প্রাণীজগতে সমলিঙ্গ যৌন আচরণ এবং বিবর্তন:


শীর্ষছবি: লেসান অ্যালবাট্রস, পাখীদের মধ্যে যারা দীর্ঘমেয়াদী সমলিঙ্গ সম্পর্ক তৈরী করে। ছবিতে এ প্রজাতির জুটি বাধা দুটি স্ত্রী সদস্যকে দেখা যাচ্ছে। (সুত্র: TUI DE ROY/MINDEN/FLPA, New Scientist, December 2009)

শুরুর কথা: প্রাণীজগতের অসংখ্য গ্রুপে বিদ্যমান সমলিঙ্গ যৌন আচরনগুলো বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছিল বহুদিন আগেই এবং তা নিয়ে জীববিজ্ঞানীরা নতুন করে ভাবতে শরু করেছেন তাও বেশ অনেক দিন হলো। ব্যপকহারে বিস্তৃত এধরনের সমলিঙ্গ যৌন আচরনগুলো কি আসলেই বিবর্তনের একটি ধাধা, নাকি  প্রাকৃতিক নির্বাচনের একটি শক্তি যা বিবর্তনের পরিনতিকে প্রভাবিত করতে সক্ষম ? বিজ্ঞানীদের কাছে এই ক্ষেত্রে প্রধান প্রশ্নটি হলো, কেনই বা তাহলে সমলিঙ্গ যৌন আচরন বিবর্তিত হবে, যখন স্পষ্টতই এটি বিবর্তনের মুল নীতির পরিপন্হী। কিন্তু আসলেই কি তাই? অনেক জীববিজ্ঞানী কিন্তু তা মনে করেন না, যেমন, রিভারসাইডে ক্যালিফোর্ণিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী মারলিন জুক (Marlene Zuk) এবং নাথান বেইলী (Nathan W. Bailey, তাদের মতে প্রাণীজগতে বিদ্যমান এধরনের আচরনের বিবর্তনীয় কিছু কারন আছে এবং যে সমস্ত প্রজাতিতে এর হার তুলনামুলকভাবে বেশী,প্রমান করা সম্ভব হয়েছে যে, তাদের বিবর্তনের ক্ষেত্রে এ ধরনের আচরন বিবর্তনের অন্যতম একটি চালিকা শক্তি।

প্রাণীজগতে সমলিঙ্গ যৌন আচরনগুলোর বিষয়টি মিডিয়ার বিশেষ নজরে আসে ২০০৪ সালে, যখন নিউ ইয়র্ক সেন্ট্রাল জু‘তে জোড় বাধা দুটি পুরুষ চিনস্ট্র্যাপ পেইঙ্গুন (Chinstrap Penguin: Pygoscelis antarcticus) ,রয় আর সাইলো একসাথে তাদের দত্তক নেয়া একটি ডিমে তা দিয়ে যত্ন করে বড় করেছিল তাদের পালক মেয়ে পেঙ্গুইন ট্যাঙ্গোকে। জীববিজ্ঞানীরা জানতেন পেঙ্গুইনদের মধ্যে এমন সমলিঙ্গ দম্পতির দেখা মিলেছে পৃথিবীর আরো অনেক দেশের চিড়িয়াখানায়। পরবর্তীতে আবার ২০০৯ এর জুনে মিডিয়াতে প্রানী জগতে সমলিঙ্গ যৌন আচরনের বিষয়টিকে আবার আলোচনায় নিয়ে আসে উত্তর জার্মানীর ব্রেমারহেভেন জুওলজিক্যাল পার্কের আরেকটি সমলিঙ্গ পুরুষ হামবোল্ট পেঙ্গুইন (Humboldt Penguin: Spheniscus humboldti) দম্পতি: জি এবং ভিয়েলপাঙ্কট (সেখানকার তিন সমলিঙ্গ পুরুষ দম্পতির একটি), যখন তারা একসাথে দত্তক নেয়া ডিমকে ত্রিশ দিন তা দেবার পর দেখাশুনা করা শুরু করে নবজাতক পেঙ্গুইনটিকে। এরপরের কয়েকটি বছর মিডিয়াতে আরো অসংখ্য উদহারন এসেছে প্রাণীজগতের বিভিন্ন পরিবারে সমলিঙ্গ যৌন আচরনের বিষয়টির। প্রানীজগতে এ ধরনের আচরনের সর্বব্যাপিতা বর্তমানে সুস্পষ্ট। জীববিজ্ঞানীদের মধ্যে অনেকজনই এই বিষয়ে গবেষনা করছেন।আর সেই সব গবেষনার মুলসুত্র গুলো একসাথে করে এবং এ ধরনের আচরনের একটি বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা খুজতে রিভারসাইডের ক্যালিফোর্ণিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী মারলিন জুক (Marlene Zuk) এবং নাথান বেইলী (Nathan W. Bailey) একটি বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন ২০০৯ সালের  Trends in Ecology and Evolution  জার্ণালে :  Same-sex sexual behavior and evolution (24: 8:2009)। সেখানে তারা বেশ কিছু প্রজাতির মধ্যে এ ধরনের সমলিঙ্গ সম্পর্কর উদহারন একটি নৈর্ব্যাক্তিক আলোচনায় নিয়ে আসেন,যে বিষয়ে বেশ কিছু গবেষনালব্ধ উপাত্ত বিদ্যমান:এদের মধ্যে যেমন আছে, ডাঙ্গ ফ্লাই, কাঠঠোকরা বা উডপেকার, তেমনি আছে বাইসন কিংবা জাপানী ম্যাকাক প্রজাতির বানর। নীচের এই লেখাটি মুলত: তাদের সেই প্রবন্ধটির অনুবাদ প্রচেষ্টা। বাড়তি তথ্য সুত্র: নিউসায়েন্টিস্ট এর প্রকাশিত কেট ডগলাসের Homosexual selection (ডিসেম্বর ২০০৯)এবং আরো দুটি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ: কে ই লেভান এবং তার সহযোগীরা,Testing multiple hypotheses for the maintenance of male homosexual copulatory behaviour in flour beetles: J . EVOL. BIOL . 22 (2009) এবং  জন হান্ট ও তার সহযোগীরা, Male–male competition, female mate choice and their interaction:  determining total sexual selection: J . EVOL. BIOL . 22 (2009) ; স্পষ্টতই বেশ কিছু পরিভাষা বা কনসেপ্ট এর ব্যাখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে যতটুকু পারা যায়, তারপরও অনেক কিছু পরিবর্তন করা হয়নি, বা শুধুমাত্র লিঙ্ক যোগ করেছি;তাই যে কোন ধরনের প্রশ্ন আশা করছি যারা কষ্ট করে পড়বেন তাদের কাছ থেকে ।

ভুমিকার আগে: নীচের লেখাটিতে সমলিঙ্গ যৌনআচরন শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে Same-sex sexual behavior শব্দটিকে বোঝাতে। এর একটি ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। মানুষের ক্ষেত্রে কিছু প্রচলিত শব্দ, যেমন হোমোসেক্সুয়াল,গে বা ট্রান্সজেন্ডার; যদিও গনমাধ্যমে এমনকি কয়েকজন এথোলজিষ্টও (Ethologist: যারা প্রানীদের নিজস্ব পরিবেশে তাদের আচরনের বৈজ্ঞানিক গবেষেনা করেন)এই শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন কিন্তু অনেক জীববিজ্ঞানীই মনে করেন হিউম্যান সেক্সুয়ালিটিকে বর্ণনা করা এ ধরনের সংজ্ঞাগুলোকে প্রানীজগতে প্রানীদের আচরনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করার কিছু  ব্যবহারিক সমস্যা আছে। জুক এবং বেইলী মনে করেন,এই শব্দগুলো ইতিমধ্যেই সামাজিক,নৈতিক এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে,যা এমনিতেই এই ধরনের নৈর্ব্যক্তিক বৈজ্ঞানিক গবেষনার ক্ষেত্রে আদৌ সহায়ক না; এছাড়াও আরো একটি বড় সমস্যাটা হচ্ছে আমরা প্রানীজগতে যা ঘটছে তা কেবল পর্যবেক্ষন করতে পারি,কিন্তু এ ধরনের আচরনের পিছনে মুল মোটিভেশনটি কি,সেটা সম্বন্ধে গবেষকদের সবসময় সুস্পষ্ট ধারনা থাকে না এবং যতদুর জীববিজ্ঞানীরা জানেন,মানুষের মত অন্য আর প্রানীই তাদের নিজেদের কোন যৌন পরিচয় বা সেক্সুয়াল আইডেন্টিটি গঠন করেনা,সেকারনেই রিভিউটিতে ’সমলিঙ্গ যৌনআচরন’এই শব্দগুলো ব্যবহার করাটাকেই যুক্তিযুক্ত মনে করেন মারলিন জুক এবং নাথান বেইলী।তারা এই সমলিঙ্গ যৌনআচরণ  বা Same-sex sexual behavior কে ব্যাখ্যা করেন এভাবে:যখন একই লিঙ্গের দুটি প্রানীর জুটি,বীপরিত লিঙ্গর দুটি প্রানী কোর্টশীপ ((সঙ্গম বা মেটিং এর আগে সঙ্গী নির্বাচনের সময় প্রানীদের আচরন)),সঙ্গম বা বাচ্চা প্রতিপালনের সময় সাধারনত যে ধরনের আচরন করে থাকে,সেই একই ধরনের আচরন করে। এছাড়া আরো কিছু শব্দ আমি পরিবর্তন করিনি, তবে চেষ্টা করেছি লিঙ্ক বা ব্রাকেটের মাধ্যমে এর একটা বোধগম্য ব্যাখ্যা দেবার জন্য); যদিও আশা করার ‍কোন কারন ঘটেনি তারপরও আশা করতে দোষ নেই, যে কোন অস্পষ্টতার জন্য পাঠকরা আলোচনা করতেই পারেন। 🙂

ভুমিকা:

জীববিজ্ঞানীরা প্রানীজগতের বিভিন্ন গ্রুপের প্রানীদের মধ্যে সমলিঙ্গ যৌন আচরনের বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন। নীচের আলোচনাটি এই বিষয়ে প্রথম প্রকাশিত একটি রিভিউকে মুল ধরে লেখা (সুত্র উপরে উল্লেখিত); মুল লেখাটির রচয়িতা রিভারসাইডের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজী বিভাগের দুজন বিবর্তন জীববিজ্ঞানী; নাথান ডাবলিউ বেইলী এবং মারলিন জুক। লেখাটির মুল লক্ষ্য ছিল প্রানীজগতে বিবর্তনের ক্ষেত্রগুলোর প্রেক্ষাপটে সমলিঙ্গ ভিত্তিক যৌন আচরণ নিয়ে যে সমস্ত গবেষনা হয়েছে, সেই সব গবেষনাগুলোয় প্রাপ্ত পর্যবেক্ষনগুলো একটি মুল্যায়ন এবং তাদের মধ্যে একটি সামগ্রিক যোগসুত্র অনুসন্ধান করা। বিশেষ করে যে গবেষনাগুলো প্রানী জগতে এধরনের সমলিঙ্গ ভিত্তিক যৌন আচরনের প্রচলন বজায় থাকার অ্যাডাপ্টিভ এবং ননঅ্যাডাপ্টিভ কারন নির্ভর ব্যাখ্যাগুলোকে পর্যালোচনা করেছে। গবেষকরা ইতিমধ্যে বেশ খানিকটা অগ্রসর হয়েছেন, এধরনের আচরন এবং কোন প্রানী জনসংখ্যায় এটির টিকে থাকার কারনগুলোর সম্ভাব্য বিবর্তনীয় ব্যাখা খোজার পথে।বর্তমানে গবেষকরা যেটা চেষ্টা করছেন তা হলো, বিবর্তনীয় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে চালিকা শক্তি হিসাবে এ ধরনের আচরনের কি কোন ভুমিকা আছে সেটাই পরীক্ষা করে দেখতে।  বিবর্তনের তাত্ত্বিক, তুলনামুলক এবং পরীক্ষামুলক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে  আরো গবেষনা বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যতে আরো বেশী বুঝতে সাহায্য করবে কেমন করে প্রাকৃতিক নির্বাচন, সমলিঙ্গ ভিত্তিক যৌন আচরনের বিবর্তনকে পরিচালনা করছে, এবং কেমন করেই তা কোন প্রজাতির সামাজিক, আকৃতিগত এবং আচরণের বিবর্তনকে প্রভাবিত করার মত নির্বাচনী শক্তি হিসাবে কাজ করছে।


