চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (তিন)


5514
ছবি: চার্লস ডারউইন এবং এমা ওয়েজউড.. বার্ধক্যে; ডাউন হাউসে ডারউইন দম্পতির এই প্রতিকৃতিটি একেছেন অজানা একজন শিল্পী; ছবিটি আরো কিছু প্রতিকৃতির সাথে সংরক্ষিত আছে Bridgeman Art Library তে;

লেখাটির মুল সুত্র: Carl Zimmer এর Evolution, the triumph of an idea র প্রথম দুটি অধ্যায়; এছাড়াও কিছু বাড়তি তথ্য এসেছে বিভিন্ন সুত্র থেকে:

চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (এক)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (দুই)
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : প্রথম পর্ব (তিন)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(এক)
 চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব(দুই)

দ্বিতীয় পর্ব : যেন কোন হত্যার স্বীকারোক্তি করার মত 
দুই

এ যেন কোন হত্যার অপরাধ স্বীকার করার মত:

নোটবই এ নিজের বৈপ্লবিক আর হেরেসি বা বৈধর্মের মত ধারনাগুলো লিখে রাখার ফাকে ফাকে ডারউইন কিছুটা সময় নিয়েছিলেন তার জীবনসঙ্গীনি খোজার জন্য; তার বীগল যাত্রার বেশ আগে ডারউইন তার কৈশরে একজনের প্রেমে পড়েছিলেন, তার নাম ছিল ফ্যানি ওয়েন (ফ্যানি ওয়েন ডারউইনের স্কুলের সহপাঠী উইলিয়াম ওয়েন এর বোন); কিন্তু ডারউইনের সমুদ্রযাত্রার অল্প কিছুদিনের মধ্যে ফ্যানী অন্য একজনের বিয়ের প্রস্তাব গ্রহন করেন; ইংল্যান্ড এ ফিরে ডারউইন ভাবতে শুরু করেন, তার কি আদৌ বিয়ে করা উচিৎ হবে কিনা; নিয়মমানা বিজ্ঞানীদের মত তিনি একটি কাগজে বিয়ে করার পক্ষে বিপক্ষে একটি তালিকা তৈরী করেন,  উপরে বা দিকে বিয়ে করার সুবিধা ( বা টু ম্যারী), ডান দিকে অসুবিধা ( নট টু ম্যারী) এবং মাঝখানে লেখেন, দিস ইস দ্য কোয়েশ্চেন তালিকা সহ একটি ব্যালান্স শীট তৈরী করেন ডারউইন; এই তালিকায় দেখায় যায় ডারউইন বিয়ের বিপক্ষে যুক্তি হিসাবে লিখেছেন, একা থাকলে তিনি বিজ্ঞান নিয়ে গবেষনা করার বেশী সময় পাবেন, ক্লাবে পুরুষ সহকর্মীদের সাথে বেশী সময় আলোচনা করে কাটাতে পারবেন, এছাড়া সন্তান প্রতিপালন করার মত অর্থ সামর্থ্য তার নেই; অন্যদিকে বিয়ের স্বপক্ষে যুক্তি হলো, একজন স্ত্রী তার বৃদ্ধ বয়সে সারাক্ষন সঙ্গী হবে; এধরনের তালিকার নীচে সব যোগ বিয়োগ করে তিনি তার উপসংহারে পৌছান: বিয়ে –বিয়ে –বিয়ে অত: সিদ্ধ;

fanny-695837498
ছবি: ফ্যানি ওয়েন, ডারউইনের প্রথম ভালোবাসা, স্কুলের এক সহপাঠীর বোন, উচ্ছল, চঞ্চল ফ্যানি ডারউইনকে তার মা হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছিলেন; ডারউইনের দীর্ঘ সমুদ্র যাত্রার সময় তিনি অন্য আরেকজনের বিয়ের প্রস্তাব গ্রহন করেন, সেকথা অবশ্য ডারউইনকে প্রথম জানিয়েছিলেন তিনি একটি চিঠিতে : “Believe me Charles that no change of name or condition can ever alter or diminish the feelings of sincere regard and affection I have for years had for you… ; ডারউইন পরবর্তীতে তারা মামাতো বোন এমাকে বিয়ে করেছিলেন ১৮৩৯ সালে।

