রিচার্ড ডকিন্স এর দি গড ডিল্যুশন : দ্বিতীয় অধ্যায়, শেষ পর্ব
( অনুবাদ প্রচেষ্টা: কাজী মাহবুব হাসান)
দ্বিতীয় অধ্যায়, প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায়, দ্বিতীয় পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায়, তৃতীয় পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায়, চতুর্থ পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায়, পঞ্চম পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায়, ষষ্ঠ পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায়, সপ্তম পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায়, অষ্টম পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায়, নবম পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায়, দশম পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায়, একাদশ পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায়, শেষ পর্ব
ছোট সবুজ মানুষের দল
ধরা যাক, বার্ট্রান্ড রাসেল এর রুপক কাহিনীর বিষয় মহাশুন্যে চায়ের পট না বরং মহাশুন্যে জীবনের অস্তিত্ত্ব নিয়ে -কার্ল সাগানের সেই স্মরনীয় মন্তব্য ‘গাট দিয়ে চিন্তা করার প্রত্যাখানে’র বিষয়। আবারো আমরা বিষয়টিকে মিথ্যা প্রমান করতে পারবো না এবং একমাত্র যৌক্তিক অবস্থান হল অ্যাগনষ্টিসিজম বা অজ্ঞেয়বাদ। কিন্তু এই হাইপোথিসিসটি আর কোন হালকা বিষয় থাকে না আর। আমরা কিন্তু সাথে সাথেই একেবারে চুড়ান্ত অসম্ভাব্যতার ঘ্রান পাই না এখন। আমরা বেশ কৌতুহল উদ্দীপক একটা বিতর্ক অবতারনা করতে পারি অসমাপ্ত এই অবধি পাওয়া নানা সাক্ষ্যপ্রমানের ভিত্তিতে এবং আমরা সেই প্রমানগুলো লিপিবদ্ধ করতে পারি যৌক্তিক উপায়ে যেগুলো আমাদের অনিশ্চয়তাকে কমাতে পারে। আমরা কিন্তু প্রচন্ড ক্ষুদ্ধ হবো, যদি আমাদের সরকার ব্যায়বহুল টেলিস্কোপের জন্য অর্থ বিনিয়োগ করে যার একমাত্র কাজ হবে মহাশুন্যে চায়ের পটের সন্ধান করা। কিন্তু আমরা সেটি (SETI) বা সার্চ ফর এক্সট্রা টেরেস্টিয়াল ইন্টেলিজেন্স – ’যার মুল কাজ বুদ্ধিমান ভীনগ্রহবাসী বুদ্ধিমান সত্ত্বার কোন সংকেত খুজে পাওয়ার আশায় রেডিও টেলিস্কোপ দিয়ে মহাশুন্যর বিভিন্ন অংশ পর্যবেক্ষন করা’ – এর ক্ষেত্রে অর্থ ব্যায় করার ব্যপারটাকে কিন্তু অন্যভাবে মুল্যায়ন করতে পারি।
