যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: তৃতীয় পর্ব

শীর্ষ ছবি: উপরে: ২০০৪ সালে কানাডীয় আর্কটিক বা উত্তর মেরুর এলসমেয়ার দ্বীপে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নীল শুবিন ও তার সহযোগীরা খুজে পেয়েছিলে এই জীবাশ্ম প্রজাতিটিকে, এর নাম  Tiktaalik roseae, উপরের ছবিতে প্রজাতিটিকে মডেল হিসাবে দেখানো হয়েছে  ৩৭৫ মিলিয়ন বছর আগে তার প্রাকৃতিক পরিবেশে। টিকটালিক (টিকটালিক এর অর্থ ‘‘সুপেয় বা অলবনাক্ত পানির বড় মাছ’, স্থানীয় এলেসমেয়ার দ্বীপের আদিবাসীদের ইনুকটিটাট ভাষার একটি শব্দ) মাছ এবং প্রথম স্থলে বসবাসকারী মানুষসহ সকল স্থলচর মেরুদন্ডী প্রানীদের মধ্যে বিবর্তনীয় শুন্য স্থানটি পুরণ করেছে, সেকারনেই এটি মাছ এবং প্রথম স্থলবাসী মেরুদন্ডীদের মধ্যে এটি একটি মিসিং লিঙ্ক।৩৭৫ মিলিয়ন বছর প্রাচীন এই প্রানীটির ছিল কনুই কব্জিসহ পুর্ণ হাত, নমনীয় ও স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করা যায় এমন একটি ঘাড় , যেহেতু পানির নীচে ছিল এদের বসবাস, তখনও ফুলকা ব্যবহার করে নিঃশ্বাস নিতে হত তাদের। মাঝের ছবিটি কার্ল ব্রুয়েল এর আকা টিকটালিকের একটি কাল্পনিক ছবি তার নিজস্ব পরিবেশে। নীচের ছবিটি দেখাচ্ছে জীবাশ্ম রেকর্ডে ৩৮০ মিলিয়ন বছর  আগের মাছ  এবং ৩৬০ মিলিয়ন বছর আগে, চারপেয়ে মেরুদন্ডী প্রানী যারা স্থলে বসবাস উপযোগী, এর মাঝখানে টিকটালিক, যার লোব বা শক্ত ফিনযুক্ত মাছের মতই ফিন ছিল, পানির নীচে শ্বাস নেবার জন্য ফুলকা ছিল, আশ বা স্কেল ছিল, এছাড়া চোয়ালের গঠনও ছিল আদিম, তবে পরবর্তীতে জীবাশ্ম রেকর্ডে আবির্ভুত হওয়া স্থলবাসী টেট্রাপডদের মতই এর ছিল স্বতন্ত্র ঘাড়, চ্যাপটা মাথা, কব্জি, ফুসফুস ব্যবহার করার জন্য বাইরের দিকে প্রসারমান পাজরের হাড় । (ছবি সুত্র); এবং সংশ্লিষ্ট একটি ভিডিও এখানে

(এটি মুলত শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তন জীনতত্ত্বর অধ্যাপক জেরি কয়েন  ( Jerry A. Coyne) এর Why Evolution is true  বইটির দ্বিতীয় অধ্যায় Written in the Rocks এর একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা; বইটির প্রথম অধ্যায় What is Evolution? এর অনুবাদ বিবর্তন কি? আছে এখানে))

The best road maps to human bodies lie in the bodies of other animals. The simplest way to teach students the nerves in the human head is to show them the state of affairs in sharks. The easiest road map to their limbs lies in fish. Reptiles are a real help with the structure of the brain. The reason is that the bodies of these creatures are often simpler versions of ours. Neil H. Shubin (in the preface of his book Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body )

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে : প্রথম পর্ব
যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে : দ্বিতীয় পর্ব

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে :
((((তৃতীয় পর্ব))))

