রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন: চতুর্থ অধ্যায় (শেষ পর্ব)

কার্টুন: ইন্টারনেট

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন এর বাংলা অনুবাদ :
প্রথম , দ্বিতীয় ,তৃতীয়  , চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) , চতুর্থ অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) , চতুর্থ অধ্যায় ( তৃতীয় পর্ব ) , চতুর্থ অধ্যায় ( চতুর্থ পর্ব ) ,

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : চতুর্থ অধ্যায় (শেষ পর্ব )
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)
The God Delusion by Richard Dawkins

কেন প্রায় নিশ্চিৎভাবে বলা সম্ভব ঈশ্বরের কোন অস্তিত্ব নেই  

চতুর্থ অধ্যায় ( চতুর্থ পর্ব )  এর পর:

কেমব্রিজে একটি সংক্ষিপ্ত  বিরতি :

কেমব্রিজে সম্প্রতি বিজ্ঞান এবং ধর্ম নিয়ে একটি  সন্মেলনে এই যুক্তিটি আমি প্রস্তাব করেছিলাম, যা এখানে উল্লেখ করেছি আল্টিমেট বা অন্তিম বোয়িং ৭৪৭ যুক্তি হিসাবে। আমার যা অভিজ্ঞতা হয়েছে, অন্ততপক্ষে সেটি ছিল একটি ঈশ্বরের সরলতা প্রশ্নে চিন্তার সম্মিলনের একটি আন্তরিক  ব্যর্থতা। এই অভিজ্ঞতা আমার জন্য ছিল বেশ শিক্ষনীয়, সেই অভিজ্ঞতাটাই আপনাদের সাথে ভাগ করে নেবো এখানে।

প্রথমেই আমার স্বীকার (সম্ভবত এটিই সঠিক শব্দ) করে নেয়া উচিৎ এই সম্মেলনটি পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল টেম্পলটন ফাউন্ডেশন। বৃটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন বিশেষভাবে বাছাই করা কিছু বিজ্ঞান সাংবাদিকরা ছিলেন এর দর্শক। আমন্ত্রিত বক্তাদের মধ্যে আমি ছিলাম একমাত্র নীরিশ্ববাদী।এদের মধ্যে একজন সাংবাদিক জন হরগান, উল্লেখ করেছিলেন, এই সম্মেলনে অংশগ্রহন করার জন্য অন্য সব খরচ বাদ দিয়ে তাকে ১৫০০০ ডলার এর একটি মোটা পারিশ্রমিক দেয়া হয়েছিল। ব্যাপারটি আমাকে বিস্মিত করেছিল। অ্যাকাডেমিক সম্মেলনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি, এমন কোন উদহারন নেই যেখানে দর্শকদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য পারিশ্রমিক প্রদান করা হয় (বক্তাদের ছাড়া); আমি যদি আগে জানতাম,  সাথে সাথেই তাহলে আমার সন্দেহ হত। টেম্পলটন কি তার অর্থ ব্যবহার করছে বিজ্ঞান সাংবাদিকদের কোন বেআইনী কাজ করার প্ররোচনা দেবার জন্য এবং তাদের বৈজ্ঞানিক সততাটিকে বিপথগামী করা চেষ্ঠায় ? জন হরগান পরবর্তীতে তেমনটি ভেবেছিলেন এবং তার পুরো অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি নিবন্ধও লিখেছিলেন [২৬]; যেখানে  তিনি প্রকাশ করেন, আমার কারনেই, একজন বক্তা হিসাবে আমার নাম দিয়ে প্রচারনা করার কৌশল তার মতই আরো অনেক সাংবাদিকের সন্দেহ কাটাতে সাহায্য করেছিল:

বৃটিশ জীববিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিন্স-এই মিটিং যার অংশগ্রহন আমাকে এবং আমার অনেক সহকর্মীকে বিশ্বাস যুগিয়েছিল এর বৈধতা সম্পর্কে – ছিলেন একমাত্র বক্তা যিনি ধর্ম বিশ্বাসকে সমালোচনা করেন বিজ্ঞানের সাথে অসামন্জষ্যপুর্ণ, অযৌক্তিক এবং ক্ষতিকর হিসাবে উল্লেখ করে। অন্যান্য বক্তারা – তিনজন অ্যাগনষ্টিক, একজন ইহুদী, একজন দেইষ্ট এবং ১২ জন খৃষ্টীয় ( শেষ মুহুর্তে একজন মুসলিম দার্শনিক সম্মেলনে যোগদানে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন) – সবাই সুস্পষ্টভাবে ধর্ম এবং খৃষ্টীয় ধর্মের প্রতি সুস্পষ্টভাবে পক্ষপাতমুলক বক্তব্য রাখেন।

হরগানের এই নিবন্ধটি পছন্দনীয়ভাবে নিরাপদ মাঝামাঝি একটা অবস্থান। তার নানা সংশয়বোধ সত্ত্বেও তার অভিজ্ঞতার বেশ কিছু ব্যাপার ছিল, যা তিনি নি:সন্দেহে স্বীকার করেছেন ( এবং আমিও, নীচের অনুচ্ছেদগুলোয় যা সুস্পষ্ট হবে); হরগান লিখেছিলেন:

বিশ্বাসীদের সাথে আমার কথপোকথন আমার সেই বোধকে দৃঢ় করেছে কেন কিছু বুদ্ধিমান, শিক্ষিত মানুষ ধর্মকে একাত্ম করে নিয়েছেন। একজন রিপোর্টার আলোচনা করেছেন জিহবা দিয়ে কথা বলা বা স্বয়ংক্রিয়, অচেতন স্তরে কথা বলার অভিজ্ঞতা আলোচনা করেছেন এবং আরেকজন যীশুর সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক থাকার কথা বলেছেন। আমার বিশ্বাস পরিবর্তিত হয়নি কিন্তু অন্যদের হয়েছে। অন্তত একজন সহকর্মী বলেছেন তার বিশ্বাস দোলা খেয়েছে ডকিন্স এর ধর্মকে ব্যবচ্ছেদ করার ফলাফল হিসাবে। এবং যদি টেম্পলটন ফাউন্ডেশন আমার স্বপ্নের সেই ধর্ম মুক্ত পৃথিবী দিকে অগ্রসর হতে সামান্যতম সহায়তা করে, তা কি এমন খারাপ হতে পারে?

লিটারেরী এজেন্ট জন ব্রকমানের ওয়েবসাইট এজ (Edge) এ প্রকাশ করে এটি দ্বিতীয় দফা প্রচারও করা হয় ( যাকে বলা অন লাইন বৈজ্ঞানিক সালন (Salon)), যেখানে এটি বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে, যাদের মধ্যে একটি ছিল তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রিম্যান ডাইসন এর। আমি ডাইসনের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় লিখেছিলাম, তিনি যখন টেম্পলটন পুরষ্কার গ্রহন করেছিলেন, সেই সময় দেয়া তার একটি ভাষন থেকে উদ্ধৃতি ব্যবহার করে। তার ভালো লাগুক বা না লাগুক, টেম্পলটন পুরস্কার গ্রহন গ্রহন করে ডাইসন সারা পৃথিবীকে একটি শক্তিশালী অন্য রকম বার্তা দিয়েছিলেন। সেটা হচ্ছে পৃথিবীর সবচে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানীর র্ধমকে সমর্থন করার ইঙ্গিত।

’আমি সন্তুষ্ট অসংখ্য খৃষ্ট ধর্মাবলম্বীদের একজন হিসাবে, যারা আদৌ ট্রিনিটির ডকট্রিন বা গসপেলের ঐতিহাসিক সত্য নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয়।’

কিন্তু ঠিক এমন ভাবেই কি বলার  কথা না কোন একজন নীরিশ্বরবাদী বিজ্ঞানীর, যিনি নিজেকে একজন খৃষ্টান হিসাবে ধারনা দিতে চাইবেন ? আমি ডাইসনের আরো উদ্ধৃতি ব্যবহার করেছিলাম তার পুরষ্কার গ্রহনকালের সেই ভাষন থেকে, যার মধ্যে কাল্পনিক ব্যাঙ্গাত্মক কিছূ প্রশ্নও জুড়ে দিয়েছিলাম ( নীচে ইটালিক হরফে) একজন টেম্পলটন কর্মকর্তার প্রতি।

ওহ,  আপনি আরো গভীর কিছু শুনতে চাইছেন তাহলে? বেশ এটা কেমন হয় :

’আমি মন এবং ঈশ্বরের মধ্যে কোন সুস্পষ্ট কোন পার্থক্য করিনা, কারন ঈশ্বর হলো আমাদের মনের একটি অবস্থা যখন এটি আামদের বোধের সীমানা অতিক্রম করে।’

আমি কি যথেষ্ট বলিনি এর মধ্যে, আমি কি আমার পদার্থবিদ্যার গবেষনায় ফেরত যেতে পারি এখন? ওহ, এখনও যথেষ্ট না? বেশ তাহলে, এটা কেমন:

এমন কি বিংশ শতাব্দীর ভয়ঙ্কর অতীত সত্ত্বেও আমি ধর্মের প্রগতির কিছু চিহ্ন দেখতে পাচ্ছি। দুই জন ব্যাক্তি যারা আমাদের শতাব্দীতে শয়তানের প্রতিরুপকে প্রতিনিধিত্ব করেন, অ্যাডলফ হিটলার এবং জোসেফ স্ট্যালিন, তারা দুজনেই আত্মস্বীকৃত গোড়া নাস্তিক ছিলেন  (যা পুরোটাই মিথ্যাভাষন, বিস্তৃত আলোচনা আছে সপ্তম অধ্যায়ে)।

এবার  কিযেতে পারি আমি?

