কুকুর, গরু এবং বাধাকপি


শীর্ষ ছবি: চিহুয়াহুয়া (Chihuahua) এবং গ্রেট ডেন (Great Dane): দুজনেই চামড়ার নীচে আসলে নেকড়ে। মাত্র কয়েক শতাব্দীর কৃত্রিম নির্বাচন বা সিলেকটিভ ব্রীডিং এর ফলে সৃষ্ট এই দুই জাতের কুকুরের ব্যাহ্যিক চেহারা দেখে তা কি অনুমান করা সম্ভব?

ভুমিকা: লেখাটি  রিচার্ড ডকিন্স ( Richard Dawkins) এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ  (The Greatest Show on Earth: The evidence for Evolution) এর দ্বিতীয় অধ্যায় Dogs, Cows and Cabbages র একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা।
_____________________________________ 

দ্বিতীয় অধ্যায়: কুকুর, গরু এবং বাধাকপি

একজন ডারউইনের কেন এই দৃশ্যে উপস্থিত হতে এত দীর্ঘ সময় লেগেছিল? আসলেই কি প্রলম্বিত করেছিল মানবজাতির বিবর্তনের এ‌ই সুস্পষ্ট সহজবোধ্য ধারনাটিতে পৌছাতে ; যে ধারনাটি দৃশ্যতই মনে হয় যে এর প্রায় দুই শতাব্দী আগে আমাদেরকে উপহার দেয়া নিউটনের গানিতীক ধারনাটির বা এমনকি দুই হাজার বছর আগে আর্কিমিডিসের এর ধারনাটির চেয়েও অনেক বেশী সহজবোধ্য-? এই প্রশ্নের জবাব হিসাবে বেশ কিছু উত্তরও প্রস্তাব করা হয়েছে ইতিমধ্যে। যে অকল্পনীয় পরিমান সময়ের প্রয়োজন এই বিশাল পরিবর্তনের জন্য সেটা অনুভব করে হয়ত আমাদের মন সচেতনভাবেই শঙ্কা বোধ করেছে কিংবা আমরা আজ যাকে ভুতাত্ত্বিক গভীর সময় বা জিওলজিকাল ডিপ টাইম বলছি এবং যে ব্যক্তিটি সেই সময়টা বুঝতে চাইছেন, তার জীবনকালের দৈর্ঘ্যর সাথে এটির অসামন্জষ্যতা হয়ত  সেই সুবিশাল সময়টার ব্যাপ্তি বোঝার জন্য প্রতিবন্ধকতার কারন হয়েছিল। হয়ত বা এর কারন হতে পারে, ধর্মীয় দীক্ষা, যা আমাদের পিছু টেনে ধরেছিল। অথবা এর কারন হতে পারে, জীবিত অঙ্গ, যেমন চোখের অসাধারন এবং অন্যকিছু ভাবার জন্য নিরুৎসাহিত করার মত যার জটিলতা,যেন এটি কোন এক  মাষ্টার প্রকৌশলীর করা বিশেষ ডিজাইন বা পরিকল্পনার ছলনাময়ী মায়ার নানা চিহ্ন বহন করছে। সম্ভবত এই সব কিছু্‌ই কোন না কোন ভুমিকা পালন করেছে এই সহজ সত্যটাকে আমাদের এত দেরী করে বুঝতে। কিন্তু আর্ণস্ট মেয়ার (Ernst Mayr), নিও-ডারউইনিয়ান সিনথেসিসের বিখ্যাত গ্রান্ড ওল্ড ম্যান, যিনি ২০০৫ সালে ১০০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, বারবার একটি ভিন্ন সন্দেহর কথাই উচ্চারণ করেছিলেন। মায়ারের দৃষ্টিতে মুল অপরাধী প্রাচীন দার্শনিক একটি মতবাদ-যার আধুনিক নাম- এসেন্শিয়ালিজম (Essentialism),বিবর্তনের আবিষ্কারকে আটকে রেখেছিল প্লেটো মৃত হাত ( এটা অবশ্য মায়ার এর বাক্য না, তবে তার ধারনাটিকে এটি প্রকাশ করে)।

প্লেটোর মৃত হাত:

Continue reading “কুকুর, গরু এবং বাধাকপি”

কুকুর, গরু এবং বাধাকপি

লরেন্স ক্রাউস এর এ ইউনিভার্স ফ্রম নাথিং : প্রথম অধ্যায়


শীর্ষ ছবি: অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সী (M31); আমাদের মিল্কী ওয়ে গ্যালাক্সীর কাছে অবস্থিত সবচেয়ে মেজর গ্যালাক্সী। মিল্কী ওয়ের মতই এটি একটি স্পাইরাল গ্যালাক্সী, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ২.৬ মিলিয়ন আলোক বর্ষ দুরে অবস্থিত। (ছবিসুত্র)

