রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : তৃতীয় অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)


ছবি এবং শুরুর কিছু কথা: উপরের ছবিগুলো ভালোভাবে খেয়াল করুন, ছবিগুলো জাপান এর সাগরে বসবাসকারী Heikea japonica নামের একটি ক্র্যাব বা কাকড়া প্রজাতির, এর খোলশ, যাকে ক্যারাপেস বলা হয়, সেটা খেয়াল করুন, ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন এদের খোলসে কাবুকি মুখোশ পরা ক্রদ্ধ সামুরাই যোদ্ধার মুখ, (প্রথম ছবিটির ইনসেটে পোষাকী সামুরাই যোদ্ধাদের কাবুকি মুখোশ এর সাথে মিলিয়ে দেখুন);  এই Heikea  জীনাসের নামকরণ করা হয়েছে অতীতের একটি সামুরাই গোত্র Heike থেকে; জাপানী লোককথায় এরা প্রতিনিধিত্ব করছে হাজার বছর আগে এক সমুদ্র যুদ্ধে মৃত হেইকে সামুরাইদের অশরীরি আত্মা, যারা এখন সাগর তলায় বেচে আছে  এই কাকড়াদের শরীরে; ১১৮৫ সালের ২৫ এপ্রিল,  ইতিহাসে একটি অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ যুদ্ধ হয়েছিল জাপানের সমুদ্রসীমায়, ডানো-উরা র এই যুদ্ধ নির্ধারণ করেছিল পরবর্তী প্রায় ৭০০ বছর (১৮৬৮ সাল পর্যন্ত্য) কারা জাপান শাসন করবে; প্রথমবারের জাপানের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল সামরিক একনায়করা, সামুরাই যোদ্ধারা, শোগুনরা, রাজতন্ত্র থেকে জাপান রুপান্তরিত হয় সামন্ততন্ত্রে; জাপানের  সংস্কৃতির এই নাটকীয় পরিবর্তন রচনা করেছিল ডানো উরার যুদ্ধ, আর সেকারনে একে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা লোককাহিনী এখনও টিকে আছে; হেইকে কাকড়ার নিয়ে কিংবদন্তী শুরু হয়েছিল এখান থেকেই;  এই যুদ্ধে মুখোমুখি হয়েছিল দুটি গোত্র, মিনামোটো (গেনজী) আর টাইরা(হেইকে), হেইকেদের সাথে ছিল তাদের বালক সম্রাট ও তার পরিবার, কিন্তু তাদের একজন গুরুত্বপুর্ণ জেনারেল বিশ্বাসঘাতকতা করে প্রতিপক্ষ গোত্র গেনজীদের চিনিয়ে দেয় সম্রাটকে বহন করা যুদ্ধজাহাজটি; পরাজয় অবশ্যম্ভাবী জেনে শিশু সম্রাট ও তার পিতামহী, পানিতে ঝাপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন, এবং পরাজয়ের অপমান এড়াতে তাদের অনুসরণ করে আত্মাহুতি দেয় অনুগত হেইকে সামুরাই যোদ্ধারা, ধারনা করা হয় সেই থেকে জনশ্রুতিতে প্রচলিত হেইকে সামুরাই আর রাজ পরিবারের অতৃপ্ত আত্মা সমুদ্রে তলদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে; এই জনশ্রুতি আরো জনপ্রিয়তা পায় যখন একটি বিশেষ প্রজাতির কাকড়ার খোলসে মানুষের মুখের অদ্ভুত স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি দেখতে শুরু করে স্থানীয় জেলেরা; তবে কেউ জানে না কবে থেকে এই কল্পকথা শুরু হয়েছিল, ডানো উরার আগে থেকেই এই প্রজাতির কাকড়ার বাস জাপানের সমুদ্রে থাকাটা প্রায় নিশ্চিৎ, তাহলে? কিংবদন্তী এই গল্পটি খানিকটা সত্যি,কিছুটা পুরান, কিছুটা অশরীরি আত্মার কাহিনী, তবে বৈজ্ঞানিক সমাজে দীর্ঘদিন ধরে এটি বিতর্কের কেন্দ্রে, ঠিক কিভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচন এখানে কাজ করেছে সে বিষয়ে নানা মত আছে; পঞ্চাশের দশকে বিখ্যাত জীববিজ্ঞানী স্যার জুলিয়ান হাক্সলী এই অদ্ভুত সদৃশ্যতাকে আকস্মিক দৈবক্রমে ঘটা একটি ঘটনা বলে মানতে চাননি কারন সদৃশ্যতার মাত্রা অনেক বেশী, কৃত্রিম এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনের একটি মিশ্রন প্রস্তাব করেছিলেন তিনি, বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসেন কার্ল সেগান তার কসমস প্রামান্য চিত্রটিতে; হাক্সলি/সেগান তত্ত্বটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়, তাদের তত্ত্বটি বলছে, বহু দিন আগে স্থানীয় জেলেরা হয়তো এই প্রজাতির কাকড়ার খোলসে মানুষের মুখের প্রতিচ্ছবি দেখতে পায় (আমাদের মস্তিষ্কের প্রতিসাম্য কোন কিছুর মধ্যে মানুষের মুখচ্ছবি দেখার প্রবনতা আছে); কুসংস্কারাচ্ছন্ন জেলেরা যারা হেইকে সামুরাই দের লোককথা জানতো তারা এই কাকড়াগুলোকে না খেয়ে পানিতে ছুড়ে ফেলে দেয়া ‍শুরু করেছিলো এগুলোকে সামুরাইদের অতৃপ্ত আত্মার বাহনকারী হিসাবে চিহ্নিত করে, আর এভাবেই তারা একটি বিবর্তনীয় প্রক্রিয়া নিজেদের অজান্তে শুরু করেছিল, ধীরে ধীরে মানুষের মুখচ্ছবির সাথে সদৃশ্য থাকা কাকড়া গুলো বিশেষ সুবিধা প্রাপ্ত হয়েছিল, বেচে থাকা এবং প্রজননের ক্ষেত্রে, এই কৃত্রিম নির্বাচন কাকড়াদের বহুপ্রজন্মের ব্যবধানে খোলশ শুধুমাত্র মানুষের মুখ নয়, আরো নির্দিষ্টভাবে সামুরাই যোদ্ধার ক্রুদ্ধ মুখচ্ছবি সদৃশ হয়;  তবে বিষয়টি নিয়ে যুক্তিসঙ্গত সংশয় প্রকাশ করেছেন বহু জীববিজ্ঞানী;সংশয়বাদীরা বলছেন, আমাদের প্রাকৃতিক নির্বাচনের আওতার বাইরে আসার কোন দরকার নেই, প্রতিসম শরীরের এই কাকড়াটির খোলসের দাগ আসলে তার মাংশপেশীর সংযোগস্থল, তার শরীরের নানা প্রকোষ্ঠকে প্রতিনিধিত্ব করে, এই সদৃশ্যটা আকস্মিক, আর সেখানে সামুরাই যোদ্ধার মুখ দেখা সম্ভবত প্যারেডলিয়া র উদহারন (প্যারেডলিয়া, আমাদের মস্তিষ্কের প্রবনতা, অনেক কিছুর মধ্যে মানুষের মুখ বা আকৃতি দেখা); এছাড়া আরো কয়েকটি প্রজাতির কাকড়া আছে যাদের খোলশে মানুষের মুখের প্রতিচ্ছবি চাইলে দেখা যাবে (যেমন Dorippidae), মানুষের কৃত্রিম নির্বাচনের কোন প্রভাবই নেই যাদের উপরে ;  এছাড়া আকারে খুব ছোট এই কাকড়াগুলো তেমন খাদ্য উপযোগীও নয় (এ বিষয়ে আরো আলোচনা আছে নীচে)

 
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ :  তৃতীয় অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

The Greatest Show on Earth: The evidence for evolution by Richard Dawkins

 প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায় ( প্রথম পর্ব)

 ম্যাক্রোইভোল্যুশনের দিকে মসৃন পথ …..

____________

 তুমি আমার প্রাকৃতিক নির্বাচন ..

মানুষ নয় এমন চোখের সিলেকটিভ ব্রিডিং বা বাছাইকৃত প্রজননের আর কি কোন উদহারন আছে? অবশ্যই আছে; চিন্তা করে দেখুন স্ত্রী বা হেন ফিজান্টদের (Pheasant)বর্ণহীন, ক্যামোফ্লেজ করা পালকের কথা,একই প্রজাতির পুরষ সদস্যদের বর্ণময় সুন্দর পালকগুচ্ছর সাথে সেটি তুলনা করে দেখুন (ছবি); আমার মনে হয়না সন্দেহর কোন অবকাশ আছে, যদি শুধু নিজের জন্যই তাদের বেচে থাকাটাই মুখ্য হতো, পুরুষ সোনালী ফিজান্টরা (Golden Pheasant) তাদের প্রজাতির বিপরীত লিঙ্গর সদস্যদের মতই বর্ণহীন পালক বেছে নিতে চাইতো বা যখন তারা ছোট ছিল তখন যেমন পালক ছিল, তারই একটি সাদামাটা প্রাপ্তবয়স্ক সংস্করণ হলেও তাদের চলতো;  স্ত্রী এবং শিশু বা চিক ফিজান্টরা অবশ্যই ‍তাদের পালকের বর্ণ ও বিন্যাসে অবশ্যই খুব ভালোভাবে ক্যামোফ্লেজকৃত এবং পুরুষ ফিজান্টদের ক্ষেত্রেও সেটাই তারা চাইতো শুধুমাত্র যদি তাদের ব্যক্তিগত বেচে থাকাটাই একমাত্র উদ্দেশ্য হত; এবং একই ভাবে বিষয়টি সত্য হতো অন্য প্রকার ফিজান্টদের মধ্যে, যেমন লেডি অ্যামহার্ষ্ট (Lady Amherst’s) এবং সুপরিচিত রিং নেকড ফিজান্ট (ring-necked); পুরুষ ফিজান্টরা দৃষ্টি আকর্ষন করার মতই চোখ ধাধানো এবং যে কারনে শিকারী প্রানীদের কাছে বিপজ্জনকভাবে আকৃষ্ট, কিন্তু প্রতিটি প্রজাতিতে তা ঘটে খুবই ভিন্ন ভিন্নভাবে; কিন্তু দেখা যাচ্ছে সব প্রজাতির স্ত্রী সদস্যদের রঙ মলিন এবং ক্যামেফ্লেজকৃত, আর প্রতিটি প্রজাতিতে প্রা্য় একই রকম ঘটছে; কি হচ্ছে তাহলে এখানে, এর অর্থটাই বা কি?


