রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

jonkrausewomen (1)
ছবি: Jon Krause এর একটি ইলাসট্রেশন, Pro Choice:Reproductive rights

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The God Delusion by Richard Dawkins

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায়
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) , চতুর্থ অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) ,
চতুর্থ অধ্যায় ( তৃতীয় পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( চতুর্থ পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
 পঞ্চম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)পঞ্চম অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) , পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ,  পঞ্চম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব) ,পঞ্চম অধ্যায় (ষষ্ঠ পর্ব)
ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; ষষ্ঠ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)
সপ্তম অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) ;
সপ্তম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
অষ্টম অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; অষ্টম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) ; অষ্টম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

ধর্মের সমস্যাটা আসলে কি? ধর্ম কেন এত হিংস্র ?

ধর্মবিশ্বাস এবং মানব জীবনের পবিত্রতা

মানব ভ্রুণ মানব জীবনেরই একটি উদহারণ। সুতরাং চুড়ান্তবাদী ধর্মীয় আলোকে গর্ভপাত হচ্ছে প্রশ্নাতীতভাবে গর্হিত একটি কাজ: পুরোদস্তুরভাবে একটি হত্যাকান্ড। আমি ঠিক নিশ্চিৎ না, বিষয়টি আমি কিভাবে ব্যাখ্যা করবো, আমার নিজস্ব এবং সংগৃহীত কিছু পর্যবেক্ষন হচ্ছে অনেকেই যারা ভ্রুণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্রভাবে প্রতিবাদ করে থাকেন , সাধারনত দেখা যায় পুর্ণবয়স্ক কোন মানুষ হত্যা করার ব্যাপারে আবার তাদের উৎসাহের কোন ঘাটতি নেই। নিরপেক্ষভাবে বলতে হলে নিয়মানুযায়ী এটি রোমান ক্যাথলিকদের জন্য আবার প্রযোজ্য নয়, গর্ভপাতের বিরুদ্ধে সবচেয়ে যারা উচ্চকন্ঠ ও প্রতিবাদমুখর; নব্য গোড়া খৃষ্টান জর্জ ডাবলিউ বুশ যদিও আজকের সময়ে ধর্মীয় প্রভাবশালী অবস্থানের একটি বৈশিষ্টসুচক উদহারন; তিনি এবং তারা, মানব জীবন রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যতক্ষন না পর্যন্ত এটি কোন ভ্রুণ ( বা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে এমন জীবন); এমন কি সেটা করার প্রচেষ্টায় তারা চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষনাকে বাধা দিতেও সর্বদা প্রস্তুত, অন্যথায় যে গবেষনা হয়তো নিশ্চয়ই বহু মানুষের জীবন বাচাতে পারতো। মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থানের কারন কারো কারো কাছে অবশ্যই মানব জীবনের প্রতি সন্মান। ১৯৭৬ সাল থেকে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রীম কোর্ট মৃত্যুদন্ডের উপর প্রদত্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়, টেক্সাস মোট ৫০ টি রাজ্যের প্রদত্ত মোট মৃত্যুদন্ডের এক তৃতীয়াংশ কার্যকর করেছিল; এবং সেই রাজ্যের ইতিহাসে অন্য যে কোন গভর্ণরের চেয়ে জর্জ বুশই সবচেয়ে বেশী মৃতুদন্ডের আদেশে সই করেছিলেন, গড়ে প্রায় প্রতি ৯ দিনে ১ টি। হয়তো তিনি শুধু তার দ্বায়িত্ব পালন করেছিলেন, তার রাজ্যের আইন অনুযায়ী কাজ করেছিলেন? কিন্তু CNN এর সাংবাদিক টাকার কার্লসন এর সেই বিখ্যাত রিপোর্টের কি অর্থ করতে পারি তাহলে? কার্লসন, যিনি নিজে মৃত্যুদন্ডের সমর্থক, হতবাক হয়েছিলেন গভর্ণরের কাছে  মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত একজন নারী বন্দীর প্রান ভিক্ষা করার বুশের পরিহাসমুলক অনুকরণ করা দেখে। ‘দয়া করুন’ বুশ নাকি সুরে কেদে তার ঠোট মিথ্যা হতাশার কষ্টে সরু করে বলেন, ’আমাকে হত্যা করবেন না।’ হয়তো এই নারী খানিকটা বেশী সহমর্মিতা পেতেন যদি তিনি মনে করিয়ে দিতেন কোন না কোন একসময় তিনিও ভ্রুণ ছিলেন। ভ্রুণ নিয়ে ভাবনা আসলেই ধর্মবিশ্বাসী বহু মানুষের মনেই খুব অদ্ভুত প্রভাব ফেলে। কলকাতার মাদার তেরিজা শান্তির জন্য নোবেল পুরষ্কার গ্রহন করার সময় তার ভাষনে মন্তব্য করেন: ’শান্তির সবচেয়ে বড় বিনাশকারী হচ্ছে গর্ভপাত ‘ কি ? এরকম উদ্ভট চিন্তা করা কোন মহিলার অন্য যে কোন বিষয়ের মতামতকে গুরুত্বের সাথে নেয়া কি আদৌ সম্ভব, শান্তিতে নোবেল প্রাইজ পাবার মত কোন যোগ্যতা ‍তার আছে কিনা সেটা না হয় বাদই দিলাম? যদি  কারো পবিত্রভাবে ভন্ডামীপুর্ণ মাদার তেরিজার কথায় মন গলে যাবার সম্ভাবনা আছে, তাদের ক্রিষ্টোফার হিচেন্স এর The Missionary Position: Mother Teresa in Theory and Practice বইটি অবশ্যই পড়ে দেখা উচিৎ।

