রসনা তৃপ্তিতে পোকামাকড়


শীর্ষ ছবি: অন্যরকম সুশী। টোকিও নিবাসী এবং Fun Insect Cooking এর লেখক শইচী উচিইয়ামা`র বানানো। সামনে বা দিক থেকে ডানে: শাকুরা মথ ক্যাটারপিলার, জোরো মাকড়শা, প্রিভেট-হক মথ লার্ভা, মাদাগাস্কার তেলাপোকা। পেছনে বাম থেকে ডানে: এশিয়ান হরনেট লার্ভা, ডবসন মাছির লার্ভা, জাপানী সাইকাডা, গ্রীন ট্রি পিপড়ার ডিম ও লার্ভা।(http://www.telegraph.co.uk/news/picturegalleries)

(নোভা অনলাইনের জন্য তৈরী পিটার মেনজেল এবং ফেইথ দা’লুইসিও’র The bugs you can eat স্লাইড শো’কে পরিবর্ধিত করে।)

একটা রেসিপি দেই আগে …

প্রথমে ৩০ থেকে ৪০ টি জীবন্ত স্করপিয়ন বা বিচ্ছু নেন, ২০ সেকেন্ড গরম তেলে ভালো করে ভাজুন। এবার এর সাথে টুকরো টুকরো শুকরের মাংশ, আদা, রসুন, লবন আর গোল মরিচ যোগ করুন ..

কেমন লাগছে? অবিশ্বাস্য, কিন্তু চীনের কিছু এলাকায় এটা নিত্য দিনের ব্যাপার। এই রেসিপিটা ফটোগ্রাফার পিটার মেনজেল এবং তার জীবনসঙ্গিনী, লেখক এবং প্রামান্যচিত্র নির্মাতা ফেইথ দালুইসিও’ র পৃথিবী ব্যাপী প্রায় ৯ বছরের এনটোমোফাজী (Entomophagy) বা কীটপতঙ্গ খাওয়ার আচার ও প্রচলনের উপর তথ্য সংগ্রহের অভিযানে পাওয়া অনেকগুলো রেসিপির একটি। এই অভিজ্ঞতাগুলো তারা তাদের Man eating bug: The Art and Science of Eating Insects বইয়ে ছবি আর শব্দে বন্দী করেছেন।


ছবি ১: Man eating bug: The Art and Science of Eating Insects এর প্রচ্ছদ।

এনটোমোফাজী (Entomophagy) শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো, খাদ্য হিসাবে কীটপতঙ্গ বা ইনসেক্ট খাওয়া। যদিও অনেক প্রাণীর জন্য এটি খুব স্বাভাবিক একটি ব্যাপার, কিন্ত  বিশেষভাবে এই শব্দটি  মানুষের খাদ্য হিসাবে কীটপতঙ্গ খাওয়ার ব্যাপরটাকে বোঝায়। এনটোমোফাজী যদিও পশ্চিমা বিশ্ব সহ কিছু দেশে প্রায় প্রতিষিদ্ধ বা ট্যাবুর পর্যায়ে পড়ে,  কিন্তু সারা পৃথিবীর অনেক জায়গায় আছে কীট ভোজী মানুষের বসবাস।

আসলে খামার বা শিকার করার মত যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের  বহুদিন আগে থেকে অবশ্য পোকামাকড়ই সারা পৃথিবীতে  এক সময় প্রাগঐতিহাসিক শিকারী-সংগ্রহকারী মানুষের ক্ষুধা মিটিয়েছে। প্রায় ১০০০ প্রজাতির কীট পছন্দ করে খাওয়ার  মত মানুষ দেখা যায় পৃথিবীর প্রায় ৮০ শতাংশ জাতির মধ্যে। এদের মধ্যে বেশীর ভাগই অবশ্য ক্রান্তীয় অঞ্চলের বাসিন্দা, যেখানে কীটপতঙ্গ আকারে যেমন বড় হয় এবং তেমনি এদের চাষও করা যায় সহজে।

২০০৮ সালে থাইল্যান্ডে, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠান Food and Agricultural Organization (FAO) এর একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার প্রোটিন চাহিদা মেটানোর একটি বিকল্প কীট পতঙ্গ খাদ্য হিসাবে কি ভুমিকা রাখতে পারে, সেই সংক্রান্ত একটি পলিসি পেপার পরিবেশন করা হয়।এটি লেখেন নেদারল্যান্ডস এর ওয়া‍হেনিনগেন (Wageningen) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আর্নল্ড ভ্যান হুইস।

গার্ডিয়ান প্রত্রিকায় দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘২০৫০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা হবে ৯ বিলিয়ন। আমরা জানি যে মানুষ এখন মাংশ বেশী খাচ্ছে, ২০ বছর আগে গড় ছিল ২০ কেজি, এখন প্রায় মাথাপিছু ৫০ কেজি, আর ২০ বছরে তা বেড়ে দাড়াবে ৮০ কেজি। এভাবে যদি বাড়তে থাকে আমাদের আরেকটা পৃথিবী লাগবে’। FAO এর এই বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, ‘পৃথিবীর অনেকদেশেই পোকা মাকড় খাওয়া হচ্ছে, পশ্চিমা বিশ্বে আমাদের এটা মানসিকভাবে মেনে নেয়ার সমস্যা হচ্ছে। আমরা অবশ্য চিংড়ী খাচ্ছি, যেটা এদের সমগোত্রীয়’।

পোকামাকড়ে কি আসলেই কোন পুষ্টিগুন আছে? অবশ্যই, এদের মধ্যে প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের পরিমান তুলনা মুলকভাবে অনেক বেশী। এছাড়া ভ্যান হুইস নিজের গবেষনায় দেখিয়েছেন যে, খাদ্য হিসাবে পোকামাকড়ের চাষ গবাদীপশু চাষাবাদের চেয়ে অনেক কম গ্রীন হাউস গ্যাস তৈরী করে, যা পরিবেশ বান্ধব( ১০ গুন কম মিথেন, ৩০০ গুন কম নাইট্রাস অক্সাইড, এছাড়া অ্যামোনিয়া তো আছেই)।


ছবি ২: FAO এর তথ্যানুযায়ী পৃথিবীর ১১৩ টি দেশে কীটভোজী মানুষের বসবাস।

সাধারনতঃ প্রধান চারটি ইনসেক্ট পরিবার থেকে মানুষের খাদ্য আসে:

১) বীটল, ২) পিপড়া,মৌমাছি এবং বোলতা. ৩) ঘাসফড়িং এবং ক্রিকেট ৪) মথ এবং প্রজাপতি। খাদ্য হিসাবে জনপ্রিয় কীটের তালিকায় আছে: ঝি ঝি পোকা (Cricket), সাইকাডা, ঘাসফড়িং, পিপড়া, বীটল গ্রুব ( যেমন: মীলওয়ার্ম), ডার্কলিঙ বীটল বা রাইনোসোরাস বীটল, বেশ কয়েক ধরনের ক্যাটারপিলার ( যেমন ব্যাম্বু ওয়ার্ম, মোপানি ওয়ার্ম, ‍সিল্ক ওয়ার্ম এবং ওয়াক্স ওয়ার্ম), স্করপিয়ন এবং টারান্টুলা।