স্থল অভিমুখে : মাছ থেকে উভচর প্রানী

বিবর্তন জীববিজ্ঞানের সত্য প্রমানিত হওয়া সবচেয়ে সেরা ভবিষদ্বানীটি হলো ২০০৪ সালে খুজে পাওয়া মাছ এবং উভচরী প্রানীদের মধ্যবর্তী ট্রানজিশনাল জীবাশ্মটি। এই জীবাশ্ম প্রজাতিটির নাম Tiktaalik roseae, কিভাবে মেরুদন্ডী প্রানীরা পানি থেকে স্থলের অধিবাসী হয়েছিল এটি সে সম্বন্ধে অনেক তথ্য প্রদান করেছে। এর আবিষ্কার বিবর্তন তত্ত্বের একটি অসাধারণ বিজয়।

প্রায় ৩৯০ মিলিয়ন বছর আগে, মেরুদন্ডী প্রানী বলতে ছিল শুধুমাত্র মাছরা ।কিন্তু এর ৩০ মিলিয়ন পরেই জীবাশ্ম রেকর্ডে আমরা কিছু প্রানীর দেখা পাই যারা সুস্পষ্টভাবে টেট্রাপড : চার পা বিশিষ্ট মেরুদন্ডী প্রানী যা স্থলবাসী ।এই আদি টেট্রাপডরা ছিল আধুনিক উভচরী প্রানীদের মত বেশ কিছু বৈশিষ্ট সম্পন্ন। তাদের মাথা ও শরীর ছিল চ্যাপ্টা, সুস্পষ্ট ঘাড় ছিল ( যা মাছদের থাকে না), সুগঠিত হাত পা বা লিম্ব ছিল, লিম্ব গুলো সহজে নাড়া চড়া করার জন্য ছিল লিম্ব গার্ডল বা অস্থি চক্র।কিন্তু তাদের আদি মাছদের মত তাদের সাথেও সম্পর্কযুক্ত কিছু বৈশিষ্টও ছিল, বিশেষ করে যে গ্রুপটার নাম, লোব ফিন যুক্ত ( Lobe finned fish) মাছ, এই নামে তাদের ডাকা হয় কারন এদের অস্থি যুক্ত বড় ফিনগুলো তাদের অগভীর হৃদ বা জলাশয়ের কিংবা ছোট অগভীর নদী বা জলধারার তলদেশে দাড়িয়ে তাদের মাথা উচু করে রাখতে সাহায্য করতো।মাছের মত যে গঠনগুলো আদি ট্রেট্রাপডদের মধ্যে দেখা যায়, যেমন আশ বা স্কেল, লিম্ব বা হাত পার অস্থি এবং মাথার অস্থি (ছবি ৮);

ছবি ৮: স্থলে আগ্রাসন; স্থলবাসী একটি টেট্রাপড প্রজাতি Acanthostega gunnari , গ্রীনল্যান্ড এ পাওয়া জীবাশ্ম, প্রায় ৩৬৫ মিলিয়ন বছর আগের,একটি আদি লোব ফিন যুক্ত মাছ Eusthenopteron foordi , প্রায় ৩৮৫ মিলিয়ন বছর আগে এবং মধ্যবর্তী একটি ট্রানজিশনাল প্রজাতি, Tiktaalik roseae, প্রায় ৩৭৫ মিলিয়ন বছর আগে এলসমেয়ার দ্বীপ, কানাডা থেকে;  টিকটালিক এর শরীরের অন্তবর্তীকালীনতার বিষয়টি স্পষ্ট বোঝা যায় এর লিম্ব বা হাতপার গঠনের অন্তর্বতীকালীন বৈশিষ্ট দেখে।এদের অস্থির গঠন লোব ফিন যুক্ত মাছের শক্ত ফিন ও এবং আরো সুগঠিত ও শক্ত হাটার উপযোগী টেট্রাপডের লিম্বের মাঝামাঝি একটি অবস্থান। ছবিতে শেড যুক্ত অস্থিগুলোই আধুনিক স্তন্যপায়ী প্রানীদের বাহুর অস্থিতে বিবর্তিত হয়; যেগুলো বেশী গাঢ় করে শেড দেয়া হয়েছে তারা আমাদের হিউমেরাস, মাঝারী ও হালকা শেড যুক্ত অস্থিগুলো বিবর্তিত হয়েছে আমাদের রেডিয়াস ও আলনা অস্থিতে।

