রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : সপ্তম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

gd
কার্টুন সুত্র

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন :  সপ্তম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The God Delusion by Richard Dawkins

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায়
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) , চতুর্থ অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) ,
চতুর্থ অধ্যায় ( তৃতীয় পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( চতুর্থ পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
 পঞ্চম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)পঞ্চম অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) , পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)
পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব) ,  পঞ্চম অধ্যায় (পঞ্চম পর্ব) ,পঞ্চম অধ্যায় (ষষ্ঠ পর্ব)
ষষ্ঠ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) ; ষষ্ঠ অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)ষষ্ঠ অধ্যায় (শেষ পর্ব)
সপ্তম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)

‘পবিত্র’ গ্রন্থ এবং যুগের সাথে বদলে যাওয়া নৈতিকতার জাইটগাইষ্ট বা যুগধর্ম

 

নিউ টেষ্টামেন্ট ওল্ড টেষ্টামেন্ট এর চেয়ে আদৌ  কি ভালো কিছু?

বেশ, অস্বীকার করার উপায় নেই, নৈতিকতার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে, ওল্ড টেষ্টামেন্ট এর নিষ্ঠুর মানবরুপী দৈত্যর তুলনায় জীসাস বিশাল বড়  উন্নতি; আসলেই জীসাস, যদি তার অস্তিত্ত্ব থেকে থাকে ( বা যিনি তার গ্রন্থ রচনা করেছে, তিনি যদি তা না করে থাকেন) নিশ্চয়ই ইতিহাসের অনত্যম সেরা নৈতিকতার সংস্কারক  ; তার সারমন অব দি মাউন্ট স্পষ্টতই সময়ের চেয়ে অনেক অগ্রসর, তার ’এক গালে মারলে আরেক গাল বাড়িয়ে দেয় ‘ মতবাদ এসেছে গান্ধী এবং মার্টিন লুথার কিং এর সেই মতবাদ গ্রহন করার দুই হাজার বছর আগে; কোন কারন ছাড়াই আমি কিন্তু সেই ‘Atheists for Jesus’ আর্টিকেলটি লিখিনি, ( এবং পরে বেশ আনন্দ পেয়েছিলাম, পরবর্তীতে এটি লেখা একটি টি শার্ট উপহার পেয়ে);

কিন্তু ঠিক জিসাসে নৈতিক শ্রেষ্ঠতাই আমার বক্তব্যটাকে অর্থবহ করে তোলে, তার প্রতিপালনের সময় শেখানো ধর্মগ্রন্থ থেকে জীসাস তার নৈতিকতার শিক্ষা গ্রহন করে সন্তুষ্ট ছিলেন না, তিনি প্রকাশ্যে সেখান থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছিলেন, যেমন যখন তিনি সাবাথের নিয়ম ভাঙ্গার কঠোর সর্তকতাকে গুরুত্বহীন করে দিয়েছিলেন: ‘মানুষের জন্য সাবাথ তৈরী হয়েছে, সাবাথের জন্য মানুষ নয়’ একটি জ্ঞানগম্ভীর প্রবাদ হিসাবে নানা ক্ষেত্রেই সাধারনীকৃত হয়ে ব্যবহৃত হয়েছে, যেহেতু এই অধ্যায়ে মুল বিষয়টি হচ্ছে ধর্মগ্রন্থ থেকে আমরা নৈতিকতা গ্রহন করি না এবং করা উচিৎও না, আর এই মুল থিসিসটির বিষয়ে কাজটি করে দেখানো জন্য জীসাস একটি মডেল হিসাবে সন্মানিত হতে পারেন।

