Tag Archives: বিবর্তন

কুকুর, গরু এবং বাধাকপি


শীর্ষ ছবি: চিহুয়াহুয়া (Chihuahua) এবং গ্রেট ডেন (Great Dane): দুজনেই চামড়ার নীচে আসলে নেকড়ে। মাত্র কয়েক শতাব্দীর কৃত্রিম নির্বাচন বা সিলেকটিভ ব্রীডিং এর ফলে সৃষ্ট এই দুই জাতের কুকুরের ব্যাহ্যিক চেহারা দেখে তা কি অনুমান করা সম্ভব?

ভুমিকা: লেখাটি  রিচার্ড ডকিন্স ( Richard Dawkins) এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ  (The Greatest Show on Earth: The evidence for Evolution) এর দ্বিতীয় অধ্যায় Dogs, Cows and Cabbages র একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা।
_____________________________________ 

দ্বিতীয় অধ্যায়: কুকুর, গরু এবং বাধাকপি

একজন ডারউইনের কেন এই দৃশ্যে উপস্থিত হতে এত দীর্ঘ সময় লেগেছিল? আসলেই কি প্রলম্বিত করেছিল মানবজাতির বিবর্তনের এ‌ই সুস্পষ্ট সহজবোধ্য ধারনাটিতে পৌছাতে ; যে ধারনাটি দৃশ্যতই মনে হয় যে এর প্রায় দুই শতাব্দী আগে আমাদেরকে উপহার দেয়া নিউটনের গানিতীক ধারনাটির বা এমনকি দুই হাজার বছর আগে আর্কিমিডিসের এর ধারনাটির চেয়েও অনেক বেশী সহজবোধ্য-? এই প্রশ্নের জবাব হিসাবে বেশ কিছু উত্তরও প্রস্তাব করা হয়েছে ইতিমধ্যে। যে অকল্পনীয় পরিমান সময়ের প্রয়োজন এই বিশাল পরিবর্তনের জন্য সেটা অনুভব করে হয়ত আমাদের মন সচেতনভাবেই শঙ্কা বোধ করেছে কিংবা আমরা আজ যাকে ভুতাত্ত্বিক গভীর সময় বা জিওলজিকাল ডিপ টাইম বলছি এবং যে ব্যক্তিটি সেই সময়টা বুঝতে চাইছেন, তার জীবনকালের দৈর্ঘ্যর সাথে এটির অসামন্জষ্যতা হয়ত  সেই সুবিশাল সময়টার ব্যাপ্তি বোঝার জন্য প্রতিবন্ধকতার কারন হয়েছিল। হয়ত বা এর কারন হতে পারে, ধর্মীয় দীক্ষা, যা আমাদের পিছু টেনে ধরেছিল। অথবা এর কারন হতে পারে, জীবিত অঙ্গ, যেমন চোখের অসাধারন এবং অন্যকিছু ভাবার জন্য নিরুৎসাহিত করার মত যার জটিলতা,যেন এটি কোন এক  মাষ্টার প্রকৌশলীর করা বিশেষ ডিজাইন বা পরিকল্পনার ছলনাময়ী মায়ার নানা চিহ্ন বহন করছে। সম্ভবত এই সব কিছু্‌ই কোন না কোন ভুমিকা পালন করেছে এই সহজ সত্যটাকে আমাদের এত দেরী করে বুঝতে। কিন্তু আর্ণস্ট মেয়ার (Ernst Mayr), নিও-ডারউইনিয়ান সিনথেসিসের বিখ্যাত গ্রান্ড ওল্ড ম্যান, যিনি ২০০৫ সালে ১০০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, বারবার একটি ভিন্ন সন্দেহর কথাই উচ্চারণ করেছিলেন। মায়ারের দৃষ্টিতে মুল অপরাধী প্রাচীন দার্শনিক একটি মতবাদ-যার আধুনিক নাম- এসেন্শিয়ালিজম (Essentialism),বিবর্তনের আবিষ্কারকে আটকে রেখেছিল প্লেটো মৃত হাত ( এটা অবশ্য মায়ার এর বাক্য না, তবে তার ধারনাটিকে এটি প্রকাশ করে)।

প্লেটোর মৃত হাত:

Continue reading


বিবর্তন কি ?