ছবি: ‍ফিজান্ট ( Pheasant) ;  উপরেরটি Golden Pheasant, মাঝে ring-necked, নীচে Lady Amherst’s ( বর্ণিল পুরুষ ও বর্ণহীন স্ত্রী সদস্যদের লক্ষ্য করুন)


ছবি: কিং বার্ড অব প্যারাডাইস; এদের শরীরে আছে চোখ ধাধানো উজ্জ্বল লাল রঙের  পালক। লেজের লম্বা দুটো পালকের মাথায় আছে সবুজ সেই চাকতিটি । উপরের ছবিতে তার পাশে অনুজ্জ্বল রঙের রমনী পাখীটিকে দেখুন, সুষ্পষ্ট পার্থক্য বোঝা যাচ্ছে রঙে।

এর অর্থ একভাবে বলা যেতে পারে, ডারউইনের ভাষায়: যৌন নির্বাচন বা সেক্সুয়াল সিলেকশন; কিন্তু অন্য ভাবে -যা আমার সেই প্রাকৃতিক নির্বাচন বোঝানোর প্রচেষ্ঠার মসৃন পথের জন্য উপযোগী, সেটা হচ্ছে ‘স্ত্রী সদস্যদের দ্বারা স্বপ্রজাতির পুরুষ সদস্যদের সিলেকটিভ ব্রিডিং’);  শরীরের পালকের উজ্জ্বল বর্ণিল রঙ কিন্তু সত্যি সত্যি শিকারী প্রানীদের সহজে দৃষ্টি আকর্ষন করে কিন্তু তাদের সেই একই সজ্জা তাদের সম্ভাব্য যৌনসঙ্গী স্ত্রী ফিজান্টদেরও দৃষ্টি আকর্ষন করে; স্ত্রী বা হেন ফিজান্টদের বহু প্রজন্ম তাদের প্রজনন সঙ্গী হিসাবে উজ্জ্বল বর্নিল পুরুষদের বেছে নিয়েছে বর্ণহীন পালকের মলিন বাদামী রঙ এর সদস্যদের বদলে,স্ত্রী ফিজান্টদের সিলেকটিভ ব্রিডিং এর চাপ যদি না থাকতো নিঃসন্দেহে পুরুষরা  মলিন বর্ণহীনই থাকতো যেমন থাকতে ‍তাদের পছন্দ করার কথা;এই একই জিনিস ঘটে স্ত্রী ময়ুরী যখন পুরুষ ময়ুরদের সিলেকটিভ ব্রিডিং করে বা স্ত্রী বার্ডস অব প্যারাডাইস তাদের পুরুষ সদস্যদের ব্রীড করেছে; আরো অগনিত উদহারণ আছ পাখী, স্তন্যপায়ী, মাছ, উভচরী, সরীসৃপ এবং পতঙ্গদের ক্ষেত্রে, যেখানে তাদের স্ত্রী সদস্যরা (সাধারণ স্ত্রী সদস্যরাই করে থাকে,পুরুষদের চেয়ে অনেক বেশী,এর কারণটা আপাতত এখানে আমাদের আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তা নেই) প্রতিদ্বন্দী পুরুষদের মধ্য থেকে তাদের পছন্দের প্রজনন সঙ্গীদের বেছে নেয়;বাগানের ফুলের মতই,মানব ফিজান্ট ব্রিডাররা আগে স্ত্রী ফিজান্টদের ইতিমধ্যে করা সিলেকটিভ ব্রীডিং এর কারুকাজটি আরো খানিকটা উন্নতি সাধন করেছেন, এবং গোল্ডেন ফীজান্টদের নানা চমৎকার উদহারনের সৃষ্টি করেছেন; যেমন যদিও বহু প্রজন্মের পাখিদের সিলেকটিভ ব্রিডিং এর মাধ্যমে গড়ে ধীরে ধীরে গড়ে তোলার সেই প্রক্রিয়ার বদলে যদিও তারা কেবল একটি বা দুটি বড় মিউটেশনকে ধরেই কাজটি করেছেন;বহু অসাধারন রুপের কবুতরও ব্রীডও করেছে মানুষ (ডারউইন নিজেও তা করেছেন) এবং মুরগীদের, যারা দুর প্রাচ্যের পাখী,রেড জাঙ্গল ফাউল ( Gallus gallus) এর বংশধর;


ছবি: পুরুষ ময়ুরের পেখম,


ছবি: রেড জাঙ্গল ফাউল ( Gallus gallus),  গৃহপালিত সব মোরগ মুরগী এসেছে এদের থেকেই


ছবি: অসংখ্য চিকেন জাতের একাংশ ( কৃত্রিম নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট)

এই অধ্যায়টি মুলত চোখের দ্বারা পরিচালিত নির্বাচন বিষয়ে; কিন্তু চোখ ছাড়াও অন্যান্য ইন্দ্রিয়গুলোও কিন্তু একই কাজ করতে পারে; পাখী সংগ্রহকারীরা ক্যানারীদের ব্রীড করা শুরু করেছিল তাদের গানে এবং চেহারা জন্য; বুনো ক্যানারী হচ্ছে হলদে বাদামী ফিন্চ, দেখতে আদৌ আহামরি কিছু নয়; মানব সিলেকটিভ ব্রিডাররা রানডোম জেনেটিক বৈচিত্রতার কারনে সৃষ্ট নানা রঙ এর প্যালেট ব্যবহার করে এমন একটি যথেষ্ঠ পরিমান বৈশিষ্টমুলক রঙ সৃষ্টি করতে পেরেছে, যে তার নাম পাখির নামের সাথে মিলিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে: ক্যানারী হলুদ; যাই হোক পাখির নাম কিন্তু হয়েছে দ্বীপের নাম থেকেই; উল্টোটা না; যেমনটা হয়েছে গ্যালাপাগোস দ্বীপপুন্জ্ঞর ক্ষেত্রে, যার নাম এসেছে ’টরটয়েস’ এর স্প্যানিশ শব্দটি থেকে। কিন্তু ক্যানারীরা সুপরিচিত মুলত তাদের গানের জন্য, যা আরো সুরেলা ও শ্রুতি মধুর করে তুলেছে মানব সিলেকটিভ ব্রিডাররা; নানা প্রকারের গাইয়ে ক্যানারী সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে, যেমন রোলার (Roller), যাকে এমন ভাবে ব্রীড করা হয়েছে যেন ঠোট বন্ধ করে সে গাইতে পারে, ওয়াটারস্ল্যাগার (waterslager)যা পানির বুদবুদের মত শব্দ করতে পারে, এবং টিমব্রাডোস (Timbrados), যা ধাতব, ঘন্টির মত আওয়াজ করতে পারে, এছাড়া আছে ক্যাস্টানেট ( Castanet)এর মত দ্রুত অতি মাত্রায় শব্দ করা ক্যানারী, যা তাদের স্পেনীয় উৎস এর সাথে মানানসই; গৃহপালিত পাখির গান তার প্রাকৃতিক পুর্বসুরী গানের তুলনায় বেশী দীর্ঘ, জোরালে এবং নিয়মিত, কিন্তু এই সব অতি আরাধ্য গানগুলো বুনো ক্যানারীদের মধ্যেই বিদ্যমান নানা উপাদান দিয়েই কিন্তু  তৈরী; ঠিক যেমন নানা ব্রীডের কুকুরদের মধ্যে দৃশ্যমান নানা কৌশল আর অভ্যস্ত আচরনগুলোকেও খুজে পাওয়া যায় নেকড়ের আচরনের তালিকায়;

