রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : পঞ্চম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)


ছবি: ডেডিড কাটলার  (David Cutler) এর একটি ইলাসট্রেশন, Curiosity

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন :  পঞ্চম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)
The God Delusion by Richard Dawkins

প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায়
তৃতীয় অধ্যায়
চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) , চতুর্থ অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) ,
চতুর্থ অধ্যায় ( তৃতীয় পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( চতুর্থ পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( শেষ পর্ব)
 পঞ্চম অধ্যায় (প্রথম পর্ব)

ধর্মের শিকড়

All religions are the same: religion is basically guilt, with different holidays-Cathy Ladman

ধর্মের প্রস্তাবিত সরাসরি কিছু  উপকারিতা:

ধর্মীয় বিশ্বাস মানুষকে স্ট্রেস বা মানসিক চাপ থেকে সৃষ্ট নানা অসুখ থেকে রক্ষা করে এমন প্রস্তাবের স্বপক্ষে খুব সামান্যই প্রমান খুজে পাওয়া যায়। এমনকি যে প্রমানগুলো আছে তারা কোনটাই তেমন মজবুত না। কিন্তু যদি বিষয়টি সত্যিও হয় তাহলেও কিন্তু এটি অবাক হবার মত কোন বিষয় হবে না, কারন সেই একই, বিশ্বাস নির্ভর নিরাময় যেমন কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে কারনে কাজে লেগে যায়। ধর্মের দাবীর আসল মুল্যকে আরো জোরদার করতে, আমি মনে করিনা এই উপকারী প্রভাবের বিষয়টি এর সাথে যোগ করার কোন দরকার থাকতে পারে। জর্জ বার্ণার্ড শ এর ভাষায়, ’কোন সন্দেহবাদীর তুলনায় কোন বিশ্বাসী যে সুখে আছে এই সত্যটা ,একজন মাতাল ব্যক্তি যেমন নেশাগ্রস্থ নয় এমন কারো চেয়ে সুখী যে কারনে, তার চেয়ে অতিরিক্ত কিছু নয়’।