আমেরিকার তালিবানের প্রসঙ্গে ফিরে আসি আবার, এবার রানডাল টেরীর কথা শুনুন, যিনি অপারেশন রেসক্যু’র প্রতিষ্ঠাতা, যে প্রতিষ্ঠানটি নারীদের গর্ভপাতের সেবা যারা দেয়, তাদের ভয় ভীতি দেখায়, ‘ যখন আমি বা আমার মত কেউ, এই দেশ চালাবে, তখন আপনাদের জন্যে এ দেশ ছেড়ে পালানোই উত্তম হবে, কারন আমরা আপনাদের খুজে বের করবো, বিচার করবো এবং  মৃত্যুদন্ড দেবো, আর আমি আমার প্রত্যেকটি কথা সত্যি করে বলছি; তাদের বিচার ও মৃত্যুদন্ড  যেন নিশ্চিৎ হয় সেটা আমি আমার মিশনের একটি অংশ করে নেব।’ টেরী এখানে সেই সব চিকিৎসকদের কথা বলছেন, যারা গর্ভপাতের সেবা প্রদান করেন। এবং তার খৃষ্টীয় মনোভাব ও অনুপ্রেরণা তার এই বক্তব্যেই সুস্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।

’আমি চাই আপনারা আপনাদের উপর দিয়ে অসহিষ্ণুতার স্রোত প্রবাহিত হতে দিন, হ্যা..ঘৃনা উত্তম, আমাদের লক্ষ্য একটি খৃষ্টীয় জাতি; আমাদের বাইবেল নির্দেশিত কিছু কর্তব্য আছে, ঈশ্বর আমাদের আহবান করেছেন এই দেশটি জয় করে নিতে। আমরা বহুজাতি আর বহুমতবাদ চাইনা, আমাদের লক্ষ্য খুব সাধারন। আমাদের ঈশ্বরের আইন, টেন কম্যান্ডমেন্ট মোতাবেক একটি খৃষ্টীয় জাতি বানাতে হবে, কোন ক্ষমাপ্রার্থনা না আর।’

এরকম একটি খৃষ্টীয় ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র অর্জন করার আকাঙ্খা পুরোপুরিভাবে আমেরিকান তালিবানদের বৈশিষ্ট। পৃথিবীর অন্য প্রান্তে ফ্যাসিবাদী ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য তীব্র কামনা করা অন্য মানুষগুলোর প্রায় হুবুহু প্রতিলিপি। এখনও রানডাল টেরী ক্ষমতায় আসীন হতে পারেননি।  এই লেখার সময় (২০০৬) আমেরিকার রাজনৈতিক দৃশ্যপট পর্যবেক্ষনকারী এমন কেউই ততটা আত্মবিশ্বাসী হয়ে সে কথা বলতে পারেননি ।