কিন্তু কিভাবে আদি মাছ পানি থেকে বের হয়ে এসে ডাঙ্গায় বসবাস উপযোগী হয়ে বিবর্তিত হয়েছিল?  এই প্রশ্নটাই আমার শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী নীল শুবিনকে ভাবাতো বা বলা যায় রীতিমত তার সমস্ত চিন্তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল; বহু বছর ধরে নীলের গবেষনার বিষয় ছিল কেমন করে মাছের ফিন (Fin) থেকে লিম্ব বা হাতপার বিবর্তন হয়েছিল, এবং বিবর্তনের সেই আদি পর্যায়গুলো বোঝার প্রচেষ্টায় শুবিন ছিলেন সম্পুর্ন নিবেদিত।

এখানেই আগে উল্লেখ করা সেই ভবিষদ্বানীর ভুমিকা ছিল খুবেই গুরুত্বপুর্ণ। যদি ৩৯০ মিলিয়ন বছর আগে জীবাশ্ম রেকর্ডে কোন স্থলবাসী টেট্রাপড বা চতুস্পদী মেরুদন্ডী প্রানী না থাকে, কিন্তু শুধু লোব ফিন যুক্ত মাছ থেকে থাকে এবং ৩৬০ মিলিয়ন বছর আগে সুস্পষ্টভাবে স্থলবাসী টেট্রাপডদের অস্তিত্ব থাকে, তাহলে এদের মধ্যকার ট্রান্জিশনাল ফর্মটি কোথায় খুজে পাওয়া যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন? নিশ্চয় এই দুয়ের মাঝামাঝি কোথাও।এই যুক্তি অনুসরণ করে শুবিন পুর্বধারনা করেন যদি কোন ট্রান্জিশনাল ফর্মটির বা প্রজাতিদের অস্তিত্ব থেকে থাকে, তাদের জীবাশ্ম পাওয়া যাবে ৩৭৫ মিলিয়ন বছর পুরোনো ভুত্বকের স্তরে।তাছাড়া সেই পাথর হতে হবে অলবনাক্ত পানির পাললিক শিলা, সামুদ্রিক পাললিক শিলা নয়।কারন শেষ পর্যায়ের লোব ফিন যুক্ত মাছ এবং প্রথম দিককার আদি উভচরী প্রানীদের বাসস্থান ছিল অলবনাক্ত পানির জলাশয়গুলো।

ছবি: টিকটালিক এর জীবাশ্ম হাতে নীল শুবিন

কলেজ ভুতত্ত্ববিদ্যার পাঠ্যপুস্তক এর ম্যাপ ঘেটে উন্মোচিত হয়ে আছে এমন অলবনাক্ত পানির সঠিক সময়ের পাললিক শিলার স্তরের অবস্থানটি প্রথমে নিশ্চিৎ করেন শুবিন ও তার সহযোগীরা, তাদের খুজে পাওয়া সেই জায়গাটি কানাডীয় উত্তর মেরু অঞ্চলের একটি দ্বীপ, এলেসমেয়ার; এখানেই তারা জীবাশ্ম সন্ধান করা হয়নি এমন একটি জায়গা খুজে পান। এলসমেয়ার দ্বীপটি ঠিক কানাডার ‍উত্তরে আর্কটিক মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত একটি দ্বীপ।প্রায় ৫ বছরের নিস্ফল এবং ব্যয়বহুল অভিযানের শেষে, অবশেষে তাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়েছিল: একগুচ্ছ জীবাশ্ম কংকাল তারা খুজে পান, যা একটা উপর একটা যা সাজানো  ছিল প্রাচীন একটি জলাধারের পাললিক শিলার স্তরে।পাথরের মধ্য থেকে উকি মারা জীবাশ্মটি যখন প্রথম শুবিনের চোখে পড়ে, তিনি বুঝেছিলেন, তার আরাধ্য  ট্রানজিশনাল ফর্মের জীবাশ্ম প্রজাতিটি তিনি খুজে পেয়েছেন। স্থানীয় ইনুইট আদিবাসিদের এবং এই অভিযানের মুল পৃষ্ঠপোষককারীর সন্মানে জীবাশ্মটির নাম রাখা হয় Tiktaalik roseae  ( ইনুইট ভাষায় Tiktaalik বা টিকটালিক শব্দটির অর্থ বড় সুপেয় বা অলবনাক্ত পানির মাছ এবং roseae বা রোজী শব্দটি ছিল গোপন সাংকেতিক প্রতিনিধিকারী শব্দ যা তাদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দাতার প্রতি ইঙ্গিতবাহী)।