শীর্ষ ছবি: চার্লস রবার্ট ডারউইন (১২ ফেব্রুয়ারী ১৮০৯ -১৯ এপ্রিল ১৮৮২)(ছবি সুত্র: Scientific American, January 2009)

Authors of the highest eminence seem to be fully satisfied with the view that each species has been independently created. To my mind it accords better with what we know of the laws impressed on matter by the Creator, that the production and extinction of the past and present inhabitants of the world should have been due to secondary causes, like those determining the birth and death of the individual. When I view all beings not as special creations, but as the lineal descendants of some few beings which lived long before the first bed of the Silurian system was deposited, they seem to me to become ennobled. Charles Darwin ( On The Origin of Species; Chapter 14: Recapitulation and Conclusion)

A curious aspect of the theory of evolution is that everybody thinks he understands it. Jacques Monod

শুরুর কথা:  মানব সভ্যতার ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে শক্তিশালী আর বৈপ্লবিক ধারনাটির জন্ম দিয়েছিলেন প্রতিভাবান বৃটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন: প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন। জীববিজ্ঞান তো বটেই বিজ্ঞানের নানা শাখায় এর প্রভাব সুদুরপ্রসারী। ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত তার মাষ্টারপিস On the Origin of Species বইটি, পৃথিবী এবং তার মধ্যে আমাদের নিজেদের অবস্থান সম্বন্ধে, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গীটাকে চিরকালের মত বদলে দিয়েছে; খুব সরল এই ধারনার মাধ্যমে, ডারউইন পেরেছিলেন জীবের সকল জটিলতা আর বৈচিত্রের সাধারন একটি ব্যাখ্যা দিতে। গত দেড় শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা তার এই ধারনাটির স্বপক্ষে প্রমান জুগিয়েছে, যা এখনও অব্যাহত আছে। বিবর্তন তত্ত্বের বিরোধীতার কারন কখনোই এর প্রমানের স্বল্পতা নয়, বরং এর সম্বন্ধে অজ্ঞতা। বিজ্ঞান এবং যুক্তির আলোয় কুসংস্কারমুক্ত জীবন উদযাপনের দিন হিসাবে চার্লস ডারউইনের জন্মদিন, ১২ ফেব্রুয়ারীকে বেছে নেয়া হয়েছিল নব্বই দশকের শুরুতে, আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবস হিসাবে। ১২ ফেব্রুয়ারী, বিশ্ব ডারউইন দিবস  ডারউইনের প্রতি সন্মান জানিয়ে আমার এই প্রয়াস। এটি মুলত শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেরি কয়েন  ( Jerry A. Coyne) এর Why Evolution is true  বইটির প্রথম অধ্যায় What is Evolution? এর একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা। ডারউইনের অসাধারন ধারনাটি, বিবর্তন তত্ত্বটির মুলনীতিগুলোই সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এই লেখাটিতে। পুরো বইটি অনুবাদ অবশ্য অব্যাহত থাকবে, সেজন্য যারা আগ্রহী তাদের হয়ত ভবিষ্যতে আবার এই ব্লগে ফিরে আসতে হবে। আসুন আমরা চেষ্টা করি ক্রমশ বাড়তে থাকা অন্ধ কুপমন্ডুকতার ব্যতিক্রম হবার জন্য।

Continue reading


রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমান

অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান


শীর্ষ ছবি কিংবা প্রচ্ছদ : আসমা সুলতানা

প্রথম অধ্যায়: প্রথম পর্ব দ্বিতীয় পর্ব | তৃতীয় পর্বশেষ পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব


ভালোবাসা, নিউরোবায়োলজী কি বলে….

