রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : সপ্তম অধ্যায় (শেষ পর্ব)


Hitler
ছবি: হিটলার আর স্ট্যালিন

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন :  সপ্তম অধ্যায় (শেষ পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The God Delusion by Richard Dawkins

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায়
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) , চতুর্থ অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) ,
চতুর্থ অধ্যায় ( তৃতীয় পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( চতুর্থ পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
 পঞ্চম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)পঞ্চম অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) , পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ,  পঞ্চম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব) ,পঞ্চম অধ্যায় (ষষ্ঠ পর্ব)
ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; ষষ্ঠ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)
সপ্তম অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব) ;
সপ্তম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

‘পবিত্র’ গ্রন্থ এবং যুগের সাথে বদলে যাওয়া নৈতিকতার জাইটগাইষ্ট বা যুগধর্ম 

কেন হিটলার আর স্ট্যালিন ? তারা কি নাস্তিক ছিল না?

জাইটগাইষ্ট হয়তো অগ্রসর হচ্ছে এবং সাধারণত এটি  অগ্রসর হচ্ছে প্রগতিশীল একটি দিক বরাবর, কিন্তু আমি বলেছিলাম আকাবাকা উচু নীচু পথে এর উত্থান পতন, এবং বেশ কিছু ভয়ঙ্কর পশ্চাদপসরনের মত বিপর্যয়ের ঘটনাও ঘটেছে; উল্লেখযোগ বিপর্যয়গুলো, ভয়ঙ্কর সেই নৈতিকতার অধ:পতনের মুল কারণ বিংশ শতাব্দীর সব স্বৈরাচারী একনায়করা; গুরুত্বপুর্ণ বিষয়টি হলো আগে পার্থক্য করতে হবে, হিটলার আর স্ট্যালিন এর মত মানুষদের অশুভ উদ্দেশ্য এবং  তাদের হাতে থাকা সেই অসীম ক্ষমতাটিকে, যা দিয়ে তারা তাদের ইচ্ছা চরিতার্থ করেছিল; আমি ইতিমধ্যেই লক্ষ্য করেছি যে হিটলারের পরিকল্পনা এবং উদ্দেশ্যগুলো স্বপ্রতীয়মানভাবেই রোমের সম্রাট ক্যালিগুলা – বা কয়েকজন ওটোমান সুলতানদের পরিকল্পনা এবং উদ্দেশ্যগুলোর তুলনায় বেশী অশুভ ছিল না, যাদের অকল্পনীয় নৃশংস আচরনের কাহিনী বর্নিত আছে নোয়েল বারবার এর Lords of the Golden Horn এ; হিটলারের হাতে বিংশ শতাব্দীর অস্ত্র আর যোগাযোগের প্রযুক্তি ছিল; তাসত্ত্বেও হিটলার আর স্ট্যালিন দুজনেই অত্যন্ত খারাপ দুজন মানুষ;

হিটলার আর স্ট্যালিন তো নাস্তিক ছিলেন, এ বিষয়ে আপনার কি বলার আছে? ধর্ম বিষয়ে দেয়া প্রতিটি পাবলিক লেকচারের পরে এবং বেশী ভাগ রেডিও ইন্টারভিউর পরে এই প্রশ্নটি আমাকে করা হয়েছে; প্রশ্নটা আমাকে করা হয় খানিকটা আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে, এবং যা ঘৃন্যভাবে দুটি ধারনাকে  বহন করে (১) হিটলার ও স্ট্যালিন শুধু নাস্তিক ই নয়( ২) তারা যে জঘন্য কাজগুলো করেছে তার কারন হচ্ছে তারা নাস্তিক ছিলেন; ধারণা (১) টি স্ট্যালিনের জন্য সত্য, কিন্তু হিটলারের ব্যাপারে সন্দেহ আছে; কিন্তু এই ধারনা আর যাই হোক অপ্রাসঙ্গিক কারন ধারনা (২) হচ্ছে ভুল, মিথ্যা; এবং এটি অবশ্যই অযৌক্তিক যদি চিন্তাটি (১) নং ধারনা থেকে আসে; এমনকি যদি আমরা মেনেও নেই হিটলার আর স্ট্যালিনের দুজনেরই নাস্তিক ছিলেন, তাদের দুজনেরও গোফ ছিল, যেমন সাদ্দাম হুসেন এরও ছিল; তাহলেই বা কি? গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্নটি কিন্তু এটা না যে, খারাপ ( অথবা ভালো) কোন মানুষ ধার্মিক অথবা নাস্তিক কিনা; খারাপ লোকদের মাথা গুনে তাদের এই দুই প্রতিদ্বন্দী গ্রুপে ভাগ করে তাদের খারাপ কাজের তালিকা করার কাজ আমাদের না; নাৎসীদের বেল্টের বাকলে খোদাই করা ‘Gott mit uns’   ( বা God with us) এই সত্যটি কিছুই প্রমান করেনা, অন্ততপক্ষে আরো অনেক দীর্ঘ আলোচনা ছাড়া;  হিটলার আর স্ট্যালিন নাস্তিক ছিলেন কি ছিলেন না সেটা ব্ষিয় না, বরং নাস্তিকতা পদ্ধতিগতভাবে মানুষকে খারাপ কাজ করতে বাধ্য করে কি করে না সেটা; সামান্যতম প্রমানই নেই যা সমর্থন করে নাস্তিকতা মানুষেকে খারাপ কাজ করতে প্রভাবিত করে;