নিউ ইয়র্ক সেন্ট্রাল চিড়িয়াখানা পুরুষ চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইন দম্পতি: রয় আর সাইলো। (Photo Credit: Nicole Bengiveno / New York Times), সুত্র: http://www.globalanimal.org/wp-content/uploads/2011/06/Roy-And-Silo-Central-Park-Zoos-Homosexual-Penguins.jpg



পুরুষ হামবোল্ট পেঙ্গুইন দম্পতি , জি আর ভিয়েলপাঙ্কট , জার্মানীর ব্রেমেরহ্যাভেন জুওলজিক্যাল পার্কে তাদের গুহা পাহারা দিচ্ছে, এখানে তারা দুজন প্রতিপালন করছে একটি  শিশু পেঙ্গুইনকে। সুত্র: http://www.cbc.ca/gfx/images/news/photos/2009/06/05/humboldt-penguins-cp-681808.jpg



কার্লোস এবং ফার্নান্দো: সমলিঙ্গ ফ্লেমিঙ্গো দম্পতি, Wildfowl and Wetlands Trust, Slimbridge, England; তারা জুটি বেধেছে প্রায় ১১ বছর, ২০০৭ সালে তারা একটা পরিত্যাক্ত ডিম থেকে তাদের পরিবার সম্পুর্ন করে। সুত্র: http://3.bp.blogspot.com/_X9nQfE7ADck/ RlNIW77OZWI/ AAAAAAAAAK0/ Rg0l9ymnjeY/s1600-h/ Flamingos.jpg

বিবর্তনের প্রেক্ষাপটে জগতে সমলিঙ্গ যৌন আচরনের গুরুত্ব কি এবং কেন এই বিষয়টি নিয়ে গবেষনা প্রয়োজন ?

বিজ্ঞানী অবিজ্ঞানী সবার সবার কাছে বিষয়টির একটি অন্য আকর্ষন আছে, সেবিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এ বিষয়ে অতীতের গবেষনাগুলোয় যে বিষয়টির উপর জোর দিয়েছে, তা হলো এই পরস্পরের মধ্যে প্রজনন অক্ষম দুটি প্রানীর উপর প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়া যে কাজ করছে, এই ব্যাপারটাই আপাতদৃষ্টিতে একটি প্যারাডক্সের মত। কিন্তু এটাও ঠিক যে, এ ধরনের আচরনগুলোর, সেটা সমলিঙ্গ প্রানীদের সারাজীবনের জন্য জুটি বাধাই হোক বা তাদের পুরো যৌন ও প্রজনন জীবনের একটা অংশ বা পর্যায়ই হোক না কেন, বিবর্তনীয় পরিনতিটা কি হতে পারে, তা সম্বন্ধে বিজ্ঞানীদের জানাটা ছিল খানিকটা সীমিত পর্যায়ে। কিন্ত প্রানীজগতে সমলিঙ্গ ভিত্তিক যৌন আচরনের বৈচিত্র এবং সর্বব্যাপিতা বিস্ময়কর। বর্তমানে কয়েক হাজারেরও বেশী নানা ধরনের প্রজাতির মধ্যে এই ধরনের সমলিঙ্গ ভিত্তিক কোর্টশিপ , জোড় বাধা এবং সঙ্গম এর আচরন লক্ষ্য করা গেছে। এদের মধ্যে আছে স্তন্যপায়ী, পাখী, সরীসৃপ, উভচরী, মোলাস্ক, কীটপতঙ্গ, নেমাটোড ইত্যাদি (টেবিল ১); অবশ্য এই সংখ্যা প্রানী জগতে এ ধরনের আচরনের হারের প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম হওয়াটাই স্বাভাবিক, ‍এর একটা আংশিক কারন অবশ্য সেক্সুয়ালী মনোমরফিক (লিঙ্গ ক্ষেত্রে ‍যারা একরুপী) প্রানীদের জুটির এধরনের আচরন বিজ্ঞানীরা ধরে নিয়েছেন বিষম লিঙ্গ যৌন আচরন হিসাবে।


টেবিল ১:  উপরের টেবিলে সমলিঙ্গ যৌণ আচরন করে এমন কয়েকটি প্রানীর (মানুষ ছাড়া)একটি  প্রতিনিধিত্বমুলক তালিকা দেয়া হলো (এই আচরনগুলো বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন বন্য অবস্থায় বা ল্যাবরেটরীতে জিন ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে।*উপরে ‌উল্লেখিত ১৪টি প্রজাতির উদহারন সমলিঙ্গ আচরন করে এমন প্রজাতির সামান্য একটি অংশ মাত্র (প্রায় ১৫০০ ;র বেশী প্রজাতিতে সমলিঙ্গ আচরন দেখা যায়। সুত্র: Trends in Ecology and Evolution Vol.24 No.8 (বেইলী ্ এবং জুক) ( বড় করে দেখতে ক্লিক করুন)

বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোন থেকে সমলিঙ্গ যৌন আচরণকে একটি ধাধা হিসাবে দেখা হয়, যার একটি বিশেষ ও স্বতন্ত্র ব্যাখ্যার প্রয়োজন, অনেকটা আত্মহত্যা অথবা সম্পর্কহীন কোন শিশুকে দত্তক নেবার মত। কেন প্রানীরা এমন ধরনের কোন যৌন আচরন করবে যা সরাসরি পরবর্তী প্রজন্ম তৈরী করবে না? জীববিজ্ঞানীদের কাছে এটা স্পষ্ট যে এধরনের সমলিঙ্গ সারাজীবনব্যাপী কোন সম্পর্ক বিবর্তিত হবার কথা নয়, এবং আসলেই বন্যপ্রানীদের মধ্যে এধরনের সারাজীবনকাল ব্যাপী কোন সম্পর্কর উদহারন থাকলেও তা সংখ্যায় বেশী নয়। কিন্তু সব ট্যাক্সোনোমিক গ্রুপের প্রানীদের মধ্যে এ ধরনের আচরনের প্রচলন এবং এর সম্বন্ধে সংগৃহীত ‍সুস্পষ্ট তথ্যের বিশালতা  অবশ্যই এ বিষয়ে বিষদ গবেষনার দাবী রাখে।


চুমু: বনোবোদের সমলিঙ্গ আচরনের একটি (স্ত্রী):(http://www.environmentalgraffiti.com/sites/default/files/images/http-inlinethumb28.webshots.com-45851-2194020060104237032S600x600Q85.jpg)


জাপানী ম্যাকাকদের সমলিঙ্গ যৌন আচরন (স্ত্রী): ( সুত্র: Jean-Baptiste Leca, Uni. Lethbridge,Canada) : http://jbleca.webs.com/researchactivities.htm


বটলনোজ ডলফিন ( সুত্র: http://www.oceanwideimages.com/Large-Image.asp?pID=11121&cID=15&rp=categories%2Easp%3FcID%3D15%26p%3D2 )


জেব্রা ফিন্চ জুটি ( পুরুষ): http://towleroad.typepad.com/.a/6a00d8341c730253ef0154348a38b6970c-800wi


Flour বীটলদের সমলিঙ্গ যৌন আচরন: সুত্র: J . EVOL. BI O L . 22 ( 2 0 0 9 )


পুরুষ  সিংহ: http://lh6.ggpht.com/_jiQufRdZKJw/TL9GTmY4E0I/AAAAAAAAC1o/xPUqHjasW5A/s1600-h/PrideofLions%5B11%5D.jpg

বিজ্ঞানীদের যে মুল বিষয়টি ভাবাচ্ছে তা হলো বিবর্তনের দৃষ্টিতে আপাত প্যারাডক্স এই আচরনের কি ধরনের বিবর্তনীয় পরিনতি হতে পারে প্রানীদের মধ্যে। সেকারনেই বিষয়টিকে একটু বৃহৎ পরিসরেই দেখতে হবে।যদিও সমলিঙ্গ যৌন আচরনের অভিযোজনীয় ব্যাখ্যা নিয়ে অনেকেই তাদের ধারনা ব্যক্ত করছেন। কিন্তু এর যে কোন বিবর্তনীয় পরিনতি থাকতে পারে তা অনেক জীববিজ্ঞানীরা হয়তো পুরোপরি তাদের গবেষনায় বিষয়টি নিয়ে আসেননি। এই পরিনতিগুলো নিয়ে গবেষনা ‍সমলিঙ্গ  যৌনআচরন এবং যে প্রক্রিয়াগুলোর মাধ্যমে প্রাকৃতিক নির্বাচন সামাজিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া,প্রজনন আচরন এবং এমনকি বাহ্যিক প্রকৃতি বা মরফোলজিকে প্রভাবিত করে সে সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞানকে আরো সমৃদ্ধ করবে। এজন্য ইতিমধ্যেই বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু গবেষনা স্ট্রাটেজীও প্রস্তাব করেছেন।


জিরাফ (পুরুষ): সুত্র : http://2.bp.blogspot.com/_-b3ZC2CyeAo/TDe95Am4GAI/AAAAAAAAAiY/jj0AUWlKVgQ/s1600/twist_again.jpg

প্রানীজগতে সমলিঙ্গ যৌন আচরনগুলোর একটি শ্রেনীবিন্যাস:

প্রানী জগতে সমলিঙ্গ আচরনগুলোর কথা যখন বলা হয় তখন কেবলমাত্র সমলিঙ্গ ভিত্তিক যৌন আচরনকেই বোঝায়,এই আচরনে সংশ্লিষ্টদের সেক্সুয়াল প্রেফারেন্স বা ওরিয়েন্টেশন সংক্রান্ত কোন কিছুর ইঙ্গিত দেয়া হয়না। কারন সমলিঙ্গ যৌন আচরন আর সমলিঙ্গ সেক্সুয়াল প্রেফারেন্স কিন্তু সমার্থক নয় সবসময়, যা খুবই অল্প কিছু প্রানীর মধ্যে যেটি দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। যেমন ২০০৫ সালে বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্প বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হান্স ভান গসাম ও তার সহযোগীরা দেখেছিলেন যে ড্যামসেল ফ্লাই (Damsel fly: Ischnura elegans)দের যদি পুরুষ সর্বস্ব গ্রুপে রাখা হয়, তাহলে পরবর্তীতে এরা স্ত্রী ড্যামসেল ফ্লাইদের বদলে পুরুষদের সাথেই মেটিং পুর্ববর্তী আচরন বা কোর্টশীপ করাটা বেছে নেয় তাদের প্রেফারেন্স হিসাবে (প্রিজন ইফেক্ট: Prison effect) যদিও এই প্রেফারেন্সটির বীপরিতমুখী পরিবর্তন করা সম্ভব শুধুমাত্র এদের স্ত্রী ডামসেল ফ্লাইদের সাথে একসাথে রাখলে। একই ভাবে এ ধরনের যৌন আচরন থেকে সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন সম্বন্ধে কোন সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয়। ওরিয়েন্টেশন প্রমান করা বেশ কঠিন কারন বেশ অনেক লম্বা সময় ধরে কোন একটি লিঙ্গর সঙ্গী প্রেফারেন্স এর স্থিতিশীলতা সম্পর্কে তথ্য প্রয়োজন। যার মাঠ পর্যায়ে উদহারন খুজে পাওয়া কঠিন, কারন হয় প্রানী জগতে এটির কোন অস্তিত্বই নেই বা এখনও খুজে পাওয়া যায়নি। উদহারন হিসাবে বলা যেতে পারে পুরুষ বিগ হর্ণ শীপদের (Big horn sheep: Ovis canadensis) কোন কোন সদস্য সারা জীবন শুধু সমলিঙ্গ যৌন আচরনই করে। এছাড়া লেসান (Laysan) অ্যালবাট্রসদের স্ত্রী সদস্যরা দীর্ঘ মেয়াদী সমলিঙ্গ সম্পর্ক তৈরী করে। যাই হোক যদি এ ধরনের আচরনকে ওরিয়েন্টেশন বা প্রেফারেন্স হিসাবে না দেখেও শুধু মাত্র যৌন আচরনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়, সে ক্ষেত্রেও আমাদের সেই বড় বিবর্তনের ‘ধাধাটি’ রয়েই যায়: কেন কোন প্রজাতির সদস্যরা তাদের সময় আর শক্তির অপচয় করে এমন কোন কর্মকান্ডে যা তাদের প্রজনন সাফল্যের উপর কোন ইতিবাচক প্রভাবই ফেলে না? তাহলে এই যে অসংখ্য সমলিঙ্গ আচরন আমরা প্রানীজগতে দেখছি, তাদের এই বিশাল সংখ্যা কি ইঙ্গিত দিচ্ছে  এ ধরনের আচরনের কোন না কোন সারভাইভাল হয়তো বা আছে?


ড্যামসেল ফ্লাই: পুরুষ ড্যামসেল ফ্লাইরা  সমলিঙ্গ যৌন আচরন করে যদি তাদের শুধুমাত্র পুরুষ সর্বস্ব গ্রুপে রাখা হয়, একে প্রিজন ইফেক্ট (Prison effect) বলে। ছবি:  Hans van Gossum:  New Scientist, December 2009)


বিগ হর্ণ শীপ: অনেক প্রানী সমলিঙ্গ যৌন আচরন করলেও খুব কম সংখ্যক প্রজাতির সারা জীবন ব্যাপী সমলিঙ্গ সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন লক্ষ্য করা যায়। বিগ হর্ণ শীপ এমন একটি প্রজাতি। কোন কোন পুরুষ বিগহর্ন শীপ দীর্ঘমেয়াদী সমলিঙ্গ সম্পর্ক তৈরী করে। ছবি:  Donald M. Jones/Minden Pictures/FLPA; New Scientist, December 2009)


রাম শীপদের সমলিঙ্গ জোড়  (Ovis aries) সমলিঙ্গ জুটি: http://www.globalanimal.org/wp-content/uploads/2011/06/Pair-Of-Gay-Rams-400×274.jpg

যৌনআচরন, সেক্সুয়াল প্রেফারেন্স এবং সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন প্রত্যেকটি বিষয় স্বতন্ত্র, কিন্ত‍ু বেশীর ভাগ সময় তাদের নানা ব্যাখ্যায় মিশ্রিত করে ফেলা হয়। এই বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য নিয়ে কোন ধরনের সংশয় ‍এ সংক্রান্ত কোন বৈজ্ঞানিক গবেষনার ‍তথ্য উপাত্ত ইন্টারপ্রিটেশনের স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। সুতরাং এই লেখায় সমলিঙ্গ যৌন আচরন বলতে বোঝানো হচ্ছে,প্রজননের প্রাসঙ্গিকতায় একই লিঙ্গের দুইজন সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা ইন্টারঅ্যাকশান যা বীপরিত লিঙ্গের দুইজন সদস্যদের মধ্যেও হয়ে থাকে। যেমন Dorsophila বা ফ্রুট ফ্লাই নিয়ে বেশ কিছু গবেষনা, যেখানে ফেরোমন রিসেপ্টরদের জেনেটিক ‍মিউটেশনগুলো নিয়ে গবেষনা করা হয়েছে। ফ্রুট ফ্লাইদের ক্ষেত্রে কে কোন লিঙ্গের তা চেনার জন্য খুবই গুরুত্বপুর্ন হলো লিঙ্গ-সুনির্দিষ্ট ফেরোমোন এবং তাদের সঠিকভাবে শনাক্ত করার ক্ষমতা আর এই লিঙ্গ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াটা কোন পরিবর্তন আনলেই দেখা যায় পুরুষ মাছির প্রাক-প্রজনন কোর্টশিপ আচরন করছে পুরুষ মাছির সাথে এবং স্ত্রী মাছিরা অন্য মেয়ে মাছিকে সঙ্গমের জন্য আকর্ষন করার চেষ্ঠা করছে কিংবা দেখা গেছে কয়েক মিনিটের মধ্যেই এ ধরনের মাছিরা আবার সমলিঙ্গ থেকে বীপরিত লিঙ্গের প্রতি তাদের আকর্ষনও বদলে ফেলছে। অন্যভাবে যদি বলা হয়, নির্দিষ্ট মিউটেশনের কারনেই মাছিগুলো সমলিঙ্গ যৌন আচরন করছে। কিন্তু এই আচরনগুলো বীপরিত লিঙ্গ ভিত্তিক যৌন আচরনের পাশাপাশি বিদ্যমান থাকে ফ্রুট ফ্লাই জনসংখ্যায়,বিশেষ করে দেখা যায় পুরুষ মাছিরা কোন লিঙ্গ বাছবিচার ছাড়াই সঙ্গমের জন্য মিলিত হয়। সুতরাং যদিও তারা সমলিঙ্গ ভিত্তিক যৌন আচরন করছে কিন্তু পুরুষ মাছিরা কিন্তু দুটি লিঙ্গর মধ্যে বিশেষ কোন একটি লিঙ্গের প্রতি  আসলেই হয়তো বিশেষ কোন অতিরিক্ত আগ্রহ দেখায়না।


ড্রোসোফিলা মেটিং, সুত্র: http://www.ebc.uu.se/digitalAssets/51/51847_Drosophila-mating1.jpg

কারো সমলিঙ্গ সেক্সুয়াল প্রেফারেন্স বলতে যা বোঝায় তা হলো তারা সমলিঙ্গ সদস্যদের সাথে যৌন আচরনের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং তারা সমলিঙ্গদের সাথে যৌন আচরনে বেশী আগ্রহী,এমনকি যখনও তাদের বীপরিত লিঙ্গর সদস্যদের সাথে  যৌনআচরনের সুযোগ দেয়া হয়। সুতরাং প্রেফারেন্স শব্দটা দাবী করছে যে প্রানীটি তার যৌন আচরনের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট পছন্দ প্রদর্শন করছে। মানুষ ছাড়া অন্য কোন প্রানীদের মধ্যে সমলিঙ্গ যৌন আচরনের উদহারন যতটা দেখা যায় ততটা কিন্তু সেক্সুয়াল প্রেফারেন্স এর উদহারন দেখা যায় না। তাসত্ত্বেও যেমন, ড্যামসেল ফ্লাই (Ischnura elegance)দের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যখন পুরুষর শুধু মাত্র পুরুষদের গ্রুপে এক্সপোজ করা হয়, তারা শুধু পুরুষদের সঙ্গী  হিসাবে পাওয়ার প্রেফারেন্শিয়াল বা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আচরন করে, এমনকি যখন তাদের স্ত্রী এবং পুরুষ দুই ধরনের সদস্যদের মধ্যে সঙ্গী পছন্দ করার সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু একটি লিঙ্গ অপেক্ষা অন্য লিঙ্গর প্রতি তাদের  এই বিশেষ পছন্দ কিন্তু নমনীয় অর্থাৎ পরিবর্তনশীল; এবং সেটা নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব তাদের আগে যে সামাজিক পরিবেশে অভিজ্ঞতা ছিল শুধু সেটাকে পরিবর্তন করার মাধ্যমে।

সমলিঙ্গ সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন আবার আরো আরো দীর্ঘস্হায়ী কতগুলো প্রেফারেন্সের সেটকে বোঝায়,মুলত: দুটি লিঙ্গের কোন একটির সাথে যৌন সংসর্গ কামনা করার অন্তর্নিহিত একটি ইচ্ছার প্রবণতা; এবং যদিও বিষয়টি মানুষের ক্ষেত্রে কোন সদস্যর সেক্সুয়াল আইডেন্টিটি বা পরিচিতি নির্ধারনে সচরাচরই ব্যবহার করা হয়ে থাকে,কিন্তু প্রানী জগতে ধারনাটির ব্যবহার হয়েছে খুবই কম। আংশিকভাবে এর কারণ,কোন একটা প্রানী আসলে কি ’কামনা‘ করছে সেটা বোঝা প্রায় অসম্ভব। আমরা শুধু তাদের আচরণটাকেই পর্যবেক্ষন করতে পারি। অল্প কিছু মেরুদন্ডী প্রানীদের মধ্যেই কেবল ‍ সমলিঙ্গ  ওরিয়েন্টশন লক্ষ্য করেছেন বিজ্ঞানীরা;তাদের মধ্যে যেমন পুরুষ চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইন ( Chinstrap penguin: Phygoscelis antarcticus),দেখা গেছে যারা বন্দীদশায় অন্য   পুরুষ পেঙ্গুইনদের সাথে দীর্ঘ মেয়াদী জুটি বাধে এবং এছাড়া কিছু পুরুষ বিগ হর্ণ শীপ (Ovis canadensis), যারা দেখা গেছে শুধু মাত্র স্ত্রী বিগহর্ণ শীপের সাথে যৌন সম্পর্ক করে যদি তারা কেবল পুরুষের মত আচরন করে। কোন পশুর আচরনকে তার বিশেষ ওরিয়েন্টশনের সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করার আরো একটি সমস্যা হলো, একটি প্রানী কত দিন অবধি তার এই সেক্সুয়াল প্রেফারেন্স বা কোন বিশেষ লিঙ্গর পছন্দ ধরে রাখলে তারপর তাদের আচরনকে সমলিঙ্গ বা বিষম লিঙ্গ ওরিয়েন্টেড মনে করা যেতে পারে সে সম্বন্ধে বিজ্ঞানীরা একমত না। যে সমস্ত জীববিজ্ঞানীরা মানুষ নয় এমন প্রানীদের সমলিঙ্গ সম্পর্ক নিয়ে গবেষনা করছেন তাদের জন্য এধরনের বৈশিষ্টের উপর ভিত্তি করে সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশনকে বিবেচনা করাটা তাদের গবেষনায় খুব একটা সহায়ক হয় না।

