রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : তৃতীয় অধ্যায় (শেষ পর্ব)


ছবি: বন্য সিলভার ফক্স, সাধারন রেড ফক্স এর একটি কালার ভ্যারিয়ান্ট


ছবি: মানুষের কৃত্রিম নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট পোষ মানা সিলফার ফক্স, সিলেক্টিভ ব্রিডিং এর মাধ্যমে পরিবর্তিত বৈশিষ্ট্য

মাত্র কয়েক প্রজন্ম সিলেকটিভ ব্রিডিং এর মাধ্যমে পরিবর্তিত সিলভার ফক্স; পোষা আর বুনো সিলভার ফক্স এর মধ্যে পার্থক্যগুলো খেয়াল করুন; (নীচে বিষয়টি নিয়ে আরো আলোচনা আছে)

ছবি: চিহুয়াহুয়া (Chihuahua) এবং গ্রেট ডেন (Great Dane): দুজনেই চামড়ার নীচে আসলে নেকড়ে। মাত্র কয়েক শতাব্দীর কৃত্রিম নির্বাচন বা
সিলেকটিভ ব্রীডিং এর ফলে সৃষ্ট এই দুই জাতের কুকুরের ব্যাহ্যিক চেহারা দেখে তা কি অনুমান করা সম্ভব?

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  তৃতীয় অধ্যায় (শেষ পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)
তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)

 ম্যাক্রোইভোল্যুশনের দিকে মসৃন পথ …..

__________________

ইদুরের দাত:

কৃত্রিম নির্বাচনের মাধ্যমে ইদুরের দাতের উন্নতি সাধন করা কেন এত সহজ,প্রাকৃতিক নির্বাচন কি এক্ষেত্রে তাহলে শুরুতেই ভালোভাবে কাজ করেনি? নিশ্চয়ই দাতের ক্ষয়রোগ থেকে কোন উপকারিতা আশা করা যায় না;কেন তাহলে,যদি কৃত্রিম নির্বাচন সক্ষম হয় এর প্রকোপ হ্রাস করতে,প্রাকৃতিক নির্বাচনের কি সেই একই কাজটা বহু আগে করার কথা ছিল না? এই প্রশ্নটির দুটি উত্তরের কথা আমি চিন্তা করতে পারি,দুটোই প্রাকৃতিক নির্বাচন সম্বন্ধে শিক্ষনীয়;

প্রথম উত্তরটি হলো,মুল যে জনসংখ্যা বা ইদুরের পপুলেশন,যার উপর মানুষ নির্বাচনকারীরা তাদের বাছাই করেছে গবেষণার কাচা মাল হিসাবে তারা বন্য ইদুর না,বরং গৃহপালিত গবেষনাগারে জন্ম নেয়া ইদুর;বলা যেতে পারে,ল্যাবরেটরী ইদুররা আসলে বেশী সুরক্ষিত জীবনযাপনে অভ্যস্থ,আধুনিক মানুষের মত,প্রাকৃতির নির্বাচনের ক্ষুরধার প্রান্ত থেকে;দাত ক্ষয় হবার একটি জীনগত প্রবণতা বন্য পরিবেশে তাদের প্রজনন সম্ভবানাকে যথেষ্ট পরিমানে হ্রাস করতো,যা হয়তো ল্যাবরেটরী পরিবেশে উৎপাদিত ইদুরের কলোনীতে কোন তারতম্যর কারন হয়না,কারন সেখানে তাদের জন্য টিকে থাকার জন্য পরিবেশটা অনেক সহজ এবং কে ব্রীড করবে আর কে করবে না  সেই সিদ্ধান্ত নেয় মানুষরা,তাদের ইদুরের টিকে থাকার ব্যাপারে কোন বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গী নেই;

এটা হচ্ছে প্রশ্নটির প্রথম উত্তর;দ্বিতীয় উত্তরটা আরো কৌতুহলোদ্দীপক,কারন প্রাকৃতিক নির্বাচন এবং কৃত্রিম নির্বাচনের জন্য এখানে একটি গুরুত্বপুর্ণ শিক্ষা আছে;সেটি হচ্ছে ট্রেড-অফ এর শিক্ষা বা কোন কিছুর বিনিময়ে কোন কিছু পাওয়া সংক্রান্ত একটি শিক্ষা;আমরা এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই আভাস পেয়েছি,যখন উদ্ভিদের পরাগায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছি;কোন কিছুই আসলে বিনামুল্যে পাওয়া যায়না,প্রতিটি জিনিসের জন্য কোন না কোন মুল্য পরিশোধ করতে হয়, মনে হতে পারে যেন যে কোন মুল্য পরিশোধে দাতের ক্ষয় প্রতিরোধ করা অবশ্য প্রয়োজনীয় একটি বিষয়,এবং আমি কোন সন্দেহ করিনা যে দাতের ক্যারিস ইদুরের আয়ষ্কাল কমিয়ে দেয় উল্লেখযোগ্যভাবে;কিন্তু কিছুক্ষনের জন্য বিষয়টি একটু চিন্তা করে দেখুন,কোন প্রানীর জন্য আবশ্যিক কি করতে হবে,দাতের ক্ষয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে চাইলে,আমি বিস্তারিত জানি না,তবে আমি বিশ্বাস করি তা করা বেশ ব্যয়সাপেক্ষ হবে এবং সেটা অনুমান করাই আমার প্রয়োজন;কল্পনা করুন,দাতের দেয়ালকে আরো পুরু করার মাধ্যমে এটা অর্জন করা যেতে পারে,কিন্তু তার জন্য দরকার হবে বাড়তি ক্যালসিয়াম এর,বাড়তি ক্যালসিয়াম জোগাড় করা যদিও অসম্ভব না,তবে সেটা কোন না কোন জায়গা থেকে আসতে হবে এবং সেটি বিনামুল্যে পাওয়া যাবে না;ক্যালসিয়াম (বা সীমাবদ্ধ সরবরাহের যে কোন ‍উপাদানই হোক না কেন)বাতাসে ভেসে বেড়ায় না;এটিকে খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে আসতে হবে এবং দাত ছাড়াও আরো প্রয়োজনীয় কিছুর জন্য তা যথেষ্ট উপযোগী একটি উপকরন হবার সম্ভাবনা আছে;শরীরের একটা ব্যবস্থা আছে যাকে আমরা বলতে পারি ক্যালসিয়াম ইকোনমি;হাড়ের জন্য ক্যালসিয়াম প্রয়োজন,দুধেও ক্যালসিয়াম প্রয়োজন (আমি ধরে নিচ্ছি আমরা ক্যালসিয়াম নিয়েই কথা বলছি;এমনকি এটা যদি ক্যালসিয়ামও না হয়,সেক্ষত্রে অন্য কোন মুল্যবান দুষ্প্রাপ্য সীমিত কোন উপাদান হতে হবে এবং এই যুক্তি সেক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে;সেটা যে কোন সীমিত উপাদানই হোক না কেন,আমি তর্কের খাতিরে ক্যালসিয়াম এর কথাই বলে যাবো,কোন একটি ইদুর তার হয়তো বাড়তি শক্তিশালী দাত আছে ,তার হয়তো বাজে দাত আছে এমন কোন ইদুরের চেয়ে বেশী দিন বাচারও প্রবণতা আছে,তবে যদি আর সব কিছু তাদের এক থাকে;কিন্তু অন্য সবকিছু কিন্তু এক না,কারন যে ক্যালসিয়াম দাতকে শক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয় তাকে অন্য কোথা থেকে আসতে হবে যেমন,হাড়;সেক্ষেত্রে অন্য প্রতিদ্বন্দী ইদুর, যার জীনে হাড় থেকে ক্যালসিয়াম সরানোর জন্য কোন পুর্বপ্রবনতা নেই,ফলে সেও বেশী দিন টিকে থাকে,তার বেশী মজবুত হাড়ের জন্যএমনকি তার খারাপ দাত থাকা সত্ত্বেও;অথবা প্রতিদ্বন্দী কোন ইদুর হয়তো তার শিশু প্রতিপালনকরতে বেশী দক্ষ হবে,কারন সে বেশী ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ দুধ তৈরী করবে;যেমন অর্থনীতিবিদরা রবার্ট হাইনলাইনকে উদ্ধৃত করতে ভালোবাসেন,বিনামুলে লান্চ বলে আসলে কিছু নেই; আমার ইদুরের উদহারন আসলে হাইপোথেটিকাল,নিরাপদে কিন্তু বলা যেতে পারে,অর্থনৈতিক কারনে,অবশ্যেই এমন কোন ইদুর থাকবে যাদের দাত নিখুত নয়,কোন একটি ক্ষেত্রে নিখুততা তাকে কিনতে হবে অন্য কোন ক্ষেত্রে সেটি বিসর্জন দিয়ে;

