লোরকা’র একটি কবিতা…

a thousand kisses deep..
ড্রইং: কাগজে কালি এবং গ্রাফাইট; কাজী মাহবুব হাসান (২০১১)

Continue reading “লোরকা’র একটি কবিতা…”

লোরকা’র একটি কবিতা…

I Want to Die Before You:

(নাজিম হিকমতের একটি কবিতার আংশিক অনুবাদ প্রচেষ্ঠা:
আর নীচের ড্রইং গুলো আমার সংগ্রহে থাকা শিল্পী আসমা সুলতানা মিতার আকা চারটি ড্রইং)

তোমার আগেই আমি মরতে চাই।
তোমার কি মনে হয়,
যে পরে আসে সে কি যে আগে যায় তাকে খুজে পায়?
আমার তা মনে হয় না।

আমার শবদেহ বরং তুমি পুড়িয়ে ফেলো,
তারপর তোমার ঘরের চুলোর উপরে একটা পাত্রে আমাকে তুলে রেখো
পাত্রটি হবে কাচের স্ফটিক স্বচ্ছ সাদা কাচের..
যেন তুমি এর ভিতরে আমাকে দেখতে পারো..

তুমি আমার বিসর্জনকে দেখবে.
.মাটির অংশ হওয়া থেকে আমি নিজেকে বঞ্চিত করেছি..
একটি ফুল হবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছি নিজেকে..

তোমার সাথে থাকতে পারি যেন..সেজন্য
আর আমি পরিণত হচ্ছি ধুলোয়..
তোমার সাথে থাকার জন্য..

পরে যখন তোমাকেও ছোবে মৃত্যু,
আমার এই কাচের পাত্রেই তুমি আসবে।
সেখানেই আমরা দুজনে একসাথে থাকবো…
তোমার দেহভস্ম আমার দেহভস্মের মাঝে..
যতদিন না কোন এক অমনোযোগী বধু
বা অকৃতজ্ঞ এক দৌহিত্র ছুড়ে ফেলে দেবে আমাদের সেখান থেকে..

কিন্ত আমরা.. সেই সময় অবধি
একে অপরের সাথে এত বেশী মিশে যাবো যে,
এমন কি যে ময়লার পাত্রে আমাদের ছুড়ে ফেলা হবে
সেখানেও আমাদের দেহভস্মের কনাগুলো ছিটকে পড়বে পাশাপাশি,
একসাথে মাটির বুকে ঝাপ দেবো আমরা;
এবং একদিন, যদি কোন বুনো ফুল সেই মাটির বুক থেকে জীবন খুজে নেয়
এবং পুষ্পিত হয় আমাদের শরীরের উপর, নিশ্চয়ই
দুটো ফুল হবে সেখানে:
একটি তুমি
একটি আমি

((Nâzım Hikmet Ran (15 January 1902 – 3 June 1963),commonly known as Nâzım Hikmet (Turkish pronunciation: [naːˈzɯm hicˈmet]), was a Turkish poet, playwright, novelist and memoirist. He was acclaimed for the “lyrical flow of his statements”. Described as a “romantic communist”[4] and “romantic revolutionary”, he was repeatedly arrested for his political beliefs and spent much of his adult life in prison or in exile. His poetry has been translated into more than fifty languages))

3
কাগজে কালি ও কলম, আসমা সুলতানা মিতা (২০০৮)
4
কাগজে কালি ও কলম, আসমা সুলতানা মিতা (২০০৮)
5
কাগজে কালি ও কলম, আসমা সুলতানা মিতা (২০০৮)
6
কাগজে কালি ও কলম, আসমা সুলতানা মিতা (২০০৮)
I Want to Die Before You:

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (শেষাংশ)

John Collier’s 1883 portrait of Darwin (National Portrait Gallery, London)

লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব(তিন)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(এক)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(দুই)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(তিন)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(চার)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(পাঁচ)

দ্বিতীয় পর্ব : যেন কোন হত্যার স্বীকারোক্তি করার মত 
দুই

 এভাবে দেখা জীবনকে দেখার মধ্যে আছে আরো বেশী আসাধারনত্ব আর মাহাত্ম্য

Origin of Species  বইটির মুল যে যুক্তি তর্কটি এসেছে সেটি বিবর্তিত হয়েছিলো ১৮৪৪ সালের ডারউইনের সেই আগের লেখাটির আদিরুপ থেকেই, তবে এখন এটির ব্যপ্তি আরো বর্ধিত হয়েছে যা পৃথিবীর সব জীবনের একটি সর্বব্যাপী ব্যাখ্যা; বহুদুরের সেই গালাপাগোস দ্বীপপুন্জ কিংবা প্রবাল প্রাচীরে ঘেরা সমুদ্রের সেই বিষন্ন গভীরতা থেকে কিন্তু ডারউইন তার প্রস্তাবিত তত্ত্বের পক্ষের যুক্তিগুলো শুরু করেননি; তার যুক্তিগুলোর সুচনা ভিত্তি ছিল খুব সাধারন কিছু অভিজ্ঞতা, স্বাচ্ছন্দ্যময় ইংলিশ জীবনযাত্রায়; তিনি অসংখ্য আকার আকৃতির প্রানী এবং উদ্ভিদের কথা দিয়ে শুরু করেছিলেন, যাদের বৈশিষ্টসুচক সেই বহু বিচিত্র রুপ গড়ে উঠেছে মানুষ ‍খামারী বা ব্রীডারদের হাতের ছোয়ায় ; যারা কবুতরের প্রজনন করান, তারা ফ্যানটেল জাতের কবুতরে লেজে সাধারন যতটুকু পালক থাকে তা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বহুগুনে, কিংবা জাকোবিন জাতের কবুতরে গলার পালককে রুপান্তরিত করেছিলেন একটি বেশ বড় একটি আচ্ছাদন বা হুডে; এই সব বৈশিষ্টগুলো প্রকৃতিতে যথেষ্ট কোন পাখিকে একটি একক প্রজাতি হিসাবে চিহ্নিত করার জন্য, অথচ ব্রীডাররা তাদের সৃষ্টি করেছেন মাত্র কয়েক প্রজন্মের ব্যবধানে;