সন্দেহের কোন অবকাশ নেই, আসলেই স্ট্যালিন একজন নাস্তিক ছিলেন; তিনি তার শিক্ষাদীক্ষা পেয়েছেন একটি অর্থোডক্স চার্চের সেমিনারীতে (যেখানে অর্থোডক্স যাজকতের প্রশিক্ষন দেয়া হয়), তার মা কখনো তার সেই হতাশা কাটাতে পারেননি, কেন তার ছেলে ধর্ম যাজক হলো না তিনি যেমন চেয়েছিলেন; যে বিষয়টি, অ্যালেন বুলোক এর মতে স্ট্যালিনকে বেশ আনন্দ দিত, হয়তো যাজক হিসাবে তার ট্রেনিং এর অভিজ্ঞতা তাকে রুশ অর্থোডক্স চার্চ, খৃষ্টধর্ম এবং সামগ্রিক ভাবে ধর্মের কট্টর বিরোধীতে রুপান্তরিত করেছিল; কিন্তু কোন প্রমান নেই তার নাস্তিকতা তাকে নিষ্ঠুর কাজগুলো করার জন্য প্রণোদনা যুগিয়েছে; তার আগের ধর্মীয় প্রশিক্ষনও সম্ভবত তা করেনি, যদি না, অবশ্য সেমিনারীতে চুড়ান্ত বিশ্বাসকে প্রশ্নাতীত শ্রদ্ধা, কঠোর কর্তৃত্ব এবং সেই বিশ্বাস, ফলাফলই কাজ সম্পাদনের প্রক্রিয়াটির যৌক্তিতাকে প্রমান করে, এমন কিছু শেখানোর মাধ্যমে তা ঘটে থাকে;

আর হিটলার যে নাস্তিক এই কাহিনী খুবই যত্ন সহকারে পরিকল্পনা করে প্রচার করা হয়েছে, এমন ভাবে যে এখন অনেক মানুষই তা বিশ্বাস করেন কোন প্রশ্ন করা ছাড়াই; এবং মুল সত্যকে তোয়াক্কা করে নিয়মিত আর ব্যাপকভাবে বিষয়টি  প্রচার করছেন ধর্মবাদীরা; কিন্তু আসল সত্য এত স্পষ্ট নয় কোনভাবেই; হিটলারে জন্ম হয়েছিল ক্যাথলিক একটি পরিবারে, তিনি ক্যাথলিক স্কুলেই পড়াশুনা করেছিলেন শৈশবে; যদিও বিষয়টি এককভাবে গুরুত্বপুর্ণ না, তিনিও খুব সহজে ধর্মকে পরিত্যাগ করতে পারেন পরবর্তীতে, যেমন স্ট্যালিন রুশ অর্থোডক্স বিশ্বাসকে পরিত্যাগ করেছিলেন টিফলিস থিওলজীকাল সেমিনারী ছাড়ার পরপরই; কিন্তু হিটলার কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাথলিসিজম পরিত্যাগ করেননি, তার সমস্ত জীবনে যথেষ্ট ইঙ্গিত আছে তিনি ধার্মিক ছিলেন, যদিও ক্যাথলিক না, তিনি কোন একটি স্বর্গীয় সত্ত্বার প্রতি তার বিশ্বাস কখনোই পরিত্যাগ করেননি; যেমন তার Mein Kampf  এ তিনি বলেছেন যে, তিনি যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ঘোষনার খবর শোনেন, ”আমি হাটু গেড়ে বসে পড়ি এবং স্বর্গীয় সত্ত্বাকে ধন্যবাদ আমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে, এরকম একটি সময়ে আমাকে বেচে থাকার অনুমতি দিয়ে ধন্য করার জন্য;’ কিন্তু তখন ১৯১৪, তার বয়স মাত্র ২৫; হয়তো বা তিনি বদলে গিয়েছিলেন পরে?

