আমাদের শরীরে ঘর বাধে এমন কিছু অতি ক্ষুদ্র পরজীবি কীট:


শীর্ষ ছবি: আইল্যাশ মাইট  (সুত্র:eyelash mite; Andrew Syred, Photo Researchers, Inc. নোভা সায়েন্স নাও)

(কেট বেকারের একটি স্লাইড শো Bugs that live on you  কিছুটা পরিবর্ধিত করে : কেট বেকার নোভা এবং নোভা সায়েন্স নাউ এর গবেষক এবং নোভা ব্লগের একজন নিয়মিত ব্লগার)

আপনার মাথা থেকে পা পর্যন্ত্য, সমস্ত শরীর আসলেই একটা অগনিত আনুবীক্ষনীক প্রাণীদের (যাদের সিংহ ভাগই ব্যাক্টেরিয়া) জঙ্গলের মত। এদের কেউ কেউ ক্ষনিকের অতিথি, কেউবা স্থায়ী বাসিন্দা । পছন্দ করি বা না করি আমাদের দেহ কিন্তু অনেক ক্ষুদ্র পরজীবি কীটের বসবাসের জন্য আদর্শ পরিবেশ। শত সহস্র বছর ধরে এই প্রানীরা আমাদের দেহকে নিজেদের ‘বাসভুমি’ বা নিদেনপক্ষে  ‘খাদ্য’ বানিয়েছে। নিচের স্লাইডগুলোতে যদিও তাদের সবার কথা বলা সম্ভব হয়নি। কিন্ত এগুলো আপনাকে একটা ধারনা দেবে কোন কোন পরজীবি খাদ্য হিসাবে আপনার স্বাদ নিচ্ছে:


মাথার উকুন (Head Louse):


মাথার উকুন (সুত্র: Eye of Science / Photo Researchers, Inc / নোভা সায়েন্স নাও)

মাথায় বাস করা উকুন (Head Louse) কারো কাছে অপরিচিত হবার কথা না। যদিও অন্য অনেক প্রজাতির উকুন আছে যারা স্তন্যপায়ী আর পাখীদের শরীরে বাস করে, কিন্তু এই মাথার উকুনটি , যার বৈজ্ঞানিক নাম Pediculosis humanus capitis মানুষের মাথার তালুতে ছাড়া আর কোথাও দেখা যায়না। উকুন তার জীবনের প্রথম সপ্তাহ কাটায় ডিম হিসাবে (বা যাকে বলা হয় নিট), এর পরে ডিম ফুটে সে বের হয়ে আসে নিম্ফ পর্বে। পরবর্তী সাত দিনে তিন বার খোলস বদলে, প্রতিবারেই আকারে বড় হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক আকার ধারন করে। একটি প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী উকুন প্রতিদিন তিন থেকে চারটি ডিম পাড়ে। চুলের গোড়ার দিকে আটকে থাকে উকুনের ডিম বা নিট (ছবি)।


 নীট  ( মাথার উকুনের ডিম, চুলের সাথে আটকে আছে; সুত্র: http://www.health.state.mn.us/divs/idepc/diseases/headlice/treatment.html


 নীটের আরেকটি ছবি ( মাথার উকুনের ডিম, চুলের সাথে আটকে আছে ( সুত্র: http://www.sciencephoto.com/images/download_wm_image.html/Z265126-Head_louse_nits,_SEM-SPL.jpg?id=902650126)

উকুন আপনার রক্ত খায় এবং যন্ত্রনাদায়ক চুলকানির কারন হতে পারে তবে সৌভাগ্যক্রমে এটি কোন রোগ ছড়ায় না। ‍ দিনের মধ্যে বেশ কয়েকবার রক্ত খেতে পারে এবং মাথার তালুর কাছেই এরা অবস্থান করে পছন্দ করে, কারন এভাবে তাদের শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখতে পারে। মাথার চুলের বাইরে উকুন বেঁচে থাকতে পারেনা, ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই মারা যায়। পরিষ্কার চুল  বা পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা কোনটার সাথে মাথার উকুন হবার কিন্তু কোন সম্পর্ক নেই। উকুন আছে এমন কোন কারো কাছ থেকে সংস্পর্শের মাধ্যমে মাথার উকুন বিস্তার লাভ করে।

