দি আনবিয়ারেবল লাইটনেস অব বিয়িং: প্রথম পর্ব, ৫

মিলান কুন্দেরা’র উপন্যাস  দি আনবিয়ারেবল লাইটনেস অব বিয়িং এর বাংলা ভাবানুবাদের একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান।  
বেঁচে থাকার দুঃসহ নির্ভারতা

প্রথম পর্ব:  নির্ভারতা এবং ভার

৫ 

তার স্ত্রীর সাথে টমাস মাত্র দুই বছর একসাথে বসবাস করেছিল এবং তাদের একটি ছেলে আছে। বিবাহ বিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় বিচারক শিশুটির দায়ভার দেন তার মাকে এবং টমাসকে নির্দেশ দেন তার মাসিক আয়ের এক তৃতীয়াংশ শিশুটির ভরনপোষনের জন্য প্রদান করতে। এছাড়া বিচারক তাকে এক সপ্তাহ অন্তর ছেলের সাথে দেখা করার অধিকারও মন্জ্ঞুর করলেন।

কিন্তু প্রতিবারই, যখনই টমাস এর তার ছেলেকে দেখতে যাবার কথা, ছেলেটির মা কোন না কোন একটা অজুহাত খুজে বের করতো, যেন টমাসের সাথে তার ছেলের দেখা না হয়। খুব দ্রত টমাস বুঝতে পেরেছিল, তাদের জন্য যদি দামী উপহার সে নিয়ে যায় তাহলে এই দেখা করার বিষয়টি অপেক্ষাকৃত ঝামেলমুক্ত হচ্ছে, অর্থাৎ মা কে তার ঘুষ দিতে হবে, তার ছেলের ভালোবাসা পাবার জন্য। ছেলেটির মধ্যে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গীগুলো যা অবশ্যই তার মায়ের থেকে সম্পুর্নভাবে বীপরিত, বপন করার একধরনের আবস্তব এবং আদর্শগত একটি কুইক্সোটিক প্রচেষ্টা করার সম্ভাব্য ভবিষ্যত সে অবশ্য দেখেছিল। কিন্তু শুধু সেই ভাবনাটাই তাকে ক্লান্ত  করে দেয়। যখন, এরকম কোন এক রোববারে, ছেলেটির মা, তার নির্ধারিত দেখা করার দিনে, ছেলের সাথে দেখা করার যাবে না বলে অজুহাত দাড় করিয়ে বাতিল করে দেয়; টমাসও সেই ক্ষনিকের মুহুর্তের ‍মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয় আর কখনোই সে তার ছেলেকে দেখবে না।

কেন এই শিশুটির জন্য তার অতিরিক্ত কিছু অনুভব করা উচিৎ, যার সাথে যার তার কোন যোগসুত্রই নেই শুধুমাত্র অন্য অনেকদিনের মতই একটি অপরিনামদর্শী রাত ছাড়া? অবশ্যই সে তার ভরনপোষনের খরচ অব্যাহত রাখার ব্যপারে বিবেকের প্রতি সতর্ক, তবে টমাস চাচ্ছিল না শুধুমাত্র পিতৃসুলভ অনুভুতির খাতিরে কেউ তাকে বাধ্য করুক তার ছেলের জন্য যুদ্ধ করতে !

বলাবাহুল্য, টমাসের এই সিদ্ধান্তে কোন সমব্যথী সমর্থক ছিল না। তার নিজের বাবা মা তাকে সরাসরি একমাত্র দোষী হিসাবে চিহ্নিত করেছিল: যদি টমাস তার ছেলের ব্যপারে কোন আগ্রহ না দেখায়, তাহলে তারা , অর্থাৎ টমাসের বাবা মাও তাদের ছেলের ব্যপারে আর কোন আগ্রহ দেখাবে না। তারা যথারীতি তাদের প্রাক্তন পুত্রবধুর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার যাবতীয় প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলেন এবং তাদের এই দৃষ্টান্তমুলক এবং ন্যায়বিচারের স্বপক্ষে তাদের আদর্শগত অবস্থানটি বেশ গর্বের সাথে প্রচারও করলেন।