কোন একজন পরিনামবাদী (consequentialist) বা উপযোগিতাবাদী (utilitarian) সম্ভবত গর্ভপাতের ব্যাপারটা খুবই ভিন্ন ভাবে দেখবেন, ফলাফল বা কাজটির পরিনাম ও এবং এর সৃষ্ট কষ্টকে ওজন করার মাধ্যমে। ভ্রুণ কি কোন কষ্ট অনুভব করতে পারে? ( সম্ভবত না যদি এর গর্ভপাত করে ফেলা হয়, স্নায়ুতন্ত্র আবির্ভাবের আগেই, এবং এমন কি যদি ভ্রুণের বয়স এমনও হয় যে তার স্নায়ুতন্ত্র আছে, সেক্ষেত্রেও এটি নিশ্চিৎভাবে কম কষ্ট সহ্য করবে, যেমন ধরুন একটি কসাইখানায় একটি পুর্ণবয়স্ক গরু যে কষ্ট সহ্য করে); গর্ভবতী রমনী বা তার পরিবার কি কষ্ট সহ্য করতে পারে, যদি সেই গর্ভপাতটি না করা হয়? খুবই সম্ভাবনা আছে সেটি হবার; এবং যাই হোক  না কেন, যেহেতু ভ্রুণের কোন স্নায়ুতন্ত্র থাকে না, সেক্ষেত্রে মায়ের পুর্ণগঠিত স্নায়ুতন্ত্রকে কি আমাদের বেশী গুরুত্ব দেয়া উচিৎ না এখানে?

এখানে অস্বীকার করা হচ্ছে না যে পরিনতিবাদীদের হয়তো নানা কারন থাকতে পারে গর্ভপাতের বিরোধিতা করার জন্য। ’পিচ্ছিল ঢালু’ যুক্তি ব্যবহার করতে পারেন পরিনতিবাদীরা ( যদিও আমি এই ক্ষেত্রে তা করতাম না); হয়তো ভ্রুণরা কোন কষ্ট পায় না, কিন্তু যে সংস্কৃতি মানুষের জীবন কেড়ে নেয়াকে সহ্য করে, তার অন্য ভয়ঙ্কর পরিনতির মুখোমুখি হবার ঝুকি থাকে: কোথায় সেটা শেষ হবে? শিশুহত্যায়? জন্মাবার মুহুর্তটাই যদি এই নিয়মগুলোকে সংজ্ঞায়িত করতে একটি প্রাকৃতিক রুবিকন বা চুড়ান্ত সীমারেখা নির্দেশ করে এবং যুক্তি দেয়া যেতে পারে ভ্রুন ক্রমবিকাশের শুরুর দিকে ঠিক এই সীমানার মত আগের কোন সীমারেখা নির্দেশ করা কোন পর্যায় খুজে বের করা কঠিন। এই ’পিচ্ছিল ঢালু’ যুক্তি তাই আমাদের সংকীর্ণভাবে ব্যাখ্যা দেয়া উপযোগিতাবাদের চেয়ে হয়তো বেশী  জন্মমুহুর্তকে নির্দিষ্ট করে দেয় অপেক্ষাকৃত বেশী গুরুত্ব দেয়ার জন্য।

ইচ্ছামৃত্যু বা ইউথানাসিয়া র বিরুদ্ধে যুক্তিও এধরনে পিচ্ছিল বক্তব্যের উপর দাড়িয়ে। আমরা একটি কাল্পনিক উদ্ধৃতি আবিষ্কার করি নৈতিকতাবাদের একজন দার্শনিকের কাছ থেকে: ’আপনি যদি ডাক্তারদের জীবনের প্রান্তসীমায় উপস্থিত এমন রোগীদের যন্ত্রনা থেকে মুক্তি দেবার অনুমতি দেন, তাহলে দেখা যাবে প্রত্যেকে তাদের মাতামহদের  হত্যা করার ফন্দি আটবে টাকা পাওয়ার জন্য; আমরা দার্শনিকরা হয়তো চুড়ান্তবাদিতা থেকে মুক্ত হতে পেরেছি, কিন্তু সমাজের কিছু চুড়ান্ত নীতি দরকার শৃঙ্খলার প্রয়োজনেই, যেমন ’তোমরা হত্যা করবে না,’ নতুবা আমরা কোথায় থামবো তার কোন নিশানা থাকবে না।  কোন কোন পরিস্থিতিতে চুড়ান্তবাদীতা হয়তো, অপেক্ষাকৃত কম আদর্শ পৃথিবীতে অবশ্যই সব ভুল কারনগুলোর জন্যই একেবারে অবুঝ নিরীহ পরিনতিবাদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো পরিনতি প্রদান করে ! আমাদের দার্শনিকদের হয়তো বেশ ভোগান্তি পোহাতে হতো, বেওয়ারিশ মৃত কোন ব্যাক্তিকে, যেমন যাদের জন্য কেউ শোক করার নেই,  রাস্তায় মরে পড়ে থাকা এমন কোন নরমাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করার জন্য; কিন্তু ’পিচ্ছিল ঢালু’র সেই যুক্তি অনুযায়ী নরমাংস ভোজনের প্রতি নৈতিকতাবাদী চুড়ান্তবাদী প্রতিষিদ্ধ অত্যন্ত মুল্যবান যা আমাদের হারানো ঠিক হবে না।’

