
শীর্ষ ছবি: Charnia masoni র ফসিলের সাথে বৃটিশ ভুতাত্ত্বিক রজার ম্যাসন। যুক্তরাজ্যের লীষ্টারে Charnwood forest এ ১৬ বছর বয়সী স্কুল ছাত্র রজার ম্যাসন ১৯৫৭ সালে এই গুরুত্বপুর্ণ ফসিলটি খুজে পান। যুক্তরাজ্যে পাওয়া প্রথম প্রি ক্যামব্রিয়ান ফসিল ( ৫৮০ মিলিয়ন বছর আগের একটি লাইফফর্ম), এটি নি:সন্দেহে প্রথমবারের মত প্রমান করে ক্যামব্রিয়ান পিরিওডের আগে বহুকোষী এবং জটিল প্রকৃতির জীবনের অস্তিত্ব ছিল। প্রি ক্যামব্রিয়ান এই ভুতাত্ত্বিক সময়কে এখন বলা হয় Ediacaran পিরিওড ( ৬৩৫ থেকে ৫৪২ মিলিয়ন বছর আগের সময়কাল; দক্ষিন অষ্টেলিয়ার ইডিআকারান হিলস এর নামে এই পর্বটির নামকরন করা হয়েছে)। Charnia এই পর্বে অন্যতম একটি জিনাস।
ভুমিকা: লেখাটি রিচার্ড ডকিন্স ( Richard Dawkins) এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ The Greatest Show on Earth: The evidence for Evolution এর প্রথম অধ্যায় Only a Theory র একটি অনুবাদ প্রচেষ্টা। এটি এই ব্লগে আলাদা পেজ হিসাবে ইতিপুর্বে চার খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। এখানে একটি স্বতন্ত্র পোষ্ট হিসাবে আবার যোগ করলাম কয়েকজন শুভানুধ্যায়ী পাঠকদের অনুরোধে। পুরো বইটা ধারাবাহিক ভাবে আমি অনুবাদ করে যাবার চেষ্টা করবো, ইতিমধ্যে দ্বিতীয় অধ্যায়টি আলাদা পোষ্ট হিসাবে যোগ করা হয়েছে। লেখাটির মুল প্রেরণা ছিল এবারের ডারউইন দিবস।
________________________________________
কল্পনা করুন, আপনি রোমের ইতিহাস এবং ল্যাটিন ভাষার একজন শিক্ষক; আর আপনি প্রাচীন সেই পৃথিবী,ওভিড এর শোকগাথা আর হোরাসের স্তুতিগাথা, সিসেরোর বক্তৃতার সেই পেশীবহুল ল্যাটিন ব্যকরণ, পিউনিক যুদ্ধের কৌশলগত খুটিনাটি, জুলিয়াস সিজারের সামরিক নেতৃত্ব এবং পরবর্তী সম্রাটদের মাত্রাহীন ইন্দ্রিয়পরায়নতা -ইত্যাদি বিষয়ে আপনার তীব্র উৎসাহ সবার সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য খুবই আগ্রহী । স্পষ্টতই এটা অনেক বড় একটা দ্বায়িত্ব, যার জন্য সময়, একাগ্রতা আর আত্মত্যাগের প্রয়োজন। তারপরও আপনি লক্ষ্য করলেন, আপনার সেই মুল্যবান সময় সারাক্ষনই আক্রান্ত হচ্ছে এবং আপনার ক্লাসের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করছে ক্রমাগত চিৎকার করা এক মুর্খের বা ইগনোরেমাস-এর দল ( ল্যাটিন বিশেষজ্ঞ হিসাবে আপনি ভালো জানবেন, ‘ইগনোরামি’ বলার চেয়ে ‘ইগনোরেমাস’ বলাটাই উত্তম হবে); যাদের আছে শক্তশালী রাজনৈতিক