জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( প্রথম পর্ব)


ছবি: অষ্ট্রিচের নাচ: অস্ট্রিচের (Struthio camelus) ডানা আসলে একটি ‘ভেস্টিজিয়াল ট্রেইট বা বৈশিষ্ট’; ভেস্টিজিয়াল বৈশিষ্ট বলতে বোঝায়, একটি প্রজাতির কোন বৈশিষ্ট যা তাদের পুর্বসুরীদের প্রানীদের জন্য একটি অভিযোজনীয় কৌশল হিসাবে বিবর্তিত হয়েছিল কিন্তু সেটি হয় সম্পুর্ণভাবে তার মুল উপযোগিতা হারিয়েছে কিংবা যেমন অস্ট্রিচের ক্ষেত্রে, যা নতুন ভিন্ন কোন কাজের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। উড়তে পারেনা এমন অন্য সব পাখিদের মতই, অস্ট্রিচরাও বিবর্তিত হয়েছে উড়তে সক্ষম পুর্বপুরুষ পাখিদের থেকেই; এটি আমরা জেনেছি জীবাশ্ম রেকর্ড থেকে এবং উড্ডয়ন অক্ষম পাখিদের বহন করা ডিএনএ র মধ্যে তাদের বংশধারার প্যাটার্ণ এর মাধ্যমে; কিন্তু ডানা যদিও এখনও বিদ্যমান, তবে সেগুলো এর বাহক পাখির খাদ্য সন্ধানে কিংবা শিকারী প্রানী আক্রমন থেকে বাচতে কোন সাহায্য করে না ঠিকই; কিন্তু তারপরও ডানাদের যে একেবারে কোন কাজ নেই তা কিন্তু না, নতুন কিছু কাজ তারা বিবর্তিত করে নিয়েছে; তারা পাখিদের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে, এছাড়া মেটিং এবং শত্রুদের ভয় দেখাতে ব্যবহৃত হয়;

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায় (প্রথম পর্ব)
অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)
Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব ;  দ্বিতীয় পর্ব ; তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব

Nothing in biology makes sense except in the light of evolution.
Theodosius Dobzhansky

অবশিষ্টাংশ: ভেস্টিজ, ভ্রূণ এবং খারাপ ডিজাইন

বিবর্তনের ব্যাখ্যা ছাড়া জীববিজ্ঞানে কোন কিছুই অর্থবহ হয় না। থিওডোসিয়াস ডোবঝানস্কি

মধ্যযুগে ইউরোপে যখন কাগজের প্রচলন ছিল না, পান্ডুলিপি তৈরী করা হতো সাধারণত: পার্চমেন্ট বা ভেলাম এর উপর হাতে লেখার মাধ্যমে; পার্চমেন্ট বা ভেলাম মুলত ভালো করে শুকিয়ে প্রস্তুত করা পশুদের (যেমন বাছুর, ভেড়া কিংবা ছাগল )পাতলা চামড়া; যেহেতু পার্চমেন্ট বা ভেলাম তৈরী করা সহজে সম্ভব হত না, সেকারনেই মধ্যযুগের বহু লেখকরা পুরোনো পান্ডুলিপিগুলোর সাধারনত: পুর্নব্যবহার করতেন, তারা পুরোনো লেখাগুলো ঘষে ঘষে উঠিয়ে পরিষ্কার করে আবার সেখানে নতুন করে লিখতেন; এই সব রিসাইকেল করা পান্ডুলিপিগুলোকেই বলা হয় প্যালিম্পসেস্ট (Palimpsest); শব্দটির উৎপত্তি গ্রীক শব্দ palimpsestos থেকে, যার অর্থ ’আবার ঘষে যা পরিষ্কার করা হয়েছে’;

অবশ্য এভাবে রিসাইকেল করা পান্ডুলিপিগুলোতে প্রায়ই সেখানে এর আগের লেখার অস্পষ্ট চিহ্ন, কিছু অবশিষ্ট রয়ে যেত; এবং অবশিষ্ট রয়ে যাওয়া এই লেখার চিহ্ন অতীতের বিশ্ব সম্বন্ধে আমাদের ধারনাকে আরো সমৃদ্ধ করার জন্য বিশেষ উপযোগী প্রমানিত হয়েছে; অনেক প্রাচীন গুরুত্বপুর্ণ লেখা আমরা আসলেই এভাবে খুজে পেয়েছি মধ্যযুগের কোন কোন লেখার নীচে, মুল লেখাটিকে পুনরুদ্ধার করার মাধ্যমে; সম্ভবত এভাবে উদ্ধার করা সবচেয়ে বিখ্যাত পান্ডুলিপিটি হচ্ছে আর্কিমিডিসের প্যালিম্পসেস্ট, প্রথম সেটি লেখা হয়েছিল দশম শতাব্দীতে কনস্টান্টিনোপল এ এবং এরপর পরিষ্কার করে আবার তিন শতাব্দী পর এর উপরে নতুন করে লিখেছিলেন একজন পুরোহিত, এটিকে একটি প্রার্থনার বই হিসাবে ব্যবহার করার জন্য। ১৯০৬ সালে একজন ডেনিশ ক্ল্যাসিক বিশেষজ্ঞ মুল টেক্সটিকে প্রথম আর্কিমিডিসের কাজ হিসাবে চিহ্নিত করেন, এরপর থেকে এক্সরে, অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন এবং আরো বেশ কিছু জটিল প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে সম্ভব হয়েছে উপরের নতুন লেখাটির নীচে পুরোনো আর্কিমিডিসের কাজ সংক্রান্ত মুল লেখাটির মর্মোদ্ধার করা; এই দীর্ঘমেয়াদী শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়ায় অবশেষে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে প্রাচীন গ্রীক ভাষায় লেখা আর্কিমিডিসের তিনটি গানিতীক ট্রিটিস বা গবেষনা পত্র, যার মধ্যে দুটি ছিল সম্পুর্ণ বিজ্ঞানীদের কাছে সম্পুর্ণ অজানা এবং বিজ্ঞানের ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ; এভাবেই নানা রহস্যময় উপায়ে আমরা আমাদের অতীতকে পুনরুদ্ধার করি;

