আমাদের এই প্রাচীন শরীর


শীর্ষ ছবি: Tiktaalik rosae র ফসিলের একাংশ হাতে ডঃ নিল এইচ শুবিন, প্রায় ৩৭৫ মিলিয়ন বছর আগের এই প্রজাতিটি মাছ এবং স্থলচার প্রাণিদের বিবর্তনের মধ্যবর্তী শূন্যস্থানটি পূরণ করেছে।

The best road maps to human bodies lie in the bodies of other animals. The simplest way to teach students the nerves in the human head is to show them the state of affairs in sharks. The easiest road map to their limbs lies in fish. Reptiles are a real help with the structure of the brain. The reason is that the bodies of these creatures are often simpler versions of ours. Neil H. Shubin (in the preface of his book Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body )

শুরুর কথা:  ফিল্ডস মিউজিয়ামের একাডেমিক অ্যাফেয়ার প্রভোষ্ট নীল এইচ শুবিন (Neil H. Shubin) একজন প্রখ্যাত জীবাশ্মবিদ। বর্তমানে তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রবার্ট আর, বেন্সলে অধ্যাপক এবং ওরগানিজম্যাল ও বিবর্তন জীববিজ্ঞান ফ্যাকাল্টির অ্যাসোসিয়েট ডীন । তিনি এমন কিছু জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন, যা বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্রান্তিকালীন সময় যেমন: সরীসৃপ থেকে স্তন্যপায়ী, জলজ থেকে স্থলচর প্রাণি’র ‍বিবর্তন সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞানের পরিধিকে অনেকদুর এগিয়ে নিয়ে গেছে। এই আবিষ্কারগুলো গ্রীনল্যান্ড থেকে মরোক্কো পর্যন্ত্ জীবাশ্ম সন্ধানের লক্ষ্যে তাঁর বেশ কিছু অভিযানের ফসল। ২০০৬ সালে শুবিন এবং তার সহযোগীরা নেচার (Nature) জার্নালে টিকটালিক -এর (মাছ আর উভচর প্রাণিদের মধ্যবর্তী একটি প্রাণি) জীবাশ্ম আবিষ্কারের বিষয়ে প্রথম তথ্য প্রকাশ করেন। বর্তমান এই লেখাটি জানুয়ারী ২০০৯ এ দ্য সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকান পত্রিকায় প্রকাশিত তার This old body এবং নোভা/ পিবিএস এর ওয়েবসাইট জন্য তার সম্পাদিত একটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ স্লাইড শো, The zoo of you অবলম্বনে লেখার চেষ্টা করেছি আমি। ( ইন্টারঅ্যাক্টিভ স্লাইডগুলোর জন্য শুবিন তাঁর নিজের Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body বইটি ব্যবহার করেছেন আর মূল স্লাইডগুলো ইলাস্ট্রেশন করেছেন কাল্লিওপি মনোইয়োস।)

ভূমিকার পরিবর্তে:

আমি যখন অ্যানাটোমি পড়াতে শুরু করি,সেই একই সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমার ল্যাবরেটরিটাকে আধুনিকায়ন করার জন্য সংস্কারের কাজও শুরু করেছিল। আপাতদৃষ্টিতে ঝামেলার এই যুগপৎ ব্যাপারটা পরবর্তীতে আমার জন্য বেশ লাভজনকই প্রমানিত হয়েছিল । প্রথমবারের মত অ্যানাটোমি পড়ানোর কাজটা বেশ পরিশ্রমের, এর কারণ যে শুধু অসংখ্য নাম মনে রাখতে হয় তা কিন্তু না। আমাদের শরীরের ভিতরে একবার তাকালেই নজর পড়ে, বিবর্তন প্রক্রিয়া তার চিহ্ন হিসাবে আমাদের ভেতরে কত অঙ্গ, প্রত্যঙ্গ বা কাঠামো তৈরী করে গেছে। তাদের দেখলে কখনো কখনো মনে হয় যেন এলোমেলো জট পাকানো একটা ব্যাপার। এলোমেলো বিন্যাসের একটা উদাহরণ হলো, শরীরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে বেশকিছু শিরা,ধমনী, স্নায়ু বা অন্য নালীদের অত্যন্ত আজব আর জটিল ঘুরপথ বেছে নিতে দেখা যায়। কিন্তু কেন?

