দি আনবিয়ারেবল লাইটনেস অব বিয়িং: প্রথম পর্ব, ৮

মিলান কুন্দেরা’র উপন্যাস  দি আনবিয়ারেবল লাইটনেস অব বিয়িং এর বাংলা 
ভাবানুবাদের একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান।
বেঁচে থাকার দুঃসহ নির্ভারতা

প্রথম পর্ব:  নির্ভারতা এবং ভার


ড্রইং: কাজী মাহবুব হাসান

 ৮

দিনের বেলায়, তেরেজা চেষ্টা করতো ( যদিও শুধু মাত্র আংশিক সফলতার সাথে) টমাসের তাকে যা বলছে তা বিশ্বাস করার জন্য এবং চেষ্টা করতো উচ্ছল থাকার জন্য,আগে যেমন সে ছিল। কিন্তু দিনের বেলায় তার এই পোষ মানানো ঈর্ষা  হিংস্র রুপ নিয়ে আক্রমন করতে বেরিয়ে আসতো তার স্বপ্নে, যার প্রতিটি শেষ হতো বিলাপে, একমাত্র ঘুম ভাঙ্গিয়েই টমাস শুধু তা থামাতে পারতো।

তেরেজার স্বপ্নগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটতো, তাদের বিষয়বস্তুতে আর বিভিন্নতায় বা টেলিভিশন সিরিজের মত। যেমন,  বার বার তেরেজা স্বপ্ন দেখতো যে, কতগুলো বিড়াল তার মুখের উপর ঝাপিয়ে পড়ছে, তাদের ধারালো নোখ চামড়ায় বসিয়ে দিচ্ছে নৃশংসতায়। স্বপ্নটির ব্যাখ্যা করতে আমাদের  খুব বেশী দুর যেতে হবে না। কারন ‘বিড়াল‘ শব্দটি চেক অপভাষায় আরেকটি অর্থ হলো,’সুন্দরী রমনী’; নারী, যে কোন নারীকে, তেরেজা তার নিজের জন্য হুমকি হিসাবে অনুভব করতো; কারন যে কোন নারীই হতে পারে টমাসের সম্ভাব্য রক্ষিতা এবং তাদের সবাইকে সে ভয় পায়।

অন্য আরেকটি স্বপ্ন চক্রে, তেরেজা দেখে, তাকে মৃত্যুর মুখোমুখি ঠেলে দেয়া হচ্ছে। একবার,গভীর রাতে তার ভয়ের আর্তচিৎকার শুনে টমাস তার ঘুম ভাঙ্গায়, তাকে তার দুস্বপ্নের কথা বলে তেরেজা: ’আমি একটা বিশাল ইনডোর সুইমিং পুল এ,  আমরা প্রায় বিশ জন একসাথে, সবাই নারী, সবাই নগ্ন, পুলটি চারপাশে আমাদের মার্চ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, পুলের ছাদ থেকে একটা বিশাল ঝুড়ি ঝুলে আছে, সেখানে দাড়িয়ে আছে একজন পুরুষ, মাথায় চওড়া প্রান্তসহ একটা টুপি পরা, যা তার মুখটাকে প্রায় আড়াল করে রেখেছে, কিন্তু আমি দেখতে পারছিলাম লোকটি ছিলে তুমি। তুমি ওখান থেকে আমাদের নির্দেশ দিচ্ছিলে, চিৎকার করে। পুলের পাশ দিয়ে মার্চ করার সময় আমাদের গানও গাইতে হবে এবং হাটু ভাঙ্গার একটা অনুশীলনও সেই সাথে করতে হবে, যদি আমাদের মধ্যে কেউ ঠিক মত অনুশীলনটা না করতে পারে, তুমি তোমার পিস্তল দিয়ে তাকে গুলি করছো, আর পুলের পানিতে তার মৃতদেহ পড়ে যাচ্ছে; যা দেখে আবার সবাই হেসে উঠছে আর আরো উচ্চস্বরে গান গেয়ে উঠছে। তুমি আমাদের দিক থেকে এক মুহুর্তের জন্য নজর ফেরাচ্ছো না, যে মুহুর্তে আমরা ভুল কিছু করছি, তুমি গুলি করছো, পুলের পানির পিঠের ঠিক নিচে ভরে আছে অসংখ্য মৃতদেহে। এবং আমি বুঝতে পারছি, আমার আর শক্তি নেই এর পরের বার হাটু ভাঙ্গার অনুশীলনটা করার মত, আর তুমি আমাকে তখনই গুলি করতে যাচ্ছো!’