১৯২০ সালে যখন হিটলারের বয়স ৩১, তার খুব কাছের সহযোগী রুডলফ হেস,পরবর্তীতে যিনি ডেপুটি ফুহরার হয়েছিলেন, বাভারিয়ার প্রধান মন্ত্রীকে একটি চিঠিতে লিখেছিলেন, ’আমি ব্যক্তিগতভাবে হের (জনাব) হিটলারকে খুব ভালো ভাবে চিনি, এবং আমি তার বেশ ঘনিষ্ট একজন, তার একটি অসাধারন মর্যাদাপুর্ণ চরিত্র আছে, যা গভীর দয়ায় পুর্ণ, ধার্মিক এবং একজন উত্তম ক্যাথলিক;” অবশ্যই এটা বলা যেতে পারে, যেহেতু হেস ’মর্যাদাপুর্ণ চরিত্র’ বা ’গভীর দয়ায় পুর্ণ’ ইত্যাদি বিশেষনগুলো ব্যবহারে এত জঘন্যভাবে ভুল করেছেন, হয়তো তিনি ভালো ক্যাথলিক অংশটাও ভুল করেছিলেন; হিটলারের কোন কিছু ভালো বলা রীতিমত কঠিন একটি কাজ; যা আমাকে মনে করিয়ে দেয়, হাস্যকরভাবে দু:সাহসী সেই যুক্তির কথা, যা আমি শুনেছিলাম হিটলার নিশ্চয়ই একজন নাস্তিক ছিলেন এই মতবাদের স্বপক্ষে; নানা উৎস থেকে পুনরোল্লেখ করে , হিটলার একজন খারাপ মানুষ, খৃষ্টধর্ম ভালো হবার শিক্ষা দেয়, সুতরাং হিটলার খৃষ্টান হতে পারেন না কোন ভাবেই; গোয়েরিং হিটলার সম্বন্ধে মন্তব্য করেছিলেন,’ শুধু মাত্র একজন ক্যাথলিকই পারে জার্মানীকে ঐক্যবদ্ধ করতে;’ আমার কি মনে করে নিতে হবে যে তিনি এমন কেউ যিনি প্রতিপালিত হয়েছেন ক্যাথলিক হিসাবে , তবে বিশ্বাসী ক্যাথলিক ছিলেন না তিনি কোনদিনও;

১৯৩৩ সালে বার্লিনে একটি ভাষন দেবার সময় হিটলার বলেছিলেন, ‘আমরা সে বিশ্বাসে পৌছেছি যে, মানুষ এই ধর্ম বিশ্বাসের প্রয়োজন আছে,সুতরাং আমরা নাস্তিকতাবাদের আন্দোলেনের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ শুরুর ঘোষনা করেছি; এবং এটি শুধুমাত্র তাত্ত্বিক কোন ঘোষনা সা, আমরা এটি অবশ্যই নির্মুল করে ছাড়বো;’ এটি হয়তো শুধু মাত্র ইঙ্গিত দেয়, অন্য অনেকের মতই, হিটলার কোন বিশ্বাসকে বিশ্বাস করতেন; ১৯৪১ সালে জানা যায় তিনি তার অ্যাডজুট্যান্ট, জেনেরেল গেরহার্ড ইঙ্গেল কে বলেছিলেন, ’আমি আমৃত্যু ক্যাথলিক হয়েই থাকবো;’

এমনকি যদি তিনি সত্যিকারের বিশ্বাসী খৃষ্টান নাও হয়ে থাকেন, হিটলার অবশ্যই খুবই ভিন্ন ধরনের কেউ হবেন, যদি খৃষ্ট হত্যাকারী হিসাবে ইহুদীদের  দোষ দেবার দীর্ঘদিনের খৃষ্টান ঐতিহ্য তাকে প্রভাবিত করে না থাকে; মিউনিখে ১৯২৩ সালের এক ভাষনে হিটলার বলেছিলেন, প্রথম কাজ হবে (জার্মানীকে) ইহুদীদের হাত থেকে বাচানো, যারা আমাদের দেশটাকে ধ্বংশ করছে,  জার্মানীকে আমরা সেই কষ্ট সহ্য করা থেকে রক্ষা করতে চাই, যেমন আরেকজন করেছিলেন, ক্রুশ বিদ্ধ হয়ে মৃত্যুকে বরণ করার মাধ্যমে;” জন টোল্যান্ড (তার Adolf Hitler: The Definitive Biography বইটিতে লিখেছেন হিটলারের ধর্মীয় অবস্থান কি ছিল ফাইনাল সল্যুশন ( বন্দী সকল ইহুদীকে হত্যা করার নাৎসী সিদ্ধান্ত) এর সময়টাতে:

তখনও রোমের চার্চের একজন ভালো সদস্য, যদি এর হায়ারার্কি বা প্রাধান্য পরম্পরা বিষয়টি তার পছন্দের ছিলনা, তবে তিনি তার মধ্যে এর সেই শিক্ষাটি ধারণ করে রেখেছিলেন যে, ইহুদীরাই ‌ঈশ্বরকে হত্যা করেছিল; সে কারনে ইহুদী নিধনযজ্ঞ সংগঠিত করা সম্ভব হয়েছিল বিবেক এর সামান্যতম দংশন ছাড়াই, কারন সেখানে হিটলার শুধু ঈশ্বরের প্রতিশোধ নেবার হাত হিসাবে কাজ করেছেন – যতক্ষন তা করা সম্ভব হয়েছে নৈর্ব্যাক্তিক ভাবে, কোন নিষ্ঠুরতা ছাড়াই;

ইহুদীদের প্রতি খৃষ্টানদের ঘৃণা শুধুমাত্র ক্যাথলিকদের ঐতিহ্যই না, মার্টিন লুথার সমভাবে তীব্র ইহুদী বিদ্বেষী; তার Diet of Worms এ তিনি বলেছেন, ’সমস্ত ইহুদীকে জার্মানী থেকে বিতাড়িত করা উচিৎ’; এবং On the Jews and their Lies নামে তিনি পুরো একটা বইও লিখেছিলেন, যা সম্ভবত হিটলারকে প্রভাবিত করেছিল; লুথার ইহুদীদের বর্ণনা করেছিলে বিষধর সাপের কুন্ডলী বলে এবং সেই একই শব্দ হিটলারও ব্যবহার করেছিলেন তার ১৯২২ সালের উল্লেখযোগ্য একটি বক্তৃতায়, যেখানে তিনি বেশ কয়েকবার উল্লেখ করেছিলেন যে তিনি খৃষ্ট ধর্মাবলম্বী;

blockquote> খৃষ্টান  হিসাবে আমার অনুভুতি একজন যোদ্ধা হিসাবে আমাকে আমার প্রভু আর ত্রাণকর্তার দিকে নির্দেশনা দেয়; এটি আমাকে নির্দেশ করে সেই মানুষটির প্রতি, যিনি একবার একাকীত্বে, তার অল্প কিছু অনুসারী পরিবেষ্টিত হয়ে, শনাক্ত করেছিলেন যে এই সব ইহুদীরা আসলে কি এবং সবাইকে আহবান করেছিলেন এদের সাথে যুদ্ধ করতে এবং তারা, ঈশ্বরের সত্য, কষ্ট সহ্যকারী হিসাবে না বরং যোদ্ধা হিসাবে  সর্বশ্রেষ্টই ছিলেন, খৃষ্টান হিসাবে অসীম ভালোবাসা, এবং  একজন মানুষ হিসাবে আমি বাইবেল এর এই সব অনুচ্ছেদগুলো পড়ি যা আমাদের বলে, কিভাবে আমাদের প্রভু অবশেষে উদ্যত হয়েছিলেন  প্রতিরোধে তার সর্বশক্তি দিয়ে এবং চাবুক হাতে নিয়ে এইসব অভিশপ্ত শয়তানের বিষধর সাপের দঙ্গলকে বহিষ্কার করেছিলেন উপসনালয় থেকে; কি অসাধারন ছিল ইহুদী বিষাক্ততার বিরুদ্ধে তার সেই যুদ্ধ ; আজ দুই হাজার বছর পর, গভীর আবেগের সাথে আমি চিহ্নিত করতে পারছি আগের চেয়ে আরো বেশী ভালোভাবে সেই সত্যটাকে যে, এর জন্য তাকে তার রক্ত দিতে হয়েছে ক্রশের উপর; খৃষ্টান হিসাবে আমার দ্বায়িত্ব, আমি যেন নিজেকে প্রতারিত হবার কোন সুযোগ না দেই,  আমার কর্তব্য হচ্ছে সত্য আর ন্যায় বিচারের জন্য যুদ্ধ করা; এবং যদি কোন কিছু পারে প্রদর্শন করতে যে আমরা সঠিক দায়িত্ব পালন করছি, সে হবে সেই কষ্ট যা প্রতিদিনই পুন্জীভুত হচ্ছে; কারন খৃষ্টান হিসোবে আমার আরো দায়িত্ব আছে আমার নিজেদের জনগনের প্রতি কর্তব্য পালন করার;