সমলিঙ্গ যৌন আচরনের কারনগুলো:

সমলিঙ্গ যৌন আচরন নিয়ে এ পর্যন্ত্ প্রকাশিত প্রায় সব গবেষনাগুলো মুলতঃ দৃষ্টি দিয়েছে দুটি ক্ষেত্রে:প্রথমটি ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করেছে প্রক্সিমেট মেকানিজমগুলো বা  যা সমলিঙ্গ  ভিত্তিক যৌন আচরনের মুলভিত্তি। এধরনের মেকানিস্টিক গবেষনায় কিছু মডেল প্রানী যেমন Dorsophila melanogaster,নেমাটোড Caenorhabditis elgans এবং জেব্রা ফিন্চ ইত্যাদি প্রানীদের ব্যবহার করা হয়েছে সমলিঙ্গ ভিত্তিক যৌণ আচরনের জেনেটিক,নিউরোলজিক্যাল এবং হরমোনাল ও সোশ্যাল ভিত্তির অনুসন্ধানে।এসব স্টাডিগুলোর সব কয়টির প্রত্যক্ষ উদ্দেশ্য কিন্তু ছিল না সমলিঙ্গ  ভিত্তিক যৌনআচরনের কারণ অনুসন্ধান করা। কিন্তু বিষমলিঙ্গ যৌনসঙ্গী বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রেফারেন্স বা স্নায়ুতন্ত্রের লিঙ্গ বিশেষায়িত হবার প্রক্রিয়াগুলোর হাইপোথেসিস টেস্টিং করার গবেষনাগুলোর মাধ্যমেই বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন সমলিঙ্গ ভিত্তিক যৌণ আচরনকে নিয়ন্ত্রণকারী নানা সম্ভাব্য জেনেটিক বা ফিজিওলজীক্যাল প্রক্রিয়াগুলো। Dorsophila প্রজাতির মধ্যে দেখা সমলিঙ্গ যৌণ আচরন স্পষ্টতই  বনোবোদের (Bonobo) সমলিঙ্গ ভিত্তিক যৌন আচরেনের সাথে তুলনা করা সম্ভব না কিন্তু কোন একটি প্রানীর সেক্সুয়াল প্রেফারেন্সের নিউরো-ফিজিওলজিক্যাল নিয়ন্ত্রন প্রক্রিয়াগুলো নিয়ে গবেষনা, অন্যান্য প্রানীদের ক্ষেত্রেও কোন একটি কমন মেকানিজমটা শনাক্ত করতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করে,যেমন ওলফ্যাক্টরী বা গন্ধ শোকার মাধ্যমে লিঙ্গ বিভেদকরন অথবা সামাজিক অভিজ্ঞতার কিভাবে পরবর্তীতে যৌন আচরনের উপর প্রভাব ফেলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করে।

গবেষনার দ্বিতীয় গুরুত্বপুর্ণ এলাকাটা হচ্ছে সমলিঙ্গ ভিত্তিক যৌনআচরনের অ্যাডাপটিভ (অভিযোজনীয়)গুরুত্ব। কিন্তু যে কারনে এই ক্ষেত্রে বেশ কিছু গবেষনা হয়েছে সেটি একটু ব্যাখ্যার দাবী রাখে। প্রায়ই বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে গবেষকরা যে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেন,তা হলো সমলিঙ্গ ভিত্তিক যৌন আচরনের অস্তিত্বটাই হচ্ছে একটি অ্যাপারেন্ট প্যারাডক্স’ বা ধাধা। যা ‘আপাতদৃষ্টিতে  প্রচলিত বিবর্তন তত্ত্বের সাথে সামন্জ্ঞস্যপুর্ণ না’ এবং ‘মনে হচ্ছে যা প্রকৃতির একটি মুল ”নীতিকে” অনুসরণ করছে’ না: অর্থাৎ প্রজননের নীতির সাথে এটি মানানসই নয়, তারপর চেষ্টা করা হয় প্রচলিত প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার নীতির সাথে এধরনের আচরনের অস্তিত্ত্বের ব্যাপারটার অ্যাডাপ্টিভ ব্যাখ্যাগুলো পরীক্ষা করে একটা যোগসুত্রমুলক ব্যাখ্যা খুজে বের করা। এই অ্যাগাপ্টিভ ব্যাখ্যাগুলো সাধারনত: তিনটি বৃহৎ ক্যাটেগরীতে পড়ে: (১) সমলিঙ্গ যৌন আচরন সামাজিক গ্লু হিসাবে কাজ করে যা সামাজিক সম্পর্ক তৈরী,তার রক্ষনাবেক্ষন এবং বলিষ্ঠ করনে বিশেষ ভুমিকা রাখে। যেমন বটলনোজ ডলফিন পুরুষদের মধ্যে জোটবদ্ধতা। (২) সমলিঙ্গ যৌনআচরন যৌন আগ্রাসন বা দন্দ্বর তীব্রতা বাড়ানো বা কমানোর একটা পথ। যেমন, ডাঙ্গ ফ্লাই ( Hydromyza livens); এই প্রজাতির পুরুষদের অন্যপু রুষদের উপর সঙ্গমের জন্য ওঠার আচরন বা মাউন্টিং এর ব্যাখ্যা সংক্রান্ত হাইপোথিসিসটি হলো, পুরুষ ডাং ফ্লাইগুলো অন্য পুরুষদের উপর মাউন্ট করে তাদেরকে প্রজননের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে, ফলাফলে তাদের নিজেদের আরো বেশী প্রজননের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে আবার  সন্তান প্রসবকারী গুডেইড প্রজাতির মাছ, Girardinichthys multiradiatus এর পুরুষ কিছু সদস্য তাদের ভেন্ট (ভেন্ট হচ্ছে মাছের পায়ুপথ এবং অ্যানাল ফিনের মাঝামাঝি একটি ছিদ্র, যাকে জেনিটাল প্যাপিলাও বলে) এর পাশে মাঝে মাঝে স্ত্রী গুডেইড মাছের যেমন একটা ডার্ক স্পট থাকে তেমন একটি ডার্ক স্পট বা ‘প্রেগন্যান্সি স্পট’ দেখায়; এই সব কম আগ্রাসী, নমনীয় পুরুষমাছগুলো, যাদের এই স্পটটি থাকে তারা শক্তিশালী বা ডমিন্যান্ট পুরুষ মাছগুলোর আগ্রাসী আচরন থেকে নিজেদের দুরে রাখতে পারে, যারা উল্টো এদেরকেই স্ত্রী গুডেইড বলে মনে করে তাদের সঙ্গীনি বানানোর জন্য কোর্টিং আচরন করে। এই যে প্রভাববিস্তার কারী পুরুষ মাছগুলোর আগ্রাসী ব্যবহার থেকে কোর্টশিপ ব্যবহারের দিকে তাদের মনোভাব পরিবর্তন, অপেক্ষাকৃত স্পটযুক্ত দুর্বল মাছগুলোকে একটা সুযোগ করে যে স্ত্রী মাছগুলোর সাথে লুকিয়ে সঙ্গম করার জন্য। (৩) সমলিঙ্গ যৌন আচরন  অপেক্ষাকৃত কম বয়সী প্রানীদের  প্রজনন সংক্রান্ত নানা আচরন, যেমন, কোর্টশীপ, মাউন্টিং ইত্যাদির অনুশীলন হিসাবে কাজ করতে পারে, যা পরবর্তীতে বিষম লিঙ্গের সঙ্গীর সাথে তাদের প্রজননে সফল হতে সাহায্য করে। Dorsophila র উদহারন থেকে দেখা যায়, সমলিঙ্গ ভিত্তিক যৌন অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তরুন পুরুষ মাছিদের বিষমলিঙ্গ সঙ্গমের ক্ষেত্রে বিশেষ সাফল্য নিয়ে আসে যা কিন্তু তুলনামুলকভাবে বয়স্ক পুরুষ মাছিদের ক্ষেত্রে দেখা যায়না। পিঙ্ক ফ্লেমিঙ্গোরাও সমলিঙ্গ ভিত্তিক যৌন আচরনের অভিজ্ঞতা থেকে লাভবান হয় পরবর্তীতের তাদের নিজস্ব এলাকা দখল করার দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে।


টেবিল ২:  উপরের টেবিলে সমলিঙ্গ যৌন আচরনের  অ্যাডাপ্টিভ এবং ননঅ্যাডাপ্টিভ কিছু ব্যাখ্যা: সুত্র: Trends in Ecology and Evolution Vol.24 No.8 (বেইলী ্ এবং জুক)। বড় করে দেখতে ক্লিক করুন

সাম্প্রতিককালে হাতে গোনা কয়েকটি গবেষনা চেষ্টা করেছে বিবর্তনের আরেকটু ব্যপক দৃষ্টিকোন থেকে সমলিঙ্গ ভিত্তিক যৌন আচরনের কারন বুঝতে। যেমন ম্যাকফারলেন ও তার সহযোগীরা, পাখীদের মধ্যে সমলিঙ্গ ভিত্তিক যৌন আচরনের যে সার্ভে করেছিলেন, সেখানে তিনি দেখেছিলেন পুরুষ-পুরুষ যৌন আচরন বেশী দেখা যায় বহুগামী প্রকৃতির প্রজাতিগুলোয়, অপরদিকে স্ত্রী-স্ত্রী যৌন আচরন দেখা যায় বেশী, প্রিকোশিয়াল ( অর্থাৎ যারা জন্ম বা ডিম ফোটার সাথেই সাথেই অপেক্ষাকৃত ম্যাচুর বা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যায়)এবং একগামী প্রকৃতির প্রজাতিদের মধ্যে। তাদের প্রস্তাবটি ছিল পুরুষদের সমলিঙ্গ আচরন গড়ে ওঠার সুযোগ পায় হয়তো কাছাকাছি থাকার কারনেই, যেমনটা দেখা যায় লেকদের (Lek) মধ্যে বা অন্যকিছু প্রজাতিদের সামাজিক আচরনের প্রদর্শনীর মধ্যে। অল্প কিছু প্রচেষ্টার মধ্যে একটি প্রচেষ্টায় জীববিজ্ঞানী গ্যাভ্রিলেট এবং রাইস, প্রাকৃতিক নির্বাচনের যে শক্তিগুলো, যারা সমলিঙ্গ আচরনের কারন হতে পারে, তাদের নিয়ে একটি মডেল তৈরী করেছিলেন; এর মাধ্যমে সম্ভাব্য যে জিনটি মানুষের সমলিঙ্গ আচরনের কারন হতে পারে তার গঠন বা আর্কিটেকচার সম্বন্ধে তারা একটি তাত্ত্বিক প্রেডিকশনের সেট তৈরী করেন। তাদের সেই তাত্ত্বিক গবেষনার সুদুরপ্রসারী প্রভাব আছে, মানুষ এবং অন্যান্য প্রানীদের সমলিঙ্গ যৌন আচরনের বিবর্তনকে বোঝার জন্য পরবর্তী গবেষকদের প্রচেষ্ঠায়। যেমন, এই মডেল বলছে আশ্চর্যরকমভাবে অনেক ধরনের বিচিত্র জেনেটিক পরিস্থিতিতে জিনগুলো মানুষের সমলিঙ্গ যৌন ওরিয়েন্টেশনের প্রোপোগেশন এবং টিকে থাকার বিষয়টিকে প্রভাবিত করে এবং তারা প্রেডিক্ট করেছেন, যারা সমলিঙ্গ আর বিষমলিঙ্গ উভয় ধরনের আচরন করে, তাদের জন্য উভয় ক্ষেত্রে সেই পরিস্থিতিগুলো অনুরুপ।

আর যে সমস্ত ক্ষেত্রে সমলিঙ্গ সম্পর্কগুলোকে অ্যাডাটিপ্টভ বা অভিযোজনীয় দৃষ্টিভঙ্গী থেকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি তাদের মাঝে মাঝে মিসট্যাকেন আইডেন্টিটির ক্যাটেগরীতে রাখা হয়েছে, বিশেষ করে যেমন অমেরুদন্ডী প্রানীদের ক্ষেত্রে।

সমলিঙ্গ যৌন আচরনের বিবর্তনীয় পরিনতি কি হতে পারে? 

