস্থায় আপনি হলে কি করতেন?
আমি গর্ভপাত করাতাম।
তাহলে তো আপনি বীটহোভেন কে হত্যা করবেন;

ইন্টারনেট জুড়ে অসংখ্য তথাকথিত গর্ভপাত বিরোধী ওয়েব সাইট আছে যারা এই হাস্যকর কাহিনী বার বার ব্যবহার করেছে এবং ঘটনাচক্রে তারা তাদের খেয়াল খুশী মত মুল্য সত্য বক্তব্যটিকেও বিকৃত করেছেন, আরো একটি সংস্করণ শুনুন:  ’আপনি যদি কোন রমনীকে চেনেন যিনি ইতিমধ্যেই আটটি সন্তানের জননী এবং আবারো গর্ভবতী.. যার তিন জন বধির, দুজন অন্ধ, একজন মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ, যার কারণ তার সিফিলিস আছে, আপনি কি তাকে গর্ভপাত করার পরামর্শ দেবেন?’ এর উত্তর যদি হ্যা হয় তাহলে কিন্তু আপনি অনাগত একজন বীটহোভেনকে খুন করলেন। কিংবদন্তীর এই বিবরণটি বিখ্যাত সুরস্রষ্টাকে পঞ্চম থেকে নবম স্থানে নিয়ে এসেছে তার জন্মক্রমকে, বধির হিসাবে জন্ম নেবার সংখ্যাকে তিন এ উন্নীত করেছে, অন্ধর সংখ্যা দুই এ, বাবার বদলে মাকে সিফিলিস এ আক্রান্ত হওয়া হিসাবে দেখিয়েছে। মোট ৪৩ টা ওয়েবসাইট যেখানে আমি এই গল্পটির নানা রুপ খুজেছিলাম, সেখানে এটির উৎস হিসাবে মরিস বারিং না বরং ইউসিএলএ(UCLA) মেডিকেল স্কুল একজন  অধ্যাপক এল আর আগনিউ কে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, যিনি এই গল্পটা নাকি তিনি তার ছাত্রদের উভয় সংকটের একটি বিষয় হিসাবে বলতেন, যেন তাদের তিনি বলতে পারেন, ’শুভেচ্ছা আপনি এই মুহুর্তে বীটহোভেনকে হত্যা করলেন।‘ আমরা খানিকটা দয়া পরবশ হয়ে এল আর অ্যাগনিউকে ছাড় দিতে পারি তার অস্তিত্বের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ পোষন করার জন্য -তবে বিস্ময়কর ব্যাপারটা হচ্ছে কিভাবে আরবান বা শহুরে এই কিংবদন্তীগুলো গড়ে ওঠে। আমি খুজে পাইনি এই কিংবদন্তীর কাহিনীটির শুরুটা কোথায়.. এটি বারিং শুরু করেছিলেন নাকি এর উৎপত্তি আরো আগে।

তবে এটি আবিষ্কৃত সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। পুরোপুরি মিথ্যা একটি কাহিনী। আসল সত্যিটা হলো লুদভিগ ভান বীটহোভেন নবম শিশু যেমন ছিলেন না তেমনি তিনি পঞ্চমও ছিলেন না, তিনি ছিলেন সবার বড়, একেবারে সঠিক করে বললে দ্বিতীয় সন্তান, কারন তার বাবা মার প্রথম সন্তান খুব শৈশবেই মারা যান, যা খুব স্বাভাবিক ছিল সেই সময়ে, এবং যত দুর জানা যায় আদৌ অন্ধ, মুক বা বধির বা মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ ছিলেন না। এমন কোন প্রমান নেই যে তার বাবা মা সিফিলিসে আক্রান্ত ছিলেন, তবে এটা ঠিক তার মা পরে মারা গিয়েছিলেন যক্ষায় ভুগে। যখন যক্ষার প্রকোপও ছিল বেশী।

