রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)


ব্র্যাড হল্যান্ড এর ইলাসট্রেশন ( সুত্র: TIME ম্যাগাজিন, God Vs Science, জানুয়ারী ১৫, ২০০৭)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন :  পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)
The God Delusion by Richard Dawkins

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায়
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) , চতুর্থ অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) ,
চতুর্থ অধ্যায় ( তৃতীয় পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( চতুর্থ পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
 পঞ্চম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)পঞ্চম অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) , পঞ্চম অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

ধর্মের শিকড়

For excellent reasons related to Darwinian survival, child  brains need to trust parents, and elders whom parents tell them to trust. An automatic consequence is that the truster has no way of distinguishing  good advice from bad. The child cannot know that ‘Don’t paddle in the crocodile-infested Limpopo’ is good advice but ‘You must sacrifice a goat at the time of the full moon, otherwise the rains will fail’ is at best a waste of time and goats. Both admonitions sound trustworthy. Both come from a respected source and are
delivered with a solemn earnestness that commands respect and demands obedience. Richard Dawkins

অন্য কোন কিছুর বাই-প্রোডক্ট বা উপজাত হিসাবে ধর্ম: 

যাইহোক,আমি এখন গ্রুপ সিলেকশনকে একপাশে সরিয়ে রাখতে চাই এবং ধর্মের ডারউইনীয় সারভাইভাল ভ্যালু বা বেচে থাকার জন্য এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গী ব্যাখ্যা করতে চাই। সংখ্যায় ক্রমশ বাড়তে থাকা জীববিজ্ঞানীদের মত আমিও ধর্মকে দেখি অন্য কোন কিছুর একটি ’উপজাত’ বা ’বাই-প্রোডাক্ট’ হিসাবে।আরো সাধারনভাবে,আমি বিশ্বাস করি যে, ডারউইনীয় সারভাইভাল ভ্যালু সম্বন্ধে আমরা যারা ধারনা করার চেষ্টা করছি তাদের প্রয়োজন ’বাই-পোডাক্ট এর চিন্তা করা’;যখন আমরা কোন কিছুর বেচে থাকার ক্ষেত্রে তার কি উপযোগিতা মুল্য আছে তা জানতে চাই,তখন হয়তো হয়তো ভুল প্রশ্নটি করে থাকি;আমাদের আরো খানিকটা সহায়ক পন্থায় প্রশ্নটি নতুন করে লিখতে হবে। যে বৈশিষ্টটি নিয়ে আমাদের বিশেষ উৎসাহ (এই ক্ষেত্রে যেমন ধর্ম), হয়তো তার সরাসরি কোন নিজস্ব সারভাইভাল ভ্যালুই নেই (বা এমন কোন গুনাবলী সেই যা বেচে থাকার ক্ষেত্রে ডারউইনীয় অর্থে সহায়ক হতে পারে) কিন্তু এটি এমন কিছু একটির উপজাত বা বাই-প্রোডাক্ট,যার সেই সারভাইভাল ভ্যালুটি আছে। আমার নিজের গবেষনার ক্ষেত্র,প্রানী আচরণের একটি উদহারন দিয়ে এই উপজাত বা বাই-প্রোডাক্ট এর ধারনাটাকে ব্যাখ্যা করলে আমি মনে করি সেটি বোঝার জন্য সহায়ক হতে পারে।

মোমবাতির জ্বলন্ত শিখায় মথদের সরাসরি ঝাপিয়ে পড়তে দেখা যায় এবং ভালো করে লক্ষ্য করলে কিন্তু মনে হয়না এটি কোন দুর্ঘটনা;তারা যেন অতিউদ্যোগী হয়ে নিজেদের পুড়িয়ে আত্মাহুতি দেয়;তাদের এই অদ্ভুত আচরনকে আমরা নাম দিতে পারি ’আত্মহত্য করার উদ্দেশ্যে নিজেকে আগুনে পোড়ানো বা সেলফ ইমোলেশন আচরণ’এবং এই রহস্যময় নামের আড়ালে বিস্মিত হই কেমন করে, প্রাকৃতিক নির্বাচন এধরনের একটি আচরণ বিবর্তনে সহায়ক ভুমিকা পালন করতে পারে;আর এখানে আমার বক্তব্য হচ্ছে, অবশ্যই আমাদেরকে নতুন করে প্রশ্নটি লিখতে হবে,এমনকি কোন বুদ্ধিমান উত্তর খোজার চেষ্টা করার আগেই। এটি আত্মহত্যা নয়। আপাতদৃষ্টিতে এই আত্মহত্যা অন্য কোন একটা কিছুর অযাচিত বা অনাকাঙ্খিত কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা উপজাত ‍বা বাই-প্রোডাক্ট। উপজাত বা বাই-প্রোডাক্ট,কিন্তু কার? বেশ,নীচে বর্নিত হয়েছে এমন একটি সম্ভাবনা,যা হতে পারে এবং যেটি বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে।