আমি কার্ল সাগানের প্রশংসা করি ভীনগ্রহে প্রানের অস্তিত্বের ব্যাপারে আনুমানিক অনুভুতি নির্ভর কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করার জন্য। কিন্তু যে কারো পক্ষে (এবং সাগানও তাই করেছিলেন) এরকম একটা সম্ভাবনার পরিমাপ করার জন্য, আমাদের যা জানা দরকার, তার একটা সংযমী মুল্যায়ন করা সম্ভব। এটা শুরু হতে পারে আমাদের অজানা বিষয়গুলোর একটা তালিকা প্রস্তুত করার মাধ্যমে। যেমন, বিখ্যাত ড্রেক সমীকরন, যা পল ডেভিসের ভাষায় সম্ভাবনা সংগ্রহ করে। সমীকরনটির মুল বক্তব্য হল, স্বতন্ত্রভাবে বিবর্তিত সভ্যতার সংখ্যা পরিমাপের জন্য আমাদের অবশ্যই সাতটি সংখ্যাকে একসাথে পূরণ করতে হবে। এদের মধ্যে আছে, মোট নক্ষত্রর সংখ্যা, প্রতিটি নক্ষত্রের পৃথিবীর মত গ্রহর সংখ্যা এবং এর সম্ভাবনা, এগুলো এবং এছাড়া অন্য সংখ্যাগুলো যার তালিকা আমি উল্লেখ করার দরকার নেই কারন আমি যা বোঝাতে চাচ্ছি তা হলো এসবই অজানা অথবা পরিমাপ করা হয়েছে অনেক বেশী অনুমানের উপর ভিত্তি করে। যখন অনেকগুলো সংখ্যা হয় সম্পুর্ন অজানা অথবা পরিমাপ করা হয় অনেক বড় ভ্রান্তির মার্জিন রেখে, তার ফলাফল -ভীনগ্রহের সভ্যতার সম্ভাব্য সংখ্যায় -এতো বিশালাকৃতির ভুল থাকে যে, অ্যাগনষ্টিকতাবাদকে মনে হয় বেশী যুক্তিযুক্ত, যদিও তা একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান নয়।
১৯৬১ সালে প্রথম যখন তিনি সমীকরনটি লিখেছিলেন, তখনকার তুলনায় বর্তমানে ড্রেক সমীকরনের কিছু সংখ্যা কিন্তু ইতিমধ্যে আমাদের জন্য কম অজানা এখন। সেই সময় আমাদের সৌরজগতই ছিল একমাত্র জানা গ্রহ মন্ডলী যা কেন্দ্রীয় একটি নক্ষত্রর চারপাশে ঘুরছে, এছাড়া ছিল বুহস্পতি আর শনির উপগ্রহ মন্ডল সাদৃশ্য কিছু উদহারন। মহাবিশ্বে এধরনের মন্ডলের সংখ্যা সম্বন্ধে আমাদের সবচেয়ে ভালো ধারনাটাটি ভিত্তি হল তাত্ত্বিক মডেলগুলো, যার সাথে সংযুক্ত আরেকটু বেশী অনানুষ্ঠানিক সাধারণত্বর মুলনীতি বা প্রিন্সিপাল অব মিডিওক্রিটি : আমরা ঘটনাক্রমে যেখানে বসবাস করি তার বিশেষ কোন অসাধারনত্ব নেই – এই অনুভুতিটা ( কোপার্নিকাস, হাবল, এবং অন্যান্যদের অস্বস্তিকর ইতিহাসের শিক্ষা থেকে জন্ম নেয়া); দুর্ভাগ্যজনক যে, প্রিন্সিপাল অব মিডিওক্রিটিকে আবার দুর্বল করে দিয়েছে অ্যানথ্রপিক তত্ত্ব (অধ্যায় ৪ দ্রষ্টব্য); যদি আমাদের সৌরজগত মহাবিশ্বে সত্যি একটি মাত্র হয়ে থাকে, তার সঠিক কারন হলো, সেখানে আমরা, যারা এসব বিষয় নিয়ে ভাবনাচিন্তা করে, সেই আমাদের বসবাস। আমাদের অস্তিত্বের গুঢ় সত্যটাই অতীতমুখী পর্যালোচনা সাপেক্ষে নির্ধারন করে দেয় যে, আমাদের বসবাস খুবই অসাধারন একটি স্থানে।
