Tag Archives: রিচার্ড ডকিন্স

Beautiful Minds: Richard Dawkins

Richard Dawkins

 

Beautiful Minds: Richard Dawkins
Recently aired one hour BBC4 episode on evolutionary biologist Richard Dawkins.

“The true scientific understanding of the nature of existence is so utterly fascinating; how could you not want people to share it? Carl Sagan, I think, said ‘when you’re in love, you want to tell the world.’ And who, on understanding a scientific view of reality, would not, as it were, fall in love and want to tell the world.” Richard Dawkins


রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : তৃতীয় অধ্যায়


The first principle is that you must not fool yourself—and you are the easiest person to fool. Richard Feynman (1974)
(ছবি: স্টিভ পিক্সোটো)

রিচার্ড  রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : প্রথম এবং দ্বিতীয় অধ্যায়

 রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : তৃতীয় অধ্যায় ( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)
The God Delusion by Richard Dawkins 

:ঈশ্বরের অস্তিত্ত্বের স্বপক্ষে প্রস্তাবিত কিছু যুক্তি:

ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপনার কোন জায়গা আমাদের কোন প্রতিষ্ঠানে থাকা উচিৎ নয়। টমাস জেফারসন

ঈশ্বরের অস্তিত্ত্বের স্বপক্ষে যুক্তিগুলো বহু শতাব্দী ধরেই বিধি হিসাবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংকলন করেছেন ধর্মতত্ত্ববিদরা, পরবর্তীতে যেখানে আরো সংযোজন করেছেন অন্যরা, এমনকি ভ্রান্ত ’সাধারন কান্ডজ্ঞান’ এর সরবরাহকারীরাও।

টমাস আকোয়াইনাস এর ’প্রমান সমুহ’:

ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ঈশ্বরের অস্তিত্ত্বের স্বপক্ষে টমাস আকোয়াইনাস (Thomas Aquinas) যে পাচটি ’প্রমান’এর দাবী করেছেন, আসলে তারা কিছুই প্রমান করে না এবং খুব সহজেই -(যদিও বলতে ইতস্ততবোধ করছি, বিশেষ করে তাঁর মতো এমন সুবিখ্যাত কোন কারো যুক্তি) -একে অন্তসারশুন্য প্রমান করা সম্ভব। প্রথম তিনটি  মুলত একই বিষয়কে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বলা হয়েছে – তাই এই তিনটি যুক্তি নিয়ে একসাথে আলোচনা করা যেতে পারে। প্রত্যেকটি মুলতঃ ক্রমান্বয়ে পূর্ববর্তী মতে ফিরে যাওয়ার একটি অনন্ত প্রক্রিয়া বা  ইনফিনিট রিগ্রেস – যেখানে কোন একটি প্রশ্নের উত্তর আরেকটি পূববর্তী প্রশ্নের জন্ম দেয় -এভাবেই চলতে থাকে অনন্ত কাল।

১. আনমুভড মুভার বা স্থবির চালিকাশক্তি: কিছুই সচল হতে পারেনা আগে যদি কোন চালক না থাকে। যা আমাদের ক্রমান্বয়ে পূর্ববর্তী মতে ফিরে যাওয়ার একটি অনন্ত প্রক্রিয়ার দিকে নিয়ে যাবে, যার থেকে মুক্তি পাওয়ার একটাই উপায় – ঈশ্বর। কোন না কোন কিছুকে প্রথমে চালকের দ্বায়িত্ব নিতে হয়েছিল আর আমরা সেই প্রথম চালককে বলছি ঈশ্বর।

২. আনকসড কস বা পূর্বকারনহীন কারন: কোন কিছুই নিজে নিজে ঘটে না। প্রত্যেকটি পরিনতির একটি প্রাক কার্য্যকারন আছে, এবং এভাবে আবারো সেই ক্রমান্বয়ে পূর্ববর্তী মতে ফিরে যাওয়ার একটি অনন্ত প্রক্রিয়ায় দিকে ঠেলে দেয়া হবে আমাদের। তাই এটাকে শেষ করতে হবে একটি প্রথমতম কারন দিয়ে, যাকে আমরা বলছি ঈশ্বর।