রাতের পৃথিবীকে কৃত্রিম আলোর আবির্ভাব বেশ সাম্প্রতিক, এর আগে রাতে আলো যা চোখে পড়ত তা ছিল চাদ আর তারারা, কিন্তু তাদের অবস্থান ছিল দৃষ্টিসীমার অসীমে বা অপটিক্যাল ইনফিনিটিতে, সুতরাং সেই উৎস থেকে আসা আলোক রশ্মিগুলো সমান্তরাল, কম্পাস বা দিক নির্দেশনার চিহ্ন হিসাবে ব্যবহার করার জন্য তাদেরকে উপযোগী করে এই বৈশিষ্টটি; জীববিজ্ঞানীদের কাছে বিষয়টি অজ্ঞাত নয় যে, সাধারনতঃ পতঙ্গরা মহাকাশে অবস্থিত বস্তু যেমন সুর্য কিংবা চাদ থেকে আসা আলোর রশ্মি ব্যবহার করে সরাসরি পথে বা সরল রেখায় যাতায়াত করার জন্য এবং খাদ্য সন্ধানের অভিযান শেষে ঠিক সেই কম্পাসটাই তারা ব্যবহার করে বীপরিতমুখী পথে ঘরে ফেরার জন্য; পতঙ্গদের স্নায়ুতন্ত্র খুব দক্ষ একটি সাময়িক গড়পড়তা নিয়ম বেধে করার জন্য, যেমন: ’এমন পথ ধরে যেতে হবে যেন আলোক রশ্মি তোমার চোখে ৩০ ডিগ্রী কোনে আঘাত করতে পারে’; যেহেতু পতঙ্গদের চোখ হচ্ছে যৌগিক (যেখানে লম্বা সোজা টিউব বা আলোকে গাইড করার টিউব চোখের কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে ছড়িয়ে থাকার মত সাজানো থাকে, হেজহগদের (বা সজারুর গায়ের কাটাগুলোর মত), তাদের কাছে এই নিয়মের অর্থ হচ্ছে নির্দিষ্ট একটি সেকশনের লাইট টিউব বা ওমাটিডিয়ামে শুধু আলোটাকে ধরে রাখার জন্য তাদের অনুশীলন করতে হয়।

কিন্তু গুরুত্বপুর্ণ একটি বিষয় হচ্ছে লাইট কম্পাসটির সফলভাবে কাজ করার বিষয়টি অপরিহার্যভাবে নির্ভর করে এই সব মহাজাগতিক আলোর উৎসগুলোর দৃষ্টিসীমার অসীমে থাকার উপর। যদি তা না হয়, আলোর রশ্মিগুলো আর সমান্তরাল থাকে না বরং কোন চাকার স্পোকদের মত চারিদিকে ছড়িয়ে থাকে রশ্মিগুলো; একটি স্নায়ুতন্ত্র ৩০ ডিগ্রী কোন ( বা যে কোন সুক্ষ কোন হতে পারে) বা অ্যাঙ্গেল এর ধরাবাধা নিয়ম যদি চাপিয়ে দেয়া হয় কাছাকাছি থাকা কোন মোমবাতির আলোক উৎসর উপর, যেন সেই মোমবাতিটি হলো অসীম দৃষ্টিসীমায় থাকা চাদ, এটি মথকে সর্পিলকার একটা পথের দিকে চালিত করে নিয়ে যাবে, সরাসরি আগুনের শিখার দিকে;  আপনার নিজের বোঝার জন্য বিষয়টি একে দেখুন, আপনিও একটি চমৎকার লগারিদম নির্ভর একটি  সর্পিলাকার ট্রাজেক্টরী পাবেন মোমবাতির শিখা বরাবর।

যদিও এই বিশেষ পরিস্থিতির জন্য বিষয়টি প্রানঘাতী, তবে মথদের মস্তিষ্কের এই গড়পড়তা একটি ধরাবাধা নিয়ম কিন্তু বেশ ভালো, কারণ গড়পড়তা কোন একটি মথের জন্য চাদের চেয়ে বরং মোমবাতির দেখা পাওয়াটাই বেশী দুর্লভ; আমরা কখনো খেয়াল করি না, শত শত মথ নীরবে এবং খুব কার্যকরীভাবেই চাদের  বা কোন উজ্জল তারার আলো এবং এমনকি দুরের কোন শহর থেকে আসা হালকা আলোর আভা ব্যবহার করে তাদের পথ খুজে নিচ্ছে রাতের অন্ধকারে। শুধু মথগুলোকে আমরা মোমবাতির শিখার দিখে ঘুরে ঘুরে পড়তে দেখি এবং ভুল প্রশ্নটা করি: কেন এই মথগুলো আত্মহত্যা করছে? বরং আমাদের জিজ্ঞাসা করা উচিৎ কেন তাদের এমন একটি স্নায়ুতন্ত্র আছে যা তাদের আলোক রশ্মির সাথে একটি নির্দিষ্ট কোন বা অ্যাঙ্গেল অবলম্বন করে উড়তে নির্দেশ দেয়, যে কৌশলটা শুধুমাত্র আমাদের নজরে পড়ে কোথাও ভুল হলে। যখন প্রশ্নটা নতুনভাবে করা হয়, রহস্যও বাষ্পীভুত হয়ে উবে যায়। এটিকে আত্মহনন কখনোই বলা ঠিক না, এটি সাধারনত সবসময় কাজ করে এমন একটি উপযোগি কম্পাসের হঠাৎ ভুল করে ঘটে যাওয়া একটি উপজাত বা বাই-প্রোডাক্ট;