যদিও জানা কষ্টসাধ্য যে,হিটলার এই বিষধর সাপের কুন্ডলী কথাটা আসলে কোথায় পেয়েছিলেন লুথারের লেখা থেকে না সরাসরি ম্যাথিউ ৩:৭ থেকে,যেভাবে লুথার সম্ভবত পেয়েছিলেন;এছাড়া ইহুদী নিপীড়ন যে ঈশ্বরের ইচ্ছার একটি অংশ এই থীমটিতে হিটলার ফিরে এসেছেন তার Mein Kampf এ : ‘যেহেতু আজ আমি বিশ্বাস করি যে, আমি কাজ করছি সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছানুযায়ী: নিজেকে ইহুদীদের কাছ থেকে সুরক্ষা করে; আমি আমার প্রভুর নামেই যুদ্ধ করছি;’ এটি ১৯২৫ সালের ঘটনা;একই কথা আবার বলেন ১৯৩৮ সালে রাইখস্টাগ (জার্মান পার্লামেন্ট) একটি ভাষনের সময়;এবং এই একই কথা তার জীবনে তিনি বহুবার বলেছেন বিভিন্ন সময়ে,

এই ধরনের তার উক্তিগুলোকে অন্যসময়ে করা তার অন্য উক্তিগুলোর সাথে ভারসাম্য খুজে নিতে হবে যেমন তার সেক্রেটারী যে কথাগুলো লিপিবদ্ধ করেছিলেন  Table Talk এ,যেখানে হিটলার আবার তীব্রভাবে অখৃষ্টীয় দৃষ্টিভঙ্গীর কথা বলেছেন,যা তার সেক্রেটারী লিপিবদ্ধ করেছিলেন;নীচের উক্তিগুলো সব  যেমন ১৯৪১ এর সময় করেছিলেন:

 যে সবচেয়ে বিশাল আঘাতটিকে মানবতাকে সহ্য করতে হয়েছে তা হলো খৃষ্টধর্মের আগমন;বলশেভিজম হচ্ছে খৃষ্টধর্মের একটি অবৈধ সন্তান;দুটোই ইহুদীদের আবিষ্কার;ধর্মের ব্যাপারে পৃথিবীতে পরিকল্পিত মিথ্যার সুচনা করেছিল খৃষ্ট ধর্ম…….

প্রাচীন পৃথিবী কেন এত পবিত্র,বিশুদ্ধ,ভারহীন আর শান্তিপুর্ণ ছিল কারন তারা দুটি বিশাল ভয়াবহ অভিশাপের কথা জানতেন না,পক্স ( Small Pox) আর খৃষ্টধর্ম;

যখন সব বলা শেষ হয়ে যায়,আমাদের আশা করার কোন কারনই নেই যে,ইতালীয় আর স্পেনীয়রা তাদের নিজেদের খৃষ্টধর্মর মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করবে;আসুন আমরাই শুধু একটি মাত্র জাতি হই, যারা এই রোগের বিরুদ্ধে প্রতিষেধকের ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের মুক্ত হতে পেরেছে;

হিটলারের Table Talk এ আরো এধরনে বহু উদ্ধৃতি আছে,যা প্রায়ই খৃষ্টধর্মকে বলশেভিজমের সাথে সমতুল্য হিসাবে উল্লেখ করেছে;কখনো তুলনামুলক সমরুপ আলোচনা এসেছে কার্ল মার্কস এবং সেন্ট পল প্রসঙ্গে;এবং কখনোই তিনি ভোলেনই যে তারা দুজনেই ইহুদী ( যদিও হিটলার খুব অদ্ভুত ভাবে দৃঢ় বিশ্বাস করতেন যীশু নিজে ইহুদী ছিলেন না);সম্ভাবনা আছে ১৯৪১ সাল অবধি হিটলারের হয়তো কোন এক ধরনে ধর্ম ত্যাগের বিষয়টি ঘটেছে বা খৃষ্টধর্ম সম্পর্কে তার মোহমুক্তি হয়েছে;বা এই পরস্পর বিরোধী এ ধরণের বক্তব্য কি শধুমাত্র আমাদের জানাচ্ছে যে,হিটলার একজন সুযোগ সন্ধানী মিথ্যাবাদী,যার কোন কথা বিশ্বাস করার মত নয়,যে কোন দিকেই?

