<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	xmlns:georss="http://www.georss.org/georss" xmlns:geo="http://www.w3.org/2003/01/geo/wgs84_pos#" xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/"
	>

<channel>
	<title>অভিমন্যু</title>
	<atom:link href="http://kmhb.wordpress.com/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://kmhb.wordpress.com</link>
	<description>কাজী মাহবুব হাসান</description>
	<lastBuildDate>Thu, 23 Feb 2012 04:39:19 +0000</lastBuildDate>
	<language>bn</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
	<generator>http://wordpress.com/</generator>
<cloud domain='kmhb.wordpress.com' port='80' path='/?rsscloud=notify' registerProcedure='' protocol='http-post' />
<image>
		<url>http://1.gravatar.com/blavatar/dba5967e3f9a21cf0b15790a6ea0364b?s=96&#038;d=http%3A%2F%2Fs2.wp.com%2Fi%2Fbuttonw-com.png</url>
		<title>অভিমন্যু</title>
		<link>http://kmhb.wordpress.com</link>
	</image>
	<atom:link rel="search" type="application/opensearchdescription+xml" href="http://kmhb.wordpress.com/osd.xml" title="অভিমন্যু" />
	<atom:link rel='hub' href='http://kmhb.wordpress.com/?pushpress=hub'/>
		<item>
		<title>ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচনকে যাচাই করে দেখার পরীক্ষা:</title>
		<link>http://kmhb.wordpress.com/2012/02/21/%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a6%b6%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0/</link>
		<comments>http://kmhb.wordpress.com/2012/02/21/%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a6%b6%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 22 Feb 2012 01:43:17 +0000</pubDate>
		<dc:creator>K M Hassan</dc:creator>
				<category><![CDATA[জীববিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[বিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[বিবর্তন]]></category>
		<category><![CDATA[জেনেটিক ড্রিফট]]></category>
		<category><![CDATA[প্রাকৃতিক নির্বাচন]]></category>
		<category><![CDATA[H. Allen Orr]]></category>
		<category><![CDATA[Natural Selection]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://kmhb.wordpress.com/?p=2162</guid>
		<description><![CDATA[শীর্ষ ছবি: নিউ ইয়র্ক সিটির ন্যাচারাল হিস্টি মিউজিয়ামের একটি এক্সিবিটের ফটোগ্রাফ : ট্যাক্সিডার্মি র শিল্প এবং বিজ্ঞানী সংগ্রহকারীদের যৌথ প্রচেষ্টার একটি প্রতিচ্ছবি এখানে ইঙ্গিতদিচ্ছে শুধুমাত্র প্রানী জগতেই বিবর্তন প্রক্রিয়া সৃষ্টি করে অগনিত ফর্মের প্রানীদের। (সুত্র:  ( গ্রান্ট ডেলিন:  সায়েন্টিফিক আমেরিকান, জানুয়ারী ২০০৯); All these &#8230; (edited).. follow from the struggle for life. Owing to this [...]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=2162&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/17-02-2012-8-25-41-pm.jpg"><img class="alignnone  wp-image-2401" title="17-02-2012 8-25-41 PM" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/17-02-2012-8-25-41-pm.jpg?w=637&#038;h=855" alt="" width="637" height="855" /><br /></a>শীর্ষ ছবি: নিউ ইয়র্ক সিটির ন্যাচারাল হিস্টি মিউজিয়ামের একটি এক্সিবিটের ফটোগ্রাফ : ট্যাক্সিডার্মি র শিল্প এবং বিজ্ঞানী সংগ্রহকারীদের যৌথ প্রচেষ্টার একটি প্রতিচ্ছবি এখানে ইঙ্গিত<br />দিচ্ছে শুধুমাত্র প্রানী জগতেই বিবর্তন প্রক্রিয়া সৃষ্টি করে অগনিত ফর্মের প্রানীদের। (সুত্র:  ( গ্রান্ট ডেলিন:  সায়েন্টিফিক আমেরিকান, জানুয়ারী ২০০৯);</p>
<p><em><span style="color:#0000ff;">All these &#8230; (edited).. follow from the struggle for life. Owing to this struggle, variations, however slight and from whatever cause proceeding, if they be in any degree profitable to the individuals of a species, in their infinitely complex relations to other organic beings and to their physical conditions of life, will tend to the preservation of such individuals, and will generally be inherited by the offspring. The offspring, also, will thus have a better chance of surviving, for, of the many individuals of any species which are periodically born, but a small number can survive. I have called this principle, by which each slight variation, if useful, is preserved, by the term natural selection. </span></em><span style="color:#0000ff;"><span style="color:#000000;">Charles Darwin </span></span><span style="color:#000000;">(Chapter III, On the Origin of Species)</span></p>
<div>
<p><em><span style="color:#0000ff;">Life results from the non-random survival of randomly varying replicators. </span></em>Richard Dawkins</p>
</div>
<p><span style="color:#ff0000;">শুরুতে: </span>জীববিজ্ঞানীরা যারা এখন সর্বাধুনিক জেনেটিক টুল ব্যবহার করছেন , তারা দেখাতে  সক্ষম হয়েছেন,বেশীর ভাগ বিবর্তন জীববিজ্ঞানীরা যা ধারনা করেছিলেন একসময়,ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচন,জীন বিবর্তনে তাদের ধারনার চেয়েও অনেক বেশী ভুমিকা পালন করে। চার্লস ডারউইনের প্রস্তাবিত প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে চালিত বিবর্তন প্রক্রিয়ার তত্ত্বকে -বংশানুক্রমে পাওয়া পরিবর্তিত বৈশিষ্ট্য যা জীবের বেচে থাকা বা সারভাইভালে ইতিবাচক ভুমিকা রাখে- বেশ কিছু প্রতিদ্বন্দী তত্ত্বের সাথে সংগ্রাম করতে হয়েছে জীববিজ্ঞানীদের কাছে গ্রহনযোগ্যতা অর্জন করতে গিয়ে। র‌্যানডোম জেনেটিক মিউটেশনগুলো, জীবের বেচে থাকার উপর যাদের প্রভাব নিরপেক্ষ, একসময় বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, এটাই বেশীর ভাগ আনবিক বা জীন পর্যায়ের পরিবর্তনের জন্য দায়ী।কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষনাগুলো বলছে উপকারী মিউটেশনগুলোর প্রাকৃতিক নির্বাচনের হার অপেক্ষাকৃতভাবে অনেক বেশী হারেই ঘটে। উদ্ভিদবিদ্যার কিছু জীনতাত্ত্বিক গবেষনা বলছে একটি একক জীনের পরিবর্তনও প্রজাতিদের মধ্যে বিশাল মাপের অ্যাডাপটিভ বা অভিযোজনীয় পার্থক্য সৃষ্টির জন্য দায়ী। এই লেখাটির এইচ অ্যালেন ওর এর টেস্টিং ন্যাচারাল সিলেকশন (সায়েন্টিফিক আমেরিকান,জানুয়ারী ২০০৯) অবলম্বনে লেখা। এইচ অ্যালন ওর (H. Allen Orr) রোচেষ্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং শার্লি কক্স কেয়ার্ণ চেয়ার অব বায়োলজী এবং জেরী কয়েন এর সাথে ’স্পিসিয়েশন’ এর রচয়িতা। তার গবেষনার ক্ষেত্র অভিযোজন এবং প্রজাতিকরনের জেনেটিক ভিত্তি সংক্রান্ত বিষয়গেুলো।</p>
<p><span style="color:#ff0000;"><span id="more-2162"></span></span></p>
<p><span style="color:#ff0000;">ভুমিকা:</span></p>
<p>সাধারনত:বিজ্ঞানের কোন একটি শাখার ইতিহাসে প্রায়ই দেখা যায়, গুরুত্বপুর্ণ  কিছু মৌলিক ধারনা আবিষ্কৃত হয়ে থাকে বেশ বিলম্বে, কারন তারা হয় খুবই সুক্ষ্ম, জটিল নয়ত বেশ কঠিন। প্রাকৃতিক নির্বাচন এর ধারনাটি কিন্তু সুস্পষ্ট ব্যতিক্রম। যদিও বিজ্ঞানের অন্যান্য বৈপ্লবিক ধারনার সাথে তুলনা করলে, প্রাকৃতিক নির্বাচনের ধারনা অপেক্ষাকৃতভাবে আবিষ্কৃত হয়েছে বেশ সাম্প্রতিক কালেই-চার্লস ডারউইন এবং আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস এই বিষয়টি নিয়ে লিখেছিলেন ১৮৫৮ সালে এবং ডারউইনের ’অন দি অরিজিন অব স্পিসিস’ এর আবির্ভাব ১৮৫৯ সালে-তাস্বত্ত্বেও প্রাকৃতিক নির্বাচনের ধারনাটি নিজেই আসলে সহজতা বা সারল্যের প্রতিভু বললে অত্যুক্তি হবেনা। কোন একটি নির্দিষ্ট পরিবেশ এবং পরিস্থিতিতে কিছু ধরনের অর্গানিজম (কোন একটি জীব,প্রানী বা উদ্ভিদ)অন্যদের চেয়ে জীবন ধারন করার ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃতভাবে বেশী সফল হয়; এই অর্গানিজমগুলো অপেক্ষাকৃত বেশী পরবর্তী প্রজন্ম তৈরী করে এবং সময়ের সাথে ক্রমান্বয়ে এরাই সংখ্যাই বেশী হয়। অর্থাৎ এভাবেই পরিবেশ ’সিলেক্ট’ বা ’নির্বাচন’ করবে সেই অর্গানিজমগুলোকে যারা বিরাজমান বর্তমান পরিস্থিতিগুলোতে সবচেয়ে সফলভাবে অভিযোজিত হয়েছে বা খাপ খাইয়ে নিয়েছে। পরবর্তীতে পরিবেশের যদি পরিস্থিতি(দের) কোন পরিবর্তন ঘটে, যে অর্গানিজম(রা) সেই পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেবার মত সবচেয়ে বেশী অভিযোজনীয় বৈশিষ্ট্য ধারন করে, তারাই একসময়  সেখানে প্রাধান্য বিস্তার করে। ডারউইনবাদ বৈপ্লবিক ছিল,তার কারন কিন্তু  জীববিজ্ঞান সম্বন্ধে এটি কোন গোপন বা রহস্যময় দাবী করেছিল সে জন্য না বরং এটি প্রস্তাব করেছিল প্রকৃতির প্রক্রিয়ায় মুল যুক্তিটি হতে পারে অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে সরল।</p>
<p>এই সরলতা বা সহজতা সত্ত্বেও, প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বকে অতিক্রম করতে হয়েছে অনেক দীর্ঘ আর তীর্যক ইতিহাস। প্রজাতি বিবর্তিত হয়,ডারউইনের এই দাবী বেশ দ্রুত জীববিজ্ঞানীরা মেনে নিয়েছিলেন, কিন্তু তার প্রস্তাবিত পৃথক দাবীটি, প্রাকৃতিক নির্বাচনই হচ্ছে বিবর্তনের চালিকা শক্তি বা বিবর্তনের বেশীর ভাগ পরিবর্তনের কারন কিন্তু এত দ্রুত বিজ্ঞানীরা মেনে নেননি। এবং আসলেই প্রাকৃতিক নির্বাচন যে বিবর্তন প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় চালিকা শক্তি তা মেনে নিতে বিংশ শতাব্দীর বেশ কয়েক দশক পেরিয়ে গিয়েছিল।</p>
<p>প্রাকৃতিক নির্বাচনের বর্তমান অবস্থান সুরক্ষিত,যার কারন,বহু দশকের বিস্তারিত পরীক্ষামুলক গবেষনা এবং অবগত পর্যবেক্ষন। কিন্তু কোনভাবেই অবশ্য বলা যাবেনা,প্রাকৃতিক নির্বাচন নিয়ে সব গবেষনা শেষ হয়ে গেছে। বরং বর্তমানে প্রাকৃতিক নির্বাচন আরো সতর্ক গবেষনা হচ্ছে,এর একটি আংশিক কারন, নতুন পরীক্ষার পদ্ধতিগুলোর আবির্ভাব এবং অন্য আরেকটি আংশিক কারন, প্রাকৃতিক নির্বাচনের মুলে  জেনেটিক প্রক্রিয়াটি এখন ব্যাপকভাবে বিস্তারিত পর্যবেক্ষন নির্ভর পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্লেষনের একটি বিষয়ে রুপান্তরিত হয়েছে;এমনকি গত দুই দশক আগেও প্রাকৃতিক নির্বাচন নিয়ে যত গবেষনা হয়েছে এখন তার চেয়ে বেশী গবেষনা হচ্ছে এ ক্ষেত্রে,বর্তমানে জীববিজ্ঞানে এটি অত্যন্ত সক্রিয় একটি এলাকা।</p>
<p>প্রাকৃতিক নির্বাচনের উপর বেশীর ভাগ সাম্প্রতিক গবেষনাগুলো প্রধানত তিনটি উদ্দেশ্যর দিকে নজর দিয়েছে:</p>
<p>প্রথমত: গবেষনাগুলোয় জানার  চেষ্টা করা হয়েছে প্রাকৃতিক নির্বাচন কতটা সর্বব্যাপী বা কমন।</p>
<p>দ্বিতীয়ত:,নির্দিষ্ট জীনগত পরিবর্তনটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যে পরিবর্তন প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে  সৃষ্ট অভিযোজনের কারন এবং</p>
<p>তৃতীয়ত:বিবর্তন জীববিজ্ঞানের একটা প্রধানতম সমস্যা-নতুন প্রজাতির উৎপত্তির ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক নির্বাচন ঠিক কতটা গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে সেটাকে পরিমাপ করা।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">প্রাকৃতিক নির্বাচন &#8211; একটি ধারনা:</span></p>
<p>প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন প্রক্রিয়াটিকে বোঝার একটি  ভালো উপায় হচ্ছে, সেই সব অর্গানিজমকে গবেষনায় লক্ষ্য করা, যাদের জীবন চক্র সংক্ষিপ্ত হবার কারনে আমরা বহু প্রজন্ম বা জেনারেশনকে পর্যবেক্ষন করতে পারি। কিছু ব্যাক্টেরিয়া মাত্র প্রতি আধাঘন্টায় মধ্যে তাদের দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে; সুতরাং কল্পনা করুন, একটি ব্যাক্টেরিয়ার জনসংখ্যায় প্রথমে দুইটি জেনেটিক ধরনের সমান সংখ্যক ব্যাক্টেরিয়া আছে; আরো মনে করুন, টাইপ ১ ব্যাক্টেরিয়া শুধু টাইপ ১ প্রজন্ম তৈরী করবে, টাইপ ২ শুধু টাইপ ২ প্রজন্ম তৈরী করবে। এখন হঠাৎ করে ব্যাক্টেরিয়ার পরিবেশটা বদলে দেয়া হলো,সেখানে এমন একটা অ্যান্টিবায়োটিক  যোগ করা হলো, টাইপ ১ ব্যাকটেরিয়াদের যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরী করার ক্ষমতা আছে, কিন্তু টাইপ ২ এখনও যার প্রতি সংবেদনশীল। এই নতুন পরিবেশে টাইপ ১ হচ্ছে ২ অপেক্ষা  অধিকতর ফিট বা সুঅভিযোজিত; সুতরাং টাইপ ২ এর তুলনায় টাইপ ১ বেশীদিন বাঁচে এবং সুতরাং টাইপ ২ এর তুলনায় তারা প্রজননেও সফল হয় বা বেশী হারে বংশবৃদ্ধি করে। ফলাফলে টাইপ ১ অর্গানিজমরা বেশী পরিমানের পরবর্তী প্রজন্ম বা উত্তরসুরী তৈরী করে টাইপ ২ এর অর্গানিজম অপেক্ষা।</p>
<p>’ফিটনেস’ শব্দটি বিবর্তন জীববিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয় একটি টেকনিক্যাল শব্দ হিসাবে,যে ধারনাটিকে এটি বোঝায় তা হলো:কোন একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে সারভাইভ বা বেঁচে থাকা এবং প্রজনন বা বংশ বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা। যদি অসংখ্যবার এটিকে ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে পুণরাবৃত্তি করা হয়,এই সিলেকশন বা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ফলাফল হচ্ছে প্রকৃতিতে যা আমরা সবাই দেখতে পাই: উদ্ভিদ, প্রানী (এবং ব্যাক্টেরিয়া) তাদের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে অসংখ্য জটিল উপায়ে।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/1.jpg"><img class="alignnone  wp-image-2406" title="1" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/1.jpg?w=828&#038;h=508" alt="" width="828" height="508" /></a>ছবি:  প্রাকৃতিক নির্বাচনের একটি স্কীমাটিক ডায়াগ্রাম ( বড় করে দেখার জন্য ক্লিক করুন);  ইলাসট্রেশন: <em>Tommy Moorman</em></p>
<p>বিবর্তনীয় জীনতত্ত্ববিদরা আগের অনুচ্ছেদের যুক্তিটাকে জীববিজ্ঞানের বিস্তারিত বিবরনে আরো সমৃদ্ধ করে ব্যাখ্যা করতে পারবেন। আমরা জানি, যেমন, জেনেটিক টাইপ বা জীনগত প্রকারভেদ বা ভিন্নতার উৎপত্তি হয় ডিএনএ’র মিউটেশন বা পরিব্যক্তির মাধ্যমে -যা আসলে ডিএনএ নিউক্লিওটাইড বেস (অথবা সহজ ভাবে বললে A,G,T,C,সংক্ষেপে যারা এই চারটি বেসকে প্রকাশ করে, ডিএনএ সিকোয়েন্স আসলে সেই অক্ষরগুলোর একটি মালা)এর অনু্ক্রমের র‌্যানডোম বা এলোমেলো ভাবে ঘটা কোন পরিবর্তন; এই সিকোয়েন্স বা অনুক্রমটি বা পাশাপাশি যেভাবে এই বেসগুলো সাজানো থাকে সেটাই আসলে জিনোমের ’ভাষা’; আমরা এখন বেশ ভালো করে জানি কমন বা সচরাচর ভাবে ঘটা মিউটেশনগুলোর  -বা ডিএনএ এই চারটা বেস এর কোন একটি অন্য আরেকটি দ্বারা প্রতিস্থাপন- কি হারে ঘটে থাকে:কোন একটি নিউক্লিওটাইড বেস, কোন একটি গ্যামেট বা জনন কোষ (শুক্রাণু এবং ডিম্বানু) এ, কোন  একটি প্রজন্মে অপর কোন একটি বেস দ্বারা মিউটেশন হবার সম্ভাবনা প্রায় এক  বিলিয়নে একবার।সবচে গুরুত্বপুর্নভাবে, আমরা জানি এই মিউটেশনগুলো কিভাবে এর বহনকারী জীবদের ফিটনেসের উপর প্রভাব ফেলে। বেশীর ভাগ র‌্যানডোম মিউটেশনই জীবের জন্য ক্ষতিকর, অর্থাৎ সে এর বহনকারী জীবের ফিটনেস কমিয়ে দেয়; খুব সামান্য কিছু এধরনের মিউটেশন হতে পারে উপকারী, যা ফিটনেস বাড়িয়ে দিতে পারে। কোন একটি কম্পিউটার কোডে যেমন বেশীরভাগ টাইপো বা বানান ভুল যে কারনে ক্ষতিকর, বেশীর ভাগ মিউটেশনই সে কারনেই ক্ষতিকর। খুব সুক্ষভাবে টিউন করা সিস্টেমে কোন এলোমেলো পরিবর্তন করলে সেটি এর কাজের উন্নতি করার চাইতে বরং ব্যাঘাত সৃষ্টি করার সম্ভাবনাই প্রবল।</p>
<p>সেকারনেই অ্যাডাপটিভ বা অভিযোজনীয় ‍বিবর্তন দুই ধাপ বিশিষ্ট একটি প্রক্রিয়া,যেখানে সুস্পষ্ট ভাবে ভাগ করা আছে মিউটেশন এবং সিলেকশন প্রক্রিয়ার দ্বায়িত্ব বা কাজ ।প্রতিটি প্রজন্মে বা জেনারেশনে,মিউটেশনের মাধ্যমে নানা ধরনের জেনেটিক ভ্যারিয়ান্ট বা জীনগত ভিন্নতার সৃষ্টি হয়,এরপর প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়া এই মিউটেশনগুলো স্ক্রিন বা যাচাই বাছাই করে: পরিবেশের দৃঢ় চাপ কমিয়ে দেয়  মিউটেশনগুলোর খারাপ (অপেক্ষাকৃত ভাবে কম ফিটনেস প্রদান করে যেটি)ভ্যারিয়্যান্টদের সংখ্যা এবং বাড়িয়ে দেয় ভালো (অপেক্ষাকৃতভাবে যা বেশী ফিটনেস প্রদান করে) ভ্যারিয়ান্টদের হার।(এটা  এখানে বলে  রাখা প্রয়োজন যে কোন একটি জনগোষ্ঠীতে এক সাথে কিন্তু অনেক জেনেটিক ভ্যারিয়্যান্ট থাকতে পারে এবং এইসব ভ্যারিয়ান্টগুলো পরিবেশগত যখন কোন পরিবর্তন ঘটে, সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতির  সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করে তাদের বহনকারী অর্গানিজমদের। আগের উদহারনে যে জীনটা টাইপ ১ ব্যাক্টেরিয়াকে সাহায্য করেছে অ্যান্টিবায়োটিক থেকে রক্ষা পেতে,হয়তো অ্যান্টিবায়োটিকহীন পরিবেশে এই জীনটির কোন ভুমিকাই ছিলনা বা হয়তো ক্ষতিকর ছিল, কিন্তু এটি টাইপ ১ ব্যাক্টেরিয়া জনগোষ্ঠীতে থাকার কারনে টাইপ ১ দের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উপকারী ভুমিকা পালন করেছে তাদের ফিটনেস বাড়াতে।)</p>
<p>পপুলেশন জীনতত্ত্ববিদরা  প্রাকৃতিক নির্বাচনের ব্যাখ্যায় আমাদের অর্ন্তদৃষ্টিকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন বিষয়টিকে গানিতীকভাবে ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে। যেমন জণসংখ্যা জীনতত্ত্ববিদরা দেখিয়েছেন, কোন একটা জেনেটিক টাইপ কোন জনগোষ্ঠীর মধ্যে যত বেশী ফিটনেস দেবে, এটি ততেই দ্রুতহারে বৃদ্ধি পাবে সেই জনসংখ্যায়। আসলেই,কেউ চাইলেই ব্যাপারটা ভালো করে পরিমাপও করতে পারবেন, ঠিক কত তাড়াতাড়ি এই বৃদ্ধি পাবার ঘটনাটা ঘটে। জণসংখ্যা জীনতত্ত্ববিদরা আরো একটি বিস্ময়কর সত্য উদঘাটন করেছেন, সেটি হলো, প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার অকল্পনীয় সুক্ষ্মতার তীক্ষ্ম একটি ’দৃষ্টি’ আছে;যা নানা ধরনের জেনেটিক ভ্যারিয়েন্টদের মধ্যে তুলনামুলক ফিটনেসের মধ্যে বিস্ময়করভাবে অতি ক্ষুদ্রতম পার্থক্যগুলোকেও শনাক্ত করতে পারে। কোন একটি মিলিয়ন সংখ্যক সদস্যের একটি জনগোষ্ঠীতে, প্রাকৃতিক নির্বাচন এক মিলিয়নের এক অংশের মত ক্ষুদ্র ফিটনেস এর পার্থক্যর উপর কাজ করতে সক্ষম।</p>
<p>প্রাকৃতিক নির্বাচনের স্বপক্ষে যুক্তির সবচে লক্ষনীয় বৈশিষ্ট্যটি হচ্ছে যে এটি জীবের যে কোন পর্যায়ের জন্য সমানভাবে কার্যকর -জীন থেকে প্রজাতি পর্যায়ে। সেই ডারউইন সময় থেকেই জীববিজ্ঞানীরা অবশ্যই পৃথক পৃথক ভাবে এককভাবে অর্গানিজমদের মধ্যে ফিটনেসের পার্থক্যটাকে মুখ্য ভেবেছেন, কিন্তু নীতিগতভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচন কিন্তু বিভিন্ন প্রজাতির সদস্য বা বায়োলজিক্যাল এনটিটির মধ্যে সার্ভাইভাল এবং প্রজনন ফিটনেসের পার্থক্যর উপরও কাজ করতে পারে। যেমন, যুক্তি দেয়া যেতে পারে যে সমস্ত প্রজাতিদের বিস্তার  বিশাল অঞ্চল জুড়ে, তারা প্রজাতি হিসাবে সেই সব প্রজাতিদের চেয়ে বেশী দীর্ঘ সময় বাঁচে, যাদের ভৌগলিক বিস্তার সংকীর্ণ। কারন, ভৌগলিকভাবে সুবিস্তারিত কোন প্রজাতি তাদের জনগোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যায় ক্ষুদ্র কিছু স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিলুপ্তি যত সহজে সহ্য করতে পারবে, যে প্রজাতির ভৌগলিক বিস্তার সীমিত , তারা সেটা পারবেনা। প্রাকৃতিক নির্বাচন এর একটি যৌক্তিক  প্রেডিক্শন বা ভবিষ্যদ্বানী হতে পারে, ভৌগলিকভাবে সুবিস্তৃত  প্রজাতিদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে সময়ের সাথে।</p>
<p>যদিও এই যুক্তির আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ভুল , তবে বিবর্তনবাদীরা সন্দেহ করেন উচ্চ পর্যায়ের সিলেকশনও মাঝে মধ্যে ঘটতে পারে। -বেশীর ভাগ জীববিজ্ঞানীরা  একমত যে, প্রাকৃতিক নির্বাচন সচরাচর ঘটে থাকে এককভাবে কোন অর্গানিজমদের বা জেনেটিক টাইপের পর্যায়ে। এর একটা কারন, কোন একটি স্বতন্ত্র একক অর্গানিজমের জীবন কাল, কোন একটি প্রজাতির জীবনকাল অপেক্ষা অনেক সংক্ষিপ্ত; এভাবে স্বতন্ত্র অর্গানিজমদের উপর প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়া সাধারনত প্রজাতির উপর কর্মরত প্রাকৃতিক নির্বাচনকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">প্রাকৃতিক নির্বাচন ঠিক কতটা কমন বা সর্বব্যাপী?</span></p>
<p>প্রাকৃতিক নির্বাচন সম্বন্ধে জীববিজ্ঞানীদের সহজতম প্রশ্নেটির কিন্ত আশ্চর্যজনকভাবেই উত্তর দেয়া সবচেয়ে কঠিন: কোন একটি জনগোষ্ঠীর সার্বিক জেনেটিক মেকআপে, কি পরিমান বা মাত্রায় পরিবর্তনের জন্য দায়ী করা যেতে পারে প্রাকৃতিক নির্বাচনকে? কেউই সন্দেহ পোষন করেন না যে, প্রাকৃতিক নির্বাচন জীবিত অর্গানিজমদের বেশীর ভাগ শারীরিক বৈশিষ্টগুলোর বিবর্তনীয় পরিবর্তনের প্রধান চালিকা শক্তি -এছাড়া আসলে আর কোন যুক্তিসঙ্গত কোন উপায় নেই, জীবের বড় আকারের বৈশিষ্টগুলো, যেমন, পাখির ঠোট বা বীক, বাইসেপ (উপরের বাহুর মাংশপেশী)কিংবা মস্তিষ্ক বা ব্রেইন-ব্যাখ্যা করার জন্য। কিন্তু বিজ্ঞানীদের মধ্যে বেশী সন্দেহটা দানাটা আসলে বেধে ছিল অন্য ক্ষেত্রে, সেটা হলো ঠিক কি পরিমানে প্রাকৃতিক নির্বাচন আনবিক বা মলিক্যুলার পর্যায়ে এসব পরির্ব্তনগুলোকে পরিচালনা বা নির্দেশিত করে।  অন্য কোন ভিন্ন প্রক্রিয়ার অবদানের তুলনায় প্রাকৃতিক নির্বাচন, বহু মিলিয়ন বছর সময় ব্যাপী, ডিএনএ তে সার্বিক বিবর্তনীয় পরিবর্তনের ঠিক কি পরিমান অংশ আসলে পরিচালনা করে?</p>
<p>১৯৬০ এর দশক অবধি, জীববিজ্ঞানীর ধরে নিয়েছিলেন এই প্রশ্নের উত্তর হবে ’প্রায় সবটুকু’; পপুলেশন জেনেটিসিষ্টদের একটি গ্রুপ, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন জাপানী গবেষক মোতু কিমুরা, এই ধারনার প্রতি তীব্রভাবেই একটি চ্যালেন্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। তিনি যুক্তি দেন,আনবিক বা মলিক্যুলার পর্যায়ে বিবর্তন সাধারনত ‘পজিটিভ’ বা ’ইতিবাচক’ প্রাকৃতিক নির্বাচন দিয়ে পরিচালিত হয় না- যেখানে প্রকৃতি বা পরিবেশ কোন জনগোষ্ঠীতে, সাধারনত: শুরুতে  ঘটা দুষ্প্রাপ্র উপকারী জেনেটিক টাইপগুলোর উপস্থিতি বা সংঘটনের হার বাড়িয়ে দেয়। বরং তিনি বলেন, প্রায় সব জেনেটিক মিউটেশনগুলো যা জনগোষ্ঠীর জীনোমে টিকে থাকে এবং উচ্চ হারের একটি সংখ্যায় পৌছায়, তারা আসলে সিলেকটিভলি নিউট্রাল বা প্রাকৃতিক নির্বাচনের দৃষ্টিতে নিরপেক্ষ অর্থাৎ যারা ফিটনেসের উপর কোন ধরনের নেতিবাচক কিংবা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেনা; অন্যভাবে যদি বলা যায়, তারা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের পরিমাপযোগ্য বা বোঝা যায় এমন কোন ফিটনেস বাড়ায় কিংবা কমায় না। (অবশ্যই ক্ষতিকর মিউটেশনগুলি কিন্তু ‍নিরবিচ্ছিন্নভাবে ও উচ্চ হারে আসতে থাকে, তবে তারা কখনোই জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চ হারে পৌছায় না এবং  এভাবে তারা বিবর্তীয় ডেড এন্ড বা শেষ বিন্দু); যেহেতু  এই নিউট্রাল মিউটেশনগুলো মুলত অদৃশ্য বর্তমান পরিবেশে, এ ধরনের পরিবর্তনও তাই নীরবে জনগোষ্ঠী এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মের মধ্যে প্রবেশ করে, এবং যথেষ্ঠ পরিমান সময়ে সাথে এটি জনগোষ্ঠীর সার্বিক জেনেটিক কম্পোজিশনে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পরিবর্তন আনতে পারে; এই প্রক্রিয়াটির নামই রানডোম জেনেটিক ড্রিফ্ট &#8211; আনবিক বা মলিক্যুলার বিবর্তন এর নিউট্রাল থিওরীর এটাই মুল বক্তব্য।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/2.jpg"><img class="alignnone  wp-image-2407" title="2" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/2.jpg?w=828&#038;h=501" alt="" width="828" height="501" /></a>ছবি:  নিউট্রাল বিবর্তনের একটি স্কীমাটিক ডায়াগ্রাম ( বড় করে দেখার জন্য ক্লিক করুন);  ইলাসট্রেশন: <em>Tommy Moorman</em></p>
<p>১৯৮০ র দশকের শুরুতে অনেক বিবর্তন জীনতত্ত্ববিদরা এই নিউট্রাল থিওরীটা গ্রহন করে নিয়েছিলেন; কিন্তু এর ভিত্তিতে যে উপাত্তগুলো ছিল তারা প্রায় বেশীরভাগই ছিল পরোক্ষ; আরো প্রত্যক্ষ এবং গুরুত্বপুর্ণ পরীক্ষা ছিল বাকী। এই ক্ষেত্রে দুটো উন্নতি এই সমস্যার সমাধান করে: প্রথম, জনসংখ্যা জীনতাত্ত্বিকরা খুব সাধারন কিন্তু কার্যকরী গানিতীক ও পরিসংখ্যানের  একটি বিশেষ টেষ্ট এর প্রণয়ন করেন, যা জীনোমের মধ্যে নিউট্রাল পরিবর্তনগুলোকে অ্যাডাপ্টিভ বা অভিযোজনীয় পরিবর্তনগুলো থেকে আলাদা করে শনাক্ত করতে পারে, দ্বিতীয়ত, কিছু নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাব ঘটে, যা বহু প্রজাতির পুরো জীনোমের বেস অনুক্রম করার সুযোগ করে দেয়; এই প্রক্রিয়া জনসংখ্যা জীনতাত্ত্বিকদের বিশালাকার উপাত্তের যোগান দিয়েছে তাদের পরিসংখ্যানের টেস্ট পরিচালনার জন্য। নতুন এই উপাত্ত বলছে, নিউট্রাল থিওরী  প্রাকৃতিক নির্বাচনের গুরুত্বকে আসলে অবমুল্যায়ন করেছে।</p>
<p>ডেভিড জে বিগান এবং চার্লস এইচ ল্যাঙ্গলী, ডেভিসে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এই দুই গবেষকের নেতৃত্বে একটি টীম <em>Drosophila</em> জেনাসের দুটি পৃথক ফ্রুট ফ্লাই বা ফলের মাছির প্রজাতিদের পুরো জীনোম অনুক্রমের তুলনামুলক একটি গবেষনা পরিচালনা করেছিলেন। তারা এই দুই প্রজাতির প্রায় ৬০০০ জীন এর তুলনামুলক একটি বিশ্লেষন করেন, তারা লক্ষ্য করেন এই জীনগুলো পরস্পর থেকে বৈসাদৃশ্যময় বা আলাদা হয়েছে শেষ কমন বা সাধারন পুর্বসুরী প্রানী থেকে আলাদা হবার পর। পরিসংখ্যানের পরীক্ষা প্রয়োগ করে তারা পরিমাপ করে দেখান যে কমপক্ষে এই ৬০০০ জীনের ১৯ শতাংশ জীনে নিউট্রাল বিবর্তনের কোন প্রভাব নেই; অন্যভাবে বিষয়টি বললে, প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রায় এক পঞ্চমাংশ জীনের বিবর্তনীয় বিভাজনের বা ডাইভারজেনস এর জন্য দায়ী ( যেহেতু পরিসংখ্যানের যে পরীক্ষা তারা এখানে ব্যবহার করেছন, যেহেতু তা ছিল খুবই রক্ষনশীল, সেকারনে আসল শতাংশর পরিমান সম্ভবত প্রাপ্ত ফলাফলের চেয়ে অনেক বেশী হবার সম্ভাবনা); এই পরীক্ষা বলছে না নিউট্রাল সিলেকশনের গুরুত্বহীন- কারন বাকী ৮১ শতাংশ জীনই ভিন্নতা পেয়েছে  জেনেটিক ড্রিফট প্রক্রিয়ায়। কিন্তু গবেষনার ফলাফল যা প্রমান করে তা হলো, প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রজাতির বিভাজনের একটি বড় ভুমিকা পালন করে, যার পরিমান নিউট্রাল তাত্ত্বিক যা ভেবেছিলেন, তার চেয়ে বেশী। একই ধরনের আরো গবেষনা বিবর্তন জেনেটিসিষ্টদের এই উপসংহারে পৌছাতে সাহায্য করেছে, যে প্রাকৃতিক নির্বাচন এমনকি ডিএনএ নিউক্লিওটাইড বা বেস সিকোয়েন্সেও বিবর্তনীয় পরিবর্তনের জন্য একটি কমন চালিকা শক্তি।</p>
<p><img class="alignnone  wp-image-2409" title="20-02-2012 1-30-25 PM" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/20-02-2012-1-30-25-pm.jpg?w=408&#038;h=963" alt="" width="408" height="963" /><br />ছবি: অভিযোজনীয় বিবর্তনের কিছু উদহারন, যা আমরা দেখতে পেয়েছি ( <a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/20-02-2012-1-30-25-pm.jpg">বড় করে দেখার জন্য ক্লিক করুন</a>);</p>
<p><span style="color:#ff0000;">প্রাকৃতিক নির্বাচনের জেনেটিক্স:</span></p>
<p>এমনকি যখন জীববিজ্ঞানীরা শুধু সাধারন শারীরিক বৈশিষ্টগুলোর দিকে নজর দিয়েছেন (বীক, বাইসেপ আর ব্রেইন) এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেছেন, প্রাকৃতিক নির্বাচন বিবর্তনের মুল চালিকা শক্তি, তারা তখন প্রায়শই কিন্তু অন্ধকারে ছিলেন, বিষয়টি আসলে কিভাবে ঘটছে। সাম্প্রতিক কাল ছাড়া, অ্যাডাপটিভ বিবর্তনের মুল ভিত্তি রচনাকারী জীনগত পরিবর্তনগুলো সম্বন্ধে খুব কমই আসলে জানা ছিল জীববি‌জ্ঞানীদের। কিন্তু জীনতত্ত্বের নতুন অগ্রগতির সাথে সাথে জীববিজ্ঞানীরা  এই সমস্যার সমাধানে মুখোমুখি হতে পেরেছেন সরাসরি এবং এখন তারা চেষ্টা করছেন প্রাকৃতিক নির্বাচনের ব্যাপারে বেশ কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে। যখন কোন অর্গানিজম প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে কোন নতুন পরিবেশে অভিযোজিত হয়, তারা কিভাবে সেটি করতে সক্ষম হয়?একটি জীনের পরিবর্তনের মাধ্যমে নাকি অনেকগুলো জীনের পরিবর্তনের মাধ্যমে? সেই জীনগুলো কি শনাক্ত করা সম্ভব? এবং এই একই জীনগুলো কি  একই পরিবেশে অন্যান্য স্বতন্ত্র অভিযোজনের ঘটনাগুলোকে সন্তোষজনকভাবে ব্যাখ্যা দিতে পারে?</p>
<p>এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়া কিন্তু সহজ না। প্রধান সমস্যা হলো, কোন উপকারী মিউটেশনের ফলে ফিটনেস বৃদ্ধি হতে পারে খুবই সামান্য, যা বিবর্তনীয় পরিবর্তনকে বেশ মন্হর করে ফেলে। এই সমস্যাটিকে বিবর্তন জীববিজ্ঞানীরা  মোকাবেলা করেছেন যে উপায়ে তা হলো, দ্রুত বংশবৃদ্ধিকারী কোন অর্গানিজমদের পরীক্ষাধীন জনগোষ্ঠীকে একটি কৃত্রিম পরিবেশে রাখা, যেখানে ফিটনেস এর পার্থক্য অনেক বেশী আর সেকারনে বিবর্তন প্রক্রিয়াও দ্রুত। জীববিজ্ঞানীদের ব্যাপারটা বুঝতে আরো সাহায্য করে, যদি যদি অর্গানিজমদের জনগোষ্ঠীর আকারটি অনেক বড় হয়, যা একটি নির্দিষ্ট হারে জনগোষ্ঠীর জীন পুলে নিরবিচ্ছিন্নভাবে নতুন মিউটেশন যোগ করতে থাকে। পরীক্ষামুলক বিবর্তন প্রক্রিয়ায় পরীক্ষাধীণ কোন অনুজীব জনগোষ্ঠী, একই রকম জীন সম্পন্ন এই জনগোষ্ঠীকে সাধারনত নতুন একটি পরিবেশে রাখা হয়, যে পরিবেশের সাথে তাদের অবশ্যই অভিযোজিত হতে হবে এধরনের একটি নির্বাচনী চাপ বা সিলেকশন প্রেশার প্রয়োগ করার কৌশল হিসাবে। যেহেতু সবাই শুরুতে একই ডিএনএ সিকোয়েন্স বা অনুক্রম দিয়ে শুরু করেছিল, প্রাকৃতিক নির্বাচনকে কাজ করতে হয় অল্প কিছু মিউটেশনের উপর, যারা এই পরীক্ষার সময় সৃষ্ট হয়েছে। গবেষকরা এরপর এই জনগোষ্ঠীর ফিটনেস কেমন ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে সময়ের সাথে, সেটি গ্রাফে প্লট করে দেখতে পারেন, নতুন এই পরিবেশে তাদের প্রজনন হার পরিমাপ করার মাধ্যমে।</p>
<p>পরীক্ষামুলক বিবর্তনের কিছু কৌতুহলোদ্দীপক গবেষনা করা হয়েছে ব্যাক্টেরিওফাজদের উপর, এরা হচ্ছে একধরনের ভাইরাস, তবে এরা খুবই ক্ষুদ্রাকৃতির এবং তারা শুধু ব্যাক্টেরিয়াদেরই আক্রমন করে। এছাড়া ব্যাক্টেরিওফাজদের জীনোমও খুবই ছোট, বিষয়টি বিজ্ঞানীদের কাছে সুবিধার, কারন তারা এর প্রতিটি জীন পরীক্ষার শুরুতে, শেষে এবং মধ্যবর্তী যে কোন সময় সিকোয়েন্স বা অনুক্রম করতে পারেন। সেকারনে তারা প্রতিটি জেনেটিক পরিবর্তনকে শনাক্ত করতে পারেন, যা প্রাকৃতিক নির্বাচন ‘নির্বাচন’ করে এবং সময়ের সাথে সাথে এর সংখ্যাও বৃদ্ধি করে।</p>
<p>কে কিচলার হোলডার এবং জেমস জে বুল, অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দুই গবেষক এরকম একটি পরীক্ষা করেছেন দুটি কাছাকাছি সম্পর্কযুক্ত প্রজাতি, ΦX174 এবং G4 ব্যাক্টেরিওফাজ এর  উপর। এই দুটি ভাইরাসই আমাদের অন্ত্রনালীর সবচেয়ে কমন ব্যাক্টেরিয়াম,  Eschericia coli কে সংক্রমন করে। গবেষকরা এই ফাজগুলোকে খুব উচু তাপমাত্রার পরিবেশের মুখোমুখি করেন এবং এই নতুন এবং উষ্ণ পরিবেশে বাচার জন্য সুযোগ দেন তাদের অভিযোজিত হবার। পরীক্ষা চলা কালীন সময়ে এই দুটো প্রজাতির  ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান হয়, এই নতুন পরিবেশে তাদের ফিটনেসও বৃদ্ধি পেয়েছে নাটকীয়ভাবে। উপরন্তু গবেষকরা উভয় ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করেন একটি সদৃশ্য প্যাটার্ন: পরীক্ষার শুরুতে ফিটনেস বেড়ে যাচ্ছে, কিন্তু তার পর সময়ের সাথে সাথে  এটি একটি স্থির পর্যায়ে নেমে আসে। লক্ষ্যনীয় বিষয়টি হলো, হোলডার এবং বুল সফল হয়েছিলেন এই ফিটনেস বৃদ্ধির কারন, সঠিক সেই ডিএনএ মিউটেশনটিকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">বন্য প্রকৃতিতে প্রাকৃতিক নির্বাচন:</span></p>
<p>যদিও পরীক্ষামুলক বিবর্তন গবেষনাগুলো প্রাকৃতিক নির্বাচন কিভাবে কাজ করছে সে সম্বন্ধ অভুতপুর্ব তথ্য যোগান দিয়েছে, কিন্তু তারপরও সেই প্রক্রিয়া শুধু সীমাবদ্ধ আছে সহজতর অর্গানিজমের গবেষনায়, যাদের ক্ষেত্রে কোন পরিবর্তন শনাক্ত করার জন্য বার বার জিনোম অনুক্রম করা সম্ভব হয়। কিছু গবেষকরা অবশ্য বলছেন, এই ধরনের পরীক্ষামুলক বিবর্তন গবেষনাগুলোতে সিলেকশন প্রেশার বা নির্বাচনী চাপটি অনেক বেশী শক্তিশালী (উল্লেখিত ব্যাকটেরিওফাজদের ক্ষেত্রে যেমন উচ্চ তাপমাত্র) এবং অপ্রাকৃতিক, অর্থাৎ হয়ত প্রকৃতিতে যে নির্বাচনী চাপ কোন অর্গানিজম অনুভব করে থাকে তা এই কৃত্রিম উপায়ে সৃষ্ট চাপের চেয়ে মৃদু হয়। যে কারনে আমাদের প্রয়োজন আছে আরো জটিলতর উন্নত জীবের মধ্যে আরো বেশী প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রাকৃতিক নির্বাচন সংক্রান্ত গবেষনা পরিচালৈনা করা। আর সে কারনে আমাদের অন্য একটা পথ খুজে বের করতে হবে অনেক বিবর্তনীয় পরিবর্তনের অতি মন্থর গতিটি</p>
<p><img class="alignnone  wp-image-2408" title="3" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/31.jpg?w=828&#038;h=1621" alt="" width="828" height="1621" /><br />ছবি: প্রজাতিকরণ এবং প্রাকৃতিক নির্বাচন ( <a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/31.jpg">বড় করে দেখার জন্য ক্লিক করুন</a>); ইলাসট্রেশন: <em>Tommy Moorman</em></p>
<p>এ কাজটা করতে সচরাচর বিবর্তনবিদরা এমন প্রজাতির জনগোষ্ঠীকে বেছে নেন যারা এত দীর্ঘদিন ধরে পৃথক থাকে যে, তাদের মধ্যে  তাদের মধ্যে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্ট হওয়া অ্যাডাপটিভ পার্থক্যগুলোর খুব সহজে লক্ষ্য করা যায়। জীববিজ্ঞানীরা তার পর সেই পার্থক্যগুলোর জীনগত ভিত্তি খুজে বের করেন। যেমন মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ডগলাস ডাবলিউ শেমস্কে এবং ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচ ডি ব্র্যাডশ (জুনিয়র) দুই প্রজাতির মাঙ্কি ফুলের উপর প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রভাব বিশ্লেষন করেছিলেন তাদের গবেষনায়। যদিও মাঙ্কি ফুলের এই দুই প্রজাতি বেশ কাছাকাছি সম্পর্কের প্রজাতি হলেও <em>Mimulus lewisii</em> কে প্রধানত: পরাগায়ন করে বাম্বল বি বা মৌমাছি, অন্যদিতে <em>Mimulus cardinalis</em> এর পরাগায়ন করে প্রধানত হামিংবার্ডরা। <em>Mimulus</em>  জেনাসের অন্যান্য প্রজাতির উপরে গবেষনায় দেখা গেছে, এদের প্রজাতিদের মধ্যে পাখির মাধ্যমে পরাগায়ন বিবর্তিত হয়েছে মৌমাছির মাধ্যমে পরাগয়ন থেকে।</p>
<p>শুধুমাত্র যদি ফুলের রং ধরা হয়,যেমন, <em>M.lewisii</em> যার ফুলের রং গোলাপী ( অন্য নাম পিঙ্ক মাঙ্কি ফ্লাওয়ার) এবং M. cardinalis এর ফুলের রং লাল (স্কারলেট মাঙ্কি ফ্লাওয়ার) (উপরে ডায়াগ্রাম দেখুন), এই দুই প্রজাতির ভিন্ন পরাগায়নকারী বেছে নেবার কারন কিন্ত অনেকাংশে ব্যাখ্যা করতে পারে। যখন শেমস্কে এবং ব্র্যাডশ এই দুই প্রজাতির মধ্যে ক্রশ বা আন্ত:প্রজনন করান এবং দেখান যে, এই রঙ এর পার্থক্য অনেকাংশে নিয়ন্ত্রন করে জীনোমের যে অংশ, সেটি হচ্ছে সম্ভবত একটি একক জীন,<em>Yellow Upper,</em>বা<em> </em><em>YUP</em>;এই আবিষ্কারটির উপর ভিত্তি করে তারা দুই ধরনের শংকর বা হাইব্রিড প্রজাতির মাঙ্কিফ্লাওয়ার তৈরী করেন। এক ধরনের হাইব্রিডে <em>YUP</em> জীনটি এসেছে  <em>M. cardinalis  </em>এর কাছ থেকে, কিন্তু বাকী জীনোমের উৎস <em>M.lewisii;</em> এই <em>M.lewisii</em> হাইব্রিডগুলোর ফুলের রং হয় কমলা। দ্বিতীয় ধরনের হাইব্রিডটি প্রথমটারই মিরর ইমেজ: অর্থাৎ এর YUP জীনটি এসেছে M.lewisii র কাছ থেকে, এবং জীনোমের বাকী অংশ এসেছে <em>M. cardinalis </em>এর কাছ থেকে, এক্ষেত্রে ফুলের রং হয়েছিল গোলাপী (<em>M. cardinalis</em> হাইব্রীড)<em> </em>। এই হাইব্রিড প্রজাতিদের তারা যখন প্রকৃতিতে বা বন্য পরিবেশে রোপন করেন, তারা লক্ষ্য করেন এই YUP জীনটি পরাগায়নকারী প্রানীদের ফুলটিতে বেড়াতে আসার ক্ষেত্রে বিশাল প্রভাব ফেলছে। হাইব্রীড M.lewisii প্রজাতি, যার YUP জীনটি M. cardinalis  এর, সেখানে বিশুদ্ধ M.lewisii প্রজাতির ফুলের তুলনায় হামিংবার্ড বেড়াতে আসছে ৬৮ গুন বেশীবার। এবং সমতুল্য অপর পরীক্ষায় দেখা যায়, হাইব্রিড M. cardinalis , যাদের YUP জীনটির উৎস M. lewisii, সেখানে বিশুদ্ধ M. cardinalis এর প্রজাতির ফুলের তুলনায় বাম্বল বি বা মৌমাছি বেড়াতে এসেছে ৭৪ গুন বার বেশী। কোন সন্দেহের অবকাশ নেই, যে এই YUP জীনটি M. cardinalis প্রজাতির পাখী পরাগায়নকারীর বিবর্তনের ক্ষেত্রে অত্যান্ত গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রেখেছে। শেমস্কে এবং ব্র্যাডশ‘র গবেষনা প্রমান করে প্রাকৃতিক নির্বাচন মাঝে মাঝে এমন  অভিযোজনীয় বৈশিষ্ট তৈরী করে যার ভিত্তি খুবই সাধারন কিছু জীনগত পরিবর্তন।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/mimulus.jpg"><img class="alignnone  wp-image-2426" title="mimulus" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/mimulus.jpg?w=637&#038;h=317" alt="" width="637" height="317" /><br /></a>ছবি: মাঙ্কি ফ্লাওয়ার ( ১ <em>Mimulus lewisii</em>  ২ <em>Mimulus cardinalis); </em>ছবিসুত্র: ইন্টারনেট)<a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/mimulus.jpg"><br /></a></p>
<p><span style="color:#ff0000;">প্রজাতির উৎপত্তি:</span></p>
<p>প্রাকৃতিক নির্বাচন নিয়ে ডারউইনের সবচেয়ে সাহসী দাবী ছিল, যে এটি প্রজাতি কিভাবে উৎপত্তি হয় তার ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম ( সর্বোপরি ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত তার মাষ্টার পীস এর শিরোনামই ছিল <em>On the Origin of Species</em>); কিন্তু আসলেই কি তা পারে ? আজ  অবধি এটি বিবর্তন জীববিজ্ঞানে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ গবেষনার বিষয়ের প্রতিনিধিত্ব করছে।</p>
<p>এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বোঝার আগে স্পষ্ট করে বুঝতে হবে বিবর্তন জীববিজ্ঞানীরা আসলে  ‘প্রজাতি বা স্পিসিস‘ বলতে কি বোঝাচ্ছেন। ডারউইন থেকে ভিন্নভাবে, আধুনিক জীববিজ্ঞানীরা, প্রজাতির যে সংজ্ঞাটিকে অনুসরন করেন, সেটি হলো, ’বায়োলজিক্যাল স্পিসিস কনসেপ্ট’, এর মুল বিষয়টি হলো, প্রজাতিরা প্রজননের দিক থেকে অন্য প্রজাতি থেকে বিচ্ছিন্ন, অর্থাৎ তারা জীনগত কিছু ট্রেইট বা বৈশিষ্ট ধারন করে যা তাদের অন্য কোন গ্রুপের সাথে জীন আদান প্রদানে বাধা দেয়। অন্য ভাবে বলা যেতে পারে পৃথক পৃথক প্রজাতির পৃথক পৃথক জীন পুল থাকে।</p>
<p>সাধারনত: ভাবা হয়, দুটি জনগোষ্ঠীকে অবশ্যই ভৌগলিকভাবে বিচ্ছিন্ন হতে হবে তাদের ’প্রজনন বিচ্ছিন্নতা’ ‍বা ’রিপ্রোডাক্টিভ আইসোলেশন’ বিবর্তিত হবার জন্য। গালাপাগোস দ্বীপপুন্জ্ঞের দ্বীপগুলোতে ফিন্চ প্রজাতির পাখিরা যারা আলাদা আলাদা দ্বীপগুলোতে বসবাস করতো-যাদের কথা ডারউইন তার ’অরিজিন অব স্পিসিস’ বইটিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছিলেন- ভৌগলিকভাবে তারা বিচ্ছিন্ন হবার পর অবশ্যই বিবর্তিত হয়ে ভাগ হয়েছে বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রজাতিতে, যা আমরা বর্তমানে দেখতে পাচ্ছি।</p>
<p>একবার যখন প্রজনন বিচ্ছিন্নতা বিবর্তিত হয়, এটি নানা আকার ধারন করতে পারে, যেমন, কোন প্রজাতির স্ত্রী সদস্যরা প্রাকপ্রজনন আচরণ বা কোর্টশীপ এর সময় অন্য প্রজাতির পুরুষদের সাথে প্রজনন বা মেটিং এ অস্বীকৃতি জানাতে পারে ( যদি এই দুই প্রজাতি কখনো ভৌগলিকভাবে পরস্পরের সংস্পর্শে আসে); প্রজাপতির প্রজাতি, <em>Pieris occidetalis</em> এর স্ত্রী সদস্যরা নিকটবর্তী সম্পর্কিত প্রজাতি <em>Pieris protodice</em> এর পুরুষ সদস্যদের সাথে প্রজনন করে না, সম্ভাব্য কারন মনে করা হয় এই দুই প্রজাতির পুরুষ সদস্যদের ডানা বা উইং এর প্যাটার্ণ বা নকশার ভিন্নতা;  যা স্ত্রী প্রজাতিতের স্বপ্রজাতি শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এবং এমনকি যদি দুটি প্রজাতি কোর্টশীপ এবং প্রজনন করেও, তবে এদের হাইব্রীড হয় স্বল্পায়ু বিশিষ্ট নতুবা প্রজনন অক্ষম বা বংশ বৃদ্ধির ক্ষমতাহীন; এই বিষয়টি আবার এক ধরনের প্রজনন বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে: কারন জীন এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতির মধ্যে প্রবেশ করতে পারেনা, যেহেতু এদের হাইব্রীডরা হয় মারা যায় বা স্টেরাইল বা পরবর্তী বংশধর সৃষ্টিক্ষম থাকেনা। আধুনিক জীববিজ্ঞানীদের কাছে তাহলে, প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রজাতির উৎপত্তির প্রক্রিয়ায় কোন ভুমিকা রাখে কিংবা রাখে না, এই প্রশ্নটি আসলে রুপান্তরিত হয়েছে, প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রজনন বিচ্ছিন্নতা উৎপত্তির প্রক্রিয়ায় ভুমিকা রাখে, কি রাখে না এই প্রশ্নে।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/pieris.jpg"><img class="alignnone  wp-image-2427" title="pieris" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/pieris.jpg?w=637&#038;h=243" alt="" width="637" height="243" /></a>ছবি: ১ <em>Pieris protodice</em> ( নর্থ আমেরিকার ক্যাবেজ বাটারফ্লাই) ২ <em>Pieris occidetalis</em> ওয়েষ্টার্ন হোয়াইট বাটারফ্লাই ( ছবিসুত্র: ইন্টারনেট)</p>
<p>বিংশ শতাব্দীর বেশীর ভাগ সময় ধরেই অনেক বিবর্তনবাদী এর উত্তর মনে করতেন, ’না‘; বরং তারা বিশ্বাস করতেন ’জেনেটিক ড্রিফট’ হলো স্পিসিয়েশন বা প্রজাতিকরণের সবচে গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। কিন্তু প্রজাতির উৎপত্তি সংক্রান্ত আধুনিক গবেষনা থেকে পাওয়া একটি গুরুত্বপুর্ণ তথ্য হলো, প্রজাতির উৎপত্তি সম্বন্ধে জেনেটিক ড্রিফট হাইপোথিসিসটি সম্ভবত ভুল, বরং প্রাকৃতিক নির্বাচনই প্রজাতিকরন প্রক্রিয়ায় মুখ্য ভুমিকাটি পালন করে।</p>
<p>এর একটি ভালো উদহারন হতে পারে, আগে বর্ণনা করা  দুই ধরনের মাঙ্কি ফ্লাওয়ারের বিবর্তন ইতিহাস; যেহেতু তাদের পরাগায়নকারী প্রানীগুলো ( বাম্বল বী এবং ‍হামিংবার্ড) অত্যন্ত কদাচিৎ ’ভুল’ প্রজাতির ফুলের নেকটার বা মধূ পান করতে যায়, সেকারনে দুটি প্রজাতি প্রায় পুরোপুরি ‘প্রজনন বিচ্ছিন্ন’; যদিও উত্তর আমেরিকায় এই দুই প্রজাতি মাঝে মাঝে একই জায়গায় হতে পারে, কোন একটি মৌমাছি যে <em>M.</em><em> </em><em>lewisii</em> এর ফুলে যায়, প্রায় কখনোই সে <em>M. cardinalis </em>এর ফুলে বসে না, এবং একটি হামিংবার্ড যে <em>M. cardinalis</em> এর ফুলে মধু পান করত আসে, সে <em>M.</em><em> </em><em>lewisii</em> ফুলে প্রায় কখনোই যায়না। এভাবে দুই প্রজাতির মধ্যে ফুলের রেণু আদান প্রদানও হয়না প্রায় কখনোই। শেমস্কি এবং তার সহযোগীরা দেখিয়েছেন পরাগায়নকারীদের মধ্যে এই পার্থক্য আসলেই একক ভাবে ৯৮ ভাগে আন্ত: প্রজাতি জীনপ্রবাহের প্রতিবন্ধকতার জন্য দায়ী। এই ক্ষেত্রে, সে কারনেই কোন সন্দেহ নেই, প্রাকৃতিক নির্বাচন এই উদ্ভিদটির নির্দিষ্ট একটি পরাগায়নকারীর প্রতি নির্ভরশীল হবার অভিযোজনীয় বৈশিষ্টটির আকার দেয় এবং শক্তিশালী প্রজনন বিচ্ছিন্নতার সৃষ্টি করে।</p>
<p>প্রজাতিকরণ প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক নির্বাচনের ভুমিকা সংক্রান্ত অন্যান্য প্রমানগুলো পাওয়া গেছে কিছু অপ্রত্যাশিত গবেষনার ক্ষেত্র থেকে। প্রায় গত একদশক ধরে বিবর্তনীয় জীনতত্ত্ববিদরা প্রায় আধা ডজন জীন শনাক্ত করেছেন, যা হাইব্রিড প্রজাতির বংশবৃদ্ধি করার অক্ষমতা বা বেচে থাকতে না পারার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। যে জীনগুলোর কথা বলা হচ্ছে, তাদের নিয়ে গবেষনা হয়েছে <em>Dorsophila </em>ফ্রুট ফ্লাই বা ফলের মাছিতে। এই জেনাসের প্রজাতিদের মধ্যে, সেখানে এরা নানা ধরনের স্বাভাবিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত: কেউ উৎসেচক বা এনজাইম এর সংকেত বহন করে,কেউ বা গঠনতান্ত্রিক বা স্ট্রাক্চারাল প্রোটিনের সংকেত কিংবা ডিএনএ এর সাথে সংযুক্ত হওয়া প্রোটিন তৈরীর সংকেত বহন করে।</p>
<p>এই জীনগুলো দুটি লক্ষনীয় বৈশিষ্ট প্রদর্শন করে,প্রথমত, যে জীনগুলো কোন হাইব্রিড প্রজাতির মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি করে, তাদের বেশীর ভাগই দেখা গেছে খুব বেশী দ্রুত বিভাজিত বা ‍ভাইভার্জ হয়েছে, দ্বিতীয়ত, পপুলেশন জেনেটিসিস্টদের পরিসংখ্যানগত পরীক্ষার তথ্য দেখাচ্ছে, তাদের দ্রুত বিবর্তনের পরিচালিত হচ্ছে প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রক্রিয়ায়।</p>
<p>মাঙ্কি ফ্লাওয়ার এর উপর গবেষনা এবং হাইব্রিডদের বংশবৃদ্ধি করার অক্ষমতা সংক্রান্ত এই গবেষনাগুলো শুধুমাত্র ক্রমশ বাড়তে থাকা অসংখ্য গবেষনার শুধু উপরিপৃষ্ঠ, যারা প্রজাতিকরণ প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক নির্বাচনের ভুমিকার গুরুত্ব প্রকাশ করেছে। আসলেই, বেশীর ভাগ জীববিজ্ঞানীরা এখন মনে করেন, প্রাকৃতিক নির্বাচন বিবর্তন প্রক্রিয়া মুল চালিকা শক্তি, যা শুধু  প্রজাতির মধ্যে বিবর্তনীয় পরিবর্তনই না নতুন প্রজাতির উৎপত্তিতেও ভুমিকা রাখে। যদিও কিছু অপেশাদার মানুষ এখনও অব্যাহতভাবে এর অকাট্যতা বা পর্যাপ্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যাচ্ছেন, কিন্তু গত কয়েক দশকে বিবর্তন জীববিজ্ঞানীদের কাছে এর অবস্থান, হয়তো খানিকটা আইরোনীর সাথে, আরো বিশ্বাসযোগ্য এবং আরো সুরক্ষিত হয়েছে।</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/kmhb.wordpress.com/2162/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/kmhb.wordpress.com/2162/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/kmhb.wordpress.com/2162/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/kmhb.wordpress.com/2162/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/kmhb.wordpress.com/2162/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/kmhb.wordpress.com/2162/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/kmhb.wordpress.com/2162/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/kmhb.wordpress.com/2162/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/kmhb.wordpress.com/2162/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/kmhb.wordpress.com/2162/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/kmhb.wordpress.com/2162/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/kmhb.wordpress.com/2162/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/kmhb.wordpress.com/2162/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/kmhb.wordpress.com/2162/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=2162&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://kmhb.wordpress.com/2012/02/21/%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a6%b6%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/e40bfc2ea43f56cde7024fc67c614894?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">kazimahboob</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/17-02-2012-8-25-41-pm.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">17-02-2012 8-25-41 PM</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/1.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">1</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/2.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">2</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/20-02-2012-1-30-25-pm.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">20-02-2012 1-30-25 PM</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/31.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">3</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/mimulus.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">mimulus</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/pieris.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">pieris</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>বাংলা&#8230;.</title>
		<link>http://kmhb.wordpress.com/2012/02/19/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be/</link>
		<comments>http://kmhb.wordpress.com/2012/02/19/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 19 Feb 2012 20:49:11 +0000</pubDate>
		<dc:creator>K M Hassan</dc:creator>
				<category><![CDATA[সমাজ]]></category>
		<category><![CDATA[একুশে ফ্রেব্রুয়ারী]]></category>
		<category><![CDATA[International Mother Language day]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://kmhb.wordpress.com/?p=2386</guid>
		<description><![CDATA[ছবি: ডিজিটাল মিডিয়া, আসমা সুলতানা মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দেবার নজির আর নেই। ভাষার প্রতি ভালোবাসা একদিন স্বাধীনতা এনেছে। সব শহীদদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। বাংলা অক্ষরে আজ লিখতে পারছি, পড়তে পারছি ইন্টারনেটে&#8230; মনের ভাব প্রকাশ করতে পারছি। যে মেধাবী মানুষগুলো এই সুযোগ করে দিয়েছেন বছরের পর বছর তাদের পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে তাদের প্রতি [...]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=2386&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/19-02-2012-3-22-43-pm1.jpg"><img class="alignnone  wp-image-2390" title="19-02-2012 3-22-43 PM" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/19-02-2012-3-22-43-pm1.jpg?w=828&#038;h=514" alt="" width="828" height="514" /></a><em>ছবি: ডিজিটাল মিডিয়া, আসমা সুলতানা</em></p>
<p>মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দেবার নজির আর নেই।<br />
ভাষার প্রতি ভালোবাসা একদিন স্বাধীনতা এনেছে। সব শহীদদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।</p>
<p>বাংলা অক্ষরে আজ লিখতে পারছি, পড়তে পারছি ইন্টারনেটে&#8230; মনের ভাব প্রকাশ করতে পারছি।<br />
যে মেধাবী মানুষগুলো এই সুযোগ করে দিয়েছেন বছরের পর বছর তাদের পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।</p>
<p>আমাদের বাংলা ভাষা ২১ ফেব্রুয়ারী সারা পৃথিবীতে <a href="http://www.internationalmotherlanguageday.com/index2.php?pageid=2">আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস</a>  এর ভিত্তি রচনা করেছে। সব মাতৃভাষার জন্য  একজন বাংলা ভাষীর শুভেচ্ছা।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/19-02-2012-3-23-45-pm.jpg"><img class="alignnone  wp-image-2387" title="19-02-2012 3-23-45 PM" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/19-02-2012-3-23-45-pm.jpg?w=828&#038;h=494" alt="" width="828" height="494" /></a></p>