এখন এই বাই-প্রোডাক্টের উদহারনটির শিক্ষা মানুষের ধর্মীয় আচরনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করুন। আমার লক্ষ্য করতে পারি  যে বহু মানুষ,কোন কোন জায়গায় যা শতকরা ১০০ ভাগ-তারা এমন কিছু বিশ্বাসকে ধারন করে যা সরাসরি প্রমানযোগ্য সকল বৈজ্ঞানিক সত্যকে এবং সেই সাধে অন্যদের বিশ্বাস করা ধর্মকেও অস্বীকার করে;আর মানুষ যে এই বিশ্বাসগুলো লালন করে তীব্র আবেগময়তায় চরম সত্য হিসাবে মেনে নেয় শুধু তাই নয়, উপরন্তু তারা এই বিশ্বাস ধারন করার কারনে সৃষ্ট বা এর নির্দেশিত নানা ব্যয়বহুল কর্মকান্ডে তাদের সময় এবং কষ্টার্জিত সম্পদও ব্যয় করে;

এই বিশ্বাসের কারনে তারা মৃত্যুকে বরণ করে বা এর জন্য হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করে না। আমরা এটি দেখে বিস্মিত বোধ করি,ঠিক যেমন অবাক হই মথদের মোমবাতির শিখায় আত্মহননের আচরন দেখে (সেলফ ইমমোলেশন); হতভম্ব আমরা জানতে চাই, কেন ? কিন্তু এখানে আমার বক্তব্যটা হচ্ছে, হয়তো আমরা ভুল প্রশ্নটা করছি। ধর্মীয় আচরন হয়তো যা হয়তো হবার কথা ছিল না এমন কোন মিসফায়ারিং,হয়তো কোন অন্তর্হিত মানসিক প্রবনতার একটি দুর্ভাগ্যজনক উপজাত বা বাইপ্রোডাক্ট , যা অন্য কোন পরিস্থিতিতে, তা বর্তমানে কিংবা অতীতের কোন একসময় উপযোগি ছিল। এই দৃষ্টিভঙ্গীতে এই্ প্রবণতাটি যা প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়েছিল আমাদের পুর্বপুরুষদের মধ্যে ,তা হয়তো সেই অর্থে ধর্ম ছিল না;এর অন্য কিছু উপকারিতা ছিল এবং শুধুমাত্র ঘটনাচক্রে এটি প্রকাশিত হয়েছে ধর্মীয় আচরনের মধ্য দিয়ে। আমরা ধর্মী আচরণকে বুঝতে পারবো শুধুমাত্র এটিকে পুণঃ নামকরণ করার মাধ্যমে।

তাহলে,যদি ধর্ম অন্যকিছু একটি উপজাত বা বাই-প্রোডাক্টই হয়ে থাকে, তাহলে সেই অন্য কিছুটি আসলে কি? মহাজাগতিক আলোক রশ্মির কম্পাস ব্যবহার করে দিক নির্দেশনা ও চলাফেরা করার মথদের সেই আচরনটির অপর সংস্করণটি কি?কি সেই আদিমভাবে সুবিধাজনক বৈশিষ্ট যেটা কখনো মিসফায়ার বা ভুল করে ধর্মের উদ্ভব করে? আমি একটি প্রস্তাব দেবো, উদহারনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে; কিন্তু আমি জোর দিতে চাই একটি বিষয়ে, সেটি হচ্ছে আমি ’ধরনের’ বিষয় বোঝাতে চাইছি এটি শুধু তার একটি উদহারন মাত্র; এবং আমি এর সমান্তরালে অন্যরা যা প্রস্তাব দিয়েছেন, তারও ব্যাখ্যা দেবো ক্রমান্বয়ে। যে কোন একটি নির্দিষ্ট উত্তরের চেয়ে বরং আমি সেই মুলনীতির ধারনাটিরই বেশী সমর্থন করি: প্রশ্নটাই আসলে ঠিক মত হওয়া উচিৎ,প্রয়োজন হলে নতুন করে লিখতে হবে;

