জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( শেষ পর্ব)

ছবি: রেটিনা: আমাদের চোখের পেছনে স্নায়ুকোষ, ফটোরিসেপ্টর ও নানা সহযোগী কোষের একটি স্তর। এটি আলোক সংকেতকে স্নায়ুসংকেতে রুপান্তরিত করে অপটিক নার্ভের মাধ্যমে আমাদের ব্রেনে ভিজুয়াল ইনফরমেশন প্রেরণ করে, যা আমাদের দেখার অনুভুতি সৃষ্টি করে।  রঙ্গীন কোন দৃশ্য দেখাটা নির্ভর করে কোন ( CONE) নামের একধরনের ফটোরিসেপ্টরের উপরে, যারা কোনের মতোই দেখতে এবং আলোক সংবেদী বিশেষ পিগমেন্ট বহন করে, যা আলোর সংস্পর্শে আসলে সক্রিয় হয়ে ওঠে। অন্য যে ফটোরিসেপ্টরগুলো আমাদের কম আলোয় (যেমন রাতে) দেখতে সাহায্য করে তাদের নাম রড (ROD); এই রড এবং কোন কোষগুলো রেটিনার একদম পেছনের স্তরে, অন্য অনেক সহযোগী কোষের পিছনে অবস্থান করে যারা সবাই আমাদের দৃষ্টি ক্ষমতার জন্য দায়ী। (ছবিসুত্র ANDREW SWIFT (retina illustrations); Scientific American); মেরুদন্ডী প্রানীদের চোখের মধ্যে বিবর্তন যত অসাধারন সুক্ষতম বৈশিষ্টই যোগ করুক না কেন, এর বেশ কিছু বড় মাপের ডিজাইন সমস্যাও আছে; যেমন আমাদের চোখের রেটিনাটা আসলে উল্টোভাবে সাজানো, অর্থাৎ ভেতরের দিকটা বাইরে আর বাইরের দিকটা ভেতরে। সুতরাং আলোকে রেটিনার আলোক সংবেদী পিগমেন্টের কাছে পৌছাতে রেটিনার পুরো প্রস্থটা পাড়ি দিতে হয়, যে পথে আছে স্নায়ুকোষের অসংখ্য প্রসেস দিয়ে তৈরী জালিকা, মধ্যবর্তী বাইপোলার কোষের স্তর, এছাড়া কোষ দেহ; যারা আলোকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের পথে প্রতবিন্ধকতা তৈরী করে এবং ফলে ইমেজ বা ছবির গুনগত মানও কমে যায়। অসংখ্য রক্তনালীকাও থাকে রেটিনার ভেতরের স্তরে, যারা অনাকাঙ্খিত ছায়া ফেলে রেটিনার ফটোরিসেপ্টর স্তরের উপর। এছাড়ার রেটিনার একটা ব্লাইন্ড স্পটও আছে (যেখানে কোন ফটোরিসেপ্টর কোষ থাকেনা), রেটিনার উপরের স্তর দিয়ে  সাজানো বিস্তৃত নার্ভ ফাইবারগুলো এই ব্লাইন্ড স্পটে এসে একসাথে জড়ো হয়ে রেটিনার ভিতর দিয়ে একটি সুড়ঙ্গর মত পথ করে রেটিনা পেছন দিয়ে অপটিক নার্ভ হয়ে বের হয়ে যায়; এই ধরনের  ডিজাইন সমস্যার তালিকা আরো দীর্ঘ।

3_final
ছবি: বিবর্তনের চিহ্ন : মেরুদন্ডী প্রানীদের চোখ ভালো করলেই লক্ষ্য করা যায়, এটি আদৌ কোন ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনের নমুনা নয়, বরং এর মধ্যে অসংখ্য ক্রটি আছে, যা এর বিবর্তনের স্বাক্ষ্য বহন করে। এর কিছু ক্রটি আমাদের চোখের ইমেজ বা ছবি তৈরীর গুনগত মান কমিয়ে দেয়, যেমন তাদের মধ্যে আছে উল্টো করে সাজানো রেটিনা ( যার ভিতরের দিকটি বাইরে এবং  বাইরের দিকটি ভিতরে), এ কারনে আলো কে একেবারে পেছনের স্তরে অবস্থিত ফটোরিসেপ্টরে পৌছাতে নানা ধরনের কোষ দেহ আর স্নায়ু ফাইবারের জালিকার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়(১); রেটিনার উপর রক্তনালীকারা রেটিনার উপর অনাকাঙ্খিত ছায়া ফেলে (৩);  সব স্নায়ু ফাইবারগুলো রেটিনা উপর দিয়ে এসে একজায়গায় জড়ো হয়ে রেটিনার মধ্য দিয়ে একটা ছিদ্র দিয়ে ঢুকে রেটিনার পিছনে অপটিক নার্ভ হিসাবে বের হয়ে যায়, এভাবে রেটিনার মধ্যে এটি একটি ব্লাইন্ড স্পট তৈরী করে (২); সুত্র:  Illustration by Don Foley / ‍Scientific American)