শীর্ষ ছবি: গবেষনায় দেখা গেছে রোমান্টিক ভালোবাসা এবং মায়ের ভালোবাসা ব্রেনের বেশ কিছু একই অংশগুলোকে সক্রিয় করে; নিউরোবায়োলজিষ্টদের ধারনা মানুষের মধ্যে জুটি বাধা বা পেয়ার বন্ডিং সম্ভবত: বিবর্তিত হয়েছে মা এবং তার সন্তানের সম্পর্ক বা ম্যাটেরনাল বন্ডিং এর ব্রেন মেকানিজম বা স্নায়বিক প্রক্রিয়াটিকে সামান্য কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে। (ইলাসট্রেশন:  জি বেকার,  সুত্র: Love: Neuroscience reveals all. Nature. 457(8 January 2009)

There is always some madness in love. But there is always some reason in madness. Friedrich Nietzsche

মুল:  Semir Zeki,The neurobiology of love; Federation of European Biochemical Societies (FEBS) Letters 581 (2007) এবং  Larry J. Young : Love, Neuroscience reveals all. Nature, 457(8): January 2009;  এছাড়া ব্যবহৃত বাড়তি তথ্য সুত্র (ডায়াগ্রাম এবং কিছু বিশ্লেষণ): Andreas Bartels, Semir Zeki: The neural basis of romantic love (NeuroReport:2000;vol 11(17):3829, Andreas Bartels, Semir Zeki: The neural correlates of maternal and romantic love;NeuroImage; 2004(21):1155; Larry J Young, Zuoxin Wang, The neurobiology of pair bonding. Nature Neuroscience (2004): 7(10):1048 ;

ডঃ সেমির জেকি (Semir Zeki) যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডন এর নিউরোএসথেটিকস এর অধ্যাপক এবং ওয়েলকাম কগনিটিভ নিউরোলজী বিভাগের সহপ্রধান।প্রাইমেটদের ভিজুয়াল ব্রেনই মুলত তার গবেষনার বিষয়। কিন্তু তার গবেষনার ক্ষেত্র বিস্তৃত হয়েছে ব্রেনের সেই অংশগুলোকে খুজে বের করা, যারা আমাদের বিবর্তিত শ্রেষ্ঠতম অনুভুতিগুলোর নিউরোবায়োলজিক্যাল ভিত্তি:,যেমন:ভালোবাসা (রোমান্টিক এবং মায়ের);অসংখ্য গবেষনা পত্র ছাড়াও তিনি এ বিষয়গুলো নিয়ে মোট চারটি গ্রন্থের রচয়িতা: Splendours and Miseries of the Brain (2008), A Vision of the Brain (1993), Inner Vision: an exploration of art and the brain (1999); ২০০১ সাল থেকে তিনি সৃজনশীলতা এবং শিল্পকে বোঝার বা অ্যাপ্রিসিয়েট করার নান্দনিকতার স্নায়ুবৈজ্ঞানিক ভিত্তি খোজার গবেষনা শুরু করেন।এই লক্ষ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলেতে তিনি স্থাপন করেন Institute of Neuroesthetics। ডঃ ল্যারী জে.ইয়ং, যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার এমোরী বিশ্ববিদ্যালয়ে Center for Behavioral Neuroscience এর প্রধান এবং Yerkes Primate Center  এর প্রধান গবেষক এছাড়া Emory University School of Medicine  সাইকিয়াট্রি বিভাগের অধ্যাপক।