আমার নির্দিষ্ট হাইপোথিসিসটি শিশুদের নিয়ে। অন্য যে কোন প্রজাতির চেয়ে, আমরা বেচে থাকার জন্য সবচেয়ে বেশী নির্ভর করি আমাদের পুর্ব প্রজন্মগুলোর পুন্জ্ঞীভুত অভিজ্ঞতার উপর আর সেই অভিজ্ঞতাকে পরবর্তী প্রজন্মের শিশুদের কাছে হস্তান্তরিত করা প্রয়োজন, তাদের সুরক্ষা ও কল্যানের জন্য। তাত্ত্বিকভাবে শিশুরা কিন্তু ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে,যেমন,খাড়া পাহাড়ের খুব কিনারায় না যাওয়া,আগে পরীক্ষা করে খেয়ে দেখা হয়নি এমন বুনো ফল না খাওয়া,কুমির আছে এমন পানিতে সাতার না কাটা ইত্যাদি। কিন্তু নিদেনপক্ষে এটা স্পষ্ট যে সেই শিশুদের মস্তিষ্ক একটি বিশেষ সিলেকটিভ বা নির্বাচনী সুবিধা পাবে, যে মস্তিষ্ক একটি গড়পড়তা নিয়ম বা রুল অব থাম্ব ধারন করে: কোন প্রশ্ন ছাড়াই বিশ্বাস করো,তোমাদের গুরুজনরা যা বলেন, তোমাদের পিতামাতাকে মান্য কর; গোত্রের গুরুজনদের মান্য কর, বিশেষ করে যখন তারা গম্ভীর এবং ভীতিপ্রদর্শন করার মত কন্ঠ ধারন করে; কোন প্রশ্ন ছাড়া তোমাদের গুরুজনদের বিশ্বাস করো। কোন শিশুর জন্য সাধারনত এটি মুল্যবান একটি নিয়ম,কিন্তু মথদের যেমন হয়,এটি ফলাফল খারাপও হতে পারে।

শৈশবে আমার স্কুলের গীর্জায় যাজকের দেয়া একটি ভয়াবহ সারমন আমি কখনোই ভুলতে পারিনি;এখন ভাবলে এর ভয়াবহতাটা বোধগম্য হয়,অর্থাৎ সেটি সেই সময় আমার শিশু মস্তিষ্ক গ্রহন করে নিয়েছিল যাজক যে উদ্দেশ্যে তা বলেছিলেন সেভাবেই;তিনি আমাদের একদল সেনাদের গল্প বলেছিলেন,যারা রেলওয়ে লাইনের পাশে কুচকাওয়াজ করছিলেন,কোন একটা গুরুত্বপুর্ণ সময়ে যখন ড্রিল সার্জেন্ট এর মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে. তিনি তাদের থামবার নির্দেশটি দিতে ভুলে যান;কিন্তু সেনারা কোন প্রশ্ন ছাড়াই নির্দেশ মান্য করার শিক্ষায় এমনই দীক্ষা পেয়েছিল,তারা সরাসরি এগিয়ে আসা একটি ট্রেনের অভিমুখে তাদের কুচকাওয়াজ অব্যাহত রাখে; অবশ্যই আমি গল্পটা বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করিনা এবং আমি আশা করি ধর্মযাজক নিজেও সেটা বিশ্বাস করেননি। কিন্তু আমার বয়স যখন নয় আমি তা বিশ্বাস করেছিলাম,কারন আমি এটা শুনেছিলাম একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও আমার উপর কর্তৃত্ব আছে এমন একজন মানুষের নিকট থেকে। তিনি সেটা বিশ্বাস করুন বা না করুন,যাজক সৈন্যদের সেই ক্রীতদাসের মতো কোন প্রশ্ন ছাড়াই কোন কর্তৃত্ব স্থানীয় কারো নির্দেশ, যেটা যত ভয়াবহই আর অবিশ্বাস্য হোক না কেন, মানার মানসিকতাকে যেন আমরা শিশুরা প্রশংসার দৃষ্টিতে দেখি এবং নিজেদের সেই আদলে গড়ে তুলি। আমার কথা যদি বলি,আমি মনে করি আমরা ব্যাপারটা সপ্রশংস দৃষ্টি নিয়ে দেখেছিলাম,কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক হিসাবে পরবর্তীতে আমার শৈশবে  সেই আমিকে কোন কৃতিত্ব দিতে পারিনি, যে কিনা ভেবেছিল ট্রেনের নীচে অবধারিত মৃত্যু জেনে কুচকাওয়াজ অব্যাহত রাখার মত সেই সাহস আছে কিনা । কিন্তু যাই হোক,এভাবেই আমার সেই অনুভুতিটাকে মনে পড়ে। যাজকের সেই সার্মন অবশ্যই আমার মনে গভীর একটি দাগ ফেলেছিল,কারন আমি এটা মনে করেছি এবং আপনাদের সাথে সেটা ভাগ করে নিয়েছি এখানে প্রকাশ করার মাধ্যমে।

নিরপেক্ষভাবে যদি ভাবি, আমার মনে হয় না যাজক আদৌ মনে করেছেন তিনি আমাদের কোন ধর্মীয় উপদেশ বিতরণ করছেন, ধর্মীয় কোন বিষয়ের তুলনায়, এটি মুলত সামরিক, টেনিসনের বিখ্যাত ‘চার্জ অব দ্য লাইট ব্রিগেড‘ এর  মুলসুরে, সম্ভবত যার উদ্ধৃতি তিনি দিয়েছিলেন।

‘Forward the Light Brigade!’
Was there a man dismayed?
Not though the soldiers knew
Some one had blundered:
Theirs not to make reply,
Theirs not to reason why,
Theirs but to do and die:
Into the valley of Death
Rode the six hundred.