টিকটালিক এর এমন কিছু বৈশিষ্ট আছে যা সরাসরি সংযুক্ত করে  আদি লোব ফিন যুক্ত মাছ এবং পরবর্তী সময়কার উভচরী প্রানীদের।ফুলকা, আশ এবং ফিন সহ এটি স্পষ্টতই একটি মাছ যে তার জীবন কাটিয়েছে পানিতে, কিন্তু এর উভচরী প্রানীদের বৈশিষ্টও আছে, যেমন প্রথমত এর মাথাটা চ্যাপটা, সালাম্যান্ডারদের মত, নাকের ছিদ্র এবং চোখ মাথার দুপাশে না হয়ে ঠিক উপরে, এটা প্রমান করে তারা এটি আসলে অগভীর পানির জলাশয়ে বাস করতো এবং সম্ভবত পানির উপরে মাথা তুলে দেখতে এবং শ্বাস নিতে পারতো।এর ফিন গুলো আরো শক্তিশালী হয়েছিল যা প্রানীটিকে মাথা উচু করে তার চারপাশে তাকানোর মত প্রয়োজনীয় সমর্থন দিত। এবং আদি উভচরী প্রানীদের মতই টিকটালিক এর একটা ঘাড় ছিল।মাছদের কোন ঘাড় থাকে না, তাদের মাথার খুলি সরাসরি কাধের অস্থির সাথে যুক্ত থাকে।

সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ, টিকটালিক দুটি নতুন বৈশিষ্ট ছিল, যা এর উত্তরসুরীদের উপকারে এসেছিল, যখন তারা স্থলে বসবাস করতে শুরু করেছিল।প্রথম হচ্ছে এক গুচ্ছ শক্ত রিব বা বুকের হাড় যা প্রানীটিকে তাদের ফুসফুসে বাতাস পাম্প করে ঢোকাতে সাহায্য করতো এবং এর ফুলকা থেকে অক্সিজেন সরাতে সাহায্য করতো ( টিকটালিক দু ভাবেই শ্বাস নিতে পারতো) এবং লোব ফিনযুক্ত মাছদের লোবে থাকা অনেকগুলো সরু ছোট ছোট হাড়ের বদলে টিকটালিকের লিম্ব বা পায়ের হাড় সংখ্যা ছিল অল্প কয়েকটি তবে তারা ছিল অপেক্ষাকৃত মোটা ও মজবুত, যে হাড় গুলো সংখ্যায় এবং অবস্থানে পরবর্তীতে আসা আমরা সহ স্থলে বসবাসকারী প্রানীদের সাথে সদৃশ্যতা বহন করে।বাস্তবেই এর লিম্ব বা পা গুলোকে বলা যেতে পারে আধা ফিন আধা পা।

স্পষ্টতই টিকটালিক  অগভীর পানিতে বসবাস করতো এবং সেখানে তারা হামাগুড়ি দিয়ে চলাচলের ব্যপারে দক্ষ ছিল, এছাড়াও সে তার পায়ে ভর করে পানির উপরে মাথা তুলে চারপাশ খেয়াল করে দেখতে পারতো এবং বাতাসে শ্বাস নিতে পারতো।এর গঠনটা ভালো করে লক্ষ্য করলে আমরা পরবর্তী গুরুত্বপুর্ণ বিবর্তনীয়  ধাপটা অনুমান করে নিতে পারি সহজে, যার সাথে সম্ভবত একটি নতুন আচরন জড়িত ছিল।কিছু টিকটালিকের উত্তরসুরীরা যথেষ্ট সাহসী ছিল যারা তাদের শক্ত ফিন-পায়ে ভর করে পানি ছেড়ে স্থলে উঠে এসেছিল, হয়তো অন্য কোন জলাশয়ে যাবার উদ্দেশ্য নিয়েই (যেমনটা ক্রান্তীয় অঞ্চলের অদ্ভুত মাডস্কিপাররা এখনও করে), বা কোন শিকারী প্রানীর হাত থেকে বাচার জন্য, বা হয়তো ইতিমধ্যে বিবর্তিত হওয়া অসংখ্য বিশালাকৃতির কীটপতঙ্গদের মধ্যে খাদ্য খোজার সন্ধানে। যদি  স্থলে তাদের সেই অভিযান তাদের জন্য উপকারী হয়ে থাকে, প্রাকৃতিক নির্বাচন সেই প্রথম অভিযাত্রীদের ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছিল মাছ থেকে উভচরী প্রানীতে। পানি থেকে ডাঙ্গায় সেই ক্ষুদ্র পদক্ষেপ পরবর্তীতে প্রমানিত হয়েছে মেরুদন্ডী প্রানীদের জন্য বিশাল একটি উত্তরন হিসাবে, যা এক সময় বিবর্তনের কারন হয়েছিল প্রতিটি স্থলবাসী প্রানীর, যাদের মেরুদন্ড আছে।