ভূমিকার আগে: রোমান্টিক ভালোবাসা এবং মায়ের ভালোবাসা নিঃসন্দেহে অসাধারন সুখকর আর রিওয়ার্ডিং একটি অভিজ্ঞতা। এই দুটোই প্রজাতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং সে কারনেই বিবর্তন প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ কিছু  বায়োলজিক্যাল প্রক্রিয়ার সাথে এরা ঘনিষ্টভাবে জড়িত;  অথচ এই আচরনগুলোর স্নায়ুবৈজ্ঞানিক ভিত্তি সম্বন্ধে বিজ্ঞানীদের গবেষনা অপেক্ষাকৃত নবীন। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত কিছু অগ্রগতি, যেমন: fMRI(ফাংশনাল ম্যাগনেটিক রেসোন্যান্স ইমেজিং) এ ক্ষেত্রে গবেষনার একটি নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিয়েছিল ৯০ এর দশকের শুরুতে। নতুন এই ব্রেন ইমেজিং টেকনিকগুলো নিউরোবায়োলজিষ্টদের কোন সাবজেক্টিভ (ব্যাক্তি নির্ভর) অনুভুতির সরাসরি স্নায়বিক পরিবর্তনগুলো শনাক্ত করার সুযোগ তৈরী করে দিয়েছে, যেমন: রোমান্টিক এবং মায়ের ভালোবাসার ক্ষেত্রে। ৯০ দশকের শেষের দিকে ডঃ জেকি ও তার সহযোগীরা আমাদের ব্রেনে রোমান্টিক ভালোবাসার সাথে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলো খোজার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তার গবেষনায়ে যুক্ত হয় সন্তানের প্রতি মার ভালোবাসার নিউরোবায়োলজিক্যাল ভিত্তি । দেখা যায় এই দুই ধরনের গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক আমাদের ব্রেনের কিছু বিশেষ এলাকা স্বতন্ত্র ভাবে সক্রিয় বা অ্যাক্টিভেট করে। আবার ওভারল্যাপিংও হয়, যেমন ব্রেনের কিছু কিছু এলাকা এই দুই ভালোবাসার ক্ষেত্রেই সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যে এলাকা গুলো আমাদের ব্রেনের রিওয়ার্ড মেকানিজমের সাথে জড়িত। এখানে আমাদের ব্রেনের গুরুত্বপুর্ণ  দুটি রাসায়নিক পদার্থ বা নিউরো হরমোন অক্সিটোসিন এবং ভেসোপ্রেসিনের রিসেপ্টরের (রিসেপ্টর হলো কোষের ঝিল্লীতে থাকা একটি অনু, যার সাথে নির্দিষ্ট কোন রাসায়নিক অনু যুক্ত হতে পারে) বাহুল্যও থাকে এখানে। এই গবেষনার আরেকটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার হলো যখন এই দুই ধরনের ভালোবাসা ব্রেনের কিছু অংশকে সক্রিয় করে, এরা তার সাথে ব্রেনের কিছু অংশকেও নিষ্ক্রিয় বা ডি অ্যাক্টিভেট করে: সেই অংশগুলো আমাদের নেতিবাচক আবেগের সাথে জড়িত, এছাড়াও আছে সামাজিক জাজমেন্ট এবং মেন্টালাইজিং ( অর্থাৎ অন্য মানুষদের ইনটেনশন বা উদ্দেশ্য এবং ইমোশন সম্বন্ধে আমাদের নিজেদের মেন্টাল অ্যাসেসমেন্ট) প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রনকারী কিছু অংশ। নিউরোবায়োলজিষ্টরা মনে করেন এই মানুষের সম্পর্ক বা অ্যাটাচমেন্টগুলো সৃষ্টিতে এধরনের একটা পুশ-পুল মেকানিজম কাজ করে, যে নেটওয়ার্কগুলো আমাদের ব্রেনে অন্যমানুষ সম্বন্ধে ক্রিটিক্যাল সামাজিক অ্যাসেসমেন্ট এবং নেগেটিভ ইমোশন সৃষ্টি করে, সেটাকে নিষ্ক্রিয় বা নিয়ন্ত্রনে এনে সামাজিক  দুরত্বকে অতিক্রম করতে সহায়তা করে, যা বিভিন্ন সদস্যদের মধ্যে তৈরী করে বন্ধন ব্রেনের রিওয়ার্ড সার্কিট্রিকে ব্যবহার করে। এই নিউরোবায়োলজিক্যাল প্রক্রিয়াগুলো ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, কাউকে প্রেরণা দেবার ক্ষেত্রে বা তীব্র সুখের অনুভুতি দিতে ভালোবাসার অসীম শক্তিকে।

Continue reading


চোখের বিবর্তন


শীর্ষ ছবি: মানুষের চোখ ( ফটোগ্রাফ : Dan Saelinger/ Eye-Bank For Sight Restoration, NY / ‍Scientific American)