শরীরের উকুন ( Body Louse):


শরীরের উকুন (সুত্র:CDC/Frank Collins, Ph.D., James Gathany/ নোভা সায়েন্স নাও)

শরীরের উকুন ( Body Louse) বা Pediculosis humanus humanas মাথার উকুনের মত অনেকটা একই রকম দেখতে হলেও এরা মাথার চুলে না বরং কাপড়ের সুতার ভাজে বা seam এর মধ্যে ডিম পাড়ে। এই সুযোগসন্ধানী কীটটির সম্ভবত মাথার উকুন থেকেই বিবর্তিত হয়েছিল প্রায় ১০০০০০ বছরেরও আগে, যখন আদিম মানুষ তাদের নতুন চুলহীন চামড়া ঢাকার জন্য আচ্ছাদন ব্যবহার শুরু করে। ‍যদিও ল্যাবরেটরীতে মাথা এবং শরীরের উকুনের আন্তপ্রজনন সম্ভব। কিন্তু জীনগতভাবে স্বকীয় শরীরের উকুন আমাদের শরীরে মাথার উকুন থেকে সম্পুর্ন পৃথকাবস্থায় থাকে। শরীরের উকুন, মাথার উকুনের মতোই পৃথিবীর সবজায়গাতেই পাওয়া যায়। তবে শরীরের উকুন মুলতঃ পাওয়া যায় সেই সব মানুষের শরীরে, যারা ঘনবসতিপূর্ন, অস্বাস্থ্যকর এবং অপরিচ্ছন্ন জায়গায় বসবাস করে বা করতে বাধ্য হয়, যেখানে নিয়মিত গোছল বা কাপড় পরিষ্কার ও পরিবর্তন করা সুবিধা নুন্যতম। যেমন: গৃহহীন মানুষ, শরণার্থী শিবিরে বাস করা মানুষ, যারা কোন মানবজনিত ( যুদ্ধ) বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শিকার। শরীরের উকুন, আক্রান্ত ব্যাক্তির  সরাসরি সংস্পর্শ বা তাদের ব্যবহৃত জিনিস, যেমন,কাপড়, বিছানা, তোয়ালে ইত্যাদির মাধ্যমের বিস্তার লাভ করে। এরাও আমাদের রক্ত খায়, বিশেষ করে রক্ত খাওয়ার সময়ই আমাদের চামড়ার কাছাকাছি আসে। শরীরের উকুনের কারনে খুব বেশী চুলকানী হয়, এছাড়াও মাথার উকুনের সাথে এর আরেকটি পার্থক্য হলো, বেশ কিছু রোগ যেমন: এপিডেমিক টাইফাস, ট্রেন্চফিভার, রিল্যাপসিং ফিভার এর জীবানুর বাহক হলো শরীরের উকুন।

ক্র্যাব বা পিউবিক উকুন (Crab or Pubic Louse):


ক্র্যাব উকুন, ছবিতে তলপেট যৌনাঙ্গর চারপাশের চুলে আকড়ে ধরে আছে। এটি পেটে, বুকে, বগলে,দাড়ি এবং চোখের পাপড়িতে ছড়াতে পারে। http://www.lindane.com/scabiesandlice/perspective/

ক্র্যাব উকুন বা Pthirus pubis  মুলতঃ তলপেটের এবং যৌনাঙ্গের আশে পাশের চুলে এরা বাস করতেই পছন্দ করে এবং আমাদের রক্তই এদের একমাত্র খাদ্য।শরীরের অন্য চুলেও এদের বিস্তার হতে পারে, যেমন চোখের পাপড়ি,বিশেষ করে পুরুষদের পেট ও বুকে, বগলে বা দাড়িতে। সাধারনত যৌন সংসর্গের মত খুব ঘনিষ্ট সম্পর্কের মাধ্যমে এরা বিস্তার লাভ করে তাই বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে এদেরকে দেখা যায় প্রাপ্ত বয়স্কদের শরীরে। এছাড়াও কখনও কখনও আক্রান্ত ব্যাক্তির কাপড়,তোয়ালে, বিছানা থেকেও এরা আরেকজনকে আক্রান্ত করতে পারে। তবে একটা ভুল ধারনা হলো, টয়লেট সিটের মাধ্যমেও এরা ছড়ায়,এটির সম্ভাবনা খুবই কম,তার কারন প্রথমতঃ এরা আমাদের শরীরের বাইরে বেশীক্ষন থাকতে পারেনা এবং দ্বিতীয়তঃ এদের টয়লেট সীটের মসৃন পৃষ্ঠে হাটার মতো কোন অঙ্গও নেই।