<p><em><em>ছবি: ডিজিটাল মিডিয়া, আসমা সুলতানা</em></em></p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/kmhb.wordpress.com/2386/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/kmhb.wordpress.com/2386/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/kmhb.wordpress.com/2386/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/kmhb.wordpress.com/2386/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/kmhb.wordpress.com/2386/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/kmhb.wordpress.com/2386/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/kmhb.wordpress.com/2386/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/kmhb.wordpress.com/2386/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/kmhb.wordpress.com/2386/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/kmhb.wordpress.com/2386/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/kmhb.wordpress.com/2386/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/kmhb.wordpress.com/2386/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/kmhb.wordpress.com/2386/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/kmhb.wordpress.com/2386/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=2386&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://kmhb.wordpress.com/2012/02/19/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>5</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/e40bfc2ea43f56cde7024fc67c614894?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">kazimahboob</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/19-02-2012-3-22-43-pm1.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">19-02-2012 3-22-43 PM</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/19-02-2012-3-23-45-pm.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">19-02-2012 3-23-45 PM</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>বিবর্তন কি ?</title>
		<link>http://kmhb.wordpress.com/2012/02/09/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a6%bf/</link>
		<comments>http://kmhb.wordpress.com/2012/02/09/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a6%bf/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 10 Feb 2012 01:59:30 +0000</pubDate>
		<dc:creator>K M Hassan</dc:creator>
				<category><![CDATA[জীববিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[বিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[বিবর্তন]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>
		<category><![CDATA[জেরী কয়েন]]></category>
		<category><![CDATA[Jerry Coyne]]></category>
		<category><![CDATA[Why Evolution is ture]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://kmhb.wordpress.com/?p=2211</guid>
		<description><![CDATA[শীর্ষ ছবি: চার্লস রবার্ট ডারউইন (১২ ফেব্রুয়ারী ১৮০৯ -১৯ এপ্রিল ১৮৮২)(ছবি সুত্র: Scientific American, January 2009) Authors of the highest eminence seem to be fully satisfied with the view that each species has been independently created. To my mind it accords better with what we know of the laws impressed on matter by the Creator, that [...]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=2211&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/charles-darwin.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-2244" title="Charles Darwin" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/charles-darwin.jpg?w=490" alt=""   /></a><br />
শীর্ষ ছবি: চার্লস রবার্ট ডারউইন (১২ ফেব্রুয়ারী ১৮০৯ -১৯ এপ্রিল ১৮৮২)<em>(ছবি সুত্র: Scientific American, January 2009)</em></p>
<p><span style="color:#0000ff;"><em>Authors of the highest eminence seem to be fully satisfied with the view that each species has been independently created. To my mind it accords better with what we know of the laws impressed on matter by the Creator, that the production and extinction of the past and present inhabitants of the world should have been due to secondary causes, like those determining the birth and death of the individual. When I view all beings not as special creations, but as the lineal descendants of some few beings which lived long before the first bed of the Silurian system was deposited, they seem to me to become ennobled. </em>Charles Darwin<em> ( On The Origin of Species; Chapter 14: Recapitulation and Conclusion)</em></span></p>
<p><span style="color:#0000ff;"><em>A curious aspect of the theory of evolution is that everybody thinks he understands it.</em> Jacques Monod</span></p>
<p><span style="color:#ff0000;">শুরুর কথা:  </span>মানব সভ্যতার ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে শক্তিশালী আর বৈপ্লবিক ধারনাটির জন্ম দিয়েছিলেন প্রতিভাবান বৃটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী <span style="color:#ff0000;">চার্লস ডারউইন</span>: প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন। জীববিজ্ঞান তো বটেই বিজ্ঞানের নানা শাখায় এর প্রভাব সুদুরপ্রসারী। ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত তার মাষ্টারপিস <span style="color:#ff0000;"><em>On the Origin of Species </em></span>বইটি, পৃথিবী এবং তার মধ্যে আমাদের নিজেদের অবস্থান সম্বন্ধে, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গীটাকে চিরকালের মত বদলে দিয়েছে; খুব সরল এই ধারনার মাধ্যমে, ডারউইন পেরেছিলেন জীবের সকল জটিলতা আর বৈচিত্রের সাধারন একটি ব্যাখ্যা দিতে। গত দেড় শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা তার এই ধারনাটির স্বপক্ষে প্রমান জুগিয়েছে, যা এখনও অব্যাহত আছে। বিবর্তন তত্ত্বের বিরোধীতার কারন কখনোই এর প্রমানের স্বল্পতা নয়, বরং এর সম্বন্ধে অজ্ঞতা। বিজ্ঞান এবং যুক্তির আলোয় কুসংস্কারমুক্ত জীবন উদযাপনের দিন হিসাবে চার্লস ডারউইনের জন্মদিন, ১২ ফেব্রুয়ারীকে বেছে নেয়া হয়েছিল নব্বই দশকের শুরুতে, আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবস হিসাবে। ১২ ফেব্রুয়ারী, <span style="color:#ff0000;">বিশ্ব ডারউইন দিবস <span style="color:#000000;">এ</span></span> ডারউইনের প্রতি সন্মান জানিয়ে আমার এই প্রয়াস। এটি মুলত শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেরি কয়েন  ( <span style="color:#ff0000;">Jerry A. Coyne</span>) এর <span style="color:#ff0000;"><em>Why Evolution is true</em></span>  বইটির <span style="text-decoration:underline;">প্রথম অধ্যায়</span> <span style="color:#ff0000;"><em>What is Evolution?</em></span> এর একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা। ডারউইনের অসাধারন ধারনাটি, বিবর্তন তত্ত্বটির মুলনীতিগুলোই সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এই লেখাটিতে। পুরো বইটি অনুবাদ অবশ্য অব্যাহত থাকবে, সেজন্য যারা আগ্রহী তাদের হয়ত ভবিষ্যতে আবার এই ব্লগে ফিরে আসতে হবে। আসুন আমরা চেষ্টা করি ক্রমশ বাড়তে থাকা অন্ধ কুপমন্ডুকতার ব্যতিক্রম হবার জন্য।</p>
<p style="text-align:center;"><span id="more-2211"></span></p>
<p style="text-align:center;"><span style="color:#ff0000;">প্রথম অধ্যায়:</span><span style="text-decoration:underline;"><span style="color:#ff0000;text-decoration:underline;"><br />
</span></span><span style="color:#ff0000;"> বিবর্তন কি?</span></p>
<p style="text-align:left;">প্রকৃতি সম্বন্ধে যদি কোন কিছু  সত্যি হয়ে থাকে,তা হলো,যে কোন উদ্ভিদ এবং প্রানীকে দেখলে মনে হয়,তাদের  জীবন ধারনের জন্য, অত্যন্ত সুক্ষ্ম জটিলতার  সাথে এবং প্রায় নিখুঁতভাবে তাদের ডিজাইন বা পরিকল্পিনা করা হয়েছে । স্কুইড এবং  ফ্ল্যাটফিস,নিমেষে তাদের রঙ এবং শরীরের নকশা বদলে চারপাশের পরিবেশের সাথে মিশে যেতে পারে;শিকারী এবং শিকার,উভয়ের কাছেই অদৃশ্য হয়ে। বাদুড়দের আছে বিস্ময়কর রাডার,অন্ধকার রাতে যা তাদের পোকামাকড় খুজতে সাহায্য করে। হামিংবার্ডরা, যারা শুন্যে একই জায়গায় ভেসে থাকতে পারে আর এক পলকের মধ্যে বদলে ফেলতে পারে তাদের দিক,মানুষের তৈরী যে কোন হেলিকপ্টারের তুলনায় যা অনেক ক্ষিপ্রগতি সম্পন্ন এবং ফুলের গভীরে লুকিয়ে রাখা মধু খেতে তাদের আছে সুদীর্ঘ একটি জিহবা। এবং যে ফুলগুলোর মধু খেতে এরা যায়,তারাও আপাতদৃষ্টিতে পরিকল্পিত-হামিংবার্ডদের ব্যবহার করছে তাদের যৌন প্রজননে সহায়ক হিসাবে। কারন,যখন হামিংবার্ডরা ফুলের মধ্যে জিহবা ডুবিয়ে মধু খেতে ব্যস্ত থাকে,ফুল তাদের লম্বা ঠোটে পরাগরেণু মাখিয়ে দেয়,যেন পরাগরেণুরা হামিংবার্ডরা এর পরের যে ফুলের মধু খেতে যাবে,সেই ফুলকে যেন নিষিক্ত করতে পারে। প্রকৃতিকে দেখলেই মনে হতে পারে, যেন একটি নির্ঝঞ্চাট মসৃন ভাবে চলা যন্ত্র, প্রতিটি প্রজাতি যার কগ বা খাজ কাটা চাঁকা কিংবা গিয়ার।</p>
<p style="text-align:left;"><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/hummingbird1.jpg"><img title="Hummingbird" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/hummingbird1.jpg?w=637&#038;h=439" alt="" width="637" height="439" /><br />
</a><em>ছবি: ফুলের মধু খাচ্ছে হামিংবার্ড ( ছবিসুত্র:  Alan Trammel; <a href="http://alanphoto.smugmug.com/Hummingbirds/Hummingbirds-2/19014439_svnz7r#!i=1478054813&amp;k=5FGhCL8">Alan Trammel Photography</a>) </em></p>
<p>এই সব কিছু তাহলে কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে হয়? নিশ্চয়ই একজন মাষ্টার মেকানিক এর। এই বিখ্যাত উপসংহারটিই প্রস্তাব করেছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর ইংরেজ দার্শনিক উইলিয়াম প্যালে। তিনি বলেছিলেন,যদি আমরা মাটিতে পড়ে থাকা কোন একটি ঘড়ি খুজে পাই,আমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারবো, এটি সৃষ্টি করেছে কোন ঘড়ি নির্মাতা। সেভাবেই,সুঅভিযোজিত জীবদের অস্তিত্ব এবং তাদের সুক্ষ্মতম জটিল বৈশিষ্টগুলো নিশ্চয়ই ইঙ্গিত দিচ্ছে একটি সচেতন স্বর্গীয় ডিজাইনার বা পরিকল্পনাকারীর -অর্থাৎ একজন ঈশ্বর এর। দর্শনের ইতিহাসে অন্যতম বিখ্যাত,পেইলী প্রস্তাবিত সেই যুক্তিটি বা আর্গুমেন্টটিকে আসুন একটু লক্ষ্য করি:</p>
<blockquote><p>আমরা যখন কোন একটি ঘড়িকে সংবীক্ষন করি,আমরা বুঝতে পারি&#8230;..এর বিভিন্ন অংশের তৈরী করা একটি কাঠামোয় এদের একত্র করা হয়েছে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে,যেমন,তাদের এমনভাবে গঠন করা হয়েছে এবং তাদের কাজে আনা হয়েছে এমন একটি সুক্ষ্ম সামন্জষ্য,যেন তারা একটি গতি র সৃষ্টি করতে পারে এবং এই গতিটি এতই সুক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রিত যে, সেটি দিনের প্রতিটি ঘন্টাকে নির্দেশ করতে সক্ষম হয়। এবং, সেকারনেই, যদি এর বিভিন্ন অংশ তাদের বর্তমান আকার থেকে ভিন্ন হতো,কিংবা যদি, এখন যেমন আছে তার চেয়ে  ভিন্ন আয়তনের বা ভিন্ন কোন উপায়ে তাদের সাজানো হত,বা যে ক্রমবিন্যাসে অংশ গুলো এখন অবস্থান করছে সেখানে ‍যদি কোন পরিবর্তন করা হতো,সেক্ষেত্রে এই যন্ত্রটিতে হয় আর কোন গতিই পরিলক্ষিত হতো না অথবা এমন কোন গতি সেখানে তৈরী হতো না, যা এই যন্ত্রটি বর্তমানে যে কাজটি করছে, তা করতে সক্ষম হত&#8230;..উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রতিটি চিহ্ন,কিংবা পরিকল্পনার প্রতিটি প্রকাশ,যার অস্তিত্ব এই ঘড়িটির মধ্যে বিদ্যমান,প্রকৃতির কাজের মধ্যেও তারও অস্তিত্ব বিদ্যমান,শুধু পার্থক্য, প্রকৃতির ক্ষেত্রে তা আরো সুবিশাল এবং বেশী,এবং সেটি এমন মাত্রার,যা সব গননার অতীত।</p></blockquote>
<p>যে যুক্তি পেইলী এত সুন্দর বাগ্মীতার সাথে প্রস্তাব করেছিলেন,তা একই সাথে সাধারন বোধ নির্ভর এবং সুপ্রাচীন। তিনি এবং তার সহকর্মী,’প্রাকৃতিক ধর্মতাত্ত্বিক’ রা যখন নানা ধরনের উদ্ভিদ এবং প্রানীদের বর্ণনা লিপিবদ্ধ করছিলেন, তাদের বিশ্বাস ছিল: ঈশ্বরের মহিমা এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতা,যা তার সুপরিকল্পিত সৃষ্টির মধ্যে প্রকাশমান, তারই তালিকা তৈরী  করছেন তারা।</p>
<p>ডারউইন নিজেও এই ডিজাইনের বা সুপরিকল্পিত পরিকল্পনার প্রশ্ন তুলেছিলেন &#8211; ১৮৫৯ সালে এটিকে চিরতরে বাতিল করার আগে-</p>
<blockquote><p>কেমন করে,সমষ্ঠিগত জীবনের এক অংশের সাথে অন্য অংশের এবং জীবনের নানা পরিস্থিতিগুলোর সাথে এবং একক ভাবে কোন একটি সুপৃথক জীবের মধ্যে দৃশ্যমান ঐসব অসাধারন চমকপ্রদ অভিযোজনগুলো কিভাবে এর নিখুত উৎকর্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে? আমরা কাঠ ঠোকরা আর মিসেলটোর মধ্যে চমৎকার সুন্দর এইসব সহ-অভিযোজনগুলো অনায়াসে দেখতে পাই। এবং শুধুমাত্র খানিকটা কম স্পষ্টভাবে দেখতে পাই অতিক্ষুদ্র পরজীবিদের মধ্যে, যারা চতুষ্পদী প্রানীদের চুল কিংবা পাখীর পালকের সাথে দৃঢ়ভাবে এঁটে থাকে;কিংবা গুবরে পোকাদের গঠনে যারা পানির মধ্যে ডুব দিতে পারে; কিংবা পালকসহ বীজের মধ্যে যাদের সামান্যতম হালকা বাতাস আলতো করে ভাসিয়ে নিয়ে যায়; সংক্ষেপে, আমরা  এই জৈব পৃথিবীর সর্বত্র এবং সর্বাংশে বিস্ময়করভাবে চমৎকার সব অভিযোজন দেখতে পাই।</p></blockquote>
<p>ডিজাইন বা পরিকল্পনার অমীমাংসিত ধাঁধার একটি নিজস্ব উত্তর ডারউইনের ছিল। একজন খুবই উৎসাহী আর মনোযোগী প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন, মুলত: ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে (যেখানে ঘটনাচক্রে, তিনি পেইলীর প্রাক্তন কক্ষেই থাকতেন) পড়াশুনা করছিলেন ধর্মযাজক হবার জন্য;  খুব ভালো করেই তিনি জানতেন পেইলীর মত এই ধরনের যুক্তিগুলোর সম্মোহনী ক্ষমতা। যত বেশী কেউ উদ্ভিদ আর প্রানীদের সম্বন্ধে জানবে, তত বেশী তারা আসলে বিস্মিত হবেন, কি অসাধারনভাবেই না তাদের ডিজাইন বা পরিকল্পনা করা হয়েছে যা তাদের জীবনের জন্য দারুনভাবে মানানসই। এই চমৎকার মানানসই হবার বিষয়টি, কোন ’সচেতন’ ডিজাইন বা পরিকল্পনাকেই প্রতিফলিত করছে, এমন একটি অনুমানসিদ্ধ উপসংহারের চেয়ে আর  কিইবা স্বাভাবিক হতে পারে? কিন্তু তারপরও ডারউইন এই ’সুস্পষ্ট’ উপসংহার ছাড়া আরো বেশী কিছু ভেবেছিলেন, এবং প্রস্তাব করেছিলেন -এবং এর স্বপক্ষে যথেষ্ট পরিমান প্রমান সহ -দুটি অসাধারন ধারনা, যা চিরকালের মত জীব সৃষ্টিতে সুপরিকল্পিত সচেতন কোন বুদ্ধিমান সত্ত্বার ডিজাইন বা পরিকল্পনার ধারনাটির চুড়ান্ত অসারতা প্রমান করে অপনোদন করেন। তার সেই আইডিয়া বা ধারনাগুলো হলো, বিবর্তন এবং প্রাকৃতিক নির্বাচন।</p>
<p>তিনি কিন্তু প্রথম না যিনি বিবর্তনের কথা ভেবেছিলেন-তার আগেই বেশ কয়েকজন, তার নিজের পিতামহ ইরাসমাস ডারউইন সহ, জীবন যে বিবর্তিত হয়েছে এই ধারনাটির সুচনা করেছিলেন। কিন্তু ডারউইন হচ্ছেন প্রথম ব্যক্তি যিনি প্রকৃতি থেকে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে বিবর্তন প্রক্রিয়াটি সত্য , কিন্তু তার প্রাকৃতিক নির্বাচনের ধারনাটি ছিল প্রকৃতপক্ষে নতুন এবং অভিনব; তার অসাধারন প্রতিভারই স্বাক্ষ্য দেয় যে বিষয়টি তা হলো, প্রাকৃতিক ধর্মতত্ত্বের যে ধারনাটি, ১৮৫৯ সালের আগে বেশীর ভাগ শিক্ষিত পশ্চিমা জনগোষ্ঠী গ্রহন করে নিয়েছিলেন, একটি ৫০০ পাতার বই প্রকাশের অল্প কয়েকবছরের মধ্যে তা পরাভুত হয়। অন দি অরিজিন অব স্পিসিস বইটি জীবনের বৈচিত্রতার সব রহস্যময়তাকে পুরাণ কাহিনী থেকে রুপান্তরিত করে বিশুদ্ধ বিজ্ঞানে ।</p>
<p>তাহলে. ’ডারউইনিজম’ ‍কি? ( বিবর্তন থিওরী বা তত্ত্বকে এখনো বলা হয়,ডারউইনিজম; যদিও বিষয় হিসাবে এটি,ডারউইন যতটুকু প্রস্তাব করেছিলেন,তার সীমানা ছাড়িয়ে গেছে বহু আগেই, যেমন তিনি ডিএনএ বা মিউটেশন সম্বন্ধে কিছুই জানতেন না; এধরনের কোন একক ব্যাক্তির নামের সাথে কোন বিষয়ের ‍ নামকে সংযুক্ত করার এই ইপোনমির উদহারনটি বেশ ব্যতিক্রম বিজ্ঞানের ইতিহাসে,আমরা ক্ল্যাসিকাল পদার্থবিদ্যাকে নিউটনিজম বা আপেক্ষিকতাকে আইনেস্টাইনিজম বলিনা। কিন্তু ডারউইন তার ধারনায় এতো বেশী সঠিক ছিলেন এবং তার ’অন দি অরিজিন অব স্পিসিস‘ বইটির মাধ্যমে বিষয়টিকে এতো ব্যাপক পর্যবেক্ষনের ‍ভিত্তির উপর দাড় করাতে পেরেছিলেন যে, সেকারনে অনেকের কাছেই বিবর্তন জীববিজ্ঞান তার নামের সমার্থক এ রুপান্তরিত হয়েছে। এই বইটিতে অনেক অধ্যায়ে আমি প্রায়শই ‘ডারউইনিজম’ শব্দটি ব্যবহার করবো,কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমি এর মাধ্যমে আধুনিক বিবর্তন জীববিজ্ঞানের থিওরীকে বোঝাতে চাচ্ছি) : প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন তত্ত্ব,খুবই সরল অথচ প্রগাঢ় সুন্দর এই তত্ত্ব; প্রায়শই যার সম্বন্ধে ভ্রান্ত একটা ধারনা পোষন করা হয় এবং এমনকি কখনো কখনো উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও বিদ্বেষপুর্ণভাবেই একে এমন ভাবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে, সে কারনেই উচিৎ হবে কয়েক মুহুর্তর বিরতি নেয়া, এবং এই তত্ত্বটির মুল বিষয় এবং এর প্রস্তাবিত দাবীগুলো প্রথমে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা। কারন পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে আলোচনার সময় আমরা বারবার এই মুল বিষয়গুলোতে ফিরে আসবো, সেই সংক্রান্ত প্রমানগুলো বিষদভাবে আলোচনা করার সময়।</p>
<p>আধুনিক বিবর্তন তত্ত্বর মুল বিষয়টিকে কিন্তু খুব সহজেই বোঝা সম্ভব; বিষয়টিকে সংক্ষেপে একটি বাক্য (যদিও খানিকটা দীর্ঘ) দ্বারা প্রকাশ করা যেতে পারে: পৃথিবীতে জীবন বিবর্তিত হয়েছে ক্রমান্বয়ে একটি আদিমতম প্রজাতি থেকে শুরু হয়ে-হয়ত আত্মপ্রতিলিপিকারী একটি অনু-যা প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন বছর আগে জীবিত ছিল; এর পর  সময়ের সাথে এটি বিভিন্ন শাখা প্রশাখায় বিভাজিত হয়ে অসংখ্য নতুন এবং বিচিত্র প্রজাতির জীবের জন্ম দেয়; এবং বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই (কিন্তু সবক্ষেত্রে নয়) এই ইভোল্যুশনারী বা বিবর্তনীয় পরিবর্তনের কর্মপদ্ধতি বা মেকানিজম হচ্ছে প্রাকৃতিক নির্বাচন বা ন্যাচারাল সিলেকশন।</p>
<p>যদি উপরের বাক্যটিকে, এর সরলতম মুল অংশগুলোয় ভাগ করা যায়, লক্ষ্য করবেন, বাক্যটিতে মোট ছয়টি প্রধান উপাদান আছে যা বিবর্তন তত্ত্বর মুল বিষয়গুলোকে প্রতিনিধিত্ব করছে: বিবর্তন, ক্রমান্বয়ে ধীরে ধীরে পরিবর্তন বা গ্রাজুয়ালিজম, স্পিসিয়েশন বা প্রজাতিকরণ, জীবজগতে সকল জীবের একটি কমন আনসেষ্ট্রি বা সাধারণ বংশধারা, প্রাকৃতিক নির্বাচন বা ন্যাচারাল সিলেকশন এবং ননসিলেকটিভ বা প্রাকৃতিক নির্বাচন ছাড়া অন্যান্য প্রক্রিয়াগুলো যা বিবর্তনীয় পরিবর্তন করতে সক্ষম। আসুন পরীক্ষা করে দেখি, এই অংশগুলোর প্রতিটি, বিবর্তনের প্রেক্ষাপটে কি অর্থ বহন করছে।</p>
<p>প্রথম ধারনাটিই হচ্ছে ’বিবর্তন’ এর ধারনা নিজেই। খুব সরলভাবে এর অর্থ হচ্ছে, সময়ের সাথে ধীরে ধীরে যে কোন একটি প্রজাতির মধ্যে জীনগত বা জেনেটিক পরিবর্তন সংঘটিত হয়। অর্থাৎ অনেকগুলো প্রজন্মান্তরে একটি প্রজাতি বিবর্তিত হতে পারে সম্পুর্ন ভিন্ন কোন কিছুতে এবং এইসব পার্থক্যগুলোর ভিত্তি হচ্ছে তাদের ডিএনএ’তে সংঘটিত পরিবর্তনসমুহ, যার উৎপত্তি ঘটছে কিছু মিউটেশন বা পরিব্যক্তি  হিসাবে। প্রানী এবং উদ্ভিদের যে প্রজাতিগুলো বর্তমানে আমরা জীবিত দেখছি, তারা অতীতে  একটি সময়ে কিন্তু  ছিলনা, কিন্তু অতীতে যাদের অস্তিত্ত্ব ছিল, এরা তাদেরই উত্তরাধিকার, তাদের লিনিয়েজেই এদের জন্ম। আমরা মানুষরা, যেমন বিবর্তিত হয়েছি এইপ-সদৃশ একটি প্রানী থেকে, তবে তারা বর্তমানে অস্তিত্ব আছে এমন আধুনিক কোন এইপদের মত হুবুহু কোন প্রানী ছিল না।</p>
<p>যদিও প্রতিটি প্রজাতি বিবর্তিত হয়, তাদের এই বিবর্তনের হার কিন্তু একই রকম নয়। কিছু প্রজাতি যেমন, হর্স শ্যু ক্র্যাব এবং গিংকো গাছ, বহু মিলিয়ন বছর ধরে যাদের খুব সামান্যই পরিবর্তিত হয়েছে। কোন একটি প্রজাতি অবিরতভাবে সবসময়ই বিবর্তিত হতে থাকবে কিংবা যখন তারা বিবর্তিত হবে, কত দ্রুত তারা পরিবর্তিত হবে, বিবর্তন তত্ত্ব কিন্তু এমন কোন ভবিষদ্বানী করেনা। কারন তা নির্ভর করবে, কি ধরনের বিবর্তীন চাপ বা ইভোল্যুশনারী প্রেশার এর অভিজ্ঞতা তাদের হয়। কিছু প্রানীদের গ্রুপ, যেমন মানুষ এবং তিমি বিবর্তিত হয়েছে বেশ দ্রুত, অন্যদিকে অন্য কিছু প্রানীদের গ্রুপ, যেমন সিলাকানথ , ‘জীবন্ত ফসিল’, এখনও দেখতে তারা প্রায় হুবুহু তাদের আদি পুর্বসুরী প্রানীদের মত, যারা কয়েক শত মিলিয়ন বছর আগে বেচে ছিল।</p>
<p>বিবর্তন তত্ত্বের দ্বিতীয় অংশটি হলো ক্রমান্বয়ে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ধারনাটি বা গ্রাজুয়ালিজম। অনেকগুলো প্রজন্ম অতিক্রম করতে হয় প্রজাতিতে কোন উল্লেখযোগ্য বিবর্তনীয় পরিবর্তন সৃষ্টির জন্য; যেমন সরীসৃপদের থেকে পাখিদের বিবর্তন। নতুন কোন উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যর বিবর্তন, যেমন চোয়াল এবং দাঁত, যা স্তন্যপায়ীদের পৃথক করেছে সরীসৃপদের থেকে, কিন্তু  একটি মাত্র বা অল্প কিছু প্রজন্মের মধ্যেই ঘটে না, বরং সাধারণত এর জন্য প্রয়োজন হয় শত শত বা হাজার হাজার-এমনকি মিলিয়ন মিলিয়ন প্রজন্মান্তরের। সত্যি, কিছু কিছু পরিবর্তন ঘটে অপক্ষোকৃত বেশ দ্রুততার সাথে। অনুজীব ( যেমন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস) জনগোষ্ঠীতে প্রজন্মের জীবনকালের দৈর্ঘ্য খুবই সংক্ষিপ্ত, কারো কারো ক্ষেত্রে মাত্র বিশ মিনিটের মত সংক্ষিপ্ত। এর অর্থ হচ্ছে,  এই অনুজীব প্রজাতিগুলো যথেষ্ট পরিমানে বিবর্তিত হতে পারে খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই, যার ফলাফল অসুখ সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়া এবং ভাইরাসদের মধ্যে হতাশাজনকভাবে খুব দ্রুত হারে বাড়তে থাকা ড্রাগ রেসিস্টট্যান্স এর ঘটনা (এরা এদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত নানা অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিভাইরালের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে); এবং এটাও মনে রাখা দরকার, বিবর্তনের অনেক উদহারনই আছে যেগুলো ঘটেছে মানুষের জীবনকালের মধ্যেই। কিন্তু আমরা যখনই কোন আসলেই কোন ’বড়’ পরিবর্তনের কথা বলি, আমরা সাধারনত বলতে চাই এমন কোন পরিবর্তনের কথা যার জন্য প্রয়োজন বহু হাজার বছর বা অনেক ব্যাপ্তির একটি সময়কাল। প্রতিটি প্রজাতি একটি নির্দিষ্ট সমান হারে বিবর্তিত হচ্ছে,গ্রাজুয়ালিজম এর অর্থ কিন্তু তা নয়। ঠিক যেমন বিভিন্ন প্রজাতি কত দ্রুত হারে বিবর্তিত হচ্ছে, সেখানে যেমন আন্তপ্রজাতি ভিন্নতা আছে, ঠিক তেমনি কোন একটি প্রজাতি, কত দ্রুত কিংবা মন্থর গতিতে বিবর্তিত হয় সেটি তাদের উপর আরোপিত বিবর্তনীয় চাপের তারতম্য অর্থাৎ বাড়া বা কমার উপরও নির্ভর করে। যখন প্রাকৃতিক নির্বাচন (নির্বাচনী চাপ বা সিলেকশন প্রেশার) শক্তিশালী,যেমন, যখন কোন প্রানী বা উদ্ভিদ প্রজাতি কোন নতুন একটি পরিবেশে তাদের অস্তিত্ব বিস্তার করে বা কলোনাইজ করে, বিবর্তনীয় পরিবর্তনও খুক দ্রুত ঘটতে পারে। যখনই প্রজাতিটি একটি সুস্থির আবাস স্থলে ভালো করে অভিযোজিত হয়,বিবর্তনী পরিবর্তনের হার তখন প্রায়শই মন্থর হয়ে পড়ে।</p>
<p>এর পরের দুটি মুলনীতি হলো আসলে একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। একটা অসাধারন বিস্ময়কর এবং উল্লেখযোগ্য বাস্তব সত্য হচ্ছে,অসংখ্য প্রজাতির অস্তিত্ব থাকলেও,আমরা সবাই -আপনি,আমি,হাতি আর টবের ক্যাকটাস &#8211; সবারই কিছু গুরুত্বপুর্ণ মৌলিক বৈশিষ্ট কিন্তু একই। এর মধ্যে আছে যেমন,প্রানরাসায়নিক যে বিক্রিয়ার ধাপগুলো আমরা ব্যবহার করি কোষের মধ্যে শক্তি প্রস্তুত করতে,আমাদের চার অক্ষর বিশিষ্ট ডিএনএ কোড বা সংকেত এবং যেভাবে এই কোডটি পড়া হয় এবং অনুদিত (ট্রান্সলেট) হয় সংকেত নির্দিষ্ট  প্রোটিন তৈরীর প্রক্রিয়ায়। এটাই বলে দিচ্ছে প্রতিটি প্রজাতি তাদের দুর অতীতের একটি সাধারন বা কমন আদি প্রানী থেকে বিবর্তিত,যে আদি পু্র্বসুরী জীবের মধ্যে এইসব সাধারণ বৈশিষ্টগুলো ছিল, যা সেই বৈশিষ্টগুলো তারা তাদের উত্তরসুরী বা বংশধরদের মধ্যে হস্তান্তর করেছে। কিন্তু লক্ষ্য করুন, বিবর্তন বলতে যদি শুধুমাত্র একটি প্রজাতির মধ্যে ক্রমান্বয়ে ধীরে ধীরে পরিবর্তনকে বোঝাতো, তাহলে আমরা আজ শুধুমাত্র একটি প্রজাতিকে দেখতাম পেতাম,  যা পৃথিবীর প্রথম প্রজাতির থেকে বংশানুক্রমে উদ্ভুত একক, অত্যন্ত্য জটিলভাবে উচ্চমাত্রায় বিবর্তিত কোন একটি উত্তরসুরী প্রজাতি। কিন্তু আমরা পৃথিবীতে একটা প্রজাতির বদলে দেখছি অসংখ্য প্রজাতি; বিজ্ঞানীদের বর্তমান ধারনা অনুযায়ী, প্রায় ১০ মিলিয়নেরও বেশ কিছু বেশী সংখ্যক প্রজাতির বসবাস এই পৃথিবীতে; এবং এছাড়া জীবাশ্ম রেকর্ড থেকে আমরা ইতিমধ্যেই জানি প্রায় আরো সিকি মিলিয়ন প্রজাতির অস্তিত্বর কথা। কোন সন্দেহ নেই জীবজগতের অসাধারন বিস্ময়কর বৈচিত্রময়তা সম্পর্কে। কেমন করে তাহলে,একটিমাত্র আদি পুর্বসুরী প্রানী থেকে এই অসাধারন জীববৈচিত্রতার উদ্ভব হলো? এই ধারনাটি ব্যাখ্যা করতে প্রয়োজন, বিবর্তনের তৃতীয় ধারনাটি: সেটি হলো বিভিন্ন প্রজাতিতে জীবের বিভাজন প্রক্রিয়া বা স্প্লিটিং অথবা আরো সঠিকভাবে বললে, ’স্পিসিয়েশন’, প্রজাতি উদ্ভব প্রক্রিয়া বা প্রজাতিকরণ।</p>
<p>নিচের ছবিটি (ডায়াগ্রাম ১) লক্ষ্য করুন, খুব সাধারন একটি বিবর্তন ট্রি বা বৃক্ষর এই ডায়াগ্রামটি দেখাচ্ছে, পাখিদের (বার্ড) এবং সরীসৃপদের (রেপটাইল) মধ্যে পারস্পরিক বিবর্তনীয় সম্পর্ক। অবশ্যই আপনারা অনেকেই এধরনের ট্রি বা বৃক্ষ ডায়াগ্রাম দেখেছেন আগে, আসুন আমরা নিচের ছবিটিকে আরেকটু ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করি বোঝার জন্য আসলে ড্রায়াগ্রামটা আমাদের কি তথ্য দিচ্ছে: আসলেই কি ঘটে, ধরুন, যখন জোড় বা নোড এক্স (X) দুটি লিনিয়েজ বা বংশধারায় বিভক্ত হয়, একটি লিনিয়েজে আধুনিক সরীসৃপ প্রজাতিগুলো, যেমন লিজার্ড এবং সাপদের বংশধারা বিবর্তিত হয়, অন্য লিনিয়েজ ধারায় তাদের ডায়নোসরীয় আত্মীয়দের বংশধার বিবর্তিত হয়? নোড এক্স (X)একটি একক ’আদি পুর্বসুরী প্রানী’ র প্রতিনিধিত্ব করছে; কোন একটি প্রাচীন সরীসৃপ বা রেপটাইল , যা দুটি উত্তরসুরী প্রজাতিতে বিভাজিত হয়েছে। এর একটি বংশধারা বা লিনিয়েজ, তার নিজস্ব পথে আরো অনেকবার বিভাজিত হয়ে, সকল ডায়নোসর এবং আধুনিক পাখীদের প্রজাতিতে বিবর্তিত হয়। অন্যধারাটিও তাই করে, আরো বহুবার বিভাজিত হয়ে বিবর্তিত হয় বেশীভাগ আধুনিক সরীসৃপদের নানা প্রজাতিতে। এই সাধারন বা কমন পুর্বসুরী X কে বলা হয়, ‘মিসিং লিঙ্ক’ বা উত্তরসুরী সব জীবদের পরস্পরের মধ্যে হারানো যোগসুত্র, এটাই আধুনিক সরীসৃপ প্রানী এবং পাখীদের মধ্যে বংশগতির বা জিনিয়ালজিক্যাল যোগসুত্র; এটা হচ্ছে সেই যোগসুত্র, উত্তরসুরী প্রজাতিদের সবার অতীত বরাবর পেছনে গেলে আমরা মিলিত হই যে একটি জায়গাটায়। এই ডায়াগ্রামে আরো অপেক্ষাকৃত কম প্রাচীন ’মিসিং লিঙ্ক’ ও আছে। যেমন, নোড Y, এই প্রজাতিটি দুই পায়ে চলা মাংশাসী ডায়নোসর, যেমন <em>Tyrannosaurus rex</em> (যারা সবাই এখন বিলুপ্ত) এবং আধুনিক পাখিদের কমন বা সাধারণ পুর্বসুরী প্রানী। কিন্ত‍ু যদিও সেই সাধারন পু্র্বসুরী প্রানীদের আজ অস্তিত্ব নেই, এবং তাদের জীবাশ্ম খুজে পাওয়া অনেক সময়ই প্রায় অসম্ভব একটি কাজ( কারন তারা হাজার হাজার জীবাশ্ম প্রজাতির মধ্যে একটি মাত্র প্রজাতিকে প্রতিনিধিত্ব করে); আমরা মাঝে মাঝে এমন কিছু জীবাশ্মর সন্ধান পেতে পারি, যাদের সাথে এই ’মিসিং লিঙ্ক’ প্রজাতির ঘনিষ্ট সম্পর্ক আছে, তারা এমন কোন প্রজাতির প্রতিনিধিত্ব করে, যাদের সম্পর্কযুক্ত সাধারন কমন বংশধারার প্রজাতিদের সাধারন বৈশিষ্টগুলো আছে। যেমন ’পালকসহ ডায়নোসর’ দের জীবাশ্ম, যা নোড Y কমন পুর্বসুরী প্রজাতির অস্তিত্ব প্রমান করে।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/08-02-2012-8-15-27-pm.jpg"><img class="alignnone  wp-image-2234" title="08-02-2012 8-15-27 PM" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/08-02-2012-8-15-27-pm.jpg?w=637&#038;h=508" alt="" width="637" height="508" /><br />
</a>ডায়াগ্রাম ১: একটি উদহারন যা সরীসৃপ প্রানীদের কমন বা সাধারন পুর্বসুরী প্রানীদের দেখাচ্ছে।  পরবর্তীতে বিবর্তিত হওয়া নানা ফর্ম এর  X এবং Y হচ্ছে আদি পুর্বসুরী প্রজাতি।<em> (পৃষ্ঠা ৫, Why Evolution Is True, Jerry Coyne)</em></p>
<p>তাহলে কি ঘটে যখন পুর্বসুরী প্রানী X, দুটি ভিন্ন প্রজাতিতে বিভাজিত হয়? বেশী কিছু না আসলে, আমরা পরবর্তীতে সেটা দেখবো, খুব সরলার্থে স্পিসিয়েশন বা প্রজাতিকরণ বলতে বোঝায়, বিভিন্ন গ্রুপগুলির বিবর্তন, যে গ্রুপগুলির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে প্রজনন (আন্ত: গ্রুপ সদস্যরা) করতে পারেনা – এর মানে এরা তাদের জীন আদান প্রদান করতে পারেনা। যদি তখন আমরা সেখানে থাকতাম, আমরা যা দেখতাম তাহলো, এই আদি কমন পুর্বসুরী প্রানীটি (X) যখন বিভাজিত হতে শুরু করেছে একটি সরীসৃপ প্রজাতির শুধুমাত্র দুটি ভিন্ন জনগোষ্ঠীতে, সম্ভবত এই জনগোষ্ঠীগুলো ভিন্ন ভিন্ন ভৌগলিক অবস্থানে বসবাস করে এবং সামান্য কিছু আন্ত গ্রুপ পার্থক্য হয়তো ইতিমধ্যে এদের মধ্যে বিবর্তিত হতে শুরু করেছে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলে, এই পার্থক্যগুলো ক্রমান্বয়ে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এবং অবশেষে দুই জনগোষ্ঠীতে এমন যথেষ্ট পরিমান পার্থক্য  বিবর্তিত হয়, যে তারা আর পরস্পরের মধ্যে প্রজনন করতে পারেনা ( অনেকভাবেই ব্যপারটা হতে পারে:  প্রজাতির ভিন্ন গোষ্ঠীর সদস্যরা হয়তো একে অপরকে প্রজননসঙ্গী হিসাবে আর আর আকর্ষনীয় মনে করে না, অথবা তারা যদি প্রজননও করে,তাদের প্রজন্ম  হতে পারে স্টেরাইল বা নীর্বীজ, যা পরবর্তীতে আর কোন প্রজন্মের জন্ম দিতে পারেনা। বিভিন্ন উদ্ভিদ প্রজাতিরা, তাদের ফুলের পরাগায়নের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পরাগায়নকারী প্রানীর ব্যবহার শুরু করতে পারে, অথবা তাদের ফুল ফোটার সময়ে ভিন্নতা আসে, যা প্রকারন্তরে আন্তপরাগায়নকেই বাধা দেয়)।</p>
<p>বহু মিলিয়ন বছর পরে আরো অনেক বিভাজন প্রক্রিয়া অতিক্রান্ত হলে, একটি উত্তরসুরী ডায়নোসর প্রজাতি, নোড Y,নিজেই দুটি আরো দুটি প্রজাতিতে দ্বি বিভক্ত হয়, যার একটি একসময় বিবর্তিত হয় দুইপা বিশিষ্ট  বা বাইপেডাল, মাংশাসী ডায়নোসর প্রজাতিদের এবং অন্যটি জীবিত সব পাখিদের প্রজাতি। বিবর্তন  ইতিহাসের এই ক্রান্তিকালীন মুহুর্তে, সকল পাখিদের পুর্বসুরী প্রানীর উদ্ভব কিন্তু সেই সময়ের খুব নাটকীয় কোন বিষয় ছিল না, অর্থাৎ হঠাৎ করেই আমরা সরীসৃপ থেকে উড্ডয়নক্ষম পাখীর উদ্ভব হতে দেখতাম না বরং শুধুমাত্র দেখতাম সামান্য পার্থক্যের বৈশিষ্ট সহ একই ডায়নোসর প্রজাতির দুটি জনগোষ্ঠী; বর্তমানে বিভিন্ন মানুষের জনগোষ্ঠী যেমন পরস্পর থেকে ভিন্ন, সেরকমই, এর চেয়ে বেশী কিছু না। সব গুরুত্বপুর্ন পরিবর্তনগুলো ঘটে বিভাজিত হবার পর হাজার হাজার প্রজন্মান্তরে, যখন নির্বাচন একটি লিনিয়েজ এর উপর কাজ করে, উড্ডয়ন ক্ষমতার বৈশিষ্টর উন্নতি সাধন বা প্রোমোট করতে সাহায্য করে, অন্য লিনিয়েজ এ তা উন্নতি সাধন বা প্রোমোট করে বাইপেডাল (দ্বিপদী) ডায়নোসরদের বৈশিষ্টগুলোকে । শুধুমাত্র অতীতের দিকে তাকিয়েই আমরা শনাক্ত করতে পারি প্রজাতি Y হচ্ছে টি রেক্স এবং সব পাখিদের সাধারন পুর্বসুরী প্রানী। এই বিবর্তনীয় পরিবর্তন খুব মন্থর গতির, এবং পরিবর্তনগুলো শুধু তখনই খুব উল্লেখযোগ্য আর চোখে পড়ার মত মনে হয়,যখন আদি পুর্বসুরী প্রানী থেকে বহু বিভাজিত হওয়া উত্তরসুরী প্রজাতিগুলো বিবর্তনের ধারায় যখন আমরা ক্রমানুসারে সাজাই।</p>
<p>কিন্তু প্রজাতিদের বিভাজিত হতে কবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। তারা বিভাজিত হবে কি না, তা নির্ভর করে,  (পরের অধ্যায়গুলোতে আমরা যা দেখবো),সেই পরিস্থিতিগুলোর উদ্ভবের উপর, যেগুলো কোন জনগোষ্ঠীতে যথেষ্ট পরিমানের ভিন্নতা বিবর্তনের সুযোগ করে দেয় ,যেন তারা নিজেদের মধ্যে আর প্রজনন করতে পারেনা। বেশীর ভাগ প্রজাতি-শতকরা ৯৯ ভাগের বেশী প্রজাতি-কোন উত্তরসুরী প্রজাতি ছাড়াই বিলুপ্ত হয়েছে। আবার কোন প্রজাতি যেমন গিংকো গাছ,বহু মিলিয়ন বছর ধরে অপরিবর্তিত আছে নতুন অনেক প্রজাতির সৃষ্টি ছাড়াই। স্পিসিয়েশন বা প্রজাতিকরণ খুব ঘন ঘন কিন্ত ঘটেনা। কিন্তু যখনই একটি প্রজাতি দুটি প্রজাতিতে বিভাজিত হয়, ’ভবিষ্যত’ স্পিসিয়েশন এর সম্ভবনা ও সুযোগ দ্বিগুন বেড়ে যায়,সুতরাং প্রজাতির সংখ্যাও গানিতীক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। যদিও স্পিসিয়েশন খুব ধীরগতির,কিন্তু ইতিহাসের সুদীর্ঘ সময়ের ব্যাপ্তিকালে যথেষ্ট পরিমান প্রায়শই ব্যপারটা ঘটে এবং সেটাই শুধু খুব সহজেই ব্যাখ্যা করতে পারে পৃথিবীতে জীবিত উদ্ভিদ এবং প্রানীদের বিস্ময়কর বৈচিত্র্যতা।</p>
<p>স্পিসিয়েশন বা প্রজাতিকরণ প্রক্রিয়া ডারউইনের কাছে এতই গুরুত্বপুর্ণ ছিল যে,তিনি তার বিখ্যাত বইটির শিরোনাম দিয়েছিলেন এটি এবং বইটি বেশ কিছু স্বাক্ষ্যপ্রমানও দিয়েছে প্রজাতিকরণ প্রক্রিয়ার। পুরো ’অন দি অরিজিন’ ‘বইটির একটি মাত্র ডায়াগ্রামই ছিল,ছবি ১ এর সদৃশ একটি বিবর্তনীয় বৃক্ষ। কিন্তু ডারউইন সেই সময় তার বইটিতে আসলে ব্যাখ্যা করেননি, কেমন করে প্রজাতির উদ্ভব হয়,কারন জেনেটিক্স বা জীনতত্ত্ব সম্বন্ধে কোন ধারনা না থাকার কারনে তিনি কখনো আসলে বুঝতে পারেননি,প্রজাতিকে ব্যাখ্যা করা মানে জীন আদান প্রদানের ক্ষেত্রে  বাধা গুলোকে ব্যাখ্যা করা।  প্রজাতিকরণ আসলে কেমন করে ঘটে সে বিষয়টি ভালোভাবে বোঝার পর্ব শুরু হয় মাত্র ১৯৩০ এর দশকে (এ বিষয়ে পরবর্তীতে আমি অবশ্যই আরো বিস্তারিত বলবো সপ্তম অধ্যায়ে, আমি নিজস্ব গবেষনার ক্ষেত্র সেটা-জেরী কয়েন)।</p>
<p>যদি জীবনের নানা ফর্মের বা জীবের ইতিহাসকে একটি বৃক্ষ হিসাবে ভাবা যায়, যেখানে সকল প্রজাতি একটি মাত্র কান্ড থেকে উদ্ভব হয়েছে, তবে যুক্তিযুক্ত ভাবেই যদি আমরা অনুসন্ধান করি, প্রতিটি জোড়া শাখার (বর্তমানে জীবিত প্রজাতির প্রতিনিধি) একটি কমন বা সাধারন উৎপত্তি খুজে পাওয়া যাবে, এর প্রশাখা এবং শাখা বরাবর এদের উৎস যেখানে এসে বিভাজিত হবার ঠিক আগে এরা একীভুত আছে যেখানে, সেখানে। আমরা আগের আলোচনায় যেমন দেখেছি এই সংযোগ স্থানটি বা নোডটি , এই দুটি প্রজাতির  কমন আদি পুর্বসুরীকে নির্দেশ করছে। এবং জীবন যদি একটি প্রজাতি দিয়ে যাত্রা শুরু করে থাকে এবং বহু মিলিয়ন উত্তরসুরী প্রজাতিতে বহু বিভাজিত হয়, তাহলে স্পষ্টতই প্রতিটি জোড়া প্রজাতি তাদের অতীতে কোন এক সময় একটি সাধারন বা কমন পুর্বসুরী জীব থেকে উদ্ভুত হয়েছে। ঘনিষ্ট সম্পর্ক যুক্ত প্রজাতি, ঘনিষ্ট সম্পর্ক যুক্ত মানুষেদের মতই কমন বা সাধারন আদি পুর্বসুরীদের উত্তরপুরুষ, যারা মোটামুটি একটি নিকটবর্তী কোন অতীতে বেঁচে ছিল। অন্যদিকে আরো দুরবর্তী সম্পর্কযুক্ত প্রজাতিদের কমন আদি পুর্বসুরী , দুরবর্তী সম্পর্কযুক্ত মানুষের  মতই  আরো কোন দুরবর্তী অতীতে বেচে  ছিল। এভাবে একটি ’কমন অ্যান্সেস্ট্রি বা বংশধারা’ র ধারনাটি –ডারউইনিজমের চতুর্থ টেনেট বা মুলনীতি – আসলে স্পিসিয়েশনের বা প্রজাতিকরণের উল্টোপিঠ। এর সাধারন একটি অর্থ হলো, আমরা যে কোন সময়ই ‍অতীতের দিকে ফিরে তাকাতে পারি, ডিএনএ অনুক্রম কিংবা ফসিল ব্যবহার করে এবং দেখতে পারি উত্তরসুরীদের বংশধারা কিভাবে তাদের কমন পুর্বসুরী প্রানীদের সাথে মিলিত হচ্ছে।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/08-02-2012-10-03-08-pm.jpg"><img title="08-02-2012 10-03-08 PM" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/08-02-2012-10-03-08-pm.jpg?w=637&#038;h=449" alt="" width="637" height="449" /><br />
</a>ডায়াগ্রাম ২: মেরুদন্ডী প্রানীদের একটি ফাইলোজেনী ( বিবর্তন বৃক্ষ); যা প্রদর্শন করছে বিবর্তন প্রক্রিয়া কিভাবে নানা বৈশিষ্টগুলোর এবং বৈশিষ্টগুলো বহনকারী প্রানীদের একটি হায়ারআর্কিয়াল গ্রুপিং  তৈরী করে। কালো ডটগুলো ইঙ্গিত করছে বিবর্তন বৃক্ষের কোন পর্যায়ে এই বৈশিষ্টগুলোর উদ্ভব হয়েছে। <em> (পৃষ্ঠা ৯, Why Evolution Is True, Jerry Coyne);</em></p>
<p>আসুন আরো একটি বিবর্তনীয় বৃক্ষ পরীক্ষা করে দেখি: মেরুদন্ডী প্রানীদের (উপরের ডায়াগ্রাম ২);  বৃক্ষটিতে আমি কিছু বৈশিষ্ট উল্লেখ করেছি, যা জীববিজ্ঞানীরা সাধারনত ব্যবহার করেন বিভিন্ন প্রজাতির মধ্য বিবর্তনীয় সম্পর্ক সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত নেবার সময়ে।প্রথমে মাছ,উভচরী ,স্তন্যপায়ী এবং সরীসৃপরা, এদের সবার মেরুদন্ড আছে, তাদের বলা হচ্ছে ভার্টিব্রেট বা মেরুদন্ডী প্রানী -সুতরাং  নিশ্চয়ই এরা এমন কোন কমন বা আদি পুর্বসুরী প্রানীর উত্তরসুরী যার মেরুদন্ড ছিল। মেরুদন্ডী প্রানীদের মধ্যে আবার সরীসৃপ এবং স্তন্যপায়ীরা আবার অ্যামনিওটিক ডিম -ভ্রুণের চারপাশ পরিবেষ্টিত থাকে তরলপুর্ণ একটি পর্দায়, যার নাম অ্যামনিয়ন,তৈরী করে বলে পরস্পর সদৃশ্য (মাছ এবং উভচরী প্রানীদের থেকে যা পৃথক); সুতরাং এই গুরুত্বপুর্ণ বৈশিষ্ট্যর কারনে বলা যায়, স্তন্যপায়ী এবং সরীসৃপরা অবশ্যই নিকটবর্তী কোন অতীতে একটি কমন আদি প্রানীর উত্তরসুরী, যারা এধরনের ডিম তৈরী করতো।কিন্তু এই গ্রুপটি আবার দুটি উপগ্রুপে বিভাজিত,এদের একটি গ্রুপে সকল প্রজাতির গায়ে চুল আছে, তারা উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট এবং দুধ তৈরী করে (এরা ম্যামাল বা স্তন্যপায়ী), অন্য গ্রুপের প্রজাতিরা শীতল রক্ত বিশিষ্ট,স্কেলী বা আশ যুক্ত চামড়া বিশিষ্ট এবং ওয়াটারটাইট বা পানিরোধী আবরণযুক্ত ডিম তৈরী করে ( তারা রেপটাইল বা সরীসৃপ); অন্য সব প্রজাতির মতই এরাও একটি নেস্টেড হায়ারআর্কি বা অন্তস্থ প্রাধান্যপরম্পরা তৈরী করে: যে প্রাধান্যপরম্পরায়, বড় গ্রুপের প্রজাতিরা, যাদের সদস্যরা অল্প কিছু প্রধান বৈশিষ্ট সমুহ ভাগাভাগি করে,তারা আবার বিভক্ত হয় বেশ কিছু ছোট উপগ্রুপে, যাদের সদস্যরা যারা আরো কিছুটা বেশী বৈশিষ্ট সমুহ ভাগভাগি করে, অবশেষে একটি প্রজাতিতে এসে উপনীত হযয়া সম্ভব, যেমন, ব্ল্যাক বিয়ার এবং গ্রিজলী বিয়ার, যারা প্রায় সবগুলো বৈশিষ্টই ভাগাভাগি করে।</p>
<p>প্রকৃতপক্ষে জীবদের বৈশিষ্টগুলোর এ ধরনের ক্রম প্রাধান্যপরম্পরার বিন্যাস সুপরিচিত ছিল ডারউইনের বহু আগে থেকে। ১৬৩৫ সালে সুইডিশ উদ্ভিদবিদ কার্ল ফন লিনে (যিনি তার ল্যাটিনাইজড নাম,ক্যারোলাস লীনিয়াস নামে বেশী পরিচিত) থেকে শুরু করে,অনেক জীববিজ্ঞানীই নানা ধরনের প্রানী এবং উদ্ভিদদের শ্রেনীবিভাগ করার কাজ শুরু করেন এবং তারা যে বিষয়টি লক্ষ্য করেছিলেন, তা হলো প্রানী এবং উদ্ভিদরা সুনির্দিষ্টভাবে বারংবার একই বৈশিষ্ট নির্ভর শ্রেনীতেই বিন্যাস্ত হচ্ছে ,যাকে বলা হত ’প্রাকৃতিক’ শ্রেনীবিন্যাস। আশ্চর্যজনকভাবে ভিন্ন ভিন্ন জীববিজ্ঞানীদের করা এই শ্রেনীবিন্যাসগুলোতে লক্ষ্য করা যায় পারস্পরিক সাদৃশ্য। এর অর্থ হচ্ছে বিভিন্ন জীববিজ্ঞানীদের করা এই গ্রুপিংগুলো কিন্তু মানুষের সবকিছুকে শ্রেনীবিন্যাস করার অন্তর্নিহিত তাগিদে করা  মনগড়া কল্পনার কোন চিহ্ন না,বরং এই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট অনুযায়ী করা শ্রেণীবিন্যাসগুলো আমাদের প্রকৃতি সম্বন্ধে বাস্তব এবং মৌলিক কিছু বিষয়কেই ইঙ্গিত করছিল; কিন্তু ডারউইন এই দৃশ্যপটে না আসার আগ পর্যন্ত কারোরই ধারনা ছিল না এই মৌলিক বিষয়টা আসলে কি; এবং তিনি প্রমান করে দেখালেন জীবজগতের এই পরস্পর সম্পর্কযুক্ত বিন্যাসটি অর্থাৎ প্রধান প্রধান বৈশিষ্টগুলোর নেষ্টেড হায়ারআর্কি ঠিক তেমনই, যেমনটা বিবর্তন প্রক্রিয়া প্রেডিক্ট বা ভবিষ্যদ্বানী করে। অর্থাৎ যে জীবদের আদি পুর্বসুরী অপেক্ষাকৃত নিকট অতীতে বেচে ছিল,তারা অপেক্ষাকৃত বেশী বৈশিষ্ট নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে এবং যাদের  সাধারন পুর্বসুরী প্রানীদের অস্তিত্ব ছিল আরো দুরবর্তী অতীতে, তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম সদৃশ্যতা দৃশ্যমান। এই প্রাকৃতিক শ্রেনীবিন্যাস নিজেইে কবিবর্তনের স্বপক্ষে অন্যতম শক্তিশালী প্রমান।</p>
<p>প্রশ্ন হতে পারে, কেন? কারন, আমরা এধরনের কোন বিন্যাস ( অন্তস্থ বা নেস্টেড হায়ারআর্কি ) কখনোই পাবো না, যদি আমরা বিবর্তনের ফলে বিভাজন এবং উদ্ভব হয়নি এমন কোন কিছুকে শ্রেনীবিন্যাস করা চেষ্টা করি। ধরা যাক দিয়াশলাই এর কার্ডবোর্ড বই বা ম্যাচবুক ( Matchbook), যা আমি সংগ্রহ করি। জীবিত প্রানীদের যেভাবে শ্রেনীবিন্যাস করা সম্ভব এই ম্যাচবুক গুলো প্রাকৃতিক কোন শ্রেনীবিভাগের মধ্যেই পড়ে না; আপনি অবশ্য চেষ্টা করতে পারেন,যেমন, ম্যাচবক্স গুলোকে মোটামুটি একটি কাল্পনিক হায়ারআর্কিয়াল বা ক্রমপ্রাধান্যর ধারাবাহিকতায় সাজাতে,যেমন,প্রথমে আকার বা আয়তন দিয়ে শুরু করা যেতে পারে,এর পর এই আকার ও আয়তনের গ্রুপের মধ্যে কতগুলো উপগ্রুপ করা যেতে পারে,যেমন, কোন দেশে তারা তৈরী তার উপর ভিত্তি করে,আবার এর মধ্যে সাবগ্রুপ করা যেতে পারে,রঙ এর উপর নির্ভর করে এভাবে। অথবা আপনি এই সাজানো শুরু করতে পারেন,এর উপর কি ধরনের পণ্যের বিজ্ঞাপন করা হয়েছে সেটা দিয়ে,তারপর সাজাতে পারেন রঙ দিয়ে,তারপর তারিখ দিয়ে। এভাবে তাদের সাজানোর জন্য বহু উপায়ই আছে,এবং যারা এদের সাজাবেন দেখা যাবে প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা ভাবে একটি সজ্জা উপস্থাপন করছেন।সুতরাং এখানে এমন কোন বিন্যাস সিস্টেম বা উপায় নেই যেখানে সব সংগ্রহকারী একমত হবেন। আর এটার কারন হলো,বিবর্তিত না হয়ে,যেক্ষেত্রে  কোন একটি ম্যাচবক্স যার এর পুর্বসুরী ম্যাচবক্স থেকে সামান্য একটু ভিন্ন হতো, তা না হয়ে, এই ম্যাচবক্সগুলো আসলে প্রত্যেকটিই আলাদা আলাদা ভাবে সৃষ্ট,যে ব্যক্তি এটির পরিকল্পনা করেছেন তার নিজের ইচ্ছামত।</p>
<p><img class="alignnone" title="matchbook collection" src="http://img2.etsystatic.com/il_570xN.242545778.jpg" alt="" width="570" height="428" /><br />
ছবি: ম্যাচবুক (Matchbook) কালেকশন (<a href="http://img2.etsystatic.com/il_570xN.242545778.jpg">ছবি সুত্র</a>)</p>
<p>এই উদহারনের ম্যাচবক্সগুলো সেই বিশেষ ধরনের জীবদের মত, যাদের আমরা আশা করতে পারি কোন ক্রিয়েশনিষ্ট বা সৃষ্টিবাদীদের প্রস্তাবিত জীব সৃষ্টির ব্যাখ্যায়। তাদের সেই ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে, কোন জীবেরই কমন বা সাধারন অ্যানসেষ্ট্রি বা বংশধারা, অর্থাৎ আদি পুর্বসুরী কোন জীবের অস্তিত্ব থাকতো না। বরং তাৎক্ষনিকভাবে সৃষ্টি করা হতো তাদের, তার নিকটবর্তী পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে একেবারে নতুন বা ডি নোভো তৈরী হতো এই জীবগুলো। এধরনের দৃশ্যপটে আমরা আশাও করতাম না প্রজাতিরা্ একটি অন্তস্থ, সাদৃশ্যতা ভিত্তিক ফর্মের ক্রম একটি প্রাধান্যপরম্পরায় বিন্যস্ত হবে, যা প্রায় সব জীববিজ্ঞানীরা শনাক্ত করেছেন।  (<em>ম্যাচবক্স এর ক্ষেত্রে যা হয়না, মানুষের ভাষার ক্ষেত্রেও কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে, মানুষের ভাষাগুলো একধরনের অন্তস্থ বা নেস্টেড হায়ারআর্কি অর্থাৎ বৈশিষ্ট নির্ভর ক্রম প্রাধান্য পরম্পরায় সজ্জিত হয়, যেমন কিছু ভাষা ( ইংরেজী বা জার্মান), পরস্পর বেশী সদৃশ অন্য কোন ভাষা, যেমন চাইনিজ, অপেক্ষা। আমরা আসলেই একটা ভাষার একটি বিবর্তন বৃক্ষ সাজাতে পারবো, শব্দ আর গ্রামারের মিল বা অমিলের উপর নির্ভর করে। কেন এটা সম্ভব? কারন মানুষের ভাষাও তাদের একটি নিজস্ব ধরনের প্রক্রিয়ায় বিবর্তিত হয়েছে, যা ধীরে ধীরে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তিত হয়েছে এবং পৃথক হয়েছে যখন মানুষ নতুন এলাকায় গিয়ে বসতি গড়েছিল, এবং আতের গ্রুপের সাথে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে। জীব প্রজাতির মতই, ভাষারও স্পিসিয়েশন বা প্রজাতিকরণ আছে এবং একটি কমন বংশধারা বা অ্যানসেষ্ট্রি আছে। এবং ডারউইনই প্রথম এই অ্যানালোজীটি লক্ষ্য করেছিলেন। )</em><em></em></p>
<p>প্রায় ৩০ বছর আগ পর্যন্ত, জীববিজ্ঞানীরা চোখে দেখা সম্ভব হতো, এমন বাহ্যিক প্রকৃতি,যেমন অ্যানাটোমি, প্রজনন পদ্ধতি ইত্যাদি প্রধান কিছু বৈশিষ্টের উপর নির্ভর করেই জীবিত সব প্রজাতির বংশধারা ধারাবাহিকতার সম্পর্ক তৈরী করতেন। যুক্তিনির্ভর একটি ধারনার উপর ভিত্তি করেই কাজটি করা হতো; সেটা হলো, একই ধরনের বৈশিষ্ট সম্পন্ন জীবদের একই ধরনের জীন থাকার সম্ভাবনা, এবং একারনে তারা আরো বেশী নিকট সম্পর্কযুক্ত। কিন্তু বর্তমানে আমাদের এই লিনিয়েজ নির্ধারনে আরো বেশী শক্তিশালী এবং স্বতন্ত্র উপায় আছে। বিভিন্ন প্রজাতির ডিএনএ সিকোয়েন্স (অনুক্রম) করে আমরা পরিমাপ করে দেখতে পারি, কতটুকু মিল আছে  তাদের ডিএনএ বেসের (A,G,T,C) অনুক্রমে, এই  মিল অমিলের পরিমাপগত সম্পর্কর উপর নির্ভর করেই আমরা বিবর্তনীয় সম্পর্কটি পুনর্গঠন করতে পারি। এটি করার যুক্তিযুক্ত ভিত্তিটি হচ্ছে, বেশী সাদৃশ্যময় ডিএনএ যে প্রজাতিদের আছে তারা তত বেশী সম্পর্কযুক্ত, অর্থাৎ তাদের কমন আদি পুর্বসুরী জীবের অস্তিত্ব ছিল অপেক্ষাকৃত নিকটতম অতীতে। এই অনুপ্রানবিজ্ঞানের আনবিক প্রক্রিয়া কিন্তু ডিএনএ আবিষ্কারে আগে, অর্থাৎ প্রাক ডিএনএ সময়ে জীববিজ্ঞানীদের প্রস্তাবিত জীবন বৃক্ষের তেমন কোন বিশেষ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করেনি: দৃশ্যমান বাহ্যিক প্রকৃতি এবং ডিএনএ বেস অনুক্রম ‍বা সিকোয়েন্স দুটোই বিবর্তন সম্পর্ক সম্বন্ধে সাধারনত একই তথ্যর যোগান দেয়।</p>
<p>সকল জীবের এই কমন অ্যানসেষ্ট্রি বা একটি সাধারন বংশধারার ধারনাটি খু্ব স্বাভাবিক ভাবেই বিবর্তন প্রক্রিয়া সম্বন্ধে জোরালো এবং পরীক্ষা করে প্রমান করা সম্ভব এমন এটি প্রেডিকশন বা ভবিষ্যদ্বানীকে নির্দেশ করে। আমরা যদি দেখি, পাখীদের এবং সরীসৃপদের একই গ্রুপভুক্ত করা হয়েছে তাদের বৈশিষ্ট এবং ডিএনএ বেস এর অনুক্রমের উপর ভিত্তি করে। আমরা তাহলে প্রেডিক্ট করতে পারি যে, পাখীদের এবং সরীসৃপদের কমন বা সাধারন আদি পুর্বসুরী প্রানীদের আমাদের জীবাশ্ম রেকর্ডে পাওয়া উচিৎ। এধরনের প্রাকধারনাগুলোর ইতিমধ্যে সত্যতা  প্রমানিত হয়েছে, বিবর্তনের পক্ষেই যা আরো শক্তিশালী প্রমান যুগিয়েছে। <em>পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে আমরা এররকম কিছু আদি কমন পুর্বসুরী প্রানীদের সাথে পরিচিত হবো। </em><em></em></p>
<p>বিবর্তন তত্ত্বের পঞ্চম অংশটি, যা ডারউইন ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোন থেকে, সুস্পষ্ট ভাবে এবং সঙ্গত কারনে তার বুদ্ধিমত্তা ও প্রতিভার শ্রেষ্টতম অর্জন হিসাবে দেখেছিলেন, তা হলো: ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচন এর ধারনাটি। প্রকৃতপক্ষে এই ধারনাটি শুধু ডারউইনের একার নয় – তার সমসাময়িক, প্রকৃতিবিজ্ঞানী <a href="http://wp.me/p1KdC9-O">আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস</a> ও প্রায় একই সময়, একই ধারনা প্রস্তাব করেছিলেন, সম্পুর্ন স্বতন্ত্রভাবে, যা আজো বিজ্ঞানের  ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত যুগপত আবিষ্কার হিসাবে চিহ্নিত। সঙ্গত কারনেই ডারউইন অবশ্যই এর জন্য অনেক বেশী কৃতিত্ব পেয়েছেন: কারন ‘অন দি অরিজিন অব স্পিসিস’ বইটিতে তিনি বিস্তারিতভাবে এই প্রস্তাবিত ধারনাটির ব্যাখ্যা দেন, এর স্বপক্ষে প্রমান দেন, এবং প্রক্রিয়াটির নানা পরিনতির বিশদ আলোচনা করেছিলেন।</p>
<p>কিন্তু আবার বিবর্তন তত্ত্বের এই ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচন অংশটিকে ডারউইনের সময়ই মনে করা হয়েছে সবচেয়ে বৈপ্লবিক একটি ধারনা হিসাবে এবং এখনো যা বহু মানুষের অস্বস্তির কারন। প্রাকৃতিক নির্বাচন যুগপতভাবে বৈপ্লবিক এবং  অস্বস্তিকর, একই কারনে: কারন এটি ব্যাখ্যা দিচ্ছে. আপাতঃ দৃষ্টিতে প্রকৃতিতে দেখা ডিজাইন বা পরিকল্পনার উৎপত্তির প্রক্রিয়া বিশুদ্ধভাবে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক বস্তুবাদী বা ম্যাটেরিয়ালিষ্টিক ভাবে ঘটেছে, যে প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের বিশেষ সৃষ্টি বা ক্রিয়েশন বা অতিপ্রাকৃত কোন শক্তির নির্দেশনার প্রয়োজন হয়নি।</p>
<p>প্রাকৃতিক নির্বাচনের মুল ধারনা বোঝাও খুব কঠিন না। যদি কোন প্রজাতির একটি জনগোষ্ঠীর সদস্যরা পারস্পরিকভাবে জীনগতভাবে ভিন্ন হয় এবং সেই ভিন্নতার কোন কিছু যদি এর বাহক কোন সদস্যকে তার সেই পরিবেশে বেচে থাকতে এবং প্রজনন সাফল্য পেতে সহায়তা করে, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের জীনোমে ‘ভালো’ জীনগুলো যা বেচে থাকার হারে এবং প্রজননে সফলতা দিয়েছে,  তাদের অপেক্ষাকৃত বেশী সংখ্যক কপি থাকবে, ’তেমন ভালো না’ জীন অপেক্ষা। সময়ের সাথে প্রজাতির এই জনগোষ্ঠীটি ধীরে ধীরে আরো বেশী উপযুক্ত হবে সেই পরিবেশে বসবাসের জন্য, কারন উপকারী মিউটেশনগুলোর উদ্ভব হবে এবং সেগুলো জনসংখ্যার মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে, অন্যদিকে ক্ষতিকর মিউটেশনগুলো বাতিল হতে থাকবে জনসংখ্যার মধ্য থেকে, এভাবে অবশেষে এই প্রক্রিয়াটি প্রজাতির সেই সদস্যদের জন্ম দেয়, যারা তাদের আবাস এবং জীবন ধারনের প্রক্রিয়ার সাথে সুঅভিযোজিত হয়।</p>
<p><img class="alignnone" title="wooly mammoth" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/woolly-mammoth.jpeg?w=550&#038;h=434" alt="" width="550" height="434" /><br />
ছবি: শিল্পীর চোখে উলী ম্যামথ (<a href="http://true-wildlife.blogspot.com/2011/04/woolly-mammoth.html">ছবি সুত্র</a>)</p>
<p>একটি সাধারন উদহারন দেয়া যেতে পারে, ইউরেশিয়ার উত্তরে এবং উত্তর আমেরিকায় রোমশ উলী ম্যামথ বাস করতো একসময়, ঘন লোমযুক্ত চামড়া তাদের তীব্র শীতের পরিবেশে খাপ খাইয়ে নেবার জন্য খুবই উপযোগী ছিল <em>( তুন্দ্রা অঞ্চলে মাটির নীচে পুরো ম্যামথ এর হিমায়িত নমুনা পাওয়া গেছে); উলী ম্যামথ বিলুপ্ত হয়েছে প্রায় ১০০০০ বছর আগে, সম্ভবত: আমাদের পুর্বপুরুষদের অতিমাত্রায় শিকার তাদের বিলুপ্তির কারন। অন্তত একটি প্রাচীন নমুনা তুন্দ্রা অঞ্চলে হিমায়িতভাবে এত সুন্দরভাবে সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, যে ১৯৫১ সালে নিউ ইয়র্ক এক্সপ্লোরার ক্লাব ডিনারে এর খানিকটা মাংশ পরিবেশন করা হয়েছিল)</em> । উলী ম্যামথগুলো, সম্ভবত আধুনিক হাতির মতই অল্প লোম বিশিষ্ট চামড়ার কোন ম্যামথ পুবসুরী থেকে বিবর্তিত হয়েছিল। আদি পুর্বসুরী ম্যামথদের মধ্যে কিছু মিউটেশন এদের কোন কোন সদস্যর চামড়ায় বেশী পরিমানে চুলের কারন হয়, ফলে কিছু আধুনিক মানুষের মতই তারা তাদের প্রজাতির অন্য সদস্যদের চেয়ে বেশী লোমশ হয়। যখন জলবায়ু শীতল হতে শুরু করে বা প্রজাতিটি আরো উত্তরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হয়, এই বেশী লোমযুক্ত সদস্যরাই সেখানে খুব শীতল পরিবেশ সহ্য করতে অপেক্ষাকৃত বেশী সফল হয় এবং প্রজননেও তারা সফল হয়, ফলে তারা বেশী পরিমান প্রজন্মর রেখে যায়  তাদের চুলহীন অন্যান্য সদস্যদের তুলনায়। এটাই এই জনগোষ্ঠীতে লোমশ বা বেশী চুল হবার জীনটির সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তী প্রজন্মে ম্যামথরা এই প্রজন্মের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশী লোমযুক্ত হয়। এই পক্রিয়াটিকে কয়েক হাজার প্রজন্ম অতিবাহিত করার সুযোগ দিলে, মসৃন চামড়া ম্যামথের জায়গায় স্থান নেয় চুলযুক্ত লোমশ ম্যামথরা। এবং অন্য অনেক বৈশিষ্ট যা তীব্র শীতল পরিবেশকে মোকাবেলা করে বাচতে সাহায্য করেছে, সেই বৈশিষ্টগুলোও ( যেমন শরীরের আকৃতি, চর্বির পরিমান ইত্যাদি) একই সাথে বিবর্তিত হয় এদের মধ্যে।</p>
<p>খুবই বিস্ময়করভাবে সরল একটি প্রক্রিয়া;  এর জন্য শুধু প্রয়োজন, প্রজাতির সদস্যরা জীনগত ভাবে কিছুটা আলাদা হবে একে অপরের থেকে তাদের পরিবেশে বেচে থাকার এবং প্রজনন সাফল্যের ক্ষমতায়। এই প্রাকশর্ত যদি থাকে, প্রাকৃতিক নির্বাচন –এবং বিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। আমরা পরে অবশ্যই দেখবো, এ যাবত পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, এমন প্রতিটি প্রজাতি এই পুর্বশর্তগুলো পুর্ন করেছে। এবং যেহেতু অনেকগুলো বৈশিষ্টই কোন সদস্যর পরিবেশের সাথে তার অভিযোজনের বিষয়টি প্রভাবিত করে ( এর ফিটনেস), প্রাকৃতিক নির্বাচন পারে, বহু ইয়ন (eon)  বা বিশাল ব্যাপ্তির ভৌগলিক সময় ধরে, কোন প্রানী বা উদ্ভিদকে এমন কোন ভাবে গড়ে পিটে  তৈরী করে নিতে, যেন তাদের দেখে মনে হতে পারে, কেউ তাদের বিশেষভাবে ডিজাইন করেছে।</p>