(মানুষের কন্ঠস্বর এর রেকর্ডিং এর অন্যতম পুরোনো নিদর্শনের একটি হচ্ছে লর্ড টেনিসনের নিজের কন্ঠে আবৃত্তি করা এই কবিতাটি, এবং যেন অতীতের গভীর থেকে বেরিয়ে আসা  কোন দীর্ঘ সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে ভেসে আসা ফাপা সেই আওয়াজ শিহরণ জাগানোর জন্য খুবই প্রযোজ্য); সামরিক কোন হাই কমান্ডের দৃষ্টিভঙ্গীতে ব্যাপারটাকে চুড়ান্ত পাগলামি মনে হতে পারে যে, প্রতিটি সৈনিক কোন নির্দেশ মানবে কি মানবে না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুমতি তাদের উপর ন্যস্ত করা; যে জাতির পদাতিক সৈন্যরা তাদের ব্যাক্তিগত উদ্যোগে কাজ করে, অনুমতি না মেনেই যুদ্ধে যায়, সাধারনত তাদের পরাজয় ঘটে। সুতরাং কোন জাতির দৃষ্টিভঙ্গীতে এটি সরল সহজ গড়পড়তা নিয়ম হিসাবে উপযোগী এমনকি যদিও কখনো কখনো এটি ব্যাক্তিগত ভয়াবহ পরিস্থিতির কারন হতে পারে। সৈন্যরা এমনভাবে প্রশিক্ষিত হয় যেন তারা যতটা সম্ভব অটোম্যাটা বা কম্পিউটার এর মত হয়;

কম্পিউটারকে যা নির্দেশ দেয়া হয় তারা সেটা করে। তারা ক্রীতদাসের মত যে কোন নির্দেশ মান্য করে তাদের নিজস্ব প্রোগ্রামিং এর ভাষায়। এভাবেই তারা নানা উপযোগী কাজ করতে পারে যেমন ওয়ার্ড প্রসেসিং বা স্প্রেডশীটের নানা গণণা। কিন্তু, এরই একটি অবশ্যম্ভাবী উপজাত বা বাই-প্রোডাক্ট হিসাবে, তারা পুরোপুরি রোবটের মতই আচরণ করে কোন বাজে নির্দেশ মান্য করার ক্ষেত্রে। তাদের কোনভাবেই বলার কোন উপায় নেই, কোন নির্দেশের কি ফলাফল হতে পারে, খারাপ কিংবা ভালো। তাদের কাজ শুধমাত্র সেই কম্যান্ড বা নির্দেশগুলো মেনে চলে, সৈনিকরা যেমন করতে বাধ্য মনে করা হয়। তাদের এই শর্তহীন আনুগাত্য কম্পিউটারকে এর যেমন পরিণত করেছে একটি উপযোগি যন্ত্র হিসাবে আবার সেই ঠিক একই জিনিশ তাদের অবশ্যই নিশ্চিতভাবে শিকারে পরিণত করে কোন সফটওয়্যার ভাইরাস বা ওয়ার্ম এর আক্রমনের; কোন খারাপ উদ্দেশ্যে লেখা একটি প্রোগাম যা বলে, ’আমাকে কপি করে, এবং হার্ড ডিস্কে তুমি যেকয়টা ঠিকানা পাও, সব ঠিকানায় আমাকে পাঠাও’, কম্পিউটারের পক্ষে তা না অমান্য করা সম্ভব না, আর এই অনুগত ভাবে নির্দেশ মানার ঘটনাটি ঘটবে প্রতিটি কম্পিউটারেই , যারা সেই নির্দেশ পেয়েছে। খুবই কঠিন একটি কাজ হবে. হয়তো বা অসম্ভব এমন কোন কম্পিউটারের পরিকল্পনা করা, যা কাজে লাগবার মত অনুগত অবার একই সাথে কোন ধরনের ভাইরাসের সংক্রমনের আক্রমন থেকে সুরক্ষিত।

