‍‍তেলাপোকার বিশ্বজয়ের গোপন অস্ত্র


শীর্ষ ছবি: অষ্ট্রেলিয়ান তেলাপোকা বা Periplaneta australasiae। ( ছবি: Michel Gunther/photolibrary.com/ New Scientist)

(আমি প্রথম যে তিনটি পোকাকে ভালো চিনতে শিখি তার একটি হল তেলাপোকা (বাকী দুটি মাছি এবং মশা); তেলাপোকার প্রতি আমার অনুভুতিটা পর্যায়ক্রমে বিবর্তিত হয়েছে প্রথমে ভয়, তারপর ঘৃনা, বিরক্তি এবং সবশেষে বিস্ময়ে। এই বিস্ময়ের কিছুটা প্রকাশের প্রচেষ্টা নিলাম নীচের এই লেখাটিতে। নিউ সায়েন্টিষ্ট ম্যাগাজিনে ওয়েন্ডি জুকারম্যান এর The Roach’s Secret লেখাটিকে মুল কাঠামো ধরে আরো কিছু বাড়তি তথ্য সংযোজন ও পরিবর্ধন করে এই লেখা)

তেলাপোকা চেনে না এমন কেউ কি আছে?

এই পোকাটা দেখা মাত্র একেক জনের একেক রকম প্রতিক্রিয়া হয়, কেউ ভয় পায়, কারো ঘৃনায় গা গুলিয়ে উঠে, কারো হাত নিশপিশ করে এক বাড়ি দিয়ে বা পা দিয়ে পিষে মেরে ফেলতে.. , যার যেটাই মনে হোক না কেন, যে কোন পরিবেশে অনায়াসে খাপ খাইয়ে নেবার অসাধারন ক্ষমতার বলে এটি পৃথিবীর অন্যতম সফল একটি প্রানী। অনেকই অবশ্য ধারনা করেন, যে কোন প্রতিকুলতা সহ্য করার মত শক্তিশালী প্রানী এটি, এমন কি পারমানবিক তেজষ্ক্রিয়তাতেও এদের কিছুই হয় না, যে ধারনাটা প্রায় পুরোটাই ভুল। কারন বেশ কিছু পরীক্ষা পরে প্রমান করেছে যে, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এদের প্রতিকুলতা সহ্য করার ক্ষমতা অন্য অনেক কীটপতঙ্গের মতই গড়পড়তা।

অন্তত: তেমনটাই ধারনা করা হতো। কিন্ত ২০০৮ থেকে ২০১০ এ বেশ কিছু গবেষনায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিৎ হয়েছেন, আসলেই এদের বিশেষ একটা কিছু একটা আছে যা, অন্য কীটপতঙ্গ থেকে তাদের একটু বেশী কষ্টসহিষ্ণু হবার ক্ষমতা দিয়েছে। সিডনীর  অষ্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামে নানা ধরনের তেলাপোকার বিশাল একটা সংগ্রহ আছে। বড়, ছোট, পাখাসহ বা পাখাবিহীন, সবুজ রঙের, ডোরা কাটা দাগ কাটা ইত্যাদি। কিন্ত সবারই সেই এই ধরনের শরীর গঠনের প্যাটার্ন । যদিও বিবর্তনের মাধ্যমে এদের একটা অংশ, মানটিডরা, নতুন কিছু বৈশিষ্ট অর্জন করেছে, যেমন তাদের আছে শিকার ধরার কাটা যুক্ত পা, সে তুলনায় তেলাপোকা তেমন কোন কিছু নেই, সাদামাটা শরীরের পরিক্ল্পনা, বাড়তি বিশেষ কোন উপাঙ্গও তারা অর্জন করেনি। , প্রায় ৪০ শতাংশ তেলাপোকার প্রজাতি উড়তে পারে বলে ধারনা করা হয়, কিন্তু ওড়ার ব্যাপারেও এরা আদৌ দক্ষ না, উড়ে বেশী দুর এরা যেতেও পারেনা।

কোন কোন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে আছে, পারমানবিক বিস্ফোরনের মাধ্যমে সমস্ত পৃথিবী ধ্বংশ হলেও তেলাপোকা ঠিকই বেচে থাকবে। কথাটা ঠিক না , তেলাপোকারা কিন্তু এতো শক্তিশালী না। পরীক্ষা করে দেখা গেছে খুব অল্প ডোজ, ৬৪০,০০০ গ্রে (Gray, Gy) যথেষ্ট ৯৩% অপরিনত বয়ষ্ক জার্মান তেলাপোকা মারতে ( গ্রে হচ্ছে আয়োনাইজিং রেডিয়েশন শোষন করার ক্ষমতার  একটি একক); এর দশগুন বেশী রেডিয়েশন কিন্তু মানুষই সহ্য করতে পারে। আর মাছির সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, মাছি সহ্য করতে পারে  প্রায় ৬ মিলিয়ন গ্রে আর পরজীবির বৈশিষ্ট সম্পন্ন Habrobracon ওয়াস্প (wasp) কে মারতে লাগবে ১০ মিলিয়ন গ্রে রেডিয়েশন।