টেম্পলটনে পুরষ্কার গ্রহনের ভাষনে করা এই উদ্ধৃতিগুলোর প্রভাব ডাইসন কিন্ত‍ু অনায়াসে প্রতিরোধ করতে পারতেন, যদি তিনি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারতেন, ঈশ্বর বিশ্বাসের স্বপক্ষে তিনি আসলে কি প্রমান পেয়েছেন, যা কিছুটা শুধুমাত্র আইনস্টাইনীয় অর্থের চেয়ে বেশী, যা আমি প্রথম অধ্যায়ে ব্যাখ্যা দিয়েছি, যা আমরা অনেকেই সহজভাবে নিজেদের ধারনার সাথে একাত্ম করতে পারি। আমি যদি হরগান এর বক্তব্যটা বুঝি, এটা হচ্ছে টেম্পলটনের টাকা যা বিজ্ঞানকে কলুষিত করছে দুর্নীতি দিয়ে। কিন্তু তার ভাষন তারপরও দু:খজনক, কারন এটি অন্যদের জন্য উদহারন তৈরী করবে। টেম্পলটন পুরষ্কার কেমব্রিজে সেই সম্মেলনে যোগ দেয়া সাংবাদিকদের দেয়া সন্মানীর অনেক গুন বেশী  বেশী, পরিকল্পিত ভাবে এর পরিমানকে রাখা হয়েছে নোবেল প্রাইজের অর্থমুল্যের চেয়ে বেশী। ফাউস্টিয়ান অর্থে আমার বন্ধু ও দার্শনিক ড্যানিয়েল ডেনেট একবার ঠাট্টা করে বলেছিলেন, ‘রিচার্ড, যদি কোন দিন তুমি অর্থকষ্টে পড়ো…’

ভালো হোক কিংবা খারাপ, আমি কেমব্রিজ সম্মেলনে দুই দিনই উপস্থিত ছিলাম, আমার নিজের বক্তৃতা করেছি, আলোচনায় অংশ নিয়েছিলাম বেশ কিছু বত্তৃতায়। আমি ধর্মতাত্ত্বিকদের চ্যালেন্জ করেছিলাম, সেই পয়েন্ট এর উত্তর দিতে, এক ঈশ্বর যে কিনা এই মহাবিশ্বকে ডিজাইন করতে পারেন বা যেকোন কিছু, তাকেও সেই পরিমান জটিল আর পরিসংখ্যানগতভাবে অসম্ভাব্য হতে হবে। সবচেয়ে কঠিন যে প্রতিক্রিয়া আমি পেয়েছিলাম তাহলো আমি খুব নিষ্ঠুরভাবে একটি বৈজ্ঞানিক এপিসটেমিওলজি বা জ্ঞানগত ধারনাকে অনিচ্ছুক ধর্মতত্ত্বের উপর চাপিয়ে দিচ্ছি ( এই অভিযোগ সেই NOMA র কথা মনে করিয়ে দেয়, দ্বিতীয় অধ্যায় যার আলোচনা করেছিলাম); ধর্মতাত্ত্বিকরা চিরকালই ঈশ্বরকে ব্যাখ্যা করেছে খুব সাধারন সরল হিসাবে, আমি কে? একজন বিজ্ঞানী হয়ে ধর্মতাত্ত্বিকদের জ্ঞান দেবার, যে তাদের ঈশ্বরকে জটিল হতে হবে? বৈজ্ঞানিক যুক্তি, যেমন আমি আমার নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে অভ্যস্থ, এখানে তা অপ্রযোজ্য কারন ধর্মতাত্ত্বিকরা মনে করেন তাদের ঈশ্বরের অবস্থান বিজ্ঞানের বাইরে।

আমি কিন্তু এমন মনে হয়নি যে, ধর্মবিদরা যারা এই এড়িয়ে যাবার মত প্রতিরক্ষামুলক অবস্থান নিচ্ছেন তারা ইচ্ছা করেই অসৎ হচ্ছেন। আমি মনে করি তারা সৎভাবেই আন্তরিক। যাই হোক বারবার আমান মনে পড়ে যাচ্ছিল, ফাদার টেইলহার্ড দ্য শারদাঁ র দি ফেনোমেনোন অব ম্যান  ( The Phenomenon of Man) বইটি  সম্পর্কে পিটার মেদাওয়ার এর মন্তব্যটি, যেটাকে বলা যেতে পারে সর্বকালের সেরা নেতিবাচক পুস্তক সমালোচনা: ‘এর লেখককে অসততার জন্য ক্ষমা করা যেতে পারে শুধুমাত্র এই অর্থে যে, তিনি অন্যদের প্রতারণা করার করা আগে নিজেকে প্রতারনা করার জন্য বিশেষ কষ্ট করেছেন।’ [২৭];  আমার সেই কেমব্রিজ এ দেখা হওয়া ধর্মতাত্ত্বিকরা তাদেরকে সুরক্ষা করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন একটি এপিসটেমোলজিক্যাল নিরাপদ এলাকায়, যেখানে যৌক্তিক কোন যুক্তি তাদের স্পর্শ করতে পারেনা কারন তারা বিশেষ ঐশী আদেশের মত তারা ঘোষনা দিয়েছেন, এই যুক্তির আক্রমন থেকে তারা মুক্ত। আমি বলার কে , যৌক্তিক যুক্তি হলো একমাত্র গ্রহনযোগ্য যুক্তি? বৈজ্ঞানিক ছাড়াও আরো অনেক প্রক্রিয়া আছে জ্ঞান আহোরণের এবং সেরকম কোন একটি প্রক্রিয়াকে অবশ্যই বেছে নিতে হবে ঈশ্বরকে বুঝতে।