<p>যদিও ,একটা বিষয় অনুধাবন করা জরুরী, প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তিত হবার বদলে, যদি কেউ আসলেই সচেতনভাবে সব জীবের ডিজাইন করতো, সেক্ষেত্রে যেমনটা দেখার আশা করা হয়ে থাকে, তেমনই আসল কিছু মৌলিক পার্থক্য পরিলক্ষিত হত আমাদের চোখে। প্রাকৃতিক নির্বাচন কোন ’মাষ্টার প্রকৌশলী’ না, বরং একজন ’টিংকারার’ যে কিনা শুধু গড়ে পিটে কোন  কিছু মেরামত করতে ‍পারে কাজ চালাবার উপযোগী করে। একজন ডিজাইনার, যেমন প্রথম থেকে শুরু করে চুড়ান্তভাবে যেভাবে উৎকর্ষতার সৃষ্টি করতে পারেন, প্রাকৃতিক নির্বাচন সেটা পারেনা, বরং শুধুমাত্র, এটি হাতের কাছে যা পায়, সেটির উপরে কাজ করার চেষ্টা করে তার পক্ষে সর্ব্বোচ্চ যতটুকু করা সম্ভব ।  পারফেক্ট বা একেবারে নিখুত কোন ডিজাইনের মিউটেশন কখনোও নাও হতে পারে, কারন স্পষ্টতই নিখুত কোন ডিজাইন প্রকৃতিতে কদাচিৎ মেলে। আফ্রিকার গন্ডারদের, তাদের দুটি পর পর সাজানো শিং থাকে, নিজের রক্ষা করা এবং সগোত্রীয় সাথে যুদ্ধের মহড়ায় এক শিং এর ( যদিও টেকনিক্যালী এরা শিং নয়, বরং একসাথে কম্প্যাক্ট চুল) ভারতীয় গন্ডারদের তুলনায়, তারা সম্ভবত আরো ভালোভাবে অভিযোজিত; কিন্তু ভারতীয় গন্ডারদের মধ্যে দুই শিং এর জন্য মিউটেশনের কিন্তু উদ্ভব হয়নি। তাস্বত্ত্বেও এক শিং, কোন শিং না থাকা থেকে অপেক্ষাকৃতভাবে ভালো। এক শিং সহ ভারতীয় গন্ডার তার শিং বিহীন পুর্বসুরী প্রানী থেকে সুবিধাজনক অবস্থানেই আছে, তবে তাদের জেনেটিক ইতিহাসে এই দুর্ঘটনা তাদের একেবারে উৎকৃষ্ট বা পারফেক্ট ’ডিজাইন’ থেকে খানিকটা কম পারফেক্ট ’ডিজাইন’ এর সৃষ্টি করেছে। এবং অবশ্যই প্রতিটি উদহারনে, যেখানে উদ্ভিদ এবং প্রানী যারা পরজীবি দ্বারা আক্রান্ত বা অসুস্থ হয়, তারা প্রতিনিধিত্ব করছে সেক্ষেত্রে তাদের অভিযোজনীয় ব্যর্থতার। এভাবেই সব বিলুপ্তির ঘটনায় এই অভিযোজনীয় ব্যর্থতার অবদান আছে; যা প্রায় এ পর্যন্ত বেঁচে ছিল এমন প্রজাতিদের শতকরা ৯৯ ভাগই বিলুপ্ত হওয়া জীবদের প্রতিনিধিত্ব করছে ( প্রসঙ্গক্রমে বলে নেয়া ভালো, এই বিষয়টি ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন তত্ত্বটিকে একটি বেশ বড় সড় সমস্যার মধ্যে ফেলে দিয়েছে, ব্যাপারটা আদৌ কোন বুদ্ধিমত্তা প্রসুত কাজ  কারো মনে হবার কথা না, এই বহু মিলিয়ন প্রজাতি সৃষ্টি করা হয়েছে শুধুমাত্র তাদের চির বিলুপ্তি হবার জন্য নিয়তিতে অভিশপ্ত করে এবং তারপর আবার তাদের জায়গায় পুর্ন করতে অন্য প্রায় একই ধরনের  প্রজাতি আবার নতুন করে ডিজাইন করা,যাদের বেশীর ভাগেই আবার বিলুপ্ত হবার ভাগ্য নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে। ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনের সমর্থকরা এই সমস্যাটার কখনই কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।)</p>
<p>প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জীবের সামগ্রিক ডিজাইন বা পরিকল্পনার উপর অবশ্যই কাজ করতে হয়, যা বিভিন্ন ধরনের অভিযোজনের মধ্যে একধরনের সমঝোতা সৃষ্টি করে: যেমন, স্ত্রী সামুদ্রিক টার্টল বা কচ্ছপ, তাদের ফ্লিপার ( চ্যাট্টা চওড়া হাতের মত লিম্ব, যা সাতার ‍কাটতে সাহায্য করে) দিয়ে সাগরের বেলাভুমি ডিম পাড়ার জন্য ঘর বানায় -খুবই যন্ত্রনাদায়ক, ধীর এবং ঝামেলাকর একটা পদ্ধতি, যা তাদের ডিমগুলোকে শিকারী প্রানীদের কাছে প্রায়শই উন্মুক্ত করে ফেলে। তাদের যদি খানিকটা কোদালের মতো বাড়তি ফ্লিপার থাকত, তাহলে কাজটা আরো ভালো আর দ্রুত করতে পারতো। কিন্তু আবার সেটা থাকলে, তারা আবার এত ভালো সাতার কাটতে পারতো না।  একজন দয়ালু বিবেকবান ডিজাইনার টার্টলদের জন্য বাড়তি একজোড়া  লিম্ব , হাত অথবা পা দিতে পারতে, যার সাথে ভিতরে গুটিয়ে নেবার মত কোদালের মত বা মাটি খোড়ার উপযোগী কোন উপাঙ্গ যোগ করে দিতেন, কিন্তু যেহেতু কচ্ছপরা কোন সচেতন ডিজাইনারের ডিজাইন নয়, সুতরাং কচ্ছপরাও আর সব সরীসৃপদের মতই একই শারীরিক ডেভোলপমেন্টাল পরিকল্পনায় আটকে আছে, যেখানে তাদের হাত পা সংখ্যা দুই জোড়াতেই (মোট ৪ টি) সীমাবদ্ধ।</p>
<p>জীবরা শুধুমাত্র মিউটেশনাল লটারীর ভাগ্যর উপরেই নির্ভরশীল না, আরেকটি সীমাবদ্ধতা হচ্ছে, তাদের ডেভেলপমেন্টাল এবং বিবর্তনের ইতিহাস। যে সমস্ত বৈশিষ্ট বা ট্রেইট ইতিমধ্যেই বিদ্যমান, মিউটেশন সেখানে পরিবর্তন আনে; প্রায় কখনোই মিউটেশন কোন আনকোরা নতুন বৈশিষ্ট সৃষ্টি করেনা। এর অর্থ হচ্ছে, বিবর্তনকে নতুন প্রজাতি সৃষ্টি করতে গেলে অবশ্যই তার পু্র্বসুরী প্রানীদের ডিজাইন থেকে শুরু করতে হবে। বিবর্তন অনেকটা একজন স্থপতির মত, যার একেবারে শুন্য থেকে শুরু করে নতুন বিল্ডিং পরিকল্পনা করার কোন উপায় নেই, বরং তাকে প্রতিটি নতুন বৈশিষ্ট্য অবশ্যই তৈরী করতে হবে ইতিপুর্বে অস্তিত্ব আছে এমন কাঠামোর উপর ভিত্তি করে, এবং এই পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় কাঠামোটি যাতে কর্মক্ষমতাটাও অক্ষুন্ন রাখে সেটাও তাকে খেয়াল রাখতে হবে। এই বাড়তি প্রাকৃতিক চাপটাই দৃশ্যমান বা আমাদের চোখে পড়ে এমন নানা গঠনগত এবং কার্যগত সমঝোতার সৃষ্টি করে। আমরা পুরুষরা যেমন, বেশ ঝামেলামুক্ত থাকতাম যদি আমাদের অন্ডকোষ সরাসরি আমাদের শরীরের বাইরে গঠিত হতো,যেখানকার অপেক্ষাকৃত শীতল তাপমাত্রা শুক্রাণুদের জন্য ভালো। <em>((সম্ভবত আদি পুর্বসুরী স্তন্যপায়ী প্রানীদের পুর্নবয়স্ক অন্ডকোষ তাদের পেটের মধ্যেই ছিল, কিছু স্তন্যপায়ী প্রানী যেমন প্ল্যাটিপাস, হাতি এখনও সেটাই করে), এ বিষয়টি যে প্রশ্নের উদ্রেক করে তা হলো বিবর্তন প্রক্রিয়া কেন শরীরের বাইরে অন্ডকোষের অবস্থান বিবর্তনে সহায়তা বা ফেবার করে, যেখানে শরীরের  বাইরে অন্ডকোষ এর সহজে আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। বিজ্ঞানীদের কাছে এখনও এর উত্তর নেই, কিন্তু একটা ক্লু যা পাওয়া গেছে, তা হলো, শুক্রাণু সৃষ্টিতে ব্যাবহৃত কিছু উৎসেচক আমাদের শরীরের কেন্দ্রীয় তাপমাত্রায় কাজ করেনা (এজন্য বাবা হতে ইচ্ছুক এমন পুরুষদের চিকিৎসকদের উপদেশ দিতে শোনা যায়, যৌন সঙ্গমের আগে গরম পানিতে গোছল না করতে)); আবার হতে পারে স্তন্যপায়ীরা উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট হিসাবে বিবর্তিত হবার পর, কোন কোন গ্রুপের অন্ডকোষ নীচে নেমে আসে শরীরের বাইরে ঠান্ডা থাকতে। কিন্তু  হয়তোবা শরীরের বাইরে অন্ডকোষের বিবর্তন সম্ভবত হয়েছে অন্য কারনে, এবং শুক্রাণু তৈরী করার উৎসেচকগুলো উচ্চ তাপমাত্রায় তাদের কর্মক্ষমতা এমনিতে হারিয়ে ফেলেছিল))</em>। কিন্তু অন্ডকোষ তৈরী হওয়া শুরু করে ভ্রণাবস্থায় আমাদের পেটের মধ্যে, যখন ভ্রুণ এর বয়স  ছয় বা সাত মাস, পরে এটি পেট থেকে নীচে নেমে আসার যাত্রা শুরু করে একটা নালি দিয়ে, যাকে বলে ইনগুইনাল ক্যাণাল, যাতে তাদেরকে শরীরের ভেতরের উচ্চ তাপমাত্রা থেকে যৌনগ্রন্থিকে দুরে রাখা যায়। এই ক্যানালগুলো পেটের দেয়ালের সামনে দিক থেকে, যেখানে বাইরে বের হয়ে আসে সেখানে একটি দুর্বল জায়গার সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে হার্নিয়ার (এই দুর্বল জায়গা দিয়ে পেটের অ্ন্ত্রনালীর কোন অংশ বাইরে বের হয়ে আসে) কারন হতে পারে কারো কারো জন্য। হার্নিয়া বিষয়টি ভালো কিছু না, মাঝে মাঝে তারা অন্ত্রনালীতে বাধার সৃষ্টি করে এবং সার্জারী যখন ছিলনা এটি অনেকেরই মৃত্যুর কারন হত। কোন বুদ্ধিমান ডিজাইনার অন্ডকোষের এই ঘুরপথের যাত্রাপথটি আমাদের দিতে পারেন না । আমাদের এই অবস্থাটা রয়ে গেছে কারন আমরা আমাদের শারীরিক গঠনের প্রোগ্রামটি আমরা উত্তরাধিকার সুত্রে পেয়েছি মাছের মত পুর্বসুরী প্রানীদের কাছ খেকে, যাদের যৌনগ্রন্থি যেমন পেটের মধ্যে তৈরী হয়, এবং সেখানেই অবস্থান করে। আমাদের শুরুটা হয় মাছের মত অন্ডকোষ তৈরী প্রক্রিয়া পেটের মধ্যে, তবে অন্ডকোষের এই নিম্নমুখী স্থানান্তরের বিষয়টি বিবর্তিত হয়েছে পরে, আনাড়ী গোছের একটা বাড়তি সংযোগ হিসাবে  ( <a href="http://wp.me/p1KdC9-1o">আমাদের এই প্রাচীন শরীর</a>)।</p>
<p><img class="alignnone" title="Hernia" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/08/hernia.jpg?w=785&#038;h=547" alt="" width="785" height="547" /><br />
ছবি: পুরুষদের যৌনগ্রন্থির উৎপত্তি এবং ক্রমবিকাশ এবং হার্নিয়া।</p>
<p>সুতরাং প্রাকৃতিক নির্বাচন কখনো চরম উৎকর্ষতা বা পারফেকশনের জন্ম দেয়না &#8211; শুধু মাত্র খানিকরা ‍উন্নতি সাধিত হয় এর আগে যা ছিল, তার। এটি অপেক্ষাকৃত ফিটার বা fttter  জীবের জন্ম দেয়, fittest বা ফিটেষ্ট এর না। এবং যদিও এই নির্বাচন, আপাতদৃষ্টিতে এমন ধারনা দিতে পারে যে এদের ডিজাইন করা হয়েছে  কিন্তু সেই ডিজাইন বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই ইমপারফেক্ট বা নিখুত বা ক্রটিহীন নয়। এবং এক্ষেত্রে আয়রনীটা  হচ্ছে এই সব ইমপারফেক্শনগুলো বা অসম্পুর্নতা কিংবা ত্রুটিবিচ্যুতি গুলোর মধ্যে  <em>(তৃতীয় অধ্যায়ে যা আলোচনা করেছি)</em> আমরা খুজে পাই বিবর্তনের স্বপক্ষেই গুরুত্বপুর্ন সব প্রমান।</p>
<p>এবার আমরা তত্ত্বটির ষষ্ঠ অংশ বা বিষয়ে এসে পৌছেছি, সেটি হলো, ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচন ছাড়াও অন্য কিছু প্রক্রিয়া বিবর্তনীয় পরিবর্তনের কারন হতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন হলো, কিছু সংখ্যক জীনের খুব সাধারন  র‌্যানডোম কিছু পরিবর্তন, যার কারন মুলত বিভিন্ন পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের সংখ্যার পার্থক্য। এর মাধ্যমে যে বিবর্তনীয় পরিবর্তন হয়, র‌্যানডোম হবার কারনে, এটি অভিযোজন বা অ্যাডাপটেশনের সাথে সম্পর্কযুক্ত না। গুরুত্বপুর্ন কোন বিবর্তনীয় পরিবর্তনের উপর এই প্রক্রিয়ার প্রভাব যদিও সম্ভবত: ক্ষুদ্র, কারন প্রাকৃতিক নির্বাচনের মত এর সেই মোল্ডিং বা পরিবর্তন করার ক্ষমতা নেই। প্রাকৃতিক নির্বাচনই সে কারনে একমাত্র প্রক্রিয়া যা অভিযোজনের কারন হতে পারে। তা সত্ত্বে আমরা পরবর্তীতে অধ্যায় পাঁচ এ দেখব, যে জেনেটিক ড্রিফ্ট <em>( বা অ্যালীলিক ড্রিফট: কোন জনগোষ্ঠীকে কোন জীন ভ্যারিয়ান্ট অর্থাৎ একই জীনের সামান্য ভিন্ন কপি ( অ্যালীল) এর উপস্থিতির হার, যার কারন মোট জনসংখ্যার রানডোম স্যাম্পলিং; সন্তানদের মধ্যে পাওয়া অ্যালীল, তাদের পিতামাতাদের মধ্যে যে পাওয়া অ্যালীল গুলোর একটি স্যাম্পল, এবং এখানে চান্স এর একটি ভুমিকা আছে কোন একজন সদস্য ‍কি বেচে থাকবে এবং প্রজনন সফল হবে)</em>  প্রক্রিয়া ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীতে কিছু বিবর্তনীয় ভুমিকা রাখতে পারে, এবং  সম্ভবত ডিএনএ র কিছু অভিযোজন নয় ( নন অ্যাডাপটিভ) এমন বৈশিষ্টের ব্যাখ্যা দিতে পারে।</p>
<p>তাহলে, এগুলোই হলো বিবর্তন থিওরী বা তত্ত্বটির ছয়টি অংশ <em>(বিবর্তন তত্ত্বের বিরোধীরা প্রায়ই দাবী করেন, বিবর্তন তত্ত্বকে জীবন শুরু কেমন হয়েছে, অবশ্যই তার ব্যাখ্যা দিতে হবে, এবং ডারউইনবাদ ব্যর্থ কারন আমরা এখনও এর উত্তর দিতে পারিনি। এই বিরোধিতা অজ্ঞতাপ্রসুত। বিবর্তন তত্ত্ব </em><em>’</em><em>জীবন</em><em>’</em><em> ( যা আমি সংজ্ঞায়িত করবো, আত্ম প্রতিলিপিকারী কোন জীব বা অনু )</em><em> </em><em>এর আবির্ভাব হবার পর কি হয়েছে সেটাকেই শুধু ব্যাখ্যা করে। জীবনের উৎপত্তির বিষয়টি বিবর্তন জীববিজ্ঞানের এখতিয়ারে নেই, বরং এটি </em><em>’</em><em>অ্যাবায়োজেনেসিস</em><em>’</em><em>এর বিষয়, যে বৈজ্ঞানিক বিষয়টির রসায়ন, ভুতত্ত্ববিদ্যা এবং মলিক্যুলার বায়োলজীর এর সম্মিলিত একটি ক্ষেত্র; যেহেতু এটি বিজ্ঞানের একটি নতুন ক্ষেত্র, এখনও শুরুর পর্যায়ে, সে কারনেই এখন সেই প্রশ্নগুলোর বেশ কিছু  উত্তর এখনও সেখান থেকে আসেনি। আমি এই বইতে পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তি নিয়ে কোন আলোচনা পরিহার করেছি। তবে </em><em>জীবনের উদ্ভব সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রতিদ্বন্দী মতামত নিয়ে জানার জন্য আগ্রহীরা রবার্ট হাজেন এর </em><em>Gen</em><em>∗</em><em>e</em><em>∗</em><em>sis:</em><em>The Scientific Quest for Life’s Origin</em><em>.</em><em>)</em>। তত্ত্বটির কয়েকটি অংশ পরস্পরের সাথে ঘনিষ্টভাবে সম্পর্কযুক্ত, যেমন, যদি প্রজাতিকরণ বা ’স্পিসিয়েশন’ প্রক্রিয়া সঠিক হয় তবে ’কমন অ্যানসেষ্ট্রী’ও অবশ্যই সত্য হবে। কিন্তু কিছু অংশ আবার পরস্পর থেকে স্বতন্ত্র। যেমন বিবর্তন হয়েছে, তবে, সেটি ক্রমান্বয়ে (গ্রাজুয়ালিজম) হতেই হবে এমন কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। বেশ কিছু ‘মিউটেশনিস্ট’, বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ভেবেছিলেন, এক প্রজাতি থেকে একেবারে ভিন্ন অন্য কোন প্রজাতির সৃষ্টি হতে পারে তাৎক্ষনিকভাবে, কোন একটি দানবীয় বিশাল মিউটেশনের মাধ্যমে। প্রখ্যাত প্রানীবিজ্ঞানী রিচার্ড গোল্ডস্মিট, যেমন, একসময় প্রস্তাব করেছিলেন, পাখী হিসাবে শনাক্ত করা সম্ভব এমন প্রানীর সম্ভবত জন্ম হয়েছে, সুস্পষ্টভাবে কোন একটি সরীসৃপের পাড়া ডিম থেকে। এই ধরনের দাবী কিন্তু পরীক্ষা করা সম্ভব। মিউটেশনিজম প্রেডিক্ট করছে, নতুন প্রজাতির উৎপত্তি হচ্ছে তাৎক্ষনিকভাবে পুর্ববর্তী কোন প্রজাতি থেকে, অর্থাৎ জীবাশ্ম রেকর্ডে কোন ট্রানজিশনাল (মধ্যবর্তী পর্যায়ের) প্রানীর কোন জীবাশ্ম অস্তিত্ব ছাড়াই। কিন্তু ফসিল থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, বিবর্তন অবশ্যই সেভাবে কাজ করেনি। যাই হোক না কেন, মুল কথাটি হলো, ডারউইনিজমের বিভিন্ন অংশ স্বতন্ত্রভাবে পরীক্ষা করা দেখা সম্ভব।</p>
<p>বিকল্পভাবে বলা যেতে পারে, বিবর্তন হয়তোবা সত্যি, তবে ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচন এর কারন বা মেকানিজম নাও হতে পারে। অনেক জীববিজ্ঞানী, যেমন এক সময় মনে করতেন, বিবর্তন হচ্ছে কোন মিষ্টিকাল রহস্যময় বা টেলিওলজিক্যাল (পুর্বকারনবাদ) শক্তির কারনে: অর্থাৎ প্রানীদের নিজেদের ভিতরের একটি ইনার ড্রাইভ বা অন্তস্থ তাড়নার প্রভাবে, যা কোন প্রজাতিকে একটি নির্দিষ্ট ধরা বাধা পথে বিবর্তিত করে। দাবী করা হয় এধরনের কোন শক্তি ’সাবের টুথড টাইগার’ দের দীর্ঘ ক্যানাইন  দাতের বিবর্তনের কারন, যা ক্রমান্বয়ে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছিল, কোন উপযোগিতা ছাড়াই, যতক্ষন না পর্যন্ত তারা আর মুখ বন্ধ করতে না পারে এবং পরিনতিতে না খেতে পেরেই একসময় বিলুপ্ত হয়। আমরা এখন স্পষ্টভাবে জানি টেলিওলজিক্যাল কোন শক্তির অস্তিত্ত্ব নেই- আর ‘সাবের টুথ টাইগার’ রাও না খেতে পেয়ে বিলুপ্ত হয়নি বরং ভালো ভাবেই তারা বেচে ছিল বিশালাকৃতির অন্য ক্যানাইনদের বহু মিলিয়ন বছর ধরে, তারপর পরবর্তীতে তারা বিলুপ্ত হয়েছে সম্পুর্ন অন্য কারনে। বিবর্তন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন কারন থাকতে পারে এই ফ্যাক্টটা সম্ভবত একটা কারন হতে পারে জীববিজ্ঞানীদের প্রাকৃতিক নির্বাচনকে গ্রহন করার বহু দশক আগেই বিবর্তনকে গ্রহন করে নেবার ব্যাপারে।<br />
<img class="alignnone" title=" ‍Saber tooth Tiger" src="http://images.sciencedaily.com/2008/10/081031102304-large.jpg" alt="" width="568" height="679" /><br />
ছবি: শিল্পীর চোখে সাবের টুথ টাইগার ( <a href="http://images.sciencedaily.com/2008/10/081031102304-large.jpg">ছবি সুত্র</a>)</p>
<p>বিবর্তন তত্ত্বের দাবীগুলো নিয়ে অনেক কথা হলো। কিন্তু  এর একটি প্রধান এবং বহুশ্রুত বিরুদ্ধতা হলো: বিবর্তন শুধু মাত্র একটি তত্ত্ব বা থিওরী, তাই না? ১৯৮০ সালে একটি খৃষ্টীয় ইভানজেলিক্যাল গ্রুপের সমাবেশে বক্তৃতা দেবার সময় প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী রোনাল্ড রীগ্যান বিবর্তনকে ব্যাখ্যা করেছিলেন এভাবে: ‘বেশ, এটা একটি থিওরী, এটা শুধুমাত্র একটি বৈজ্ঞানিক থিওরী, এবং বিজ্ঞানের জগতে সম্প্রতি বছরগুলোতে এই তত্ত্বটি চ্যালেন্জ করা হয়েছে এবং এক সময় যেভাবে এটিকে নির্ভুল বলে বিশ্বাস করা হত, বৈজ্ঞানিক সমাজে এখনও এটাকে সেভাবে বিশ্বাস করা হয়না’।</p>
<p>এই উক্তির মুল শব্দটি হচ্ছে, ’শুধুমাত্র’। ’শুধুমাত্র’ একটি তত্ত্ব? এটি যে প্রস্তাব করছে তা হলো: কোন একটি থিওরীতে কিছু আছে যা ঠিক একে সঠিক বলে নির্দেশিত করছে না-অর্থাৎ এটি শুধু মাত্র একটি ধারনা, এবং খুব সম্ভবত ভুল। আসলেই প্রাত্যহিক ব্যবহৃত ভাষায় ’থিওরী’ শব্দটির অন্যার্থই হচ্ছে ’অনুমান’, যেমন পরের এই বাক্যটিতে ’থিওরী’ বলতে যা বোঝাচ্ছে:  ’আমার থিওরী হচ্ছে, ফ্রেড স্যু এর জন্য উন্মাদ’; কিন্তু বিজ্ঞানে ‘থিওরী’ শব্দটির অর্থ সম্পুর্ন ভিন্ন, যা অন্য কোন সাধারন অনুমানের তুলনায় বহুগুন বেশীমাত্রায় ‘নিশ্চয়তা’ এবং ’দৃঢ়তার বৈশিষ্ট’ বহন করে।</p>
<p>অক্সফোর্ড ইংলিশ অভিধানের ভাষায়: ’কোন বৈজ্ঞানিক থিওরী হচ্ছে,  এমন কোন বক্তব্য( সমুহ) যা, কোন কিছু জ্ঞাত বা পর্যবেক্ষিত হয়েছে এমন কোন বিষয়ের সাধারন নীতিমালা, মুলনীতি অথবা কারন হিসাবে মনে করা হয়;এভাবে আমরা ’থিওরী অ্ফ গ্রাভিটি’ বা’ মহাকর্ষন তত্ত্ব’র  কথা উল্লেখ করতে পারি, ভর আছে এমন যে কোন বস্তুদের পারস্পরিক আকর্ষন সংক্রান্ত প্রস্তাবসমুহকে যা বস্তুদের মধ্যবর্তী দুরত্বের সাথে একটি নির্দিষ্ট সম্পর্ক রক্ষা করে বা আমরা ’থিওরী অফ রিলেটিভিটি’র কথা বলতে পারি, যা আলোর গতি এবং স্পেস-টাইম এর কার্ভেচার বা বক্রতা সম্বন্ধে সুস্পষ্ট কিছু দাবী করেছে।</p>
<p>আমি দুটো বিষয়ে জোর দিতে চাই  এখানে, প্রথম, বিজ্ঞানে, কোন থিওরী, কোন বিষয় সম্বন্ধে শুধু মাত্র ‘আনুমানিক’ কোন ধারনা অপেক্ষা আরো অনেক বেশী কিছু বর্ণনা করে, এটি সুচিন্তিত কিছু প্রস্তাবসমুহ যা বাস্তব পৃথিবীকে ব্যাখ্যা করে। অ্যাটোমিক বা আনবিক তত্ত্ব শুধু মাত্র ’আটমের অস্তিত্ব আছে’  এমন কোন বক্তব্য নয়: এটি সেই বক্তব্য যা বলছে, কেমন করে পরমানুগুলো পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া করে, যৌগ গঠন করে, এবং কেমন করে তারা রাসায়নিকভাবে আচরন করে। একই ভাবে ‘বিবর্তন থিওরী’ মানে শুধু মাত্র এটা না যে ’বিবর্তন ঘটেছে’: এটি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত একগুচ্ছ নীতিমালা- আমি প্রধান ছয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছি- যা ব্যাখ্যা করে, ’কিভাবে’ এবং ’কেন’ বিবর্তন হয়েছে।</p>
<p>এখান থেকে আমি দ্বিতীয় বিষয়টিতে আসতে পারি।  কোন  একটি ’তত্ত্ব’কে ’বৈজ্ঞানিক’ হিসাবে  বিবেচনার করতে হলে, একে অবশ্যই ’পরীক্ষাযোগ্য’ হতে হবে এবং এটি প্রমান করা সম্ভব এমন ’প্রেডিকশন’ বা ভবিষ্যদ্বানী করার ক্ষমতা সম্পন্ন হতে হবে। এর অর্থ বাস্তব পৃথিবীতে আমরা এর পক্ষে বিপক্ষে প্রমান কিংবা অপ্রমান করার জন্য পরীক্ষা এবং পর্যবেক্ষন করতে পারবো। ’পারমানবিক তত্ত্ব’ প্রথমদিকে ছিল অনুমান নির্ভর, কিন্তু ধীরে ধীরে এটি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে যখন রসায়ন বিজ্ঞানে এর স্বপক্ষে যথেষ্ট পরিমান প্রমান জড়ো হতে থাকে, যা পরমানুদের সত্যিকার অস্তিত্বটাকে প্রমান করে। যদিও ১৯৮১ সালে স্ক্যানিং  প্রোব মাইক্রোস্কোপ আবিষ্কারের আগে কেউই প্রকৃত পক্ষে অ্যাটম দেখেনি ( মাইক্রোস্কোপের নীচে যেমনটা ধারনা করা হয়েছিল, এরা সেরকমই ছোট বলের মত দেখতে); বিজ্ঞানীরা বহু আগেই বিশ্বাস করেছিলেন, পরমানু সত্যি অস্তিত্ত্ব আছে। এভাবেই কোন ভালো ’তত্ত্ব’ এধরনের ভবিষদ্বানী করতে পারে, কি দেখতে পারি আমরা যদি খুব মনোযোগ দিয়ে, কাছ থেকে আমরা প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষন করি। এবং যদি সেই ভবিষ্যদ্বানীগুলো কার্যত সত্যি প্রমানিত হয় তাহলে সেই ’তত্ত্ব’টির সত্যতা সম্বন্ধে আমাদের আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে যায়। ১৯২৫ সালে আইনস্টাইনের ’থিওরী অব রিলেটিভিটি’, প্রেডিক্ট করেছিল, কোন সুবিশাল মহাজাগতিক বস্তুর পাশ দিয়ে আলো অতিক্রম করার সময় তার গতিপথ খানিকটা বেকে যাবে  (টেকনিক্যাল ভাষায় এ ধরনের বিশাল মহাজাগতিক কোন বস্তুর মধ্যাকর্ষন শক্তি স্পেস-টাইমকে বাকিয়ে দেয়, যা ফোটন কনার গতিপথকেও বাকিয়ে দেবে); পরবর্তীতে সুনিশ্চিৎভাবে, ১৯১৯ সালে বিষয়টি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমান করেন, আর্থার এডিংটন, সুর্যগ্রহনের সময় দুরবর্তী একটি নক্ষত্র থেকে আসা আলোর গতিপথ বক্র হয়ে যায়, সুর্যকে অতিক্রম করার সময়ে, যা নক্ষত্রটির অবস্থানের আপাতদৃষ্টিতে পরিবর্তন করে। এই প্রেডিকশনটি যখন পরীক্ষিত হলো, তখনই আইনস্টাইনের তত্ত্বর গ্রহনযোগ্যতাও আরো বৃদ্ধি পায়।</p>
<p>যেহেতু কোন ’তত্ত্ব’  গ্রহনযোগ্য হয় ’সত্য’ হিসাবে, যখন এর দাবীগুলো এবং প্রেডিকশনগুলো বার বার পরীক্ষা করা যায়, এবং বারংবার নিশ্চিৎ প্রমান করা হয়, এমন কোন একটি একক মুহুর্ত বলে কিছু  থাকে না, যখন কিনা কোন একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব  হঠাৎ করে একবারেই কোন বৈজ্ঞানিক ‘ফ্যাক্ট বা সত্য’ হয়ে যায়। একটি ’তত্ত্ব’ ’ফ্যাক্ট বা সত্যে’ পরিনত হয় যখন অসংখ্য প্রমান এর স্বপক্ষে জমা হয় এবং এমন কোন গুরুত্বপুর্ন প্রমান পাওয়া যায় না যা কিনা এর সত্যতা ভুল প্রমান করে- এবং আক্ষরিক অর্থে সকল যৌক্তিক মানুষ এটি মেনে নেয়। এর মানে কিন্তু এই না যে, কোনদিনও কোন ’সত্য’ তত্ত্ব মিথ্যা প্রমানিত হতে পারে না। সব বৈজ্ঞানিক সত্যই ’প্রভিশনাল’, প্রাথমিক, যা  নতুন প্রমানের আলোকে পরিবর্তিত হতেই পারে। এমন কোন অ্যালার্ম বেল নেই, যা বেজে উঠে জানান দেয় বিজ্ঞানীদের, তারা অবশেষে প্রকৃতি সম্বন্ধে চুড়ান্ত অপরিবর্তনযোগ্য ’সত্য’টি খুজে পেয়েছেন। আমরা পরে দেখবো, এটা হতে পারে, লক্ষ হাজার পর্যবেক্ষন যা কিনা সমর্থন করছে ডারউইনিজমকে, নতুন কোন উপাত্ত হয়তে দেখাতে পারে এটি ভুল। কিন্ত‍ু আমি মনে করি সেটা হবার কোন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, কিন্তু বিজ্ঞানীদের জন্য কোনটাকে তারা সত্য বলে গ্রহন করবে সেক্ষেত্রে তাদের কোন অন্ধ গোড়া মৌলবাদীদের মত অহঙ্কারী হওয়াটা মানায় না।</p>
<p>‘সত্য’ বা ’ফ্যাক্ট’ হবার প্রক্রিয়ায়, বৈজ্ঞানিক ’থিওরী’গুলোকে বিকল্প ’থিওরী’দের বিপরীতে পরীক্ষা করে দেখা হয়। কারন কোন একটি প্রাকৃতিক ফেনোমেনা বা ঘটনার সাধারনত একাধিক ব্যাখ্যা থাকতে ‍পারে। বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করেন, গুরুত্বপুর্ন পর্যবেক্ষন করার জন্য অথবা প্রমান খোজার জন্য পরীক্ষা করেন, যা প্রতিদ্বন্দী ব্যাখ্যাগুলোকে একটার সাথে অন্যটির তুলনামুলক একটি যাচাই বাছাই করার মাধ্যমে। অনেক বছর ধরেই ধারনা করা হতো পৃথিবীর ভুপৃষ্ঠে স্থলভুমিগুলোর অবস্থান জীবনের ইতিহাসের জন্মলগ্ন থেকে অপরিবর্তিত আছে, কিন্তু ১৯১২ সালে জার্মান ভুপদার্থবিদ আলফ্রেড ওয়েগেনার এর একটি প্রতিদ্বন্দী তত্ত্ব প্রস্তাব করেন, ‘কন্টিনেন্টাল ড্রিফট’ থিওরী, যা প্রস্তাব করেছিল, মহাদেশগুলো তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছে। প্রথম দিকে তার এই ধরনের ধারনার পিছনে অনুপ্রেরনা ছিল পর্যবেক্ষন নির্ভর, আফ্রিকা এবং দক্ষিন আমেরিকা মহাদেশের আকৃতি, যাদের অনেকটা জিগস পাজলের টুকরার মত পরস্পরের সম্পুরক, সেখান থেকেই। ’কন্টিনেন্টাল ড্রিফট’ এর বিষয়টি আরো নিশ্চিৎ হয় ক্রমান্বয়ে জীবাশ্ম সংগ্রহ বাড়ার সাথে সাথে এবং জীবাশ্মবিদরা দেখলেন প্রাচীন প্রজাতিগুলোর বিস্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কোন এক সময় ভুখন্ডগুলো আসলেই একসাথে যুক্ত ছিল। পরে, ‘প্লেট টেকটোনিক’ তত্ত্বর মাধ্যমে( কানাডীয় ভুতাত্ত্বিক জন তুজো উইলসন এর) প্রস্তাব করা হয় মহাদেশীয় ভুখন্ডগুলির নড়াচড়া করার কারন হিসাবে, ঠিক যেমন, প্রাকৃতিক নির্বাচনকে প্রস্তাব করা হয়েছে বিবর্তনের মেকানিজম হিসাবে: পৃথিবীর ভুপৃষ্ঠ (ক্রাষ্ট এবং আপার ম্যান্টল বা লিথোস্ফেয়ার) পৃথিবীর আভ্যন্তরীন তরল পদার্থের উপর ভাসমান।’প্লেট টেকটনিক’ তত্ত্বকে  প্রথমে ভুতত্ত্ববিদদের সন্দেহের মুখোমুখি হতে হয়েছে অনেক এবং বহু ক্ষেত্রে একে নানা কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা বর্তমানে খুব বিশ্বাসযোগ্য ভাবেই তত্ত্বটিকে প্রমান করেছে ’সত্য’ হিসাবে। বর্তমানে গ্লোবাল পজিশনিং স্যাটেলাইট টেকনোলজীর জন্য সুবাদে, আমরা এখন স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছি মহাদেশীয় ভুখন্ডগুলো একে অপরের থেকে প্রতি বছর ২ থেকে ৪ ইন্চি দুরে সরে যাচ্ছে ( প্রায় যে হারে আপনার হাতে নোখ বাড়ে); প্রসঙ্গক্রমে এটি, এবং এর সাথে যুক্ত উপেক্ষা করা অসম্ভব এমন কিছু প্রমান, যে মহাদেশীয় ভুখন্ডগুলো কোন এক সময় পরস্পর সংযুক্ত ছিল, এ বিষয়টি ‘ইয়ং আর্থ সৃষ্টিবাদী’দের পৃথিবী মাত্র ৬০০০ থেকে ১০০০০ বছর প্রাচীন, এমন ধারনার বিরুদ্ধে জোরালো একটি প্রমান। তাদের দাবী যদি সত্যি হত, তাহলে আমরা স্পেনের সাগর উপকুল থেকে নিউ ইয়র্ক সিটি র শহরের স্কাইলাইন দেখতে পেতাম, কারন তাদের প্রস্তাবিত সময়কালের মধ্যে ইউরোপ আমেরিকার ভুখন্ড এক মাইলেরও কম দুরে সরতো।</p>
<p>যখন ডার‌‌উইন  তার ’অন দি অরিজিন’ বইটি লেখেন, বেশীর ভাগ পশ্চিমা বিজ্ঞানী এবং বাকীরা প্রায় সবাই ছিলেন সৃষ্টিবাদী বা ক্রিয়েশনিষ্ট; জেনেসিসে ব্যাখ্যা করা প্রতিটি বর্ণনা আক্ষরিক অর্থে তারা মেনে না নিলেও, বেশীর ভাগই মনে করতেন, জীবনের সৃষ্টি হয়েছে কম বেশী বর্তমান আকারে বা ফর্মে, সর্বশক্তিমান কোন সৃষ্টিকর্তার দ্বারা, এবং প্রজাতির সৃষ্টির পর থেকে যার আর কোন পরিবর্তনই হয়নি। ‘অন দি  অরিজিন’ বইটিতে ডারউইন এর একটি বিকল্প হাইপোথিসিস প্রস্তাব করেন, জীবনের ‌‌ডেভোলপমেন্ট, এর বহু বিচিত্রতা এবং পরিকল্পনা বা ডিজাইন এর  ব্যাখ্যায় । বইটির বিশাল একটি অংশ শুধু বিবর্তনের স্বপক্ষেই প্রমান জড়ো করেনি, একই সাথে ক্রিয়েশনিজম বা সৃষ্টিবাদের তত্ত্বটিকে খন্ডন করে। ডারউইনের কাছে সেই সময়ে বিবর্তনের স্বপক্ষে জোরালো প্রমান ছিল তবে সে বিষয়ে পুরোপুরিভাবে চুড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত দেবার মত ছিল না, সেকারনে ডার‌উইনের সেই সময়, আমরা বলতে পারি, বিবর্তন একটি ’তত্ত্ব’ (যদিও খুবই শক্ত প্রমানের উপর দাড়ানো একটি ’তত্ত্ব’) যখন ডার‌উইন প্রথম এটি প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু ১৮৫৯ সালে পর এটি এখন ’সত্য‘ বা ’ফ্যাক্ট’ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অসংখ্য প্রমানের উপর ভিত্তি করে এবং এখনও জড়ো হচ্ছে প্রমান। বিবর্তনকে এখনও ’থিওরী’ বলেই ডাকা হয়, ঠিক যেমন মধ্যাকর্ষন এর ’থিওরী’ ( ’থিওরী অফ গ্র্যাভিটি’), কিন্তু এটা সেই ’থিওরী’ যা একটি ’ফ্যাক্ট’ও বটে।</p>
<p>তাহলে আমরা বিবর্তন তত্ত্বকে কিভাবে পরীক্ষা করবো এর এখনও জনপ্রিয় বিকল্প তত্ত্বর বীপরিতে: যা দাবী করছে, জীবন ’সৃষ্টি’ করা হয়েছে এবং সৃষ্টির পর তা অপরিবর্তিত থেকেছে। আসলে এখানে দুই ধরনের প্রমান আছে, প্রথমটি হচ্ছে, ডারউইনিজমের মুল ছটি টেনেট বা মুল বিষয়গুলো ব্যবহার করে ’পরীক্ষাযোগ্য‘  কিছু প্রেডিকশন বা ভবিষ্যদ্বানী করা। এই ’প্রেডিকশন’ মানে আমি বলছি না; ভবিষ্যতে প্রজাতি কিভাবে বিবর্তিত হবে ডারউইনিজম তা প্রেডিক্ট করতে পারে। বরং বর্তমানে জীবিত ও প্রাচীন প্রানীদের নিয়ে আমরা যখন গবেষনা ‍এবং পর্যবেক্ষন করবো, তখন আমাদের কি খুজে পাওয়া উচিৎ। নীচে তেমন কিছু বিবর্তনীয় প্রেডিকশন  উল্লেখ করা হলো:</p>
<ul>
<li>যেহেতু জীবাশ্মগুলো প্রাচীন জীবনের  অবশেষ, জীবাশ্ম রেকর্ডে বিবর্তনীয় পরিবর্তনের প্রমান আমাদের সেখানে খুজে পাওয়া উচিৎ। ভুত্বকের পাথরের গভীরতম স্তরে (এবং প্রাচীনতম) অপেক্ষাকৃতভাবে আদিমতম প্রানীদের জীবাশ্ম থাকবে এবং পাথরের স্তর যতই অপেক্ষাকৃত নবীন হতে থাকবে, কোন কোন জীবাশ্ম প্রজাতিদের গঠনে জটিলতাও বাড়বে এবং  বর্তমান যুগের প্রজাতিদের মত জীবদের জীবাশ্ম পাওয়া যাবে অপেক্ষাকৃতভাবে সাম্প্রতিক স্তরগুলোতে। এবং আমরা দেখতে পারবো, সময়ের সাথে কিছু প্রজাতিদের ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন, যারা তৈরী করছে বংশধারা বা লিনিয়েজ, &#8216;descent with modification ’ অর্থাৎ পরিবর্তনের সাথে নতুন বংশানুক্রম ( অভিযোজন)।</li>
<li>আমাদের কিছু স্পিসিয়েশন বা প্রজাতিকরণ এর কিছু উদহারনও খুজে পাওয়া উচিৎ জীবাশ্ম রেকর্ডে, যেখানে কোন একটি বংশধারা বিভাজিত হয়েছে দুইটি ও আরো বেশী ধারায় এবং বন্য প্রকৃতিতে নতুন প্রজাতির উদ্ভবও আমাদের খুজে পাওয়া উচিৎ।</li>
<li>সেই সব প্রজাতিদের নমুনা আমাদের খুজে পাওয়া উচিৎ, সাধারন বা কমন বংশধারার বলে সন্দেহ করা হয় এমন প্রধান গ্রুপ গুলোকে যারা সংযোগ করে। যেমন পাখী এবং সরীসৃপ ও মাছ এবং উভচর প্রানীরা। এছাড়া এই ’মিসিং লিঙ্ক’ ( আরো সঠিকভাবে বললে ’ট্রান্জিশনাল’ ফর্ম) প্রজাতির জীবাশ্ম সেই স্তরে পাওয়া যাওয়া উচিৎ যে স্তরের সময়কাল এই গ্রুপগুলোর বিভাজনকালের সমসাময়িক হবে।</li>
<li>আমরা প্রজাতিদের মধ্যে অনেক বৈশিষ্ট্যরই মধ্যে জেনেটিক বৈচিত্রতা বা ভিন্নতা লক্ষ্য করবো (অনথ্যায় বিবর্তন হবার কোন সম্ভাবনা নেই )।</li>
<li>ভুল বা ত্রুটি বিচ্যুতিগুলো বিবর্তনের চিহ্ন, কোন সচেতন সৃষ্টিকর্তার ডিজাইনের চিহ্ন নয়।  আমরা অবশ্য পুরোপুরি সঠিক হয়নি এমন অ্যাডাপটেশন বা অভিযোজনের উদহারন খুজে পাবো, যেখানে বিবর্তন পক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে সেই পরিমান উপযোগী, ‘অনুকুল’ অভিযোজন ক্ষমতা অর্জন করতে, যা হয়তবা কোন বুদ্ধিমান সৃষ্টিকর্তার পক্ষে স্বাভাবিক ছিল।</li>
<li>বন্য পরিবেশে আমাদের প্রাকৃতিক নির্বাচনকে তার প্রভাব দেখতে পাওয়া উচিৎ।</li>
</ul>
<p>এই সব ভবিষ্যকথন ছাড়াও, ডারউইনিজম সমর্থন পাওয়া যায় আরেকটি ক্ষেত্রে, আমি যেটা বলছি, রেট্রোডিকশন বা অতীতকথনে: ফ্যাক্ট এবং উপাত্ত যা হয়তো বা বিবর্তন তত্ত্বকে প্রেডিক্ট করেনি কিন্তু  শুধুমাত্র ’বিবর্তন তত্ত্বের আলোকেই তাদের একটি বোধগম্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়’; রেট্রোডিকশন বিজ্ঞানচর্চার একটি গ্রহনযোগ্য পদ্ধতি: কিছু প্রমানাদি যা ‘প্লেট টেকটোনিক’ তত্ত্বকে সমর্থন করে, যেমন, এসেছে সমুদ্রতলদেশে পাথরদের সজ্জার বিন্যাসের থেকে, শুধুমাত্র পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রর অতীত পরিবর্তনের চিহ্ন অনুধাবন করতে যখন, বিজ্ঞান সেই দক্ষতা অর্জন করেছে। কিছু কিছু রেট্রোডিকশন বিবর্তনকে সমর্থন করে ( বিশেষ সৃষ্টিবাদ যা পারেনা), যেমন ভুপৃষ্টে প্রজাতিদের বিস্তার, ভ্রুণ থেকে কিভাবে একটি জীব পুর্নতা পায় সেই প্রক্রিয়ার  কিছু  স্বতন্ত্র বিশেষত্ত্ব এবং ভেস্টিজিয়াল বা বর্তমানে আপাতদৃষ্টিতে ব্যবহৃত হয় না এমন কিছু বৈশিষ্ট। পরবর্তীতে ৩য় এবং ৪ র্থ অধ্যায় এ বিষয়ে আমি আলোচনা করেছি।</p>
<p>বিবর্তন তত্ত্ব, তাহলে, ভবিষ্যদ্বানী করছে  যা সাহসী এবং স্পষ্ট। ডারউইন প্রায় বিশ বছর ধরে ’অন দি অরিজিন’ প্রকাশের আগে তার ধারনার স্বপক্ষে প্রমান সংগ্রহ করেছিলেন। সেটা ১৫০ বছর আগের কথা। গত এই দেড় শতাব্দীতে, এর স্বপক্ষে আরো অনেক প্রমান জড়ো হয়েছে, জ্ঞানের পরিধিও বেড়েছে, আরো কত বেশী জীবাশ্ম আবিষ্কার হয়েছে এবং হচ্ছে, অসংখ্য প্রজাতির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তাদের পৃথিবীব্যাপী ভৌগলিক বিস্তারও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।বিভিন্ন প্রানীদের মধ্যে বিবর্তনীয় সম্পর্ক উন্মোচনের প্রক্রিয়ায় এত বেশী কাজ করা হয়েছে। ডারউইন যা স্বপ্নেও ভাবেননি, এমন সম্পুর্ন  নতুন শাখার সুচনা হয়েছে বিজ্ঞানে, মলিকিউলার বায়োলজী এবং সিস্টেম্যাটিক্স ( বিভিন্ন প্রানীদের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয়ের বিদ্যা)।</p>
<p>পরবর্তী অধ্যায় গুলোতে আমরা দেখবো, সব প্রমান, পুরোনো এবং নতুন- নির্দেশ করে সেই অনবক্রম্য উপসংহারের দিকে: বিবর্তন সত্যি।</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/kmhb.wordpress.com/2211/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/kmhb.wordpress.com/2211/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/kmhb.wordpress.com/2211/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/kmhb.wordpress.com/2211/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/kmhb.wordpress.com/2211/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/kmhb.wordpress.com/2211/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/kmhb.wordpress.com/2211/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/kmhb.wordpress.com/2211/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/kmhb.wordpress.com/2211/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/kmhb.wordpress.com/2211/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/kmhb.wordpress.com/2211/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/kmhb.wordpress.com/2211/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/kmhb.wordpress.com/2211/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/kmhb.wordpress.com/2211/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=2211&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://kmhb.wordpress.com/2012/02/09/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>7</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/e40bfc2ea43f56cde7024fc67c614894?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">kazimahboob</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/charles-darwin.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">Charles Darwin</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/hummingbird1.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">Hummingbird</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/08-02-2012-8-15-27-pm.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">08-02-2012 8-15-27 PM</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/08-02-2012-10-03-08-pm.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">08-02-2012 10-03-08 PM</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://img2.etsystatic.com/il_570xN.242545778.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">matchbook collection</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/woolly-mammoth.jpeg?w=300" medium="image">
			<media:title type="html">wooly mammoth</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/08/hernia.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">Hernia</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://images.sciencedaily.com/2008/10/081031102304-large.jpg" medium="image">
			<media:title type="html"> ‍Saber tooth Tiger</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন এর অনুবাদ প্রচেষ্টা:</title>
		<link>http://kmhb.wordpress.com/2012/02/04/%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%a1%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%b8-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%97%e0%a6%a1-%e0%a6%a1%e0%a6%bf/</link>
		<comments>http://kmhb.wordpress.com/2012/02/04/%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%a1%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%b8-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%97%e0%a6%a1-%e0%a6%a1%e0%a6%bf/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 04 Feb 2012 15:49:04 +0000</pubDate>
		<dc:creator>K M Hassan</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[বিবর্তন]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>
		<category><![CDATA[ঈশ্বর হাইপোথিসিস]]></category>
		<category><![CDATA[দি গড ডিল্যুশন]]></category>
		<category><![CDATA[রিচার্ড ডকিন্স]]></category>
		<category><![CDATA[god delusion]]></category>
		<category><![CDATA[richard dawkins]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://kmhb.wordpress.com/?p=2182</guid>
		<description><![CDATA[বেশ  অনেকদিন আগেই রিচার্ড ডকিন্স (Richard Dawkins) এর দি গড ডিল্যুশনের ( The God Delusion) অনুবাদে হাত দিয়েছিলাম। তখনও আমি ব্লগের সাথে পরিচিত নই । পরবর্তীতে প্রথম অধ্যায়টিকে মুক্তমনায় দেখলাম। তখন থেকে মুক্তমনার ক্ষুরধার লেখাগুলো পড়ছি বিস্ময়ের সাথে। নীচের এই অনুবাদ প্রচেষ্টা আমার। লেখাটি আমি উৎসর্গ করছি শিল্পী এবং কবি আসমা সুলতানাকে। যার উৎসাহে আমার [...]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=2182&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>বেশ  অনেকদিন আগেই রিচার্ড ডকিন্স (Richard Dawkins) এর দি গড ডিল্যুশনের ( The God Delusion) অনুবাদে হাত দিয়েছিলাম। তখনও আমি ব্লগের সাথে পরিচিত নই । পরবর্তীতে প্রথম অধ্যায়টিকে মুক্তমনায় দেখলাম। তখন থেকে মুক্তমনার ক্ষুরধার লেখাগুলো পড়ছি বিস্ময়ের সাথে।</p>
<p>নীচের এই অনুবাদ প্রচেষ্টা আমার। লেখাটি আমি উৎসর্গ করছি শিল্পী এবং কবি আসমা সুলতানাকে। যার উৎসাহে আমার এই কর্মযজ্ঞ, যার অনেক ঋণ কোনদিনও শোধ করা সম্ভব হবে না।<br />
বছরের শেষ দিনে হার্ড ডিস্ক থেকে অনেক অসমাপ্ত লেখা বের হলো, গড ডিল্যুশনের প্রায় আড়াইটা চ্যাপটার। ঠিক করেছি ধীরে ধীরে অনুবাদ সেকশনে  এটা প্রকাশ করবো:</p>
<p style="text-align:center;"><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/09/1231.jpg"><img class="aligncenter" title="123" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/09/1231.jpg?w=490&#038;h=762" alt="" width="490" height="762" /></a>শীর্ষ ছবি কিংবা প্রচ্ছদ : আসমা সুলতানা</p>
<p style="text-align:center;"><strong>প্রথম অধ্যায় : <a href="http://wp.me/P1KdC9-sM">প্রথম পর্ব </a>| <a href="http://wp.me/P1KdC9-t6">দ্বিতীয় পর্ব</a> | <a href="http://wp.me/P1KdC9-tq">তৃতীয় পর্ব  </a>| <a href="http://wp.me/P1KdC9-tz">চতুর্থ পর্ব </a>|<a href="http://wp.me/P1KdC9-tK">শেষ পর্ব</a><a href="http://wp.me/P1KdC9-tK"><br />
</a></strong><strong>দ্বিতীয় অধ্যায় : <a href="http://wp.me/P1KdC9-tX">প্রথম পর্ব </a>| <strong><a href="http://wp.me/P1KdC9-uq">দ্বিতীয় পর্ব </a>|<a href="http://wp.me/P1KdC9-uD">তৃতীয় পর্ব</a>|<a href="http://wp.me/P1KdC9-v5"> চতুর্থ পর্ব</a>| <a href="http://wp.me/P1KdC9-vX">পঞ্চম পর্ব</a>|<a href="http://wp.me/P1KdC9-x8">ষষ্ঠ পর্ব</a>|<br />
<a href="http://wp.me/P1KdC9-y7">সপ্তম পর্ব</a> | <a href="http://wp.me/P1KdC9-yT">অষ্টম পর্ব</a>| <a href="http://wp.me/P1KdC9-z7">নবম পর্ব</a>  | <a href="http://wp.me/P1KdC9-AE">দশম পর্ব</a>  | <a href="http://wp.me/P1KdC9-Ba">একাদশ পর্ব </a> | <strong><strong><a href="http://wp.me/P1KdC9-BU">শেষ পর্ব</a><br />
</strong></strong></strong></strong><span style="color:#ff0000;">তৃতীয় অধ্যায়: </span><a href="http://wp.me/P1KdC9-De">প্রথম পর্ব</a></p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/kmhb.wordpress.com/2182/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/kmhb.wordpress.com/2182/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/kmhb.wordpress.com/2182/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/kmhb.wordpress.com/2182/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/kmhb.wordpress.com/2182/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/kmhb.wordpress.com/2182/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/kmhb.wordpress.com/2182/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/kmhb.wordpress.com/2182/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/kmhb.wordpress.com/2182/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/kmhb.wordpress.com/2182/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/kmhb.wordpress.com/2182/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/kmhb.wordpress.com/2182/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/kmhb.wordpress.com/2182/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/kmhb.wordpress.com/2182/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=2182&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://kmhb.wordpress.com/2012/02/04/%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%a1%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%b8-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%97%e0%a6%a1-%e0%a6%a1%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>5</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/e40bfc2ea43f56cde7024fc67c614894?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">kazimahboob</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/09/1231.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">123</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>১২ ফেব্রুয়ারী: আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবস ২০১২</title>
		<link>http://kmhb.wordpress.com/2012/02/01/%e0%a7%a7%e0%a7%a8-%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be/</link>
		<comments>http://kmhb.wordpress.com/2012/02/01/%e0%a7%a7%e0%a7%a8-%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 02 Feb 2012 02:07:55 +0000</pubDate>
		<dc:creator>K M Hassan</dc:creator>
				<category><![CDATA[জীববিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[বিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[বিবর্তন]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>
		<category><![CDATA[চার্লস ডারউইন]]></category>
		<category><![CDATA[ডারউইন দিবস]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://kmhb.wordpress.com/?p=2141</guid>
		<description><![CDATA[I have at least, as I hope, done good service in aiding to overthrow the dogma of separate creations. &#8211; Charles Darwin, Descent of Man page 61 চার্লস রবার্ট ডারউইন (১২ ফেব্রুয়ারী ১৮০৯ -১৯ এপ্রিল ১৮৮২) (ছবি সুত্র: Kenn Brown, Scientific American, January 2009 ( সম্পাদিত)  আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবস  এবং  http://darwinday.org/ আমার ব্লগে বিবর্তন বিষয়ক কিছু লেখার লিঙ্ক: মহান [...]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=2141&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align:center;"><span style="color:#0000ff;">I have at least, as I hope, done good service in aiding to overthrow the dogma of separate creations.</span><br />
<span style="color:#808080;">&#8211; <strong>Charles Darwin</strong>, <em>Descent of Man</em> page 61</span></p>
<p style="text-align:center;"><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/27-01-2012-12-16-55-am.jpg"><img title="27-01-2012 12-16-55 AM" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/27-01-2012-12-16-55-am.jpg?w=484&#038;h=577" alt="" width="484" height="577" /><br />
</a><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Charles_Darwin"><span style="text-decoration:underline;"><span style="color:#ff0000;text-decoration:underline;">চার্লস রবার্ট ডারউইন</span></span><br />
</a><span style="color:#808080;">(১২ ফেব্রুয়ারী ১৮০৯ -১৯ এপ্রিল ১৮৮২)</span><br />
<em><span style="color:#808080;">(ছবি সুত্র: Kenn Brown, Scientific American, January 2009 </span></em><span style="color:#808080;">( সম্পাদিত)</span><span style="color:#808080;"> </span></p>
<p style="text-align:center;"><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Darwin_Day">আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবস</a>  এবং  <a href="http://darwinday.org/">http://darwinday.org/</a></p>
<p style="text-align:center;">আমার ব্লগে বিবর্তন বিষয়ক কিছু লেখার লিঙ্ক:</p>
<p style="text-align:center;"><span style="color:#0000ff;"><a style="text-align:left;" href="http://wp.me/p1KdC9-O"><span style="color:#0000ff;">মহান মনিষীরা একই ভাবে চিন্তা করেন: কেমন করে ‍আলফ্রেড ওয়ালেস ডারউইনের মত একই রকম বৈপ্লবিক অন্তদৃষ্টি অনুভব করেছিলেন<br />
</span></a><a style="text-align:left;" href="http://wp.me/p1KdC9-1j"><span style="color:#0000ff;">বিবর্তন জীববিজ্ঞানে দশটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি<br />
</span></a><a style="text-align:left;" href="http://wp.me/p1KdC9-1o"><span style="color:#0000ff;">আমাদের এই প্রাচীন শরীর<br />
</span></a><a style="text-align:left;" href="http://wp.me/p1KdC9-5F"><span style="color:#0000ff;">আমাদের পারিবারিক বৃক্ষ<br />
</span></a><a style="text-align:left;" href="http://wp.me/p1KdC9-6c"><span style="color:#0000ff;">ডারউইনের কিছু ভবিষ্যদ্বানী<br />
</span></a><a href="http://wp.me/p1KdC9-gW"><span style="color:#0000ff;">নৈতিকতার স্নায়ুবৈজ্ঞানিক উৎসের সন্ধানে<br />
</span></a><a style="text-align:left;" href="http://wp.me/p1KdC9-hC"><span style="color:#0000ff;">চোখের বিবর্তন<br />
</span></a><a style="text-align:left;" href="http://wp.me/p1KdC9-iE"><span style="color:#0000ff;">প্রাইমেটদের কালার ভিশনের বিবর্তন<br />
</span></a><a style="text-align:left;" href="http://wp.me/p1KdC9-js"><span style="color:#0000ff;">অ্যাটেনবরো’র মাদার ফিশ: যৌন সঙ্গম ও আভ্যন্তরীন নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়ার বিবর্তনের উষালগ্ন<br />
</span></a><a style="text-align:left;" href="http://wp.me/p1KdC9-kw"><span style="color:#0000ff;">প্রানীজগতে সমলিঙ্গ যৌন আচরণ এবং বিবর্তন<br />
</span></a><a style="text-align:left;" href="http://wp.me/p1KdC9-mg"><span style="color:#0000ff;">ভালোবাসা, নিউরোবায়োলজী কি বলে….<br />
</span></a><a style="text-align:left;" href="http://wp.me/p1KdC9-ok"><span style="color:#0000ff;">একটি অসাধারন বই এর ছোট কাহিনী<br />
</span></a><a style="text-align:left;" href="http://wp.me/p1KdC9-qS"><span style="color:#0000ff;">ইউজেন দুবোয়া এবং জাভা ম্যান<br />
</span></a><a style="text-align:left;" href="http://wp.me/p1KdC9-rK"><span style="color:#0000ff;">শুধু এক শতাংশ: আমাদের অতীতের ভবিষ্যৎ<br />
</span></a><a style="text-align:left;" href="http://wp.me/P1KdC9-uL"><span style="color:#0000ff;">রিচার্ড ডকিন্সের দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ:</span></a></span><span style="text-align:left;"> ( আপাতত প্রথম অধ্যায় , বাকী অধ্যায় গুলো প্রক্রিয়াধীন)<br />
<a href="http://wp.me/p1KdC9-bm">তুমি কি আমার মা?</a> </span></p>
<p style="text-align:center;">কিছু ভিডিও লিঙ্ক:</p>
<p style="text-align:center;"><span id="more-2141"></span></p>
<p style="text-align:center;"><span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2012/02/01/%e0%a7%a7%e0%a7%a8-%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be/"><img src="http://img.youtube.com/vi/vfmOaAz371M/2.jpg" alt="" /></a></span></p>
<p style="text-align:center;"><span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2012/02/01/%e0%a7%a7%e0%a7%a8-%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be/"><img src="http://img.youtube.com/vi/gR5UlRTJP24/2.jpg" alt="" /></a></span></p>
<p style="text-align:center;"><span style="text-align:left;"> <span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2012/02/01/%e0%a7%a7%e0%a7%a8-%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be/"><img src="http://img.youtube.com/vi/nHth4tg7B2M/2.jpg" alt="" /></a></span></span></p>
<p style="text-align:center;"><span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2012/02/01/%e0%a7%a7%e0%a7%a8-%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be/"><img src="http://img.youtube.com/vi/CF-N1xB8WLM/2.jpg" alt="" /></a></span></p>
<p style="text-align:center;"><span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2012/02/01/%e0%a7%a7%e0%a7%a8-%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be/"><img src="http://img.youtube.com/vi/mU7jU4vRksA/2.jpg" alt="" /></a></span></p>
<p style="text-align:center;"><span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2012/02/01/%e0%a7%a7%e0%a7%a8-%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be/"><img src="http://img.youtube.com/vi/rqICgw4kL6o/2.jpg" alt="" /></a></span></p>
<p style="text-align:center;"><span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2012/02/01/%e0%a7%a7%e0%a7%a8-%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be/"><img src="http://img.youtube.com/vi/rom_zBMqQLI/2.jpg" alt="" /></a></span></p>
<p style="text-align:center;"><span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2012/02/01/%e0%a7%a7%e0%a7%a8-%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be/"><img src="http://img.youtube.com/vi/xQteSrdplUU/2.jpg" alt="" /></a></span></p>
<p style="text-align:center;"><span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2012/02/01/%e0%a7%a7%e0%a7%a8-%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be/"><img src="http://img.youtube.com/vi/sabdcfPicgo/2.jpg" alt="" /></a></span></p>
<p style="text-align:center;"><span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2012/02/01/%e0%a7%a7%e0%a7%a8-%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be/"><img src="http://img.youtube.com/vi/MXEWKNhCFyw/2.jpg" alt="" /></a></span></p>
<p style="text-align:center;"><span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2012/02/01/%e0%a7%a7%e0%a7%a8-%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be/"><img src="http://img.youtube.com/vi/CKDSiNf_rLo/2.jpg" alt="" /></a></span></p>
<p style="text-align:center;"><span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2012/02/01/%e0%a7%a7%e0%a7%a8-%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be/"><img src="http://img.youtube.com/vi/fOcdkVqwCjc/2.jpg" alt="" /></a></span></p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/kmhb.wordpress.com/2141/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/kmhb.wordpress.com/2141/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/kmhb.wordpress.com/2141/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/kmhb.wordpress.com/2141/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/kmhb.wordpress.com/2141/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/kmhb.wordpress.com/2141/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/kmhb.wordpress.com/2141/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/kmhb.wordpress.com/2141/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/kmhb.wordpress.com/2141/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/kmhb.wordpress.com/2141/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/kmhb.wordpress.com/2141/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/kmhb.wordpress.com/2141/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/kmhb.wordpress.com/2141/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/kmhb.wordpress.com/2141/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=2141&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://kmhb.wordpress.com/2012/02/01/%e0%a7%a7%e0%a7%a8-%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>3</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/e40bfc2ea43f56cde7024fc67c614894?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">kazimahboob</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/02/27-01-2012-12-16-55-am.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">27-01-2012 12-16-55 AM</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা</title>
