রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ: প্রথম অধ্যায়, তৃতীয় পর্ব

(রিচার্ড ডকিন্স এর দি গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থ: অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)
প্রথম অধ্যায়: শুধু কি একটি তত্ত্ব? 

প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পর্ব 

তৃতীয় পর্ব

থিওরী( বা তত্ত্ব) কি? ফ্যাক্ট (বাস্তব সত্য বা সত্য হিসাবে বিদিত বা গৃহীত কিছু) কি?

শুধুমাত্র  একটি থিওরী বা তত্ত্ব? তাহলে দেখা যাক ’থিওরী বা তত্ত্ব’ বলতে কি বোঝায়। অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারী থিওরী (Theory) বোঝাতে দুটি অর্থ ব্যবহার করেছে (প্রকৃতপক্ষে আরো বেশী,কিন্তু এখানে আলোচনার জন্য এই  দুটি সংজ্ঞাই মুলত: প্রাসঙ্গিক)।

থিওরী – অর্থ ১ –প্রথম অর্থ:এক গুচ্ছ ফ্যাক্ট বা সত্য কিংবা ফেনোমেনা বা ইন্দ্রিয়গোচর কোন বস্তু বা বিষয়কে ব্যাখ্যা দেবার জন্য বা এর কারন নির্দেশনাকারী হিসাবে গৃহীত সুবিন্যস্ত বা প্রণালীবদ্ধ ধারনা বা বক্তব্য সমুহ। একটি হাইপোথিসিস বা প্রকল্প যা প্রমানিত হয়েছে বা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পর্যবেক্ষন  এবং পরীক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমে এবং  জ্ঞাত কোন সত্যর কারন হিসাবে বিবেচনার জন্য প্রস্থাপিত বা গৃহীত হয়েছে। কোন কিছু জ্ঞাত বা যা পর্যবেক্ষিত হয়েছে তার কারন, মুল নীতি বা সাধারন নিয়ম কানুন সংক্রান্ত কোন বক্তব্য।

থিওরী –অর্থ ২-দ্বিতীয় অর্থ:ব্যাখ্যা দানকারী হিসাবে প্রস্তাবিত হাইপোথিসিস বা প্রকল্প;সেহেতু শুধুমাত্রই একটি হাইপোথিসিস,ধারনা,অনুমান;কোন বিষয়েএকটি বা একগুচ্ছ ধারনা;একটি একক দৃষ্টিভঙ্গী বা ধারনা।

স্পষ্টতই দুটি শব্দের অর্থের মধ্যে পার্থক্য অনেক।বিবর্তন তত্ত্ব বা থিওরী সম্বন্ধে করা আমার আগের প্রশ্নটির সংক্ষিপ্ত উত্তর হচ্ছে, বিজ্ঞানীরা প্রথম অর্থেই এর সংজ্ঞাটি ব্যবহার করেন এবং সৃষ্টিবাদীরা –হয়তো চালাকী করে কিংবা হয়তো আন্তরিকভাবেই দ্বিতীয় সংজ্ঞাটিকে পছন্দ করেন এর অর্থ বোঝাতে।১ নং ধারনা অর্থে, কোন থিওরীর ভালো একটি উদহারন হতে পারে,হেলিওসেন্ট্রিক বা সুর্যকেন্দ্রিক তত্ত্ব,যা বলছে সুর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবী এবং অন্যান্য গ্রহগুলো নিজ কক্ষপথে প্রদক্ষিন করছে। থিওরী সংজ্ঞার প্রথম অর্থটির ধারনার সাথে বিবর্তন তত্ত্বও পুরোপুরিভাবে সামন্জষ্যপুর্ণ। ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব আসলেই,’সুবিন্যস্ত বা প্রণালীবদ্ধ ধারনা বা বক্তব্য সমুহ’; এবং এটি ব্যাখ্যা করে সুবিশাল ‘এক গুচ্ছ ফ্যাক্ট বা সত্য কিংবা ফেনোমেনা বা ইন্দ্রিয়গোচর কোন বস্তু বা বিষয়কে’; এবং এটি ‘একটি হাইপোথিসিস যা প্রমানিত হয়েছে বা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পর্যবেক্ষন  এবং পরীক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমে’ এবং ব্যপকভাবেই তা অবগত সম্মতির উপর ভিত্তি করে; এবং এটি ‘কোন কিছু জ্ঞাত বা যা পর্যবেক্ষিত হয়েছে তার কারন, মুল নীতি বা সাধারন নিয়ম কানুন সংক্রান্ত কোন বক্তব্য’; সুতরাং এটি অবশ্যই ‘শুধুমাত্র হাইপোথিসিস বা কল্পনাপ্রসুত কোন ধারনা বা অনুমান’থেকে অবশ্যই অনেক বেশী ভিন্ন। বিজ্ঞানী এবং সৃষ্টিবাদী রা থিওরী ‍বা তত্ত্ব শব্দটি বুঝছেন ভিন্ন ভিন্ন অর্থে।বিবর্তন একটি থিওরী বা তত্ত্ব সেই অর্থেই যে অর্থে হেলিওসেন্ট্রিক থিওরী যেমন একটি থিওরী বা তত্ত্ব।এদের কোনটির ক্ষেত্রেই ’শুধুমাত্র’ শব্দটি ব্যবহার করা উচিৎ না যেমন ’শুধুমাত্র একটি থিওরী বা তত্ত্ব’।