এই অন্যভাবে জানার সবচে গুরুত্বপুর্ণ একটি পথ হচ্ছে ব্যক্তিগত, ঈশ্বর সংক্রান্ত আত্মগত অভিজ্ঞতা। কেমব্রিজে বেশ কয়েকজন আলোচক দাবী করেছিলেন, ঈশ্বর তাদের সাথে কথা বলেছেন, তাদের মাথার মধ্যে, কোন মানুষ যেভাবে কথা বলতে পারে, সেভাবে স্পষ্টভাবে, ব্যক্তিগত ভাবে। আমি তৃতীয় অধ্যায়ে ইল্যুশন বা মায়া এবং হ্যালুসিনেশন নিয়ে কথা বলেছি (ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে যুক্তি); কিন্তু কেমব্রিজ সম্মেলনে আমি দুটি বিশেষ পয়েন্ট যোগ করেছিলাম, যে যদি ঈশ্বর সত্যি সত্যি মানুষের সাথে যোগাযোগ করে থাকেন, তাহলে সেই বিষয় বা সত্যটা খুবই স্পষ্টভাবেই অবশ্যই বিজ্ঞানের আওতার বাইরে না। ঈশ্বর তার কোন অপার্থিব জগতের নিজস্ব নিবাস  থেকে হঠাৎ করেই আবির্ভুত হবেন, আমাদের বিশ্বর মধ্য দিয়ে যেখানে তার বার্তা মানুষের মস্তিষ্ক বুঝতে সক্ষম হবে এবং সেই ঘটনার সাথে বিজ্ঞানের কোন সম্পর্ক থাকবে না, তা কি করে হতে পারে? দ্বিতীয়ত, একজন ঈশ্বর যিনি বহু মিলিয়ন মানুষকে  একই সাথে বোধগম্য বার্তা পাঠানোর এবং তাদের সবার কাছে থেকে বার্তা একই সাথে গ্রহন করতে সক্ষম, তিনি আর যাই হোক না কেন, সরল কোন সত্ত্বা হতে পারেন না জটিল ছাড়া। এতবেশী ব্যান্ডউইথ! ঈশ্বরের অবশ্যই নিউরন দিয়ে তৈরী কোন মস্তিষ্ক নেই বরং একটি সিপিইউ যা সিলিকন দ্বারা তৈরী। যদি তার যে ক্ষমতা আছে বলে বলা হয়, তিনি অবশ্যই এমন কিছু হবেন যিনি খুব সুক্ষ জটিলতার সাথে বিস্তারিত ভাবে নন র‌্যানডোম ভাবে সৃষ্ট আমাদের জানামতে  সবচেয়ে বড় কোন  ব্রেইন বা সবচেয়ে বড় কোন কম্পিউটার এর চেয়েও অনেক বিশাল হবে।

বার বার আমার ধর্মত্ত্ত্ববিদ বন্ধুরা একটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেন, তাহলো, কোন কিছু না থাকার চাইতে কিছু থাকার পেছনে নিশ্চয়ই কোন কারন আছে। সবকিছুর নিশ্চয়ই একটি প্রাথমিক কারণ থাকার কথা এবং আমরাও বরং এর নাম দিলাম ঈশ্বর। হ্যা, আমি বলেছি, এটা অবশ্যই এমন কিছু ছিল যা খু্ব সাধারন এবং সরল, এবং সুতরাং আমরা একে যে নামেই ডাকিনা কেন ঈশ্বর অবশ্যই এর সঠিক নাম হতে পারেনা ( যদি না আমরা স্পষ্ট ভাবে খুব ধর্মীয় মনোভাবাপন্ন বিশ্বাসী কারো মনে ’ঈশ্বর’ শব্দটির সাথে জড়িত নানা অনুসঙ্গ এবং ভাবকে পরিহার করতে পারি); যে প্রথম কারনটাকে আমরা খুজছি, সেটা নিশ্চয়ই খুব সরল একটা ভিত্তি ছিল কোন স্বয়ংক্রিয় এবং স্বত:স্ফূর্ত বা সেল্ফ বুটস্ট্র্যাপিং ক্রেইন এর, যা আমাদের জানা সমস্ত পৃথিবীটাকে টেনে তুলে এনেছে আজকের এই জটিল অস্তিত্বে। যদি প্রস্তাব করা হয় মুল আদি কারন বা প্রক্রিয়া শুরুকারী সত্ত্বাটি যথেষ্ট জটিল ছিল, যে কিনা ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন বা পরিকল্পনা সৃষ্টির পিছনে সময় ক্ষেপন করেছে এবং একই সাথে বহু মিলিয়ন মানুষের মন পড়তে পারার ক্ষমতা তো আছেই, ব্যাপারটা অনেক তাশের ব্রীজ খেলায় পারফেক্ট কার্ড বা হাত পাওয়ার সমতুল্য । পৃথিবীতে জীবনের বৈচিত্রর দিকে তাকিয়ে দেখুন, আমাজনের রেইনফরেষ্ট, জালের মত করে ছড়ানো গাছের কান্ড, ব্রোমেলিয়াডের ঝোপ, শিকড় আর ফ্লাইং বাট্রেস, এদের নিজস্ব পিপড়া বাহিনী এবং তাদের জাগুয়ার, টাপির, পেকারী, গেছোব্যাঙ এবং প্যারোট। যা দেখছেন তা হলো সেই পারফেক্ট তাসের হাতের পাওয়ার মত পরিসংখ্যানের সমতুল্য (এবার ‍ভাবুন আরো কতভাবে আপনি এটি সন্নিবেশ করতে পারেন এর অংশগুলো, যার কোনটাই সফল হবে না)- শুধু আমরা জানি কেমন করে এসবের সৃষ্টি হয়েছে : প্রাকৃতিক নির্বাচনের ক্রমান্বয়ে কাজ করা ক্রেইন এর মাধ্যমে। সবকিছু স্বত:স্ফুর্ত ভাবে গড়ে উঠেছে এই প্রস্তাবকে মুখ বুজে মেনে নেয়ার জন্য শুধুমাত্র বিজ্ঞানীরাই প্রতিবাদ করছেন না, আমাদের সাধারন কান্ডজ্ঞানও সরব এর বিরুদ্ধে। প্রথম কারন হিসাবে প্রস্তাব করা ,সেই মহান অজানা যা কোন কিছু না থাকার বদলে অস্তিত্ব থাকার জন্য দায়ী, যে কিনা পুরো মহাবিশ্ব ডিজাইন করতে সক্ষম এবং  একই সাথে লক্ষ কোটি মানুষের মনের কথা পড়তে সক্ষম- এ ধরনের প্রস্তাব আসলে কোন ব্যাখ্যা খোজার প্রচেষ্টা থেকে সম্পুর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেয়ার মত। এটি আত্মতুষ্টি ও আত্মপ্রবঞ্চনা, চিন্তাকে অস্বীকারকারী দ্বিতীয় অধ্যায় ব্যাখ্যা করা আকাশ হুক প্রস্তাবের একটি ভয়াবহ প্রদর্শনী।