সমলিঙ্গ সম্পর্কটি কিভাবে অ্যাডাপ্টিভ একটি প্রতিক্রিয়া হতে পারে, সে বিষয়ে হাইপোথেসিসের খুব একটা কমতি নেই এবং বিভিন্ন প্রজাতিতে এই এদের ব্যাখ্যাও ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু সমলিঙ্গ সম্পর্কর বিবর্তনীয় পরিনতি বা কনসিকোয়েন্স গুলো কি হতে পারে, সে বিষয়ে গবেষনা তেমন একটা হয়নি। কেমন করে সমলিঙ্গ সম্পর্ক কোন প্রজাতি ‍বা জনসংখ্য বিবর্তনীয় ডিনামিক্সকে পরিবর্তন করতে পারে?

সমলিঙ্গ সম্পর্কর হার বেশী হবার কারনে হয়তোবা কোন কোন বন্য প্রজাতির জনসংখ্যায় সামাজিক সম্পর্কের ডিনামিক্সে এটি কোন ভুমিকা রাখতে পারে; কিন্তু সব প্রজাতির ক্ষেত্রেই  সেটা ঘটে না। বটলনোজ ডলফিনদের (Thursiops sp.) মধ্যে যেমন, মোটামুটি পুরুষদের মোট যৌন সম্পর্কে অর্ধেক ঘটে পুরুষ সদস্যদের সাথে। আরেকটি গবেষনায় দেখা যায়, বিয়ার্ডেড ভলচার (Gypaetus barbatus) দের পুরুষ-পুরুষ সম্পর্ক প্রায় মোট মাউন্টিং এর ১১-২৬% ‍ আর জাপানী   ম্যাকাকদের মধ্যে  দেখা সব সঙ্গমের ১-৬% ঘটে তাদের পুরুষদের মধ্যে। অন্য বন্যপ্রানীদের মধ্যে সাম্প্রতিক গবেষনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে এধরনের আচরন নির্বাচনী শক্তির গুরুত্বহীন বা অগৌন উৎস ভেবে একেবারে বাতিল করা ঠিক হবেনা।

যেমন লেসান (Laysan) অ্যালবাট্রসদের কথাই ধরা যাক।  ২০০৮ সালে  হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের লিন্ডসে ইয়ং হাওয়াই দীপপুন্জ্ঞে  একটা অ্যালবাট্রস কলোনীতে ( ওয়াহু কলোনী) দেখতে পান, পাখীদের সব জুটির মধ্যে প্রায় ৩১ শতাংশ জুটি বেধেছে ঘনিষ্ট পেয়ার বন্ডিং এর মাধ্যমে দুটি স্ত্রী-অ্যালবাট্রস, যারা একে অপরের সাথে কোর্ট করছে, সঙ্গম করছে, একে অন্যর পালক পরিষ্কার করে দিচ্ছে (যাকে অ্যালোপ্রিনিং বলে) এবং একই সাথে একটি বাচ্চা বড় করার দায়িত্ব পালন করছে এবং এরা দীর্ঘদিন এক সাথে থাকে, দুটো ডিম পাড়ে এই দুই স্ত্রী পাখীর জুটি, এবং এর থেকে একটি র‌্যানডোমভাবে একটি বেছে নেয় পালার জন্য। এই সামাজিকভাবে একগামী প্রজাতির বাচ্চাদের সফলভাবে বড় করতে গেলে দুইটি প্যারেন্টেরই সহযোগীতা প্রয়োজন, যদিও সমলিঙ্গর কোন অ্যালবাট্রস দম্পতি তুলনামুলকভাবে অন্য বিষম লিঙ্গ দম্পতি অপেক্ষা প্রজননগত দিক থেকে সফল না হলেও  তারা তাদের যেকোন একজনের বাচ্চা বড় করতে কোন জোড় বিহীন একা কোন স্ত্রী অ্যালবাট্রস থেকে অনেক ক্ষেত্রেই সফল। ‌ এদের কলোনীতে লিঙ্গ অনুপাতে মেয়েরা সংখ্যায় অনেক বেশী। যদি এই সমলিঙ্গ সম্পর্ক গঠন ও বাচ্চা প্রতিপালন প্রজননের জন্য একটি ফ্লেক্সিবল স্ট্রাটেজীর অংশ হিসাবে স্ত্রী অ্যালবাট্রসরা  ব্যবহার করে পরিবর্তনশীল কোন সামাজিক পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া হিসাবে, যেমন: নারীপুরুষের সংখ্যার আনুপাতিক তারতম্য, তাহলে সামাজিক গঠন এবং জনসংখ্যার মধ্যে সামাজিক ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়ার পরিবর্তনও পুরো জন্যসংখ্যার বিবর্তন ডিনামিক্স এর উপর প্রভাব ফেলতে পারে।  এ বিষয়ে বেইলী এবং জুক যে প্রস্তাবটি করেন, তা হলো, যে কলোনী গুলো কোন স্ত্রী অ্যালবাট্রস জুটি ছাড়া একা থাকে, সেখানে পুরুষ অ্যালবাট্রসরা তেমন কোন প্রজনন সুবিধা পায় না তাদের নিজেদের সঙ্গীনিকে ছেড়ে জুটিহীন কোন পাখির ডিম নিষিক্ত করতে, কারন এমনকি যদি সে এই কাজটা করেও থাকে, সেই বাচ্চাটি বাচে না, কারন বাচ্চাটিকে বাচাতে দুটি পুর্নবয়স্ক পাখির প্রয়োজন, সেজন্য ওয়াহুর এই কলোনীতে যে পুরুষ পাখিরা তাদের দীর্ঘমেয়াদী জুটির বাইরেও সঙ্গম করে তারা যারা এ কাজটি করেনা তাদের চেয়ে বেশী প্রজনন সাফল্য পায় (বেশী সন্তানের পিতা হওয়া ), তাই বেইলী এবং জুক মনে করেন এই কলোনীতে যে বিবর্তনীয় পরিনতিটা খেয়াল রাখতে হবে তা হলো, সেই সব পুরুষ পাখিদের বিবর্তন যারা তাদের নিজেদের জুটির বাইরেও মিলিত হয়; আর স্ত্রী পাখিদের ক্ষেত্রে দেখতে হবে তাদের এই সমলিঙ্গ সম্পর্ক সেই প্রক্রিয়াটিকে যার মাধ্যমে তারা দুটি ডিমের একটিকে বেছে নেয় পালার জন্য। ‍ বর্তমান গবেষনা বলছে এই সিদ্ধান্তটি রানডোম, যে জনসংখ্যায় শুধুমাত্র বিষমলিঙ্গর জুটি থাকে সেখানে স্ত্রী পাখীদের তাদের নিজেদের ডিম শনাক্ত করার কোন প্রয়োজন পড়ে না, সে কারনে এ ধরনের কোন ক্ষমতা বিবর্তিতও হয়নি। কিন্তু কল্পনা করা যেতে পারে এমন কোন মিউটেশনের আবির্ভাব হলো, যেখানে স্ত্রী পাখীরা তাদের জুটিদে নিজেদের ডিম চিনতে সক্ষম হলো, এই মিউটেশন পুরো জনসংখ্যায় বিস্তৃত হবে এবং এই স্ত্রী পাখীদের এই সমলিঙ্গ সম্পর্কে প্রকৃতিটা বদলে দেবে সহযোগিতার চেয়ে আরো বেশী দ্বন্দের দিকে।


হাওয়াই এর কাওয়ানা পয়েন্টে একটি স্ত্রী লেসান আলব্যাট্রস জুটি; ছবি: Lindsay C. Young,  (http://graphics8.nytimes.com/images/2010/04/04/magazine/04animals-span/04animals-span-popup.jpg)

একটা  সম্ভাবনা হচ্ছে স্ত্রী পাখিদের এই সমলিঙ্গ জুটি বাধা সম্ভাব্য  ফিটনেস বেনিফিটের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সিুতরাং পুরুষ পাখিদের জুটির বাইরে সঙ্গমেরর একটি প্রাকৃতিক নির্বাচনী সুবিধাও বাড়িয়ে দেয়। এটা ঘটার একটি কারন , যদি জনসংখ্যায় সবাই বিষমলিঙ্গর জুটি হতো বা এমনকি অতিরিক্ত মেয়েরা জুটির বাইরে থাকতো সেই অবস্থার চেয়ে জনসংখ্যায় সেইসব স্ত্রী পাখিদের আধিক্য, যারা কিনা জুটি বাইরে সঙ্গম এবং পরবর্তীতে বাচ্চার দেখাশোনা, দুটি কাজই করতে পারে। এছাড়াও সামাজিক বিচ্ছেদের পরিমানও কমে যেতে পারে যেখানে মেয়েরা  সমলিঙ্গ জুটি বাধার ক্ষেত্রে নমনীয় এবং বাচ্চাও উৎপাদন করে। সমলিঙ্গ জুটি বাধারে প্রক্রিয়া অতিরিক্ত স্ত্রী পাখিদের জনসংখ্যা থেকে সরিয়ে দেয়, না হলে যে পরিস্থিতিটি বিষমলিঙ্গ জুটিতে থাকা পুরুষদের উপর চাপ সৃষ্টি করতো, তাদের সঙ্গিনীকে ছেড়ে আসার জন্য। তাই জেনেটিক, হরমোনাল, বিবর্তনের যে কারনই থাক না কেন, স্ত্রী অ্যালবাট্রসদের সমলিঙ্গ জুটি বাধার প্রচলনের অবশ্যই কিছু বিবর্তনীয় পরিনতি আছে এই জনসংখ্যার উপর। যে কোন সময়েই, জনসংখ্যা পর্যায়ে এই পরিনতি নির্ভর করবে স্ত্রূী পাখিদের নমনীয়তা এবং জুটি বাধার আচরনে ভুমিকা রাখতে পারে এমন কোন ডেমোগ্রাফিক ফ্যাক্টর। উপরন্তু  এই সমলিঙ্গ জুটি বাধার গুরুত্ব  শুধু মাত্র অ্যালবাট্রসদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না, এধরনের ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে আরো বেশ কয়েকটি প্রজাতির মধ্যে , যেমন রোজিয়েট টার্ণস ( Sternus dougallii) এবং ক্যালিফোর্নিয়া গালস (Larus californicus)।


