শুধু এক শতাংশ: আমাদের অতীতের ভবিষ্যৎ


শীর্ষ ছবি: শুধু এক শতাংশ পার্থক্য। শিম্পান্জিদের সাথে আমাদের ডিএনএ পর্যায়ে মিল প্রায় ৯৯ শতাংশ হওয়া সত্ত্বেও আমরা বহু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যে শিম্পান্জি থেকে অনেক আলাদা। তুলনামুলক জিনতত্ত্বের নতুন গবেষণাগুলো ধীরে ধীরে উন্মোচন করছে জিনোমের কোন অংশগুলো আমাদের এই দুই প্রজাতিকে আলাদা করেছে। ছবি: JAMES BALOG Getty Images, Scientific American, May 2009)

(তথ্য সুত্র লেখার শেষে)

If Darwin were here today, he’d be absolutely stunned, delighted, even moved, to see how much his theory has grown. Sean B Carroll ( in What Darwin Never Knew)

আমাদের অতীতের ভবিষ্যতের সন্ধানে কিংবা শুধু ভূমিকা:

গত দশকে শিম্পান্জির সাথে মানুষের জিনোমের তুলনা করে বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু দুর্লভ জিনোমের অংশ বা অনুক্রম ( সিকোয়েন্স) খুঁজে পেয়েছেন, যা শুধুমাত্র আমাদের ডিএনএ তেই পাওয়া যায়। জীবিত প্রাণিদের মধ্যে শিম্পান্জি হচ্ছে জিন পর্যায়ে মানুষের সবচেয়ে নিকটাত্মীয়।  বিজ্ঞানীরা শিম্পান্জি জিনোমের অনুক্রম সম্পুর্ন জানার পর, তুলনা করে দেখেছেন যে আমাদের সাথে শিম্পান্জির ডিএনএ র সাদৃশ্য প্রায় ৯৯ শতাংশ। শিম্পান্জি আর মানুষ তাদের সর্বশেষ সাধারণ পূর্বসূরি প্রানী থেকে পৃথক হবার পর আমাদের জিনোমের যে অঞ্চলগুলোতে সবচেয়ে বেশী পরিবর্তন হয়েছে, বিজ্ঞানীরা সেই অংশগুলো খোঁজার প্রচেষ্টার ফলাফল হিসাবে বিশেষ কিছু ডিএনএ অনুক্রম বা সিকোয়েন্স শনাক্ত করেছেন, যে পরিবর্তনগুলো সম্ভবত মানুষ হিসাবে আমাদের অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছে। উপরন্তু গবেষণার এই ফলাফলগুলো ডিএনএ নিল নকশায় এত সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও মানুষ আর শিম্পান্জির মধ্যে পার্থক্য কেন এত গভীর, এ বিষয়েও গুরুত্বপূর্ন কিছু ধারণা দিয়েছে বিজ্ঞানীদের এবং সূচনা করেছে তুলনামুলক জিনতত্ত্বের প্রতিশ্রুতিময় পথ চলা।

Continue reading “শুধু এক শতাংশ: আমাদের অতীতের ভবিষ্যৎ”

শুধু এক শতাংশ: আমাদের অতীতের ভবিষ্যৎ

ইউজেন দুবোয়া এবং জাভা ম্যান


শীর্ষ ছবি: ১৯০২ সালে মারি ইউজেন ফ্রাসোয়াঁ থমাস দুবোয়া ( ২৮ জানুয়ারী ১৮৫৮ – ১৬ ডিসেম্বর ১৯৪০) | ছবিসুত্র

No discovery was ever made without a bold guess. Isaac Newton

We live by admiration, love and hope. Wordsworth
(সেপ্টেম্বর ১৮৯৩ সালে শুরু করা দুবোয়ার ব্যবহৃত ফিল্ড নোটবুকের উপরে লেখা ছিল ওয়ার্ডসওয়ার্থের এই পংক্তিটি) 

Where, then, must we look for primaeval Man? ……. In still older strata do the fossilized bones of an ape more anthropoid, or a Man more pithecoid, than any yet known await the researches of some unborn paleontologist?  Thomas Henry HuxleyOn some Fossil Remains of Man’ (1863). 