’পিচ্ছিল ঢালু’ এই যুক্তি হয়তো দেখা যেতে পারে যেখানে পরিনতিবাদীরা একধরনের পরোক্ষ চুড়ান্তবাদীতা পুণঃআমদানী করেছে, কিন্তু গর্ভপাতের বিরুদ্ধে ধর্মীয় শত্রুরা এই সব ’পিচ্ছিল ঢালু’ যুক্তির কোন তোয়াক্কা করে না। তাদের জন্য বিষয়টা আরো সরল; যে কোন একটি ভ্রুণই হচ্ছে একটি শিশু, একে মারা মানেই হত্যা, ব্যাস আর কোন কথা নেই, আলোচনা খতম। কিন্তু এই চরমপন্থী অবস্থান থেকে পরবর্তী অনেক কিছুরই উৎস। তাদের দাবী, শুরুতেই বলা যায় যেমন এমব্রায়োনিক (ভ্রুণাতাত্ত্বিক) স্টেম সেল গবেষনা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে, কারন এর  ভ্রুণ কোষের মৃত্যুর কথা জড়িত, যদিও চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর ভুমিকা অপরিসীম হবারই সম্ভাবনা। অসঙ্গতিটা স্পষ্ট হয়, যখন আপনি চিন্তা করবেন, যে সমাজ ইতিমধ্যেই শরীরের বাইরে ল্যাবরেটরীতে ডিম্বানু নিষিক্তকরণ বা আইভিএফ (IVF) বা ( in vitro fertilization) মেনে নিয়েছে, যেখানে ডাক্তাররা নিয়মিতভাবেই নারীদের ডিম্বাশয়কে হরমোনের মাধ্যমে উত্তেজিত করে বাড়তি ডিম্বানু তৈরী করার জন্য, যাদের শরীরের বাইরে নিষিক্ত করা হয়। এই পক্রিয়ায় এমনকি  এক ডজন কার্যকর জাইগোট তৈরী করা সম্ভব। যার মধ্যে দুটি ‍বা তিনটিকে হয়তো জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। আশা করা হয় এখান থেকে একটি অথবা সম্ভবত দুটি বেচে যাবে। সুতরাং আইভিএফ (IVF) সম্ভাব্য ভ্রুণকে এই পক্রিয়ার দুটি ধাপে হত্যা করে এবং স্বাভাবিক ভাবে সমাজে কিন্তু এ বিষয়ে কোন দ্বিমত নেই। পচিশ বছর ধরে, আইভিএফ (IVF) একটি মানসম্পন্ন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে অনেক সন্তানহীন দম্পতি তাদের জীবনে আনন্দ খুজে পেয়েছেন।

যদিও ধর্মীয় চরমপন্থীদের  আইভিএফ নিয়েও সমস্যা থাকতে পারে। ২০০৫ এ গার্ডিয়ান প্রত্রিকার ৩ জুন সংখ্যায় একটা অদ্ভুত গল্প ছিল ‘Christian couples answer call to save embryos left by IVF’ শিরোনামে; গল্পটি একটি সংস্থা যার নাম Snowflakes যারা আইভিএফ ক্লিনিক থেকে বাড়তি ডিম্বানুগুলো রক্ষা করার চেষ্টা করছে বলে দাবী করছে: ওয়াশিংটন স্টেট এর একটি নারীর মন্তব্য করেন, ‘আমরা সত্যি অনুভব করেছি যে, ঈশ্বর আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন এই সব ভ্রুণগুলোকে -এইসব জন্ম না নেয়া শিশুদের যেন আমরা একটি বাচার সুযোগ দেই।’ যার চতুর্থ সন্তানের জন্ম হয়েছে ‘গোড়া খৃষ্ঠানদের এই টেষ্টটিউব শিশুদের জগতের সাথে অপ্রত্যাশিত যোগসুত্রতার ফসল’ হিসাবে। এই সম্পর্কের ব্যাপারে চিন্তিত মহিলার স্বামী চার্চের মুরুব্বীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ’আপনি যদি ক্রীতদাসদের মুক্ত করতে চান,তাহলে ক্রিতদাসের ব্যবসায়ীদের সাথে আপনাদের বাণিজ্য করতে হবে।’ আমি ভাবছি এই মানুষগুলো কি বলতো যদি তারা জানতো যে বেশীর ভাগ নিষিক্ত ভ্রুণই স্বতস্ফুর্তভাবে গর্ভপাত হয়ে যায়। সম্ভবত এটাকে দেখা যেতে পারে একটি প্রাকৃতিক ’মান নিয়ন্ত্রন’ প্রক্রিয়া হিসাবে।

