রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন: চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

 কার্টুন সুত্র:  ইন্টারনেট

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন এর বাংলা অনুবাদ :
প্রথম , দ্বিতীয় ,তৃতীয়  , চতুর্থ অধ্যায় (প্রথম পর্ব) , চতুর্থ অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব ) 
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)
The God Delusion by Richard Dawkins

কেন প্রায় নিশ্চিৎভাবে বলা সম্ভব ঈশ্বরের কোন অস্তিত্ব নেই  

চতুর্থ অধ্যায় ( দ্বিতীয় পর্ব) এর পরে:  

দি অ্যানথ্রপিক প্রিন্সিপাল: প্ল্যানেটারী সংস্করণ

শুন্যস্থানবাদী ধর্মতাত্ত্বিকরা যারা চোখ এবং পাখা, ফ্ল্যাজেলার মটর এবং রোগ প্রতিরোধ তন্ত্রর উপর থেকে হাল ছেড়ে দিয়েছেন, প্রায়ই তারা তাদের আশার শেষ আশ্রয় স্থল হিসাবে বেছে নেন জীবনের উৎপত্তির প্রশ্নটি। অজৈব রসায়নের বিবর্তনের সুচনালগ্ন যে কারনেই হোক না মনে হতে পারে পরবর্তীতে বিবর্তনের নানা পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট অন্তবর্তীকালীন শুন্যস্থানগুলোর চেয়ে  আরো বড় কোন শুন্যস্থান উপস্থাপন করছে। এবং একটি অর্থে এটি অপেক্ষাকৃত বড় একটি শুন্যস্থান। তবে সেই একটি অর্থ খুব নির্দিষ্ট, যা ধর্মবাদীদের কোন স্বান্তনার বানী শোনায় না। জীবনের উৎপত্তি শুধু একবারই ঘটতে হবে। সেকারনে আমরা এই ঘটনাটিকে অতি মাত্রায় অসম্ভাব্য বলে মেনে নিতে পারি, আর এই অসম্ভাব্যতার মাত্রা বেশী ভাগ মানুষ যা অনুধাবন করেন তার চেয়েও বহুগুন বেশী। আমি তা ব্যাখ্যা করবো। পরবর্তীতে বিবর্তনের ধাপগুলোর প্রতিলিপি হয়েছে, কম বেশী একই ভাবে, লক্ষ কোটি প্রজাতির মধ্যে স্বতন্ত্রভাবে, ক্রমাগতভাবে যার পুণরাবৃত্তি হয়েছে সময়ের ধারাবাহিকতায়।  সুতরাং জটিল জীবনের বিবর্তন ব্যাখ্যা করতে আমরা একই ধরনের পরিসংখ্যানগত যুক্তির আশ্রয় নিতে পারিনা, যা আমরা জীবনের উৎপত্তির ক্ষেত্রে গ্রহন করি। যে ঘটনাগুলো সাদামাটা আটপৌরে বিবর্তনের অংশ, সেগুলো এর একক উৎপত্তি বা সুচনালগ্ন থেকে ভিন্ন ( এবং হয়ত কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে) এবং যা  খুব বেশী অসম্ভাব্য হতে পারেনা।

দুটির মধ্যে এই পার্থক্য বেশ ধাধার মত মনে হতে পারে, আমি অবশ্যই ব্যাখ্যা দিবো, তথাকথিত অ্যানথ্রপিক প্রিন্সিপাল ব্যবহার করে [১৮]; অ্যানথ্রপিক প্রিন্সিপালটির নাম করন করেছিলেন বৃটিশ গনিতজ্ঞ ব্র্যান্ডন কার্টার (Brandon Carter) ১৯৭৪ সালে এবং এর একটি বর্ধিত আকার দেন পদার্থবিজ্ঞানী জন বারো (John Barrow) এবং ফ্র্যাঙক টিপলার (Frank Tipler)এ বিষয়ে তাদের প্রকাশিত একটি বই এ [১৯]; অ্যানথ্রপিক যুক্তি সাধারনত কসমস বা মহাজগত এর প্রেক্ষিতে  আরোপিত হয়, পরে সেখানে আসছি; কিন্তু  এখানে আমি সেই ধারনাটিকে খানিকটা ক্ষুদ্র পরিসরে উপস্থাপনা করবো, একটি গ্রহের পরিসরে। এই পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্ব, সুতরাং পৃথিবী এমন একটি গ্রহ, যার ক্ষমতা আছে আমাদের সৃষ্টি এবং প্রতিপালন করার , তা সে যত বেশী অসাধারন এবং স্বতন্ত্র গ্রহই হোক না কেন। যেমন, আমাদের  মত জীবন, তরল পানি ছাড়া বাচতে পারেনা, আসলেই এক্সোবায়োলজীর বিশেষজ্ঞরা যারা ভীনগ্রহের জীবনের সন্ধান করছেন, তারা মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষন করছেন মুলত পানির সন্ধানে। সাধারন একটি তারা, যেমন আমাদের সুর্য, এর চারপাশে আছে সেই তথাকথিত ‘গলডিলকস জোন (Goldilocks zone) [১৯]- যা খুব বেশী গরমও  না আবার ঠান্ডাও না বরং ঠিক যতটুক দরকার- কোন গ্রহে তরল পানির অস্তিত্ব থাকার জন্য।  সুর্যের চারপাশে একটি অপ্রশস্ত কক্ষপথ আছে, যা খুব বেশী দুরে না সুর্য থেকে, যেখানে পানি বরফে রুপান্তরিত হয়, আবার খুব কাছেও না যেখানে পানি গরমে ফুটতে থাকবে, এই দুয়ের মাঝখানে।