জীসাসের পারিবারিক মুল্যবোধ, স্বীকার করতেই হবে যে, এমন কিছু ছিল না যে, কেউ সেটা গুরুত্ব দেবার ইচ্ছা পোষন করতে পারেন; তার মায়ের সাথে তার আচরনে ঘাটতি ছিল, প্রায় রুঢ় বলা যেতে পারে সে আচরণ, তিনি তার শিষ্যদের উৎসাহিত করেছিলেন তাদের পরিবার পরিজন পরিত্যাগ করে তাকে অনুসরণ করার জন্য: ‘যদি কেউ আমার কাছে আসে এবং সে তারা বাবা এবং মা, এবং স্ত্রী এবং সন্তান এবং ভাই এবং বোনদের, হ্যা, তার নিজের জীবনকেও ঘৃণা না করতে পারে, সে আমার শিষ্য হতে পারেনা;’ যুক্তরাষ্ট্রের কমেডিয়ান জুলিয়া সুইনী তার বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন তার Letting Go of God স্টেজ শোতে: ‘এমন কাজই কি কাল্টগুলো করে না? আপনাকে দিয়ে আপনার পরিবারকে পরিত্যাগ করায়, যেন তাদের দীক্ষা আপনাদের আরো ভিতরে দৃঢ়ভাবে ঢোকানো যায়?’

forbidden_fruit_654049
কার্টুন সুত্র

তার এই খানিকটা ঘোলাটে পারিবারিক মুল্যবোধ গুলো সত্ত্বেও জীসাসের নৈতিকতার শিক্ষা – যদি ওল্ড টেষ্টামেন্টের ভয়ঙ্কর নৈতিকতার বিপর্যস্ত অংশগুলোর সাথে তুলনা করা হয় – তাহলে প্রশংসার দাবীদার; কিন্তু নিউ টেষ্টামেন্টে আরো শিক্ষা আছে যা কোন ভালো মানুষের পক্ষে সমর্থন করা উচিৎ হবেনা। আমি এখানে বিশেষভাবে ইঙ্গিত করতে চাইছি খৃষ্টধর্মের একটি মুল মতবাদ বা ডকট্রিনের দিকে: সেটা হলো আদি বা অরিজিনাল পাপ (Original sin) এর প্রায়শ্চিত্ত; এই শিক্ষাটাই নিউ টেষ্টামেন্টের ধর্মতত্ত্বের ঠিক কেন্দ্রে অবস্থান করছে; এবং এটিও আব্রাহামের আইজাককে পুড়িয়ে মারতে যাবার ঘটনাটির মত নৈতিকভাবেই অসহ্যরকম আপত্তিকর, যার সাথে ঘটনাটির সাদৃশ্যও আছে এবং সেটা আকস্মিক না, যেমন গেজা ভেরমেস (Geza Vermes) তার The Changing Faces of Jesus  বইটি স্পষ্ট ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন; অরিজিনাল সিন বা আদি পাপের ধারনাটি সরাসরি এসেছে অ্যাডাম এবং ইভ ( আদম ও হাওয়া) এর ওল্ড টেষ্টামেন্টের সেই পুরাণ কাহিনী থেকে; তাদের পাপ – নিষিদ্ধ বৃক্ষ থেকে ফল খাওয়া, যথেষ্ট সামান্য একটা অপরাধ যার জন্য খানিকটা গালমন্দই এবং সতর্ক করে দেয়াই যথেষ্ট ছিল; কিন্তু ফলটি প্রতিকী রুপ (ভালো মন্দ পার্থক্য করার মত জ্ঞ্যান, তবে সেই ব্যবহারিক ক্ষেত্রে যা শুধুমাত্র সে জ্ঞানটিকেই ইঙ্গিত করেছিল যে, তারা দুজনেই নগ্ন) যথেষ্ট ছিল তাদের  এই নিষিদ্ধ ফলের বাগানে ফল চুরি করার অভিযানটিকে সকল পাপের জনক জননীতে রুপান্তরিত করার জন্য*; তারা দুজন এবং তাদের অনাগত সকল বংশধর স্বর্গের উদ্যান বা ইডেন থেকে চিরতরে বহিষ্কৃত হয়, চিরন্তন জীবনের আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়ে তাদের, আদম ও হাওয়ার শাস্তি হয় কষ্টকর পরিশ্রমের জীবনের, যথাক্রমে, ফসলের মাঠে এবং সন্তান প্রসবের সময়;

