জন স্নো

15-03-2014 9-36-25 PM

 

৪৫ বছরের সংক্ষিপ্ত একটি জীবন ছিল জন স্নো র (John Snow (15 March 1813 – 16 June 1858) তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানে তিনি রেখে গেছেন চিরস্থায়ী অবদান, তাকে বলা হয় রোগতত্ত্ববিদ্যা বা এডিডেমিওলজীর জনক;

তখনও লুই পাস্তুর তার germ theory of disease, যা দাবী করেছিল, রোগের কারন হিসাবে অনুজীবদের – প্রকাশ করেননি ( সেটি হয়েছিল ১৮৬১ সালে), আর জন স্নোর জানা ছিলনা কিভাবে রোগ ছড়ায়, তবে তিনি প্রচলিত মিয়াজমা বা বিষাক্ত দুষিত বাতাস তত্ত্বে তেমন ভরসা রাখেননি, কারন তার পেশাগত পর্যবেক্ষন তা বার বার ভুল প্রমান করেছে।কলেরা নিয়ে জন স্নো ভাবনা ছিল তার জীবনব্যাপী; চোখের সামনে কলেরাকে তিনি একটি শহর ধ্বংশ করতে দেখেছিলেন, স্থানীয় সার্জেন এর অ্যাপ্রেনটিস হিসাবে সেই অভিজ্ঞতা তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল সারা জীবন; পরে প্রচলিত মিয়াজমা তত্ত্বকে খন্ডন করা তার সেই যুক্তি তিনি প্রকাশ করেছিলেন ১৮৪৯ সালে On the Mode of Communication of Cholera, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন রোগ টা ছড়াচ্ছে দুষিত পানি থেকে, সেটাই তিনি প্রথমবারের মত পরিসংখ্যান আর উপাত্ত দিয়ে প্রকাশ করেছিলেন ১৮৫৫ সালে, লন্ডনের সোহো ডিস্ট্রিক্ট এ ১৮৫৪ সালের কলেরা মহামারীকে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে।তার সেই প্রস্তাবের উপর ভিত্তি করেই ব্রড স্টিটের পানির কলের হাতলটি সরিয়ে ফেলেছিল কর্তৃপক্ষ, পরবর্তীতে সেটি রোগটি নিয়ন্ত্রন করার মাধ্যমে ব্যবহারিকভাবে সত্য প্রমানিত করেছিল জন স্নো পানি আর কলেরা জীবানুর হাইপোথিসিসটি। আর এভাবে বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যকে রক্ষা করার জন্য রোগতত্ত্ববিদ্যার জন্ম হয়েছিলো। এই ব্রড স্ট্রিট পাম্পের ঘটনাটি সুপরিচিত.. তবে এর পর পরই অন্য একটি হাইপোথিসিস তিনি দিয়েছিলেন, সেটি তেমন পরিচিত না হলে বিজ্ঞানের ইতিহাসবিদদের কাছে সেটি জন স্নো র মেধার অসাধারন একটি প্রমান…