ধারনা করা হয়, জীবন বান্ধব কোন কক্ষপথকে হতে হবে প্রায় বৃত্তাকার। একটি অতিমাত্রায় উপবৃত্তাকার কক্ষপথ, যেমন নতুন আবিষ্কৃত দশম গ্রহ, যার বেসরকারী নাম জেনা, এই গল্ডিলকস জোনের মধ্যে আসার সুযোগ করে দেয় পৃথিবীর সময়ে বেশ কয়েক দশকে বা শতাব্দীতে একবার; জেনা নিজে কিন্তু গল্ডিলস জোনে মোটেও ঢুকতে পারেনা এমন সুর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি আসার সময়ও, যা এটি প্রতি ৫৬০ বছর (পৃথিবীর হিসাবে) পর পর পৌছাতে পারে। হ্যালীর ধুমকেতুর তাপমাত্রার তারতম্য হয়, যেমন পেরিহেলিওনে ৪৭ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড থেকে অ্যাপহেলিওনে মাইনাস ২৭০ ডিগ্রী । পৃথিবীর কক্ষপথও, অন্য সব গ্রহের মত টেকনিক্যালী উপবৃত্তাকার ( জানুয়ারীতে এটি সুর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি এবং জুলাইতে এটি সবচে দুরে থাকে ( আপনার যদি ব্যাপারটা অবাক লাগে, তাহলে আপনি নি:সন্দেহে উত্তর গোলার্ধের অতিআত্মমন্যতায় ভুগছেন);  কিন্তু  বৃত্ত হচ্ছে উপবৃত্তের একটি বিশেষ রুপ, আর পৃথিবী কক্ষপথ,

বৃত্তাকারের এত কাছাকাছি এটি কখনোই গোল্ডিলকস জোনের বাইরে যায় না। সৈরজগতে পৃথিবী নানা  ভাবে এত বেশী অনুকুল একটি অবস্থানে, যেন  জীবনের বিবর্তনের জন্য এটিকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। বিশাল জুপিটারের মধ্যাকর্ষনের ’ভ্যাকুম ক্লিনার’টি ঠিক এমন জায়গায় অবস্থিত, কোন গ্রহানুকে এটি পৃথিবীর সাথে ভয়াবহ কোন সংঘর্ষ থেকে রক্ষা করে। অপেক্ষাকৃত ভাবে আকারে বড় একটি উপগ্রহ, চাদ আমাদের পৃথিবীর ঘুর্ণনের এর অক্ষপথটি স্থিতিশীল রাখে [২১] এবং জীবনের প্রতিপালনে সহায়তা করে নানাভাবে। নক্ষত্রদের মধ্যে আমাদের সুর্য ব্যতিক্রম কারন এটি বাইনারী নক্ষত্র না, যারা অপর একটি সঙ্গী নক্ষত্রের সাথে একই কক্ষপথে বন্দী; বাইনারী নক্ষত্রদের গ্রহ থাকা সম্ভব হতে পারে, তবে তাদের কক্ষপথ এতো গোলমেলে ভাবে বিচিত্র হবে, যা জীবন বিবর্তনের জন্য সহায়ক না।

আমাদের এই গ্রহের বিশেষভাবে জীবন বান্ধব হবার কারন হিসাবে দুটি প্রধান ব্যাখ্যা প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিজাইন তত্ত্ব বলছে, ঈশ্বর তৈরী করেছেন এই পৃথিবী, এরপর এটি স্থাপন করেছেন গোল্ডিলকস জোনে এবং সুপরিকল্পিতভাবে বাকী সব বিষয়গুলো সাজিয়েছেন আমাদের সুবিধার কথা ভেবে। অ্যানথ্রোপিক দৃষ্টিভঙ্গীটি খুব আলাদা এবং এর একটা হালকা ডারউইনীয় ছোয়া আছে। মহাবিশ্বে বেশীর ভাগ গ্রহই তাদের সংশ্লিষ্ট তারাদের গোল্ডিলোকস জোনে অবস্থান করে না এবং জীবনের জন্য উপযোগীও নয়। এবং সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রহের ক্ষেত্রে কোথাও জীবনের অস্তিত্বও নেই। তবে অল্প কিছু গ্রহ আছে, যেখানে জীবনের বিবর্তনের জন্য উপযোগী পরিস্থিতি থাকতে পারে। আমরা অবশ্যই সেই অল্প কিছু গ্রহের একটি, কারন আমরা এখানে থেকেই এই বিষয়টা নিয়ে ভাবছি।