যখন দেহের ভিতরের এই আভ্যন্তরীন কাঠামোগুলোকে বোঝার জন্য আমি চেষ্টা করছি তখন প্রায় একশ বছরের পুরোনো একটা বিল্ডিং এ আমাকে জায়গা দেয়া হলো। পরিকল্পনা হলো,এই বিল্ডিংটাকেই সংস্কার করা হবে আমার টিমের জন্য নতুন একটি অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরী তৈরী করা হবে।এর দেয়াল ভেঙ্গে যখন আমরা পানি, বিদ্যুৎ আর গ্যাস এবং অন্যান্য ইউটিলিটি সরবরাহ পদ্ধতির গঠন দেখছিলাম, সেখানেও ছিল এমন জটিল এলোমেলো অবস্থা, যা দেখে পুরো ব্যাপারটার কোনো কুলকিনারা করা সম্ভব নয়। কেবল লাইন, পাইপ,নানা ধরনের তার,এলোমেলোভাবে বিচিত্র ধরনের সব লুপ তৈরী করে রেখেছে সারা বিল্ডিং জুড়ে। কারো পক্ষেই সুস্থ মস্তিষ্কে এই বিল্ডিংটাকে জটিলভাবে জটপাকানো এই জিনিস এর উপর ভিত্তি করে নতুন করে আবার তৈরী করার কথা ভাবা সম্ভব না।

১৮৯৬ সালে তৈরী করা এই বিল্ডিং এ, ইউটিলিটি সরবরাহের সব কিছুই বহু পুরোনো পরিকল্পনার ভিত্তিতে সাজানো, এবং তার উপর যোগ হয়েছে বছরের পর বছর এর উপর করে যাওয়া নানা ধরনের ক্ষনস্থায়ী সংস্কারগুলোর চিহ্ন। আপনি যদি এই আঁকা ‍বাঁকা পাইপ আর জটবাধানো তারের কাহিনী জানতে চান, তাহলে আগে আপনাকে এর ইতিহাস জানতে হবে, কিভাবে বছরের পর বছর এসব বিন্যাস নানা প্রয়োজনের চাপে পরিবর্তিত হয়েছে। আমাদের দেহের গঠনের ক্ষেত্রেও কিন্তু বিষয়টা ঠিক একইরকম।

উদাহরণ হিসাবে পুরুষদের শুক্রনালী বা স্পার্মাটিক কর্ডের (ছবি ১) কথা ধরা যাক। এই নালীটি ‍অণ্ডকোষের থলিতে থাকা অণ্ডকোষ এবং পুংলিঙ্গের মূত্রনালীর সাথে সংযোগ সৃষ্টি করে এবং অণ্ডকোষ থেকে শুক্রাণুদের ‍শরীরের বাইরে বের হবার একটা পথ তৈরী করে। অণ্ডকোষের থলি বা স্ক্রোটাম কিন্তু পুংলিঙ্গের নীচেই থাকে, স্বভাবতই আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে, ডিজাইনটা নিঃসন্দেহে ভালো হতো যদি এতোটা ঘুরে না গিয়ে সরাসরি এই দুইটি অঙ্গের মধ্যে সংক্ষিপ্ত একটা সংযোগ স্থাপন করতো নালীটা। কিন্ত ব্যাপারটা সেরকম হয়নি, শুক্রনালী অণ্ডকোষ থেকে প্রথমে উপরে উঠে আমাদের কোমরের পিউবিক অস্থির মধ্যে একটা প্যাচ খেয়ে কোমরের অস্থিসন্ধির নীচের ফাঁকা জায়গা দিয়ে অবশেষে পুংলিঙ্গের মূত্রনালীর সাথে যোগ হয় (ছবি ১ দেখুন),এই ঘোরানো পথ-যা বেছে নেবার পেছনে ইতিহাস আছে -মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শেখার জন্য বিরক্তিকরতো বটেই, এছাড়া যারা এই কারণে ‍বিশেষ ধরনের হার্নিয়ার শিকার হন তাদের জন্যও বিশেষ যন্ত্রনাদায়ক। শুক্রনালীর এই বাকা পথ বেছে নেবার ইতিহাস মানব যৌনগ্রন্থির বৃদ্ধি আর ক্রমবিকাশের সাথে সম্পৃক্ত (পরে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত বলছি)।


