যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: প্রথম পর্ব

শীর্ষ ছবি: উপরে: ১৯৯৯ সালে চীনে কেন্দ্রীয় ইউনান প্রদেশে লোয়ার ক্যামব্রিয়ান মাওশিয়ানশান শেল এ বিজ্ঞানীরা খুজে পেয়েছিলেন নরম শরীরের ক্রেনিয়েট সদৃশ একটি কর্ডেট প্রজাতির অসংখ্য নমুনা; উপরের ছবিতে দেখানো হয়েছে পুর্ণাঙ্গ যে জীবাশ্মগুলো পাওয়া গিয়েছিল কুনমিং এর কাছে হাইকুতে :  Haikouella lanceolata ; প্রায় ৫৩০ মিলিয়ন বছর পুরানো মাছের মত দেখতে এই প্রানীটি এর আগে হাইকু র কাছে খুজে পাওয়া  সমসাময়িক প্রজাতি Yunnanozoon lividum এর মত, তবে বেশ কিছু পার্থক্য আছে, Haikouella দের একটি হৃদপিন্ড, সামনে ও পেছন যথাক্রমে ভেন্টাল ও ডর্সাল মহাধমনী, ব্রাকিয়াল আর্চ, ফুলকার ফিলামেন্ট, একটি  স্নায়ুরজ্জু যার সামনে অপেক্ষাকৃত বড় আকারের একটি ব্রেইন, দুই পাশে অবস্থিত চোখ সহ একটি মস্তিষ্ক এবং ছোট টেন্টাকল সহ সামনে অবস্থিত মুখগহবর। এই সব বিষয়গুলো আসলে প্রমান করে Haikouella সম্ভবত একেবারে প্রথম দিককার ক্রেনিয়েট সদৃশ কর্ডেট; যাদের নটোকর্ড ছিল ( সব মেরুদন্ডী দের ভ্রণাবস্থায় নটোকর্ড থাকে যা পরে মেরুদন্ডের হাড়ের মধ্যকার একটি অংশে রুপান্তরিত হয়), এরা ক্যামিব্রিয়ান পর্বের প্রথম দিককার প্রজাতি, ক্যামব্রিয়ান মহাবিস্ফোরনের প্রধান ‍সুচনালগ্নেই); আকারে খুবই ছোট (এদের দৈর্ঘ  সর্ব্বোচ্চ ৪০ মিলিমিটার ) এই প্রজাতিটি একটি গুরুত্বপুর্ণ ট্রানজিশনাল প্রজাতি যা ধারনা করা হচ্ছে সকল মেরুদন্ডী প্রানীদের পুর্বসুরী । নীচে:  Haikouella lanceolata  অ্যানাটোমিকাল একটি ডায়াগ্রাম ( ব্যবহৃত অ্যাক্রোনিমগুলো : Abv, anterior branchial vessel;  An, anus; Ap, anterior projection; At, atrio; Atp, atriopore; Ba, branchial arches;  Baf, branchial-arch-filamental; Br, brain; Buc, buccal cavity; Co, copulatory organ; Cp, caudal project; Da, dorsal aorta; Df, dorsal fin; Ds, denticular structure; Eg, endostyle glands; Es, endostyle; Esp, oesophagus; G, gonad; Hd, head; Ht, heart; It, intestine; Lb, lobated structures; Le, lateral eye; Mg, midgut; Mm, myomeres; Mo, mouth opening; Ms, myosepta; Mw, median wall; Nc, neural cord; Nt, notochord; Ph, pharyngeal cavity; T, tenticle-like structure; Va, ventral aorta; Vf, ventral fin. ( ছবি সুত্র:  Chen et al. An early Cambrian craniate-like chordate. Nature 402, 518-522 (2 December 1999))

(এটি মুলত শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তন জীনতত্ত্বর অধ্যাপক জেরি কয়েন  ( Jerry A. Coyne) এর Why Evolution is true  বইটির দ্বিতীয় অধ্যায় Written in the Rocks এর একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা; বইটির প্রথম অধ্যায় What is Evolution? এর অনুবাদ বিবর্তন কি? আছে এখানে))

These mysteries about how we evolved should not distract us from the indisputable fact that we did evolve. Jerry A. Coyne (Why Evolution Is True)

যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে

((((প্রথম পর্ব ))))

পৃথিবীর ভুত্বক একটি বিশাল মিউজিয়াম ; কিন্তু শুধুমাত্র অনেক দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানেই কেবল তৈরী হয়েছে এর প্রাকৃতিক নিদর্শনগুলো । চার্লস ডারউইন, অন দি অরিজিন অব স্পিসিস