ছবি ৩: সব মিলিয়ে মোটামুটি  প্রায় ১৭০০ প্রজাতির কীটপগঙ্গ আছে যারা মুলতঃ আর্থ্রোপোড পরিবারের, যাদের মানুষ খাদ্য হিসাবে খেতে পারে।

যদিও এনটোমোফাজী শব্দটি  আক্ষরিক অর্থে সন্ধিপদী বা আর্থ্রোপড প্রানীদের খাওয়াকে বোঝায়, কিন্ত শব্দটি ব্যবহার হয় সন্ধিপদী ছাড়াও আরো কয়েকটি আর্থ্রোপড নয় এমন প্রানীর ক্ষেত্রেও,  যেমন: আরাকনিড পরিবারের টারান্টুলা, এবং মিরিয়াপড পরিবারের সেন্টিপিড। FAO এর তথ্যানুযায়ী সব মিলিয়ে মোটামুটি ১৬৮১ প্রজাতির প্রাণী আছে যারা মুলতঃ আর্থ্রোপোড পরিবারের, এবং যাদের মানুষ খাদ্য হিসাবে খেতে পারে।

দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট এর সাংবাদিক জোনাথান ডাইসন পিটার মেনজেল এর কাছে তার এই অদ্ভুত অভিযানের অনুপ্রেরণার উৎস জানতে চাইলে পিটার মেনজেল, তার ছেলেবেলায় কুখ্যাত মটর সাইকেল গ্যাঙ্গ হেলস এন্জ্ঞেলস এর সদস্যদের মটর সাইকেল র‍্যালী‍‍‍তে ঘাসফড়িং খাবার গল্প পড়ে খু্ব বিচলিত হবার কথা উল্লেখ করে বলেন,  তখন তার বোধগম্য হয়নি মানুষ কি করে এ ধরনের কোন প্রানী খেতে পারে। কিন্ত পরবর্তীতে ওয়াল স্ট্রীট জার্ণালের একটি লেখায় তিনি ফুড ইনসেক্ট রিভিউ বলে একটি পত্রিকার খবর পড়েন। যেখানে পোকা খাওয়ার বেশ কিছু রেসিপি আর এধরনের খাওয়ার সমঝদার মানুষদের কথা তিনি জানতে পারেন। বিষয়টা তাকে খুব বিস্মিত করে। তখন থেকেই ফটোগ্রাফির কোন অ্যাসাইনমেন্টে পৃথিবীর যে প্রান্তেই তাকে যেতে হয়েছে, সেখানেই তিনি খুজে বেড়িয়েছেন কীট ভোজী মানুষদের।

আসুন মানুষের রসনা তৃপ্তি করে এমন কিছু পোকামাকড়ের কথা জানি।

উইটসেটি গ্রুব (Witchetty grub) | অষ্ট্রেলিয়া :

বেশ কয়েক ধরনের মথের কাঠ খেকো লার্ভাকে এই নামে ডাকা হয়। হাজার হাজার বছর ধরে অষ্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের খুব প্রিয় একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য। মধ্য অষ্ট্রেলিয়ার এই বেশ বড় আকারের সাদা রং এর এই লার্ভাটি সাধারনতঃ কসিড (Cossid) মথ Endoxyla leucomochla  এর, উটসেটি ঝোপের মুল আর কান্ড হলো এদের প্রিয় খাদ্য। অন্য কিছু কসিড মথ, ঘোষ্ট মথ এবং লঙ্গহর্ণ বীটলের লার্ভাদেরকেও এই নামে ডাকা হয়। সব ধরনের লার্ভাই খেতে একরকম, কারন এদের সবার খাদ্য একই: কাঠ। বলা হয় কাচা উইটসেটি গ্রুবের স্বাদ অনেকটা বাদামের মত আর রান্না ( রান্না মানে গরম ছাই এ সিদ্ধ) করলে চিকেন রোস্টের মত চামড়া ভাজা ভাজা হয়ে যায়, আর ভেতরটা হালকা হলুদ, প্রায় ডিম ভাজির মত। পিটারের ভাষায়, সিদ্ধ করা গ্রুব এর স্বাদ একটু ভাজা ভাজা পেস্ট্রির  মধ্যে বাদামের গন্ধযুক্ত ডিম ভাজি আর মোৎসারেলা চীজের স্বাদের মত। খুবই সুস্বাদু।


ছবি ৪.১ :  উইটসেটি গ্রুব ( ছবি: পিটার মেনজেল/নোভা)


ছবি ৪.২ :  উইটসেটি গ্রুব ( ছবি: http://www.australian-insects.com/imguploads/Witchetty-grub.jpg)

সিল্ক ওয়ার্ম  পিউপা ( Silk worm pupa) | চীন,কোরিয়া,জাপান… :

সিল্ক ওয়ার্ম  পিউপা চীনে খাওয়া হয় প্রায় ২০০০ বছর আগে থেকেই, পিটারের বর্ণনায়, যখন গরম গরম খাওয়া হয়, কড় কড় করে ভাজাটা মুখের মধ্যে ফেটে যায়, আর এর ভেতর থেকে বের হয় রস, যা অনেকটা রোষ্ট কাজু বাদাম, আর ফয়া গ্রা (Foie gras)  এর স্বাদ (ফয়া গ্রা হলো, হাস বা রাজহাসের লিভার থেকে তৈরী একধরনের খাদ্যদ্রব্য, যে হাস বা রাজহাসকে জোর করে খাইয়ে মোটা তাজা করা হয়) ।


ছবি ৫.১ :  সিল্ক ওয়ার্ম  পিউপা ( ছবি: পিটার মেনজেল/নোভা)


ছবি ৫.২ :  সিল্ক ওয়ার্ম  পিউপা ভাজি, রাস্তায় বিক্রি হয় (জিনান, চীন) ( ছবি: http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons /thumb/2/29/ Fried-silkworm-china.jpg/800px-Fried-silkworm-china.jpg


ছবি ৫.৩ :  সিল্ক ওয়ার্ম  স্ট্যু / কোরিয়া ( ছবি: Ivan Lian ,  http://www.environmentalgraffiti.com /sites/default/files/ images/http-inlinethumb11.webshots.com-43402-2113505120105101600S600x600Q85.jpg

দক্ষিন কোরিয়ায় সিল্ক ওয়ার্ম  পিউপা স্ট্যু বা বিওনদেগী খুবই জনপ্রিয়। সাধারনতঃ রাস্তার পাশেই এদের তৈরী করে স্ন্যাক হিসাবে বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া রোষ্ট করা পিউপাও খুব জনপ্রিয়।