একটি বিশেষ ধরনের ধার্মিক মনই শুধু একগুচ্ছ আনুবীক্ষনিক কোষ হত্যা করার সাথে একজন পুর্ণবয়স্ক ডাক্তারকে হত্যা করার মধ্যে কোন পার্থক্য খুজে পায়না। আমি এর আগেই রানডাল টেরীর উদ্ধৃতি এবং অপারেশন রেসক্যু র কথা উল্লেখ করেছি;  মার্ক জুয়ের্গেনসমায়ার, তার শিহরণ জাগানো বই Terror in the Mind of God এ রেভারেন্ড মাইকেল ব্রে এবং তার বন্ধু রেভারেন্ড পল হিল এর একটি ফটোগ্রাফ প্রকাশ করেছিল, সেখান তাদের হাতে ছিল একটি ব্যানার, যা বলছে, ‘নিষ্পাপ শিশুদের হত্যা করা থেকে রক্ষা করাটি ভুল?’ তাদের দুজনকে দেখতে ভালোই লাগছিল, বেশ কেতাদুরস্ত দুই তরুন, মুখে হাসি, পরণে সাদামাটা তবে ভালো পোষাক, যা পুরোপুরি ব্যতিক্রম কোন নিষ্পলক তাকিয়ে থাকা কোন উন্মাদের তুলনায়। তারপরও তারা এবং তাদের ‘আর্মি অব গডে’র বন্ধুরা নানা অ্যাবরশন ক্লিনিকে আগুন লাগিয়ে বেড়াতেন নিয়মিত, এবং গর্ভপাতের সাথে জড়িত ডাক্তারদের খুন করার ইচ্ছা তারা কখনোই গোপন করেননি। ১৯৯৪ সালে ২৯ জুলাই ফ্লোরিডার পেন্সাকলায় ক্লিনিকের সামনে পল হিল শট গানের গুলিতে হত্যা করেন ডা: জন ব্রিটন এবং তার দেহরক্ষী জেমস ব্যারেটকে; এরপর তিনি আত্মসমর্পন করেন এবং  পুলিশকে বলেন যে, তিনি ডাক্তারকে হত্যা করেছেন ভবিষ্যতের অনাগত সব ‘নিষ্পাপ শিশু’দের হত্যাকান্ড থেকে বাঁচাতে।