পৃথিবীতে জীবনের কাহিনী লেখা আছে পাথরে। সত্যি, এটি এমনই একটি ইতিহাসের বই, দুমড়ে মুচড়ে যার পাতা যেন ছিড়ে ফেলা হয়ছে, আর সেই বইয়ের অবশিষ্ট কিছু পাতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এদিক সেদিক ।কিন্তু, এখনও  তারা আছে, যার বেশ গুরুত্বপুর্ণ অংশ এখনও পাঠযোগ্য। জীবাশ্ববিদরা অবিরাম পরিশ্রম করে চলেছেন সেই টুকরো টুকরো বিচ্ছিন্ন অংশগুলো সংযোগ করে জীবনের বিবর্তন প্রক্রিয়ার একটি বোধগম্য ও স্পর্শযোগ্য একটি প্রমান হিসাবে উপস্থাপন করার জন্য; আর তাদের সেই প্রচেষ্টার  ফসল হচ্ছে ফসিল  বা জীবাশ্ম রেকর্ড।

ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে শোভা বর্ধনকারী, নজর কাড়া আর হতবাক করে দেবার মত জীবাশ্মগুলো আমরা যখন দেখি, যেমন ডায়নোসরের কঙ্কাল, তখন ভুলে যাওয়াটাই খুব সহজ, আসলে ঠিক কি পরিমান পরিশ্রম ব্যয় হয়েছে,এদের আবিষ্কার করে,পাথরের কাঠামোর মধ্য থেকে পৃথক করে, ঠিক মতো সাজিয়ে, তাদের ব্যাখ্যা করার পেছনে। প্রায়ই এসব জীবাশ্মগুলো পৃথিবীর নানা দুরবর্তী, বসবাস অযোগ্য, বিপদ সঙ্কুল অঞ্চলে সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল আর ঝুকিপুর্ণ অভিযানের ফসল।যেমন, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সহকর্মী পল সেরেনো, আফ্রিকা মহাদেশের ডায়নোসর নিয়ে যিনি গবেষনা করছেন।আর সেই সব ডায়নোসরদের বেশী ভাগ গুরুত্বপুর্ণ জীবাশ্মই চাপা পড়ে আছে সাহারা মরুভুমির ঠিক মাঝখানে, সেরেনো ও তার সহকর্মীরা সাহারা এলাকার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, মরুদস্যু, ঘাতক রোগ ব্যাধি, এবং অবশ্যই মরু অভিযানের কঠোর পরিশ্রমের বাধা উপেক্ষা করে অসাধারন কিছু নতুন প্রজাতির ডায়নোসর যেমন, Afrovenator abakensis এবং Jobaria tiguidensis এর জীবাশ্ম নমুনা আবিষ্কার করেছেন, যা নতুন করে ডায়নোসরদের বিবর্তন প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করেছে।

ছবি: নাইজারের আবাকা অঞ্চলে ১৯৯৯ সালে পল সেরেনোর খুজে পাওয়া একটি ডায়নোসরের জীবাশ্মর কাষ্ট ( Afrovenator abakensis); Afrovenator  শব্দটির অর্থ আফ্রিকার শিকারী ( সুত্র: উইকিপেডিয়া)