		<link>http://kmhb.wordpress.com/2012/02/01/%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%a1%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%b8-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87/</link>
		<comments>http://kmhb.wordpress.com/2012/02/01/%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%a1%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%b8-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 01 Feb 2012 05:03:16 +0000</pubDate>
		<dc:creator>K M Hassan</dc:creator>
				<category><![CDATA[জীববিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[বিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[বিবর্তন]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ]]></category>
		<category><![CDATA[অনুবাদ]]></category>
		<category><![CDATA[চার্লস ডারউইন]]></category>
		<category><![CDATA[ডারউইন দিবস]]></category>
		<category><![CDATA[দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ]]></category>
		<category><![CDATA[রিচার্ড ডকিন্স]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://kmhb.wordpress.com/?p=2132</guid>
		<description><![CDATA[রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমান অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান শীর্ষ ছবি কিংবা প্রচ্ছদ : আসমা সুলতানা প্রথম অধ্যায়: প্রথম পর্ব &#124; দ্বিতীয় পর্ব &#124; তৃতীয় পর্ব&#124; শেষ পর্ব (চলবে)<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=2132&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<h5 style="text-align:center;"></h5>
<h6 style="text-align:center;"><span style="color:#ff0000;">রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ : বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমান</span></h6>
<p style="text-align:center;">অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান</p>
<p style="text-align:center;"><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/great_show_on_earth.jpg"><img title="great_show_on_earth" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/great_show_on_earth.jpg?w=490&#038;h=645" alt="" width="490" height="645" /></a><br />
শীর্ষ ছবি কিংবা প্রচ্ছদ : আসমা সুলতানা</p>
<p style="text-align:center;">প্রথম অধ্যায়: <a href="http://wp.me/P1KdC9-w8">প্রথম পর্ব </a>| <a href="http://wp.me/P1KdC9-w5">দ্বিতীয় পর্ব</a> | <a href="http://wp.me/P1KdC9-xu">তৃতীয় পর্ব</a>| <a href="http://wp.me/P1KdC9-xF">শেষ পর্ব</a><br />
(চলবে)</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/kmhb.wordpress.com/2132/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/kmhb.wordpress.com/2132/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/kmhb.wordpress.com/2132/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/kmhb.wordpress.com/2132/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/kmhb.wordpress.com/2132/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/kmhb.wordpress.com/2132/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/kmhb.wordpress.com/2132/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/kmhb.wordpress.com/2132/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/kmhb.wordpress.com/2132/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/kmhb.wordpress.com/2132/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/kmhb.wordpress.com/2132/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/kmhb.wordpress.com/2132/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/kmhb.wordpress.com/2132/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/kmhb.wordpress.com/2132/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=2132&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://kmhb.wordpress.com/2012/02/01/%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%a1%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%b8-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/e40bfc2ea43f56cde7024fc67c614894?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">kazimahboob</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/great_show_on_earth.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">great_show_on_earth</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>মিলান কুন্দেরা’র দি আনবিয়ারেবল লাইটনেস অব বিয়িং এর অনুবাদ প্রচেষ্টা:</title>
		<link>http://kmhb.wordpress.com/2012/01/28/%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a6%bf/</link>
		<comments>http://kmhb.wordpress.com/2012/01/28/%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a6%bf/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 28 Jan 2012 17:02:07 +0000</pubDate>
		<dc:creator>K M Hassan</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিশ্বসাহিত্য]]></category>
		<category><![CDATA[অনুবাদ]]></category>
		<category><![CDATA[মিলান কুন্দেরা]]></category>
		<category><![CDATA[The unbearable lightness of being]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://kmhb.wordpress.com/?p=2098</guid>
		<description><![CDATA[চেক লেখক মিলান কুন্দেরা’র উপন্যাস Nesnesitelná lehkost bytí এর চেক ভাষা থেকে মাইকেল হেনরী হাইম এর ইংরেজী অনুবাদ The unbearable lightness of being এর বাংলা ভাবানুবাদের একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান। বেঁচে থাকার দুঃসহ নির্ভারতা  প্রথম পর্ব: নির্ভারতা এবং ভার  ১ এবং ২ &#124; ৩&#124; ৪&#124; ৫&#124;৬&#124;৭&#124;৮&#124; ৯&#124;১০&#124; ১১ এবং ১২  &#124; ১৩ এবং ১৪ &#124; ১৫ &#124; শেষাংশ ( ১৬ ও [...]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=2098&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>চেক লেখক মিলান কুন্দেরা’র উপন্যাস Nesnesitelná lehkost bytí এর চেক ভাষা থেকে মাইকেল হেনরী হাইম এর ইংরেজী অনুবাদ The unbearable lightness of being এর বাংলা ভাবানুবাদের একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান।</p>
<h6 style="text-align:center;"><a href="http://wp.me/P1KdC9-wk">বেঁচে থাকার দুঃসহ নির্ভারতা </a></h6>
<p style="text-align:center;"><span style="color:#ff0000;">প্রথম পর্ব: নির্ভারতা এবং ভার </span><br />
<a href="http://wp.me/P1KdC9-wL">১ এবং ২</a> | <a href="http://wp.me/P1KdC9-wS">৩</a>| <a href="http://wp.me/P1KdC9-x2">৪</a>| <a href="http://wp.me/P1KdC9-xe">৫</a>|<a href="http://wp.me/P1KdC9-xk">৬</a>|<a href="http://wp.me/P1KdC9-yi">৭</a>|<span style="color:#ff0000;"><span style="color:#ff0000;"><a href="http://wp.me/P1KdC9-yZ">৮</a>| <a href="http://wp.me/P1KdC9-zi">৯</a>|<a href="http://wp.me/P1KdC9-Aq" target="_blank">১০</a>| <a href="http://wp.me/P1KdC9-AZ">১১ এবং ১২ </a> | <a href="http://wp.me/P1KdC9-Bk">১৩ এবং ১৪</a> | <strong><a href="http://wp.me/P1KdC9-C9">১৫</a> | <a href="http://wp.me/P1KdC9-Cm">শেষাংশ ( ১৬ ও ১৭)</a><br />
</strong></span></span></p>
<p style="text-align:center;"><span style="color:#ff0000;"><span style="color:#ff0000;">দ্বিতীয় পর্ব :  আত্মা এবং শরীর</span></span></p>
<p style="text-align:center;"> <a href="http://wp.me/P1KdC9-Dy">১,২ এবং ৩</a></p>
<p style="text-align:center;"><img class="alignnone aligncenter" title="বেঁচে থাকার দুঃসহ নির্ভারতা" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/being2012a-copy.jpg?w=560&#038;h=782" alt="" width="560" height="782" />প্রচ্ছদ কিংবা শীর্ষ ছবি: আসমা সুলতানা</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/kmhb.wordpress.com/2098/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/kmhb.wordpress.com/2098/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/kmhb.wordpress.com/2098/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/kmhb.wordpress.com/2098/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/kmhb.wordpress.com/2098/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/kmhb.wordpress.com/2098/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/kmhb.wordpress.com/2098/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/kmhb.wordpress.com/2098/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/kmhb.wordpress.com/2098/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/kmhb.wordpress.com/2098/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/kmhb.wordpress.com/2098/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/kmhb.wordpress.com/2098/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/kmhb.wordpress.com/2098/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/kmhb.wordpress.com/2098/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=2098&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://kmhb.wordpress.com/2012/01/28/%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>8</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/e40bfc2ea43f56cde7024fc67c614894?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">kazimahboob</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/being2012a-copy.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">বেঁচে থাকার দুঃসহ নির্ভারতা</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>র‌্যালফ স্টাইনমানের শেষ পরীক্ষা এবং ডেনড্রাইটিক কোষ</title>
		<link>http://kmhb.wordpress.com/2012/01/20/%e0%a6%b0%e2%80%8c%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%ab-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7/</link>
		<comments>http://kmhb.wordpress.com/2012/01/20/%e0%a6%b0%e2%80%8c%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%ab-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 21 Jan 2012 02:48:12 +0000</pubDate>
		<dc:creator>K M Hassan</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[ক্যান্সার ভ্যাক্সিন]]></category>
		<category><![CDATA[ডেনড্রাইটিক কোষ]]></category>
		<category><![CDATA[স্টাইনম্যান]]></category>
		<category><![CDATA[Dendritic Cell]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://kmhb.wordpress.com/?p=1937</guid>
		<description><![CDATA[শীর্ষ ছবি:  র‌্যালফ মার্ভিন স্টাইনম্যান ( ১৪ জানুয়ারী ১৯৪৩ &#8211; ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১১) ; রবার্টো পারাদার ইলাসট্রেশন ( সুত্র: সায়েন্টিফিক অ্যামেরিক্যান, জানুয়ারী, ২০১২) Le hazard ne favorise que les espirits prepare:  Louis Pasteur There are so many other things left to discover: Ralph Steinman আমার কিছু কথা : ২০০৭ সালে  অগ্নাশয়ে ক্যান্সার শনাক্ত হবার পর র‌্যালফ [...]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=1937&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/rs1.jpg"><img class="alignnone  wp-image-1938" title="RS1" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/rs1.jpg?w=637&#038;h=857" alt="" width="637" height="857" /></a><br />
শীর্ষ ছবি:  র‌্যালফ মার্ভিন স্টাইনম্যান ( ১৪ জানুয়ারী ১৯৪৩ &#8211; ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১১) ; রবার্টো পারাদার ইলাসট্রেশন ( সুত্র: সায়েন্টিফিক অ্যামেরিক্যান, জানুয়ারী, ২০১২)</p>
<p><span style="color:#0000ff;"><em>Le</em><em> hazard ne favorise que les espirits prepare:  Louis Pasteur<br />
</em></span><em></em></p>
<p><span style="color:#0000ff;"><em>There are so many other things left to discover: Ralph Steinman</em></span></p>
<p><span style="color:#ff0000;">আমার কিছু কথা :</span> ২০০৭ সালে  অগ্নাশয়ে ক্যান্সার শনাক্ত হবার পর র‌্যালফ মার্ভিন স্টাইনম্যান, ক্যান্সার এবং রোগ প্রতিরোধ সম্বন্ধে তার নিজের তত্ত্বকেই পরীক্ষা করে দেখেছিলেন নিজের শরীরের উপর। নিজের এই চিকিৎসাটাই তাকে বাচিয়ে রেখেছিল, ডাক্তাররা যা ধারনা করেছিলেন, তার চেয়েও বেশ অনেক দিন বেশী। কিন্তু নোবেল পুরষ্কারে খবর পৌছানোর ঠিক তিন দিন আগে  পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিয়েছিলেন তিনি। প্রথা ভঙ্গ করেই মরনোত্তর নোবেল পুরষ্কারের জন্য মনোনীত করা হয় এই অসাধারন বিজ্ঞানীকে। এই লেখাটি তাকে নিয়ে। র‌্যালফ স্টাইনম্যান এবং তার নোবেল পুরষ্কার এবং আবিষ্কার নিয়ে বাংলা ভাষী ব্লগে ইতিমধ্যে দুটি চমৎকার লেখা প্রকাশিত হয়েছে, দুই তরুন বিজ্ঞানীর লেখা  (<a href="http://opinion.bdnews24.com/bangla/2011/10/19/%E0%A6%86%E0%A6%B9-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8/">এক</a>  |  <a href="http://www.sachalayatan.com/node/41799">দুই </a>); এটি আমার জানামতে তৃতীয়। স্টাইনম্যান প্রথম বিজ্ঞানী হিসাবে তিনি ডেনড্রাইটিক কোষ এবং এর কাজের বিবরন দিয়েছিলেন। অনেকেই হয়তো প্রশ্ন করবেন, এই ডেনড্রাইটিক কোষটি আসলে কি? আমাদের শরীরে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন একটি কাজের সাথে এরা জড়িত। আমাদের শরীরকে নানা রোগ জীবানুর আগ্রাসন এবং বেপরোয়া হয়ে যাওয়া নিজেদের কোষ থেকে যে প্রক্রিয়াটি আমাদের সুরক্ষা করে, সেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমের খুবই  গুরুত্বপুর্ণ কিছু ভুমিকা পালন করে এই কোষটি। আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধে নিয়োজিত প্রধান কোষগুলোকে  এই কোষটি  শিক্ষা দেয়, কার বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ করতে হবে। সত্তরের দশকে আবিষ্কার হওয়া এই কোষটি  এখন ক্যান্সার এর থেরাপিউটিক ভ্যাক্সিন এবং আরো অগনিত পরীক্ষামুলক ভ্যাক্সিনের গবেষনার একেবারে কেন্দ্রে অবস্থান করছে। ডেনড্রাইটিক কোষের সাথে আমার পরিচয় ১৯৯৭-২০০০ সালে ভাইরোলজীর ছাত্র থাকা অবস্থায়; বিশেষ করে দ্বিতীয় পর্বে ইমিউনোলজী এবং থিসিসের এইচআইভি নিয়ে কাজ করার সময়। ২০০০ সালে ডেনড্রাইটিক কোষগুলো তখন স্পটলাইটে, বিশেষ করে হেটেরোসেক্সুয়াল যৌন সঙ্গমের সময় যোনী পথের মিউকোসা থেকে এ্ইচআইভি ভাইরাসের এই কোষগুলোকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করে শরীরে ঢোকার প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার পর। ২০০৩ এ একটা সংক্রামক ব্যাধি সংক্রান্ত ট্রেনিং এর দীর্ঘ অনেকগুলো সেশন ছিল ডেনড্রাইটিক কোষের উপর, সেখানেই স্টাইনম্যানের এই কোষটিকে প্রকৃত মুল্যায়ন করার কাহিনীটা শুনি এক সুইস ডেনড্রাইটিক কোষ বিজ্ঞানীর লেকচারে। সব বিজ্ঞানীদের প্রতি আমার বাড়তি এক‍টা শ্রদ্ধাও যেমন আছে, তেমন খানিকটা ‌ঈর্ষা। কারন আমিও বিজ্ঞানী হতে চেয়েছিলাম, এইচআইভি নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলাম, বেশ কবার চেষ্টাও করেছিলাম নিজ দেশে, পারিনি। সরকারী চিকিৎসা ব্যবস্থার কাঠামোর মধ্যে সেই সময় এই স্বপ্ন দেখা হয়তো ঠিক হয়নি, এই হেরে যা্ওয়াটা আমার জীবনে অনেক কিছু বদলে দিয়েছে। যারা হারেনি যারা এখনও গবেষনা করে যাচ্ছেন তাদের সবার প্রতি আমার ক্ষমাযোগ্য সামান্য ঈর্ষা মিশ্রিত শুভকামনা।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">((লেখাটির সুত্র: নীচে))</span></p>
<p><span id="more-1937"></span></p>
<p><span style="color:#ff0000;"> একজন বিজ্ঞানী এবং একটি অসাধারন কোষ:</span></p>
<p>র‌্যালফ স্টাইনম্যান রোগপ্রতিরোধবিজ্ঞান বা ইমিউনোলজীর অনেক কিছুই বদলে দিয়েছিলেন। সত্তরের দশকের শুরুতে তার আবিষ্কার করা ডেনড্রাইটিক কোষের  গুরুত্ব মেনে নিয়ে অনেক সময় নিয়েছে ইমিউনোলজীর সুবিশাল ক্ষেত্রটি। মলিকিউলার সেল বায়োলজীর সেই যুগে কেউ যে মাইক্রোস্কোপে চোখ রেখে নতুন একটি রোগপ্রতিরোধকারী কোষ আবিষ্কার করতে পারে, এটা সহজে মেনে নেয়া কঠিন ছিল বিজ্ঞানীদের কাছে। গবেষনার প্রথমদিকে তাকে মুখোমুখি হতে হয়েছে খুবেই কঠিন সমালোচনার। মৃত্যুর মাত্র তিন দিনের মাথায় নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার পথটাও খুব সহজ ছিল না। তার অসাধারন ব্যক্তিত্ব, প্রানশক্তি আর আত্মবিশ্বাস আর একাগ্রতা তাকে সহায়তা করেছে এই বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে।</p>
<p>১৯৪৩ সালে কানাডার কুইবেক এর শেরব্রুকে এক অভিবাসী ইহুদী পরিবারে তার জন্ম। তার পুর্বপুরুষরা এসেছিলেন পোল্যান্ড এবং মলদোভা থেকে। বাবা মা’র ইচ্ছা ছিল ছেলে ধর্ম নিয়ে পড়াশুনা করবে ছেলে এবং পারিবারিক জেনারেল স্টোর ’মোজার্ট’, যেখানে কাপড় থেকে শুরু করে গৃহস্থালী সব যন্ত্রপাতিও বিক্রি হতো, তার দেখাশুনা করবে। গ্রীষ্মের ছুটিগুলোতে পারিবারিক দোকানে কাজ করার সময়ই তিনি বুঝতে পারেন, এই কাজটি তাকে দিয়ে হবেনা, অন্য কিছু হতে চান তিনি।</p>
<p>বিজ্ঞানের প্রতি তার তীব্র ভালোবাসা তাকে প্রথমে মন্ট্রিওলের ম্যাকগীল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরে বোষ্টনে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে নিয়ে আসে। ম্যাকগিলে আসার পরেই বায়োলজীর প্রতি আরো আকৃষ্ট হন তিনি। এরপর বোষ্টনে মেডিকেলে পড়ার সময়  ৬০ এর দশকের শেষের দিকে, তার সুযোগ হয় ইমিউনিটির শুরু সম্পর্কে কার্ট ব্লশ এর লেকচার শোনার, পিটার মেদাওয়ার এর টলারেন্স মেকানিজম ( রোগ প্রতিরোধ কারী কোষগুলোর সহনশীলতা) এবং ম্যাকফারলেন বুরনেট এর ক্লোনাল সিলেকশন সম্বন্ধে পড়াশুনা করার। ডাক্তার হবার জন্য ম্যাসাচুসেট জেনারেল হাসপাতালে রেসিডেন্সি শেষ করলেও পেশা হিসাবে চিকিৎসক হওয়াটাকে বেছে নেননি তিনি; মৌলিক বিজ্ঞানের গবেষনার প্রতি তার তীব্র আগ্রহ বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধ কারী কোষগুলোর ক্ষুদ্র রহস্যময় জগত, অবশেষে তাকে নিয়ে যায় জানভিল কোন এবং জেমস হার্শ এর রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষনাগারে, রোগ প্রতিরোধ প্রক্রিয়ার সুচনা কিভাবে হয় সেই প্রশ্নটির উত্তর খুজতে।</p>
<p>সেই সময় বিজ্ঞানীরা আমাদের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার নানা মুল উপাদানগুলোর মধ্যকার পারস্পারিক সম্পর্কগুলোর রহস্য সমাধানে ব্যস্ত। বিজ্ঞানীরা ততদিনে জেনে গেছেন, আমাদের রক্তের শ্বেত রক্ত কনিকারা: যেমন বি কোষ বা বি লিম্ফোসাইট, যারা আমাদের শরীরে বাইরে থেকে আসা, আগ্রাসী বহি:শত্রুকে চিহ্নিত করতে সহায়তা করে তাদের নিঃসরন করা অ্যান্টিবডি দিয়ে এবং অন্য আরেক ধরনের শ্বেত রক্তকনিকা, টি কোষ বা টি লিম্ফোসাইট, যারা সেই আগ্রাসন কারীদের সরাসরি আক্রমন করে। কিন্তু বিজ্ঞানীর জন্য যা তখন প্রধান যে প্রশ্নটি ছিল তা হলো, বি কোষ এবং টি কোষগুলোকে কে এই কাজ করার জন্য  সক্রিয় করে তুলছে।</p>
<p>কোন এবং হার্শ দুজনেই তখন ভাবছিলেন, রোগ প্রতিরোধ প্রক্রিয়াটা শুরু করে মাক্রোফেজ ( একটি শ্বেত রক্ত কনিকা), কিন্তু সে সময় স্টাইনম্যানের উপর প্রভাব ফেলেছিল তার ল্যাবের কয়েক ফ্লোর উপরে কাজ করা একদল বিজ্ঞানী: ক্রিষ্টিয়ান দ্য দুভে, জর্জ প্যালাডে, ফিলিপ সিয়েকিভিজ, ডেভিড সাবাতিনি এবং গুনটার ব্লোবেল, যারা আধুনিক সেল বায়োলজীর সুচনা করছিলেন তখন। স্টাইনম্যান সেই সময় কিভাবে কোষ তার ভেতরে বাইরের পরিবেশ থেকে কোন কিছুকে আত্মস্ত বা ইনজেষ্ট করে নেয় সেই পক্রিয়াটির প্রথম ব্যাখ্যা করেন, যা এন্ডোসাইটোসিস বলে পরিচিত এবং কোনের সাথে যৌথভাবে প্রস্তাব করেন এই প্রক্রিয়ায় কিভাবে কোষের পর্দা বহুব্যবহৃত বা রি সাইকেল হচ্ছে।</p>
<p>১৯৭০ এর দশকে কেবল তখন রোগ প্রতিরোধের সাথে সংশ্লিষ্ট কোষগুলো কিভাবে কাজ করে (সেলুলার ইমিউনিটি) ভালোভাবে গবেষনা করার জন্য কেবল কালচার প্রক্রিয়া উদ্ভাবিত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষনগুলো তখন ইঙ্গিত করছিল, মুল বি এবং টি কোষ বা লিম্ফোসাইটগুলো (লিম্ফোসাইটও এক ধরনের শ্বেত রক্ত কনিকা) ছাড়াও আরো একধরনের কোষ এর সাথে জড়িত, প্রথমে যাদের নামকরণ করা হয় অ্যাক্সেসরি বা অতিরিক্ত কোষ, এই কোষগুলো কালচার প্লেটে কাচের সাথে আটকে থাকতো, সেকারনে স্টাইনম্যান, তার সেল বায়োলজীর সহকর্মীদের কাজ, যারা মাই্ক্রোস্কোপের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতেন;  দেখে অনুপ্রানিত হয়ে কাচের সাথে লাগানো কোষগুলো মাইক্রোস্কোপের নীচে ভালো করে দেখার সিদ্ধান্ত নেন, এজন্য ফেজ কনট্রাষ্ট, জীবন্ত ইমেজিং এবং ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপ টেকনিক বেছে নেন।</p>
<p>এভাবে সত্তরের দশকে প্রথম দিকে একদিন, ম্যানহাটনের আপার ইষ্ট সাইডে রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের তার ল্যাবে কালচার প্লেটে কোষগুলোকে  (মাউসের প্লীহা থেকে সংগ্রহ করা) মাইক্রোস্কোপের নীচে রেখে দেখতে গিয়ে র‌্যালফ স্টাইনমান খুজে পেয়েছিলেন এমন একটি কোষ, যা এর আগে ঠিক সেভাবে আর কারো নজরেই পড়েনি। স্টাইনম্যানের সেদিন মনে হয়েছিল, মাইক্রোস্কোপের নীচে তিনি যা দেখছেন সেটাই সম্ভবত বিজ্ঞানীদের এতদিন ধরে খোজা সেই প্রশ্নর উত্তর: অদ্ভুত, অসংখ্য দীর্ঘ, সরু হাত বিশিষ্ট কতগুলো কোষ, যে ধরনের কোষ তিনি আগে কোনদিনও দেখেননি।</p>
<p>মাইক্রোস্কোপের নীচেই তিনি দেখতে পান যার কোষ ঝিল্লী থেকে অসংখ্য সরু দীর্ঘ শাখা প্রশাখা সহ হাতের দ্রুত আকার পরিবর্তনশীল প্রজেকশান; পর পর তিনটি স্বতন্ত্র পরীক্ষায় স্টাইনম্যান বুঝতে পারলেন এই ডেনড্রাইটিক কোষগুলোই আসলে সেই অজানা অ্যাকসেসরী কোষ। কোন আগ্রাসী জীবানুর প্রতি প্রতিক্রিয়া হিসাবে এরাই  টি কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিভাজন ও আক্রান্ত কোষ ধ্বংশ করতে টি কোষকে সক্রিয় করার কাজটি করে এবং এই কোষটির জৈব রাসায়নিকভাবে মাক্রোফেজ থেকে আলাদা। অর্থাৎ তিনি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালনকারী সেই রহস্যময় কোষটি খুজে পেলেন।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/dc.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1959" title="DC" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/dc.jpg?w=490&#038;h=490" alt="" width="490" height="490" /></a><br />
<em>শরীরের বাইরে কালচার করা পরিণত ডেনড্রাইটিক কোষ ( গাঢ় নীল, এমএইচসি অনুগুলো রন্জিত) (<a href="http://info.med.yale.edu/ysm/medicineatyale/v2i4_july_august2006/graphics/science1.jpg">ছবি সুত্র</a>) </em></p>
<p>কোষগুলো দেখে তার প্রথম যে ধারনাটা হয়েছিল, সেটাই পরবর্তী সঠিক প্রমানিত হয়েছিল। এই ডেনডাইট্রিক কোষগুলো (স্টাইনম্যান যেভাবে এদের নাম করন করেছিলেন)আমাদের শরীরে আক্রমনকারী কোন আগ্রাসী জীবানুকে শনাক্ত করতে এবং এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ প্রক্রিয়া সুচনা করতে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে। কোষগুলো তদের দীর্ঘ হাতের মত কোষের উপাঙ্গকে ব্যবহার করে আমাদের শরীরের মধ্যে অযাচিতভাবে ঢুকে পড়া বহিশত্রুটাকে ধরে ফেলে এবং তাদের কোষের সাইটোপ্লাজমের ভিতর নিয়ে ঢুকিয়ে নেয় বা বলা যায় গিলে ফেলে এবং তা বহন করে নিয়ে যায় অন্য রোগ প্রতিরোধকারী বা ইমিউন কোষগুলোর কাছে; মুলত: এরা এই বিশেষায়িত রোগ প্রতিরোধ কারী কোষগুলোকে চেনায় এবং শিখিয়ে দেয় কোথায় এবং কাকে তাদের আক্রমন করতে হবে। এটি একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার, যা প্রথম বারের মত সুস্পষ্টভাবে বিজ্ঞানীদের বুঝতে সাহায্য করে রোগ প্রতিষেধক টীকা বা ভ্যাক্সিনগুলো আসলে কিভাবে কাজ করে, আর এই আবিষ্কারটি স্টাইনম্যানকে নিয়ে যায় তার পেশায় প্রথম সারিতে।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/dc-interacts-with-t-cell.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1956" title="DC-interacts-with-T-cell" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/dc-interacts-with-t-cell.jpg?w=490&#038;h=392" alt="" width="490" height="392" /><br />
</a><em>ডেনড্রাইটিক কোষ (সবুজ) এর সাথে টি কোষ ( লাল) এর ইন্টারঅ্যাকশন </em></p>
<p>এর পরের দশকগুলোতে স্টাইনম্যান ডেনড্রাইটিক কোষ বায়োলজীর ক্ষেত্রে প্রধান গবেষক এবং উৎসাহ দাতা হিসাবে দায়িত্ব পালন করে যেতে থাকেন। তার অনুপ্রেরনায় বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে অনেক বিজ্ঞানীদের টেনে আনে ডেনড্রাইটিক কোষটি নিয়ে গবেষনার ক্ষেত্রে। বিভিন্ন জনের সাথে সহযোগীতা করতে খুব ভালোবাসতেন স্টাইনম্যান, ওয়েসলী ভ্যান বুরহিস এর সাথে যৌথভাবে তিনি দেখান শুধু কোষে না মানুষের রক্তেও ডেনড্রাইটিক কোষ থাকে, কায়ো ইনাবার সাথে তিনি দেখান যে যদি ডেনড্রাইটিক কোষকে টিউমারের অ্যান্টিজেন চেনানো যায় , তারা ইদুরের শরীরে টিউমারের বিরুদ্ধেও রোগ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। জেরার্ড শুলারের  সাথে তিনি দেখান যে, কোন রোগজীবানু সরাসরি এই কোষগুলোকে সক্রিয় করে তুলতে পারে রোগ প্রতিরোধে প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য।</p>
<p>অসম্ভব দয়ালু এই মানুষটাকে তার সহকর্মীরা খুব ভালোবাসতেন, অসুস্থ অবস্থায়ও ‍ তিনি নিশ্চিৎ করে গেছেন তার অধীনে কাজ করা ছাত্র ছাত্রী এবং ফেলোরা যেন তাদের  যোগ্য জায়গা খুজে পায় তার মৃত্যুর পর। বহু বছর ধরে তিনি জার্নাল অব এক্সপেরিমেন্টাল মেডিসিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেণ আনন্দের সাথে। তার আবিষ্কার যেন রোগীদের কাজে আসে, সেই লক্ষ্যে ডেনড্রাইটিক সেল ভ্যাক্সিন তৈরী করার প্রচেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। তার নিজের ডিজাইন করা ডেনড্রাইটিক কোষ থেরাপী তিনি নিজের উপর পরীক্ষা করে ছিলেন।</p>
<p>এ পর্যন্ত হয়ত অনেকদিক থেকেই স্টাইনম্যানের গল্পটায় কোন বিশেষত্ব নেই: একজন মেধাবী বিজ্ঞানী, যিনি একটি গুরুত্বপুর্ণ আবিষ্কার করেন, যা অনুপ্রাণিত করে ভবিষ্যত প্রজন্মের অসংখ্য গবেষককে। কিন্তু স্টাইনম্যানের আলাদা করেছে তার অসাধারন অন্তর্দৃষ্টি ,যে অন্তর্দৃষ্টি যেমন প্রভাব ফেলেছে বিজ্ঞানে তার হাতে সৃষ্ট হওয়া নতুন একটি ক্ষেত্রে (ডেনড্রাইটিক সেল বায়োলজী), তেমনি ব্যক্তিগতভাবে তার নিজের জীবনে। যখন কেউই ডেনড্রাইটিক কোষ এর অস্তিত্ব মানতে চায়নি, তিনি তার বিশ্বাসে অটল ছিলেন, তিনি জানতেন এই কোষটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগান্তকারী কিছু পরিবর্তন এনে দিতে পারে। ভবিষ্যতের চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষনায় দৃঢ় একটি জায়গা করে নিয়েছে তার আবিষ্কার করা এই কোষটি। আর এটাই তার প্রতি তার সহকর্মীদের নজীরবিহীন ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার মুল কারন।</p>
<p>ডেনড্রাইটিক কোষ নিয়ে গবেষনা আরো খানিকটা এগিয়ে নেবার পর স্টাইনম্যান বুঝতে পেরেছিলেন, কান্সার থেকে এইচআইভি, বেশ কিছু ভয়ঙ্কর রোগকে শায়েস্তা করার জন্য  এই কোষগুলো হতে পারে মোক্ষম অস্ত্র। তার নিজের দীর্ঘ দিনের গবেষনাতো বটেই এবং পৃথিবী জুড়ে ডেনড্রাইটিক কোষগুলো নিয়ে তার সহযোগীদের গবেষনাও তাকে সঠিক প্রমান করার দিকে ক্রমশ এগিয়েও যাচ্ছিল;</p>
<p>ঠিক তখনই স্টাইনম্যানের কাহিনী অপ্রত্যাশিতভাবে মোড় নিল অন্যদিকে।</p>
<p>২০০৭ সালে স্টাইনম্যানের প্রানক্রিয়াস বা অগ্নাশয়ে ক্যান্সার ধরা পড়ে। ভয়ঙ্কর আগ্রাসী যে ক্যান্সার সাধারনত: আক্রান্ত প্রতি পাচ জন রোগীর চার জনেরই জীবন কেড়ে নেয় এক বছরের মধ্যেই। জীবনের শেষ বছরগুলোতে, পেশাগত জীবনের শুরুতে যে কোষগুলো তিনি আবিষ্কার করেছিলেন, সেই কোষগুলো এবং দীর্ঘ গবেষনা জীবনে গড়ে ওঠা বন্ধু সহযোগীদের শুধু তাকে সাহায্যই করেনি এই ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করতে, সব সম্ভাব্য ধারনাকে ভুল প্রমানিত করে তার জীবনকালও দীর্ঘায়িত করেছিল যথেষ্ট পরিমানে, আর এই বাড়তি সময়েই তিনি অর্জন করে নেন জৈবচিকিৎসা বিজ্ঞানে তার অবদানের জন্য নোবেল পুরষ্কার।</p>
<p>গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।</p>
<p>তার নীরব মোবাইল ফোনে নোবেল জয়ের বার্তাটি শোকাহত পরিবারের কাছে পৌছায় মৃত্যুর মাত্র তিন দিন পরে।</p>
<p><span style="color:#ff0000;"> প্রস্তুত মন:</span></p>
<p>ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার আগে তেমন গুরুত্ব দিয়ে বায়োলজী পড়া হয়নি স্টাইনম্যানের, কিন্তু বায়োলজী তার মনে বিশেষ একটা জায়গা করে নিয়েছিল, বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলোর অতি ক্ষুদ্র অসাধারন একটি জগত তাকে ভীষন আকৃষ্ট করেছিল, যা পরবর্তীতে তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পেশা থেকে নিয়ে আসে মৌলিক বিজ্ঞানের গবেষনার জগতে।</p>
<p>জানভিল কোন এর ল্যাবে তার অফিসে টাঙ্গানো ছিল উনবিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত ফরাসী অনুজীববিজ্ঞানী এবং ভ্যাক্সিনোলজিষ্ট লুই পাস্তুরের বিখ্যাত একটি উক্তি: le hazard ne favorise que les espirits prepare, যা সাধারনত অনুদিত হয়, Chace favors the prepared mind, অর্থাৎ প্রস্তুত মনকেই সহায়তা করে ভাগ্য। র‌্যালফ স্টাইনম্যান এর প্রস্তুতি ছিল সন্দেহাতীত ভাবে অনেক বেশী। তার দীর্ঘ দিনের সহযোগী সারাহ স্লেশিংগার এর মতে এই প্রস্তুতিটাই তাকে তার অন্তদৃষ্টির উপর আস্থা রাখাটাকে সহজ করে দিয়েছিল। তার  এই আত্মবিশ্বাস যেমন গুরুত্বপুর্ণ একটি আবিষ্কারের পথকে সুগম করেছে,তেমন শ্রদ্ধাও আদায় করে নিয়েছে তার সহকর্মীদের।</p>
<p>প্রথম বারের মত ডেনড্রাইটিক কোষগুলোকে শনাক্ত করার পর,স্টাইনম্যান পরের দুই দশক ধরে, এই কোষগুলো কিভাবে কাজ করে এবং কেউ যদি চায় তবে কিভাবে গবেষনা শুরু করতে হবে তা ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে  বৈজ্ঞানিক সমাজকে এই কোষগুলোর গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করে গেছেন বিরামহীনভাবে। তার প্রতিটি সহকর্মী জানেন, স্টাইনম্যান আসলে এই কোষগুলো যে স্বতন্ত্র এক ধরনের কোষ এই ধারনাটা প্রতিষ্ঠা করতে রীতিমত যুদ্ধ করে গেছেন।</p>
<p>শুরুর সেই সময়ে এমনকি তার নিজের ল্যাবের অনেকেই তার দাবীর উপর ভরসা করতে পারেনি যে,স্টাইনম্যান যে কোষের কথা বলছেন এমন কোন কোষের অস্তিত্ব আসলেই আছে,আর স্টাইনম্যানের জন্য প্রধান বাধা ছিলো,এই কোষগুলোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর মত করে কোন কালচার প্রক্রিয়া তখনও তৈরী করা সম্ভব হয়নি।</p>
<p>আশির দশকে এসে স্টাইনম্যান কিভাবে এই ডেনড্রাইটিক কোষগুলো দিয়ে সরাসরি রোগীদের সাহায্য করা যাবে সেই উপায় খুজতে শুরু করেন। এরপরের কয়েক দশকে ডেনড্রাইটিক কোষগুলো নিয়ে গবেষনাও বাড়তে থাকে,স্টাইনম্যানের নিজের ল্যাব তখন নজর দিয়েছে ডেনড্রাইটিক কোষ নির্ভর ভ্যাক্সিন (যক্ষা এবং এইচআইভি)এবং ক্যান্সারে চিকিৎসা তৈরীর প্রচেষ্টায়। বেশ কিছু সংক্রামক ব্যাধি যেমন একবার সংক্রমন করলে সারা জীবনের জন্য সেই রোগটি থেকে আমরা সুরক্ষিত থাকি বা আমরা ইমিউনিটি লাভ করি (কৃত্রিম ভাবে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে টিকা যে কাজটি করে),কিন্তু কিছু রোগ আছে,যেমন এইচআইভি,যক্ষা এবং ক্যান্সারগুলো আমাদের জন্য মোকাবেলা করা খুব চ্যালেন্জ্ঞিং একটা ব্যাপার,কারন এরা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাকি দিতে অত্যন্ত দক্ষ। যেমন এইচআইভি র ক্ষেত্রে,ভাইরাসটি এমন কিছু কৌশল বিবর্তিত করেছে,যে এটি ডেনড্রাইটিক কোষগুলোকে হাইজ্যাক করে নেয় নিজের স্বার্থে কাজ করার জন্য;স্টাইনম্যান বলতেন,আমাদেরকে প্রকৃতির থেকে আরো চালাক হতে হবে,অর্থাৎ ডেনড্রাইটিক কোষগুলোকে আমাদের সাহায্য করতে হবে,ভাইরাস এবং টিউমার সম্বন্ধে আরো সুনির্দিষ্ট নিশানা ঠিক করে দেবার মাধ্যমে,যার বিরুদ্ধে আমাদের বিশেষায়িত রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলো যেন আক্রমন করতে পারে।</p>
<p>১৯৯০ এর দশকে মাধব ধোদাপকন (বর্তমানে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে)এবং নীনা ভরদ্বজ এর সাথে (বর্তমানে নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে)সাথে যৌথ গবেষনায় স্টাইনম্যান রক্ত থেকে ডেনড্রাইটিক কোষ পৃথক করার প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেন,এবং এই কোষগুলোকে অ্যান্টিজেন (বিভিন্ন জীবানুর,যেমন ইনফ্লুয়েন্জা এবং ‍টিটেনাস,থেকে সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট সুচক প্রোটিনের টুকরো)নিয়ে দিয়ে প্রাইম করা হয়,অর্থাৎ এই কোষগুলোকে পরিচিত করা হয়,এবং তাদের আবার শরীরে প্রবেশ করানো হয় জীবানুগুলোর বিরুদ্ধে আরো শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রোস্টেট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রথম ভ্যাক্সিন,প্রোভেন্জ তৈরী করা হয়,যা ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ থেকে ছাড়পত্র পায়,প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের টার্মিনালী বা শেষ পর্যায়ের রোগীদের মধ্যে যার ব্যবহার তাদের আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি করে বলে ইতিমধ্যেই প্রমানিত হয়েছে-যদিও মাত্র কয়েকমাসের জন্য।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/killertcell-and-cancer.jpg"><img class="alignnone  wp-image-1961" title="KillerTCell and Cancer" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/killertcell-and-cancer.jpg?w=637&#038;h=593" alt="" width="637" height="593" /><br />
</a>ল্যাবরেটরীতে ক্যান্সার কোষ (মাঝখানে সোনালী রং এর) কে আক্রমন করছে সক্রিয় কিলার টি কোষ ( ছবি: লেনার্ট নিলসন; ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক থেকে)</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/t-cells.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1963" title="T-Cells" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/t-cells.jpg?w=490" alt=""   /><br />
</a><em>ল্যাবরেটরীতে ক্যান্সার কোষ (মাঝখানে সোনালী রং এর) কে আক্রমন করছে সক্রিয় কিলার টি কোষ ( ছবি: লেনার্ট নিলসন; ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক থেকে)</em></p>
<p>স্টাইনম্যানের কাহিনীর আরো ভিতরে প্রবেশের আগে ডেনড্রাইটিক কোষগুলো আসলে কি সেটা নিয়ে একটু আলোচনা করা দরকার।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">রোগ প্রতিরোধের দীর্ঘ হাত: ডেনড্রাইটিক কোষগুলো আসলে কি?</span></p>
<p>আমাদের শরীরের যে অংশগুলো বাইরের পরিবেশের সাথে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করে, সেখানে কোষগুলোর গভীরে দীর্ঘ সরু শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট টেন্টাকলের মত হাত চারিদিকে ছড়িয়ে অপেক্ষা করে আর পাহারা দেয় ডেনড্রাইটিক কোষগুলো ( Dendritic শব্দটা এসেছে গ্রীক Dendron থেকে যার অর্থ গাছ; রালফ স্টাইনম্যান এই শাখাপ্রশাখা বিশিষ্ট দীর্ঘ সরু কোষের প্রসেস বা হাতগুলো দেখে নাম দিয়ে ছিলেন ডেনড্রাইটিক কোষ);  নাকের ভেতরে কিংবা ফুসফুসে, আমাদের অন্ত্রে, এবং বিশেষ করে চামড়ায় এরা গোপনে লুকিয়ে থাকে, যখনই কোন বহিশত্রু আমাদেরকে শরীরকে আক্রমন করার সুযোগ নেবার চেষ্টা করে, এটি সাথেই  সাথেই আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সতর্ক করে দেয়, চিনিয়ে দেয় শত্রুটাকে, যার বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ করতে হবে। এই ডেনড্রাইটিক কোষগুলো আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সবচে কম বুঝতে পারা অথচ অসাধারন দক্ষ সদস্য কোষগুলোর একটি।</p>
<p>গত কয়েক দশকে, বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা ধীরে ধীরে কোষটির কিছু রহস্যের সমাধান করেছেন, বিশেষ করে কেমন করে এই ডেনড্রাইটিক কোষগুলো আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম কে শেখায়, কোন আমাদের শরীরের অংশ এবং কোনটা আমাদের জন্য বহিশত্রু এবং সম্ভাব্য ক্ষতিকারক।  সবচেয়ে কৌতুহলোদ্দীপক বিষয় যেটা বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন তা হলো, এই ডেনড্রাইটিক কোষগুলো সার্বিক রোগ প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়াটিকে সুচনা এবং নিয়ন্ত্রন করে। যেমন, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মেমোরী বা স্মৃতি তৈরীতে এই কোষগুলো খুবই গুরুত্বপুর্ণ, যা আসলে সব ভ্যাক্সিন বা রোগ প্রতিরোধ টিকার কাজ করার মুল ভিত্তি;</p>
<p>রোগ প্রতিরোধে  এই কোষটি বিশেষ ভুমিকাটির সুযোগ নেবার চেষ্টা করছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এবং বিভিন্ন বায়োটেক কোম্পানী, বিশেষ করে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ ভ্যাক্সিন বা টিকা তৈরীর জন্য, এজন্য তারা ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন রোগীদের শরীরের টিউমরটির কিছু অংশ ব্যবহার করে রোগীর নিজস্ব ডেনড্রাইটিক কোষগুলোকে সশস্ত্র করে তোলা, যেন এই  কোষগুলোই রোগীর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে চিনিয়ে দিতে পারে তাদের এই ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।</p>
<p>ডেনড্রাইটক কোষগুলো আরো একটি গুরু দ্বায়িত্ব পালন করে যাকে বলা হয় ইমিউন টলারেন্স ( বা রোগ প্রতিরোধে সহনশীলতা), যার মাধ্যমে আমাদের নিজেদের রক্ষাকারী কোষগুলো শেখে কিভাবে নিজেদের শরীরের কোষগুলোকে আক্রমন না করতে হয়। এইচআইভি নিয়ে গবেষনার সময় বিজ্ঞানীরা এই কোষটির একটি অন্ধকার দিকও খুজে পান, যেমন অতি চালাক এইচঅআইভি ভাইরাসটি ডেনড্রাইটিক কোষের সাথে যুক্ত হয়ে (অনেকটা হিচ হাইক করে) নিকটবর্তী লসিকা গ্রন্থিতে পৌছে যায় যেখানে এইচআইভি তার মুল শিকার হেলপার টি কোষদের সহজেই আক্রান্ত করে। আবার কখনো কখনো কোষগুলো অসময়ে সক্রিয় হয়ে যায়, ফলে এরা অটোইমিউন কিছু  অসুখের কারন হয়ে দাড়ায়; যখন আমাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধের কোষগুলো আমাদের শরীরের কোষগুলো শত্রু মনে করে আক্রমন করে বসে।</p>
<p><span style="color:#008000;">দুর্লভ এবং মহামুল্যবান: </span></p>
<p>এই কোষগুলো মুলত একধরনের শ্বেত রক্ত কনিকা। রক্তে মোট শ্বেত রক্ত কনিকাদের মাত্র ০.২ শতাংশ হচ্ছে ডেনড্রাইটিক কোষ, এবং চামড়া বা অন্যান্যে টিস্যু বা কলাতে এর পরিমান আরো কম। ১৮৬৮ সালে একজন জার্মান অ্যানাটোমিষ্ট, পল ল্যাঙ্গারহ্যানস প্রথম চামড়ায় এই কোষগুলো আবিষ্কার করেছিলেন, কিন্তু তিনি জানতেন না কোষগুলো সেখানে কি করছে? আবিষ্কারের পর প্রায় ১০০ বছর লেগেছে এদের প্রকৃত কাজটা বুঝতে; বিজ্ঞানীদের নজর এড়ানোর জন্য এদের এই খুব সামান্য পরিমান সংখ্যাই আসলে হয়তো এর প্রধান কারন। ১৯৭৩ সালে মাউসের প্লীহায় রালফ স্টাইনম্যান আবার এদের আবিষ্কার করেন এবং এরা যে রোগ প্রতিরোধের সাথে জড়িত এই বিষয়টি উদঘাটন করেন। তিনি এদের সরু লম্বা শাখাপ্রশাখা যুক্ত হাতের জন্য এদের নাম দেন ডেনড্রাইটিক কোষ। যদিও চামড়ার এপিডার্মিস অংশে যে ডেনড্রাইটিক কোষগুলো থাকে তারা এখনও ল্যাঙ্গারহ্যানস কোষ বলেই পরিচিত। এই আবিষ্কারটাই আজ প্রস্ফুটিত ডেনড্রাইটিক কোষ বায়োলজীর গবেষনার ভিত্তি রচনা করেছিল।</p>
<p><img class="alignnone  wp-image-1964" title="18-01-2012 7-39-31 PM" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/18-01-2012-7-39-31-pm.jpg?w=637&#038;h=542" alt="" width="637" height="542" /><br />
<em>উপরের ছবিতে মানুষের পুর্ণ বয়স্ক ডেনড্রিইটিক কোষগুলোর সরু সরু কাটার মত অসংখ্য হাত বা কোষ প্রসেস থাকে (১ এবং ২), ইদুরদের (৩ এবং ৪); ইদুরের ডেনড্রিইটিক কোষটি সম্ভবত একটি হেলপার টি কোষের সাথে ইন্টার অ্যাক্ট করছে ছবিতে। এই ধরনের যোগাযোগের মাধ্যমে ডেনড্রিইটিক কোষগুলো রোগ প্রতিরোধ তন্ত্রের কোষগুলোকে শিক্ষিত করে তোলে এটি কিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। ল্যাবরেটরীতে পুর্ণতা প্রাপ্ত কোষগুলোকে ক্যান্সার ভ্যাক্সিনে ব্যবহার করা হয় ( ২)।<em>সুত্র: সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকান,নভেম্বর ২০০২ ; The Long Arm of Our Immune System)</em></em></p>
<p>এর পরের দুই দশক আসলে কেটেছে, গবেষনার জন্য কিভাবে এই কোষগুলোকে সংখ্যায় কেমন করে বাড়ানো যায়। ফ্রান্সের দার্দিলি তে শেরিং-প্লাউ এর ইমিউনোলজী রিসার্চ ল্যাবের জ্যাক বাঁশোরো ও ( বর্তমানে টেক্সাসে বেইলর ইউনিভার্সিটিতে) তার টীম ১৯৯২ সালে প্রথম সফল হন আমাদের হাড়ের মজ্জার কোষ থেকে ল্যাবরেটরির কালচার ডিশে বহু সংখ্যক ডেনড্রাইটিক কোষ তৈরী করার প্রক্রিয়াটি উদ্ভাবন করতে। প্রায় একই সাথে কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের কায়ো ইনাবার সাথে স্টাইনম্যানও সফল হন মাউসের ডেনড্রাইটিক কোষ কালচার করার প্রক্রিয়ায়। ১৯৯৪ সালে আন্তোনিও লানজাভেসচিয়ার টীম ( বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের বেলিনজোনায় ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন বায়োমেডিসিন এ) এবং জেরোল্ড শুলার ( বর্তমানে জার্মানীর ইউনিভার্সিটি অব এরলাঙ্গেন-নুরেমবার্গ এ) খুজে বের করেন কিভাবে মানুষের রক্তের শ্বেত রক্ত কনিকা মনোসাইট থেকে কিভাবে এদের তৈরী করা যায়। বিজ্ঞানীরা এখন জানেন কিভাবে মনোসাইট গুলোকে কিভাবে রাসায়নিক প্রণোদনা  দিয়ে ডেনড্রাইটিক কোষে রুপান্তরিত করে রোগ প্রতিরোধ প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রন করানো যায় অথবা ম্যাক্রোফেজে পরিনত করা যায় যারা আমাদের শরীরে নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে, মৃত কোষ এবং জীবানু পরিষ্কার করার কাজ করার জন্য।</p>
<p>ডেনড্রাইটিক কোষকে কালচার করার প্রক্রিয়া জানার পর এদের কাজ সম্বন্ধে গবেষনার পরিধিটা বেড়ে যায় বহুগুনে; এবং বোঝা সম্ভব হয় এই কোষগুলো কাজ করা আসল প্রক্রিয়া। বেশ কয়েক ধরনের ডেনড্রাইটিক কোষ এর সাবসেট আছে, যারা একটি  আদি বা প্রিকারসর কোষ থেকে উৎপন্ন হয়ে রক্তে আসে এবং সেখান থেকে অপরিনত ফর্মে বা অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় এটি জায়গা করে নেয় আমাদের চামড়ায়, মিউকাস মেমব্রেন বা পর্দায় এবং বেশ কিছু অঙ্গে যেমন, ফুসফুস, প্লীহা। অপরিণত অবস্থায় ডেনড্রাইটিক কোষগুলির বেশ কিছু কৌশল এবং প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেয় আক্রমনকারী কোন জীবানুকে পাকড়াও করে ধরে ফেলার জন্য। যেমন, এদের আছে সাকশন কাপের মত কিছু রিসেপ্টর (কোষের গায়ে থাকা কিছু সুনির্দিষ্ট কাজে নিয়োজিত অনু) যারা জীবানুকে ধীরে ধীরে টেনে ভিতরে নিয়ে আসে , বা এরা এদের চারপাশে তরল পরিবেশ থেকে আনুবীক্ষনীক পরিমান তরল গিলে ফেলে কোষের ক্ষনস্থায়ী প্রসেস দিয়ে ভিতরে টেনে নেয়; বা একটি ভ্যাকুওল ( কোষ পর্দা দিয়ে ঘেরা একটি ফর্ম) তৈরী করে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসকে ঘিরে ফেলে পুরোপুরি ভিতরে নেবার আগে। টেক্সাস এম ডি অ্যান্ডারসন ক্যান্সার সেন্টারের গবেষক ইয়ং জুন লিউ দেখেছেন, এই অপরিনত ডেনড্রাইটিক কোষগুলো ইন্টারফেরন আলফা বলে একটা রাসায়নিক পদার্থ নি:সরন করে, ভাইরাসকে সাথে সাথেই নিষ্ক্রিয় করে ফেলে।</p>
<p>আমাদের শরীরের আক্রমনকারী কোন জীবানু বা আমাদের শরীরের নয় এমন কিছুকে ভিতরে ঢুকিয়ে নেবার পর এরা সেগুলোকে এনজাইম দিয়ে ছোট ছোট টুকরো  করে কেটে ফেলে; এদের মধ্যে সেই টুকরা(গুলো)কেই বেছে নেয় কোষটি, যা এই জীবানুটিকে চেনার জন্য এবং যার বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত (সাধারণত কতগুলো অ্যামাইনো অ্যাসিডের অনুক্রম বা পলিপেপটাইড), এদের বলা হয় অ্যান্টিজেন। ডেনড্রাইটিক কোষ পিচ ফর্কের মত একটি অনু ব্যবহার করে এই টুকরো অংশ বা অ্যান্টিজেনটিকে তাদের কোষের বাইরে পৃষ্ঠে প্রদর্শন করার জন্য। এই পিচ ফর্কের মত অনুগুলোর নাম মেজর হিস্টোকমপ্যাটিবিলিটি কমপ্লেক্স (Major Histocompatibilty Complex বা সংক্ষেপে MHC); এরা সাধারনত: দুই ধরনের হয় ক্লাস ১ এবং ক্লাস ২; এদের দুটোর আকৃতিই ভিন্ন। এই এমএইচসি অনুর মধ্যেই তারা বহন করে অ্যান্টিজেনটিকে। ডেনড্রাইটিক কোষগুলো বিশেষ বৈশিষ্ট হচ্ছে এরা খুবই দক্ষ এমনকি সামান্যতম মাত্রার কোন অ্যান্টিজেনকে ধরে প্রদর্শন করার ক্ষেত্রে।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/21.jpg"><img class="alignnone  wp-image-1966" title="2" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/21.jpg?w=637&#038;h=402" alt="" width="637" height="402" /><br />
</a><em>উপরের ছবিতে ডেনড্রাইটিক কোষ কোন জীবানু সংক্রমনের বিরুদ্ধে কিভাবে কাজ করে তার একটি স্কীমাটিক ডায়াগ্রাম। (<a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/21.jpg">ছবিটি বড় করে দেখুন</a>);</em><em>(সুত্র: সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকান,নভেম্বর ২০০২ (ইলাসট্রেশন: Terese WINSLOW in The Long Arm of Our Immune System)</em></p>
<p>অ্যান্টিজেন প্রক্রিয়াজাত করার সময়ই এরা তাদের তাদের যাত্রা শুরু করে লসিকা নালীর মধ্যে লসিকা বা লিম্ফ এর মধ্য দিয়ে, আক্রান্ত কলা বা টিস্যু থেকে এরা বের হয়ে আসে নিকটবর্তী লসিকা গ্রন্হিতে, যেটা অনেক সেনানিবাসের মত, টি এবং বি লিম্ফোসাইট উর্বর একটি জায়গা। ডেনড্রিইটিক কোষগুলো এই যাত্রা পথেই পুর্নতা লাভ করে; এই গন্তব্যে পৌছানোর পর এমএইচসি অনুর মাধ্যমে কোষগুলো একেবারে নবীন হেলপার বা সাহায্যকারী টি ‍কোষ বা লিম্ফোসাইটের (CD4+কোষ) -যারা এর আগে কোন অ্যান্টিজেন  এর মুখোমুখি হয়নি-কাছে উপস্থাপন করে। এই ডেনড্রাইটিক কোষগুলোই একমাত্র কোষ যা নবীন হেলপার টি কোষ গুলোকে অ্যান্টিজেন চেনাতে পারে: কোনটা আমাদের শরীরের অংশ না এবং ক্ষতিকর এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই অনন্য ক্ষমতার কারন এদের একটি সহ রিসেপ্টর থাকে, যে সহ রিসেপ্টরটি  এই কোষের সাথে হেলপার টি কোষের আরেকটি সম্পর্কযুক্ত রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হলে এই প্রশিক্ষনের কাজটি প্রকৃতপক্ষে ঘটে থাকে বেশ কিছু ধারাবাহিক রাসায়নিক প্রক্রিয়ায়।</p>
<p>প্রশিক্ষন শেষ হবার পর সাহায্যকারী টি কোষগুলো (এদের সাহায্য বলার কারন এরা অন্যান্য বিশেষায়িত কোষগুলোকে সক্রিয় হবার জন্য সাহায্য করে), বি কোষকে সক্রিয় করে, অ্যান্টিবডি ( এরা এক ধরনের রাসায়নিক অনু যা একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন এর সাথে যুক্ত হতে পারে) তৈরী করার জন্য। যে অ্যান্টিবডি গুলো অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অ্যান্টিজেন বাহী কোষ বা জীবানুকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে বা এদের চিনিয়ে দিতে সাহায্য করে অন্য কিছু কোষকে, যেমন ম্যাক্রোফেজ। ডেনড্রাইটিক কোষ এবং হেলপার টি কোষ, কিলার টি কোষকেও  (কিলার বলার কারন এরা সরাসরি আক্রমন করে কোষ পর্দায় ছিদ্র করে কোষকে হত্যা করতে পারে) সক্রিয় করে, যা এই অ্যান্টিজেনবাহী কোন জীবানু আক্রান্ত কোষকে সরাসরি আক্রমন করে, তাদের বিস্তার রোধ করতে।</p>
<p>ডেনড্রাইটিক কোষের প্রশিক্ষন পাওয়া কিছু কোষ, ’মেমোরী’ কোষ হিসাবে আমাদের শরীরে রয়ে যায় বহু বছর, যারা ভবিষ্যতে কোন আক্রমনের সময় দ্রুত এর প্রতিরোধে সক্রিয় হয়। রোগ প্রতিরোধে কোন কোষগুলো প্রধান ভুমিকা রাখবে তা নির্ভর করবে ডেনড্রাইটিক কোষদের কোন সাবসেট এখানে সক্রিয় হচ্ছে এবং টি কোষের সাথে যুক্ত হবার সময় এটি টি কোষকে কোন টাইপের সাইটোকাইন নি:সরণ করতে প্রণোদনা দিচ্ছে। পরজীবি এবং কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে যেমন টাইপ ২ সাইটোকাইন গুলো বি কোষগুলোকে অ্যান্টিবডি তৈরীতে বেশী সক্রিয় করে তোলে। আবার টাইপ ১ সাইকোকাইনগুলো যেমন কিলার টি কোষগুলোকে বেশী সক্রিয় করে তোলে যখন ভাইরাস এবং অন্তকোষী ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত কোষকে আক্রমন করার প্রয়োজন হয়। যদি ডেনড্রাইটিক কোষ ভুল করে ভুল সাইটোকাইন তৈরী করার প্রণোদনা দেয়, আমাদের রোগপ্রতিরোধ কারী কোষগুলোও ভুল প্রতিক্রিয়া দেখায়। প্রয়োজনীয় এবং যেমনটা দরকার সেরকম রোগ প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া জীবন মরনের ব্যপার হতে পারে। যেমন কুষ্ট বা লেপরোসী রোগ,  এর কারন যে ব্যাকটেরিয়াটি, তার দ্বারা আক্রান্ত কোন রোগী যদি টাইপ ১ প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাদের অসুখটা কম মাত্রার টিউবারকুলয়েড ধরনের কুষ্ঠ হয়, তবে যদি টাইপ ২ প্রতিক্রিয়া হয়ে তবে ভয়ঙ্কর লেপরোম্যাটাস ধরনের কুষ্ঠ রোগ হয়।</p>
<p><span style="color:#008000;">ক্যান্সার হত্যাকারী:</span></p>
<p>নবীন হেলপার টি কোষগুলো, যারা কোন অ্যান্টিজেনের মুখোমুখি হয়নি, তাদের সক্রিয় করাই ব্যবহৃত হয়  এমন প্রায় সব ভ্যাক্সিনেরই মুল কার্য্যপ্রণালী। জীবানু এবং তাদের তৈরী টক্সিন বা বিষের প্রতিরোধে ডেনড্রাইটিক কোষ যে দ্বায়িত্ব পালন করে, বিজ্ঞানীরা এখন সেই কৌশলটাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন, ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কৌশল হিসাবে। ক্যান্সার কোষগুলো মুলত: শরীরের জন্য অস্বাভাবিক; স্বাভাবিক কোষ যে অনুগুলো তৈরী করে না, ক্যান্সার কোষ সেগুলো তৈরী করতে পারে। যদি বিজ্ঞানী এমন কোন ঔষধ বা ভ্যাক্সিন তৈরী করতে পারে, যা শুধু সেই অস্বাভাবিক অনুগুলোকে নিশানা হিসাবে ব্যবহার করবে,তাহলে তারা আরো ভালোভাবে ক্যান্সার কোষকে ধ্বংশ করতে করার সুযোগ পাবে, আশে পাশের নিরীহ স্বাভাবিক কোষগুলোকে অক্ষত রেখে। আর এটা সম্ভব হলে রোগীরা কেমোথেরাপী বা রেডিয়েশনের ভয়ঙ্কর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে রেহাই পাবেন।</p>
<p>কাজটা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছিলেন শুধুমাত্র  ক্যানসার কোষেই দেখা যায় এমন অ্যান্টিজেন আসলেই দুষ্প্রাপ্র; তারপরও কিছু খুজে পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চামড়ার ক্যান্সার মেলানোমা ( মেলানোসাইটদের একটি ক্যান্সার, মেলানোসাইটগুলো আমাদের চামড়ার রঙের জন্য দায়ী,  চামড়ায় দেখা তিল গুলো আসলে মেলানোসাইটদের ছোট একধরনের নীরিহ টিউমার)। ১৯৯০ এর শেষে ব্রাসেলস এর লুডভিগ ক্যান্সার ইন্সস্টিস্টিউটের থিয়েরী বুন এবং ন্যাশনাল ক্যানসার ইন্সস্টিস্টিউটে স্টিভেন রোজেনবার্গ ও তাদের সহকর্মীরা  স্বতন্ত্রভাবে মেলানোমা নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন খুজে পান, যা এখন বেশ কয়েকটি ট্রায়ালে আছে এমন ভ্যাক্সিনের টার্গেট।</p>