এইসব প্রাচীন পান্ডুলিপির এর মতই সকল জীবও ইতিহাসের প্যালিম্পসেস্ট –সেই ইতিহাস বিবর্তনের; সকল প্রানী আর উদ্ভিদের শরীরেই আছে তাদের বংশ পরিচয় উদঘাটন করার মত গুরুত্বপুর্ণ সব চিহ্ন, যে সব চিহ্ন বিবর্তনের সাক্ষ্য বহন করছে এবং তাদের সংখ্যাও অগনিত। সেখানে লুকানো আছে বিশেষ সব বৈশিষ্টগুলো, ”ভেস্টিজিয়াল অঙ্গ”, কোন এক সময় পুর্বসুরীদের শরীরের জন্য উপযোগী ছিল এমন কোন বৈশিষ্ট বা ট্রেইট এর রেমনান্ট বা অবশিষ্টাংশ ছাড়া আর কোনভাবে যাদের উপস্থিতি ব্যাখা করা যায় না। মাঝে মাঝে আমরা খুজে পাই অ্যাটাভিজম – ‘থ্রো ব্যাক“ বৈশিষ্ট, যা সৃষ্টি হয় কখনো কখনো পুর্বসুরী কোন প্রাচীন জীনের পুণরায় সক্রিয় হয়ে ওঠার কারনে যা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় হয়ে ছিল প্রাকৃতিক নির্বাচনের চাপে; এখন যেহেতু সরাসরি আমরা ডিএনএ অনুক্রম পড়তে পারি, আমরা আবিষ্কার করেছি যে, প্রজাতিরা অনু পর্যায়েও বা মলিকিউলার স্তরে আসলে মলিকিউল্যার প্যালিম্পসেস্ট: কারন তাদের জীনোমে বিবর্তনের ইতিহাস অনেকটুকুই লিপিবদ্ধ হয়ে আছে, যাদের মধ্যে আছে যেমন সেই সব জীনের ধ্বংশাবশেষগুলো, যারা কোন একসময় তাদের পুর্বসুরীদের শরীরে প্রয়োজনীয় আর উপযোগী ছিল। উপরন্তু ভ্রুন থেকে তাদের বিকাশের সময় অনেক প্রজাতি অদ্ভুত সব আকার বা ফর্মের বৈচিত্রতার মধ্য দিয়ে সেই ধাপগুলো অতিক্রম করে: বিভিন্ন অঙ্গ এবং নানা বৈশিষ্টর আবির্ভাব ঘটে এবং নাটকীয় ভাবে যারা তারপর পরিবর্তিত হয় বা জন্মের আগে সম্পুর্ণভাবে অবলুপ্ত হয়; এবং প্রজাতিরা আদৌ ভালোভাবে পরিকল্পিত বা ডিজাইন করা নয়: তাদের অনেকেই নানা খুত বা ত্রুটি প্রদর্শন করে, যা কোন স্বর্গীয় প্রকৌশলীর কাজের নিদর্শন হতে পারেনা, বরং প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন প্রক্রিয়ারই প্রমান।

স্টিফেন জে গুল্ড এই জৈববৈজ্ঞানিক প্যালিম্পসেস্টকে বলেছিলেন, “ইতিহাসের অর্থহীন চিহ্ন”;কিন্তু তারা আসলেই অর্থহীন নয়, কারন তারা বিবর্তনের স্বপক্ষে বেশ কিছু শক্তিশালী প্রমান সম্ভারের অংশ।

ভেস্টিজ বা ভেস্টিজিয়াল অঙ্গ বা আমাদের পুর্বপুরুষদের শরীরে একসময়ের পুর্ণকর্মক্ষম কোন অঙ্গ বা বৈশিষ্টের রয়ে যাওয়া চিহ্ন:

বোস্টনে গ্রাজুয়েট ছাত্র থাকার সময়, একজন সিনিয়র গবেষক বিজ্ঞানীকে সাহায্য করার জন্য নাম লিখিয়েছিলাম আমি, যিনি সম্প্রতি একটি গবেষনাপত্র লিখে শেষ করেছিলেন, যার মুল প্রশ্ন ছিল, উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট প্রানীরা কি চার পায়ে, নাকি দুই পায়ে বেশী দক্ষতার সাথে দৌড়াতে পারে? পরিকল্পনা ছিল পেপারটি তিনি অন্যতম বনেদী গবেষনা পত্রিকা ন্যাচার এ সাবমিট করবেন প্রকাশনার জন্য, আর আমাকে তিনি সাহায্য করতে বলেছিলেন একটি চমৎকার ফটোগ্রাফ তোলার জন্য, যেটা যথেষ্ট পরিমান আকর্ষনীয় হতে হবে যেন পত্রিকার প্রচ্ছদে জায়গা পেতে পারে, এবং যে ছবিটা যেন তার গবেষনার প্রতি উৎসাহীদের সহজে দৃষ্টি আকর্ষন করতে পারে ( গবেষনাটি প্রকাশিত হয়েছিল, তবে সেটি দেখিয়েছিল, দৌড়ানোর কৌশলে ভিন্নতা থাকলেও, অস্ট্রিচ এবং ঘোড়ারা একই পরিমান শক্তি ব্যায় করে একই পরিমান দুরত্ব দৌড়াতে: M. A. Fedak ও H. J. Seeherman) ; ল্যাবরেটরী থেকে বের হবার জন্য উন্মুখ আমি একদিন সারা বিকাল একটি ঘোড়ার খামারের ঘেরা মাঠে একটি ঘোড়া আর একটি অস্ট্রিচের পেছনে দৌড়ে কাটিয়েছিলাম, উদ্দেশ্য ছিল যেভাবে হোক তাদের পাশাপাশি দৌড়ানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করবো, এবং ফটোগ্রাফের একটি সিংগল ফ্রেমে দুটি প্রানীর দুই ধরনের দৌড়ানোর পদ্ধতিটি লিপিবদ্ধ করবো; বলার অপেক্ষা রাখে না যে, প্রানী দুটি আমাকে সহযোগিতা করতে সরাসরি অস্বীকার করেছিল; এবং সব ধরনের প্রচেষ্টা ও অন্য আরো কিছু প্রজাতি নিয়ে আমাদের ছবি তোলার প্রচেষ্ঠা ব্যর্থ হবার পর , আমরা অবশেষে হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম, যদিও সেদিন কোন ছবি তোলা হয়নি, তবে এই অভিজ্ঞতা আমাকে একটি দারুণ জীববিজ্ঞানের শিক্ষা দিয়েছিল: অস্ট্রিচরা উড়তে পারে না ঠিকই, তবে এখনও তারা তাদের ডানা দুটিকে এখনও ব্যবহার করতে পারে; যেমন যখন তারা দৌড়ায়, ভারসাম্য রক্ষা করতে তারা ডানা ব্যবহার করে, দুই পাশে ডানা ছড়িয়ে দিয়ে তারা দৌড়ায় যেন হোচট খেয়ে পড়ে না যায় কোন একটি দিকে, এবং যখন অস্ট্রিচরা খুব বিরক্ত হয় – বিশেষ করে যখন আপনি তাদের পেছনে দৌড়াবেন – এরা সরাসরি আপনার দিকে দৌড়ে আসবে, ডানা দুপাশে সরিয়ে ভয় প্রদর্শন করা ভঙ্গিমায়; যার অর্থ হচ্ছে আমার রাস্তা থেকে দুর হয়ে যাও যদি নিজের ভালো যায়, কারন কোন মেজাজ খিচড়ে থাকা কোন অস্ট্রিচ এর পায়ের দ্রুত একটা লাথি আপনার নাড়িভুড়ি বের করে দিতে পারে অনায়াসে; এছাড়া তারা তাদের ডানা ব্যবহার প্রজনন সঙ্গীনিকে আকর্ষন করত বা মেটিং ডিসপ্লে এর সময় এবং রুক্ষ আফ্রিকার সুর্য থেকে নিজের চ্চাদের বাচাতে ছায়া দেবার জন্য।