বিষয়টিকে  সহজভাবে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে আমি যদি সফল হয়ে থাকি, আপনি হয়তো ইতিমধ্যেই শিশুর মস্তিষ্ক ও ধর্ম নিয়ে আমার যুক্তিটি সমাপ্ত করে ফেলেছেন; প্রাকৃতিক নির্বাচন শিশুর ব্রেইনকে এমন করে গড়ে তোলে যে, তারা তাদের পিতামাতা বা গোত্রের গুরুজনরা যা বলে,তারা সেটাই পুরোপুরি বিশ্বাস করে। এধরনের বিশ্বাসনিষ্ঠ আনুগত্য বেচে থাকার জন্য খুবই মুল্যবান: চাদের আলোক রশ্মির সহায়তায় মথদের পথ চলার মত। কিন্তু বিশ্বাসনিষ্ঠ আনুগাত্যর অপর পিঠ হচ্ছে অতিমাত্রায় নির্বিচারে বিশ্বাস করার দাস সুলভ প্রবণতা। এর একটি অবশ্যম্ভাবী উপজাত বা বাই-প্রোডাক্ট হল মনের ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হবার প্রবণতা। ডারউইনীয় সারভাইভাল বা টিকে থাকার সাথে খুবই সঙ্গত কারনে সংশ্লিষ্ট,কোন শিশুর মস্তিষ্কর প্রয়োজন আছে তার বাবা মাকে এবং বাবা মার নির্দেশিত গুরুজনদের বিশ্বাস করা।এর একটি স্বয়ংক্রিয় পরিনতি হচ্ছে যে বিশ্বাসকারীর ভালো একটি উপদেশ থেকে খারাপ কোন উপদেশকে পৃথক করার কোন উপায়ই জানা নেই;শিশুরা জানার উপায় নেই, ’কুমির ভরা লিম্পোপো নদীতে সাতার কাটবে না’ হচ্ছে একটি ভালো উপদেশ,কিন্তু ’তোমাকে একটা ছাগল কোরবানী দিতে হবে পুর্নিমার দিনে, নয়তো বৃষ্টি হবে না’,এই উপদেশটি বড়জোর সময় আর ছাগলের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।শিশুর মনে এই নির্দেশ একই রকম বিশ্বাসযোগ্য লাগবে শুনতে; দুটোই এসেছে ভক্তি করা হয় এমন একটি উৎস থেকে এবং তাদের যে ভাবগম্ভীর আন্তরিকতায় প্রদান করা হয়, তা অনায়াসে যেমন সমীহ জাগায় তেমনি এর প্রতি নিশর্ত অনুগত্যও দাবী করে। এবং ঠিক একই ঘটনা ঘটে এই পৃথিবী সম্বন্ধে বিভিন্ন ধারনার ক্ষেত্রেও,যেমন কসমস বিষয়ে,নৈতিকতা প্রসঙ্গে এবং মানুষের প্রকৃতি সংক্রান্ত বিষয়ে;এবং খুব সম্ভবত, যখন শিশুটি বড় হয় এবং তাদের নিজেদেরও সন্তান হয়,খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সেও তার পরবর্তী প্রজন্মকে,সেই একই সংক্রমনযোগ্য ভাবগম্ভীর আচরণ ও ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক অর্থহীন এবং অর্থবহ জ্ঞান হস্তান্তর করে।

এই মডেল এ আমাদের প্রত্যাশা করা উচিৎ যে,বিভিন্ন ভৌগলিক অঞ্চলে,বিভিন্ন কাল্পনিক বিশ্বাসগুলো,যাদের কোন বাস্তব ভিত্তি নেই হস্তান্তরিত হবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম‍ান্তরে,বহু প্রজন্মের উপযোগী ঐতিহ্যগত কোন জ্ঞানের মতই একই দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে,যেমন,সার ফসলের জন্য উপকারী এমন বিশ্বাসটি। আমাদের আরো প্রত্যাশা করা উচিৎ যে কুসংস্কার এবং অবাস্তব বিশ্বাসগুলো স্থানীয়ভাবে বিবর্তিত হবে – কয়েক প্রজন্মের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তিত হবে- হয় এলোমেলো কোন পরিবর্তন বা ড্রিফট এর মাধ্যমে নয়তো ডারউইনীয় নির্বাচনের সমরুপী কোন প্রক্রিয়ায়- যা কোন এক সময় এর মুল উৎস থেকে উল্লেখযোগ্য রকমের ভিন্নতা প্রদর্শন করবে (এই বিষয়ে আমি কয়েক মুহুর্ত পর আবার আলোচনায় আসবো);সম্ভবত একই ভাবে বিষয়টা সত্য ভিত্তিহীন কাল্পনিক বিশ্বাস এবং নানা নিষেধাজ্ঞাগুলোর ক্ষেত্রেও, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে হস্তান্তরিত হয়েছে – সেই বিশ্বাসগুলো,শিশু মস্তিষ্কের সহজে প্রোগামিং করার ক্ষমতা যাদের একটা ভিত্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।