জীবন সঙ্গীনি হিসাবে ডারউইন নির্বাচন করেন তার মামাতো বোন এমা ওয়েজউড কে; তার কোনই ইচ্ছা ছিল লন্ডনে পরিচিত হওয়া কোন অভিজাত হাল ফ্যাশনের কোন নারীকে তার জীবনে আনার, বরং তিনি তার মায়ের ভাইঝির দিকেই নজর দিয়েছিলেন, যে তার মত গ্রাম্য পরিবেশেই বড় হয়েছে; এমা ইতিমধ্যেই ডার‌উইনকে পছন্দ করতে শুরু করেছিলেন, যখন ওয়েজউড হাউসে প্রায়ই ডারউইন বেড়াতে যেতেন; তার প্রতি ডারউইনের এই বিশেষ মনোযোগে এমাও খুশী হতেন, যদি ডারউইন পরোক্ষভাবে উচ্চারিত নানা অস্পষ্ট শব্দমালা বা বিব্রত ইতস্তত কিছু আচরণ ছাড়া তেমন কিছু করতে সক্ষম হননি এমার মন জয় করার প্রক্রিয়ায়; সেকারনেই এমা পুরোপুরি অপ্রস্তুত ছিলেন, যখন নার্ভাস ডারউইন একদিন কোনমতে সাহস করে বলে ফেলেন যে তিনি তাকে বিয়ে করতে চান, এমা হ্যা বলেছিলেন কিন্তু তিনি এতই অবাক হয়েছিলেন, এর পর কোন কথা না বলেই তিনি তার রোববারের স্কুলে ক্লাস নিতে উঠে যান;

George_Richmond_-_Emma_Darwin_-_1840
ছবি: এমা ওয়েজউড, ডারউইনের জীবন সঙ্গীনি (Emma Darwin (née Wedgwood) (2 May 1808 – 7 October 1896); ১৮৩৯ সালে ২৯ জানুয়ারী তাদের বিয়ে হয়েছিল; ডারউইন এবং এমা মোট দশটি সন্তানের জনক জননী ছিলেন, যাদের তিন জন শৈশবে মারা গিয়েছিলেন;

কিন্তু বেশ তাড়াতাড়ি এমা ডারউইনের মত পুরোপুরি” ভদ্র আর মিষ্টি স্বভাব’ এর একটি মানুষকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন সেই আনন্দটা অনুভব করতে শুরু করেন; অন্যদিকে ডারউইন চিন্তিত ছিলেন বীগলে তার সেই সময়টা তাকে কতটা অসামাজিক করে দিয়েছে বিয়ের মতো কোন সামাজিক আচারণের জন্য, কিন্তু এমাকে বিয়ে করছেন এই বোধটি তাকে বেশ আশাবাদী করে তুলেছিল; তিনি এমাকে লিখেছিলেন, ’আমি মনে করি তুমি আমাকে মানুষে রুপান্তরিত করতে পারবে এবং শীঘ্রই আমাকে শেখাবে পারবে নীরবে এবং একাকীত্বে কোন তত্ত্ব নির্মান ও তরা জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমান একত্রিত করার চেয়ে বড় অন্য কোন সুখও আছে;’

এমার চিন্তা শুধু একটাই যখন ডারউইন প্রকৃতি নিয়ে এবং এটিকে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভাব্য নিয়মাবলী বা সুত্র নিয়ে কথা বলে;  এমা একজন নিবেদিত প্রান ধার্মিক অ্যাঙলিকান, সহজেই বুঝতে পারেন যে বাইবেল নিয়ে চার্লস এর সন্দেহ আছে; তিনি ডারউইনকে লিখেছিলেন, ’আমার জন্য একটি কাজ করবে?’ তিনি তাকে জনের গসপেল থেকে খানিকটা অংশ পড়তে বলেন: ’আমি একটি নতুন আদেশ তোমাদের উপর ন্যস্ত করছি, তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে; যেমন আমি তোমাদের ভালোবেসেছি, তেমন তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে,’ যদি ভালোবাসা দিয়ে শুরু করে, ডারউইন হয়তো সত্যিকারের খৃষ্টান হতে পারবেন;