এপর্যন্ত, এতটাই প্রতিশোধপরায়ন, যা ওল্ড টেষ্টামেন্টর মতই চলছিল, তবে নিউ টেষ্টামেন্টে ধর্মতত্ত্ব আরেকটি  অবিচার নির্বিকারভাবে যুক্ত করে, যার উপরে চেপে বসে একটি নতুন ধর্ষমর্ষকামীতা, যার হিংস্র ভয়াবহতা এমনকি ওল্ড টেষ্টামেন্টও কোনমতে অতিক্রম করেছে; যখন আপনি ভাববেন, বিষয়টা লক্ষ্য করার মত যে, একটি ধর্ম নীপিড়নের আর হত্যার একটি উপকরণকে এর পবিত্রতার রুপক হিসাবে গ্রহন করা উচিৎ মনে করে, প্রায়ই যা গলায় ঝুলিয়ে রাখা হয়; লেনী ব্রুস সঠিকভাবেই মন্তব্য করেছিলেন, ”যদি জীসাসকে বিশ বছর আগে হত্যা করা হতো, তাহলে ক্যাথলিক স্কুলের ছেলে মেয়েরা গলায় ক্রসের বদলে ইলেক্ট্রিক চেয়ার ঝুলিয়ে রাখতো;” কিন্তু এর পেছনে ধর্মতত্ত্ব এবং শাস্তির তত্ত্বটি আরো খারাপ;  আদম হাওয়ার পাপ ধারনা করা হয় পুরুষ বংশধারার মাধ্যমে প্রজন্মান্তরে প্রবাহিত হয় – অগাষ্টিনের মতে পুরুষের বীর্যের মাধ্যমে এটি বংশগত ভাবে চলতে থাকে;  এটি কোন ধরনের নৈতিকতার দর্শন, যা সকল শিশুকে দন্ডায়িত করে, এমন তাদের জন্মের আগেও, দুর অতীতের কোন পুর্বপুরুষের পাপ বংশগতভাবে তাদের উপর অর্পিত হয়?  অগাষ্টিন, কিন্তু নিজেকে সঠিকভাবে তার নিজেকে পাপের ব্যপারে একজন ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ হিসাবে ভাবতেন, এবং অরিজিনাল সিন শব্দদ্বয়কে তিনি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন

তার আগে এই পাপটি পরিচিত ছিল ‘ancestral sin’ বা পুর্বপুরুষের পাপ নামে; অগাষ্টিনের যুক্তি তর্ক এবং নানা বক্তব্য আমার কাছে আদি খৃষ্ট ধর্মতত্ত্ববিদদের অতিমাত্রায় পাপ নিয়ে চিন্তা করার বিষয়টিকে প্রমান করে; তাদের সার্মনে বা ধর্মকথনে পাতার পর পাতা তারা ব্যায় করতে পারতেন,তারায় খচিত আকাশের বা পর্বতমালা এবং সবুজ বনভুমি বা ভোরের পাখিদের সমবেত সঙ্গীত বন্দনা করে; এসব কদাচিৎ উল্লেখ করেছেন তারা, কিন্তু খৃষ্টধর্মের মুল নিশানা অতিমাত্রায় পাপ পাপ পাপ পাপ পাপ পাপ পাপ; কি বাজে একটা চিন্তা যা কারো জীবনে প্রাধান্য বিস্তার করে থাকতে পারে; স্যাম হারিস(Sam Harris) দারুনভাবে তার Letter to a Christian Nation এ বিষয়টি ব্যবচ্ছেদ করেছেন এভাবে: ”আপনার প্রধান চিন্তা আপাতদৃষ্টে মনে হচ্ছে যে মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা অসন্তুষ্ট হবেন এমন কিছু কাজে… যা মানুষ করে যখন তারা নগ্ন‍াবস্থায় থাকে; আপনাদের এই অতি শিষ্টাচারপনা মানুষের কষ্টের অতিরিক্ত বোঝায় প্রতিনিয়ত যোগান দিচ্ছে;