পরে তৃতীয় চক্রের কোন একটি স্বপ্নে তেরেজা দেখে, সে মৃত।

আসবাবপত্র স্থানান্তর করার জন্য ব্যবহার হং এমন একটি বিশাল ভ্যানের মত শবদেহবাহী গাড়ির মধ্যে শুয়ে আছে মৃত তেরেজা, তার চারপাশে আরো মৃত নারীরা। মৃতদেহের সংখ্যা এত বেশী যে, ভ্যানটির পেছনের দরজাটি ঠিকমতন লাগানো যাচ্ছে না, বাইরের দিকে কিছু লাশের পা ঝুলে আছে শুন্যে।

তেরেজা চিৎকার করে বলে, ’আমি মরিনি, আমি এখনও সবকিছু অনুভব করতে পারছি’।

‍অন্য লাশগুলোও সাথে সাথে হেসে উঠে বলে, ‘আমরাও পারছি’।

তাদের সবার হাসি সেই হাসির মত, যে হাসি হেসে জীবিত রমনীরা একসময় খুব উৎফুল্ল মনে তাকে একসময় বলতো, খুবই স্বাভাবিক যে একদিন তারও বাজে দাত হবে, ডিম্বাশয় কর্মক্ষমতা হারাবে, আর ভাজ পড়বে চামড়ায়, কারন তাদের সবারও  দাত বাজে, ডিম্বাশয় অকেজো আর চামড়ায় ভাজ। সেই একই হাসি হেসে মৃত রমনীরা তাকে বলে, সে এখন মৃত, সব কিছু খু্ব স্বাভাবিকই আছে!

হঠাৎ করে তেরেজা পশ্রাব করার তীব্র ‍তাড়না অনুভব করে, চিৎকার করে তেরেজা তাদের বলে, ‘তোমরা দেখেছো, আমার প্রশ্রাব করতে হবে, সেটাই আমার বেচে থাকার স্বপক্ষে সুস্পষ্ট প্রমান!’

তারা শুধু আরো একবার হেসে ওঠে তার কথায়,  ‘প্রশ্রাব করতে চাওয়াটাও খুব স্বাভাবিক’, তারা বলে, ’তুমি আরো অনেকদিন ঠিক এমন কিছু তাড়না  অনুভব করে যাবে। যেমন একজন হাত কেটে ফালা মানুষ, দীর্ঘদিন অনুভব করে যায়, হাতটি আগের মতই সেখানে আছে। আমাদের শরীরের মধ্যে এক ফোটা প্রশ্রাব না থাকতে পারে, কিন্তু প্রশ্রাব করার প্রয়োজনীয়তাটা আমরা অনুভব করেই যাবো।’

বিছানায় তেরেজা টমাসের আরো কাছে সরে এসে শোয়। তেরেজা বলে ‘এবং যেভাবে তারা আমার সাথে কথা বলছিল, যেন আমার বহুদিনের পুরোনো বন্ধু, আমাকে সারা জীবন ধরে যারা চেনে আর জানে, তাদের সাথে আমার অনন্তকাল একসাথে থাকতে হবে, এমন ভাবনা আমাকে আতঙ্কিত করে তুলেছিল।’

(((((((((((((((((((((((((চলবে)))))))))))))))))))))))))))))))))))))

Advertisements

One thought on “দি আনবিয়ারেবল লাইটনেস অব বিয়িং: প্রথম পর্ব, ৮

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s