কিংবা এই লেখাটিও দেখতে পারেন : আমাদের প্রাচীন শরীর বা চোখের বিবর্তন

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায় (শেষ পর্ব)
(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)
Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব ;  দ্বিতীয় পর্ব ; তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব , দ্বিতীয় পর্ব , তৃতীয় পর্ব

অবশিষ্টাংশ: ভেস্টিজ, ভ্রূণ এবং খারাপ ডিজাইন

If a designer did  have discernible motives when creating species, one of them must surely have been to fool biologists by making organisms look as though they evolved. Jerry Coyne

খারাপ ডিজাইন

নানা কারনে ভুলে যাবার মত সিনেমা Man of the Year  এ কমেডিয়ান রবিন উইলিয়ামস অভিনয় করেছিলেন একজন টেলিভিশন টক শো উপস্থাপকের ভুমিকায়, যিনি অদ্ভুত সব ঘটনার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তার নির্বাচন পুর্ববর্তী বিতর্কে, উইলিয়ামস এই চরিত্রটির কাছে জানতে চাওয়া হয় ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন সম্বন্ধে তার মতামত কি; তার উত্তর ছিল, ”সবাই বলছে ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন – আমাদের ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন নাকি অবশ্যই শেখাতে হবে- মানুষের শরীরের দিকে তাকিয়ে দেখুন, এটা টি কোন ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন হতে পারে?  আপনার বর্জ পদার্থ নিষ্কাষন করার প্ল্যান্ট আছে ঠিক আপনার বিনোদন কেন্দ্রর পাশে!”

Continue reading “জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( শেষ পর্ব)”

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( শেষ পর্ব)

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( তৃতীয় পর্ব)

ছবি: মানব ভ্রুণ এবং হাঙ্গর ভ্রুণ ( সুত্র : নোভা/পিবিএস। ভ্রুণের ছবির ইলাস্ট্রেশন কাল্লিওপি মনোইয়োস,Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5 Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া); বড় করে দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন ;


