Tag Archives: চার্লস ডারউইন

কুকুর, গরু এবং বাধাকপি


শীর্ষ ছবি: চিহুয়াহুয়া (Chihuahua) এবং গ্রেট ডেন (Great Dane): দুজনেই চামড়ার নীচে আসলে নেকড়ে। মাত্র কয়েক শতাব্দীর কৃত্রিম নির্বাচন বা সিলেকটিভ ব্রীডিং এর ফলে সৃষ্ট এই দুই জাতের কুকুরের ব্যাহ্যিক চেহারা দেখে তা কি অনুমান করা সম্ভব?

ভুমিকা: লেখাটি  রিচার্ড ডকিন্স ( Richard Dawkins) এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ  (The Greatest Show on Earth: The evidence for Evolution) এর দ্বিতীয় অধ্যায় Dogs, Cows and Cabbages র একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা।
_____________________________________ 

দ্বিতীয় অধ্যায়: কুকুর, গরু এবং বাধাকপি

একজন ডারউইনের কেন এই দৃশ্যে উপস্থিত হতে এত দীর্ঘ সময় লেগেছিল? আসলেই কি প্রলম্বিত করেছিল মানবজাতির বিবর্তনের এ‌ই সুস্পষ্ট সহজবোধ্য ধারনাটিতে পৌছাতে ; যে ধারনাটি দৃশ্যতই মনে হয় যে এর প্রায় দুই শতাব্দী আগে আমাদেরকে উপহার দেয়া নিউটনের গানিতীক ধারনাটির বা এমনকি দুই হাজার বছর আগে আর্কিমিডিসের এর ধারনাটির চেয়েও অনেক বেশী সহজবোধ্য-? এই প্রশ্নের জবাব হিসাবে বেশ কিছু উত্তরও প্রস্তাব করা হয়েছে ইতিমধ্যে। যে অকল্পনীয় পরিমান সময়ের প্রয়োজন এই বিশাল পরিবর্তনের জন্য সেটা অনুভব করে হয়ত আমাদের মন সচেতনভাবেই শঙ্কা বোধ করেছে কিংবা আমরা আজ যাকে ভুতাত্ত্বিক গভীর সময় বা জিওলজিকাল ডিপ টাইম বলছি এবং যে ব্যক্তিটি সেই সময়টা বুঝতে চাইছেন, তার জীবনকালের দৈর্ঘ্যর সাথে এটির অসামন্জষ্যতা হয়ত  সেই সুবিশাল সময়টার ব্যাপ্তি বোঝার জন্য প্রতিবন্ধকতার কারন হয়েছিল। হয়ত বা এর কারন হতে পারে, ধর্মীয় দীক্ষা, যা আমাদের পিছু টেনে ধরেছিল। অথবা এর কারন হতে পারে, জীবিত অঙ্গ, যেমন চোখের অসাধারন এবং অন্যকিছু ভাবার জন্য নিরুৎসাহিত করার মত যার জটিলতা,যেন এটি কোন এক  মাষ্টার প্রকৌশলীর করা বিশেষ ডিজাইন বা পরিকল্পনার ছলনাময়ী মায়ার নানা চিহ্ন বহন করছে। সম্ভবত এই সব কিছু্‌ই কোন না কোন ভুমিকা পালন করেছে এই সহজ সত্যটাকে আমাদের এত দেরী করে বুঝতে। কিন্তু আর্ণস্ট মেয়ার (Ernst Mayr), নিও-ডারউইনিয়ান সিনথেসিসের বিখ্যাত গ্রান্ড ওল্ড ম্যান, যিনি ২০০৫ সালে ১০০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, বারবার একটি ভিন্ন সন্দেহর কথাই উচ্চারণ করেছিলেন। মায়ারের দৃষ্টিতে মুল অপরাধী প্রাচীন দার্শনিক একটি মতবাদ-যার আধুনিক নাম- এসেন্শিয়ালিজম (Essentialism),বিবর্তনের আবিষ্কারকে আটকে রেখেছিল প্লেটো মৃত হাত ( এটা অবশ্য মায়ার এর বাক্য না, তবে তার ধারনাটিকে এটি প্রকাশ করে)।

প্লেটোর মৃত হাত:

Continue reading


১২ ফেব্রুয়ারী: আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবস ২০১২

I have at least, as I hope, done good service in aiding to overthrow the dogma of separate creations.
– Charles DarwinDescent of Man page 61


চার্লস রবার্ট ডারউইন
(১২ ফেব্রুয়ারী ১৮০৯ -১৯ এপ্রিল ১৮৮২)
(ছবি সুত্র: Kenn Brown, Scientific American, January 2009 ( সম্পাদিত) 

আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবস  এবং  http://darwinday.org/

আমার ব্লগে বিবর্তন বিষয়ক কিছু লেখার লিঙ্ক:

মহান মনিষীরা একই ভাবে চিন্তা করেন: কেমন করে ‍আলফ্রেড ওয়ালেস ডারউইনের মত একই রকম বৈপ্লবিক অন্তদৃষ্টি অনুভব করেছিলেন
বিবর্তন জীববিজ্ঞানে দশটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি
আমাদের এই প্রাচীন শরীর
আমাদের পারিবারিক বৃক্ষ
ডারউইনের কিছু ভবিষ্যদ্বানী
নৈতিকতার স্নায়ুবৈজ্ঞানিক উৎসের সন্ধানে
চোখের বিবর্তন
প্রাইমেটদের কালার ভিশনের বিবর্তন
অ্যাটেনবরো’র মাদার ফিশ: যৌন সঙ্গম ও আভ্যন্তরীন নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়ার বিবর্তনের উষালগ্ন
প্রানীজগতে সমলিঙ্গ যৌন আচরণ এবং বিবর্তন
ভালোবাসা, নিউরোবায়োলজী কি বলে….
একটি অসাধারন বই এর ছোট কাহিনী
ইউজেন দুবোয়া এবং জাভা ম্যান
শুধু এক শতাংশ: আমাদের অতীতের ভবিষ্যৎ
রিচার্ড ডকিন্সের দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ:
 ( আপাতত প্রথম অধ্যায় , বাকী অধ্যায় গুলো প্রক্রিয়াধীন)
তুমি কি আমার মা? 

কিছু ভিডিও লিঙ্ক:

Continue reading


রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা

রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমান

অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান


শীর্ষ ছবি কিংবা প্রচ্ছদ : আসমা সুলতানা

প্রথম অধ্যায়: প্রথম পর্ব দ্বিতীয় পর্ব | তৃতীয় পর্বশেষ পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায়: প্রথম পর্ব


একটি অসাধারন বইয়ের ছোট কাহিনী

শীর্ষছবি: চার্লস ডারউইনের On the Origin of Species  এর প্রথম সংস্করন।( সুত্র:  ইন্টারনেট)

I am infinitely pleased & proud at the appearance of my child. Charles Darwin
(When Darwin first saw the finished volume, bound in green cloth) 

বিজ্ঞানের ইতিহাসের বোধহয় সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন বইটি হলো চার্লস ডারউইনের লেখা  On the Origin of Species বইটি; ১৮৫৯ সালে ২৪ নভেম্বর বইটি প্রকাশ করেছিলেন লন্ডনের প্রকাশক জন মারে। নীচের লেখাটি  এই বইটির প্রকাশের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস নিয়ে। জীববিজ্ঞান সহ বিজ্ঞানের প্রায় সব শাখায়, ১৫২ বছর আগে প্রকাশিত এ্ই বইটির প্রভাব বলার অপেক্ষা রাখেনা।

Continue reading


ডারউইনের কিছু ভবিষ্যদ্বানী

A mind that is stretched by a new experience can never go back to its old dimensions. Oliver Wendell Holmes


শীর্ষ ছবি : ১৮৫৫ সালে চার্লস রবার্ট ডারউইন (১২ ফেব্রুয়ারী ১৮০৯ -১৯ এপ্রিল ১৮৮২) ( উইকিমিডিয়া)

(লেখকের কথা: পিটার টাইসন এর Darwin’s predictions অবলম্বনে লেখা)

ভুমিকা:

তাঁর সময়ের তুলনায় চার্লস ডারউইন অনেক এগিয়ে ছিলেন, শুধুমাত্র এই কথাটা বললে তাঁর প্রতি খুব একটা সুবিচার করা হবে না। বিবর্তনবাদের এই জনকের অনেক অনুমানই ১৮৮২ সালে তার মৃত্যুর অনেক বছর পর এবং কোন কোন ক্ষেত্রে  সম্প্রতি, প্রমানিত হয়েছে আর বিজ্ঞানীরা তাঁর ধারনাগুলোর স্বপক্ষে খুজে  পেয়েছেন পর্যাপ্ত পরিমান সব স্বাক্ষ্যপ্রমান। বর্তমানে প্রাপ্ত সকল প্রমান – যা সুষ্পষ্টভাবে তার প্রস্তাবিত প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন প্রক্রিয়া এবং তাঁর আরো কিছু অনুমানকেই সমর্থন করে – এসেছে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা থেকে, যেমন জীবাশ্মবিদ্যা,ভুতত্ত্ব, জৈবরসায়ন, জীনতত্ত্ব, অনুজীববিজ্ঞান এবং অতি সম্প্রতি ইভোলুশনারী ডেভোলপমেন্টাল বায়োলজী বা ‘ইভো ডেভো’, ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী কেনেথ মিলার’এর মতে ‘আমরা কোথা থেকে এসেছি এই প্রশ্নের একটি সাধারন উত্তর দেবার জন্য এতোগুলো ক্ষেত্র থেকে আসা প্রমানগুলো যে একটি সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারছে, এই বিষয়টাইতো অত্যন্ত শক্তিশালী। একারনেই বিবর্তন তত্ত্বের স্বপক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমানের পরিমান অনেক বেশী।’