<p>মানুষের উপর এ ধরনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সাধারনত যে ভ্যাক্সিন ব্যবহার করা হয়, তাদের তৈরী করা হয় ডেনড্রাইটিক কোষের প্রিকারসর ( অর্থাৎ যে কোষ থেকেই ডেনড্রাইটিক কোষ সৃষ্টি হয়) কোষ দিয়ে যা রোগীদের শরীর থেকে আলাদা করে সংগ্রহ করা হয়। এবং ল্যাবে টিউমরের অ্যান্টিজেন এর সাথে কালচার বা চাষ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ডেনড্রাইটিক কোষগুলো টিউমরের অ্যান্টিজেনগুলো তাদের কোষে ভিতর ঢুকিয়ে নেয়, এবং সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে তাদের কোষের পর্দার উপর এমএইচসি অনুর সাহায্যে প্রকাশ করে। গবেষকরা এই কোষগুলোকে আবার রোগীর শরীরে ফিরিয়ে দেন, যেন  টিউমরের অ্যান্টিজেন সহ এই ডেনড্রাইটিক কোষগুলো রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলোকে সেই বিশেষ টিউমরের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষিত করে তোলে। এবং রোগ প্রতিরোধ কারী কোষগুলো টিউমারের বিরুদ্ধে কাজ করা শুরু করে।</p>
<p>অনেকগুলো টীমই এই অ্যাপ্রোচে এখন গবেষনা করছে, নানা ধরনের ক্যানসারের বিরুদ্ধে ; যেমন মেলানোমা, বি সেল লিম্ফোমা, প্রোষ্টেট এবং কোলন ক্যান্সার ইত্যাদি। কিছু সাফল্যর দেখাও মিলেছে, জ্যাক বাঁশোরোর টীম এবং স্টাইনম্যানের টীম ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জন অগ্রবর্তী পর্যায়ের মেলানোমা রোগীদের,যাদের মেলানোমা অ্যান্টিজেন সহ ডেনড্রাইটিক কোষ ভ্যাক্সিন দেয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে দেখেছেন, টিউমারটির প্রতি এই ভ্যাক্সিনটি রোগ প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি করেছে। এছাড়াও ৯ জন রোগীর টিউমারের আকৃতি বৃদ্ধি হারও কমে গেছে, যারা এর দুটি অ্যান্টিজেনের প্রতি রোগ প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া গড়ে তুলতে পেরেছে ভ্যাক্সিনের কারনে। বিজ্ঞানী গত একদশক ধরে এই প্রক্রিয়াকে আরো কার্যকরী এবং অরো বেশী সংখ্যক রোগীর উপর গবেষনা করার প্রচেষ্টায় ব্যস্ত।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/18-01-2012-8-08-30-pm.jpg"><img class="alignnone  wp-image-1968" title="18-01-2012 8-08-30 PM" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/18-01-2012-8-08-30-pm.jpg?w=637&#038;h=546" alt="" width="637" height="546" /><br />
</a><em>উপরের ছবিতে স্তনের ক্যান্সার টিস্যুতে বিশেষ উপারে রন্জ্ঞিত করা অপ্রাপ্ত বয়স্ক ডেনড্রিইটিক কোষগুলোকে দেখা যাচ্ছে (১); বা লাল ( চামড়ায়) (২) ; কোষগুলো যখন পুর্ণতা পায়, তারা একধরনের প্রোটিন তৈরী করে, যা তাদের একটার সাথে আরেকটা যুক্ত হয়ে থাকতে সহায়তা করে (৩); তারা কাটা চামচের মত দেখতে কিছু রিসেপ্টরও তৈরী করে তাদের গায়ে, যা আক্রমন কারী কোন জীবানুর কোন টুকরা অংশ বহন করে রোগ প্রতিরোধ কারী অন্যান্য কোষগুলোকে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য( ৪ নং ছবিতে সবুজ ডটগুলো)। </em><em>সুত্র: সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকান,নভেম্বর ২০০২ ; The Long Arm of Our Immune System)</em></p>
<p>এখন পর্যন্ত ডেনড্রাইটিক কোষ ভ্যাক্সিন পরীক্ষ‍া করা হয়েছে ক্যানসারে সর্বশেষ পর্যায়ে আক্রান্ত রোগীদের উপর, যদিও গবেষকরা বিশ্বাস করেন এই ভ্যাক্সিনগুলো আরো ভালো কাজ করবে যদি ক্যানসারের প্রথম পর্যায়ে দেয়া হয়, কারন সর্বশেষ পর্যায়ের রোগীদের মতন তাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এখনো টিউমারটি অপসারন করার চেষ্টা করেনি এবং ব্যর্থও হয়নি।</p>
<p>কিন্তু কিছু সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা প্রথমে ভাবতে হবে, এ ধরনের ডেনড্রাইটিক কোষ নির্ভর ভ্যাক্সিন হয়তো বা রোগী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে তার কিছু সুস্থ কোষকেও আক্রমন করার জন্য প্ররোচিত করতে পারে অ্যান্টিজেনের সাদৃশ্যতার জন্য, যেমন, শ্বেতী বা ভিটিলিগো &#8211; চামড়া সাদা হয়ে যাওয়া জায়গাগুলো, যা স্বাভাবিক চামড়ার রন্জ্ঞক পদার্থ র্ন কোষ মেলানোসাইট ধ্বংস হবার কারনে হয়ে থাকে –মেলানোমা ক্যানসারের রোগীরা যারা অ্যান্টি মেলানোমা ক্যানসার ভ্যাক্সিন এর সবচে পুরোনো সংস্করনটি যারা পেয়েছিলেন তাদের মধ্যে এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াটি হয়েছিল, কিন্তু বড় কোন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি ( প্রায় ১০০০ রোগীকে  এই ভ্যাক্সিনটি দেয়া হয়েছিল); আবার এমনও হতে পারে ক্যান্সার নিজেই মিউটেশনের মাধ্যমে তার অ্যান্টিজেন বদলাতে পারে, ডেনড্রাইটিক কোষের প্রশিক্ষন পাওয়া রোগ প্রতিরোধী কোষের আক্রমন থেকে ’পালাতে’; এমনও হতে পারে টিউমার কোষগুলো সেই অ্যান্টিজেনটি ( যে অ্যান্টিজেন দিয়ে ভ্যাক্সিনটি ডিজাইন ক‍রা হয়েছে) তা আর তৈরীই করলো না।  এই সমস্যা অবশ্য শুধুমাত্র ডেনড্রাইটিক কোষ নির্ভর ভ্যাক্সিন এরই না, প্রচলিত ক্যান্সার চিকিৎসারও।</p>
<p>তাছাড়া খরচের ব্যাপারটাও আছে, শুধু একটা রোগীর টিউমার নির্ভর চিকিৎসা তৈরী করাটা ব্যয় সাপেক্ষ একটা ব্যপার। কিন্তু অনেক বিজ্ঞানী রোগীদের শরীর থেকে ডেনড্রাইটিক কোষ আলাদা করে তাদের ল্যাবে প্রক্রিয়াজাত করে আবার রোগীর শরীরে ইনজেকশান দেয়া এই প্রক্রিয়ার বেশী খরচ এবং সময়ের বিষয়টাকে এড়ানোর জন্য চেষ্টাও করে যাচ্ছেন। একটা উপায় হলো, রোগীর শরীরে ইতিমধ্যেই থাকা ডেনড্রাইটিক কোষ এর প্রিকারসর বা আদি কোষগুলোকে সংখ্যায় বাড়ানো এবং টিউমারের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এদের ডেনড্রাইটিক কোষের রুপান্তরিত হবার প্ররোচনা দেয়া। ডেভিড এইচ লিন্চ এবং তার টীম ( বর্তমানে বেইনব্রিজ বায়োফার্মা কনসাল্টিং, ওয়াশিংটন এ) একটি বিশেষ সাইটোকাইন আবিষ্কার করেছেন, যা ঠিক এই কাজটি করে মাউসদের মধ্যে। এছাড়া জন হপকিন্স এর ড্রিউ এম পারডল তার গবেষনায় দেখিয়েছেন, ডেনড্রাইটিক কোষকে প্ররোচিত করতে যদি টিউমার কোষকিই জেনেটিক ইন্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে বেশী বেশী করে সাইটোকাইন নিঃসরনে বাধ্য করা হয় সেটাইসম্ভবত সবচেয়ে কার্য্যকর অ্যাপ্রোচ হবে ক্যানসারের বিরুদ্ধে ভ্যাক্সিন তৈরী করার ক্ষেত্রে।</p>
<p>আরেকটি অ্যাপ্রোচ, যা রকফেলারে স্টাইনম্যান ও তার সহকর্মী মিশেল সি নুসেনজোয়াইগ শুরু করেছিলেন,তা হলো অ্যান্টিজেনকে সুনির্দিষ্টভাবে নিশানা করার জন্যেএর সাথে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি জুড়ে দেয়া, যা ডেনড্রাইটিক কোষের উপরে থাকা একটি নির্দিষ্ট অনুর সাথে যুক্ত হবে।  এই অনুগুলোর এমন বৈশিষ্ট থাকতে হবে যে অ্যান্টিজেন সহ যখনই অ্যান্টিবডি যখনই এই অনুর সাথে যুক্ত হবে, এটি ডেনড্রাইটিক কোষকে প্ররোচিত করবে একে কোষের ভিতর নিয়ে যেতে, এটি ভিতরে যাবার পর অ্যান্টিজেনটি পুনরায় কোষের ভিতর প্রক্রিয়াজাত হয়ে এমএইচসি ১ এবং এমএইচসি ২ এর সাথে একে প্রদর্শন করবে। এ ধরনের বেশ কয়েকটি অনু নিয়ে বিজ্ঞানী ‍আরো জোরদার গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছেন।</p>
<p>মাউসদের মধ্যে গবেষনা বলছে যে, যদি ডেনড্রাইটিক কোষকে সক্রিয় না করেই অ্যান্টিজেনকে নিশানা বানানো হয় তাহলে টলারেন্স তৈরী হয় ( সহনশীলতা, যা প্রতিরোধ করেনা); কিন্তু  অ্যান্টিজেনকে ডেনড্রাইটিক কোষের সক্রিয়কারীদের সাথে একসাথে ব্যবহার করলে প্রতিরক্ষা উপোযোগী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।</p>
<p><span style="color:#008000;">রোগ প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়াকে থামিয়ে দেয়া:  </span></p>
<p>আরেকদল বিজ্ঞানী চেষ্টা করছেন ডেনড্রাইটিক কোষকে থামিয়ে দিতে তার ‍কাজে বাধা দিয়ে, যেখানে তাদের অতি সক্রিয়তা প্রতিরোধ করার বদলে অসুখের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সাধারনত আমদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় একটা প্রক্রিয়া ঘটে, যাকে বলে সেন্ট্রাল টলারেন্স (বা কেন্দ্রীয় সহনশীলতা); এটা ঘটে আমাদের বুকের মধ্যে থাকা একটি অঙ্গে ( যা সময়ের সাথে বিলুপ্ত হয়ে যায়) যার নাম থাইমাস (থাইমাসে পুর্ণতা পায় বলে একধরনের লিম্ফোসাইট ( শ্বেত রক্ত কনিকা) বলে টি লিম্ফোসাইট বা টি কোষ); থাইমাস, আমাদের শরীরের যে টি কোষগুলো, আমাদের শরীরেরই কোন অংশকে, আমাদের অংশ নয় বলে চেনে, এই সব ক্ষতিকর আত্মঘাতী টি কোষকে রক্তে আসার আগে শরীর থেকে সরিয়ে ফেলে। কিন্তু কিছু এধরনের  ক্ষতিকর টি কোষ অবশ্যই থাইমাসের নজরদাড়ি এড়িয়ে যায়, সুতরাং এই সমস্যার একটা বিহিত করতে আমাদের শরীরেরও একটি ব্যাক আপ ব্যবস্থা করেছে:  এই সব টি কোষকে যে প্রক্রিয়ায় আমাদের শরীর নিয়ন্ত্রন করে তার নাম পেরিফেরাল (কেন্দ্রর বাইরে) টলারেন্স বা সহনশীলতা।</p>
<p>কিছু রোগী, যাদের অটোইমিউন রোগ আছে ( নিজের শরীরের কোন উপাদানের উপর নিজের রোগপ্রতিরোধ কারী কোষগুলো যখন ভিন্ন ভেবে চড়াও হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ করে শরীরকে), যেমন, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, টাইপ ১ ডায়াবেটিস, সিস্টেমিক লুপাস ইত্যাদি; তাদের এই পেরিফেরাল টলেরান্সের মেকানিজমে কিছু সমস্যা থাকে। ২০০১ সালে জাক বাঁশোরো ও তার সহযোগীরা দেখান যে, সিস্টেমিক লুপাস এর রোগীদের ডেনড্রাইটিক কোষ অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় এবং এই কোষগুলো বেশী মাত্রায় ইন্টারফেরোন আলফা নিঃসরণ করে। যে প্রোটিনটি আদি কোষ থেকে পুর্ন বয়স্ক ডেনড্রাইটিক কোষের রুপান্তর বাড়িয়ে দেয় রক্তে থাকা অবস্থায়।  এই পুর্ন বয়স্ক ডেনড্রাইটিক কোষ তখন রক্তে থাকা রোগীর ডিএনএ কে কোষের মধ্যে ঢুকিয়ে নেয় ( লুপাসের রোগীদের রক্তে এমনিতেই স্বাভাবিক এর তুলনায় অনেক বেশী ডিএনএ অনু রক্তে থাকে) এবং এটিকে অ্যান্টিজেন হিসাবে প্রদর্শন করে ডেনড্রাইটিক কোষগুলো রোগীর নিজের ডিএনএর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরী করতে প্ররোচনা দেয়, এই অ্যান্টিবডি শরীরের নানা অংশে প্রতিক্রিয়া করে জটিল রোগের সৃষ্টি করে। এখানে ডেনড্রাইটিক কোষ এর অতিসক্রিয়তা এবং ইন্টারফেরোন আলফা নিঃসরণ বন্ধ করলে এই ঘাতক রোগের একটি চিকিৎসা আবিষ্কার করা সম্ভব। একই ভাবে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের রোগীদের ক্ষেত্রে এই কোষগুলোকে নিয়ন্ত্রন করতে পারলে, নতুন অঙ্গ বাতিল করার শারীরিক ইমিউন প্রক্রিয়াকেও নিয়ন্ত্রন করা যেতে পারে।</p>
<p>এমনকি  এইডস এর নতুন চিকিৎসার জন্য ডেনড্রাইটিক কোষ সম্বন্ধে আরো জানা প্রয়োজন। ২০০০ সালে নেদারল্যান্ডস এর নিমেজেন এর সেইন্ট রাডবুড মেডিকেল সেন্টারে কার্ল জি ফিগডর এবং ইভেট ভ্যান কুইক, একটি বিশেষ গ্রুপ ডেনড্রাইটিক কোষ খুজে পান যারা DC-SIGN (<strong>D</strong>endritic <strong>C</strong>ell-<strong>S</strong>pecific <strong>I</strong>ntercellular adhesion molecule-3-<strong>G</strong>rabbing <strong>N</strong>on-integrin) বলে একটি অনু তৈরী করে, যে অনুটা এইচ আই ভি ভাইরাসের বাইরের পর্দার একটি অনুর সাথে সংযুক্ত হতে পারে। এই কোষগুলো মিউকাস মেমব্রেনে পাহারা দেবার সময় ভাইরাসটি এই অনুর সাথে ডেনড্রাইটিক কোষের অজান্তেই নিজেকে যুক্ত করে ফেলে, এবং ‌এরা যখন লসিকা গ্রন্থিতে আসে এইচ আই ভি অসংখ্য টি কোষ পায় আক্রমন করার জন্য। যে ঔষধটি এই DC-SIGN এর সাথে HIV ভাইরাসের এই যুক্ত হবার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে পারে, সেটি AIDS হবার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। এছাড়া অনেক সংক্রামক ব্যাধির জীবানু যেমন ম্যালারিয়া, মিজলস (হাম) এবং সাইটোমেগালোভাইরাস – এরাও ডেনড্রাইটিক কোষকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে। যেমন ম্যালেরিয়া পরজীবি দ্বারা আক্রান্ত লোহিত রক্ত কনিকা গুলো ডেনড্রাইটিক কোষগুলোর সাথে যুক্ত হয়ে এদের পুর্নতা পেতে দেয়না, ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এরা ম্যালেরিয়ার জীবানুর বিরুদ্ধে সতর্ক করতে বাধার মুখে পড়ে। বেশ কয়েকটি গ্রুপের গবেষকরা চেষ্টা করছেন ডেনড্রাইটিক কোষগুলোকে এধরনের হাইজ্যাকিং থেকে কিভাবে রক্ষা করা যায় তার জন্য।</p>
<p>এই কোষটিকে নিয়ন্ত্রন কারী অনুগুলো সম্বন্ধে আমরা যত জানবো ততই আমরা চিকিৎসার জন্য এই কোষটিকে ব্যবহার করা ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবো। ক্রমশ বাড়তে থাকা গবেষকদের সংখ্যা এবং ফার্মাসিউটিক্যাল কর্পোরেশনদের এই কোষ নিয়ে কাজ করার জন্য আগ্রহ বৃদ্ধি আভাস দিচ্ছে, খুব শিঘ্রই আমরা এই কোষগুলোর সর্ব্বোচচ ক্ষমতাগুলো  আমরা আমাদের আক্রান্ত করা নানা রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে কাজে লাগাতে সক্ষম হবো।</p>
<p>এবার ফিরে যাই মুল লেখায়।</p>
<p><span style="color:#ff0000;"> শেষ বড় এক্সপেরিমেন্ট, একজন বিজ্ঞানী যখন রোগী:</span></p>
<p>২০০৭ এর প্রথম দিকে কলোরাডোতে একটা বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে যোগ দেবার সময় স্টাইনম্যান হঠাৎ  করে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েনএবং মার্চের শেষ সপ্তাহে তার অগ্নাশয়ে টিউমারটি ধরা পড়ে সিটি স্ক্যানে। ততদিনে এটি ছড়িয়ে পড়েছে কাছাকাছি লসিকা গ্রন্হিগুলোতে। স্টাইনম্যান জানতেন তার বেচে থাকার সম্ভাবনা কত ক্ষীন। অগ্নাশয়ের এই ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্তদের ৮০ শতাংশই মারা যায় প্রথম বছরেই। মেয়ে আলেক্সিস এর মনে আছে,স্টাইনম্যান যখন তার অসুখ নিয়ে পরিবারে সবার সাথে কথা বলেছিলেন,তার আত্মবিশ্বাস ছিল স্পষ্ট, কারন অসুখটা যদিও ভয়াবহ,তবে পৃথিবীর যে কোন ক্যান্সারের রোগীর তুলনায় তার অবস্থান কিন্তু ছিল ভিন্ন:পৃথিবীর সেরা ইমিউনোলজিষ্ট আর ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা তার সহকর্মী; কিন্তু তারচেয়েও গুরুত্বপুর্ন,স্টাইনম্যান জানতেন,তার এই সহকর্মী গবেষকরা ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য প্রতিশ্রুতিশীল বেশ কিছু চিকিৎসা নিয়ে গবেষনা করছেন,যার অনেকগুলোই তার পথ দেখানো ডেনড্রাইটিক কোষ নির্ভর।</p>
<p>সহকর্মীদের মধ্যে প্রথম খবরটি পান সারাহ স্লেশিঙ্গার;হাই স্কুলে পড়ার সময় সারাহ, জানভিল কোন এর ল্যাবে কাজ করতে এসেছিলেন একটা সামার প্রোগ্রামে,সেখান থেকেই তার পরিচয় স্টাইনম্যানের সাথে। একই বেন্চে বসে স্টাইনম্যান তাকেও ডেনড্রাইটিক কোষ খোজার নেশা ধরিয়ে দিয়েছিলেন। স্লেশিঙ্গার এবং আরেক ঘনিষ্ট সহকর্মী মিশেল নুসেনজোয়াইগ সাথে নিয়ে  স্টাইনম্যান ধীরে ধীরে তার বিশাল নেটওয়ার্কের সবাইকে খবরটা ফোন করে জানান।</p>
<p>তিনি বুঝতে পেরেছিলেন,তার আরো একটি এবং হয়তো বা তার জীবনে শেষ পরীক্ষাটি এবার তাকে করতে হবে।স্টাইনম্যান দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করতেন,কোন ক্যান্সারকে নিশ্চিতভাবে চিকিৎসা করতে হলে রোগীর নিজের ডেনড্রাইটিক কোষগুলো এই ক্যান্সারের বিরুদ্ধে ইমিউনিটি তৈরী করতে হবে। তার এই ধারনা সঠিক প্রমান করার জন্য যে পরীক্ষার কথা ভাবছিলেন স্টাইনম্যান,তার জন্য তাদের হাতে সময়ও ছিল না খুব একটা বেশী ।</p>
<p>স্টাইনম্যানের এর পরের ফোনটি ছিল তার দীর্ঘদিনের সহযোগী এবং বর্তমানে ডালাসে বেইলর  ইন্সস্টিটিউট ফর ইমিউনলজীর পরিচালক জাক বাঁশোরো কে। বাশোরো যোগাযোগ করেন বেইলর এর গবেষক এবং স্টাইনম্যানের ল্যাবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা আনা ক্যারোলীনা পালুকার সাথে; যিনি এই রকম একটি পরীক্ষা মুলক ভ্যাক্সিন নিয়ে তখন গবেষনা করছিলেন। পালুকার মনে হয়েছিল,তার ভ্যাক্সিনটি হয়তো স্টাইনম্যানকে সাহায্য করতে পারে,কিন্তু তার ব্যক্তিগত চ্যালেন্জ্ঞটি ছিল,বন্ধু, রোগী এবং বিজ্ঞানী স্টাইনম্যানকে পৃথক করা।</p>
<p>সহকর্মী  স্লেশিঙ্গার যোগাযোগ করলেন স্টাইনম্যানের আরেকজন দীর্ঘদিনের সহযোগী এবং আরএনএ বেসড ড্রাগ কোম্পানী আরগোস থেরাপিউটিকস(এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন স্টাইনম্যান)এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা চার্লস নিকোলেটকে;নিকোলেট এর টীম ইতিমধ্যে একটি ডেনড্রাইটিক কোষ ভ্যাক্সিন তৈরী করেছিল,যা একটি ট্রায়ালে ছিল (ফেজ ২)কিডনীর কান্সার রোগীদের চিকিৎসার জন্য।আরগোস এই টীমটি প্রথমে রোগীর শরীরে ডেনড্রাইটিক কোষগুলো সংগ্রহে নিয়ে তাদেরকে টিউমর থেকে নেয়া জেনেটিক  উপাদানের কিছু নির্দিষ্ট জীন যা টিউমারটির এন্টিজেনিসিটি নির্ধারন করে,সেটি দ্বারা ট্রান্সফেকশন (জীনটি ডেনড্রাইটিক কোষের ভিতরে ঢুকে পরে)করানো হয় ডেনড্রাইটিক কোষের ভিতরে,এবং প্রয়োজনীয় অ্যান্টিজেন প্রোটিনটি কোষের ভিতর তৈরী হলে ডেনড্রাইটিক কোষগুলো তা পক্রিয়াজাত করে,টি কোষের কাছে উপস্থাপন করে,ফলে রোগীর শরীরে এটা টিউমর বিরোধী শক্তিশালী একটি প্রতিক্রিয়ার সুচনা করে।</p>
<p>২০০৭ সালে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে স্টাইনম্যানের প্যানক্রিয়াসের কিছু অংশ কেটে ফেলে দেয়া হয়, নিকোলেটের সেই কেটে ফেলা টিউমারের কিছু অংশ দরকার ছিল তার ভ্যাক্সিন তৈরীর কাজ শুরু করার জন্য। স্টাইনম্যানকে এই ভ্যাক্সিনের ট্রায়ালে যোগ দেবার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফুড এবং ড্রাগ অ্যাডমিনিষ্ট্রেশনের বিশেষ অনুমতি নিতে হয়,নিকোলেট এর টীমকে অল্প কয়েকদিনের মধ্যে এই অনুমতি জোগাড় করতে হয়। স্টাইনম্যানের টিউমার কোষ পাবার পর এবং আরগোসের ভ্যাক্সিন তৈরী কাজ শেষ হতে, সময় তখন লাগবে বেশ কয়েকমাস। এই সময়টাতে স্টাইনম্যান অন্য চিকিৎসা, প্রচলিত জেমসাইটিবিন-নির্ভর কেমোথেরাপী নিতে শুরু করেন।</p>
<p>২০০৭ এর গ্রীষ্মের শেষ দিকে তিনি যোগ দেন GVAX ট্রায়ালে;এই ভ্যাক্সিনটি যৌথভাবে তৈরী করেছিলেন জন হপকিন্স এর এলিজাবেথ জাফে, হার্ভার্ড এর একটি টীমের সাথে, এটির নিশানা ছিল প্যানক্রিয়াস এর ক্যান্সার,তবে টার্মিনালী প্রোস্টেটের ক্যান্সারের জন্য ছাড়পত্র পাওয়া প্রোভেন্জ যেমন, এটাও তেমনি কোন নির্দিষ্ট না বরং একটি সার্বজনীন টিউমার অ্যান্টিজেন ব্যবহার করে তৈরী করা।এর আগের একটি ফেজ ২ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে যারা এই ভ্যাক্সিনটি পাচ্ছে তারা, যারা পাচ্ছেনা তাদের থেকে বেশ কয়েক মাস বেশী দীর্ঘ আয়ু লাভ করে। দুই মাস ধরে স্টাইনম্যান হার্ভার্ড ক্যান্সার সেন্টারে GVAX এর চিকিৎসা পান।</p>
<p>সবার মনেই তখন শঙ্কা স্টাইনম্যান কি আগামী শরৎটা দেখে যেতে পারবেন কিনা।</p>
<p>সবার শঙ্কা দুর করে মোটামুটি ভালোই থাকলেন স্টাইনম্যান। ২০০৭ এর সেপ্টেম্বরে লাসকার পুরষ্কারে পেলেন। একের পর এক টিভি ইন্টারভিউ আর ভিডিও কনফারেন্সে তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে ডেনড্রাইটিক কোষের অপার সম্ভাবনার কথা বললেন:ডেনড্রিইটিক কোষ নির্ভর চিকিৎসা ক্যানসারে প্রচলিত চিকিৎসার চেয়ে অনেক বেশী সুনির্দিষ্ট এবং অনেক কম ক্ষতিকর পার্শপ্রতিক্রিয়াহীন।কিন্তু আরো গবেষনা এবং  ধৈর্যর প্রয়োজন, এর মুলনীতিগুলো বোঝার জন্য।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/12-01-2012-8-56-19-pm-copy.jpg"><img class="alignnone  wp-image-1969" title="12-01-2012 8-56-19 PM - Copy" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/12-01-2012-8-56-19-pm-copy.jpg?w=637&#038;h=1067" alt="" width="637" height="1067" /></a></p>
<p>ছবি: স্টাইনম্যানের ডেনড্রাইটিক কোষ নির্ভর ভ্যাক্সিনের একটি স্কীমাটিক ডায়াগ্রাম ( <a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/12-01-2012-8-56-19-pm-copy.jpg">ছবিটি  বড় করে দেখুন</a>)</p>
<p>এসময় তার সহকর্মীদের তুলনায় স্টাইনম্যানই বেশী ধৈর্য্যর প্রমান দিয়েছেন। তিনি তার সহকর্মীদের সাথে প্রথমে যুক্তি দিয়েছিলেন, যে GVAX তিনি ধীরে ধীরে নেবেন এবং প্রতিটি থেরাপীর মধ্যে তার রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কতটুকু বাড়লো  এটা তিনি পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ পাবেন। কিন্তু তার সহকর্মীরা তাকে বোঝাতে সক্ষম হলেন,সেটা করার জন্য তাদের হাতে বেশী সময় নেই। কারন তিনি যদি বেচে না থাকেন তাহলে এই পরীক্ষা বা উপাত্ত সংগ্রহ কোনটাই হবেনা।</p>
<p>নভেম্বর ২০০৭ সালে কেমোথেরাপী শেষে স্টাইনম্যান আরগোস এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যোগ দিলেন একক রোগীর স্বতন্ত্র একটি প্রোটোকলে। তার নিজের টিউমার কোষের জেনেটিক উপাদান নিয়ে স্টাইনম্যানের ডেনড্রাইটিক কোষগুলোকে প্রস্তুত করার পর আবার স্টাইনম্যানের শরীরে প্রবেশ করানো হলো। এরপর ২০০৮ এর শরতে পালুকার ভ্যাক্সিনটি তিনি গ্রহন করেন (যেটির মুল নিশানা ছিল মেলানোমা,চামড়ায় হওয়া একধরনের কান্সার); পালুকা তার মেলানোমার জন্য তৈরী করা একটি ডেনড্রাইটিক কোষ ভ্যাক্সিন এর খানিকটা পরিবর্তন করে স্টাইনম্যানের টিউমরের একটি প্রোটিন টুকরা ব্যবহার করে এই কোষগুলোকে নতুন করে প্রোগ্রাম করলেন শুধু স্টাইনম্যানের জন্য।</p>
<p>সারা পৃথিবী জুড়ে স্টাইনম্যানের সহযোগী যারাই এক্সপেরিমেন্টাল চিকিৎসা নিয়ে কাজ করছিলেন, সবাই স্টাইনম্যানকে তাদের চিকিৎসা নেবার জন্য প্রস্তাব করেছিলেন। স্টাইনম্যান কয়েক দশক ধরে বিশাল সহযোগী বিজ্ঞানীদের এক বিশাল নেটওয়ার্ক  তৈরী করেছিলেন, তারা সবাই স্টাইনম্যান এর পাশে এসে দাড়িয়েছিলেন। ক্যানসারের প্রচলিত চিকিৎসা ছাড়াও বিশেষ রোগীর শ্রেনীবিভাগে মোট চারটি ভিন্ন ভিন্ন ড্রেনড্রাইটিক কোষ নির্ভর ক্যান্সার চিকিৎসার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যোগ দেন স্টা‌ইনম্যান, যাদের কোনটাই এর আগে প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারে ব্যাবহার করা হয়নি, এছাড়াও আরো কিছু পরীক্ষামুলক ইমিউনোথেরাপী এবং কেমোথেরাপীও নেন স্টাইনম্যান। এই সব চিকিৎসার মধ্য দিয়েই স্টাইনম্যান তার নিজের উপরই বড় পরীক্ষাটা চালিয়ে যেতে থাকেন ঠিক যেভাবে নিজের ল্যাবে গবেষনা পরিচালনা করতেন।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/20-01-2012-12-03-18-am.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1970" title="20-01-2012 12-03-18 AM" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/20-01-2012-12-03-18-am.jpg?w=490&#038;h=525" alt="" width="490" height="525" /><br />
</a><em>স্টাইনম্যানের নিজের উপর পরীক্ষা করা কয়েকটি পরীক্ষা মুলক চিকিৎসা </em></p>
<p>খুব সাবধানে নিজের শরীরের ডাটা সংগ্রহ করছিলেন তিনি, বিশেষ করে তার শরীর এই সব চিকিৎসায় কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। তিনি পালুকাকে তার ভ্যাক্সিন যে কাজ করছে, তা ইনজেকশন সাইটের চারপাশে ফুলে ওঠা জায়গার বর্ণনা দিয়েছেন নিয়মিত। যদিও পালুকা নিশ্চিৎ নন তবে তিনিও তার শিক্ষক স্টাইনম্যানের মত জানতেন, ডেনড্রাইটিক কোষগুলোই রোগ প্রতিরোধের সুচনা করে, যদি শরীরের বাইরে এই  কোষগুলোকে চিনিয়ে দেয়া যায় কার সাথে যুদ্ধ করতে হবে, এই কোষগুলোই শরীরে ফিরে গেলে টি কোষদের টিউমর ধ্বংশ করার কার্যকরী উপদেশ দিতে পারে। এই যুদ্ধ জয়ে কোষগুলোর পক্ষে সুযোগ বাড়িয়ে দেবার জন্যই  মুলত  এই প্রচেষ্টা।</p>
<p>ক্যান্সারের যে বায়োমার্কার, বা যা টেষ্ট করে কোন নির্দিষ্ট ক্যান্সারের অগ্রগতি বোঝা যায়, সেটার পরিমাপ দিয়েই স্টাইনম্যানের মনে অবস্থা বোঝা যেত। পুরো চিকিৎসা সময়কাল ধরেই  তার এই টিউমর মার্কারটি বার বার ওঠানামা করেছে। রোগী স্টাইনম্যানকে যে সংবাদ খুশী করেছে বিজ্ঞানী স্টাইনম্যানকে তা খুশী করতে পারেনি। তার এই একজন রোগীকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট যে বৈজ্ঞানিক গ্রহনযোগ্যভাবে নয় তাকে সারাক্ষনই হতাশ করেছে। এছাড়া এতগুলো ট্রিটমেন্ট একসাথে, এর সাথে কেমোথেরাপী, ঠিক কোনটা যে তার টিউমার মার্কারে মাত্রা কমিয়ে দিয়েছে, সেটা বলা সহজ ছিল না। তা সত্ত্বে স্টাইনম্যান বেশ চমৎকার কিছু উপাত্ত রেখে গেছেন, পালুকা একটি  ইমিউন মনিটরিং টেষ্ট করার সময় প্রমান পান যে তার শরীরের প্রয় ৮ শতাংশ কিলার টি কোষ সুনির্দিষ্টভাবে তার টিউমরের বিরুদ্ধে কাজ করছে। খুব বেশী মনে না হলেও, আমাদের শরীরের প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হওয়া অসংখ্য রোগজীবানুর বিরুদ্ধে যাদের কাজ করতে হচ্ছে, তাদের মধ্যে ৮ শতাংশ শুধু একটি কাজই করছে ব্যপারটা উডিয়ে দেবার মত না, নিশ্চয়ই কোন একটি চিকিৎসা বা এদের কোনটার সমন্বয় নিশ্চয়ই টিউমরের বিরুদ্ধে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে।</p>
<p>জুন ২০১১, ৪০ তম বিবাহ বার্ষিকী উৎযাপনের স্টাইনম্যান তার স্ত্রী ক্লডিয়াকে নিয়ে রোম বেড়াতে যান। ততদিনে তার প্রথম সার্জারীর চার বছর পেরিয়ে গেছে, এতদিন এই রোগ নিয়ে বেচে থাকাটাই বিস্ময়কর।  সেপ্টেম্বর ২০১১ এর মাঝামাঝিও স্টাইনম্যান তার ল্যাবে কাজ করেছেন, আরগোসের চিকিৎসাটা আবার শুরু করার কথা ছিল। সেই সময়ই হঠাৎ করে স্টাইনম্যান নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন। সেপ্টেম্বর এর ২৪ তারিখ পর্যন্ত্ তিনি তার ল্যাবে ডাটা গুলো রিভিউ করেছেন। কিন্তু অবশেষে শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০ তারিখ আর পারলেন না তিনি। নিউমোনিয়ায় মারা যান ক্যান্সারে দুর্বল হয়ে যাওয়া স্টাইনম্যান।</p>
<p>তখনও তার মৃত্যুর খবর তার নেটওয়ার্কে কাউকে জানানো হয়নি । সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইলেন স্ত্রী ক্লডিয়া, তার অসংখ্য সহযোগীদের খবরটা দেবার জন্য।  অক্টোবরের ৩ তারিখ, সোমবার সকালেই  স্টাইনম্যানের নীরব করে রাখা ব্ল্যাক বেরীতে খবর এলো স্টকহোম থেকে, এ বছরের নোবেল পুরষ্কারের জন্য তাকে মনোনীত করা হয়েছে।</p>
<p>সারা পৃথিবীতে তখন নোবেল কমিটির ঘোষনা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া আসছে। স্টাইনম্যান এবং আরো দুজন ব্রুস বিউটলার এবং জুল হফম্যান কে নানা আর্টিকেল এবং বক্তব্যও প্রকাশিত হতে লাগলো আরো বেশ কয়েক ঘন্টা নাগাদ; স্টাইনম্যানের মৃত্যু সংবাদ প্রচারিত হবার আগ পর্যন্ত। নোবেল কমিটি তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে সমস্যায় পড়ে যায়, কারন মরনোত্তর কাউকে পুরষ্কারটি দেয়া হয়না, কিন্তু যদি অক্টোবরে যোষনার পর কোন নোবেল জয়ী ডিসেম্বরের মুল অনুষ্ঠানের আগে মারা যান তবে তিনি বিজয়ীর তালিকায় থাকেন। কিন্তু স্টাইনম্যান মারা গেছেন ঘোষনার মা্ত্র তিন দিন আগে। সেই দিনই দীর্ঘ বৈঠকের পর তারা সিদ্ধান্ত নেন স্টাইনম্যানের নাম নোবেল বিজয়ীর তালিকায় থাকবে।</p>
<p>এর কিছু দিন পর অ্যাপল এর স্টিভ জবস ও ক্যান্সারে মারা যান। খুবই ধীরে ধীরে বড় হওয়া সচরাচর দেখা যায় না এমন একটি ক্যান্সারে, সেটিও স্টাইনম্যানের মত তার প্যানক্রিয়াসে হয়েছিল, প্রায় ৮ বছর বেচে ছিলেন স্টিভ জবস ক্যান্সারটি শনাক্ত হবার পর, এটিও বেশ দীর্ঘ একটি সময়। কিন্তু স্টাইনম্যানের ক্যান্সারটি ছিল আরো ভয়ঙ্কর আগ্রাসী, তার এই বাড়তি সময় বেচে থাকাটা তাই কারো মনে সন্দেহ রাখেনি চিকিৎসায় কোন না কোন কিছু নিশ্চয়ই কাজে লেগেছে।</p>
<p>এখন বিজ্ঞানীরা বুঝতে চেষ্টা করছেন, কি সেটা।</p>
<p><img class="alignnone  wp-image-1971" title="12-01-2012 8-08-29 PM" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/12-01-2012-8-08-29-pm.jpg?w=637&#038;h=376" alt="" width="637" height="376" /><br />
<em>রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের ল্যাবে  র‌্যালফ স্টাই্নম্যান  (সুত্র:  Nature (478) 27 October 2011) </em></p>
<p>এবছরই কোন এক সময় বেইলর বিশ্ববিদ্যালয় স্টাইনম্যানের সন্মানে তার নামে নামকরন করতে যাচ্ছে তাদের সেন্টার ফর কান্সার ভ্যাক্সিন কে। এবং পালুকা ,যে ভ্যাক্সিন দিয়ে স্টাইনম্যানের চিকিৎসা করেছিলেন সেটাই  প্যানক্রিয়াসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করতে যাচ্ছেন। আর্গোসে নিকোলেট আরো জোরে চেষ্টা করে যাচ্ছেন কিডনী ক্যান্সারের জন্য তার ভ্যাক্সিন, যা স্টাইনম্যান ব্যবহার করেছিল, সেটিকে ফেজ ৩ এর ট্রায়ালে নিয়ে যাবার জন্য। স্টাইনম্যানের চিকিৎসার সাথে জড়িত সবাই বুঝতে পেরেছেন, ইমিউনিটি অবশ্য তার ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য ঘটিয়েছে। কিন্তু শেষ যে শিক্ষাটি আসলে তাদের শিক্ষক দিয়ে গেছেন, স্টাইনম্যান তার সহকর্মীদের  সবসময়ই বলতেন, এখনও অনেক কিছু আবিষ্কার করা বাকী আছে..এবং আসলে তাই।</p>
<p>____________________________</p>
<p>ক্যাথরিন হারমনের The patient Scientist, Scientific American january 2012;<br />
জাক বাঁশোরোর The long arm of the Immune system, Scientific American November 2002;<br />
মিশেল নুসেনযোয়াইগ এবং ইরা মেলম্যান;Ralph Steinman (1943–2011), Immunologist and cheerleader for dendritic-cell biology; Nature (478);27 October 2011;<br />
Dendritic Cells and the Control of Immunity. Jacques Banchereau and Ralph M. Steinman in <em>Nature, </em>Vol. 392; March 19, 1998.<br />
Taking Dendritic Cells into Medicine. Ralph M. Steinman and Jacques Banchereau in <em>Nature,</em>Vol. 449, September 27, 2007.</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/kmhb.wordpress.com/1937/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/kmhb.wordpress.com/1937/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/kmhb.wordpress.com/1937/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/kmhb.wordpress.com/1937/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/kmhb.wordpress.com/1937/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/kmhb.wordpress.com/1937/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/kmhb.wordpress.com/1937/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/kmhb.wordpress.com/1937/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/kmhb.wordpress.com/1937/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/kmhb.wordpress.com/1937/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/kmhb.wordpress.com/1937/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/kmhb.wordpress.com/1937/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/kmhb.wordpress.com/1937/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/kmhb.wordpress.com/1937/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=1937&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://kmhb.wordpress.com/2012/01/20/%e0%a6%b0%e2%80%8c%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%ab-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/e40bfc2ea43f56cde7024fc67c614894?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">kazimahboob</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/rs1.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">RS1</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/dc.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">DC</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/dc-interacts-with-t-cell.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">DC-interacts-with-T-cell</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/killertcell-and-cancer.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">KillerTCell and Cancer</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/t-cells.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">T-Cells</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/18-01-2012-7-39-31-pm.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">18-01-2012 7-39-31 PM</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/21.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">2</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/18-01-2012-8-08-30-pm.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">18-01-2012 8-08-30 PM</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/12-01-2012-8-56-19-pm-copy.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">12-01-2012 8-56-19 PM - Copy</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/20-01-2012-12-03-18-am.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">20-01-2012 12-03-18 AM</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2012/01/12-01-2012-8-08-29-pm.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">12-01-2012 8-08-29 PM</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>শুধু এক শতাংশ: আমাদের অতীতের ভবিষ্যৎ</title>
		<link>http://kmhb.wordpress.com/2011/12/29/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a7%e0%a7%81-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b6-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%a4/</link>
		<comments>http://kmhb.wordpress.com/2011/12/29/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a7%e0%a7%81-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b6-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%a4/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 30 Dec 2011 01:54:49 +0000</pubDate>
		<dc:creator>K M Hassan</dc:creator>
				<category><![CDATA[জীববিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[বিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[বিবর্তন]]></category>
		<category><![CDATA[জীন]]></category>
		<category><![CDATA[জীনোম]]></category>
		<category><![CDATA[HAR1]]></category>
		<category><![CDATA[ptERV]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://kmhb.wordpress.com/?p=1720</guid>
		<description><![CDATA[শীর্ষ ছবি: শুধু এক শতাংশ পার্থক্য। শিম্পান্জিদের সাথে আমাদের ডিএনএ পর্যায়ে মিল প্রায় ৯৯ শতাংশ হওয়া সত্ত্বেও আমরা বহু গুরুত্বপুর্ন বৈশিষ্টে শিম্পান্জি থেকে অনেক আলাদা। তুলনামুলক জীনতত্ত্বের নতুন গবেষনাগুলো ধীরে ধীরে  উন্মোচন করছে জীনোমের কোন অংশগুলো আমাদের এই দুই প্রজাতিকে আলাদা করেছে। ছবি: JAMES BALOG Getty Images, Scientific American, May 2009) (তথ্য সুত্র লেখার শেষে) Darwin [...]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=1720&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/20-12-2011-10-32-05-pm.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1744" title="20-12-2011 10-32-05 PM" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/20-12-2011-10-32-05-pm.jpg?w=490&#038;h=509" alt="" width="490" height="509" /><br />
</a>শীর্ষ ছবি: শুধু এক শতাংশ পার্থক্য। শিম্পান্জিদের সাথে আমাদের ডিএনএ পর্যায়ে মিল প্রায় ৯৯ শতাংশ হওয়া সত্ত্বেও আমরা বহু গুরুত্বপুর্ন বৈশিষ্টে শিম্পান্জি থেকে অনেক আলাদা। তুলনামুলক জীনতত্ত্বের নতুন গবেষনাগুলো ধীরে ধীরে  উন্মোচন করছে জীনোমের কোন অংশগুলো আমাদের এই দুই প্রজাতিকে আলাদা করেছে। ছবি: JAMES BALOG Getty Images, Scientific American, May 2009)</p>
<p><span style="color:#ff0000;">(তথ্য সুত্র লেখার শেষে)</span></p>
<p><span style="color:#0000ff;"><em>Darwin</em><em> had this amazingly bold idea: the tree of life—that all species were connected. And what it meant was, if you go far enough back in our family tree of humans, you&#8217;ll come to fish. If you go far enough back in the family tree of birds, you&#8217;ll come to dinosaurs. So that creatures that don&#8217;t look anything at all like each other are actually deeply connected. No one came close to having this idea before Darwin.  Sean B Carroll ( in What Darwin Never Knew)</em></span></p>
<p><span style="color:#0000ff;"><em>If Darwin were here today, he&#8217;d be absolutely stunned, delighted, even moved, to see how much his theory has grown. Sean B Carroll ( in What Darwin Never Knew)</em></span></p>
<p><span style="color:#0000ff;"><em>What we now are able to understand, on the one hand, would just blow him (Darwin) away. But I also think it would give him enormous satisfaction, because, ultimately, everything we&#8217;ve been learning validates the things that he said. Cliff Tabin ( in What Darwin Never Knew)</em></span></p>
<p><span style="color:#0000ff;"><em>&#8230;&#8230; I think he (Darwin) was the beginning . He outlined the major points, but we have discovered more than I think he would have imagined possible. Olivia Judson ( in What Darwin Never Knew)</em></span></p>
<p><span style="color:#ff0000;">আমাদের অতীতের ভবিষ্যতের সন্ধানে কিংবা শুধু ভুমিকা:</span></p>
<p>গত দশকে শিম্পান্জির সাথে মানুষের জীনোমের তুলনা করে বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু দুর্লভ জীনোমের অংশ বা অনুক্রম ( সিকোয়েন্স) খুজে পেয়েছেন, যা শুধুমাত্র আমাদের ডিএনএ তেই পাওয়া যায়। জীবিত প্রানীদের মধ্যে শিম্পান্জেই হচ্ছে জীন পর্যায়ে মানুষের সবচেয়ে নিকটাত্মীয়।  বিজ্ঞানীরা শিম্পান্জি জীনোমের অনুক্রম সম্পুর্ন জানার পর, তুলনা করে দেখেছেন যে আমাদের সাথে শিম্পান্জির ডিএনএ র সাদৃশ্য প্রায় ৯৯ শতাংশ। শিম্পান্জি আর মানুষ তাদের সর্বশেষ কমন আদি প্রানী থেকে পৃথক হবার পর আমাদের জীনোমের যে অঞ্চলগুলোতে সবচেয়ে বেশী পরিবর্তন হয়েছে, বিজ্ঞানীরা সেই অংশগুলো খোজার প্রচেষ্টার ফলাফল হিসাবে বিশেষ কিছু ডিএনএ অনুক্রম বা সিকোয়েন্সগুলোকে শনাক্ত করেছেন, যে পরিবর্তনগুলো সম্ভবত মানুষ হিসাবে আমাদের অনন্য কিছু বৈশিষ্ট প্রদান করেছে। উপরন্তু গবেষনার এই ফলাফলগুলো ডিএনএ ব্লুপ্রিন্টে এত মিল থাকা সত্ত্বেও মানুষ আর শিম্পান্জির মধ্যে পার্থক্য  কেন এত গভীর, এ বিষয়েও গুরুত্বপুর্ন কিছু ধারনা দিয়েছে  বিজ্ঞানীদের এবং সুচনা করেছে তুলনামুলক জীনতত্ত্বর প্রতিশ্রুতিময় পথচলা।</p>
<p><span id="more-1720"></span></p>
<p><span style="color:#ff0000;">আমরা কেন মানুষ:</span></p>
<p>সান ফ্রান্সিসকোর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের  জৈবপরিসংখ্যানবিদ ও সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটি পোলার্ড ২০০৩ সালে, তার পোষ্ট ডক্টোরাল এ তুলনামুলক জীনতত্ত্বের একটি ফেলোশীপ করার সময় শিম্পান্জি জীনোমের সিকোয়েন্স বা অনুক্রম করার প্রোজেক্টে অংশ নেন। পোলার্ড তার নিজের লেখা একটি কম্পিউটার প্রোগ্রামের  মাধ্যমে শিম্পান্জির জীনোম অনুক্রমটির সাথে তুলনা করে মানুষের জীনোমের সবচেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বেশ কিছু অনুক্রম শনাক্ত করতে সক্ষম হন। নীচের লেখাটি সুত্রপাত ক্যাটি পোলার্ডের এর সায়েন্টিফিক আমেরিকান পত্রিকায় What makes us human? প্রবন্ধটি পড়ার মাধ্যমে। কিন্তু আরো বেশ কিছু প্রয়োজনীয় প্রকাশনা এবং প্রামান্য চিত্র থেকে তথ্য যোগ করেছি নীচের লেখার মুল কলেবরে (তথ্য সুত্র লেখার শেষে)।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">যে শব্দগুলোর বা ধারনার ব্যাখ্যা, কারো কারো জন্য প্রয়োজন হতে পারে (মুল লেখাটা পরের অনুচ্ছেদ থেকে শুরু হয়েছে):</span></p>
<p>Genome বা জীনোম বলতে আনবিক জীববিজ্ঞানীরা বোঝান সম্পুর্নভাবে কোন একটি জীবের হেরেডিটারী বা বংশগতির সকল তথ্যকে, যা মুলত কোড বা সাংকেতিক আকারে  থাকে  জীবকোষের নিউক্লিয়াসে ডিএনএ (DNA: Deoxyribose Nucleic Acid)  এবং কিছু ভাইরাসের ক্ষেত্রে তাদের আরএনএ (RNA: Ribose Neucleic Acid ) অনুতে। জীনোমের যে অংশগুলো জীবদেহের প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরীর সংকেত বা কোড বহন করে তাদেরকে বলা হয় জীন (Gene), কিন্তু প্রোটিন কোড করা অংশ ছাড়াও ডিএনএ র বিশাল একটি অংশের প্রোটিন তৈরীতে  কোন ভুমিকা নেই। কোড করা এবং  কোড না করা, এই দুই অংশকে নিয়েই গড়ে কোন জীবের জীনোম। আমাদের সবারই কমবেশী ডিএনএ সম্বন্ধে ধারনা আছে ; ডিএনএ বাকানো সর্পিকালার ডাবল হেলিক্স মডেলটির ছবির প্রায় সার্বজনীন পরিচিতির কারনেই তাকে বলা হয় বিজ্ঞানের মোনালিসা। এর গঠন আর কার্যপ্রণালীর আবিষ্কারকে মনে করা হয় বিংশ শতাব্দীতে জীববিজ্ঞানের সবচেয়ে  গুরুত্বপুর্ন মাইল ফলক। মুল লেখায় ঢোকার আগে সকল প্রাণের ভিত্তি, এই অসাধারন অনুটিকে একটি সাধারন আলোচনা করা প্রয়োজন।</p>
<p>ডিএনএ বা ডি অক্সিরাইবোজ নিউক্লিক এসিড থাকে আমাদের কোষের নিউক্লিয়াসে (নিউক্লিয়াসের বাইরেও ডিএনএ থাকে, যেমন কোষের পাওয়ার হাউস বলে পরিচিত মাইটোকন্ড্রিয়াতে থাকে মোট ডিএনএ শতকরা ১ ভাগ); ডিএনএ এর মুল উপাদান হলো চারটি নিউক্লিওটাইড বেস : এরা আসলে খুবই গুরত্বপুর্ন নাইট্রোজেন যুক্ত একধরনের হেটেরোসাইক্লিক যৌগ, অ্যাডেনিন (Adenine), থাইমিডিন (Thymidine), গুয়ানিন (Guanine) ও  সাইটোসিন (Cytosine), এদের সাথে যুক্ত ডিঅক্সিরাইবোজ নামে একটি সুগার অনু এবং এই সুগার অনুর সাথে যুক্ত একটি ফসফোরাইল গ্রুপ। এই চারটি বেস মনোমার ইউনিটই একটার সাথে একটা যুক্ত হয়ে ডিএনএ পলিমার অনুটি গঠন করে।</p>
<p>ডিএনএ র তথ্য বা জেনেটিক কোড বা সংকেত সাজানো থাকে এই নিউক্লিওটাইড বেসগুলোর সিকোয়েন্স বা অনুক্রমে (সংক্ষেপে যাদের A ,T, G, C  এই চারটি লেটার দ্বারা প্রকাশ করা হয়, যা যথাক্রমে Adenine, Thymidine, Guanine, Cytosine এর আদ্যক্ষর); ডিএনএ যে জেনেটিক তথ্য বহন করে, ১৯৪৪ সালে তা প্রমান করেছিলেন ওসওয়াল্ড এভরী, কলিন ম্যাকলয়েড এবং ম্যাকলীন ম্যাককার্টি। এই নিউক্লিওটাইড বেসগুলো ডিএনএ র দুটি পলিমার স্ট্রান্ডকে  নিজেদের মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ড তৈরী করার মাধ্যমে ডাবল স্ট্র্যান্ড অনু গঠন করে। বেসগুলোর এই জোড় বাধা বা বেস পেয়ারিং ( সংক্ষেপে bp) কিন্তু খুবই সুনির্দিষ্ট; যেমন, A (Adenine) জোড় বাধে T(Thymidine) এবং G (Guanine) জোড় বাধে C(Cytosine) এর সাথে। এই ডাবল স্ট্র্যান্ড পলিমার অনুটি এরপর একটি কেন্দ্রীয় অ্ক্ষের চারপাশে পেচিয়ে একটি সর্পিলাকার হেলিক্স তৈরী করে।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/dnastructure.jpg"><img title="dnastructure" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/dnastructure.jpg?w=400&#038;h=400" alt="" width="400" height="400" /></a><br />
ছবি: ডিএনএ ডাবল হেলিক্সের সরলীকৃত স্কীমাটিক ডায়াগ্রাম <a href="http://ghr.nlm.nih.gov/handbook/illustrations/dnastructure.jpg">( সুত্র) </a></p>
<p>আমাদের কোষের মধ্যে ডিএনএ অনুগুলো সাজানো থাকে ক্রোমোজোমে কিছু বিশেষ প্রোটিনের সাথে। প্রতিটি ক্রোমোজোম তৈরী হয় একটি দীর্ঘ, খুবই জটিল এবং বেশ কয়েকটি স্তরে কুন্ডলী করে করে প্যাচানো ডিএনএ অনু দিয়ে, যাকে স্ট্যাবিলাইজ করে রাখে ক্রোমোজোমের প্রোটিনগুলো।এদেরকেই একসাথে বলে ক্রোমাটিন। আমাদের শরীরের কোষে মোট ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে ( অর্থাৎ মোট ৪৬ টি, শিম্পান্জিদের যেমন থাকে  ৪৮টি); এজন্য আমাদের এই কোষগুলোকে বলা হয় ডিপ্লয়েড। কিন্তু কিছু কোষ, যারা যৌন প্রজননের ‍সাথে যুক্ত যেমন ডিম্বানু বা শুক্রানুতে থাকে ২৩ টি করে ক্রোমোজোম ( হ্যাপলয়েড); মানুষের এই হ্যাপলয়েড ক্রোমোজোমের জীনোম বা সবগুলো ডিএনএ অনুতে থাকে প্রায় ৩ X ১০<sup>৯ </sup> ( ৩ বিলিয়ন) বেস পেয়ার ( A, G, T, C ); অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি হ্যাপলয়েড ক্রোমোজোমে থাকে ১.৩ X ১০<sup>৮ </sup>বেস পেয়ার ( A, G, T, C );</p>
<p>দেখা গেছে এই বিশাল ডিএনএ খুব ক্ষুদ্র অংশই আসলে কোড বা সংকেত বহন করে প্রোটিন ( বিভিন্ন সংখ্যক অ্যামাইনো এসিড যুক্ত হয়ে প্রোটিন তৈরী করে) তৈরী করার জন্য ( অর্থাৎ জীন হিসাবে কাজ করে), ধারনা করা হয় আমাদের জীনোমে প্রায় ২০০০০ থেকে ২৫০০০ জীন আছে, অর্থাৎ আমাদের এই তিন কোটি বেস পেয়ারের সুবিশাল জীনোমের খুব সামান্য অংশ, মাত্র ১.৫% জীন বহন করে।</p>
<p>আমরা যেটাকে জীন (Gene) বলি সেটা  A, G, T, C  বেস এর অনুক্রম নিয়ে তৈরী ডিএনএ সুনির্দিষ্ট একটি অংশ। এই A, G, T, C  গুলো ফাংশনালী ( যেভাবে এটি কাজ করে) সাজানো থাকে  তিনটি বেস ( যাকে লেটারও বলা হয়, যেমন: A, G, T, C  ) পাশাপাশি অবস্থান করার একটা অ্যারেন্জমেন্টের বা সজ্জার মাধ্যমে। ৩ টি বেসের এমন সজ্জাকে বলা হয় কোডোন ( Codon) আর বিভিন্ন সংখ্যক কোডন মিলে তৈরী হয় জেনেটিক কোড। জেনেটিক কোডগুলো জীবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রোটিনের সংকেত বহন করে। একটি পুর্নাঙ্গ জীব তৈরীর ব্লুপ্রিন্টটাই সাজানো থাকে সেই জীবের জীনোমে থাকা জেনেটিক কোডে।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/29-12-2011-1-02-30-am.jpg"><img class="alignnone  wp-image-1756" title="29-12-2011 1-02-30 AM" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/29-12-2011-1-02-30-am.jpg?w=637&#038;h=471" alt="" width="637" height="471" /></a></p>
<p>ছবি: জীনের গঠনের একটি ডায়াগ্রাম ( সুত্র: New Scientist, Feb 22,2008)</p>
<p>কোডোন হচ্ছে ট্রিপলেট কোড, কারন তিনটি বেস নিয়ে এটি তৈরী। প্রত্যেকটি কোডন মুলত একটি করে অ্যামাইনো অ্যাসিডকে কোড করে। A, G, T, C  এই চারটি বেস মিলে সর্ব্বোচ্চ ৬৪ টি কোডন তৈরী করতে পারে ( ৪<sup>৩</sup>), দেখা গেছে এর মধ্যে ৩টি ছাড়া বাকী ৬১ টি কোডন আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ২০টি অ্যামাইনো অ্যাসিডকে নির্দেশকারী সংকেত বহন করে (যেমন: স্তন্যপায়ী প্রানীদের GGU, GGC, GGA, GGG  এই চারটি কোডোন Glycine নামের একটি প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিডকে কোড করে)।</p>
<p>জীবকোষের নিউক্লিয়াসে ডিএনএ থেকে প্রথমে জেনেটিক তথ্যগুলো ( কোডোনের সিরিজ) ‌ঐ জীনটির নির্দিষ্ট A T G C  এর সিকোয়েন্স এর কম্প্লিমেন্টারী সিকোয়েন্সেটি কপি বা ট্রান্সক্রাইব হয় একটি নির্দিষ্ট RNA ‍ বা রাইবোজ নিউক্লিক এসিড এ ( যাকে বলে মেসেন্জার বা mRNA);  এই মেসেন্জার আরএনএ টি বেস সিকোয়েন্স এই জীনটি যে প্রোটিনের জেনেটিক সংকেত বহন করছে সেই প্রোটিনের অ্যামাইনো অ্যাসিডের অনুক্রমে সাজানো। এটি তারপর কোষের সাইটোপ্লাজমের রাইবোজোমে আরো কিছু অ্যাডাপটার মলিকিউল, tRNA বা ট্রান্সপোর্ট RNA ,যারা আলাদা আলাদা ভাবে ( তাদের কোডনের কমপ্লিমেন্টারী অ্যান্টি কোডোনের অনুক্রম অনুযায়ী) একটি করে নির্দিষ্ট অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে এসে mRNA এর কোডটিকে ট্রান্সলেট কর একটার পর একটা অ্যামাইনো অ্যাসিড যোগ করে। ফলাফলে তৈরী হয় একটি নির্দিষ্ট প্রোটিন।</p>
<p>কোন কারনে যদি ডিএনএ কোডনের কোন বেস এর পরিবর্তন হয়, তাহলে সেই কোডন দ্বারা নির্দেশিত অ্যামাইনো এসিডেও পরিবর্তন আসে, অর্থাৎ প্রোটিনেও যে অবস্থানে অ্যামাইনো অ্যাসিডটি ছিল সেখানেও পরিবর্তন আনবে। বেস এর এই পরিবর্তনকেই বলে মিউটেশন। অনেক ধরনের মিউটেশন হতে পারে। কোন কোন সময় এই পরিবর্তন,এটি যে প্রোটিনের অংশ, তার কোন সমস্যা করেনা। আমাদের রক্তের লোহিত রক্ত কনিকার মধ্যে থাকা প্রোটিন, হিমোগ্লোবিনের (Hb) এর উদহারন দেয়া যাতে পারে (হিমোগ্লোবিনের প্রধান কাজ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে শরীরের কোষগুলোতে পৌছে দেয়া এবং কোষের কার্বন ডাই অক্সাইডকে ফুসফুসে নিয়ে আসা):  পুর্নবয়স্ক মানুষের শরীরের হিমোগ্লোবিন এর  বিটা চেইনে, ৬১ নং অ্যামাইনো অ্যাসিডটি হলো লা্‌ইসিন (Lysine) , যার কোডোন AAA কিংবা AAG হতে পারে। কিন্তু কোন কারনে যদি মিউটেশন হয়, যা এর শেষ বেসের পরিবর্তন করে, যেমন কোডনটি AAU বা AAC এ পরিবর্তিত হয়, তখন সেখানে লাইসিনের বদলে হয় যোগ হয় অ্যাসপারাজীন (Asparagine) নামের আরেকটি অ্যামাইনো অ্যাসিড ; জাপানে কিছু মানুষের মধ্যে পাওয়া এই ধরনের মিউটেশনের ফলে সৃষ্ট Hikari  হিমোগ্লোবিন পাওয়া গেছে, এটি কোন সমস্য করেনা প্রোটিনটির কাজের ক্ষেত্রে। আবার  যদি Hb এর একই চেনে ৬ নং অ্যামাইনো অ্যাসিড গ্লুটামেট (Glutamate) এর জায়গায় ভ্যালাইন (Valine) এসে বসে ( কোডোন GAA থেকে GUA বা  GAG থেকে GUG পরিবর্তনের কারনে, মাত্র মধ্যের একটি বেসের পরিবর্তন) তাহলে যে Hb তৈরী হয়, তাকে বলে HbS, যা Sickle Cell Anemia নামের একটি অসুখ করে, এটি অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয় ঠিকই কিন্তু যখনই অক্সিজেনের টেনশন কমে যায় এটি একটি ক্রিষ্টাল গঠন করে লোহিত রক্ত কনিকার আকৃতি পরিবর্তন করে ফেলে। এই মিউটেশন এর বাহককে না মেরে ফেললেও এটি রক্তশুন্যতার কারন হয়।  কিন্তু  যে মিউটেশন একেবারে সহ্য করা যায় না তা হলে যদি Hb এর বিটা চেইনে ৫৮ নং পজিশনে হিস্টাইডিন এর (Histidine)  বদলে টাইরোসিন (Tyrosine) বলে একটি অ্যামাইনো অ্যাসিড বসে পড়ে (কোডোন CAU থেকে UAU বা  CAC থেকে UAC পরিবর্তনের কারনে, মাত্র প্রথম বেসের পরিবর্তন), তখন যে Hb অনুটি তৈরী হয়, যাকে Hb M (Boston) বলা হয়, এটি হিমোগ্লোবিনের মধ্যে যে Fe<sup>+2</sup> বা আয়রনের অনুটি থাকে তাকে অক্সিডাইজ করে Fe<sup>+3 </sup> রুপান্তরিত করে, যা অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হতে পারেনা, তৈরী করে মেথহিমোগ্লোবিন। হিমোগ্লোবিন হিসাবে এটি কোন কাজ করতে পারেনা); এ ক্ষেত্রে মিউটেশনটির ফলাফল ভয়ঙ্কর। মিউটেশন জিনের  (প্রোটিন কোড করা অনুক্রমের) বাইরেও হতে পারে যেমন যেখানে ‍কাছাকাছি কোন জীন রেগুলেট করার কোন জীন আছে।</p>
<p>এবার ফিরে যাই মুল লেখায়।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">শিম্পান্জির জীনোম:</span></p>
<p>২০০৩ সালে একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল সাধারন শিম্পান্জির (<em>Pan troglodytes</em>) জীনোমের এর ডিএনএ বেস বা লেটারস’ এর অনুক্রম বা সিকোয়েন্স নির্নয়ের কাজ শুরু করেন। সেই টীমের একজন বায়োস্ট্যাটিষ্টয়ান হিসাবে ক্যাটি পোলার্ড এর প্রধান পরিকল্পনা ছিল, ইতিমধ্যে সিকোয়েন্স হয়ে যাওয়া মানুষের জীনোম এর সাথে জীবজগতে আমাদের সবচেয়ে নিকটাত্মীয় শিম্পান্জির জীনোমের একটি তুলনামুলক পর্যালোচনা করা। প্রথমেই যে তথ্যটা পাওয়া গেল তা মানুষ হিসাবে আমাদের দর্পচুর্ণ করার জন্য যথেষ্ট। শিম্পান্জিদের জীনোমের সাথে আমাদের জীনোমের হুবুহু মিল প্রায় ৯৯ শতাংশ। এর অর্থ হচ্ছে যে তিন বিলিয়ন বেস বা লেটার যা আমাদের জীনোম তৈরী করেছে, তার মাত্র ১৫ মিলিয়ন , আসলে শতকরা ১ ভাগেরও কম –পরিবর্তিত হয়েছে  মোটামুটি গত ৬ মিলিয়ন বছরে, মানুষ আর শিম্পান্জিদের লিনিয়েজ বা বংশ ধারা পৃথক হবার পর।</p>
<p>যদিও জীববিজ্ঞানীরা মনে করেন বেশী ভাগ পরিবর্তনই আমাদের জীববিজ্ঞানে খুব সামান্য বা হয়তো কোন প্রভাবই ফেলেনি। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে ,এই ১৫ মিলিয়ন বেস এর কোথাও না কোথাও কিছু পার্থক্য আছে যা আমাদের মানুষ হিসাবে বিবর্তনের ক্ষেত্রে ভুমিকা পালন করেছে। ক্যাটি পোলার্ড বদ্ধপরিকর ছিলেন, এই ভিন্ন ১৫ মিলিয়ন বেসের অনুক্রমে তিনি সেই বিশেষ অনুক্রমগুলো খুজে দেখবেন যা আমাদের সাথে শিম্পান্জির পার্থক্যর খানিকটা ব্যাখ্যা দিতে পারে ; পরবর্তীতে পোলার্ড এবং আরো বেশ কয়েকটি টিম মানুষ এবং শিম্পান্জিকে থেকে আলাদা করে এমন সম্ভাব্য বেশ কিছু ডিএনএ অনুক্রম শনাক্ত করার ক্ষেত্রে বেশ খানিকটা এগিয়ে গিয়েছেন। তবে স্পষ্টতই এটি তুলনামুলক জীনতত্ত্বের  কেবল শুরু মাত্র।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">একটি আগাম বিস্ময়:</span></p>