ছবি: অষ্ট্রিচ ( Ostrich) : Struthio camelus

জীববিজ্ঞানের এই শিক্ষাটি আসলে আরো সুদুর প্রসারী এর অর্থবহতায়; অস্ট্রিচের ডানা আসলে একটি ‘ভেস্টিজিয়াল ট্রেইট বা বৈশিষ্ট’; ভেস্টিজিয়াল বৈশিষ্ট বলতে বোঝায়, একটি প্রজাতির কোন বৈশিষ্ট যা তাদের পুর্বসুরীদের প্রানীদের জন্য একটি অভিযোজনীয় কৌশল হিসাবে বিবর্তিত হয়েছিল কিন্তু সেটি হয় সম্পুর্ণভাবে তার উপযোগিতা হারিয়েছে কিংবা যেমন অস্ট্রিচের ক্ষেত্রে, যা নতুন ভিন্ন কোন কাজের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে । উড়তে পারেনা এমন অন্য সব পাখিদের মতই, অস্ট্রিচরাও বিবর্তিত হয়েছে উড়তে সক্ষম পুর্বপুরুষ পাখিদের থেকেই; এটি আমরা জেনেছি জীবাশ্ম রেকর্ড থেকে এবং উড্ডয়ন অক্ষম পাখিদের বহন করা ডিএনএ র মধ্যে তাদের বংশধারার প্যাটার্ণ এর মাধ্যমে; কিন্তু ডানা যদিও এখনও বিদ্যমান, তবে সেগুলো এর বাহক পাখির খাদ্য সন্ধানে কিংবা শিকারী প্রানীদের আক্রমন বা বিরক্তিকর গ্রাজুয়েট ছাত্রর কাছ থেকে পালানোর জন্য উড়তে আর কোন সাহায্য করে না ; কিন্তু তারপরও ডানাদের যে একেবারে কোন কাজ নেই তা কিন্তু না, নতুন কিছু কাজ তারা বিবর্তিত করে নিয়েছে; তারা পাখিদের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে, এছাড়া মেটিং এবং শত্রুদের ভয় দেখাতে ব্যবহৃত হয়;

অষ্ট্রিচদের মেটিং ড্যান্স এ পাখার ব্যবহার

আফ্রিকান অস্ট্রিচই শুধু একমাত্র উড্ডয়ন অক্ষম পাখি না; রাটাইটরা ( ratites) যেমন – বিশালাকৃতির উড়তে না পারা পাখিরা, যেমন সাউথ আমেরিকান রিয়া (Rhea), অষ্ট্রেলিয়ার এমু, নিউ জীল্যান্ডের কিউই সহ প্রায় ডজনখানেক অন্য পাখি প্রজাতি আছে যারা স্বতন্ত্রভাবেই তাদের উড়বার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে; এর মধ্যে আছে যেমন উড়তে না পারা রেইলস (Rails), গেরবেস (Gerbes), হাস (Duck) এবং অবশ্যই পেঙ্গুইন; হয়তো এদের মধ্যে সবচে অদ্ভুত হচ্ছে নিউজিল্যান্ড এর কাকাপো ( Kakapo), বেশ মোটাসোটা উড্ডয়ন অক্ষম প্যারোট যারা মুলত মাটিতে বাস করে তবে তারা গাছে উঠতে পারে, এবং আর প্যারাসুটের মত হালকাভাবে গাছের উপর থেকে মাটিতে নীচে নেমে আসতে পারে; প্রায় বিলুপ্ত হবার মুখোমুখি একটি অবস্থায় আছে কাকাপো, বন্য কাকাপোর সংখ্যা সম্ভবত ১০০ র কম এখন; যেহেতু তারা সহজে উড়তে পারেনা, তারা পরিবর্তীতে আগত শিকারী প্রানী, যেমন বিড়াল এবংস ইদুরের সহজ শিকারে পরিনত হয়েছে;

ছবি: দুক্ষিন আমেরিকার রিয়া ( Rhea : Rhea americana)

ছবি: অষ্ট্রেলিয়ার এমু ( Emu) ; Dromaius novaehollandiae)

ছবি: নিউজীল্যান্ডের কাকাপো  (night parrot), Strigops habroptila

ছবি: নিউজিল্যান্ডের কিউই (Kiwi): Apteryx australis

উড়তে পারেনা এমন প্রতিটি পাখির ডানা আছে; কারো কারো ক্ষেত্রে, যেমন কিউইদের, ডানাগুলো এত ছোট যে, শুধুমাত্র কয়েক ইন্চি লম্বা,যা তাদের পালকের নীচে লুকিয়ে থাকে, যেগুলোর কোন কাজ আছে বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় না, তারা শুধু অবশিষ্টাংশ বা রেমন্যান্টস; অন্যদের ক্ষেত্রে যেমনটা আমরা অস্ট্রিচদের ক্ষেত্রে দেখেছি, এই অবশিষ্ট ডানা অন্য নতুন কোন কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়; পেঙ্গুইনদের ক্ষেত্রে তাদের পুর্বসুরীদের ডানা রুপান্তরিত হয়েছে ফ্লিপারে, যা পেঙ্গুইনদের পানির নীচে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সাতার কাটার সুযোগ করে দেয়; কিন্তু উড়তে পারে এমন কোন প্রজাতির ডানায় যে অস্থিগুলো থাকে, এখানেও সেই একই অস্থি থাকে ( কিন্তু কেনই বা একজন সৃষ্টিকর্তা ঠিক একই হাড় ব্যবহার করবেন উড্ডয়নক্ষম আর উড্ডয়নঅক্ষম ডানা তৈরীতে, এমনকি একই হাড় ব্যবহার করছেন সাতার কাটা পেঙ্গুইনদের ডানায়?) কারন ‌উড়তে না পারা পাখিদের ডানা পরিকল্পিত কোন ডিজাইনের ফসল নয়, বরং ‍উড়তে সক্ষম পুর্বসুরীদের কাছ থেকে তারা বিবর্তিত হয়েছে;