বিবর্তন কখনোই ’প্রমানিত’ হয়নি এমন দা্বী ক্ষেত্রে, প্রমান হচ্ছে এমন একটা ধারনা যা বিজ্ঞানীদের প্রায় জোরপুর্বক বাধ্য করা হয়েছে সাধারনত: অবিশ্বাস করতে। প্রভাবশালী দার্শনিকরা আমাদের বলে থাকেন,বিজ্ঞানে কোন কিছুকেই আমরা প্রমান করতে পারবোনা।প্রমান করতে পারেন শুধু গনিতজ্ঞরাই -একটা কঠোর দৃষ্টিভঙ্গী দাবী অনুযায়ী-একমাত্র তারাই পারেন কোন কিছুকে প্রমান করতে,কিন্তু বিজ্ঞানীরা তাদের পক্ষে সর্ব্বোচ্চ যা করতে পারেন, তা হলো কোন কিছু অ-প্রমানিত করার প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হতে এবং এই কাজ করতে যে তারা যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন সেটা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিতে। এমন কি বিতর্কের উর্ধে যে তত্ত্ব, চাদ সুর্য থেকে আকারে ছোট এই বিষয়টিও কোন কোন দার্শনিকদের সন্তুষ্টি অনুযায়ী প্রমান করা সম্ভব না, পিথাগোরাসের থিওরেম বা উপপাদ্যকে যেভাবে প্রমান করা যেতে পারে। কিন্তু সংগৃহীত প্রমানের সুবিশাল ভান্ডার দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে যে তত্ত্বকে,তাকে ফ্যাক্ট বা সত্য না বলে অস্বীকার করাটা পুথিগত পন্ডিত ছাড়া আর সবার কাছেই হাস্যকর। বিবর্তনের ক্ষেত্রেও এটি সত্য। পারি ( প্যারিস) উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত এটি যেমন একটি ফ্যাক্ট যে অর্থে বিবর্তনও সেই অর্থে একটি ফ্যাক্ট। যদিও লজিক-চপাররা ( যারা বিশেষ করে দ্ব্যর্থবোধক কোন বিষয়ের বিতর্কে অস্পষ্ট, বিভ্রান্তিকর এবং আপাতদৃষ্টিতে সত্য বলে মনে হয় এমন যুক্তি প্রস্তাবনা করেন) শহর রাজত্ব করে,কিছু থিওরী বুদ্ধিগ্রাহ্য সব সন্দেহের উর্ধে,যাদের আমরা ফ্যাক্ট  বলি। যত বেশী উৎসাহ উদ্দীপনা আর বিস্তারিত ভাবে কোন তত্ত্বকে অপ্রমানিত করার চেষ্টা হয় আর সেই আক্রমন, তত্ত্বটি সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করে তার অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারে, সাধারন কান্ড জ্ঞান খুশি মনে যাকে সত্য বা ফ্যাক্ট বলে, তত্ত্বটি ততই তার (ফ্যাক্ট) কাছাকাছি পৌছে যেতে থাকে।