<p>এই এক শতাংশ যদিও মানুষের পুরো জীনোমের খুবই ক্ষুদ্র একটা অংশ, তারপরও এর কয়েক মিলিয়ন বেস এ পার্থক্য খোজা খুব সহজ কোন কাজ না, কারন খোজার জায়গাটা কিন্তু একেবারে ছোট না। এই খোজার কাজটিকে খানিকটা সহজ করতে ক্যাটি পোলার্ড একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম লেখেন, যার কাজ হলো, কমন একটি পুর্বপুরুষ থেকে মানুষ এবং শিম্পান্জি লিনিয়েজ বা বংশধারা পৃথক হবার পর মানুষের জীনোমে ডিএনএ এর যে অংশগুলো, সবচেয়ে বেশী পরিবর্তিত হয়েছে, সেই অংশগুলোকেই খুজে বের করা।</p>
<p>যেহেতু বেশীর ভাগ রানডোম মিউটেশনগুলো এর বহনকারী জীবের কোন উপকারেও আসেনা আবার ক্ষতিও করেনা, তারা একটা নির্দিষ্ট হারে জীনোমে জমা হতে থাকে আর এই মিউটেশনের হার বা রেট থেকে বিজ্ঞানীরা পরিমাপ করতে পারেন, জীবিত কোন দুটি প্রানী তাদের একটি কমন পুর্বপুরুষ থেকে আলাদা লিনিয়েজে পৃথক হবার পর, এর মাঝে মোটামুটি কতটা সময় পার হয়েছে ( এই পরিবর্তনের হারটাকে অনেক সময় ’মলিক্যুলার বা আনবিক ঘড়ির টিকটিক’ করাকে বোঝানো হয়); আবার এই ধরনের মিউটেশনের ঠিক বীপরিত  হচ্ছে, জীনোমে কোন কোন অংশের খুব দ্রুত পরিবর্তন, যা পজিটিভ সিলেকশন বা ধনাত্মক নির্বাচনের এর একটি গুরুত্বপুর্ন চিহ্ন, এ ক্ষেত্রে এই মিউটেশনগুলো এর বাহক জীবকে এই মিউটেশন বহন করেনা এমন কোন জীব অপেক্ষা বেচে থাকার সংগ্রামে ও প্রজনন সাফল্যে বাড়তি কিছু সুবিধা প্রদান করে।</p>
<p>সুতরাং এই প্রেক্ষাপটে ব্যাপারটা ‍অন্যভাবে বলা যায়, শিম্পান্জি এবং মানুষ তাদের কমন আদিপ্রানী থেকে আলাদা দুটি লিনিয়েজে পৃথক হবার পর, আমাদের জেনেটিক কোডের যে অংশগুলো সবচেয়ে বেশী পরিবর্তিত হয়েছে, ডিএনএ র সেই অনুক্রমগুলোই বিজ্ঞানীরা মনে করছেন মানবজাতিকে তার অনন্য কিছু বৈশিষ্ট প্রদান করেছে।</p>
<p>নভেম্বর ২০০৪ সালে ক্যাটি পোলার্ডের প্রোগ্রামটিকে ,ডিবাগিং এবং অপটিমাইজেশন এর কাজ হবার পর, সান্তা ক্রজে ক্যার্লিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সুবিশাল একগুচ্ছ শক্তিশালী কম্পিউটারে চালানো হয়। প্রোগ্রামটি শিম্পান্জি এবং মানুষের জীনোম সিকোয়েন্সের তুলনামুলক প্রাথমিক একটি অ্যানালাইসিস করে সবচেয়ে পরিবর্তিত হওয়া জীনোম সিকোয়েন্সের একটি ক্রমবিন্যস্ত তালিকা তৈরী করে;</p>
<p>পোলার্ড এবং তার মেন্টর ডেভিড হাউসলার যখন এই সিকোয়েন্সগুলোর তালিকাটা হাতে নেন, এর শীর্ষে তারা সবচেয়ে বেশী পরিবর্তিত সিকোয়েন্সটা  খুজে পান। সেটি হলো ডিএনএ র ১১৮ টি বেস এর একটি সেগমেন্ট, যার নাম পরবর্তীতে তারা দেন <strong>H</strong>uman <strong>A</strong>ccelerated <strong>R</strong>egion 1 ( বা সংক্ষেপে HAR1);</p>
<p>সান্তা ক্রজের ক্যার্লিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জীনোম ব্রাইজার (যা আসলে একটা ভিজুয়ালাইজেশন টুল, পাবলিক ডাটাবেস থেকে বিভিন্ন গবেষনার তথ্য নিয়ে হিউম্যান জীনোমের নানা সেগমেন্টকে ব্যাখ্যা বা প্রয়োজনীয় নোট যুক্ত করে পরিবেশন করে) ব্যবহার করে পোলার্ড HAR1 এর সিকোয়েন্স সম্বন্ধে কোন তথ্য আছে কিনা খোজার প্রক্রিয়া শুরু করেন। ব্রাউজারটি মানুষ, শিম্পান্জি ,মুরগী, ইদুর – যে সব মেরুদন্ডী প্রানীদের জীনোম সিকোয়েন্স ইতিমধ্যে করা হয়ে গেছে,তাদের প্রত্যেকের HAR1 সিকোয়েন্সটি কম্পিউটার স্ক্রিনে নিয়ে আসে। আরো তথ্য পাওয়া যায় যে এর আগে আরেকটি বড় স্ক্রিনিং এর সময়  HAR1 সিকোয়েন্সটি পাওয়া গেছে দুই ধরনের মানুষের মস্তিষ্ক কোষে। যদিও কোন বিজ্ঞানী এই সিকোয়েন্টটির নাম বা এটির কাজ নিয়ে কোন গবেষনা করেননি তখন পর্যন্ত।</p>
<p>ব্যাপারটা পোলার্ড ও তার মেন্টরের জন্য সেই বিখ্যাত ইউরেকা মুহুর্ত।</p>
<p>তারা এমন একটি অনুক্রম খুজে পেয়েছেন যা খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে মানুষ এবং শিম্পান্জির লিনিয়েজ আলাদা হবার পরে এবং এই অনুক্রমটি খুব সম্ভবত বিজ্ঞানীদের কাছে নতুন এমন একটি জীনের অংশ, যা সক্রিয় হয় মস্তিষ্কে।</p>
<p>মানুষের  মস্তিষ্ক, শিম্পান্জি মস্তিষ্কর তুলনায় আয়তনে, আকারে, গঠনগত এবং কার্যগত জটিলতা ও আরো অনেক বৈশিষ্টের ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। কিন্তু যে ডেভলপমেন্টাল আর বিবর্তনের প্রক্রিয়ায় উদ্ভুত যে জটিলতাটি মানুষের মস্তিষ্ককে আর অন্য যে কোন প্রানী থেকে আলাদা করেছে, সেই প্রক্রিয়াটা এখনো পুরোপুরি বোঝা সম্ভব হয়নি। তবে পোলার্ড মনে করছেন মানব জীববিজ্ঞানের এই রহস্যময় দিকটিকে আলোকপাত করার মত যথেষ্ট ক্ষমতা আছে এই HAR1 সিকোয়েন্সটির।</p>
<p>২০০৫ সাল পোলার্ড পুরো সময়টা ব্যায় করে HAR1  এর বিবর্তনীয় ইতিহাস খুজতে। এই HAR1 অনুক্রমটির সাথে তারা তুলনা করেন আরো অনেক প্রানীর অনুরুপ অনুক্রমের সাথে, এর মধ্যে ছিল আরো নতুন ১২ টি প্রজাতির মেরুদন্ডী প্রানী, যাদের জীনোম সিকোয়েন্স করা ছিল। এই তুলনামুলক অ্যানালাইসিসে পোলার্ড দেখেন যে, মানুষের আগমনের আগ পর্যন্ত HAR1 সিকোয়েন্সটি বিবর্তিত হয়েছে খুবই ধীরে ধীরে। যেমন চিকেন বা মুরগী আর শিম্পান্জি, কমন আদিপ্রানী থেকে যারা দুটি পৃথক লিনিয়েজে বিভক্ত হয়েছে আনুমানিক প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছর আগে, দেখা যাচ্ছে এই দীর্ঘ সময়ে এই দুটি প্রানীর HAR1 সিকোয়েন্সের মধ্যে পার্থক্য ১১৮ টি বেসের মধ্যে মাত্র ২ টি বেসে, অথচ দেখা যাচ্ছে মানুষ ও শিম্পান্জির জীনোমের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য  মোট ১৮টি বেসে, যাদের লিনিয়েজ বিভাজনের সময়কাল অপেক্ষাকৃতভাবে অনেক সাম্প্রতিক।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/25-12-2011-4-16-49-pm2.jpg"><img class="alignnone  wp-image-1761" title="25-12-2011 4-16-49 PM" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/25-12-2011-4-16-49-pm2.jpg?w=637&#038;h=1044" alt="" width="637" height="1044" /></a><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/25-12-2011-4-16-49-pm1.jpg"><br />
</a>ছবি: মানুষ, শিম্পান্জি  এবং মুরগীর জীনোমে HAR1 এর একটি তুলনামুলক চিত্র <a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/25-12-2011-4-16-49-pm1.jpg"><br />
</a></p>
<p>HAR1 যে দীর্ঘ সময়, বহু মিলিয়ন বছর ধরে অপরিবর্তিত থেকেছে, এই বিষয়টা ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই বেস অনুক্রমটি যে জীনের অংশ, সেই জীনটির নিশ্চয়ই খুব গুরুত্বপুর্ন কিছু কাজ আছে এবং এ কারনে বিবর্তন প্রক্রিয়া একটি দীর্ঘ সময় ধরে এটি রক্ষা করেছে। এবং শিম্পান্জি থেকে মানুষের লিনিয়েজ আলাদা হবার পর HAR1 সিকোয়েন্সে যে যথেষ্ট পরিমান পরিবর্তন ঘটেছে, সেই বিষয়টিও আবার প্রস্তাব করছে, নিশ্চয়ই এই পরিবর্তিত অংশটির কাজও মানুষের  লিনিয়েজে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।</p>
<p>২০০৫ সালে আমাদের মস্তিষ্কে HAR1 এর ভুমিকার একটি গুরুত্বপুর্ন ক্লু খুজে পান ক্যাটি পোলার্ড এর সহযোগী বেলজিয়ামের ব্রাসেলস এর ফ্রি ইউনিভার্সিটির পিয়ের ভ্যানডেরহিগেন তার গবেষনায়। সান্টা ক্রজে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব থেকে তিনি HAR1 ডিএনএ অনুক্রমের এর কপির একটি ভায়াল  তিনি সংগ্রহ করেছিলেন। এই ডিএনএ অনুক্রম কে ব্যবহার করে ফ্লোরেসেন্স (অবিবেগুনী রশ্মির ফিল্টার ব্যবহার করে মাইক্রোস্কোপের নীচে দেখবার জন্য) মলিকিউলার ট্যাগ ডিজাইন করেন, যেন যখনই HAR1 সিকোয়েন্স সহ জীনটি কোন জীবিত কোষের মধ্যে সক্রিয় হবে ( অর্থাৎ ডিএনএ থেকে আরএনএ তে কপি হবে) ,এই ট্যাগটিকেও আল্ট্রাভায়োলেট লাইটের নীচে শনাক্ত করা যাবে।</p>
<p>সাধারনত যখন কোষের কোন একটি জীন সুইচ অন বা সক্রিয় হয়, কোষ প্রথমে তার জীনের ডিএনএ সিকোয়েন্সটাকে কপি করে মেসেন্জার আরআনএ তৈরী করে। মেসেন্জার আরআনএ (mRNA) একটি মোবাইল অনু। নিউক্লিয়াস থেকে সাইটোপ্লাজমে এসে এটি সেই জীনটির নির্দেশিত প্রয়োজনীয় প্রোটিন অনুটি তৈরী করে। এই বিশেষ ফ্লোরেসেন্স ট্যাগিং এর কারনে পিয়ের যেটা দেখতে পান তা হলো HAR1 সিকোয়েন্সটি  মস্তিষ্কের বিশেষ একধরনের নিউরোন বা স্নায়ুকোষে ( Cajal-Retzius cell) সক্রিয় হয় যারা আমাদের মস্তিষ্কের কুচকানো , বহুমাত্রায় ভাজকরা উপরিভাগটি, যাকে বলে সেরেব্রাল কর্টেক্স, তার নকশা বা প্যাটার্ন এবং এর সজ্জা বা লেআউটটা কেমন হবে সেটা নিয়ন্ত্রনে কেন্দ্রীয় ভুমিকা পালন করে। যখন এই নিউরোনগুলো কোন মিউটেশন জনিত সমস্যায় হলে  ফলাফল হতে পারে ভয়াবহভাবে মারাত্মক। যেমন একটি কনজেনিটাল বা জন্মগত রোগ যা পরিচিত লিসেনসেফালী ( Lissencephaly বা Smooth brain) র ক্ষেত্রে, যেমন দেখা যায় এই্ রোগীদের মস্তিষ্কে সুস্থ্য  মানুষের মস্তিস্কের উপেরিভাগে সাধারণত যে বৈশিষ্টমুলক ফোল্ড বা ভাজ এবং খাজ দেখা যায় তা থাকে না, এই ভাজগুলো আসলে কর্টেক্স এর পৃষ্ঠদেশের হুগুনে আকার বাড়িয়ে দেয়, স্বভাবতঃই স্নায়ুকোষের সংখ্যাও থাকে বেশী। লিসেনসেফালীর রোগীদের মস্তিষ্কের কর্টেক্সের পৃষ্ঠদেশের ক্ষেত্র বা সারফেস এরিয়া অনেক কমে যায়। এছাড়া অন্য একটি টীম এই নিউরোনগুলোর সমস্যার সাথে প্রাপ্তবয়ষ্কদের সিজোফ্রেনিয়া রোগের সুত্রপাত হবার যোগসুত্রতা খুজে পেয়েছেন।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/untitled.jpg"><img class="alignnone  wp-image-1763" title="untitled" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/untitled.jpg?w=637&#038;h=215" alt="" width="637" height="215" /><br />
</a>ছবি: প্রস্তাবিত  (বায়ে) ননকোডিং আরএনএ জীনের HAR1 অঞ্চল। মানুষের এই অনুক্রমে ১৮ টি নতুন বেস যুক্ত হয়েছে, যা শিম্পান্জির HAR1থেকে ভিন্ন ( হাইলাইট করা অংশগুলো)। মানুষের ক্ষেত্রে এই সম্ভাব্য RNA গঠন দেখলে দেখা যাচ্ছে একটি RNA হেলিক্স বিশেষভাবে দীর্ঘাকৃতির। (মধ্যে) মস্তিষ্কের নিওকর্টেক্স বিকাশের সময়কালীন একটি স্কীমাটিক ডায়াগ্রাম। স্নায়ুকোষ (গাঢ় সবুজ) গ্লীয়াল (মস্তিষ্কের সহযোগী কোষ) কোষের কাঠামো ( নীল রং এর), যারা পুরো কর্টেক্স এর প্রস্থজুড়ে, কর্টেক্সের ব্যাসাল ল্যামিনা (BL) থেকে ভেন্ট্রিকুলার (VZ) জোন পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে); স্নায়ুকোষগুলো এই কোষগুলোর সাপোর্ট বরাবর ভেন্ট্রিকুলার (VZ) জোনে মাইগ্রেট করে মধ্যবর্তী স্নায়ুকোষের রজ্জু সমৃদ্ধ ইন্টারমিডিয়েট জোন (IZ) অতিক্রম করে। এটা ধীরে ধীরে কর্টিক্যাল প্লেটটি (CP) তৈরী করে । কাজল-রেটজিয়াস কোষ ( Cajal-Retzius কোষ) ( ‍গাঢ় লাল রং) যাদের এখানকার মার্জিনাল জোন (MZ) এ পাওয়া যায়, তারা একই সাথে HAR1 এবং প্রোটিন রিলিন (Reelin) প্রকাশ করে। বিজ্ঞানীরা এখনও সঠিক ভাবে HAR1 এখানে ঠিক কি কাজ করে বোঝার চেষ্টা করছেন, তবে রিলিন খুবই জরুরী, কর্টেক্স কে সঠিকভাবে স্তর বিন্যাস, সুংগঠন এবং কর্টিক্যাল প্লেট তৈরীতে  রিলিন এর ভুমিকা আছে। বিজ্ঞানী ধারনা করছেন HAR1 হয়ত রিলিন প্রোটিনের সাথে কোন একধরনের ইন্টারঅ্যাকশন আছে। (ডানে) মাউসের ক্ষেত্রে স্নায়ুকোষগুলো কর্টিক্যাল প্লেটে মাইগ্রেট করার পর ৬ টি সুবিন্যস্থ স্তরে সজ্জিত হয় (সবুজ); এটির নীচে থাকে একটি সাবপ্লেট (SP) এলাকা এবং এবং হোয়াইট ম্যাটারের একটি ব্যান্ড (WM); যে ইদুরের রিলিন প্রোটিন থাকে না এই স্তরগুলো থাকে এলোমেলো বা উল্টোকরে সাজানো সাবপ্লেটের (SP) এর বদলে থাকে সুপারপ্লেট (SuP)। ভবিষ্যতে আরো স্পষ্ট হবে কর্টেক্স গঠনে HAR1 এর ভুমিকা। (সুত্র: Cell 126, September 22, 2006)</p>
<p>সুতরাং সঠিক জায়গায় এবং সঠিক সময় HAR1 অনুক্রমটির সক্রিয় হওয়া, মস্তিষ্কে একটি সুস্থ্য ও কার্যকরী সেরেব্রাল কর্টেক্স গঠনে জরুরী (পরবর্তীতে আরো কিছু গবেষনার তথ্য জানাচ্ছে,  HAR1 এর বাড়তি একটি কাজ করে শুক্রানু উৎপাদনের সময়); কিন্তু ঠিক কিভাবে এই HAR1 এর জেনেটিক কোড আমাদের মস্তিষ্কের কর্টেক্স গঠনে সাহায্য করে সেই রহস্য এখনো অজানা। পোলার্ড সহ বেশ কটি টীম সেই প্রশ্নটির উত্তর এখনও খুজছে। গুরুত্বপুর্ন এই প্রশ্নটির উত্তর জানার আগ্রহ প্রায় সবারই, কারন HAR1 সিকোয়েন্সে বিবর্তন সময়ের পরিমাপে বেশ সাম্প্রতিক কিছু মিউটেশন আমাদের নিকটতম আত্মীয়দের তুলনায় আমাদের মস্তিষ্ককে বদলে দিয়ে অনেকখানি।</p>
<p>একটি অসাধারন বিবর্তন ইতিহাসের স্বাক্ষী ছাড়াও HAR1 একটু স্বতন্ত্র কারন এটি কোন প্রোটিনকে এনকোড বা প্রোটিন তৈরীর সংকেত বহন করেনা। গত কয়েক দশক জুড়ে আনবিক জীববিজ্ঞানীরা আমাদের কোষে প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরীর জেনেটিক তথ্যকে এনকোড করে এমন ধরনের জীনগুলো নিয়েই মুলত ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু হিউম্যান জীনোম প্রোজেক্টে, যা মানুষের পুরো জীনোমের বেসের অনুক্রম সম্পন্ন করেছে, তার কল্যানে বিজ্ঞানীরা এখন জানেন, আমাদের পুরো জীনোমের ডিএনএ র মাত্র শতকরা ১.৫ ভাগ প্রোটিন কোড করা জীন আছে, বাকী ৯৮.৫ ভাগে- যাকে মাঝে মাঝে Junk ডিএনএ বলা হয়ে থাকে- সেখানেও আছে অনেক গুরুত্বপুর্ন রেগুলেটরী সিকোয়েন্স বা যে অংশগুলো যা নিয়ন্ত্রন করে কোন জীন কখন,কোথায় এবং কিভাবে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় হবে। এবং এখানে কিছু জীন বা অনুক্রম আছে যা প্রোটিন না বরং আরএনএ (RNA) কে কোড করে, আর এই আরএনএ গুলো কোন প্রোটিন তৈরীর সাথে জড়িত না। এছাড়া ডিএনএ আরো বেশ কিছু অংশ যাদের কাজ এবং উদ্দেশ্য, বিজ্ঞানীরা ধীরে ধীরে বুঝতে কেবল বুঝতে শুরু করেছেন ।</p>
<p>HAR1 এর বেসের অনুক্রমের প্যাটার্ন দেখে  বিজ্ঞানীরা ধারনা করেছিলেন HAR1 সম্ভবত কোন আরএনএ কে কোড করে –সান্তা ক্রজের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সোফি সালামা, হেলান ইগেল এবং ম্যানুয়েল অ্যারেস, সর্বপ্রথম এই ধারনা করেছিলেন, পরবর্তীতে যা প্রমানিত হয়েছে ২০০৬ সালের একটি ল্যাবরেটরী পরীক্ষার মাধ্যমে। বিজ্ঞানীরা দেখলেন HAR1 সিকোয়েন্সটা আসলে থাকে, দুটো পাশাপাশি অবস্থিত জীনকে ওভারল্যাপ করে। এই দুই জীনের ভাগাভাগি বা শেয়ার করা HAR1 সিকোয়েন্সটি সম্পুর্ন নতুন ধরনের একটি আরএনএ তৈরী করে। এর আগে বিজ্ঞানীদের জানা ছিল ৬ শ্রেনীর আরএনএ জীনের কথা, এদের সাথে যোগ হয় HAR1 এর গ্রুপটি। ইতিপুর্বে জানা ৬ টি প্রধান আরএনএ জীন গ্রুপের  প্রায় ১০০০ এর বেশী বিভিন্ন পরিবারের আরএনএ জীন আছে, প্রত্যেকটি জীনই আলাদা করা সম্ভব তাদের কোড করা আরএনএর গঠন এবং কোষের ভিতর তাদের নির্দিষ্ট কাজ লক্ষ্য করে।</p>
<p>HAR1 হচ্ছে প্রথম আবিষ্কৃত আরএনএ কে কোড করা কোন সিকোয়েন্স এর উদহারন, যার ‍উপর বিবর্তনের পজিটিভ সিলেকশন কাজ করেছে। অনেকের কাছেই হয়তো ব্যাপারটা বিস্ময়কর মনে হতে পারে, আগে কেন তাহলে মানুষের জীনোমে এই চমক লাগানোর মত ১১৮টি বেস কারো নজরে পড়েনি? কিন্তু যে কোন দুটি প্রানীর পুরো জীনোম এর তুলনামুলক অ্যানালাইসিস করার প্রযুক্তি না আসার আগে আসলে কোন গবেষকের পক্ষেই বোঝা সম্ভব ছিলনা, এই HAR1 সিকোয়েন্সটি আর যে কোন Junk ডিএনএ র অংশের চেয়ে বেশী কিছু।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">ভাষা যখন ধাধার একটি টুকরা:</span></p>
<p>মানুষ এবং শিম্পান্জীরা জীনোমের দিক থেকে প্রায় হুবুহু হওয়া সত্ত্বেও, পুরো জীনোম তুলনা করার প্রক্রিয়াটি  শিম্পান্জি এবং মানুষের মধ্যকার ভিন্নতা বিষয়ে আরো বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ন ধারনা দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাজার হাজার প্রজাতির (যদিও বেশীর ভাগই অনুজীব)  জীনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখন বুঝতে পেরেছেন, জীনোমের মধ্যে কোথায় বেস পরিবর্তন হলো, এই বিষয়টা মোট কতগুলো বেস পরিবর্তন হলো তার চেয়ে বেশী গুরুত্বপুর্ন। অন্যভাবে বলা যেতে পারে, একটি নতুন প্রজাতি তৈরী করতে হলে জীনোমের খুব বেশী কিছু পরিবর্তন করার আসলে দরকার নেই। মানুষ-শিম্পান্জি কমন আদিপ্রানী থেকে মানুষ যেভাবে বিবর্তিত হয়েছে তা ’মলিকিউলার ঘড়ির টিক টিক’ করাটাকে দ্রুত বাড়ানো মাধ্যমে না বা জীনোমে দ্রুত অনেক রানডোম মিউটেশন জড়ো করা বা মোট সংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে ঘটে না। বরং সেই প্রক্রিয়াটি হলো জীনোমের এমন বিশেষ কিছু জায়গায় শুধু দ্রুত পরিবর্তন করা, যেখানে এই পরিবর্তনগুলো এর বাহক জীবের গঠন এবং কর্মপদ্ধতির মধ্যেও গুরুত্বপুর্ন পরিবর্তন আনবে।</p>
<p>সন্দেহ নেই HAR1 অবশ্যই এরকম একটি জায়গা, এছাড়াও আরেকটি জীন, FOXP2 (<strong>F</strong>orkhead B<strong>ox</strong> <strong>P</strong>rotein <strong>P2</strong>) এর মধ্যেও পোলার্ড খুজে পেয়েছেন দ্রুত পরিবর্তনশীল কিছু ‍মানুষ   নির্দিষ্ট অনুক্রম। এই জীনটি মুলত সংশ্লিষ্ট কথা বলতে পারার ক্ষমতার সাথে । ২০০১ সালে  কথা বলতে পারার ক্ষমতার সাথে এই জীনটার সম্পর্ক প্রথম খুজে পেয়েছিলেন ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তারা দেখেছিলেন এই জীনটিতে যদি কোন মিউটেশন হয় তাহলে সেই মিউটেশন যাদের মধ্যে থাকে তারা মানুষের স্বাভাবিক কথা বলার জন্য শব্দ উচ্চারনের ক্ষমতার জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কতগুলো সুনির্দিষ্ট সুক্ষ্ম, মুখের মাংশপেশীদের দ্রুতগতির মুভমেন্ট বা নাড়াচাড়া ব্যহত হয়।  এমনকি যখন তাদের ভাষা বোঝার ও ব্যবহার ( বা প্রসেস) করার মত কগনিটিভ ক্ষমতা থাকে।</p>
<p>FOXP2 বিবর্তন নিয়ে বিজ্ঞানীদের বিশেষ কৌতুহল ছিল জীনটি আবিষ্কারের পর থেকেই। এই জীনটি মানুষের কথা বলার জন্য শব্দ তৈরী এবং ভাষার ব্যবহারের ক্ষমতার সাথে সংশ্লিষ্ট যা প্রথম দেখা গেছে একটি বৃটিশ পরিবারের সদস্যদের এই জীনের একটি কপির মিউটেশনের ফলে উদ্ভুত কথা এবং ভাষার ব্যবহার করতে না পারার সমস্যাটি গবেষকদের নজরে আসার পর। FOXP2 জীনোমের বেস অনুক্রম এবং এর সংকেত কৃত প্রোটিনটি অ্যামাইনো অ্যাসিড এর তুলনামুলক পর্য্যালোচনা করা হয়েছে মানুষ, শিম্পান্জি সহ অন্যান্য প্রাইমেট এবং বেশ কিছু স্তন্যপায়ী প্রানীদের মধ্যে। গবেষনায় দেখা গেছে এটি যে ৫ শতাংশ খুবই সামান্য পরিবর্তিত প্রোটিন আছে তাদের একটি, যা ইঙ্গিত করছে স্তন্যপায়ী প্রানীদের ক্ষেত্রে এটি খুব গুরুত্বপুর্ণ কিছু কাজের সাথে জড়িত। বিভিন্ন জনসংখ্যার মানুষেদের মধ্যে দেখা গেছে এই প্রোটিনটি মুলতঃ অপরিবর্তিত,অর্থাৎ আধুনিক মানুষের ক্ষেত্রে জীনটি অনুক্রম স্থির একটি অবস্থায় পৌছেছে।প্রায় ৭০ মিলিয়র বছর আগে মানুষ এবং ইদুরের লিনিয়েজ আলাদা হবার পর অনুক্রমের যে পরিবর্তন হয়েছে মানুষের মধ্যে সেটি মাত্র তিনটি অ্যামাইনো অ্যাসিডের পরিবর্তন ঘটিয়েছে,এর মধ্যে ২টি অ্যামাইনো অ্যাসিডের পরিবর্তন শুধুমাত্র মানুষের মধ্যে দেখা যায়, শিম্পান্জি, গরিলা বা ওরাং উটানের মধ্যে নয়। অর্থাৎ বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন এই পরিবর্তনটি মানুষ শিম্পান্জি আলাদা ( প্রায় ৪-৬ মিলিয়ন বছর আগে) লিনিয়েজ হবার পরই ঘটেছে। FOXP2 জীনের মিউটেশন ফলে এই দুটি মানুষ নির্দিষ্ট অ্যামাইনো অ্যাসিড পরিবর্তন  প্রোটিনটির  কাজের ‍উপর প্রভাব ফেলেছেও।তবে এখনও প্রমান করা বাকী যে মানুষের  এই জীনটি আধুনিক মানুষের কথা বলা এবং ভাষার ব্যবহার করার ক্ষমতার সাথে ঠিক কিভাবে এই জীনটি জড়িত।</p>
<p>ইতিপু্র্বে উল্লেখ করা হয়েছে, মানুষের এই জীনটির সিকোয়েন্স এর সাথে শিম্পান্জির জীনের বেশ কিছু পার্থক্য আছে, মানুষের এই সিকোয়েন্সে  এক জায়গায় দুটি বেস ভিন্ন, ফলে এটি যে প্রোটিনকে তৈরী করে সেটাও খানিক ভিন্ন, এছাড়া আরো বেশ কিছু বেস ভিন্ন বা সাবস্টিটিউশন আছে যা ধারনা করা হচ্ছে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে তা  প্রভাব ফেলে, যেমন, মানুষের শরীরে কিভাবে, কখন এবং কোথায় এর প্রোটিন প্রোডাক্টটি কাজ করবে। কিছু সাম্প্রতিক আবিষ্কারের ফলাফলের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা খানিকটা বুঝতে পেরেছেন হোমিনিডদের মধ্যে কখন, আমাদের কথা বলার ক্ষমতা দেয়া FOXP2 জীনের সেই সংস্করনটা উদ্ভুত হয়েছে । ২০০৭ সালে জার্মারীর লাইপজিগে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইন্সস্টিটিউট ফর ইভ্যুলশনারী অ্যানথ্রোপলজীর গবেষকরা একটি নিয়ানডার্থাল ফসিল থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে FOXP2 জীনটা সিকোয়েন্স করেন এবং দেখেন যে এই বর্তমানে বিলুপ্ত (ধারনা করা হয় প্রায় ২৫০০০ থেকে ৩০০০০ বছর আগে নিয়ানডার্থালরা বিলুপ্ত হয়েছে)নিয়ানডার্থাল হমিনিডদের  আধুনিক মানুষদের FOXP2 জীনের ভার্সনের মত একটি তাদেরও এই FOXP2 জীনটি আছে, হয়তো জীনটি তাদেরকেও আমাদের মত শব্দ উচ্চারণ করা ক্ষমতা দিয়েছিল। মোটামুটি কখন নিয়ানডার্থাল <em>(Homo neanderthalensis)</em> আর আধুনিক মানুষ <em>(Homo sapiens)</em> এর লিনিয়েজ পৃথক হয়েছিল তার সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী প্রায় অর্ধ মিলিয়ন বছর আগে FOXP2 জীনটির একটি নতুন রুপ উদ্ভব হয়েছিল এই দুই প্রজাতির মধ্যে।</p>
<p>কিন্তু অন্য যে কোন প্রজাতির উচ্চারিত শব্দের মাধ্যমে ভাবে আদান প্রদান বা ভোকাল কমিউনিকেশন এর সাথে মানুষের ভাষার যে পার্থক্য তার প্রধান কারন শব্দ উচ্চারন করার শারীরিক বা অ্যানাটমিক্যাল ক্ষমতাই শুধু না বরং আমাদের ভাষা ব্যবহার করার কগনিটিভ ক্ষমতা। আর কগনিটিভি ক্ষমতার অনুপাত প্রায়শই সংযুক্ত আমাদের মস্তিষ্কের আয়তনের সাথে। দেখা গেছে প্রাইমেটদের সাধারনত তাদের শরীরের তুলনায় মস্তিষ্কের যে আয়তন  হবার কথা,তার চেয়ে বড় হয় তাদের মস্তিষ্কের আয়তন। কিন্তু আদিপ্রানী থেকে শিম্পান্জি থেকে মানুষের লিনিয়েজ পৃথক হবার পর থেকে মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন বেড়েছে প্রায় ৩ গুন &#8211; এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির রহস্যর জট খোলার প্রক্রিয়াটা জীনতত্ত্বের গবেষকরা কেবল শুরু করেছেন।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">মানুষের <em>APSM</em><em> </em>জীনের বিবর্তন:</span></p>
<p>মানুষ এবং অন্য প্রানীদের মস্তিষ্কর আয়তনের সাথে সম্পর্কযুক্ত যে জীনটি সবচেয়ে বেশী গবেষনা করা হয়েছে সেটি হলো ASPM (<strong>A</strong>bnormal <strong>Sp</strong>indle-like, <strong>M</strong>icrocephaly-associated)। মাইক্রোসেফালীতে আক্রান্ত রোগীদের-যে রোগে আক্রান্ত রোগীদের ব্রেইনের আয়তন  সাধারণত প্রায় ৭০ শতাংশ কমে যায়-‍উপর গবেষনা করে বিজ্ঞানীরা ASPM সহ ৩ টি জীন খুজে পান আমাদের জীনোমে, MCPH1, CDK5RAP2 এবং CENJP, যারা মস্তিষ্কের আয়তনকে নিয়ন্ত্রন করার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ভুমিকা রাখতে পারে।</p>
<p>হিসাব করলে দেখা যায় যে মোটামুটি ২ মিলিয়ন বছর ধরে ( যা প্রায় ০.২ থেকে ০.৪ মিলিয়ন বছর আগে শেষ হয়েছে) আমাদের নিকটাত্মীয় শিম্পান্জির তুলনা আমাদের মস্তিষ্কর প্রায় তিনগুন আয়তনে বেড়েছে। মনে করা হয় মস্তিষ্কের এই বিবর্তনীয় বৃদ্ধি মানুষের ভাষার ব্যবহার সহ আরো কিছু গুরুত্বপুর্ন উচ্চ পর্যায়ের কগনিটিভ ক্ষমতার জন্য উদ্ভবের জন্য গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রেখেছিল। প্রায় ২ থেকে ২.৫ মিলিয়ন বছর আগের ৪০০-৪৫০ গ্রাম ওজনের মস্তিষ্কটির বেড়ে প্রায় ১৩৫০ -১৪৫০ গ্রামে পৌছেছে প্রায় ০.২ থেকে ০.৪ মিলিয়ন বছর আগেই। বিবর্তনের সময় কাঠামোর প্রেক্ষিতে এই দ্রুত বৃদ্ধির কারন আসলে কি? অ্ভিযোজনীয় সিলেকশনের কিছু ব্যাখ্যা থাকলে জেনেটিক ব্যাখ্যা এখনও খানিকটা দুরে। যে মিউটেশনের কারনে মস্তিষ্কের আকার ছোট হয়, সেই মাইক্রোসেফালী গবেষনাই  চিহ্নিত করেছে<em> </em><em>APSM</em> জীন। দেখা গেছে জীনটিতে মোট চারটি মিউটেশন যা সুস্থ ক্রোমোজোমে দেখা যায় না, কিন্তু তারা মাইক্রোসেফালী রোগীদের মধ্যে বিদ্যমান।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/25-12-2011-4-32-33-pm.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1765" title="25-12-2011 4-32-33 PM" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/25-12-2011-4-32-33-pm.jpg?w=490&#038;h=715" alt="" width="490" height="715" /></a></p>
<p>ছবি: মস্তিষ্কের গঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট জীনোম সিকোয়েন্স।</p>
<p>সম্প্রতি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যান আরবরের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখিয়েছেন প্রাইমেটদের বিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে ASPM এর জীন সিকোয়েন্সে বেশ কয়েকবারই বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে যে প্যাটার্নটা ইঙ্গিত করছে পজিটিভ সিলেকশন এর। শিম্পান্জির লিনিয়েজ থেকে আলাদা হবার পরএই জীনে অন্ততপক্ষে একটি বড় পরিবর্তন ঘটেছে মানুষের লিনিয়েজে, আমাদের আকারে আয়তনে বড় মস্তিষ্ক বিবর্তিত হবার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি সম্ভাব্য গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রেখেছে। যেহেতু পজিটিভ সিলেকশন জীণ পর্যায়ে প্রভাব ফেলবে তখনই যখন জীনটির কাজ পরিবর্তন হবে এবং সেই পরিবর্তনটি এর বাহক জীবের ফিটনেস (সারভাইভাল এবং প্রজননগত) বৃদ্ধি করবে, সেকারনেই বেশ কিছু বিজ্ঞানীর মতামত,  মানুষের ASPM জীনে কিছু কার্য্যগত অভিযোজনীয় পরিবর্তন এসেছে, যা মানুষের মস্তিষ্ক বিবর্তনের অন্যতম প্রধান ভুমিকা রেখেছে।</p>
<p>আমাদের জীনোমের অন্যান্য অংশও সম্ববত: পরোক্ষ ভাবে মানুষের বৈশিষ্টপুর্ণ মস্তিষ্ক বিবর্তনে সহায়তা করেছে। পোলার্ডের যে প্রোগ্রামটি  HAR1 শনাক্ত করেছিল, সেটি আরো ২০১ টি Human Accelerated Region (HAR) শনাক্ত করেছিল,যাদের বেশীর ভাগই কোন প্রোটিন বা এমনকি কোন আরএনএ কেও কোড করেনা (পোলার্ডের মতই কেমব্রিজের ওয়েলকাম ট্রাষ্ট স্যাঙ্গার ইন্সস্টিটিউট এ একই ধরনের গবেষনা অনেক একই HAR কে শনাক্ত করেছে)।; বরং দেখা যাচ্ছে এরা বেশীর ভাগই রেগুলেটরী বা নিয়ন্ত্রনকারী সিকোয়েন্স, যারা  কাছাকাছি অবস্থান করা জীনগুলো কখন সক্রিয় বা নিস্ক্রিয় হবে সেটা নিয়ন্ত্রন করে। বিজ্ঞানীরা  যে বিষয়ে বিস্মিত হয়েছেন সেটা হলো এই HAR সিকোয়েন্সের আশে পাশে প্রায় অর্ধেকের বেশী জীনগুলো মস্তিষ্কের বিকাশের প্রক্রিয়ায় এবং এর কাজের সাথে জড়িত । এবং FOXP2 এর বেলায় যেটা ঘটে, দেখা যায় এই জীনগুলোর মধ্যে অনেকগুলোর প্রোডাক্ট অন্য কোন এক বা একাধিক জীনকে নিয়ন্ত্রন করে।যদিও HAR সিকোয়েন্সগুলো আমাদের জীনোম সামান্য একটু অংশ জায়গা দখল করে,কিন্তু এই অংশগুলোতে  পরিবর্তন মানুষের মস্তিষ্ককে গভীরভাবে বদলে দিয়েছে বেশ অনেকগুলো জীনের নেটওয়ার্ককে প্রভাবিত করার মাধ্যেমে।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">MYH16</span></p>
<p>২০০৪ সালে পেনসিলভিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা আরো একটি পার্থক্য খুজে বের করেন,যা আমাদের মস্তিস্কের আকার কেন বড় হলো এই প্রশ্নের উত্তরের দীর্ঘ তালিকাটিকে আরো খানিকটা দীর্ঘতর করে।এখানেও জড়িত আমাদের প্রাইমেট আত্মীয়দের তুলনায় আমাদের জীনোমে পরিবর্তিত একটি জীন, MYH16।গবেষকরা বলছেন প্রায় ২.৪ মিলিয়ন বছর আগের এই জীনের একটি মিউটেশন আমাদের চোয়ালের মাংশর প্রধান প্রোটিনটি তৈরী করতে বাধা দেয়,ফলাফলে আমাদের চোয়ালের মাংশ বিবর্তিত হয় অন্য প্রাইমেটদের তুলনায় দুর্বল হিসাবে। খাদ্য চেবানোর যন্ত্র হিসাবে আমাদের চোয়ালের উপর এই মাংশটির প্রভাব কমে যাবার ফলে আমাদের মাথার খুলিও তার বড় হবার অন্যতম বাধা থেকে মুক্ত হয় এবং এটি আকারে বড় হবার প্রয়োজনীয় সুযোগ পায়।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/26-12-2011-1-18-17-pm.jpg"><img class="alignnone  wp-image-1767" title="26-12-2011 1-18-17 PM" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/26-12-2011-1-18-17-pm.jpg?w=637&#038;h=202" alt="" width="637" height="202" /></a></p>
<p>ছবি:  MYH16 জীনের এক্সোন ১৮ র  ডিএনএ সিকোয়েন্স। মানুষ এবং শিম্পান্জির বেস পার্থক্য।</p>
<p>গবেষকদের দাবী এই মিউটেশনের সময়টা খুব গুরুত্বপুর্ন। কারন বিশেষ করে এই সময়টার পরেই (প্রায় ২ মিলিয়ন বছর আগে)আমাদের পুর্বপুরুষদের মস্তিষ্কের আকার নাটকীয় ভাবে বাড়তে শুরু করে। প্রাইমেটদের (মানুষ ছাড়া)চোয়ালের মাংশ খুবই শক্তিশালী কারন এর প্রধান উপাদানটি তৈরী করে MYH16 নামের একটি জীন। যখন মানুষের জীনোমের সাথে বিজ্ঞানীরা শিম্পান্জি সহ মানুষ নয় এমন আরো প্রাইমেটদের এই জীনটি তুলনা করে দেখেন, দেখতে পান মানুষের এই জীনটিতে বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে যা এর কোড করা প্রোটিনটির গঠনও বদলে দিয়েছে। মলিকিউলার ক্লক ব্যবহার করে এই মিউটেশনের সময়কালও নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এরপর মানুষ এবং অন্য প্রাইমেটদের মাথার খুলি পরীক্ষা করে দেখেন। সব প্রাইমেটদের মাথার খুলির একটি বিশেষ জায়গা বা ক্রেস্ট খাকে যেখানে শক্তিশালী চোয়ালের মাংশ লাগানো থাকে। মানুষের খুলিতে এটি থাকে না অথচ গরিলা বা শিম্পান্জিদের সাথে আমাদের জেনেটিক সাদৃশ্য অনেক বেশী। আমাদের পুর্বপুরুষটা  সম্ভবত এই অ্যানাটমিক্যাল বৈশিষ্টটি হারিয়েছে যখন আমাদের চোয়ালের মাংশ দুর্বল হয়ে মাথার খুলির উপর তার চাপ কমিয়ে দিয়েছিল। মাংশ সাধারনতঃ আমাদের হাড়ের আকার নিয়ন্ত্রন করে তার শক্তি প্রয়োগের তারতম্যের মাধ্যমে। যেহেতু চোয়ালের মাংশর আকার ছোট হয়ে যাওয়ায় এর আর বেশী জায়গার প্রয়োজন হয়না, ফলে আমাদের মাথার খুলির হাড়গুলো স্বাধীনতা পেয়েছে আমাদের মস্তিষ্কের আকার বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে প্রয়োজনীয় জায়গা দিতে। বিজ্ঞানীরা এখন তাদের এই প্রস্তাবটির পক্ষে আরো প্রমান খুজছেন।<br />
<a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/26-12-2011-1-02-48-pm.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1768" title="26-12-2011 1-02-48 PM" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/26-12-2011-1-02-48-pm.jpg?w=490" alt=""   /><br />
</a>ছবি: উপরের ছবিতে (a-i) দেখানো হয়েছে (মানুষের টেম্পোরালিস  মাংশর Type II মাংশ তন্তুর আকার এবং আয়তন (মানুষের টেম্পোরালিস  মাংশ চোয়ালের যে হাড়ের সন্ধি আছে তার নিয়ন্ত্রন কারী একটি অংশ।(a-i) এই মাংশটি খুলির যেখানে লাগানো থাকে (লাল) সেই জায়গাটির তুলনা মুলক আকার ও গঠন তিনটি প্রজাতিতে ((M. fascicularis (a–c), Gorilla gorilla (d–f) and H. sapiens (g–i))) ।ম্যাকাক বানর এবং মানুষের টেম্পোরালিস মাংশটি মাইক্রোস্কোপের নীচে ((M. fascicularis ( j) and H. sapiens (k))), লালচে রং এর মাংশ তন্তু গুলোর আকারের তারতম্যই MYH16 জীনে মিউটেশনের ফলাফল।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/26-12-2011-1-07-44-pm.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1769" title="26-12-2011 1-07-44 PM" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/26-12-2011-1-07-44-pm.jpg?w=490&#038;h=569" alt="" width="490" height="569" /><br />
</a>ছবি: MYH16  জীনের বিচিত্রতা। নিউক্লিওটাইড বেস অনুক্রমের উপর ভিত্তি করে উপরের ডায়াগ্রামটি করা হয়েছে। d<sub>N </sub>এবং d<sub>S </sub>এর অনুপাত বোঝাচ্ছে N বা নন সিনোনিমাস বা একরকম অনুক্রম না এবং S বা সিনোনাইমাস ( একই রকম অনুক্রম এর অনুপাত ( জীনটির একটি নির্দিষ্ট এলাকায়); ডায়াগ্রাম প্যানেলের নীচে প্রায় ২.৪ মিলিয়ন বছর আগে d<sub>N </sub>এবং d<sub>S </sub>এর অনুপাত অনেক বেশী (যে সময় মানুষের MYH16 জীনটি সবচেয়ে বেশী পরিবর্তিত হয়েছে)।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">মস্তিষ্কের বাইরে: </span></p>
<p><span style="color:#ff0000;">HACNS1</span></p>
<p>যদিও জেনেটিক রিসার্চের বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মনোযোগ ছিল মানুষের গঠনএবং কার্য্যগতভাবে জটিল মস্তিষ্কের বিবর্তনের প্রক্রিয়াটি সন্ধান করা কিন্ত বিজ্ঞানীরা আমাদের শরীরের আরো বেশ কিছু অনন্য বৈশিষ্টগুলোই বা কেমন করে বিবর্তন হয়েছে সেই ধাধারও কিছু সমাধান জড়ো করেছেন ইতিমধ্যেই। এই ক্ষেত্রে একটি বড় উদহারন হচ্ছে HAR2 অনুক্রমটি। পোলার্ডের ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হওয়া জীন সিকোয়েন্স এর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল HAR2 সিকোয়েন্সটি। মুলত এটি একটি জীন নিয়ন্ত্রককারী অনুক্রম। ২০০৮ সালে লরেন্স বার্কলে ন্যাশনাল ল্যাবরেটরীর গবেষকরা দেখিয়েছেন মানুষের HAR2 সিকোয়েন্সের ( যা এখন আরেকটি নামেও পরিচিত HACNS1 বা Human-Accelerated Conserved Noncoding sequences )  সাথে মানুষ নয় এমন প্রাইমেটদের এই  সিকোয়েন্সের সাথে বেশ কিছু বেস পার্থক্য বিদ্যমান, যা মানুষের এই HACNS1 ডিএনএ অনুক্রমটিকে  ভ্রুণাবস্থায় আমাদের কব্জি এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি তৈরী জীনগুলোকে পরিচালিত করার উপযোগী করে। যে কাজটি অন্য পাইমেটদের মধ্যে পাওয়া আদি HACNS1 সংস্করণটি পারেনা। বিশেষ করে এই আবিষ্কারটি বিজ্ঞানীদের নতুন একটি ভাবনার জগত খুলে দেয়, কারন এই পরিবর্তনটি যা আমাদের বিশেষায়িত বৈশিষ্ট সম্পন্ন হাত, কব্জি এবং বৃদ্ধাঙ্গুলীর প্রয়োজনীয় ব্যাহ্যিক এবং প্রকৃতিগত কিছু গুরুত্বপুর্ণ পরিবর্তন ঘটিয়েছে। যে বিষয়টি মানুষের জটিল যন্ত্র বা টুল তৈরী আর ব্যবহার করতে পারা অসাধারন দক্ষতার কারন।</p>
<p>HACNS1 হচ্ছে সবচেয়ে একটি অন্যতম দ্রুত বিবর্তনশীল ডিএনএ এর কনসার্ভ নন-কোডিং অনুক্রম (কনসার্ভ মানে এই অনুক্রমটির অনুরুপ একই অনুক্রম বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে দেখা যায়, বিবর্তন প্রক্রিয়া এই অনুক্রমগুলোকে প্রায় অপরিবর্তিত থাকে, এবং নন কোডিং অর্থাৎ এই অংশগুলো কোন প্রোটিনকে কোড করেনা); যদিও মেরুদন্ডী প্রানীদের মধ্যে এর কোন পরিবর্তন না থাকলেও, মানুষের জীনোমে এটি ১৬ টি বেস পরিবর্তিত হয়েছে শিম্পান্জি থেকে মানুষের লিনিয়েজ আলাদা হবার পর ( প্রায় ৬ মিলিয়ন বছর আগে); ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের জীনতত্ত্ববিদ জিম নুনান এর টীম গবেষনায় দেখেছেন, এটি আসলে একটি এনহান্সার অনুক্রম যা অন্য বেশ কিছু জীনকে প্রভাবিত করে। ভ্রুণাবস্থায় এটিকে মুলত সক্রিয় দেখা যায় বিকাশমান লিম্ব বা হাত পায়ে। মোটামুটি স্পষ্ট এখন মানুষের ক্ষেত্রে এই বেস পরিবর্তনগুলো HACNS1 কে বাড়তি কিছু কাজ করার ক্ষমতা দিয়েছে। সেটি হচ্ছে আমাদের কব্জি এবং বৃদ্ধাঙ্গুলের প্যাটার্নের পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে এমন জীনগুলোকে সক্রিয় করা।</p>
<p>ট্রান্সজেনিক ইদুরের ভ্রুনের উপর গবেষনায় দেখা গেছে HACNS1 অনুক্রমটি এনহান্সার হিসাবে কাজ করে এবং এটি ভ্রুনটির সাড়ে এগারো দিনের দিন LacZ জীনটির এক্সপ্রেশন বাড়িয়ে দেয় প্রধানত বিকাশ হতে থাকা সামনের লিম্ব এ ( মানুষের যেমন হাত)এবং আরো কয়েকটি অংশে। (LacZ জীনটি জীনতত্ত্ববিদরা ব্যবহার করেন একধরনের রিপোর্টার জীন হিসাবে, কারন এটি একটি রিপোর্টার প্রোটিনকে সংকেত করে, আর যেহেতু এটি সব প্রানীর মধ্যে থাকেনা, কোন একটি জীন এনহান্সার বা প্রোমোটার অনুক্রম কাজ করছে কিনা এবং ভ্রুণের কোথায় কাজ করছে সেটি দেখার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। এর কোড করা প্রোটিন একটি রং হীন আরেকটি উপাদানের উপর কাজ করে নীল রং এর একটি উপজাত দ্রব্য তৈরী করে, এই রং দেখে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, এনহানসার বা প্রোমোটার সিকোয়েন্সটি কোথায় কাজ করছে); এর কিছু দিন পরে দেখা যায় HACNS1 অনুক্রমটি হাতের ও পায়ের  প্লেটে এ কাজ করছে, এবং প্রথম আঙ্গুলে (মানুষের ক্ষেত্রে যেটি বৃদ্ধাঙ্গুল); বিজ্ঞানীরা ধারনা করছেন এই অনুক্রমটিতে জমা হওয়া এই পরিবর্তনগুলো সম্ভবত মানুষের এই সুক্ষ এবং দক্ষতার সাথে যে কোন কাজ করার উপযোগী হাতের গঠন বিবর্তনে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রেখেছে।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/hacns1.jpg"><img class="alignnone  wp-image-1772" title="HACNS1" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/hacns1.jpg?w=637&#038;h=373" alt="" width="637" height="373" /></a></p>
<p>ছবি: উপরের ছবিতে মানুষের ক্ষেত্রে ১৬টি বেস পরিবর্তিত ও বিশেষায়িত হয়ে HACNS1 অনুক্রমটির অর্জন করেছে এনহান্সার হিসাবে কাজ করার ক্ষমতা। ট্রান্সজেনিক ইদুর ভ্রুণের (মানুষের জীনটি  ইদুরের ভ্রুনের জীনোমের সাথে যুক্ত করা হয়েছে) উপর গবেষনা করে দেখেছেন এটি কাজ করে সামনের লিম্ব ( আমাদের যেমন হাত) এবং অন্য কয়েকটি অংশে। ভ্রুণের সাড়ে ১৩ দিন বয়সে এটি সক্রিয় হয় হাতের ও পায়ের প্লেটে এবং পরে প্রথম আঙ্গুলে ( মানুষের যা বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং পায়ের বুড়ো আঙ্গুল); এই জীনটির শিম্পান্জি বা রেসাস বানরের সংস্করণবহন কারী ট্রান্সজেনিক ইদুরের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি সেভাবে ঘটছে না); <a href="http://www.yale.edu/noonanlab/HACNS1_files/HACNS1.jpg">ছবি সুত্র</a></p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/hacns1_synth.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1773" title="HACNS1_synth" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/hacns1_synth.jpg?w=490&#038;h=308" alt="" width="490" height="308" /></a></p>
<p>ছবি: HACNS1 এই বিশেষ ক্ষমতা অর্জনের আনবিক ভিত্তি মুলত ৮১টি বেস পেয়ার এলাকার একটি অনুক্রমে পরিবর্তিত ১৩ টি বেস পেয়ার। মানুষের পরিবর্তিত বেস গুলোকে উপরের ছবিতে লাল রং এ দেখানো হয়েছে। এই ১৩ টি পরিবর্তনই যথেষ্ঠ (A);  B প্যানেলে দেখা যাচ্ছে শিম্পান্জি জীনোমে এই পরিবর্তিত অংশটি যোগ করা হয়ে ট্রান্সজেনিক ইদুরেও এর প্রকাশ ঘটে; C প্যানেলে দেখা যাচ্ছে যদি এই পরিবর্তিত ১৩ টি বেশ সরিয়ে দেয়া যায়, এর প্রকাশের ধরনটাও বদলে যায়। <a href="http://www.yale.edu/noonanlab/HACNS1_files/HACNS1_synth.jpg">ছবি সুত্র</a></p>
<p><span style="color:#ff0000;">AMY1</span></p>
<p>আমাদের আদিপুরুষরা শুধু ফর্ম বা আকার আয়তনের ক্ষেত্রেই পরিবর্তিত হয়নি,তাদের আচরন এবং ফিজিওলজিক্যাল বা শারীরবৃত্তীয় বেশ কিছু বড়সড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছে। এই অভিযোজনীয় প্রক্রিয়াগুলো তাদের সাহায্য করেছে পরিবর্তিত পরিবেশ এবং পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে এবং মাইগ্রেশন এর মাধ্যমে নতুন কোন পরিবেশে তাদের বসতি গড়তে । উদহারন হিসাবে বলা যায়, আমাদের পুর্বপুরুষরা আগুনের ব্যবহার শিখেছে  প্রায় ১ মিলিয়ন বছরেরও আগে এবং কৃষি বিপ্লবের সুচনা ঘটেছে প্রায় ১০০০০ বছর আগে, যা বৃদ্ধি করেছিল বেশী পরিমান স্টার্চযুক্ত খাদ্যদ্রব্যগুলোর সহজপ্রাপ্যতা। কিন্তু আচরন বা সামাজিক পরিবর্তনগুলোই ( যেমন রান্না করার প্রক্রিয়া উদ্ভাবন) কিন্তু যথেষ্ট ছিল না এই উচ্চ ক্যালোরী নির্ভর খাবার উপযোগী খাদ্যগুলোকে ঠিকমত ব্যবহার করার জন্য। আমাদের পুর্বপুরুষরা এই খাদ্যগুলো ব্যবহার করার জন্য জীন পর্যায়েও  প্রয়োজনীয় অভিযোজন ক্ষমতাও অর্জন করেছিল।</p>
<p>যেমন AMY1 জীন, যা আমাদের মুখের লালার মধ্যে থাকা একটি গুরুত্বপুর্ন এনজাইম বা উৎসেচক Salivary amylase  কে কোড করে ( আমাদের লালায় এর পরিমান সমস্ত প্রোটিনের যা প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ); এই এনজাইমটি স্টার্চ ( যেমন ভাত) পরিপাক করা শুরু করে আমাদের মুখের ভেতর চেবানোর সময়। এই প্রক্রিয়াটি চলতে থাকে, খাদ্য আমাদের পাকস্থলী এবং পরে অন্ত্রে প্রবেশ করলে, তখন অগ্নাশয় থেকে আসা আরেকটি অ্যামাইলেজ বাকী পরিপাকের কাজটি শেষ করে। AMY1 জীনটি আমাদের পুর্বপুরুষদের উচ্চ স্টার্চ সম্পন্ন খাদ্যকে ব্যবহার করার অভিযোজন প্রক্রিয়ার একটি উদহারন। স্তন্যপায়ীদের জীনোমে এই জীনটি সাধারনত: একাধিক কপি থাকে, কিন্ত‍ু মানুষের ক্ষেত্রে এর কপি থাকে অনেকগুলো।</p>
<p>আসলেই আমাদের জীনোমের AMY1 জীন কপি নম্বরের বৈচিত্রতায় অন্যতম একটি অংশ। দুজন ব্যক্তির মধ্যে এর সংখ্যারও বিভিন্নতা আছে ( সাধারনত: ২ থেকে ১৫টি কপি থাকে)। যদি অন্য প্রাইমেটদের সাথে তুলনা করা হয় মানুষের ক্ষেত্রে বিশেষ করে এই সংখ্যা অনেক বেশী। অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০০৭ সালে দেখেছেন, জীনোমে যত বেশী কপি AMY1 জীন থাকবে, মুখের লালা বা স্যালাইভাতে ততবেশী পরিমান স্যালাইভারী অ্যামাইলেজ এনজাইমটি থাকবে, যা এর বাহককে বেশী পরিমান স্টার্চ পরিপাক করতে সহায়তা করবে। দেখা গেছে যে জনগোষ্ঠী যত বেশী স্টার্চ খাদ্য হিসাবে গ্রহন করে তাদের জীনোমে এই AMY1 জীনটির কপি সংখ্যা ততবেশী, স্টার্চ কম গ্রহন করে ‌এমন কোন জনগোষ্ঠীর সদস্যদের থেকে।</p>
<p>কোন জীনের কপি নাম্বারের উপর এধরনের পজিটিভ সিলেকশনের উদহারন মানুষের জীনোমে এটাই প্রথম। বেশী সংখ্যার এই জীনটি আমাদের স্টার্চ নির্ভর খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। জীনটি বিবর্তনে দেখা যায় প্রথমত জীনোমে একাধিক কপি বা অনুরুপ জীন তৈরী হয়েছে এবং এর সাথে যুক্ত হয়েছে এর ডিএনএ সিকোয়েন্সে বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ন সুর্নির্দিষ্ট পরিবর্তন, যা আমাদের পুর্বপুরুষদের নতুন এই স্টার্চউর্বর খাদ্যকে পরিপাক করতে সহায়তা করেছে।</p>
<p><span style="color:#ff0000;"><em>LCT: </em></span></p>
<p>মানুষের বিবর্তনে খাদ্য সংশ্লিষ্ট  অভিযোজনের ক্ষেত্রে জীনের ভুমিকার আরো একটি বিখ্যাত উদহারন হলো ল্যাকটেজ নামক এনজাইমটির জন্য নির্দিষ্ট জীন LCT;  ল্যাকটেজ হচ্ছে একটি এনজা‌ইম যা স্তন্যপায়ী প্রানীদের ল্যাকটোজ নামের একটি শর্করা ( যা দুধে থাকে বলে মিল্ক সুগার বলা হয়) কে পরিপাক করতে সহায়তা করে। প্রায় সব স্তন্যপায়ী প্রজাতিতে শুধু মাত্র ছোট শিশু বা ইনফ্যান্ট যারা বুকের দুধ খায় তারাই কেবল ল্যাকটোজকে হজম করতে পারে। কিন্তু প্রায় ৯০০০ বছর আগে-যা বিবর্তনের সময়ের মাপকাঠিতে খু্ব সম্প্রতি, মানুষের জীনোমে পরিবর্তন এসেছে এবং LCT জীনের একটি সংস্করণের উদ্ভব হয়েছে, যা পুর্নবয়স্ক মানুষকেও সুযোগ করে দিয়েছে ল্যাকটোজকে পরিপাক করার জন্য। এই পরিবর্তিত LCT জীনটি স্বতন্ত্রভাবে বিবর্তিত হয়েছে ইউরোপীয় এবং আফ্রিকার জনগোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে, যা এর বাহককে গৃহপালিত প্রানীর দুধ খাদ্য হিসাবে গ্রহন করার সুযোগ করে দিয়েছে। বর্তমানে এই সব প্রাচীন গৃহপালিত পশু লালনপালন কারীদের বংশধররা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাদের খাদ্যে দুধের ল্যাকটোজ হজম করতে পারার সম্ভাবনা বেশী পৃথিবীর অন্য অনেক অংশের প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায়। যেমন এশিয়া এবং ল্যাটিন আমেরিকার অনেকেই ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট ( ল্যাকটোজ সহ্য করতে না পারা ), এর কারন তাদের জীনোমে LCT জীনটির প্রাইমেট সংস্করণ এখনও বিদ্যমান।</p>
<p>কিন্তু  LCT ই শুধু একমাত্র জীন না যা সম্প্রতি মানুষের মধ্যে বিবর্তিত হয়েছে। শিম্পান্জি জীনোম প্রোজেক্টে এরকম আরো ১৫টি সিকোয়েন্স শনাক্ত করেছে, যা আমাদের  এইপ পুর্বপুরুষের সম্পুর্ন কার্য্যক্ষম জীন থেকে পরিবর্তিত হবার প্রক্রিয়ায় আছে এবং একই জীন স্তন্যপায়ীদেরও আছে এবং তাদেরও কোন সমস্যা করছে না।, কিন্তু সেই প্রাচীন রুপে জীনগুলো আধুনিক ‍মানুষের কিছু অসুখ, যেমন আলঝেইমার এবং ক্যান্সারের সাথে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এসব বেশীর ভাগ অসুখ শুধু মানুষেরই হয় অথবা অন্য কোন প্রাইমেটদের তুলনায় মানুষের মধ্যে তাদের হার বেশী। বিজ্ঞানী বর্তমানে এই সব জীনের কাজ নিয়ে গবেষনা করছেন এবং বোঝার চেষ্টা করছেন কেন এই জীনগুলোর আদি সংস্করনগুলো মানুষের জন্য ম্যালঅ্যাডাপটিভ  বা ক্ষতিকর অভিযোজনের কারন হয়েছে। এই গবেষনাগুলো পরবর্তীতে চিকিৎসকদের সহায়তা করবে এই ধরনের ভয়ঙ্কর রোগ হতে পারে এমন রোগীদের অনেক আগেই শনাক্ত করার জন্য, এই রোগগুলো যেন তারা এড়াতে পারে এই আশায়। এই গবেষনার মাধ্যমেই আমরা খুজে পাবো নতুন চিকিৎসা।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/25-12-2011-4-24-46-pm1.jpg"><img title="25-12-2011 4-24-46 PM" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/25-12-2011-4-24-46-pm1.jpg?w=637&#038;h=1377" alt="" width="637" height="1377" /></a><br />
ছবি: এক নজরে আমাদের কিছু অনন্য ডিএনএ সিকোয়েন্স।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">ভালোর সাথে খারাপও কিছু আসে:</span></p>
<p>ন্য যে কোন প্রজাতির মতই রোগব্যাধীর সাথে আমাদের চিরন্তন সংগ্রাম, যেন আমরা বেচে থাকতে পারি এবং আমাদের জীনকে পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তর করতে পারি। বিবর্তনের পথে এই সংগ্রামটি সবচেয়ে বেশী সুস্পষ্ট আমাদের রোগপ্রতিরোধ তন্ত্র বা ইমিউন সিস্টেমে।</p>
<p>যখনই গবেষকরা আমাদের জীনোমে পজিটিভ সিলেকশনের কোন চিহ্ন খোজেন, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় পজিটিভ সিলেকশনের প্রভাব পড়ে এমন জীন অনুক্রমগুলো রোগপ্রতিরোধ বা Immunity র সাথে জড়িত। অবশ্য বিবর্তন প্রক্রিয়া যে এই জীনগুলো নিয়ে খুব বেশী নাড়াচাড়া করেছে, ব্যাপারটা কিন্তু খুব বিস্ময়ের না: কারন অ্যান্টিবায়োটিক বা ভ্যাক্সিনের অভাবে নিজের জীন পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে হস্তান্তর করার সম্ভাব্য বাধা ছিল হয়তো কোন জীবনঘাতী কোন সংক্রামক ব্যাধী, যা প্রজননক্ষম বয়স শেষ বা শুরু হবার  আগে, যা হয়তো জীবনের অবসান করেছে। উপরন্তু ইমিউন সিস্টেমের বিবর্তনকে আরো তরান্বিত করে আমাদের রোগ প্রতিরোধের বিরুদ্ধে রোগজীবানুদের সার্বক্ষনিক অভিযোজনীয় কৌশল। অনুজীব এবং তার পোষকের মধ্যে যা জন্ম দিয়েছে বিবর্তনের একটি অস্ত্র প্রতিযোগিতা।বহু মিলিয়ন বছর ধরে আমাদের পুর্বপুরুষ এবং আমরা ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করে আসছি। চিরন্তন সেই ইদুর বিড়ালের খেলা। ভাইরাস বিবর্তিত হয়,আমরা খাপ খাইয়ে নেই,ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের শরীরের প্রোটিন বদলে যায়,ভাইরাসকে প্রতিরোধ করে,ভাইরাস সেই আক্রমন এড়াতে বিবর্তিত হয়, এভাবে চলতেই থাকে। যেমন HIV ভাইরাসের একটি জীন আছে  <em>vif</em>, যার একমাত্র কাজ হলো আমাদের কোষের যে প্রোটিনটা HIV কে তার রেপ্লিকেশন (নতুন কপি তৈরী করে সংখ্যাবৃদ্ধি) করতে বাধা দেয়, এই vif সেই প্রোটিনটাকে নিষ্ক্রিয় করে। এই vif জীনটি বিবর্তিত না হলে এটি খুব সাধারন একটি অসুখের কারন হতো।  আর এই বিবর্তনটি হয়েছে অনেক মিলিয়ন বছর ধরে।</p>
<p>এইসব সংগ্রামগুলো তার চিহ্ন রেখে গেছে আমাদের ডিএনএ তে। এর একটি সুস্পষ্ট উদহারন হলো একটি বিশেষ পরিবারের ভাইরাস: রেট্রোভাইরাস ( HIV ও কিন্তু একটি রেট্রোভাইরাস); এই রেট্রোভাইরাসগুলো নিজেদেরকে কপি করে এবং বেচে থাকে আমাদের জীনোমে তাদের জীনোমকে সন্নিবিষ্ট বা ইনসার্ট করার মাধ্যমে। মানুষের ডিএনএ তে  ধরনের অসংখ্য ছোট ছোট রেট্রোভাইরাসের ভাইরাল জীনোম আছে, যাদের অনেকগুলো সেই সব ভাইরাসের, যারা বহু মিলিয়ন বছর আগে আমাদের আদিপ্রানীদের অসুস্থতার কারন ছিল এবং যে ভাইরাসগুলো এখন আর কোন অস্তিত্ব নেই। এই দীর্ঘ সময়ে আমাদের জীনোমের মতই এই রেট্রোভাইরাসের জীনোমগুলোতে জমা হয়েছে মিউটেশন, ফলে ভিন্ন ভিন্ন কপিগুলো হুবুহু এক রকম না হলে তাদের মধ্যে সাদৃশ্য আছে। এই বিভিন্ন কপির মধ্যে পার্থক্য পরিমাপ এবং মলিকিউলার ক্লক টেকনিক ব্যবহার করে  গবেষকরা এখন বলতে সক্ষম এই ভাইরাসটি প্রথম কবে সংক্রমন করেছিল। এই প্রাচীন সংক্রমন এর চিহ্ন দেখা যায় আমাদের  ইমিউন সিস্টেম এর জীনগুলোতেও, যা সব সময় অভিযোজিত হয়েছে দ্রুত বিবর্তনশীল রেট্রোভাইরাসদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">PtERV1</span></p>
<p>ফ্রেড হাচিসন সেন্টারে দুই গবেষক আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বিরুদ্ধে ভাইরাসের আক্রমনের এই নানা ধরনের কৌশলগুলো খুজতে গিয়ে গবেষনা করেন শিম্পান্জি  জীনোম নিয়ে। শিম্পান্জিকে যদি HIV ভাইরাস সংক্রমন করে, তাদের কিন্তু মানুষের মত প্রানঘাতী AIDS রোগ করেনা। রহস্যজনক এই বিষয়টি গবেষকদের বেশ ভাবিয়েছে কারন, যে প্রজাতিটি জীন স্তরে আমাদের প্রায় অনুরুপ,সেই প্রানীটি কিভাবে HIV কে রুখে দেয়, যা কিনা আমরা পারিনা। তারা মানুষের জীনোমের সাথে শিম্পান্জি জীনোমের তুলনা করে খুবই নাটকীয়ভাবে আরো ভিন্ন ধরনের কিছু অনুক্রম খুজে বের করেন। তারা দেখেন যে শিম্পান্জির জীনোমে দেখা প্রায় ১৩০ কপি একটি অনুক্রম  আসলে একটি রেট্রোভাইরাসের। গরিলায় দেখা যায় এটি প্রায় ৮০ টি কপি আছে, মানুষের একটিও নেই। এর নাম দেয়া হয় PtERV ( বা পি টার্ভ) অর্থাৎ <em>Pan troglodytes</em> endogenous retrovirus; PtERV1 (Pan troglodytes Endogenous Retrovirus) এরকম একটি প্রাচীন ভাইরাসের জীনোমের অবশেষ বা রেলিক।</p>
<p>ভাইরাসটি শিম্পান্জি এবং গরিলাদের সংক্রমন করেছে অনেক দুর অতীতে, প্রায় ৪ মিলিয়ন বছর আগে, কিন্তু মানুষকে সংক্রমন করার কোন চিহ্নই নেই। হতে পারে এই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত সব আদি মানুষই মারা গেছে, কিন্তু যেটা হবার সম্ভাবনা বেশী সেটা হলো, আমাদের শরীরে এই ভাইরাসটিকে প্রতিরোধ করার মতে কিছু ছিল। বিজ্ঞানীরা দেখলেন যে আধুনিক মানুষের শরীরে TRIM5α বলে একটি প্রোটিন আছে এই PtERV1 এবং সমগোত্রীয় কয়েকটি রেট্রোভাইরাসের রেপ্লিকেশন বা অনুরুপ কপি তৈরী করতে বাধা প্রদান করে। এই ভাইরাসের সংক্রমনের বিরুদ্ধে প্রাইমেটদের শরীরের প্রতিরোধ কেমন ছিল সেটা বুঝতে সিয়াটলে ফ্রেড হাচিনসন ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার এর গবেষকরা শিম্পান্জির জীনোম থেকে অনেকগুলো মিউটেশন হওয়া ptERV ডিএনএ সিকোয়েন্স  এর কপি নিয়ে এই প্রাচীন এই ptERV রেট্রোভাইরাসটিকে পুনর্গঠন করেন। তারপর তারা পরীক্ষা করে দেখেন,  মানুষের, এবং গ্রেট এইপদের TRIMα প্রোটিন এই পুনরোজ্জীবিত ভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে কে বেশী সফল। তাদের গবেষনা প্রমান করেছে মানুষের TRIMα একটা মাত্র পরিবর্তন সম্ভবত আমাদের পুর্বপুরুষেদের তাদের নিকটবর্তী আত্মীয় প্রাইমেটদের তুলনায় আরো এই ভাইরাসটির বিরুদ্ধে বেশী কার্যকরী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। মানুষের TRIM α এ বাড়তি পরিবর্তনগুলো সম্ভবত বিবর্তিত হয়েছিল ptERV এর সমগোত্রীয় রেট্রোভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসাবে। অন্য পাইমেটদের TRIMα তে তাদের নিজস্ব কিছু পরিবর্তন আছে যা তাদের পু্র্বপুরুষদের রেট্রোভাইরাসদের  সাথে সংগ্রামের চিহ্ন বহন করে। কিন্তু একধরনের রেট্রোভাইরাসকে পরাজিত করা মানে কিন্তু অন্যদের বিরুদ্ধে সাফল্য নিশ্চিৎ করেনা  অবশ্যই।</p>
<p>গবেষনায় বিজ্ঞানীরা দেখলেন যদিও মানুষের TRIMα  র পরিবর্তন আমাদের পুর্বপুরুষদের এই ptERV ভাইরাসের আক্রমন থেকে রক্ষা করেছে ঠিকই, এই একই পরিবর্তন আমাদের শরীরের পক্ষে HIV এর সাথে যুদ্ধটাকে করেছে কঠিন। হাচিসন সেন্টারের তিন বিজ্ঞানী প্রমান সহ একটি নতুন তত্ত্বের প্রস্তাব করেন: বিবর্তনের যে প্রক্রিয়া আমাদের PtERV থেকে রক্ষা করেছে সেটাই আবার HIV থেকে আমাদের রক্ষা করতে না পারারও প্রধান কারন। কিন্তু কিভাবে ?</p>