তিনি এমাকে প্রতিজ্ঞা করেন এবং বলেন যে আসলেই বিষয়টিকে তিনি বেশ আন্তরিকভাবেই অনুভব কররছন; কিন্তু সেই সময়ে তার নোটবুকে চোখ রাখলেই বলা সম্ভব তিনি বিষয়টি নিয়ে ঠিক পুরোপুরি সততার সাথে তার সত্যিকারের মনোভাব ব্যক্ত করেননি এমার কাছে; তিনি ভাবছিলেন, সত্যিকার কোন ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা চেয়ে বরং ধর্ম কি আসলেই প্রবৃত্তিগত কোন ব্যাপার যাকে আমরা বলি  ইন্সটিংক্ট ? এমার জন্য তার ভালোবাসাই তাকে বাধা দিয়েছিল তার সব চিন্তার কথা এমাকে বিস্তারিত জানানোর ক্ষেত্রে।

বিয়ের পর চার্লস এমাকে নিয়ে লন্ডনে চলে আসেন, এবং একটি স্বাচ্ছন্দময় একঘেয়েমীর দাম্পত্য জীবনে তারা অবশেষে স্থির হয়েছিলেন; তার স্বামীর আত্মা নিয়ে এমার চিন্তা অবশ্য অব্যাহতই থাকে; এবং এসময় তিনি তাকে আরো চিঠি লিখেছিলেন; ১৮৩৯ সালে একটি চিঠিতে তিনি তার উৎকন্ঠা প্রকাশ করেন যে, চার্লস প্রকৃতির সেই অন্তর্গত সত্যটাকে খোজার জন্য এত বেশী মোহাবিষ্ট ও আচ্ছন্ন হয়ে আছেন যে তিনি অন্য কোন সত্যকে দেখতে পাচ্ছেন না, যে সত্য শুধুমাত্র ধর্মই পারে উন্মোচন করতে; আর শুধু যা কিছু প্রমান করা যায় শুধু সেগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য ভাবার কারনে তিনি, “ সেই সব বিষয়গুলো মেনে নিতে পারছেন যেগুলো কিনা একইভাবে প্রমান করা সম্ভব না কিংবা যদি তা সত্য হয়, সেগুলো আসলেই আমাদের বোঝার ক্ষমতারও বাইরে;“

তিনি চার্লসের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন, তিনি যেন ভুলে না যান, জীসাস তার জন্য এবং পৃথিবীর বাকী সবার জন্য কি করেছিলেন; কোন উ্ত্তর ছাড়াই ডারউইন ‍এমার এই সেই চিঠিটাকে সরিয়ে রাখেন, যদিও চিঠিটির কথা তিনি তার সারা জীবন মনে রেখেছিলেন;

১৮৩৯ সালে ডারউইন ”জার্নাল অব রিসার্চেস ইনটু ন্যাচারাল হিস্টোরী অ্যান্ড জীওলজী অব দ্য কান্ট্রিস ভিসিটেড ডিউরিং দ্য ভয়েজ অব এইচএমএস বীগল অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্লড,আন্ডার দ্য কমান্ড অব ক্যাপ্টেন ফিটজরয়, আর এন (Journal of Researches into the Natural History and Geology of the Countries Visited During the Voyage of HMS Beagle Round the World, Under the Command of Captn. FitzRoy, R.N) প্রকাশ করেন;

ডারউইনের এই বইটি খুবই আলোচিত ও সফল হয়েছিল প্রকাশের সাথে সাথেই, এবং এটি ব্রিটেনে অন্যতম সেরা একজন প্রকৃতি বিজ্ঞানী হিসাবে ডারউইনের সুনামকে করেছিল নিশ্চিৎ; ততদিনে চার্লস এবং এমা বিবাহিত জীবন কেটেছে প্রায় তিন বছর এবং তাদের দুটি সন্তানও আছে, এবং এসময়টাতেই তারা সিদ্ধান্ত নেন, এবার লন্ডন ছেড়ে শহরের বাইরে কোথাও চলে যাবেন; লন্ডনের শহুরে ব্যস্ততা, হ্ট্টগোল, অপরাধ, কয়লার ধুলা যা তাদের কাপড়কে কালো করে দিত, বা ঘোড়ার গোবর যা তাদের জুতার সাথে লেগে যেত, কোনটাই তাদের আর সহ্য হচ্ছিল না, নিজেরা যেমন গ্রামের অকলুষিত পরিবেশে মানুষ হয়েছিলেন, তাদের সন্তানদেরও সেই পরিবেশে মানুষ করার সিদ্ধান্ত নেন ডারউইন দম্পতি; লন্ডন থেকে ১৬ মাইল দুরে কেন্টে ১৮ একর একটি ফার্ম,ডাউন হাউসকে বেছে নেন তারা; এখানে এসেই ডারউইন পুরোদস্তুর খামারী হয়ে যান, ফসলের চাষ করেন, গরু এবং ঘোড়া কেনেন; বৈজ্ঞানিক সমাজে মেলামেশা পুরোপুরি তিনি বন্ধ করে দেন;