অবাক একটি সত্য বিষয় হলো, ঘটনাক্রমে, ধর্মবাদীরা অ্যানথ্রোপিক মুলনীতি খুব ভালোবাসে। খুব অদ্ভুত কিছু বিচিত্র   এবং অবোধ্য কারনে তারা মনে করেন এটি তাদের প্রস্তাবকে সমর্থন করছে। কিন্তু ঠিক এর বীপরিতটাই সত্যি। অ্যানথ্রোপিক মুলনীতি, প্রাকৃতিক নির্বাচন এর মতই ডিজাইন হাইপোথিসিস এর একটি বিকল্প; এটি আমাদের একটি যৌক্তিক,   ডিজাইনের ধারনা মুক্ত কোন ব্যাখ্যা দেয়, কেন এমন একটি পরিস্থিতিতে আমরা অবস্থান করছি, যা আমাদের অস্তিত্বের জন্য অনুকুল। আমি মনে করি ধর্মীয় মানসিকতায় সংশয়টি ওঠার কারন, অ্যানথ্রোপিক মুলনীতি শুধু উল্লেখ করা হয় এমন সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে এবং প্রাসঙ্গিকতায় যা এটি সমাধান করতে পারে। যেমন আমরা যে জীবনবান্ধব একটি জগতে বাস করছি সেই সত্যটায়। ধার্মিক মন যেটা বুঝতে ব্যর্থ হয় তা হলো, সমস্যাটির দুটি সম্ভাব্য সমাধান প্রস্তাব করা হয়েছে, ঈশ্বর হচ্ছে একটি, অ্যানথ্রপিক মুলনীতি হচ্ছে অপরটি। তারা একে অপরের বিকল্প।

আমরা  জীবন বলতে যা বুঝি, তার জন্য তরল পানি অবশ্য প্রয়োজনীয়, তবে সেটি এককভাবে পুর্বশর্ত হিসাবে যথেষ্ট না। তারপরও জীবনের উৎপত্তি হতে হবে পানিতে, আর জীবনের উৎপত্তি হওয়াটা ছিল  অতি অসম্ভাব্য একটি ঘটনা। এবং জীবনের একবার উৎপত্তি হবার পর  ডারউইনীয় বিবর্তন তার খুশী মত কাজ করে গেছে জীবনের উপর;  কিন্তু কিভাবে জীবনের সুচনা হয়েছিল ? জীবনের উৎপত্তি  ছিল একটি রাসায়নিক ঘটনা, বা ধারাবাহিক কতগুলো রাসায়নিক ঘটনা, যেখানে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মুল উপাদানগুলোর প্রথম আবির্ভাব হয়েছিল। প্রধান উপাদানটি হচ্ছে বংশগতি বা হেরেডিটি, যা হয় DNA বা (খুব সম্ভবত) এমন কিছু যা DNA এর মত বা তার চেয়ে কম নির্ভুলভাবে নিজেদের প্রতিলিপি বা কপি তৈরী করতে পারে, হয়ত এর সাথে সম্পর্কিত অনু RNA হতে পারে। একবার যখন এই এই প্রধান উপাদানটি – কোন এক ধরনের জেনেটিক অনু – সৃষ্টি হয়েছে, সত্যিকারের ডারউইনীয় নির্বাচন এর উপর তার কাজ শুরু করে এবং এক সময় জটিল জীবনের উদ্ভব ঘটে এই প্রক্রিয়ার ফলাফল হিসাবে। কিন্তু স্বতঃস্ফুর্তভাবে হঠাৎ করে বা বাই চান্স, প্রথম বংশগতি তথ্য বাহক কোন একটি অনুর সৃষ্টি অনেকের কাছে মনে হতে পারে অসম্ভব একটি ঘটনা। হয়ত তাই, হয়ত এটা খুবই বেশী মাত্রায় অসম্ভাব্য এবং আমি এই বিষয়ে আরো খানিকটা আলোচনা করবো, কারন  বইটির এই অংশে এটাই মুল বিষয়।

যদিও এখনও ধারনা নির্ভর, তা সত্ত্বেও জীবন এর উৎপত্তি একটি ক্রমশ সমৃদ্ধ হয়ে ওঠা গবেষনার একটি ক্ষেত্র। এবং  এ ক্ষেত্রে গবেষনার জন্য যে দক্ষতাটি লাগবে, সেটি হল রসায়ন এবং যা আমার ক্ষেত্র নয়। আমি সাইডলাইনে বসেই অতি আগ্রহ নিয়ে তাদের অগ্রগতি দেখছি। এবং আমি অবাক হবো যদি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিজ্ঞানীরা ঘোষনা দেন তারা ল্যাবরেটরীতে নতুন জীবনের উৎপত্তির ঘটনা ঘটাতে সক্ষম হন। যাইহোক সেটা এখনও ঘটেনি। এবং এখনও এটা ধারনা করা যায়, এটি ঘটার সম্ভাবনা এখন এবং সবসময়ই ছিল খুব বেশী ক্ষীন- যদিও এটি একবার ঘটেছিল।