রোজিয়েট টার্ণস ( Sternus dougallii)( http://www.bbc.co.uk/tyne/content/images/2006/10/30/roseate_tern_470x314.jpg)


ক্যালিফোর্নিয়া গালস (Larus californicus); ( http://www.oiseaux-birds.com/dossiers-ornithos-photos/les-larides/parades-nuptiales/larides-par-nup-goel-calif-pair-tm.jpg

এটা স্পষ্ট যে, সমলিঙ্গ আচরন দেখা যায় এমন নানা ধরনের প্রানীদের ট্যাক্সায় বিবর্তনের উপর তাদের প্রভাব জানা ভবিষ্যত গবেষনার মুল বিষয় হতে পারে। এক ভাবে এটি করা যায়, তা হলো সমলিঙ্গ ভিত্তিক যৌন আচরনের কারনে কি কোন আইজিই বা IGEs (Indirect Genetical Effects) হচ্ছে কিনা? IGEs হয় যখন কোন একটি সদস্যর মধ্যে একটি জিনের এক্সপ্রেশল অন্য একটি সদস্যর ফেনোটাইপে পরিবর্তন আনে। এটা ঘটতে পারে যখন দুই সদস্যর মধ্যে সামাজিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বিদ্যমান, বা যখন কোন একজন সদস্য তার নিকটবর্তী পরিবেশকে এমন কোনভাবে পরিবর্তন করে যা কিনা অন্য সদস্যর ফেনোটাইপের উপর প্রভাব ফেলে। সমলিঙ্গ সম্পর্কের ক্ষেত্রে, কোন এক সদস্যর জিনের প্রভাব সরাসরি একই লিঙ্গের আরেক সদস্যর প্রতি তার যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রন করে, সেটি দ্বিতীয় সদস্যর উপর পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন দ্বিতীয় সদস্যর ক্ষেত্রে তার বেশী বা কম রিপ্রোডাকটিভ ফিটনেস দেখা যেতে পারে, যেমন অ্যালবাট্রস এবং ডাঙ্গ ফ্লাই এর ক্ষেত্রে দেখা যায় ( পূর্বে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে); সাম্প্রতিক  তাত্ত্বিক মডেল প্রস্তাব করছে IGEs পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে নাটকীয়ভাবে শক্তিশালী বা দুর্বল করতে পারে প্রাকৃতিক নির্বাচনী শক্তির প্রতি বিবর্তনের প্রতিক্রিয়াকে। এই অর্থে সমলিঙ্গ সম্পর্ক যেমন একটি ট্রেইট (trait) যার নির্বাচনী শক্তির মাধ্যমে একটি আকৃতি পায় এবং একটি শক্তি (Force)যা অন্যান্য কিছু ট্রেইট বা বৈশিষ্টের উপর প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রভাবকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে।

কোন কোন সমলিঙ্গ সম্পর্ককে IGEs হতে হলে, অবশ্য এর একটি হেরিটেবল বা বংশগতির ভিত্তি থাকতে হবে,  জীববিজ্ঞানীদের আপাতত জানা নেই, মানুষ নয় এমন প্রানীদের সমলিঙ্গ সম্পর্কর হেরিটেবল ভিত্তি সংক্রান্ত কোন প্রকাশিত গবেষনার কোন ফলাফল; কিন্তু মানুষের সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টশনের হেরিটেবল এস্টিমেটের পরিমাপ অনেক উচুতে প্রায় ০.৭৪ শতাংশ (বক্স ১); কোন একটি মডেল অরগানিজমে হেরিটেবল এস্টিমেট পরিমাপ করলে তা শুধু সমলিঙ্গ সম্পর্ককে শনাক্ত করবে না, যারা প্রাকৃতিক নির্বাচনের সম্ভাব্য টার্গেট হতে পারে, এছাড়া এটিও গবেষকদের সাহায্য করবে  IGEs কে সংযুক্ত করে কোয়ান্টিটিভ জেনেটিক মডেল ব্যবহার করে প্রেডিক্ট করতে সমলিঙ্গ সম্পর্ক সেই বিশেষ ট্রেইটের উপর নির্বাচনের শক্তিকে পরিবর্তন করতে পারে কিনা। এভাবে Dorsophila দের কোর্টশিপ ব্যাবহার,  বা আফ্রিকান ব্যাট ‌বাগ (Afrocimex constrictus) এর বিশেষ মরফোলজিক্যাল উপাঙ্গ যা উভয় লিঙ্গে পাওয়া যায় এবং তাদেরকে জোর করে শুক্রানু প্রবেশ করানো থেকে রক্ষা করে ( পুরুষ ব্যাট বাগরা স্ত্রী ব্যাট বাগের পেটের মধ্যে পেনিস ঢুকিয়ে শুক্রানু ছেড়ে দেয়, একে ট্রমাটিক ইনসেমিনেশন বলে)।


বক্স ১: মানুষের হোমোসেক্সুয়াল ওরিয়েন্টশন নিয়ে গবেষনা থেকে পাওয়া কিছু গুরুত্বপুর্ণ বিষয় (সুত্র:  সুত্র: Trends in Ecology and Evolution Vol.24 No.8 (বেইলী ্ এবং জুক), (বড় করে দেখতে এখানে ক্লিক করুন)

সমলিঙ্গ যৌন আচরন এবং সেক্সুয়াল সিলেকশন বা যৌন নির্বাচন: 

সেক্সুয়াল সিলেকশন বা যৌন নির্বাচনকে ব্যাখা করা যায়, প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে প্রতিযোগিতামুলক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বা ইন্টারঅ্যাকশন হিসাবে যা ফলাফল হিসাবে প্রজাতির প্রজনন সাফল্যের হারে বৈচিত্রতা  বৃদ্ধি  হয়, এবং সেকারনে প্রজাতির সদস্যদের রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেসেও বৈচিত্রতাও সৃষ্টি করে। সেক্সুয়াল সিলেকশন প্রকাশ পায় দুইভাবে, সঙ্গী পাওয়ার জন্য প্রজাতির একই লিঙ্গর সদস্যদের মধ্যে বা ইন্ট্রাসেক্সুয়াল প্রতিযোগিতা (Intrasexual)হিসাবে অথবা অথবা সঙ্গি পছন্দ করার সময় ভিন্ন লিঙ্গর সদস্যদের বা ইন্টারসেক্সুয়াল (Intersexual) নির্বাচন  হিসাবে। এবং এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি বিবর্তনের একটি অন্যতম চালিকা শক্তি। এছাড়া প্রানী জগতে দৃশ্যমান নানা ধরনের বিশেষ শারীরিক অস্ত্র সম্ভার ( যেমন ইন্ট্রাসেক্সুয়াল নির্বাচনের ক্ষেত্রে, অন্তঃ লিঙ্গ দ্বন্দ) অথবা বিশেষ শারীরিক সজ্জা বা অর্ণামেন্ট ( যেমন, আন্তঃ লিঙ্গ দ্বন্দ বা ইন্টারসেক্সুয়াল নির্বাচনের ক্ষেত্রে) বিবর্তন ও বৈশিষ্টগুলোর রক্ষনাবেক্ষনে । যেহেতু সেক্সুয়াল সিলেকশন এর প্রকৃতি ইন্টারঅ্যাকটিভ এজন্য সমলিঙ্গ যৌন আচরন যৌন নির্বাচনের পরিনতিকে প্রভাবিত করতে পারে অপেক্ষাকৃত পরোক্ষ বা ইনটুইটিভ একটা উপায়ে। যেমন: কোন কোন ক্ষেত্রে সমলিঙ্গ সম্পর্ক দেখা যাচ্ছে আগ্রাসী বা প্রাধান্য বিস্তারকারী ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া; বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে। তেলাপোকাদের অনেক প্রজাতির মধ্যে দেখা যায় পুরুষ তেলাপোকারা অন্য পুরুষ তেলাপোকাকে তাদের উপর মাউন্টিং এর জন্য উত্তেজিত করে, ঠিক প্রচলিত কোর্টশিপ ব্যাবহারের মাধ্যমে অথবা তারা স্ত্রী তেলাপোকাদের মতই আচরন করে এবং কোর্ট করা পুরুষদের উপরে মাউন্ট করে। এধরনের ‘সিউডোফিমেল’  আচরন  আপাত দৃষ্টিতে এমন আচরনকারী পুরুষদের প্রজনন ফিটনেস বাড়িয়ে দেয়, কারন স্থানচ্যুত হওয়া পুরুষদের জায়গায় তাদের কোর্ট করা স্ত্রৗ তেলাপোকাদের সাথে সঙ্গম করার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।যদি হেরিটেবল কোন জেনেটিক অংশ এই সব আচরনের ভিত্তি হয়ে থাকে; তাহলে নেট ইফেক্ট হিসাবে দেখা যাবে, এধরনের কোন ইন্টার অ্যাকশনের সংশ্লিষ্ট ট্রেইটগুলোর নির্বাচনী শক্তির প্রতি প্রতিক্রিয়া বাড়ানো বা কমানোর মধ্যে।

প্রাধান্য বিস্তারকারী কর্মকান্ডের চ্যানেল হিসাবে এধরনের সম্পর্ক অন্য প্রজাতি, যেমন ডাঙ্গ ফ্লাই এর মধ্যেও দেখা গেছে। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন কোন আগ্রাসনের আচরন হিসাবে এধরনের কোন ব্যবহার হয়তো বিবর্তিত হয়নি, যেমন, পুরুষ ডেজার্ট লোকাষ্ট (Schistocerca gregaria) এবং পুরুষ ওয়াস্প (Lariophagus distinguendus)দের পুরুষ সমলিঙ্গ যৌন আচরনের প্রচেষ্টার একই রকমভাবে অসুবিধাজনক। এইসব আচরনের ফলাফল, তাদের বিবর্তনের যে কারনেই থাক না কেন, পুরুষদের জন্য অনাকাঙ্খিত কোর্টশীপ প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য নির্বাচিত হয়। লোকাষ্ট এবং ওয়াস্পদের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো একটি বিশেষ ফেরোমেন নিঃসরণ করা যাতে অন্য পুরুষদের সমলিঙ্গ কোর্টশিপকে অনুৎসাহিত করে। এর ব্যাখ্যাটা হচ্ছে পুরুষ লোকাষ্টরা  লোকাষ্টদের গনসঙ্গমের বিশৃঙ্খলার সময় মাঝে মাঝে অ্ন্য পুরুষদের সাথে মিলনের জন্য মাউন্ট করে, যার ফলে তারা স্ত্রী লোকাষ্টদের সাথে সঙ্গম করা থেকে বঞ্চিত হয় এমনকি শুধু খাওয়ার সুযোগও হারায়। কিন্তু তারা এই ঘটনাটি না ঘটার জন্য যে ব্যবস্থা নেয় তা হলো, ফিনাইলঅ্যাসিটোনাইট্রাইল নামে একটি ফেরোমোন প্রচুর পরিমানে নি:সৃত করে। শুধু মাত্র এই সমলিঙ্গ আচরনের সম্ভাবনা তা যে কারনে‌ হোক না কেন, পুরুষদের মধ্যে এই ফেরোমেন নি;সরনের বৈশিষ্টটি বিবর্তনে সহায়তা করেছে, যা ঠিক সময় মত তারা নিঃসরন করে সমলিঙ্গ মাউন্টিং কে প্রতিরোধ করতে।