ফসিল বা জীবাশ্ম রেকর্ড ঘাটলে কিন্তু খুব কম সংখ্যক কীটপতঙ্গর ফসিল পাওয়া যায়, যাদের বিস্তৃতি আছে  ৩০০ মিলিয়ন বছর আগের কোন স্তরে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো তেলাপোকা। তেলাপোকাদের স্বর্ণ  যুগ ছিল আসলে কার্বনিফেরাস পিরিয়ড (Carboniferous), যখন পৃথিবীর সব কীটপতঙ্গের শতকরা ৪০ ভাগই ছিল তেলাপোকা প্রজাতির।  সেকারনেই জীবাশ্মবিদরা কখনো কখনো এই পিরিয়ডকে তেলাপোকার যুগ বলে মন্তব্য করেন। মনে হতে পারে বীটল (Beetle) দের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখানোর আগে বিবর্তন প্রক্রিয়ার বিশেষ পছন্দের প্রানী ছিল তেলাপোকারা। এইসব আদি তেলাপোকা বা “”Rochaoids” রা কিন্তু এ যুগের তেলাপোকা থেকে খুব একটা ভিন্ন ছিল না। স্ত্রীলিঙ্গের তেলাপোকাদের সেই সময় একটা লম্বা ডিম পাড়ার অঙ্গ বা অভিপজিটর ছিল যা প্রায় ১৪০ মিলিয়ন বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এছাড়া আপনি আপনার বাসায় বা আশে পাশে যে ধরনের তেলাপোকা দেখেন, এরা প্রায় তাদের মতই দেখতে ছিল।


তেলাপোকার ফসিল বা জীবাশ্ম:লোয়ার Cretaceous পিরিওড (প্রায় ১২৫ মিলিয়ন বছর আগে।প্রাপ্তিস্থান (Yixian Formation, Chao Yang, Liaoning Province of China) (http://www.fossilmuseum.net/Fossil-Pictures/Liaoning-Insects/Roach/ Insect12.htm


তেলাপোকার আরেকটি ফসিল বা জীবাশ্ম: এটি প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছর আগে।যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর একটি কয়লার খনিতে পাওয়া আপাতত এটি সবচে বড় আকারের তেলাপোকার ফসিল (প্রায় ৩.৫ ইন্চি লম্বা);পাশে একটি বর্তমান কালের অ্যামেরিকান তেলাপোকা।http://researchnews.osu.edu/archive/Hrz_ro~2.jpg

পৃথিবীতে বর্তমানে মোট প্রায় ৫০০০ প্রজাতির তেলাপোকা আছে। অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া প্রতিটা মহাদেশেই এদের বসবাস। এরা বাস করে গুহায়, জঙ্গলে, ক্রান্তীয় বনাঞ্চলে..আসলে কোথায় না। কিন্তু মানুষের সাথে বসবাস করার অভিযোজন ক্ষমতা আছে অল্প কিছু প্রজাতির, যাদের আমরা পেস্ট বা pest এর আওতায় ফেলি (নিচের ছবি), এদের কারনেই বাকীদের যত বদনাম। তেলাপোকা নিয়ে গবেষনা করেন, সিডনী বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন একজন কীটতত্ত্ববিদ বা Entomologist নাথান লো’র ভাষায়, . “They give the rest a bad name. While I am repulsed by the pests, not all cockroaches are nasty, some are quite beautiful.” ; তেলাপোকাদের মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত হলো, বড় আকারের অ্যামেরিকান তেলাপোকা আর একটু ছোট খাট জার্মান তেলাপোকা; নামগুলো খুব বিভ্রান্তির, কারন, খুব একটা স্পষ্ট না এদের উৎপত্তি আসলে কোথায় বা কখনই বা এরা সারা পৃথিবীতে বিস্তৃত হয়েছে।