গোল্ডিলক কক্ষপথ নিয়ে আমরা যেমন ব্যাখা দিয়েছিলাম, আমরা প্রস্তাব করতে পারি যে, জীবনের উৎপত্তি, যতই অসম্ভব একটি ঘটনা হোক না কেন, আমরা জানি এটি পৃথিবীতে ঘটেছিল, কারন আমাদের অস্তিত্ব এখানে। এবং আবারো কি হয়েছে তা ব্যাখ্যা করার জন্য এখানে দুটি হাইপোথিসিস আছে: ডিজাইন হাইপোথেসিস এবং বৈজ্ঞানিক বা অ্যানথ্রোপিক হাইপোথিসিস। ডিজাইন দৃষ্টিভঙ্গী প্রস্তাব করছে, একজন ঈশ্বর যিনি এই বিস্তারিত অলৌকিকতাকে নিজে হাতে গড়েছেন, প্রিবায়োটিক বা প্রাক জীবনের স্যুপ বা জৈব মিশ্রনে তার স্বর্গীয় আগুন দিয়ে স্পর্শ করেই ডিএনএবা অন্য সমতুল্য কিছু  সৃষ্টির মধ্য দিয়ে, পৃথিবীতে জীবনের অতি অসাধারন যাত্রার সুচনা হয়েছিল।

আবার, গোল্ডিলকস এর মতই, ডিজাইন হাইপোথিসিসের বিকল্প অ্যানথ্রোপিক প্রস্তাবটিও পরিসংখ্যানগত। বিজ্ঞানীরা অনেক বড় সংখ্যার ম্যাজিকের অবতারনা করেন সেই সম্ভাবনা ব্যাখ্যা করতে; অনুমান করা হয় যে, আমাদের ছায়াপথে প্রায় ১ বিলিয়ন থেকে ৩০ বিলিয়ন গ্রহ আছে এবং মহাবিশ্বে প্রায় ১০০ বিলিয়ন গ্যালাক্সী আছে; যদি কিছু শুন্যও বাদ দেয়া যায় পরিমাপের সাধারণ রক্ষনশীলতায়, তারপরও  এক বিলিয়ন বিলিয়ন গ্রহর অস্তিত্ব আছে এই মহাবিশ্বে। এখন ধরুন, জীবনের উৎপত্তি,  ডিএনএ সমতুল্য কোন কিছুর স্বত:স্ফুর্তভাবে উৎপত্তি সত্যি অকল্পনীয় একটি অসম্ভাব্য ঘটনা, ধরা যাক ঘটনাটির অসম্ভাব্যতা এত বেশী যে, এটি প্রতি ১ বিলিয়ন গ্রহের কেবল একটিতে ঘটে; যে কোন অনুদান দাতা সংস্থা হাসবে, যদি কোন গবেষনার অনুদানপ্রার্থী কোন রসায়নবিদ স্বীকার করেন যে, তার প্রস্তাবিত গবেষনার সফলতার সম্ভাবনা ১০০ তে একবার। আর আমরা এখানে কথা বলছি এক বিলিয়নে একবার ঘটা কোন কিছুর সম্ভাবনা নিয়ে। এবং তারপরও এই অসম্ভব রকমের বিশাল সংখ্যায়, জীবনের উৎপত্তি হতে পারে ১ বিলিয়ন গ্রহে; এবং পৃথিবী, অবশ্যই যাদের মধ্যে একটি [২২]।

এই উপসংহারটি এত বিস্ময়কর, আমি আবার বলছি, যদি কোন গ্রহে স্বতোপ্রণোদিত হয়ে জীবনের উৎপত্তির সম্ভাবনা ১ বিলিয়নে ১ বার হয়, তারপরও সেই অদ্ভুত রকমের অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটবে মহাবিশ্বের ১ বিলিয়ন গ্রহে। তবে  সেই ১ বিলিয়ন জীবন বহনকারী গ্রহ খুজে পাওয়ার সম্ভাবনা খড়ের গাদায় সুঁচ খোজার সেই প্রবাদবাক্য মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু আমাদের বেশী কষ্ট করার কোন প্রয়োজন নেই সেই সুচ খোজার জন্য কারন (আবার অ্যানথ্রোপিক প্রিন্সিপালে ফেরত যাই); কারন এমন কোন জীব, যে কিনা এই খোজার যোগ্য, নি:সন্দেহে তারা অবশ্যই সেকরমই একটি অতিমাত্রায় দুর্লভ ‍সুচেঁর উপরই বসে আছে এমনকি তাদের অনুসন্ধান শুরু হবার আগেই।