The question of questions for manking-the problem which underlies all other, and more deeply interested than any others is the ascertainment of place with man occupies in nature and his relations to univers of things.  Thomas Henry Huxley ( Evidence as to Man’s place in nature, 1863)

আমার কিছু কথা: পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন মানব জীবাশ্মটি আবিষ্কার করেছিলেন ডাচ চিকিৎসক ই্উজেন দুবোয়া;মানব বিবর্তনের ধারাবাহিতায় তার আবিষ্কৃত সেই জাভা ম্যান আজ পরিচিত Homo erectus প্রজাতি হিসাবে।  দুবোয়াই প্রথম বিজ্ঞানী যিনি শুধুমাত্র এই জীবাশ্মটির সন্ধানে তার নিরাপদ জীবন ছেড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সুদুর ডাচ ইষ্ট ইন্ডিজে, প্রায় অসম্ভব একটা অভিযানে। উদ্দেশ্য ছিল তিনি ডারউইনের মিসিং লিঙ্ক্ খুজে বের করবেন, যা প্রমান করবে মানুষ এবং এইপদের মধ্যবর্তী একটা ট্রানজিশন্যাল অবস্থাকে। বলাবাহুল্য তিনি তার বাজীতে জিতেছিলেন, কিন্তু বিনিময়ে তাকে হারাতে হয়েছে অনেক কিছুই। সব ত্যাগের বিনিময়ে যখন তিনি ইউরোপ পৌছালেন, প্রশংসা আর সন্মানের বদলে তার ভাগ্যে জুটেছিল সন্দেহ, বিতর্ক আর সমালোচনা। উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে তার এই অসাধারন আবিষ্কারের জন্য আসলে প্রস্তুত ছিল না কেউই, বিস্মিত এবং হতবাক সংখ্যাগরিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক সমাজ তাই এর বীপরিত অবস্থানই বেছে নিয়েছিল নিরাপদ মনে করে। তার জীবাশ্ম অ্যানালাইসিসের টেকনিক, যা কিনা আজ প্রতিষ্ঠিত, তখন কারো জানাই ছিলনা। তার উপসংহার এতো বেশী সুস্পষ্ট ছিল, সন্দেহপ্রবন বিজ্ঞানবিশ্ব তা সহজে গ্রহন করতে পারেনি। দুবোয়াও অবশ্য হাল ছাড়েননি। দেশের মাটিতে পা দিয়ে প্রায় মৃত্যু পর্যন্ত  যুদ্ধ করে গেছেন তার জীবাশ্মর গুরুত্বটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে। তাকে এই সংগ্রামের মুল্য দিতে হয়েছে অনেক, তার স্ত্রী, সন্তানের ভালোবাসা, তার বন্ধুদের বিশ্বাস, সহকর্মীদের শ্রদ্ধা। তিনি মারা যান একাকী, অনেক তিক্ততা আর কাউকে না বোঝাতে পারার যন্ত্রনা নিয়ে। দুবোয়াই শুরু করেছিলেন মানুষের বিবর্তন আর উৎপত্তির সন্ধানে আমাদের দীর্ঘ যাত্রাটি, যা আজ অকল্পনীয়ভাবে সমৃদ্ধ বিজ্ঞানের নানা শাখার ইন্টারঅ্যাকশনে। ১৯৬০ এর দশক শুরু হবার আগেই দুবোয়া অবদান সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে আর কোন সন্দেহ ছাড়াই। নতুন প্রজন্মর প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজিষ্টরা জানেন দুবোয়া ছিলেন তাদের অগ্রপথিক। তাঁকে স্মরণ করে আমার এই লেখাটির মুল সুত্র ইউজেন দুবোয়ার নাটকীয় জীবন নিয়ে প্যাট শিপম্যানের অসাধারন জীবনীগাথা The man who found the missing link: Eugene Dubois and his lifelong quest to prove Darwin right এবং শন বি ক্যারলের  Remarkable creatures: Epic adventures in search for the origins of species, এছাড়া ইন্টারনেট তো বটেই।

Continue reading “ইউজেন দুবোয়া এবং জাভা ম্যান”

ইউজেন দুবোয়া এবং জাভা ম্যান

রবার্ট কখ এর ব্যাসিলাই

 


শীর্ষ ছবি: হাইনরিশ হেরমান রবার্ট কখ ( ১১ ডিসেম্বর, ১৮৪৩ – ২৭ মে, ১৯১০) | ছবি সুত্র

If my efforts have led to greater success than usual, this is due, I believe, to the fact that during my wanderings in the field of medicine, I have strayed onto paths where the gold was still lying by the wayside. It takes a little luck to be able to distinguish gold from dross, but that is all.  Robert Koch (1908)

Continue reading “রবার্ট কখ এর ব্যাসিলাই”

রবার্ট কখ এর ব্যাসিলাই