http://www.youtube.com/watch?v=knm_nlumeoE
ওয়াটারস্লাগার ক্যানারীদের গান

আবারো মানুষ ব্রীডারটা এখানে শুধু পরিবর্ধনের কাজটা করেছে এর আগেই করা স্ত্রীপাখিদের ব্রিডিং প্রচেষ্টার উপর;  বহু প্রজন্ম ধরে স্ত্রী ক্যানারীরা কোন নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছাড়াই পুরুষ ক্যানারীদের ব্রীড করেছে তাদের গান গাওয়ার দক্ষতার বৈশিষ্ট্যটিকে বাছাই করার ‍মাধ্যমে; তারা তাদের প্রজনন সঙ্গী হিসাবে বেছে নিয়েছে সেই সব পুরুষদের যাদের কন্ঠে গানের বিশেষ আবেদন আছে; ক্যানারিদের এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আমাদের বেশ কিছু তথ্য জানা আছে; ক্যানারী ( এবং বারবারি ডোভ) হরমোন এবং প্রজনন আচরন সংক্রান্ত গবেষনার জন্য খুবই পছন্দনীয় একটি প্রানী; দুটি প্রজাতির ক্ষেত্রেই গবেষনা থেকে আমরা জানি যে, পুরুষ কন্ঠের আওয়াজের শব্দ ( এমনকি কোনে টেপরেকর্ডার থেকেও) শুনলে স্ত্রী পাখিদের ডিম্বাশয় স্ফীতকায় হয়ে উঠে এবং হরমোন নিঃসরণ করতে শুরু করে, যা তাদেরকে প্রজনন উপযোগী পরিস্থিতিতে নিয়ে আসে এবং সঙ্গমের জন্য অপেক্ষাকৃত বেশী প্রস্তুত করে তোলে; কেউ হয়তো বলতে পারেন যে পুরুষ ক্যানারীরা নারীদের ম্যানিপুলেট বা প্রভাবিত করছে তাদের গান শুনিয়ে; মনে হতে পারে যেন তাদের শরীরে এই মাত্র হরমোন ইনজেকশন দেয়া হয়েছে; আবার এটাও বলা যেতে পারে, স্ত্রী পাখিরা সিলেকটিভ ভাবে পুরুষদের বাছাই করছে যেন তাদের গান গাওয়ার দক্ষতা আরো ভালো হতে থাকে; বিষয়টি উভয় দিক থেকে দেখাটা একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ এর মত; প্রসঙ্গক্রমে, অন্য প্রজাতির পাখিদের যেমন হয়, এখানেও একটি জটিলতা আছে, গান শুধু স্ত্রী পাখিদের কাছেই আবেদনময় না, প্রতিদ্বন্দী পুরুষদের জন্য হুশিয়ারী সংকেতও বটে; আপাতত ব্যপারটা আমি একপাশে সরিয়ে রাখছি পরবর্তীতে আলোচনার জন্য;

এবার আমাদের যুক্তিটি আরো খানিকটা এগিয়ে নিতে, উপরের ছবিগুলো ভালো করে লক্ষ্য করুন; প্রথমটি হচ্ছে একটি জাপানি কাবুকি (Kabuki) মুখোশের উডকাট ছবি, যা একটি সামুরাই যোদ্ধার প্রতিনিধিত্ব করছে; দ্বিতীয়টি হচ্ছে একটি ক্র্যাব বা কাকড়া প্রজাতি Heikea japonica ,জাপানের সমুদ্রে এবং জলাশয়ে যাদের পাওয়া যায়; এর গন বা জীনাসের নামটি হচ্ছে Heikea, এই শব্দটির উৎস একটি জাপানী গোত্র বা ক্ল্যান, যার নাম ছিল Heike, যারা ১১৮৫ সালের ডানো-উরা (Danno-Ura)সমুদ্র যুদ্ধে পরাজিত হয়, তাদের প্রতিদ্বন্দী গোত্র জেনজি দের ( Genji) হাতে;  প্রচলিত কিংবদন্তী বলছে; ডুবে যাওয়া হেইকি যোদ্ধাদের অশরীরি আত্মা বা ভুত এই সাগরের তলদেশে বসবাস করে, Heikea japonica নামক ক্র্যাবদের শরীরে; এই কিংবদন্তীকে বাড়তি উৎসাহ দিয়েছে, এই কাকড়াগুলোর শরীরের পেছনের খোলশ বা কারাপেস এর নকশাটা, যা প্রায় ঠিক হিংস্র মুখভঙ্গী করে রাখা একজন সামুরাই যোদ্ধার মত; বিখ্যাত প্রানীবিজ্ঞানী স্যার জুলিয়ান হাক্সলীও যথেষ্ট প্রভাবিত হয়েছিলেন এই সদৃশ্যতা দেখে, যে তিনি লিখেছিলেন, ‘ক্রুদ্ধ জাপানী যোদ্ধার সাথে ডরিপপে (Dorippe) এর সদৃশ্যতা এত বেশী সুনির্দিষ্ট এবং বিস্তারিত যে বিষয়টিকে আকস্মিক বলা ঠিক হবে না…….এরকম হবার সম্ভাব্য কারন যে কাকড়াগুলোর খোলস যোদ্ধাদের চেহারার সাথে বেশী সদৃশ্যতা বহন করে, অন্যদের তুলনায় সেগুলো অনেক কম হারে মানুষের খাদ্যে পরিণত হয়েছে’; ( ১৯৫২ সালে এই কাকড়ার নাম ছিল ডরিপপে ,Dorippe,যখন হাক্সলী এটি লিখেছিলেন, ১৯৯০ সালে এর নাম পুণরায় Heikea নির্দিষ্ট করা হয়, যখন হঠাৎ করে কেউ আবিষ্কার করেন যে বহুদিন আগেই এই নামটাই এদের প্রথম দেয়া হয়েছিল, সেই ১৮২৪ সালে, প্রাণীবিজ্ঞানের নামকরণে এমন কিছু কঠিন শর্তাবলী আছে);

এই তত্ত্বটি, বহু প্রজন্মের কুসংস্কারাচ্ছন্ন জেলেরা সামুরাই যোদ্ধাদের মুখের সাথে মিল খুজে পাওয়া এমন কাকড়াদের পানিতে ছুড়ে ফেলে দিত না খেয়ে, নতুন করে সমর্থন পায়  ১৯৮০ সালে কার্ল সেগান যখন তার চমৎকার প্রামান্য চিত্র Cosmos এ বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে আসেন; তার নিজের ভাষায়:

ধরুন, আকস্মিকভাবেই, শুধু মাত্র সুযোগের কারনে, এই কাকড়াগুলোর কোন একটি অতীত পুর্বসুরীর জন্ম হয়েছিল যার  সাথে মানুষের চেহারার খুবই সামান্য হয়তো সদৃশ্যতা ছিল;  ডানো উরা যুদ্ধের বহু আগে থেকে জেলেরা এ ধরনের কাকড়া খেতে চাইতো না, ধরা পড়ার পর তাদের আবার পানিতে ফিরিয়ে দেবার মাধ্যমে তারা একটি বিবর্তন প্রক্রিয়ার সুচনা করেছিল, কাকড়া এবং জেলের বহু প্রজন্ম অতিক্রান্ত হবার সময়ে যে কাকড়াদের খোলসের প্যাটার্ণ সামুরাই যোদ্ধাদের মুখের মত, তারা বিশেষ সুযোগ পেয়েছে বেচে থাকার ক্ষেত্রে, যতদিন অবধি তাদের এই নকশা শুধু মানুষের মুখই তৈরী করে শেষ হয়নি, এমন কি জাপানী চেহারাও না, বরং ক্রদ্ধ সামুরাই এর চেহারা সদৃশ্য হয়;


ছবি: Heikea japonica crab

চমৎকার একটি তত্ত্ব এটি, যা সহজে ম্লান হবে না; এবং মীম আসলেই এখানে অনুলিপিকরণ হয়েছে কল্পকথার মাধ্যমে; আমি এমনকি একটি ওয়েবসাইটও খুজে পেয়েছি, যেখানে আপনি ভোট করতে পারবেন যে,এই তত্ত্বটি আপনি সত্যি মনে করেন কিনা ( ১৩৩১ ভোটারের ৩১ শতাংশ), বা ফটোগ্রাফটি কি বানোয়াট কিনা ( ১৫ শতাংশ), নাকি জাপানি শিল্পীরা  এটি খোদাই করেছে এভাবে দেখানোর জন্য ( ৬ শতাংশ), কিংবা এই মিলটি কেবল মাত্র আকস্মিক ( ৩৮ শতাংশ) বা কাকড়াগুলো কি আসলেই ডুবে যাওয়া সামুরাই যোদ্ধাদের প্রতিনিধি ( বিস্ময়করভাবে ১০ শতাংশ); অবশ্যই বৈজ্ঞানিক সত্য নির্ধারিত হয়না আম জনতা ভোটের মাধ্যমে এবং আমি ভোট করতে বাধ্য হয়েছি কারন এছাড়া আমাকে ভোটের ফলাফলটি দেখতে দেয়া হচ্ছিল না; বলতেই হবে আমি ভোট করেছিলাম বেরসিকদের সাথে;  আমার মনে হয়, এই সদৃশ্যতার ব্যপারটি সম্ভবত দৈবক্রমে ঘটা একটি আকস্মিক ঘটনা; এর কারন এটা নয় মে একজন প্রভাবশালী সন্দেহবাদী যা ইঙ্গিত করেছিলেন আগেই, কাকড়ার পেছনের নানা দাগ বা উচু নিচু রিজগুলো আসলে এর নীচে থাকা মাংশপেশীগুলোর সংযুক্তি স্থলকে নির্দেশিত করছে। এমনকি হাস্কলী/সেগান তত্ত্বেও, কুসংস্কারাচ্ছন্ন জেলেদেরও প্রথমে শুরু করতে হয়েছিল কোন একটি মুল সদৃশ্যতা লক্ষ্য করার মাধ্যমে, সেটা যত সামান্যই হোক না কেন, এবং খোলসের সাথে একটি প্রতিসাম্যমুলক মাংশপেশীর সংযোগ হচ্ছে ঠিক সেই জিনিশটি যা কিনা  প্রাথমিক সদৃশ্যতার কারন ছিল; আমি আরো বেশী মুগ্ধ হয়েছি বরং এই একই সন্দেহবাদীদের মন্তব্য দেখে, তিনি বলেছেন এই কাকড়াগুলো আসলে আকারে এত ছোট যে এদের খাদ্য হিসাবে গ্রহন করা তেমন সুবিধাজনক নয়; তার মতে  এই আকারের যে কোন কাকড়াকে পানিতে ফেলে দেবার কথা, তাদের খোলসের সাথে মানুষের মুখের কোন মিল থাকুক বা না থাকুক; যদিও আমাকে বলতেই হবে এই গরুত্বপুর্ণ সন্দেহবাদীতার ভিত্তির বেশ খানিকটা অংশ এর গুরুত্ব হারায় যখন টোকিও তে আমাকে একটি নৈশভোজে নিমন্ত্রন করা হয়,  সেখানে আমার নিমন্ত্রণদাতা সবার জন্য একটি কাকড়ার ডিশ এর অর্ডার দেন; সেই ডিশের কাকড়াগুলো Heikea র চেয়ে অনেক বড়, এবং তাদের খোলশও মোটা, শক্ত, কিন্তু আমার নিমন্ত্রনদাতা সুপারম্যানের জন্য ব্যপারটা কোন সমস্যাই ছিল না, তিনি নির্বিকার ভাবে একটার পর একটা পুরো কাকড়া ধরে মুখে পুরে কচ কচ করে চিবাতে লাগলেন,যেন আপেল চিবাচ্ছেন, যা ভবিষ্যদ্বানী করছিল ভয়াবহভাবে রক্তাক্ত মাড়ির কথা; এ ধরনের ভোজনরসিক কারো কাছে Heikea র মত ছোটখাট কাকড়া ছেলেখেলা মাত্র, নি:সন্দেহে এই ব্যাক্তি কোন ভ্রুক্ষেপ আস্ত গিলে খেতে পারবে এদের;

