রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : সপ্তম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

images (1)
ছবি সুত্র: ইন্টারনেট

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন :  সপ্তম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The God Delusion by Richard Dawkins

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায়
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) , চতুর্থ অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) ,
চতুর্থ অধ্যায় ( তৃতীয় পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( চতুর্থ পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
 পঞ্চম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)পঞ্চম অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) , পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ,  পঞ্চম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব) ,পঞ্চম অধ্যায় (ষষ্ঠ পর্ব)
ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; ষষ্ঠ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)
সপ্তম অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; সপ্তম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

‘পবিত্র’ গ্রন্থ এবং যুগের সাথে বদলে যাওয়া নৈতিকতার জাইটগাইষ্ট বা যুগধর্ম 

তোমার প্রতিবেশীকে ভালোবাসো বা LOVE THY NEIGHBOUR

জন হারটাঙ (John Hartung) এর খানিকটা তীর্যক রসিকতা তার রচনাটির শুরু থেকেই দৃশ্যমান, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিনাঞ্চলের ‌ একটি ব্যাপটিষ্ট উদ্যোগের কথা বলেছিলেন, যারা নরকে কয়জন অ্যালাবামাবাসী আছে তার সংখ্যা গোনার চেষ্ঠা করছিল; নিউ ইয়র্ক টাইমস আর নিউজডে দৈনিকে এর রিপোর্ট বলছে, এই সংখ্যা প্রায় ১.৮৬ মিলিয়ন হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে একটি গোপন পদ্ধতি অনুসারে, যেমন মেথডিষ্টরা রোমান ক্যাথলিকদেন চেয়ে বেশী সম্ভাবনা আছে নরক থেকে ত্রান লাভ করার এমন একটি প্রাকধারণা ছিল, অন্যদিকে মুলত সবাই, যারা কোন চার্চের সাথে যুক্ত না, তাদের নরকে যাওয়া ছাড়া বাচার কোন উপায় রাখেননি তারা।এইসব মানুষগুলো এই অত্যধিক আত্মতৃপ্তি আজ প্রতিফলিত হয় রাপচার নামের বিভিন্ন ওয়েব সাইটগুলোয়;  যেখানে লেখক সবসময়ই  পুরোপুরি নিশ্চিৎভাবে ধরে নিয়েছেন, যখন ”শেষ সেই সময়” আসবে, তিনি স্বর্গে ”অদৃশ্য” হওয়া মানুষেদের একজন হবেন; ‘Rapture Ready’ র লেখকের লেখা থেকে একটি বৈশিষ্টমুলক উদহারন, এই ধারার  অন্যতম কদর্য ছলধার্মিক নমুনা: “যদি রাপচার এর ঘটনাটি ঘটে, যা আমার অনুপস্থিতির কারন হবে, তাহলে ট্রিবুলেশন সেইন্টদের (Tribulation saints) দ্বায়িত্ব নিতে হতে হবে এই সাইটির একটি মিরর সাইট বা এই সাইটটি আর্থিক সহায়তা করার জন্য ( আপনি হয়তো জানেন না এই বাক্যে ‘tribulation saints’ এর অর্থ কি, এটা নিয়ে চিন্তা করার কোন কারন নেই, আপনার অনেক ভালো কিছু করার আছে এর বদলে);

হারটাঙ  এর বাইবেল ব্যাখ্যা প্রস্তাব করছে যে, বইটি খৃষ্টানদের মধ্যে কোন এধরনের অতিরিক্ত আত্মতৃপ্তির সুযোগ রাখেনি; জীসাস তার এই অন্ত – গ্রুপ সদস্যরা, যাদের রাপচারের মাধ্যমে রক্ষা করা হবে, তা শুধু কঠোরভাবে ইহুদীদের মধ্যেই সীমাব্দ্ধ, যেক্ষেত্রে তিনি ওল্ড টেষ্টামেন্ট এর ঐতিহ্যকে অনুসরন করছিলেন, এর বাইরে তার কিছু জানাও ছিলনা তখন;  হারটাঙ স্পষ্টভাবে দেখান যে, “তুমি হত্যা করবে না” বা “Thou shalt not kill”, এই নির্দেশটির কখনোই সেই অর্থ ছিল না , এটির অর্থ আমাদের কাছে এখন যেমন; এর অর্থ হচ্ছে, খুব নির্দিষ্টভাবে, তোমরা কোন ইহুদী হত্যা করবে না বা Thou shalt not kill Jews; এবং ঐ সব কমান্ডমেন্ট বা নির্দেশগুলো যা আপনার প্রতিবেশী (thy neighbour) বিষয়টির উল্লেখ করেছে, তারাও সমভাবে সুনির্দিষ্ট , এই ”প্রতিবেশী’ মানে আরেকজন ইহুদী; মোজেস মাইমোনাইডস (Moses Maimonides), অত্যন্ত সন্মানিত দ্বাদশ শতকের একজন র‌্যাবাই এবং ডাক্তার, এর বিষদ ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন এভাবে, ”কাউকে হত্যা করবে না”  র অর্থ হচ্ছে  : ’যদি কেউ একজন  ইসরায়েলাইটকে হত্যা করে, সে ধর্মগ্রন্থর নিষিদ্ধ নির্দেশগুলোর প্রতি নেতিবাচক আচরণ বা অমান্য করে; কারন ধর্মগ্রন্হ বলছে , তোমরা হত্যা করবে না, যদি কেউ ইচ্ছামুলকভাবে কোন স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে কাউকে হত্যা করে, তাকে তরবারী দিয়ে শিরোচ্ছেদ করে শাস্তি দেয়া হবে; মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন যে কোন অবিশ্বাসীকে হত্যা করার জন্য কাউকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে না;” মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন বা বলার অপেক্ষা রাখে না !!