একারনে এটা কি আদৌ যুক্তিসঙ্গত  হবে, সমলিঙ্গ আচরনগুলোকে  অন্য কোন আচরন থেকে পৃথক করে ভাবা বা কোন মরফোলজিক্যাল ট্রেইট যা কিনা ইন্ট্রাসেক্স বা অন্তঃলিঙ্গীয় আগ্রাসনের মধ্যস্থতা করে?  শুধু মাত্র একটাই পার্থক্য তা হলো এদের আচরনটা যৌন প্রকৃতির; তারা সাধারনত: বিষমলিঙ্গ যৌন আচরনে বা প্রজনন ক্রিয়ায় ব্যবহৃত হতো কিন্তু তা না হয়ে অন্য একটা কাজে ব্যবহার করার জন্য কো-অপ্ট করেছে বিবর্তন প্রক্রিয়া। এভাবেই সমলিঙ্গ সম্পর্কর বিবর্তনীয় উৎসগুলোকে তাদের বর্তমান কাজেগুলো থেকে ডিকাপল বা পৃথক করা সম্ভব।  সমলিঙ্গ আচরন, অন্য কোন বৈশিষ্টের উপর কাজ করা প্রাকৃতিক নির্বাচনের বাই প্রোডাক্ট, নাকি জেনেটিক ড্রিফ্ট , বা নির্বাচনের শক্তির প্রভাবে বহু মিলিয়ন বছরের মাধ্যমে গড়ে ওঠা কোন অভিযোজনীয় কৌশল, উৎস যেটাই হোক তাতে কিছু যায় আসে না। তাদের উৎপত্তির স্বতন্ত্র কারন যাই থাকনা কেন তাদের বিবর্তনীয় পরিনতি কিন্তু হতে পারে একই। আর এটাই সমলিঙ্গ সম্পর্কর একটি কেন্দ্রীয় বৈশিষ্টকে ব্যাখ্যা করে: সমলিঙ্গ সম্পর্ক নমনীয়তার সাথে বা ফ্লেক্সিবল ভাবে নানা পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয়। যেমন: বিকল্প প্রজনন কৌশল হিসাবে, কিংবা সমবায়ী প্রজনন কৌশল হিসাবে, বা সামাজিক বন্ধনসৃষ্টির একটি উপায় অথবা অন্তঃলিঙ্গ বা ইন্ট্রাসেক্সুয়াল সংঘর্ষ নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে। যখন  এই ফ্লেক্সিবিলিটি স্থায়ী হয়ে যায়, এটি নিজেই একটি স্বতন্ত্র ও পরিপুর্ণ প্রাকৃতিক নির্বাচনের শক্তি হিসাবে কাজ করে, যা শারীরবৃত্তীয় অন্য প্রক্রিয়াগুলো, জীবন চক্র, সামাজিক আচরন ‍এমনকি বাহ্যিক বৈশিষ্ট বা মরফোলজি নির্বাচনকেও নিয়ন্ত্রনে করতে পারে।

পরিশেষে:

অনেকের কাছেই প্রানীজগতে সর্বব্যাপী সমলিঙ্গ সম্পর্কর বিষয়টি শুধুমাত্র অ্যাকাডেমিক আগ্রহে সীমাবদ্ভ  নয়। ১৯৯৯ সালে ব্রুস বাজেমিহল তার বিখ্যাত বই Biological Exuberance: Animal Homosexuality and Natural Diversity এ প্রায় ৪৫০ প্রজাতির প্রানীদের মধ্যে সমলিঙ্গ সম্পর্কের কথা লিপিবদ্ধ করেছিলেন, এবং প্রায়শই বইটিকে রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহৃত করা হয় বিভিন্ন মিডিয়া আর্টিকেল এবং ওয়েবসাইটে, বিশেষ করে সমকামীদের অধিকার সংক্রান্ত প্রসঙ্গগুলো নিয়ে যারা কথা বলেন। আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনও এটিকে রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রীম কোর্টে  প্রমান দাখিল করার সময়, যখন ২০০৩ সালে গে রাইট  কেস Lawrence Vs. Texas এর সময়, যা টেক্সাসে সমকামী সডমি বিরোধী আইনকে বাতিল করে দেয়। জীববিজ্ঞানীরা কাছে এটা খুবই গুরুত্বপুর্ন যে প্রানী জগতে গবেষনার বৈজ্ঞানিক অবদানগুলো যেন বিতর্ক সৃষ্টি না করে বরং সমলিঙ্গ সম্পর্ক সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞানকে প্রসারিত করে। একারনে এ বিষয়ে ভবিষ্যত গবেষনার একটা প্রতিশ্রুতিময় দিক নির্দেশনা এবং সম্ভাব্য সমস্যগুলো আগে থেকে চিহ্নিত করতে পারলে বিষয়টি সবার জন্যই মঙ্গলজনক হবে, বিশেষ করে যখন এই গবেষনার ক্ষেত্রটি ধীরে ধীরে ম্যাচিউর হচ্ছে।

সমলিঙ্গ সম্পর্কর উৎস এবং এর রক্ষনাবেক্ষনের বিবর্তনীয় ব্যাখ্যাটি গবেষকরা ইতিমধ্যেই ভালো করে বুঝতে শুরু করেছেন। বিজ্ঞানীরা এখন  চাচ্ছেন গবেষনার পরিধিটা বাড়িয়ে সমলিঙ্গ সম্পর্কর বিবর্তনীয় পরিনতিতে এর আয়ত্ত্বে নিয়ে আসা। অসংখ্য ট্যাক্সোনোমিক গ্রুপের প্রানীদের মধ্যে সমলিঙ্গ সম্পর্ক দেখা যায়, এবং এ ধরনের আচরনের উৎপত্তির প্রক্রিয়া আর এর ফলাফল বিভিন্ন প্রজাতিদের মধ্যে ভিন্ন। তাদের প্রক্সিমেট বা বিবর্তনীয় কারন যাই থাক না কেন এ্ই আচরনগুলো সম্ভাব্য প্রাকৃতিক নির্বাচনী শক্তির এজেন্ট হিসাবে দেখে এবং তাদের বিবর্তনীয় ফলাফলগুলো নিয়ে গবেষনা করলে প্রানী জগতের বেশ কিছু সামাজিক আচরনের পেছনের মুলনীতিগুলোর সম্বন্ধে আমরা একটি স্বচ্ছ ধারনা পাবো, যেমন: কোঅপেরেটিভ ব্রিডিং, আগ্রাসন, সংঘর্ষ এবং যৌন নির্বাচন।

বেশ অনেকগুলো অ্যাপ্রোচকে প্রতিশ্রুতিময় হিসাবে চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রথমত, মানুষের যৌনআচরন নিয়ে গবেষনা করছেন এমন গবেষকদের এবং প্রানীদের আচরণ নিয়ে কাজ করছেন এমন গবেষকদের মধ্যে বাড়তি যোগাযোগ উভয় ক্ষেত্রের গবেষনাকে সমৃদ্ধ করবে। আর দুই ক্ষেত্র কার্যকরী উপায়ে যোগাযোগ করতে সফল হবে যদি গবেষনা ফলাফলকে রাজনীতিকরন  করা না হয় এবং যখন আদৌও সামন্জ্ঞস্যপুর্ন নয় তখন  মানুষের  সেক্সুয়াল আইডেন্টিটির সাথে প্রানীদের তুলনা টেনে আনাটা বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়। দ্বিতীয়ত: ইনডাইরেক্ট জেনেটিক ইফেক্ট যুক্ত মডেল গুলোই বিশেষভাবে কার্যরকরী হবে প্রাকৃতিক নির্বাচনের উপর সমলিঙ্গ সম্পর্কগুলোর প্রভাবের পরিমাপ ও দিক সম্বন্ধে জানার ক্ষেত্রে। বিশেষ করে রিপ্রোডাক্টিভ আইসোলেশনের সাথে সংযুক্ত ট্রেইটগুলোর উপর এরা কোন প্রভাব ফেলে সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে পারলে। তৃতীয়ত: এবং দ্বিতীয় অ্যাপ্রোচটির মুল: সমলিঙ্গ সম্পর্কের প্রবনতার হেরিটেবিলিটি এস্টিমেট মাপাটা এদের মুল প্রভাবকে পরিমাপ করার জন্য আবশ্যকীয়। ল্যাবরেটরীতে কোন মডেল অর্গানিজমের মধ্যে এ ধরনের গবেষনা করে এই তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে যারা সমলিঙ্গ আচরন করে বলে ইতিপুর্বেই প্রমানিত হয়েছে। এবং পরিশেষে এই সব অ্যাপ্রোচগুলোর সমন্বয় করার জন্য টেকনিকগুলো যা ইতিপুর্বে অন্যান্য আচরনের বিবর্তনীয় ফলাফল পরিমাপের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে  যেমন কোয়ান্টেটিভ জেনেটিক এবং এক্সপেরিমেন্টাল এভ্যুলেশন স্টাডি; যাদের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, কেমন করে সমলিঙ্গ ভিত্তিক যৌণ আচরনগুলো সামাজিক বিবর্তন এবং জেনেটিক এবং ফেনোটাইপিক বৈচিত্রতার অবদান রাখে কিংবা হয়তো রাখে না, এ সম্বন্ধে তাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে পারবেন।

 

Advertisements
প্রাণীজগতে সমলিঙ্গ যৌন আচরণ এবং বিবর্তন:

11 thoughts on “প্রাণীজগতে সমলিঙ্গ যৌন আচরণ এবং বিবর্তন:

  1. মানুষের বাইরে ট্রান্স আর হোমোসেক্সুয়াল প্রাণীদের ব্যাপারে আগে শুনেছি বলে মনে করতে পারিনা। প্রানী থেকে নির্দিষ্ট করে মানুষের কথায় আসি। সাধারণ ক্ষেত্রে তাদের সাথে প্রচন্ন্ড বৈষম্যের আচরণ করা হয় বলে দেখেছি আমাদের দেশে। আমাদের দেশে তো বটেই, হয়ত অনেক উন্নত দেশেও। তাদের সাহচর্যও অনভিপ্রেত হয়ে দাঁড়ায় অনেক ক্ষেত্রে। এটা একটা প্রশ্ন হয়ে ছিল, এটা কি তাদের অভ্যাসগত অপরাধ, নাকি জন্মগত কোন সমস্যা(?); ওমেন্স ইউনিভার্সিটি অব এশিয়ায় আমার পরিচিত একজন এদের পরিস্থিতি ও নানা সমস্যা নিয়ে কাজ করছে।তাঁর কাছে একদিন ব্যাপারটা জানতে চাইলাম। যদ্দূর মনে আছে, ও বললো, এটা জন্মগত আবার পরিবেশগত উভয় কারণেই হতে পারে। সেক্ষেত্রে ধর্মীয় রীতিনীতি তাদের ক্ষেত্রে বৈষম্য দেখাচ্ছে বলে আমার মনে হয়। অন্তত জন্মের দায় তো কেউ নিতে পারে না।