ছবি: ডাউন হাউস ( এখন মিউজিয়াম)


ছবি: ডাউন হাউসের ভিতরে;

ছবি: ডারউইনের স্টাডির একাংশ


ছবি: ডাউন হাউসের গ্রীন হাউস


ছবি: ডাউন হাউসের পাশেই ডারউইনের বানানো হাটা ও চিন্তা করার পথ, স্যান্ড ওয়াক;

খুব সাবধানে বাছাই করা সপ্তাহ অন্তের কয়েকজন অতিথিই ছিল তার লন্ডনে ফেলে আসা বৈজ্ঞানিক সমাজের সাথে একমাত্র যোগসুত্র, এধরনের ঘনিষ্ট কিছু মানুষের মাধ্যমেই তিনি বিজ্ঞানের নতুন বিষয়গুলোর খবরাখবর পেতেন; কাছের মানুষ প্রিয় বড় ভাই ইরাসমাস লন্ডন ছেড়ে তার ছোট ভাই এর সাথে দেখা করাটা কাজটি একেবারেই পছন্দ করতো না, তিনি ডারউইনের প্রিয় ডাউন হাউসকে বাসাটিকে ঠাট্টা করে বলতেন “Down at the Mouth.”; এই পুরো সময় জুড়ে বিবর্তনের তত্ত্বটি নিয়ে তার ভাবনাগুলো গোপনে অব্যহত ছিল কিন্তু নিরবিচ্ছিন্নভাবে; প্রাকৃতিক নির্বাচনের স্বপক্ষে একটি যুক্তি তর্ক সম্বলিত একটি প্রস্তাবনাও তিনি লেখা শুরু করেন, ১৮৪৪ সালে সেটি শেষ হবার পর, তিনি বুঝতে পারছিলেন না এর পর কি করবেন তিনি; বিষয়টি নিয়ে তিনি কারো সাথেই আলাপও করতে চাইছিলেন না কারন তিনি বুঝতে পারছিলেন বিষয়টা নিয়ে কারো সাথে কিভাবে কথা বলবেন ; তার তত্ত্বটির সমর্থনে তিনি বহু মানুষর কাছ থেকে তথ্য প্রমান সংগ্রহ করেছিলেন, কিন্তু তিনি তাদের কাউকে জানাননি কেন এসব তথ্য তার আসলে দরকার; যে বালকটি এক সময় তার বাবাকে ভীষন ভয় পেত বলতে যে, সে কখনো ডাক্তার হতে পারবে না, সেই ছেলেটি তখন রুপান্তরিত হয়েছিল প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষে, যিনি তার বিপদজ্জনক ধারনাটিকে কাউকে জানাতে শঙ্কা বোধ করতে শুরু করেছিলেন;

4414
ছবি: ডাউন হাউসে জোসেফ হুকার, চার্লস লাইয়েল এবং চার্লস ডারউইন, ডারউইনের খুব ঘনিষ্ট দুজন বৈজ্ঞানিক সহযাত্রী;

কিন্তু অবশেষে কাউকে না কাউকে তো তাকে বলতেই হবে,  আর সেটা করতে গেলে তাকে এমন বৈজ্ঞানিক মনস্ক কাউকে খুজে বের করতে হবে যারা তার কাজ সম্বন্ধে যোগ্য মন্তব্য করতে পারবেন, আর যদি তিনি কোন বড় ভুল থাকেন যা অবশ্য তাদের চোখ এড়াবে না; তিনি জোসেফ হুকার নামের একজন তরুন উদ্ভিদবিদকে প্রথমে নির্বাচন করলেন, যিনি এর আগে বীগল অভিযানের সময় তার নিয়ে আসা উদ্ভিদের নমুনা গুলো পরীক্ষা করেছিলেন, এবং যাকে ডার‌উইনের যথেষ্ট খোলা মনের একজনই মনে হয়েছিল, যে তাকে অন্তত ব্লাসফেমার বা ধর্ম নিন্দাকারী মনে করবেন না; তিনি হুকারকে চিঠি লেখেন:

ফিরে আসার পর থেকেই আজ অবধি আমি খুব বড় একটি সাহসী বা যায় ধৃষ্ঠতাপুর্ণ কাজের সুচনা করেছিলাম এবং আমার আসলেই এমন কাউকে জানা নেই, সব শুনবার পর যারা বলবেন না, কাজটি খুব বেশী নির্বোধতুল্য হয়ে গেছে; গালাপাগোসে জীবজন্তুদের বিস্তারের বিষয়টিতে আমার দৃষ্টি এতবেশী আকর্ষন করেছিল যে, আমি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিলাম একনিষ্টভাবে দৃঢ়চিত্তে আমি যাবতীয় সব তথ্য সংগ্রহ করবো যা প্রজাতি আসলে কি সেই বিষয়ে গুরুত্বপুর্ণ ধারনা দিতে পারে আমাদের; আমি অসংখ্য কৃষিবিদ্যা এবং উদ্যানবিদ্যার বই পড়েছি এবং কখনোই প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা স্তগিত করিনি; অবশেষে আমি কিছুটা আলোর দেখা পেয়েছি এবং প্রায় স্থির একটি সিদ্ধ‍ান্তে পৌছাতে পেরেছি ( যা শুরুর সময়কালীন আমার ধারনার সম্পুর্ণ বীপরিত প্রমানিত হয়েছে) যে, প্রজাতিরা ( এটি অনেকটা কোন হত্যার দায় স্বীকার করার মত) অপরিবর্তনীয় নয়,  আমি মনে করি আমি একটি সহজ উপায় ( আর এখানেই মনে হতে পারে আমার প্রধৃষ্ঠতা!) খুজে পেয়েছি কিভাবে প্রজাতিগুলো এত অসাধারন সুচারুভাবে নানা পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হয়; আপনি হয়তো হতাশায় আর্তনাদ করে উঠবেন এবং নিজের মনে ভাববেন, ’হায় কি এক মানুষের জন্য আমি সময় আর লেখা অপচয় করছি;’ পাচ বছর আগে এমনকি আমি যেমনটা ভাবতাম;

ডারউইন যেমন আশা করেছিলেন, হুকারও ঠিক তেমনই একজন খোলা মনের মানুষই ছিলেন, ”আমি খুবই আনন্দিত হবো কিভাবে পরিবর্তন ঘটেছে প্রজাতিতে সে বিষয়ে আপনি কি ভাবছেন তা  যদি আমি শুনতে পারি“; তিনি প্রত্যুত্তরে লিখেছিলেন,”যেহেতু বর্তমান প্রস্তাবিত কোন ধারনাই এ বিষয়ে আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি;”

ডারউইনের জন্য হুকার এর এই উত্তরটি যথেষ্ট ছিল এর কয়েক মাস পরে এমাকে তার প্রবন্ধটি প্রথম দেখানোর জন্য সকল ইতস্ততা কাটিয়ে উঠতে;  তিনি জানতেন এটি পড়ে ‌এমা বেশ অস্থির হয়ে পড়তে পারেন কিন্তু তিনি চাইছিলেন যদি তার মৃত্যু হঠাৎ করে কিংবা তাড়াতাড়ি ঘটে যায়, তাহলে যেন এমা তার মৃত্যুর পর যেন এই প্রবন্ধটি প্রকাশ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেন; এমা প্রবন্ধটি পড়েছিলেন, এবং পড়ে তিনি আবেগ তাড়িতও হননি, শুধু যে জায়গাগুলোতে ডারউইনের লেখা খানিকটা অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সে জায়গাগুলো তাকে চিহ্নিত করে দেন; পান্ডুলিপির যেখানে ডারউইন লিখেছিলেন, তিনি কল্পনা করতে পারেন, প্রাকৃতিক নির্বাচন এমনকি চোখের মত জটিল কিছু তৈরী করতে পারে, সেখানে এমা লিখেছিলেন, ”বেশ বড় একটি অনুমান;”

__________________________ চলবে

Advertisements
চার্লস ডারউইন এবং একটি ধারনার বিজয়…. : দ্বিতীয় পর্ব (তিন)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s