One of the most poetic facts I know about the universe is that essentially every atom in your body was once inside a star that exploded. Moreover, the atoms in your left hand probably came from a different star than did those in your right. We are all, literally, star children, and our bodies made of stardust. Lawrence Krauss

ভুমিকা: লেখাটি কানাডীয় আমেরিকান তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানী লরেন্স ক্রাউস (Lawrence Krauss) এর A Universe from Nothing: Why There is Something Rather Than Nothing এর প্রথম অধ্যায় A Cosmic Mystery Story: Beginnings এর অনুবাদ প্রচেষ্টা। বর্তমানে তিনি অ্যারিজোনা স্টেট  ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক এবং Origins Project এর পরিচালক। 

_____________________________

এ ইউনিভার্স ফ্রম নাথিং:প্রথম অধ্যায় (একটি মহাজাগতিক রহস্য কাহিনী: সুচনালগ্ন)

যাত্রা শুরুর সাথে প্রথম যে রহস্যটি যুক্ত থাকে, তা হলো: যাত্রা শুরুর সেই বিন্দুতে ভ্রমনকারী প্রথমে কেমন করে পৌছে ছিলেন। (লুই বোগান, জার্নি অ্যারাউন্ড মাই রুম)

সেই রাত ছিল অন্ধকার আর ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ।

______

১৯১৬ সালের শুরুর দিকে; আলবার্ট আইনস্টাইন তার জীবনের সেরা কাজটি কেবল শেষ করেছেন, নতুন একটি থিওরী অব গ্র্যাভিটি বা মধ্যাকর্ষন তত্ত্বর ধারনাতে পৌছানোর জন্য তার এক দশকের সুতীব্র বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের ফসল, যার নাম দিয়েছিলেন, জেনারেল থিওরী অব রিলেটিভিটি বা আপেক্ষিকতার সাধারন তত্ত্ব। অবশ্য এটি শুধুমাত্র একটি নতুন থিওরী অব গ্র্যাভিটি বা মধ্যাকর্ষন তত্ত্বই ছিল না, এছাড়া এটি ছিল মহাশুন্য এবং সময়ের বা টাইম এবং স্পেস এরও একটি নতুন তত্ত্ব। এবং এটাই ছিল প্রথম কোন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব, যা, মহাবিশ্বে একটি বস্তু কেমন করে তার অবস্থান পরিবর্তন করছে, সেটাকেই শুধুমাত্র ব্যাখ্যা করেনি, এই মহাবিশ্ব কেমন করে বিবর্তিত হতে পারে তারও একটি ব্যাখ্যা দিয়েছিল।

তবে, সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে শুধু ছোট একটা সমস্যা ছিল। যখন প্রথম আইনস্টাইন পুরো মহাবিশ্বকে সার্বিকভাবে ব্যাখ্যা করতে তার তত্ত্বটিকে প্রয়োগ করতে শুরু করেছিলেন, তখন একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, তত্ত্বটি সেই সময়ের ধারনায় আপাতদৃষ্টিতে যে মহাবিশ্বে আমরা বাস করছি, সেটি ব্যাখ্যা করতে পারছে না।

বর্তমানে, প্রায় একশ বছর পর, কারো পক্ষে সম্পুর্নভাবে মুল্যায়ণ করা কিন্তু খুবই কষ্টসাধ্য, একটি মানুষের জীবনকালের সংক্ষিপ্ত ব্যপ্তিতে, এই মহাবিশ্ব সম্বন্ধে আমাদের ধারনা কি সুবিশাল পরিমানে পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯১৭ সালের বৈজ্ঞানিক সমাজের ধারনায় এই মহাবিশ্ব ছিল স্থির এবং চিরন্তন অপরিবর্তনশীল, যা তৈরী করেছে শুধুমাত্র একটি ছায়াপথ বা গ্যালাক্সী, আমাদের মিল্কি ওয়ে; যাকে ঘিরে আছে সুবিশাল, অসীম, অন্ধকার এবং সম্পুর্ন মহাশুন্যতা। কারন এটুকুই কেবল, আপনি অনুমান করতে পারবেন খালি চোখে বা কোন ছোট টেলিস্কোপ ব্যবহার করে আকাশের দিকে তাকিয়ে এবং সেই সময় এছাড়া অন্য কিছু সন্দেহ করার অবকাশও ছিল কম।
Continue reading “লরেন্স ক্রাউস এর এ ইউনিভার্স ফ্রম নাথিং : প্রথম অধ্যায়”

লরেন্স ক্রাউস এর এ ইউনিভার্স ফ্রম নাথিং : প্রথম অধ্যায়