ছবি ৫,৪ :  রেশমী (!) সিল্ক ওয়ার্ম  স্ট্যু / কোরিয়া ( ছবি: Tracy O’Connor, http:// http://www.environmentalgraffiti. com/ sites/ default/ files/images/ http-inlinethumb36.webshots.com-43171-2085152140105101600S600x600Q85.jpg)

বিওনদেগী, রাধতে হলে আগে রেশম মথের কোকুনগুলোকে ভালো করে সিদ্ধ করে নিতে হবে, তারপর আপনার স্বাদমত নানা মশলা যোগ করে যান। উচ্চ মাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ মজার এই খাওয়াটি, প্রস্তাব করা হয়েছে দীর্ঘ দিনের মহাশুন্য ভ্রমনের সময় নভোচারীদের খাদ্য হিসাবে, মহাশুন্যযানেই সহজে উৎপাদন করা যেতে পারে।


ছবি ৫.৫ : সিল্ক ওয়ার্ম পিউপা ( সুত্র: http://blog.asiahotels.com/10-must-try-south-korean-snacks/)

স্করপিয়ন ( Scorpion) | ল্যুওইয়াং, চীন,ভিয়েতনাম.. :

বেশ কয়েকভাবেই স্করপিয়ন বা বিচ্ছু খাওয়া যেতে পারে। চীনের  ল্যুওইয়াং এ পিটার মেনজেল তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা  দিয়েছিলেন এভাবে,’ প্রথমে রেষ্টুরেন্ট ম্যানেজার বেশ কয়েকটি বিচ্ছু একটা ছোট বাটিতে রাখা পানির মধ্যে ছেড়ে দিলো, বলাবাহুল্য বিচ্ছুদের সেটা পছন্দ হলো না, পানির মধ্যে লাফালাফি করা শুরু করলো তারা। আমি ভাবলাম, বেশ ভালো লক্ষন, জ্যান্তই যদি খেতে হয়, যতই জ্যান্ত হয় তত ভালো। চপস্টিকের মাথায় ধরে আবার এদের পানি থেকে তুলে রাইস ওয়াইনের বাটির মধ্যে ডুবিয়ে দিলেন একটা একটা করে । চেপে ধরা হলো বেশ কয়েক ‍মিনিট। ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে আসলো বিচ্ছুগুলো, মনে হলো একধরনের কোমায় চলে গেল তারা। এর পর শেফ এসে খুব দক্ষ হাতে, বিচ্ছুর লেজ, হুল এবং বিষের থলি  কেটে ফেলে দিয়ে প্লেটের উপর সাজিয়ে দিলো। আমি সাহস করে মুখে নিলাম, যা আছে কপালে। কিন্ত খারাপ লাগলো না, বেশ চিবাতে হলো, প্রায় মাছের মতই স্বাদ পেলাম” ‘।


ছবি ৬.১ :  স্করপিয়ন ( ছবি: পিটার মেনজেল/নোভা)

এছাড়াও তেলে ভাজা স্করপিয়নও খুব জনপ্রিয় চীন এবং আশে পাশের কয়েকটি দেশের যেমন ভিয়েতনাম।


ছবি ৬.২ বেইজিং একজন চীনা মহিলা বিক্রি করছে কাঠিতে গাথা স্করপিয়ন। তেলে ভাজা বিচ্ছু খুবই জনপ্রিয়। (ছবি: ক্লারো করতেস/রয়টার)


ছবি ৬.৩  স্করপিয়ন ফ্রাই, হ্যানয়, ভিয়েতনাম। (ছবি: গ্রায়েম নিউকোম্ব/ http://www.environmentalgraffiti. com/sites/default/ files/images/http-inlinethumb38.webshots.com-45925-2038641700105101600S600x600Q85.jpg)

জুমিল /স্টিঙ্ক বাগ (Stink bug) | মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া:


ছবি ৭.১ : ‍স্টিঙ্ক বাগ (http://learnsomethingnewtoday.us/wp-content/uploads/2008/11/ jumiles.thumbnail.jpg)

পিটার মেনজেল এর কীট ভোজনের প্রথম অভিজ্ঞতা হয় মেক্সিকো সিটি’র দক্ষিন পশ্চিমের একটা ছোট গ্রামে জুমিল বা স্টিং বাগের উদ্দেশ্যে আয়োজিত জুমিল উৎসবে। উৎসবের মুল ব্যাপারটা হলো সবাই ‍মিলে জুমিল পোকা শিকার করতে পাহাড়ে যায়। পিটারের দলে ছিলো গ্রামের একদল মহিলা, যারা জুমিল ধরে ধরে পিশে মেরে ফেলে টোষ্টাডার ( রুটির উপর নানা ধরনের উপকরনের সাজানো একধরনের ডিস) উপর সাজিয়ে দিচ্ছিলো খাওয়ার জন্য। কেউ কেউ আবার সরাসরি ধরেই খেয়েই ফেলছে। এখানেই পিটার এর প্রথম পোকা খাওয়ার পরীক্ষা দিতে হয়। খুব সুখকর কোন অভিজ্ঞতা ছিলো না। বমি চলে আসে কিছুটা আয়োডিনের স্বাদের মতো (জুমিলের মধ্যে রিবোফ্লাবিন আর নিয়াসিন ছাড়াও আয়োডিনের পরিমান কিন্তু বেশী); তার পরও সবার সামনে তাকে তা হাসি মুখে খেয়ে ফেলতে হয় ছবি তোলার সুবিধা অর্জনের জন্য।

জুমিল হলো খুব ছোট আকৃতির স্টিঙ্ক বাগ (Stink bug : Atizies taxcoensis ),  মুলতঃ মেক্সিকোর গেরেরো প্রদেশের ট্যাক্সো অঞ্চলে এদের পাওয়া যায়। জুমিল পোকা সংগ্রহ করা হয় মুলতঃ সস বা টাকোর ভিতরে দিয়ে খাবার জন্য, কখনো সরাসরি খাওয়া হয়ে থাকে। প্রতিবছর নভেম্বর মাসের ১ তারিখ ট্যাক্সোতে বেশ বড় সড় জুমিল উৎসব হয়। হুইসটেকো মাউন্টেন পার্কে শহরের লোক জড় হয়, জুমিল পোকা খোজার জন্য এবং একজনকে জুমিল উৎসবের রাণী নির্বাচন করতে।


ছবি ৭.২: ইন্দোনেশিয়ার ইরিয়ান জায়ায় স্টিঙ্ক বাগ মুখে নিয়ে একটা ছেলে (ছবি: পিটার মেনজেল/নোভা)

ফেইথ এর উপদেশ, কাউকে যদি পোকামাকড় খেতেই হয়, তাহলে যেগুলো ভাজলে মচ মচে হয় সেগুলো দিয়েই শুরু করা উচিৎ (…) স্টিঙ্ক বাগ এদিক থেকে আদর্শ, কারন এদের ভাজলে বেশ মচ মচে হয়,স্বাদ অনেকটা সুর্যমুখীর বিচির মতো… খানিকটা তেতো।