সৌরজগতের সর্বব্যাপিতা সম্বন্ধে বর্তমানে আমাদের পরিমাপ কিন্তু আর আগের মতন প্রিন্সিপাল অব মিডিওক্রিটির উপরে নির্ভর করে নেই; প্রত্যক্ষ প্রমানের দ্বারা তথ্যসম্মৃদ্ধ। কমতের এর পজিটিভিজমের উচিৎ প্রতিফল, স্পেক্ট্রোস্কোপ আবারও প্রমান করেছে। আমাদের টেলিস্কোপে এখনও এতটা শক্তিশালী হয়নি যে নক্ষত্রের চারপাশে গ্রহদের সরাসরি দেখতে সক্ষম। নক্ষত্রের অবস্থান সুক্ষ পরিবর্তন হয় তার চতুর্দিকে ঘুর্ণায়মান গ্রহদের মধ্যাকর্ষনের টানে আর নক্ষত্রের আলোর বর্ণালী বিশ্লেষনের মাধ্যমে ডপলার ইফেক্ট শনাক্ত করে স্পেক্ট্রোস্কোপ, অন্ততপক্ষে যেখানে মধ্যাকর্ষন টানের কারন গ্রহটির আকার অনেক বৃহৎ। বেশীরভাগ সময় এভাবেই, আমার এই লেখার সময়, আমরা সৌরজগতের বাইরে ১৪৭টি নক্ষত্রের কক্ষপথে ঘুর্ণায়মান ১৭০ টি গ্রহর সন্ধান পেয়েছি [৩৪]; এবং এই সংখ্যা অবশ্যই বেড়ে যাবে যখন আপনারা এই বইটা পড়বেন। আপাতত এই গ্রহগুলো সব বড় আকারের ‘বৃহস্পতির মত; কারন বৃহস্পতির আকারের বড় গ্রহই কেবল পারে তাদের নক্ষত্রর আলোর বর্নালীতে পরিবর্তন আনতে যেটা শনাক্ত করার ক্ষমতা আছে বর্তমান সময়ের স্পেক্ট্রোস্কোপের। আমরা অন্ততপক্ষে পরিমানগত দিক থেকে ড্রেক সমীকরনের একটি অজানা সংখ্যার কিছুটা উন্নতি করেছি। এর ফলে এই সমীকরনের শেষ ফলাফল সম্বন্ধে আমাদের অ্যাগনষ্টিকবাদে সামান্য হলেও, গুরুত্বপুর্ন পরিবর্তন ঘটেছে। অন্য গ্রহে প্রানের অস্তিত্ব থাকা নিয়ে আমরা এখনও হয়তো অ্যাগনষ্টিক থাকতে বাধ্য – কিন্তু কিছুটা অবশ্যই কম অ্যাগনষ্টিক, কারন আমরা আগের চেয়ে আমাদের অজ্ঞতাকে একটু কমাতে পেরেছি। বিজ্ঞান ধীরে ধীরে অ্যাগনষ্টিকবাদের পরিমানকে কমিয়ে দিতে সক্ষম, যেমন করে হাক্সলী ঈশ্বরের বিশেষ অবস্থানটি অস্বীকার করেছিলেন সবাইকে তুষ্ট করার অতিরিক্ত প্রচেষ্ঠায়। আমার যুক্তি হলো, হাক্সলী, গুল্ড এবং অনেকের নম্র সংযম সত্ত্বেও , ঈশ্বর প্রশ্নটি নীতিগতভাবে এবং চিরকালের মত বিজ্ঞানের আওতা বহির্ভুত না। কমতের ধারণার বীপরিতে যেমন নক্ষত্রের প্রকৃতি, আর তার চারপাশে কক্ষপথে জীবনের অস্তিত্ত্ব থাকার সম্ভাবনা, অন্ততপক্ষে বিজ্ঞান পারে অ্যাগনষ্টিকতাবাদের ভুখন্ডে সম্ভাবনার অনুপ্রবেশ ঘটাতে।
ঈশ্বর হাইপোথিসিস সম্বন্ধে আমার সংজ্ঞায় ‘অতিমানবীয়’, ’অতিপ্রাকৃত’ এসব শব্দগুলো সংযুক্ত। এদের মধ্যে পার্থক্যটা স্পষ্ট করতে, কল্পনা করুন যে একটি সেটি (SETI) রেডিও টেলিস্কোপ সত্যি সত্যি মহাশুন্য থেকে একটা সংকেত শনাক্ত করলো, যা সন্দেহাতীতভাবে প্রমান করলো, মহাবিশ্বে আমরা একা নই। প্রসঙ্গক্রমে, কোন ধরনের সংকেত পেলে আমরা বিশ্বাস করবো যে তা আসলেই কোন বুদ্ধিমান প্রানীর সৃষ্টি?