হাক্সলে/সেগান তত্ত্বের প্রতি আমার সন্দেহ পোষন করার মুল কারন হচ্ছে, বৈজ্ঞানিকভাবে এটা প্রমানিত সত্য যে মানুষের মস্তিষ্ক নানা এ্লোমেলো প্যাটার্নের মধ্যে মানুষের মুখ দেখতে বিশেষভাবে অতিউৎসাহী; বৈজ্ঞানিক প্রমান ছাড়া বহু উদহারণও তো আছে, যেমন, যীশুর বা ভার্জিন মেরী বা মাদার তেরেসার মুখ ইত্যাদি দেখা গেছে, পাউরুটির টোষ্টের উপরে, পিজার মধ্যে, দেয়ালে লেগে থাকা স্যাতসেতে অংশে; এই অতিউৎসাহটি আরো জোরালো ও পরিবর্ধিত হয় যদি সেই প্যাটার্ণটি কোন একটি দিকে এলোমেলো না হয়ে একটি প্রতিসাম্য বজায় রাখে; এছাড়া সব কাকড়াই ( শুধু হারমিট ক্র্যাব ছাড়া) আসলে প্রতিসম বা সিমেট্রিকাল শারীরিক গঠনের দিক থেকে; আমি অনিচ্ছাসত্ত্বেও সন্দেহ করছি, সামুরাই যোদ্ধার মুখের সাথে Heikea র সদৃশ্যতা একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা ছাড়া বেশী কিছু না; যতটা আমি কিনা বিশ্বাস করতে চাই এটি পরিবর্ধিত হয়েছে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে;

কোন অসুবিধা নেই;  এছাড়াও মানব সংশ্লিষ্ট নয় আরো অনেক উদহারন আছে, যেখানে প্রানী আছে সেই ’জেলে’ র কাজটি করে, যে কিনা সম্ভাব্য খাদ্য ‘ছুড়ে ফেলে’ দেয় ( বা প্রথমেই আদৌ খেয়াল করে না) কারন তার সাদৃশ্য আছে ভয়ানক, ভীতিকর কোন কিছুর সাথে; আর যখন এই সদৃশ্যতা আসলেই কোন চান্সের মাধ্যমে নিশ্চয়ই তৈরী হয়নি; আপনি যদি একটি পাখি হন, শুয়োপোকা শিকারের খোজে জঙ্গলে বেরিয়েছেন, তখন হঠাৎ করে কোন সাপের মুখোমুখি হলে কি করবেন? চমকে পিছনে লাফ দিয়ে সরে আসবেন, আমিও সেটাই অনুমান করছি, তারপর এর থেকে যতদুরে সম্ভব সরে আসবেন; বেশ, একটি শুয়োপোকা বা ক্যাটারপিলার আছে, বা নির্দিষ্টভাবে যার পেছনের প্রান্তটা কোন ধরনের ভ্রান্তি ছাড়াই বলা যেতে পারে ঠিক ভয়ঙ্কর একটি সাপের মত দেখতে; যা আসলেই ভীতিকর, বিশেষ করে সাপ যদি আপনি ভয় পান; যেমন লজ্জিত হয়ে স্বীকার করছি আমি যেমন; এমন কি মনে করছি, আমি হয়তো খুব একটা রাজী হবো‍না, এরকম কোন একটি প্রানীকে ধরতে, এমনকি যদিও আমার ভালো করে জানা থেকে, এাট আসলে নীরিহ একটি শুয়োপোকা ছাড়া আর কিছু না,এই অসাধারন প্রানীটির একটি রঙ্গীন ছবি উপরে);আমার সেই একই সমস্যা হয় যখন বোলতা অনুকরণকারী বা ওয়াসপ মিমিকিং বা মৌমাছি বা বী মিমিকিং হোভারফ্লাইদের ধরতে,যদিও আমি আমি দেখতে পাচ্ছি এদের এক জোড়া পাখনা বলে দিচ্ছে এরা কোন হুল ফোটানো মাছি না,এরা হচ্ছে প্রানীদের একটি বিশাল তালিকার সদস্য, যারা অন্য কিছুর মত তাদের চেহারা তৈরী করে নিজেদের রক্ষা করার কৌশল আয়ত্ত্ব করেছে, যা খাওয়া অনুপোযোগী  এমন কিছু  রুপে, যেমন পাথর কণা,গাছের ডাল,সমুদ্র শৈবালের পাতা,বা এমন কিছু নিঃসন্দেহে ভয়ানক যেমন সাপ, বোলতা বা কোন সম্ভাব্য শিকারী প্রানীর রক্ত চক্ষু;


ছবি: েএরা সবাই শুয়োপোকা, যাদের পেছনের অংশটা সাপের মত, কোন কোন ক্ষেত্রে এই মিল এত বেশী যেমন নীচের দুটি ছবি, নীরিহ শুয়োপোকা যার পেছনের দিকটা বিষাক্ত ভাইপারের মত দেখতে, শুয়োপোকা শিকারীদের এটি ভয় দেখানোর জন্য যথেষ্ট;

তাহলে কি পাখির চোখ, পতঙ্গদের ব্রীড করে আসছে তাদের খাওয়া অনুপযোগী বা বিষাক্ত মডেলের সাথে সদৃশ্য করে তোলার মাধ্যমে; একটি অর্থে এই প্রশ্নের উত্তরে আমাদের নিশ্চয়ই হ্যা বলতে হবে; তাহলে, এর সাথে আর স্ত্রী ময়ুরদের পুরুষ ময়ুরদের সৌন্দর্যর জন্য ব্রীডিং, মানুষের কুকুর এবং গোলাপ কৃত্রিম প্রজনন করার মধ্যে মুল পার্থক্যটা কি? মুলতঃ, স্ত্রী ময়ুররা কোন কিছু আকর্ষনীয় করার উদ্দেশ্যে ইতিবাচকভাবে ব্রিডিং করছে, তাদেরকে প্রজনন সঙ্গী হিসাবে বেছের নেবার জন্য অগ্রসর হয়ে, অন্যদিকে শুয়োপোকা-শিকারী পাখিরা নেতিবাচকভাবে ব্রিডিং করছে এমন কিছু যা তাদের বিকর্ষন করবে, এদেরকে এড়িয়ে চলার মাধ্যমে; বেশ তাহলে, আরো একটি উদহারণ দেয়া যাক, এই ক্ষেত্রে ব্রিডিং টা হচ্ছে ইতিবাচক, এমন কি যদিও নির্বাচনকারীরা এই পছন্দের জন্য নিজেরা এর থেকে কোন সুফল ভোগ করে না কোনভাবেই;


