Tag Archives: বিজ্ঞানের ইতিহাস

লরেন্স ক্রাউস এর এ ইউনিভার্স ফ্রম নাথিং : প্রথম অধ্যায়


শীর্ষ ছবি: অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সী (M31); আমাদের মিল্কী ওয়ে গ্যালাক্সীর কাছে অবস্থিত সবচেয়ে মেজর গ্যালাক্সী। মিল্কী ওয়ের মতই এটি একটি স্পাইরাল গ্যালাক্সী, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ২.৬ মিলিয়ন আলোক বর্ষ দুরে অবস্থিত। (ছবিসুত্র)

One of the most poetic facts I know about the universe is that essentially every atom in your body was once inside a star that exploded. Moreover, the atoms in your left hand probably came from a different star than did those in your right. We are all, literally, star children, and our bodies made of stardust. Lawrence Krauss

ভুমিকা: লেখাটি কানাডীয় আমেরিকান তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানী লরেন্স ক্রাউস (Lawrence Krauss) এর A Universe from Nothing: Why There is Something Rather Than Nothing এর প্রথম অধ্যায় A Cosmic Mystery Story: Beginnings এর অনুবাদ প্রচেষ্টা। বর্তমানে তিনি অ্যারিজোনা স্টেট  ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক এবং Origins Project এর পরিচালক। 

_____________________________

এ ইউনিভার্স ফ্রম নাথিং:প্রথম অধ্যায় (একটি মহাজাগতিক রহস্য কাহিনী: সুচনালগ্ন)

যাত্রা শুরুর সাথে প্রথম যে রহস্যটি যুক্ত থাকে, তা হলো: যাত্রা শুরুর সেই বিন্দুতে ভ্রমনকারী প্রথমে কেমন করে পৌছে ছিলেন। (লুই বোগান, জার্নি অ্যারাউন্ড মাই রুম)

সেই রাত ছিল অন্ধকার আর ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ।

______

১৯১৬ সালের শুরু দিকে; আলবার্ট আইনস্টাইন তার জীবনের সেরা কাজটি কেবল শেষ করেছেন, নতুন একটি থিওরী অব গ্র্যাভিটি বা মধ্যাকর্ষন তত্ত্বর ধারনাতে পৌছানোর জন্য তার এক দশকের সুতীব্র বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের ফসল, যার নাম দিয়েছিলেন, জেনারেল থিওরী অব রিলেটিভিটি বা আপেক্ষিকতার সাধারন তত্ত্ব। অবশ্য এটি শুধুমাত্র একটি নতুন থিওরী অব গ্র্যাভিটি বা মধ্যাকর্ষন তত্ত্বই ছিল না, এছাড়া এটি ছিল মহাশুন্য এবং সময়ের বা টাইম এবং স্পেস এরও একটি নতুন তত্ত্ব। এবং এটাই ছিল প্রথম কোন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব, যা, মহাবিশ্বে একটি বস্তু কেমন করে তার অবস্থান পরিবর্তন করছে, সেটাকেই শুধুমাত্র ব্যাখ্যা করেনি, এই মহাবিশ্ব কেমন করে বিবর্তিত হতে পারে তারও একটি ব্যাখ্যা দিয়েছিল।

তবে, সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে শুধু ছোট একটা সমস্যা ছিল। যখন প্রথম আইনস্টাইন পুরো মহাবিশ্বকে সার্বিকভাবে ব্যাখ্যা করতে তার তত্ত্বটিকে প্রয়োগ করতে শুরু করেছিলেন, তখন একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, তত্ত্বটি সেই সময়ের ধারনায় আপাতদৃষ্টিতে যে মহাবিশ্বে আমরা বাস করছি, সেটি ব্যাখ্যা করতে পারছে না।

বর্তমানে, প্রায় একশ বছর পর, কারো পক্ষে সম্পুর্নভাবে মুল্যায়ণ করা কিন্তু খুবই কষ্টসাধ্য, একটি মানুষের জীবনকালের সংক্ষিপ্ত ব্যপ্তিতে, এই মহাবিশ্ব সম্বন্ধে আমাদের ধারনা কি সুবিশাল পরিমানে পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯১৭ সালের বৈজ্ঞানিক সমাজের ধারনায় এই মহাবিশ্ব ছিল স্থির এবং চিরন্তন অপরিবর্তনশীল, যা তৈরী করেছে শুধুমাত্র একটি ছায়াপথ বা গ্যালাক্সী, আমাদের মিল্কি ওয়ে; যাকে ঘিরে আছে সুবিশাল, অসীম, অন্ধকার এবং সম্পুর্ন মহাশুন্যতা। কারন এটুকুই কেবল, আপনি অনুমান করতে পারবেন খালি চোখে বা কোন ছোট টেলিস্কোপ ব্যবহার করে আকাশের দিকে তাকিয়ে এবং সেই সময় এছাড়া অন্য কিছু সন্দেহ করার অবকাশও ছিল কম।
Continue reading