সকল জীবিত প্রানীর জন্য শিক্ষাটি  একই;আমরা আশা করতে পারি শরীরগুলো বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরনে পুর্ণ,কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে শরীরে প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের নিখুত হতে হবে;কোন একটি একটি অ্যান্টিলোপ হয়তো জোরে দৌড়াতে পারতো এবং সেকারনে হয়তো সে চিতা বাঘের হাত থেকে পালিয়েও বাচতে পারতো,যদি এর পা গুলো আরো দীর্ঘ হতো,কিন্তু তেমন কোন প্রতিদ্বন্দী অ্যান্টিলোপ, যার হয়তো সেরকমই দীর্ঘ পা আছে,এটি হয়তো চিতাবাঘের শিকার হতে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম,কিন্তু তার সেই লম্বা পায়ের জন্য তাকে মুল্য দিতে হবে শরীরের অর্থনীতিতে অন্য কোন বিভাগে; লম্বা পায়ের বাড়তি হাড় বা মাংশপেশী বানানো জন্য যে সব উপাদানগুলো প্রয়োজন তা অন্য জায়গা থেকে সংগ্রহ করতে হবে,সুতরাং অপেক্ষাকৃত লম্বা পায়ের কোন সদস্য শিকারী প্রানীর হাতে না হলে অন্য কোন উপায়ে মারা যাবার সম্ভাবনা আছে,কিংবা এমনও হতে পারে শিকারী প্রানীর কারনেই তাদের মারা যাবার সম্ভাবনা বেশী,পা ঠিক থাকলে এরা যদিও দ্রুত দৌড়াতে পারে,তবে তাদের পা ভেঙ্গে যাবার সম্ভাবনাও বেশী,সেক্ষেত্রে তারা আদৌ দৌড়াতে পারবে না;এ কারণেই শরীরটা আসলে অনেক ধরনের আপোষের একটি মিশ্রন;আমি অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে আলোচনা করার সময় এই বিষয়ে পরবর্তী কোন অধ্যায়ে আবার ফিরে আসবো;

গৃহপালিতকরণ প্রক্রিয়ায় যা ঘটে,তা হলো জীবরা কৃত্রিমভাবে সুরক্ষিত হয় নানা ধরনের ঝুকি থেকে,যা বন্যপরিবেশে তাদের জীবনকাল সাধারনত সংক্ষিপ্ত করে;কোন ভালো জাতের বা পেডিগ্রী ডেয়ারী গাভী হয়তো বিশাল পরিমান দুধ উৎপাদন করে,কিন্তু তার ঝুলে থাকা সুবিশাল ভারী মাথান বা আডারটি কোন সিংহর আক্রমন থেকে তার পালানোর প্রচেষ্টাকে নিশ্চয়ই গুরুতরভাবে ব্যহত করবে;থরোব্রেড বা বিশুদ্ধ জাতের ঘোড়ারা যেমন খুব ভালো ক্ষিপ্র গতিতে দৌড়াতে পারে, আবার লাফাতেও পারে,কিন্ত এই সব ঘোড় দৌড়ের সময় তাদের পা ক্ষতিগ্রস্থ হবার সম্ভাবনাও থাকে অনেক বেশী,বিশেষ করে যখন কোন কিছুর উপর দিয়ে তাদের লাফ দিতে হয়,যা ইঙ্গিত করে কৃত্রিম নির্বাচন তাদের এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে গেছে, প্রাকৃতিক নির্বাচন যা হয়তো সহ্য করতো না; উপরন্তু এই বিশুদ্ধ জাতের ঘোড়াগুলো তাদের পুর্ণশক্তি পায় শুধু মাত্র মানুষের সরবরাহ কৃত পুষ্টিকর খাবার গ্রহন করার মাধ্যমে,অন্যদিকে যেমন ব্রিটেনের স্থানীয় ঘোড়াগুলো বেড়ে উঠে খোলা মাঠে চরে,রেসের ঘোড়া পুষ্টিকর খাবার ও অতিরিক্ত খাদ্য উপাদান ছাড়া ঠিকমত কর্মক্ষম হতে পারেনা – যে খাদ্য তারা প্রকৃতিতে কখনোই পাবেনা,আবারও বিষয়টায় ফিরে আসবো জীবদের অস্ত্র প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত পরবর্তী অধ্যায়টি;

 আবারো কুকুর;

অবশেষে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মুল বিষয়টি পৌছানো পর,আমরা আরো একবার নজর ফেরাতে পারি কুকুরদের উদহারনের দিকে,অন্য কিছু গুরুত্বপুর্ণ শিক্ষার জন্য;আমি বলেছিলাম, তারা আসলে গৃহপালিতকরন প্রক্রিয়ায় গৃহপালিত নেকড়ে,কিন্তু দরকার আছে বিষয়টি কুকুরদের বিবর্তন সংক্রান্ত বিস্ময়কর তত্ত্বের আলোকে স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করার জন্য;রেমন্ড কপিঙ্গার যা চমৎকার করে বর্ণনা করেছেন;ধারনাটি হলো কুকুরের বিবর্তন শুধুমাত্র কৃত্রিম নির্বাচনের বিষয় ছিলনা;কমপক্ষে এটি একইভাবে,প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে নেকড়েদের মানুষের জীবনধারার সাথে খাপ খাইয়ে নেয়া বা অভিযোজনের ব্যাপারও ছিল;কুকুরদের ক্ষেত্রে, শুরুর দিকের গৃহপালিতকরণ পক্রিয়াটি মুলত ছিল আত্ম-গৃহপালিতকরন (সেলফ ডমেষ্টিকেশণ),যার মধ্যস্থতা করেছিল প্রাকৃতিক নির্বাচন,কৃত্রিম নির্বাচন না;কৃত্রিম নির্বাচনের টুলবক্সের নানা যন্ত্রপাতি আর খোদাই করার ছেনী মানুষ ‍হাতে পাবার বহু আগেই,প্রাকৃতিক নির্বাচন মানুষের কোন হস্তক্ষেপ ছাড়াই ততদিনে নেকড়েদের গড়ে পিটে রুপান্তরিত করেছিল স্ব-গৃহপালিত বা ভিলেজ বা গ্রামের কুকুর এ; শুধুমাত্র পরবর্তীতে মানুষ এই গ্রামের কুকুরদের পোষ্য নিতে শুরু করে এবং তাদের আমুল বদলে দেয়,পৃথকভাবে এবং সম্পুর্ণভাবে,বৈচিত্রময় নানা বর্ণে ও রুপের জাতে,যারা শোভা বর্ধন (যদি ‘শোভা’ সঠিক শব্দ হয়ে থাকে)করেছে ক্রাফটে (Cruft বা আন্তর্জাতিক কুকুর প্রদর্শনীত,যা ইংল্যান্ডে কেনেল ক্লাব আয়োজন করে প্রকতি বছর)কিংবা একই ধরনের কোন প্রতিযোগীতায় যেখানে কুকুরদের নানা অর্জন আর সৌন্দর্যের মেলা বসে  (যদি সৌন্দর্যই আসলে সেই শব্দটা হয়ে থাকে);


ছবি: কয়েকটি ব্রীডের কুকুর (উপরে বা দিক থেকে: পেকিনেস, ডালমেশিয়ান,পোমেরানিয়ান, নীচে বা দিক থেকে: হুইপেট, স্প্যানিয়েল, সেন্ট বার্ণাড)


ছবি:কয়েকটি ব্রীডের কুকুর (উপরে বা দিক থেকে): বুলডগ, বক্সার, ডাখশুন্ড; ( মধ্যে বা দিক থেকে): ব্যাসেট হাউন্ড, বরজোয়, ল্যাব্রাডর রিট্রিভার, (নীচে: বা দিক থেকে): পুডল, ল্যাবরাডুডল, স্কটি)

কপিঙ্গার দেখিয়েছিলেন, যখন গৃহপালিত কোন প্রানী গৃহপালিত থাকার বন্ধন ছিন্ন করে মুক্ত হয়ে বন্য বা ফেরাল হিসাবে বহু প্রজন্ম বাস করে,সাধারণত‍ঃ তারা তাদের আদিম বন্য পুর্বপুরুষদের কাছাকাছি কোন একটা রুপে ফিরে যায়,এ কারনে হয়তো আমরা আশা করতে পারি যে এই পরবর্তীতে বন্য বা ফেরাল হয়ে যাওয়া কুকুরেরা সুতরাং বরং নেকড়ে সদৃশ কিছুতে পরিণত হয়;কিন্তু বাস্তবে সেটা কিন্তু ঘটে না,বরং কুকুর যারা গৃহপালিত থেকে পোষ না মানা বন্য হয়ে যায় তারা সর্বত্র দেখতে পাওয়া বেওয়ারিশ সেই গ্রামের কুকুর( Pye dog)এ রুপান্তরিত হয়,যাদের তৃতীয় বিশ্বে সাধারণত মানব বসতির আসে পাশে সবসময়ই দেখা যায়;বিষয়টি কপিঙ্গারকে সেই বিশ্বাসকে অনুপ্রাণিত করেছে, যে মানুষ ব্রীডারটা যখন কুকুরের উপর তাদের কৃত্রিম নির্বাচন প্রক্রিয়া আরোপ করেছে তারা আসলে নেকড়ে ছিলনা, ততদিনে কুকুরে রুপান্তরিত হয়েছে: গ্রামের কুকুর,বেওয়ারিশ বা পাই কুকুর হয়তো বা ডিঙ্গো;