ছবি: (১) জার্মান তেলাপোকা বা Blattella germanica হচ্ছে বিশ্বজনীন পেষ্ট। এদের দেখতে পাওয়া যায় পৃথিবীব্যাপী মানুষ বাস করে এমন সব জায়গায়, এদের গাঢ় বাদামী শরীর লম্বায় প্রায় ১৬ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং এদের পিঠের দুই পাশে বৈশিষ্ট্সুচক দুটি কালো রঙের ব্যান্ড আছে। মোটামুটি সবকিছুই খায় এরা, আর আমাদের খাওয়া নষ্ট করতে পারে এদের মল আর শরীরের কিছু প্রতিরক্ষামুলক রস নিঃসরণ করে। (২) অ্যামেরিকান তেলাপোকা বা a,Periplaneta americana এদেরও পাওয়া যায় সারা পৃথিবীতে, পয়োনিষ্কাষন বা সুয়েরেজ সিস্টেম, রান্নাঘর, হোটেল, রেস্টুরেন্ট এদের পছন্দের জায়গা। এদের শরীরটা লালচে বাদামী রঙের লম্বায় হতে পারে প্রায় ৪০ মিলিমিটার । এদের শরীরের আবরন ছেড়ে ফেলার সময় (মোল্টিং), বা খাওয়ার মধ্যে ত্যাগ করা মল, কিছু কিছু মানুষের জন্য অ্যাজমা বা হাপানীর কারন হতে পারে। (৩) বাদামী ব্যান্ড যুক্ত বা ব্রাউন ব্যান্ডেড তেলাপোকা সম্ভবতঃ আফ্রিকার স্থানীয়, Supella longipalpa  কিন্তু পরে এরা ছড়িয়ে    ক্রান্তীয় অঞ্চলে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য সহ ইউরোপের নানা দেশে। এদের শরীর লম্বায় প্রায় ১৪ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং খয়েরী রঙের ব্যান্ডের একটা প্যাটার্ন আছে এদের শরীরে, কখনো পুরোটাই কালো রঙের হয়। এদের অ্যান্টেনাটি প্রায় শরীরের সমানই লম্বা দৈর্ঘের হয়ে থাকে। (৪)ওরিয়েন্টাল তেলাপোকা বা Blatta orientalis অ্যান্টার্কটিক ছাড়া আর সব মহাদেশেই  পাওয়া যায়। এদের কালো রঙের শরীর ২৭ মিলিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। পুরুষদের বেশ লম্বা পাখনা আছে ( দৈর্ঘে প্রায় শরীরের তিন-চতুর্থাংশ) কিন্ত স্ত্রী তেলাপোকাদের পাখনা খুবই ছোট আর উড়তেও পারেনা।

আপাতদৃষ্টিতে সাদামাটা এই পোকাটা কিভাবে এতো সফল হলো এই দীর্ঘ সময় ধরে? অষ্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামের কীটতত্ত্ববীদ মার্টিন রবিনসন এর মতে, এর আংশিক কারন সম্ভবত এদের সাধারনত্ব। তেলাপোকা হল এমন একটা প্রানী যে কোন বিষয়ে বিশেষায়িত না হবার বিষয়েই বিশেষজ্ঞ। নাথান লো বলেন, আসল কথা হচ্ছে খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে এদের কোন নাক উচু ভাব বা বাছবিচার নেই। এরা যা পায় তাই খেতে পারে, এরা একে অপরকে খায়, সুযোগ পেলে আমাদেরও স্বাদ নেয়। অনেক কাহিনী আছে, যেমন বেশী তেলাপোকা আছে এমন দালানে বা জাহাজে ঘুমন্ত মানুষকে এরা কামড়িয়েছে।  নোখ বা চামড়ার ক্যালাস বা শক্ত কোন জায়গা এদের পছন্দ, সম্ভবত: এখানে কুট কুট করে কামড়ে খেলে ঘুমন্ত মানুষ টের পায়না। জাহাজের নাবিকদের কাছে শোনা যায় হাতের নোখ বাঁচাতে মাঝে মাঝে তারা হাতে গ্লাভস পরে ঘুমায়।

কিন্তু কোন ধরনের বিশেষায়িত না হওয়া সত্ত্বেও এদের বিশেষ কিছু  বৈশিষ্ট আছে। যারা তেলাপোকা মেরেছেন বা যারা বায়োলজী প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসে এদের পেট কেটেছেন, তারা দেখেছেন, এদের পেটের মধ্য থেকে সাদা একটা জিনিস বের হয়ে আসে। এদের পুরো পেট জুড়ে এটি থাকে, যাকে বলে ফ্যাট বডি বা Fat body, এর মধ্যে আসলে দুই ধরনের কোষ থাকে, স্নেহজাতীয় পদার্থ ভরা ফ্যাট কোষ বা অ্যাডিপোসাইট (Adipocyte) আর ব্যাকটেরিয়া ঠাসা আরেকধরনের কোষ মাইসেটোসাইট (Mycetocyte)।

কীটপতঙ্গ জগতের প্রায় শতকরা ২০ ভাগ সদস্যরাই এ ধরনের মিথোজীবি উপকারী ব্যাকটেরিয়া লালন করে। এমনকি তেলাপোকার মত অনেকেরই মাইসেটোসাইটও আছে। কিন্তু  তেলাপোকার সাথে এর ভেতরে বাসকরা অন্তঃমিথোজীবি ব্যাকটেরিয়াদের ( যাদের নাম Blattabacterium) সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ট। অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে যদি ব্যাকটেরিয়াগুলোকে মেরে ফেলা হয় তাহলে তেলাপোকার বেচে থাকা কঠিন হয়ে যায়, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তারা মারা যায়। আর তেলাপোকা যদি মরে যায় Blattabacterium অবশ্যই মারা যাবে। যে কীটপতঙ্গগুলো উপকারী ব্যাকটেরিয়া লালন করে তারা সাধারনত: তাদের পরিবেশ থেকে সংগ্রহ করে, কিন্তু তেলাপোকারা ডিম থেকে বেরই হয়  Blattabacterium ব্যাক‍টেরিয়া পেটের ভেতর নিয়ে। যখন ডিম্বানু শরীরের মধ্যে বাড়তে থাকে তখনই  Blattabacterium শরীরের ভেতর থেকে ডিম্বাশয়ে প্রবেশ করে, আর প্রতিটা ডিমের মধ্যে ঢুকে যায়, ডিম ফুটে বের হওয়া তেলাপোকা এদের শরীরের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া নিয়ে বের হয়ে আসে।