ছবি ১ : স্পার্মাটিক কর্ড বা ভাস ডিফারেন্স(শুক্রনালী)।

সুতরাং আমাদের নিজেদের দেহের গঠন বুঝতে হলে আগে অণুজীব থেকে কেঁচো,মাছ থেকে প্রাইমেট, সবার সাথে আমাদের শারীরিক গঠনের যে সাদৃশ্য, সেই ইতিহাসটাকে বুঝতে হবে।

আমাদের নিজস্ব চিড়িয়াখানা:

আপনি হয়তো আপনার নিজের সাথে হাঙ্গর, মাছি কিংবা কেঁচোর কোনো মিল খুজে পাবেন না, কিন্ত এই প্রাণিগুলোসহ, পৃথিবীর অন্য সকল প্রাণিদের সাথে আপনার শরীরের গঠন আর এর কার্য্যাবলীর অনেক কিছুরই মিল আছে । আপনার শরীরের নানা অংশ বিশেষ : অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, অস্থি, স্নায়ু, এমনকি জিনের নানা অংশ, ভিন্ন রুপে অথচ মূলত একই আপনি খুজে পাবেন অনেক ধরনের প্রাণিদের মধ্যে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই সাদৃশ্য বিস্তৃত প্রায় অর্ধ বিলিয়ন বছর পুরোনো প্রাণিদের সাথে, যা প্রমাণ করে আমরা সহ পৃথিবীর সকল প্রাণি আসলে একই থীমেরই বহু রুপ।

পরবর্তী এই স্লাইডগুলো দেখলে বুঝতে পারবেন, কিছু প্রাণি যেমন, হাঙ্গর,মাছি বা কেঁচোর সাথে আমাদের দেহের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কি ধরনের সাদৃশ্য আছে। আবিষ্কার করুন আপনার সেই আভ্যন্তরীন জীবন বৃক্ষকে। নোভা/পিবিএস এর ওয়েবপেজের জন্য তৈরী করা এই স্লাইডগুলো তিনটি গ্রুপে ভাগ করা। প্রথম গ্রুপের স্লাইডগুলোতে দেখানো হয়েছে ভ্রুণাবস্থায়, ‍দ্বিতীয় ও তৃতীয় গ্রুপের স্লাইডগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে আমাদের শরীর আর মাথার বিশেষ কিছু অংশের সাথে অন্য প্রাণিদের সাদৃশ্য ।

স্লাইড গ্রুপ ১ :ভ্রূণ


স্লাইড ১: মানব ভ্রূণ ( সুত্র : নোভা/পিবিএস,ছবি: পাবলিক ডোমেইন)


স্লাইড ১.১: মানব ভ্রূণ এবং হাঙ্গর ভ্রূণ ( সূত্র : নোভা/পিবিএস। ভ্রূণের ছবির ইলাস্ট্রেশন কাল্লিওপি মনোইয়োস,Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5 Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া)


স্লাইড ১.২: মানব ভ্রূণ এবং মাছির লার্ভা । ( সুত্র : নোভা/পিবিএস। ভ্রুণের ছবির ইলাস্ট্রেশন কাল্লিওপি মনোইয়োস, Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া)


ছবি ২: ফ্রুট ফ্লাই


ছবি ৩: ফ্রুট ফ্লাই লার্ভা


স্লাইড ১.৩:কেঁচো ,অ্যাম্ফিওক্সাস । (সুত্র : নোভা/পিবিএস), ইলাস্ট্রেশন কাল্লিওপি মনোইয়োস (Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া)


ছবি ৪: অ্যাম্ফিওক্সাস।


স্লাইড ১.৪:পুরুষদের যৌনগ্রন্থির উৎপত্তি এবং ক্রমবিকাশ এবং হার্নিয়া।

হার্নিয়া:

আগে উল্লেখ করেছিলাম যে,শুক্রনালীর এই বাকা পথ বেছে নেবার ইতিহাস পুরুষদের যৌনগ্রন্থির বৃদ্ধি আর ক্রমবিকাশের সাথে সম্পৃক্ত। হাঙ্গর,মাছ এবং অন্যান্য অস্থিবিশিষ্ট প্রাণিদের মতই মানুষেরও যৌনগ্রন্থির বৃদ্ধি আর ক্রমবিকাশ ঘটে। গোনাড বা যৌনগ্রন্থি :পুরুষদের অণ্ডকোষ এবং মহিলাদের ডিম্বাশয়,উভয় ক্ষেত্রেই ভ্রূণাবস্থায় তাদের অবস্থান থাকে শরীরের উপরের অংশে, যকৃত বা লিভারের কাছাকাছি, কারণ যে সকল কোষ সমুহের পারস্পরিক অবস্থান এবং সহযোগিতা থেকে এসব গ্রন্থির সৃষ্টি হয়, তাদের অবস্থান সম্ভবত এখানে বলে ধারনা করা হয়। পূর্ণবয়স্ক হাঙ্গর বা মাছের যৌনগ্রন্থি সাধারণত শরীরের উপরিভাগে যকৃতের কাছাকাছি থাকে এবং তারা তাদের এই আদি অবস্থানেই থাকে কারণ তাদের শুক্রাণু শরীরের অভ্যন্তরেই ক্রমবিকাশ এবং পূর্ণতা লাভ করতে পারে।

আমাদের মত স্তন্যপায়ী প্রাণিদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। পুরুষ ভ্রুন যখন বেড়ে উঠতে থাকে, তাদের যৌনগ্রন্থিও ধীরে ধীরে নীচে নামতে থাকে, স্ত্রী ভ্রুনদের ক্ষেত্রে এই নেমে আসাটা শরীরের ভিতরে নীচে অবস্থিত জরায়ু এবং ফেলোপিয়ান টিউবের কাছে এসে থেমে যায়, যা নিশ্চিৎ করে ডিম্বানুকে যেন জরায়ু গহবরে নিষিক্ত হবার জন্য বেশী দুরত্ব অতিক্রম না করতে হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে আরো নীচের দিকে নেমে আসে অণ্ডকোষ, একেবারে স্ক্রোটাম বা অণ্ডকোষের থলিতে, যা দেহের সামনে ঝুলে থাকে। কার্য্যক্ষম শুক্রাণু তৈরী করার জন্য এই নেমে আসার বিষয়টা অত্যন্ত্ গুরুত্বপূর্ণ। এর একটি সম্ভাব্য কারণ হিসাবে মনে করা হয় যে, স্তন্যপায়ীরা উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট এবং শুক্রাণুর সংখ্যা ও এর গুণগত মাণ দুটোই নির্ভর করে আমাদের মূল শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা অপেক্ষা কম তাপমাত্রা বিশিষ্ট কোনো স্থানে ক্রমবিকশিত হওয়ার উপর। সেকারণেই স্তন্যপায়ীদের অণ্ডকোষ, শরীরের ভিতরের উষ্ণতা থেকে অপেক্ষাকৃত কম উষ্ণ শরীরের বাইরের অণ্ডকোষের থলিতে অবস্থান করে, এই থলিটি তাপমাত্রা বাড়া কমার সাথে ওঠানামা (থলির গায়ের পেশীর সংকোচন এবং প্রসারণের মাধ্যমে) করে শুক্রাণুদের সুষ্ঠু বৃদ্ধিকে ‍নিশ্চিৎ করে।