মুল : Trevor D. Lamb এর The Evolution of Eye (Scientific American;, July 2011) অবলম্বনে;  বাড়তি তথ্য সুত্র:  Evolution of the vertebrate eye: opsins, photoreceptors, retina and eye cup: Trevor D. Lamb, Shaun P. Collin and Edward N. Pugh, JrNature Reviews: neuroscience; volume 8, December 2007 এবং The Origin of the Vertebrate Eye. Trevor D. Lamb & Edward N. Pugh Jr. & Shaun P. Collin Jr. Evolution: Education and Outreach (2008)

To suppose that the eye, with all its inimitable contrivances… could have been formed by natural selection, seems, I freely confess, absurd in the highest possible degree… Yet reason tells me, that if numerous gradations from a perfect and complex eye to one very imperfect and simple, each grade being useful to its possessor, can be shown to exist… and if any variation or modification in the organ be ever useful to an animal under changing conditions of life, then the difficulty of believing that a perfect and complex eye could be formed by natural selection, though insuperable by our imagination, can hardly be considered real. Charles Darwin 

 আমার কিছু কথা: মেরুদন্ডী প্রানীদের চোখের মত সুক্ষ ও জটিল একটি অঙ্গ যে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট হয়েছে, সেটা মেনে নেবার ক্ষেত্রে কিছু ধারনাগত যে সমস্যা আছে ডারউইন সেটা স্বীকার করেছিলেন তার যুগান্তকারী  রচনা  On the Origin of Species এ। কিন্তু তাঁর যুক্তি ছিল  চোখের বিবর্তনের নানা পর্যায় বা ধাপগুলো যদি আমরা খূজে পাই ( তাঁর ভাষায় Numerous gradations, আদি চোখ থেকে বর্তমানে তথাকথিত perfect চোখের বিবর্তনে ) এবং যদি পর্যবেক্ষন করতে পারি যে এই সব পর্যায়গুলো ( তাদের নানা মাত্রার পরিবর্তন সহ)  বহনকারী প্রানীদের জীবনধারনের জন্য কোন না কোন ভাবে উপকারে এসেছে ( তাঁর ভাষায় Survival advantage, তা যতই সামান্য হোক না কেন)  এবং বংশানুক্রমে তা বিস্তৃত হয়েছে পরবর্তী প্রজন্মে, তাহলে আপাতদৃষ্টিতে অবোধ্য এই ধারনাগত সমস্যটা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারবো। এ বিষয়ে বহুদিন ধরে কাজ করছেন জীববিজ্ঞানীদের বিভিন্ন গ্রুপ (অষ্ট্রেলিয়ার জীববিজ্ঞানী ডঃ ট্রেভর ডি. ল্যাম্ব এমন একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন); বিজ্ঞানীরা বহুদিন আগেই প্রমান করেছেন মেরুদন্ডী প্রানীদের চোখ আসলে‌ই এরকমই অসংখ্য Numerous gradations বা পরিবর্তনের মাধ্যমেই তার বর্তমান রুপ পেয়েছে। এই সব নানা ধাপের অনেকগুলোর সরাসরি প্রমান পাওয়া যায়নি, জীবাশ্ম রেকর্ড বা তার প্রতিনিধিত্ব করে এমন কোন জীবিত প্রানীর মধ্যে; কিন্তু সেই ধাপ গুলো সুস্পষ্ট প্রমান মিলেছে বিবর্তন জীববিজ্ঞানের নানা শাখায়, বিশেষ করে গত দশকে, যখন Evolutionary Development Biology (বা Evo Devo) র ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। এবং আরো সুনির্দিষ্ট প্রমান সংগ্রহের  লক্ষ্যে অব্যাহত আছে গবেষনা ।  ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গ্রুপের পাওয়া নানা তথ্য একসাথে করে ডঃ ট্রেভর ল্যাম্ব বেশ কয়েকটি রিভিউ লিখেছেন (তথ্যসুত্রে উল্লেখ করা হয়েছে এমন কয়েকটি পেপারের), নীচের এই লেখাটি তিনি তার সেই বৈজ্ঞানিক রিভিউগুলোকে একটু সহজবোধ্য করে সবার জন্য লিখেছিলেন Scientific American এর এ বছরের জুলাই সংখ্যায়। আমি সেটাকেই চেষ্টা করেছি ভাবানুবাদ করতে। ডায়াগ্রাম এবং বেশ কিছু তথ্য আমি অবশ্য সরাসরি তার অন্য রিভিউগুলো থেকে সংগ্রহ করেছি। ট্রেভর ল্যাম্ব এর রিভিউ ছাড়াও বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক রিভিউ আছে; যেহেতু ‍তাদের মুল কথা একই,শুধুমাত্র গবেষনার দৃষ্টিকোন থেকে গুরুত্বপুর্ণ আর গবেষক ছাড়া আমাদের অনেকের জন্য তা অপ্রয়োজনীয়, সেকারনে আমি শুধুমাত্র ট্রেভর ল্যাম্বকে অনুসরণ করেছি এখানে।