আমি  থিওরী অর্থ ১ এবং থিওরী অর্থ ২ ব্যবহার করে যেতে পারি এই আলোচনায়।কিন্তু সংখ্যা সহজে মনে রাখা যায় না, আমার প্রতিশব্দ প্রয়োজন। থিওরী অর্থ ২ এর জন্য ভালো একটি শব্দ আছে আমাদের। সেটি হলো হাইপোথিসিস (প্রকল্প বা উপপ্রমেয়); সবারই জানা আছে বা বোঝার ক্ষমতা রাখেস যে,’হাইপোথিসিস’ হলো পরীক্ষার মাধ্যমে সত্য (কিংবা মিথ্যা)প্রমানিত হবার অপেক্ষায় আছে এমন কিছু প্রাথমিকভাবে স্থিরীকৃত বা গৃহীত ধারনা বা প্রস্তাব এবং ঠিক এই পরীক্ষামুলকতাকে ঝেড়ে ফেলেছে বিবর্তন অনেকদিন হলো।কিন্তু ডারউইনের সময়ে এর উপরে চাপানো দায়ভারটি তাকে আজো বহন করতে হচ্ছে। থিওরী অর্থ ১ অপেক্ষাকৃতভাবে কঠিন। ভালো হতো শুধুমাত্র যদি ’থিওরী’ শব্দটি ব্যবহার করা যেত,যেন অর্থ ২ এর কোন অস্তিত্বই নেই। আসলেই থিওরীর অর্থ ২ এর যে অস্তিত্ব থাকা উচিৎ না, এই প্রস্তাবের পক্ষে যথেষ্ট জোরালো যুক্তিও দাড় করানো যেতে পারে। কারন এটি অপ্রয়োজনীয় এবং বিভ্রান্তিকর, বিশেষ করে যখন আমাদের কাছে সমার্থক উপযুক্ত হাইপোথিসিস শব্দটি আছে। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে থিওরী অর্থ হিসাবে অর্থ ২ টি, সুপ্রচলিত এবং আমরা ডিক্রি জারী একে নিষিদ্ধ ঘোষনা করতে পারিনা। সে কারনে আমি উল্লেখযোগ্য পরিমান, তবে অবশ্যই মার্জনীয়, স্বাধীনতা  ব্যবহার করছি, গনিত থেকে থিওরেম শব্দটি অর্থ ১ এর জন্য ধার করতে। যদিও এই ধার করা শব্দটা প্রতিস্থাপিত শব্দটির সঠিক অর্থ বহন করছেনা, আমরা পরে বিষয়টা বুঝতে পারবো, কিন্তু আমি মনে করি, সংশয় এবং বিভ্রান্ত হবার ঝুকি অপেক্ষা এর উপযোগিতার পাল্লাটা বেশী ভারী। আমার এধরনের আচরণে আহত গনিতবিদদের শান্ত করার প্রচেষ্টা হিসাবে আমি আমার ব্যবহৃত থিওরেম এর বানানটা বদলে নিচ্ছি, থিওরাম  ( Theorem থেকে Theorum) (ভদ্রতার খাতিরে এটিকে ‍উচ্চারন করছি, থিওরাম); প্রথমে, আমি ব্যাখ্যা করে নেই গনিতবিদরা আসলে, সুনির্দিষ্ট কোন গানিতীক অর্থে ’থিওরেম’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন, এবং একই সাথে আমার আগের একটি বক্তব্যকে সুস্পষ্ট করতে চাই, যে শুধুমাত্র গনিতবিদদেরই কোন কিছু ’প্রমান’ করার লাইসেন্স আছে ( ‍ আইনজীবিদেরও কি নেই? উচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া দাবী সত্ত্বেও)।