এই নীচে নেমে আসার প্রক্রিয়াটা আবার কিছু সমস্যারও কারণ হয়ে দাড়ায়। যেহেতু অণ্ডকোষের থলিতে নেমে আসার জন্য অণ্ডকোষ দুটিকে লম্বা একটা পথ পাড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসতে হয় ফলে শুক্রনালীকেও অনেক ঘোরানো প্যাচানো পথ নিতে হয় তার কাজটা করার জন্য। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ কারনে পুরুষদের শরীরের সামনে পেটের দেয়ালে এবং নীচে একটা দুর্বল জায়গার সৃষ্টি হয়, যেখান দিয়ে অন্ত্রনালী কোনো অংশ বের হয়ে এসে হার্নিয়ার কারণ হতে পারে। এই হার্নিয়া কখনও জন্মগত, যৌনগ্রন্থির সাথে অন্ত্রের কোনো অংশ দেহের দেয়ালের বাইরে চলে আসতে পারে অথবা দেয়ালের দুর্বল অংশ দিয়ে বের হয়ে আসতে পারে পরবর্তীতে কোনো এক সময়ে (ছবি ৫),কিছু হার্নিয়া হবার প্রবনতা আমরা উত্তরাধিকার সুত্রে পেয়েছি আমাদের মাছ অতীত আর স্তন্যপায়ী বর্তমানের কল্যানে।


ছবি ৫: ইনগুইনাল হার্নিয়া।

স্লাইড গ্রুপ ২:শরীর


স্লাইড ২: মানব শরীর ( সুত্র : নোভা/পিবিএস, ছবি: মারিও কাসটেলো,করবিস)


স্লাইড ২.১:টিকটালিক এবং ঘাড় ( সুত্র : নোভা/পিবিএস)ইলাস্ট্রেশন কাল্লিওপি মনোইয়োস (Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া)


স্লাইড ২.২: টেরাসর এবং আমাদের হাত পা ( সুত্র : নোভা/পিবিএস),ইলাস্ট্রেশন কাল্লিওপি মনোইয়োস (Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া)


ছবি ৬: টেরোসর


স্লাইড ২.৩: সী অ্যানীমোন ( সুত্র : নোভা/পিবিএস),ইলাস্ট্রেশন কাল্লিওপি মনোইয়োস (Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া)


ছবি ৭ : সী অ্যানীমোন।


স্লাইড ২.৪:রাপচার্ড ডিস্ক ( সুত্র : নোভা/পিবিএস)এবং http://www.spineuniverse.comস্লাইড গ্রুপ ৩: মস্তিষ্ক


স্লাইড ৩: মস্তিষ্ক ( সুত্র : নোভা/পিবিএস, ছবি:আদ্রিয়ানা উইলিয়ামস,করবিস)


স্লাইড ৩.১: আদিম সরীসৃপ ও মাছ ( সুত্র : নোভা/পিবিএস),ইলাস্ট্রেশন কাল্লিওপি মনোইয়োস (Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া)


ছবি ৮: মানুষের কান, মধ্য কানে তিনটি ছোট অস্থি লক্ষ্য করুন (২,৩,৪)


স্লাইড ৩.২: হাঙ্গর আর মানুষের ক্রেনিয়াল স্নায়ুগুলোর সাদৃশ্য ( সুত্র : নোভা/পিবিএস),ইলাস্ট্রেশন: কাল্লিওপি মনোইয়োস (Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া)


ছবি ৯: হাঙ্গর।


স্লাইড ৩.৩ লিম্পেট ( সুত্র : নোভা/পিবিএস),ইলাস্ট্রেশন কাল্লিওপি মনোইয়োস (Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body (Pantheon Books 2008) বই থেকে নেয়া)


ছবি ১০: লিম্পেট।


ছবি ১১: নটিলাস।

Inside the Scallop
ছবি ১২: স্ক্যালোপ চোখ  ।


ছবি ১৩: মানুষের চোখ।


স্লাইড ৩.৪:কেন আমরা হেচকি তুলি?

কেন আমরা হেচকি তুলি:

শুক্রনালীর মত একই ধরনের বিবর্তনের আলোকে বিশ্লেষণ, আরো অনেক ধরনের শারীরিক সমস্যার কারণ ব্যাখ্যা করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন, হেচকির কথা ধরুন, সাধারণত বিরক্ত উৎপাদনকারী হেচকি, যা কয়েক সেকেন্ড বা বড়জোর মিনিট ব্যাপী স্থায়ী থাকে, বা কখনও সমস্যার কারণ হতে পারে মাসব্যাপী স্থায়ী হয়ে , কদাচিৎ স্থায়ী হতে পারে এক বছর। গলা আর বুকের পেশী সংকোচনের কারনেই মূলত হেচকি উৎপত্তি হয়। এর বৈশিষ্ট্যসুচক ‘হিক’ শব্দটি হয় যখন আমরা খুব দ্রুত নিঃশ্বাস নেই এবং আমাদের গলার পেছনে একটি মাংসের পর্দার মত অঙ্গ, এপিগ্লটিস’টা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। সমস্ত ব্যাপারটি ঘটে এক ধরনের রিফ্লেক্স এর কারনে, যার উপর আমাদের সচেতন মনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। অনেক কারনেই ব্যাপারটা হতে পারে, যেমন, অতি দ্রুত খেতে থাকলে অথবা অতিরিক্ত বেশী খেয়ে ফেললে, কখনও আরো কঠিন অসুস্থ্যতা যেমন, বুকের কোনো টিউমর হলেও ব্যাপারটা হতে পারে।

হেচকি আমাদের বিবর্তনের দুটি স্তরের ইতিহাসের স্বাক্ষী, একটি মাছের সাথে আমাদের সম্পৃক্ততা, অপরটি উভচর প্রাণিদের সাথে। আমাদের প্রধান স্নায়ুগুলো যা আমরা শ্বাস প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে প্রধানত ব্যবহার করি, তার প্রত্যেকটি আমরা পেয়েছি মাছ থেকে। এক জোড়া স্নায়ু যার নাম ফ্রেনিক (Phrenic) নার্ভ, আমাদের মস্তিষ্কের মগজের তলদেশ থেকে যা নেমে এসে আমাদের বুকের খাচা আর পেটে মাঝখানে ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদা পর্দা পযন্ত্য বিস্তৃত (ছবি ১৪), এই আকা বাঁকা পথের জন্যে সমস্যাও কিছু আছে। এই লম্বা পথের যে কোনো জায়গায় যদি কোনো ধরনের সমস্যা হয়, তা আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়াকে ব্যহত করে। এই স্নায়ুর যে কোনো অংশের কোনো ধরনের সমস্যাও হেচকির কারণ হতে পারে। যুক্তিসঙ্গত ভাবে পরিকল্পিত হলে অবশ্যই এই নার্ভটি মস্তিষ্ক থেকে না নেমে সরাসরি ডায়াফ্রামের কাছে স্নায়ু রজ্জু থেকে উৎপত্তি হতে পারতো। কিন্ত যেহেতু আমরা দুর অতীতে বিবর্তিত হয়েছি, আর এই ধরনের নকশা উত্তরাধিকার সুত্রে আমরা পেয়েছি আমাদের মৎস পূর্বসূরি থেকে, যাদের শ্বাসযন্ত্র ফুলকার অবস্থান ছিল মাথার কাছে ঘাড়ে, অনেক নীচে থাকা ডায়াফ্রাম বিশিষ্ট কোনো প্রাণির কাছ থেকে না।


ছবি ১৪: ফ্রেনিক (Phrenic) নার্ভ ।

যদি ফ্রেনিক নার্ভের এই আজব পথ আমাদের মৎস অতীতের স্মারক হয়, হেচকির উৎপত্তিও সম্ভবত আমাদের উভচর অতীতে কোনো সময় হয়েছে। এবং বিজ্ঞানীরা ঠিকই খুজে পেলেন যে, হেচকির বৈশিষ্ট্যমূলক মাংশপেশী আর স্নায়বিক কার্য্যাবলী অন্য প্রাণিদের মধ্যেও দৃশ্যমান। এবং সেটা যে কোনো একটি প্রাণি না, সুনির্দিষ্টভাবে, ব্যাঙ্গাচির মধ্যে, যারা ফুসফুস এবং ফুলকা পালাক্রমে ব্যবহার করে স্থলে আর পানিতে শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য। যখন ব্যাঙ্গাচিরা তাদের ফুলকা ব্যবহার করে, তখন মুখে, গলায় পানি পাম্প করে ও ফুলকার মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহ করে শ্বাস নেবার সময় তাদের একটা সমস্যার মোকাবেলা করতে হয় । সেটি হলো, এ কাজটি তাদের করতে হয় এমনভাবে ফুসফুসে যাতে কোনো পানি না ঢোকে। কেমন করে তারা এই সমস্যার সমাধান করে? ফুসফুসে যাতে পানি না ঢোকে সে জন্য তারা শ্বাসনালীর প্রবেশ পথ পর্দার মত গ্লটিসটা বন্ধ করে দেয় । এই হঠাৎ বন্ধ হবার প্রক্রিয়ার সাথে তারা বিবর্তনের মাধ্যমে একধরনের প্রতিক্রিয়ামূলক রিফ্লেক্স ব্যবহার আয়ত্ব করেছে, সেটা হল গ্লটিস বন্ধ হওয়ার আগে লম্বা একটা নিঃশ্বাস নেয়া। এভাবে শ্বাসনালীর মুখে গ্লটিসটাকে বন্ধ করে দেয়া আর একই সাথে অতি দ্রুত একটা নিশ্বাস নেয়া হেচকির মত একটি আচরনের কারণ। মোটকথা, তারা ফুলকা দিয়ে শ্বাস নেয় প্রলম্বিত ধরনের একটি হেচকি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। আমাদের আর ফুলকা থাকার কথা না, কিন্ত হেচকি রয়ে গেছে।