Continue reading


ডারউইনের কিছু ভবিষ্যদ্বানী

A mind that is stretched by a new experience can never go back to its old dimensions. Oliver Wendell Holmes


শীর্ষ ছবি : ১৮৫৫ সালে চার্লস রবার্ট ডারউইন (১২ ফেব্রুয়ারী ১৮০৯ -১৯ এপ্রিল ১৮৮২) ( উইকিমিডিয়া)

(লেখকের কথা: পিটার টাইসন এর Darwin’s predictions অবলম্বনে লেখা)

ভুমিকা:

তাঁর সময়ের তুলনায় চার্লস ডারউইন অনেক এগিয়ে ছিলেন, শুধুমাত্র এই কথাটা বললে তাঁর প্রতি খুব একটা সুবিচার করা হবে না। বিবর্তনবাদের এই জনকের অনেক অনুমানই ১৮৮২ সালে তার মৃত্যুর অনেক বছর পর এবং কোন কোন ক্ষেত্রে  সম্প্রতি, প্রমানিত হয়েছে আর বিজ্ঞানীরা তাঁর ধারনাগুলোর স্বপক্ষে খুজে  পেয়েছেন পর্যাপ্ত পরিমান সব স্বাক্ষ্যপ্রমান। বর্তমানে প্রাপ্ত সকল প্রমান – যা সুষ্পষ্টভাবে তার প্রস্তাবিত প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন প্রক্রিয়া এবং তাঁর আরো কিছু অনুমানকেই সমর্থন করে – এসেছে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা থেকে, যেমন জীবাশ্মবিদ্যা,ভুতত্ত্ব, জৈবরসায়ন, জীনতত্ত্ব, অনুজীববিজ্ঞান এবং অতি সম্প্রতি ইভোলুশনারী ডেভোলপমেন্টাল বায়োলজী বা ‘ইভো ডেভো’, ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী কেনেথ মিলার’এর মতে ‘আমরা কোথা থেকে এসেছি এই প্রশ্নের একটি সাধারন উত্তর দেবার জন্য এতোগুলো ক্ষেত্র থেকে আসা প্রমানগুলো যে একটি সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারছে, এই বিষয়টাইতো অত্যন্ত শক্তিশালী। একারনেই বিবর্তন তত্ত্বের স্বপক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমানের পরিমান অনেক বেশী।’

Continue reading


আমাদের এই প্রাচীন শরীর


শীর্ষ ছবি: Tiktaalik rosae র ফসিলের একাংশ হাতে ড: নীল এইচ শুবিন, প্রায় ৩৭৫ মিলিয়ন বছর আগের এই প্রজাতিটি মাছ এবং স্হলচর প্রানীদের বিবর্তনের মধ্যবর্তী শুন্যস্হানটি পুরন করেছে। (http://www-news.uchicago.edu/releases/06/images/060406.tiktaalik-2-200.jpg)