কোন একজন রোগীকে চিকিৎসা সেবা হিসাবে কোন একজন ডাক্তার যা দিতে পারেন, তার একটি অংশ হচ্ছে স্বান্তনা এবং আশ্বাস। রোগীর উপর এই  বিষয়টির প্রভাব কিন্তু একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাবে না। ‍আমার ডাক্তার হয়তো তার হাত দিয়ে আক্ষরিক অর্থে ’বিশ্বাস নির্ভর নিরাময়’ এর কোন প্রাকটিস করেন না, কিন্তু অনেকবারই ছোট খাট রোগব্যাধী থেকে আমি প্রায় সাথে সাথেই `নিরাময়` লাভ করেছি, যখনই স্টেথোস্কোপ পরা একটি বুদ্ধিদ্বীপ্ত মানুষের আশ্বস্ত করার মত কন্ঠ আমি শুনেছি। ’প্ল্যাসিবো প্রভাব’ নিয়ে বেশ গবেষনাও হয়েছে এবং এবং এটি  খুব রহস্যময়ও কোন ব্যাপারও না; ডামি পিল বা ঔষধকল্প, যাদের কোন ধরনেরই ফার্মাকোলজী নির্ভর বা ঔষধীয় কোন প্রভাব নেই, কিন্তু দেখা গেছে  সেটি রোগীর অবস্থার উন্নতি করছে। একারনেই সব ডা্বল ব্লাইন্ড (গবেষক এবং রোগীদের কাছে অজানা) গবেষনায় প্ল্যাসিবোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় কন্ট্রোল ( যার সাথে মুল ঔষধটি আসলেই কার্যকরী কিনা তা তুলনা করে দেখা হয়) হিসাবে। এবং একারনেই হোমিওপ্যাথীর ‘চিকিৎসাগুলো’ কাজ করে বলে মনে হয়, এমনকি তারা এমনই লঘু মাত্রার যে, একই মাত্রায় প্ল্যাসিবো কন্ট্রোলদের মতই  তাদেরও একই পরিমান সক্রিয় উপাদান থাকে অর্থাৎ শুন্য সংখ্যক অনু। ঘটনাচক্রে, আইনজীবিদের ডাক্তারদের ক্ষমতার এখতিয়ারে হস্তক্ষেপ করার একটি দুর্ভাগ্যজনক বাই-প্রোডাক্ট বা উপজাত বিষয় হচ্ছে, ডাক্তাররা এখন তাদের সাধারন প্র্যাকটিসের সময় ব্যবস্থাপত্রে প্ল্যাসিবো পিল উল্লেখ করতে ভয় পান বা আমলাতান্ত্রিকতা তাদের বাধ্য করে কোনটি প্ল্যাসিবো সেটি লিখিতভাবে চিহ্নিত করার জন্য, যা কিনা রোগী নিজেই দেখতে পায়, এবং যে কারনে অবশ্যই প্ল্যাসিবো পিলের মুল উদ্দেশ্যটাই ব্যহত হয়। হোমিওপ্যাথরা এক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত সফলতা অর্জন করেছেন কারন তারা প্রচলিত চিকিৎসকদের ব্যতিক্রম, কেননা রোগীদের এখনও অন্য নামে প্ল্যাসিবো ঔষধ দেবার জন্য তাদের অনুমতি আছে, উপরন্তু তাদের হাতেও সময়ও থাকে বেশী, ফলে তারা রোগীর সাথে অনেক সময় ধরে কথা বলার ও বাড়তি সহানুভুতিশীল ও দয়াপরবশ হবারও সুযোগও পান অপেক্ষাকৃতভাবে বেশী । হোমিও চিকিৎসার দীর্ঘ ইতিহাসের প্রথমাংশে, এর সুনাম কিন্তু বৃদ্ধি পেয়েছিল যটনাচক্রে, যার প্রধান একটি কারন ছিল এর ঔষধগুলো কোন কিছুই করে না এবং যা স্পষ্টতই ব্যতিক্রম ছিল তৎকালীন প্রথাগত চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো থেকে, যেমন, রক্তপাত করানো; যা সরাসরি রোগীর ক্ষতির কারন হতো।

তাহলে ধর্ম কি একটি প্ল্যাসিবো যা জীবনকে প্রলম্বিত করে এর মানসিক চাপ ও অবসাদ হ্রাস করে? সম্ভবত, যদিও এই তত্ত্বটিকে সন্দেহবাদীদের ছাকুনী অতিক্রম করতে হয়েছে, যারা সফলভাবেই দেখিয়েছেন, যে অনেক পরিস্থিতিতেই কমানোর চেয়ে ধর্ম বরং মানসিক চাপের পরিমান বাড়িয়ে দেয়। যেমন বিশ্বাস করা খুবই কঠিন যে, কারো স্বাস্থ্যের কোন উন্নতি হতে পারে, সারাজীবন ধরে বয়ে বেড়ানো ভয়াবহ অপরাধবোধের প্রায় চিরস্থায়ী কোন অবস্থায়, যা কিনা সাধারন মানবিক দুর্বলতা সম্পন্ন ও অপেক্ষাকৃত কম বুদ্ধিমান কোন রোমান ক্যাথলিক ভুগে থাকেন। হয়তো শুধু মাত্র ক্যাথলিকদের আলাদা করে চিহ্নিত করাটা তাদের প্রতি সুবিচার হচ্ছে না। যুক্তরাষ্টের কমেডিয়ান ক্যাথী ল্যাডমান এর পর্যব্ক্ষেন: সব ধর্মই তো এক: মুলত ধর্মই হচ্ছে অপরাধবোধ, শুধু যাদের ছুটির দিন গুলো ভিন্ন ভিন্ন’;তবে যাই হোক ‍না কেন, আমি মনে করি ধর্ম ফেনোফেনাটির ব্যাপকভাবে বিশ্বব্যাপী সর্বব্যাপীতা ব্যাখ্যা করার জন্য  এ ধরনের প্ল্যাসিবো তত্ত্বটি যথেষ্ট নয়। আমি মনে করিনা, আমাদের পুর্বপুরুষদের স্ট্রেস বা মানসিক চাপ কমাতে বলেই ধর্মর অস্তিত্বটি টিকে গেছে,এই কার্যকারনটি ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে প্লাসিবো তত্ত্বটি যথেষ্ট ব্যপক কোন তত্ত্ব নয়, যদিও এটি একধরনের সহায়ক বা সাবসিডিয়ারী কোন দায়িত্ব পালন করে থাকতেও পারে। ধর্ম একটি  বিশাল ব্যাপার,বড় মাপের একটি ফেনোমেনা,এর ব্যাখ্যার জন্য প্রয়োজন বড় কোন একটি তত্ত্ব।