আমি কোন সংকীর্ণ বৈজ্ঞানিক চিন্তা করার প্রক্রিয়ার ওকালতি করছি না। কিন্তু অন্ততপক্ষে যে কোন সৎ সত্য অনুসন্ধান প্রচেষ্টা অবশ্যই এই অকল্পনীয় সুবিশাল অসম্ভাব্যতাগুলোকে, যেমন কোন রেইন ফরেষ্ট, কোন প্রবাল রীফ বা একটি মহাবিশ্ব ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে, যা তা হলো ক্রেইন, কোন স্কাই হুক না। এই ক্রেইনকে যে প্রাকৃতিক নির্বাচন হতে হবে তেমন না। তবে স্বীকার করতেই হবে এরচেয়ে ভালো ব্যাখ্যা আর কেউ কখনো ভাবেনি। কিন্তু অন্য প্রক্রিয়াও থাকতে পারে যা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। হয়তো এটাই সেই ইনফ্লেশান যা পদার্থবিদরা প্রস্তাব করেছেন যা মহাবিশ্বের অস্তিত্বের প্রথম ইয়োক্টোসেকেন্ড ( ১ X ১০ ^ – ২৪) অংশ বিশেষ দখল করে ছিল, যখন হয়তো এটা আরো ভালো করে বোঝা সম্ভব হবে, হয়তো দেখা যাবে এটি একটি কসমোলজিক্যাল ক্রেইন যা ডারউইনের বায়োলজিক্যাল ক্রেইনের মত। বা হয়তো সেই দুর্লভ ক্রেইন যা কসমোলজিষ্টরা খুজে বেড়াচ্ছেন তা হয়তো ডারউইনের ধারনাটারই একটি অন্য সংস্করন: স্মোলিন এর প্রস্তাবিত মডেল বা এর সদৃশ কিছু। বা হয়তো বা এটা হবে সেই মাল্টিভার্স এবং অ্যানথ্রোপিক মুলনীতির, যা মার্টিন রীস এবং অন্যরা সমর্থন করেন। এমনকি এটা হতে পারে কোন অতিমানবীয় ডিজাইনার, কিন্তু, যদি তাই হয়, এটা অবশ্যই সেই ঈশ্বরবাদীদের প্রস্তাবিত ডিজাইনার হবেন না , যিনি হঠাৎ করে অস্তিত্বশীল হওয়া কেউ না বা এমন কেউ না যিনি সবসময়ই ছিলেন। যদি ( যা আমি একমুহুর্তের জন্য বিশ্বাস করিনা) আমাদের মহাবিশ্ব ডিজাইন করা হয়ে থাকে, এবং এ ফর্টিওরি বা আরো জোরালো যুক্তির কারনে, যদি ডিজাইনার আমাদের চিন্তা পড়তে পারে, আমাদের সবজান্তা উপদেশ দেয়া, ক্ষমা এবং পাপ থেকে মুক্তি দেন, সেই ডিজাইনার নিজেও কোন এক ধরনের  ক্রমান্বয়ে পরিবর্ধনশীল এসকেলেটর বা ক্রেইন এবা অন্য কোন মহাবিশ্বের ডারউইন‍বাদের একটি সংস্করণের সর্বশেষ ফলাফল ।