২০০৮ এ টুসনে’র অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক জাকি সাব্রি আমেরিকান আর জার্মান তেলাপোকার ভেতরে থাকা ব্যাকটেরিয়ার পুরো জিনোম (পুরো ডিএনএ) তুলনা করে দেখেন। তিনি দেখান যে এই দুই পরিচিত প্রজাতির মধ্যে থাকা Blattabacterium, কমপক্ষে ১৪০ মিলিয়ন বছর আগে আলাদা স্ট্রেইনে (আলাদা টাইপ)  বিভক্ত হয়েছে। এ সময়ের জীবাশ্ম রেকর্ডও দেখা যায় এই দুই ধরনের তেলাপোকা প্রজাতিও আলাদা হয়েছিল ভিন্ন বংশধারায়। এই ‍২ প্রজাতি আলাদা হবার পরও দেখা যায় এদের ভেতরে বহনকারী ব্যাকটেরিয়ার বংশধারায় তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। বিজ্ঞানীরা মনে করেন এই ব্যাকটেরিয়া আর তেলাপোকার সম্পর্ক এতই সফল যে, ব্যাকটেরিয়াকে আরো কোন বড় আকারের পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়নি বা প্রয়োজনই পড়েনি।

সাব্রির এই গবেষনার বেশ আগে থেকেই কিন্তু Blattabacterium কে তেলাপোকার একটা সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট হিসাবেই মনে করা হতো। যখন Mastotermes darwiniensis নামের অষ্ট্রেলিয়ার উইপোকার মধ্যে এই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেল, তখন কোন কোন গবেষক ভাবতে লাগলেন তাহলে কি তেলাপোকা আর উইপোকার মধ্যে কি কোন সম্পর্ক আছে? ২০০০ সালেই নাথান লো তার গবেষনায় প্রমান করলেন ‍উইপোকা বা Termite রা  আসলেই কাঠ-খাদক  এক ধরনের তেলাপোকারই বংশধর। শুরুতে ব্যাপারটা বিতর্কিত হলেওে এখন বিজ্ঞানীরা নিশ্চিৎ উইপোকারাও আসলে একধরনের তেলাপোকা।

কিন্তু প্রশ্ন হলো এই Blattabacterium আসলে কি করে তেলাপোকার জন্য?

প্রানীদেহে বাসকারী বেশীর ভাগ মিথোজীবি ব্যাকটেরিয়াগুলো সাধারতঃ তাদের পোষকের শরীরে পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে, যে উপাদানগুলো তারা খাদ্যে পায়না বা নিজেদের শরীরে তৈরী করতে পারেনা (যেমন আমাদের আন্ত্রিক নালীতে থাকা লক্ষ কোটি ব্যাকটেরিয়া), প্রাথমিক ধারনা ছিল সেটাই এর প্রধান কাজ । তেলাপোকার ক্ষেত্রে আরেকটা গুরুত্বপুর্ন ব্যাপার হলো এদের অ্যানাটোমিক অবস্থান।

আমরা জানি যে, প্রোটিন গঠনের উপাদান হলো অ্যামাইনো অ্যাসিড, আর নাইট্রোজেন হলো অ্যামাইনো অ্যাসিডের প্রধান একটি উপাদান। কিন্ত প্রানীরা অতিরিক্ত নাইট্রোজেন শরীর থেকে বের করে দেয় অ্যামোনিয়া, ইউরিয়া বা ইউরিক অ্যাসিডের মাধ্যমে। কিন্ত তেলাপোকা যখন তাদের প্রয়োজনের তুলনায় বেশী পরিমান নাইট্রোজেন খেয়ে ফেলে, তারা সেটা সেই অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ফ্যাট বডির ফ্যাট কোষে জমিয়ে রাখে, ইউরিক অ্যাসিড ক্রিষ্টাল হিসাবে। এমনকি যখন তাদের অনেক বেশী পরিমান নাইট্রোজেন যুক্ত খাদ্য খাওয়ানো হয় তখনো তারা অতিরিক্ত নাইট্রোজেন শরীর থেকে বের করে দেয়না।