অন্য তত্ত্বগুলো ডারউইনীয় ব্যাখ্যার মুল বিষয়টি আদৌ স্পর্শ করতে পারেনি। আমি সেই ব্যাখ্যাগুলোর কথা বলছি যেমন: ‘ধর্ম মহাবিশ্ব এবং সেখানে আমাদের অবস্থান সম্বন্ধে আমাদের কৌতুহলকে নিবৃত্ত করে’ বা ’ধর্ম স্বান্তনাদায়ক’; কিছু মনস্তাত্ত্বিক সত্যতা হয়তো এখানে আছে, যা আমরা অ্ধ্যায় ১০ এ আলোচনায় দেখবো, কিন্তু কোনটাই এককভাবে ডারউইনীয় দৃষ্টিভঙ্গীতে ব্যাখ্যা নয়। যেমন স্টিভেন পিংকার সরাসরি স্বান্তনাদায়ক বা আশ্বস্তকারী তত্ত্বের বিষয়ে বলেছেন তার  হাউ দ্য মাইন্ড ওয়ার্কস বইটিতে:  ’এটি শুধুমাত্র আরেকটি প্রশ্নের জন্ম দেয়, ’কেন’ এমন একটি মন বা মনস্তাত্ত্বিক কাঠামোর বিবর্তন হবে,যা এমন কোন একটি বিশ্বাসে স্বস্তি পাবে, যাকে কিনা এটি সু্স্পষ্টভাবে মিথ্যা বলে বুঝতে পারে। একজন শীতার্ত ব্যাক্তি শুধু নিজেকে উষ্ণ ভেবে কোন স্বস্তি পেতে পারেননা কিংবা সিংহের মুখোমুখি দাড়ানো কোন মানুষ, সিংহকে খরগোশ ভেবে বিশ্বাস করে কখনই সহজ হতে পারেনা’; কমপক্ষে এই কনসোলেশন বা স্বান্তনা তত্ত্বটিকে ডারউইনীয় শব্দমালায় অর্থবহ হতে হবে, এবং আপনি যা ভাবছেন বিষয়টি তার চেয়ে বেশ কঠিন। কিছু বিশ্বাসকে মানুষদের পছন্দ বা অপছন্দ করার প্রক্রিয়াটির মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যগুলো প্রক্সিমেট পকৃতির, অর্থাৎ এটি তাৎক্ষনিক, অবশ্যই চুড়ান্ত বা আল্টিমেট কারনগুলোর ব্যাখ্যা নয়।