এ ধরনের আবিষ্কারের পুর্বশর্ত অবশ্যই বিজ্ঞানের প্রতি সত্যিকারের আত্মনিবেদনশীলতা, বহুবছরের প্রচন্ড পরিশ্রম, একাগ্রচিত্ততা এবং সাহস –সেই সাথে অবশ্যই বেশ ভালো পরিমানের ভাগ্য। কিন্তু তা স্বত্তেও বহু জীবাশ্মবিদ এধরনের আবিষ্কারের জন্য নিজেদের জীবন অনায়াসে ঝুকির মধ্যে ফেলতে রাজী।জীববিজ্ঞানীর কাছে জীবাশ্ম হচ্ছে গোল্ডডাষ্ট বা স্বর্ণকণার মত মুল্যবান।তাদের ছাড়া আমরা বিবর্তন প্রক্রিয়া সম্বন্ধে অস্পষ্ট একটি ধারনা পেতাম; এদের অনুপস্থিতিতে আমরা যা করতে পারতাম, সেটা হলো হলে জীবিত প্রজাতিদের নিয়ে গবেষনা করে করতাম, তাদের আকার ও গঠন, ভ্রুণতাত্ত্বিক ক্রমবিকাশ এবং ডিএনএ অনুক্রমের সাদৃশ্যগুলো তুলনা করে আমরা সেখান থেকে বিবর্তনীয় সম্পর্ক সম্বন্ধে ধারনা পেতাম; যেমন আমরা জানতাম, স্তন্যপায়ী প্রানীদের উভচরীদের চেয়ে বরং সরীসৃপদের সাথে সম্পর্ক বেশ কাছের,কিন্তু আমরা যেটা জানতে পারতাম না, সেটা হলো তাদের সাধারণ বা কমন পুর্বসুরী প্রানীরা কেমন দেখতে ছিল।দানবাকৃতির ডায়নোসর সম্বন্ধে আমাদের কোন ধারনাই থাকতো না, যাদের কেউ কেউ বড় প্রায় ট্রাকের সমান, কিংবা আমাদের অষ্ট্রালোপিথেসিন পুর্বপুরুষদের সম্বন্ধেও  থাকতো না কোন ধারনা, যাদের মস্তিষ্কের আকার ছিল ছোট, তবে তারা সোজা হয়ে দু পায়ে হাটতো।বিবর্তন সম্বন্ধে যা কিছু আমরা জানতে চাইতাম তাদের বেশীর ভাগই হয়তো রহস্য হয়ে থাকতো আমাদের কাছে। ভাগ্যক্রমে, পদার্থবিজ্ঞান, ভুতত্ত্ববিদ্যা এবং প্রাণ রসায়নের ক্ষেত্রে নানা অগ্রগতি এবং সেই সাথে পৃথিবীব্যাপী সাহসী আর ধৈর্য্যশীল বিজ্ঞানীদের একান্ত প্রচেষ্টা আমাদের যোগান দিয়েছে বিবর্তনের সেই হারিয়ে যাওয়া অতীত সম্বন্ধে  অসাধারণ আর মুল্যবান কিছু অর্ন্তদৃষ্টি।

ছবি: Jobaria tiguidensis;  ১৯৯৭ আফ্রিকার সাহারা অঞ্চলে খুজে পাওয়া আরেকটি ডায়নোসরের জীবাশ্ম। প্রায় ১৮ ফুট দীর্ঘ এই ডায়নোসরটির নাম এসেছে স্থানীয় পুরাণে বর্ণিত জোবার নামে একটি দানবাকৃতি জন্তুর নাম থেকে (সুত্র : উইকিপেডিয়া)

জীবাশ্ম রেকর্ড তৈরী করার প্রক্রিয়া …..

জীবাশ্ম বা ফসিল এর সাথে মানুষের পরিচয় সেই প্রাচীন কাল থেকেই: অ্যারিস্টোটল এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন, প্রাচীন গ্রীসে হয়তো পাখীর মত ঠোটযুক্ত ডায়নোসর Protoceratops  জন্ম দিয়ে দিয়েছিল পৌরানিক গ্রিফিন কিংবদন্তীর।কিন্তু জীবাশ্মগুলোর সত্যিকারের অর্থ বুঝতে সময় লেগেছে আরো বহু দিন।এমনকি ‍উনবিংশ শতাব্দীতেও, তাদের ব্যাখ্যা দেয়া হতো, অতিপ্রাকৃতিক শক্তির সৃষ্টি, নোয়া বা নুহ এর বন্যার সময় ডুবে যাওয়া প্রানী, অথবা অনাবিষ্কৃত, বহুদুরের পৃথিবীর অজানা প্রান্তের এখনও কোন জীবিত প্রানী ধ্বংসাবশেষ।

কিন্তু এই সব প্রস্তরীভুত দেহাবশষের মধ্যেই রয়েছে জীবনের ইতিহাস এর উপস্থিতি। কেমন করে সেই  ইতিহাসের অর্থ উদ্ধার করতে পারি আমরা?  প্রথমত, অবশ্যই, আপনার প্রয়োজন হবে জীবাশ্মর, অনেকগুলো জীবাশ্মর। এরপর আপনাকে এদের সঠিক সময়ের অনুক্রমে সাজাতে হবে, প্রাচীনতম থেকে নবীনতম, এবং এরপর আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে কখন  তৈরী হয়েছে এই জীবাশ্মগুলো।আর এই প্রত্যেকটি পর্যায়ের প্রয়োজনীয়তার সাথে যুক্ত আছে নিজস্ব একগুচ্ছ চ্যালেন্জ।