হারটাঙ সানহেড্রিন(Sunhedrin) ( ইহুদী সুপ্রীম কোর্ট, যা উচু পদমর্যাদার যাজকদের সমন্বয়ে গঠিত;) এর কিছু উদ্ধৃতি উল্লেখ করেন যা একই ধরনের অপরাধে এমন কাউকে দায়মুক্ত করে, হাইথেটিকালী ভুলক্রমে যখন কেউ কোন পশু বা অবিশ্বাসীকে খুন করতে গিয়ে কোন ইসরায়েলাইট  হত্যা করে বসে, এই বিদ্রুপাত্মক নৈতিকতার ধাধা একটি ভালো বিষয়েরও অবতারণা করেন; কি হবে যদি সে এমন একটি পাথর ছুড়ে মারে নয়জন অবিশ্বাসী আর একজন ইসরায়েলাইট একটি গ্রুপের দিকে  এবং দুর্ভাগ্যক্রমে যদি ইসরায়েলাইটই তাতে হত হয়? হুম, কঠিন! কিন্তু উত্তরও প্রস্তুত, তার দায়মুক্ততার ব্যপারটা নিশ্চিৎ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে তথ্যটি থেকে, যা বলছে অধিকাংশ অবিশ্বাসী ছিল সেখানে;

হারটাঙ অনেকগুলো একই বাইবেলের কোটেশন ব্যবহার করেছিলেন, যা এই অধ্যায়ে আমি ব্যবহার করেছি; মোজেস, জশুয়া এবং জাজেসদের প্রতিশ্রুত ভুমি বিজয় সম্পর্কে, ব্যাপারে; আমি সতর্কতার সাথে স্বীকার করে নিয়েছি, যে ধার্মিক মানুষগুলো বাইবেলের মত একইভাবে চিন্তা করেনা,; আমার কাছে এই বিষয়টি প্রতীয়মান করছে যে, আমাদের নৈতিকতাগুলো, আমরা ধার্মিক হই বা না হই, এসেছে ভিন্ন উৎস থেকে; এবং সেই অন্য উৎস, সেটা যাই হোক না কেন, আমাদের সবার জন্য যা উন্মুক্ত, ধর্ম বা ধর্মহীনতা কোন ব্যপারই সেখানে প্রভাব ফেলে না; কিন্তু হারটাঙ একজন ইসরায়েলি মনোবিজ্ঞানী জর্জ টামারিন (George Tamarin) এর একটি ভয়ঙ্কর গবেষনার কথা উল্লেখ করেছিলেন; গবেষনাটিতে টামারিন সহস্রাধিক ইসরায়েলী স্কুলের  আট থেকে চৌদ্দ বছর বয়ষ্ক শিশুদের সামনে বুক অব জশুয়ায় (Book of Joshua) বর্নিত জেরিকোর যুদ্ধের (Battle of Jericho) বর্ণনা তুলে ধরেন:

জশুয়া তার অনুগত মানুষদের বলেন, ’চিৎকার করে বলো, মহান প্রভু ঈশ্বর তোমাদেরকে এই শহর প্রদান করেছেন এবং এই শহর ও তার মধ্যে সব কিছু ঈশ্বরের প্রতি বিসর্জনের লক্ষ্যে ধ্বংশ করা হবে… কিন্তু সব রৌপ্য এবং স্বর্ণ এবং ব্রোন্জের পাত্র ও লোহা মহান প্রভুর কাছে পবিত্র, সেগুলো মহান প্রভুর ধনভান্ডারে যোগ করা হবে……;’ এরপর তারা পুরোপুরি ভাবে শহরটির সবকিছু ধ্বংশ করে, পুরুষ, নারীদের উভয়ই ..তরুনদের আর বয়োবৃদ্ধদের, পালিত ষাড়, ভেড়া, গাধাদের সবকিছুই ধ্বংশ করা হলো তলোয়ারের ধারালো আঘাতে; পুরো শহরটাকে তারা আগুন দিয়ে প্রজ্জ্বলিত করে, পুড়িয়ে দেয় এর মধ্যে যা ছিল সব কিছু,  শুধুমাত্র রৌপ্য, সোনা এবং ব্রোন্জ আর লোহার পাত্রগুলো ছাড়া , যা তারা ঈশ্বরের ধণভান্ডারে জমা করে;

এরপর তামারিন শিশুদেরএকটি সাধারন নৈতিকতার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন: ’তোমরা কি মনে করো যে, জশুয়া আর ইসরায়েলাইটরা কি কাজটা ঠিক করেছিল? উত্তর হিসাবে পছন্দ করার তাদের সুযোগ দেয়া হয়েছিল তিনটির যে কোন একটি : এ ( পুরো সম্মতি), বি ( আংশিক সম্মতি) এবং সি( পুরোপুরি অসম্মতি); এই সার্ভের ফলাফলে ছিল স্পষ্ট মেরুকরণের চিহ্ন: শতকরা ৬৬ ভাগ পুরো সম্মতির পক্ষে,২৬ ভাগ পুরো অসম্মতির পক্ষে এবং বরং কিছু কম প্রায় শতকরা ৮ শতাংশর  অবস্থান মধ্যম, আংশিক সম্মতির স্বপক্ষে; এখানে প্রথম গ্রুপ, পুরো সম্মতির স্বপক্ষে উল্লেখ করা তিনটি টিপিকাল উত্তর দেয়া হলো:

 আমার মতে জশুয়া এবং ইসরায়েলের সন্তানরা সঠিক আচরণ করেছিল, এবং এর কারন হচ্ছে: ঈশ্বর তাদের এই ভুমি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং তাদের অনুমতি দিয়েছেন এই দেশটি জয় করবার , তারা যদি সেভাবে কাজ না করতো বা কাউকে হত্যা না করতো, তাহলে বিপদের সম্ভাবনা রয়ে যেত ইসরায়েলের সন্তানদের গয়িম (Goyim) এর সাথে মিশে যাওয়ার;

আমার মতে জশুয়া ঠিক কাজই করেছিলেন, একটি কারন হচ্ছে ঈশ্বর নিজেই তাকেই নির্দেশ দিয়েছেন সব মানুষকে নিশ্চিহ্ন করতে যাতে, যেন ইসরায়েল এর অন্য গোত্ররা তাদের সাথে না মিশে যেতে পারে এবং তাদের খারাপ জীবনাচরণ না শিখতে পারে;

জশুয়া ভালো কাজ করেছিলেন কারন যে মানুষরা এই দেশে বাস করতো তাদের ধর্ম ছিল ভিন্ন এবং যখন জশুয়া তাদের হত্যা করে, সে তাদের ধর্মকে পৃথিবী থেকে মুছে দেয়;

জশুয়ার  গনহত্যার স্বপক্ষে এ ধরনের যুক্তি  প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধর্মীয় প্রকৃতির ; এমনকি যাদের উত্তর ’সি’, অর্থাৎ পুরোপুরি অসম্মতির কথা বলেছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা ধর্মের বিষয়টির হালকা ভাবে এনেছে; একটি শিশু যেমন জশুয়ার জেরিকো বিজয়ে এ অসম্মতি দিয়েছে, কারন তার মতে এটা করতে হলে তাকে জেরিকোতে তাকে ঢুকতে হবে:

আমি মনে করি কাজটা খারাপ হয়েছিল, যেহেতু আরবরা অপবিত্র, সুতরাং কেউ যদি সেই অপবিত্র ভুমিতে প্রবেশ করে, সে নিজেও অপবিত্র হয়ে যাবে এবং তাদের উপর বিদ্যমান অভিশাপেরও ভাগীদার হবে সে;

আরো দুজন যারা পুরোপুরি অসম্মতি জানিয়েছিল, তাদের কারন হচ্ছে, জশুয়া সবকিছু ধ্বংশ করেছিল, সম্পত্তি এবং গবাদীপশু সহ,  সেই সম্পদ ইসরায়েলাইটদের জন্য কিছুই  তিনি রাখেননি;

 আমি মনে করি জশুয়া ঠিক কাজ করেননি,তারা কিছু গবাদী পশু ধ্বংশ না করে নিজেদের জন্য রাখতে পারতেন ;

আমি মনে করি জশুয়া ঠিক কাজটি করেননি, তিনি জেরিকোর সম্পদ বিনষ্ট না করতে পারতেন  কারন তিনি যদি সম্পদ ধ্বংশ না করতেন সেগুলো  ইসারায়েলের সন্তানদেরই হতো;

আবারো, সাধু মাইমোনাইডেস, প্রায়শই জ্ঞানের পান্ডিত্যর জন্য যার উদ্ধৃতি হিসাবে ব্যবহৃত হয়, কোন সন্দেহ নেই এই বিষয়ে তার অবস্থান কি ছিল; ’সাত জাতিকে ধ্বংশ করার জন্য এটি হ্যা বাচক নির্দেশ ছিল, যেমনটি এটি নির্দেশ করেছে : তোমরা তাদের পুরোপুরি ধ্বংশ করব ‘, কেউ যদি তাদেরকে হত্যা না করে যখন সে পারে, তাহলে সে সরাসরি নির্দেশটি অমান্য করে, যেমন বলা হয়েছে: তোমরা এমন কিছুকে জীবিত রক্ষা করবে না যারা শ্বাস নেয়;

মাইমোনাইডেস এর ব্যতিক্রম তামারিন এর পরীক্ষার সেই শিশুরা সবারই যথেষ্ট বয়স কম, নিষ্পাপ, সম্ভবত সে বন্য মনোভাব তারা প্রকাশ করছে, তা সম্ভবত তাদের পিতামাতার বা সেই সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর চিন্তাধারার প্রভাব, যেখানে তারা প্রতিপালিত হচ্ছে;  আমার মনে হয়, প্যালেস্টাইনীয় শিশুদের ক্ষেত্রেও, যারা যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশে বসবাস করছে, তারাও সম্ভবত বীপরিত অভিমুখী ও একই মতামত দিতে পারে;  এই বিবেচনাগুলোয় আমাকে হতাশাগ্রস্থ করে তোলে; বিষয়টি ধর্মের বিশাল শক্তিকে প্রদর্শন করছে বলেই অনুভুত হয় আমার কাছে এবং বিশেষ করে ধর্মীয় পরিমন্ডলে বেড়ে ওঠা শিশুদের ক্ষেত্রে, তাদের মধ্যে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ এবং ঐতিহাসিক শত্রুতা এবং বংশগতভাবে জীঘাংসাকে লালন করার বিশেষ প্রক্রিয়াটিতে; আমি বাধ্য হচ্ছি মন্তব্য করতে যে,তামারিন এর গবেষনায়  উত্তর গ্রুপ এ’র  প্রতি তিন জন উত্তরদাতার দুজনই মন্তব্য করেছে জাতিগত মিশ্রনের অশুভ প্রতিক্রিয়ার কথা, অপরদিকে তৃতীয় মন্তব্যটি জোর দিয়েছে কোন ধর্মকে নিশ্চিহ্ন করতে সেই ধর্মর মানুষ হত্যার গুরুত্বর উপর;