ছবি: অ্যাঙ্গলার ফিশ

গভীর সমুদ্রের অ্যাঙলার (angler)মাছরা, যারা সাগরের তলদেশে বসে থাকে, শিকারের জন্য তারা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে ( যে বিষয়টি আমি বলতে চাইছি সেটাকে প্রভাবিত করছে না,কিন্তু এই গল্পটি খাটে শুধুমাত্র স্ত্রী অ্যাঙলার মাছদের ক্ষেত্রেই;এই প্রজাতির পুরুষরা সাধারন ক্ষুদ্র বামনাকৃতির,যারা পরজীবির মত স্ত্রী অ্যাঙলার মাছদের শরীরের সাথে যুক্ত করে রাখে নিজেদের;দেখতে অনেকটা বাড়তি  একটি ফিনের মত); অন্য অনেক গভীর সমুদ্রের মাছের মত অ্যাঙলার মাছরা আমাদের মানদন্ডে অত্যন্ত কুৎসিৎ; হয়তো মাছের মানদন্ডেও তাই;  যদিও তাতে কোন কিছূ যায় আসে না, কারন তারা যেখানে বাস করে, সেখানে ভালোভাবে কোন কিছু দেখতে পাবার জন্য প্রয়োজনীয় আলোর অভাব আছে;  গভীর সমুদ্রের অন্যান্য বাসিন্দাদের মত, স্ত্রী অ্যাঙলার মাছরা নিজের আলো নিজেই তৈরী করে নেয় বা বরং তাদের  একটা বিশেষ থলি আছে, যেখানে একধরনের ব্যাকটেরিয়াদের তারা থাকার সুযোগ করে দেয়, যারা অ্যাঙলার ফিসের জন্য আলো তৈরী করে; এধরনের বায়োলুমিনেসেন্স বা জৈবভাবে উৎপন্ন আলো কিন্তু স্পষ্টভাবে কিছু দেখার জন্য যথেষ্ট উজ্জ্বল না, তবে অন্য মাছদের আকর্ষন করার মত যথেষ্ট উজ্জল, একটি স্পাইন যা কোন সাধারন মাছে হয়তো তার ফিনের একটি রে হত মাত্র, অ্যাঙলার ফিশে ক্ষেত্রে আরো দীর্ঘায়িত বা লম্বা আর দৃঢ় হয়, মাছ ধরার ছিপের মত, কোন কোন প্রজাতির ক্ষেত্রে এটা এত সরু এবং নমনীয় হয় যে ছিপ না বলে ছিপের সুতা বলা যেতে পারে; এবং এই মাছের ছিপ বা ছিপের সুতোর শেষ মাথায় কি আছে? কি আবার, টোপ বা প্রলুব্ধ করার জন্য কিছু, বিভিন্ন প্রজাতি সাপেক্ষে এই টোপ হতে পারে ভিন্ন ভিন্ন, কিন্তু সবসময় সেগুলো দেখতে হয় খুব ছোট কোন খাদ্য সামগ্রীর মত, হয়তো একটা কেচো, বা খুব ছোট একটা মাছ বা লোভনীয় দোদুল্যমান কোন কিছু, কোন কোন সময় এই টোপগুলো আসলেই আলোয় উজ্জ্বল; আরেকটি প্রাকৃতিক নিয়ন সাইন, এই ক্ষেত্রে যে বার্তাটা এখানে জ্বলছে নিভছে, সেটা হলো, আসো…. আমাকে খাও; ছোট মাছগুলো কিন্তু এসব দেখে সহজেই প্রলোভিত হয়; তারা এই টোপের কাছাকাছি অগ্রসর হয়, এবং সেটাই তাদের জন্য কাল হয়, কারন ঠিক সেই মুহুর্তে অ্যাঙলার মাছ তার বিশাল মুখ হা করে এবং শিকারটি মুখের ভিতরে আসা পানির স্রোতের তোড়ে অ্যাঙলার ফিশের মুখের ভিতর প্রবেশ করে;

http://www.youtube.com/watch?v=XfPQ_cyIF-8
ছবি:অ্যাঙলার ফিস এর শিকার

এখন কি আমরা  বলতে পারবো, এই ক্ষুদ্র শিকার হওয়া মাছগুলো কি ব্রিড হচ্ছে আরো চমৎকার আকর্ষনীয় টোপের জন্য? যেমন স্ত্রী ময়ুররা পুরুষ ময়ুরদের যেমন আরো আবেদনময় করে তোলে ব্রীডিং এর মাধ্যমে এবং উদ্যানবিদরা আরো আকর্ষনীয় গোলাপের সৃষ্টি করে? কেন না, খুব কঠিন কিন্তু বিষয়টি সেভাবে দেখা; গোলাপের ক্ষেত্রে, সবচেয়ে আকর্ষনীয় ফুলগুলো হচ্ছে সেগুলো যেগুলো পরিকল্পিতভাবে বাছাই করেছেন বাগানকারী প্রজননের জন্য; অনেকটুকুই সেভাবে সত্যি  স্ত্রী ময়ুরদের পুরুষ ময়ুরকে বাছাই করা; সম্ভব হতে পারে যে, স্ত্রী  ময়ুররা তারা যে পছন্দ করছে সে সম্বন্ধে সচেতন ভাবে কোন ধারনা পোষনা করে না, কিন্তু গোলাপের ব্রীড যারা করেন তারা  সচেতন তাদের পছন্দের ব্যাপারে; কিন্তু এই পরিস্থিতিতে এটা কিন্তু কোন গুরুত্বপুর্ণ পার্থক্য না; তবে অন্য দুটোর চেয়ে অ্যাঙলার মাছ এর উদহারনটা আরো বেশী চোখে পড়ার মত; সত্যি সত্যিই শিকার হওয়া মাছ সবচে ’আকর্ষনীয়’ অ্যাঙলার মাছ বাছাই করছে ব্রীডিং এর জন্য, পরোক্ষ  উপায়ে তাদের বাছাই করছে বেচে থাকার জন্য  খাদ্য হিসাবে নিজেদের সরবরাহ করে; যে অ্যাঙলার মাছের টোপ সুন্দর না তাদের না খেয়ে মারা যাবার সম্ভাবনা প্রবল, সেকারনেই প্রজনন না করার সম্ভাবনাই বেশী; এবং ক্ষ‍ুদ্র শিকার হওয়া মাছগুলোই আসলেই এই বাছাইটা করছে, তবে তারা সেই বাছাইটা করছে নিজেদের জীবন দিয়ে; আমরা এখানে যে মুল বিষয়টির দিকে অগ্রসর হচ্ছি সেটাই সত্যিকারের প্রাকৃতিক নির্বাচন, আমরা এই সহজীকরণ প্রক্রিয়ার শেষ প্রান্তে পৌছাবো এই অধ্যায়ের শেষেই;

সেই ধাপগুলো হবে এরকম:

১) মানুষ পরিকল্পিতভাবে উদ্দেশ্য নিয়ে আকর্ষনীয় গোলাপ, সুর্যমুখী ইত্যাদি বাছাই করে, ব্রীডিং এর জন্য, এবং সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আকর্ষনীয় বৈশিষ্টের জন্য দায়ী নির্দিষ্ট জীনগুলোকে সুরক্ষা করে; এটাই কৃত্রিম নির্বাচন, যার কথা মানুষ জানে ডারউইনেরও বহু আগে থেকে; এবং সবাই বুঝতে সক্ষম যে এটি নেকড়েকে চিহুয়াহুয়া এবং ভুট্টোর কব বা শীষের মধ্যভাগকে টেনে ইন্চি থেকে ফুট অবধি বড় করার মত যথেষ্ট শক্তিশালী;

২)  স্ত্রী ময়ুররা ( আমরা জানি না, সচেতন বা পরিকল্পিত কিনা এবং অনুমান করে নেই কোন পরিকল্পনা ছাড়াই) আকর্ষনীয় পুরুষ ময়ুর পছন্দ করে  ব্রীডিং এর জন্য, এবং এভাবেই আকর্ষনীয় বৈশিষ্টের জন্য নির্দিষ্ট জীনগুলোকে সুরক্ষা করে, এর নাম যৌন বা সেক্সুয়াল নির্বাচন এবং এটি ডারউইনের একটি আবিষ্কার বা নিদেনপক্ষে তিনি এটা স্পষ্টভাবেই শনাক্ত করেছিলেন এবং এর নামকরণ করেছিলেন;

৩) ছোট শিকার হওয়া মাছগুলো ( অবশই ইচ্ছাকৃত কিংবা পরিকল্পিতভাবে না) সবচেয়ে আকর্ষনীয় টোপ সহ অ্যাঙলার মাছগুলোকে বাছাই করে তাদের ( অ্যাঙলার ) বেচে থাকার জন্য, তাদের নিজেদের দেহ সবচেয়ে আকর্ষনীয় অ্যাঙলার মাছদের খাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে, এভাবেই অজান্তে তাদের বাছাই করে ব্রিডীং এর জন্য এবং প্রজননের জন্য, এবং সুতরাং আকর্ষনীয় বৈশিষ্টগুলোর জন্য নির্দিষ্ট জীনগুলোকে সুরক্ষা করে; এবং এটাকে বলে , হ্যা, আমরা অবশেষে পৌছেছি সেখানে- প্রাকৃতিক নির্বাচন এবং এটাই হচ্ছে ডারউইনের সবচে বড় আবিষ্কার;

ডারউ্ইনের অসাধারন প্রতিভা বুঝতে পেরেছিলো যে  প্রকৃতি একটি নির্বাচনের এজেন্ট বা সিলেকটিভ অ্যাজেন্ট বা চালিকাশক্তির ভুমিকা পালন করতে পারে; প্রত্যেকেই কৃত্রিম নির্বাচন সম্বন্ধে জানতো* বা নিদেনপক্ষে তারা সবাই যাদের বাগান বা খামার সম্বন্ধে, বা কুকুরের প্রদর্শনী বা ডোভকোট বা কবুতরের ঘর সম্বন্ধে সামান্য অভিজ্ঞতা আছে; কিন্তু ডারউইনই প্রথম, যিনি শনাক্ত করতে পেরেছিলেন যে আপনাকে বাছাই করার এজেন্ট হতে হবে এমন কোন কথা নেই; এই বাছাইটা হতে পারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেচে থাকা সফলতা বা ব্যর্থতার উপর; সার্ভাইভাল বা বেচে থাকার ব্যাপারটা যে গুরুত্বপুর্ণ ডারউইন অনুধাবন করেছিলেন, কারন যারা বেচে থাকে তারাই কেবল প্রজনন করতে পারে এবং তাদের জীন পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তর করে ( ডারউইন অবশ্য জীন শব্দটি ব্যবহার করেননি), যা তাদের বেচে থাকতে সহায়তা করে;