মাইকেল ব্রে এধরনের হত্যাকান্ডকে সমর্থন করেছেন বেশ গোছানো ভাষায় যেখানে তার নৈতিক অবস্থানের শ্রেষ্ঠত্ব দাবী করার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল, যা আমিও খুজে পেয়েছি, যখন ধর্ম নিয়ে একটি টেলিভিশন প্রামান্য চিত্রর জন্য কলোরাডো স্প্রিং এর একটি পার্কে আমি তার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম (( প্রানী মুক্তিবাদীরাও, যারা প্রানীদের নিয়ে কাজ করা মেডিকেল গবেষকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের হুমকি দিয়ে থাকেন, তারাও এমন একটি সুউচ্চ নৈতিক অবস্থানে আসীন আছেন বলে দাবী করে থাকেস)); গর্ভপাতের বিষয়টিতে আসার আগে ব্রে‘র বাইবেল ভিত্তিক নৈতিকতার পরিমাপটি আমি বোঝার চেষ্টা করেছিলাম কিছু প্রাথমিক প্রশ্ন করে, যেমন আমি উল্লেখ করেছিলাম যে বাইবেল এর আইন ব্যাভিচারের শাস্তি দেয় পাথর ছুড়ে মৃত্যুদন্ড দেবার মাধ্যমে। আমি আশা করেছিলাম এই বিশেষ উদহারনটি তিনি অস্বীকার করবেন অগ্রহনযোগ্য বলে, কিন্তু তিনি আমাকে অবাক করেছিলেন। আনন্দের সাথে একমত হয়ে বলেন, যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ার পর ব্যাভিচারীদের মৃত্যুদন্ড দেয়া উচিত। আমি তারপর তাকে বললাম যে পল হিল, ব্রের পুর্ণ সমর্থন সহ আইনী প্রক্রিয়া কিন্তু মেনে চলেননি এবং তার নিজের হাতেই আইন তুলে নিয়েছিলেন এবং ডাক্তারকে হত্যা করেছিলেন। ব্রে তার সহকর্মী যাজককে পুর্ণ সমর্থন দিলেন আগেও যেমন করেছিলেন যখস জুয়েরগেনমায়ার্স তার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন, তিনি উচিৎ শাস্তি হিসাবে একজন অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার আর এখনও কর্মরত একজন ডাক্তারকে হত্যা করার পার্থক্য ব্যাখ্যা করেছিলেন, তার মতে পরের ক্ষেত্রে এটি একটি নিশ্চিৎ উপায় কোন কর্মরত ডাক্তারকে নিয়মিত শিশু হত্যা থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে। এরপর আমি তাকে বলি, যদিও কোন সন্দেহ নেই পল হিলের বিশ্বাস আন্তরিক কিন্তু সবাই যদি ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে সমাজে বিদ্যমান আইন না মেনে তাদের নিজেদের হাতে আইন তুলে নেয় তাহলে অবশ্যই সমাজে নৈরাজ্য নেমে আসবে । সেক্ষেত্রে সঠিক উপায়টি কি গনতান্ত্রিকভাবে আইনটি পরিবর্তন করার চেষ্টা করা না ? এই প্রশ্নের প্রত্যুত্তরে ব্রে বলেন: বেশ, এটাই সমস্যা যখন আমরা যে আইন দেখছি সেগুলোতো সত্যিকারের আইন না, বিশেষ করে যখন আইন হয় মানুষের তৈরী তাৎক্ষনিকভাবে, খামখেয়ালীভাবে, যেমনটা আমরা দেখি তথাকথিত গর্ভপাত অধিকারের আইন, যা বিচারকরা জনগনের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। এরপর আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান এবং আইন কোথা থেকে আসে তা নিয়ে বিতর্ক করেছিলাম; এসব বিষয়ে ব্রে’র দৃষ্টিভঙ্গী অনেকটাই জঙ্গী মুসলিমদের মতই, যারা কিনা বৃটেনে বসবাস করে সদম্ভে ঘোষনা দেয় তারা শুধু শরীয়া আইনই স্বীকার করবে, গনতান্ত্রিকভাবে সৃষ্ট আইন না, যা তারা যে দেশে বসবাস করতে এসেছে সেই দেশের আইনের মুল ভিত্তি।

ডা: ব্রিটন এবং তার দেহরক্ষীকে হত্যা করার জন্য ২০০৩ সালে পল হিল এর মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়, তিনি তার মৃত্যুর আগে আবারো বলেন, তার যদি আবার জন্ম হয় তিনি একই কাজ করবেন অনাগত শিশুদের রক্ষা করার জন্য। অত্যন্ত আশবাদী হয়ে তিনি অপেক্ষা করেছিলেন তার বিশ্বাস এর জন্য জীবন দিতে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আমাকে মৃত্যুদন্ড দেবার মাধ্যমে রাষ্ট্র আমাকে শহীদের মর্যাদা দেবে।‘ ডানপন্থী গর্ভপাত বিরোধীরা তার মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ করেছিলেন। যার সাথে যোগ দেয় মৃত্যুদন্ড বিরোধী একটি অশুভ অপবিত্র বামপন্থী জোটের সাথে যারাতৎকালীন ফ্লোরিডার গভর্ণর জেব বুশকে আহবান করেন, পল হিলকে শহীদ  না বানাতে।তারা তাদের যুক্তির পক্ষে প্রস্তাব করেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় পল হিলকে হত্যা করলে আসলে আরো বেশী হত্যাকান্ডকে উৎসাহ দেয়া হবে, যদি মনে করা হয় মৃত্যুদন্ড এধরনের অপরাধ নিরুৎসাহিত করবে তাহলে এধরনের মৃতুদন্ডে ঠিক তার বিপরীত প্রতিক্রিয়াই ঘটবে। হিল নিজেই হাসি মুখে মৃতুদন্ড কার্যকর হবার কক্ষে গিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, ’আমি স্বর্গে অনেক পুরষ্কার পাবো, আমার তার অপেক্ষা করছি’ এবং তিনি প্রস্তাব করেন অন্যরা যেন তার হিংস্র কাজটি কাজটি অব্যাহত রাখে। পল হিল এর শহীদত্ব পাবার প্রেক্ষিতে প্রতিশোধমুলক আক্রমন হতে পারে এমন শঙ্কায় পুলিশও বেশ সতর্ক ছিল, এবং এই কেসে র সাথে জড়িত বেশ কয়েকজনই বুলেট সহ হুমকি বার্তা পেয়েছিলেন।