আসল নেকড়েরা দল বেধে শিকার করে;গ্রামের কুকুর সাধারনত পরিত্যক্ত খাওয়া খুজে খায়,যাদের আবর্জনার স্তুপের আশে পাশেই দেখা যায়;নেকড়েরাও পরিত্যক্ত বর্জিত খাদ্য সংগ্রহ করে খায়, তবে মানুষের আবর্জনা ঘাটার মত মেজাজ তাদের নেই কারন তাদের দীর্ঘ ফ্লাইট ডিস্ট্যান্স বা পলায়ন দুরত্বর জন্য;আপনি যদি কোন প্রানীকে দেখেন সে খাচ্ছে, তখন আপনি তার ফ্লাইট ডিস্ট্যান্স বা পলায়ন দুরত্ব পরিমাপ করতে পারবেন ঠিক কত কাছে এটা আপনাকে আসতে দেয় পালাবার আগে সেটা দেখে;যে কোন প্রজাতির যে কোন পরিস্থিতিতে,একটি উপযুক্ত ফ্লাইট ডিস্ট্যান্স  আছে,যা খুব ঝুকিপুর্ণ বা অতিমাত্রায় বোকার মত সাহসী থেকে বেশী পলায়পন বা যে কোন ঝুকি এড়ানোর প্রবৃত্তির মাঝামাঝি ;যে সদস্যরা পালানোর সময় বেশী দেরী করে ফেলে যখন বিপদের হুমকি থাকে, হয়তো তারা তাদের সেই বিপদের কারনেই মরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে বেশী;আরেকটু অস্পষ্ট ভাবে, এমন কিছু আছে যাকে বলা যায় বেশী আগেই পলায়ণপর থাকা,যে সদস্যরা বেশী পলায়নপর তারা পেট ভরে কোন সময় খাওয়া পায়না,কারন বিপদের সামান্য গন্ধ পেলেই তারা দৌড়ে পালায়;আমাদের জন্য খুব বেশী সহজ  আসলে এই যে কোন ঝুকি এড়ানোর সম্ভাব্য বিপদটিকে গুরুত্ব না দেয়া ; আমরা ধাধার মধ্যে পড়ে যাই,যখন আমরা জেব্রা বা অ্যান্টিলোপদের দেখি,সিংহের সরাসরি দৃষ্টি সীমায় ধীরে সুস্থে ঘাস খেতে;মাঝে মাঝে সিংহের দিকে সতর্ক দৃষ্টি দেয়া ছাড়া তারা আর কোন কিছুই করে না;আমরা হতভম্ব হই,কারন আমাদের নিজেদের ঝুকি বর্জন করার প্রক্রিয়া (বা আমাদের সাফারী গাইডের)আমাদেরকে ল্যান্ড রোভারের এর মধ্যেই স্থির হয়ে বসিয়ে রাখে যদিও আমাদের চিন্তা করা কোন কারন নেই,আশেপাশে বা কাছাকাছি কোন সিংহও নেই; এর কারন আমাদের ভয়ের বিপরীতে কোন কিছু প্রতিষ্ঠা করার মত বা অর্জন করার মত নেই,কারন আমরা ঠিক আমাদের

পেট ভরে খাওয়া পাবো সাফারী লজে ফেরতে গেলেই;আমাদের বন্য পুর্বপুরুষদের অনেক বেশী সহানুভুতি থাকতো এই সব ঝুকি নেয়া জেবরাদের সাথে;জেবরাদের মতই,তাদেরও ভারসাম্য রক্ষা করতে হতে,কারো খাদ্য হবার ঝুকির সাথে না নিজের খেয়ে থাকার ঝুকি;অবশ্যই সিংহ আক্রমন করতে পারে,আর শিকার হওয়া প্রানীদের দলের আকার উপরের নির্ভর করে, সম্ভাবনা আছে আপনাকে শিকার না করে হয়তোঅন্য কোন সদস্যকে শিকার হিসাবে ধরতে পারে সিংহটি; আপনি যদি কখনোই খাবারের সংগ্রহে না বের হন,বা পানির সন্ধানে,আপনি এমনিতেই মারা যাবেনা,ক্ষুধা বা তৃষ্ণায়, এটা সেই অর্থনৈতিক ট্রেড অফ,(বা কোন কিছুর বিসর্জন করার বিনিময়ে কোন কিছু পাওয়া),একই শিক্ষা,যা আমরা ইতিমধ্যে দুবার আলোচনায় দেখেছি;

উপরের আলোচনার মুল বিষয় হচ্ছে যে,অন্য যে কোন প্রানীর মত বন্য নেকড়েদেরও একটি আদর্শ ফ্লাইট ডিস্ট্যান্স আছে,যা চমৎকার ভাবে অবস্থান করছে -এবং প্রয়োজনে যা নমনীয় হতে পারে -খুব বেশী সাহসী থেকে,খুব বেশী পলায়নপরতার মাঝামাঝি কোন একটি জায়গায়; প্রাকৃতিক নির্বাচন এই ফ্লাইট ডিস্ট্যান্স এর উপর কাজ করবে এবং এটিকে সেই স্পেকট্রামের ধারাবাহিকতায় যে কোন একটি দিকে পরিবর্তন করবে যদি বিবর্তনীয় সময়ে কোন পরিস্থিতির রদ বদল হয়;গ্রামের আবর্জনার স্তুপ হিসাবে যদি সুবিশাল পরিমানে নতুন খাদ্যের উৎস নেকড়েদের জীবনে প্রবেশ করে,ফ্লাইট ডিস্টান্স এর এর দুরত্বের সেই বিন্দুটি ক্রমশ কম দুরত্বের দিকে নিয়ে আসে,নতুন এই খাদ্য সম্পদ উপভোগ করার সময় তাদের পালানোর অনিচ্ছার দিক বরাবর;

আমরা কল্পনা করতে পারি,বুনো নেকড়েরা গ্রামের একপ্রান্দে পরিত্যক্ত বর্জ্যের স্তুপে খাদ্য খুজছে;বেশীর ভাগ নেকড়েরা মানুষ সম্বন্ধে ভীত কারন তারা পাথর কিংবা বর্শা ছোড়ে,এবং তাদের ফ্লাইড ডিস্ট্যান্সও দীর্ঘ;বহু দুরে মানুষকে দেখলেই এরা দ্রুত জঙ্গলের নিরাপত্তার দিকে দ্রুত পলায়ন করে; কিন্তু  এদের কয়েকজন সদস্য, যারা হয়তো জীনগত কোন চান্স বা আপতনের মাধ্যমে বাকীদের তুলনা গড়পড়তা কিছুটা কম দুরত্বের ফ্লাইট ডিস্ট্যান্স এর অধিকারী; সামান্য বাড়তি কিছু ঝুকি নেবার জন্য তাদের প্রস্তুতি – আমরা বলতে পারি তারা সাহসী কিন্তু একেবারে অতিমাত্রায় হিতাহিতজ্ঞানশুন্য সাহসী নয় – তাদের সুযোগ করে দেয় বেশী খাদ্য গ্রহন করার ক্ষেত্রে তাদের প্রতিদ্বন্দী ঝুকি এড়ানো সদস্যদের তুলনায়; এভাবে প্রজন্মান্তরে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে ছোট থেকে আরো ছোট হতে থাকে ফ্লাইট ডিস্ট্যান্স বা পলায়ন সীমানা, যতক্ষন না এটি এমন একটি পর্যায় পর্যন্ত পৌছায় যেখানে নেকড়েরা পাথর ছোড়া মানুষদের কাছ আসলেই বিপদগ্রস্ত হবার সত্যিকারের সম্ভাবনা থাকে; আদর্শ পলায়নসীমা পরিবর্তিত হয় কারন নতুন খুজে পাওয়া খাদ্যের উৎস;

পলায়ন সীমার বিবর্তনীয় হ্রস্বকরনের মতিএমন কোন কিছু, কপিঙ্গাররে দৃষ্টিতে, কুকুরদের গৃহপালিতকরণ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ ছিল;  এবং এটি সে পর্যন্ত অর্জন হয়েছে কৃত্রিম নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায়; ক্রমশ হ্রাস পাওয়া পলায়নসীমা হচ্ছে সহজে পোষ মেনে নেয়া ক্রমশ বর্ধমান বৈশিষ্টটির একটি আচরণগত পরিমাপ; প্রক্রিয়াটির এই পর্বে, মানুষ কিন্তু পরিকল্পিত বা উদ্দেশ্যমুলক ভাবে সবচেয়ে বেশী পোষ মানছে  এমন সদস্যদের বাছাই করছে না ব্রিডিং এর জন্য; শুরুর এই পর্যায়ে, মানুষ এবং প্রথম স্তরে অবস্থান করা  কুকুরদের সম্পর্ক তখনও শত্রুভাবাপন্ন;  যদি নেকড়েরা গৃহপালিত হতে শুরু করে, তা ঘটেছিল স্বগৃহপালিতকরণ প্রক্রিয়ায়, মানুষের দ্বারা কোন বিস্তারিতভাবে পরিকল্পিত উপায়ে না; উদ্দেশ্যমুলক গৃহপালিতকরণ প্রক্রিয়াটি ঘটেছিল আরো পরে;