আইল্যাশ মাইট (Eyelash mite)


আইল্যাশ মাইট (সুত্র: eyelash mite Andrew Syred / Photo Researchers, Inc./ নোভা সায়েন্স নাও)

আইল্যাশ মাইট, ফেস মাইট বা ফলিকল মাইট হিসাবেও পরিচিত। মাইট (mite) হচ্ছে আসলে একধরনের সন্ধিপদী প্রাণীদের একটি পরিবার,  এদের ৮টি পা থাকে। আনুবীক্ষনীক ডেমোডেক্স প্রজাতির দুটি মাইট সাধারণত: মানুষের চোখের পাপড়ি বা ভ্রু’র চুলের গোড়ায় বাস করে;Demodex folliculorum এবং  Demodex brevis ।অবশ্য এরা মাথার তালু, নাক, গালে থাকতে পারে।এদের খাদ্য মৃত চামড়ার কোষ আর তেল। উপরের ছবিতে চুলের গোড়ায় আটকে থাকা তিনটি ডেমোডেক্স ফলিক্যুলোরামের লেজ দেখা যাচ্ছে। রাত্রে এরা অনেক সময় বের হয়ে আসে এবং তাদের আটটি পা তাদের যতদুর নিতে পারে ততদুর ঘন্টায় এক ইন্চি করে চলাফেরা করতে পারে। প্রায় প্রত্যেকটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে ডেমোডেক্স পরজীবি হিসাবে বসবাস করে। কিন্তু আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এদেরকে  নিয়ন্ত্রনে রাখে। এরা মুলতঃ কোন ক্ষতি করেনা। কখনও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে, এদের নিয়ন্ত্রনহীন বংশবৃদ্ধি চামড়ার রোগ এবং চুলপড়ার কারন হতে পারে।


আই ল্যাশ মাইট ( http://www.geckoandfly.com/1688/demodex-folliculorum/)


আইল্যাশ মাইট ( http://www.geckoandfly.com/1688/demodex-folliculorum/)

টিক (The Tick):


টিক (সুত্র: CDC/Dr. Christopher Paddock, James Gathany/নোভা সায়েন্স নাও)

মাথার উকুন আর আইল্যাশ মাইট যেমন খাদ্য হিসাবে কেবল শুধুমাত্র মানুষেরই রক্ত বা মৃতকোষের উপর নির্ভর করে। টিকের এসব কোন বাছবিচার নেই্। মোট  আটশ’র বেশী প্রজাতির টিক আছে, যারা স্তন্যপায়ী, পাখি, সরীসৃপ,উভচর প্রানীদের রক্ত খেয়ে দিব্যি বেচে আছে।  এবং তারা নানাধরনের রোগজীবানুও বহন করে, যেমন,লাইম রোগের ব্যাক্টেরিয়া থেকে শুরু করে, কলোরাডো টিক ফিভারের ভাইরাস।  মাকড়শা বা মাইটদের মত টিকরাও আরাকনিড পরিবারের সদস্য। কোন কোন প্রজাতির টিক তাদের জীবনচক্রে একাধিক পোষক প্রাণীর রক্ত পান করতে পারে। আবার কোন প্রজাতি কেবল একটি পোষক প্রাণীর রক্ত পান করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। রক্ত পান করতে তারা বেশ কয়েকদিন সময় নেয়। একভাবে চিন্তা করলে ব্যাপারটার  একটা উপকারী দিক হলো, এতে রোগ ছড়ানোর গতিটা একটু ধীরে হয়, কারন যত তাড়াতাড়ি টিক এক প্রানী থেকে অন্য প্রাণীর শরীরে রক্ত পান করতে যাবে, রোগও তাড়াতাড়ি ছডাবে।