সুতরাং আসলে পুরো ব্যপারটি কাল্পনিক..বলা যায় আরবান লিজেন্ড, কল্পকথা, ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এটি ছড়িয়েছে, কিন্তু এটি যে মিথ্যা সেটি কিন্তু মুল বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করে না… এমনকি এটি যদি মিথ্যা নাও হয়, এর থেকে দাড় করানো এই যুক্তিটি খুবই দুর্বল একটি যুক্তি। পিটার এবং জীন মেডাওয়ারের কোন প্রয়োজন ছিল না এই যুক্তিটি ভ্রান্ত প্রমান করার জন্য এই কাহিনীর সত্যতা  সম্বন্ধে সন্দেহ পোষন করতে। এই ঘৃণ্য ছোট যুক্তিটির পেছনে বক্তব্যগুলো ভয়ঙ্করভাবে ভুল। যদি না প্রস্তাব করা হয় একজন যক্ষাক্রান্ত মা এবং সিফিলিস আক্রান্ত বাবার সম্পর্ক পৃথিবীর একজন অন্যন্য সঙ্গীত প্রতিভার জন্ম নেবার সাথে কোন না কোনভাবে কার্যকারনজনিত যোগসুত্র আছে। এবং তারা একজন বীটহোভেনকে জন্ম দেয়া থেকে বঞ্চিত হবে যতটা না গর্ভপাতের কারনে ততটাই সঙ্গম থেকে বিরত থাকার কারনে। মেদাওয়ার দম্পতির সংক্ষিপ্ত বিরক্তি মিশ্রিত প্রত্যাখ্যানটি উত্তর দেয়া অসম্ভব (রোনাল্ড ডাল এর একটি গল্প থেকে প্লট ধার নিয়ে বলতে পারি, গর্ভপাত না করানোর সেই একই ঘটনাক্রমে নেয়া সিদ্ধান্ত  ১৮৮৮ সালে আমাদের অ্যাডলফ হিটলারকে উপহার দিয়েছিল), কিন্তু আপনার সামান্যতম খানিকটা বুদ্ধিমত্তা থাকা প্রয়োজন – বা হয়তো কোন ধরনের ধর্মীয় আবহে প্রতিপালিত না হয়ে থাকলে এই বিষয়টি বোঝা সম্ভব না। যে ৪৩ টি বাছাই ওয়েব গর্ভপাত বিরোধী বা প্রো লাইফ সাইটে বীটহোভেন এর কাহিনীটির কোন না একটি সংস্করণ প্রকাশ করেছে যা এই লেখার সময় গুগল সার্চে খুজে পেয়েছি, তাদের একটিও এই যুক্তির মধ্যে ভুল বা অযৌক্তিক বিষয়টি ধরতে পারেননি। এবং তাদের প্রত্যেকটি ( সবগুলোই ধর্মীয় ওয়েব সাইট) এই ভ্রান্ত যুক্তির মোহে আকর্ষিত হয়েছেন, বর্শির টোপ খেয়েছেন..পুরোপুরি। তাদের একটি আবার মেদাওয়ারকে স্বীকৃতি দিয়েছে  এর উৎস হিসাবে। এই মানুষগুলো তাদের ধর্মবিশ্বাস বান্ধব যে কোন ভুলকে বিশ্বাস করার জন্য এতটাই উদগ্রীব.. তারা এমনকি খেয়াল করেননি যে মেদাওয়ার এই যুক্তিটি প্রস্তাব করেছিলেন শুধুমাত্র এটির ভুল ধরে নাকচ করে দেবার জন্য।