একজন গনিতজ্ঞর কাছে, প্রমান হচ্ছে উপসংহারটি, অবশ্যই অ্যাক্সিওম বা স্বতঃসিদ্ধ যে প্রস্তাব সত্য বলে অনুমান করা হয়েছে, সেখান থেকেই ‍আসছে, এই প্রক্রিয়াকেই যৌক্তিক ভাবে প্রদর্শন করা; পিথাগোরাসের থিওরেম অবশ্যই সত্য, যদি আমরা ইউক্লিডের স্বত:সিদ্ধ প্রস্তাব বা অ্যাক্সিওমকে সত্য বলে ধরে নেই, যেমন একটি অ্যাক্সিওম: সমান্তরাল রেখা পরস্পরের সাথে কখনো মিলিত হয় না। হাজার হাজার সমকোনী ত্রিভুজ মেপে দেখতে চায় কেউ যদি চেষ্টা করে একটা সমকোনী ত্রিভুজ খুজে পায় কিনা যা পিথাগোরাসের থিওরেমকে মিথ্যা প্রমান করবে, তাহলে সে অযথাই সময় নষ্ট করবে। পিথাগোরিয়ানরা এটি প্রমান করেছে, যে কেউ তাদের প্রমান করার প্রক্রিয়া ঘেটে দেখতে পারে। এটা প্রমানিত সত্যি। গনিতজ্ঞরা  প্রমানের এই ধারনাটাকে ব্যবহার করেন, কোন ‘থিওরেম’ এবং কোন প্রস্তাবিত ধারনা বা ’কনজেকচার’ এর মধ্যে বিভেদটাকে বোঝাতে এবং  এর সাথে অক্সফোর্ড ইংলিশ অভিধান থিওরী বা তত্ত্বের দই অর্থের মধ্যে যে পার্থক্য করছে, তার সাথে হালকা সাদৃশ্য আছে। ’কনজেকচার’ হলো একটি প্রস্তাব, যা আপাতত সত্য মনে হচ্ছে ঠিকই কিন্তু কখনো এটি প্রমান করা হয়নি। এবং এটি ‘থিওরেম’ হবে তখনই যখনই কেউ এটা প্রমান করবে। একটি বিখ্যাত উদহারন হচ্ছে ’গোল্ডবাখের কনজেকচার’, যা বলছে যে কোন জোড় সংখ্যা (২ এর চেয়ে বড়) দুটি প্রাইম সংখ্যার যোগফল হিসাবে প্রকাশ করা যেতে পারে। গনিতজ্ঞরা একে ভুল প্রমানিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন, এমন কি ৩০০ হাজার মিলিয়ন মিলিয়ন মিলিয়ন পর্যন্ত সকল জোড় সংখ্যা পর্যন্ত পরীক্ষা করে। সাধারন জ্ঞান বলছে, একে আনন্দের সাথে ফ্যাক্ট বা সত্য হিসাবে মেনে নেয়া যায়: গোল্ডবাখের ফ্যাক্ট। যাই হোক গনিতবিদের ভাষায় এটা কখনো্ই প্রমানিত হয়নি, এর প্রমানের জন্য অনেক লোভনীয় পুরষ্কার ঘোষনা সত্ত্বেও এবং গনিগজ্ঞরা এক বাক্যেই একে ’থিওরেম’এর মর্যাদায় বসাতে অস্বীকার করেছেন। যদি কেউ এটি প্রমান করতে পারেন তবে এটি গোল্ডবাখের কনজেকচার থেকে উন্নীত হবে গোল্ডবাখের থিওরেমের বা এক্স এর থিওরেমে, ’এক্স’ হচ্ছেন সেই বুদ্ধিমান গনিতজ্ঞ যিনি এটি প্রমান করবেন।