সাধারনত বিবর্তন বিরোধীরা সবসময় একই যুক্তি উত্থাপন করেন, যখনই কোন ভেস্টিজিয়াল বৈশিষ্টকে বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমান হিসাবে উল্লেখ করা হয়: ”এই বৈশিষ্টগুলো অবশ্যই অপ্রয়োজনীয় বা অনুপযোগী নয়”, তারা বলেন, তারা কোন না কোন কিছুর জন্য অবশ্যই উপযোগী বা আমরা এখনও আবিষ্কার করতে পারিনি তাদের আসলে কি কাজ”; তাদের দাবী, অন্যার্থে, কোন একটি বৈশিষ্ট কখনই ভেস্টিজিয়াল হতে পারে না, যদি এখনও কোন না কোন কাজের সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকে বা কোন সংশ্লিষ্ট কাজ যদি এখনও অনাবিষ্কৃত থাকে।

কিন্তু তাদের এই পাল্টা বক্তব্যটি কিন্তু একটি মুল প্রসঙ্গ এড়িয়ে যায়; বিবর্তন তত্ত্ব কখনই বলছে না যে, ভেস্টিজিয়াল বৈশিষ্টগুলোর কোন কাজ নেই; কোন একটি বৈশিষ্ট একই সাথে ভেস্টিজিয়াল আর কর্মক্ষম হতে পারে।এবং এটিকে ভেস্টিজিয়াল বলা হচ্ছে তার কারন এর কোন কাজ নেই সে কারনে নয়, এটি বলার কারন, যে কাজের জন্য এটি প্রথমে বিবর্তিত হয়েছিল, সেই কাজটি আর সেটি করছে না; অস্ট্রিচের ডানাগুলো উপযোগী, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, বিবর্তন সম্বন্ধে তারা আমাদের কোন ধারনা দিচ্ছে না; ব্যাপারটা কি খুব অদ্ভুত হবে যদিকোন সৃষ্টিকর্তা অস্ট্রিচদের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য সাহায্য করতে গিয়ে তাদের এমন একটি অঙ্গ দান করেন, যা ঘটনাচক্রে ঠিক খর্বাকৃতির ডানার মতই দেখতে এবং এমনকি এটি তৈরীও করা হয়েছে উড়বার উপযোগী ডানা যেভাবে তৈরী হয় ঠিক সেভাবেই ?

আসলেই, আমরা পুর্ব প্রত্যাশা করতে পারি যে, পুর্বসুরী বৈশিষ্টগুলো বিবর্তিত হবে নতুন কোন কাজের জন্য উপযোগী হয়ে; এবং সেটাই হবার কথা যখন বিবর্তন পুরোনো কোন বৈশিষ্ট বা ট্রেইটকে গড়ে পিটে নতুন ট্রেইট তৈরী করে; ডারউইন নিজেই লক্ষ্য করেছিলেন যে, ”একটি অঙ্গ যা জীবনের পরিবর্তিত অভ্যাসের কারনে কোন একটি কাজের জন্য অনুপযোগী বা ক্ষতিকর হয়ে পড়ে, তারা সহজে পরিবর্তিত এবং অন্য কাজের জন্য উপযোগী হয়ে ব্যবহৃত হতে পারে।”

এমনকি যখন কোন একটি বৈশিষ্ট ভেস্টিজিয়াল তা আমরা প্রতিষ্ঠিত করে ফেলি, প্রশ্ন কিন্তু সেখানে শেষ হয়ে যায় না; কোন পুর্বসুরীদের শরীরে এটি কর্মক্ষম ছিল? কি কাজে এটি ব্যবহার হত? কেন এটি তার সেই কর্মক্ষমতা হারিয়েছে? কেন এটি এখনও আছে পুরোপুরি অবলুপ্ত হবার পরিবর্তে? এবং কোন নতুন কাজ এর জন্য (যদি তাই হয়ে থাকে) এটি বিবর্তিত হয়েছে ?

আবার ডানার প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক, অবশ্যই, ডানা থাকার অনেকগুলো সুবিধা আছে, যে সুবিধাগুলো পেয়েছে উড্ডয়ন অক্ষম পাখিদের উড়তে সক্ষম পুর্বসুরী পাখিরা; তাহলে কেন কিছু প্রজাতি তাদের উড়বার ক্ষমতা হারিয়েছে.? আমরা একেবারে চুড়ান্তভাবে সেই কারনগুলো জানি না, তবে এর কারন সম্বন্ধে আমাদের বেশ কিছু জোরালো ধারনা আছে; বেশীর ভাগ পাখি যারা উড়বার ক্ষমতা হারিয়েছে তাদের এই বিবর্তন ঘটেছে বিচ্ছিন্ন কোন দ্বীপে – মরিশাসের বিলুপ্ত ডোডো, হাওয়াই এ রেইল, নিউজিল্যান্ডের কাকাপো আর কিউই এবং আরো অনেক উড়তে অক্ষম পাখিরা, যাদের নামকরণ হয়েছে তাদের বসবাস করা দ্বীপগুলোর নামে ( সামোয়ান উড রেইল, গোহ আইল্যান্ড মুরহেন, অকল্যান্ড আইল্যান্ড টিল এবং আরো অনেক); আমরা পরবর্তী অধ্যায়ে দেখবো, দুরবর্তী বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট হচ্ছে সেখানে স্তন্যপায়ী এবং সরীসৃপ প্রানী প্রজাতির অনুপস্থিতি, সাধারনত যারা পাখিদের শিকার করে; কিন্তু তাহলে র্যাবটাইটরা (Raite) যারা মহাদেশে বাস করে, যেমন অস্ট্রিচ? এদের সবাই বিবর্তিত হয়েছে দক্ষিন গোলার্ধে, যেখানে উত্তর গোলার্ধের তুলনায় তাদের জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী পাখি শিকারী স্তন্যপায়ীর সংখ্যা অনেক কম।

এটার মুল ব্যাখ্যা হচ্ছে এরকম: উড়ার জন্য অনেকবেশী বিপাকীয় কর্মকান্ডের প্রয়োজন, কারন কাজটি সম্পন্ন করার জন্য অনেক বেশী শক্তি ক্ষয় করতে হয়, যে শক্তি হয়তো প্রজনন আর বংশবৃদ্ধির কাজে ব্যবহৃত হতে পারতো; যদি উড়বার কাজ মুলত শিকারী প্রানীদের নাগালে বাইরে থাকা হয়, কিন্তু দ্বীপে সেধরনের শিকারী প্রানী প্রায়শই থাকে না বা যদি খাদ্য অনায়াসেই মাটিতে পাওয়া যায়, যেমনটা কোন দ্বীপে হতে পারে (যেখানে প্রায়শই গাছের সংখ্যা কম), তাহলে পুর্ণকর্মক্ষম ডানার কি প্রয়োজনীয়তা আছে সেখানে ? এ ধরনের পরিবেশে, খর্বাকৃতি ডানাসহ পাখিরা অবশ্যই প্রজনন ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেয়েছে এবং প্রাকৃতিক নির্বাচন উড়তে না পারার বৈশিষ্টকে সহায়তা করেছে বিবর্তনে।এবং এছাড়াও ডানা হচ্ছে বিশালকায় একটি অঙ্গ যা সহজে আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে।যদি তারা প্রয়োজনীয় নাই হয়, তাহলে তাদের খর্বাকৃতি করার মাধ্যমে এধরনের আঘাত পাওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব, এই দুই পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক নির্বাচন সরাসরি সেই সব পরিব্যক্তিগুলোকে সহায়তা করবে যা ধীরে ধীরে ছোট আকারের ডানা তৈরী করবে, যার ফলাফল হচ্ছে উড়তে না পারা ক্ষমতা।

