টলস্টয়, ইয়াসনায়া পলিয়ানা এবং দি প্লেস অব গ্রীন ওয়ান্ড


লিও নিকোলায়েভিচ টলষ্টয় (সেপ্টেম্বর ৯, ১৮২৮ -নভেম্বর ১০, ১৯২০) : ১৯০৮ সালে ইয়াসনায়া পলিয়ানায় টলস্টয় এর এই রঙ্গীন ফটোগ্রাফটি তোলেন বিখ্যাত রুশ ফটোগ্রাফার প্রকুদিন-গোরস্কী)

লেখাটি আসলে টলস্টয়কে নিয়ে তা বলা যাবে না। টলস্টয়কে নিয়ে লেখার দুঃসাহস আমার আপাততঃ নেই। এই মুহুর্তে লেখার মুল কারনটা লেখার শেষাংশে থাকুক।

তারপরও সামান্য কিছু কথা বলতেই হবে। কারন আমার জীবনের বিশাল একটা অংশ জুড়ে আছে রুশ সাহিত্য। তখন স্ট্যান্ডার্ড পাবলিশার্স বলে একটি দোকান ছিল যারা রুশ সাহিত্যের  দিকপালদের সব বই অনেক কম দামে বিক্রি করতেন। মস্কোর রাদুগা প্রকাশনী তখন এই বইগুলো প্রকাশ করতো। ১৯৮০ সালে অন্য অনেকের মত আমার শুরু গোর্কির মা দিয়ে। ক্লাস সিক্সে আমার মা‘র উপহার। ১৯৮৭ তে ঢাকা আসার পর সৌভাগ্যক্রমে আমার জায়গা হয় আমার বোনের বাসায়, ধানমন্ডীতে। আমি বোধহয় ১৫ দিনের মাথায় ধানমন্ডীর রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে মেম্বার হয়ে যাই তাদের লাইব্রেরীর জন্য। ভর্তি পরীক্ষার পড়া বাদ দিয়ে আমি একটা পর একটা বই ‍নিয়ে পড়ে থাকতাম। পরে আমার চোখের সামনেই লাইব্রেরীটা শেষ হয়ে যেতে থাকি। সেই লাইব্রেরীর স্মৃতি চিহ্ন, চেকভের চারখন্ড আর তুর্গেনিভের একটি সংগ্রহ আজো আমার কাছে আছে।

১৯৮০ থেকে আমার রুশ সাহিত্য সংগ্রহের অভিযান শুরু হয়। আমার ছোট লাইব্রেরীতে সেই সময়ে প্রকাশিত রুশ সাহিত্যের প্রায় সবারই বই আছে..পুশকিন,টলস্টয়,দষ্তয়েভস্কি, গোগোল, তুর্গেনিভ, গোর্কি, চেকভ, শলোকভ.. আরো অনেকে। রাদুগার ইংরেজী অনুবাদ হয়তো তাদের মুল রুশ ভাষাকে ছুতে পারেনি, কিন্তু তারপরও যারা রুশ সাহিত্য পড়েছেন তারা জানেন কত অসাধারন হতে পারে তাদের লেখা। যারা গদ্য লেখেন তাদের জন্য অপরিহার্য এদের বই পড়া (এটা অবশ্য আমার একেবারে নিজস্ব মতামত… ), আর না ….এ পর্যন্ত থাক। মুল লেখায় ফিরে যাই।

টলস্টয় এর প্রাণপ্রিয় জন্মস্থান, ইয়াসনায়া পলিয়ানা‘র ছবি আমি প্রথম দেখি ১৯৮৬ সালের একটি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একটি সংখ্যায় । আমি তখন কলেজের প্রথম বর্ষে। মস্কো থেকে ২০০ কি মি দুরে তুলা শহরের ১২ কি মি দক্ষিন পশ্চিমে অবস্থিত ইয়াসনায়া পলিয়ানা টলস্টয়ের পারিবারিক এস্টেটের নাম। এখানেই তাঁর জন্ম হয়, এবং এখানেই তিনি তার দুটি বিখ্যাত উপন্যাস ’ওয়ার অ্যান্ড পিস’ এবং ’আনা কারেনিনা’ লেখেন। আর এখানের মাটিতে তিনি চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন।  ১৯২১ সালে এটিকে মিউজিয়ামে রুপান্তরিত করা হয়।


ইয়াসনায়া পলিয়ানা: টলস্টয়ের বাড়ী, তাঁর বাবার বানানো, এখানেই জন্ম হয়েছিল তাঁর ( Wikimedia)

কিন্তু ১৯৮৬ সালের সেই ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে যে ছবিটা সবচেয়ে বেশী মন কেড়েছিল তা হলো টলস্টয়ের খুব সাদামাটা ঘাসে ঢাকা কবরটা। কেন জানিনা খুব ক্লান্ত হলে আমার এই কবরটার কথা সবসময় মনে পড়ে। সেই কবরটার ছবি সবার সাথে শেয়ার করার জন্য আমার এই সামান্য লেখা। আমার খুব ইচ্ছা আমি একদিন সেখানে যাবো।

মারা যাবার অনেক আগেই টলস্টয় এখানে তাঁর কবর হবে তা ঠিক করে রেখেছিলেন। খুব প্রিয় জায়গা ছিল এটি তাঁর। বড় ভাই নিকোলাই বনের মধ্যে এই ছোট খালি জায়গার নাম দিয়েছিলেন, The place of Green wand বা সবুজ যাদুর কাঠির জায়গা, নিকোলাই তার ছোট ভাইকে বলেছিল, এখানেই সবুজ যাদুর কাঠি লুকানো আছে, যে খুজে পাবে তার কোনদিন অসুখ হবেনা, সে কখনো মারা যাবে না। এর চারপাশে যে গাছগুলো আছে তারাও অনেক প্রাচীন। তার পিতামহের সময় থেকে সেখানে গাছ কাটা ছিল নিষিদ্ধ। এখানেই গাছের ছায়ায় অন্ধকারে বসে তার ভাইয়ের সাথে গল্প করতে ভালোবাসতেন টলস্টয়।

সবুজ জাদুর কাঠি টলস্টয় ঠিকই খুজে পেয়েছিলেন।


এখানেই শুয়ে আছেন টলস্টয়, তার প্রিয় দি প্লেস অব গ্রীন ওয়ান্ড এ (ইয়াসনায়া পলিয়ানা)( Wikimedia)

পরিশেষে….

প্রথমে আমার বাবার কাছে শুনেছিলাম, পরে নিজে টলস্টয় এর একটা গল্প পড়েছিলাম… আমার মনে হয় আপনারা সবাই সেই গল্পটা জানেন, নাম ছিল  How much land does a man require?

আসলেই হিংসা,লোভ, ঘৃণায় ভরা এই পৃথিবীতে টলস্টয় আজো প্রশ্ন করেন…

আমাদের আসলে কতটুকু জমি দরকার….

( সেপ্টেম্বর ৯ তারিখ ছিল টলস্টয় এর জন্মদিন…. আমার শ্রদ্ধা)

Advertisements
টলস্টয়, ইয়াসনায়া পলিয়ানা এবং দি প্লেস অব গ্রীন ওয়ান্ড

8 thoughts on “টলস্টয়, ইয়াসনায়া পলিয়ানা এবং দি প্লেস অব গ্রীন ওয়ান্ড

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s