কার্ল সেগান একবার গোল্ডবাখের কনজেকচার এর একটি শ্লেষাত্মক ব্যবহার করেছিলেন, যারা ভীনগ্রহবাসীদের দ্বারা অপহৃত হয়েছেন বলে দাবী করেন এমন দাবীর প্রতি তীর্যক উত্তর দেবার স্বার্থে[১]:

মাঝে মাঝে আমি কারো কারো কাছ থেকে চিঠি পাই যারা ভীনগ্রহবাসীদের সাথে তাদের এখনও যোগাযোগ বা ‘কন্ট্যাক্ট’ আছে বলে দাবী করেন। আমাকে আমন্ত্রন জানানো হয়, তাদেরকে যে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করতে। সেকারনে কয়েক বছর ধরে আমি প্রশ্নের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকাও প্রস্তুত করেছি। মনে রাখতে হবে, ভীনগ্রহবাসীরা আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত। সেকারনে আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যেমন, দয়া করে আমাদেরকে ফেরমার শেষ থিওরেম এর একটা সংক্ষিপ্ত প্রমান দিন কিংবা  গোল্ডবাখের কনজেকচার  এর ……. আমি কখনোই আমার প্রশ্নের উত্তর পাইনি। কিন্তু আবার আমি যদি এমন কিছু জিজ্ঞাসা করি, আমাদের কি ভালো হওয়া উচিৎ? আমি সবসময়ই উত্তর পেতাম। যে কোন অস্পষ্ট কিছু, বিশেষ করে প্রচলিত নৈতিক বিচার বিবেচনা সংক্রান্ত কোন কিছু, এই ভীনগ্রহবাসীরা খুবই আনন্দের সাথে তার উত্তর দেয়। কিন্তু যখনই কোন কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করা হয়, একটা সুযোগ নেবার জন্য যে, তারা বাস্তবিকভাবেই সাধারন মানুষ যা জানে তারচেয়ে বেশী কিছু জানে কিনা? তখন শুধু নীরবতা।

ফেরমা’র শেষ থিওরেম, গোল্ডবাখের কনজেকচার এর মতই সংখ্যা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব কেউ এখনো পর্যন্ত যার কোন ব্যতিক্রম কেউ দেখাতে পারেননি। সেই ১৬৩৭ সাল থেকে, এটা প্রমান করা গনিতজ্ঞদের জন্য এক ধরনের হলি গ্রেইল হিসাবে পরিচিত ছিল, যখন পিয়ের দ্য ফেরমা তার পুরোনো গনিত বই এর মার্জিনে রহস্যময়ভাবে লিখেছিলেন, ’সত্যিই আমি এর একটি দারুন প্রমান খুজে পেয়েছি…. বই এর  মার্জিন যা ধারন করার জন্য যথেষ্ট প্রশস্ত না’। ১৯৯৫ সালে  অবশেষে থিওরেমটি প্রমান করেন ইংরেজ গনিতজ্ঞ অ্যান্ড্রু ওয়াইলস। এর আগে বেশ কিছু গনিতবিদ মনে করতেন, একে থিওরেম না বলে কনজেকচারই বলা উচিৎ, কারন ওয়াইলস এর এই সফল প্রমানটির সুবিশাল দৈর্ঘ্য এবং জটিলতা ছাড়াও,  বিংশ শতাব্দীর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্বন্ধে জ্ঞান ও তার ব্যবহারের উপর এই প্রমানের নির্ভরতা পর্যালোচনা করে অনেক গনিতবিদরাই মনে করেন, ফেরমা ( সৎ ভাবেই) সম্ভবত ভুল করে দাবী করেছিল তিনি  এর  প্রমান পেয়েছেন।  এই কাহিনীটা আমি বললাম শুধুমাত্র কনজেকচার এবং একটি থিওরেমের মধ্যে পার্থক্যটা বোঝাতে।