তাহলে তারা কেন পুরোপুরি অপসারিত হলো না ? কোন কোন ক্ষেত্রে সেটা প্রায় হয়েছে: কিউইদের ডানার যেমন কোন কাজ নেই এমন একটি উচু জায়গা মাত্র; কিন্তু যখন ডানা নতুন কাজের দায়িত্ব নেয়, যেমন অস্ট্রিচের, তারা প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে সুরক্ষিত হয়, যদিও সেটি এমন একটি রুপে যা উড়তে সাহায্য করার মত আর উপযোগী থাকে না।অন্য প্রজাতিগুলোয়, ডানা হয়তো পুরোপুরি বিলুপ্তির পর্যায়ে আছে, আমরা সেই পর্যায়ে মাঝামাঝি কোন অবস্থান হয়তো দেখছি মাত্র।

ভেস্টিজিয়াল চোখও বেশ বিদ্যমান; অনেক প্রানী, যেমন যারা মাটিকে গর্ত করে থাকে বা গুহায় বাস করে, তারা পুরোপুরি অন্ধকারেই তাদের জীবন কাটায়, কিন্তু তাদের বিবর্তনীয় বৃক্ষ তৈরী করার সময় আমরা দেখতে পাই তারা বিবর্তিত হয়েছে মাটির উপরে বসবাস করা এমন প্রানীদের থেকে যাদের কর্মক্ষম চোখ ছিল; ডানার মত চোখও একটা বাড়তি বোঝা যখন আর এর কোন প্রয়োজন থাকে না। তাদের তৈরী করতে শক্তির প্রয়োজন, এবং খুব সহজে তারা আঘাত প্রাপ্ত হতে পারে; সুতরাং কোন পরিব্যক্তি যা তাদের অকেজো করতে সাহায্য করে, তারা স্পষ্টতই বেশী সুবিধা পাবে যখনঅন্ধকার খুবই গভীর যে দেখার মত কিছু থাকেনা ।বিকল্পভাবে মিউটেশনগুলো যা দৃষ্টি হ্রাস করে, তা হয়তো বেশ সময়ের পরিক্রমায় ধীরে ধীরে জমা হতে থাকে যদি তারা কোন উপকারে না আসে কিংবা প্রানীর কোন ক্ষতি করেনা)।

এমনই বিবর্তনীয় প্রক্রিয়া চোখ হারানোর ঘটনা ঘটেছিল ইষ্টার্ণ মেডিটেরিয়ান ব্লাইন্ড মোল র‌্যাটদের পুর্বসুরীদের ক্ষেত্রে।এরা দীর্ঘ নলাকৃতি রোডেন্ট বা ইদুর জাতীয় প্রানী যাদের ছোট মোটা পা সহ এরা দেখতে অনেকটা লোমসহ সালামীর মত যাদের খুব ছোট মুখ আছে।এই প্রানীরা তাদের সারাজীবন মাটির নীচে কাটায়; তারপরও তারা চোখের ভেস্টিজ বা বিলুপ্ত প্রায় একটি চোখ বহন করে – খুবই ছোট এই অঙ্গটির ব্যাস ১ মিমি যা একটি রক্ষাকারী চামড়ার স্তরের নীচে পুরোপুরি ঢাকা থাকে; বিলুপ্ত প্রায় চোখ কোন দৃশ্য সৃষ্টি করতে পারেনা। ডিএনএ প্রমান বলছে যে প্রায় ২৫ মিলিয়ন বছর আগে, ব্লাইন্ড মোল র্যা্টরা বিবর্তিত হয়েছে দেখার ক্ষমতা আছে এমন রোডেন্টদের থেকে এবং তাদের প্রায় বিলু্প্ত হওয়া দৃষ্টি শক্তিহীন চোখ তাদের বংশধারার সেই চিহ্ন বহন করছে। কিন্তু কেনই বা এই অবশিষ্টাংশটির অস্তিত্ব রয়ে গেল? সাম্প্রতিক গবেষনা বলছে তাদের মধ্যে আলোক সংবেদী রন্জকপদার্থ থাকে, যা অল্প আলোর প্রতি সংবেদনশীল এবং যা প্রানীটির দৈনন্দিন শারীরবৃত্তিয় নানা কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রন করে; এই অবশিষ্ট রয়ে যাওয়া কাজটি খুব সামান্য পরিমান আলো দ্বারা পরিচালিত হয়, যা মাটির নীচে প্রবেশ করতে পারে, যা এই ভেস্টিজিয়াল অঙ্গটি অস্তিত্ব রয়ে যাবার ব্যপারটি ব্যাখ্যা করতে পারে।

ছবি: Middle East blind mole rat or Israel mole rat (Spalax ehrenbergi or Nannospalax ehrenbergi

ট্রু মোল, যারা রোডেন্ট না কিন্তু পোকামাকড়ভেোজী, স্বতন্ত্রভাবে তাদের চোখ হারিয়েছে, যা আছে তা হলো চামড়ার নীচে লুকোনো একটি ভেস্টিজিয়াল বা বিলুপ্তপ্রায় অঙ্গ, যা আপনি এর মাথার লোম একপাশে সরিয়ে দেখতে পারেন।একইভাবে, কিছু মাটিতে গর্ত করা সাপও তাদের চোখ হারিয়েছে তাদের শরীরের আশের নীচে লুকিয়ে, বহু গুহাবাসী প্রানীদের হয় চোখ হ্রস্বকৃত বা অনুপস্থিত।এর মধ্যে আছে মাছ ( যেমন ব্লাইন্ড কেভ ফিস, যা আপনি পোষা প্রানী বেচাকেনা হয় এমন দোকান থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন), মাকড়সা, সালামান্ডার, চিংড়ী এবং গুবরে পোকা বা বীটল; এমন ব্লাইন্ড কেভ ক্রেফিসও আছে যাদের এখনও চোখের স্টক বা বোটাটি আছে, কিন্তু তার উপর কোন চোখ নেই।