জীবাশ্ম তৈরী হওয়ার প্রক্রিয়াটি খুবই স্পষ্ট, কিন্তু সেটা ঘটতে গেলে প্রয়োজন খুবই নির্দিষ্ট এক গুচ্ছ পরিস্থিতির। প্রথমে প্রানী কিংবা উদ্ভিদের দেহাবশেষকে কোন না কোনভাবে পানিতে পড়তে হবে, একেবারে তলে ডুবে যেতে হবে তাদের এবং খুব দ্রুত সেডিমেন্ট বা পলির নিচে তাদের ঢাকা পড়ে যেতে হবে, যেন তারা পচে না যায় বা মৃতদেহ খেতে আসা কোন প্রানীরা যেন তাদের নাড়াচাড়া করতে না পারে। আর স্থলবাসী কোন প্রানী বা উদ্ভিদের দেহাবশেষের কোন হ্রদ বা জলাশয় বা সমুদ্রের তলদেশে তলিয়ে পড়ার ব্যাপারটা বেশ দুর্লভ কিছু পরিস্থিতিতে ঘটে থাকে। সেজন্য আমাদের খুজে পাওয়া বেশীর ভাগ জীবাশ্ম আসলে সামুদ্রিক প্রানীদের, যারা সমুদ্রের তলদেশে বা তার কাছাকাছি বাস করতো বা প্রাকৃতিকভাবে মারা যাবার পর তাদের মৃতদেহ তলদেশে ডুবে যেত।

ছবি: জীবাশ্ম তৈরী হবার একটি প্রক্রিয়া ( সুত্র : দি নিউ সায়েন্টিষ্ট) ;

একবার সেডিমেন্ট বা পলির স্তরের নীচের নিরাপদ ভাবে ডুবে গেলে, জীবাশ্মর শক্ত অংশগুলো ধীরে ধীরে দ্রবীভুত খনিজ বা মিনারেল দ্বারা প্রতিস্থাপিত কিংবা অনুপ্রবিষ্ট হয়।যা বাকী থাকে তা হলো তা হলো একটি জীবন্ত প্রানীর একটি কাষ্ট যা উপরে ক্রমশ জমতে থাকা সেডিমেন্ট স্তরের প্রচন্ড চাপে একসময় পাথরের রুপান্তরিত হয়।যেহেতু উদ্ভিদ এবং প্রানীদের নরম অংশগুলো সহজে জীবাশ্মীভুত হয় না, বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে প্রাচীন সেই প্রজাতির সম্বন্ধে আমাদের জানার ক্ষেত্রে বেশ কিছুটা পদ্ধতিগত সমস্যা সৃষ্টি করে।হাড় এবং দাত প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায়, যেমন পাওয়া যায় শেল বা খোলস বা কীটপতঙ্গ বা ক্রাষ্টাশিয়ানদের বাইরের শক্ত আবরণ। কিন্তু নরম অস্থিবিহীন কেচো, জেলীফিশ, ব্যাকটেরিয়া এবং নাজুক প্রানী যেমন পাখীদের জীবশ্ম পাওয়া বেশ দুর্লভ।যেমন  স্থলবাসী প্রানীদের জীবাশ্ম যেমন কম পাওয়া যায় জলজ প্রানীদের তুলনায়। পৃথিবীতে জীবনের ইতিহাসে প্রথম ৮০ শতাংশ প্রজাতিই ছিল নরম শরীরের, সুতরাং এই প্রাচীনতম সময় ও চমকপ্রদ সব বিবর্তনের বিকাশের সময়টাকে বোঝার জন্য আমাদের উপায়টা কুয়াশা ঢাকা জানালা দিয়ে দেখার মত, আর জীবনের সুচনা বা উৎপত্তি আমাদের দৃষ্টিসীমার বাইরে।

একবার যখন জীবাশ্ম তৈরী হয়, এটিকে ভুত্বকের বিরামহীন উত্থান পতন, অদল বদল, ভাজ, তাপমাত্রা এবং নি:ষ্পেশন করা চাপ সহ্য করে টিকে থাকতে হয়, যা বেশী ভাগ জীবাশ্মকে আসলে পুরোপুরি ধ্বংশ করে দেয়। তারপর যে চ্যালেন্জটা থাকে সেটা হলো, এই জীবাশ্মটিকে অবশ্যই খুজে পেতে হবে, ভুত্বকের গভীরে সমাহিত এই জীবাশ্মগুলোর বেশীর ভাগই আমাদের ধরাছোয়ার বাইরে। শুধুমাত্র যখন সেডিমেন্টগুলো উপরে উঠে আছে বা বাতাস বৃষ্টি  দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে খানিকটা উন্মোচিত হয়, তখনই কেবল জীবাশ্মতত্ববিদদের হাতুড়ীর আঘাত সেটা মুক্ত করার প্রক্রিয়াটি শুরু করতে পারে।এবং তখনও হাতে খুব কম সময়ই থাকে নয়তো সেই জীবাশ্মই আংশিক উন্মোচিত জীবাশ্ম বাতাস, পানি কিংবা আবহাওয়ায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে।