কিন্তু এখন, স্যাডো ম্যাসোকিজম বা ধর্ষমর্ষকামীতা বিষয়টি দেখা যাক; ঈশ্বর নিজেকে পুণর্জন্ম দেন মানুষ, জীসাস হিসাবে;  তার উদ্দেশ্য, যেন তাকে নির্যাতন নীপিড়ন  এবং দন্ড দিয়ে হত্যা করা হয় আদমের সেই বংশগত পাপের প্রায়শ্চিত্তের জন্য; যখন থেকেই পল এই বীতস্পৃহা সৃষ্টি কারী মতবাদটি ব্যাখ্যা করেছেন, তখন থেকেই জীসাসকে উপাসনা করা হচ্ছে মানবজাতির সকল পাপের ত্রাণকর্তা হিসাবে; আদমের সেই অতীত পাপের জন্যই না, ভবিষ্যতের ঘটবে এমন সব পাপের জন্যও, ভবিষ্যতের মানুষ সেই পাপ করার সিদ্ধান্ত নিক বা না নিক !;

একটি ভিন্ন দিক, বহু মানুষের যা মনে হয়েছে যে, যাদের মধ্যে রবার্ট গ্রেভস ও তার মহাকাব্যিক উপাখ্যান King Jesus ও অন্তর্ভুক্ত, হতভাগ্য জুডাস ইসকারিওট ইতিহাসের অবিচারই শুধু পেয়ে এসেছেন, যখন তার বিশ্বাসঘাতকতা সৃষ্টিকর্তার মহাজাগতিক পরিকল্পনারই একটি প্রয়োজনীয় অংশ ছিল মাত্র; একই কথা বলা যাবে জীসাসের অভিযুক্ত হত্যাকারীদের ক্ষেত্রেও; যদি জীসাস নিজেই চান তিনি বিশ্বাসঘাতকার স্বীকার হয়ে হত্যাকারীদের হাতে হত্যার শিকার হবেন, যেন তিনি আমাদের সবার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে পারেন, তাহলে ব্যপারটা বরং পক্ষপাতদুষ্ট মনে হয় না যে, যারা কিনা নিজেদের পাপ থেকে অবমুক্ত মনে করেন, তারা আবার সেজন্য জুডাস এবং পরবর্তীতে যুগে যুগে ইহুদী নীপিড়নে লিপ্ত হন? আমি ইতিমধ্যেই উল্লেখ করেছিলাম আগে অধ্যায়ে, নন ক্যানোনিকাল গসপেল সংগ্রহের একটি দীর্ঘ তালিকা; একটি পান্ডুলিপি যা দাবী করা হয় জুডাসের হারিয়ে যাওয়া গসপেল, অতি সম্প্রতি অনুদিত হয়েছে এবং ফলাফলে বেশ প্রচারও পেয়েছ; এর আবিষ্কার সংক্রান্ত পরিস্থিতিটি বিতর্কিত, কিন্তু এটি আত্মপ্রকাশ করে মিসরে, ৭০ এর বা ৬০ এর দশকের কোন সময়ে; এবং কপ্টিক হরফে লেখা, প্যাপিরাসের ৬২ টি পাতায়; কার্বন ডেট করে জানা গেছে এটির উৎপত্তি ৩০০ খৃষ্টাব্দর আশেপাশে, কিন্তু এটি সম্ভবত লেখা হয়েছে আগের একটি গ্রীক পান্ডুলিপি অনুকরণে; এর লেখক যিনি হোন না কেন, গসপেলটি দেখা হয়েছে জুডাস ইসকারিওটের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে; এবং সেখানে যে প্রস্তাবটি করা হয়েছে, জুডাস জীসাসের সাথে বিশ্বাসঘাতকা করেছিল জীসাসের নির্দেশে, জীসাসই স্বয়ং তাকে সেই ভুমিকা পালন করতে বলেছিলেন; পুরোটাই ছিল জীসাসের ক্রুশবিদ্ধ হয়ে আত্মবিসর্জন বা মৃতুবরণ করে মানবজাতিকে তার সকল পাপ থেকে মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনার একটি অংশ মাত্র; যত অপ্রীতিকর সেই মতবাদ হোক না কেন, স্পষ্টতই এটি এর পর থেকে বিশ্বাসঘাতক হিসাবে জুডাসের চরিত্রহরনের অস্বস্তিকর বিষয়টিকে সন্দেহের মধ্যে ফেলে দেয়;