তর্ক করা যেতে পারে,তার নিজের বক্তব্য বা তার কাছের সহযোগীদের দেয়া তথ্যে সত্ত্বে,হিটলার আসলে ধার্মিক ছিলেন না কিন্তু তার শ্রোতা ও দর্শকদের মনের ধর্মীয় ভাবকে তিনি দুরভিসন্ধীর সাথে অপব্যবহার করেছিলেন; তিনি হয়তো নেপোলিয়নের সাথে একমত ছিলেন,যিনি বলেছিলেন, ‘ধর্ম হচ্ছে চমৎকার একটি জিনিস, যা দিয়ে সাধারন মানুষকে শান্ত করে রাখা যায়’; বা সেনেকা দি ইয়োঙ্গার এর সাথে,যিনি বলেছিলেন,’সাধারণ মানুষ ধর্মকে গন্য করে সত্য হিসাবে,জ্ঞানীরা মিথ্যা হিসাবে এবং শাসকরা শোষনের উপযোগী হিসাবে;‘কেউই অস্বীকার করবে না যে হিটলারের পক্ষে এমন অসৎ হওয়া খুবই সম্ভব;যদি তার আসলে উদ্দেশ্য হয় ধার্মিক হবার ভান করা,আমাদের নিজেদের অবশ্যই মনে করিয়ে দেয়া প্রয়োজন সেক্ষেত্রে হিটলারের নৃশংসতার কাজগুলো কিন্তু সে নিজেই একা হাতেই করেনি;সেই বর্বরোচিত ভয়াবহ ঘটনাগুলো ঘটিয়েছিল তার নির্দেশ মানা সৈন্যরা ও তাদের অফিসাররা,যাদের বেশীর ভাগই অবশ্যই খৃষ্টান ছিলেন;

আসলে জার্মান জনগোষ্ঠীর খৃষ্টধর্ম, আমরা আলোচনা করছি সেই হাইপোথিসিসটির ভিত্তিতে অবস্থিত– যে হাইপোথিসিসটি ব্যাখ্যা করবে, হিটলারে আপাতদৃষ্টিতে লোক দেখানো অনান্তরিক ধর্মীয় মনোভাবের প্রচারণা বা হয়তো হিটলার ভেবেছিলেন,তার হয়তো খৃষ্টধর্মের প্রতি কোন টোকেন হিসাবে হলেও কিছু সহমর্মিতা প্রকাশ করা উচিৎ,নয়তো তার দু:শাসন চার্চ থেকে যে সমর্থন পেয়েছিল,সেটা পেত না;চার্চের এই সমর্থন বহুরুপে দেখা গেছে সেই সময়ে,যার মধ্যে আছে ‍পোপ পায়াস ১২ র নাৎসীদের প্রতি একটি দৃঢ় অবস্থান নেবার আহবানের প্রতি ক্রমাগত প্রত্যাখান করে যাওয়ার ব্যাপারটি – আধুনিক চার্চের জন্য যা এখনও যথেষ্ট পরিমান বিব্রতকর একটি অধ্যায়;

হয় খৃষ্ট ধর্ম নিয়ে হিটলারের সাফাই গাওয়াটা ছিল আন্তরিক ছিল অথবা তিনি তার খৃষ্টধর্ম প্রীতি নিয়ে ভান করেছিলেন তার নিজের উদ্দেশ্য পুরনের লক্ষ্যে – যেমন সফলভাবে জার্মান খৃষ্টান ও ক্যাথলিক চার্চের কাছ থেকে সাহায্য আদায় করেছিলেন; যে কোন ভাবেই হিটলারে শাসনের ভয়াবহ অশুভ দিকগুলোকে কোনভাবেই নাস্তিকতার কারনে ঘটেছে বলে এমনটি দাবী করা যাবে না;