Jon_Krause__Prepartum_Depression
ছবি: Jon Krause এর একটি ইলাসট্রেশন,

এবং মেদাওয়ার সঠিকভাবে ব্যপারটা দেখিয়েছেন যে মানুষের সম্ভাবনা বা পোটেনশিয়াল যুক্তিটির উপসংহার হচ্ছে যে, আমরা যখনই যৌন সঙ্গম করার সুযোগ গ্রহন করতে ব্যর্থ হই আমরা তখনই একটি মানব আত্মাকে তার অস্তিত্ব পাবার সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত করি। যে কোন উর্বর জুটির সঙ্গমের আহবানের প্রতিটি প্রত্যাখ্যান..এই প্রো লাইফ বা জীবনের পক্ষে বেসামাল যুক্তিতে সম্ভাব্য একটি শিশু হত্যা। এমনকি কারো ধর্ষিত না হবার চেষ্টাও সম্ভাব্য কোন শিশু হত্যার সমান প্রতিনিধিত্ত্ব করে ( এবং কথা প্রসঙ্গে .. বহু প্রো লাইফ এর সমর্থকরা যে মহিলা এমনকি নৃশংসভাবে ধর্ষিত হয়েছে তাদেরও গর্ভপাতের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চায়); বীটহোভেন যুক্তি, আমরা স্পষ্ট দেখতে পারি, খুবই দুর্বল একটি যুক্তি। এর পরাবাস্তব নির্বুদ্ধিতা মোটামুটি পুরোটাই ফুটে উঠেছে.. মাইকেল পালিন এর গাওয়া সেই চমৎকারে গানটিতে ‘Every sperm is sacred, শতাধিক শিশুর কোরাস সহ এই গানটি মন্টি পাইথন সিরিজের এর ছায়াছবি The Meaning of Life এ ছিল (আপনি যদি এখনও না দেখে থাকেন দয়া করে একবার দেখুন); এই তথাকথিত মহান বীটহোভেন ভ্রান্ত যুক্তিটি একটি বৈশিষ্টসুচক উদহারন হদে পারে কিভাবে যুক্তির গোলকধাধায় আমরা সবকিছু গোলমাল করে ফেলি যখন আমাদের মন ধর্ম অনুপ্রাণিত চুড়ান্তবাদীতায় সংশয়াচ্ছন্ন থাকে।

ভালো করে লক্ষ্য করুন যে প্রো লাইফ (Pro-life) আসলে কিন্তু সামগ্রিকভাবেই প্রো লাইফই বোঝাচ্ছেনা আদৌ। এর আসল অর্থ হচ্ছে প্রো হিউম্যান লাইফ বা শুধুমাত্র মানুষের জীবনের স্বপক্ষে ; Homo sapiens প্রজাতির কিছু কোষকে বিশেষভাবে এই অধিকার প্রদান করার বিষয়টি বিবর্তনের ধারনার সাথে সামন্জষ্যপুর্ণ না। স্বীকার করতেই হবে, বিষয়টি আদৌ বেশীর ভাগ গর্ভপাত বিরোধীদের জন্য চিন্তার কোন বিষয় না। তারা  এমনিতেই বোঝেন না বিবর্তন একটি বাস্তব সত্য ! কিন্তু আমি সে যুক্তিটি বিজ্ঞান কিছুটা বোঝেন এমন কিছু গর্ভপাত বিরোধী সক্রিয় আন্দোলনকারীদের সুবিধার্থে ব্যাখ্যা করতে চাই।