ছবি: আমাদের শরীরে বিবর্তনের অনেক চিহ্নের একটি;  শুক্রনালীর এই বাকা পথ বেছে নেবার ইতিহাস পুরুষদের যৌনগ্রন্থির বৃদ্ধি আর ক্রমবিকাশের সাথে সম্পৃক্ত। হাঙ্গর,মাছ এবং অন্যান্য অস্থিবিশিষ্ট প্রানীদের মতই মানুষেরও যৌনগ্রন্থির বৃদ্ধি আর ক্রমবিকাশ ঘটে। গোনাড বা যৌনগ্রন্থি :পুরুষদের অণ্ডকোষ এবং মহিলাদের ডিম্বাশয়,উভয় ক্ষেত্রেই ভ্রুণাবস্থায় তাদের অবস্থান থাকে শরীরের উপরের অংশে, যকৃত বা লিভারের কাছাকাছি, কারণ যে সকল কোষ সমুহের পারস্পরিক অবস্থান এবং সহযোগিতা থেকে এসব গ্রন্থির সৃষ্টি হয়, তাদের অবস্থান সম্ভবত এখানে বলে ধারনা করা হয়। পুর্নবয়স্ক হাঙ্গর বা মাছের যৌনগ্রন্থি সাধারনত: শরীরের উপরিভাগে যকৃতের কাছাকাছি থাকে এবং তারা তাদের এই আদি অবস্থানেই থাকে কারণ তাদের শুক্রাণু শরীরের অভ্যন্তরেই ক্রমবিকাশ এবং পূর্ণতা লাভ করতে পারে। 
আমাদের মত স্তন্যপায়ী প্রানীদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। পুরুষ ভ্রুন যখন বেড়ে উঠতে থাকে, তাদের যৌনগ্রন্থিও ধীরে ধীরে নীচে নামতে থাকে, স্ত্রী ভ্রুনদের ক্ষেত্রে এই নেমে আসাটা শরীরের ভিতরে নীচে অবস্থিত জরায়ু এবং ফেলোপিয়ান টিউবের কাছে এসে থেমে যায়, যা নিশ্চিৎ করে ডিম্বানুকে যেন জরায়ু গহবরে নিষিক্ত হবার জন্য বেশী দুরত্ব অতিক্রম না করতে হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে আরো নীচের দিকে নেমে আসে অন্ডকোষ, একেবারে স্ক্রোটাম বা অন্ডকোষের থলিতে, যা দেহের সামনে ঝুলে থাকে। কার্য্যক্ষম শুক্রানু তৈরী করার জন্য এই নেমে আসার বিষয়টা অত্যন্ত্য গুরুত্বপুর্ণ। এর একটা সম্ভাব্য কারণ হিসাবে মনে করা হয় যে, স্তন্যপায়ীরা উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট এবং শুক্রানুর সংখ্যা ও এর গুনগত মান দুটোই নির্ভর করে আমাদের মুল শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা অপেক্ষা কম কোন তাপমাত্রা বিশিষ্ট কোন স্থানে ক্রমবিকশিত হওয়ার উপর। সেকারনেই স্তন্যপায়ীদের অন্ডকোষ, শরীরের ভিতরের উষ্ণতা থেকে অপেক্ষাকৃত কম উষ্ণ শরীরের বাইরের অন্ডকোষের থলিতে অবস্থান করে, এই থলিটি তাপমাত্রা বাড়া কমার সাথে ওঠানামা (থলির গায়ের পেশীর সংকোচন এবং প্রসারনের মাধ্যমে) করে শুক্রানুর সুষ্ঠু বৃদ্ধিকে ‍নিশ্চিৎ করে। বড় করে দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন;

কিংবা এই লেখাটিও দেখতে পারেন : আমাদের প্রাচীন শরীর

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)
(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)
Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব ;  দ্বিতীয় পর্ব ; তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব , দ্বিতীয় পর্ব

অবশিষ্টাংশ: ভেস্টিজ, ভ্রূণ এবং খারাপ ডিজাইন

ভ্রুণের প্যালিম্পসেস্ট

ডারউইনের সময়ের অনেক আগে থেকেই জীববিজ্ঞানীরা ব্যস্ত ছিলেন ভ্রুনতত্ত্ব বা এমব্রায়োলজী ( কেমন করে প্রানীরা ভ্রুণ থেকে ক্রমবিকশিত হয়) এবং তুলনামুলক অ্যানাটমী ( বিভিন্ন প্রানীদের গঠনগত সাদৃশ্য এবং বৈসাদৃশ্য নিয়ে আলোচনা) নিয়ে গবেষনায়। তাদের সম্মিলিত কাজ বহু অদ্ভুত বৈশিষ্টর সন্ধান পেয়েছিল, সেই সময় যার কোন অর্থ তারা বুঝতে পারেন নি। যেমন, সব মেরুদন্ডী প্রানী তাদের ভ্রুণ ক্রমবিকাশ শুরু করে একই প্রক্রিয়ায়, যা দেখতে অনেকটা মাছের ভ্রুণের মত। এই ভ্রুণতাত্ত্বিক বিকাশ প্রক্রিয় যতই অগ্রসর হয়, বিভিন্ন প্রজাতির বৈশিষ্টসুচক নানা রুপ প্রকাশ পেতে শুরু করে-কিন্তু অদ্ভুত সব উপায়ে। কিছু রক্তনালী, স্নায়ু এবং অঙ্গ যা সব প্রজাতির ভ্রুণে থাকে সেগুলো হঠাৎ করে অপসৃত হতে শুরু করে এবং বাকীগুলো অদ্ভুত সব আকাবাকা পথ নিতে দেখা যায় এবং অবশেষে এই ভ্রুততাত্ত্বিক বিকাশ প্রক্রিয়ার নৃত্য সমাপ্ত হয় বিভিন্ন পুর্ণবয়স্ক প্রানী, যেমন মাছ, সরীসৃপ, পাখি, উভচরী এবং স্তন্যপায়ী রুপ ধারন করার মাধ্যমে। যখন তাদের সবার ভ্রুনতাত্ত্বিক বিকাশ শুরু হয়েছে তারা দেখতে অনেক বেশী ‍পরস্পর সদৃশ ছিল। ডারউইন একটি কাহিনীটির বর্ণনা দিয়েছিলেন কিভাবে বিখ্যাত জার্মান ভ্রুণতত্ত্ববিদ কার্ল আর্ণষ্ট ভন বায়ের ধাধার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন মেরুদন্ডী প্রাণীদের ভ্রুণদের পারস্পরিক সাদৃশ্যতা লক্ষ্য করে। ভন বায়ের ডারউইনকে লিখেছিলেন:

Continue reading “জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( তৃতীয় পর্ব)”

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( তৃতীয় পর্ব)

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( দ্বিতীয় পর্ব)


ছবি: প্লাটিপাস (Ornithorhynchus anatinus); হাসের মত ঠোট, মোটা চ্যাপ্টা লেজ, পুরুষদের পেছনের পায়ে বিষ মাখানো কাটার  মত স্পার এবং স্ত্রী প্লাটিপাসদের ডিম পাড়ার ক্ষমতা সহ অষ্ট্রেলিয়ার প্লাটিপাস বহু ভাবে অদ্ভুত বিচিত্র একটি প্রানী। যদি কোন প্রানীকে অবুদ্ধিমত্তাপুর্ণ উপায়ে পরিকল্পনা বা সৃষ্টিকর্তার নিজের খামখেয়ালী মজার উপাদান হিসাবে সৃষ্টি করেছেন বলে মনে করা হয়ে থাকে –সন্দেহ নেই সেটা হবে প্লাটিপাস। কিন্তু প্লাটিপাসের একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট আছে: অন্য সব মেরুদন্ডী প্রানীদের যেমন থলির মত পাকস্থলী থাকে, যেখানে খাদ্য পরিপাকের জন্য পক্রিয়াকরন হয় বিভিন্ন এনজাইমের দ্বারা -, এদের তা থাকে না। প্লাটিপাসের পাকস্থলী হচ্ছে তাদের খাদ্যনালীর একটি হালকা স্ফীতকায় অংশ যা  সরাসরি অন্ত্রের সাথে সংযুক্ত। এই পাকস্থলীতে মেরুদন্ডী প্রানীদের মত এনজাইম তৈরীর কোন গ্রন্থি থাকে না। আমরা এখনও নিশ্চিৎ না কেন বিবর্তন তাদের এই পাকস্থলীটিকে অপসারন করেছে –হয়তো প্লাটিপাসের খাদ্য মুলত নরম শরীরের পোকামাকড় যাদের হজম করার জন্য বেশী প্রক্রিয়াকরণ করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমরা জানি প্লাটিপাস বিবর্তিত হয়েছে পাকস্থলী আছে এমন পুর্বসুরী প্রানীদের থেকে; এর একটি কারন হলো প্লাটিপাসের জীনোমে দুটি সিউডোজীনের অস্তিত্ব আছে, যারা হজমে ব্যবহৃত হবার এনজাইম তৈরী করে, যেহেতু তাদের প্রয়োজন নেই আর তারা মিউটেশনের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে, কিন্তু এখনও তারা এই অদ্ভুত প্রানীটির বিবর্তনের চিহ্ন বহন করে চলেছে।

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)
Why Evolution Is True: Jerry A. Coyne

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব ;  দ্বিতীয় পর্ব ; তৃতীয় পর্ব চতুর্থ পর্বশেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব

অবশিষ্টাংশ: ভেস্টিজ, ভ্রূণ এবং খারাপ ডিজাইন

অ্যাটাভিজম (Atavisms) বা
বেশ কয়েক প্রজন্মর মধ্যে দেখা যায় নি এমন কোন একটি বৈশিষ্ট্যর পুনরাবির্ভাব