কিন্তু  অতিরিক্ত নাইট্রোজেন তারা শরীরে জমিয়ে রাখেই বা কি করে ? বিজ্ঞানীরা আগেই ধারনা করছিলেন নিশ্চয়ই Blattabacterium এই নাইট্রোজেন রিসাইকেল করতে তাদের সাহায্য করে। কিন্ত কেউই তা প্রমান করতে পারেননি এতদিন পর্যন্ত। না পারার প্রধান কারন এই ব্যাকটেরিয়া তেলাপোকার শরীরের বাইরে বাচতে পারেনা, তাই ল্যাবরেটরীতে এদের বংশবিস্তার করা সম্ভব হয়নি । কিন্ত বর্তমানে নতুন কিছু টেকনিক আছে তা দিয়ে এই ব্যাকটেরিয়া আসলে কি করে সেটা বের করা সম্ভব, সেই টেকনিকটা হলো জীনোম সিকোয়েন্স (ডিএনএ’র বেস এর অনুক্রম)  করা।

কিন্তু সেটা বলার চেয়ে করা অনেক কঠিন। কারন হচ্ছে এই ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ র কোন বিশুদ্ধ নমুনা পাওয়া খুবই কঠিন একটি কাজ। সাধারনতঃ তেলাপোকার শরীরের ফ্যাট বডিতে ফ্যাট কোষদের মাঝে স্যান্ডউইচ হয়ে থাকে ব্যাকটেরিয়া ভরা কোষগুলো, তাই  এদের এখান থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ খুবই কঠিন। যদিও ব্যাকটেরিয়া ভরা কোষ পাওয়া গেল, কিন্ত তাদের কোষের ভেতরের নানা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ থেকে এদের আলাদা করা আরো কঠিন।

২০০৮ সালে নাথান লো আর তার সহযোগীরা এই কঠিন কাজটি, অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ টা আলাদা করতে সফল হন। অবশেষে শুরু হলো এর জীনোম সিকোয়েন্স করা। কিন্ত সাব্রি’র টীম সেই সফলতা ছিনিয়ে নিলো নাথান লো’র টীমের কাছ থেকে। ২০০৯ সালে সাব্রির টিম প্রথম Blattabacterium জিনোম প্রকাশ করেন। তাদের গবেষনা প্রমান করে যে, এই ব্যাকটেরিয়াদের  ইউরিয়া আর অ্যামোনিয়াকে ১০টি অবশ্য প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিডে রুপান্তরিত করার জন্য দরকারী সব এনজাইমই আছে। এছাড়া তারা বেশ কয়েকটা ভিটামিনও তৈরী করতে সক্ষম। সুতরাং এই সাদা  ফ্যাট বডিগুলো তেলাপোকাকে কোন খাওয়া ছাড়াই এক মাসের চেয়েও বেশী বাচতে সাহায্য করে, এছাড়া খুবই কম পুষ্টি যুক্ত, কম আমিষ পুর্ন খাদ্য খেয়েও এরা বাচতে পারে তাদের এই অসাধারন নাইট্রোজের রিসাইকেল করার ক্ষমতার সুবাদে। সাব্রির ভাষায়, “It has its own chef and refrigerator on its back,”

তেলাপোকার সাথে  উপকারী এই ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কটাকেই বিজ্ঞানীরা শনাক্ত করেছেন, গত কয়েক শত মিলিয়ন বছর ধরে তেলাপোকাদের সফলভাবে বেচে থাকা প্রধান কারন হিসাবে। তারপরও খাদ্য সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের এই বিশেষ ক্ষমতা সত্ত্বেও অল্প কিছু প্রজাতির তেলাপোকা মানুষের বাসস্থানে তাদের ঘাটি গড়তে পেরেছে। অষ্ট্রেলিয়ার আরেকজন কীটতত্ত্ববিদ ডেভিড রেন্টজ এর হিসাব মতে উত্তর কুইন্সল্যান্ডে ক্রান্তিয় বনাঞ্চলের কাছে তার বাসার আশে পাশে মোট ৮৪ প্রজাতির তেলাপোকার বসবাস। কিন্তু শুধু জার্মান আর অ্যামেরিকান তেলাপোকা পারে শুধু ঘরের মধ্যে বসবাস আর বংশবিস্তার করতে। তেলাপোকার যে প্রজাতিগুলো মানুষের আবাসস্থলে বসবাস করা শুরু করেছে, তারা যে শুধু যে কোন কিছু খেতে পারে তাই না, পানি ছাড়া এরা দীর্ঘ সময় বেচেও থাকতে পারে। কিন্তু খাবারের খোজে অন্য প্রজাতির তেলাপোকারা যারা মাঝে মাঝে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ঘরে ঢোকে, কিন্তু তারা প্রায়ই ঘরের মধ্যে মারা যায় পানিশুন্যতার কারনে।