আর এই সব শর্ত পুরণ যদি করতে হয়, তাহলে স্পষ্টতই জীবাশ্ম রেকর্ড অবশ্যই অসম্পুর্ণ হবে ; তবে কতটুকু অসমম্পুর্ণ? পৃথিবীতে কোন না কোন সময় বেচে ছিল এমন প্রজাতির সর্বমোট সংখ্যা ধারনা করা হয় প্রায় ১৭ মিলিয়ন (অবশ্যই এটি সম্ভাব্য সংখ্যার একটি ভয়ঙ্কর রকম অবমুল্যায়ন, বিশেষ করে বর্তমানে পৃথিবীর মোট প্রজাতির সংখ্যা যখন কমপক্ষে ১০ মিলিয়ন) থেকে প্রায় ৪ বিলিয়ন। যেহেতু আমরা প্রায় ২৫০,০০০ প্রজাতির জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছি, ধারনা করতে পারি যে আমরা  সকল প্রজাতির শুধুমাত্র ০.১ থেকে  ১ শতাংশ প্রজাতির জীবাশ্ম প্রমান সংগ্রহ করেছি মাত্র।জীবনের ইতিহাসের জন্য এটাকে নিশ্চয়ই  যথেষ্ট পরিমান নমুনা সংগ্রহ বলা যাবে না। অবশ্যই অসংখ্য বিস্ময়কর প্রানী অবশ্যই  বেচে ছিল যারা চিরকালের মত আমাদের কাছে হারিয়ে গেছে।তাসত্ত্বেও আমাদের সংগ্রহে আছে যথেষ্ট পরিমান জীবাশ্ম, যা বিবর্তন কিভাবে ঘটেছে তা সম্বন্ধে আমাদের যথেষ্ট ভালো একটা ধারনা দিয়েছে, আর আমরা বুঝতে পেরেছি বড় জীব গ্রুপগুলো কিভাবে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

একটা মজার ব্যপার হচ্ছে জীবাশ্ম রেকর্ডগুলো কিন্তু মুলত প্রথম ক্রমানুসারে সাজিয়েছিল বিবর্তনবাদীরা না বরং ভুতত্ত্ববিদরা, যারা আবার সৃষ্টিবাদী বা ক্রিয়েশনিষ্ট মতানুসারী ছিলেন, যারা বুক অব জেনেসিসে বর্নিত জীবনের বর্ণনা মেনে নিয়েছিলেন।এই সব আগের ভুতত্ববিদরা শুধুমাত্র পাথরের যে স্তরে তাদের পাওয়া গেছে  সেটাকে শুধু ক্রমানুসারে সাজিয়েছিলেন ( বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের সাথে সংশিষ্ট খাল খনন করার সময়) সাধারন কান্ডজ্ঞানের উপর ভর করা মুলনীতি ব্যবহার করে।যেহেতু জীবাশ্ম হয় সেডিমেন্টরী বা পাললিক শিলা স্তরে যার শুরু হয় পলিমাটি দিয়ে সাগরে নদীতে বা হ্রদ ( কদাচিৎ বালির বালিয়াড়ি বা হিমবাহের ডিপোসিট হিসাবে) সেকারনে সবচেয়ে গভীর স্তর বা স্ট্র্যাটা টি অবশ্যই অপেক্ষাকৃত কম গভীর স্তরের বহু আগে গঠিত হয়েছে; নতুন পাথর সাজানো আছে পুরোনো পাথরের উপর সাজানে স্তরে স্তরে। কিন্তু সবসময় কোন একটি নিদিষ্ট জায়গায় সবগুলো স্তর পাওয়া যায়না, কখনো তারা তৈরী হয়না বা তৈরী হলেও ক্ষয়ে গেছে।