মাঝে মাঝে প্রজাতির কোন একজন সদস্যর আবির্ভাব ঘটে কিছু অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট নিয়ে যা দেখলে মনে হয় পুর্বসুরীদের কোন বৈশিষ্টের পুনরাবির্ভাব ঘটেছে। যেমন কোন সময় একটি ঘোড়ার জন্ম হতে পারে বাড়তি পায়ের আঙ্গুল সহ  বা লেজ সহ কোন মানুষের বাচ্চা। এই মাঝে মাঝে পুর্বপুরুষের কোন বৈশিষ্টর প্রায় অবশিষ্টাংশ বা রেমন্যান্ট হিসাবে প্রকাশ পাওয়াকে বলে অ্যাটাভিজমস; শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন অ্যাটাভাস বা পুর্বপুরুষ।কোন ভেস্টিজিয়াল বৈশিষ্ট থেকে তারা আলাদা কারন তাদের দেখা যায় কদাচিৎ, প্রজাতির সব সদস্যদের মধ্যে না।

সত্যিকারের অ্যাটাভিজম হতে হলে পুনরাবির্ভাব হওয়া বৈশিষ্টগুলোকে অবশ্যই পুরুসুরী বা অ্যানসেস্ট্রাল বৈশিষ্ট হতে হবে এবং সেটিকে বেশ সদৃশ্যতাও বহন করতে হবে প্রাচীন বৈশিষ্টটির। তারা কেবল কোন বিকট অস্বাভাবিক কোন বৈশিষ্ট না ; যেমন, কোন একজন মানুষ একটি বাড়তি পা সহ জন্ম নিতে পারে, তবে এটি কোন অ্যাটাভিজম নয় কারন আমাদের কোন উত্তরসুরীরই পাচটি হাত পা বা লিম্ব ছিল না; সবচেয়ে বিখ্যাত প্রকৃত অ্যাটাভিজম সম্ভবত তিমি মাছের পা। আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি, কিছু তিমির প্রজাতি তাদের শরীরে ভেস্টিজিয়াল অঙ্গ হিসাবে পেলভিস (শ্রোনীচক্র) এবং পেছনের পায়ের কিছু হাড় বহন করে কিন্তু প্রতি ৫০০ তিমির ১ টি কিন্তু আসলেই জন্ম নেয় পেছনের পা সহ যা তাদের শরীরের বাইরে বের হয়ে থাকে। এই পা গুলোর পায়ের অন্য সব বৈশিষ্টই থাকে এবং অনেকগুলোই স্পষ্টভাবে স্থলবাসী স্তন্যপায়ীদের প্রধান প্রধান পায়ের হাড়গুলো বিদ্যমান থাকে – ফিমার, টিবিয়া এবং ফিবুলা, কারো পায়ের নীচের অংশ এবং আঙ্গুলও থাকে!

Continue reading “জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( দ্বিতীয় পর্ব)”

জেরী কয়েন এর হোয়াই ইভোল্যুশন ইজ ট্রু : তৃতীয় অধ্যায়( দ্বিতীয় পর্ব)

জাপানীদের নানকিং ধর্ষন….ইতিহাসের পুণরাবৃত্তি কি ঘটতেই থাকবে…?

১৩ ডিসেম্বর, ১৯৩৭….

চীনের তৎকালীন রাজধানী নানকিং (নানজিং) …

প্রায় ৪০০০০০ বেসামরিক মানুষ আর অস্ত্রসমর্পনকারী চীনা সেনাদের হত্যা করে জাপানী সেনারা নির্বিচারে নজির বিহীন নৃশংসতায়;
সেনাদের গণ ধর্ষন আর বীভৎস হত্যাযজ্ঞে রেহাই পাইনি সামান্য শিশুও। ধর্ষন করার পর বীভৎসতম উপায়ে তাদের হত্যা করা হয়…
না জাপানীরা স্বীকার করেনি তারা এই সব করেছিল ….. কিন্তু তাদের অপকর্মের প্রমান তারা রেখে গিয়েছিল;
যুদ্ধাপরাধী সেই সামরিক নেতাদের নামে জাপানে একটি মন্দির আছে… ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেবার এই প্রচেষ্টা আজো শেষ হয়নি… ইতিহাসের পুণরাবৃত্তি হয়েছে…

১৯৭১ এ আমাদের বাংলাদেশে..পাকিস্থানী সেনারা ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকাররা,
এখনও যারা বীরদর্পে আমাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে চলছে।

সেই সব কথা মনে করেই ….. আরো একবার ইতিহাসের জানালায় ….

জাপানীদের নানকিং ধর্ষন….ইতিহাসের পুণরাবৃত্তি কি ঘটতেই থাকবে…?