কেমব্রিজে আমার সমালোচনাকারীদের শেষ আশ্রয়ের ভরসা ছিল আক্রমন। আমার সমস্ত বিশ্ব চিন্তাকে অপবাদ দেয়া হলো ’উনবিংশ শতাব্দীর’ আখ্যা দিয়ে। এটা এত বাজে একটা যুক্তি, আমি বলতে ভুলেই গিয়েছিলাম প্রায়। কিন্তু দু:খজনকভাবে প্রায়শই এর মুখোমুখি হতে হয় আমার। বলাবাহুল্য, কোন যুক্তিকে উনবিংশ শতাব্দীর বলা কিন্তু এই যুক্তির কি সমস্যা সেটা ব্যাখ্যা করা না। অনেক উনবিংশ শতাব্দীর ধারনাই ছিল বেশ ভালো ধারনা, আর ডারউইনের ভংঙ্কর ধারনাতো অবশ্যই। যাই হোক এই বিশেষ ধরনের সমালোচনা মনে হয় একটু বেশী বাড়াবাড়ি, কারন এটি এমন একজন ব্যক্তির কাছে থেকে এসেছে (একজন বিখ্যাত কেমব্রিজ ভুতত্ত্ববিদ, নি:সন্দেহে ফাউস্তিয় পথ ধরে টেম্পলটন পুরষ্কার পাবার পথে অনেক এগিয়ে আছেন); যিনি তার খৃষ্টীয় বিশ্বাসকে জায়েজ করার চেষ্টা করেছেন একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে, যাকে তিনি বলেছেন, নিউ টেষ্টামেন্ট এর নব্য ঐতিহাসিক সত্যতা। ঠিক এই বিষয়টার প্রতি সন্দেহর প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন উনবিংশ শতাব্দীর জার্মান ধর্মতাত্ত্বিকরা প্রমান ভিত্তিক ঐতিহাসিক গবেষনার মাধ্যমে। আসলেই  এ বিষয়ে খুব দ্রুত তার দৃষ্টি আকর্ষন করেছিলেন সম্মেলনে উপস্থিত ধর্মবিদরা।

যাই হোক না কেন আমি জানি  প্রাচীনদের এই ’উনবিংশ শতাব্দী’র বিদ্রুপটা । এটা সেই ’গ্রামের নাস্তিক’ এর সাথে মানানসই, এটা সেই ’আপনি যা মনে করুন না কেন, হা হা হা, আমরা কোন লম্বা দাড়ীওয়ালা বৃদ্ধ মানুষকে বিশ্বাস করি না আর, হা হা হা’।  এই সব ঠাট্টাই অন্য কিছুকে বোঝানোর একটি সংকেত। যেমন ১৯৬০ সালে আমি যখন আমেরিকায় ছিলাম ’আইন শৃঙ্খলা’ ছিল কালোদের বিরুদ্ধে বিরুপ মনোভাবের একটি কোড। তাহলে, ধর্ম সম্পর্কে যুক্তির ক্ষেত্রে আপনার চিন্তাধারা সেই উনবিংশ শতাব্দীর আসলে কি সাংকেতিক বার্তা বহন করে? এটা আসলে সংকেত হচ্ছে এই বাক্যটার: ’ এ ধরনের সরাসরি প্রশ্ন আমাকে জিজ্ঞাসা করতে  আপনি এত স্থুলরুচির, চক্ষু লজ্জাহীন, কেমন করে আপনি এত অনুভুতিহীন এবং অভদ্র হতে পারলেন: যেমন,’ আপনি কি অলৌকিক অতিপ্রাকৃত ঘটনায় বিশ্বাস করেন ’বা ’আপনি কি বিশ্বাস করেন যীশুর জন্ম হয়েছিল কুমা্রী মার গর্ভে?’ আপনি কি জানেন না ভদ্র সমাজে এ ধরনের প্রশ্ন কেউ জিজ্ঞাসা করেনা? এই ধরনের প্রশ্নের চলন ছিল উনবিংশ শতাব্দীতে। কিন্তু চিন্তা করুন ধর্মবাদীদের প্রতি আজ এ ধরনের এমন সরাসরি, সত্যিকারের প্রশ্ন করাটা কেন অনম্রতার পরিচয়, কারন এটি বিব্রতকর! কিন্তু প্রশ্ন না এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হচ্ছে বিব্রতকর, যদি এদের উত্তর হ্যা হয়ে থাকে। ‍