৩. কসমোলজিকাল আর্গুমেন্ট বা মহাজাগতিক যুক্তি: এমন কোন একটা সময় অবশ্যই ছিল যখন কোন ধরনের ভৌতপদার্থেরই অস্তিত্ব ছিল না। যেহেতু বর্তমানে ভৌতপদার্থের অস্তিত্ব আছে সেহেতু নিশ্চয়ই কোন অভৌত কিছু ছিল যা বর্তমানে এসব কিছুর অস্তিত্ত্বের কারন,এবং সেই কোনকিছুকে আমরা বলছি ঈশ্বর।

এই তিনটি যুক্তিই নির্ভর করে আছে ক্রমান্বয়ে পূর্ববর্তী মতে ফিরে যাওয়ার ধারনা বা ইনফিনিট রিগ্রেস এর উপরে এবং যেখানে ঈশ্বরের নাম ব্যবহার করে এই ক্রমান্বয়ে পশ্চাদগমনকে থামানো হয়। এই যুক্তির সমর্থনকারীরা সম্পুর্ণ অনায্যভাবে যে পূর্বধারনাটি পোষন করেন, তা হলো, তাদের প্রস্তাবিত ’ঈশ্বর’ এই পশ্চাদগমনশীল যুক্তি প্রক্রিয়ার আওতামুক্ত। এমন কি যদি আমরা কাল্পনিকভাবেও কোন অসীম পশ্চাদগমনশীল একটি যুক্তি প্রক্রিয়ায় কাল্পনিকভাবে সৃষ্টিকরা একজন সমাপ্তকারীর অস্তিত্ত্ব সংক্রান্ত সন্দেহজনক বিলাসিতাকে শুধুমাত্র প্রয়োজনের খাতিরে পশ্রয়ও দেই, সেক্ষেত্রেও কিন্তু কোন কারনই নেই, সেই কাল্পনিক সমাপ্তকারীর উপর সেই সব গুনাবলীগুলো আরোপ করা, যা আমরা স্বাধারণতঃ ’ঈশ্বর’ এর উপর আরোপ করে থাকি: সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞতা, দয়াপরায়নতা, সৃষ্টির সৃজনশীলতা, এছাড়াও মানবিক ব্যপারগুলোতো আছেই যেমন, প্রার্থনা শোনা,পাপের ক্ষমা করা এবং যে কারো গোপন গভীরতম চিন্তা সম্বন্ধে সম্যক ধারনা রাখা। ঘটনাচক্রে যুক্তিবিদদের কিন্তু দৃষ্টি এড়ায়নি যে, সর্বশক্তিমান আর সর্বজ্ঞতা পরস্পর বিরুদ্ধ। যদি ঈশ্বর সর্বজ্ঞ হয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চয়ই আগে থেকেই তার জানা আছে যে, তিনি কিভাবে ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে হস্তক্ষেপ করবেন তার অসীম শক্তি দ্বারা। কিন্তু তার মানে, তিনি তার হস্তক্ষেপ সম্বন্ধে কোনভাবেই তার নেয়া সিদ্ধান্তগুলো পরিবর্তন করতে পারবেন না, এর অর্থ দাড়ায় তিনি আসলে সর্বশক্তিমান নন। কারেন ওয়েনস (Karen Owens) এই বুদ্ধিদীপ্ত প্যারাডক্স বা ধাধাকে সমপর্যায়ের একটা আকর্ষনীয় কবিতায় প্রকাশ করেছেন:

Continue reading


গভীরভাবে ধার্মিক একজন অবিশ্বাসী:


The gods worshipped by billions either exist, or they do not; if they exist they must have observable consequences (Victor J. Stenger)
(ছবি সুত্র: নিউ সায়েন্টিষ্ট, ১৭ মার্চ, ২০১২ ইলাসট্রেশন: Richard Wilkinson)

(অনুবাদকের কথা: নীচে ধারাবাহিক খন্ডে খন্ডে লেখা প্রথম অধ্যায়টির অনুবাদ একসাথে পোষ্ট করলাম। একজায়গায় থাকলে অনুবাদের ভুলগুলো শুধরানো সহজ হবে।
ইউনিকোড ফন্টে লেখা এটি আমার প্রথম লেখা ছিল। এছাড়া এটি রিচার্ড ডকিন্স এর ৭১ তম জন্মবার্ষিকীতে আমার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধান্জ্ঞলি)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : প্রথম অধ্যায়
The God Delusion by Richard Dawkins
(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