আমি অ্যাঙলার ফিশের উদহারণটা উল্লেখ করলাম কারন,এখনও একটি এজেন্ট এর প্রতিনিধিত্ত্বকারী হিসাবে এটিকে গন্য করা যায় যেখানে তারা তাদের চোখ দ্বারা বাছাই করছে কারা টিকে থাকবে;  কিন্তু আমরা আমাদের তর্কের সেই পর্যায়ে পৌছে গেছি ’ডারউইনের পর্যায়ে’ যেখানে কোন এজেন্ট বাছাই করার কথা বলার কোন প্রয়োজনীয়তা আর নেই; অ্যাঙলার ফিশ থেকে এবার আমরা অন্য মাছের কথায় আসি, যেমন, টুনা (Tuna) বা টারপন (Tarpon), যে মাছগুলো সক্রিয়ভাবে তাদের শিকার ধরে; কোন যুক্তিযুক্ত ভাষায় আমরা দাবী করতে পারবো না যে, শিকার হওয়া মাছ তাদের নিজেদের খাদ্য বানিয়ে বাছাই করে কোন টারপন টিকে থাকবে; তবে আমরা বলতে পারি, যে তারপন মাছগুলো বিশেষভাবে দক্ষ শিকার ধরার জন্য যে কোন কারনেই তা হোক না কেন- দ্রুত সাতার কাটার জন্য মাংশপেশী, তীক্ষ্ম দৃষ্টি ইত্যাদি- তারাই টিকে থাকতে বেশী সফল হবে, সেকারনে তারাই প্রজনন করার সুযোগ পাবে, তাদের বেচে থাকার সফলতার কারন সেই জীনগুলো পরবরর্তী প্রজন্মে হস্তান্তর করবে; তারা ’নির্বাচিত, হয়েছে, সেই বেচে থাকতে পারার কারনে, অন্যদিনে অন্য কোন তারপন যা কিনা যে কোন কারনেই হোক না কেন, অনেক বেশী কম দক্ষ, টিকে থাকতে ব্যর্থ হবে, সুতরাং আমাদের তালিকায় একটি চতুর্থ ধাপ যোগ করতে পারি:

৪) কোন ধরনের নির্বাচনকারী বা বাছাইকারী এজেন্ট ছাড়া, যে সদস্যরা ’নির্বাচিত’ হয়েছে শুধুমাত্র তাদের বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় উন্নতমানের উপকরণ আছে এই সত্যটির উপর নির্ভর করে, তাদের সম্ভাবনা বেশী প্রজনন সফল হবার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে, সেকারনে উন্নত প্রয়োজনীয় উপকরন তৈরীর জীনটিও তারা হস্তান্তর করতে পারবে; সুতরাং প্রতিটি জীন পুলে, প্রতিটি প্রজাতির ক্ষেত্রে সেই সব জীন দিয়ে ক্রমান্বয়ে পুর্ণ হবে যারা বেচে থাকা ও প্রজননের জন্য উন্নত প্রয়োজনীয় উপকরন তৈরী করে;

লক্ষ্য করুন প্রাকৃতিক নির্বাচন কেমন সর্ববিস্তৃত; ধাপ ১,২ ও ৩ এ আমি যে অন্য উদহারনগুলো উল্লেখ করেছিলাম এবং আরো অনেক, সবকিছুকই আবার প্রাকৃতিক নির্বাচনের আওতায় ব্যাখ্যা করা যাবে, সাধারন সর্বব্যাপী একটি প্রক্রিয়ার বিশেষ কেস হিসাবে;  ডারউইন সবচেয়ে সাধারনতম একটি ঘটনার কেস ব্যাখ্যা করেছিলেন, যা মানুষ ইতিমধ্যেই জানতো সীমিত আকারে; তবে ততদিন পর্যন্ত তারা জানতো এটি কৃত্রিম নির্বাচনের একটি বিশেষ কেস হিসাবে;  এই সাধারন কেসটি হলো  এলোমেলো বৈচিত্রময় বংশগতির উপকরণের নন রানডোম – বা এলোমেলো লক্ষ্যবিহীন নয়- টিকে থাকা; কিভাবে নন রানডোম  টিকে থাকার ব্যপারটা আসলে কিভাবে ঘটছে সেটা ব্যপার না, এটা পরিকল্পিত, উদ্দেশ্যমুলক, সরাসরি স্পষ্টভাবে কোন এজেন্ট এর স্বেচ্ছা নির্দেশিত হতে পারে ( যেমন মানুষ ব্রীডাররা পেডিগ্রী গ্রে হাউন্ডদের ব্রীডিং এর জন্য বাছাই করে); এটি কোন এজেন্ট এর অজান্তেই কোন নির্বাচন হতে পারে, যেখানে সরাসরি কোন উদ্দেশ্য জড়িত নয় (যেমন মেয়ে ময়ুররা ছেলে ময়ুরদের নির্বাচন করে ব্রিডীং এর জন্য;  এটি একটি অজান্তে করা নির্বাচন হতে পারে; আমরা হয়তো পুর্বদৃষ্টিতে তা বুঝতে পারি, যা সেই বাছাইকারী নিজে বুঝতে পারেনা – নির্বাচনকারী হয়তো সেটা না করাই শ্রেয়তর মনে করতে পারে ( যেমন অ্যাঙলার ফিশের টোপের দিকে অগ্রসর হওয়া শিকার হওয়া মাছ), অথবা এটা এমন কিছু হতে পারে যা আমরা আদৌ পছন্দ বা বাছাই হিসাবে শনাক্ত করবোনা, যেমন, যখন কোন তারপন টিকে থাকে তার মাংশপেশীর গভীরে কোন অস্পষ্ট প্রানরাসায়নিক সুবিধার কারনে, যা তাকে অতিরিক্ত কিছু শক্তি যোগায় শিকার ধরার সময়; ডারউইন নিজেই সুন্দরভাবে বিষয়টা বলেছেন, On the Origin of Species এর প্রিয় অনুচ্ছেদে;

এটা বলা যেতে পারে যে, প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রতিটি দিন এবং প্রতিটি ঘন্টায় বিশ্বব্যাপী প্রত্যেকটি ভ্যারিয়েশন বা  বৈচিত্রতাকে, তা যত সামান্যই হোক না কেন,  নীরিক্ষা করে চলছে; যা অপকারী তা বাতিল করছে, যা উপকারী তাদের সুরক্ষা এবং পুন্জ্ঞীভুত করছে; নীরবে এবং অচেতনভাবে সে তার কাজ করে যাচ্ছে, যখনই এবং যেখানে সুযোগ আসছে, প্রতিটি জীবের উন্নতি সাধন করছে, তার জৈব এবং অজৈব জীবনের নানা পরিস্থিতি সাপেক্ষে; আমরা  উন্নতি সাধনের এই ধীর পরিবর্তনটি আমরা কিছুই দেখিনা, যতক্ষন না পর্যন্ত সময়ের দীর্ঘ ব্যবধান অতিক্রান্ত হয় এবং তারপরও আমাদের দীর্ঘ অতীতের ভুতাত্ত্বিক সময় কালের প্রতি আমাদের দৃষ্টি এত কম নিখুত যে আমরা শুধু দেখতে পাই জীবনের নানা রুপ, একসময় তারা যা ছিল, এখন বর্তমানে যা ভ্ন্নি;

সচরাচর যা করে থাকি, আমি এখানে উদ্ধৃতি দিয়েছি, ডারউইনের মাষ্টার পিসটির প্রথম সংস্করণ থেকে; একটি উল্লেখ করার মত সংযুক্তি এর পরের সংস্করণগুলোতে লক্ষ্য করা যায়: ’রুপাকার্থে’ বলা যেতে পারে যে, প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রতিটি দিন এবং প্রতিটি  ঘন্টায় …( উদ্ধৃতি চিহ্ন); আপনি হয়তো ভাবতে পারে, ’বলা যেতে পারে’ এটাই যথেষ্ট সতর্ক বাক্য হতে পারতো; কিন্তু ১৮৬৬ সালে ডারউইন, ওয়ালেস, প্রাকৃতিক নির্বাচনের তার সহআবিষ্কারক-  এর কাছ থেকে একটি চিঠি পান, যেখানে তিনি প্রস্তাব করেন, দুঃখজনকভাবে ভুল বোঝাবুঝি বিরুদ্ধে এমনকি বেশী সাবধানতা নেবার প্রয়োজন;

সুপ্রিয় ডারউইন, –  প্রাকৃতিক নির্বাচন এর  স্বয়ংক্রিয় এবং অবশ্য প্রয়োজনীয় প্রভাবগুলোকে সুস্পষ্ট ভাবে দেখতে বা আদৌ বুঝতে অসংখ্য বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের সম্পুর্ন অক্ষমতা দেখে বারবার বিস্ময়ে আমি হতবাক হয়েছি, এবং যা দেখে আমার মনে হয়েছে, এই শব্দটি  ’শব্দ’ হিসাবে নিজেই এবং সেটি ব্যাখ্যা করার আপনার পদ্ধতি, আমাদের অনেকের কাছে তা যতই স্পষ্ট আর সুন্দর হোক না কেন, সেটিকে এখনও সাধারন প্রকৃতিবাদী মানুষদের প্রভাবিত করার মত উপযুক্তভাবে খাপ খাইয়ে নেবার অবকাশ রয়ে গেছে;

