মিকোলাই কোপের্ণিক

 

1795701_10152080338533521_1440374832_n

নিকোলাউস কোপার্নিকাস ( পোলিশ – মিকোলাই কোপের্ণিক), যে মানুষটিকে কৃতিত্ত্ব দেয়া হয় মহাজগত সম্বন্ধে আমাদের ধারনাকে আমুল বদলে দেবার জন্য, তিনি জন্ম গ্রহন করেছিলেন ১৪৭৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী, বিকেল ৪: ৪৮ মিনিটে টরুন শহর, ওল্ড প্রুশিয়ার এর একটি অংশে, তখন যা ছিল পোল্যান্ড রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। কোপার্নিকাস এর বয়স যখন প্রায় ৪০ এর কাছাকাছি (১৫১০ এর আশে পাশে), তিনি নতুন করে মহাবিশ্বকে দেখতে শুরু করেছিলেন, পৃথিবীকে না, সুর্য কে এর কেন্দ্রে স্থাপন করে। এরপর তিনি তার সেই তত্ত্বটিকে প্রায় ৩০ বছর লুকিয়ে রেখেছিলেন, তার ভয় ছিল, গনিতজ্ঞ সহকর্মীরা তার এই তত্ত্বটি নিয়ে ব্যাঙ্গ করতে পারে।কিন্তু ১৫৩৯ সালে কয়েকশত মাইল পথ পাড়ি দিয়ে উত্তর পোল্যান্ডে (Frauenburg) তার দেখা করতে এসেছিলেন অপ্রত্যাশিত এক তরুন দর্শনার্থী, রেটিকাস ( জর্জ ইয়োকিম রেটিকাস); তার উদ্দেশ্য ছিল তিনি কোপার্নিকাস এর কাছ থেকে শিক্ষা নেবেন, সৌরজগত সম্বন্ধে তার নতুন ধারনা সম্বন্ধে জানবেন।রেটিকাস এর কারনে কোপার্নিকাস তার নীরবতা ভাঙ্গলেন। ক্যাথলিক চার্চে কোন লুথেরান এর উপস্থিতি ( কারন প্রোটেষ্টান্ট রিফরর্মেশনের সময় ক্যাথলিক চার্চের সাথে সেই সময় দ্বন্দ ছিল তখন তীব্র) বেআইনী হওয়া সত্ত্বেও তরুন রেটিকাস কোপার্নিকাসের এর সাথে ছিলেন দু বছর। রেটিকাস তার শিক্ষককে সাহায্য করেন, বহুদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা পান্ডুলিপিটি ঠিক করার জন্য; আর রেটিকাসই সেটি খুব সযত্নে নিজে হাতে নিয়ে আসেন নুরেমবার্গ এ, ইউরোপে বৈজ্ঞানিক পান্ডুলিপি প্রকাশনা শ্রেষ্ঠ ছাপাখানায়।কেউই জানে না তরুন রেটিকাস কিভাবে কোপার্নিকাসকে রাজী করিয়েছিলেন তার হেলিওসেন্ট্রিক মডেল এর পান্ডুলিপি প্রকাশ করার জন্য; ১৫৪৩ সালে এপ্রিল মাসে বিজ্ঞানের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ বই De revolutionibus orbium coelestium ( ইংরেজীতে On the Revolutions of the Celestial Spheres) প্রকাশিত হয়, যা সুচনা করেছিল একটি বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের।এর কিছুদিন পর, সে বছরই ২৪ মে কোপার্নিকাস মৃত্যুবরণ করেন।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s