খারাপ খবরটা হলো, মানুষের আবাসস্থলে তেলাপোকার আগ্রাসন এখনো শেষ হয়নি। পরিচিত কয়েকটি প্রজাতি ছাড়াও আরো কিছু এই দলে নাম লেখানো চেষ্টায় আছে। যেমন Methana marginalis নামে একটি অষ্ট্রেলিয়ার স্থানীয় তেলাপোকা। যাকে গত কয়েক বছর ধরেই ঘরের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। যদিও ব্যাপারটা এখনো স্পষ্ট  না, যে ঘরের মধ্যে  বংশ বিস্তার করার জন্য তাদের প্রয়োজনীয় অভিযোজনীয় বিবর্তন ঘটেছে কি না। যেহেতু এখনো তাদের নিম্ফ (তেলাপোকাদের জীবনচক্রের একটি পর্যায়) পাওয়া যায়নি ঘরের মধ্যে, সেকারনেই ডেভিড রেন্টজ  মনে করেন, না, এখনো না।


Methana marginalis নামে একটি অষ্ট্রেলিয়ার যে তেলাপোকাটি মানুষের আবাস স্থলে নতুন আগ্রাসনকারী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

যারা কষ্ট করে এতোটুকু পড়েছেন এবার তাদের জন্য একটা উপহার।

সেটা হলো:

তেলাপোকাদের রেড কার্পেট, কিছু সেলেব্রিটি তেলাপোকার গ্যালারী:


আমেরিকান তেলাপোকা বা Periplaneta americana ’র এই ছবিটা তোলা হয়েছে স্ক্যানিং ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপে। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগামী ইনসেক্ট বা কীটের একটি। তাদের চলাফেরার পদ্ধতি এতই স্বতন্ত্র, যে ছয় পা বিশিষ্ট রবোট সিস্টেম তৈরী করার ধারনা এসেছে এদের এই বৈশিষ্টসুচক স্কাটলিং মুভমেন্ট (খুব দ্রুত গতিতে পর্যায়ক্রমে অল্প অল্প দুরত্ব অতিক্রম করা), (ছবি: Last refuge/Rober Harding/Getty/ New Scientist)


মাদাগাষ্কান হিসিং তেলাপোকা ( Gromphadorhina oblangaonata), কেউ যদি এদের বিরক্ত করতে ইচ্ছা পোষন করে এরা ব্যাপারটা সহজ ভাবে নেয় না। কোন ধরনের বিপদের গন্ধ পেলেই পেটের শ্বাস নেবার ছিদ্র দিয়ে দ্রুত বাতাস চেপে বের করে বেশ জোরে হিস হিস একটা আওয়াজ করে, যা প্রায় ৪ মিটার দুর থেকে শোনা যায়। ছোট আকারের কোন প্রানীর জন্য তা চমক দেবার মত একটা কাজ বটে। ছবি: Joel Sartore/NGS/Getty)/ New Scientist


জায়ান্ট বারোয়িং তেলাপোকা বা Macropanesthia rhinoceros বেশ কয়েকটা রেকর্ডের অধিকারী। ৩৩.৫ গ্রাম ওজনের এই তেলাপোকা পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী তেলাপোকা। আর দৈর্ঘ্য ৮ সেন্টি মিটার এর বেশী হওয়ার কারনে এটি সবচেয়ে বড় প্রজাতির তেলাপোকা। এরা বেচে থাকে প্রায় ১০ বছর, সেদিক থেকে এরা দীর্ঘজীবি কীটপতঙ্গের মধ্যে অন্যতম। (ছবি: Richardson/Newspix/Rex Features/ New Scientist)


অনেক তেলাপোকার যদিও পুর্ণাঙ্গ পাখা আছে, কিন্ত অল্প কটি প্রজাতির তেলাপোকারা তা ব্যবহার করতে জানে, লং উইংড তেলাপোকা বা Megaloblatta blaberoides দের এ বিষয়ে কোন সমস্যা নেই। তেলাপোকাদের মধ্যে সবচেয়ে পাখার অধিকারী এরা। সর্ব্বোচ্চ রেকর্ড করা হয়েছে ১৮.৫ সেন্টি মিটার।  (ছবি: George Beccaloni/SPL/ New Scientist)


দি কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল ব্লাটোডিয়ান বা Simanoda conserfariam তেলাপোকা বাস করে গুহার মধ্যে।গুহায় বসবাস কারী ফ্রুট ব্যাট বা বাদুড়ে’র মল খেয়ে এরা গুহার ভেতরটা এটা সাফসুতরো রাখে। বাদুড়ের জন্য আদর্শ প্রতিবেশী বলা চলে। ২০০২ সালে এই প্রজাতিটা আবিষ্কার করে CI Rapid Assessment Program। (ছবি: Piotr Naskrecki/CI, Conservation International/ New Scientist)


জার্মান তেলাপোকা (Blattella germanica), সারা পৃথিবী জুড়ে রান্না ঘরের সুপরিচিত বাসিন্দা, এদিক সেদিক পড়ে থাকা খাবার খুজে এরা খায়। ধারনা করা হয় এরা শরীর থেকে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে, বিশেষ করে যখন কেউ একজন ভালো খাওয়ার সন্ধান পায়। একা একা সব খাবার না খেয়ে এরা সবাইকে খবর দেয়: ভালো খাওয়ার সন্ধান পাওয়া গেছে, তাড়াতাড়ি চলে আসো সবাই। (ছবি: Lambuga/CC-BY-SA-3.0/ New Scientist)