এভাবেই খু্ব অল্প সময়ের মধ্যেই মুলত; টমাস তার জীবন থেকে স্ত্রী, পুত্র, মা এবং বাবাকে পুরোপরি আলাদা করার বিষয়টি সম্পন্ন করে ফেলে। শুধু মাত্র একটি জিনিস তারা টমাসকে শিখিয়েছিল, তা হলো নারীজাতির প্রতি তার ভয়। টমাস তাদের কামনা করে বটে তবে টমাসের কাছে তারা ভীতিকর।  এই ভয় আর কামনার মধ্যে একটি সমঝোতা করার প্রয়োজনে, সে পরিকল্পনা করেছিল এক বিশেষ ধরনের সম্পর্কের, তার ভাষায় ‘কাম বন্ধুত্বের’; সে তার প্রেমিকাদের বলতো: শুধু মাত্র একটি মাত্র সম্পর্কেই দুই পক্ষ সুখী হতে পারে, যে সম্পর্কে অতিরিক্ত ভাবাবেগের কোন জায়গা নেই এবং কোন পক্ষ‌ই একে অপরের জীবন এবং স্বাধীনতার উপর কোন দাবী করে না।

এই কাম বন্ধুত্বগুলো যেন ভালোবাসার আগ্রাসী রুপ না ধারন করে, সেটা নিশ্চিৎ করতে, টমাস তার দীর্ঘ দিনের প্রেমিকাদের সাথে দেখা করতো শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সময় বিরতি দিয়ে। টমাস মনে করতো তার এই পদ্ধতিতে কোন ভুল নেই এবং তার বন্ধুদের মধ্যে বিষয়টি প্রচলনের জন্য প্রচারও করতো: গুরুত্বপুর্ন বিষয়টি হচ্ছে ’তিন’ এর নিয়মটা মেনে চলা। হয় তুমি কোন নারীর সাথে দেখা করবে খুব দ্রুত পর পর তিনবার, এরপর আর কখনোই না অথবা এই সম্পর্ককে অনেক বছর টিকিয়ে রাখতে চাইলে সেক্ষেত্রে নিশ্চিৎ করতে হবে, প্রতিটি দেখার মধ্যবর্তী সময়কাল কমপক্ষে তিন সপ্তাহ।

এই তিন এর নিয়ম টমাসকে সাহায্য করেছিল যেমন বেশ কিছু নারীর সাথে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক রাখতে এবং একই সাথে আরো অনেকের সাথে সংক্ষিপ্ত কিছু সম্পর্কে জড়াতে। টমাসকে অবশ্যই সবাই সহজে বুঝতে পারতো না। তাকে যে একমাত্র নারী সবচেয়ে ভালো বুঝতে পেরেছিল, সে হলো সাবিনা। শিল্পী সাবিনা মুলত একজন পেইন্টার। সাবিনা টমাসকে বলতো, ‘আমি তোমাকে পছন্দ করি, যে কারনে তা হলো. তুমি কিচ [৮] এর সম্পুর্ন বীপরিত, কিচ এর রাজত্বে তুমি একটা দানব হতে’।

প্রাহাতে তেরেজার জন্য একটা কাজ খুজতে এই সাবিনারই শরণাপন্ন হয়েছিল টমাস। কাম বন্ধুত্বের অলিখিত চুক্তি মোতাবেক  সাবিনা তার পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব ততটুকু করার কথা দিয়েছিল এবং খুব শীঘ্রই সে আসলেই তেরেজার জন্য একটা কাজের ব্যবস্থাও করেছিল; একটি ছবিবহুল সাপ্তাহিক পত্রিকার ডার্ক রুমে। যদিও তেরেজার এই নতুন কাজেটি হবার জন্য তার আলাদা কোন যোগ্যতার প্রয়োজন ছিল না, তবে কাজটি তার অবস্থান ওয়েট্রেস থেকে প্রেসের একজন সদস্য হিসাবে উন্নীত করেছিল। যখন সাবিনা নিজেই পত্রিকার সবার সাথে তেরেজাকে পরিচয় করিয়ে দেয়, টমাস বুঝতে পেরেছিল, সাবিনার চেয়ে ভালো বন্ধু হিসাবে এমন কোন প্রেমিকা সে তার জীবনে পায়নি এর আগে।

____________

[৮] Kitsch : (English pronunciation: /ˈkɪtʃ/, loanword from German) is a form of art that is considered an inferior, tasteless copy of an extant style of art or a worthless imitation of art of recognized value. The concept is associated with the deliberate use of elements that may be thought of as cultural iconswhile making cheap mass-produced objects that are unoriginal. Kitsch also refers to the types of art that are aesthetically deficient (whether or not being sentimental, glamorous, theatrical, or creative) and that make creative gestures which merely imitate the superficial appearances of art through repeated conventions and formulae. Excessive sentimentality often is associated with the term.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s