এই পুরো বিভৎস ঘটনার সুত্রপাত ঘটেছে বিষয়টি বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় দৃষ্টিভঙ্গীর পার্থক্য থেকে। কিছু মানুষ তাদের ধর্মবিশ্বাসের জন্য মনে করেন, গর্ভপাত হচ্ছে হত্যা এবং সেই ভ্রুণের অধিকার রক্ষার্থে, যাদের তারা শিশু বলে দাবী করেন, হত্যা করতেও পিছ পা হন না। অন্যদিকে গর্ভপাতের স্বপক্ষে আন্তরিক কিছু সমর্থক আছেন, যাদের হয় ভিন্ন কোন ধর্মীয় বিশ্বাস আছে বা কোন ধর্মই তারা মানেন না, যার সাথে যুক্ত হয়েছে সুস্পষ্টভাবে সুচিন্তিত পরিনতিবাদী নৈতিকতা। তারাও তাদের নিজেদের আদর্শবাদী ভাবেন,  প্রয়োজনের সময় অসুস্থকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া, অন্যথায় বিপজ্জনক হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে জীবনের ঝুকি নিয়ে তারা সেই সেবাটি নেবার জন্য বাধ্য হবেন; উভয় পক্ষই একে অপরকে দেখছে খুনী হিসাবে বা হত্যার উৎসাহদাতা হিসাবে। উভয় পক্ষই, তাদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গীতে একই ভাবে আন্তরিক;

একটি প্রজনন স্বাস্থ্য সেবাদানকারী ক্লিনিকের মুখপাত্রী বলছেন, পল হিল হচ্ছেন একজন বিপদজ্জনক সাইকোপ্যাথ, উন্মত্ত খুনী। কিন্তু পল হিলের মত মানুষরা তাদের নিজেদেরকে বিপদজ্জনক সাইকোপ্যাথ বলে মনে করেন না। তারা নিজেদেরকে ভালো এবং নীতিবান মানুষ হিসাবেই মনে করেন, যারা ঈশ্বরের নির্দেশনা মেনে চলেন। আসলেই আমি মনে করিনা পল হিল একজন সাইকোপ্যাথ, শুধুমাত্র একজন অতি ধার্মিক। বিপদজ্জনক,,হ্যা, কিন্তু সাইকোপ্যাথ না, বিপজ্জনকভাবে ধার্মিক ; তার ধর্মবিশ্বাসের ব্যাখ্যায় হিল পুরোপুরি সঠিক এবং নৈতিক অবস্থানে ছিলেন যখন তিনি ডা: ব্রিটনের উপর গুলি ছোড়েন। হিলের  সমস্যা বা অসুখটা হলো ধর্মীয় বিশ্বাস নিজেই। মাইকেল ব্রে ও , আমি যখন তার সাথে দেখা করেছিলাম, আমার তাকে সাইকোপ্যাথ মনে হয়নি; আমার আসলে তাকে বেশ পছন্দ্ও হয়েছে, আমার মনে হয়েছে তিনি সৎ এবং আন্তরিক একটি মানুষ, মৃদুভাষী এবং চিন্তাশীল কিন্তু দু:খজনকভাবে তার মনকে আক্রান্ত করেছে বিষাক্ত ধর্মীয় অর্থহীন সব ধারনা।

গর্ভপাতে বিরুদ্ধবাদী সব শক্ত সমর্থকরা প্রায় সবাই গভীরভাবে ধর্মবিশ্বাসী। গর্ভপাতের আন্তরিক সমর্থনকারীরা, ব্যাক্তিগত ভাবে তারা ধার্মিক কিংবা ধার্মিক নন, যাই হোন কেন তারা ধর্মীয় গন্ডির বাইরে একটি পরিনতিবাদী নৈতিকতাবাদী দর্শনের অনুসারী, হয়তো তারা জেরেমি বেনথামের প্রশ্নটি তাদের চিন্তায় নিয়ে আসতে পেরেছেন, ‘তারা কি কষ্ট অনুভব করে?’ পল হিল ও মাইকেল ব্রে কোন ভ্রুণ হত্যা আর ডাক্তার হত্যার মধ্যে কোন নৈতিক পার্থক্য দেখতে পান না, শুধুমাত্র তাদের কাছে  ভ্রুণটি হলো একটি নিষ্পাপ শিশু। পরিনতিবাদীরা এখানে অনেক পার্থক্য দেখতে পান, ব্যাঙ্গাচীদের মতই অনেকটা দেখতে একটি প্রাথমিক পর্যায়ের ভ্রুণের সামান্যই অনুভব করার ক্ষমতা আছে ; অন্যদিকে একজন ডাক্তার হচ্ছেন পুর্ণবয়ষ্ক জীবন্ত মানুষ, আশা আকাঙ্খা ভালোবাসা, ভয় সহ তিনি মানবীয় জ্ঞানের বিশাল এক ভান্ডার, যার গভীর ভাবে আবেগতাড়িত হবার ক্ষমতা আছে। এছাড়া খুব সম্ভবত একজন বিধ্বস্ত বিধবা ও এতিম সন্তান কিংবা বৃদ্ধ পিতা মাতাও আছেন যারা তাকে অনেক ভালোবাসেন।