ইউজেন দুবোয়া এবং জাভা ম্যান


শীর্ষ ছবি: ১৯০২ সালে মারি ইউজেন ফ্রাসোয়াঁ থমাস দুবোয়া ( ২৮ জানুয়ারী ১৮৫৮ – ১৬ ডিসেম্বর ১৯৪০) | ছবিসুত্র

No discovery was ever made without a bold guess. Isaac Newton

We live by admiration, love and hope. Wordsworth
(সেপ্টেম্বর ১৮৯৩ সালে শুরু করা দুবোয়ার ব্যবহৃত ফিল্ড নোটবুকের উপরে লেখা ছিল ওয়ার্ডসওয়ার্থের এই পংক্তিটি) 

Where, then, must we look for primaeval Man? ……. In still older strata do the fossilized bones of an ape more anthropoid, or a Man more pithecoid, than any yet known await the researches of some unborn paleontologist?  Thomas Henry HuxleyOn some Fossil Remains of Man’ (1863). 

The question of questions for manking-the problem which underlies all other, and more deeply interested than any others is the ascertainment of place with man occupies in nature and his relations to univers of things.  Thomas Henry Huxley ( Evidence as to Man’s place in nature, 1863)

আমার কিছু কথা: পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন মানব জীবাশ্মটি আবিষ্কার করেছিলেন ডাচ চিকিৎসক ই্উজেন দুবোয়া;মানব বিবর্তনের ধারাবাহিতায় তার আবিষ্কৃত সেই জাভা ম্যান আজ পরিচিত Homo erectus প্রজাতি হিসাবে।  দুবোয়াই প্রথম বিজ্ঞানী যিনি শুধুমাত্র এই জীবাশ্মটির সন্ধানে তার নিরাপদ জীবন ছেড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সুদুর ডাচ ইষ্ট ইন্ডিজে, প্রায় অসম্ভব একটা অভিযানে। উদ্দেশ্য ছিল তিনি ডারউইনের মিসিং লিঙ্ক্ খুজে বের করবেন, যা প্রমান করবে মানুষ এবং এইপদের মধ্যবর্তী একটা ট্রানজিশন্যাল অবস্থাকে। বলাবাহুল্য তিনি তার বাজীতে জিতেছিলেন, কিন্তু বিনিময়ে তাকে হারাতে হয়েছে অনেক কিছুই। সব ত্যাগের বিনিময়ে যখন তিনি ইউরোপ পৌছালেন, প্রশংসা আর সন্মানের বদলে তার ভাগ্যে জুটেছিল সন্দেহ, বিতর্ক আর সমালোচনা। উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে তার এই অসাধারন আবিষ্কারের জন্য আসলে প্রস্তুত ছিল না কেউই, বিস্মিত এবং হতবাক সংখ্যাগরিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক সমাজ তাই এর বীপরিত অবস্থানই বেছে নিয়েছিল নিরাপদ মনে করে। তার জীবাশ্ম অ্যানালাইসিসের টেকনিক, যা কিনা আজ প্রতিষ্ঠিত, তখন কারো জানাই ছিলনা। তার উপসংহার এতো বেশী সুস্পষ্ট ছিল, সন্দেহপ্রবন বিজ্ঞানবিশ্ব তা সহজে গ্রহন করতে পারেনি। দুবোয়াও অবশ্য হাল ছাড়েননি। দেশের মাটিতে পা দিয়ে প্রায় মৃত্যু পর্যন্ত  যুদ্ধ করে গেছেন তার জীবাশ্মর গুরুত্বটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে। তাকে এই সংগ্রামের মুল্য দিতে হয়েছে অনেক, তার স্ত্রী, সন্তানের ভালোবাসা, তার বন্ধুদের বিশ্বাস, সহকর্মীদের শ্রদ্ধা। তিনি মারা যান একাকী, অনেক তিক্ততা আর কাউকে না বোঝাতে পারার যন্ত্রনা নিয়ে। দুবোয়াই শুরু করেছিলেন মানুষের বিবর্তন আর উৎপত্তির সন্ধানে আমাদের দীর্ঘ যাত্রাটি, যা আজ অকল্পনীয়ভাবে সমৃদ্ধ বিজ্ঞানের নানা শাখার ইন্টারঅ্যাকশনে। ১৯৬০ এর দশক শুরু হবার আগেই দুবোয়া অবদান সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে আর কোন সন্দেহ ছাড়াই। নতুন প্রজন্মর প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজিষ্টরা জানেন দুবোয়া ছিলেন তাদের অগ্রপথিক। তাঁকে স্মরণ করে আমার এই লেখাটির মুল সুত্র ইউজেন দুবোয়ার নাটকীয় জীবন নিয়ে প্যাট শিপম্যানের অসাধারন জীবনীগাথা The man who found the missing link: Eugene Dubois and his lifelong quest to prove Darwin right এবং শন বি ক্যারলের  Remarkable creatures: Epic adventures in search for the origins of species, এছাড়া ইন্টারনেট তো বটেই।