যে কোন সম্ভাবনার  প্রস্তাবনা করা হয় একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের অজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে। আমরা যদি কোন একটি গ্রহ সম্বন্ধে কিছুই না জানি, তারপরও আমরা কিন্তু সেখানে জীবনের উৎপত্তি হবার সম্ভাবনা সম্বন্ধে ধারনা করতে পারি, যেমন, এক বিলিয়নের মধ্যে একবার । কিন্তু যদি আমাদের পরিমাপে কিছু নতুন ধারনা বা তথ্য যোগ করতে পারি, িএই সম্ভাবনারও পরিবর্তন হয়। কোন একটি নির্দিষ্ট গ্রহর হয়ত কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট থাকতে পারে, যেমন কোন বিশেষ কতগুলো মৌলর উপস্থিতি আছে এর পাথরে, যা জীবনের উৎপত্তির সম্ভাবনার পাল্লা ভারী করতে পারে। কিছু গ্রহ, অন্যভাষায় বলা যায়, অন্য গ্রহদের তুলনায় বেশী  ‘পৃথিবী সদৃশ’, পৃথিবী নিজে অবশ্যই বিশেষভাবে পৃথিবী সদৃশ। এই বিষয়টি আমাদের রসায়নবিদদের উৎসাহ দেয়া উচিৎ ল্যাবে কৃত্রিমভাবে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য, এটি তাদের সফল হবার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে। কিন্তু আমার আগের হিসাব দেখিয়েছে যে এমনকি একটি রাসায়নিক মডেল যার সফল হবার সম্ভাবনা এক বিলিয়নে একবার, সেটিও ভবিষ্যদ্বানী করছে মহাবিশ্বে অন্ততপক্ষে এক বিলিয়ন গ্রহে জীবনের উৎপত্তি হবে ; অ্যানথ্রোপিক মুলনীতির  সৌন্দর্যটা হচ্ছে এটি আমাদের বলছে, সব অন্তর্জ্ঞানের বীপরিত, যে একটি রাসায়নিক মডেলের শুধু ভবিষ্যদ্বানী করতে হবে ,যে জীবনের উৎপত্তি হতে পারে এক বিলিয়ন বিলিয়ন গ্রহের  কেবল একটিতে, যা আমাদের উত্তম এবং সম্পুর্ণভাবে  সন্তোষজনক ব্যাখা দেবে এখানে জীবন  উপস্থিতির। আমি এক মুহুর্তের জন্য বিশ্বাস করিনা, কোথাও জীবনের উৎপত্তি বাস্তবিকভাবে এতটাই অসম্ভাব্য।  এবং আমি মনে করি, অবশ্যই ল্যাবরেটরিতে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করার জন্য অর্থ ব্যায় করা যুক্তিসঙ্গত এবং একই কারনে SETI প্রজেক্টও পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়ার উপযোগী। কারন আমি মনে করি মহাবিশ্বে বুদ্ধিমান জীবনের সম্ভাবনা আছে। এমনকি যদি স্বত:স্ফুর্তভাবে জীবনের উৎপত্তি  হবার সবচেয়ে নৈরাশ্যবাদী সম্ভাবনার পরিসংখ্যানগত পরিমাপকে আমরা গ্রাহ্য করি, সেই পরিসংখ্যানগত যুক্তি, শুন্যস্থান পুর্ণ করার জন্য কোন ধরনের পরিকল্পনাকারী বা ডিজাইনারের  প্রস্তাবকে পুরোপুরি ধ্বংস করে। নিত্যদিনের সম্ভাবনার হার বা ঝুকি পরিমাপে অভ্যস্ত মস্তিষ্কের জন্য বিবর্তনের কাহিনীতে সব আপাত: শুন্যস্থানের মধ্যে জীবনের উৎপত্তি মনে হতে পারে অসমাধানযোগ্য একটি অসম্ভাব্যতা: যে স্কেলে কোন গবেষনা অনুদানকারী কর্তৃপক্ষ রসায়নবিদদের প্রস্তাবিত গবেষনা প্রস্তাবগুলো যাচাই করে।  তারপরও এমনকি এমন বড় কোন শুন্যস্থান অনায়াসে পুর্ণ করে পরিসংখ্যানের জ্ঞানপুষ্ট বিজ্ঞান, অন্যদিকে সেই একই পরিসংখ্যানগত বিজ্ঞান কোন স্বর্গীয় সৃষ্টিকর্তার সম্ভাবনা বাতিল করে দেয় পুর্বে উল্লেখিত সেই আল্টিমেট বোয়িং ৭৪৭ এর  প্রেক্ষিতে।

