
The first principle is that you must not fool yourself—and you are the easiest person to fool. Richard Feynman (1974)
(ছবি: স্টিভ পিক্সোটো)
রিচার্ড রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : প্রথম এবং দ্বিতীয় অধ্যায়
রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : তৃতীয় অধ্যায় ( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)
The God Delusion by Richard Dawkins
:ঈশ্বরের অস্তিত্ত্বের স্বপক্ষে প্রস্তাবিত কিছু যুক্তি:
ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপনার কোন জায়গা আমাদের কোন প্রতিষ্ঠানে থাকা উচিৎ নয়। টমাস জেফারসন
ঈশ্বরের অস্তিত্ত্বের স্বপক্ষে যুক্তিগুলো বহু শতাব্দী ধরেই বিধি হিসাবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংকলন করেছেন ধর্মতত্ত্ববিদরা, পরবর্তীতে যেখানে আরো সংযোজন করেছেন অন্যরা, এমনকি ভ্রান্ত ’সাধারন কান্ডজ্ঞান’ এর সরবরাহকারীরাও।
টমাস আকোয়াইনাস এর ’প্রমান সমুহ’:
ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ঈশ্বরের অস্তিত্ত্বের স্বপক্ষে টমাস আকোয়াইনাস (Thomas Aquinas) যে পাচটি ’প্রমান’এর দাবী করেছেন, আসলে তারা কিছুই প্রমান করে না এবং খুব সহজেই -(যদিও বলতে ইতস্ততবোধ করছি, বিশেষ করে তাঁর মতো এমন সুবিখ্যাত কোন কারো যুক্তি) -একে অন্তসারশুন্য প্রমান করা সম্ভব। প্রথম তিনটি মুলত একই বিষয়কে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বলা হয়েছে – তাই এই তিনটি যুক্তি নিয়ে একসাথে আলোচনা করা যেতে পারে। প্রত্যেকটি মুলতঃ ক্রমান্বয়ে পূর্ববর্তী মতে ফিরে যাওয়ার একটি অনন্ত প্রক্রিয়া বা ইনফিনিট রিগ্রেস – যেখানে কোন একটি প্রশ্নের উত্তর আরেকটি পূববর্তী প্রশ্নের জন্ম দেয় -এভাবেই চলতে থাকে অনন্ত কাল।
১. আনমুভড মুভার বা স্থবির চালিকাশক্তি: কিছুই সচল হতে পারেনা আগে যদি কোন চালক না থাকে। যা আমাদের ক্রমান্বয়ে পূর্ববর্তী মতে ফিরে যাওয়ার একটি অনন্ত প্রক্রিয়ার দিকে নিয়ে যাবে, যার থেকে মুক্তি পাওয়ার একটাই উপায় – ঈশ্বর। কোন না কোন কিছুকে প্রথমে চালকের দ্বায়িত্ব নিতে হয়েছিল আর আমরা সেই প্রথম চালককে বলছি ঈশ্বর।
২. আনকসড কস বা পূর্বকারনহীন কারন: কোন কিছুই নিজে নিজে ঘটে না। প্রত্যেকটি পরিনতির একটি প্রাক কার্য্যকারন আছে, এবং এভাবে আবারো সেই ক্রমান্বয়ে পূর্ববর্তী মতে ফিরে যাওয়ার একটি অনন্ত প্রক্রিয়ায় দিকে ঠেলে দেয়া হবে আমাদের। তাই এটাকে শেষ করতে হবে একটি প্রথমতম কারন দিয়ে, যাকে আমরা বলছি ঈশ্বর।
৩. কসমোলজিকাল আর্গুমেন্ট বা মহাজাগতিক যুক্তি: এমন কোন একটা সময় অবশ্যই ছিল যখন কোন ধরনের ভৌতপদার্থেরই অস্তিত্ব ছিল না। যেহেতু বর্তমানে ভৌতপদার্থের অস্তিত্ব আছে সেহেতু নিশ্চয়ই কোন অভৌত কিছু ছিল যা বর্তমানে এসব কিছুর অস্তিত্ত্বের কারন,এবং সেই কোনকিছুকে আমরা বলছি ঈশ্বর।
এই তিনটি যুক্তিই নির্ভর করে আছে ক্রমান্বয়ে পূর্ববর্তী মতে ফিরে যাওয়ার ধারনা বা ইনফিনিট রিগ্রেস এর উপরে এবং যেখানে ঈশ্বরের নাম ব্যবহার করে এই ক্রমান্বয়ে পশ্চাদগমনকে থামানো হয়। এই যুক্তির সমর্থনকারীরা সম্পুর্ণ অনায্যভাবে যে পূর্বধারনাটি পোষন করেন, তা হলো, তাদের প্রস্তাবিত ’ঈশ্বর’ এই পশ্চাদগমনশীল যুক্তি প্রক্রিয়ার আওতামুক্ত। এমন কি যদি আমরা কাল্পনিকভাবেও কোন অসীম পশ্চাদগমনশীল একটি যুক্তি প্রক্রিয়ায় কাল্পনিকভাবে সৃষ্টিকরা একজন সমাপ্তকারীর অস্তিত্ত্ব সংক্রান্ত সন্দেহজনক বিলাসিতাকে শুধুমাত্র প্রয়োজনের খাতিরে পশ্রয়ও দেই, সেক্ষেত্রেও কিন্তু কোন কারনই নেই, সেই কাল্পনিক সমাপ্তকারীর উপর সেই সব গুনাবলীগুলো আরোপ করা, যা আমরা স্বাধারণতঃ ’ঈশ্বর’ এর উপর আরোপ করে থাকি: সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞতা, দয়াপরায়নতা, সৃষ্টির সৃজনশীলতা, এছাড়াও মানবিক ব্যপারগুলোতো আছেই যেমন, প্রার্থনা শোনা,পাপের ক্ষমা করা এবং যে কারো গোপন গভীরতম চিন্তা সম্বন্ধে সম্যক ধারনা রাখা। ঘটনাচক্রে যুক্তিবিদদের কিন্তু দৃষ্টি এড়ায়নি যে, সর্বশক্তিমান আর সর্বজ্ঞতা পরস্পর বিরুদ্ধ। যদি ঈশ্বর সর্বজ্ঞ হয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চয়ই আগে থেকেই তার জানা আছে যে, তিনি কিভাবে ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে হস্তক্ষেপ করবেন তার অসীম শক্তি দ্বারা। কিন্তু তার মানে, তিনি তার হস্তক্ষেপ সম্বন্ধে কোনভাবেই তার নেয়া সিদ্ধান্তগুলো পরিবর্তন করতে পারবেন না, এর অর্থ দাড়ায় তিনি আসলে সর্বশক্তিমান নন। কারেন ওয়েনস (Karen Owens) এই বুদ্ধিদীপ্ত প্যারাডক্স বা ধাধাকে সমপর্যায়ের একটা আকর্ষনীয় কবিতায় প্রকাশ করেছেন:
Continue reading