ডারউইনবাদীরা এই প্রক্সিমেট এবং আল্টিমেট বা তাৎক্ষনিক ও চুড়ান্ত, এই দুটির মধ্যে পার্থক্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেন।ইন্টারনাল কমবাশন ইন্জিনের  সিলিন্ডারে বিস্ফোরনের তাৎক্ষনিক ব্যাখ্যা হিসা্বে প্রতীয়মান হয়,স্পার্কিং প্লাগ। কিন্তু আল্টিমেট বা চুড়ান্ত ব্যাখ্যা হলো কি উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরণটি পরিকল্পনা করা হয়েছে: সিলিন্ডার থেকে পিস্টনটা বাইরের দিকে বের করে গতিশীল করা বা চালানোর জন্য, এবং তার মাধ্যমে মুল ক্র্যাঙ্কশ্যাফটটিকে ঘোরানো। ধর্মের প্রক্সিমেট কারন হতে পারে আমাদের ব্রেনের কোন একটি অংশ বা অংশসমুহ বা নোড এর অতিসক্রিয়তা। আমি স্নায়ু বৈজ্ঞানিক সেই ‘গড সেন্টার’ এর ধারনা এখানে আলোচনা করবো না,কারন প্রক্সিমেট কারন নিয়ে আমি  আলোচনা করতে চাচ্ছিনা। তার মানে এই না,আমি এদের খাটো করে দেখছি, আমি পাঠকদের মাইকেল শেরমার এর হাউ ‌‌উই বিলিভ: দ্য সার্চ ফর গড ইন এজ অব সায়েন্স বইটা পড়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ করছি এ বিষয়ে স্বচ্ছ এবং সুনির্দিষ্ট একটি আলোচনার জন্য, যেখানে  মাইকেল পেরসিংগার এবং অন্যদের প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা প্রস্তাব করছে যে,বড় কোন ধরনের এবং উজ্জ্বল নানা দৃশ্যকল্প সমৃদ্ধ কোন ধর্মীয় অভিজ্ঞতার সাথে টেম্পোরাল লোব এপিলেপসি (মৃগী রোগ,যা মস্তিষ্কের কোন কোন অংশের অতিসক্রিয়তার কারনে সৃষ্ট হতে পারে, যেমন এখানে টেমপোরাল লোব)সম্পর্ক আছে।

কিন্তু এই অধ্যায়ে আমার মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে ডারউইনীয় দৃষ্টিকোন থেকে ‘আল্টিমেট’ ব্যাখ্যাটি অনুসন্ধান করা। স্নায়ুবিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের মধ্যে কোন ‘গড সেন্টার’ যদি খুজেও পান, আমার মত ডারউইনীয় বিজ্ঞানীরা তারপরও সেই বিশেষ প্রাকৃতিক নির্বাচনী চাপ বা সিলেকশন প্রেশারটি বুঝতে চাইবে, যা এমন কোন ’গড সেন্টার’ এর বিবর্তনে বিশেষ সহায়তা ও পক্ষপাতিত্ত্ব করেছে। কেন আমাদের পুর্বপুরুষদের মধ্যে যাদের ’গড সেন্টার’ তৈরী হবার জীনগত প্রবণতা ছিল,তারা বেশী বেচে ছিলেন এবং বেশী সংখ্যক বংশধর সৃষ্টি করে গেছেন,তাদের প্রতিদ্বন্দীদের তুলনায়, যাদের এ ধরনের কোন প্রবণতা ছিলনা। ডারউইনীয় আল্টিমেট প্রশ্ন কিন্তু স্নায়ুবিজ্ঞানীদের প্রক্সিমেট প্রশ্নর তুলনায় অপেক্ষাকৃত উত্তম প্রশ্ন না কিংবা অপেক্ষাগত গভীর বা প্রগাঢ় কোন প্রশ্নও না, এমন কি বেশী বৈজ্ঞানিক প্রশ্নও বলা যাবে না;  কিন্তু সেই প্রশ্নটাই নিয়ে আমি এখানে কথা বলছি।