ওয়ালেস এর পর জ্যানেট নামক একজন ফরাসী লেখকে উদ্ধৃতি উল্লেখ করেন, যিনি স্পষ্টতই, ওয়ালেস আর ডারউইনের বীপরিত, গভীরভাবে সংশয়াচ্ছন্ন ব্যাক্তি ছিলেন:

আমি বুঝতে পারছি, আপনার দুর্বল বক্তব্যটিকে তিনি বিবেচনা করেছেন এভাবে যে আপনি ’প্রাকৃতিক নির্বাচনের কর্মপদ্ধতিতে কোন ’নির্দেশনা বা চিন্তার’ প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না’;বহুবার এই একই অভিযোগ করেছে আপনার প্রধান বিরোধীরা, আমি নিজেও শুনেছি আমার সাথে কথোপকথনে তা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে, আমার মনে হয় এর উৎপত্তি প্রায় সম্পুর্ণ ভাবে আপনার পছন্দ করা শব্দটি, ’প্রাকৃতিক নির্বাচন’, থেকে, এবং সে কারনে ‘মানুষের নির্বাচন’ এর প্রভাবের সাথে এটিকে সবসময় তুলনা করা হচ্ছে, এবং এছাড়া আপনার প্রায়ই প্রকৃতিকে ব্যাক্তিআরোপ বা পারসোনিফাই করে ব্যাখ্যা, যেমন, প্রকৃতি ’বাছাই’ করে, ’পছন্দ’ করে ইত্যাদি ইত্যাদির সাথেও তা তুলনা করা হচ্ছে; আমাদের অল্প কয়েকজনের কাছে এটি দিনের আলোর মত স্পষ্ট, চমৎকারভাবে ইঙ্গিতবহ, কিন্তু অনেকের কাছে এটি স্পষ্টতই একটি প্রতিবন্ধকতা; সেকারনে, আমি আপনার নিকট প্রস্তাব করার ইচ্ছা পোষন করছি , আপনার মহান গ্রন্হটিতে এই ভুল ধারনাটির উৎসকে সম্পুর্ণভাবে এড়ানো সম্ভব কিনা, এবং ‘অরিজিন’ এর ভবিষ্যত সব সংস্করনেও; এবং আমি মনে করি তেমন কোন সমস্যা ছাড়াই এবং খুব কার্যকরীভাবেই এটা করা সম্ভব স্পেন্সার এর সেই বাক্যটি গ্রহন করার মাধ্যমে, ’সবচেয়ে যোগ্যতমর টিকে থাকা’, এই শব্দটি সেই সত্যটি সহজ ব্যাখ্যা;  প্রাকৃতিক নির্বাচন যেখানে এর রুপক ব্যাখ্যা …;

ওয়ালেস এর ধারনাটি কিন্তু একদিক থেকে ঠিক ছিল, তবে, স্পেন্সারের বাক্যটি, ’যোগ্যতমর টিকে থাকা’ নিজেই কিছু সমস্যার সৃষ্টি করে, যা ওয়ালেস এর পক্ষে আগে থেকেই অনুমান করা সম্ভব ছিলনা, আমি সেই আলোচনাগুলোয় এখানে প্রবেশ করবো না; ওয়ালেস  এর সতর্কবানী সত্ত্বেও আমি ডারউইনের নিজের কৌশল, গৃহপালিতকরণ প্রক্রিয়া এবং কৃত্রিম নির্বাচনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক নির্বাচনের ধারনাটি উপস্থাপন করার পদ্ধতিটি অনুসরন করতে চাই; আমি ভাবতে চাই যে ’জনাব জ্যানেট’ হয়তো এবার মুল বিষয়টি অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন; কিন্তু আমার আরো একটা কারনও আছে ডারউইনের দেখানো সেই ব্যাখ্যার পথ অনুসরণ করা, এবং কারনটি বেশ জোরালো;  কোন বৈজ্ঞানিক হাইপোথিসিস এর সর্বোত্তম পরীক্ষা হচ্ছে এক্সপেরিমেন্ট; বিশেষভাবে কোন এক্সপেরিমেন্ট বা পরীক্ষার মানে হচ্ছে,  প্রকৃতি কি করবে তার জন্য আপনি অপেক্ষা করবেন না এবং নিষ্ক্রিয়ভাবে লক্ষ্য করবেন না বিষয়টি কিসের সাথে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত; আপনি প্রত্যক্ষভাবে কিছু কাজ করবেন, আপনি আপনার উদ্দেশ্য মোতাবেক নানা নিয়ামক পরিমার্জন কিংবা পরিবর্ধন করবেন পদ্ধতিগতভাবে, নিয়মানুসারে; এবংগবেষনায় আপনার প্রাপ্ত ফলাফলটি একটি কন্ট্রোল গ্রুপের সাথে তুলনা করবেন, যাদের কোন পরিবর্তন হয়নি বা ভিন্ন কোন পর্যবেক্ষিত পরিবর্তনের সাথে তা তুলনা করবেন;

এধরনের পরীক্ষামুলকভাবে নানা পরিস্থিতি পরিবর্তন করে কোন হাইপোথিসিসকে পরীক্ষা করে দেখা খুবই গুরুত্বপুর্ণ, কারন এটি ছাড়া কখনোই আপনি নিশ্চিৎ হতে পারবে না,  যে দুটি ঘটনার পারস্পরিক সম্পর্ক আপনি দেখছেন, তাদের কার্য কারনের একটি সম্পর্ক আছে, যা গুরুত্বপুর্ণ, শুধুমাত্র সুযোগের কারনেই তা ঘটেনি;  এটাকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, তথাকথিক ’চার্চ ক্লক ফ্যালাসি’ বা গীর্জার ঘড়ির ফ্যালাসির মাধ্যমে: দুটি পাশাপাশি অবস্থিত চার্চের টাওয়ারে থাকা দুটি ঘড়ি প্রতি ঘন্টায় শব্দ করে বাজে,  কিন্তু সেন্ট এ এর ঘড়িটি ঘন্টাটি সেন্ট বি এর একটু আগে বাজে; মঙ্গলগ্রহ থেকে আসা কোন ভ্রমনকারী, এটি লক্ষ্য করার পর হয়তো ভাবতে পারেন যে, সেন্ট এ র ঘন্টাই সেন্ট বি এর ঘন্টা বাজার কারন; আমরা, অবশ্য, জানি বিষয়টি কেন হচ্ছে, কিন্তু সত্যিকারের কোন পরীক্ষার মাধ্যমেই কেবল মাত্র সম্ভব এই হাইপোথিসিসটি পরীক্ষা করা, সেক্ষেত্রে আমাদের পরীক্ষামুলকভাবে সেন্ট এ চার্চে ঘড়ি বাজিয়ে দেখতে হবে প্রতি ঘন্টা একবারের বদলে যে কোন র‌্যানডোম একটি সময়ে; মঙ্গলগ্রহবাসীর প্রেডিকশন বা ভবিষ্যদ্বানী ( যা এই ক্ষেত্রে অবশ্যই ভুল প্রমানিত হবে) হচ্ছে যে, সেন্ট বি এর ঘড়ি তারপরও ঠিক সেন্ট এ র ঘড়ি বাজার পরপরই ঘটবে; এটি শুধুমাত্র একটি পরীক্ষামুলক ম্যানিপুলেশন যা কিনা নির্ধারণ করতে পারবে, কোন একটি পর্যবেক্ষিত পারস্পরিক সম্পর্ক, আসলে সত্যিকারের কার্য কারণ কিনা ,

যদি আপনার হাইপোথিসিসটি এমন হয় : র‌্যানডোম জেনেটিক বৈচিত্রতাগুলোর ননর‌্যানডোম টিকে থাকার একটি গুরুত্বপুর্ণ বিবর্তনীয় ফলাফল আছে; তাহলে হাইপোথিসিসটার পরীক্ষামুলক কোন টেস্টকে অবশ্যই হতে হবে মানুষের সরাসরি পরিকল্পিত বিস্তারিত হস্তক্ষেপ নির্ভর; পরীক্ষা করে দেখুন, উদ্দেশ্যমুলকভাবে নিয়ামকগুলো নাড়াচাড়া করে দেখুন কোন প্রকরণ বা ভ্যারিয়ান্টটি টিকে থাকে আর কোনটি থাকেনা; সেখানে গিয়ে আপনি বাছাই করুন, একজন মানুষ ব্রীডার হিসাবে, কোন ধরনের সদস্যরা প্রজননের সুযোগ পাবে এবং, সেটাই , অবশ্যই একটি কৃত্রিম নির্বাচন; কৃত্রিম নির্বাচন শুধু প্রাকৃতিক নির্বাচনের জন্য কোন অনুরুপ প্রক্রিয়া নয়; কৃত্রিম নির্বাচন হচ্ছে সত্যিকারের পরীক্ষামুলক – পর্যবেক্ষন মুলক এর চেয়ে ভিন্ন – সেই হাইপোথিসিসটির একটি টেষ্ট যা দাবী করে, প্রাকৃতিক নির্বাচন বিবর্তনীয় পরিবর্তনের কারন;