সবগুলো পাথরের স্তরের ক্রমটা সাজাতে গেলে, আপনাকে অবশ্যই পৃথিবীর অন্য এলাকার পাথরের স্তর বা স্ট্র্যাটার তা সাথে মিলিয়ে দেখতে হবে; যদি কোন স্তরে একই ধরনের পাথর থাকে দুটি জায়গায় এবং একই ধরনের জীবাশ্ম পাওয়া যায়, এটা যুক্তিসঙ্গত কারনে মনে করা যেতে পারে দুই জায়গাতেই এই স্তরটি বয়স একই।সুতরাং উদহারণ হিসাবে আপনি যদি কোন জায়গায়  মোট ৪ টি স্তরের শিলা পান ( ধরা যাক সবচে অগভীর থেকে গভীর, আমরা তাদের নাম দেই যথাক্রমে A B D ও E) এবং অন্য জায়গায় আপনি সেই একই স্তরগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি পেলেন, যাদের মধ্যে আরো একটি স্তর – B C D – আপনি উপসংহার টানতে পারেন যে, রেকর্ডে কমপক্ষে ৫ স্তরের পাথর আছে, ক্রমানুসারে, সবচে নতুন থেকে সবচে পুরোনো, A B C D E; এই প্রিন্সিপাল অব সুপারপজিশন, ধারনাটি প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন সপ্তদশ শতাব্দীতে ডেনিশ পলিম্যাথ নিকোলাউস স্টেনো, যিনি পরব্তীতে আর্চ বিশপ হয়েছিলেন, এবং  পোপ পায়াস XI তাকে ক্যানোনাইজ (সেইন্ট হিসাবে ঘোষনা) করেছিলেন ১৯৮৮ সালে।নি:সন্দেহে শুধুমাত্র স্টেনো হচ্ছেন একজন সেইন্ট এর উদহারণ, যার কিনা গুরুত্বপুর্ণ বৈজ্ঞানিক অবদান ছিল। স্টেনোর মুলনীতি অনুযায়ী ভুতাত্ত্বিক রেকর্ডকে খুব কষ্টসাধ্যভাবে সময়ের ক্রমানুসারে সাজানো হয় অষ্টাদশ এবং উনবিংশ শতাব্দীতে: সেই অতি প্রাচীন ক্যামব্রিয়ান থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত্।এ পর্যন্ত সবই ঠিক আছে, কিন্তু এটি পাথরের বা শিলাস্তরের সঠিক বয়স না, কেবল কাছাকাছি একটি বয়স সম্বন্ধে ধারনা দেয়।

প্রায় ১৯৪৫ সাল থেকেই আমরা কয়েক ধরনের পাথরের সঠিক বয়স নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছি – রেডিও অ্যাকিটিভিটি বা তেজস্ক্রিয়তার সুত্র ব্যবহার করে। পৃথিবী পৃষ্ঠের নীচে গলিত শিলা থেকে স্ফটিকাকারে তৈরী হবার সময় করে কিছু তেজষ্ক্রিয় মৌল ( রেডিও আইসোটোপ) ইগনেয়াস  বা আগ্নেয় শিলার সাথে সন্নিবিষ্ট হয় । তেজষ্ক্রিয় মৌলগুলো ধীরে ধীরে একটি ধ্রুব মাত্রায় ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে অন্য মৌলে রুপান্তরিত হয়, এই ধ্রুব ক্ষয় হবার হারটাকে বলা হয়, তার হাফ লাইফ বা অর্ধ জীবন- বা যতটুকু সময় লাগে কোন তেজষ্ক্রিয় মৌলর অর্ধেক পরিমান ক্ষয় হতে। আমদের যদি এই হাফ লাইফ টি জানা থাকে, তাহলে এই শিলা তৈরীর সময় ঠিক কতটুকু রেডিও আইসোটোপ ছিল সেখানে ( যা খুব সঠিকভাবে ভুতত্ত্ববিদরা নির্ণয় করতে পারেন) এবং ঠিক কতটুকু বর্তমানে অবশিষ্ট আছে, তাহলে তুলনামুলকভাবে খুব সহজেই আমরা সেই শিলার বয়স নির্ণয় করতে পারি।বিভিন্ন রেডিও আইসোটোপ ক্ষয়প্রাপ্ত হয় ভিন্ন ভিন্ন হারে। সাধারণতঃ পুরোনো পাথরের বয়স নির্ণয় করা হয় রেডিও আইসোটোপ ইউরেনিয়াম -২৩৮ (U^238) ব্যবহার করে, যা সহজপ্রাপ্য মিনারেল বা খনিজ পাদার্থ জিরকন এর পাওয়া যায়, এই U^238 এর অর্ধজীবন বা হাফলাইফ প্রায় ৭০০ মিলিয়ন বছর। আর কার্বন ১৪ (C ^14) , যার হাফলাইফ ৫৭৩০ বছর, ব্যবহার করা হয় অপেক্ষাকৃত নতুন পাথরের বয়স কিংবা মানুষের তৈরী করা সামগ্রীর বয়স নির্ণয়ে, যেমন ডেড সি স্ক্রলস। সাধারণত বেশ কয়েকটি রেডিও আইসোটোপ  একসাথে দেখা যায়, সুতরাং আমরা একটার সাথে আরেকটি ক্রসচেক করেও সঠিক সময়টি যাচাই করে নিতে পারি, এবং এদের মধ্যে কোন গরমিল দেখা যায়না। কিন্তু যে পাথরগুলোর মধ্যে জীবাশ্ম থাকে, তারা আগ্নেয় শিলা না বরং পাললিক শিলা, যাদের বয়স নির্ণয়ের কাজটি  সরাসরি করা যায়না। কিন্তু আমরা জীবাশ্ম গুলোর বয়স নির্ণয় করতে পারি, পাললিক শিলার নিকটবর্তী একে ঘিরে থাকা আগ্নেয় শিলার বয়স নির্ণয় করার মাধ্যমে, যাদের মধ্যে রেডিও আইসোটোপ আছে।