আর ধর্মীয় নেতারা কিন্তু খুব ভালো  করেই শিশু মস্তিষ্কের এই প্রবণতার কথা জানেন, আর একারনে শৈশবেই দীক্ষা দেবার তাগিদটা তারা এত গুরুত্বর সাথে প্রচার করে থাকেন।জেসুইটরা গর্বিত উদ্ধৃতি, ‘জীবনের প্রথম সাত বছরে কোন শিশুকে আমার কাছে দাও,আমি তোমাকে একটি পুর্নবয়ষ্ক মানুষ হিসাবে ফেরত দেব’-কিন্তু বহু ব্যবহারে তার সত্যতা (বা এর ভয়াবহতা) হারায়নি। আধুনিক সময়ে যেমন জেমস ডবসন,বর্তমান সময়ের কুখ্যাত ‘ফোকাস অন দি ফ্যামিলি মুভমেন্ট’* এর প্রতিষ্ঠাতা,খুব ভালো করে এই মুলনীতির সাথে পরিচিত:’তরুনদের কি শেখানো হবে বা তারা কি ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবে-কি তারা দেখবে,চিন্তা করবে ও বিশ্বাস করবে, এ সব কিছু যারা নিয়ন্ত্রন করেন,তারাই জাতির ভবিষ্যতের পথ নির্দেশ করে।’ (আমি বেশ মজা পেয়েছিলাম যখন ‘Focus on your own damn family’  লেখা একটি বাম্পার স্টিকার কলোরাডো তে একটি গাড়ীর পেছনে দেখি, কিন্তু এখন ব্যপারটা ঠিক সেরকম কৌতুককর মনে হয়না আর; হয়তো কোন কোন শিশুর সত্যি সত্যি তাদের নিজেদের পিতা মাতাদের দ্বারা মন্ত্রে দীক্ষিত হবার প্রক্রিয়া থেকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা আছে, অধ্যায় ৯ এ এ বিষয়ে আলোচনা করেছি) (৫);

কিন্তু মনে রাখবেন,শিশুর উপকারী বিশ্বাসপ্রবণ মন সম্বন্ধে আমার এই বিশেষ প্রস্তাব শুধু একটি ‍উদহারণ সেই সব কিছুর যা কিনা চাদের বা তারার আলোক রশ্মির সাহায্যে মথদের পথ খুজে চলা প্রক্রিয়ার সমতুল্য বা সমরুপ কোন একটি প্রক্রিয়া হতে পারে। প্রাণীদের আচরণ বিশেষজ্ঞ বা এথোলজিষ্ট রবার্ট হিন্ড তার Why Gods Persist এ এবং নৃতত্ত্ববিদ পাসকাল বয়ের, তার Religion Explained ও স্কট আটরান, In Gods We Trust এ স্বতন্ত্রভাবে যে সাধারন ধারনাটি প্রস্তাব করেছেন তাহলো, ধর্ম হচ্ছে স্বাভাবিক মনোবৈজ্ঞানিক বা মনস্তাত্ত্বিক কাঠামোর বাই-প্রোডাক্ট বা উপজাত -আমার বরং বলা উচিৎ ‘অনেকগুলো’ বাই-প্রোডাক্ট; কারন নৃতত্ত্ববিদরা বিশেষভাবে ব্যস্ত বিশ্বের নানা ধর্মের বৈচিত্রতাকে ব্যাখ্যা করে তাদের মধ্যে পারস্পরিক সদৃশ্যতার উপর গুরুত্ব আরোপ করা। নৃতত্ত্ববিজ্ঞানীদের নানা গবেষনার ফলাফল ও আবিষ্কার আমাদের কাছে বিস্ময়কর আর অদ্ভুত মনে হয় কারন তারা অপরিচিত আমাদের কাছে;প্রতিটি ধর্মীয় বিশ্বাসই যারা সেই বিশ্বাসের আবহে বড় হয়নি তাদের কাছে অদ্ভুতই মনে হবে;বয়ের ক্যামেরুনের ফাঙ (Fang) নৃগোষ্ঠীর মধ্যে গবেষনা করেছিলেন,যারা বিশ্বাস করে যে ….

ডাইনীদের শরীরে একটির বাড়তি আভ্যন্তরীন অঙ্গ থাকে, যা রাতের বেলায় উড়ে ‍গিয়ে অন্য মানুষের ফসল নষ্ট করে বা তাদের রক্ত বিষাক্ত করে। এবং তারা এটাও মনে করে যে, কখনো কখনো এই ডাইনীরা একসাথে জড়ো হয়ে বিশাল ভোজের আয়োজন করে সেখানে তারা তাদের শিকারদের খায় এবং ভবিষ্যৎ আক্রমনের পরিকল্পনা করে। অনেকেই আপনাকে বলবে, যে তার কোন বন্ধুর বন্ধু, সত্যি সত্যি গ্রামের উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া ডাইনীদের দেখেছে কলা পাতার উপর চড়ে, তারা অতর্কিতে যাদুর তীর ছুড়ে ঘায়েল করছে তাদের শিকারদের।

বয়ের তার ব্যাক্তিগত একটি অভিজ্ঞতা এর সাথে যোগ করেন:

কেমব্রীজ কলেজে এক নৈশভোজের সময় আমি এইসব এবং আরো কিছু বিচিত্র চমকপ্রদ কাহিনী বলছিলাম,তখন আমাদের একজন অতিথি,কেমব্রীজের প্রখ্যাত একজন ধর্মতত্ত্ববিদ,আমার দিকে ঘুরে তাকান এবং মন্তব্য করেন:’এই কারনে নৃতত্ত্ববিদ্যা এত বিস্ময়কর এবং কঠিনও বটে। কারন আপনাকে ব্যাখ্যা করতে হয়, ”কিভাবে মানুষ এই সব আজগুবি জিনিস বিশ্বাস করতে পারে”; কিছুক্ষনের জন্য মন্তব্যটি আমাকে হতবাক করে দিয়েছিল, কেতলী কিংবা চায়ের পট সম্বন্ধে প্রাসঙ্গিক কোন প্রত্যুত্তর খুজে পাবার আগে কথপোকথনটি ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছিল।

কেমব্রিজ এই ধর্মতাত্ত্বিক মুলধারার একজন খৃষ্ট ধর্ম বিশ্বাসী হবেন এমন ধারনা করে নিয়ে আমরা বলতে পারি যে,তিনি সম্ভবত নিম্নে উল্লেখিত এমন কিছু বিষয়ে এক বা একাধিক বিশ্বাস করে থাকেন:

  • আমাদের পুর্বপুরুষদের সেই প্রাচীন সময়ে, একজন পুরুষ,যিনি জন্মগুহন করেছিলেন একজন কুমারী মা গর্ভে,যেখানে তার জন্মের জন্য কোন মানব (জৈববৈজ্ঞানিক) পিতার ভুমিকাই ছিল না।
  • সেই একই পিতৃহীন পুরুষ ব্যাক্তিটি তার ল্যাজারাস নামক একজন বন্ধুকে আহবান করেছিলেন,যিনি পচন ধরে যাবার মত সময়কাল ধরে মৃত এবং সেই আহবান শুনে ল্যাজারাস দ্রুত জীবন্ত হয়ে উঠেছিলেন।
  • পিতৃহীন এই পুরুষ মানুষটি নিজেও মৃতাবস্থা এবং কবর দেবার পর তৃতীয় দিনে জীবিত সশরীরে ফিরে আসেন;
  • এবং এর চল্লিশ দিন পর এই পিতৃহীন মানুষটি নিজেই একটি পাহাড়ের চুড়ায় আরোহন করেন এবং স্বশরীরে তিনি আকাশে অদৃশ্য হয়ে যান।
  • যদি আপনি কোন চিন্তা আমার মাথার মধ্যে ব্যাক্তিগতভাবে ফিসফিস করে উচ্চারন করেন, পিতৃহীন ব্যাক্তি এবং তার পিতা ( তিনি নিজেও সেই জন) আপনার সেই চিন্তা শুনতে পান এবং যদি তিনি চান সে বিষয়ে কিছু পদক্ষেপও নিতে পারেন। এছাড়াও তিনি একই সাথে সারা পৃথিবীর অন্য সবাই কি চিন্তা করছেন সেটা শুনতে পান।
  • আপনি খারাপ যদি কিছু করে থাকেন, বা ভালো কিছু, সেই একই পিতৃহীন পুরুষ সবই দেখতে পাবেন,এমনকি যখন আর কেউই সেটা না দেখতে পান না। আপনার কর্মানুযায়ী আপনি হয়তো পুরষ্কার কিংবা শাস্তি পেতে পারেন, বর্তমানে এবং আপনার মৃত্যুর পরেও।
  • পিতৃহীন এই পুরুষটির কুমারী মা কখনো মৃত্যুবরণ করেননি, তিনিও সশরীরের স্বর্গে ’আরোহন’ করেছিলেন।
  • রুটি এবং মদ,যদি কোন যাজক দ্বারা আর্শীবাদপুষ্ট হয় ( যার অবশ্যই অন্ডকোষ থাকতে হবে), সেগুলো তাহলে সেই পিতৃহীন পুরুষ মানুষটির শরীর এবং রক্তে ’পরিনত’ হয়;

এবার ভাবুন, কেমব্রিজে ফিল্ডওয়ার্কের সময় যদি কোন একজন নৈব্যাক্তিক নৃতত্ত্ববিদ এই ধরনের বিশ্বাসের মুখোমুখি হন, তাহলে তিনি এর কি ব্যাখ্যা দেবেন?

চলবে____________________________________________ 

(৫) Blaker, K., ed. (2003). The Fundamentals of Extremism: The Christian Right in America. Plymouth, MI: New Boston.

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

2 thoughts on “রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : পঞ্চম অধ্যায় (চতুর্থ পর্ব)

  1. অসাধারণ পোস্ট কাজী ভাই। তবে এই পোস্ট আমজনতার জন্য হয়। অনুবাদকর্মও খুব কঠিন একটি কাজ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটাকে একটা শিল্পের পর্যায়ে পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যায়। ঠিক যেমনটি আপনি চেষ্টা করছেন। আরো ভালো লেখা আশা করি।
    নিরন্তর শুভকামনা আপনার জন্য।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s