<p>এই তিন বিজ্ঞানী মানুষের জীনোমে একটি নির্দিষ্ট জীন, যার নাম TRIM5α চিহ্নিত করেন (উপরে  উল্লেখিত); এটি মানব কোষে তৈরী হওয়া একটি প্রোটিন যা PtERV এর সাথে যুক্ত হয়ে এটিকে ধ্বংশ করে অনায়াসে। যে কারনে PtERV আমাদের পুর্বপুরুষদের সংক্রমন করতে পারেনি আমাদের জীনোমেও তাদের সিকোয়েন্স মেলেনি।প্রতিটি প্রাইমেট এর কিন্ত‍ু এই জীনটি আছে,কিন্তু এদের কাজ করার ক্ষমতা একেক প্রজাতিতে একেক রকম,তাদের বিবর্তিনীয় চাহিদা অনুযায়ী।যেমন রিসাস বানরে এই জীনটি তাদের HIV থেকে রক্ষা করে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা ভাবলেন,এটি কি শুধু HIV ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে,নাকি আরো কিছু ? তারা শিম্পান্জি জীনোমের এই ভাইরাসটি অসংখ্য কিছুটা আলাদা আলাদা কপি অনুক্রম থেকে  পুনর্গঠিত এই আদিম ভাইরাসটিকে ব্যবহার করলেন আরো একটি পরীক্ষায়, মানুষের TRIM5α  প্রোটিনকেও বদলে গবেষকরা এটিকে শিম্পান্জির গঠন বানান এবং দেখেন যে রুপান্তরিত প্রোটিনটি এই পুনর্গঠিত ভাইরাস থেকে আর অমাদের রক্ষা করছে না। এর পর তারা পরিবর্তিত রুপের এই প্রোটিন টিকে প্রথমে HIV  ভাইরাসের এবং পরে PtERV এর সাথে রাখেন। এরপর যা ঘটলো তা বিস্মিত করলো এই গবেষকদের। যতবারেই তারা পরীক্ষা করছিলেন ততবারই ফলাফল হচ্ছিল ভিন্ন। অর্থাৎ একবার এটি HIV কে প্রতিরোধ করে তো অন্যবার ptERV ভাইরাসকে, কিন্তু কখনোই একই সাথে দুটি ভাইরাসকে না। বিজ্ঞানীরা প্রস্তাব করলেন  যেহেতু মানুষ ptERV ভাইরাসের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্য্যকরী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, প্রায় যে সময় শিম্পান্জি থেকে আমাদের বংশধারা পৃথক হয়েছ, আমরা আরকটি নতুন ভাইরাস,HIV ভাইরাসের প্রতি আমরা হয়েছি অরক্ষিত এবং সহজে আক্রাম্য।</p>
<p>গবেষকরা এই তথ্যটি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন HIV ভাইরাসটি মানুষের শরীরে AIDS এর কারন হয় অথচ সেরকম কিছু ঘটেনা আমাদের প্রাইমেট আত্মীয়দের। স্পষ্টতই বিবর্তন এক পা এগোয় তো দুই পা পিছনে আসে। কখনও কখনও বৈজ্ঞানিক গবেষনার ক্ষেত্রেও এই এক পা সামনে তো দুই পা পিছনে আসার অনুভুতিটাও টের পাওয়া যায়। ইতিমধ্যে বিজ্ঞানীরা আমাদের মানুষের বৈশিষ্টসুচক ট্রেইটগুলোর জেনেটিক ব্যাখ্যা দেবার জন্য উপযোগী হতে পারে এমন বেশ কিছু জীন সিকোয়েন্স পেয়ে গেছেন । যদিও বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এই সিকোয়েন্সগুলো সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞ্যান এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। এখনো আমাদের জ্ঞানের ঘাটতি অনেক বেশী বিশেষ করে HAR1 এবং HAR2 এর মত জীন সিকোয়েন্সগুলোর ক্ষেত্রে, যারা কোন প্রোটিনের সংকেত বা কোড বহন করেনা।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">আরো নতুন কিছু জানার খোজে..</span></p>
<p>বিজ্ঞানীদের জন্য এই দ্রুত বিবর্তিত এবং মানুষের জন্য অনন্য ডিএনএ অনুক্রম গবেষনার একটি নতুন দিক নির্দেশনা দিয়েছে। মানুষের অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলোর খোজার প্রচেষ্টা সম্ভবত যে প্রোটিন বিল্ডিং ব্লক দিয়ে আমাদের গঠন হয়েছে সেগুলোর পরিবর্তনের উপর আর নজর দেবে না বরং গবেষকরা খুজে বের করবেন কেমন করে বিবর্তন প্রক্রিয়া এই বিল্ডিং ব্লকগুলোকে নতুন ভাবে সাজিয়েছে আমাদের শরীরের বিভিন্ন জীন কখন এবং কোথায়  সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় হবে সেই বিক্রয়টিকে পরিবর্তন করার মাধ্যমে।</p>
<p>পৃথিবী জুড়ে অসংখ্য ল্যাবে এক্মপেরিমেন্টাল এবং কম্পিউটেশনাল স্টাডি আমাদের শতকরা ৯৮.৫ ভাগ জীনোম যা কোন প্রোটিনের সংকেত বহন করে না তার রহস্য উন্মোচনে এখন ব্যস্ত। জীনোমের যে অংশটা একসময়  junk ডিএনএ বলে পরিচিত ছিল শুধু, প্রতিদিনই বিজ্ঞানীদের সেটাকে আর junk মনে হচ্ছে না।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">তথ্যসুত্র: </span></p>
<p>হ্যান ক্যাথেরিন এস পোলার্ড এর হোয়াট মেকস আস হিউম্যান? সায়েন্টিফিক আমেরিকান, মে ২০০৯<br />
ক্যাটি পোলার্ড ও সহযোগীরা: নেচার, ৪৪৩,১৬৭-১৭২ (১৪ সেপ্টেম্বর ২০০৬)<br />
দি ডিএনএ অব হিউম্যান ইভোল্যুশন, জন রুবিন (ক্যাথেরিন পোলার্ড এর একটি সাক্ষাৎকার, নোভা) নোভা/পিবিএস এর প্রামান্য চিত্র, হোয়াট ডারউইন নেভার নিউ;<br />
হ্যানেসেল স্টিডম্যান এবং সহযোগীরা, নেচার, ভলিউম ৪২৮, ২৫ মার্চ ২০০৪;<br />
জর্ডান পি আমাদিও এবং ক্রিষ্টোফার এ ওয়ালশ: সেল ১২৬, সেপ্টেম্বর ২২,২০০৬<br />
এস প্রভাকর এবং জে পি নুনান, সায়েন্স,৩১৪:৭৮৬(২০০৬)<br />
জে পি নুনান এর রিসার্চ ওয়েবসাইট;<br />
জিয়াংঝি ঝাং , জেনেটিক্স ১৬৫:২০৬৩-২০৭০ (ডিসেম্বর ২০০৩)<br />
হার্পারস বায়োকেমিস্ট্রি<br />
শারী কাইজার, হারমিত মালিক, মাইকেল এমেরম্যান, সায়েন্স,৩১৬: ৫৮৩২:২০০৭<br />
ফারানেহ ভারগাহ-খাদেম এবং সহযোগীরা: ন্যাচার রিভিউস নিউরোসায়েন্স,৬:ফেব্রুয়ারী ২০০৫<br />
এবং ইন্টারনেট</p>
<p>http://fora.tv/2009/10/03/Dr_Katherine_Pollard_What_Makes_Us_Human</p>
<p><span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2011/12/29/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a7%e0%a7%81-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b6-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%a4/"><img src="http://img.youtube.com/vi/RpjUHUGDk2Y/2.jpg" alt="" /></a></span></p>
<p><span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2011/12/29/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a7%e0%a7%81-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b6-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%a4/"><img src="http://img.youtube.com/vi/eHmYJOrtX9w/2.jpg" alt="" /></a></span></p>
<p><span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2011/12/29/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a7%e0%a7%81-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b6-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%a4/"><img src="http://img.youtube.com/vi/NjmbJcNjuno/2.jpg" alt="" /></a></span></p>
<p><span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2011/12/29/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a7%e0%a7%81-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b6-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%a4/"><img src="http://img.youtube.com/vi/tbkvQqWDZsc/2.jpg" alt="" /></a></span></p>
<p><span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2011/12/29/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a7%e0%a7%81-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b6-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%a4/"><img src="http://img.youtube.com/vi/twv9V4Zeugc/2.jpg" alt="" /></a></span></p>
<p><span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2011/12/29/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a7%e0%a7%81-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b6-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%a4/"><img src="http://img.youtube.com/vi/eYDmEaN48E8/2.jpg" alt="" /></a></span></p>
<p><span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2011/12/29/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a7%e0%a7%81-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b6-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%a4/"><img src="http://img.youtube.com/vi/9Tpqc6SVUWk/2.jpg" alt="" /></a></span></p>
<p><span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://kmhb.wordpress.com/2011/12/29/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a7%e0%a7%81-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b6-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%a4/"><img src="http://img.youtube.com/vi/2uNgIrVS78Q/2.jpg" alt="" /></a></span></p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/kmhb.wordpress.com/1720/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/kmhb.wordpress.com/1720/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/kmhb.wordpress.com/1720/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/kmhb.wordpress.com/1720/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/kmhb.wordpress.com/1720/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/kmhb.wordpress.com/1720/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/kmhb.wordpress.com/1720/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/kmhb.wordpress.com/1720/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/kmhb.wordpress.com/1720/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/kmhb.wordpress.com/1720/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/kmhb.wordpress.com/1720/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/kmhb.wordpress.com/1720/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/kmhb.wordpress.com/1720/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/kmhb.wordpress.com/1720/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=1720&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://kmhb.wordpress.com/2011/12/29/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a7%e0%a7%81-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b6-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>5</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/e40bfc2ea43f56cde7024fc67c614894?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">kazimahboob</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/20-12-2011-10-32-05-pm.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">20-12-2011 10-32-05 PM</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/dnastructure.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">dnastructure</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/29-12-2011-1-02-30-am.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">29-12-2011 1-02-30 AM</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/25-12-2011-4-16-49-pm2.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">25-12-2011 4-16-49 PM</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/untitled.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">untitled</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/25-12-2011-4-32-33-pm.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">25-12-2011 4-32-33 PM</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/26-12-2011-1-18-17-pm.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">26-12-2011 1-18-17 PM</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/26-12-2011-1-02-48-pm.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">26-12-2011 1-02-48 PM</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/26-12-2011-1-07-44-pm.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">26-12-2011 1-07-44 PM</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/hacns1.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">HACNS1</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/hacns1_synth.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">HACNS1_synth</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/25-12-2011-4-24-46-pm1.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">25-12-2011 4-24-46 PM</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>ইউজেন দুবোয়া এবং জাভা ম্যান</title>
		<link>http://kmhb.wordpress.com/2011/12/20/%e0%a6%87%e0%a6%89%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%ac%e0%a6%82-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ad%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a7%8d/</link>
		<comments>http://kmhb.wordpress.com/2011/12/20/%e0%a6%87%e0%a6%89%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%ac%e0%a6%82-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ad%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a7%8d/#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 20 Dec 2011 05:25:20 +0000</pubDate>
		<dc:creator>K M Hassan</dc:creator>
				<category><![CDATA[জীববিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[বিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[বিবর্তন]]></category>
		<category><![CDATA[বিজ্ঞানের ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[Eugene Dubois]]></category>
		<category><![CDATA[Homo erectus]]></category>
		<category><![CDATA[Java Man]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://kmhb.wordpress.com/?p=1666</guid>
		<description><![CDATA[শীর্ষ ছবি: ১৯০২ সালে মারি ইউজেন ফ্রাসোয়াঁ থমাস দুবোয়া ( ২৮ জানুয়ারী ১৮৫৮ &#8211; ১৬ ডিসেম্বর ১৯৪০) &#124; ছবিসুত্র No discovery was ever made without a bold guess. Isaac Newton We live by admiration, love and hope. Wordsworth (সেপ্টেম্বর ১৮৯৩ সালে শুরু করা দুবোয়ার ব্যবহৃত ফিল্ড নোটবুকের উপরে লেখা ছিল ওয়ার্ডসওয়ার্থের এই পংক্তিটি)  Where, then, [...]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=1666&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/eugene_dubois2.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1678" title="Eugene_Dubois" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/eugene_dubois2.jpg?w=490" alt=""   /></a><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/eugene_dubois1.jpg"><br />
</a>শীর্ষ ছবি: ১৯০২ সালে মারি ইউজেন ফ্রাসোয়াঁ থমাস দুবোয়া ( ২৮ জানুয়ারী ১৮৫৮ &#8211; ১৬ ডিসেম্বর ১৯৪০) | <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Eug%C3%A8ne_Dubois">ছবিসুত্র</a></p>
<p><span style="color:#0000ff;"><em>No discovery was ever made without a bold guess. </em>Isaac Newton</span></p>
<p><em><span style="color:#0000ff;">We live by admiration, love and hope. </span></em><span style="color:#0000ff;">Wordsworth<br />
(সেপ্টেম্বর ১৮৯৩ সালে শুরু করা দুবোয়ার ব্যবহৃত ফিল্ড নোটবুকের উপরে লেখা ছিল ওয়ার্ডসওয়ার্থের এই পংক্তিটি) </span></p>
<p><em><span style="color:#0000ff;">Where, then, must we look for primaeval Man? &#8230;&#8230;. In still older strata do the fossilized bones of an ape more anthropoid, or a Man more pithecoid, than any yet known await the researches of some unborn paleontologist?</span></em><span style="color:#0000ff;">  <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Thomas_Henry_Huxley"><span style="color:#0000ff;">Thomas Henry Huxley</span></a> ( <em>On some Fossil Remains of Man&#8217;</em> (1863). </span></p>
<p><span style="color:#0000ff;"><em>The question of questions for manking-the problem which underlies all other, and more deeply interested than any others </em><em>–</em><em> is the ascertainment of place with man occupies in nature and his relations to univers of things.  </em><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Thomas_Henry_Huxley"><span style="color:#0000ff;">Thomas Henry Huxley</span></a> <em>( Evidence as to Man’s place in nature, 1863)</em></span></p>
<p><span style="color:#ff0000;">আমার কিছু কথা:</span> পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন মানব জীবাশ্মটি আবিষ্কার করেছিলেন ডাচ চিকিৎসক ই্উজেন দুবোয়া;মানব বিবর্তনের ধারাবাহিতায় তার আবিষ্কৃত সেই জাভা ম্যান আজ পরিচিত <em>Homo erectus</em> প্রজাতি হিসাবে।  দুবোয়াই প্রথম বিজ্ঞানী যিনি শুধুমাত্র এই জীবাশ্মটির সন্ধানে তার নিরাপদ জীবন ছেড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সুদুর ডাচ ইষ্ট ইন্ডিজে, প্রায় অসম্ভব একটা অভিযানে। উদ্দেশ্য ছিল তিনি ডারউইনের মিসিং লিঙ্ক্ খুজে বের করবেন, যা প্রমান করবে মানুষ এবং এইপদের মধ্যবর্তী একটা ট্রানজিশন্যাল অবস্থাকে। বলাবাহুল্য তিনি তার বাজীতে জিতেছিলেন, কিন্তু বিনিময়ে তাকে হারাতে হয়েছে অনেক কিছুই। সব ত্যাগের বিনিময়ে যখন তিনি ইউরোপ পৌছালেন, প্রশংসা আর সন্মানের বদলে তার ভাগ্যে জুটেছিল সন্দেহ, বিতর্ক আর সমালোচনা। উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে তার এই অসাধারন আবিষ্কারের জন্য আসলে প্রস্তুত ছিল না কেউই, বিস্মিত এবং হতবাক সংখ্যাগরিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক সমাজ তাই এর বীপরিত অবস্থানই বেছে নিয়েছিল নিরাপদ মনে করে। তার জীবাশ্ম অ্যানালাইসিসের টেকনিক, যা কিনা আজ প্রতিষ্ঠিত, তখন কারো জানাই ছিলনা। তার উপসংহার এতো বেশী সুস্পষ্ট ছিল, সন্দেহপ্রবন বিজ্ঞানবিশ্ব তা সহজে গ্রহন করতে পারেনি। দুবোয়াও অবশ্য হাল ছাড়েননি। দেশের মাটিতে পা দিয়ে প্রায় মৃত্যু পর্যন্ত  যুদ্ধ করে গেছেন তার জীবাশ্মর গুরুত্বটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে। তাকে এই সংগ্রামের মুল্য দিতে হয়েছে অনেক, তার স্ত্রী, সন্তানের ভালোবাসা, তার বন্ধুদের বিশ্বাস, সহকর্মীদের শ্রদ্ধা। তিনি মারা যান একাকী, অনেক তিক্ততা আর কাউকে না বোঝাতে পারার যন্ত্রনা নিয়ে। দুবোয়াই শুরু করেছিলেন মানুষের বিবর্তন আর উৎপত্তির সন্ধানে আমাদের দীর্ঘ যাত্রাটি, যা আজ অকল্পনীয়ভাবে সমৃদ্ধ বিজ্ঞানের নানা শাখার ইন্টারঅ্যাকশনে। ১৯৬০ এর দশক শুরু হবার আগেই দুবোয়া অবদান সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে আর কোন সন্দেহ ছাড়াই। নতুন প্রজন্মর প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজিষ্টরা জানেন দুবোয়া ছিলেন তাদের অগ্রপথিক। তাঁকে স্মরণ করে আমার এই লেখাটির মুল সুত্র ইউজেন দুবোয়ার নাটকীয় জীবন নিয়ে প্যাট শিপম্যানের অসাধারন জীবনীগাথা <em>The man who found the missing link: Eugene Dubois and his lifelong quest to prove Darwin right</em> এবং শন বি ক্যারলের  <em>Remarkable creatures: Epic adventures in search for the origins of species,</em><em> </em>এছাড়া ইন্টারনেট তো বটেই।</p>
<p><span id="more-1666"></span></p>
<p><span style="color:#ff0000;">সব শুরুর শুরু:</span></p>
<p>১৮৫৯ সালে চার্লস ডারউইন এর দি অরিজিন অব স্পেসিস বইটি প্যালীওন্টোলজী বা জীবাশ্মবিজ্ঞানে একটি নতুন অ্যাজেন্ডা ঠিক করে দেয়। যদিও এর আগের বেশ কয়েক দশক থেকেই জীবাশ্ম সম্বন্ধে বিজ্ঞানীদের ধারনা ধীরে ধীরে বাড়ছিল,তবে স্পষ্টতই তাদের প্রকৃত গুরুত্ব বোঝার ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল অনেক, ব্যাপারটা জীবাশ্মবিজ্ঞানের আদি ‍ইতিহাস ঘাটলেই বোঝা যায়। যেমন দি অরিজিন অব স্পেসিস প্রকাশ হবার অনেক আগেই ডায়নোসরদের জীবাশ্ম কিন্তু আবিষ্কার হয়েছিল,বৃটিশ তুলনামুলক অ্যানাটোমিষ্ট রিচার্ড ওয়েন ( যিনি ডায়নোসর শব্দটিও প্রচলন করেন) ডায়নোসরের জীবাশ্ম নিয়ে বিস্তারিত গবেষনাও করেন। কিন্তু ওয়েনের দৃষ্টিভঙ্গীতে এই জীবাশ্মগুলো ছিল বিবর্তন প্রক্রিয়ার মুল ধারনার বিরুদ্ধে একটি প্রমান।</p>
<p>ডারউইনের আগে বেশীর ভাগ জীবাশ্মবিদদের পৃথিবীর বা জীবনের উৎপত্তির সহস্র কোটি বছরের প্রাচীনত্ব সম্বন্ধে খুব সামান্যই ধারনা ছিল। কিংবা জীবাশ্মর যে অস্থিগুলো নিয়ে তারা গবেষনা করছেন,সেগুলো আসলে যে প্রকৃতির সুদুর এক অতীতের স্বাক্ষী, এই বিষয়টা তখনও স্পষ্ট ছিল না তাদের কাছে।</p>
<p>ভূতত্ববিদ্যার দৃঢ় ভিত্তির উপর দাড়িয়ে ডারউইন সেই সব ধারনা আমুল বদলে দেন। তার বইয়ে তিনি সুস্পষ্ট প্রস্তাব করেন, দুটি প্রজাতি বা ভুত্বকের নানা স্তরের মধ্যে সময়ের যে শুধুমাত্র সহস্র প্রজন্মের ব্যবধান বলে মনে করা হয় আসলে তা মিলিয়ন বা শত মিলিয়ন প্রজন্মের ব্যবধানকে ইঙ্গিত করে। তিনি লিখেছিলেন, <em>The crust of earth is a vast museum,  </em>যার খুব সামান্য অংশই আমরা সন্ধান করেছি এবং প্রথমবারের মত দাবী করেন, জীবিত সব প্রজাতির পুর্বসুরী প্রানীরা পৃথিবীর এই পাথরের মধ্যেই সমাহিত আছে,তাই এই সব আদি পুর্বপুরুষ প্রানীদের খুজে বের করাটা জীবনের ‌উৎপত্তি, ইতিহাস এবং বিবর্তন সম্বন্ধে জানার জন্য খুবই গুরুত্বপুর্ণ।</p>
<p>খুব খোলামেলাভাবে খানিকটা আক্ষেপের সাথে ডারউইন তার সেই সময়ের বাস্তবতায় স্বীকার করে নিয়েছিলেন তার প্রস্তাবিত বিবর্তন তত্ত্বের গুরুত্বপুর্ন কিছু অংশর স্বপক্ষে সেই সময় জীবাশ্মর নিদর্শনের বেশ ঘাটতি ছিল; যেমন প্রধান প্রধান প্রানীদের গ্রুপের মধ্যেবর্ত ও  উভয় গ্রুপের বৈশিষ্ট বহন কারী  সম্ভাব্য ট্রানজিশনাল ফসিল (ক্রান্তিকালীন জীবাশ্ম);কিংবা কোন আদি প্রানী থেকে ধীরে ধীরে উদ্ভব হবার কোন ইঙ্গিত ছাড়াই আপাত দৃষ্টিতে হঠাৎ করেই জীবাশ্ম রেকর্ডে খুজে পাওয়া অসংখ্য বৈচিত্রময় প্রানীদের উপস্থিতি ( ক্যাম্বিব্রিয়ান এক্সপ্লোশন); তার আগের এছাড়া  মানুষের প্রাচীনতা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর প্রশ্নগুলোতো আছে,যা ডারউইন শুরুর দিকে পাশ কাটিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ‍তার  যুগান্তকারী বইটি প্রকাশের পরপরই ব্যাপারটা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। পরবর্তীতে বেশ কিছু অসাধারন অভিযান আর জীবাশ্মবিদ্যার শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার, এই মধ্যবর্তী শুন্য স্থানটিকে পুরন করেছে এবং সুনির্দিষ্ট প্রানীদের গ্রুপগুলোর মধ্যে যোগসুত্রও স্থাপন করেছে,যেমন মাছ  এবং উভচর প্রানী,সরীসৃপ এবং পাখি কিংবা এইপস এবং মানুষ।</p>
<p>জীবাশ্মবিদ্যার ইতিহাসে সবচেয়ে অসাধারন একটি অভিযানের অভিযাত্রী ছিলেন একজন ডাচ চিকিৎসক ইউজেন দুবোয়া। ডারউইনের নতুন তত্ত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে মানুষের পুর্বপুরুষ প্রানীর খোজে নেদারল্যান্ডে তার চিকিৎসা বিজ্ঞানের পেশা এবং শ্রতিশ্রুতিময় ক্যারিয়াররছেড়ে ইন্দোনেশিয়ার ম্যালারিয়া প্রবন এলাকায় এসে হাজির হন স্ত্রী আনা এবং মেয়ে মারি সহ।</p>
<p>দুবোয়ার মনে হয়েছিল বিবর্তন জীববিজ্ঞানের সবচে গুরুত্বপুর্ন যে কাজটি তার করা উচিৎ তা হলো মানুষ এবং এইপদের মধ্যে প্রস্তাবিত মিসিং লিঙ্কটিকে খুজে বের করা। তার খুজে পাওয়া জাভা ম্যানের কয়েকটি জীবাশ্ম অস্থি এই লিঙ্কটির স্বপক্ষের প্রথম দাবীদার এবং অসংখ্য উত্তপ্ত বিতর্কের সুচনাকারী যা পরবর্তীতে খুজে পাওয়া সকল হমিনিড ফসিল এবং মানব বিবর্তনে পারিবারিক বৃক্ষে তাদের প্রস্তাবিত অবস্থানের দাবীর নিয়তিতেও ছিল।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/300x800_38_dubois.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1683" title="300x800_38_dubois" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/300x800_38_dubois.jpg?w=490" alt=""   /></a><br />
১৮৮৩ সালে  তরুন ইউজেন দুবোয়া, আশা আর উচ্চাকাঙ্খায় আত্মবিশ্বাসী  (<a href="http://www.canonvanlimburg.nl/upload/tmb/300x800_38_dubois.jpg">ছবি সুত্র</a>)</p>
<p><span style="color:#ff0000;">ডারউইনের সৈনিক:</span></p>
<p>দুবোয়া যখন তার অভিযানের পরিকল্পনার কথা ঘোষনা করেন,তখন সহকর্মীরা তার মানসিক সুস্থ্যতা নিয়ে সন্দেহ করতে বাধ্য হয়েছেন। এটা ভাবা ছাড়া অবশ্য তাদের কোন উপায়ও ছিলনা,কারন এই মেধা্বী প্রতিশ্রুতিশীল চিকিৎসক,অ্যানাটোমি বিশেষজ্ঞ,সবার ধারনা অচিরেই যে নেদারল্যান্ডের কোন বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্মানজনক অধ্যাপকের পদটি পেতে যাচ্ছে,সে কেন হঠাৎ করে সব ছেড়ে ১০,০০০ মাইল দুরে ডাচ সেনাবাহিনীর চাকরী নিয়ে ডাচ ইষ্ট ইন্ডিজ (বর্তমান ইন্দোনেশিয়া) সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া এরকম এত দুরে স্বজনহীন একটা ভয়ানক জায়গায়, তার সুন্দরী স্ত্রী আর ছোট বাচ্চাকে বা নিয়ে যেতে চায় কোন বিবেকে।দুবোয়ার বয়স তখন ২৯ বছর (যার জন্ম সালে (১৮৫৮) ওয়ালেস এবং ডারউইন প্রাকৃতিক নির্বাচনের উপর তাদের প্রথম প্রবন্ধ সারা বিশ্ববাসীকে জানিয়েছিলেন ); তিনি আসলে দুর প্রাচ্যের ডাচ ইষ্ট ইন্ডিজে কি পাবার আশা করেছিলেন?</p>
<p>দুবোয়ার ধারনা ছিল বিবর্তন বাদের সেই শুরুর বছরগুলোতে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন আবিষ্কারটি হবে যদি তিনি মানুষ এবং এইপ (Ape) দের মধ্যে মিসিং লিঙ্কটা খুজে বের করতে পারেন। এছাড়া সেটাই হবে ডারউইনের এই বিতর্কিত তত্ত্বের স্বপক্ষে সবচেয়ে বড় প্রমান,যা মানুষের সাথে অন্যান্য প্রানীদের যোগসুত্রটি ব্যাখ্যা করবে সুস্পষ্টভাবে। আর সেই সাথে ইউজেন দুবোয়ার নামটাও বিশ্বজুড়ে খ্যাতি আর সন্মান পাবে। ইস্ট ইন্ডিজে মানুষ আর এইপের মিসিং লিঙ্ক খোজার অভিযান সম্বন্ধে দুবোয়ার মনে কোন ধরনের সন্দেহ বা দ্বিধা দ্বন্দ ছিলনা। যে যাই বলুক নো কেন তিনি জানতেন এটা তার খামখেয়ালী করে নেয়া কোন সিদ্ধান্ত না, বরং এটা আবিষ্কার করাই তার নিয়তি। কারন তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন, দুবোয়া যা শিখেছিলেন তার প্রতি ছিল তার অগাধ বিশ্বাস। লিমবুর্গের সেই ছোটবেলায় নানা ধরনের গাছের খোজে তার অভিযান, তারপর স্কুলের ও পরে মেডিকেলের শিক্ষা এবং মানুষের স্বরযন্ত্র বা ল্যারিংস (Larynx)সম্বন্ধে তার চলমান গবেষনা, এই সবকিছু তাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুত করেছিল এই অভিযানের জন্য। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন একটি বিষয় হচ্ছে, প্রথমবারের মত আমাদের পুর্বপুরুষের ফসিলের সন্ধানে অভিযানে বের হয়েছিলেন ইউজেন দুবোয়া। যদিও দুবোয়া যখন তার অভিযান শুরু করেছিলেন, মানুষের বিবর্তনের চিহ্ন বহনকারী  বেশ কিছু জীবাশ্মর সন্ধান বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে পেয়েছিলেন, তবে সেগুলো সবই হঠাৎ করেই পাওয়া। গভীর আত্মত্যাগ, কঠোর পরিশ্রম আর ভাগ্য দুবোয়াকে সফল করেছিল প্রায় অসম্ভব একটি অভিযানে।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">দুবোয়ার বেড়ে ওঠা:</span></p>
<p>ইউজেন দুবোয়ার পোষাকী নাম মারী ইউজেন ফ্রাসোয়াঁ থমাস দুবোয়া। পেশায় ছিলেন একজন ডাচ চিকিৎসক, নৃতত্ত্ববিদ, অ্যানাটোমিষ্ট, প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং পরিবেশবিজ্ঞানী।</p>
<p>নেদারল্যান্ডের আইসডেনে ১৮৫৮ সালে ২৮ জানুয়ারী তিনি জন্মগ্রহন করেন। দুবোয়ার পুরো শৈশব কাটে লিমবুর্গ আইসডেনেই। বাবা ছিলেন একজন ফার্মাসিস্ট, ঔষধের ব্যবসা ছিল তার আইসডেনে। ক্যাথলিক পরিবারের চার সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে বড় দুবোয়া বাবার সাথে প্রায়ই আশে পাশেরে গামে পাহাড়ে ঔষধী গাছের সন্ধানে অভিযানে যেতেন। আর এই অভিযানগুলো খুব ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি একটা বাড়তি আকর্ষন তৈরী করেছিল দুবোয়ার মনে।</p>
<p>তার শোবার ঘরের জানালা দিয়ে দেখা যেত দুরে মাসট্রিক্ট এর কাছাকাছি সেন্ট পিটার পর্বত; লাইমস্টোন আর চকের তৈরী জীবাশ্ম সমৃদ্ধ সুবিশাল একটি বেড বা স্তর। এখানেই ১৭৪০ সালে পাওয়া গিয়েছিল প্রথম মোসাসর ( Mosasaur)এর জীবাশ্ম (ক্রেটাসিয়াশ যুগের শেষের দিকে বেচে থাকা বিশালাকৃতির একটি সামুদ্রিক রেপটাইল (মোসাসর বা Mosasaur  এসেছে Mosa বা The meuse River, নেদারল্যান্ডের একটি নদী এবং Sauros বা লিজার্ড বা গিরগিটি থেকে); দুবোয়া বহুবার এখানকার বিভিন্ন গুহায় এসে ফসিলে সন্ধান করেছেন। এছাড়া সেই সময় তারা নানা প্রজাতির গাছ আর প্রানীর নাম তার জানা ছিল। ছোটবেলাতে বাবার অনুপ্রেরনায় তিনি তার সংগ্রহ করা নানা প্রজাতির গাছের শুকনো নমুনা, সামুদ্রিক ঝিনুক, পাথর, নানা ধরনের প্রানীদের মাথার খুলি, পোকা মাকড় দিয়ে তৈরী করেছিলেন একটা কিউরিওসিটি ক্যাবিনেট।</p>
<p>দুবোয়ার যখন দশ বছর বয়স, তখন তিনি  জার্মান জীববিজ্ঞানী কার্ল ভোট ( Carl Vogt) তার ধারাবাহিক বক্তৃতার একটা সিরিজ এর (<em>Lectures on Man: his Place in Creation and in the History of the Earth</em> ) কথা শুনেছিলেন, তৎকালীন ডাচ সমাজে যা নানা বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। ডারউইনের নতুন তত্ত্বের একজন দৃঢ় সমর্থক কার্ল ভোট গ্রহন করে নিয়েছিলেন তৎকালীন সমাজের একটি বিতর্কিত ধারনা : মানুষ প্রানী জগতেরই অন্য যে কোন প্রানীর মতই একজন সদস্য, এর বাইরে কিছু বিশেষ কিছু না।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/h4220148-carl_vogt_german_naturalist-spl.jpg"><img class="alignnone  wp-image-1684" title="H4220148-Carl_Vogt,_German_naturalist-SPL" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/h4220148-carl_vogt_german_naturalist-spl.jpg?w=299&#038;h=369" alt="" width="299" height="369" /></a><br />
ছবি: <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Karl_Vogt">কার্ল  ভোট</a> ( জার্মান সুইস জীববিজ্ঞানী, বিবর্তন বাদের সমর্থক, রাজনীতিবিদ। ৫ জুলাই ১৮১৭ &#8211; ৫ মে  ১৮৯৫); ডারউইন তার The Descent of Man এর ভুমিকায় কার্ল  ভোটের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। (<a href="http://www.sciencephoto.com/image/229101/large/H4220148-Carl_Vogt,_German_naturalist-SPL.jpg">ছবি সুত্র</a>)</p>
<p>কাছাকাছি শহর রোরমন্ডে একটি হাই স্কুলে বারো বছর বয়সে তাকে পাঠানো হয় হাইস্কুল শেষ করার জন্য। সেখানে ন্যাচারাল হিস্ট্রিরিতে দুবোয়ার প্রতিভা স্কুলের শিক্ষকদের চোখ এড়ায়নি। এখানে থাকতেই ডারউইনের বিবর্তন ত্ত্ত্ব সংক্রান্ত কার্ল ভোটের লেকাচার তিনি একাগ্রচিত্তে  শুনেছিলেন। এ বিষয়ে তার আরো পড়াশুনা মানুষের বিবর্তন সম্বন্ধে ডারউইন, হাক্সলী এবং হেকেল এর ধারনাগুলো তার চিন্তাজগতে একটা স্থায়ী জায়গা করে নেয়। দুবোয়ার হাইস্কুলে বিজ্ঞানের শিক্ষকই তাকে পরিচিত করিয়ে দিয়েছিলেন ডারউইন, হাক্সলী এবং হেকেল এর বিভিন্ন লেখার সাথে, যেখান খেকে প্রকৃতিতে মানুষের অবস্থার সম্বন্ধে দুর্দান্ত সব বৈপ্লবিক ধারনাগুলোর সুত্রপাত হয়েছে।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">সব প্রশ্নর প্রশ্ন: হাক্সলি এবং হেকেল</span></p>
<p>ডারউইন এবং ওয়ালেস ইতিমধ্যেই the mystery of mysteries বা সব রহস্যের রহস্য সমাধান করে ফেলেছেন, সুতরাং দুবোয়া নজর দিলেন থমাস হাক্সলী যা বলেছেন তার ১৮৬৩ সালের Evidence as to Man&#8217;s place on Nature বইটিতে, সেই দিকে : মানবজাতির জন্য সব প্রশ্নের প্রশ্ন -যে সমস্যা সব অন্য আর সব সমস্যার মুল কারন এবং অন্য যে কোন কিছুর চেয়ে বেশী কৌতুহলোদ্দীপক, সেটি হচ্ছে &#8211; প্রকৃতিতে যে জায়গাটা মানুষ অধিকার করে আছে ,সেই জায়গাটিকে  সুচিহ্নিত করা, এবং অন্য সবকিছুর সাথে তার সম্পর্কটা ব্যাখ্যা করা।</p>
<p>হাক্সলীর এই বইটাতেই প্রথমবারের মত বিস্তারিতভাবে মানুষের জৈববৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়, বিশেষ করে এইপ এবং প্রথম মানুষের জীবাশ্মর (নিয়ানডারথাল) মধ্যে তুলনামুলক অ্যানাটোমি গবেষনার নতুন উদীয়মান ক্ষেত্র থেকে আসা তথ্যের আলোকে। বিষয়টি হাক্সলীর বিশেষ আগ্রহের সাথে অনুসরন করছিলেন। চার্লস ডারউইন  নিজে মানুষের উৎপত্তি এবং তার বিবর্তনের ইতিহাসের বিষয়টি স্পষ্ট হবে ভবিষ্যতে, এভাবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে বিষদ কোন আলোচনাকে ইচ্ছা করেই এড়িয়ে গেছেন, কারন তার মনে হয়েছিল (এবং ধারনাটা সঠিক ছিল) এমনিতেই মানুষের বিবর্তনের মত স্পর্শকাতর বিষয় উল্লেখ করা ছাড়াই তার অসাধারন ত্ত্ত্বটিকে অনেক বাধাই অতিক্রম করতে হবে। কিন্তু হাক্সলে, ডারউইন যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই তার সকল উৎসাহ নিয়ে শুরু করেছিলেন এবং সমস্যাটির সরাসরি মুখোমুখি হলেন প্রথম।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/sir_thomas_henry_huxley.jpg"><img class="alignnone  wp-image-1686" title="Sir_Thomas_Henry_Huxley" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/sir_thomas_henry_huxley.jpg?w=340&#038;h=446" alt="" width="340" height="446" /></a><br />
ছবি: <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Thomas_Henry_Huxley">থমাস হেনরী হাক্সলী </a>(৪ মে ১৮২৫ -২৯ জুন ১৮৯৫) :  ইংলিশ জীববিজ্ঞানী। ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বের প্রধান সমর্থক ছিলেন। তাকে বলা হতো Darwin&#8217;s Bulldog, ১৮৬০ সালে  সাম্যুয়েল উইলবারফোর্সের সাথে বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে তার বিখ্যাত বিতর্ক ডারউইনের তত্ত্বকে আরো বেশী বিজ্ঞানীদের মেনে নেবার ক্ষেত্রে ভুমিকা পালন করেছিল। (<a href="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/2/2e/T.H.Huxley%28Woodburytype%29.jpg">ছবিসুত্র</a>)</p>
<p>অন্য কোন গ্রহের প্রানী যেমনটা  করবে, হাক্সলি তার পাঠকদের কাছে অনুরোধ করলেন,তারাও যেন সেরকমই আবেগবর্জিত, নৈর্ব্যাক্তিক, প্রানীবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোন থেকে মানব জীববিজ্ঞানকেও পর্যবেক্ষন করেন:</p>
<p>Let us&#8230; disconnect our thinking selves from mask of humanity; let us imagine ourselves scientific Saturnians, if you will, fairly acquainted with such animals as now inhabit the Earth and employed in discussing the relations they bear to a new and singuar &#8220;erect and featherless biped&#8221;, which some enterprising traveller overcoming the difficulty of space and gravitation has brought from the distant planet for our inspection,well preserved, may be in a cask of rum.</p>
<p>তারপরে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন :</p>
<p>&#8230;is man so different from any of these Apes that he must form an order by themselves? Or does he differ less from them than they differ from one another and hence must he take his place in the same order with them?</p>
<p>হাক্সলী তার পাঠকদের অনুরোধ করেন:</p>
<p>Being happily free from al real or imaginary, personal interest in the results of the inqury thus set foot, we should proceed to weigh the argument on one side and on the other, with as much as judicial calmness as if question related to a new Opossum.</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/800px-huxley_-_mans_place_in_nature.jpg"><img class="alignnone  wp-image-1687" title="800px-Huxley_-_Mans_Place_in_Nature" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/800px-huxley_-_mans_place_in_nature.jpg?w=637&#038;h=381" alt="" width="637" height="381" /></a><br />
ছবি: হাক্সলীর  <em><a title="Evidence as to Man's Place in Nature" href="http://en.wikipedia.org/wiki/Evidence_as_to_Man%27s_Place_in_Nature">Evidence as to Man&#8217;s Place in Nature</a></em> (1863): বইটির সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন ডায়াগ্রাম। মানুষের কংকালের সাথে এইপদের কংকালের তুলনা করা হয়েছে। একদম বায়ে গিবনের আকারটি দ্বিগুন স্কেলে দেখানো হয়েছে। ছবি: উইকিপিডিয়া।</p>
<p>দুবোয়া হাক্সলী পড়ার সময় বুঝতে পেরেছিলেন এই judicial calmness এর বেশ অভাব আছে। মানুষের শরীর, ব্রেন নিয়ে হাক্সলীর আলোচনা প্রানীবিজ্ঞানের মানুষের অবস্থানের স্বপক্ষে কেস তৈরী করলেও, তিনি জীবাশ্ম থেকে পাওয়া নতুন প্রমান তার যুক্তিতে যোগ করেছিলেন। তখন, কেবল জার্মানীতে খুজে পাওয়া নিয়ানডারথাল  এর জীবাশ্ম এবং বেলজিয়াম থেকে পাওয়া জীবাশ্ম মাথার খুলির কিছু টুকরো , যার সাথে ছিল বিলুপ্ত ম্যামথ বা লোম সহ গন্ডারের দেহাবশেষ,  হাক্সলী মতে যেগুলো মানুষের প্রাচীনত্বর ব্যাপারটিকে সুস্পষ্টভাবেই প্রমান করেছে।</p>
<p>বিষয়টা নিয়ে অবশ্য অনেকের সন্দেহও ছিল, আর প্রায়ই প্রাচীন মানুষের এই ধারনাগুলোর বিরোধীতাগুলো ছিল  খুবই আক্রমনাত্মক। বিরোধীদের একজন বিখ্যাত জার্মান প্যাথলজিষ্ট রুডলফ ফিরকোহ (Rudolph Virchow) নিয়ানডারথাল জীবাশ্ম পর্যবেক্ষন করে মন্তব্য করেন, জীবাশ্মে যে অস্থির স্বতন্ত্র বৈশিষ্টগুলো দেখা যাচ্ছে তা আসলে আধুনিক কোন মানুষের যার হয়তো কোন অসুখের কারনে এই পরিবর্তনগুলো হয়েছে (যেমন রিকেট), এটা অবশ্যই কোন স্বতন্ত্র জাতের বা প্রজাতির মানুষ নয়। খুব প্রভাবশালী এই জার্মান প্যাথলজিষ্ট ( যাকে একসময় Pasha of German Science বলা হতো) ডারউইনের মতবাদ বিরোধী ছিলেন।</p>
<p>কিন্ত হাক্সলের লেখায় অনুপ্রানিত দুবোয়ারে সেই The question of questions বা সব প্রশ্নের প্রশ্ন ‘র ব্যপারে আরো উৎসাহিত করে আরেক বিখ্যাত জার্মান ভ্রুনতত্ত্ববিদ আর্নষ্ট হেকেল এর দৃষ্টিভঙ্গী (আর্নেষ্ট হেকেল এর অসংখ্য গুনাবলীর মধ্যে একটি হলো তিনি খুব চমৎকার ছবি আকতে পারতেন, তার আকা ইলাসট্রেশন একটি বই <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Kunstformen_der_Natur">All forms of Nature</a>, এছাড়া তিনি প্রথম Ecology শব্দটারও প্রচলন করেছিলেন)। ১৮৬৮ সালে হেকেলের তার Histroy of creation বইটিতে  খুব সরল এককোষী পুর্বসুরী থেকে শুরু মানুষের উৎপত্তির একটি ধারনা তুলে ধরেন। হাক্সলীর পর্যবেক্ষনের উপর ভর করেই, হেকেল সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন যে অভিযোজনের কথা উল্লেখ করেন, যা কিনা তার মতে মানুষকে অন্য প্রানী থেকে আলাদা করেছে: সেগুলো হল, দুই পায়ে ভর করে সোজা হয়ে হাটা এবং স্বতন্ত্র ধ্বণি ও সুস্পষ্ট শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে কথা বলার ক্ষমতা। হেকেল বলেন এই অনন্য বৈশিষ্টগুলো মানুষ অর্জন করেতে সক্ষম হয়েছে ‍দুটি প্রধান বাহ্যিক প্রকৃতির বা মরফোলজিক্যাল পরিবর্তনের জন্য: দুজোড়া হাতপা এবং স্বরযন্ত্র বা ল্যারিংস এর বিশেষায়িতকরনের  মাধ্যমে। হেকেল এখানে সাহসী একটি প্রস্তাব করেন: মানুষ কথা বলার বহু আগেই দুই পায়ে ভর করে হাটতে শিখেছে, এবং তিনি মনে করেন মানুষের পুর্বপুরুষদের বিবর্তনের প্রক্রিয়ায় নিশ্চয়ই সে রকম একটি পর্যায় আছে, যার নাম তিনি দেন Speechless man (বাকক্ষমতাহীন মানুষ বা Alalus) অথবা এই্প-ম্যান (Ape-man বা Pithecanthropus)। যার শরীরের গঠন মানুষের মতই সকল আব্যশকীয় বৈশিষ্ট সহ, শুধুমাত্র তখনও মনের ভাব আদান প্রদানে সে ভাষার ব্যবহার করার ক্ষমতা অর্জন করতে উঠতে পারেনি।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/449px-ernsthaeckel.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1691" title="449px-ErnstHaeckel" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/449px-ernsthaeckel.jpg?w=490" alt=""   /><br />
</a>ছবি: <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Ernst_Haeckel">আর্নেষ্ট হেকেল  </a>( ফেব্রুয়ারী ১৬, ১৮৩৪ -আগষ্ট ৯ ১৯১৯) ;  বিখ্যাত জার্মান জীববিজ্ঞানী যিনি অসংখ্য প্রজাতি আবিষ্কার এবং নামকরন করেছিলেন। ভ্রুণতত্ত্ব নিয়ে গবেষনা আছে তার। বিবর্তন তত্ত্বে স্বপক্ষে অনেক গবেষনামুলক প্রমান তিনি জড়ো করেছিলেন। অসাধারন <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Kunstformen_der_Natur">ছবি </a>আকতে পারতেন। প্রথম বারের মত Ecology র ব্যাখ্যা্ দেন। দুবোয়া তার ক্যারিয়ারের শেষের দিকে ইকোলজী সংক্রান্ত কিছু মৌলিক গবেষনা করেছিলেন।(<a href="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/7/71/ErnstHaeckel.jpg/220px-ErnstHaeckel.jpg">ছবি সুত্র</a> )</p>
<p>হেকেল কিংবা হাক্সলী কেউই জার্মানীর ডুসেলডর্ফের নিয়ানডার উপত্যাকায় একটি গুহায় খুজে পাওয়া নিয়াসডার্থাল মানুষকে, মানুষ এবং এইপের মধ্যবর্তী ‍বা ইন্টারমিডিয়েট প্রজাতি হিসাবে ভাবেননি। হাক্সলী তার বইটি শেষ করেন একটি স্বপ্ন দিয়ে :</p>
<p>Where, then, must we look for primaeval man? …. In older strata do the fossilized bones of an Ape more anthropoid (like a human) or a Man more pithecoid ( ape like), than any yet known await the researches of some unborn paleontologist?  Time will show ;</p>
<p>হাক্সলীর সেই জীবাশ্মবিদ তখন অজাত ছিলেন না, কারন এই লেখার সময় তার (দুবোয়া) বয়স ছিল মাত্র ছয়, যে লেখা পরবর্তীতে তরুন দুবোয়া নতুন করে পড়েন এবং তার নিয়তির ডাকটিতে শুনতে পান। বহুবার এই বইটি পড়ে ১৮ বছরের দুবোয়া সিদ্ধান্ত নেন, তার বাবার মত ফার্মাসিস্ট না, তিনি হাক্সলীর স্বপ্ন দেখা সেই জীবাশ্মবিদ হবেন।</p>
<p>কিন্তু তখন প্রায় কোথাও আলাদা করে জীববিজ্ঞানের বিষয়গুলো পড়ার সুযোগ তেমন করে গড়ে ওঠেনি , শুধু চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেই সেই সুযোগটা ছিল কারন এর প্রথম বছরটি পুরোপুরি নিবেদিত ছিল প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের নানা বিষয়ের অধ্যয়ন।  যদিও তার বাবা চেয়েছিলেন ছেলে তার মত ফার্মাসিস্ট হয়ে পারিবারিক ব্যবসা দেখাশুনা করবে। কিন্ত‍ু দুবোয়া মেধা দেখেই  তার শিক্ষকরা তাকে ১৮৭৭ সালে অ্যামস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়ার জন্য ভর্তি হতে উৎসাহিত করেন। এছাড়া দুবোয়া নিজেই্ তখন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞান পড়বেন। কারন এছাড়া প্রাকৃতিক বিজ্ঞান পড়ার আর কোন ভালো সুযোগ নেই।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">অ্যামস্টারডাম:</span></p>
<p>১৮৭৭ সালে ১৯ বছরের দুবোয়া আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন। প্রথম বর্ষেই দুর্দান্ত সব শিক্ষক পেলেন, পদার্থবিদ ভ্যান ডার ভালস (১৯১০ এ নোবেল জয়ী), রসায়নবিদ ভ্যান্ত হোফ ( রসায়নে প্রথম নোবেল জয়ী), এবং বিখ্যাত ‌উদ্ভিদবিদ ও প্রথম প্রজন্মের জীনবিজ্ঞানী হুগো দ্য ভ্রিস ( ‍  যিনি মেন্ডেলের বংশগতির উপর গবেষনাটাকে নতুন করে আবিষ্কার করেছিলেন, অনেকের মত তিনিও তখন মেন্ডেলের গবেষনার কথা জানতেন না, জেনেটিক্সে ব্যবহৃত মিউটেশন শব্দটি তিনি প্রথম ব্যবহার করেন ও মিউটেশন নির্ভর একটি বিবর্তন তত্ত্বর প্রবক্তা ছিলেন, তার প্রস্তাবিত প্যানজিন শব্দটাই পরে সংক্ষেপিত হয় জিন এ)।</p>
<p>তরুন দুবোয়া প্রায়ই তার শিক্ষক হুগো দ্য ভ্রিস এর সাথে মানুষের বিবর্তন নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্কে জড়িয়ে পড়তেন। কিন্তু মেডিকেল পড়তে গিয়ে খু্ব দ্রুতই দুবোয়া বুঝতে পারলেন চিকিৎসা পেশায় আসলে তার তেমন কোন আগ্রহ নেই; কিন্তু ডারউইনের মত তিনি পুরোপুরি চিকিৎসা বিজ্ঞান পড়াশুনা ছেড়ে দিলেন না। খুব পরিশ্রম করে পড়াশুনা শেষ করলেন এবং যথারীতি প্রতিটা বিষয়ে অসাধারন হলো তার রেজাল্ট। তরুন এই চিকিৎসকের মেধাকে সাথে সাথেই মুল্যায়ণ করা হলো, ১৮৮১ সালে বিখ্যাত গবেষক এবং অ্যানাটমিষ্ট ডাঃ ম্যাক্স ফুরব্রিঙ্গার দুবোয়াকে তার সহকারী হবার প্রস্তাব দিলেন।</p>
<p>এটা দুবোয়ার জন্য অত্যন্ত্ সৌভাগ্যের  একটি ব্যাপার ছিল, ফুরব্রিঙ্গার নিজেও তার প্রশিক্ষন পেয়েছিলেন বিখ্যাত হেকেলের কাছ থেকে। ফুরব্রিঙ্গারই দুবোয়াকে পদন্নোতির ব্যপারে সাহায্য করলেন, প্রথমে  অ্যাসিস্ট্যান্ট, এরপর অ্যানাটমি কোর্সে পড়ানো দায়িত্ব বা প্রোসেক্টর এর পদ, সেখান থেকে দ্রুত লেকচারার; এভাবে খুব দ্রুত ২৮ বছরের দুবোয়া পৌছে গিয়েছিলেন  সবার আরাধ্য পদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো প্রফেসরশীপ পাবার মাত্র একধাপ নীচে। এই সময়টাতে দুবোয়া তার নিজের স্বতন্ত্র  একটি গবেষনা শুরু করেন, বিভিন্ন প্রানীদের স্বরযন্ত্রের তুলনামুলক গঠন নিয়ে, যে অঙ্গটি মানুষের কথা বলার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট এবং ক্ষমতার জন্য দায়ী। এ বিষয়ে তিনি এর মধ্যে একটি গবেষনা পত্র লিখেও ফেলেছিলেন, কিন্ত্‍ু এ বিষয়ে আর বেশী গবেষনা তার করা হয়নি, বেশ কিছু ঘটনা খুব শীঘ্রই তাকে বাধ্য করে এই গবেষনা পরিত্যাগ করে, তার প্রতিশ্রুতিময় ক্যারিয়ার ফেলে ডাচ ইষ্ট ইন্ডিয়ার পথে যাত্রা করতে।</p>
<p>এর একটি কারন সম্ভবত দুবোয়া নিজেই অনুধাবন করেছিলেন তার ছাত্র পড়ানোর কাজটা তার খু্বই অপছন্দের, সাধারনত লেকচারের আগে তিনি এত বেশী নার্ভাস আর চিন্তিত থাকতেন, কারো সাথেতো কথা বলা দুরের কথা, কারো চেহারাও তিনি দেখতে চাইতেন না। দ্বিতীয়, গুরুত্বপুর্ন কারন হিসাবে মনে করা হয় তার মেন্টর ম্যাক্স ফুরব্রিঙ্গারের সাথে তার সম্পর্কের অবনতি। স্পষ্টতই দুবোয়া আত্নবিশ্বাসী এবং উচ্চভিলাষী ছিলেন, তার কাজের স্বীকৃতি পাবার জন্যও খুব ব্যস্তও ছিলেন তিনি। যখন তার স্বরযন্ত্র সম্বন্ধে গবেষনা পত্রটির প্রথম খসড়াটি ফুরব্রিঙ্গারকে পড়তে দেন, তার মেন্টর মন্তব্য করেন তিনিও  বেশ কিছু একই ধরনের পর্যবেক্ষন এর আগে করেছিলেন। দুবোয়া দুশ্চিন্তায় পড়ে যান, মৌলিকতার অভাবে হয়তো তার কাজের জন্য তিনি স্বীকৃতি নাও পেতে পারেন। তিনি নতুন করে আবার লেখাটি ড্রাফট করেন এবং একবার না বার বার এবং ফুরব্রিঙ্গারের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে তার মনে সন্দেহ বাড়তেই থাকে। তৃতীয়, কারনটি ঘটে একটি জীবাশ্ম আবিষ্কার ঘটনায়, যা আবার নতুন করে দুবোয়ার জীবাশ্মবিদ হবার স্বপ্নকে জাগিয়ে তোলে।</p>
<p>১৮৮৬ সালে বেলজিয়ামের নামুরের কাছে একটি গ্রাম স্পেই (Spy) এ দুই জীবাশ্মবিদ ম্যাক্সিমিন লোহেষ্ট এবং মার্সেল দ্য পুইট বেতশে অ রোশে ক্যাভার্ন বা গুহায় প্রায় ১৬ ফুট নীচে দুটি নিয়ানডার্থাল মানুষের প্রায় সম্পুর্ন জীবাশ্ম কংকাল উদ্ধার করেন। কোন সন্দেহ আর থাকে না যে এগুলো অনেক পুরোনো। এই আবিষ্কারটি এবং এর আগে পাওয়া প্রথম জার্মান নিয়ানডার্থাল কংকাল অসুস্থ কোন মানুষের কংকাল, ভিরকোহ’র সেই ধারনাটিকে পুরোপরি পরাস্ত করে। আধুনিক মানুষ থেকে খানিকটা আলাদা এই জীবাশ্মগুলো, তবে তারা এইপ বা এইপদের মতো পুর্বপুরুষ থেকে অনেক বিবর্তিত হয়েছে এ ব্যাপারে আর কোন সন্দেহ থাকেনা।</p>
<p>এই খবরগুলো দুবোয়াকে ভীষন অস্থির করে তোলো, অনেক সময় চলে যাচ্ছে, কেউ হয়তো সেই  এইপ আর মানুষের মিসিং লিঙ্ক খোজার পথে অনেকদুর এগিয়েও আছে, তাকে যদি এই আবিষ্কারটা করতে হয়, দ্রুত তাকে শুরু করতে হবে।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/eugene_dubois__anna_lojenga_1887.jpg"><img class="alignnone  wp-image-1694" title="Eugene_Dubois_&amp;_Anna_Lojenga_1887" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/eugene_dubois__anna_lojenga_1887.jpg?w=294&#038;h=526" alt="" width="294" height="526" /><br />
</a>ছবি: ১৮৮৭ সালে স্ত্রী আনার সাথে দুবোয়া। ছাত্র থাকা অবস্হায় দুবোয়া একটি আর্ট স্কুলে অ্যানাটোমি শেখাতেন। সেখানে ১৮৮৫ সালে আনার সাথে পরিচয়। ১৮৮৭ সালে তাদের বিয়ে হয়। (<a href="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/8/80/Eugene_Dubois_%26_Anna_Lojenga_1887.jpg">ছবিসুত্র</a>)</p>
<p><span style="color:#ff0000;"> ডাচ ইষ্ট ইন্ডিজ : সুমাত্রা</span></p>
<p>দুবোয়া মনস্থির করে ফেলেন সব কিছু ছেড়ে:, তার নিশ্চিৎ প্রফেসর হবার সুযোগ, অ্যানাটোমি ল্যাব, অধ্যাপনা, ফুরব্রিঙ্গার, অ্যামস্টারডামে স্বাচ্ছন্দ্য, তিনি মিসিং লিঙ্ক এর সন্ধানে বের হবেন। কিন্তু তখন সমস্যা একটা্, সেটা খুজতে তিনি যাবেন কোথায়?</p>
<p>অবশ্যই ইউরোপ না, কারন এখানে ইতিমধ্যেই নিয়ানডারথালদের জীবাশ্ম মিলেছে। দুবোয়া তার যুক্তি খুজলেন ডারউইনের The Descent of Man এ, সেখানে ডারউইন প্রস্তাব করেছিলেন, যেহেতু মানুষ তাদের লোমের আবরণ হারিয়ে ফেলেছে, তাদের উৎপত্তি নিশ্চয়ই হয়েছে ক্রান্তীয় কোন এলাকায় , কোন শীতল পরিবেশে না। সেক্ষেত্রে উত্তর আমেরিকা বাদ দেয়া যায়, বাকী থাকে  আফ্রিকা, এশিয়া এবং অষ্ট্রেলিয়ার কিছু অংশ। কিন্ত‍ু যেহেতু এইপ দের দেখা মেলে  ট্রপিক্যাল এলাকায়। ধারনা করা যায় মানুষের পর্বপুরুষের উৎপত্তি ঘটেছে তেমন কোন এলাকায়। যা আফ্রিকা বা এশিয়া ছেড়ে সারা পৃথিবীতে বিস্তৃত হয়েছে।</p>
<p>দুবোয়া জানতেন ডারউইন মানুষের উৎপত্তি হিসাবে আফ্রিকাকেই মনে করতেন কারন গরিলা আর শিম্পান্জ্ঞির সাথে মানুষের সাদৃশ্যতা।কিন্তু এশিয়াতে আছে গিবন আর ওরাং উটান এবং হেকেলের মতে গিবনই মানুষের সাথে বেশী সাদৃশ্য বহন করে। এছাড়া ইতিমধ্যেই ব্রিটিশ ভারতবর্ষে সিভালিক পাহাড়ে ( বর্তমান হিমাচল প্রদেশ) সিভালিক শিম্পান্জ্ঞি নামের একটি জীবাশ্ম এইপও আবিষ্কার করেছেন বৃটিশ ভুতত্ত্ববিদ রিচার্ড লিডেকার। এই আবিষ্কারগুলো যে স্তরে পাওয়া গেছে তাদের বয়স এবং স্থান দেখে ধারনা করা যায় এই সময়ের ভুত্বকের স্তরে এই ধরনের ফসিল পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া ডাচ জীবাশ্মবিদরা বলছেন, এই একই ডিপোসিট আছে বোর্নিও, সুমাত্রা বা জাভায়।</p>
<p>দুবোয়া ওয়ালেস লাইনের কথাও জানতেন। ওয়ালেস প্রানীদের ভৌগলিক বিস্তারের উপরও গবেষনা করেছিলেন; সেখান থেকে দুবোয়া জানতেন মালয় দীপপুন্জ্ঞের পশ্চিম পাশে যে প্রানী থাকে তাদের এশিয়ার মুল ভুখন্ডের প্রানীদের সাথেও মিল থাকার কথা, সুতরাং যা ভারতে পাওয়া গেছে তা এই দ্বীপগুলোতে পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া তখন পর্যন্ত যত মানুষের মত আদিপুরুষএর জীবাশ্ম আবিষ্কার হয়েছে তা হয়েছে পাহাড়ের গুহায়, আর দুবোয়া জানতেন সুমাত্রায় আছে অসংখ্য গুহা। সবশেষে খু্বই বাস্তবসম্মত একটি কারন তাকে তার গন্তব্য ঠিক করে দেয়, সুমাত্রা।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/wallacesline.gif"><img class="alignnone size-full wp-image-1696" title="wallacesline" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/wallacesline.gif?w=490&#038;h=341" alt="" width="490" height="341" /><br />
</a>ছবি : ডাচ ইষ্ট ইন্ডিজ ( বর্তমান মালয় আর্কিপেলাগো, ইন্দোনেশিয়া) <a href="http://www.convictcreations.com/aborigines/images/wallacesline.gif">ছবি সুত্র</a></p>
<p>সুমাত্রা তখন একটি ডাচ উপনিবেশ, সুতরাং সেখানে কিছু স্বদেশীর সঙ্গ মিলবে নিশ্চয়ই, হয়তো সরকারেরও সাহায্যও পাওয়া যেতে পারে তার জীবাশ্ম সন্ধানের অভিযানে। দুবোয়া প্রথমে এই প্রস্তাবটি ডাচ কলোনিয়াল অফিসের সেক্রেটারী জেনারেল বরাবর পাঠালেন, আরো উল্লেখ করলেন এ্ধরনের মিসিং লিঙ্ক এর সন্ধানে অভিযানে সফল হলে তা ডাচ বিজ্ঞানের জন্য বিরল সন্মান বয়ে আনবে, কিন্তু সেক্রেটারী জেনারেল দেরী করলেন না ফিরতি চিঠি দিতে, এধরনের কাল্পনিক কোন অভিযানকে পৃষ্ঠপোষকতা করা মত অর্থ কলোনিয়াল সরকারের নেই।</p>
<p>দুবোয়াকে তো তার পরিবারকে ভরনপোষন করতে হবে, সুতরাং এই অভিযানের অর্থই বা কিভাবে যোগাড় হবে। কিন্তু দুবোয়ার একটা দক্ষতা ছিল যা ডাচ কলোনীতে খুবই প্রয়োজন, সেটা হলো তার মুল পেশা চিকিৎসা বিজ্ঞান। চিকিৎসক দুবোয়া নাম লেখালেন ডাচ সেনাবাহিনীতে; তার চুক্তির মেয়াদ &#8230;. দীর্ঘ আট বছর। যোগ দেবার পর স্ত্রী আনা কে জানালেন ( ১৮৮৬ সালে আনা লোয়েঙ্গার সাথে তার বিয়ে হয়) আশ্চর্যজনকভাবে আনা তার স্বামীর এই আপাতদৃষ্টিতে পাগলামীটা পুর্ন সমর্থন জানালেন। বলাবাহুল্য দুবোয়ার বাবা মা, বা তার শশ্বুর শাশুড়ী এবং অন্যান্য কোন আত্মীয় সজনই তাকে সমর্থন দেয়নি। সবচেয়ে দু:খ পেলেন দুবোয়ার বাবা, এত উজ্জ্বল একটা ক্যারিয়ারকে এভাবে পায়ে মাড়িয়ে চলে যাবার জন্য। কিন্তু দুবোয়ার মন কেউ বদলাতে পারলেন না। অবশেষে সপরিবারে দুবোয়া সুমাত্রাগামী জাহাজে চড়ে বসলেন একদিন।</p>