ড্রাগন ফ্লাই (Dragon fly), ইন্দোনেশিয়া:


ছবি ৮.১:ফড়িং (http://www.uimages.org/tag/dragonfly/)

যদিও মুরগীর মাংশই মুলতঃ খাওয়া হয়, তারপরও কিন্তু ইন্দোনেশিয়ায় বালিতে পিটার এবং ফেইথের স্থানীয় গাইড দর্শনা তার বাচ্চাদের শেখাতে ভোলেনি কেমন করে পাতলা কাঠিতে কাঠাল গাছের আঠা লাগিয়ে পোকা শিকার করতে হয়। ধান ক্ষেতের মধ্যে দাড়িয়ে তার ৮ বছরের মেয়ে (ছবি ৮.২) নি ওয়ান শ্রিয়ানী তার আঠা লাগানো কাঠি দিয়ে ধান ক্ষেতের উপরে ওড়া ফড়িং গুলোকে দক্ষ হাতে ধরার বর্ণনা আছে তাদের বইটিতে। যখনই কোন ফড়িং কাঠির কাছাকাছি আসে, তখনই তার কাঠির ঝাপটা দিয়ে ফড়িং এর পাখা কাঠির আটায় আটকে ফেলা হয়। তারপর এই ফড়িংগুলো নারিকেল তেলে একটু ভেজে মজা করে খাওয়া হয়।


ছবি ৮.২:ফড়িং শিকার হাতে শ্রিয়ানী, বালি, ইন্দোনেশিয়া। ছবি:পিটার মেনজেল)

ঘাস ফড়িং (Grasshopper) | চীন, মেক্সিকো, থাইল্যান্ড :


ছবি ৯.১: ঘাস ফড়িং ( ছবি:http://kentsimmons.uwinnipeg.ca/16cm05/ 16labman05/lb6pg16_files/great-grasshopper.jpg)

ছবি ৯.২: ঘাস ফড়িং ফ্রাই,লবন ছেটানো,সয়সসের সাথে পরিবেশন করা হয় (চীন), ছবি:http://www.flickr.com/photos/williamnyk/2716552722)

ছবি ৯.৩:থাই ঘাস ফড়িং ফ্রাই। ছবি:http://www.esquire.com/cm/esquire/images/ grasshoppers-091907-lg.jpg)

ঘাস ফড়িং খাওযার চল আছে বেশ কয়েকটি দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশেই। চীনের কিছু জায়গা যেমন তিয়ানজিন এর বাজারগুলোতে লবন আর মশলা দিয়ে ভাজি করা ফড়িং খুব ‍প্রিয় একটি নাস্তা (ছবি:৯.৪) ; খাদ্যরসিকদের মতামত খেতে নাকি খুবই মজা, বিশেষ করে শরত কালে।


ছবি ৯.৪: ঘাস ফড়িং ফ্রাই ( চীন) ছবি:, http://www.environmentalgraffiti.com/ sites/default/files/images/http-inlinethumb27.webshots.com-42842-2802588760105101600S600x600Q85.jpg

উপরের ছবির (৯.৪) ঘাস ফড়িং খাওযার রেসিপি হলো ভালো করে পানিতে সিদ্ধ করে, ডিমের কুসুমে ভিজিয়ে কর্ণ ফ্লাওয়ার আর মশলা দিয়ে মাখিয়ে পেয়াজ আর সয় সস দিয়ে ভাজি করতে হবে। রান্না করা ঘাস ফড়িং এ প্রায় ৬০ ভাগ প্রোটিন। ডান দিকে আছে বিচ্ছু ভাজি।

মেক্সিকোর দক্ষিনের একটি প্রদেশ ওয়াহাকা ঘাস ফড়িং এর খু্ব জনপ্রিয় একটি খাওয়া Grasshopper taco’র একটি রেসিপি হলো: উপকরন: আধা পাউন্ড ঘাসফড়িং, কুচি কুচি করে কাটা রসুনের দুটি কোয়া, একটি লেবু, লবন, দুটো পাকা অ্যাভোকাডো, ভালো করে ভর্তা করা, ৬ টা রুটি বা টরটিয়া। ওভেনের ৩৫০  ডিগ্রীতে ১০ মিনিট রোস্ট করা ঘাস ফড়িং, রসুন আর একটা লেবুর রসে ভালো করে মাখাতে হবে, সাথে পরিমান মত লবন। তারপর টরটিয়ার উপর ভালো করে অ্যাভোকাডো ভর্তা লাগাতে হবে, এর উপর তারপর ঘাস ফড়িং গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিন। হয়ে  গেলো গ্রাসহপার টাকো (৯.৫)।


ছবি ৯.৫: গ্রাসহপার টাকো( ছবি:পিটার মেনজেল)


ছবি ৯.৬:মেক্সিকোর শাপুলিন (এক ধরনের ঘাসফড়িং)(http://upload.wikimedia.org/wikipedia/ commons/thumb/0/01/ Chapulines.jpg/220px-Chapulines.jpg)

জাপানেও ঘাসফড়িং বা ইনাগো খাওয়া হয়। চিনি আর সয়সস দিয়ে রান্না করা হয়।

মীল ওয়ার্ম (Mealworm):

মীল ওয়ার্ম  হলো মীলওয়ার্ম বীটলের লার্ভা। মীল ওয়ার্ম সাধারনত: সরীসৃপ,পাখি বা মাছদের খাদ্য হিসাবে বানিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। তবে মীল ওয়ার্ম কিছু মানুষ বেশ মজা করেই খায়। খুব সহজে এদের চাষ করা যায় ঘরের মধ্যে। হলদে মীলওয়ার্ম হলো এজন্য সবচেয়ে ভালো। অনেক রেসিপি আছে ইন্টারনেটে এই মীল ওয়ার্ম খাবার জন্য (http://www.hollowtop.com/finl_html/mealworms.htm)।


ছবি ১০.১: মীল ওয়ার্ম (ছবি:http://upload.wikimedia.org/ wikipedia/commons/thumb/a/ad/ Mealworm_01_Pengo.jpg/800px-Mealworm_01_Pengo.jpg)

নিচেরটা রেসিপিটা পিটার মেনজেল এর বই থেকে। মেক্সিকো সিটি’র গবেষক জুলিয়েটা তার পোকা মাকড় রান্নার বই এর প্রজেক্টে এর জন্য নানা ধরনের রেসিপি সংগ্রহ ও নতুন করে বানানোর চেষ্টা করেন। এই রেসিপিটি তার:

মীলওয়ার্ম স্প্যাগেটি:  উপকরণ: আধা পাউন্ড ভাজা মিলওয়ার্ম, সোয়া ৪ কাপ পানি, ১ টেবিল চামচ সুর্যমুখী তেল, মারজোরাম এর ছোট একটি ডাল, থাইমের একটি ডাল, ২ টা তেজ পাতা, আধখানা পেয়াজ কুচি কুচি করে কাটা, ৮ আউন্স পরিমান স্প্যাগেটি, ৬ বা ৮ মাখন, পরিমান মত লবন এবং অলিভ ওয়েল, ৩ থেকে ৪ চামচ পাইন নাট কুচি কুচি করে কাটা, কুচি কুচি করে কাটা পারসলে, আধা পাউন্ড পারপল ব্যাসিল, আধা পাউন্ড রিকোটা চীজ, সোয়া এক কাপ আস্ত পাইন নাট। প্রণালী: পানি ফোটান, সুর্যমুখী তেল,লবন,মারজোরাম,থাইম,তেজ পাতা এবং পেয়াজ যোগ করুন। তারপর স্প্যাগেটি যোগ করুন, পানিটা ফেলে দিন স্প্যাগেটি সিদ্ধ হলে। একটা সস প্যানে মাখনটা গলান, এরপর সেদ্ধ স্প্যাগেটি এর মধ্যে যোগ করুন,লবন আর গোলমরিচের গুড়া দিন। বাসিল,পারসলে,রিকোটা,তেল, কুচি কুচি করে কাটা পাইন নাট এর সাথে মেশান। আবার একটু গরম করুন।উপরে মীলওয়ার্ম আর আস্ত পাইন নাট দিয়ে পরিবেশন করুন।


ছবি ১০.২: মীলওয়ার্ম স্প্যাগেটি (ছবি: পিটার মেনজেল/নোভা)

টারান্টুলা (Tarantula):


ছবি ১১.১:ট্যারান্টুলা (http://tx.english-ch.com/teacher/shelle/level-b/some-truly-disgusting-dishes-/)


ছবি ১১.২:ট্যারান্টুলা মাকড়শা, কম্বোডিয়া (ছবি: পিটার মেনজেল/নোভা)

টেকনিক্যালী যদিও ট্যারান্টুলা কোনো সন্ধিপদী প্রানী বা ইনসেক্ট না, তবে এনটোমোফ্যাজির আওতায় এরা আছে। পিটার মেনজেলে এর ভাষায়, এরা বেশ তেলতেলে, পা গুলো ভাজার কারনে মচ মচে হয়, আর এর লোমশ শরীর বেশ বড়সড়… খেতে কেমন লাগে.. ভাজী ট্যারান্টুলার মত। ফেইথ যখন আমাকে জিজ্ঞেশ করেছিল, খেতে কেমন লাগে? কিন্ত সেই স্বাদটা বর্ণনা করার মত শব্দ ইংরেজী ভাষায় নেই। যদি একদিন বয়সী খু্ব ভালো করে ফ্রাই করা মুরগীর যদি কোন হাড় না থাকে, পালকের পরিবর্তে যদি চুল থাকে আর এর আকারটা যদি হয় কেবল জন্ম নেয়া চড়ুই পাখির মত হয়, তাহলে তার স্বাদ ট্যারান্টুলার মত হতে পারে।


ছবি ১১.৩:ট্যারান্টুলা মাকড়শা, কম্বোডিয়া (http://www.environmentalgraffiti.com/ sites/default/files/images/http-inlinethumb11.webshots.com-42314-2174026190105101600S600x600Q85.jpg

কম্বোডিয়ার অনেক এলাকায়, যেমন বিশেষ করে সুকন এলাকায় ট্যারান্টুলা খাওয়ার প্রচলন আছে। মুলতঃ মাটির নীচের গর্ত থেকে  এদের চাষ করা হয়। কম্বোডিয়ায় খেমার রুজ শাসনামলে খাদ্যঘাটতি এটি খাওয়া প্রচলনের উৎস মনে করা হয়। স্থানীয় খেমার ভায়া আ-পিং বলে ট্যারান্টুলা একটি প্রজাতি মুলতঃ খাওয়া হয়ে থাকে। ফ্রাইড ট্যারান্টুলা সম্বন্ধে অনেক ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন পশ্চিমা লেখকরা,  এর স্বাদকে তুলনা করেছেন (বিশেষ করে মাথা আর শরীর) নরম সাদা মাংশ যা মুরগীর মাংশর মতো, বা মুরগী আর কড মাছের একটা মিশ্র স্বাদ।


ছবি ১১.৪:ট্যারান্টুলা মাকড়শা, কম্বোডিয়া ( http://www.environmentalgraffiti.com/ sites/default/files/images/http-inlinethumb01.webshots.com-42176-2394162730105101600S600x600Q85.jpg)

পিটার মেনজেল তার বইতে প্রিয় খাবারের তালিকায় উল্লেখ করেছেন রোষ্ট করা Theraphosa leblondi ট্যারান্টুলা। ভেনেজুয়েলার ওরিনোকো নদীর তীরে বসবাসকারী ইয়ানোমামি আদি বাসীদের প্রিয় খাদ্য। Goliath Bird eater spider বলে পরিচিত এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাকড়শা এবং খেতে কাকড়ার মাংশের মত। ভালো করে রোষ্ট করলে এর ভেতরে সাদা মাংশ আছে, যা আসলে কাকড়ার মাংশ থেকে আলাদা করা কঠিন। ক্র্যাব বা কাকড়া যে পরিবারের এরাও এক পরিবারের সদস্য,শুধু একদল থাকে মাটিতে, অন্যদল পানিতে।


ছবি ১১.৫: রোষ্ট ট্যারান্টুলা,ভেনেজুয়েলা (Theraphosa leblondi) http:// www. sciencephoto. com/media/373409/enlarge

মোপানে বা মোপানী ওয়ার্ম (Mopane worm):

মোপানে বা মোপানী ওয়ার্ম আসলে এক ধরনের মথ  Gonimbrasia belina ‘র ক্যাটারপিলার বা শুয়াপোকা। মোপানে নামে একটি গাছের পাতা এদের খুব প্রিয়, সেকারনেই এই নাম। আফ্রিকার দক্ষিনের দেশগুলোতে আমিষের উৎস হিসাবে লক্ষ লক্ষ মানুষের খাদ্য তালিকার বেশ বড় একটা জায়গা জুড়ে আছে এরা। খাদ্য হিসাবে এদের চাষ গ্রাম্য অর্থনীতিতে বেশ গুরুত্বপুর্ণ অবদান রেখে আসছে। সাধারনতঃ খালি হাতে এদের সংগ্রহ করে নারী এবং শিশুরা। শুয়াপোকা ধরার পর এর পেছনের দিকে একটা ছিদ্র করা হয় মুলতঃ চিমটি দিয়ে। তারপর টুশপেষ্টের মতো করে চেপে ভেতরে পিছলা সবুজ অংশ বের করে ফেলা হয়। এর পর এদের রোদে শুকানো হয় বা স্মোক করা হয়। এছাড়া বানিজ্যিকভাবে ক্যান করা হয় লবনপানিতে।