এবং এমনকি যখন তিনি ধর্মের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছিলেন,হিটলার প্রভিডেন্স বা ঐশ্বরিক স্বর্গীয় সত্ত্বা সংক্রান্ত শব্দগুলো তার ভাষায় ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকেননি: রহস্যময় একটি সত্ত্বা,তিনি বিশ্বাস করতেন,তাকে বিশেষ ভাবে নির্বাচন করেছে জার্মানীকে নের্তৃত্ব দেবার জন্য;তিনি এটিকে মাঝে মাঝে বলতেন প্রভিডেন্স,কোন কোন সময় ঈশ্বর; ১৯৩৮ সালে আনসলুস (Anschluss , অষ্ট্রিয়া এবং জার্মানীর রাজনৈতিক পুনর্মিলন) এর পরে যখন ভিয়েনায় হিটলার বিজয়ীর বেশ প্রত্যাবর্তন করেন,তার উচ্ছসিত বক্তৃতায় ঈশ্বরের প্রসঙ্গ এসেছে এই প্রভিডেনস এর ছদ্মবেশে: ‘আমি বিশ্বাস করি এটা ঈশ্বরের ইচ্ছা একটা বালককে এখান থেকে রাইখে প্রেরণ করেছিলেন,তাকে সেখানে বড় হবার সুযোগ করে দিয়েছিলেন,তাকে হিসাবে উন্নীত করেছিলেন জাতির নেতা হিসাবে,যেন সে তার জন্মভুমিকে আবার রাইখের সাথে যুক্ত করার জন্য নেতৃত্ব দিতে পারে;“

১৯৩৯ সালে মিউনিখে আততায়ীর হাত থেকে সামান্যর জন্যে বেচে যাবার পর কিন্তু হিটলার স্বর্গীয় শক্তিকে ধন্যবাদ দিয়েছিলেন সেদিন তার সিডিউলে সামান্য পরিবর্তন করার মাধ্যমে তার জীবন রক্ষা করার জন্য;’এখন আমি সম্পুর্ণ সন্তুষ্ট; আমি যে বিরগারব্রাউকেলার সময়ের একটু আগেই ছেড়ে এসেছিলাম সেটা হচ্ছে দৈব ইচ্ছার একটি ইঙ্গিত, আমাকে  আমার লক্ষ্যে পৌছাতে সাহায্য করার জন্য;এই ব্যর্থ হত্যা প্রচেষ্টার পর মিউনিখ এর আর্চবিশপ কার্ডিনাল মাইকেল ফাউলহাবের নির্দেশ দেন তার ক্যাথেড্রালে Te Deum বা ঈশ্বরে প্রশস্তি সঙ্গীত গাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে,’আর্চডাওসিস এর পক্ষ থেকে ফুয়েরারের সৌভাগ্যক্রমে বেচে যাওয়ার জন্য স্বর্গীয় ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানানো উদ্দেশ্যে’;বেশ কিছু হিটলারের অনুসারী,যেমন গোয়েবেলস চেষ্টার কোনই ক্রটি করেননি খোদ নাৎসি মতবাদকে নিজের যোগ্যতারয় একটি ধর্মে রুপান্তরিত করতে;নীচের কথাগুলো ইউনাইটেড ট্রেড ইউনিয়নস এর প্রধানের যার প্রার্থনার মত একটি রুপ আছে,ছন্দ আছে খৃষ্ট প্রভুর প্রতি প্রার্থনার মত ( আমাদের পিতা) বা ক্রিড এর মত:

অ্যাডলফ হিটলার ! আমরা শুধুমাত্র আপনার সাথে একাত্মতা ঘোষনা করছি; আমরা আমাদের প্রতিজ্ঞা  নবায়ন করতে চাই এই মুহুর্তে: এই পৃথিবীতে আমরা শুধু বিশ্বাস করি অ্যাডলফ হিটলারকে; আমরা বিশ্বাস করি ন্যাশনাল সমাজতন্ত্র ( নাৎসী পার্টি) আমাদের জনগনের জন্য একমাত্র রক্ষাকারী বিশ্বাস; আমরা বিশ্বাস করি স্বর্গে একজন প্রভু ঈশ্বর আছেন, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন, আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন এবং আমাদের দৃশ্যতই আশীর্বাদ করেছেন; এবং আমরা বিশ্বাস করি যে এই প্রভু ঈশ্বর অ্যাডলফ হিটলারকে প্রেরণ করেছেন যেন জার্মানী চিরকালের জন্য শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত হতে পারে;