আমি খৃষ্টধর্মের কেন্দ্রীয় মতবাদ হিসাবে আদি পাপের প্রায়শ্চিত্তর কথা উল্লেখ করেছি একটি হিংস্র, কলুষিত বিদ্বেষপুর্ণ ধর্ষ-মর্ষকামী এবং বীতস্পৃহা সৃষ্টিকারী একটি মতবাদ হিসাবে;  চুড়ান্ত উন্মাদনা বলে এটিকে আমাদেরও বর্জন করা উচিৎ কিন্তু এটির সর্বব্যাপী পরিচিতি আর বিস্তার আমাদের বস্তুনিষ্ঠ বিচার করা ক্ষমতাকে খানিকটা ভোতা করে দেয়; যদি ঈশ্বর আমাদের পাপ ক্ষমা করতেই চেয়ে থাকেন, কেন শুধু সেগুলো মাফ করে দিলেন না নিজ ক্ষমতা বলে, কি দরকার ছিল তার নিজেকে নীপিড়ন করে, ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ মাথায় পেতে নেবার কি দরকার ছিল তার মুল পরিশোধ হিসাবে; এবং সেকারনেই ঘটনাচক্রে তিনি ইহুদীদের ভবিষ্যতের প্রজন্মকেও দন্ডিত করেন জীসাসের হত্যাকারী হিসাবে ভয়াবহ পগ্রোম ( ইহুদীদের প্রতি হিংস্র গন আক্রমন) এবং নিপীড়ন নির্যাতন আর হত্যার দন্ডাদেশে; সেই বংশপরম্পরার পাপটিও কি বীর্যের মাধ্যমে ভবিষ্যত প্রজন্মের মধ্যে বিস্তার করেছিল?

পল, ইহুদী স্কলার গেজা ভেরমেস এর মতে, স্পষ্টতই সেই প্রাচীন ইহুদী ধর্মতত্ত্বীয় মুল নীতিতে আকন্ঠ মজে ছিলেন : রক্ত ছাড়া কোন প্রায়শ্চিত্ত সম্ভব না;  সত্যি তার Epistle to the Hebrews (৯:২২) বা হিব্রু জাতির প্রতি তার চিঠিতে, তিনি সেরকম কথাই বলেছিলেন; প্রগতিশীল নৈতিকতাবাদীদের পক্ষে আজ কোন ধরনের  প্রতিহিংসা মুলক শাস্তির মুলনীতিকে সমর্থন করা কঠিন, নীরিহ মানুষকে শাস্তি বা স্কেপগোট তত্ত্ব, যেখানে নিরপরাধ মানুষকে দন্ডিত করা হয় অন্য অপরাধীর অপরাধের জন্য, সেটার তো প্রশ্নই আসে না; যে কোন ক্ষেত্রেই ( কারো এমন ভাবনা হওয়াটা স্বাভাবিক), ঈশ্বর আসলে কাকে তার ক্ষমতা দেখিয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টা করছেন? সম্ভবতই নিজেকেই – বিচারক এবং জুরি.. এমন কি দন্ডের শিকার; সব গুছিয়ে বললে, আদম, এই তথাকথিত প্রকৃত বা মুল পাপের মুল পাপী, তার তো কোন অস্তিত্ত্বই ছিল: একটা বিব্রতকর সত্য- যে বিষয়টি সম্বন্ধে পল এর অজ্ঞতা ক্ষমাযোগ্য কিন্তু অনুমান করা সম্ভব বিষয়টি সর্বজ্ঞ ঈশ্বর ( এবং জীসাস, যদি আপনি বিশ্বাস করেন তিনি ঈশ্বর) এর অজানা থাকার কথা না; যা মৌলিকভাবে এই সম্পুর্ণ প্যাচানো বাজে গল্পটির মুল বিষয়টিকে ভিত্তিহীন করে দেয়; ওহ… কিন্তু অবশ্যই,আদম আর হাওয়ার গল্পতো শুধু প্রতীকি ছিল, তাই না? প্রতিকী ? তাহলে নিজেকে দেখানোর জন্য বা ইমপ্রেস করার জন্য  ”অস্তিত্ত্বহীন” এক মানুষের ”প্রতীকি” একটি পাপের জন্য সবার প্রতিনিধি হয়ে শাস্তি হিসাবে জীসাস তার নিজের উপর নিপীড়নের ঘটনাটা ঘটিয়ে ছিলেন এবং নিজের মৃত্যুদন্ড নিশ্চিৎ করে ছিলেন;  আমি যেমনটা বলেছিলাম চুড়ান্ত পাগলামী, এবং খুবই জঘন্যরকম অপ্রীতিকর;