আমরা একটা ধারনা পাই যে, কিভাবে পোষ মানা বৈশিষ্ট বা যে কোন কিছু কিভাবে গড়ে পিটে তৈরী করা যায় -প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম উপায়ে -আধুনিক যুগের চমৎকার নানা পরীক্ষাসমুহ লক্ষ্য করলে -যেমন ফার (fur) ব্যবসায় ব্যবহারের জন্য রুশ সিলভার ফক্সদের গৃহপালিত করণ প্রক্রিয়া;  এটি আরো দ্বিগুন কৌতুহলোদ্দীপক কারন এখানে আমরা শিক্ষা পাচ্ছি, গৃহপালিতকরণ প্রক্রিয়া সম্বন্ধে ডারউইন যা জানতেন তারচেয়ে অনেক বেশী কিছু, যেমন বাছাইকৃত প্রজনন এর নানা প্বার্শপ্রতিক্রিয়া এবং যা ডারউইন ভালো করে বুঝতে পেরেছিলেন, প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম নির্বাচনের মধ্যে সদৃশ্যতা সম্বন্ধে;

সিলভার ফক্স খুব পরিচিত রেড ফক্স দের ( Vulpes vulpes) একটি রঙের ভিন্নতার বৈশিষ্টবাহী একটি প্রকরন বা ভ্যারিয়ান্ট , যাদের বিশেষ কদর করা হয় তাদের সুন্দর ফার এর জন্য; রুশ জীনত্ত্ত্ববিদ দিমিত্রি বেলায়েভ ১৯৫০ এর দশকে একটি রুশ ফক্স ফার খামার পরিচালনার জন্য নিযুক্তি পান; তাকে অবশ্য পরে বরখাস্ত করা হয় কারন তার বৈজ্ঞানিক জীনতত্ত্ব এবং প্রভাবশালীর লাইসেঙ্কোর অবৈজ্ঞানিক মতাদর্শের মধ্যে সংঘর্ষ হয়; লাইসেঙ্কো হচ্ছে ধুরন্ধর কুখ্যাত রুশ জীববিজ্ঞানী যে কিনা স্ট্যালিনের কান ভারী করতে সক্ষম হয়েছিলো এবং সেকারনেই সোভিয়েত জীনতাত্ত্বিক গবেষনা ও কৃষিবিজ্ঞানের মুল নিয়ন্ত্রক এর দায়িত্বে থেকে মুলত ধ্বংশ করেছিলেন প্রায় বিশ বছর ব্যাপী তার সময়কালে;  ফক্স বা শিয়ালের প্রতি এবং সত্যিকারের লাইসেঙ্কো মুক্ত জীনতত্ত্বের প্রতি ভালোবাসা বেলায়েভ কখনো হারাননি, বেশ পরে তিনি দুটি ক্ষেত্রে তার গবেষনা আবার শুরু করতে পেরেছিলেন সাইবেরিয়ায় ইন্সস্টিটিউট অব জেনেটিক্স এর পরিচালক হিসাবে;

ছবি: রুশ বিজ্ঞানী বেলায়েভ এবং সিলভার ফক্স

বুনো শিয়ালদের নিয়ে গবেষনা করার জন্য বেশ কৌশলী হওয়া প্রয়োজন  এবং বেলায়েভ পরিকল্পনা মাফিক উদ্দেশ্যমুলকভাবে সহজে পোষ মানার বৈশিষ্ট্যকে ব্রীড করার উদ্যোগ নেন; তার সময়ের কোন প্রানী বা উদ্ভিদ ব্রীডারদের মত, তার কর্মপদ্ধতি ছিল প্রাকৃতিক বৈচিত্রতাকে কাজে লাগানো ( সেই সময় জেনেটিক ইন্জিনিয়ারিং ছিল না) এবং ব্রীডিং এর জন্য তিনি সেই সব পুরুষ আর স্ত্রী শিয়ালদের বাছাই করেছিলেন, তিনি যা খুজছেন, যারা তার কাছাকাছি বৈশিষ্ট সম্বলিত ছিল; পোষ মানার বৈশিষ্ট খুজতে গিয়ে বেলায়েভ হয়তো ব্রীডিং বাছাই করতে পারতেন সেই জোড়াদের যাদেরকে দেখতে তার ভালো লাগে বা সবচে সুন্দর মুখভঙ্গী করে যারা তার দিকে তাকায়, এ ধরনের বাছাই হয়তো পরবর্তী প্রজন্মে পোষ মানার বৈশিষ্টর কাঙ্খিত প্রভাব ফেলেতে পারতো; কিন্তু অবশ্য তার চেয়ে অনেক বেশী পদ্ধতিগত ভাবে তিনি এমন একটি মাপকাঠি ব্যবহার করেন যা ফ্লাইট ডিস্ট্যান্স বা পলায়ন সীমার ধারনার খু্ব কাছাকাছি, আমি যা কিছুক্ষন আগে বুনো নেকড়েদের নিয়ে আলোচনা করার সময় উল্লেখ করেছিলাম, তবে তা বিশেষভাবে সিলভার ফক্স শিশুদের ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হয়েছিল; বেলায়েভ এবং তার সহকর্মীরা ( এবং উত্তরসুরীরা, কারন  এই গবেষনা কার্যক্রমটি অব্যাহত ছিলো তারা মৃত্যুর পরও) শেয়াল শিশুদের একটি নির্ধারিত বিশেষ টেষ্ট এর মুখোমুখি করতেন, যেখানে একজন পরীক্ষক শিশুকে নিজের হাতে খাবার খেতে দিতেন এবং একই সাথে তার গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করা চেষ্টা করতেন; এর ফলাফলের উপর ভিত্তি করে শিয়াল শিশুদের তিনটি শ্রেনীতে বিভক্ত করা হতো, ক্লাস ৩ হচ্ছে সেই বাচ্চাগেুলো যারা খাদ্য দাতার কাছ থেকে দুরে পালিয়ে যেত অথবা কামড় দিত;  ক্লাস ২ এর বাচ্চাগুলো তাদের গায়ে হাত দিতে দিত ঠিকই কিন্তু কোন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাতো না পরীক্ষকের প্রতি, ক্লাস ১ এর শিশুগুলো সবচেয়ে পোষ মানানোর উপযোগী, তারা ইতিবাচকভাবে তাদের পরীক্ষাকারীর কাছে অগ্রসর হতো, তাদের লেজ নাড়িয়ে, মৃদু শব্দ করে; যখন শিশুরা বড় হত পরীক্ষাকারীরা শুধু এই সবচেয়ে পোষ মানার যোগ্য ক্লাসের সদস্যদের মধ্যেই ব্রীডিং পরিচালনা করেন;

মাত্র ৬ প্রজন্মেই এই পোষ মানার বৈশিষ্টর জন্য নির্বাচিত ব্রিডিং এ শিয়ালগুলোর মধ্যে এতটাই পরিবর্তন হয় যে পরীক্ষাকারীরা বাধ্য হয়ে নতুন একটি ক্যাটাগরি তৈরী করেন, যার নাম দেয়া হয় ‘ডোমেস্টিকেটেড এলিট ক্লাস‘ , সেই শিয়াল শাবকরা যারা  ভীষন আগ্রহী মানুষের  সঙ্গ পেতে এবং কুকুরের মতই গন্ধ শোকা, চাটা এবং নানা শব্দ করে দৃষ্টি আকর্ষন করতে ব্যস্ত; এই পরীক্ষার শুরুতে, কোন শিয়ালই এই এলিট ক্লাসে ছিলনা, দশ প্রজন্ম ব্রিডিং এর পর ১৮ শতাংশ এই এলিট ক্লাসে, ২০ প্রজন্ম পর ৩৫ শতাংশ এবং ৩০ থেকে ৩৫ প্রজন্ম পর এই এলিট গ্রুপে সদস্যরা মোট পরীক্ষাধীন জনসংখ্যার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ লক্ষ্য করেন গবেষকরা;