:গভীরভাবে ধার্মিক একজন অবিশ্বাসী:

‘আমি কোন ব্যক্তিগত ঈশ্বরকে কল্পনা করার চেষ্টা করিনা; আমাদের অপর্যাপ্ত ইন্দ্রিয়গুলো যতটুকু বোঝার সুযোগ দেয়,সেটুকু দিয়েই এই মহাবিশ্বের গঠন
দেখে বিস্ময়ে হতবাক হওয়াটাই যথেষ্ঠ।’  আলবার্ট  আইনস্টাইন

: যে ‘শ্রদ্ধা’ পাওয়ার যোগ্য :

হাতের ‍উপর চিবুক রেখে, ঘাসের উপর ‍উপুড় হয়ে শুয়ে আছে ছেলেটি, জট পাকানো ঘাসের কান্ড আর শিকড় দেখতে দেখতে হঠাৎ করেই তীব্র একটা অনুভূতিবোধ তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে: তার চোখের সামনে যেন ক্ষুদ্র কোন পৃথিবীর এক বনভূমি । রুপান্তরিত এক জগত, পিপড়া আর গুবরে পোকাদের এবং এমনকি – যদিও সেই সময় তার বিস্তারিত কিছু জানা ছিল না – লক্ষ কোটি ব্যাকটেরিয়ার, যারা নীরবে, সবার অগোচরে ক্ষুদ্র এই বিশ্বের অর্থনীতির গুরুদায়িত্ব বহন করে যাচ্ছে। হঠাৎ করে ঘাসের ক্ষুদ্রকায় এই বনভূমি  বিশালাকৃতি ধারণ করে এক হয়ে মিশে গেল মহাবিশ্ব আর ভাবনারত ছেলেটির মুদ্ধ বিমোহিত মনের সাথে। এই অভিজ্ঞতাকে সে ব্যখা করে ধর্মীয় দৃষ্টেকোন এবং ‍পরবর্তীতে বেছে নেয় ধর্মযাজকের জীবন। অ্যাঙ্গলিকান পাদ্রী ‍হিসাবে দীক্ষা নেবার পর ‍তিনি আমার স্কুলে চ্যাপলেইন হিসাবে যোগ দেন। তার মত কয়েকজন ভদ্র, উদার ধর্মযাজকের জন্য কেউ কখনো দাবী করতে পারবে না, আমাকে জোর করে আমাকে ধর্ম শেখানো হয়েছে [১]।

অন্য কোন সময়ে আর স্হানে, তারা ভরা আকাশের নীচে, এই ছেলেটি হতে পারতাম আমি: ওরাইওন, ক্যাসিওপিয়া আর উরসা মেজরের চোখ ধাধানো সৌন্দর্যে  মুগ্ধ, মিল্কি ওয়ের অশ্রুত সঙ্গীতের মূর্ছণায় আবেগের অশ্রুভরা চোখ, আফ্রিকার বাগানে ফ্রাঙ্গিপানি আর  ট্রাম্পেট ফুলের রাতের গন্ধে মাতাল । কেন সেই একই আবেগ আমার চ্যাপলেইনকে নিয়ে গেছে একদিকে আর আমাকে অন্য আরেক দিকে, সে প্রশ্নের উত্তর দেয়া সহজ নয়। প্রকৃতির প্রতি এধরনের প্রায়-আধ্যাত্মিক প্রতিক্রিয়া বিজ্ঞানী কিংবা যুক্তিবাদীদের প্রায়ই দেখা যায়। তার সাথে কিন্তু অতিপ্রাকৃত বিশ্বাসের  কোনই যোগসূত্র নেই। অনুমান করতে পারি, অন্ততঃ তার শৈশবে  চ্যাপলেইনের (এবং আমারও না) ‘ ‘দি অরিজিন অব স্পেসিস’’ এর শেষ পংক্তিগুলো জানা ছিল না – বিখ্যাত ‘‘দি এনট্যাঙ্গলড ব্যাঙ্ক’’ অনুচ্ছেদ, ‘‘ঝোপের মধ্যে গান গাচ্ছে পাখিরা, এদিক সেদিক উড়ছে নানা জাতের পোকা মাকড়, ভেজা মাটির মধ্যে হামাগুড়ি দিয়ে চলছে কেচো’’ ; যদি তার জানা থাকতো, তাহলে নিঃসন্দেহে সে তার অভিজ্ঞতার সাথে মিল খুজে পেতো, ধর্মযাজকের পেশার বদলে হয়তো ডারউইনের দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে একমত হতে পারতেন যে, সবকিছুরই‘ ‘সৃষ্টি আমাদের চারপাশে কাজ করে যাওয়া প্রাকৃতিক ‍নিয়মের মাধ্যমে’’:

এইভাবে, প্রকৃতির যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ আর মুত্যু থেকেই আমাদের পক্ষে ভাবা সম্ভব এমন সবচেয়ে মর্যাদা সম্পন্ন বস্তু, যেমন উন্নত প্রানীর সৃষ্টি, সরাসরি জড়িত। জীবনকে এইভাবে দেখার মধ্যে আছে একধরনের বিশালতা। ‍(জীবন)তার বহুমুখী  ক্ষমতা দিয়ে সে সুচনা করেছিল এক কিংবা কয়েকটি আকার নিয়ে;  খুব সাধারণ সেই সূচনা থেকে সেটাই,  এই গ্রহটি যখন মধ্যাকর্ষনের ধরাবাধা নিয়ম মেনে মহাকাশে চক্রাকারে ঘুরে চলেছে, বিবর্তিত হয়েছে যা কিছু ছিল আর বর্তমানে আছে এমন অগনিত সুন্দর আর বিস্ময়কর নানা আকার আর প্রকৃতির জীবনে।

Continue reading


ঈশ্বর হাইপোথিসিস


পিটার ইয়াঙ এর তোলা রিচার্ড ডকিন্স এর একটি প্রোর্টেট। ( জন্ম: ২৬ শে মার্চ, ১৯৪১);
এই বৃটিশ বিবর্তন জীববিজ্ঞানী আমাদের চিন্তা করার প্রক্রিয়াটি আমুল বদলে দিয়েছেন।

(অনুবাদকের কথা: নীচে ধারাবাহিক খন্ডে খন্ডে লেখা দ্বিতীয় অধ্যায়টির অনুবাদ একসাথে পোষ্ট করলাম। একজায়গায় থাকলে অনুবাদের ভুলগুলো শুধরানো সহজ হবে)

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : দ্বিতীয় অধ্যায়
The God Delusion by Richard Dawkins
(অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)

  :ঈশ্বর হাইপোথিসিস:

 ‘‘এক যুগের ধর্ম পরবর্তী যুগের আনন্দদানকারী সাহিত্যকর্ম’ – রালফ ওয়ালদো এমারসন

 সকল কাহিনীর মধ্যে ওল্ড টেষ্টামেন্টের ঈশ্বরই হলো তর্কসাপেক্ষে সবচেয়ে বেশী অপ্রীতিকর একটা চরিত্র: হিংসুটে এবং এর জন্য গর্বিত, সংকীর্ণমনা,অন্যায়কারী, ক্ষমা প্রদর্শনে অক্ষম, সবকিছু নিয়ন্ত্রন করার মানসিক দোষে দুষ্ট; একজন প্রতিহিংসা পরায়ন, রক্তপিপাসু জাতিগত বিশোধনকারী; একজন নারী বিদ্বেষী, সমকামীদের প্রতি ঘৃনা পোষনকারী (হোমোফোবিক), বর্ণবাদী, শিশুহত্যাকারী, গনহত্যাকারী, সন্তানহত্যাকারী, বিশ্রী রকমের বিরক্তকর, নিজেকে অতি বড় ভাবার প্রবণতা বা  অতিআত্মম্মন্যতায় আক্রান্ত , স্যাডোম্যাসোকিস্ট (ধর্ষ-মর্ষকামী); খামখেয়ালী পরশ্রীকাতর, দূর্বলের উপর অত্যাচারকারী। আমরা যারা শৈশব থেকে তার কাহিনীর সাথে পরিচিত, এসব ভীতিকর ঘটনার প্রতি তাদের সংবেদনশীলতা হ্রাস পেতে পারার সম্ভাবনা আছে। একজন অবুঝ, যে একটি নিষ্পাপ দৃষ্টিভঙ্গীর দ্বারা আশীর্বাদপুষ্ট, এই বিষয়ে সে একটা অপেক্ষাকৃত নিরপেক্ষ এবং সুষ্পষ্ট ধারনা পোষন করতে সক্ষম। উইনস্টোন চার্চিল এর পুত্র রানডলফ সুকৌশলে বাইবেল সম্বন্ধে নিজেকে পুরোপুরি অজ্ঞাত রাখতে পেরেছিল, যতক্ষন না পর্যন্ত, ইভলিন ওয়াহ ও অন্য একজন বন্ধু সামরিক অফিসার, যারা তার সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় একই জায়গায় কর্মরত ছিলেন- তারা চার্চিলকে চুপ রাখার জন্য ব্যর্থ প্রচেষ্ঠা হিসাবে তার সাথে বাজী রেখেছিলেন, তিনি পনেরো দিনের মধ্যে বাইবেল পড়ে শেষ করতে পারবেন না: ‘দুর্ভাগ্যজকভাবে যা ঘটলো তা আমরা আশা করিনি। যেহেতু  এটা আগে সে একটুও পড়েনি এবং পড়া মাত্রই ভয়াবহ আনন্দিত হয়েছিল; এবং বারবার বিভিন্ন উদ্ধৃতি জোরে জোরে পড়ে শোনানো শুরু করলো, ‘আমি নিশ্চিৎ, তোমরা জানতে না এই কথাটা বাইবেল থেকে এসেছে’ অথবা শুধু শুধু হাসি আর তালি বাজিয়ে স্বগোতক্তি করতো: ‘ঈশ্বর! ঈশ্বর কি যাচ্ছেতাই রকমের জঘন্য, তাই না!’[১] টমাস জেফারসন-আরো বেশী পড়াশুনা ছিল তার , একই মতামত পোষন করতেন, মোজেস এর ঈশ্বরকে তিনি বর্ণনা করেছিলেন, ‘ভয়ানক এক চরিত্র– নিষ্ঠুর, প্রতিহিংসাপরায়ন,খামখেয়ালী, অন্যায়কারী’ ।

Continue reading


কুকুর, গরু এবং বাধাকপি


শীর্ষ ছবি: চিহুয়াহুয়া (Chihuahua) এবং গ্রেট ডেন (Great Dane): দুজনেই চামড়ার নীচে আসলে নেকড়ে। মাত্র কয়েক শতাব্দীর কৃত্রিম নির্বাচন বা সিলেকটিভ ব্রীডিং এর ফলে সৃষ্ট এই দুই জাতের কুকুরের ব্যাহ্যিক চেহারা দেখে তা কি অনুমান করা সম্ভব?

ভুমিকা: লেখাটি  রিচার্ড ডকিন্স ( Richard Dawkins) এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ  (The Greatest Show on Earth: The evidence for Evolution) এর দ্বিতীয় অধ্যায় Dogs, Cows and Cabbages র একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা।
_____________________________________ 