Continue reading


বিবর্তন জীববিজ্ঞানে দশটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি


(লেখকের  কথা : কার্ল জিমার ( Carl Zimmer) এর “Ten great advances of evolution” অবলম্বনে )

ডারউইনের যুগান্তকারী ‘অরিজিন অব স্পিসিস’ প্রকাশনার ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে এখানে বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানে গত কয়েক দশকের উল্লেখযোগ্য কিছু অগ্রগতির একটি তালিকার উল্লেখ করা হলো -অবশ্যই তালিকাটি কোনভাবেই সম্পুর্ন নয় । এই অগ্রগতির তালিকায় শুধুমাত্র কোন বিশেষ ধরনের প্রজাতির উদ্ভব সম্বন্ধে আমাদের বোঝার ক্ষেত্রে কোন ইতিবাচক পরিবর্তনের কারনই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, এই তালিকায় অর্ন্তভুক্ত আছে মুল বিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্বন্ধে আমাদের অর্ন্তদৃষ্টির কিছু মৌলিক অগ্রগতি। কোন কোন ক্ষেত্রে এইসব অর্ন্তদৃষ্টিগুলো ডারউইনকেই বিস্ময়ের আনন্দময় ধাক্কা দিতে পারতো।


ছবি ১: কার্ল জিমারের মতে গত দশকের বিবর্তন গবেষনায় ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি (ফটো ক্রেডিট: আর্থ (নাসা); টেক্সট (ডাবলিউ জি বি এইচ এডুকেশন ফাউন্ডেশন)

Continue reading


মহান মনিষীরা একই ভাবে চিন্তা করেন: কেমন করে ‍আলফ্রেড ওয়ালেস ডারউইনের মত একই রকম বৈপ্লবিক অন্তদৃষ্টি অনুভব করেছিলেন।


শীর্ষ ছবি: রয়্যাল সোসাইটির ৩৫০ তম বার্ষির্কীতে প্রকাশিত একটি স্ট্যাম্পে আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস।(সুত্র:  রয়াল সোসাইটির ওয়েব পেজ)

‘All truth is easy to understand once they are discovered; the point is to discover them.’ Galileo Galilei 

( ৮ জানুয়ারী আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে লেখাটি রি পোষ্ট করলাম। ব্লগ জগতে ঢোকার পর এটা আমার প্রথম লেখা ছিল)

লেখকের নোট:  মুলতঃ শন বি ক্যারল (Sean B Carroll) এর Great Minds Think Alike: How Alfred Wallace came to share Darwin’s revolutionary insights অবলম্বনে এটি লেখা । লেখাটির একটি সম্পাদিত ভার্সন,২০১১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী মুক্তমনা ব্লগে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এই ভার্সনটি আরেকটু পরিবর্ধিত করা হয়েছে শন বি ক্যারল এর Remarkable Creatures: Epic Adventures In The Search For The Origins of Species এর তৃতীয় অধ্যায় Drawing the lines between Monkeys and Kangaroos অবলম্বনে।

সমান্তরাল পথে:

গত দুইশত বছরে, সাধারন আর বিশেষায়িত,দুই ধরনের প্রানীর প্রজাতির উৎপত্তির কারন অনুসন্ধান অনুপ্রাণিত করেছে অনেকগুলো অসাধারন অভিযান। পুরো ২০০৯ সাল জুড়ে, চার্লস ডারউইনের দুইশততম জন্মবার্ষিকীতে,সারা পৃথিবী শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে আমাদের সবচেয়ে মহান প্রকৃতিবিজ্ঞানী আর সুদূরপ্রসারী এক বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের নেতার অবদান।

ডারউইনের বিখ্যাত সমুদ্রযাত্রা আর তার গবেষনা অতি সুপরিচিত, আর তা অত্যন্ত সঙ্গত কারনে। পরিচিত হওয়াটাই উচিৎ।কিন্তু বিবর্তন তত্ত্বের সূচনা, শুরুর দিকে এর ক্রমবিকাশ আর গ্রহনযোগ্যতার জন্য আমরা কিন্তু আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস এর কাছেও অনেকাংশে ঋণী। আরো অনেকবেশী কঠিন ‍অবস্থার মধ্য দিয়ে যিনি দুটি সুদীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা করেছিলেন এবং স্বতন্ত্রভাবে প্রজাতির উৎপত্তি সম্বন্ধে ডারউইনের মত একই ধরনের ‍উপসংহারে পৌছে ছিলেন।

Continue reading


Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 32 other followers