ডারউইনবাদীরা কোন রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দ্বারাও সন্তুষ্ট হবেন না, যেমন, ’ধর্ম একটি কৌশল বা উপকরণ যা দিয়ে শাসক শ্রেনীগোষ্ঠী তাদের অধস্তন শোষিত শ্রেনী গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রন করে‘; নিশ্চিৎভাবে এটা সত্য যে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাসরা অন্য জীবনের প্রতিশ্রুতিতে স্বান্তনা খুজে পেত, যা তাদের বর্তমান জীবন নিয়ে অসন্তুষ্টি ও কষ্টর অনুভুতিকে সহনশীল করে তুলতো, যা প্রকান্তরে সহায়তা করতো তাদের শোষক মালিকদেরকেই। কিন্তু আসলেই দুরভীসন্ধিপুর্ণ কোন যাজক বা শাসকরা সুচিন্তিতভাবে ধর্ম  পরিকল্পনা করেছিল কিনা এই প্রশ্নটা বেশ কৌতুহলোদ্দীপক, যার উত্তর খুজতে পারেন কেবল ঐতিহাসিকরা, কিন্তু এটিও স্বতন্ত্রভাবে ডারউইনীয় প্রশ্ন না। ডারউইনবাদীরা তারপরও জানতে চায়, কেন মানুষ ধর্মের মাদকতায় সহজে মোহাচ্ছন্ন হয়, শিকার হয় ধর্মের নানা ছল চাতুরী আর প্রতিশ্রুতিতে, আর সেকারনেই যাজক, রাজনীতিবিদ এবং রাজাদের শোষনেরও শিকার হবারও সম্ভাবনাও থাকে ‍তাদের বেশী।

দুরভিসন্ধীপুর্ণ কোন নৈরাশ্যবাদী ধুর্ত কেউ যৌন লালসাকে রাজেনৈতিক শক্তি নিয়ন্ত্রনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যাবহার করতে পারে, কিন্তু তারপরও আমাদের ডারউইনীয় একটি ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে কেন এটি কাজ করে তার অভীষ্ট লক্ষ্য পুরণে। যৌন লালসার ক্ষেত্রে এই উত্তরটা সহজ: আমাদের মস্তিষ্কের কাঠামো গঠিত হয়েছে এমন করে যে আমরা যৌনকর্মকে উপভোগ করি কারন,যৌনকর্ম তার স্বাভাবিক প্রাকৃতিক অবস্হায় সন্তান উৎপাদন করে। অথবা কোন রাজনৈতিক কলকাঠি নিয়ন্ত্রক কুটকৌশলী হয়ত শারীরিক নিপীড়ণ বা নির্যাতনকে বেছে নিতে পারে তার মতলব হাসিলের জন্য। ‍আবারো ডারউইনবাদীদের অবশ্যই ব্যাখ্যার যোগান দিতে হবে কেন নির্যাতন কার্যকরী ফলাফল দিচ্ছে এখানে, কেন আমরা প্রচন্ড শারীরিক যন্ত্রনাকে ‍এড়ানোর জন্য প্রায় যে কোন কিছু করতে রাজী আছি। আবারো স্পষ্টভাবে এর কারন খুবই আটপৌরে সাধারন হওয়া সত্ত্বেও ডারউইনবাদীদের সেটা স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা দিতে হবে যে, প্রাকৃতিক নির্বাচন শারীরিক ব্যাথা বা যন্ত্রনা অনুভব করার ক্ষমতাকে জীবননাশী শারীরিক কোন ক্ষতির চিহ্ন হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, এবং এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য  এটি আমাদের ভেতর শক্তিশালী জৈবিক তাড়না সৃষ্টির প্রয়োজনীয় নির্দেশও বিবর্তিত করেছে। কিছু দুর্লভ মানুষ আছেন, যারা কোন কষ্ট বা যন্ত্রনা অনুভব করতে পারেনা বা সেটা নিয়ে আদৌ চিন্তিত না, তারা সাধারনত অল্প বয়সে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মারা যান, যে আঘাতগুলো আমরা অন্যরা বিশেষ উদ্যেগ নিয়ে এড়িয়ে চলি। কেউ কোন খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করুক কিংবা স্বতঃস্ফুর্তভাবে এটি নিজেকে প্রকাশ করুক না কেন, কি সেই চুড়ান্ত কারন যা আসলে ব্যাখ্যা করে দেবদেবী বা ঈশ্বরদের পুজা করার প্রতি আমাদের সর্বজনীন লালসাটিকে।

(চলবে)____________________

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : পঞ্চম অধ্যায় (দ্বিতীয় পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s