ছবি: European Mole (Talpa europaea)

তিমিরা হচ্ছে নানা বিলুপ্ত প্রায় বা ভেস্টিজিয়াল অঙ্গের খনি ; অনেক জীবিত প্রজাতির ভেস্টিজিয়াল পেলভিস এবং পায়ের হাড় আছে, যারা, আগের অধ্যায়ে যেমনটি দেখেছিলাম, চার পেয়ে স্থলবাসী পুর্বসুরীদের থেকে তাদের বিবর্তনের স্বাক্ষ্য দিচ্ছে; মিউজিয়ামে আপনি যদি পুর্ণ একটি তিমির কংকাল এর দিকে তাকিয়ে লক্ষ্য করেন, প্রায়ই হয়তো দেখতে পাবেন খুব ছোট পেছনের পা আর পেলভিস মুল কাঠামো থেকে ঝুলে আছে, তার দিয়ে বাধা অবস্থায়। এর কারন হচ্ছে জীবিত তিমিদের শরীরের অন্যান্য হাড়ের সাথে এদের সরাসরি যোগাযোগ নেই, তারা শরীরের নরম কোষ বা কলায় লুকানো থাকে; তারা কোন একসময় কংকালের সাথে যুক্ত ছিল, কিন্তু তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং আকারেও ছোট হয়ে পড়ে যখন তাদের আর কোন প্রয়োজন পড়েনি। প্রানীদের ভেস্টিজিয়াল বা বিলুপ্ত প্রায় অঙ্গর তালিকা করলে পুরো একটি বিশাল ক্যাটালগ পুর্ণ হয়ে যাবে। ডারউইন নিজে, তরুন বয়সে, একজন অত্যন্ত উৎসাহী বীটল বা গুবরে পোকার সংগ্রাহক , উল্লেখ করেছিলেন, কিছু উড়তে অক্ষম বীটলদের এখনও প্রায় অবলু্প্ত পাখনা আছে তাদের মিশে যাওয়া পাখনার ঢাকনার নীচে ( গুবরে পোকার খোলস);

ছবি: তিমিদের ভেস্টিজিয়াল পেলভিস আর পেছনের পা দেখাচ্ছেন জেরী কয়েন

 ছবি: Dorudon atrox ( পেলভিস এবং পেছনের পা ভেস্টিজিয়াল) (উইকিপেডিয়া)

মানুষদেরও অনেক বিলুপ্ত প্রায় বৈশিষ্ট আছে যা প্রমান করছে আমরা বিবর্তিত হয়েছি ; এদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হচ্ছে অ্যাপেনডিক্স, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা ভার্মিফর্ম (কেচোর মত দেখতে আকারে) অ্যাপেনডিক্স; খুব সরু পেন্সিলের আকারের, নলের মত একটি টিস্যু যা আমাদের অন্ত্রনালীতে একটি থলি বা সিকামের শেষ অংশটি তৈরী করে। সিকাম অবস্থান করে বৃহদান্ত্র ও ক্ষুদ্রান্তের সংযোগস্থলে; অন্য অনেক ভেস্টিজিয়াল বৈশিষ্টের মতই অ্যাপেনডিক্স এর আকার ও এর ক্রমবিকাশের ধাপগুলো বেশ ব্যপকভাবেই বৈচিত্রময়: মানুষের ক্ষেত্রে এর দৈর্ঘ এক ইন্চি থেকে প্রায় ১ ফুটের কিছুটা বেশী হতে পারে, এবং এমনকি কিছু মানুষ এটি ছাড়াই জন্ম নিতে পারে।


ছবি: অ্যাপেনডিক্স এর একটি ডায়াগ্রাম


ছবি: অ্যাপেনডিসাইটিসের সময় ফুলে ওঠা অ্যাপেনডিক্স

কিছু নিরামিশাষী প্রানীরা, যেমন কোয়ালা, খরগোশ এবং ক্যাঙ্গারুর ক্ষেত্রে, সিকাম এবং এর অ্যাপেনডিক্স প্রান্তটি আকারে আমাদেরটির চেয়ে অনেক বড়। এবং একই ভাবে এটি সত্যি পাতা খাওয়া প্রাইমেটরা যেমন লেমুর, লরিসেস এবং স্পাইডার মাঙ্কিদের ক্ষেত্রে। এদের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত আকারে বড় হওয়া পাউচগুলো কাজ করে ফারমেন্টিং বা গাজানো প্রক্রিয়ার এর জায়গা হিসাবে ( যেমন গরুর অতিরিক্ত পাকস্থলীগুলো), যেখানে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া থাকে যা প্রানীটিকে সাহায্য করে সেলুলোজকে ভেঙ্গে সহজে শোষনযোগ্য শর্করাতে রুপান্তরিত করার জন্য। যেসমস্ত প্রাইমেটদের খাদ্যতালিকায় কম পাতা থাকে, যেমন ওরাং উটান বা ম্যাকাক রা, তাদের এই সিকাম আর অ্যাপেনডিক্স অংশটি আকারে অপেক্ষাকৃত ছোট হয়; মানুষের ক্ষেত্রে, শক্তি প্রদান কারী খাদ্য হিসাবে আমরা পাতা খাইও না, এ ছাড়া এর সেলুলোজকে আমরা ভাঙ্গতেও পারিনা পরিপাক করার জন্য, ‍মানুষের ক্ষেত্রে অ্যাপেনডিক্স প্রায় নেই বললেই চলে। স্পষ্টতই কোন প্রানী যত কম তৃণভোজী, ততই ছোট হবে তার সিকাম ও অ্যাপেনডিক্স। অন্যভাবে বলা যেতে পারে, আমাদের অ্যাপেনডিক্স হচ্ছে শুধুমাত্র এমন একটি অঙ্গের অবশিষ্টাংশ বা প্রায় অবলুপ্ত একটি অবস্থা যা আমাদের পাতা খাওয়া পুর্বসুরীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ছিল কিন্তু আমাদের জন্য এর সত্যিকারের কোন প্রয়োজনীয়তা নেই।