ছবি ১২.১ মোপানে গাছে মোপানে ক্যাটারপিলার (http://en.wikipedia.org/wiki/ File:Mopane_worm_on_mopane_tree.jpg)


ছবি ১২.২: মোপানে ক্যাটারপিলার http://www.insecta.co.za/index.php? option=com_content&view=article&id=76&Itemid=90

বিভিন্নভাবে খাওয়া হয় মোপানে ওয়ার্ম, শুকনো বা পানি দিয়ে ভিজিয়ে, তারপরে পেয়াজ, টমেটো, মশলা দিয়ে রান্না করে, সাদজার সাথে। সাদজা হলো জিম্বাবুয়ে সহ আফ্রিকার দক্ষিনে অনেক দেশে প্রধান একটি খাদ্য, পরিজের মধ্যে দেখতে এটি মুলতঃ কর্ন মিল, মেইজ দিয়ে তৈরী করা হয়। এদের মাংশ হলদে রঙের , পেটের মধ্যে মোপানো গাছের পাতার অংশ পাওয়া যায়। এর স্বাদের সাথে চায়ের স্বাদের হালকা মিল পাওয়া যায়। মুল ওয়ার্ম স্বাদে মাশরুম আর জার্ক এর মিশ্রন, অনভ্যস্থ জিহবায় স্বাদে কিছু শক্ত, মাটির মত।


ছবি ১২.৩: মোপানে ওয়ার্ম, বতসোয়ানা। (ছবি: পিটার মেনজেল)।


ছবি ১২.৪: মোপানে ওয়ার্ম এর একটি ডিস (ছবি:http://www.insecta.co.za/index.php? option=com_content&view=article&id=76&Itemid=90)
পাম গ্রুব (Palm grub):


ছবি ১৩.১:সাগো পাম গ্রুব/পাপুয়া নিউ গিনি (সুত্র:http://www.pbase.com/image/ 41687462)

অনেক দেশেই পাম গ্রুব খাদ্য হিসাবে বেশ প্রিয়। পাম গ্রুব হলো Rhynchophorus ferrugineus নামের উঈভিলের লার্ভা, আর উঈভিল হচ্ছে একধরনের বীটল।এই উঈভিলগুলোর লার্ভা মুলতঃ পাম জাতীয় গাছের কান্ডে গর্ত করে বাস করে। এরা দেখতে বেশ ফোলা ফোলা,হালকা হলুদ রঙ,গায়ে হালকা খাজ কাটা, মাথাটা শক্ত খোলস দিয়ে ঢাকা। পাম গ্রুব এশিয়ার দক্ষিন পুর্বে আর মেলানেশিয়ায় সাগো গ্রুব নামে পরিচিত।

নিউ গিনি বা ইন্দোনেশিয়ায় সাধারনতঃ পুড়িয়ে খাওয়া হয়ে থাকে। আবার অনেক জায়গায় কাচাই খাওয়া হয়ে থাকে।সাধারনতঃ মাংশের স্বাদের সাথে তুলনা করা হয় এদের স্বাদ। মালয়শিয়ায় সাগো ডিলাইট নামে সাগো পাম গ্রুব ফ্রাই বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া আফ্রিকা, ক্যারিবিয়ান দীপগুলোতে, দক্ষিন আমেরিকাতেও পাম গ্রুব বিশেষ জনপ্রিয়।

আফ্রিকার কঙ্গোতে লবন আর ঝাল মরিচ দিয়ে ভাজি করা করা হয় পাম গ্রুব,যার নাম ‘পিলি পিলি’।


ছবি ১৩.২:সুরি পাম গ্রুব/পেরু (http://www.kheussler.de/peru/4961.en.htm)

দক্ষিন আমেরিকায় পেরুতে পিটার মেনজেল এর বিবরনে আছে, রোদে চার ঘন্টা রেখে কাচাই খাওয়া হয় আস্ত পাম গ্রুব।


ছবি ১৩.৩:পাম গ্রুব/পেরু  (ছবি: পিটার মেনজেল/নোভা)।

টারমাইট (Termite):

উইপোকা বা টারমাইট, বিশেষ করে পাখনা আছে যেগুলোর ( যাদের আলাতেস বলে) সেগুলো খাওয়ার প্রচলন আছে অনেক দেশে। অ্যালাতেস খুবই পুষ্টি সমৃদ্ধ, আমিষ আর স্নেহ জাতীয় খাদ্য উপাদানের ভালো উৎস। আফ্রিকার অনেক দেশে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে আলোর ফাদ পেতে উইপোকা সংগ্রহ করা হয়। সাধারণতঃ ভাজি করে বা রোষ্ট করে খাওয়া হয়, এদের শরীরে অনেক তেল থাকে বলে বাড়তি তেলের প্রয়োজন হয় না। ইন্দোনেশিয়াতেও খাওয়া হয়।


ছবি ১৪.১:টারমাইট (আলাটেস (http://nelcoext.com/images/alates1.jpg)

পিটার মেনজেলের বিবরনে উগান্ডায় উই ঢিবি বা টারমাইট মাউন্ড থেকে উই পোকা ধরে খাওয়ার প্রচলন আছে। মাউন্ডের ভিতরে প্রথম সুড়্ঙ্গ উন্মোচন করতে হবে, তারপর সুড়ঙ্গের মুখ ঢেকে দিতে হবে কাপড়ে, এরপর অপেক্ষা করতে হবে সেনা উইপোকার দল আক্রমন করবে কাপড়টাকে, এরপরে হ্যাচকা একটানে কাপড়টাকে সরিয়ে ফেলতে হবে, এরপর কাপড় থেকে পোকা সংগ্রহ করে টপাটপ খেয়ে ফেলতে হবে। পিটারের মতে মচমচে, কিছুটা বাদাম বাদাম স্বাদ আছে।


ছবি ১৪.২:টারমাইট বা উই ঢিবি ,উগান্ডা/পিটার মেনজেল/নোভা)

মৌমাছির লার্ভা (Bee larva):

মৌমাছির লার্ভা চীন এবং জাপানে  খাওয়া হয় ( জাপানে এর নাম হাচিনোকো);হাচিনোকো খাদ্য হিসাবে জনপ্রিয় ছিল যখন মাছ বা মাংশের অভাব মানুষকে বাধ্য করেছে প্রোটিনের বিকল্প উৎস সন্ধানে। সাধারনতঃ জাপানে সয় সস আর চিনি দিয়ে রান্না করা হয়।  এর প্রচলন এখন অনেক কমে গেছে জাপানে। উৎসব বা কোন পার্টিতে মাঝে মাঝে নষ্টালজিয়ার একটি আইটেম হিসাবে পরিবেশন করা হয়।

ছবি ১৫.১: মৌমাছির লার্ভা (http://listverse.files.wordpress.com/2007/09/bee-larvae1-710717.jpg)