তামারিন তার এক্সপেরিমেন্ট এ একটি বিস্ময়কর কন্ট্রোল গ্রুপও পরিচালনা করেন, ভিন্ন ১৬৮ জন ইসরায়েলী শিশুদের একটি গ্রুপকে বুক অব জশুয়া থেকে একই অংশ পড়তে দেয়া হয় , তবে যেখানে জশুয়ার নামের বদলে নাম দেয়া হয় জেনারেল লিন এবং ইসরায়েল এর বদলে সেখানে লেখা হয়া প্রায় ৩০০০ বছর আগের কোন চীনা রাজ্যর নাম; এবার এই এক্সপেরিমেন্টের ফলাফল হলো বীপরিত, মাত্র ৭ শতাংশ সম্মতি দিল জেনারেল লিন এর আচরনের সাথে, অপরদিকে ৭৫ শতাংশই দ্বিমত পোষন করে জেনারেল লিন এর এই কাজের সঠিকতা নিয়ে; অন্যার্থে যখনই তাদের আনুগত্য জুডাইজম থেকে সরিয়ে রাখা হয় এই হিসাব থেকে, বেশীর ভাগ শিশুই একমত হয় আধুনিক মানুষ যে নৈতিকতার বিচার সম্বন্ধে ধারনা পোষন করে তার সাথে; জশুয়ার সেই কর্মটি একটি বর্বরোচিত গনহত্যা ছাড়া আর কিছু নয়; কিন্তু কোন নির্দিষ্ট ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গী থেকে এটি সম্পুর্ণ ভিন্ন অনুভুত হয়;  আর এই বৈষম্যটা শুরু হয় জীবনের শুরু থেকে; ধর্মই মুল বিভাজন সৃষ্টিকারী এখানে শিশুদের এই গনহত্যাকে নিন্দা করা আর সমর্থন করার মধ্যে;

হারটাঙ এর পেপারের বাকী অংশে, তিনি নিউ টেষ্টামেন্ট নিয়ে আলোচনা করেন, তার মুল বক্তব্যর একটি সংক্ষিপ্ত রুপ এভাবে দেয়া যেতে পারে : জীসাসও সেই একই অন্ত- গ্রুপ নৈতিকতার অনুসারী, যার সাথে যুক্ত গ্রুপ বহির্ভুতদের প্রতি শত্রুভাবাপন্নতা;  যে বিষয়টি ওল্ড টেষ্টামেন্ট এ স্বাভাবিক নিয়ম হিসাবে ধরা হয়েছে; জীসাস একজন অনুগত ইহুদী ছিলেন; পলই হচ্ছে সেই ব্যক্তি যিনি আবিষ্কার করেছেন কিভাবে ইহুদী ঈশ্বরের ধারনাটি ইহুদী নয় এমন জনগোষ্ঠীর কাছে নিয়ে যাওয়া যায়; হারটাঙ কোন রাখঢাক না করেই আমার চেয়ে সাহসী উচ্চারণ করেছেন,” জীসাস তার কবরে নাড়া চড়া করে উঠতেন যদি তিনি জানতেন যে পল তার পরিকল্পনাটা কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন;”

বুক অব রিভিলেশন (Book of revealation) নিয়ে হারটাঙ বেশ মজা করেছেন, যা নিসন্দেহে বাইবেল এর সবচেয়ে আজব বই; বলা হয় বইটি লিখেছেন সেন্ট জন এবং   Ken’s Guide to the Bible সুন্দরভাবে যা বলেছেন; যদি তার এপিস্টল কে দেখা যায় জন গাজা খেয়েছেন, তাহলে রিভিলেশনে হবে জন পুরো অ্যাসিড বা এল এস ডির উপরে ছিলেন; হারটাঙ দুটো ভার্সে ( রিভিলেশন), যেখানে পরিত্রান (sealed) পাওয়া মানুষের সংখ্যা ( যা অন্য কিছু সেক্ট যেমন জীহোভাস উইটনেস , যাদের কাছে এই  sealed   শব্দটি হচ্ছে উদ্ধারপ্রাপ্ত )  সীমাবদ্ধ ১৪৪,০০০ এ; হারটাঙ এর বক্তব্য হলো তাদের সবাইকে  ইহুদী হতে হবে, ১২ টি গোত্রের প্রতিটি গোত্র থেকে ১২,০০০; কেন স্মিথ আরো খানিকটা গভীরে ব্যাখ্যা করে উল্লেখ করেন যে, ১৪৪,০০০ নির্বাচিত মানুষ হবে তারা যারা তাদেরকে কোন রমনীর সংসর্গে এসে নিজেদের দুষিত করেননি; যার সম্ভবত অর্থ হতে পারে, এদের কেউ নারী হতে পারবে না, বেশ, এমন কিছু আমাদের প্রত্যাশা করতে শিখেছি;