উপসংহার:

অন্য কোনো এক সময়ে, আমাদের ইতিহাস কেটেছে প্রাচীন সমুদ্রে, ছোট নদী বা জলাশয়ে, সাভানার বিশাল প্রান্তরে। কোনো অফিস বিল্ডিং, স্কী করার পাহাড়ের ঢাল বা ফুটবল মাঠে নয়। অতীত এবং বর্তমানের এই অসাধারণ বিভেদের অর্থই হলো আমাদের দেহ মাঝে মাঝে সমস্যায় পড়ে যায় আমাদের জানা প্রত্যাশিত কিছু কারণে। মানুষের হাটু, পেছনের এবং কব্জির প্রধান প্রধান অস্থিগুলো শত শত মিলিয়ন বছর আগে জলচর প্রাণিদের মধ্যে প্রথম আবির্ভুত হয়। তাহলে আসলেই কি অবাক হবার কোনো কারণ আছে, এই দুই পায়ে ভর দিয়ে হাটার জন্য যদি আমরা হাটুর কার্টিলেজ ভেঙ্গে ফেলি বা শিরদাড়ার যন্ত্রনায় ভুগি কিংবা কব্জিতে কারপাল টানেল সিনড্রোমে আক্রান্ত হই টাইপ, উল বোনা বা লেখালেখির জন্য । আমাদের মাছ এবং উভচর পূর্বসূরিরাতো এসব কিছু করেনি।

ধরুন, প্রথমে মাছের শরীরের গঠনের একটা পরিকল্পনা আপনি হাতে নিলেন, যে জিনগুলো কেঁচোর শরীর তৈরী করেছে তাদের কিছু অদল বদল করে মাছের শরীরের পরিবর্তন করুন, তারপর আরো একটু পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করে একে স্তন্যপায়ী প্রাণিতে রুপান্তরিত করুন, এবার সেই স্তন্যপায়ী প্রাণিকে এখন আরেকটু ঘষামাজা করুন, যেন সে এমন একটা প্রাণি হয়, যারা দুই পায়ে সোজা হয়ে হাটে,কথা বলে, চিন্তা করে এবং হাতের আঙ্গুলের উপর যাদের সুক্ষ্ম নিয়ন্ত্রন আছে, ফলাফল হবে, সর্বনাশের একটি রেসিপি। বিনিময়ে কিছু মূল্য পরিশোধ না করে আপনি মাছের শরীরকে এতটা পরিবর্তন করতে পারবেন না । খুব সুচারুভাবে ডিজিইন করা কোনো পৃথিবীতে – যেখানে অতীতের কোনো সুদীর্ঘ ইতিহাস নেই, আমাদের অবশ্যই হেমারয়েডস বা পাইলস বা হার্নিয়াতে ভুগতে হত না, আর আমাদের প্রাচীন বিল্ডিংগুলোকে সংস্কার করতে বেশী অর্থও ব্যয়ও হতোনা।

Advertisements
আমাদের এই প্রাচীন শরীর

One thought on “আমাদের এই প্রাচীন শরীর

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s