অ্যাপেনডিক্স কি আমাদের জন্য কোন উপকারী কাজ করে? যদি তাই হয়েও থাকে, ব্যপারটা স্পষ্ট নয়। কারন এটিকে শরীর থেকে বাদ দিলে কোন খারাপ প্বার্শপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেনা বা মৃত্যুর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় না (আসলেই, এটি সরিয়ে ফেললে কোলাইটিস হবার সম্ভাবনার হার কমে যায়); জীবাশ্মবিদ আলফ্রেড রোমার তার বিখ্যাত পাঠ্যবই The Vertebrate Body এ অ্যাপেনডিক্স নিয়ে আলোচনা করা সময় শুষ্কভাবে মন্তব্য করেছিলেন, ”এর প্রধান গুরুত্ব আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে শল্য চিকিৎসক পেশাজীবিদের আর্থিক সহায়তা করা।” কিন্তু নিরপেক্ষ ভাবে বললে এর সামান্য কিছু উপযোগিতা আছে; অ্যাপেনডিক্স এর কিছু কোষের গুচ্ছ আছে যা ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ তন্ত্রের অংশ হয়ে কাজ করতে পারে; এছাড়া বলা হয়ে থাকে, এটি উপকারী আন্ত্রিক ব্যাকটেরিয়াদের একটি আশ্রয় স্থল হতে পারে,যখন কোন সংক্রমন তাদের বাকী আন্ত্রিক নালী থেকে বিতাড়িত করে।

কিন্তু এধরনের ছোটখাট সুবিধা নিশ্চয়ই মানুষের অ্যাপেনডিক্স এর সাথে সংশ্লিষ্ট বড় অসুবিধার তুলনায় তেমন কিছুই না; খুব সংকীর্ণ ব্যাসের নালীর কারনে প্রায়ই এটি খাদ্য কনা দিয়ে আটকে যাবার সম্ভাবনা থাকে, যার ফলাফল হচ্ছে এটির সংক্রমন আর প্রদাহ, অ্যাপেনডিসাইটিস নামে যা আমাদের কাছে পরিচিত; যদি চিকিৎসা না করা হয়, এভাবে প্রদাহের কারনে ফুলে ফেটে যাওয়া অ্যাপেনডিক্স আপনার মৃত্যুর কারন হতে পারে নিশ্চিৎভাবে। আপনার সারা জীবনে অ্যাপেনডিসাইটিস হবার সম্ভাবনা ১৫ বারে ১ বার; সৌভাগ্যজনক ভাবে শল্য চিকিৎসার সাম্প্রতিক বিবর্তনীয় পরিবর্তনের কারনে অ্যাপেনডিসাইটিসে আক্রান্ত হবার পর আপনার মরার সম্ভাবনা শতকরা মাত্র ১ ভাগ।কিন্তু উনবিংশ শতাব্দীতে ডাক্তাররা প্রদাহযুক্ত অ্যাপেনডিক্স অপসারন করার প্রক্রিয়া শুরু করা আগে মৃত্যুর হার ২০ শতাংশরও বেশী হতো কোন কোন সময়ে। অন্যার্থে সার্জারীর মাধ্যমে অপসারনের আগে, প্রতি ১০০ জনে ১ জনের বেশী মানুষ অ্যাপেনডিসাইটিসে মৃত্যুবরণ করতেন, সেটা বেশ শক্তিশালী প্রাকৃতিক নির্বাচন।

মানব বিবর্তনের বিশাল সময় জুড়ে – প্রায় ৯৯ শতাংশ ভাগ – কোন শল্য চিকিৎসক ছিল না, আমরা আমদের পেটের মধ্যে টিক টিক করে এগিয়ে চলা টাইম বোম্ব নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি।যখন আপনি অ্যাপেনডিক্স এর সামান্য সুবিধা এর অনেক বড় অসুবিধার সাথে তুলনা করবেন, স্পষ্ট প্রতীয়মান হবে যে এটি না থাকাই আমাদের জন্য ভালো। কিন্তু এটা ভালো বা খারাপ যাই হোক না কেন, অ্যাপেনডিক্স একটি ভেস্টিজিয়াল অঙ্গ কারন এটি যে কাজের জন্য বিবর্তিত হয়েছে সেই কাজটি আর এটি করছে না।

তাহলে কেন এখনও আমাদের শরীরে এটি আছে? আমরা এখনও এর উত্তর জানিনা। হতে পারে হয়তো সত্যি এটা পুরোপুরি বিলু্প্ত হবার পথে কোন একটি পর্যায়ে আছে, কিন্তু আধুনিক সার্জারী অ্যাপেন্ডিক্স বহনকারী মানুষের প্রতি প্রাকৃতিক নির্বাচনের চাপ টিকে প্রায় অপসারণ করে ফেলেছে; আরেকটা সম্ভাবনা হলো যে নির্বাচনের পক্ষে এটির ক্ষতিকারকতাটিকে আরো না বাড়িয়ে অ্যাপেনডিক্সকে আসলে কিছুতেই আরো হ্রস্বকায় করা সম্ভব না, কারন আরো ছোট অ্যাপেনডিক্স বন্ধ হয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করার সম্ভাবনার ঝুকি আরো বেশী। সেটা হয়তো এর পুরোপরি বিলুপ্ত হবার পথে বিবর্তনী রোডব্লক হতে পারে।

আমাদের শরীর পুর্ণ আরো অনেক অবলুপ্ত বৈশিষ্টাবলীতে যা আমাদের প্রাইমেট বংশ ঐতিহ্যর চিহ্ন। আমদের একটি প্রায় অবলুপ্ত লেজ আছে: কক্সিক্স (Coccyx) বা আমাদের মেরুদন্ডের ত্রিভুজাকৃতি শেষ প্রান্ত, যা তৈরী হয় পেলভিসের নীচে ঝুলে থাকা কয়েকটি মেরুদন্ডের হাড়ের বা ভার্টিব্রী একীভুত হবার মাধ্যমে। যা রয়ে গেছে তাহলো আমাদের পুর্বপুরুষদের উপকারী দীর্ঘ লেজ অবশিষ্টাংশ ।এর এখনও একটি কাজ আছে ( কিছু প্রয়োজনীয় মাংশ পেশী এখনও এর সাথে যুক্ত থাকে) কিন্তু মনে রাখতে হবে এর ভেস্টিজিয়াল কোন বৈশিষ্ট কিন্তু শনাক্ত করা হয়না এর উপযোগিতা আছে কিবা নেই তা বিচার করার মাধ্যমে বরং এটি যে কাজের জন্য প্রথমত বিবর্তিত হয়েছিল, সেই কাজটি আর করছে কি করছে না সেটি বিবেচনা করে। বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত হচ্ছে কিছু মানুষের অপুর্ণভাবে বিকশিত লেজের মাংসপেশী থাকে (এক্সটেনসর কক্সিজিস, Extensor coccygis মাংস পেশী); যা হুবুহু, বানর এবং স্তন্যপায়ীদের লেজ নাড়াচড়া করার কাজে ব্যবহৃত হওয়া কর্মক্ষম মাংশপেশীর মতই। যা এখনও আমাদের কক্সিক্স এর সাথে সংযুক্ত থাকে, কিন্তু যেহেতু হাড়টি নড়তে পারে না, এই মাংশ পেশীর কোন উপযোগিতাই নেই। আপনারও একটা থাকতে পারে এবং হয়তো বা আপনার তা জানা নেই।

