জন এন্ডারস

1920021_10152062613988521_1400267372_n

১৮৯৭ সালে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছিলেন জন এন্ডারস ( John Franklin Enders – February 10, 1897 – September 8, 1985); বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ছিল অনেক।কোন অর্থনৈতিক চাপ ছিল না তার, কিন্তু তার জীবন কাহিনী পড়লে সেটা কারোরই মনে হবেনা.. সাহিত্য আর ক্ল্যাসিকস এর ছাত্র ছিলেন তিনি, ১৮ বছর বয়সে যোগ দেন নৌবাহিনীতে, তখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হচ্ছে। ফিরে এসে ব্যবসা করার কথা ভাবলেন, রিয়েল এস্টেট, ভালো লাগেনি, ফিরে গেলেন ইয়েল এ পড়তে, বি এ শেষ করলেন, এবার ভাবলেন ইংরেজীর শিক্ষক হবেন, ভালো লাগলো না, হার্ভার্ড এ হিউম্যানিটিস পড়তে গেলেন, এম এ করলেন.. এবার কি করবেন, তিন বছর গবেষনা করার জন্য ফিলোলজী বিষয়গুলো ঘাটতে লাগলেন.. কিছুই ভালো লাগলোনা, সেই সময় তিনি ম্যাসাচুসেটস এর একটি বোর্ডিং হাউসে থাকতেন, সেখানে তার রুম মেট ছিল হার্ভার্ড পড়ুয়া বেশ কিছু তরুন মেডিকেল স্টুডেন্ট এবং ল্যাব ইন্সট্রাক্টর… ড: হিউ ওয়ার্ড, যিনি বিখ্যাত মাইক্রোবায়োলজিষ্ট হানস জিনসার এর ল্যাবে কাজ করতেন, ওয়ার্ড এর সাথে বন্ধুত্ত্ব হয় এনডারস এর। প্রতি সন্ধ্যায় তিনি হিউ র সঙ্গী হতে জিনসার এর ব্যাকটেরিওলজি আর ইমিউনোলজী ল্যাবে, তার আগ্রহ বাড়তে থাকে এই বিষয়টির প্রতি.. এবং আমাদের সৌভাগ্য তিনি সিদ্ধান্ত নেন বায়োমেডিকেল সায়েন্সই পড়বেন, সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়বেন। বিখ্যাত হানস জিনসার ( হ্যা যারা মাইক্রোবায়োলজী পড়েছেন, তাদের কাছে জিনসার খুবই পরিচিত একটি নাম) তাকে সুযোগ করে দেন ব্যাকটেরিওলজীতে পিএইচডি করার জন্য। জিনসার এর মতই তিনিও বহু বিষয়ে পন্ডিত ছিলেন, এরপরের কাহিনী ইতিহাস। এন্ডারস শুরু করেছিলেন নিউমোকক্কাস বলে একটি ব্যাকটেরিয়া নিয়ে.. কিন্তু এন্ডারস এর সবচেয়ে যুগান্তকারী কাজগুলো শুরু হয় টিস্যু কালচার এর উন্নতির ক্ষেত্রে, ১৯৪৯ সালে Thomas Huckle Weller ও Frederick Chapman Robbins এর সাথে এন্ডারস প্রথমবারের মত পোলিও ভাইরাসকে কালচার করেন টিস্যু কালচারে, জীবিত প্রানীর স্নায়ু কোষের কেবল কালচার করা সম্ভব একটি ভাইরাসকে তারা প্রথম ল্যাবরেটরীতে কালচার করতে সক্ষম হন। যে আবিষ্কারটি উন্মুক্ত করেছিলো Jonas Salk এর প্রথম সফল ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের পথটি। এজন্য নোবেল পুরষ্কারও পেয়েছিলেন তিনি, তার টিস্যু কালচার উন্মুক্ত করে দেয় ভাইরাস এবং সহজে কোষবিহীন কালচারে জন্মে না এমন ব্যাক্টেরিয়া নিয়ে গবেষনার পথ, যে পথ ধরেই আসে বহু ভ্যাক্সিন, এন্ডারস কে অনেকেই Father of Modern Vaccines মনে করেন। এরপর জন এন্ডারস ও তার টীম আবিষ্কার করেন Measles ভাইরাস, এর প্রথম ভ্যাক্সিনটি তৈরী হয় তার ল্যাব থেকেই, সফল ক্লিনিকাল ট্রায়ালটি সম্পন্ন হবার পর এর কোনটারই জন্য তিনি একক কৃতিত্ব তিনি নেননি। পরে আরো কার্যকরী মিজলস ভ্যাকসিন তৈরী করে ফাইজার এবং মার্কে র ড: মরিস হিলেমান। এন্ডারস এর ল্যাব এরপর ব্যস্ত হয়ে পড়ে ভাইরাস নিয়ে আরো কিছু গুরুত্বপুর্ণ গবেষনায়। সারা জীবন অত্যন্ত পরিশ্রমী এন্ডারস প্রায় ৮০ বছর পর্যন্ত ল্যাবে কাজ করেছেন…; পছন্দের একটি বিষয় ছিল সাহিত্য .. ১৯৮৫ সালে তিনি মারা যান, সেপ্টেম্বরের এক সন্ধ্যায়, তখন তিনি তার মেয়ে আর স্ত্রীকে টি এস এলিয়টের কবিতা পড়ে শোনাচ্ছিলেন….

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s