হিউম্যান বটফ্লাই (Human botfly) বা টোরসালো:


বট ফ্লাই লার্ভা (সুত্র:Laboratory Identification of Parasites of Public Health Concern, CDC/নোভা সায়েন্স নাও)

বট ফ্লাইয়ের কাহিনীটা  শুরু হয় এভাবে, প্রথমে একটি স্ত্রী হিউমান বটফ্লাই বা Dermatobia hominis, উড়তে থাকা কোন মশাকে পাকড়াও করে,ঐ অবস্থায় মশার শরীরে ডিম পাড়ে এবং তারপর উড়ে চলে যায়। মশা রক্ত খাওয়ার জন্য মানুষের শরীরে বসলে নিজের অজান্তেই বটফ্লাই এর ডিম বা লার্ভা(যদি এর মধ্যে ডিম ফুটে যায়) মানুষের চামড়ায় পৌছে দেয়। এরপর বটফ্লাই লার্ভা চামড়ার নীচে গর্ত করে ঢুকে পড়ে আর মানুষের কোষ খেয়ে বড় হতে থাকে। লার্ভাটা এক থেকে দুই মাস এভাবেই থাকে বের হয়ে আসার আগে।আর কেউ যদি তা না চান চিকিৎসার মাধ্যমে চামড়ার নীচ থেকে একে বের করতে হয়। যন্ত্রনার বিষয় বটে। তবে সৌভাগ্য আমাদের যে, এদের দৌরাত্ম মুলতঃ মেক্সিকো আর সেন্ট্রাল আমেরিকায় সীমাবদ্ধ।


বট ফ্লাই ( http://en.wikipedia.org/wiki/File: D._hominis_adult_female.png)


বট ফ্লাই লার্ভা (সুত্র:http://stoppopculture.com/wp/wp-content/uploads/2009/07/botfly-larvae.jpg )


চামড়ার নীচে বট ফ্লাই লার্ভা।(সুত্র: http://entnemdept.ufl.edu/ creatures/misc/flies/ human_bot_fly08.jpg )

ডাস্ট মাইট (Dust mite):


ডাস্ট মাইট (সুত্র:Andrew Syred / Photo Researchers, Inc./নোভা সায়েন্স নাও)

মানুষের চামড়ার মরা কোষ খেয়েই বেচে থাকে ডাস্ট মাইট বা Dermatophagoides farinae, তবে অন্যান্য পরজীবীর সাথে এই আনুবীক্ষনিক অ্যারাকনিডরা আলাদা কারন,এরা অন্ততঃ ভদ্রভাবে অপেক্ষা করে, চামড়ার মৃত কোষগুলো  শরীর থেকে বিছানায়, মেঝে, কার্পেট বা সোফায় ঝরে পড়া পর্যন্ত্য। এছাড়া পোষা প্রানীদের শুষ্ক চামড়া, ফুলের রেনু, ঘরের ভিতর দ্রুত বংশবিস্তারকারী ব্যাক্টেরিয়া এদের খাদ্য তালিকার অংশ। যদিও এরা কামড়ায় না বা চামড়ার নীচে গর্ত করে বাস করেনা। তারপরও এরা সমস্যার কারন হয়, বিশেষ করে যাদের এর কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং মলের  প্রতি অ্যালার্জি আছে। ডাষ্ট মাইট এর মুখোমুখি হলে এরা হাচ্চি দেন, নাক বন্ধ হয়ে যায়, চুলকায়, চোখ দিয়ে পানি পড়ে, কখনো কখনো শ্বাসকষ্ট হয়। এক গ্রাম ধুলায় শত শত ডাষ্ট মাইট থাকে।


ডাস্ট মাইট কলোনী (সুত্র:http://www.dust-mite.net/wp-includes/images/dust-mites-colony.jpg)

বেডবাগ (Bed Bug) বা ছারপোকা:


বেডবাগ বা ছারপোকা (সুত্র :Janice Haney Carr, CDC./নোভা সায়েন্স নাও)