কিন্তু আপাতত, এই সেকশনের শুরুর সেই কৌতুহলদ্দীপক বিষয়টিতে ফিরে আসা যাক। ধরা যাক কেউ জৈববৈজ্ঞানিক অভিযোজনের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটিকে ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করছেন ঠিক যেভাবে আমরা জীবনের উৎপত্তির ব্যাখ্যা করেছিলাম সেভাবে: বিশাল সংখ্যক গ্রহর বিষয়টি প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করে। একটি পর্যবেক্ষিত সত্য হচ্ছে যে প্রতিটি প্রজাতি এবং এই সব প্রজাতির মধ্যে প্রতিটি অঙ্গ, যাদের নিয়ে গবেষনা করা হয়েছে, দেখা গেছে তাদের যার যা কাজ সেই কাজে তারা খুবই দক্ষ। পাখির, মৌমাছি এবং বাদুড় এর পাখা ওড়ার জন্য চমৎকার। দেখার জন্য চোখ হচ্ছে পারদর্শী, উদ্ভিদের পাতারা দক্ষ সালোক সংশ্লেষনে। আমরা এমন একটা গ্রহে বাস করি, যেখানে আমাদের চারপাশে প্রায় ১০ মিলিয়ন প্রজাতি, প্রত্যেকেই স্বতন্ত্রভাবে আপাতদৃষ্টিতে বিশেষভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে একটি শক্তিশালী বিভ্রম সৃষ্টি করে। প্রতিটি প্রজাতি তাদের নিজস্ব বৈশিষ্টময় জীবন যাপনের জন্য বিশেষভাবে দক্ষ। আমরা কি ‘বহু সংখ্যক গ্রহ আছে’ বলে যুক্তি দিয়ে এই সব আলাদা আলাদা ডিজাইনের বিভ্রমের ব্যাখ্যা এড়াতে পারবো  । না , আমরা পারবো না, আবারও বলছি, পারবো না; এটাই খুব গুরুত্বপুর্ণ বিষয় যা ডারউইনবাদ সম্বন্ধে সবচেয়ে গুরুতর ভ্রান্ত ধারনার কেন্দ্রে অবস্থিত।

আমরা যে কোন সংখ্যক গ্রহ নিয়ে বাজী খেলিনা কেন, কিছুই আসে যায় না, ভাগ্য নির্ভর কোন চান্স কখনোই যথেষ্ট হবেনা পৃথিবীর জীবনের সমৃদ্ধ বৈচিত্রময়তা ব্যাখ্যা করার জন্য, যেমন করে আমরা যুক্তিটিকে  ব্যবহার করি এখানে জীবনের অস্তিত্ব প্রথমে কেমন সৃষ্টি হলো তা ব্যাখ্যা করার জন্য। জীবনের বিবর্তন, জীবনের উৎপত্তি থেকে সম্পুর্ণ আলাদা, কারন, পুনরাবৃত্তি  করি, জীবনের উৎপত্তি ছিল একটি অনন্য ঘটনা যা শুধু একবার ঘটতে হবে। কিন্তু কোন প্রজাতির তাদের নিজস্ব পৃথক পরিবেশে অভিযোজনীয় দক্ষতা অর্জনের ঘটনা ঘটছে শত লক্ষবার এবং এখনও তা চলছে।

স্পষ্টতই এখানে পৃথিবীতে আমরা জৈব প্রজাতিদের জীবনধারন ও বংশবিস্তারের জন্য উপযোগী হবার করার একটি প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করছি। যে প্রক্রিয়া সমস্ত গ্রহে প্রতিটি মহাদেশে, দ্বীপে  এবং সব সময়ে একই ভাবে কাজ করে যাচ্ছে । আমরা নিরাপদে ভবিষ্যদ্বানী করতে পারি যদি আমরা আরো দশ মিলিয়ন বছর অপেক্ষা করি, সম্পুর্ণ নতুন একসেট প্রজাতিকে দেখা যাবে তাদের জীবনধারা সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে দক্ষতার সাথে বর্তমানের প্রজাতিরা যেমন তা করেছে তাদের জীবনযাত্রার সাথে। এটি নিরন্তর ভাবে বার বার ঘটা, অনুমেয়, বহু ঘটনার সমষ্টি, কোন পরিসংখ্যানের ভাগ্য না, যা পুর্বদৃষ্টি দ্বারা আমরা শনাক্ত করেছি। এবং ডারউইনের কল্যানে আমরা জানি কেমন করে এসব ঘটেছিল: প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা।