দ্বিতীয় অধ্যায়: কুকুর, গরু এবং বাধাকপি

একজন ডারউইনের কেন এই দৃশ্যে উপস্থিত হতে এত দীর্ঘ সময় লেগেছিল? আসলেই কি প্রলম্বিত করেছিল মানবজাতির বিবর্তনের এ‌ই সুস্পষ্ট সহজবোধ্য ধারনাটিতে পৌছাতে ; যে ধারনাটি দৃশ্যতই মনে হয় যে এর প্রায় দুই শতাব্দী আগে আমাদেরকে উপহার দেয়া নিউটনের গানিতীক ধারনাটির বা এমনকি দুই হাজার বছর আগে আর্কিমিডিসের এর ধারনাটির চেয়েও অনেক বেশী সহজবোধ্য-? এই প্রশ্নের জবাব হিসাবে বেশ কিছু উত্তরও প্রস্তাব করা হয়েছে ইতিমধ্যে। যে অকল্পনীয় পরিমান সময়ের প্রয়োজন এই বিশাল পরিবর্তনের জন্য সেটা অনুভব করে হয়ত আমাদের মন সচেতনভাবেই শঙ্কা বোধ করেছে কিংবা আমরা আজ যাকে ভুতাত্ত্বিক গভীর সময় বা জিওলজিকাল ডিপ টাইম বলছি এবং যে ব্যক্তিটি সেই সময়টা বুঝতে চাইছেন, তার জীবনকালের দৈর্ঘ্যর সাথে এটির অসামন্জষ্যতা হয়ত  সেই সুবিশাল সময়টার ব্যাপ্তি বোঝার জন্য প্রতিবন্ধকতার কারন হয়েছিল। হয়ত বা এর কারন হতে পারে, ধর্মীয় দীক্ষা, যা আমাদের পিছু টেনে ধরেছিল। অথবা এর কারন হতে পারে, জীবিত অঙ্গ, যেমন চোখের অসাধারন এবং অন্যকিছু ভাবার জন্য নিরুৎসাহিত করার মত যার জটিলতা,যেন এটি কোন এক  মাষ্টার প্রকৌশলীর করা বিশেষ ডিজাইন বা পরিকল্পনার ছলনাময়ী মায়ার নানা চিহ্ন বহন করছে। সম্ভবত এই সব কিছু্‌ই কোন না কোন ভুমিকা পালন করেছে এই সহজ সত্যটাকে আমাদের এত দেরী করে বুঝতে। কিন্তু আর্ণস্ট মেয়ার (Ernst Mayr), নিও-ডারউইনিয়ান সিনথেসিসের বিখ্যাত গ্রান্ড ওল্ড ম্যান, যিনি ২০০৫ সালে ১০০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, বারবার একটি ভিন্ন সন্দেহর কথাই উচ্চারণ করেছিলেন। মায়ারের দৃষ্টিতে মুল অপরাধী প্রাচীন দার্শনিক একটি মতবাদ-যার আধুনিক নাম- এসেন্শিয়ালিজম (Essentialism),বিবর্তনের আবিষ্কারকে আটকে রেখেছিল প্লেটো মৃত হাত ( এটা অবশ্য মায়ার এর বাক্য না, তবে তার ধারনাটিকে এটি প্রকাশ করে)।

প্লেটোর মৃত হাত:

Continue reading


শধুই কি একটা তত্ত্ব?


শীর্ষ ছবি:  Charnia masoni  র ফসিলের সাথে  বৃটিশ ভুতাত্ত্বিক রজার ম্যাসন। যুক্তরাজ্যের  লীষ্টারে Charnwood forest এ ১৬ বছর বয়সী স্কুল ছাত্র রজার ম্যাসন ১৯৫৭ সালে এই গুরুত্বপুর্ণ ফসিলটি খুজে পান। যুক্তরাজ্যে পাওয়া প্রথম প্রি ক্যামব্রিয়ান ফসিল ( ৫৮০ মিলিয়ন বছর আগের একটি লাইফফর্ম), এটি নি:সন্দেহে  প্রথমবারের মত  প্রমান করে ক্যামব্রিয়ান পিরিওডের আগে বহুকোষী এবং জটিল প্রকৃতির জীবনের অস্তিত্ব ছিল। প্রি ক্যামব্রিয়ান এই ভুতাত্ত্বিক সময়কে এখন বলা হয় Ediacaran পিরিওড ( ৬৩৫ থেকে ৫৪২ মিলিয়ন বছর আগের সময়কাল; দক্ষিন অষ্টেলিয়ার ইডিআকারান হিলস এর নামে এই পর্বটির নামকরন করা হয়েছে)। Charnia এই পর্বে অন্যতম একটি জিনাস।


ভুমিকা:
 লেখাটি  রিচার্ড ডকিন্স ( Richard Dawkins) এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ  The Greatest Show on Earth: The evidence for Evolution এর প্রথম অধ্যায় Only a Theory র একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা। এটি এই ব্লগে আলাদা পেজ হিসাবে ইতিপুর্বে চার খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে।  এখানে  একটি স্বতন্ত্র পোষ্ট হিসাবে আবার যোগ করলাম কয়েকজন শুভানুধ্যায়ী পাঠকদের অনুরোধে। পুরো বইটা ধারাবাহিক ভাবে আমি অনুবাদ করে যাবার চেষ্টা করবো, ইতিমধ্যে দ্বিতীয় অধ্যায়টি  আলাদা পোষ্ট হিসাবে যোগ করা হয়েছে। লেখাটির মুল প্রেরণা ছিল এবারের ডারউইন দিবস।
________________________________________