সবার পরিচিত বেড বাগ বা ছারপোকা বলতে মুলত: মানুষ সহ উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট প্রানীদের রক্তপানকারী এক ধরনের পরজীবি কীট পরিবারের সদস্যদের বোঝায়। এদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো Cimex lectularius;  যদিও ৪০ এর দশকে পেষ্ট কন্ট্রোলের মাধ্যমে উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে এর প্রকোপ কমে গিয়েছিল, কিন্ত ৯০ এর পর থেকে বেডবাগের সংখ্যা পৃথিবীর সব জায়গায় বেড়েছে। এর কারন কি? বিজ্ঞানীরা এর কারনে এখনো খুজে পাননি।

হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের পরজীবি বেডবাগ এর প্রকোপ বাড়ার কারন হিসাবে বলা হচ্ছে পেষ্ট নিয়ন্ত্রন পদ্ধতির পরিবর্তন এবং আর্ন্তজাতিক ভ্রমন বৃদ্ধির হার, যা এই উড়বার ক্ষমতাহীন কীটটিকে সুযোগ করে দিয়েছে এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশ বিনা টিকিটে পাড়ি দেবার জন্য। নামে বেড বাগ হলেও বিছানা ছাড়াও যে কোন নিত্য ব্যবহার্য্য জিনিসে এরা ডিম পাড়তে পারে। যেমন,  অ্যালার্ম ক্লক, বিছানার পাশের নাইট টেবলের জোড়া’র চাপা জায়গা। ডিম ফুটবার পর এক ইন্চির দশভাগের একভাগ লম্বা নিম্ফ, রক্ত পান আর আরো পাচ বার খোলস বদলে, হলদে সাদা রং বদলে লালচে কালো রং ধারন করে। চুলকানী, অ্যালার্জির মত সমস্যা তৈরী করলেও এরা কোন রোগ ছড়ায় না।


বেডবাগ/ছারপোকা, ম্যা‍ট্রেসে । (সুত্র: http://images.ctv.ca/archives/ CTVNews/img2/ 20100910/ 470_bedbugs_100910.jpg)

স্ক্যাবিস মাইট (Scabies mite):


স্ক্যাবিস মাইট  (সুত্র:(scabies mite) Science Photo Library/. নোভাসায়েন্স নাও)


স্ক্যাবিস র‌্যাশ  (সুত্র:http://www.webventuresny.com/sch/offer.php?offer=dermisilforscabies)

ভালো খবর হলো, আরাকনিড পরিবারের যে আনুবীক্ষনীক মাইটটি বা স্ক্যাবিস মাইট‍‍টি (Sacrcoptei scabei var hominis), খুবই পরিচিত একটি চর্মরোগ বা খোস-পাচড়ার কারন, তারা আমাদের রক্ত পান করে না, তবে খারাপ খবর হলো,এরা আমাদের চামড়া খায়। চামড়ার ঠিক নীচে গর্ত করে এরা বাস করে। বিশেষকরে স্ত্রী মাইট চামড়ায় গর্ত করে যখন ডিম পাড়ে, তার বিরুদ্ধে আমাদের চামড়া তীব্রভাবে প্রতিক্রিয়া করে; ফলাফল, ভীষন চুলকানী হয় আর ফোসকার মত লালচে হয়ে ফুলে যায় চামড়া, যাকে আমরা স্ক্যাবিস বলি। যদিও মাইটগুলো এতো ক্ষুদ্র যে, এদের খালি চোখে দেখা যায় না , তবে এদের গর্তের মুখ মাঝে মাঝে বোঝা যায়। স্ক্যাবিস একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে সংস্পর্শের মাধ্যমে। স্ক্যাবিস মাইট নিজে সাধারণত অন্য কোন রোগ ছড়ায় না। তবে যখন অতিরিক্ত চুলকানীর কারনে আমরা চামড়াটা নষ্ট করে ফেলি, তখন সহজে সেখানে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমন হতে পারে।

Advertisements
আমাদের শরীরে ঘর বাধে এমন কিছু অতি ক্ষুদ্র পরজীবি কীট:

10 thoughts on “আমাদের শরীরে ঘর বাধে এমন কিছু অতি ক্ষুদ্র পরজীবি কীট:

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s