রসায়নে নোবেল পুরষ্কার ২০১২


Robert J Lefkowitz  এবং  Brian K Kobilka,

এবারে রসায়নে নোবেল পেলেন দুই যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী রবার্ট লেফকোউইটজ  এবং ব্রায়ান কবিলকা, কোষের G-protein coupled receptors  বা জি প্রোটিন যুক্ত রিসেপ্টর সংক্রান্ত তাদের গবেষনার জন্য। এই রিসেপ্টর গুলো হচ্ছে আমাদের কোষের পর্দায় থাকা বিশেষ ধরনের রিসেপ্টর যারা বেশ অনেক ধরনের উদ্দীপনা শনাক্ত করতে কোষগুলোকে সহায়তা করে, যেমন আমাদের ঘ্রান; ২০১১ সালে কবিলকার টীম এমন একটি বিটা-অ্যাড্রেনার্জিক রিসেপ্টরে উপর ঠিক যে সময় হরমোন কাজ করছে এবং কোষের ভিতর সেই উদ্দীপনার সংকেত পৌছে দিচ্ছে ঠিক সেই মুহর্তের ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন; আদিমতম যে রিসেপ্টরগুলো বিবর্তিত হয়েছিল তাদের কোন উদ্দীপনা সংকেত ( বা লাইগান্ড) এর মাধ্যমে সরাসরি কোষের পর্দার ছিদ্র খোলা বা বন্ধ করার মাধ্যমে করতে হতো। আদিম সাগরে যা একদিন এককোষী জীবদের রাসায়নিক উপদানের ঘনত্বের গ্রেডিয়েন্ট এর দিকে চলাচল করতে সাহায্য করেছিল। বিবর্তিনীয় সময়ের ধারাবাহিকতায়, এই রিসেপ্টর মেকানিজমটি ক্রমশ জটিলতর হয়েছে, আমাদের শরীরের অনেক গুরুত্বপুর্ণ রিসেপ্টরগুলো এখন কাজ করে ধারাবাহিকভাবে ধাপে ধাপে ঘটা বেশ কিছু প্রাণরাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে, যা শুরু হয় যখন কোন একটি রিসেপ্টর অনু ( সাধারণত সর্পিলাকার বা সাপের মত যা আমাদের কোষপর্দায় ভেতর বাইরে পেচিয়ে থাকে) কোন উদ্দীপনা শনাক্ত করে। যা প্রথমেই এই রিসেপ্টর অনুটির আকৃতিতে পরিবর্তন আনে এবং এর সাথে যুক্ত থাকা G প্রোটিন ( G প্রোটিন আসলে Guanine nucleotide-binding proteins এর সংক্ষিপ্ত রুপ) কে সক্রিয় করে; এই G প্রোটিনটি থাকে কোষের ভিতরে এবং এর তিনটি সাব ইউনিট আছে, এই সাবইউনিটদের পরিবর্তন আরো বেশ কিছু প্রোটিনকে সক্রিয় করে, যা কোষকে সেই রাসায়নিক উদ্দীপনার প্রতি সঠিক প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করার জন্য প্রস্তুত করে আভ্যন্তরীন পরিবেশটা পরিবর্তন করা মাধ্যমে। যেমন কোন স্নায়ু কোষ বা নিউরোনের ক্ষেত্রে, এটি বাইরে থেকে আয়নকে কোষের মধ্যে প্রবেশ করার সুযোগ করে দেয়, যা স্নায়ুসংকেতে সুচনা করে। নীচের ছোট ভিডিওটা ( যা মাত্র মিলিসেকেন্ডের মধ্যে ঘটে) দেখলে বোঝা যাবে কি বিস্ময়করভাবে জটিল এই G প্রোটিন যুক্ত রাসায়নিক বিক্রিয়ার ধাপগুলো; আর  কোষকে সক্রিয় করার জন্য এ ধরনের কোন জটিল প্রক্রিয়া কোন ডিজাইনারেরই করার কথা না, যা বিবর্তনের সেই মুল কথাটাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, evolution doesn’t design, it ‘tinkers’ ;

রসায়নে নোবেল পুরষ্কার ২০১২