ছবি: বেলায়েভ সিলভার ফক্স

এই ধরনের ফলাফল হয়তো খুব বেশী বিস্ময়কর নয়, শুধু মাত্র এই ফলাফল সৃষ্টির বিস্ময়কর দ্রুততা ছাড়া; ভুতাত্ত্বিক সময়ের পরিমাপে ৩৫ প্রজন্ম অতিক্রান্ত হয় অতি দ্রুত, কোন নজরই কাড়ে না; আরো বেশী কৌতুহলোদ্দীপক ব্যাপারটা হচ্ছে ‍যদিও অপ্রত্যাশিত, এই ব্রীডিং প্রোগ্রামটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো, যেগুলো সত্যিকারের বিস্ময়কর এবং আসলেই অভাবনীয়; ডারউইন,যিনি কুকুরপ্রেমী ছিলেন, তিনিও বিস্মিত বোধ করতেন তা দেখে; পোষ মানা শিয়াল গুলো গৃহপালিত কুকুরের মতই শুধু আচরণই করেনা, তারা দেখতেও তাদের মতন হয়ে উঠেছিল; তারা তাদের শেয়ালসুলভ গায়ের লোম হারায় এবং সাদা কালো ছোপ ( যাকে পাইবল্ড প্যাটার্ণ বলে) যুক্ত ওয়েলশ কোলি দের সদৃশ হয়; তাদের শেয়াল সদৃশ খাড়া কান প্রতিস্থাপিত হয়েছিল কুকুরের মত চ্যাপটা নেতিয়ে পড়া নমনীয় কান দিয়ে; শিয়ালে নীচের দিকে ঝোলানো লেজ বা ব্রাশ এর বদলে কুকুরের লেজের মত উপরের দিকে বেকে যায়, মেয়ে কুকুরের মতোই এই গৃহপালিত শিয়ালও প্রতি ছয় মাসে একবার প্রজনন উপযোগী হয়, কিন্তু বন্য পরিবেশে যেমন স্ত্রী শেয়াল প্রজনন উপযোগী হয় বছরে একবার; বেলায়েভ এর তথ্য অনুযায়ী তারা আওয়াজও করে কুকুরদের মত;

এই কুকুরের মত বৈশিষ্টগুলো ছিল প্বার্শপ্রতিক্রিয়া; বেলায়েভ ও তার টীম কিন্তু উদ্দেশ্যমুলকভাবে তাদের ব্রীড করেননি, তাদের উদ্দেশ্য ছিল পোষ মানানোর বৈশিষ্টটি; এই সব কুকুর সদৃশ্য বৈশিষ্টগুলো  সম্ভবত পোষ মানার সাথে সংশ্লিষ্ট জীনগুলোর উপর ভর করেই বিবর্তিত হয়েছে; জীনতত্ত্ববিদদের কাছে এটি বিস্ময়কর কোন ব্যাপার না, কারন তারা সর্বব্যাপী একটি ফেনোমেনা বা প্লিওট্রপী র সাথে পুর্বপরিচিত, যখন জিনগুলো একাধিক ফেনোটাইপিক বৈশিষ্টকে প্রভাবিত করে, আপাতদৃষ্টিতে যা সম্পর্কযুক্ত না; এখানে ‘আপাতদৃষ্টিতে‘ শব্দটির উপর জোর দেয়া হয়েছে; ভ্রুনতাত্ত্বিক বিকাশ একটি জটিল প্রক্রিয়া, আমরা যতই বিস্তারিত জানতে শুরু করি, সেই আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কহীন বিষয়গুলোর যোগসুত্র খুজে পাওয়া যায়, যা আগে বুঝতাম না তবে আমরা এখন বুঝতে পারি, মনে করা যেতে পারে যে, কুকুরের পাতলা নমনী কান এবং সাদা কালো ছোপ ছোপ বা পাইবোল্ড নকশার কোট এর জীন প্লাইট্রপিক্যালী যুক্ত আছে পোষ মানা প্রবনতার জীনের সাথে;  এই বিষয়টি বিবর্তন সম্বন্ধে আরেকটি গুরুত্বপুর্ণ শিক্ষা দেয়; আপনি যখন কোন প্রানীতে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট দেখেন এবং প্রশ্ন করেন এর ডারউইনীয় সারভাইভাল ভ্যালু কি বা এই বৈশিষ্টটা কিভাবে সহায়তা করে প্রানীর বেচে থাকার ক্ষেত্রে, আপনি হয়তো ভুল প্রশ্নটি করছেন, হতে পারে আপনি যে বৈশিষ্টটি বাছাই করেছেন, সেটা গুরুত্ত্বপুর্ণ না, এটি হয়তো  বিবর্তন প্রক্রিয়ায় অন্য কোন বৈশিষ্টর সাথে চলে এসেছে, যার সাথে এটি প্লাইওট্রপিকালী সংযুক্ত;

তাহলে কুকুরদের বিবর্তন, যদি কপিঙ্গার ঠিক হন,  তা শুধু কৃত্রিম নির্বাচনের ব্যাপার নয়, বরং প্রাকৃতিক নির্বাচন ( যা গৃহপালিত করন প্রক্রিয়ার শুরুর দিকে প্রধান ভুমিকা পালন করে) এবং কৃত্রিম নির্বাচনের ( যা ঘটে আরো পরে) একটি জটিল মিশ্র প্রক্রিয়ায়, এই পরিবর্তন হতে পারে খুব মসৃনভাবেই, যা এই দুই প্রক্রিয়ার মধ্যে সদৃশ্যতার উপরেই গুরুত্বারোপ করে – যা ডারউইন প্রথম শনাক্ত করেছিলেন – প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম নির্বাচনের মধ্যে;

 আবারো ফুল;



ছবি: উপরের ছবিগুলো  Ophrys insectifera, বা Fly Orchid দের, খুব লক্ষ্য করে না দেখলে আপনারও ভুল হবে, মাছি ওয়াস্প বা মৌমাছিদের হবার কথা; এরা মাছির মত দেখতে বলেই এই নাম,তবে এছাড়া এরা পুরুষ মাছিদের আকর্ষন করার জন্য একটি গন্ধ নি:সরণ করে, যেন তারা ফুলের সাথে সঙ্গমের চেষ্টা করে, এই গন্ধ মেয়ে মাছিদের যৌন ফেরোমনের মতই; িএই ছলনার আশ্রয় নেয়ার উদ্দেশ্য পরাগায়ন; (নীচের আলোচনা ও ভিডিও)


ছবি: উপরের ছবি গুলো বী অর্কিড ((Ophrys apifera ) এর বেশ কয়েকটি ভ্যারিয়ান্ট; পুরুষ মৌমাছিদের শুধু চোখের দেখায় বা স্পর্শেই ছলনা করেনা তারা, স্ত্রী মৌমাছিদের মত ফেরোমোনও তৈরী করে; পুরুষরা এদের স্ত্রী মৌমাছি ভেবে সঙ্গমে উদ্যত হয়, তখনই পরাগায়নের কাজটি সে সেরে নেয় তারা;

এবার ‍তাহলে প্রাকৃতিক নির্বাচনকে বোঝার লক্ষ্যে তৃতীয় প্রস্তুতি মুলক উদহারনটি দেখা যাক; ফুল ও তাদের পরাগায়নকারী এবং বিবর্তনকে পরিচালিত করা প্রাকৃতিক নির্বাচনের শক্তি সম্বন্ধে কিছু আলোচনা করা যাক; পরাগায়নের জীববিজ্ঞান আমাদের দেখিয়েছে বেশ কিছু বিস্ময়কর তথ্য; এবং এই বিস্ময়টি তার সর্ব্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে ‍অর্কিডদের মধ্যে; কেন ডারউইনের এদের প্রতি বিশেষ নজর ছিল তা সহজে অনুমেয়, এ বিষয়ে তার লেখা বইটির কথা আমি ইতিমধ্যে উল্লেখ করেছি, The Various Contrivances by which Orchids are Fertilised by Insects ; কিছু অর্কিড, যারা সত্যিকারে ম্যাজিক বুলেট সমাধান পেয়েছে, যেমন মাদাগাস্কারের যে অর্কিডের কথা আমরা আগে আলোচনা করেছি, নেকটার বা মধু সরবরাহ করে; কিন্তু অন্যরা পরাগায়নকারীদের খাদ্য সরবরাহ করার ব্যয়সাপেক্ষ উপায়টিকে এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে, তাদের সাথে কিছু চালাকির আশ্রয় নিয়ে; কিছু অর্কিড আছে তার দেখতে যথেষ্ট পরিমানে স্ত্রী মৌমাছি ( বা ওয়াস্প বা মাছি) দের মত দেখতে হয়, যা কিনা পুরুষদের বিভ্রান্ত করে তাদের সাথে সঙ্গম করার প্রচেষ্টা নিতে; ঠিক যে পর্যায় পর্যন্ত এ ধরনের মিমিক্রি বা সদৃশ্যতা কোন  একটি বিশেষ প্রজাতির স্ত্রী সদস্যদের মত হবে, ঠিক সে পর্যায় পর্যন্ত সেই প্রজাতির পুরুষ সদস্যরা ফুলটির পরাগায়নে ম্যাজিক বুলেটের ভুমিকা পালন করবে,  এক ফুল থেকে অন্য ফুলে শুধু মাত্র একটি অর্কিড প্রজাতির জন্য;  এমনকি যদি অর্কিডটির দেখতে, কোন একটা নির্দিষ্ট প্রজাতির না হয়ে বরং যে কোন মৌমাছির মত দেখতে হয়, তারা যে প্রজাতির পুরুষ মৌমাছিদের বোকা বানাতে সক্ষম হবে, তারা প্রায় ম্যাজিক বুলেটের মতই কাজ করবে; আমি কিংবা আপনি যদি কোন একটি ফ্লাই অর্কিড বা একটি বী অর্কিড এর দিকে ভালো করে লক্ষ্য করি,আমরা বলতে পারবো যে এটা আসলে সত্যিকারে কোন পতঙ্গ না, কিন্তু চোখের এক কোনা দিয়ে হালকা দৃষ্টিতে দেখলে আমরা কিন্তু বোকা বনে যাবো;  এমনকি মুখোমুখি দৃষ্টিতে আমি বলবো যে উপরের ছবিতে বী অর্কিডটি হানী বি অর্কিডের তুলনায় বরং বেশী বাম্বল বী অর্কিড দের মত দেখতে ; পতঙ্গদের চোখ যৌগিক, আমাদের ক্যামরা চোখের মত সেই চোখ দিয়ে কোনকিছু খুব স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব হয়না;  এবং পতঙ্গ অনুকরণকারী অর্কিডগুলো তাদের আকার,গঠন এবং রঙ, যার সাথে যুক্ত হয় স্ত্রী পতঙ্গদের মতই মনভুলানে গন্ধ, অনায়াসেই বোকা বানাতে পারে পুরুষদের; এছাড়া, খুবই সম্ভাবনা আছে, এই মিমিক্রি বা  সদৃশ্যতা আরো বেশী বেড়ে যায় পতঙ্গদের অতিবেগুনী রশ্মির আলোক তরঙ্গ সীমানায়, যা থেকে আমরা আবার বঞ্চিত; (নীচের ভিডিওটি দেখুন);