বিবর্তন বিরোধীরা মাঝে মাঝে এই নির্ণয় করা সময়গুলো সঠিক কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই পদ্ধতির বিশ্বাসযোগ্যতাকে আক্রমন করেন, এই বলে যে, তেজষ্ক্রিয় পদার্থের ক্ষয়ের হার হয়তো সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে শিলার উপর নানা ভৌত অবস্থার পরিস্থিতির চাপের কারনে।এই বিরোধীতাটি প্রায়ই আলোচনায় নিয়ে আসেন ইয়ং আর্থ বা নবীন পৃথিবী মতবাদে বিশ্বাসী সৃষ্টিবাদীরা, যারা বিশ্বাস করেন পৃথিবী প্রায় ৬০০০ থেকে ১০০০০ বছর প্রাচীন।কিন্তু যুক্তিটা আপাতদৃষ্টি যথার্থ মনে হলেও এটি কিন্তু ভ্রান্ত, যেহেতু পাথরে ভিন্ন ভিন্ন রেডিও আইসোটোপ ক্ষয় হয় ভিন্ন ভিন্ন হারে, যদি তারা নানা চাপে পরিবর্তিতই হয়ে থাকে তাহলে তো তাদের সব সময় ঠিক একই ধরনের কোন সময়ের হিসাব দেবার কথা না, উপরন্তু কোন আইসোটোপেরই অর্ধজীবনের কোন পরিবর্তন হয়না যখন বিজ্ঞানী ল্যাবরেটরীতে তাদের উপর প্রচন্ড রকমের চাপ ও তাপমাত্রা প্রয়োগ করেন।এবং যখন আমরা এই বা রেডিও আইসোটোপ নির্ভর বা রেডিওমেট্রিক ডেটিং এর মাধ্যমে বয়স নির্ণয় করি, তা অন্য ঐতিহাসিক রেকর্ড এর সাথে তুলনামুলক পর্যালোচনা করলেও আমরা দেখতে পাই এই দুই সময়ের মধ্যে কোন গরমিল নেই , যেমন কার্বন ১৪ প্রক্রিয়া। পৃথিবীতে খুজে পাওয়া উল্কা খন্ডের রেডিওমেট্রিক ডেটিং এর মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি যে, পৃথিবী  ও সৌরজগত এর বয়স প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর (পৃথিবীতে পাওয়া সবচেয়ে পুরোনো পাথরের বয়স, এর চেয়ে কিছুটা নবীন, উত্তর কানাডা থেকে পাওয়া নমুনা বলছে প্রায় ৪.৩ বিলিয়ন বছর – কারন ভুপৃষ্ঠের নড়াচড়া ও চাপে  এর চেয়ে পুরোনো পাথরগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে)।