16-12-2012 10-40-21 PM

ছবি: ভেস্টিজিয়াল এবং অ্যাটাভিস্টিক লেজ এর পার্থক্য: উপরে বায়ে: আমাদের আত্মীয় প্রাণীদের যাদের লেজ আছে যেমন, রাফড লেমুর (Varecia variegata), যাদের লেজের বা কড্যাল (Caudal) মেরুদন্ডের হাড় বা ভার্টিব্রাগুলো বিচ্ছিন্ন (প্রথম চারটি C1-C4) ; কিন্তু মানুষের ”লেজ” বা কক্সিক্স (উপরে ডানে), মেরুদন্ডর কড্যাল হাড়গুলো পরস্পরের সংযুক্ত হয়ে ভেস্টিজিয়াল এই বৈশিষ্টটি সৃষ্টি করে। নীচে: তিন মাস বয়সী একটি ইজরায়েলী শিশুর অ্যাটাভিস্টিক লেজ; নীচে ডানদিকে লেজটি এক্সরে দেখাচ্ছে তিনটি কড্যাল মেরুদন্ডর হাড় আকারে বেশ বড় এবং আরো বেশী সুগঠিত এবং পরস্পর সংযুক্ত নয় এবং যাদের আকার প্রায় স্যাকরাল (Sacral) ভার্টিব্রীদের সমান ( S1-S5); শিশুটির এই লেজটি পরবর্তীতে অপারেশনের মাধ্যমে অপসারন করা হয়।

অন্য ভেস্টিজিয়াল মাংশ পেশী স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় শীতকালে বা কোন ভয়ের সিনেমা দেখার সময়। এগুলো Arrector pili, খুব ছোট মাংশপেশী, যারা শরীরের প্রতিটি চুলের গোড়ায় সংযুক্ত থাকে, যখন তারা সংকোচিত হয়, চুল গুলো সোজা হয়ে দাড়িয়ে উঠে, যা আমাদের গায়ে কাটা দিয়ে ওঠা বা গুজ বাম্প এর কারণ- গুজ বাম্প বলা হয় কারন অবস্থাটা দেখতে পালক উঠানো হাসের মত দেখতে; গায়ে কাটা দিয়ে ওঠা এবং এর কারন যে মাংশপেশীগুলো কোন উপযোগী কাজে আসে না, অন্তত মানুষের ক্ষেত্রে। অন্য স্তন্যপায়ীদের ক্ষেত্রে তারা গায়ের লোম বা ফার কে উচু করে তোলে ইনসুলেশন বা ঠান্ডা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে এবং এটি প্রানীদের আকারে অপেক্ষাকৃত বড় দেখায় যখন তারা কোন ভয় দেখায় বা ভয় পায়।একটা বিড়ালের কথা ভাবুন, যার গায়ের লোম ফুলে ওঠে যখন এরা রেগে যায় বা তাদের ঠান্ডা লাগে। আমাদের ভেস্টিজিয়াল গুজ বাম্প ঠিক একই উদ্দীপনার দ্বারাই সৃষ্টি হয় – ঠান্ডা বা কোন একটি অ্যাড্রেনালিনের (হরমোন) রাশ;

এবং এবার শেষ উদহারনটি দেই: আপনি যদি আপনার কান নাড়াতে পারেন, তাহলে আপনি বিবর্তনকে প্রদর্শন সহ প্রমান করে দেখাতে পারবেন। আমাদের মাথার উপরের চামড়া বা স্কাল্প বা মাথার তালুর নীচে তিনটি মাংশপেশী আছে যারা আমাদের কানের সাথে সংযুক্ত থাকে। বেশীরভাগ মানুষের জন্য তারা কোন কাজে আসে না, কিন্তু কিছু মানুষ আছেন যারা তাদের কান নাড়াতে এগুলো ব্যবহার করতে পারেন ( আমি সেই ভাগ্যবানদের একজন এবং প্রতিবছর আমি আমার এই বিশেষ দক্ষতাটি প্রদর্শন করি বিবর্তন বিষয়ে লেকচার দেবার সময়, ছাত্র ছাত্রীরা বেশ মজা‍ও পায়); অন্য প্রানীরাও ঠিক এই মাংশপেশীগুলোই ব্যবহার করে -যেমন বিড়াল এবং ঘোড়ারা -তাদের কান নাড়াচাড়া করতে, শব্দর উৎস শনাক্ত করার জন্য যা তাদের সাহায্য করে। এই সব প্রজাতিদের মধ্যে কান নাড়ানো তাদের সাহায্য করে শিকারী প্রানীদের কিংবা তাদের শিশুদের অবস্থান নিশ্চিৎ করতে এবং এরকম আরো কিছু কাজ করার ক্ষেত্রে। কিন্তু মানুষের জন্য এটির মজা দেখানো ছাড়া আর কিছু করার নেই; ((তিমিদের বহিকর্ণ বা কানের বাইরের অংশটি থাকে না, তবে তাদের কান নাড়াবার মাংশপেশী থাকে, যদিও তারা কর্মক্ষম না, প্রায়শই খুব ছোট অপ্রয়োজনীয় কানের ফুটো থাকে, এসবই তারা উত্তরাধিকার সুত্রে পেয়েছে তাদের স্থলবাসী স্তন্যপায়ী পুর্বসুরীদের কাছ থেকে));

জীনতত্ত্ববিদ থিওডোসিয়াস ডোবঝানস্কির একটি উদ্ধৃতি যা এই অধ্যায়ের শুরুতে ব্যবহার করা হয়েছে সেটা ব্যবহার করে বলা যায়, প্রায় বিলুপ্ত বা ভেস্টিজিয়াল বৈশিষ্টকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব শুধুমাত্র বিবর্তনের আলোকে। কখনো কাজের, কিন্তু প্রায়ই কোন কাজের না, তারা ঠিক সেরকম বৈশিষ্ট, যা আমরা খুজে পাবার জন্য প্রত্যাশা করি, যদি প্রাকৃতিক নির্বাচন ধীরে ধীরে অপ্রয়োজনীয় বৈশিষ্টগুলো অপসারন করে বা তাদেরকে নতুন অন্য কাজের জন্য, আরো অভিযোজনীয় লক্ষ্যে নতুন করে সাজায়। ক্ষুদ্র, অকেজো ডানা, বিপদজনক অ্যাপেনডিক্স, চোখ যার দৃষ্টিক্ষমতা নেই এবং মজার কান নাড়ানোর মাংশ পেশীগুলো আসলে কোন ভাবেই অর্থবহ হয় না, প্রতিটি প্রজাতিকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে এমনভাবে যদি আপনি চিন্তা করেন ।

_______________________________________________ চলবে

Advertisements
জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( প্রথম পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s