বী অর্কিডদের পরাগায়ন;


ছবি: স্পাইডার অর্কিড; যারা একটি বিশেষ প্রজাতির স্ত্রী ওয়াস্প কে আকৃষ্ট করে তাদেরকে শিকার বানানো চেষ্টা করতে (নীচে আলোচনা)


ছবি: পাইসন, মাড ওয়াস্পদের বানানো ঘর, এখানে এরা মাকড়শা শিকার করে এনে জমা করে, যেন তাদের লার্ভা গুলো জন্মের সাথে সাথেই টাটকা খাবার পায়;  প্যারালাইজড হয়ে থাকা এই মাকড়শাগুলো বেচে থাকে, সেকারনে এদের মাংশেও পচন ধরে না;

স্পাইডার অর্কিড বা Brassia রা (ছবি) তাদের পরাগায়নের সমস্যা সমাধান করে ভিন্ন একটি ছলনায় আশ্রয় নিয়ে; সলিটরী ওয়াস্পদের বেশ কিছু প্রজাতি ( সলিটারী বা একাকী কারন, পরিচিত হেমন্ত কালের পেষ্ট যেমন আমেরিকানদের ভাষায় যারা ইয়েলোজ্যাকেট দের মত তারা সামাজিক ভাবে বসবাস করে না বড় কোন নেষ্ট বা ঘর বানিয়ে);  তারা মাকড়শ শিকার করে, এরপর তাদের অবশ করে ফেলে তাদের হুল ফুটিয়ে বিষ প্রয়োগ করে, এবং জীবিত মাকড়শার মধ্যে‌ তারা তাদের ডিম পাড়ে যেন ডিম থেকে বের হওয়া লার্ভাগুলো জীবন্ত খাদ্য পায় ( কারন অবশ হয়ে খাকা মাকড়শার মাংশ পচে না, লার্ভাগুলো জন্ম হবার সাথে সাথে এই অবশ কিন্তু জীবন্ত মাকড়শাদের আস্তে আস্তে করে খায়) ; স্পাইডার অর্কিডরা যথেষ্ট পরিমানে মাকড়শা সদৃশ হয়, ফলে তারা স্ত্রী ওয়াস্পদের প্ররোচিত করতে পারে তাদের হুল ফোটাতে; যে কাজটা করতে গিয়ে ওয়াস্পরা বেশ কিছু পরাগরেণু গায়ে মেখে যায় (অর্কিডদের পলিনিয়া), যখন তারা আবার উড়ে অন্য একটা স্পাইডার অর্কিডকে হুল ফোটাবার চেষ্টা করে, এই পলিনিয়া বা পরাগ রেণুও নতুন ফুলে স্থানান্তরিত হয়; প্রসঙ্গক্রমে আমি লোভ সামলাতে পারছিনা Epicadus heterogaster  প্রজাতির  মাকড়শা ঠিক বীপরিতমুখী কেসটির কথা বলার জন্য, যারা ঠিক অর্কিডদেরই মতই সদৃশ একটি রুপ ধারন করে, যখনই কোন পতঙ্গ এই ধরনের ফুলে মধু খেতে আসে, তারা ফুল রুপী মাকড়শার খাদ্যে পরিণত হয়;


ছবি: Epicadus heterogaster  , দেখতে ফুল মনে হলেও এরা আসলে মাকড়শা;

বেশ কিছু অসাধারন প্রজাতির অর্কিড, যারা এধরনের ছলনার কৌশলের আশ্রয় নেয় তারা বাস করে পশ্চিম অষ্ট্রেলিয়ায়; Drakaea জেনাসের বেশ কিছু প্রজাতি যারা হ্যামার অর্কিড নামে পরিচিত; এদের প্রতিটি প্রজাতির অর্কিডের সাথে একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির ওয়াস্প ( যাদের বলে  thynnids) বিশেষ সম্পর্ক আছে; ফুলটির খানিকটা অংশ পতঙ্গটির সাথে কিছুটা উপরি সাদৃশ্য আছে, যা যথেষ্ট পুরুষ thynnids দের এই ফুলগুলোর সাথে সঙ্গমের প্রচেষ্টা করার তাড়না সৃষ্টিতে; ‍এ অবধি আমার বিবরণে, Drakaea কে মনে হবেনা যে তারা নাটকীয়ভাবে আলাদা অন্যান্য পতঙ্গ সদৃশ অর্কিডদের থেকে; কিন্তু Drakaea র বাড়তি একটি অসাধারন কৌশল আছে তার কাজ হাসিল করার জন্য:  এই ছদ্ম ওয়াস্পটি থাকে একটা জোড়া বা হিন্জ সমৃদ্ধ বাহুর শেষ প্রান্তে, যার একটি নমনীয় কনুই আছে; আপনারা ছবি স্পষ্ট দেখতে পাবেন সেই জোড়টা; সত্যিকারের ওয়াস্প যখন এটিকে স্ত্রী ওয়াস্প ভেবে শক্ত  করে ধরে সঙ্গমে উদ্যোত হয়, ওয়াস্পেদের ডানার ঝাপটায় সৃষ্ট নড়াচড়া বা ফ্লাটারিং মুভমেন্ট এর কারনে এই কনুইটা ভাজ হয়, এবং ‍হাতুড়ীর মতই ওয়াস্পটি বার বার ফুলের অন্য পাশে আঘাত করে- এর নাম দেয় যায় অ্যানভিল বা নেহাই, যেখানে অর্কিডটির প্রজনেনর সাথে সংশ্লিষ্ট অংশগুলো থাকে; পলিনিয়া এখান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ওয়াস্প এর গায়ে আটকে যায়;  যে একসময় নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে উড়ে যায়, হতাশ হয়ে তবে স্পষ্টতই কোন শিক্ষা গ্রহন না করেই, সে আরো একটি হ্যামার অর্কিডের কাছে গিয়ে সেই একই কাজের পুণরাবৃত্তি করে যেখানে আবার সে এবং তার বহন করে আনা পলিনিয়া নেহাই এর উপর একই ভাবে আঘাত করে, এবার তার সেই বহন করে আনা কার্গোটি  ফুলের স্ত্রী অঙ্গের মধ্যে তার নিয়তি নির্ধারিত জায়গাটি পায়; আমি এই অসাধারন কর্মকান্ডটির উপর একটি প্রামান্য চিত্রটি দেখিয়েছিলাম রয়্যাল ইন্সস্টিটিউশনের শিশুদের জন্য আয়োজিত ক্রিসমাস বক্তৃতার সময় , এবং এটি দেখা যাবে সেই লেকচারটির একটি ভিডিও তে যার নাম, The Ultraviolet Garden (নীচে);


ছবি: হ্যামার হেড অর্কিড (Drakaea);  একটি বিশেষ প্রজাতির ওয়াস্পদের ন্ত্রী সদস্যদের মত দেখতে এই অর্কিড গুলো পুরুষ ওয়াস্পদের প্ররোচিত করে তাদের সাথে সঙ্গম করতে, ফলাফলে এটি আজব একটি উপায়ে তারা তাদের পরাগায়নের কাজটি সেরে নেয় ( ছবি,ভিডিও ও আলোচনা দেখুন)


ছবি: হ্যামার হেড অর্কিডের ছলনার শিকার একটি ওয়াস্প, ব্যর্থ সঙ্গম প্রচেষ্টা;

হ্যামার হেড অর্কিডদের পরাগায়ন প্রক্রিয়া; রিচার্ড ডকিন্স এর একটি লেকচার থেকে

সেই একই লেকচারে আমি দক্ষিন আমেরিকার ‘বাকেট অর্কিডের‘ কথাও বলেছিলাম, যারা তাদের পরাগায়নের জন্য ভিন্নভাবে তবে সমপরিমানেই বিস্ময়কর পন্থা আবিষ্কার করেছে; তাদের বিশেষ প্রজাতির পরাগায়নকারী আছে, তারা ওয়াস্প না বরং Euglossine গ্রুপের ছোট মৌমাছি, আবারও এরা কোন নেকটার বা মধু তৈরী করে না, কিন্তু মৌমাছিদের বোকা বানিয়ে তাদের সঙ্গম করতে উদ্যোগীও করে না, তারা পুরুষ মৌমাছিদের একটি গুরুত্বপুর্ণ সহায়তা করে, যেটি ছাড়া সত্যিকারের কোন স্ত্রী মৌমাছিকে তারা আকৃষ্ট করতে পারেনা;


