যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: চতুর্থ পর্ব


শীর্ষছবি ১:  কোন জীবাশ্মকে যদি সেলিব্রিটির মর্যাদা দেয়ার কথা ভাবা হয় তবে তার প্রথম দাবীদার অনায়াসে হতে পারে Archaeopteryx lithographica (উপরের ছবিটি আর্কিওপটেরিক্স এর বার্লিন স্পেসিমেন) জীবাশ্ম রেকর্ডে আপাতত খুজে পাওয়া এটি আদিমতম পাখি (তবে তার সেই অবস্থান এখন চ্যালেন্জ এর মুখে); ১৮৬১ সালে জার্মানীর শনহোফেন লাইমস্টোন কোয়ারীতে খুজে পাওয়া আর্কিওপটেরিক্স আকারে প্রায় ১.৬ ফুট মত লম্বা হত।  জীবাশ্মটির বয়স প্রায় ১৫০ মিলিয়ন বছর, জুরাসিক পর্বের ঠিক শেষ দিকে; পাখির মত পালক সহ ডানা অথচ ডায়নোসরের মত দাতযুক্ত চোয়াল, দীর্ঘ লেজ প্রথম ইঙ্গিত দিয়েছিল পাখিরা ডায়নোসরদের থেকে বিবর্তিত হয়েছে। যদিও সেই সময়ের বিজ্ঞানীরা প্রস্তুত ছিলেন না সেই যোগাযোগটি প্রতিষ্ঠা করার জন্য। তবে সেই ১৮৭০ সালে টমাস হাক্সলি, প্রথম এর পাখি আর ডায়নোসরের মধ্যে যোগসুত্রটি িউল্লেখ করেন, পরে ৭০ এর দশকে, প্রায় ১০০ বছর পর আবার বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে আসেন ইয়েল বিশ্বাবদ্যালয়ের জন এইচ ওস্ট্রম। সেই বিতর্কটি অমীমাংসিত থেকে নব্বই এর দশকের মাঝামাঝি অবধি, এরপর চীনে জীবাশ্মবিদরা একের পর এক অসাধারন সব জীবাশ্ম খুজে বের করেন, যা পরবর্তীতে আরো দৃঢ়ভাবে প্রমান করে স্থলবাসী,ক্ষিপ্রগতির, মাংশাসী থেরোপড ডায়নোসরদেরই বংশধর আজকের পাখিরা। তবে এটাও প্রমান হয়, পাখিদের বিশেষ বৈশিষ্টগুলোও আসলে পাখিদের বিবর্তনের অনেক আগে বিবর্তিত হয়েছিল থেরোপড ডায়নোসরদের মধ্যে। আর পাখিদের বিবর্তনের সাথে তাদের উড়বার ক্ষমতার বিবর্তন ঘটেছিল তারও পরে।  (ছবিসুত্র:  উইকিপেডিয়া);


শীর্ষ ছবি ২: ২০১১ সালে চীনে খুজে পাওয়া জীবাশ্ম  Xiaotingia zhengi  প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন বছর আগে; আর্কিওপটেরিক্স এর মত এর কিছু বৈশিষ্ট আছে আবার পালকযুক্ত অন্য ডায়নোসরদের সাথে  এর বেশ মিল আছে। এটি আবিষ্কারের পুর্বে প্রথমদিককার পাখি হিসাবে আর্কিওপটেরিক্স এর অবস্থানটি খানিকটা নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। কারন সিস্টেম্যাটিক্স এ  আর্কিওপটেরিক্স এর অবস্থান ছিল প্রাচীন তম পাখি সদৃশ অ্যাভিয়ালান হিসাবে ( যদিও আর্কিওপটেরিক্স কিংবা িএটি সরাসরি পাখিদের পুর্বসুরী প্রানী হয়, তবে এরা ট্রানজিশনাল প্রজাতির চমৎকার উদহারণ), এটির ডাটা যোগ হবার পর এর অবস্থান পাখিদের থেকে খানিকটা দুরে  Deinonychosaurs দিকে নিয়ে এসেছে আর সেই সাথে এটিও আর্কিওপটেরিক্সকেও বের করে এনেছে তাদের গ্রুপে। (সুত্র : Nature);