চীনের কুনমিং এ এর প্রচলন আছে লবন আর মশলা দিয়ে ফ্রাই করা মৌমাছি লার্ভা খাওয়ার অথবা জাপানীদের মত সয় সস আর চিনি দিয়ে ।


ছবি ১৫.২: মৌমাছির লার্ভা ফ্রাই (http://www.environmentalgraffiti.com/ sites/default/files/images/http-inlinethumb60.webshots.com-43003-2667026940105101600S600x600Q85.jpg

মেঙ্গ দা নাহ (Meng dah nah) ও থাইল্যান্ডের কিছু কীটপতঙ্গ:

থাইল্যান্ডে অনেক প্রজাতির কীট পতঙ্গ (প্রায় ৮০টি) খাওয়া হয়ে থাকে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। মেঙ্গদা এদের মধ্যে অন্যতম। মুলতঃ এটি জায়ান্ট ওয়াটার বাগ (Lethocerus Indicus)। বেশ জনপ্রিয় মেঙ্গ দা নাহ’র দামও বেশী। পুরুষ মেঙ্গ দা নাহ দাম বেশী স্ত্রী ওয়াটার বাগের তুলনায়। পুরুষ পোকা ভালো করে মরিচের সাথে পিষে পেষ্ট বানানো হয় স্টিকি রাইসের সাথে খাওয়ার জন্য (যার নাম প্রিক  মেঙ্গ দা নাহ); স্ত্রী পোকা শুধু তেল দিয়ে ভাজি করে খাওয়া হয়। শুধু পোকা না, এদের ডিমও খাওয়া হয়।


ছবি ১৬.১ মেঙ্গ দা নাহ (http://www.thaiguidetothailand.com/wp-content/gallery/edible-insects/insect-food-mengdah.jpg)


ছবি ১৬.২:ফ্রাই মেঙ্গ দা নাহ (http://www.thaiguidetothailand.com/wp-content/gallery/edible-insects/insect-food-mengdah.jpg)


ছবি ১৬.৩:বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় ‍বিক্রি হচ্ছে, থাইল্যান্ড http://www.enjoythaifood.com/ friedinsects.php)

থা্ইল্যান্ডে খাওয়া হয় আরো কিছু কীট যেমন:

বাম্বু ওয়ার্ম, গ্রাস মথ এর পিউপা। অনেক দেশেই খাওয়ার জন্য এদের সংগ্রহ করা হয়। বাশের মধ্যে মথ ডিম পাড়ে এবং বাশের মধ্যেই এদের জীবনচক্র চলে। FAO এর  তালিকা করা ১০ টি সবচেয়ে খাওয়ার উপযোগী কীটের তালিকায় এদের স্থান ১ নম্বর।


ছবি ১৬.৩:বাম্বু ওয়ার্ম (http://schuckley.travellerspoint.com/33/)


ছবি ১৬.৪:চাইনীজ ককরোচ (http://schuckley.travellerspoint.com/33/)


ছবি ১৬.৫:ক্রিকেট (ঝি ঝি পোকা)স্টিয়ার ফ্রাই (http://schuckley.travellerspoint. com/33/)

পিপড়া (Ant):

বেশ কয়েক ধরনের পিপড়া খাওয়া হয়। থাইল্যান্ডে যেমন পছন্দ করে খাওয়া হয় উইভার অ্যান্ট (Weaverant), বিশেষ করে এদের ডিম। ডিসেম্বর জানুয়ারীর মধ্যে তারা বছরে একবার ডিম পাড়ে, এ সময়ে তাদের বেশ কঠিন একটা প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করা হয়। এবং পরবর্তীতে কলা পাতায় মোড়া ডিম বাজারে বিক্রি হয়। ডিম দিয়ে তৈরী খাবার থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন এবং মেক্সিকো সহ অনেক দেশে জনপ্রিয়।


ছবি ১৭.১:উইভার অ্যান্ট (http://s1.hubimg.com/u/4552964_f520.jpg)


ছবি ১৭.২:উইভার অ্যান্ট ডিম এবং লার্ভা দিয়ে তৈরী থাই খাবার কাই-মড-দাং-পাড-কাই। (http://www.flickr.com/photos/nupung/3380799455/)

দক্ষিন আমরিকার দেশ কলম্বিয়ায় গুয়ানে ইন্ডিয়ান আদিবাসীরা বেশ বড়সড় আকারের এই পিপড়া সংগ্রহ করে খাদ্য হিসাবে আমাজনের সানটানডার অঞ্চলে।ভাজি করা এই জায়ান্ট হরমিগাস পিপড়া কলম্বিয়ায় বেশ জনপ্রিয় এবং দামী খাবারের একটি। মুলতঃ এই লীফকাটার পিপড়াগুলো পেটের নীচের অংশটা বেশ ফোলা হয়, এজন্য নাম: বিগ-বাট, শুধুমাত্র রানী আর ড্রোন পিপড়াদের খাওয়ার জন্য সংগ্রহ করা হয়,যখন বর্ষা মৌসুম শেষ হয়, এবং রানী পিপড়া তাদের নিজেদের কলোনী তৈরী করতে মাটির নীচ থেকে বের হয়ে আসে। এদের রোষ্ট করে খাওয়া হয়।


ছবি ১৭.৩:কলম্বিয়ার জায়ান্ট অ্যান্ট (Hormigas culomus / big-butt ants):


ছবি ১৭.৪:কলম্বিয়ার জায়ান্ট অ্যান্ট (Hormigas culomus / big-butt ants):

দক্ষিন আমরিকায় আরেকটি পিপড়ার স্বাদ নেয়া হয় তার নাম লেমন অ্যান্ট (Myrmelachista schumanni)। ঠিক, এদের স্বাদ লেবুর মতই। কাচাই খাওয়া হয়। ইকুয়েডর বা পেরুর জঙ্গলে এদের পাওয়া যায়।


ছবি ১৭.৫:লেমন অ্যান্ট।http://learnsomethingnewtoday.us/ wp-content /uploads/2008/11/lemon-ants.thumbnail.jpg

ক্যালিফোর্ণিয়ার হটলিক্স ক্যান্ডি কোম্পানি:

হটলিক্স ক্যান্ডি কোম্পানীর প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পিটারম্যান এর মতে,বেশীর ভাগ আমেরিকার পোকা খাওয়ার ব্যাপারে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়: অবিশ্বাস এবং তীব্র অপছন্দ । তারা তার কোম্পানির পোকা সহ ক্যান্ডি কেনে এই দুটি কারনেই।


ছবি ১৮.১:ক্রিকেট-লিক-ইট, আসল পোকা সহ চিনি মুক্ত মিন্ট ফ্লেভারের ললিপপ); http://www.odditycentral.com/pics/insect-candy-crunchy-enough-for-you.html


ছবি ১৮.২ (স্করপিয়ন ললিপপ); http://www.odditycentral.com/pics/insect-candy-crunchy-enough-for-you.html