tumblr_me7mz9JRJ91rey1hzo1_400
ছবি: হিথার ফ্রিম্যান এর Not Yours..

পল হিল সত্যিকারের দীর্ঘমেয়াদী, কষ্ট অনুভব করতে সক্ষম এমন স্নায়তন্ত্র বিশিষ্ট মানুষকে কষ্ট দিয়েছেন। তার আক্রান্ত ডাক্তারের শিকাররা এ্সব কিছু করতে পারেনা। কারন শুরুর পর্যায়ে ভ্রুণ এর কোন স্নায়তন্ত্র নেই, সুতরাং তার কোন কষ্ট অনুভব করার উপায়ও নেই নিশ্চিৎ ভাবে। এমন কি পরবর্তী পর্যায়ে করা গর্ভপাতের ভ্রুণ, যাদের স্নায়তন্ত্র আছে তারা কষ্ট অনুভব করবে, যদিও সব ধরনের কষ্ট দেয়াটাই বড় বেশী নিন্দনীয় – তবে তারা যে কষ্ট পায় সেটার কারন তারা যে মানুষ তা কিন্তু নয়। কোন ভাবে সাধারন যুক্তিতে ধারনা করা সম্ভব না যে মানুষের ভ্রুণ যে কোন বয়সে সমবয়সী একটি গরু বা ভেড়ার ভ্রুণ অপেক্ষা বেশী কষ্ট অনুভব করে। এবং যথেষ্ট কারন আছে মনে করা যে সব ভ্রুণ, মানুষ বা অন্য কিছু,  অনেক কম কষ্ট পায় একজন পুর্ণবয়স্ক গরু বা ভেড়া জবাইখানায় যে যন্ত্রণা সহ্যকরে, বিশেষ করে আচার আনুষ্ঠানিকতাপুর্ণ জবাইখানায়, যেখানে তাদের পুর্ণ সজাগ থাকতে হবে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের গলা কাটার জন্য।

যন্ত্রণা বা কষ্ট সহ্য করার বিষয়টি পরিমাপ করা কঠিন এবং এর ব্যাখ্যা নিয়ে অবশ্যই যুক্তিতর্ক করা যেতে পারে। কিন্তু সেটি আমার আলোচনার  মুল বিষয়টি পরিবর্তন করেনা, যা ধর্ম নিরেপক্ষ পরিনতিবাদী এবং ধর্মীয় চুড়ান্তবাদী নৈতিকতার দার্শনিকদের মধ্যে পার্থক্যটাকে নির্দেশ করে((( এটি অবশ্য, সব সম্ভাবনা শেষ করে দেয় না, আমেরিকার খৃষ্ঠানদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গর্ভপাতের ব্যাপারে কোন চুড়ান্তবাদী মনোভাব পোষন করেন না এবং তারা এর পক্ষে, যেমন দেখুন Religious Coalition for Reproductive Choice, at http://www.rcrc.org/.))))। একটি গ্রুপ চিন্তা করেন, ভ্রুণটি কষ্ট পেতে পারে কিনা। অন্যটি ভাবে তারা মানুষ কি না। ধর্মীয় নৈতিকতাবাদীদের দেখা যায় বিতর্ক করেন যেমন, কখন একটি বিকাশমান ভ্রুণ একটি ব্যক্তিতে পরিণত হয় –একজন মানুষ? সেক্যুলার নৈতিকতাবাদীরা খুব সম্ভবত জিজ্ঞাসা করবেন, এটি মানুষ কিনা সেটা ভাবার দরকার নেই ( একগুচ্ছ কোষের জন্য এর অর্থই বা কি?) আসলে ঠিক কোন বয়সে যে কোন একটি বিকাশমান ভ্রুণ, সেটা যে কোন প্রজাতিরই হোক না কেন, কষ্ট অনুভব করার ক্ষমতা অর্জন করে ?

 

________________________ চলবে

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : অষ্টম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s