জীবিত প্রানীদের বহুমুখী বিচিত্রতার ব্যাখ্যা দিতে অক্ষম অ্যানথ্রোপিক প্রিন্সিপাল। আমাদের আসলেই ডারউইনের সেই শক্তিশালী রুপক ‘ক্রেইন’ এর প্রয়োজন পৃথিবীতে জীবনের বৈচিত্রতা ব্যাখ্যা এবং ডিজাইনের মোহনীয় বিভ্রমকে মোকাবেলা করার জন্য। জীবনের উৎপত্তি, ঠিক এর বীপরিতার্থেই সেই রুপক ক্রেইনের এখতিয়ারের বাইরে, কারন প্রাকৃতিক নির্বাচন জীবন ছাড়া সামনে অগ্রসর হতে পারেনা।  এখানে অ্যানথ্রোপিক মুলনীতি এককভাবে স্বতন্ত্র।  জীবনের উৎপত্তির অনন্যতা বিষয়টিকে আমরা মোকাবেলা করতে পারি একটি অতি বিশাল সংখ্যক সম্ভাব্য গ্রহে জীবনের উৎপত্তির সুযোগের সম্ভবনা প্রস্তাব করে। যখনই একবার প্রথম জীবনের উৎপত্তি সম্ভাবনাটি সৌভাগ্যের স্পর্শ পায় – যা অ্যানথ্রোপিক প্রিন্সিপাল নিশ্চিৎভাবে মন্জ্ঞুর করে নানা নিয়ামকের সমন্বয়ে –  প্রাকৃতিক নির্বাচন তখন এর দ্বায়িত্ব নেয়: আর খুবই সুস্পষ্টভাবেই প্রাকৃতিক নির্বাচন কোন ভাগ্যের খেলা না।

যাই হোক, হতে পারে জীবনের উৎপত্তি বিবর্তনের ইতিহাসে শুধু একটি মাত্র প্রধান শুন্যস্থান নয়, যা শুধুমাত্র অত্যন্ত ভাগ্যক্রমে সম্পর্কযুক্ত এবং অ্যানথ্রোপিক দৃষ্টিভঙ্গীতে সিদ্ধ। যেমন আমার সহকর্মী মার্ক রিডলী তার ’মেন্ডলস ডেমন’ ( কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করছি, আমেরিকার প্রকাশকরা একে ’দি কোঅপারেটিভ জিন’ নামে খানিকটা সংশয়পুর্ণ পুণ: নামকরণ করেছিলেন) এ প্রস্তাব করেছিলেন,  প্রকৃত কোষের উৎপত্তি ( আমাদের মত কোষ, যেখানে নিউক্লিয়াস আছে, এবং আরো কিছু জটিল অঙ্গানু আছে, যেমন মাইটোকন্ড্রিয়া, যা ব্যাকটেরিয়ার নেই) যা আরো বেশী গুরুত্বপুর্ণ ঘটনা, কঠিন এবং জীবনের উৎপত্তি থেকেও অনেক বেশী পরিসংখ্যানগত ভাবে অসম্ভাব্য। এরকম একটি স্বতন্ত্র ঘটনা হয়তো ব্যাখ্যা করা সম্ভব হবে অ্যানথ্রোপিক মুলনীতি দিয়ে, খানিকটা নিম্নলিখিত উপায়ে: মহাবিশ্বে হয়তো বিলিয়ন সংখ্যক গ্রহ আছে, যেখানে জীবনের উদ্ভব হয়েছে, ব্যাকটেরিয়া পর্যায়ে, কিন্তু সেই নানা গঠনের জীবনের খুব সামান্য একটি অংশ গুরুত্বপুর্ণ সেই শুন্যস্থানটা অতিক্রম করতে পেরেছে এবং তৈরী করতে পেরেছে প্রকৃত কোষের মত কিছু । এবং এদের মধ্যে আরো ক্ষুদ্র একটি অংশ  সেই পরবর্তী ক্রান্তিসীমার রুবিকোন টি পার হতে পেরেছে  কনশাসনেস বা চেতনা বা সজ্ঞানতার উদ্ভবের মাধ্যমে [২৩]; যদি এই দুটো ঘটনাই শুধু একবার ঘটতে পারে এমন কোন ঘটনা হয়, আমরা তাহলে সর্বব্যাপী বা সর্বত্র দৃষ্ট কোন ’প্রক্রিয়া’ নিয়ে কথা বলছি না, যেমন সাধারন, আটপৌরে জীববিজ্ঞানের অভিযোজনের ক্ষেত্রে করে থাকি। অ্যানথ্রোপিক মুলনীতি বলছে, যেহেতু আমরা জীবিত, প্রকৃতকোষী এবং সজ্ঞানতা সম্পন্ন, আমাদের গ্রহটিকে অবশ্যই সেই অস্বাভাবিক রকম দুর্লভ  গ্রহ হতে হবে, যেখানে এই তিনটি ধাপের মধ্যেই সেতু বন্ধন রচিত হয়েছে।