স্ট্যালিন নাস্তিক ছিলেন, হিটলার সম্ভবত নাস্তিক ছিলেন না, কিন্তু এমনকি তিনি যদি নাস্তিকও হতেন, তাহলেও স্ট্যালিন/হিটলার বিতর্কের শেষ কথা খুবই সাধারণ; কোন একক ব্যক্তি নাস্তিক হয়তো খারাপ কাজ করতে পারেন, কিন্তু তারা নাস্তিকতার নামে কোন অশুভ কাজ করেন না; স্ট্যালিন এবং হিটলার অত্যন্ত খারাপ কাজ করেছেন, যথাক্রমে গোড়া মতবাদ আর কট্টরপন্থী মার্ক্সবাদের নামে এবং উন্মত্ত ও অবৈজ্ঞানিক ইউজেনিকস তত্ত্বে যা খানিকটা মিশ্রিত ছিল ভাগনারীয় (Wagner) পাগলামী; তবে ধর্মীয় যুদ্ধ আসলেই ধর্মের নামেই লড়াই করা হয়; এবং ইতিহাসে তাদের উপস্থিতি ভয়ঙ্কর ভাবে নিয়মিত; আমি এমন কোন যুদ্ধের কথা মনে করতে পারছি না যা নাস্তিকতার নামে লড়াই করা হয়েছে; আর কেনই বা তা হবে? কোন যুদ্ধের উদ্দেশ্য থাকতে পারে অর্থনৈতিক লালসা, রাজনৈতিক অভিলাষ, জাতি কিংবা বর্ণগত সংস্কার, গভীরভাবে লালন করা কোন দু:খ দুর্দশা বা প্রতিশোধ কিংবা কোন জাতির নিয়তি নির্ধারণে দেশপ্রেম জনিত বিশ্বাস; এবং কোন যুদ্ধের আরো সম্ভাব্য কারণ হচ্ছে  কারো ধর্মের প্রতি অনঢ় বিশ্বাস যে আদের ধর্মটি একমাত্র সত্যিকারের ধর্ম; যা আরো দৃঢ় করে প্রবিত্র বই গুলো যা কোন রাখ ঢাক না রেখেই  সকল অবিশ্বাসী এবং অন্য ধর্মের বিশ্বাসীদের মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করেছে, এবং স্পষ্টভাবে প্রতিজ্ঞা করেছে যে ঈশ্বরের যোদ্ধারা  শহীদদের স্বর্গে প্রবেশ করবে সরাসরি। স্যাম হ্যারিস, প্রায়ই ঠিক নিশানা বরাবর যিনি আঘাত করে থাকেন, তার The End of Faith  বইয়ে লিখেছিলেন:

 ধর্মীয় বিশ্বাসের বিপদ হচ্ছে যে এটি খুব সাধারন কোন মানুষকে এর উন্মত্ততার সুফল ভোগ করার সুযোগ করে দেয় এবং তাদেরকে মনে করা হয় পবিত্র; কারন প্রতিটি নতুন প্রজন্মর শিশুদের শেখানো হয় ধর্মীয় মতবাদ আর প্রস্তাবনার যৌক্তিকতা প্রমানের কোন প্রয়োজন পড়ে না, যেভাবে আমরা অন্য সব প্রস্তাবনার জন্য আবশ্যিকভাবে যৌক্তিকতা খুজি; মানব সভ্যতা এখনও সম্পুর্ণ যুক্তিহীনদের যোদ্ধা দ্বারা অবরুদ্ধ হয়ে আছে; আমরা এমনকি এখনও আমাদের হত্যা করছি, প্রাচীন এক সাহিত্যের জন্য; কে ভেবেছিল এরকম দু:খজনউদ্ভট কোন কিছু সম্ভব হতে পারে?

আর এর ব্যতিক্রম, কেনই বা একজন যুদ্ধে যাবে অনুপস্থিত কোন একটি বিশ্বাসের জন্য?

image18
ব্রাড হল্যান্ড একটি ড্রইং

_________________________ সপ্তম অধ্যায় সমাপ্ত

 

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : সপ্তম অধ্যায় (শেষ পর্ব)

2 thoughts on “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : সপ্তম অধ্যায় (শেষ পর্ব)

    1. পুরোটাই করবো.আসলে শেষও প্রায়. ব্যস্ততার কারনে পিছিয়ে যাচ্ছি. এডিট আর বাকী নিজস্ব কিছু অংশ যোগ করার লোভ সামলাতে না পারার কারণে. :); অনেক ধন্যবাদ.. আরো কিছুটা স্ট্রিমলাইনড করে এডিট করতে হবে প্রকাশনার জন্য, আশা করছি প্রকাশ করতে পারবো।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s