Continue reading


রবার্ট কখ এর ব্যাসিলাই

 


শীর্ষ ছবি: হাইনরিশ হেরমান রবার্ট কখ ( ১১ ডিসেম্বর, ১৮৪৩ – ২৭ মে, ১৯১০) | ছবি সুত্র

If my efforts have led to greater success than usual, this is due, I believe, to the fact that during my wanderings in the field of medicine, I have strayed onto paths where the gold was still lying by the wayside. It takes a little luck to be able to distinguish gold from dross, but that is all.  Robert Koch (1908)

Continue reading


লাভোরাঁ’র হিমঅ্যামিবোমা


শীর্ষছবি: আমাদের রক্তের লোহিত রক্ত কনিকার (লাল) মধ্যে ম্যালেরিয়ার পরজীবি Plasmodium falciparum (হাই পাওয়ার ম্যাগনিফিকেশনে); যে ছয়টি ম্যালেরিয়ার পরজীবি মানুষের ম্যালারিয়ার কারন তার মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়ানক।  লোহিত রক্ত কনিকার মধ্যে ঢুকে এরা হিমোগ্লোবিনকে খাদ্য হিসাবে গ্রহন করে এবং বংশবৃদ্ধি করে।একসময় কোয়ের পর্দা ছিড়ে বের হয়ে আসে অন্য লোহিত রক্ত কনিকাকে আক্রমন করতে। (ছবি: Lennart Nilsson/ National Geographics)

“…With tears and toiling breath,
I find thy cunning seeds,
O million-murdering Death.”
(fragment of poem by Ronald Ross, written in August 1897, following his discovery of malaria parasites in anopheline mosquitoes fed on malaria-infected patients)

 His writings are a model of clarity and completeness: every sentence is precise and unambiguous. His manner was like his writing – to the point, exact and decisive. He was regarded with affection and admiration by all who came into contact with him. Ronald Ross  in Laveran’s obituary (1923).