সমর্থন, বিশেষ করে অর্থানুকল্য;যারা বিরামহীনভাবে ছোটাছুটি করে আপনার দুর্ভাগা শিক্ষার্থীদের প্ররোচিত করে বোঝনোর চেষ্টা করে যাচ্ছে যে, রোমানদের কোনদিনও অস্তিত্বই ছিলনা, রোমান সাম্রাজ্যও কোনদিনও ছিল না। সমস্ত পৃথিবীটারই সৃষ্টি হয়েছে মানুষের স্মরণকালের সামান্য কিছু সময় আগে। স্প্যানিশ,ইটালিয়ান,ফরাসী, পর্তুগীজ, কাতালান, ওক্সিটান, রোমানশ: এই সব ভাষা আর তাদের সংশ্লিষ্ট সকল উপভাষাগুলো স্বতঃস্ফূর্ত এবং আলাদা আলাদা সৃষ্টি হয়েছে কোন পুর্বসুরী, অর্থাৎ ল্যাটিন ভাষা ছাড়াই। ক্লাসিকের একজন বিশিষ্ট পন্ডিত আর শিক্ষকতার মহান পেশার প্রতি আপনি পূর্ন মনোযোগ দেবার পরিবর্তে আপনি আপনার সময় আর শক্তিকে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, রোমের যে অস্তিত্ব ছিল -এই প্রস্তাবটি রক্ষা করার স্বপক্ষে যুদ্ধ করতে: অজ্ঞতা আর অন্ধ সংস্কারের এই প্রদর্শনী- যা হয়তো আপনাকে ব্যাথিত করতো, যদিনা আপনি এর বিরুদ্ধে সংগ্রামে ব্যস্ত না থাকতেন।
যদি আমার এই ল্যাটিন শিক্ষকের কল্পকাহিনী বেশী বাড়াবাড়ি মনে হয়, তাহলে আরেকটু বাস্তবসম্মত উদহারণ দেই: ধরুন আপনি আরো সাম্প্রতিক কালের ইতিহাসের একজন শিক্ষক; এবং বিংশ শতাব্দীর ইউরোপ বিষয়ে আপনার ক্লাস বয়কট করা হয়েছে, উত্যক্ত করে বা কোন না কোনভাবে ব্যহত করছে হলোকষ্ট-অস্বীকারকারীরা যারা সুসংগঠিত, অর্থনৈতিক সাহায্যপুষ্ট, রাজনৈতিক পেশীসম্পন্ন। আমার কাল্পনিক রোম-অস্বীকারকারীর অস্তিত্ব না থাকুক, হলোকষ্ট-অস্বীকারকারীরা আসলেই আছেন। তারা অত্যন্ত সরব, খুবই হালকাভাবে যুক্তিগ্রাহ্য, আপাতদৃষ্টিতে নিজেদের জ্ঞানী হিসাবে উপস্থাপন করতে সুদক্ষ। তাদের প্রতি সমর্থন আছে, অন্ততঃ বর্তমানে একটি শক্তিশালী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরও; এছাড়াও আছেন, অন্ততঃ রোমান ক্যাথলিক চার্চের একজন বিশপ। এখন কল্পনা করুন, ইউরোপীয় ইতিহাসের শিক্ষক হিসাবে আপনাকে সারাক্ষনই মুখোমুখি হতে হচ্ছে একটি উগ্র আক্রমনাত্মক দাবীর : ‘বিতর্কিত মতবাদটাকেও পড়াতে হবে’, এবং ‘একই পরিমান সময়’, দিতে হবে ‘বিকল্প মতবাদ’ পড়াতে যা কিনা দাবী করে হলোকষ্ট কখনোই হয়নি, এটা কিছু ইহুদীবাদীদের আবিষ্কার’; কিছু মৌসুমী আপেক্ষিকতাবাদী বুদ্ধিজীবিরা এর সাথে গলা মিলিয়ে দাবী করছেন, কোন কিছুই তো চরম সত্য না। হলোকষ্ট ঘটেছে কি ঘটেনি তা নির্ভর করবে ব্যাক্তিগত বিশ্বাসের উপর; সব মতবাদই সমানভাবে বৈধ, সমানভাবে ‘শ্রদ্ধা’ করা উচিৎ।

