    আমার ধারনা পহেলা বৈশাখ, বিয়ে, নতুন সন্তানের জন্মের দিনগুলো সহ আরো নানা সময়ে যে অনভিপ্রেত মানুষগুলোকে দেখে আমরা রসিকতা করি, ক্ষেত্রবিশেষে
    বিব্রত হই, দুর্ব্যাবহার করি, সমাজে তাদের অংশগ্রহণ স্বাভাবিক ও সুন্দর করা যায়, যদি আমরা তাদের জন্য স্বাভাবিক পরিবেশ গড়ে দিতে পারতাম।

    1. প্রানীজগতে সমলিঙ্গ আচরন বেশ ব্যাপক, ১৯৯৯ এ Bruce Bagemihl এর Biological exuberance এ প্রায় ১৫০০ প্রজাতির কথা এসেছে; ৭০ এর দশকে যখন জাপানী ম্যাকাক নিয়ে গবেষনা করার সময় যখন বায়োলজিস্ট লিন্ডা উলফ, ম্যাকাকদের মধ্যে সমলিঙ্গ আচরনের কথা উল্লেখ করেন, কেউই খুশী হয়নি। তারপরতো আরো কত প্রানী, যেমন ডলফিন, বনোবো, পেঙ্গুইন, হায়না, বল্ড ঈগল আরো অনেক প্রানী। একেক প্রজাতিতে এদের কারনও ভ্ন্নি। মানুষের মধ্যে সমলিঙ্গ সম্পর্কটায় অনেকগুলো স্তর আছে,থাকার কথা কারন মানুষের কগনিটিভ ক্ষমতাও অনেক বেশী। প্রানীদের আচরনের ক্ষেত্রে সেক্সুয়াল আইডেন্টিটি, প্রেফারেন্স বা ওরিয়েন্টেশন এসব ব্যাপার গুলো বোঝা যায়না, আচরনগুলো Observe করা যায় শুধু, এর পর প্রোবাবল কারনগুলোর কিছু টেস্টেবল প্রেডিকশনের হাইপোথেসিস দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়।

      মাসুম,

      মানুষের মধ্যে যারা সমকামী হয় এটা তাদের প্রকৃতি, এটাকে অপরাধ বানানোর কাজটা করেছে ধর্ম আর সমাজ, যা প্রভাবিত করেছে এ সংক্রান্ত আইনগুলোকে; সমকামীতা কোন ধরনের মানসিক সমস্যা না, সামাজিক ভাবে এ আচরনটিকে মার্জিনালাইজড করা হয়েছে প্রায় সারা বিশ্বে, কিন্তু অনেক দেশে যখনই আইন এ বিষয়ে বিজ্ঞানের কাছ থেকে ইনফর্মড হয়েছে সেখানে পরিস্থিতি খানিকটা বদলেছে; কিন্তু বিজ্ঞান বা গবেষনাকে সমাজে সামনে এগুনোর কাজে লাগানোর প্রক্রিয়াটা সব জায়গায় সমান না। আমাদের অনেক ভুল ধারনা আছে এ সম্বন্ধে; সমকামীতা বেশ কিছু অ্যাডাপটিভ ব্যাখ্যা আছে (টেবিল ২ বা বক্স ১), মানুষের ক্ষেত্রে এ গবেষনা বলছে হেরিটিবিলিটি একটা ফ্যাক্টর, তার মানে জিনের কিছু ভুমিকা আছে, তবে এখনও তা পুরোপুরি জানা যায়নি। সমকামীদের সাথে বিষমকামীদের সেক্সুয়াল প্রেফারেন্সের বা ওরিয়েন্টেশনের কারন যেমন ব্রেন,জেনেটিক, সামাজিক ফ্যাক্টর ইত্যাদি, এখনও কোন ঐক্যমতে পৌছানো সম্ভব হয়নি। আমাদের আইনে সডমি অপরাধ, যা এসেছে ব্রিটিশদের থেকে, এছাড়া ধর্মীয় নীতিতে এর অবস্থান স্পষ্ট, সেকারনে পৃথিবীর অনেক সমাজের মত আমাদের সমাজে ব্যাপারটা এভাবে মার্জিনালাইজড হয়ে আছে;আমাদের দেশে যারা এমএসএম (MSM)men who have sex with men, নিয়ে কাজ করছেন বিশেষ করে যৌন স্বাস্হ্য দেবার ব্যাপারে তারা জানেন পরিস্থিতিটা কোথায়।

      শেষের দিকে তুমি কি হিজড়া দের কথা বলছো,যারা ট্রান্সজেন্ডার?

      সমকামীদের সবাই কিন্তু ট্রান্সজেন্ডার না। তাদের অনেকেই হয়তো বিষমকামী রুপে তাদের জীবন কাটিয়ে দেয় আমাদের সমাজে। আর দশটা মানুষের মতই তারা। কোন পার্থক্য নেই। পার্থক্যটা তৈরী করছে অন্য একটা শক্তি।

  2. আচ্ছা, প্রানীদের ও পতঙ্গের সাইকোলজির সাথে মিলিয়ে মানুষের সাইকোলজির কতটুকু স্টাডি করা সম্ভব? প্রশ্নটা হয়ত ঠিক গুছিয়ে করতে পারছি না।

    প্রানীরা যেভাবে চিন্তা করে সেটা কতটুকু মাত্রায় মানুষের চিন্তা ভাবনার ধরন প্রকাশে কাজে আসতে পারে?আমরা যেভাবে ক্ষুধা, লোভ, সৌন্দর্য, শান্তি দেখে তাড়িত হই তারাও তো একইরকম হয় বলেই মনে হয়। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে সুইসাইডিয়াল একটিভিটি পর্যন্ত দেখা যায়। মূল পার্থক্য তাহলে কোথায়? এটাই কি, যে আমরা আমাদের ব্রেনের ব্যবহার তাদের চেয়ে বেশি করতে পারি।

    মানুষের বাইরে অন্যান্য প্রানী ও পতঙ্গগুলোর চিন্তাভাবনাকে কতটুকু রুটিন করা সম্ভব? আমরা হয়ত অনেক সিদ্ধান্ত নেই যা অনেক সময় আমাদের কাছেই অযৌক্তিক। প্রানীদের ক্ষেত্রে কি সেরকম কিছু হয়? নাকি তাদের সব চিন্তা ও কাজ সুনির্দিষ্ট ছক কাঁটা?

    1. প্রথমত মানুষের কগনিটিভ এবং সাইকোলজীক্যাল অ্যাবিলিটির সাথে আর কোন প্রানীকে সমান্তরালে আনা যাবে না। আনা আসলে হয়ও না। আমাদের ব্রেনের গঠন আর কারো মত না, আমাদের অ্যাবস্ট্রাক্ট কনসেপ্ট আর সিমবোলিজম কাজ করে সেটা আর কারো মধ্যে নেই;যাদের এর কিছুটা আছে, যেমন প্রাইমেট, তাদের উপর এই আচরনগুলো দেখা হয় শুধু কোন টেস্টেবল প্রেডিকশনের হাইপোথেসিসের কনটেক্সট এ। কারন আমাদের মধ্যে যে আচরন সুক্ষতা পেয়েছে, তার আগের ধাপগুলো বুঝতে হলে আমাদের সেদিকে যেতেই হবে। পৃথিবীর সব প্রানী সম্পর্কযুক্ত, এককোষী ব্যাকটেরিয়ার জিনও আমাদের সাথে সাদৃশ্যময়তা আছে। তাদের সারভাইভাল প্রবৃত্তিটা আমাদেরও আছে, কিন্তু মানুষের এর সাথে যোগ হয়েছে কালচার, আমাদের প্রি ফ্রন্টাল কর্টেক্স এর কল্যানে। প্রানীদের অনেক আচরনেরও সম্ভাব্য ব্যাখ্যা আছে , বন্দী দশা আর তাদের নিজেদের পরিবেশে প্রানীদের আচরনও ভিন্ন। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই তা আলাদা। প্রানীরা অনেক কাজই তাদের সার্ভাভাইল প্রবৃত্তির মাধ্যমে করে, এখানে চিন্তা বা থিওরী অব মাইন্ড অ্যাপ্লাই করা যাবে না। যদিও অনেক ক্ষেত্রেই করা হয়। এখনও অবধি এই চিন্তার অস্তিত্ত্ব পাওয়া যায়নি, যত ইলাবরেট কাজই হোক না কেন, এটা তাদের প্রবৃত্তি, যা আমাদেরও আছে ….

  3. ছবিগুলো অশলীল … অশলীল … বিশেষ করে সিংহের … :p :p

    এই প্রসঙ্গটা আমার একেবারেই অজানা ছিলো। অ্যাডাপটিভ ব্যাখ্যাগুলো ইন্টারেস্টিং লেগেছে। আশা করি সামনে এ বিষয়গুলো আরো স্পষ্ট করে বোঝা যাবে।

  4. অশ্লীল… তাই নাকি? কিন্ত কেন? সিংহের পজিশনটা স্পষ্টত: বায়োলজিক্যাল; অ্যানোটমিক্যালী এ অবস্থায় কিছু করা সম্ভব না।

    এখন পর্যন্ত যতটুকু বিজ্ঞানীদের জানা আছে, তার সবটুকুও এই লেখার পরিসরে আনা সম্ভব হয়নি।

  5. অজ্ঞাত বলেছেন:

    জানি না ঠিক হবে কিনা…কিন্তু বলতেই হল আমি কিছু বুঝি নাই…অনেক জটিল কথাবারতা…:( if it is possible give a simple and understandable post…

    1. ধন্যবাদ মন্তব্যর জন্য। হ্যা জটিল কথাবার্তা..মনে হতে পারে হয়তো, আমার তা মনে হয়নি, আর পরের অনুরোধটা রাখা আমার পক্ষে সম্ভব না, আমি আমার পাঠকদের নির্বোধ ভাবতে পারি না, আমার ধারণা আপনার কিছুটা পুর্ব প্রস্তুতি সহায়তা করবে এটা বোঝার জন্য। আর জটিল কোন বিষয় মনে হলে প্রশ্ন রেখে যাবেন, আমি যদি পারি উত্তর দেবো।

  6. দুর্দান্ত! আমার বইটাতেও বিবর্তনীয় চোখে সমকামিতার ব্যাখ্যা হাজির করার প্রচেষ্টা ছিল। আপনার লেখাগুলো তখন পেলে আর আমারগুলো লেখার দরকার পড়ত না। 🙂

    1. অনেক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যটির জন্য।
      আপনার অসাধারণ দারুন প্রয়োজনীয় বইটা আমি অনলাইনে পড়া শুরু করেছি আবার, আগেও পড়েছি। দেশে গেলে কিনে নেবো। কোন সন্দেহ নেই বইটি আপনার ব্যাপক গবেষনার ফসল।আপনার মত একজন সুলেখক আমাদের জন্য সত্যি গর্বের। এই বিষয়ে এমন একটি বই আমাদের বাংলা ভাষায় কল্পনাতীত ছিল আমি বলবো, আপনি তা করে দেখালেন। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s