এই ভয়াবহ চেহারার তেলাপোকার নাম ডেথ হেড তেলাপোকা (Blaberus craniifer), এদের এই বিশেষ চেহারার জন্য অনেকে এদের পেট বা পোষা প্রানী হিসাবে সংগ্রহ করে থাকেন। কিন্তু প্রায়ই এদের সংগ্রহকারীদের একই রকম দেখতে একটি হাইব্রিড তেলাপোকা বিক্রি করা হয়, যেটা পোষা প্রানী বিক্রেতা চাষ করেন গিরগিটি বা ট্যারান্টুলার খাদ্য হিসাবে। (ছবি: Philippe Blanchot/Sunset/Rex Features/ New Scientist)


ডেথ হেড তেলাপোকা (Blaberus craniifer), এর প্রোনোটামের উপর কালো স্পটটা দেখুন, একটু কল্পনা করলে দেখা যাবে অনেকটা মাথার খুলির মত, এজন্য এদের নাম ডেথ হেড। যারা তেলাপোকা সংগ্রহ করেন তাদের কাছে এদের মুল্য অনেক।


আবারো ডেথ হেড তেলাপোকা (Blaberus craniifer), এর প্রোনোটামের উপর কালো স্পটটা দেখুন ভালো করে।


আকারে বড় হবার জন্য তেলাপোকাকে বার বার তার বাইরের শক্ত খোলসটা বদলাতে হয়, যাকে মোল্টিং বলে। এখানে মোল্টিং রত ওরিয়েন্টাল তেলাপোকাকে (Blatta orientalis) দেখা যাচ্ছে , আকারে বড় হয়ে যাবার কারনে বাইরের খোলস কেটে বের হয়ে আসছে, কারো রঙের তেলাপোকাটা এখন দেখতে একেবারে সাদা, এই সাদা তেলাপোকা দেখে হয়ে আলবিনো ( সুম্পুর্ন সাদা) তেলাপোকার কল্পকথার জন্ম। বাইরের খোলস ছাড়া অবস্থায় এখন সে নাজুক পরিস্থিতিতে, তবে  নতুন এই নরম সাদা চামড়া বেশী স্থায়ী হয়না। কয়েক ঘন্টা পরে আবার শক্ত খোলস তৈরী হয়।(ছবি: Ildar Sagjedev// CC-BY-SA-3.0/ New Scientist)

গ্রীন বানানা তেলাপোকা বা Panchola nivea , স্বচ্ছ সবুজ রঙের এই তেলাপোকাকে কিউবান তেলাপোকাও বলা হয়। কিউবা, ক্যারিবীয় দ্বীপপুন্জ্ঞ, আমেরিকার ফ্লোরিডা আর টেক্সাসে  এদের দেখা যায়। ছোটখাট আকারের এই তেলাপোকা, আকারে ১২ মিলিমিটার থেকে ২৪ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। পাখা থাকার কারনে এরা উড়তেও পারে ভালো। সাধারনত: ঘরের ভেতর এদের দেখা যায়না। ঝোপঝাঢ় আর গাছ পালাই এদের প্রিয় জায়গা। সুন্দর রঙের জন্য সংগ্রাহকরা এদের পোষা প্রানী সংগ্রহ করেন। ছবি: http://www.angelfire.com/oh2/Roaches/images/Pnivea2.jpg


গ্রীন বানানা বা কিউবান তেলাপোকা বা Panchola nivea


কোষ্টারিকার জেব্রা তেলাপোকার (Erycotis decipiens) নাম কিভাবে হলো বোঝাই যাচ্ছে। এরা উড়তে পারেনা, এদের গায়ের দাগগুলো আসলে আত্মরক্ষার একটি কৌশল।  ছবি: http://www.angelfire.com/oh2/Roaches/images/EdecipiensAdult.jpg

কেনিয়ার পোরসেলিন তেলাপোকা ( Gyna lurida), ছোট থেকে বড় হলে এই সুন্দর চেহারাটা নষ্ট হয়ে যায়। কিন্ত ৫০ জনে ১ টা এমন সুন্দর হলদে রংটা ধরে রাখে। বড় হলে পুরুষগুলো আকারে ছোট আর বাদামী, আর স্ত্রী তেলাপোকা বড় আর পলিশ করা পোরসেলিসের রং ধারন করে। বড় হলে এরা উড়তে পারে এরং খুবই ছটফটে, মাটি থেকেই এরা সরাসরি উড়তে পারে। ছবি: http://www.angelfire.com/oh2/Roaches/images/GluridaYellow.jpg