হারটাঙ এর পেপারে আরো অনেক কিছু আছে, আমি শুধু আরো একবার  এটি পড়ার জন্য প্রস্তাব দিব; এবং উদ্ধৃতির মধ্যে পুরো ব্যাপারটির সার সংক্ষেপ করবো:

 বাইবেল হচ্ছে অন্ত বা ইন গ্রুপ নৈতিকতার একটি নীলনকশা, গনহত্যার, অন্য গ্রোত্রের মানুষদের দাস হিসাবে বন্দী করার  এবং পৃথিবীতে প্রাধান্য বিস্তার করার সব নির্দেশ সহ; বাইবেল কিন্তু অশুভ না এর উদ্দেশ্যর কারনে বা খুন হত্যা, নিষ্ঠুরতা এবং ধর্ষনকে গৌরবমন্ডিত করার অপরাধের জন্য, বহু প্রাচীন কাহিনীও ঠিক একই কাজ করেছে, যেমন, ইলিয়াড, অ্যাইসল্যান্ডের সেই গাথা, প্রাচীন সিরিয়াবাসীদের কাহিনী এবং প্রাচীন মায়াদের খোদাই করে রাখা ইতিহাস; কিন্তু কেউই ইলিয়াডকে বিক্রি করার চেষ্টা করছে না নৈতিকতার ভিত্তি হিসাবে, এবং সমস্যাটা সেখানেই; বাইবেল বিক্রি এবং কেনা হয় একটি গাইড হিসাবে, কেমন করে মানুষ তাদের জীবন কাটাবে সেই নির্দেশ সম্বলিত একটি বই হিসাবে; এবং এটি সারা বিশ্বে আপাতত সবচেয়ে বেশী বিক্রিত একটি বই, বেস্ট সেলার;

যদি কেউ ভাবেন যে ঐতিহ্যবাহী জুডাইজমে শুধু নিজস্ব অন্ত গোত্র সংকীর্ণতা আছে, তাহলে আইজাক ওয়াটস (১৬৭৪ -১৭৪৮) এর লেখা একটি   হিম বা প্রার্থনা সঙ্গীত  লক্ষা করা যাক:

Lord, I ascribe it to Thy Grace,
And not to chance, as others do,
That I was born of Christian Race
And not a Heathen or a Jew

আমাকে যা বিস্মিত করে এই অংশটিতে শুধু এক্সক্লুসিভনেস বা নিজেদের অনন্যতার যে দাবী করা হয়েছে সেটা নয় বরং এর যুক্তিটা; যেহেতু অসংখ্য মানুষ খৃষ্টান ছাড়াও আরো অনেক ধর্মে জন্মগ্রহন করেছেন, তাহলে কিভাবে ঈশ্বর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভবিষ্যতে কোন মানুষগুলোর বিশেষভাবে তার পছন্দের ধর্মে জন্ম হবে? কেন আইজাক ওয়াট বা সেই মানুষগুলো. যাদের তিনি কল্পনা করেছেন তার স্তবসঙ্গীত গাইছে, তাদের কেন বিশেষ খাতির করা হবে? যাই হোক না কেন, আইজাক ওয়াট এর মাতৃগর্ভে ভ্রুণ হিসাবে যাত্রা শুরু করার আগে, সত্ত্বার আসলে কি প্রকৃতি থাকতে হবে যা ‍তার বিশেষ সুনজর পেতে পারে? গভীরতম বিষয়তো বটে তবে অবশ্যই অসীম গভীর নয়, বিশেষ করে যে মন ধর্মতত্ত্বের চিন্তায় অভ্যস্থ তাদের কাছে; আইজাক ওয়াট এর এই স্তব সঙ্গীত মনে করিয়ে দেয় গোড়া  এবং রক্ষনশীল ( কিন্তু সংস্কার হয়েছে বা রিফর্মড নয়) পুরুষ ইহুদীরা যা আবৃত্তি করার জন্য শেখেন, তাদের তিনটি দৈনন্দিন প্রার্থনার সময় পড়ার জন্য; ’আপনার অসীম করুণা ,আমাকে ইহুদী ছাড়া আর কিছু না বানানোর জন্য. আপনার অসীম করুনা আমাকে রমনী বানাননি, অনেক কৃতজ্ঞতা আপনি আমাকে ক্রিতদাস বানাননি;”

ধর্ম নি:সন্দেহে বিভাজন সৃষ্টিকারী একটি শক্তি এবং এর বিরুদ্ধে এটি অন্যতম প্রধান অভিযোগ; কিন্তু প্রায়ই এবং সঠিকভাবেই বলা হয়, ধর্মীয় বিভিন্ন গোষ্ঠীর কিংবা উপগোষ্ঠীর মধ্যে যে যুদ্ধ এবং দ্বন্দ, সেগুলো কিন্তু খুব সময়ই বা কদাচিৎ আসলে ধর্মতাত্ত্বিক মতানৈক্য থেকে সৃষ্টি হয়; যখন ‍উত্তর আয়ারল্যান্ডে উলস্টার প্রোটেষ্টান্ট প্যারামিলিটারী মিলিশিয়া সদস্য কোন ক্যাথলিককে হত্যা করে, সে কিন্তু সগোতক্তি করে না, নে এটাই তোর প্রাপ্য, ট্রান্সসাবস্টানশিয়ানিষ্ট ( ক্যাথলিক মাসের সময় রুটি এবং মদ জীসাসের শরীর ও রক্তে রুপান্তর হবার মতবাদ বিশ্বাসী), মারিওল্যাটরাস ( জীসাসের কমারী মা মেরীর প্রতি অতি ভক্তি প্রকাশ বা পুজা করা), ধুপ এর গন্ধ ছড়ানো বেজন্মা!‘, কারন খুব সম্ভবত সে অন্য কোন ক্যাথলিকের হাতে নিহত হওয়া অন্য কোন প্রটেষ্ট্যান্ট এর খুনের বদলা নিচ্ছে, কয়েক প্রজন্ম ধরে বিদ্যমান থাকা সহিংস জীঘাংসার কারনে; – ধর্ম কেবল একটি লেবেল বা তকমা এখানে, অন্ত গ্রুপ/বহি গ্রুপ এর মধ্যকার শত্রুতা ও প্রতিশোধ স্পৃহার মানসিকতার, যা অন্য কোন লেবেল এর চেয়ে বেশী খারাপ হতে হবে এমন আবশ্যিকতা নেই যদিও, যেমন গায়ের চামড়ার রং, ভাষা বা পছন্দের ফুটবল দল এবং যখন অন্য কোন লেবেল থাকে না তখন ধর্মর লেবেল সেই শুন্য স্থানটি পুরণ করে;