বিবর্তনীয় দৃষ্টিভঙ্গীটি খুব সরল। কোন ভ্রণ কোষের মানুষ নির্দিষ্ট বৈশিষ্টাবলী এর উপর চুড়ান্ত বিচ্ছিন্নভাবে কোন নৈতিক অবস্থা আরোপ করতে পারেনা, এটি পারে না কারন শিম্পান্জি এবং আরো দুরবর্তী, পৃথিবীর সকল প্রজাতির সাথে আমাদের বিবর্তনীয় বংশধারার একটি ধারাবাহিকা আছে। এবং এটি বোঝার জন্য.. কল্পনা করুন একটি অন্তবর্তী কোন প্রজাতিদের, ধরা যাক Australopithecus afarensis, ধরুন তারা  সুযোগ পেল বেচে থাকার এবং দুর্গম কোন আফ্রিকার কোন প্রান্তে তাদের খুজে পাওয়াও গেল, তাদেরকে কি মানুষ হিসাবে পরিগনিত করা হবে কি ? নাকি হবে না ?  আমার মত পরিণতিবাদীদের কাছে এই প্রশ্নের কোন উত্তর প্রত্যাশা করা উচিৎ না, কারন এর উপর তাদের কিছুই নির্ভর করে নেই। আমাদের জন্য এটাই যথেষ্ট যে আমারা সন্মানিত এবং বিস্মিত হবো একটি নতুন ’লুসি’র সাথে দেখা করার সুযোগ পেয়ে; তবে অন্যদিকে চুড়ান্তবাদীরা অবশ্যই এই প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য; ’শুধুমাত্র মানুষ হবার’ কারনে যারা মানুষের উপর তাদের অনন্য এবং বিশেষ নৈতিকতার মুলনীতি আরোপ করে মানুষকে একটি অনন্য এবং একটি বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে। হয়তো যদি এর উত্তর দিতে তারা কোন তীব্র চাপের মুখে পড়ে, তারাও সম্ভবত বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গদের দক্ষিন আফ্রিকার মত কোন আদালত প্রতিষ্ঠা করবে, শুধুমাত্র একটি সিদ্ধান্ত নিতে, এই নির্দিষ্ট জীবটি ’মানুষ’ হিসাবে ছাড়পত্র পেতে পারে কিনা?

এমনকি যদিও একটি স্পষ্ট উত্তর হয়তো পাওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে Australopithecus দের জন্য, কিন্তু ধীর ক্রমান্বয়ে ধারাবাহিকতা জৈববৈজ্ঞানিক বিবর্তনের একটি অনস্বীকার্য বৈশিষ্ট, যা আমাদের বলছে, অবশ্যই ’কিছু’ অন্তবর্তীকালীন প্রজাতি আছে যারা প্রান্তসীমার যথেষ্ট কাছাকাছি কোথাও অবস্থান করে, যার ফলে তারা নৈতিকতার মুলনীতিটা অস্পষ্ট করে দিয়ে ভেঙ্গে দিতে পারে এর চুড়ান্তবাদী অবস্থানটি। এই বিষয়টিকে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে বরং এটা বলে যে বিবর্তন প্রক্রিয়ায় কোন প্রাকৃতিক সীমানার অস্তিত্ব নেই। আর এই সীমানা আছে এমন একটি বিভ্রম সৃষ্টি হবার কারন আসলে বিবর্তনীয় অন্তর্বতীকালীন রুপগুলো ঘটনাক্রমে সব বিলুপ্ত হয়েছে। অবশ্যই, তর্ক করা যেতে পারে, মানুষরা অন্য যে কোন প্রজাতির তুলনায় অনেক বেশী কষ্ট অনুভব করতে পারে। এটি হয়তো সত্যিও হতে পারে এবং আমরা আইনসঙ্গতভাবেই মানুষকে বিশেষ মর্যাদা দেই এই কারনে। কিন্তু বিবর্তনের ধারাবাহিকতা আমাদের বলছে এরকম কোন   চুড়ান্ত পৃথকীকরণ বলে কিছু নেই। চুড়ান্তবাদীদের নৈতিকতাবাদী বৈষম্যতা বিবর্তনের সত্যতাকে পুরোপুরি নাকচ করে দেয়; হয়তো এই সত্যটা নিয়ে একধরনের সচেতন অস্বস্তি হয়তো সত্যিই হতে পারে সৃষ্টিবাদীদের বিবর্তনকে বিরোধীতা করার প্রধানতম কারন: তারা যা ভয় পায়, সেটা হলো তাদের বিশ্বাসে নৈতিকতার একটি পরিনতি হবে। তাদের এই চিন্তাটা ভুল, তবে যাই হোক, নৈতিকভাবে পছন্দনীয় এমন বিবেচনা দ্বারা প্রকৃত পৃথিবী সম্বন্ধে স্বাক্ষ্যপ্রমান সহ কোন সত্য ফ্যাক্ট পরিবর্তিত হয়ে যাবে এমন চিন্তা করাটা আসলেই খুব উদ্ভট।

 

________________________ চলবে

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s