ছবি ১৮.৩: হটলিক্স ইনসেক্ট ললিপপ ; (http://www.odditycentral.com/pics/insect-candy-crunchy-enough-for-you.html)

প্রায় ২৫ বছরের বেশী সময় ধরে ক্যালিফোর্নিয়ার হটলিক্স ক্যান্ডি কোম্পানীর নানা ধরনের পোকা মাকড় দিয়ে চকলেট বা ক্যান্ডি তৈরী করে আসছে। ১৯৮২ সালে টেকিলা স্বাদের ওর্য়াম ললিপপ দিয়ে যাত্রা শুরু করে। দিনে দিনে এর চাহিদা বেড়েছে।


ছবি ১৮.৪:চকলেটে ডোবানো বিচ্ছু (http://www.odditycentral.com/pics/insect-candy-crunchy-enough-for-you.html


ছবি ১৮.৫:চকলেটে মোড়া ক্রিকেট ; (http://www.odditycentral.com/pics/insect-candy-crunchy-enough-for-you.html)

হটলিক্স ক্যান্ডি কোম্পানীর ওয়েবসাইটটা  ঘুরে আসতে পারেন  🙂 ।

ওয়াসপ বা বোলতার বিস্কুট, জাপান:

জাপানে জিবাচী সেনবেই বা ডিগার ওয়াসপ রাইস ক্রাকারস তৈরী হয় বন থেকে ধরা বোলতাদের বিস্কুটের উপাদানের সাথে মিশিয়ে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই বোলতা শিকারীরা মুলতঃ গ্রামের আশি বছরের বেশী বৃদ্ধরা।


ছবি ১৯:ওয়াসপ ক্র্যাকার (http://arbroath.blogspot.com/2007/09/crackers-with-sting-in-tail.html )

স্টোন ফ্লাই লার্ভা বা জুজুমুশী, জাপান:


ছবি ২০:স্টোন ফ্লাই লার্ভা (http://f00.inventorspot.com/images/zazamushi.jpg)

জাজা-মুশী বা স্টোন ফ্লাই লার্ভা টিন ক্যানে দোকানে বা অনলাইনে বিক্রি হয়।  এদেরও রান্না করা হয় চিনি আর সয়সস দিয়ে।

লোকাষ্ট (locust):

লোকাষ্টরা মুলতঃ গ্রাসহপারের চেয়ে বড় আর বেশী ক্ষুর্ধাত সংস্করন।জাপানের নাগানোর এক কোম্পানী প্রায় ৬০ বছর ধরে খাদ্য হিসাবে এদের চালান দিয়ে আসছে। প্রায় ৪ টনের মত লোকাস্ট তারা প্রক্রিয়াজাত করে বছরপ্রতি খাদ্য হিসাবে এদের চাহিদা মেটানোর জন্য। সয় সসে সিদ্ধ করা লোকাষ্ট খাওয়ার প্রচলন আছে জাপান সহ বেশ কয়েকটি দেশে। ১০০ গ্রামে লোটাসে প্রায় ২৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে সমপরিমান জাপানী গরুর মাংশের তুলনায়। ২০০৮ এ FAO এর সেমিনারে ১০টি দেশের ৫০ জন বিশেষজ্ঞ এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সেরা ১০টি খাওয়ার উপযোগী কীটের তালিকা তৈরী করেন। এতে প্রথম ও ‍দ্বিতীয় হয়েছিল যথাক্রমে বাম্বু ওর্য়াম এবং হাউস ‍ক্রিকেট, লোকাস্টের অবস্থান চর্তুথ।


ছবি ২১: জাপানের শইচি উচিয়ামা লোকাষ্ট খাচ্ছেন। টোকিও নিবাসী শইচী Fun insect cooking নামের একটি জনপ্রিয় বইয়ের রচয়িতা।এই বিষয়ে তার ব্লগটিও অত্যন্ত জনপ্রিয়। অনেকের মত তিনি মনে করেন একদিন খাদ্য সমস্যার সমাধান করবে সহজে ‍উৎপাদন করা যায় এমন কিছু পোকামাকড়। (http://www.telegraph.co.uk/news/ picturegalleries/ howaboutthat/3526527/ Insect-sushi-creepy-crawly-cuisine.html?image=3)
সাইকাডা (Cicada) :

এদের জীবনচক্র অনেক দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর।জীবনের অনেকটা সময় এরা মাটির নীচে কাটায়।খুব উচু মানের প্রোটিন আর ভিটামিন সমৃদ্ধ সা্ইকাডা চীন জাপান সহ অনেক দেশেই খাওয়া হয়।


ছবি ২৩:সাইকাডা ফ্রাই (http://www.thebeijingguide.com/food/exotic.html)
আর তালিকা বড় করবো না 🙂 ,  আগ্রহীরা চাইলেই ইন্টারনেটে খুজে পাবেন আরো অনেক তথ্য।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুন মিশাশি‘র (যিনি থাইলান্ডে ২০০৮ সালে FAO এর সেই সেমিনারে যোগ দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞ হিসাবে) একটি মন্তব্য দিয়ে শেষ করছি:

“খু্ব নিকট ভবিষ্যতে , প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস হবে কীটপতঙ্গ”।

Advertisements
রসনা তৃপ্তিতে পোকামাকড়

13 thoughts on “রসনা তৃপ্তিতে পোকামাকড়

  1. রতন বলেছেন:

    পড়ে আর ছবি দেখে আমার পেটের ভেতরে কেমন যেন অনুভব করছি। মনে হচ্ছে আগামী ২-৩ দিন আমি না খেয়েও দিব্বি ঘুরে বেড়াতে পাড়ব (খেতে গেলেই ছবিগুলো চোখের সামনে ভাসবে তাই খাবার কোন প্রশ্নই আসে না!)
    আশা করি আমার জীবনদশায় কীটপতঙ্গ খেতে হবে না।

  2. ফাহিম আহ্‌মেদ বলেছেন:

    সর্বনাশা পোকা! আমি মরে গেলেও এগুলো খেতে পারবো না। আর মানুষগুলোও কত অদ্ভূত, খাওয়ার জন্য কি আর কিছুই খুঁজে পেল না! 😦 আমার ভাগ্য খুবই ভাল যে, আমি চীনে না, বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছি। 😀 নাহলে যে আমার কি হতো তা আল্লাহ্‌ই জানে! 😉

  3. Klaus বলেছেন:

    Hi K M Hassan,
    I am currently working on a relaunch of my personal website, as I lost the previous domain due to a miscalculated move to a different internet provider. When searching for links to my old website I discovered your use of my picture “peru/4961.en.htm” in your blog entry. I dont really mind, but could I ask you a small favour ? Could you please remove the link, and replace it by stating the source as “www.kheussler.com” ? That will be the new page I am building.
    Best regards
    Klaus from Germany

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s