ডারউইন তার সময়ের বিদ্যমান তথ্যে বন্দী ছিলেন, তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, আসলে কেউ বুঝতে পারেননি কিভাবে বংশগতি এই ব্রীডারদের এই অত্যাশ্চর্য বিচিত্র রুপের সৃষ্টি করতে অনুমতি দিচ্ছে;  ব্রীডাররা তাদের অভিজ্ঞতায় শুধু বুঝতে পারতেন এবং জানতেস কোন কোন বিভিন্ন বৈশিষ্টগুলোর প্রবণতা আছে একই সাথে বা এক গুচ্ছ হয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হস্তান্তরিত হবার ; নীল চোখের বিড়াল, যেমন অবশ্যই কানে শোনে না বা বধির হয়।

যদিও বংশগতি তখনও রহস্যময়, তারপরও এটা সবার কাছে স্পষ্ট ছিলো, পিতা মাতা এমন সন্তানের জন্ম দেন, তারা সাধারনত তাদের মতই হবার প্রবণতা থাকে, যদি প্রতিটি প্রজন্মই তার নিজস্ব কিছু না কিছু প্রকরন বা ভ্যারিয়েশন নিয়েই জন্ম গ্রহন করে;  আপনার যদি প্রকৃতিতে বা কোন বনে ফ্যানটেইল বা জাকোবিন জাতের কবুতর নজরে পড়ে, আপনি ভাবতেই পারেন যে তারা হয়তো ভিন্ন দুটি প্রজাতি, কিন্তু বিস্ময়করভাবে তারা একে অপরের সাথে প্রজননক্ষম এবং পরবর্তী প্রজন্মর জন্ম দিতে পারে; আসলেই ডারউইনই দেখিয়েছিলেন, প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রজাতি এবং নান প্রকারের মধ্যে পার্থক্য করা খুবই কঠিন; যেমন জীববিজ্ঞানীরা তর্ক করেন বেশ কিছু ধরনের ওক গাছ কি আসলে আদৌ একই প্রজাতির সদস্য কিনা;

ডারউইন প্রস্তাব করেন এই ভ্যারাইটি বা প্রকরণ গুলো নিয়ে উদ্ভুত সংশয়ের কারন, প্রজাতি হিসাবে এই সব বিভিন্ন প্রকারের প্রকরণের মধ্যে কিছু মৌলিক সদৃশ্যতা বিদ্যমান; এবং এর কারন হচ্ছে এই ভ্যারাইটি বা নানা প্রকারের সদস্যরা নিজেই ভবিষ্যত প্রজাতির শুরুর প্রাথমিক একটি অবস্থা যারা এখনও বৈশিষ্ট সুচক ভিন্ন প্রজাতিতে পুরোপুরি বিবর্তিত হয়নি ;   তাহলে  কিভাবে একটি এখনও পুরোপুরি হয়নি এমন কোন প্রজাতি, একটি বৈশিষ্টসুচক পুর্ণ প্রজাতিতে রুপান্তরিত হয়? এখানে ডারউইন মালথাসকে তার যুক্তিতে নিয়ে আসেন; এমনকি খুব ধীরে প্রজনন করা প্রজাতি যেমন মানুষ কিংবা কনডর রাও তাদের সংখ্যা দ্বিগুন করে ফেলতে পারে ২০ বা ৩০ বছরের ব্যবধানে; এবং কয়েক হাজার বছরে সারা পৃথিবী তারা পুর্ণ করতে পারে তাদের সদস্যে; কিন্তু  বৃক্ষ আর প্রানীরা নিয়মিত ভাবে মারা যাচ্ছে অকল্পনীয় বিশাল বড় একটি সংখ্যায়, ডারউইন তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই জানান কিভাবে একবার এক বছরেই ডাউন হাউসের চারপাশে একবার তীব্র শীতে পাখির সংখ্যা কমে গিয়েছিল প্রায় ৮০ শতাংশ; আমাদের দৃষ্টির অন্তরালে প্রকৃতির শান্ত প্রতিচ্ছবির পেছনের লুকানো আছে বিশাল নিরন্তর ভাবে ঘটতে থাকা হত্যাযজ্ঞ; প্রজাতির কিছু সদস্য বেচে থাকে নানা চ্যালেন্জ মোকাবেলা করে, তার কিছু কারন হচ্ছে ভাগ্য, আর অন্যরা, যাদের কিছু বৈশিষ্টই হয়তো থাকে যা তাদের মৃত্যুর উচ্চ প্রবণতার কারন হয়ে দাড়ায়; যারা বেচে থাকে তারাই প্রজননক্ষম হবার সময় বং প্রজনন করার সুযোগ পায়, অন্যদিকে যারা ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না, তারা মারা যায়, তাদের প্রজননক্ষম হয়ে উঠে প্রজনন করার সম্ভাবনাও থাকে খুব কম;

Continue reading “চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (শেষাংশ)”

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (শেষাংশ)