The best road maps to human bodies lie in the bodies of other animals. The simplest way to teach students the nerves in the human head is to show them the state of affairs in sharks. The easiest road map to their limbs lies in fish. Reptiles are a real help with the structure of the brain. The reason is that the bodies of these creatures are often simpler versions of ours. Neil H. Shubin (in the preface of his book Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body )

লেখকের কথা: ফিল্ডস মিউজিয়ামের একাডেমিক অ্যাফেয়ার প্রভোষ্ট নীল এইচ শুবিন (Neil H. Shubin) একজন প্রখ্যাত জীবাশ্মবিদ। বর্তমানে তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রবার্ট আর, বেন্সলে অধ্যাপক এবং ওরগানিজম্যাল ও বিবর্তন জীববিজ্ঞান ফ্যাকাল্টির অ্যাসোসিয়েট ডীন । তিনি এমন কিছু জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন, যা বিবর্তনের গুরুত্বপুর্ন কয়েকটি ক্রান্তিকালীন সময় যেমন: সরীসৃপ থেকে স্তন্যপায়ী, জলজ থেকে স্থলচর প্রানী’র ‍বিবর্তন সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞানের পরিধিকে অনেকদুর এগিয়ে নিয়ে গেছে। এই আবিষ্কারগুলো গ্রীনল্যান্ড থেকে মরোক্কো পর্যন্ত্য জীবাশ্ম সন্ধানের লক্ষ্যে তাঁর বেশ কিছু অভিযানের ফসল। ২০০৬ সালে শুবিন এবং তার সহযোগীরা নেচার (Nature) জার্ণালে টিকটালিক -এর (মাছ আর উভচর প্রানীদের মধ্যবর্তী একটি প্রাণী) জীবাশ্ম আবিষ্কারের বিষয়ে প্রথম তথ্য প্রকাশ করেন। বর্তমান এই লেখাটি জানুয়ারী ২০০৯ এ দি সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকান পত্রিকায় প্রকাশিত তার This old body এবং নোভা/ পিবিএস এর ওয়েবসাইট জন্য তার সম্পাদিত একটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ স্লাইড শো, The zoo of you অবলম্বনে লেখার চেষ্টা করেছি আমি। ( ইন্টারঅ্যাক্টিভ স্লাইডগুলোর জন্য শুবিন তাঁর নিজের Your Inner Fish: A Journey Into the 3.5-Billion-Year History of the Human Body বইটি ব্যবহার করেছেন আর মুল স্লাইডগুলো ইলাস্ট্রেশন করেছেন কাল্লিওপি মনোইয়োস।)

Continue reading


বিবর্তন জীববিজ্ঞানে দশটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি


(লেখকের  কথা : কার্ল জিমার ( Carl Zimmer) এর “Ten great advances of evolution” অবলম্বনে )

ডারউইনের যুগান্তকারী ‘অরিজিন অব স্পিসিস’ প্রকাশনার ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে এখানে বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানে গত কয়েক দশকের উল্লেখযোগ্য কিছু অগ্রগতির একটি তালিকার উল্লেখ করা হলো -অবশ্যই তালিকাটি কোনভাবেই সম্পুর্ন নয় । এই অগ্রগতির তালিকায় শুধুমাত্র কোন বিশেষ ধরনের প্রজাতির উদ্ভব সম্বন্ধে আমাদের বোঝার ক্ষেত্রে কোন ইতিবাচক পরিবর্তনের কারনই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, এই তালিকায় অর্ন্তভুক্ত আছে মুল বিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্বন্ধে আমাদের অর্ন্তদৃষ্টির কিছু মৌলিক অগ্রগতি। কোন কোন ক্ষেত্রে এইসব অর্ন্তদৃষ্টিগুলো ডারউইনকেই বিস্ময়ের আনন্দময় ধাক্কা দিতে পারতো।


ছবি ১: কার্ল জিমারের মতে গত দশকের বিবর্তন গবেষনায় ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি (ফটো ক্রেডিট: আর্থ (নাসা); টেক্সট (ডাবলিউ জি বি এইচ এডুকেশন ফাউন্ডেশন)

Continue reading


Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 32 other followers