আমার কিছু কথা: যারা বিজ্ঞানের ইতিহাস ভালোবাসেন, তারা হয়তো আমার মতই কোন কিছুর সম্বন্ধে পড়তে গেলে, তার ইতিহাসটা জানতে তীব্র একটা আগ্রহ বোধ করেন। ম্যালেরিয়ার রোগের কারন যে পরজীবি, সেটির সম্বন্ধে আমি প্রথম পড়ি মেডিকেল কলেজে তৃতীয় বর্ষে, এরপর যখন চিকিৎসা অনুজীব বিজ্ঞানে পড়েছি তখন আরো একবার। সহস্র বছর ধরে মানুষের পরিচিত এই রোগটির জীবানু যিনি খুজে পেয়েছিলেন তার সম্বন্ধে জানার একটা বাড়তি কৌতুহল ছিল। ছাত্র ছাত্রীদের মাইক্রোবায়োলজী টিউটোরিয়ালে বিশেষ করে ম্যালেরিয়ার পরীক্ষা নেবার সময় আমি মাঝে মাঝেই জানতে চাইতাম, তারা কি জানে ম্যালেরিয়ার এই পরজীবিটাকে কে প্রথম খুজে পেয়েছিলেন; অবশ্য এই প্রশ্নের উত্তর তাদের না জানলেও কোন ক্ষতি নেই; আমার ব্যক্তিগত ইন্টারেষ্ট থেকেই শুধু বলতাম। তবে ম্যালেরিয়ার একটা আবিষ্কার মোটামুটি সবারই পরিচিত, সেটা হলো স্যার রোনাল্ড রস এর, যিনি ম্যালেরিয়ার জীবানুর বিস্তারের সাথে মশার সম্পর্কটি খুজে বের করেছিলেন। কিন্তু রসের আবিষ্কারের প্রায় দুই দশক আগেই কিন্তু এই পরজীবি প্রোটোজোয়াটা আবিষ্কার করেছিলেন ফরাসী চিকিৎসক শার্লে লুই আলফোঁস লাভোরাঁ, আর এই আবিষ্কারের সাথেই প্যারাসাইটোলোজীর একটা বড় অংশ প্রোটোজুয়োলজীর বিশাল ক্ষেত্রটি উন্মোচিত হয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে এত বড় আবিষ্কার করার পরও, তাকে এটি প্রতিষ্ঠিত করতে সংগ্রাম করতে হয়েছে বহুদিন, এমনকি নিজের দেয়া প্রথম নামটাও প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি নানা কারনে। ধীরে ধীরে স্বীকৃতি পেলেও বহুদিন  ছিলেন গবেষনা থেকে দুরে। অভিমান করে সামরিক বাহিনীর চাকরী ছাড়ার পর পরই, সেই প্রথম আবিষ্কারের প্রায় ২৭ বছর পর মনের মত করে স্বাধীনভাবে গবেষনা করার সুযোগ পেয়েছিলেন, সেই সময়টাতে তিনি আরো কিছু পরজীবি প্রোটোজোয়া নিয়ে অসাধারন কিছু কাজ করেন। তার কাজের সুফল আমরা এখনো পাচ্ছি। ব্যক্তিজীবনে ভীষন নীতিবান এই দেশপ্রেমী মানুষটি নোবেল পুরষ্কারের প্রায় পুরো টাকা খরচ করেছিলেন পাস্তুর ইনস্টিটিউটের একটি ট্রপিক্যাল মেডিসিনের ল্যাবরেটরী বানাতে।  নীচের লেখাটায় আমি ম্যালেরিয়ার  ইতিহাসের কিছু মাইলস্টোনও ছোবার চেষ্টা করেছি আলাফোঁস লাভোরাঁর জীবনের প্রেক্ষাপটে।

Continue reading


রঙ্গীন ফটোগ্রাফীর ১৫০ বছর:

শীর্ষ ছবি: ১৯১৫ সালের আশেপাশে অটোক্রোমে তোলা ওয়াটার লিলির ফটোগ্রাফ। (সুত্র: Water lilly. Autochrome, circa 1915. ©George Eastman House / Joseph Anderson / The Image Works, http://theimageworks.info/pub/autochrome/ gallery/images/prevs/prev30.jpg)

প্রথম ক্লিক !!: ইমেজ সেন্সর আর বেয়ার ফিল্টারের আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে ডিজিট্যাল ফটোগ্রাফির জন্ম হয় ৮০’র দশকে। ডিজিট্যাল ক্যামেরার উপস্থিতি এখন সর্বত্র। কিন্তু ছবি তোলার এই সহজ উপায়টি আসার আগে, কোন একটি মুহুর্তকে ফটোগ্রাফে বন্দী করে রাখার জন্য আমাদের প্রচেষ্টার ইতিহাস কিন্তু প্রায় দেডশ বছরেরও বেশী। সেই ইতিহাসের কিছু মাইলস্টোন নিয়ে লেখার চেষ্টা করেছি নিচে। শেষ মাইলস্টোনটি জর্জ ইষ্টম্যানের রোলড ফিল্ম আর পোর্টেবল কোডাক ক্যামেরা। ১৮৫৪ সালে ১২ জুলাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক এর ওয়াটারভিলে জন্ম গ্রহন করেন। জীবনের সব প্রতিকুলতাকে জয় করে তিনি একজন আবিষ্কারক ও সফল ব্যবসায়ী হতে পেরেছিলেন।  আমি আমার এই সামান্য লেখাটি  ফটোগ্রাফির সেই অগ্রদুত,আবিষ্কারক এবং ফিলানথ্রপিষ্ট জর্জ ইষ্টম্যান এর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করছি :

ভূমিকা:

১৮৬১ সালে রয়্যাল ইনস্টিটিউশনের একটি লেকচারের সময় স্কটিশ পদার্থবিদ জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল তিনটি প্রধান রঙ্গের সন্নিবেশ আর বিভাজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রঙ্গীন ছবি তোলার জন্য তার তত্ত্বটি আবিষ্কারের ঘোষনা দেন। সেই সময় থেকেই যে মুলনীতি পরবর্তীকালে প্রায় সব ধরনের ফটোকেমিক্যাল আর ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে রঙ্গীন ছবি তোলার মুল ভিত্তিতে পরিনত হয়। এই আবিষ্কারের ১৫০ বছর পুর্তিতে গত ২৭ শে মে নিউ সায়েন্টিষ্ট পত্রিকা তাদের ওয়েবসাইটে যে সব অসাধারন বিজ্ঞানী আর গবেষকদের প্রচেষ্টার কারনে রঙ্গিন ফটোগ্রাফী সম্ভব হয়েছে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি স্লাইড শো প্রকাশ করে। আমার লেখাটি সেই স্লাইডগুলো বেশ খানিকটা পরিবর্ধন আরো তথ্য সন্নিবিষ্ট করে।

আসুন রঙ্গীন ফটোগ্রাফের সেই ইতিহাসের কিছু মাইল ফলক ছুয়ে আসি।

Continue reading


আইনস্টাইনের E=mc² সমীকরনের পূর্বসুরীরা

শীর্ষ ছবি: পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত সমীকরনটি,  ১৯১২ সালে আইনস্টাইনের লেখা Special Relativity Theory ’র পান্ডুলিপিতে একটু ভিন্ন ভাবে। ছবি: Einstein Archives, Hebrew University of Jerusalem/ (নোভা/পিবিএস)।

প্রাককথন: ডেভিড বোডানিসে’র (David Bodanis) E=mc²  : A Biography of the World’s Most Famous Equation.” এর কিছু অংশ বিশেষ নিয়ে নোভা অনলাইন  প্রকাশ করেছিল একটি প্রবন্ধ The Ancestors of E=mc² ,আমার নীচের এই লেখাটি, কিছুটা পরিবর্ধন করে সেই লেখাটি অবলম্বনে। লেখাটি মুলত: বিজ্ঞানের ইতিহাসের। আইনস্টাইনের যুগান্তকারী সমীকরনটির আলাদা ইতিহাস বা  বিশ্লেষন নয়। ইতিহাসবিদ ডেভিড বোডানিস তার E=mc² : A Biography of the World’s Most Famous Equation” বইটিতে মুলত: বিবরণ দিয়েছেন, সেই সব যুগান্তকারী আর বৈপ্লবিক চিন্তার বিজ্ঞানীদের অবদানগুলো সম্বন্ধ। তা‍‍দের গবেষনা,পরীক্ষালব্ধ ফলাফল আইনস্টাইনের ভর, শক্তি আর আলো সম্বন্ধে ধারনাকে আকৃতি দিয়ে তার অসাধারন আবিষ্কারের পথটাকে উন্মুক্ত করেছিল।


 আলবার্ট আইনস্টাইন (১৮৭৯-১৯৫৫)। ১৯০৪ সালে সুইজারল্যান্ডের বার্ণ এ, যখন তিনি ছিলেন প্যাটেন্ট অফিসে একজন অখ্যাত ক্লার্ক। এর কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি বিশেষ আপেক্ষিকতাবাদের তত্ত্বটি প্রকাশ করেন আর কয়েক সপ্তাহ পর বিখ্যাত তার সমীকরণটি E=mc² (ফটো: Einstein Archives, Hebrew University of Jerusalem, নোভা/পিবিএস)।

Continue reading


ডারউইনের কিছু ভবিষ্যদ্বানী

A mind that is stretched by a new experience can never go back to its old dimensions. Oliver Wendell Holmes


শীর্ষ ছবি : ১৮৫৫ সালে চার্লস রবার্ট ডারউইন (১২ ফেব্রুয়ারী ১৮০৯ -১৯ এপ্রিল ১৮৮২) ( উইকিমিডিয়া)

(লেখকের কথা: পিটার টাইসন এর Darwin’s predictions অবলম্বনে লেখা)

ভুমিকা:

তাঁর সময়ের তুলনায় চার্লস ডারউইন অনেক এগিয়ে ছিলেন, শুধুমাত্র এই কথাটা বললে তাঁর প্রতি খুব একটা সুবিচার করা হবে না। বিবর্তনবাদের এই জনকের অনেক অনুমানই ১৮৮২ সালে তার মৃত্যুর অনেক বছর পর এবং কোন কোন ক্ষেত্রে  সম্প্রতি, প্রমানিত হয়েছে আর বিজ্ঞানীরা তাঁর ধারনাগুলোর স্বপক্ষে খুজে  পেয়েছেন পর্যাপ্ত পরিমান সব স্বাক্ষ্যপ্রমান। বর্তমানে প্রাপ্ত সকল প্রমান – যা সুষ্পষ্টভাবে তার প্রস্তাবিত প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন প্রক্রিয়া এবং তাঁর আরো কিছু অনুমানকেই সমর্থন করে – এসেছে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা থেকে, যেমন জীবাশ্মবিদ্যা,ভুতত্ত্ব, জৈবরসায়ন, জীনতত্ত্ব, অনুজীববিজ্ঞান এবং অতি সম্প্রতি ইভোলুশনারী ডেভোলপমেন্টাল বায়োলজী বা ‘ইভো ডেভো’, ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী কেনেথ মিলার’এর মতে ‘আমরা কোথা থেকে এসেছি এই প্রশ্নের একটি সাধারন উত্তর দেবার জন্য এতোগুলো ক্ষেত্র থেকে আসা প্রমানগুলো যে একটি সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারছে, এই বিষয়টাইতো অত্যন্ত শক্তিশালী। একারনেই বিবর্তন তত্ত্বের স্বপক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমানের পরিমান অনেক বেশী।’

Continue reading


মহান মনিষীরা একই ভাবে চিন্তা করেন: কেমন করে ‍আলফ্রেড ওয়ালেস ডারউইনের মত একই রকম বৈপ্লবিক অন্তদৃষ্টি অনুভব করেছিলেন।


শীর্ষ ছবি: রয়্যাল সোসাইটির ৩৫০ তম বার্ষির্কীতে প্রকাশিত একটি স্ট্যাম্পে আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস।(সুত্র:  রয়াল সোসাইটির ওয়েব পেজ)

‘All truth is easy to understand once they are discovered; the point is to discover them.’ Galileo Galilei 

( ৮ জানুয়ারী আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে লেখাটি রি পোষ্ট করলাম। ব্লগ জগতে ঢোকার পর এটা আমার প্রথম লেখা ছিল)

লেখকের নোট:  মুলতঃ শন বি ক্যারল (Sean B Carroll) এর Great Minds Think Alike: How Alfred Wallace came to share Darwin’s revolutionary insights অবলম্বনে এটি লেখা । লেখাটির একটি সম্পাদিত ভার্সন,২০১১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী মুক্তমনা ব্লগে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এই ভার্সনটি আরেকটু পরিবর্ধিত করা হয়েছে শন বি ক্যারল এর Remarkable Creatures: Epic Adventures In The Search For The Origins of Species এর তৃতীয় অধ্যায় Drawing the lines between Monkeys and Kangaroos অবলম্বনে।

সমান্তরাল পথে:

গত দুইশত বছরে, সাধারন আর বিশেষায়িত,দুই ধরনের প্রানীর প্রজাতির উৎপত্তির কারন অনুসন্ধান অনুপ্রাণিত করেছে অনেকগুলো অসাধারন অভিযান। পুরো ২০০৯ সাল জুড়ে, চার্লস ডারউইনের দুইশততম জন্মবার্ষিকীতে,সারা পৃথিবী শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে আমাদের সবচেয়ে মহান প্রকৃতিবিজ্ঞানী আর সুদূরপ্রসারী এক বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের নেতার অবদান।

ডারউইনের বিখ্যাত সমুদ্রযাত্রা আর তার গবেষনা অতি সুপরিচিত, আর তা অত্যন্ত সঙ্গত কারনে। পরিচিত হওয়াটাই উচিৎ।কিন্তু বিবর্তন তত্ত্বের সূচনা, শুরুর দিকে এর ক্রমবিকাশ আর গ্রহনযোগ্যতার জন্য আমরা কিন্তু আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস এর কাছেও অনেকাংশে ঋণী। আরো অনেকবেশী কঠিন ‍অবস্থার মধ্য দিয়ে যিনি দুটি সুদীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা করেছিলেন এবং স্বতন্ত্রভাবে প্রজাতির উৎপত্তি সম্বন্ধে ডারউইনের মত একই ধরনের ‍উপসংহারে পৌছে ছিলেন।

Continue reading


Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 32 other followers