উনবিংশ শতাব্দীর সম্পর্কটা এখন স্পষ্ট। উনবিংশ শতাব্দীই ছিল শেষ সময়, যখন সম্ভব ছিল কোন শিক্ষিত মানুষের পক্ষে কুমারী মায়ের জন্ম দেয়ার মত অলৌকিক ঘটনাকে কোন বিব্রতাকর পরিস্থিতিতে পড়ার সম্ভাবনা ছাড়াই সত্য বলে বিশ্বাস করা। চাপাচাপি করে প্রশ্নটা করলে, অনেক শিক্ষিত ক্রিষ্টান আজ অনেক বেশী অনুগত, যারা কুমারী মাতার জন্ম দেয়া এবং পুনর্জন্মকে অস্বাকীর করতে পারেন না। কিন্তু বিষয়টি তাদের বিব্রত করে, কারন তাদের যৌক্তিক মন জানে এটি কত অসম্ভব একটি ব্যাপার, সুতরাং তাদের প্রতি এ ধরনের প্রশ্ন না করাটাকে তারা শ্রেয়তর মনে করেন। সেকারনে আমার মত কেউ যদি নাছোড়বান্দার মত এই প্রশ্নটি করতেই থাকে, আমাকেই  অভিযুক্ত করা হয় ‘উনবিংশ শতাব্দীর’ মানসিকতা সম্পন্ন বলে। চিন্তা করলে দেখবেন বিষয়টি আসলেই হাস্যকর।

আমি সেই সম্মেলন ত্যাগ করি, আরো প্ররোচিত, নতুন শক্তিতে বলীয়ান  এবং আমার বিশ্বাস দৃঢ়করনের মাধ্যমে, যে অসম্ভাব্যতা থেকে যুক্তি -সেই আল্টিমেট বোয়িং ৭৪৭ – প্রস্তাবটি আসলে ঈশ্বরের অস্তিত্বের বিরুদ্ধেই একটি গুরুত্বপুর্ণ যুক্তি, যার বিরুদ্ধে আমি এখনও কোন ধর্মতাত্ত্বিককে কোন যুক্তিযুক্ত উত্তর দিতে শুনিনি, বহুবার তাদের সেই সুযোগ এবং আমন্ত্রন জানানো সত্ত্বেও। ড্যান ডেনেট সঠিকভাবেই বর্ণনা করেছিলেন, ’ এটি হচ্ছে একটি অখন্ডনযোগ্য পাল্টা যুক্তি। এখনও এটি শক্তিশালী সেই সময়ের মত যখন দুই শতাব্দী আগে হিউমের সংলাপে ফিলো একে ব্যাবহার করেছিলেন ক্লীনথেসকে পরাজিত করার জন্য। কোন আকাশ থেকে নেমে আসা স্কাইহুক বড়জোর এই সমস্যার সমাধানকে স্থগিত করতে পারে। কিন্তু হিউম তখন কোন ক্রেইনের কথা ভাবতে পারেননি, সুতরাং খানিকটা পিছু তাকে হটতে হয়েছে [২৭]; অবশ্যই ডারউইন, সেই গুরুত্বপর্ণ ক্রেনটি সরবরাহ করেছিলেন, হিউম এটিকে কত বেশী যে পছন্দ করতেন তা বলাবাহুল্য।

এই অধ্যায়ে আমার বই এর কেন্দ্রীয় যুক্তিগুলো আছে এবং সে কারনে, পুরনাবৃত্তি হবার ঝুকি নিয়েও আমি সংক্ষিপ্ত আকারে এই ছয়টি আলাদা পয়েন্টের আকারের ব্যাখ্যা দিচ্ছি:

১. বহু শতাব্দী ধরেই মানুষের বুদ্ধিমত্তার প্রতি সবচেয়ে বড় চ্যালেন্জ্ঞটি  ছিল, কেমন করে মহাবিশ্বে জটিল এবং আপাতদৃষ্টিতে  অসম্ভাব্য ডিজাইন বা পরিকল্পনার এই রুপটির উদ্ভব হয়েছে।

২. স্বাভাবিক ভাবে প্রবণতা হলো, এই আপাতদৃষ্টিতে ডিজাইন বা পরিকল্পনাকে সত্যিকারের ডিজাইন হিসাবে গুনারোপ করে। মানুষের তৈরী কোন বস্তু যেমন একটি ঘড়ি, যেখানে পরিকল্পনাকারী বা ডিজাইনার আসলেই একজন বুদ্ধিমান প্রকৌশলী। খুবই লোভনীয় যে একটি চোখ, একটি পাখা, একটি মাকড়শা বা কোন মানুষের ক্ষেত্রেও এই একেই যুক্তি প্রয়োগ করা।

৩.  এই লোভনীয় প্ররোচনাটি মিথ্যা, কারন ডিজাইনার হাইপোথিসিসটি আরো বড় একটি প্রশ্নের জন্ম দেয়, কে ডিজাইন করেছে এই সবকিছুর ডিজাইনারকে। আমরা যে মুল সমস্যাটি নিয়ে প্রথমে শুরু করেছিলাম তা ছিল পরিসংখ্যানগত দিক থেকে অসম্ভাব্যতাকে ব্যাখ্যা করার বিষয়টি। বেশী অসম্ভব কিছুকে প্রস্তাব করা অবশ্যই কোন সমাধান নয়। আমাদের দরকার একটি ক্রেইন, কোন স্কাই হুক না। কারন ক্রেনই পারে সেই কাজটি করতে, ধীরে ধীরে ব্যাখ্যা যোগ্য কোন একটি উপায়ে সরলতা থেকে সেই অসম্ভাব্য জটিলতার দিকে অগ্রসর হতে।