প্রাকৃতিক নির্বাচন কাজ করে কারন সামগ্রিক ক্রমান্বয়ে উন্নয়নের পথে এটি একমুখী একটি রাস্তা । প্রথমে শুরু করতে খানিকটা ভাগ্যের (জীবনের উৎপত্তি)  প্রয়োজন হয়ত আছে এবং বহু ’বিলিয়ন গ্রহে’র অ্যানথ্রোপিক মুলনীতি সেই ভাগ্যটা দিয়েছে। হয়তো পরবর্তীতে বিবর্তনের ইতিহাসে আরো কিছু শুন্যস্থানেরও প্রয়োজন আছে বড় ধরণের ভাগ্যের সংযোগের, তবে তা অ্যানথ্রোপিক মুলনীতির সাথে সামন্জষ্যপুর্ণ। কিন্তু আমরা আর যাই বলিনা কেন, জীবনের ব্যাখ্যায়  ’ডিজাইন’ নি:সন্দেহে অর্থহীণ, কারন ডিজাইন শেষ অবধি ক্রমান্বয়ে ক্রমবর্ধমান উন্নতি নয়, সেকারনে এটি যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়, তার চেয়ে আরো বড় প্রশ্নের জন্ম দেয় – ডিজাইন আমাদের সরাসরি নিয়ে যায় সেই আল্টিমেট বোয়িং ৭৪৭ এর অসীম ক্রমান্বয়ে পুর্ববর্তী প্রশ্নে ফিরে যাবার বা রিগ্রেস প্রক্রিয়ায়।

আমরা এমন একটি গ্রহে বাস করি যা আমাদের মত জীবনের জন্য সহায়ক, এবং আমরা দেখেছি দুটো কারন, কেন এমনটি হচ্ছে। একটি হচ্ছে , এই পৃথিবীর পরিবেশের দেয়া শর্তানুযায়ীই জীবন বিকশিত হবার মত করেই বিবর্তিত হয়েছে। এর কারন প্রাকৃতিক নির্বাচন। অন্য কারনটি অ্যানথ্রোপিক;  মহাবিশ্বে বহু বিলিয়ন গ্রহ আছে, এবং বিবর্তন বান্ধব গ্রহ যতই সংখ্যালঘু হোক না কেন, আমাদের গ্রহটিকে অবশ্যই তাদের একটি হতে হবে। এবার সময় এসেছে অ্যানথ্রোপিক মুলনীতিকে আরো আগের পর্যায়ে নিয়ে যাবার জন্য, জীববিজ্ঞান থেকে পুনরায় কসমোলজীতে।

(চলবে)

পাদটীকা___________________________

[১৮ ] Anthropic Principle: In astrophysics and cosmology, the anthropic principle is the philosophical consideration that observations of the physical Universe must be compatible with the conscious life that observes it. Some proponents of the anthropic principle reason that it explains why the Universe has the age and the fundamental physical constants necessary to accommodate conscious life. As a result, they believe that the fact is unremarkable that the universe’s fundamental constants happen to fall within the narrow range thought to be compatible with life ( Wikipedia)

[১৯] Carter admitted later that a better name for the overall principle would be ‘cognizability principle’ rather than the already entrenched term ‘anthropic principle’: B. Carter, ‘The anthropic principle and its implications for biological evolution’, Philosophical Transactions of the Royal Society of London A, 310, 1983, 347-63. For a book-length discussion of the anthropic principle, see Barrow and Tipler (1988) : Barrow, J. D. and Tipler, F. J. (1988). The Anthropic Cosmological Principle. New York: Oxford University Press

[২০]  Goldilocks zone: The location of planets and natural satellites (moons) within its parent star’s habitable zone (and a near circular orbit) is but one of many criteria for planetary habitability and it is theoretically possible for habitable planets to exist outside the habitable zone. The term “Goldilocks planet” is used for any planet that is located within the circumstellar habitable zone (CHZ)[ although when used in the context of planetary habitability the term implies terrestrial planets with conditions roughly comparable to those of Earth (i.e. an Earth analog). The name originates from the story of Goldilocks and the Three Bears, in which a little girl chooses from sets of three items, ignoring the ones that are too extreme (large or small, hot or cold, etc.), and settling on the one in the middle, which is “just right”. Likewise, a planet following this Goldilocks Principle is one neither too close nor too far from a star to rule out liquid water on its surface. While only about a dozen planets have been confirmed in the habitable zone, the Kepler spacecraft has identified a further 54 candidates and current estimates indicate “at least 500 million” such planets in the Milky Way (Wikipedia).

[২১] Comins, N. F. (1993). What if the Moon Didn’t Exist? New York: HarperCollins.

[২২] এ বিষয়ে বিস্তারিত যুক্তি আছে রিচার্ড ডকিন্সের  The Blind Watchmaker (1986) এ।

[২৩] রুবিকোন অতিক্রম : The Rubicon (Latin: Rubicō, Italian: Rubicone) is a shallow river in northeastern Italy, about 80 kilometres long, running from the Apennine Mountains to the Adriatic Sea through the southern Emilia-Romagna region, between the towns of Rimini and Cesena.The idiom “Crossing the Rubicon” means to pass a point of no return, and refers to Julius Caesar’s army’s crossing of the river in 49 BC, which was considered an act of insurrection (Wikipedia)

Advertisements
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন: চতুর্থ অধ্যায় (তৃতীয় পর্ব)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s