ছবি: বাকেট অর্কিড এবং ইউগ্লসিন বী

এই ছোট মৌমাছিগুলো যারা শুধুমাত্র দক্ষিন আমেরিকাতে বাস করে, তাদের একটি অদ্ভুত অভ্যাস আছে, তারা প্রচন্ড পরিশ্রম করে নানা ধরনের সুগন্ধ সংগ্রহ করতে বা কোন না কোন ভাবে গন্ধযুক্ত কোন কিছু সংগ্রহ করার জন্য; যা তারা তাদের পেছনের ফুলে থাকা বড় পায়ের সাথে লাগানো একটি বিশেষ থলিতে লুকিয়ে রাখে; প্রজতিভেদে এই গন্ধযুক্ত দ্রব্য আসতে পারে ফুল থেকে, পচা কাঠ থেকে, এমনকি মল থেকে, বিজ্ঞানীরা মনে করেন তারা এই গন্ধযুক্ত জিনিস সংগ্রহ করে, তাদের স্ত্রী সদস্য আকৃষ্ট অথবা প্রজনন কিংবা মেটিং পুর্ববর্তী আচরন বা কোর্টিং করা জন্য; অনেক পতঙ্গই কোন একটি বিশেষ গন্ধ ব্যবহার করে বীপরিত লিঙ্গের প্রতি আবেদনময়তা সৃষ্টি করতে এবং বেশীভাগ ক্ষেত্রে তারা বিশেষ গ্রন্থির মাধ্যমে সেই সুগন্ধীটি তৈরী করে নেয়; যেমন মেয়ে সিল্ক মথ পুরুষদের আকৃষ্ট করতে পারে বিস্ময়কর রকম দুর থেকে একটি বিশেষ গন্ধ নি:সরণ করার মাধ্যমে, যারা তারা নিজেরাই তৈরী করে এবং পুরুষরা যা শনাক্ত করতে পারে তাদের অ্যান্টেনার সাহায্যে, সামান্যতম ঘনত্বেও আক্ষরিক অর্থেই বহু মাইল দুর থেকে; Euglossine মৌমাছির ক্ষেত্রে পুরুষরা গন্ধ ব্যবহার করে; নারী মথদের মত তারা নিজেরা সেই নিজেদের সেই গন্ধ সৃষ্টি করতে পারেনা তবে তারা নানা গন্ধযুক্ত জিনিস যারা তারা সংগ্রহ করে, সেগুলোই ব্যবহার করে, একেবারে বিশুদ্ধভাবে সই পদার্থের গন্ধ না, তবে সাবধানে ঝানু পারফিউম নির্মাতাদের মত তারা নানা সংগৃহীত উপাদান মিশিয়ে সেই গন্ধ তৈরী করে; প্রতিটি প্রজাতিই বৈশিষ্টমুলক নানা উৎস থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন জিনিসের গন্ধের একটি ককটেল মিশ্রন তৈরী করে; এবং Euglossine মৌমাছিতের কয়েকটি প্রজাতি আছে তাদের প্রজাতির বৈশিষ্টসুচক গন্ধ তৈরীতে অবশ্য প্রয়োজনীয় উপাদানটি আসে শুধু মাত্র Coryanthes  বা বাকেট অর্কিডের নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতির ফুল থেকে; Euglossine মৌমাছিদের পরিচিত নাম অর্কিড বী, orchid bees‘;

বাকেট অর্কিডদের পরাগায়নের ভিডিও ( 0.53 সেকেন্ড থেকে দেখুন)

পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কি অসাধারন সুক্ষ্ম একটি দৃষ্টান্ত; এই অর্কিডগুলোর প্রয়োজন Euglossine মৌমাছিদের, সেই যথারীতি ম্যাজিক বুলেট সমাধানের কারনেই;  এবং মৌমাছিদের প্রয়োজন অর্কিডদের, বরং আরো অদ্ভুত কারনে, যে, তারা কোন স্ত্রী মৌমাছিকে আকর্ষন করতে পারবে না, একটি উপাদান ছাড়া, যে উপাদান তাদের পক্ষে সংগ্রহ করা অসম্ভব অথবা নিদেনপক্ষে খুব দু: সাধ্য বাকেট অর্কিডের ‘অফিস‘ ছাড়া; কিন্তু যে ভাবে পরাগায়নটা ঘটে সেটা আরো আজব, যা হালকা ভাবে দেখলে মৌমাছিদের সক্রিয় সহযোগীর বদলে নীরিহ শিকার মনে হবে;

একটি পুরুষ Euglossine মৌমাছি অর্কিডের প্রতি আকৃষ্ট হয় অর্কিডের তৈরী একটি উপাদানের গন্ধ শুকে, যা তার দরকার নিজস্ব যৌনআবেদনময় সুগন্ধী তৈরী করতে; প্রথমে সে অর্কিডের ফুলের চওড়া বাকেটের এক প্রান্তে গিয়ে বসে তারপর চেছে চেছে মোমের মত সেই গন্ধযুক্ত উপাদানটি সে তার পায়ের থলিতে জমা করতে শুরু করে, কিন্তু বাকেটের কিনারা যেখারে মৌমাছিটি বসে তার নীচের অংশটি কিন্তু খুব পিচ্ছিল, এবং এর জন্য একটি কারন আছে; মৌমাছিটি পিছলিয়ে সেই বাকেটের মধ্যে পড়ে যায়, যার মধ্যে তরল একটি পদার্থ ভরা থাকে, যেখানে তাকে সাতার কাটতে হয়, পিচ্ছিল পাশের দেয়াল বেয়ে সে উপরে উঠতে পারে না, তার পালাবার রাস্তা একটাই সেখানে, সেটা হলে মৌমাছির আকারে ছোটে একটি ছিদ্র যা ফুলের বাকেটের একপাশে থাকে  ( উপরে ছবিতে যা দেখা যাচ্ছে না), মৌমাছিটি যেন ধাপে ধাপে নির্দেশিত হয়ে সেই ছিদ্রে প্রবেশ করে, এবং সেটার মধ্য দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে বের হবার চেষ্টা করতে থাকে; ছিদ্রটির প্রস্থ কিন্তু বড় না, বেশ শক্ত করে আকড়ে ধরে, আরো শক্ত হয় যখণ চোয়াল ( ছবিতে দেখা যাচ্ছে না, তবে তারা দেখতে লেদ মেশিন বা ইলেককট্রিক ড্রিলে চাকের মত) সংকুচিত হয় এবং মৌমাছিটি ফাদে পড়ে যায়, যতক্ষন সে তাদের কব্জায় ধরা থাকে ততক্ষনে অর্কিড তার পিঠে আঠার সাথে দুটি পরাগরেণুর থলি বা পলিনিয়া লাগিয়ে দেয়, এই আঠা কাজ করতে খানিকটা সময় নেয়, তারপরেই  এই চোয়ালটি শিথিল হতে শুরু করে ;  এবং মৌমাছিটি মুক্তি পেয়ে উড়ে যায়; এরপরের বার যখন অন্য ফুলে তাদের সুগন্ধীর উপাদান খুজতে যায় মৌমাছিটি  এই প্রক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি ঘটে, এবং এর পেছনে লেগে থাকা পরাগরেনুটি খুলে আসে এবং দ্বিতীয় অর্কিডের স্টিগমাকে নিষিক্ত করে;

ফুল  এবং পরাগায়নকারীদের এই অন্তরঙ্গ সম্পর্ক একটি চমৎকার উদহারণ যাকে বলা হয় কো-ইভোল্যুশন বা সহবিবর্তন; বা একসাথে বিবর্তন;  সহ বিবর্তন কখনো কখনো হয় বিভিন্ন জীবদের মধ্যে, যখন তারা একে অপরের উপর কোন না কোন স্বার্থের জন্য নির্ভরশীল, দুজনেই দুজনকে কোন না কোন ভাবে সাহায্য করে ; এই অংশীদারিত্বে এক সদস্য অন্য সদস্যর ভালোর জন্য কোন না কোন কিছূ করে এবং দুজনেই উপকৃত হয় এই সহযোগিতা থেকে;  আরেকটি সুন্দর উদহারন হলো একগুচ্ছ সম্পর্ক যা গড়ে উছে কোন প্রবাল রীফে, পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় স্বতন্ত্রভাবে, পরীষ্কারকারী বা ক্লিনার মাছদের সাথে বড় মাছদের; ক্লিনার মাছ বেশ কয়েক প্রজাতির হতে পারে এবং কেউ কেউ হয়তো মাছই নয়, বরং শ্রিম্প বা চিংড়ী,একটি চমৎকার কনভাজেন্ট বিবর্তনের উদহারন; পরীষ্কার করার এই কাজটি, প্রবাল রীফের মাছদের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠিত জীবন ধারা, স্তন্যপায়ীদের যেমন শিকার করা, বা চরে ঘাস কাটা বা পিপড়া খাওয়া ইত্যাদি; ক্লীনার প্রজাতিরা তাদের বড় বড় ক্লায়েন্টদের (মাছ) শরীর থেকে পরজীবিদের ধরে ধরে পরিষ্কার করে; এই সব খদ্দেরদের জন্য ক্লীনার প্রজাতিরা কত উপকারী তার খুব ভালোভাবে পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে, পরীক্ষা মুলক ভাবে প্রবাল প্রাচীর বা রীফের কোন অংশ থেকে ক্লীনারদের সরিয়ে নেবার পর;  এর ফলাফল হিসাবে দেখা যায় অনেকগুলো প্রজাতির মাছ এর স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যায়; আমি এই পরিষ্কার করার অভ্যাসের কথা অন্য জায়গায় বলেছি, সুতরাং এখানে আর  আলোচনা করছি না;