শীর্ষ ছবি ৩: ১৯৯৫/৯৬ সালে চীনে খুজে পাওয়া Sinosauropteryx ( যার অর্থ Chinese reptilian wing বা চীনা সরীসৃপের ডানা কিংবা পালক) একটি জীবাশ্ম; এটাই প্রথম পাখি ও তাদের নিকট প্রজাতিগুলো বা Avialae গোষ্ঠীর বাইরে খুজে পাওয়া প্রজাতি, যাদের পালক বা এর আদি একটি সংস্করণ ছিল। এটি প্রমান করেছিল, পাখিদের বিবর্তনের পুর্বেই পাখিদের বেশ কিছু বৈশিষ্ট ও আচরন থেরোপড ডাইনোসরদের প্রজাতিদের মধ্যে বিবর্তিত হয়েছিল। (উইকিপেডিয়া)
______________________

(এটি মুলত শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তন জীনতত্ত্বর অধ্যাপক জেরি কয়েন  ( Jerry A. Coyne) এর Why Evolution is true  বইটির দ্বিতীয় অধ্যায় Written in the Rocks এর একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা; বইটির প্রথম অধ্যায় What is Evolution? এর অনুবাদ বিবর্তন কি? আছে এখানে))

There is no reasonable doubt, however, that all groups of birds, living and extinct, are descended from small, meat-eating theropod dinosaurs, as Huxley’s work intimated more than a century ago. In fact, living birds are nothing less than small, feathered, short-tailed theropod dinosaurs. (K. Padian and Luis  M. Chiappe)

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে : প্রথম পর্ব
যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে : দ্বিতীয় পর্ব
যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে : তৃতীয় পর্ব

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে :
((((চতুর্থ পর্ব))))

ডায়নোসরদের আকাশ জয় : পাখিদের উদ্ভব

অর্ধেকটা ডানা কিইবা কাজ করতে পারে? সেই ডারউইনের সময় থেকে এই প্রশ্নটি বার বার উত্থাপিত হয়েছে, বিবর্তন এবং প্রাকৃতিক নির্বাচন বিষয়টির দিকে সন্দেহর প্রশ্ন ছুড়ে দিতে।জীববিজ্ঞানীরা আমাদের বলছেন যে, আদি সরীসৃপ থেকে বিবর্তিত হয়েছে পাখীরা, কিন্তু কিভাবে আকাশে ওড়ার ক্ষমতা বিবর্তিত হয়েছে স্থলবাসী একটি প্রানী থেকে? সৃষ্টিবাদীরার যুক্তি দেখান যে, প্রাকৃতিক নির্বাচন এই ধরনের ট্রানজিশনকে ব্যাখ্যা করতে পারেনা।কারন প্রাকৃতিক নির্বাচন যদি কাজ করে তাহলে তার জন্য প্রয়োজন অন্তর্বর্তীকালীন কিছু পর্যায়, যখন এই প্রানী শুধু মাত্র আংশিক ডানা থাকার কথা, যা সেই প্রানীটিকে বিশেষ নির্বাচনী সুবিধা দেবার বদলে বরং বড় এতটি প্রতিবন্ধকতার বোঝা চাপিয়ে দেবার কথা। কিন্তু আপনি যদি একটু চিন্তা করেন বিষয়টি নিয়ে, তাহলে কিন্তু কঠিন হবে না উড্ডয়নের নানা অন্তর্বতীকালীন ধাপগুলোর কথা কল্পনা করা, যে ধাপগুলো এর ধারনকারী প্রানীদের কিছুটা হলেও উপকৃত করেছে।

Continue reading “যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: চতুর্থ পর্ব”

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: চতুর্থ পর্ব