<p>প্রায় ৪৩ দিন সমুদ্র যাত্রার পর ১৮৮৭ সালের ১১ ডিসেম্বর আমষ্টারডাম থেকে পাদাং এসে পৌছায় দুবোয়া পরিবার ( দুবোয়া, আনা এবং মারি) ; সুমাত্রায় নতুন করে সংসার গোছানোয় ব্যস্ত হয় আনা ( তখন আনা দ্বিতীয়বারের মত অন্তসত্ত্বা); দুবোয়া ডাচ সামরিক বাহিনীর চিকিৎসক হিসাবে তার কাজ শুরু করেন। সামরিক বাহিনীর হাসপাতালে রিপোর্ট করে দুবোয়া বুঝতে পারলেন, হল্যান্ড থেকে আসলে তিনি কত দুরে। এত রোগী এবং বিচিত্র অসুখ দেখবার অভিজ্ঞতা তার ছিল না। নানা ধরনের জ্বরের রোগী, ম্যালেরিয়া, টাইফাস, যক্ষা এবং আরো অনেক অজানা রোগের রোগীদের চিকিৎসায় ব্যস্ত হয়ে পড়লেন দুবোয়া। কাজের চাপ এত বেশী যে, দুবোয়া বুঝতে পারছিলেন না, কখন তিনি তার এখানে আসার প্রধান উদ্দেশ্য, জীবাশ্ম খোজার কাজটা শুরু করতে পারবেন।</p>
<p>কিন্তু আপাতত যেটা করলেন তাহলো, সুমাত্রায় আসার তার মুল উদ্দেশ্য যে মিসিং লিঙ্ক খোজা সে বিষয়টা তার সহকর্মীদের বোঝানোর জন্য একটি লেকচার তৈরী করলেন তার সব যুক্তি দিয়ে। এটাই পরে খসড়া হিসাবে ব্যবহার করেন  The Journal of The Natural Histroy of Netherlangds Indies একটি নিবন্ধের জন্য। আর্টিকেলটি তার এই অভিযানের স্বপক্ষে যুক্তি তো ছিলই, এছাড়া যোগ করেন একটা সাবধানবানী, যদি সরকার তার এই জীবাশ্ম সন্ধানে সহায়তা না করে, তবে সেই মিসিং লিঙ্ক খুজে পাবার সন্মান হয়তো জুটবে অন্য কোন জাতির।</p>
<p>সেনানিবাসের আশেপাশে দুবোয়ার সন্ধান খু্ব একটা ফলপ্রসু হলোনা, সুতরাং তিনি আর্মির কমান্ডের কাছে আরো দুরের দুর্গম কোন এলাকার হাসপাতালে বদলীর আবেদন করলেন, যেখানে আরো বেশী গুহা আছে সন্ধান করার জন্য এবং তুলনামুলকভাবে রোগীও হবে কম । আনা ততদিনে আট মাসের গর্ভবতী, আবার তাকে নতুন করে নতুন জায়গায় সংসার পাততে হলো। শুধু একটাই স্বান্তনা পাদাং অসহ্য গরমের এর চেয়ে নতুন এই পাহাড়ী অঞ্চলের আবহাওয়াটা বেশ আরামদায়ক। এই পাজাকামবো তে আনা আর দুবোয়ার প্রথম পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। রোগী কম থাকায় দুবোয়া তার জীবাশ্ম খোজার কাজটায় বেশী সময়ও দেবার সুযোগ পেলেন এবং এর ফলও পেলেন কিছু। লিডা আডজার নামে একটি গুহায় তিনি খুজে পেলেন গন্ডার, শুকর, হরিন, সজারু এবং আরো কিছু প্লাইস্টোসিন পর্বের প্রানীদের জীবাশ্মভুত হাড়।</p>
<p>এদিকে তার লেখা প্রবন্ধটি গভর্নরের নজরে এসেছে, যিনি তার কাজের জন্য বেশ কিছু শ্রমিকের ব্যবস্থা করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। দুবোয়া তার নতুন আবিষ্কারগুলোর কথা গভর্নরকে জানান। এদিকে দেশে তার কিছু সহকর্মীও সরকারকে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ জানান। ১৮৮৯ সালের মার্চে ডাচ সরকার দুবোয়াকে সাহায্য করার জন্য দুজন প্রকৌশলী আর ৫০ জন শ্রমিকের ব্যবস্থা করে দিলেন। দুবোয়ার মনে হলো এবার নিশ্চয়ই তার মিসিং লিঙ্ক খুজে পাওয়াটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।</p>
<p>কিন্তু দেখা গেলো সুমাত্রার বেশীর ভাগ গুহাই হয় খালি কিংবা জীবিত জন্তু জানোয়ারের বাস। একদিন দুবোয়া তার শ্রমিকদের একটা গুহার মধ্যে ঢোকার অনিচ্ছা দেখে নিজেই এর সরু মুখ দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করলেন, একটু ভিতরে ঢোকার পর পচা মাংশের গন্ধ আর মুত্রের তীব্র গন্ধ দেখে বুঝতে পারলেন এটা আসলে বাঘের গুহা, দুবোয়া তাড়াহুড়া করে বের হয়ে আসার চেষ্টা করলেন কিন্তু আটকে গেলেন এর সরু মুখে, শ্রমিকরা তাকে দ্রুত টেনে হিচড়ে বাইরে বের করে নিয়ে আসে। দুবোয়া এই ভয়ের অভিজ্ঞতা মন থেকে ঝেড়ে ফেললেন বটে কিন্তু সুমাত্রায় যে আরো ভয়ঙ্কর বিষয় আছে তার এড়াতে পারলেন না। বহুবার তার কাজের ব্যাঘাত ঘটেছে ম্যালেরিয়ার জন্য। তার অর্ধেক শ্রমিকদের ম্যালেরিয়া একেবারে কাজের অনুপযুক্ত করে দিল কয়েকদিনের মধ্যেই, আর কিছু শ্রমিক চাকরী ছেড়ে পালালো। তার দুই প্রকৌশলীর একজন মারা গেলেন ম্যালারিয়ায়। মাসের পর মাস কাটলো কোন সফলতা ছাড়াই।</p>
<p>টানা দুই বছর সুমাত্রায় কাটানোর পর লীডেনের ন্যাচারাল হিস্ট্ররী মিউজিয়ামের পরিচালককে চিঠিতে দুবোয়া লিখেছিলেন:  ”এখানে সব কিছুই মনে হচ্ছে আমার প্রতিকুলে চলে গেছে। আমার পক্ষ থেকে সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করে যেমনটা ভেবেছিলাম, তার একশ ভাগের একভাগও অর্জন করতে পারিনি। বেশ কিছু গুহা পেলেও যা খুজছি তা এখনও খুজে পাইনি। এছাড়া, মাঝে মাঝে জঙ্গলে  সপ্তাহর পর সপ্তাহ কাটাতে হয়, সাধারনত কোন ঝুলে থাকা পাথরের নীচে বা কোনমতে বানানো কুড়ে ঘরে, কিন্তু পরে বুঝতে পারছি , আমি আর সহ্য করতে পারছিনা এই  অবস্থা মেনে নিতে; প্রথম দিকে যদিও যে কোন কষ্ট সহ্য করতে পারতাম কিন্তু এই তিন বার জ্বরে ভোগার পর, যা প্রায় মেরেই ফেলেছিল আমাকে, সে অবস্থা থেকে কাজে ফিরে এসে মনে হচ্ছে আমাকে এসব চিরকালের জন্য ছাড়তে হবে” ।</p>
<p><span style="color:#ff0000;">জাভা ম্যান</span></p>
<p>আসলেই দুবোয়া তার পরিকল্পনা নতুন করে ভাবতে শুরু করলেন। এসময় কিছু ডাচ ভুতত্ত্ববিদের কাছ থেকে তিনি একটা ধারনা পান যে জাভার জীবাশ্মগুলো সম্ভবত সুমাত্রার জীবাশ্মগুলোর থেকে প্রাচীন হতে পারে। এছাড়া জীবাশ্ম হয়ে যাওয়া মানুষের মাথার খুলিও সেখানে কিছুদিন আগে পাওয়া গেছে এক পাথুরে গুহায়, দুবোয়ার মনে হলো জাভাই হয়তো তার কাঙ্খিত জীবাশ্ম খুজে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশী। দুবোয়া আবার জাভায় বদলীর জন্য আবেদন করলেন।</p>
<p>চার সদস্যর দুবোয়া পরিবার, আবার সব মালপত্র গুছিয়ে জাভায় উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। জাভার তোয়েলোয়েঙ্গ অ্যাগোয়েঙ্গ  (Toeloeng Agoeng) শহরে এসে নতুন করে শুরু হলো সংসার। আর্মি বেস থেকে অনেক দুরে থাকার কারনে দুবোয়া এবার পুরোটা সময় তার জীবাশ্ম সন্ধানের কাজে ব্যয় করতে পারলেন। এবারো তার কিছু শ্রমিক জুটলো এবং তাদের দেখাশোনা করার জন্য দুজন কর্পোরাল। ১৮৯০ সালের মাঝামাছি ওয়াড ইয়াকে (Wadjak) খননকাজ শুরু করলেন, যেখানে দুবছর আগে মানুষের মাথার খুলির একটি জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছিল।</p>
<p>খননের প্রায় সাথে সাথেই দুবোয়ার টীম নানা ধরনের প্রানীর জীবাশ্ম খুজে পেতে শুরু করলো, একটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া স্তন্যপায়ী প্রানী ( Rattus trinilensis), গন্ডার, অ্যান্টেলোপ, শুকর, বানর, আংশিক মানুষের খুলি।</p>
<p>এরপর দুবোয়া যে সিদ্ধান্তটি নিলেন সেটাই তার ভাগ্যের মোড় ঘুরিয়ে দিল।</p>
<p>তিনি  জীবাশ্ম খোজার পরিধিটা পাহাড়ের গুহা বা পাথরের আশ্রয় থেকে বাড়িয়ে নদীর পাড়কে অর্ন্তভুক্ত করলেন, কারন তখন শুষ্ক মৌসুম ছিল, পানির স্তর ছিল বেশ নীচে, নদীর পাড়ের স্তরগুলো সব উন্মুক্ত ছিল। পাহাড় এবং সোলো নদীর দুই পারে খোজা শুরু করার পর পরই দুবোয়ার টীম খুবই সমৃদ্ধ একটি ফসিলের স্তর খুজে পেলেন, যেখান নানা ধরনের প্রানী গন্ডার, শুকর, জলহস্তি , দু ধরনের হাতি, বড় কিছু বিড়াল জাতীয় প্রানী, কুমির, কচ্ছপ ইত্যাদি। এখানেই ১৮৯০ সালের ২৪ নভেম্বর, তার টীম দুটো দাত সহ মানুষের চোয়ালের একটা টুকরো খুজে পেলেন। ঠিকমত এটা শনাক্ত করা কঠিন ছিল এর অবস্হার কারনে, তবে আগামী বছরে নতুন করে আবার শুরু করার জন্য এটা ছিল বেশ উৎসাহব্যান্জ্ঞক ।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/trinil1894.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1700" title="Trinil1894" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/trinil1894.jpg?w=490&#038;h=359" alt="" width="490" height="359" /></a><br />
ছবি: ১৯০০ সালে তোলা ত্রিনিল জীবাশ্ম খনন সাইটের ছবি। বেনগাওয়ান সোলো নদী পাড়ে এখানে পাওয়া গেছে জাভা ম্যানের জীবাশ্ম ( <a href="http://www.natuurinformatie.nl/sites/nnm.dossiers/contents/i005522/trinil1894_400.jpg">ছবি সুত্র</a>)</p>
<p>দুবোয়ার বাসার বারান্দা ভরে উঠেছিল জীবাশ্মতে। তিনি তাদের ব্যাখ্যা এবং কোথায় কোথায় খুজে পাওয়া গেছে তার রেকর্ড তৈরী করার কঠিন কাজটা শুরু করেন। পরের বছর (১৮৯১) শুকনো মওসুমের কাজ শুরু হয় ত্রিনিল (Trinil) বলে একটি জায়গায়। শুরু করার পর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি তার টীম  প্রাইমেটের উপরের মাড়ীর তৃতীয় মোলার দাতটি (মাড়ির সবচেয়ে পেছনের দাত) খুজে পায়। দুবোয়ার প্রাথমিক ভাবে মনে হলো এটা শিম্পান্জ্ঞির মতই ( ভারতে শিবালিক হিলের লিডেক্কারের এর পাওয়া সেই জীবাশ্মর মত, ‍Anthropithecus sivalensis); দুবোয়ার হাতে তখন একটা দাত কেবল, কোন চোয়াল সেই ,তারপরও দুবোয়া বুঝতে পারলেন তার এই দাতটি লিডেক্কারের খুজে পাওয়া ফসিলের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম প্রাচীন। এছাড়া ত্রিনিলও খুবই  জীবাশ্ম সমৃদ্ধ এলাকা ছিল, আরো অনেক স্তন্যপায়ী প্রানীর জীবাশ্মও খুজে পাওয়া যায় এখানে। কিন্তু সবচেয়ে বড় আবিষ্কারটা হলো ঠিক তার পরের মাসে।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/veranda-met-hekje.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1701" title="veranda met hekje" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/veranda-met-hekje.jpg?w=490&#038;h=323" alt="" width="490" height="323" /></a><br />
দুবোয়ার বারান্দায় রাখা ত্রিনিল থেকে সংগ্রহ করা ফসিল ( <a href="http://www.natuurinformatie.nl/sites/nnm.dossiers/contents/i005522/veranda%20met%20fossielen.jpg">ছবি সুত্র</a>)</p>
<p>১৮৯১ এর অক্টোবর মাসে তার টীম ঠিক  ভুত্বকের যে স্তরে মোলার দাত খুজে পেয়েছিল, সেই স্তরেই বড় কোন নারিকেলের অর্ধেকটা মালার মত একটি হাড়ের টুকরো খুজে পায়, দুবোয়া তখন অন্য সাইটে কাজ করছিলেন।  যারা  এটি খুজে পায় তাদের প্রথমে মনে হয়েছিল এটি হয়তো বা কোন কচ্ছপের পিঠের শক্ত শেল বা যাকে বলে কারাপেইস, হতে পারে, বাকানো অবতলাকৃতির এবং গাঢ় বাদামী রঙ, পুরোপুরি জীবাশ্মীভুত।</p>
<p>জীবাশ্মটি দুবোয়ার হাতে পৌছানো মাত্র তিনি বুঝতে পারলেন এটি কোন কচ্ছপের কারাপেইস নয়, এটি কোন প্রাইমেট মাথার খুলির উপরিভাগ। একটি সুস্পষ্ট বো রিজ বা যেখানে ভ্রু থাকে তার একটা উচু দৃশ্যমান খাজ আছে শিম্পান্জ্ঞিদের মত, কিন্তু এটার গঠন দেখেই বোঝা যায়, শিম্পান্জ্ঞির তুলনায় আয়তনে বড় ব্রেন বা মগজ ধারন করতো। দুবোয়া বুঝতে পারলেন এটি কোন এইপের মাথার খুলির অংশবিশেষ। কিন্তু তা প্রমান করতে হলে তার একটি শিম্পান্জির মাথার খুলির নমুনা প্রয়োজন, তিনি ইউরোপ থেকে একটা নমুনা চেয়ে অনুরোধ পাঠালেন। পরে এই এলাকায় দুবোয়া আশা করেছিলেন আরো কিছু জীবাশ্ম তিনি পাবেন, কিন্তু ততদিনে খোড়া মওসুম প্রায় শেষ।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/e4380021-skull_cap_of_pithecanthropus_erectus_java_man-spl.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1702" title="E4380021-Skull_cap_of_Pithecanthropus_erectus,_Java_Man-SPL" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/e4380021-skull_cap_of_pithecanthropus_erectus_java_man-spl.jpg?w=490" alt=""   /></a><br />
ছবি: ত্রিনিলে দুবোয়ার খুজে পাওয়া <em>Pithecanthropus erectus</em> ( জাভা ম্যান, এখন Homo erectus) মাথার খুলির উপরের অংশ (Skull Cup);এটি এখন Trinil 2 , যা  Homo erectus এর ্ টাইপ স্পেসিমেন। <a href="http://www.sciencephoto.com/image/170921/large/E4380021-Skull_cap_of_Pithecanthropus_erectus,_Java_Man-SPL.jpg">ছবি সুত্র</a></p>
<p>এরপর দীর্ঘ সময় নিয়ে সব প্রটোকল মেনেই দুবোয়া বাড়িতে বসে এই নমুনাটি ধীরে ধীরে পরিষ্কার করা শুরু করেন, পুরো শীতকাল কেটে যায় বেশ কিছু খুলির নমুনাও সংগ্রহ করতে এবং তার নতুন আবিষ্কারের সাথে তাদের বিস্তারিত তুলনামুলক গঠনপরীক্ষা করেন। তার সাথে থাকা কাগজপত্র ঘেটেও আরো কিছু এইপ দের জীবাশ্মর সাথে এটি তুলনা করেন,যেমন ফ্রান্সে পাওয়া Oak Ape (Dryopithecus fontani) বা গিবনের মত <em>Pilopithecus antiquus</em>;  কিন্তু এদের থেকে তার খুজে পাওয়া মাথার খুলিটি অনেক বড়। তার মনে ধীরে ধীরে সন্দেহর দানা বাধতে থাকে।</p>
<p>১৮৯২ সালে মে মাসে ত্রিনিলে আবার খনন কাজ শুরু হয়। প্রথমে দীর্ঘ বর্ষায় জমা পলি সরিয়ে সেই জায়গা আরো মনোযোগ দিয়ে দুবোয়া তার টীম নিয়ে জীবাশ্ম খোজার চেষ্টা করেন,প্রায় দুই মাস ধরে এই প্লটের আশে পাশে খোজার পর জুলাই এর শেষে দুবোয়া ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তার ডায়রীতে লেখেন, “আমি আবিষ্কার করলাম, ম্যালেরিয়া আর স্বাস্থ্য সমস্যার কারনে, একমাত্র নরক ছাড়া জাভা তে জীবাশ্ম সন্ধানের জন্য এর চেয়ে বেশী অনুপযুক্ত জায়গা আর নেই ; এর পর পর আবার তার ভয়ঙ্কর জ্বর হয়।</p>
<p>কিন্তু এর পরের মাসে তার টীম আরেকটি অসাধারন জীবাশ্ম খুজে পেলেন, প্রায় সম্পুর্ন একটা উরুর হাড় ( বা পায়ের ফিমার); দুবোয়া সেটি হাতে পেয়ে প্রথম বারের মত তার এই পরিশ্রম সফল হয়েছে বলে অনুভব করলেন। তিনি দেখেই বুঝতে পারলেনি  এই উরুর হাড়টি গাছে চড়ে এমন কোন প্রানীর হতে পারেনা, এটা মানুষের মত। এখন তার কাছে তিনটি গুরুত্বপুর্ন নমুনা, একটি দাত (মোলার, মাড়ির পেছনের দাত), একটি খুলির উপরের অংশ বা স্কালক্যাপ, এবং উরুর একটি হাড় ( ফিমার); দুবোয়া বুঝতে পারলেন খুব কাছাকাছি জায়গা থেকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পাওয়া এই হাড়গুলো আসলে একজনেরই। উরুর হাড়টি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ,কারন এর বৈশিষ্ট বলছে এটি সোজা হয়ে দুপায়ে ভর দিয়ে হাটা কোন এইপের, সেকারনে একটি নতুন প্রজাতি, তিনি এর নাম দিলেন Anthropithecus erectus &#8211; সোজা হয়ে হাটা শিম্পান্জি।</p>
<p><em><span style="color:#ff0000;">Pithecanthropus erectus </span> </em></p>
<p>ত্রিনিলে বর্ষা শুরুর আগে আর কোন প্রাইমেট জীবাশ্ম পাওয়া গেল না। নভেম্বর তিনি খবর পেলেন ম্যাক্স ওয়েবার (যার কাছে তিনি একটি শিম্পান্জির মাথার খুলির নমুনা চেয়েছিলেন) বার্লিন থেকে তার জন্য একটা নমুনা সংগ্রহ করেছেন এবং তার কাছে সেটি পাঠানো হয়েছে। বাটাভিয়া ( বর্তমান জাকার্তা) থেকে আসা মেল ট্রেনের জন্য তার অপেক্ষা শুরু হলো। অবশেষে ডিসেম্বরের ১৮ তারিখ তিনি সেটা হাতে পেলেন। এবার তিনি গিবন, মানুষ আর শিম্পান্জির মাথার খুলির সাথে তার পাওয়া জীবাশ্ম খুলিটির তুলনামুলক গঠনের মুল অ্যানালাইসিসটি শুরু করলেন। <em></em></p>
<p>তার পাওয়া খুলিটি বাহ্যিক দিক থেকে শিম্পান্জির মত কিন্তু বড় পার্থক্য হলো এটা আকারে বেশ বড়। আর এই আকারটা প্রায় মানুষের মাথার খুলির কাছাকাছি, এইপ দের মত স্পষ্ট ভ্রুর উচু খাজ (Bow Ridge) থাকা সত্ত্বে, এর সাথে যদি ত্রিনিলে পাওয়া উরুর হাড়টাকে  চিন্তা করা হয়, তাহলে<em> </em>কি দাড়াচ্ছে? এই হাড়টির সাথে মানুষের উরুর হাড়ের ভীষন মিল। এর পরের কয় দিন দুবোয়া প্রায় সারাটা দিন ধরেই তার স্টাডিতে কাটালেন। ২৫ ডিসেম্বর, অবশেষে ভোর বেলা স্টাডি থেকে বের হয়ে এককাপ কফি বানিয়ে ফিরে আসেন ত্রিনিলের  জীবাশ্মটির কাছে এবং বলেন good moring, merry christmas to you; এর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই দু্বোয়া আর সব হিসার নিকাশ আবার ভালো করে পরীক্ষা করেন, এ কয়দিনে করা সব হিসাবে সাথে মিলে যায়,  এখন দুবোয়া নিশ্চিৎ, পেছনের বারান্দায় সকালের নাস্তা খেতে থাকা স্ত্রী আনাকেই প্রথম বলেন, কাজ শেষ আনা, আমি মিসিং লিঙ্ক খুজে পেয়েছি, ঐ হাড়গুলোই মিসিং লিঙ্ক।</p>
<p>খুব তাড়াতাড়ি তিনি তার আগে ক্লাসিআই করা <em>Anthropithecus erectus</em> এর ক্ষেত্রে তার ভুলটা বুঝতে পেরেছিলেন; খুব চমৎকার একটা ভুল। মাথার খুলির আকৃতি দেখে, তিনি প্রথমবার এই খুলি যে ব্রেন কেস তৈরী করে আর সেখানে যে ব্রেন ধারন করতে পারে তার সম্ভাব্য যে হিসাব করেছিলেন, তার পরিমান ছিল ৭০০ ঘন সেমি, যা শিম্পান্জির চেয়ে বড় ( ৪১০ ঘন সেমি) কিন্তু মানুষের চেয়ে ছোট ( প্রায় ১২৫০ ঘন সেমি); কিন্তু তার প্রথম হিসাবটি আসলে ঠিক মত করা হয়নি, পরে যখন আবার হিসাব করলেন, দেখলেন এই পরিমানটি হবে প্রায় ১০০০ ঘন সেমি, যা যেকোন এইপ এর চেয়ে আকারে বড়, এবং যদিও পুরোপুরি না তবে প্রায় মানুষের সমান।</p>
<p>দুবোয়া সিদ্ধান্তে আসলেন তার জীবাশ্মটি না এইপ, না মানুষ, বরং সোজা হয়ে দু পায়ে হাটা মানুষ এবং এইপ এর মধ্যবর্তী একটি প্রজাতি। এবং দুবোয়া অবশেষে মিসিং লিঙ্ক টা খুজে পেলেন।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/506px-pithecanthropus-erectus.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1703" title="506px-Pithecanthropus-erectus" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/506px-pithecanthropus-erectus.jpg?w=490&#038;h=581" alt="" width="490" height="581" /><br />
</a>ছবি: ত্রিনিলে খুজে পাওয়া <em>Pithecanthropus erectus</em> এর জীবাশ্ম হাড় গুলোর ড্রইং ( স্কাল ক্যাপ, উরুর হাড় বা ফিমার, মাড়ির পেছনের একটি দাত বা মোলার ) <a href="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/c/c0/Pithecanthropus-erectus.jpg/300px-Pithecanthropus-erectus.jpg">ছবি সুত্র</a></p>
<p>সবকিছু ছেড়ে ডাচ ইষ্ট ইন্ডিজ এর আসার পাচ বছর, দুই সপ্তাহ এবং তিন দিন পর, অসংখ্য গুহা সন্ধান করে, বাঘের হাত থেকে জান বাচিয়ে, বেশ কয়বার ম্যালেরিয়ায় ভুগে অবশেষে দুবোয়া তার আরাধ্য মিসিং লিঙ্ক খুজে পেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন এটি সম্পুর্ন নতুন একটি প্রজাতি এবং একটি  ট্রানজিশনাল ফর্ম, যা মানুষ আর এইপ এই দুই গ্রুপকে যোগ করেছে। সুতরাং তিনি আর এখন ফসিলটিকে Anthropithecus erectus বলতে পারেন না। তিনি আর্নেস্ট হেকেলের দেয় সম্ভাব্য মিসিং লিংক এর নামটাই বেছে নিলেন, Pithecanthropus, কিন্তু প্রজাতির নাম কি হবে, হেকেলে  alalus বা বাকক্ষমতাহীন শব্দটা নিয়ে ভাবলেন, কোন প্রমান তার কাছে নেই এরা কথা বলতে পারতো কিনা, তিনি উরুর হাড়ের বৈশিষ্ট দেখেই সিদ্ধান্ত নেন, তিনি এর নাম রাখবেন erectus,  Pithecanthropus erectus  বা সোজা হয়ে হাটা এইপ ম্যান। জন্ম হলো জাভা ম্যানের।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color:#ff0000;">প্রতিক্রিয়া: </span></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/dscf6173.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1716" title="DSCF6173" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/dscf6173.jpg?w=490" alt=""   /></a><br />
ছবি: ১৮৯৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, দুবোয়া  ত্রিনিলে যেখানে <em>Pithecanthropus erectus </em>এর জীবাশ্ম পাওয়া যায়, সেখানে এই মনুমেন্টটি  তৈরী করেছিলেন। এখানে লেখা আছে P. e (<em>Pithecanthropus erectus ) </em>175 m ONO 1891/95 বা এখান থেকে ১৭৫ মিটার উত্তর পুর্বে <em>Pithecanthropus erectus</em>  জীবাশ্ম পা্ওয়া গিয়েছিল ১৮৯১ থেকে ১৮৯৫ সালের মধ্যে। মনুমেন্টটি এখনও আছে। সুত্র: ( সুত্র: Pat Shipman এর The man who found the missing link )</p>
<p>এবার তার আবিষ্কারের কথা সারা পৃথিবীকে জানাতে হবে।  <em></em></p>
<p>পুরো ব্যাপারটা হলিউডের সিনেমার মত হতে পারতো, দুবোয়ার সাহসী জুয়া, ভেঙ্গে পড়া স্বাস্থ্য, কঠিন শ্রম, তার পরিবারের অসংখ্য ত্যাগ পুরষ্কৃত হলো সৌভাগ্য  এবং তার আরাধ্য বস্তুটি অর্জনের মাধ্যমে, এরকম কিছু দেখে আমরা সিনেমা শেষে  হল থেকে হাসিমুখে বের হয়ে আসতাম। আমরা জানতাম সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের প্রশংসা আর স্বীকৃতি কোনটারই্ অভাব হবে না এখন তার। কিন্তু সেরকম কিছুই আসলে হয়নি। <em></em></p>
<p>মিসিং লিঙ্ক খুজে পাওয়ার দাবী করতে হলে দুবোয়া ও তার ফসিলকে অনেক সমালোচনা মুলক নিরীক্ষার ঝড় সহ্য করতে হবে। এর কিছুটা অবশ্যই ভালো, সৎ বৈজ্ঞানিক আলোচনা, যেমনটা হওয়া উচিৎ, এবং বাকিটা অন্যরকম। <em></em></p>
<p>প্রায় পুরো ১৮৯৩ সাল জুড়ে দুবোয়া Pithecanthropus erectus  এর একটি বিস্তারিত বিবরণ দাড় করাবার চেষ্টা করলেন।  তিনি প্রথমে ভাবলেন জাভাতে তার কাজের ‍উপর বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক লেখা লিখবার জন্য, যার একটি অংশে থাকবে জাভার এই এইপ ম্যান। কিন্তু তা করলে হলে তাকে বহু জীবাশ্ম ঘাটতে হবে যা এতদিন সংগ্রহ করেছেন তিনি, কয়েক হাজার তো হবেই। কিন্তু কাজ শুরু করার পর সিদ্ধান্ত নেন, তার প্রধান জীবাশ্মটির দিকেই তার পুরো মনোযোগ দেয়া উচিৎ। মোট ৩৯ পাতার একটি রিপোর্ট তৈরী করেন Pithecanthropus এর উপর, যোগ করেন নমুনাগুলির ফটোগ্রাফ, ডায়াগ্রাম এবং বিভিন্ন এইপ দের মাথার খুলির সাথে এর বিস্তারিত তুলনামুলক আলোচনা। <em></em></p>
<p>দুবোয়া যে বিষয়েরে উপর জোর দিলেন তা হল, এই তিনটি নমুনা মোটামুটি কাছাকাছি পাওয়া গেছে এবং এ্ক্ি স্তরে এবং তার দৃঢ় বিশ্বাস এই তিনটি নমুনাই একজনের কাছ থেকে এসেছে। মাথার স্কাল ক্যাপটি পরীক্ষা করে তিনি বলেন, এর মানুষ এবং এইপ দুটির বেশ কিছু বৈশিষ্টিই আছে, এছাড়া  আয়তনে বড় একটা ব্রেনকে এটি ধারন করে। উরুর হাড় দিয়ে তিনি যুক্তি দেন, Pithecanthropus erectus মানুষ যেভাবে দুপায়ে ভর করে হাটে তেমন করেই হাটতো এবং শরীরের আকার এবং ওজনও প্রায় এক, সবমিলিয়ে তার খুজে পাওয়া এ্ইপ ম্যানটি তার নাম যেমন বলছে এইপ এবং মানুষের মধ্যবর্তী একটি প্রজাতি। তিনি লিখলেন : Pithecanthropus erectus হলো ট্রানজিশনাল একটি রুপ, যা, বিবর্তনের তত্ত্বানুযায়ী মানুষ এবং অ্যানথ্রোপয়েড এর মধ্যে যার অবশ্যই একটা অস্তিত্ব ছিল: সে মানুষের পুর্বপুরুষ। <em></em></p>
<p>দুবোয়া বাটাভিয়া (বর্তমান জাকার্তা) থেকেই তার লেখাটি প্রিন্ট করলেন এবং ১৮৯৪ সালের শেষের দিকে লেখাটি ইউরোপ পৌছালো। ইউরোপ থেকে প্রতিক্রিয়া পেতে তাকে বেশী দিন অপেক্ষা করতে হয়নি, কিন্তু যা তিনি আশা করেননি, তাই হলো; অনেকদিক থেকেই সমালোচনা আসলো। একজন জার্মান অ্যানাটোমিষ্ট বললেন মাথার খুলির অংশটা কোন এইপ এর আর উরুর হাড়টা অবশ্যই কোন মানুষের, তিনি দুবোয়াকে একটি ফসিল গিবন আর মানুষের প্রাচীনত্ব প্রমানের ক্রেডিট দিলেন শুধু। জার্মান বিজ্ঞানের পুরোধা ব্যাক্তি রুডলফ ফিরকোহ ও বললেন দুবোয়ার দাবী অবশ্যই সঠিক নয়, এটি কোন গীবনের জীবাশ্ম মাত্র এবং অবশ্যই মিসিং লিঙ্ক এর প্রশ্নই এখানে আসেনা। অন্য সমালোচকরা বিষয়টিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা দিলেন, যেমন সিভালিক হিলে শিম্পান্জি যিনি আবিষ্কার করেছিলেন, লীডেকার, তিনি nature  জার্নালে লিখলেন এটি  কোন মাইক্রোসেফালিতে আক্রান্ত মানুষ ( মাইক্রোসেফালী হলে মাথার খুলি ও ব্রেনের আকৃতি একজায়গায় এসে স্থির হয়ে যায়); কেউ কেউ দাবী করলেন হয়তো কোন আদিম মানুষের কোন একটি জাতি। অবশ্য অল্প কিছু ব্যতিক্রমও আছে যুক্তরাষ্ট্রের জীবাশ্মবিদ ও সি মার্শ এর মতে, দুবোয়া তার স্বপক্ষে যথেষ্ট প্রমান দিয়েছে। এবং অবশ্যই আর্নেষ্ট হেকেল, দুবোয়াকে সমর্থন করেন। <em></em></p>
<p>কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ট মতামতই ছিল দুবোয়ার বিপক্ষে; কিছু কিছু মন্তব্য ছিল খুবই কষ্টদায়ক। হাজার হাজার মাইল দুরে, ভয়াবহ কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে আসল আবিষ্কার করছেন দুবোয়া, আর অন্যদিকে ইউরোপের এই সব অ্যাকাডেমিকরা তাদের স্বাচ্ছন্দময় অফিসে বসে, জীবাশ্মটি না দেখেই পাতার পর পাতা যে একমাত্র মানুষটি ফসিলটি দেখেছেন আর অ্যানালাইসিস করেছেন তাকে সমালোচনা করে যাচ্ছেন সামান্যতম সহানুভুতি ছাড়াই। দুবোয়া মর্মাহত হলেন। তিনি ব্যাপারটি দেখলেন  ঈর্ষা হিসাবে, যেহেতু তিনিই মিসিং লিঙ্কটা আবিষ্কার করেছেন এখন তারা উঠে পড়ে লড়ছে তার প্রাপ্ত স্বীকৃতিটা তার কাছ থেকে কেড়ে নিতে।  <em></em></p>
<p><span style="color:#ff0000;">ইউরোপ:</span></p>
<p>দুবোয়া তার সমালোচনাকারীদের সন্দেহর মুখোমুখি হতে ই্উরোপ ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন আট বছরের প্রবাস জীবন শেষে।  দুবোয়ার কাছে তখন ৪১৪টি কাঠের বাক্স ভরা প্রায় ২০,০০০ নানা ধরনের প্রানীদের জীবাশ্ম। শুধু দুটো বিশেষভাবে বানানো কাঠের বাক্সে রাখা তার  মহামুল্যবান Pithecanthropus erectus এর জীবাশ্ম যা তিনি বাটাভিয়া থেকে মার্সেই পর্যন্ত  জাহাজে এবং সেখান থেকে ট্রেনে অ্যামস্টারডাম, সারাক্ষনই নিজের হাতেই রাখলেন। <em></em></p>
<p>এই ছয় সপ্তাহর যাত্রা পথে মানসিক এবং কৌশলগত দুভাবেই দুবোয়া প্রস্তুত হলেন তার ধারনা প্রতিষ্ঠা করার আসন্ন যুদ্ধের জন্য। কিন্তু তার আগে প্রকৃতি তাকে আরেকটা চ্যালেন্জ্ঞ ছুড়ে দিলেন, ভারত মহাসাগরে ঝড়ের কবলে পড়লো তার জাহাজ; জাহাজ ছাড়তে হতে পারে বলে ক্যাপ্টেন সবাইকে লাইফবোটে ওঠার নির্দেশ দিলেন, তাড়াহুড়া করে লাইফবোটে বসার পর হঠাৎ দুবোয়ার খেয়াল  হলো কেবিন থেকে তার Pithecanthropus এর কাঠের বাক্সটা আনা হয়নি। তার মনে হলো যদি তিনি এটা হারান তাহলে তার হাতে প্রমান করার কিছুই থাকবে না, তার এতদিনের পরিশ্রম ব্যর্থ হবে, সব নির্দেশ উপেক্ষা করে আবার জাহাজের কেবিনে ছুটলেন, শুধু আনাকে বললেন লাইফবোট যদি পানিতে নামিয়েই ফেলে, তিনি যেন তাদের বাচ্চাদের দেখেন। তিনি তার জীবাশ্মটাকে আগে রক্ষা করবেন। <em></em></p>
<p>সৌভাগ্যক্রমে ঝড় কেটে যায়, আগষ্ট মাসে প্রথম দিকে দুবোয়া পরিবার মার্সেই হয়ে নেদারল্যান্ডে পৌছান। দুবোয়ার এই দেশে ফেরাটা তার জন্য সুখকর ছিল না, জাভাতে থাকাকালীন সময় তার বাবা মারা যান, তিনি তার ছেলের এই পাগলামীর পরিনতি দেখে যেতে পারেননি, তার মাকে দুবোয়া যখন কাঠের বাক্সে Pithecanthropus এর জীবাশ্মগেুলো দেখান, তার মার মন্তব্য ছিল, but boy, what use of it? দুবোয়ার জার্নাল ছাড়া সেই রাতে তার মার কথায় তিনি যে তীব্র কষ্ট পেয়েছিলেন, তা আর কেউ জানেনি, এমনকি আনাও। এটাই দুবোয়া তার জীবনের শ্রেষ্টতম মুহুর্ত হবে বলে মনে করেছিলেন।  দুবোয়া মার প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি। এই একই প্রশ্ন তো আর সমালোচকরাও তো করছে। বাবা নেই, নিজের এক সন্তানকে জাভাতে হারিয়েছেন, দুবোয়ার বাকী ছেলেমেয়েরা অচেনা তাদের পিতামহীর কাছে, দুবোয়া মনে মনে ভাবলেন, না মা, তোমার কাছে এর কোন মুল্যই নেই।</p>
<p>পরের দিন ব্যক্তিগত সমস্ত কষ্টকে উপেক্ষা করে দুবোয়া তার আবিষ্কারের সমালোচকদের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলেন। পরবর্তী কয়েক বছর তিনি সারা ইউরোপের প্রধান প্রধান ইন্সস্টিটিউটগুলোতে তার জীবাশ্ম গুরুত্ব এবং তারা অ্যানালাইসিসে যথার্থতা নিয়ে ক্যাম্পেইন করে গেলেন। তার প্রথম সুযোগটা এসেছিল নিজ দেশে লিডেনে অনুষ্ঠিত হওয়া  International Congress on Zoology তে। অনেক গন্যমান্য বিজ্ঞানীদের সেখানে ছিলেন, তার প্রধান সমালোচক রুডলফ ফিরকোহ  ছিলেন এই অনুষ্ঠানের সভাপতি। দুবোয়া জানতেন ফিরকোহ সামনে কিছু বলতে হলে তাকে তার সেরা ফর্মে থাকতে হবে, জাভার ফসিল সম্বন্ধে ফিরকোহ আগেই মন্তব্য করেছিলেন, fantasy..beyond all experience;  দুবোয়া বুদ্ধিমানের মতই কোন ব্যক্তিগত আক্রমনে গেলেন না, বরং যৌক্তিক বৈজ্ঞানিক যে প্রশ্নগুলো তার ফসিল সম্বন্ধে উঠেছিল , তার উত্তরগুলোই শুধু দিলেন। তিনি স্বীকার করলেন তার প্রথম ৩৯ পৃষ্ঠার মনোগ্রাফটি এর ব্যাখার জন্য হয়তো যথেষ্ট ছিল না, সুতরাং তিনি বিস্তারিত ভাবে কোন স্তরে জীবাশ্মটি ছিল, এবং আর কি কি প্রানীর ফসিল সেখানে আবিষ্কৃত হয়েছে তার ব্যাখ্যা দেন।  তিনি উরুর হাড়ের মানুষের মত বৈশিষ্ট, মাথার খুলির আকার এবং এর ধারন ক্ষমতা প্রায় যে মানুষের কাছাকাছি ইত্যাদি বিস্তারিত আলোচনা করেন।</p>
<p>প্রভাবশালী ফিরকোহ তার অবস্থান থেকে একটুও নড়লেন না তবে  উপস্থিত অনেকেই প্রথম রিপোর্টের কিছু অসঙ্গতি দুর হয়েছে বলে মনে করলেন। সবচেয়ে বড় সুবিধাটা হলো আরো অনেক প্রভাবশালী বিজ্ঞানীরা তার ফসিলটাকে ভালো করে পর্যবেক্ষন করার সুযোগ পান। এদের কেউ কেউ দুবোয়ার ফসিলের গুরুত্বটা বুঝতে পারেন। প্যারিসে তার সবচেয়ে বড় মিত্র হন Ecole d&#8217; Anthropologie এর বিখ্যাত অধ্যাপক লেওনসে পিয়ের মানৌউভরিয়ে।  এরপর তিনি এডিনবরা এবং ডাবলিনের সম্মেলনে আরো কিছু মিত্র পান।  কিন্তু তার সমালোচকের সংখ্যাই ছিল বেশী।</p>
<p>কিছু পুরষ্কার ও স্বীকৃতিও পান এ সময়ে, গ্রেট ব্রিটেইনে এবং আয়ারল্যান্ডের অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সোসাইটি তাকে সন্মানিত সদস্যপদ দেয়, ১৮৯৬ সালে প্যারিস থেকে পান ব্রোকা পুরষ্কার (Prix Broca)। এ সময় ডাচ সংসদের একটি আইন পাশের মাধ্যমে তাকে হারলেম এর টাইলার (Tyler) মিউজিয়ামের জীবাশ্মবিদ্যার কিউরেটর নিযুক্ত করা হয়।</p>
<p>তার আবিষ্কৃত জীবাশ্মটির মিসিং লিঙ্ক স্বীকৃতি তখনও মেলেনি। তার এইপ ম্যানের জন্য দুবোয়া ক্রমাগত বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ লিখে যেতে থাকেন। ১৮৯৮ সালের আগষ্ট এর ২৮ তারিখ জীববিজ্ঞানে মহারথীরা যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজে জড়ো হলেন International Congress of Zoology র জন্য। এখানে দুবোয়ার সমর্থক, ভিন্নমত পোষনকারী এবং এখনও সিদ্ধান্ত নেননি এমন অনেকেই ছিলেন। আর্নেষ্ট হেকেল, ততদিনে বিবর্তন জীববিজ্ঞানের একজন বর্ষীয়ান পুরোধা ব্যাক্তিত্ব মঞ্চে উঠলেন ঠিক দুবোয়ার বক্তৃতার আগে। এবং তার অসাধারন বাগ্মীতা দিয়ে সমর্থন করলেন দুবোয়ার মিসিং লিঙ্ক Pithecanthropus কে  এবং সেই সাথে ধারালো যুক্তি দিয়ে পরাভুত করলেন বিবর্তন বিরোধী ফিরকোহ এবং আরো যে কয়জন ফিরকোহ সমমনা ছিলেন, তাদের সবাইকে। তিনি দৃঢ় কন্ঠে দুবোয়াকে Pithecanthropus সুযোগ্য আবিষ্কারক বলে সম্ভাষন জানালেন। তার ভাষায় যে (দুবোয়া) সুস্পষ্টভাবে প্রমান করেছে তার প্রস্তাবিত মিসিং লিঙ্ক এর বিশেষ গুরুত্ব। হেকেল যে অসাধারন কাজটি করলের দুবোয়া বিস্ময়ের সাথে তা দেখতে লাগলেন। হেকেলের প্রধান নিশানা ছিল আসলে জার্মান প্যাথলজিষ্ট ফিরকোহ, কেমন করে বিভিন্ন বিজ্ঞানীরা ফিরকোহ র প্রতিটি ধারনার বিপক্ষে অসংখ্য প্রমান সংগ্রহ করে তাকে বারবার ভুল প্রমান করেছে, এছাড়া কেমন করে তিনি একসময় নিয়ানডারথাল আর পরে Pithecanthropus কে মানতেই চাননি, উড়িয়ে দিয়েছেন প্যাথলজিক্যাল প্রোডাক্ট হিসাবে, তা সবই মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করেন হেকেল;  হেকেল সুস্পষ্ট ভাবে বলেন আসলেই এই প্রভাবশালী জ্ঞানী প্যাথলজিষ্ট সব ধরনের অর্গানিক বৈচিত্রতাকে প্যাথলজিক্যাল বলে আখ্যা দিয়ে যাচ্ছেন বহুদিন ধরেই। হেকেল আরো বলেন গত ত্রিশ বছর ধরে জার্মান বিজ্ঞানের প্রভাবশালী এই ব্যাক্তিটি  ডারউইনের বিরোধিতা করাটাকেই তার জীবনের একমাত্র ব্রত হিসাবে গ্রহন করেছেন, এবং বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে দাবী করে আসছেন মানুষ এইপদের থেকে নিশ্চয়ই বিবর্তিত হয়নি, যখন প্রায় সমস্ত বিশেষজ্ঞর, যাদের বিচার বিবেচনা করার ক্ষমতা আছে, তারা এর ভিন্নমত পোষন করছেন।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/e4380061-head_of_java_man_pithecanthropus-spl.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1712" title="E4380061-Head_of_Java_Man,_Pithecanthropus-SPL" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/e4380061-head_of_java_man_pithecanthropus-spl.jpg?w=490" alt=""   /></a><br />
ছবি: জাভা ম্যান বা Pithecanthropus এর মাথার একটি রিকনস্ট্রাকশণ ) <a href="http://www.sciencephoto.com/image/170960/large/E4380061-Head_of_Java_Man,_Pithecanthropus-SPL.jpg">ছবি সুত্র</a></p>
<p>হেকেলের আক্রমন যতই আনন্দের হোক না কেন, দুবোয়ার যুদ্ধ তখনও শেষ হয়নি। দুবোয়া ক্রমাগত ভাবে তার Pithecanthropus পক্ষে বিজ্ঞানীদের সমর্থণ অর্জনের নানা পথ খুজতে লাগলেন। তিনি  যুক্তির স্বপক্ষে তার নতুন গবেষনা, প্রানীদের দেহের আকৃতি এবং তাদের ব্রেনের আয়তনের তুলনামুলক গবেষনার ফলাফল সামনে নিয়ে আসেন। তিনি প্রায় সমস্ত স্তন্যপায়ী প্রানীদের ক্ষেত্রে এই দুটি প্যারামিটারের একটি গানিতিক মডেল প্রতিষ্ঠা করেন। এই ডাটা থেকেই  তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন কোন এইপ দের ব্রেনের আয়তন ১০০০ ঘন সেমি হতে পারে? তার হিসাব অনুযায়ী এ ধরনের এইপের ওজন হবে প্রায় ৫০০ পাউন্ড। কিন্তু তার পাওয়া উরুর হাড় বা ফিমারের মাত্রানুযায়ী দেখা যায় এটা মাত্র ১৬০ পাউন্ড ওজনের কোন প্রানীর ভার সহ্য করতে পারে। সুতরাং ব্রেনের আকারই বলে দিচ্ছে তা কোন এইপের হওয়া সম্ভব না এবং আবার এটি অবশ্যই ১৬০ পা্উন্ড ওজনের একটি মানুষের ব্রেনের আয়তনের তুলনায় কম। এটি অবস্থান এইপ এবং মানুষের মাঝামাঝি, যেমন গত পাচ বছর ধরে তিনি বলে আসছেন, Pithecanthropus ই মানুষ এবং এইপদের মাঝামাঝি একটা অবস্থান।</p>
<p>১৮৯৯ সালে পরিস্থিতি আরো খারাপ হলো, দুবোয়ার অল্প কিছু জার্মান সমর্থকদের একজন গুস্তাভ শোয়ালবে, যিনি ফিরকোহ র  দুবোয়ার প্রতি সমালোচনার জবাব দিয়েছিলেন।  এর কৃতজ্ঞতা স্বরুপ তিনি শোয়ালবেকে তার জীবাশ্মগুলো পর্যবেক্ষন করার সুযোগ দেন। কিন্তু শোয়ালবের পরিকল্পনা ছিল অন্যরকম। কিন্তু শোয়ালবে দুবোয়ার ফসিল নিয়ে বিনা অনুমতি দু্বোয়াকে কোন স্বীকৃতি না দিয়ে বিশাল দুটি প্রবন্ধ লেখেন তার চিঠিতে তিনি দুবোয়াকে তার প্রতিদ্বন্দী হিসাবে চিহ্নিত করেন। দুবোয়া এই বিশ্বাসঘাতকতায় হতবাক হয়ে যান।</p>
<p>ইতিমধ্যে তার ইষ্ট ইন্ডিজ যাত্রার প্রায় একযুগ পেরিয়ে গেছে। এই বছরগুলোয় তার ফসিল খোজার পরিশ্রম, এরপর এর স্বীকৃতির জন্যেএকের পরে এক যুদ্ধ ততদিনে দুবোয়াকে শরীরে মনে অসুস্থ্য করে ফেলেছে। তিনি এই জীবাশ্ম নিয়ে যুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে পড়লেন, এছাড়া তার মনে হলো তার যা বলার ছিল সবই বলা হয়ে গেছে। এছাড়া শোয়ালবের দুটি বিশাল প্রবন্ধ ছাড়াও ততদিনে এই ফসিল নিয়ে বিভিন্ন গবেষকদের প্রায় ৮০ টি প্রকাশনা হয়ে গেছে। উনবিংশ শতাব্দীর জীবাশ্মবিদ্যার সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন আবিষ্কারটি গুরুত্ব সবাই ধীরে ধীরে বুঝতে পারলেও এর আবিষ্কারক ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। আর একটুও ধৈর্য্য তার মধ্যে ছিলনা। কেউই তার আত্মত্যাগ, তার প্রতিভাকে মুল্যায়ন করেনি। শোয়ালবে যখন তার ফসিল নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করে সেদিন থেকে দুবোয়া আর কাউকেই কোনদিন বিশ্বাস করেনি, যার জন্য তাকে সমালোচিত হতে হয়েছে আমৃত্যু।</p>
<p>তার আগে তিনি তার ফসিল সবাইকে দেখিয়েছেন,  এমনকি যাকে বিশ্বাস করা উচিৎ না তাদেরকেও, তিনি ত্রিনিলের জীবাশ্ম স্তর এমনভাবে দেখিয়েছেন যে একটা শিশুও বুঝতে পারে, তিনি পরিশ্রম করে নানা পরিমাপের মাধ্যমে ব্রেনের সাইজ নির্নয় করেছেন, অথচ কেউই তা বুঝতে চায়নি। একসময় দুবোয়ার মনে হলো, তার এই জীবাশ্ম সম্বন্ধ নতুন করে আর কিছু বলার নেই। তিনি হয়তো সবাইকে তার মতের পক্ষে আনতে পারেননি, কিন্তু অনেককে পেরেছিলেন, সেটাই ছিল তার স্বান্তনা। সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছেন মানুষের বিবর্তনের ইতিহাসে Pithecanthropus এর গুরুত্ব এবং প্যালিওঅ্যানথ্রোপলজীর ইতিহাসে তার দাবীটুকু প্রতিষ্ঠিত করতে।</p>
<p><em><span style="color:#ff0000;">Homo erectus</span></em></p>
<p>১৮৯৯ সালে অ্যামস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসাবে নিযুক্তি পান দুবোয়া, তার অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তাটা দুর হয় খানিকটা, কিন্তু মনে শান্তি ছিল না। ধীরে ধীরে লেখা কমিয়ে দিলেন। নিজেকে আর তার প্রিয় জীবাশ্মটিকে নিয়ে  সবার চোখের আড়ালে চলে যেতে চাইলেন। কিন্তু ১৯০০ সালে ডাচ সরকার প্যারিসের ওয়ার্ল্ড এক্সপো তে Pithecanthropus এর ফসিল বা এর কোন কাষ্ট ডাচ ইষ্ট ইন্ডিজের প্যাভেলিয়নে প্রদর্শণ করার জন্য দুবোয়াকে অনুরোধ করে। এটা হবে একটি জাতীয় গর্ব। দুবোয়া আরো মনে দু:খ পেলেন, বৈজ্ঞানিক সমাজ যা বোঝেনি, সাধারন মানুষ তা দেখে কি বুঝবে, কেমন করেই বা তা জাতীয় গর্ব হয়। অনিচ্ছুক দুবোয়া তারপর একটা দারুন পরিকল্পনা হাতে নেন,  তিনি তার Pithecanthropus erectus এর একটি পুর্নসাইজের মুর্তি বানাবেন, জাভাতে একসময় যে রকম ছিল জাভা ম্যান; দুবোয়ার ড্রইং এর হাত ছিল খু্ব ভালো; বাসার ছাদের ঘরে লোহার ফ্রেমের উপর কাদা মাটির উপর প্লাস্টার অব প্যারিসের কাষ্ট দিয়ে তিনি জাভা ম্যানের একটি মুর্তি বানান, তারপর ওরাং উটানের মতো চামড়ায় বাদামী রং আর চুলের লাল রং করেন। এর মডেল ছিল তার বড় ছেলে জ্যাঁ। প্যারিসে পাঠানোর আগে এর নাম দিলেন Piet ।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/e4380030-java_man_homo_erectus_-spl.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1699" title="E4380030-Java_Man_Homo_erectus_-SPL" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/e4380030-java_man_homo_erectus_-spl.jpg?w=490" alt=""   /><br />
</a>ছবি: দুবোয়ার বানানো জাভা ম্যানের মডেল Piet (১৯০০ সালে প্যারিসে ওয়ার্ল্ড এক্সপোর জন্য); <a href="http://www.sciencephoto.com/image/170930/large/E4380030-Java_Man_Homo_erectus_-SPL.jpg">ছবি সুত্র</a></p>
<p>১৯০০ সালের প্রথম দিকে দুবোয়া Tyler মিউজিয়ামের নিজের বিশেষ আলমারীতে Pithecanthropus erectus ফসিলটি বন্দী করে রাখেন ১৯২৩ সাল পর্যন্ত। এ সময়ে দুবোয়া অন্য বিষয় নিয়ে গবেষনা শুরু করেন। আর্নেষ্ট হেকেলের প্রস্তাবিত নতুন ক্ষেত্র  ইকোলজী, প্যালিওক্লাইম্যাটোলজী এবং ইকোসিস্টেম বিষয়গুলোর জন্মলগ্নের বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ণ গবেষনা করেন। প্রকৃতি এবং পরিবেশ রক্ষা সংক্রান্ত গবেষনার প্রথম দিককার পাইওনিয়ার ছিলেন তিনি।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/450px-duboissafe-petermaas-naturalis.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1704" title="450px-DuboisSafe-PeterMaas-Naturalis" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/450px-duboissafe-petermaas-naturalis.jpg?w=490" alt=""   /></a><br />
ছবি: দুবোয়া এই সেফ এ তার বিখ্যাত জাভা ম্যানের জীবাশ্ম টি রেখেছিলেন। নেদারল্যান্ড এর লীডেনে  National Museum of Natural History তে বর্তমানে এই টাইপ স্পেসিমেনটি আছে। ( <a href="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/e/e5/DuboisSafe-PeterMaas-Naturalis.jpg/450px-DuboisSafe-PeterMaas-Naturalis.jpg">ছবি সুত্র</a>)</p>
<p><span style="color:#ff0000;">দুবোয়ার লিগেসী:   </span></p>
<p><span style="color:#ff0000;"><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/dubois.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1709" title="Dubois" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/dubois.jpg?w=490" alt=""   /></a><br />
</span><span style="color:#333333;">ছবি: ১৯২৮ সালে দুবোয়ার সত্তরতম জন্মদিনে আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয় ফ্রান্স ওয়েরডারকে তার এ্ই প্রতিকৃতিটি আকার জন্য নিযুক্ত করেছিল।( <a href="http://www.fisfar.ufc.br/seara/images/e/e4/Dubois.jpg">ছবি সুত্র</a>)           </span></p>
<p>কিন্তু দুবোয়ারও পুরোপুরি জানা হয়নি তার এই আবিষ্কারের সত্যিকারের গুরুত্ব।</p>
<p>পরের দশকগুলোতে তাকে অনুসরন করে আরো অনেক জীবাশ্মবিদ এশিয়ায় গেছেন প্রাচীন মানুষের জীবাশ্ম সন্ধানে। তাদের সন্ধান প্রমান করেছে দুবোয়ার এই ফসিল খুজে পাওয়াটাই কি ভীষন ব্যতিক্রম একটি ঘটনা ছিল, কারন একই জায়গায় বেশীর ভাগ অভিযানই প্রাচীন মানুষ বা হমিনিডদের ফসিল খুজে পেতে ব্যর্থ হয়েছিল। ডাচ এবং প্রুশিয়ানদের ত্রিনিল অভিযান আর কিছু পায়নি, পরে চীন ও মঙ্গোলিয়ায় আমেরিকার ন্যাচারাল হিস্টি মিউজিয়ামে প্রা্য় একযুগ ব্যাপী স্থল নির্ভর সবচেয়ে বড় ফসিল অভিযানেও কোন হমিনিড এর ফসিল আবিষ্কৃত হয়নি (যদিও তাদের অন্য দুর্দান্ত কিছু সাফল্য ছিল, সেটা আরেক কাহিনী)।</p>
<p>১৯২০ দশকের শেষে ডেভিডসন ব্ল্যাক  বেইজিং  এর কাছাকাছি  পিকিং ম্যান এর ফসিল পান( যার নাম দেয়া হয় Sinanthropus pekinensis); যার বৈশিষ্ট্য দুবোয়ার Pithecanthropus এর মত। পরে জাভাতে জার্মান ডাচ জীবাশ্মবিদ র‌্যালফ ফন কোয়েনিগসভাল্ড ইষ্ট ইন্ডিজ এ আরো ফসিল পান, যা তিনি চিহ্নিত করেন  Pithecanthropus হিসাবে। ১৯৩৯ সালে ফন কোয়েনিগসভাল্ড ডেভিডসন ব্ল্যাক এর উত্তরসুরী ফ্রান্জ ভাইডেনরাইখ এর সাথে দেখা করেন, দুজনে পিকিং ম্যানের ফসিলের সাথে জাভার ফসিলের তুলনা করে বুঝতে পারেন এরা একই প্রজাতি সদস্য। ১৯৫০ সালে দুটি ফসিল হমিনিডকে এক করে নতুন করে নাম করণ করা হয় Homo erectus; দুবোয়ার মাথার খুলিটা এখন পরিচিত Trinil 2 হিসাবে, এটি হচ্ছে Homo erectus এর টাইপ স্পেসিমেন &#8211; বা মুল স্পেসিমেন যার উপর ভিত্তি করেই এই নতুন প্রজাতির বিবরণ।</p>
<p>দুবোয়া খুব জোরালো প্রতিবাদ জানান, তার মতে পিকিং ম্যান আধুনিক মানুষের বেশ কাছের একটি প্রজাতি এবং তার Pithecanthropus ই হলো একমাত্র আসল মিসিং লিংক ( এইপ এবং মানুষ)</p>
<p>দুবোয়ার অবশ্য জানার কোন উপায় ছিলনা যে ভবিষ্যতে যখনই কোন হমিনিড ফসিল আবিষ্কার হয়েছে, মানুষের বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় তাদের অবস্থান নিয়ে বিতর্কের তার মতই ঝড় সামাল দিতে হয়েছে তার আবিষ্কারককে।</p>
<p>দুবোয়ার আবিষ্কারের আরো কিছু প্রভাব আছে, পরবর্তীতে দুবোয়ার Pithecanthropus এর প্রাচীনত্ব বিবেচনা করে বেশীর ভাগই নৃতত্ত্ববিজ্ঞানী প্রথম দিকে মনে করতেন মানবজাতির সুচনা হয়েছে এশিয়ায়, আফ্রিকায় নয়, ডারউইন যা মনে করতেন। এ কারনে যে হয়েছিল ১৯২০ এর দশকে (১৯২৬) দক্ষিন আফ্রিকায় আরো প্রাচীন হমিনিডদের আবিষ্কার  ( Australopithecus) প্রথম বিজ্ঞানীরা গ্রাহ্যই করেননি। ১৯৬০ দশকের প্রথম দিকে যখন আরো প্রাচীন Homo erectus এবং আরো কিছু প্রজাতির হমিনিডদের ফসিল মেলে তখন আবার মানুষের উৎপত্তির কেন্দ্র এশিয়া থেকে আবার আফ্রিকায় ফিরে আসে। এবং আরো অনেক নতুন প্রযুক্তির ( যা গত শতাব্দীর বিখ্যাত জীবাশ্ম বিজ্ঞানীরা কখনো কল্পনাই করতে পারতেন না ) ব্যবহার আমাদের আরো কাছে নিয়ে চলেছে হাক্সলীর সব প্রশ্নের প্রশ্নর উত্তরের কাছাকাছি।</p>
<p>দুবোয়ার যে অবদানের কথা অনেকেই জানেন না তা হলো ‍তিনি প্রথম বারের মত মানুষের ‍বিবর্তনের বিষয়টি কে বৈজ্ঞানিক সমাজের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। রেকর্ড ইঙ্গিত করছে তার গবেষনা এবং অধ্যবসায়  এই বিতর্কিত বিষয়টিতে ব্যাপক কৌতুহলের জন্ম দেয়। তার ৩৯ পাতার প্রথম রিপোর্টটি অনেকেই কোন মুল্য দেননি সেই সময়, কিন্তু এটি প্রথম বারের মত সুস্পষ্ট ইঙ্গিত করেছে এটি এইপ এবং মানুষের মধ্যবর্তী একটি  প্রজাতি। কোন আদিম মানুষের জাত নয়। সেই দুর প্রাচ্যে বসে তিনি প্রথমবারের মত মানুষের জীবাশ্ম  অ্যানালাইসিসে প্রথম ধারনাগত ফ্রেমওয়ার্কটি তৈরী করেন, আজো তা ব্যবহৃত হচ্ছে যে কোন হমিনিড ফসিলের গবেষনায়। আসলেই এটি ছিল একটি অসাধারন কাজ।</p>
<p>তাহলে দুবোয়া কেন বেচে থাকতে বঞ্চিত হয়েছিলেন? তার সংক্ষিপ্ত রিপোর্টটি, যার বিরুদ্ধে সমালোচনা হয়েছে প্রচুর, এই সমালোচনা উপেক্ষা করেছে তার রিপোর্টটির প্রকৃত মুল্য।</p>
<p>তার আরেকটি অসাধারন কাজ ছিল তার শরীরের আকৃতি আর ব্রেনের আয়তনের সম্পর্ক নিয়ে গবেষনা,  যা পরবর্তীতে জীববিজ্ঞানের সুবিশাল Allometric studies  এর পুর্বসুরী। ১৯৩০ এবং ১৯৪০ এর দশকে দুবোয়ার এই গবেষনা ( cephalization)  সমালোচনার স্বীকার হয়ে পরিত্যক্ত হয়েছিল, ১৯৭৩ সালে হ্যারি জেরিসন আবার তা জীববিজ্ঞানের কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত করেন তার বই Evolution of the brain and intelligence এ।</p>
<p>ট্র্যাজিক্যালী দুবোয়ার দৃঢ় ব্যাক্তিত্ব, দ্রুত রেগে যাবার প্রবনতা তারে সুনামকে ক্ষুন্ন করেছে। দুবোয়া জীবনে যাই করেছেন, সেই কাজটি এত একাগ্র চিত্তে আর তীব্র আবেগ নিয়ে করেছেন, যা তার অনেক সময় সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। দুবোয়ার কাছাকাছি যারা এসেছেন তারা কেউই তাকে ভুলতে পারেনি কখনোও।</p>
<p>দুবোয়ার শেষ যুদ্ধটাও দু:খজনক, ফন কোয়েনিগসভাল্ড একই প্রজাতির হমিনিড এর ফসিল খুজে পেয়েছিলেন ১৯৩২ সালে ( ডেভিডসন ব্ল্যাকের পিকিং ম্যানও এই প্রজাতির) কিন্তু দুবোয়া ভিন্নমত পোষন করেছিলেন, বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমান করা তার জন্য অসম্ভব ছিল।</p>
<p>বেচে থাকাকালীন সময়ে দুবোয়াকে অনেকে উন্মাদ বলেছিলেন তার ফসিল লুকিয়ে রাখার জন্য। জীবনের শেষ দিনগুলোতে (১৯২৭) তার বিরুদ্ধে ক্যাথলিক ধর্মবাদীদের গুজব ছিল তিনি তার প্রিয় ফসিলের বর্ননা নতুন করে লিখেছেন, এবং এটিকে কোন হোমিনিড না বলে, বলেছেন জীবাশ্ম গিবন, এ কারনেই লুকিয়ে রেখেছেন সেই ফসিল।</p>
<p>এসব অভিযোগের কোনটাই সত্য ছিল না, না তিনি উন্মাদ, কিংবা নির্বোধ। তিনি যখন মারা যান, তার অনেক শত্রু ছিল। নতুন অনেক বিজ্ঞানী তার সম্বন্ধে বদনামই শুধু শুনেছে, তার গল্প এতো বিকৃত হয়েছে যে মুল সত্যটা খুজে পাওয়া যায়নি।</p>
<p>প্রথম এই মানুষটিকে নতুন আলোয নিয়ে আসেন থিউনিসেন ১৯৮৯ সালে তার Eugene Dubois and the Ape man from Java বইটিতে এবং পরবর্তীতে  পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির নৃতত্ত্ববিদ প্যাট শিপম্যান তার সুবিশাল  The man who found the missing link: Eugene Dubois and his lifelong quest to prove Darwin right বইটিতে। এই লেখার অনেক তথ্যই এসেছে প্যাট শিপম্যানের বই থেকে।</p>
<p>১৯৪০ সালে ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ ঘুমের মধ্যেই মারা যান দুবোয়া, কাছের ভেনলো সমাধিক্ষেত্রে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।</p>
<p><a href="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/dscf61721.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-1706" title="DSCF6172" src="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/dscf61721.jpg?w=490" alt=""   /></a><br />
ছবি: ভেনলো (Venlo) র সমাধি ক্ষেত্রের একপ্রান্তে  দুবোয়ায় চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন ( সুত্র: Pat Shipman এর The man who found the missing link )</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/kmhb.wordpress.com/1666/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/kmhb.wordpress.com/1666/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/kmhb.wordpress.com/1666/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/kmhb.wordpress.com/1666/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/kmhb.wordpress.com/1666/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/kmhb.wordpress.com/1666/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/kmhb.wordpress.com/1666/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/kmhb.wordpress.com/1666/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/kmhb.wordpress.com/1666/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/kmhb.wordpress.com/1666/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/kmhb.wordpress.com/1666/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/kmhb.wordpress.com/1666/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/kmhb.wordpress.com/1666/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/kmhb.wordpress.com/1666/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=kmhb.wordpress.com&amp;blog=25791761&amp;post=1666&amp;subd=kmhb&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://kmhb.wordpress.com/2011/12/20/%e0%a6%87%e0%a6%89%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%ac%e0%a6%82-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ad%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a7%8d/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>5</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/e40bfc2ea43f56cde7024fc67c614894?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">kazimahboob</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/eugene_dubois2.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">Eugene_Dubois</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/300x800_38_dubois.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">300x800_38_dubois</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/h4220148-carl_vogt_german_naturalist-spl.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">H4220148-Carl_Vogt,_German_naturalist-SPL</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/sir_thomas_henry_huxley.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">Sir_Thomas_Henry_Huxley</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/800px-huxley_-_mans_place_in_nature.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">800px-Huxley_-_Mans_Place_in_Nature</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/449px-ernsthaeckel.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">449px-ErnstHaeckel</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/eugene_dubois__anna_lojenga_1887.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">Eugene_Dubois_&#38;_Anna_Lojenga_1887</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/wallacesline.gif" medium="image">
			<media:title type="html">wallacesline</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/trinil1894.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">Trinil1894</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/veranda-met-hekje.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">veranda met hekje</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/e4380021-skull_cap_of_pithecanthropus_erectus_java_man-spl.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">E4380021-Skull_cap_of_Pithecanthropus_erectus,_Java_Man-SPL</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/506px-pithecanthropus-erectus.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">506px-Pithecanthropus-erectus</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/dscf6173.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">DSCF6173</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/e4380061-head_of_java_man_pithecanthropus-spl.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">E4380061-Head_of_Java_Man,_Pithecanthropus-SPL</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/e4380030-java_man_homo_erectus_-spl.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">E4380030-Java_Man_Homo_erectus_-SPL</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/450px-duboissafe-petermaas-naturalis.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">450px-DuboisSafe-PeterMaas-Naturalis</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/dubois.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">Dubois</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://kmhb.files.wordpress.com/2011/12/dscf61721.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">DSCF6172</media:title>
		</media:content>
	</item>
	</channel>
</rss>