সহ বিবর্তন এমন প্রজাতিদের মধ্যেও হতে পারে, যারা একে অপরের উপস্থিতিতে কোন সুবিধা পায় না, যেমন শিকারী প্রানী ও তার শিকার বা পরজীবি ও তার পোষক, এই ধরনের সহবিবর্তনকে কখনো কখনো বলা হয় অস্ত্রপ্রতিযোগিতা, অধ্যায় ১২ তে এ নিয়ে  এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে,অতএব আপাতত বিষয়টি স্থগিত থাক;

নির্বাচন যখন করে প্রকৃতি:

আমি এই অধ্যায়টি এবং  এর আগের অধ্যায়টির ‍উপসংহার টানি; নির্বাচন- মানুষ ব্রিডারদের কৃত্রিম নির্বাচনের রুপে কয়েক শতাব্দীর মধ্যে এটি একটি বেয়ারিশ বুনো কুকুরকে রুপান্তরিত করে পেকিনেস জাতের কুকুরে, বা বুনো বাধাকপিকে রুপান্তরিত করে ফুলকপি;  যে কোন দুটি জাতে কুকুরের মধ্যে পার্থক্য আমাদের মোটাদাগের একটি ধারনা দেয়, এক সহস্র বছর বা মিলেনিয়াম এর কম সময়ের মধ্যেও কি পরিমান বিবর্তনীয় পরিবর্তন অর্জন করা সম্ভব; পরবর্তী প্রশ্ন যেটা আমাদের জিজ্ঞাসা করা উচিৎ সেটা হলো, কত সংখ্যক মিলেনিয়া আমাদের আছে যা জীবনের সমস্ত ইতিহাসেকে ব্যাখ্যা করতে পারে; আমরা যদি কল্পনা করতে পারি, যে বিশাল পরিমান পার্থক্য, যা একটি বেওয়ারিশ কুকুর বা পাই ডগ কে কোন পেকে থেকে আলাদা করেছে, তা যদি ঘটে থাকে মাত্র কয়েক শতাব্দীর বিবর্তনে, তাহলে আমাদেরকে, বিবর্তনের শুরু সেই লগ্ন থেকে কত  দীর্ঘ সময় ব্যবধানের সৃষ্টি করেছে ? বা ধরুন, স্তন্যপায়ী প্রানীদের শুরু থেকে ? বা সেই সময় থেকে প্রথম  যখন মাছরা স্থলে উঠে আছে? উত্তর হচ্ছে, জীবন কয়েক শতাব্দী আগে শুরু হয়নি, এর যাত্রা শুরু হছে বহু মিলিয়ন শতাব্দী আগে; আমাদের গ্রহের পরিমাপ কৃত বয়স হচ্ছে ৪.৬ বিলিয়ন বছর, বা প্রায় ৪৬ মিলিয়ন শতাব্দী; বর্তমানের সব স্তন্যপায়ী প্রানীদের সাধারন পুর্বপুরুষ এই পৃথিবীতে হেটেছিলেন প্রায় ২ মিলিয়ন শতাব্দী আগে; এক শতাব্দী আমাদের কাছে মনে হয় লম্বা সময়, আপনি কি দুই মিলিয়ন শতাব্দীর কথা কল্পনা করতে পারেন, একটার পর একটা পাশাপাশি, আমাদের মাছ পুর্বপুরুষদের পানি থেকে হামাগুড়ি দিয়ে শক্ত মাটিতে বের হয়ে আসার সেই সময় থেকে আজ অবধি অতিক্রান্ত হয়েছে সাড়ে তিন মিলিয়ন শতাব্দীকাল: এর অর্থ হচ্ছে, প্রায় বিশ হাজার গুন বেশী সময় লেগেছে, যে সময়ে আমরা একটি সাধারন পুর্বপুরুষ থেকে সব ভিন্ন, আসলেই খুব ভিন্ন জাতের কুকুর সৃষ্টি করেছি;

আপনি আপনার কল্পনায় রাখুন বেওয়ারিশ কুকুর ও একটি পেকে র মধ্যকার মোট পার্থক্যগুলোর মোটামুটি একটা ছবি; আমরা একেবারে সুক্ষ্ম পরিমাপের ব্যাপারে চিন্তিত না; যে কোন দুটি ভিন্ন জাতের কুকুরের মধ্যে পার্থক্যগুলো চিন্তা করলে চলবে, কারন গড়পড়তায় কৃত্রিম নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিগুন পরিমান পার্থক্য সৃষ্টি করা হয়েছে, আদি সাধারন পুর্বপুরুষ থেকে; এই মাত্রার বিবর্তনী পরিবর্তনের কথা মাথায় রাখুন, এবং এটিকে পেছন দিকে বিশ হাজার বার একস্ট্রাপোলেট করুন, যত অতীতে যাওযা সম্ভব; বরং খুব সহজ হবে মেনে নেয়া সম্ভব হবে যে বিবর্তন এই পরিমান পরিবর্তন অর্জন করতে পারে যার প্রয়োজন হয়েছে একটি মাছকে মানুষের রুপান্তরিত করার জন্য:

কিন্তু এই সব পুর্বধারনা দাবী করছে যে আমরা পৃথিবীর বয়স জানি, এবং জীবাশ্ম রেকর্ডে নানা গুরুত্বপুর্ণ বিন্দুগুলোর সাথে পরিচিত; এই বইটি হচ্ছে বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমান বিষয়ক; সুতরাং আমি জোর করে সময় চাপিয়ে দিতে পারবো না আমাকে তার যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে হবে; কেমন করে আসলেই আমরা কোন পাথরের বা শিলার বয়স জানতে পারি, কিভাবে আমরা জীবাশ্মর বয়স জানতে পারি; কিভাবে আমরা পৃথিবীর বয়স জানতে পারি,  এবং কিভাবে তাহলে মহাবিশ্বের বয়স জানতে পারি আমরা; আমাদের প্রয়োজন সময়ের পরিমাপক সেই ঘড়ির এভং এই ঘড়ি হচ্ছে পরবর্তী অধ্যায়ের বিষয়;

 ________________ সমাপ্ত তৃতীয় অধ্যায়;

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : তৃতীয় অধ্যায় (শেষ পর্ব)

7 thoughts on “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : তৃতীয় অধ্যায় (শেষ পর্ব)

  1. দারুণ লাগলো। বিশেষ করে কপিঙ্গার বর্ণনা। কুকুরদের কৃত্রিম নির্বাচনের আগে প্রাকৃতিক নির্বাচনের বিষয়টা জানতাম না। বেলায়েভের শেয়াল নিয়ে কিছুদিন আগে জিরো-টু-ইনফিনিটি পত্রিকায় লিখেছিলাম, বিজ্ঞানব্লগ.কমেও আছে http://www.bigganblog.com/?p=1521। একেকটা পোস্ট তৈরি করতে আপনার কতদিন সময় লাগে?

    1. 🙂 বহুদিন সময় লাগে..যখনই সুযোগ পাই.কন্টিনিউ করি;রিচার্ড ডকিন্স ঠিক সেভাবেই বইটা সাজিয়েছেন, কৃত্রিম নির্বাচনের সমান্তরালে প্রাকৃতিক নির্বাচনের বিষয়টি ব্যাখ্যা করা; http://www.bigganblog.com/?p=1521 লেখাটা পড়লাম
      চমৎকার;

    2. বিজ্ঞান ব্লগে লেখাগুলো দেখি প্রায়ই, খুবই প্রান্জ্ঞল; সুন্দর;
      আমার বিস্ময় মিশ্রিত প্রশংসা আপনার প্রয়োজনীয় লেখাগুলোর জন্য:
      শুভকামনা;

  2. চমৎকার হয়েছে। আমাদের যাদের ইংরেজীতে কঠিন সমস্যা আছে তাদের জন্য কোন কথাই নেই।

    ধন্যবাদ হাসান ভাই। আপনাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে গেলাম। এবার এটা বই আকারে সাজাতে পারেন।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s