বাইবেল বিষয়ে আলোচনা শেষ করার আগে, আমি এর নৈতিক শিক্ষার সহ্য করার অনুপযুক্ত একটি বিশেষ দিক সম্বন্ধে আলোচনা করতে চাই; খৃষ্টানরা খুব কদাচিৎ অনুধাবন করতে পারেন যে অন্যদের প্রতি তাদের বেশীর ভাগ নৈতিক বিবেচনা, যা আপাতদৃষ্টিতে ওল্ড এবং নিউ টেষ্টামেন্ট উভয়ই প্রোমোট করেছে, মুলত খুবই সীমাবদ্ধ নির্দিষ্ট অন্ত গ্রোত্রের প্রতি প্রয়োগ করার জন্য সৃষ্টি হয়েছিল, Love thy neighbour বা আপনার প্রতিবেশীদের ভালোবাসুন, এর অর্থ আমরা এখন যা করছি তা কিন্তু আগে ছিল না, এর অর্থ ছিল শুধুমাত্র আরেকজন ইহুদীকে ভালোবাসো; এই বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা করছে আমেরিকার চিকিৎসক এবং বিবর্তনীয় নৃতত্ত্ববিদ জন হারটাঙ (John Hartung), তিনি অসাধারন একটি পেপার লিখেছিলেন অন্ত- গ্রুপ (In-group) নৈতিকতার বিবর্তন ও বাইবেলের ইতিহাস নিয়ে; যেখানে তিনি জোর দিয়েছিলেন এর অপর পিঠটিরও, বহি: গ্রুপ বা Out-group নৈতিকতার;

_____________________________________________ চলবে

*(( আমার জানা আছে যে, স্কাম্পিং বা scrumping’ শব্দটা যুক্তরাষ্ট্রের পাঠকদের কাছে সুপরিচিত নয়; কিন্তু আমি নিজে অপরিচিত আমেরিকান শব্দ পড়তে ভালোবাসি, এবং এগুলো খোজার মাধ্যমে আমার শব্দভান্ডারের পরিধিও বাড়ে, আমি ইচ্ছা করেই কিছু ধর্ম সংক্রান্ত শব্দ ব্যবহার করেছি এই কারনে; scrumping নিজেই একটি বেশ ব্যপক অর্থবহ একটি mot juste বা সঠিক শব্দ; এর অর্থ কিন্তু চুরি না; এর একমাত্র অর্থ হচ্ছে আপেল চুরি, শুধুমাত্র আপেল চুরি, কোন একটি শব্দ এতো নির্দিষ্ট হবার উদহারণ বিরল; স্বীকার করতেই হবে জেনেসিসের গল্প নির্দিষ্ট করে বলে দেয়নি যে ফলটি আসলে আপেল কিনা, কিন্তু দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারনাই সেটাই))

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : সপ্তম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

5 thoughts on “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : সপ্তম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s