টিকটালিক নিজে অবশ্য পুরোপুরিভাবে পানির বাইরে ডাঙ্গায় জীবনের জন্য প্রস্তুত ছিল না।একটা কারন স্পষ্টতই এটির পা পুরোপুরি বিবর্তিত হয়নি যা কিনা চার পায়ে তাকে পুরোপু্রি হাটতে সাহায্য করবে। এছাড়া পানির নীচে শ্বাস নেবার জন্য এর আভ্যন্তরীন ফুলকাও ছিল। সুতরাং আমরা আরেকটি ভবিষদ্বানী করতে পারি, কোথাও, কোন মিঠাপানির পাললিক স্তরে, প্রায় ৩৭০ মিলিয়ন বছর আগে, আমরা খুজে পাবো খুব প্রথম দিককার স্থলবাসী মেরুদন্ডী প্রানী যা ফুলকা ছিল সামান্য এবং লিম্ব বা পা ছিল টিকটালিকের তুলনায় আরো শক্তিশালী ।

টিকটালিক দেখিয়েছে আমাদের পুর্বসুরীরা ছিল চ্যাপ্টা মাথা বিশিষ্ট শিকারী মাছ, যারা ছোট ঝর্না বা  অগভীর নদীর জলে ঘুরে বেড়াতো। এইটি সেই জীবাশ্ম যা কিনা মাছ এবং উভচরীর মধ্যে চমৎকারভাবে যোগসুত্র করে দিয়েছে।এবং আরো বিস্ময়কর বিষয়টি হলো এর আবিষ্কারের বিষয়টি আগে থেকেই ধারনা করা হয়েছিল তাই শুধু না, ভবিষ্যদ্বানীও করা হয়েছিল এটি পাওয়া যাবে একটি নির্দিষ্ট সময়ের শিলাস্তরে এবং একটি নির্দিষ্ট এলাকায়।বিবর্তনের এই নাটকীয় ঘটনার স্বাক্ষী হবার সেরা উপায় হলো জীবাশ্মটিকে নিজে চোখে দেখা, বা আরো ভালো হয়, যদি স্পর্শ করা যায়। আমার ছাত্র ছাত্রীরা সেই সুযোগটাই পেয়েছিল যখন নীল শুবিন টিকটালিকের একটি কাষ্ট  ক্লাসে নিয়ে এসেছিলেন, সবার হাতে হাতে কাষ্টটি ঘুরেছিল সেদিন, নীল সেদিন  কেন এটিকে সত্যিকারের ট্রানজিশনাল ফর্মের বৈশিষ্ট বহনকারী বলা হচ্ছে তা ব্যাখ্যা করেন। যা, আমার ছাত্রছাত্রীদের জন্য, সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য, চাক্ষুষ প্রমান যে বিবর্তন সত্য।বিবর্তনের ইতিহাসের গুরুত্বপুর্ণ কোন নমুনাকে হাতে ধরার সুযোগ কয়বারই বা আপনি পেতে পারেন? আর সেই সম্ভাবনা তো আরো ক্ষীন যখন সেই নমুনাটি হয়তো ছিল আপনার অতি প্রাচীন পুর্বপুরুষের।

_________________ চলবে______________________

Advertisements
যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: তৃতীয় পর্ব

2 thoughts on “যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: তৃতীয় পর্ব

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s