জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( দ্বিতীয় পর্ব)


ছবি: প্লাটিপাস (Ornithorhynchus anatinus); হাসের মত ঠোট, মোটা চ্যাপ্টা লেজ, পুরুষদের পেছনের পায়ে বিষ মাখানো কাটার  মত স্পার এবং স্ত্রী প্লাটিপাসদের ডিম পাড়ার ক্ষমতা সহ অষ্ট্রেলিয়ার প্লাটিপাস বহু ভাবে অদ্ভুত বিচিত্র একটি প্রানী। যদি কোন প্রানীকে অবুদ্ধিমত্তাপুর্ণ উপায়ে পরিকল্পনা বা সৃষ্টিকর্তার নিজের খামখেয়ালী মজার উপাদান হিসাবে সৃষ্টি করেছেন বলে মনে করা হয়ে থাকে –সন্দেহ নেই সেটা হবে প্লাটিপাস। কিন্তু প্লাটিপাসের একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট আছে: অন্য সব মেরুদন্ডী প্রানীদের যেমন থলির মত পাকস্থলী থাকে, যেখানে খাদ্য পরিপাকের জন্য পক্রিয়াকরন হয় বিভিন্ন এনজাইমের দ্বারা -, এদের তা থাকে না। প্লাটিপাসের পাকস্থলী হচ্ছে তাদের খাদ্যনালীর একটি হালকা স্ফীতকায় অংশ যা  সরাসরি অন্ত্রের সাথে সংযুক্ত। এই পাকস্থলীতে মেরুদন্ডী প্রানীদের মত এনজাইম তৈরীর কোন গ্রন্থি থাকে না। আমরা এখনও নিশ্চিৎ না কেন বিবর্তন তাদের এই পাকস্থলীটিকে অপসারন করেছে –হয়তো প্লাটিপাসের খাদ্য মুলত নরম শরীরের পোকামাকড় যাদের হজম করার জন্য বেশী প্রক্রিয়াকরণ করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমরা জানি প্লাটিপাস বিবর্তিত হয়েছে পাকস্থলী আছে এমন পুর্বসুরী প্রানীদের থেকে; এর একটি কারন হলো প্লাটিপাসের জীনোমে দুটি সিউডোজীনের অস্তিত্ব আছে, যারা হজমে ব্যবহৃত হবার এনজাইম তৈরী করে, যেহেতু তাদের প্রয়োজন নেই আর তারা মিউটেশনের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে, কিন্তু এখনও তারা এই অদ্ভুত প্রানীটির বিবর্তনের চিহ্ন বহন করে চলেছে।

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)
Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব ;  দ্বিতীয় পর্ব ; তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব

অবশিষ্টাংশ: ভেস্টিজ, ভ্রূণ এবং খারাপ ডিজাইন

অ্যাটাভিজম (Atavisms) বা
বেশ কয়েক প্রজন্মর মধ্যে দেখা যায় নি এমন কোন একটি বৈশিষ্ট্যর পুনরাবির্ভাব

মাঝে মাঝে প্রজাতির কোন একজন সদস্যর আবির্ভাব ঘটে কিছু অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট নিয়ে যা দেখলে মনে হয় পুর্বসুরীদের কোন বৈশিষ্টের পুনরাবির্ভাব ঘটেছে। যেমন কোন সময় একটি ঘোড়ার জন্ম হতে পারে বাড়তি পায়ের আঙ্গুল সহ  বা লেজ সহ কোন মানুষের বাচ্চা। এই মাঝে মাঝে পুর্বপুরুষের কোন বৈশিষ্টর প্রায় অবশিষ্টাংশ বা রেমন্যান্ট হিসাবে প্রকাশ পাওয়াকে বলে অ্যাটাভিজমস; শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন অ্যাটাভাস বা পুর্বপুরুষ।কোন ভেস্টিজিয়াল বৈশিষ্ট থেকে তারা আলাদা কারন তাদের দেখা যায় কদাচিৎ, প্রজাতির সব সদস্যদের মধ্যে না।

সত্যিকারের অ্যাটাভিজম হতে হলে পুনরাবির্ভাব হওয়া বৈশিষ্টগুলোকে অবশ্যই পুরুসুরী বা অ্যানসেস্ট্রাল বৈশিষ্ট হতে হবে এবং সেটিকে বেশ সদৃশ্যতাও বহন করতে হবে প্রাচীন বৈশিষ্টটির। তারা কেবল কোন বিকট অস্বাভাবিক কোন বৈশিষ্ট না ; যেমন, কোন একজন মানুষ একটি বাড়তি পা সহ জন্ম নিতে পারে, তবে এটি কোন অ্যাটাভিজম নয় কারন আমাদের কোন উত্তরসুরীরই পাচটি হাত পা বা লিম্ব ছিল না; সবচেয়ে বিখ্যাত প্রকৃত অ্যাটাভিজম সম্ভবত তিমি মাছের পা। আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি, কিছু তিমির প্রজাতি তাদের শরীরে ভেস্টিজিয়াল অঙ্গ হিসাবে পেলভিস (শ্রোনীচক্র) এবং পেছনের পায়ের কিছু হাড় বহন করে কিন্তু প্রতি ৫০০ তিমির ১ টি কিন্তু আসলেই জন্ম নেয় পেছনের পা সহ যা তাদের শরীরের বাইরে বের হয়ে থাকে। এই পা গুলোর পায়ের অন্য সব বৈশিষ্টই থাকে এবং অনেকগুলোই স্পষ্টভাবে স্থলবাসী স্তন্যপায়ীদের প্রধান প্রধান পায়ের হাড়গুলো বিদ্যমান থাকে – ফিমার, টিবিয়া এবং ফিবুলা, কারো পায়ের নীচের অংশ এবং আঙ্গুলও থাকে!

Continue reading “জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( দ্বিতীয় পর্ব)”

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( দ্বিতীয় পর্ব)