যেমনটা বলছিলাম, আমি গনিতবিদদের এই থিওরেম শব্দটি ধার করবো, কিন্তু আমি এটাকে বানান করছি থিওরাম হিসাবে, গানিতীক থিওরেম থেকে একে আলাদা করে বোঝাতে। একটি বৈজ্ঞানিক থিওরাম, যেমন বিবর্তন বা সুর্যকেন্দ্রীকতা বা হেলিওসেন্ট্রিজম হচ্ছে একটি তত্ত্ব যা অক্সফোর্ড অভিধানের, থিওরী অর্থ ১ এর সাথে সবচেয়ে বেশী মানানসই।

(এটি) প্রমানিত হয়েছে বা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পর্যবেক্ষন  এবং পরীক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমে এবং  জ্ঞাত কোন সত্যর কারন হিসাবে বিবেচনার জন্য প্রস্থাপিত বা গৃহীত হয়েছে। কোন কিছু জ্ঞাত বা যা পর্যবেক্ষিত হয়েছে তার কারন, মুলনীতি বা সাধারন নিয়ম কানুন সংক্রান্ত কোন বক্তব্য।

কোন গানিতীক থিওরেম যেমন করে প্রমান করা হয়, একটি বৈজ্ঞানিক থিওরাম সেভাবে প্রমান করা হয়না এবং করাও যায় না। কিন্তু সাধারন জ্ঞান এটিকে ফ্যাক্ট বা বাস্তব সত্য বলেই চিহ্নিত করে, সেই একই অর্থে, যেমন যে অর্থে পৃথিবী গোলাকার, সমতল না এমন ’‘থিওরী’ বা তত্ত্ব যেমন একটি ফ্যাক্ট এবং সবুজ গাছ সুর্য থেকে শক্তি সংগ্রহ করে এই ’থিওরী’ টি যেমন একটি ফ্যাক্ট। সবগুলোই হচ্ছে বৈজ্ঞানিক থিওরাম: বিশাল সংখ্যক প্রমান এর স্বপক্ষে, অবগত যে কোন পর্যবেক্ষকই যা মেনে নিয়েছেন। সাধারন যে কোন অর্থেই বিতর্কাতীত একটি সত্য বা ফ্যাক্ট।  আর যে কোন সত্যের মতই আমরা যদি বিষয়টি নিয়ে পুথিগত ‍বিদ্যার পন্ডিতি করি, তবে এটি অনস্বীকার্য ভাবেই সম্ভব যে, আমাদের পরিমাপের সব যন্ত্রগুলো এবং আমাদের অনুভব করার অঙ্গ বা ইন্দ্রিয় যা দিয়ে আমরা এদের পরিমাপ পড়ি, এগুলো সব একটা সুবিশাল কনফিডেন্স ট্রিক বা আত্মবিশ্বাসের ধোকাবাজীর শিকার। যেমনটি বার্ট্রান্ড রাসেল বলেছিলেন, ‘হতে পারে আমাদের সবাই অস্তিত্ব লাভ করেছি মাত্র পাচ মিনিট আগেই , পুর্বপ্রস্তুত তাৎক্ষনিকভাবে ব্যবহারযোগ্য স্মৃতি, ছিদ্র হওয়া মোজা এবং কাটার প্রয়োজন ছিল এমন চুল সহ” [২] ;বর্তমানে যে পরিমান প্রমান সংগৃহীত হয়েছে, সেখানে বিবর্তনের ফ্যাক্ট বা সত্য ছাড়া  অন্য কিছু হবার সম্ভাবনার জন্যও প্রয়োজন সৃষ্টিকর্তার একই রকমের বিশাল একটি আত্মবিশ্বাসের ধোকাবাজীর, খুব কম ঈশ্বরবাদীই যা মানতে রাজী হবেন।

((((((((((((((((((((((((চলবে))))))))))))))))))))))))))))))))))))

_________________________________________

[১] ‘Occasionally, I get a letter from someone’: Sagan (1996): 996. The Demon-Haunted World: Science as a Candle in the Dark.
London:  Headline.
[২] ‘We may all have come into existence five minutes ago’: Bertrand Russell, Religion and Science (Oxford: Oxford University Press, 1997), 70.


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.

Join 32 other followers