দক্ষিন আমেরিকার ওরেন্জ হেড তেলাপোকা (Eublaberus posticus),  প্রায় ২ ইন্চি লম্বা এই তেলাপোকার রং খুব সুন্দর। খুব দ্রুত বাড়ে এরা। সামনে অন্য কোন পোকা থাকলে তো খায়ই, বেশী চাহিদা হলে নিজের পাখা কামড়ে খায়।


এক জোড়া পেপারড তেলাপোকা (Archimandrita tessalata) আকারে বেশ বড় হয় প্রায় ৩ ইন্চির মত। অন্য সব তেলাপোকা প্রজাতির মনে মেয়েদের আকারটা বড় হয়। যারা তেলাপোকা সংগ্রহ করেন এরা তাদের পছন্দের কারন অন্য তেলাপোকাদের মতো প্রতিরক্ষার জন্য এরা কোন বাজে গন্ধ তৈরী করেনা।

মধ্য আর দক্ষিন আমেরিকার জায়ান্ট কেভ তেলাপোকা (Blaberus gigantus) আকারে লম্বা হয় প্রায় ৪ ইন্চির মত। বেশ বড় এদের। এদের পুরুষ সদস্যরা খুবই মারদাঙ্গা স্বভাবের হয়, একসাথে রাখলে এরা মারা মারি করে নিজেদের হাত পা ছিড়ে ফেলে।


মেক্সিকো,মধ্য আর দক্ষিন আমেরিকায় এদের দেখা যায়। প্রায় ২০ বছর ধবে এদেরকেও ডেথ হেড তেলাপোকা নাম দেয়া হয়েছিল। এর আসল পরিচয় ডিসকয়েড তেলাপোকা বা Blaberus discoidales । আবার কখনো কখনো এদের জায়ান্ট কেভ তেলাপোকা নামে চালিয়ে দেয়া হয়। যারা তেলাপোকা সংগ্রহ করেন তাদের প্রায়ই একে নিয়ে এই ধরনের ঝামেলায় পড়তে হয়।

এর পরে যখন কোন তেলাপোকা দেখবেন একটু কি অন্যরকম ভাববেন এদের সম্বন্ধে ?

পোষা তেলাপোকা হিসাবে  অনেকেই মাদাগাষ্কান হিসিং তেলাপোকাকে পছন্দ করেন। (http://www.cutehomepets.com/wp-content/uploads/2010/04/pet-cockroach.jpg)

জ্যারেড গোল্ড এর ডিজাইন করা জীবন্ত তেলাপোকা জুয়েলারী, এখানেও মাদাগাস্কান হিসিং তেলাপোকা (সুত্র: http://fc04.deviantart.net/fs24/f/2008/021/e/f/ Jared_Gold__s_Cockroach_II_by_jakegarn.jpg)

Advertisements
‍‍তেলাপোকার বিশ্বজয়ের গোপন অস্ত্র

19 thoughts on “‍‍তেলাপোকার বিশ্বজয়ের গোপন অস্ত্র

  1. tusin বলেছেন:

    চমৎকার লাগল এই লেখাটি……………………
    তেলাপোকা সম্পকে অনেক কিছু জানতে পারলাম……………
    ধন্যবাদ

  2. […] Posted by রতন চালু করুন অগাষ্ট 13, 2011 শীর্ষ ছবি: অষ্ট্রেলিয়ান তেলাপোকা বা Periplaneta australasiae। ( ছবি: Michel Gunther/photolibrary.com/ New Scientist) (আমি প্রথম যে তিনটি পোকাকে ভালো চিনতে শিখি তার একটি হল তেলাপোকা (বাকী দুটি মাছি এবং মশা); তেলাপোকার প্রতি আমার অনুভুতিটা পর্যায়ক্রমে বিবর্তিত হয়েছে প্রথমে ভয়, তারপর ঘৃনা, বিরক্তি এবং সবশেষে বিস্ময়ে। এই বিস্ময়ের কিছুটা প্রকাশের প্রচেষ্টা নিলাম নীচের এই লেখাটিতে। নিউ সায়েন্টিষ্ট ম্যাগাজিনে ওয়েন্ডি জুকারম্যান এর The Roach's Se … Read More […]

  3. খুব মজা পেলাম। কিন্তু শেষে গ্যালারীতে এসে গাটা একটু গুলিয়ে গেল। বেশ কষ্ট করে লিখেছেন। আমরা এইরকম লেখা নিয়মিত পড়তে চাই। উত্তম জাঝা!

  4. অজ্ঞাত বলেছেন:

    এককথায় দারুণ ! আরশোলা নিয়ে অনেককিছু জানতে পারলাম। আমার মা আরশোলা দেখলেই ভয় আর ঘেন্নায় কাতর হন। ওকে লেখাটা পড়াতেই হবে 😀 😀

  5. দারুণ পোস্ট !
    আরেক দফা পড়া হল। আমার মা আরশোলা দেখলেই ঘেন্না আর ত্রাসে চিলচিৎকার জুড়েন। ওকে এই লেখাটা পড়াতেই হবে। থেরাপির কাজ হবে 😀 😀

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s