৪. সবচেয়ে অসাধারন এবং শক্তিশালী ক্রেইন এই অবধি যা আবিষ্কার হয়েছে তা হলো প্রাকৃতিক নির্বাচেনের মাধ্যমে ডারউইনীয় বিবর্তন। ডারউইন এবং তার পরবর্তী অনুসারীরা প্রমান করেছেন কিভাবে জীবিত প্রানী, তাদের অবিশ্বাস্য রকম চমকপ্রদ পরিসংখ্যানগত অসম্ভাব্যতা ও আপাতদৃষ্টিতে ডিজাইন মনে হওয়ার মত বৈশিষ্টগুলো কিভাবে বিবর্তিত হয়েছে মন্থর একটি ক্রমাগত প্রক্রিয়ায় খুব সরল একটি সুচনা থেকে।আমরা এখন নিরাপদে বলতে পারে, জীবিত প্রানীদের মধ্যে নানা বৈশিষ্টের ডিজাইনের বিভ্রম আসলেই শুধুমাত্র একটি বিভ্রম।

৫. পদার্থবিজ্ঞানের জন্য সমতুল্য কোন ক্রেইন আমাদের নেই। কোন একধরনের মাল্টিভার্স তত্ত্ব নীতিগত ভাবে পদার্থবিদ্যার জন্য সেই ব্যাখ্যার কাজটি পারে যা জীববিজ্ঞানের জন্য ডারউইনবাদ করেছে।  এ ধরনের ব্যাখ্যা ডারউইনবাদের জীববিজ্ঞানীয় সংস্করনের হালকাভাবে কম সন্তোষজনক হবে, কারন ভাগ্যর উপর এটি দাবী অনেক বেশী। কিন্তু অ্যানথ্রোপিক প্রিন্সিপাল আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে প্রস্তাব করা যে, আমাদের সীমাবদ্ধ মানবীয় অন্তর্দৃষ্টি যতটুকু তে স্বস্তি বোধ করে তার চেয়ে বেশী ভাগ্যর ভুমিকার কথা।

৬. জীববিজ্ঞানে ডারউইনবাদ যেমন শক্তিশালী পদার্থবিজ্ঞানে তেমন শক্তিশালী কোন কিছু,  আরো উত্তম কোন ক্রেইনের ব্যাখ্যার জন্য আমাদের আশা ছাড়া ঠিক হবেনা। কিন্তু এমনকি জীববিজ্ঞানের ক্রেইনের মতো আরো বেশী সন্তোষজনক কোন ক্রেনের অনুপস্থিতিতে, অপেক্ষাকৃতভাবে দুর্বল ক্রেইনটি যা বর্তমানে আমাদের আছে, যা সাথে বাড়তি শক্তি হিসাবে যুক্ত অ্যানথ্রোপিক মুলনীতি সুস্পষ্টভাবেই  একজন বুদ্ধিমান ডিজাইনারের স্বপরাজিত স্কাইহুক হাইপোথিসিসের চেয়ে উত্তম।

যদি এই অধ্যায়ের যুক্তি গুলো মেনে নেয়া হয়, তাহলে ধর্মকে সত্যি দাবী করার যুক্তি – দি গড হাইপোথিসিস, আসলেই প্রমানযোগ্য থাকে না। ঈশ্বরের প্রায় নি:সন্দেহে কোন অস্তিত্ব নেই। এই বই এর আপাতত এটাই মুল উপসংহার। অনেক ধরনের প্রশ্ন এখন উঠবে। এমনকি আমরা যদি মেনে নেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই, তারপরও কি ধর্মের টিকে থাকার বহু রসদ থাকার কথা না? বিষয়টা কি স্বান্তনার না? এটিকি মানুষকে ভালো কাজ করতে প্ররোচিত করেনা? ধর্ম না থাকলে, আমরা কিভাবে কোনটা ভালো তা জানবো? কেনই বা, তাহলে এর  প্রতি এত শত্রুভাবাপন্ন  হচ্ছি ?  যদি এটি মিথ্যাই হয়ে থাকে, তাহলে কেন পৃথিবীর প্রতিটি সংস্কৃতিকে ধর্ম বিষয়টির অস্তিত্ব আছে? সত্যি হোক কিংবা মিথ্যা, ধর্মর উপস্থিতি সর্বব্যাপী, তাহলে কোথা থেকে এটি আসলো ? পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা এই শেষ প্রশ্নটির দেবো।

চতুর্থ অধ্যায় সমাপ্ত।

পাদটিকা_____________

[২৬] J. Horgan, ‘The Templeton Foundation: a skeptic’s take’, Chronicle of Higher Education, 7 April 2006. See also.http://www.edge.org/3rd_culture/horgan06/horgan06_index.html.
[২৭] P. B. Medawar, review of The Phenomenon of Man, repr. in Medawar, P. B. (1982). Pluto’s Republic. Oxford: Oxford University Press (1982: 242).
[২৮]  Dennett, D. (1995). Darwin’s Dangerous Idea. New York: Simon & Schuster (1995: 155).

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন: চতুর্থ অধ্যায় (শেষ পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s