ছবি: Plot of mean oil concentration against generation for Illinois High Oil (IHO), Reverse High Oil (RHO), Switchback High Oil (SHO), Illinois Low Oil (ILO), and Reverse Low Oil (RLO).সুত্র: From Means to QTL: The Illinois Long-Term Selection Experiment as a Case Study in Quantitative Genetics;J.W. Dudley (Crop Science, Vol. 47 No. Supplement_3, p. S-20-S-31)

আমাদের জানা প্রায় সব কৃত্রিম নির্বাচনের উদহারনগুলো- যেমন, বিভিন্ন জাতের কুকুর উৎপাদন – পরীক্ষামুলকভাবে কোন নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিকল্পিতভাবে নানা প্রেডিকশনের টেষ্ট হবার বদলে পর্যবেক্ষিত হয় ইতিহাসের পুর্বদৃষ্টি বা হাইন্ডসাইট দিয়ে; কিন্তু সঠিক পরীক্ষা কিন্তু সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, এবং এর ফলাফলও সবসময়ই ছিল তেমন কাঙ্খিত যেমন কুকুর, বাধাকপি, সুর্যমুখীর উপর নানা পরীক্ষা নানা অ্যানেকডোটাল (বাস্তবে ঘটা কোন কোন ব্যক্তিগত কাহিনী) ফলাফলে তা দেখা গেছে; একটি উদহারন দেয়া যাক, বিশেষভাবে ভালো একটি উদহারণ কারণ ইলিনোয়া এক্সপেরিমেন্টাল স্টেশন বেশ বহুদিন আগে থেকে, ১৮৯৬ সালে এই পরীক্ষা শুরু করেছিল ( জেনারেশন ১ গ্রাফে); উপরের ডায়াগ্রাম দেখাচ্ছে কৃত্রিমভাবে নির্বাচিত দুটি ভুট্টার বীজে তেলের পরিমান ; একটিকে নির্বাচন করা হয়েছিল বেশী পরিমান তেল উৎপাদনের জন্য অন্যটি কম পরিমান তেল উৎপাদনের জন্য; এটি সত্যিকারের একটি পরীক্ষা কারন আমরা দুটি পরিকল্পিত উদ্দেশ্যমুলক ম্যানিপুলেশন বা ইন্টারভেনশণ এর ফলাফল তুলনামুলক পরীক্ষা করে দেখছি; স্পষ্টতই পার্থক্যটি নাটকীয় এবং যা ক্রমশ বেড়েছে, মনে হচ্ছে যে দুটোরই উর্ধমুখী ও নিম্নমুখী প্রবণতা  থাকলে একসময় এটি একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌছায়; কম তেল ‍উৎপাদনকারীর কারন আমি শুন্যর নীচে তেলের পরিমান কমাতে পারবেন না, আর বেশী পরিমান তেল উৎপাদনের ক্ষেত্রেও সে কারনটা স্পষ্ট;

ল্যাবরেটরীতে প্রদর্শিত কৃত্রিম নির্বাচনের শক্তির আরো পরীক্ষার উদহারণ দেয়া যাক, যেটা শিক্ষনীয় অন্য একটি কারনে; উপরের ডায়াগ্রামটি দেখাচ্ছে ১৭ টি র‌্যাট (ইদুর) এর প্রজন্ম, যাদের দাতের ক্ষয় প্রতিরোধ করার ক্ষমতার উভর নির্ভর করে তাদের কৃত্রিমভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে; সেই পরিমাপটি গ্রাফে প্লট করা হয়েছে সময়ে, দিন হিসাবে, কত দিন ইদুররা দাতের ক্ষয়রোগ বা ক্যারিস মুক্ত থাকে; পরীক্ষার শুরুতে,দাতের ক্ষয়রোগ থেকে মুক্ত থাকার গড়পড়তা সময় ছিল ১০০ দিন প্রায়; কিন্তু মাত্র এক ডজন বা সমপরিমান প্রজন্ম  দাতের ক্যারিস এর বিরুদ্ধে পদ্ধতিগতভাবে প্রতিরোধ ক্ষমতার বৈশিষ্ট নির্বাচন করে, এই সময়কাল প্রায় চারগুন বা আরো বেশী দীর্ঘায়িত হয়, এবং আবারো আরো একটি বংশধারা এখানে নির্বাচন করা হয়,বীপরিত দিকে ( যাদের ক্যারিস প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের কৃত্রিমভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে ব্রীড করা হয়);

ছবি:Two lines of rats selected for high and low resistance to tooth decay;

এই উদহারনটি আমাদের জন্য একটি সুযোগ উপস্থাপন করে, প্রাকৃতিক নির্বাচন চিন্তায় আমাদের খানিকটা অগ্রসর করতে, সত্যিই ইদুরের দাত নিয়ে এই আলোচনা হবে আমাদের এধরনের মুল প্রাকৃতিক নির্বাচনের মুলে যাবার লক্ষ্যে(যেখানে যাবার জন্য আমার আমরা এখন যথেষ্ট প্রস্তুত হয়েছি) তিনটি আলোচনার প্রথমটি; অন্য  দুটি, ইদুরের ক্ষেত্রে যেমন, আমরা আবার সেই জীবদের নিয়ে পুনরায় আলোচনা করবো যাদের আমরা গৃহপালিতকরন প্রক্রিয়ার পরে প্রাকৃতিক নির্বাচনের দিকে যাবার মসৃন বা প্রিমরোজ পথে মিলিত হয়েছিলাম, তারা হল, কুকুর এবং ফুল;

____________________________ চলবে

*ডারউইনের দ্বারা অনুপ্রানিত হয়েছিলেন হিটলার এমন একটি জনপ্রিয় ভিত্তিহীণ গুজবটি এসেছে আংশিক ভাবে সেই সত্য থেকে যে, হিটলার এবং ডারউইন দুজেনেই মুগ্ধ হয়েছিলেন এমন কিছুর কারনে যা সবাই বহু শতাব্দী ধরে পরিচিত সবার কাছে: আপনার কাঙ্খিত বৈশিষ্ট সহ প্রানীদের ব্রীড করা সম্ভব; হিটলার চেয়েছিলেন এই সাধারন জ্ঞানটি মানব প্রজাতির উপর কাজে লাগাতে; ডারউইন তা চাননি; তার অনুপ্রেরণা তাকে নিয়ে গেছে বহু কৌতুহলোদ্দীপক এবং মৌলিক দিকে; ডারউইন এর সবচেয়ে বড় অন্তদৃষ্টিটা হলো, আপনার কোন ব্রীডিং করানোর এজেন্ট এর কোন প্রয়োজন নেই: প্রকৃতি – বেচে থাকার উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা এবং প্রজনন সাফল্যের তারতম্য -এই ব্রীডারের ভুমিকাটি পালন করতে পারে; আর হিটলারে সোস্যাল ডারউইনিজম – তার বিভিন্ন রেস বা বর্ণের মধ্যে সংগ্রাম – আসলেই সত্যিকার ভাবে অডারউইনীয়; কারন, ডারউইনের কাছে, অস্তিত্বের বা বেচে থাকার সংগ্রাম কোন প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে, দুটি প্রজাতির মধ্যে, রেস বা অন্য কোন গ্রুপের সাথে; ডারউইন সঠিকভাবে পছন্দকৃত হয়নি এবং  দুর্ভাগ্যজনকভাবে সাবটাইটেল সহ বিখ্যাত বই: The preservation of favoured races in the struggle for life; যথেষ্ট পরিমানে স্পষ্ট যে ডারউইন কখনো রেস বা বর্ণের অর্থ এক গ্রুপ মানষ, প্রানী ও উদ্ভিদ সবকিছুই একটি সাধারন বংশধারার সাথে যুক্ত(Oxford English Dictionary, definition 6.I). বরং তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন অক্সফোর্ড ইংলিশ অভিধান অনুযায়ী ;কোন একটি গ্রুপ বা শ্রেনীর মানুষ,প্রানী অথবা অন্যকিছু, যাদের কিছু সাধারন বা কমন বৈশিষ্ট্য বা বৈশিষ্ট্য সমুহ আছে; এই অর্থে একটি উদহারন হতে পারে যেমন, সব সদস্য ( তাদের ভৌগলিক রেস বা বর্ণ যাই হোক না কেন) যাদের চোখের রঙ নীল; আধুনিক জীনতত্ত্বের প্রযুক্তিনির্ভর ভাষায়, যা ডারউইনের সময় ছিল অনুপস্থিত ,আ্মরা বর্ণ বা রেস এর ধারনাটি প্রকাশ করবো, সেই সব সদস্য যাদের একটি বিশেষ অ্যালীল আছে; ডারউইনের অস্তিত্ত্বের জন্য সংগ্রামকে ভুল বোঝা হয়, বিভিন্ন গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে সংগ্রাম হিসাবে, এই তথাকথিত গ্রুপ সিলেকশনের ভ্রান্ত ধারনা বা ফ্যালাসি দু:খজনকভাবে শুধু হিটলারীয় বর্ণবাদীতায় সীমাবদ্ধ না; এটি বারবার আলোচনায় উঠে আছে ডারউইনবাদের অপেশাদারী সৌখিন ব্যাখ্যাকারীদের জন্য, এমনকি কিছু পেশাগত জীববিজ্ঞানী, যাদের বিষয়টি আরো স্পষ্টভাবে জানা উচিৎ;

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : তৃতীয় অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

2 thoughts on “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : তৃতীয় অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s