আরো বেশ কিছু উপায় আছে রেডিওমেট্রিক উপায়ে নির্ণয় করা সময়ের এর নির্ভুলতা প্রমানের জন্য; এর একটি মুলত ব্যবহার করে জীববিজ্ঞানের একটি প্রক্রিয়াকে; যা কর্ণেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন ওয়েলস এর জীবাশ্ম প্রবাল নিয়ে করা অসাধারন একটি গবেষনার ফসল। রেডিও আইসোটোপ উপায়ে মাপা সময় বলছে এই সব জীবাশ্ম প্রবাল বেচে ছিলো ডেভোনিয়ান পর্বে, প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন বছর আগে। কিন্তু এই প্রবালগুলো একটু ভালো করে লক্ষ্য করেও ওয়েলস কিন্তু বলতে সক্ষম ছিলেন ঠিক কখন এই প্রবালগুলো বেচে ছিল।তার সেই উপসংহারে পৌছানোর উপায় ছিল টাইড বা জোয়ার এর ঘর্ষন বা ফ্রিকশন পৃথিবীর ঘুর্ণনকে ক্রমশ ধীর করে দিচ্ছে। প্রতিদিন, নিজ অক্ষের উপর উপর পৃথিবীর একবার ঘুর্ণন এর আগের ঘুর্ণনের চেয়ে খুব সামান্যতম পরিমান দীর্ঘ।এটা এমন কিছু না যে আপনার নজরে পড়বে।প্রতি ১০০০০০ বছরে একটি দিনের পরিমান প্রায় ২ সেকেন্ড করে বাড়ছে। যেহেতু এক বছরের ব্যাপ্তিকাল – সুর্যের চারপাশে পৃথিবীর একবার ঘুরে আসার সময়কাল – সময়ের সাথে বদলে যাচ্ছে না, তার মানে সময়ের সাথে প্রতি বছরে দিনের সংখ্যা নিশ্চয়ই কমে আসছে।এই ক্রমশ ধীর হয়ে যাবার হারটি জানা থাকার তথ্য ব্যবহার করে, ওয়েলস হিসাব করে দেখান, তার সেই প্রবালগুলো যখন জীবিত ছিল – ৩৮০ মিলিয়ন বছর আগে, যদি রেডিওমেট্রিক ডেটিং ঠিক হয়ে থাকে – সেই সময় প্রতিটি বছরে প্রায় ৩৯৬ দিন ছিল, যার প্রত্যেকটি প্রায় ২২ ঘন্টা দীর্ঘ।যদি এমন কোন উপায় থাকে, যেখানে কিনা জীবাশ্ম নিজেরাই বলতে পারে  তারা যখন জীবিত ছিল তখন দিনের দৈর্ঘ কত টুকু ছিল, আমরা সেটা পরীক্ষা করে দেখতে পারি , সেই দৈর্ঘ রেডিওমেট্রিক উপায়ে পরিমাপ করা দিনের দৈর্ঘ ২২ ঘন্টার সাথে সেটা কতটুকু  মেলে।


ছবি: সামুদ্রিক প্রবালের গ্রোথ রিং ( সুত্র ইন্টারনেট)

কিন্তু প্রবালরা সেটা করতে পারে, তারা যখন ক্রমশ বাড়তে থাকে, তাদের শরীরে তারা চিহ্ন রেখে যায়, প্রতি বছরে কতটা দিন ছিল, জীবিত প্রবাল দৈনিক এবং বার্ষিক গ্রোথ রিং তৈরী করে। জীবাশ্ম নমুনায় আমরা দেখতে পাই, কতগুলো দৈনিক রিং  প্রতিটি বার্ষিক রিং কে আলাদা করেছে: অর্থাৎ প্রতিটি বছরে কয়টি দিন ছিল যখন প্রবালটি জীবিত ছিল। এই টাইড বা জোয়ারের ঘর্ষনের কারনে ক্রমশ মন্থর হবার হারটি জানতে পারলে, আমরা ’টাইডাল’ বয়সকে ’রেডিওমেট্রিক’ বয়সের সাথে তুলনামুলক পর্যালোচনা করতে পারি।ডেভোনিয়ান পর্বের জীবাশ্ম প্রবালদের গ্রোথ রিং গননা করে , ওয়েল প্রমান করেন তারা প্রতিবছর প্রায় ৪০০ টি দিন পেয়েছে, অর্থাৎ প্রতিটি দিন ছিল প্রায় ২১.৯ ঘন্টা যা, রেডিওমেট্রিক উপায়ে নির্নয় করা দিনের দৈর্ঘ্য ২২ ঘন্টা থেকে খুব বেশী আলাদা নয়।এই বুদ্ধিমান জীববিজ্ঞানীয় পরিমাপের ক্যালিব্রেশন প্রক্রিয়াটি  রেডিওমেট্রিক ডেটিং এর নির্ভুলতা সম্বন্ধে আমাদের আরো বেশী আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

_________________ চলবে______________________

Advertisements
যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: প্রথম পর্ব

5 thoughts on “যে ইতিহাস লেখা আছে পাথরে: প্রথম পর্ব

  1. দেখে মনে হচ্ছে অনেক কিছু জানার আছে। লাইক করে রাখলাম, সময় করে পড়ে নেব, ইনশাল্লাহ।
    গবেষণাধর্মী লেখা আমার ভালো লাগে। আরো লেখার প্রত্যাশা করতেই পরি বোধহয়।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s