কল্পনা করুন, আপনি রোমের ইতিহাস এবং ল্যাটিন ভাষার একজন শিক্ষক;  আর আপনি প্রাচীন সেই পৃথিবী,ওভিড এর ‍শোকগাথা আর হোরাসের স্তুতিগাথা, সিসেরোর বক্তৃতার সেই পেশীবহুল ল্যাটিন ব্যকরণ, পিউনিক যুদ্ধের কৌশলগত খুটিনাটি, জুলিয়াস সিজারের সামরিক নেতৃত্ব এবং পরবর্তী সম্রাটদের মাত্রাহীন ইন্দ্রিয়পরায়নতা -ইত্যাদি বিষয়ে আপনার তীব্র ‍উৎসাহ সবার সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য খুবই আগ্রহী । ‍স্পষ্টতই এটা অনেক বড় একটা দ্বায়িত্ব, যার জন্য সময়, ‍ একাগ্রতা আর আত্মত্যাগের প্রয়োজন। তারপরও ‍আপনি লক্ষ্য করলেন, আপনার ‍সেই মুল্যবান সময় সারাক্ষনই আক্রান্ত হচ্ছে ‍ এবং আপনার ক্লাসের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করছে  ক্রমাগত চিৎকার করা এক মুর্খের বা ইগনোরেমাস-এর দল ( ল্যাটিন বিশেষজ্ঞ হিসাবে আপনি ভালো জানবেন, ‘ইগনোরামি’ বলার চেয়ে  ‘ইগনোরেমাস’ বলাটাই উত্তম হবে);  যাদের আছে শক্তশালী রাজনৈতিক সমর্থন, বিশেষ করে অর্থানুকল্য;যারা বিরামহীনভাবে ছোটাছুটি করে ‍আপনার দুর্ভাগা শিক্ষার্থীদের প্ররোচিত করে বোঝনোর চেষ্টা করে যাচ্ছে যে, রোমানদের কোনদিনও অস্তিত্বই ছিলনা, রোমান সাম্রাজ্যও কোনদিনও ছিল না। সমস্ত পৃথিবীটারই সৃষ্টি হয়েছে মানুষের স্মরণকালের সামান্য কিছু সময় আগে। স্প্যানিশ,ইটালিয়ান,ফরাসী, পর্তুগীজ, কাতালান, ওক্সিটান, রোমানশ: এই সব ভাষা আর তাদের সংশ্লিষ্ট সকল উপভাষাগুলো স্বতঃস্ফূর্ত এবং আলাদা আলাদা সৃষ্টি হয়েছে কোন পুর্বসুরী, অর্থাৎ ল্যাটিন ভাষা ছাড়াই। ক্লাসিকের একজন বিশিষ্ট পন্ডিত আর শিক্ষকতার মহান পেশার প্রতি আপনি পূর্ন মনোযোগ দেবার পরিবর্তে আপনি আপনার সময় আর শক্তিকে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, রোমের যে অস্তিত্ব ছিল -এই প্রস্তাবটি রক্ষা করার স্বপক্ষে যুদ্ধ করতে: অজ্ঞতা আর অন্ধ সংস্কারের এই প্রদর্শনী- যা হয়তো আপনাকে ব্যাথিত করতো, যদিনা আপনি এর বিরুদ্ধে সংগ্রামে ব্যস্ত না থাকতেন।