অবশ্যই উত্তর আয়ারল্যান্ডের সমস্যা রাজনৈতিক, একটি গ্রুপের অন্য গ্রুপকে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে শোষন সেখানে সত্যিকারের বাস্তবতা বহু শতাব্দীব্যাপী ; যেখানে দীর্ঘদিনের অবিচারের প্রতি সত্যিকারের ক্ষোভের অস্তিত্ব আছে, যা মনে হয় ধর্মর সাথে খুব সামান্যই সম্পর্কযুক্ত; শুধু মাত্র সেটা গুরুত্বপুর্ণ এবং সর্বস্তরে বিষয়টিকে উপেক্ষা করা হয়েছে; কারন ধর্ম ছাড়া কোন লেবেল ই সেখানে ছিল না, যেটা দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় কাকে নীপিড়ন করতে হবে এবং কার উপর সেই নিপীড়নের পাল্টা প্রতিশোধ নিতে হবে; এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে সত্যিকারের সমস্যা হচ্ছে এই লেবেলটি উত্তরাধিকার সুত্রে বহু প্রজন্ম প্রজেন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বহন করে চলেছে, ক্যাথলিকরা, যাদের পিতামাতা, প্রপিতামহ এবং প্রপ্রপিতামহ ক্যাথলিক স্কুলে যাতায়াত করেছেন, তারা তাদের সন্তানদেরও ক্যাথলিক স্কুলে পাঠিয়েছেন, প্রোটেষ্ট্যান্ট, যার পিতামাতা, প্রপিতামহ এবং প্রপ্রপিতামহ যেমন গিয়েছিলেন প্রোটেষ্ট্যান্ট স্কুলে , তাদের অনুসরণ করে তাদের সন্তানরাও প্রোটেষ্ট্যান্ট স্কুলে যাতায়াত করেছে; এই দুই সেট মানুষ, যাদের একই চামড়ার রঙ, একই ভাষা,একই জিনিসের প্রতি আগ্রহ, কিন্তু তার আসলে যেন দুটি ভিন্ন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত, এত গভীর তাদের ঐতিহাসিক বিভাজন; এবং ধর্ম ছাড়া, বা ধর্মীয় পৃথকীকৃত শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া, সেখানে সেই পার্থক্যটাই থাকার কথা না; কসোভো থেকে প্যালেস্টাইন, ইরাক থেকে সুদান, উলস্টার থেকে ভারতীয় উপমহাদেশ, ভালো করে যেকোন জায়গায় খেয়াল করুন, আপনি দেখতে পাবেন প্রতিদ্বন্দী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিদ্যমান অমিমাংসাযোগ্য শত্রুতা এবং হিংস্র আক্রমনাত্মক সংঘর্ষ;  আমি গ্যারান্টি দিতে পারবো না, যে আপনি ধর্মকে প্রধান লেবেল হিসাবে পাবেন অন্ত আর বহি গ্রুপের মধ্যে পার্থক্যসুচক হিসাবে; তবে আত্মবিশ্বাসের সাথে বাজী রাখার মতই নিশ্চিৎ ভাবে বলা সম্ভব;

ভারতে, দেশভাগের সময়, এক মিলিয়নের বেশী মানুষ গনহত্যার স্বীকার হয়েছিলেন, হিন্দু মসুলমান ধর্মীয় দাঙ্গায় (এবং প্রায় ১৫ মিলিয়ন মানুষ গৃহচ্যুত হয়েছিলে); ধর্ম ছাড়া আর কোন চিহ্ন নেই ‍তাদের শনাক্ত করার জন্য, যা দিয়ে কাউকে চিহ্নিত করা যায়, কাকে হত্যা করতে হবে; অবশেষে ধর্ম ছাড়া তাদের মধ্যে পার্থক্য করার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট থাকেনি; সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এমন একটি ধর্মীয় গনহত্যার প্রতিক্রিয়া বিচলিত হয়ে সালমান রুশদীন একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন, ‘Religion, as ever, is the poison in India’s blood’ শিরোনামে, তার শেষ অনুচ্ছেদটি এখানে উল্লেখ করছি:

এইসব কিছুকে বা এই সব অপরাধ যা সারা পৃথিবীতে ধর্মের ভয়ঙ্কর নামে প্রতিটি দিন সংঘটিত হচ্ছে, তাদের শ্রদ্ধা করার মত কি আছে? কত অনায়াসে, এবং কত ভয়াবহ পরিনতি সহ ধর্ম তাদের বিশ্বাস বা টোটেমকে স্থাপন করে এবং আমরাও কত বেশী উদগ্রীব থাকি তার জন্য হত্যা করতে; এবং আমরা যখন কাজটি যথেষ্ট পরিমান নিয়মিত করতে থাকি, এর ক্রমশ ক্ষীনতর হয়ে আসা প্রভাব আরো সহজ করে দেয় কাজগুলোর পুণরাবৃত্তি করতে;

সুতরাং ভারতে সমস্যা পরিণত হয়েছে পৃথিবীর সমস্যায়, ভারতে যা ঘটেছে তা ঘটেছে ঈশ্বরের নামে; এই সমস্যার নামই ঈশ্বর;

আমি অস্বীকার করছি না যে, অন্ত গ্রুপ ‍বা কোন গোষ্ঠীর অভ্যন্তরে অনুগাত্য এবং গোষ্ঠী বহির্ভুতদের প্রতি সহিংসতা প্রদর্শনে মানবতার শক্তিশালী প্রবণতা এমনকি ধর্ম ছাড়াও টিকে থাকবে; প্রতিদ্বন্দী ফুটবল টীমের সমর্থকরা এই বিষয়টির একটি জলজ্ব্যান্ত প্রমান হতে পারেন; এমনকি ফুটবল সমর্থকরাও ধর্মীয় ধারায় কখনো কখনো বিভক্ত হয়, যেমন গ্ল্যাসগো রেন্জারস এবং গ্ল্যাসগো সেল্টিকদের ক্ষেত্রে; ভাষা ( যেমন বেলজিয়ামে), রেইস বা বর্ণে এবং গোত্র ( বিশেষ করে আফ্রিকায়) বিভাজনের গুরুত্বপুর্ণ টোকেন হতে পারে; কিন্তু ধর্ম কমপক্ষে তিনটি উপায়ে তার সৃষ্ট ক্ষতিগুলোকে আরো ক্ষতিকর আর বাড়িয়ে তোলে ..

 ১ শিশুদের লেবেল বা চিহ্নিত করার মাধ্যমে, শিশুদের বর্ণনা করা হয়, ক্যাথলিক শিশু বা প্রটেষ্টান্ট শিশু ইত্যাদি, খুবই অল্প বয়স থেকে, এবং অবশ্য যথেষ্ট কম বয়স, যখন তারা ধর্ম সম্বন্ধে নিজেদের মন স্থির করার মত কোন ক্ষমতাই থাকে না ( আমি এই শিশু নির্যাতনের বিষয়টি আলোচনা করবো নবম অধ্যায়ে);

২ বিভাজিত স্কুল: শিশুদের শিক্ষা দেয়া শুরু হয় সাধারনত খুবই অল্প বয়স থেকে, ধর্মীয় গোষ্ঠী অভ্যন্তরের সদস্যদের দিয়ে এবং পৃথকভাবে অন্য শিশুদের থেকে, যাদের পরিবার হয়তো অন্য ধর্মর অনুসারী; মোটেও বাড়াবাড়ি হবে না  এাট বলা যে, উত্তর আয়ারল্যান্ডের সমস্যা একটি প্রজন্মেই শেষ হয়ে যেতে পারতো,, যদি পৃথক স্কুলিং বা শিক্ষা ব্যবস্থা যদি  অবলুপ্ত করা যেত;

৩ ‍’’গোষ্ঠী বহির্ভুত বিয়ের’ বিরুদ্ধে সামাজিক টাবু বা প্রতিষিদ্ধতা:  এটি বংশগতভাবে সংঘর্ষ এবং প্রতিশোধ স্পৃহাকে জিইয়ে রাখে দ্বন্দরত গ্রুপগুলোর মধ্যে মিশ্রনে বাধা সৃষ্টি করার মাধ্যমে; আন্তবর্ণ বিবাহ, যদি অনুমিত হতো, স্বাভাবিকভাবে এটি বিদ্যমান শত্রুতাকে কমিয়ে দিতো;