জন স্নোর পর্যবেক্ষন ক্ষমতা যে কতটুকু আর রোগতত্ত্ববিদ্যা যে কত অসাধারন কাজ করতে পারে তার প্রমান ১৮৫৭ সালে স্নোর আরেকটি প্রবন্ধে.. On the adulteration of bread as a cause of rickets. ((Lancet 1857)); তিনি সেখানে বলেছিলে, রুটি বানানোর সময় অ্যালাম (aluminium potassium phosphate) যোগ করার কারনে শিশুদের রিকেট রোগ হচ্ছে, ( রিকেট এর সময় হাড় নরম হয়ে যায়, যার কারন হতে পারে ভিটামিন ডি, ক্যালশিয়াম বা ফসফেট এর বিপাক সমস্যার কারনে); কিন্তু আমরা যখন তার এই হাইপোথিসিসটি লক্ষ্য করি খুব অবাক হই.. কেন , তার কারন তখন কেউ কিন্তু জানতো না অ্যালাম শরীরে ক্যালসিয়াম আর ফসফেট এর সাথে কি ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া করতে পারে, যা হাড়ের সুষ্ঠ গঠন করতে দেয় না। এখানে শুধু মাত্র রোগতত্ত্ববিদ্যার ধারনাটি তিনি ব্যবহার করেছিলেন… তিনি দেখেন যে রিকেট হচ্ছে সেই সব এলাকায় যেখানে রুটির কারিগর রা যে আটা ব্যবহার করেন তার সাথে মেশানো হয় অ্যালাম, এবং সেটি খাচ্ছে মুলত: লন্ডন আর দক্ষিন ইংল্যান্ডে, কিন্তু যেখানে শিশুরা বাসায় বানানো রুটি খায়, যে রুটিতে অ্যালাম মেশানো থাকে না, তাদের রিকেট হচ্ছে খুবই কম, একই জিনিস দেখলেন লন্ডনের আশে পাশের গ্রামে, যেখানে সুর্যের আলো বা পরিষ্কার বাতাসের কোন ঘাটতি নেই), যে শিশুরা বাইরে বানানো রুটি খাচ্ছে, যেমন শহুরে শিশুরা.. প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি সুত্র তিনি লক্ষ্য করলেন, এরপর একটি সাহসী হাইপোথিসিস প্রস্তাব করেন তিনি .. রিকেট এর সাথে অ্যালাম এর যোগসুত্র করে। এই বিষয়ে বিজ্ঞান যা জানতে পেরেছিল তার ৭০ বছর আগেই, শুধু রোগতত্ত্ববিদ্যার ধারনা গুলো ব্যবহার করে।যে তথ্যসুত্রটা তখন স্নোর জানা ছিল, সেটি হলো জার্মান কেমিষ্ট Leibig এর একটি পরীক্ষা, যেখানে তিনি দেখান অ্যালুমিনিয়াম লবন ফসফরাস থাকে এমন যৌগর সাথে বিক্রিয়া করে তৈরী করে অদ্রাব্য অ্যালুমিনিয়াম ফসফেট, তিনি এখান থেকে তার সম্ভাব্য হাইপোথিসিসটি প্রস্তাব করেন, যে নিশ্চয়ই রুটির অ্যালাম খাদ্যের ফসফরাসের সাথে ক্রিয়া করে বাধা দিচ্ছে শিশুর হাড়ের phosphate of lime (তার ভাষায়) তৈরীতে। এর এরপরই তিনি তার পেপারে প্রস্তাব করেন ( লক্ষ্য করুন ভালো ভাবে ) একটি Case Control Study র, যা করা উচিৎ হবে অনধিক ৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে সেই শহরগুলোতে, যথাক্রমে যারা আটা কিনে রুটি বানায় আর যারা বানানো রুটি খায়.. আর এটাই প্রশ্নটির উত্তর দিতে পারবে।

জন স্নো র আরো একটি অবদান ছিল, প্রথম বারের মত বৈজ্ঞানিকভাবে তিনি অ্যনাসথেসিয়ার ব্যবহার করেছিলেন ( ইথার ও ক্লোরোফর্ম); অ্যানাসথেসিয়া নিয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারনার অবসান ঘটে যখন রানী ভিক্টোরিয়ার নয় সন্তানের মধ্যে শেষ দুটি সন্তানের জন্মের সময় জন স্নো র হাতে ক্লোরোফর্ম নিয়েছিলেন। ১৮৫৮ সালে চিরকুমার জন স্নো তার অফিসে কাজ করার সময় স্ট্রোকে আক্রান্ত হন, এর কিছু দিনের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।

johnsnowillustration

২০১৩ সালে Lancet জার্ণাল তাদের ১৮৫৮ সালে জন স্নো র মৃত্যুর পর প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত অবিচুয়ারীর একটি ভ্রান্তি স্বীকার পত্র প্রকাশ করেন..”The journal accepts that some readers may wrongly have inferred that The Lancet failed to recognise Dr Snow’s remarkable achievements in the field of epidemiology and, in particular, his visionary work in deducing the mode of transmission of epidemic cholera.”

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s