যদি ‍আমার এই ল্যাটিন শিক্ষকের কল্পকাহিনী বেশী বাড়াবাড়ি মনে হয়, তাহলে আরেকটু বাস্তবসম্মত উদহারণ দেই: ধরুন আপনি আরো সাম্প্রতিক কালের ইতিহাসের একজন শিক্ষক; এবং বিংশ শতাব্দীর ইউরোপ বিষয়ে আপনার ক্লাস বয়কট করা হয়েছে, ‍উত্যক্ত করে বা কোন না কোনভাবে ব্যহত করছে হলোকষ্ট-অস্বীকারকারীরা যারা সুসংগঠিত, অর্থনৈতিক সাহায্যপুষ্ট, রাজনৈতিক পেশীসম্পন্ন। আমার কাল্পনিক রোম-অস্বীকারকারীর  অস্তিত্ব না থাকুক, হলোকষ্ট-অস্বীকারকারীরা আসলেই আছেন। তারা অত্যন্ত সরব, খুবই হালকাভাবে যুক্তিগ্রাহ্য, আপাতদৃষ্টিতে নিজেদের জ্ঞানী হিসাবে উপস্থাপন করতে সুদক্ষ। তাদের প্রতি সমর্থন আছে, অন্ততঃ বর্তমানে একটি শক্তিশালী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরও; এছাড়াও আছেন, অন্ততঃ  রোমান ক্যাথলিক চার্চের একজন বিশপ। এখন কল্পনা করুন, ইউরোপীয় ইতিহাসের শিক্ষক হিসাবে আপনাকে সারাক্ষনই মুখোমুখি হতে হচ্ছে একটি উগ্র আক্রমনাত্মক দাবীর : ‘বিতর্কিত মতবাদটাকেও পড়াতে হবে’, এবং ‘একই পরিমান সময়’, দিতে হবে ‘বিকল্প মতবাদ’ পড়াতে যা কিনা দাবী করে হলোকষ্ট কখনোই হয়নি, এটা কিছু ইহুদীবাদীদের আবিষ্কার’; কিছু মৌসুমী আপেক্ষিকতাবাদী বুদ্ধিজীবিরা এর সাথে গলা মিলিয়ে দাবী করছেন, কোন কিছুই তো চরম সত্য না। হলোকষ্ট ঘটেছে ‍কি ঘটেনি তা নির্ভ‍র করবে ব্যাক্তিগত বিশ্বাসের উপর; সব মতবাদই সমানভাবে বৈধ, সমানভাবে ‘শ্রদ্ধা’ করা উচিৎ।

Continue reading


রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন এর অনুবাদ প্রচেষ্টা:

বেশ  অনেকদিন আগেই রিচার্ড ডকিন্স (Richard Dawkins) এর দি গড ডিল্যুশনের ( The God Delusion) অনুবাদে হাত দিয়েছিলাম। তখনও আমি ব্লগের সাথে পরিচিত নই । পরবর্তীতে প্রথম অধ্যায়টিকে মুক্তমনায় দেখলাম। তখন থেকে মুক্তমনার ক্ষুরধার লেখাগুলো পড়ছি বিস্ময়ের সাথে।

নীচের এই অনুবাদ প্রচেষ্টা আমার। লেখাটি আমি উৎসর্গ করছি শিল্পী এবং কবি আসমা সুলতানাকে। যার উৎসাহে আমার এই কর্মযজ্ঞ, যার অনেক ঋণ কোনদিনও শোধ করা সম্ভব হবে না।
বছরের শেষ দিনে হার্ড ডিস্ক থেকে অনেক অসমাপ্ত লেখা বের হলো, গড ডিল্যুশনের প্রায় আড়াইটা চ্যাপটার। ঠিক করেছি ধীরে ধীরে অনুবাদ সেকশনে  এটা প্রকাশ করবো:

শীর্ষ ছবি কিংবা প্রচ্ছদ : আসমা সুলতানা

প্রথম অধ্যায় : প্রথম পর্ব দ্বিতীয় পর্ব | তৃতীয় পর্ব  চতুর্থ পর্ব |শেষ পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায় : প্রথম পর্ব দ্বিতীয় পর্ব |তৃতীয় পর্ব| চতুর্থ পর্বপঞ্চম পর্ব|ষষ্ঠ পর্ব|
সপ্তম পর্ব | অষ্টম পর্বনবম পর্ব  | দশম পর্ব  | একাদশ পর্ব  | শেষ পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব


রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমান

অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান


শীর্ষ ছবি কিংবা প্রচ্ছদ : আসমা সুলতানা

প্রথম অধ্যায়: প্রথম পর্ব দ্বিতীয় পর্ব | তৃতীয় পর্বশেষ পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব


Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 32 other followers