উত্তর আয়ারল্যান্ডে গ্লেনার্ম গ্রামে আনট্রিম আর্লদের মুল জমিদারী বা ক্ষমতার কেন্দ্র; আমাদের স্মরণকালের  স্মৃতিকেই একবার তৎকালীন আর্ল, একটি অভাবনীয় কাজ করে বসেন: তিনি একজন ক্যাথলিক রমনীকে বিয়ে করেছিলেন, সাথে সাথে গ্লেনার্ম এর ঘরে ঘরে শোকের চিহ্ন হিসাবে পর্দা নামিয়ে দেয়া হয়; অন্য ধর্মে বিয়ে করার ভয় ধার্মিক ইহুদীদের মধ্যেও প্রবল; বেশ কিছু ইসরায়েলী শিশু মন্তব্য করেছিল তামারিনের ইতিমধ্যে উল্লেখিত সার্ভেটিতে ( উপরের উদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে) যে জশুয়ার জেরিকো যুদ্ধর প্রতি তাদের সমর্থনে, প্রথমেই ভিন্ন জাতি গোষ্ঠী ধর্মের সংমিশ্রনের সমস্যা উল্লেখ করে; যখন ভিন্ন ধর্মের মানুষ বিয়ে করে, উভয় দিক থেকে এই ‘মিশ্র বিয়ে’ সম্বন্ধে আশঙ্কার কথা উচ্চারণ করা হয় এবং কখনো এই দীর্ঘ বিতর্ক হয় এই বিয়ের সন্তানরা কিভাবে প্রতিপালিত হবে সেই বিষয়ে; আমি যখন শিশু এবং অ্যাঙলিকান চার্চের আলো বহন করে বেড়াচ্ছি, আমার মনে আছে আমি হতবাক হয়েছিলাম, একটি নিয়মের কথা শুনে, যে যখন রোমান ক্যাথলিক কোন অ্যাঙলিকান কে বিয়ে করে, তাদের সন্তানদের সবসময় বড় করতে হবে ক্যাথলিক হিসাবে; আমি সহজে বুঝতে পারি কেন একজন যাজক, যে কোন গ্রুপের হোক না কেন, এই শর্ত আরোপের জন্য চাপ দেবেন, তবে আমি বুঝতে পারি না ( এখনও না) এই অসাম্যতাটা কেন?  অ্যাঙলিকান যাজকরা এর বিরুদ্ধে তাদের সমরুপী শর্ত জুড়ে দিয়ে পাল্টা জবাব দেন না কেন? খানিকটা কম নিষ্ঠুর, আমান যা মনে হয়, আমার পুরোনো চ্যাপলেইন এবং বেটইয়েমান (Betjeman) এর আওয়ার পাদ্রে (Our Padre) আসলে ‍অতি নীরিহ তুলনামুলকভাবে;

interracial-marriage-cartoon1
কার্টুন সুত্র: ইন্টারনেট

সমাজবিজ্ঞানীরা সার্ভে করে দেখেছেন ধর্মীয় হোমোগ্যামী (Homogamy বা এই ধর্মের কাউকে বিয়ে করা) এবং হেটেরোগ্যামী ( Heterogamy বা অন্য ধর্মের কাউকে বিয়ে করা) দুটি অবস্থাকে; ‌ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস, অস্টিন এর গবেষক নরভাল ডি গ্লেন (Norval D Glenn) ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বেশ ‍াকছু গবেষনাকে সংগ্রহ করে নতুন করে পর্যালোচনা করেন; এবং তার উপসংহার হলো ধর্মীয় হোমোগ্যামীর একটি উল্লেখযোগ্য প্রবণতা আছে খৃষ্ট ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে (প্রটেষ্টান্টরা বিয়ে করে প্রটেষ্ট্যান্টদের, ক্যাথলিকরা কাথলিকদের, যা সার্ভের ফলাফলে সাধারন boy next door ইফেক্টে পরিসংখ্যানগত দিক থেকেও অনেক বাড়তি) তবে হোমোগ্যামির সবচে বেশী হার দেখা যায় ইহুদীদের মধ্যে; সার্ভেটির বিবাহিত ৬২০১ জন উত্তরদাতাদের মধ্যে, ১৪০ জন ছিলেন যারা তাদের ইহুদী বলে পরিচিতি দেন, যাদের ৮৫.৭ শতাংশ বিয়ে করেছেন অন্য ইহুদী ধর্মাবলম্বী কাউকে; যা সম্ভাব্য প্রত্যাশিত করা হয় এমন স্বধর্মের বিয়ের হার থেকেও অনেক বেশী; অবশ্য কারো কাছে এটি আশ্চর্য জনক কিছু মনে হয়নি; কারন ধার্মিক ইহুদীদের অসবর্ণ বিয়ে করতে বিশেষভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়; এবং ট্যাবু বা প্রতিষিদ্ধ টি দেখা যায় ইহুদীদের কৌতুকে, যেখানে মায়ে রা তাদের ছেলেদের সাবধান করে দিচ্ছেন, সোনালী চুলের সুন্দরী নারীরা ফাদ পেতে অপেক্ষা করছে তাদের ধরতে; যুক্তরাষ্টের তিনজন রাবাই বা ইহুদী যাজকদের বৈশিষ্টমুলক মন্তব্য:

 আমি অসবর্ণ বিবাহ পরিচালনা করতে অস্বীকৃতি জানাই;

আমি পরিচালনা করি যদি দম্পতি সিদ্ধান্ত নেয় তারা তাদের সন্তানকে ইহুদী হিসাবে প্রতিপালন করবে;

আমি পরিচালনা করি যদি দম্পতি বিবাহপুর্ব পরামর্শ গ্রহন করতে রাজি হয়;

একজন খৃষ্ট যাজকের সাথে একই সাথে কোন বিয়ে পরিচালনা করার মত রাবাই খুবই দুষ্প্রাপ্য, এবং তার চাহিদা অনেক বেশী;

এমনকি ধর্ম যদি নিজে আর কোন ক্ষতিও না করে, এর স্বেচ্ছাচারী আর কৌশলে সাবধানতার সাথে গড়ে তোলা মানুষে মানুষে বিভাজন –নিজ গোষ্ঠীর সদস্যদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব আর গোষ্ঠী বহির্ভুতদের প্রতি প্রদর্শিত শত্রুভাবাপন্ন মনোভাবের প্রাকৃতিক আর স্বাভাবিক প্রবণতাকে পরিকল্পিত আর উদ্দেশ্যমুলকভাবে উস্কে দেয়াই যথেষ্ট এটিকে পৃথিবীতে একটি গুরুত্বপুর্ণ অশুভ শক্তি হিসাবে রুপান্তরিত করার জন্য;

__________________________ চলবে

 

 

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : সপ্তম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s