এটা কিন্তু তুচ্ছ প্রশ্ন নয়। একটা ভালো উপায় হচ্ছে, যদি প্রশ্নটাকে উল্টে নেই। আমরা বুদ্ধিমত্তার সাথে কি করতে পারি, পৃথিবীর বাইরে কোন বুদ্ধিমান প্রানীদের কাছে আমাদের অস্তিত্ত্ব প্রচার করার লক্ষ্যে? ছন্দময় পাল্স দিয়ে কাজটা করা হবে না। জোসেলীন বেল বার্ণেল, রেডিও জোতির্বিজ্ঞানী, যিনি ১৯৬৭ সালে প্রথম পালসার আবিষ্কার করেছিলেন, এর ঠিক ১.৩৩ সেকেন্ডের নিয়মিত পর্যায়ক্রমটি অবাক হয়ে নাম রেখেছিলেন, মজা করে, এলজিএম (LGM:little green man signal) সংকেত। পরবর্তীতে মহাশুণ্যের অন্য একটি জায়গায় তিনি দ্বিতীয় পালসারটি আবিষ্কার করেন, যার সংকেতের পর্যায়ক্রম ছিল ভিন্ন, যা ভালোভাবেই এলজিএম হাইপোথিসিসকে মিথ্যা প্রমান করে। অনেক বুদ্ধিমত্ত্বাহীন উৎস থেকে মেট্রোনমিক বা নিয়মিত ছন্দ বা পর্যায়ক্রমের সংকেতের উৎপত্তি হতে পারে, যেমন দোল খাওয়া গাছের ডাল, ফোটা ফোটা করে পড়া পানির বিন্দু থেকে,ঘুর্ণায়মান আর কক্ষপথে প্রদক্ষিনরত মহাজাগতিক বস্তু। আমাদের ছায়াপথে হাজারের বেশী পালসার পাওয়া গেছে, এবং এখন স্বীকৃত যে, এরা আসলে হচ্ছে ঘুর্ণায়মান নিউট্রন নক্ষত্র, যারা বাতিঘরের আলোর মত চারপাশে বেতার তরঙ্গ নিঃসরণ করে। কল্পনা করতে অবাক লাগে এমন নক্ষত্রের কথা যা কিনা সেকেন্ডের মধ্যে নিজ কক্ষে ঘুরছে (ভাবুন আমাদের দিনের দৈর্ঘ্য ২৪ ঘন্টার বদলে ১.৩৩ সেকেন্ড), নিউট্রন নক্ষত্র সম্বন্ধে আমরা যা জানি তার সবকিছু অবাক করার মত। আসল কথা হলো পালসার এর ব্যাপারটি সাধারন পদার্থবিদ্যার একটি ঘটনা, কোন বুদ্ধিমত্ত্বার সৃষ্টি নয়।
তাই শুধু নিয়মিত ছন্দময় কিছু অপেক্ষমান মহাবিশ্বের কাছে আমাদের বুদ্ধিদ্বীপ্ত উপস্থিতির জানান দেবে না। প্রাইম সংখ্যা অনেক সময় পছন্দের একটা ব্যাপার হয়ে আসে। কারন শুধুমাত্র কোন ভৌত উপায়ে এ সংখ্যা তৈরী করা সম্ভব নয়। প্রাইম সংখ্যা শনাক্ত করে হোক বা অন্য কোন উপায়ে হোক, কল্পনা করুন সেটি মহাশুন্যে বুদ্ধিমান প্রানীর উপস্থিতির অকাট্য প্রমান পেল , এর পরে হয়তো বিশাল আকারের তথ্য এবং জ্ঞানের আদান প্রদান হলো , বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, যেমন ফ্রেড হয়েলের ’এ ফর অ্যান্ড্রোমিডা’ বা কার্ল সাগানের ’কনটাক্ট’ এর মত। আমরা কিভাবে এর প্রত্যুত্তর দেব? ক্ষমার যোগ্য একটা প্রতিক্রিয়া হতে পারে এমন কিছু যা অনেকটাই উপাসনার মত, যে সভ্যতার ক্ষমতা আছে এতো বিশাল দুরত্ব থেকে সংকেত পাঠাতে, সেই সভ্যতা আমাদের তুলনায় অনেক অগ্রবর্তী হওয়ারই সম্ভাবনা বেশী। এমনকি যদি ঐ সভ্যতা সংকেত পাঠানোর সময় আমাদের চেয়ে খুব একটা বেশী উন্নত না হয়েও থাকে, এই অতিবিশাল দুরত্ব আমাদের হিসাব করতে বাধ্য করায়, যে সময় আমরা তাদের সংকেত শনাক্ত করছি তারা হয়তো কয়েক সহস্র বছর আমাদের থেকে এগিয়ে গেছে ( যদিনা অবশ্য তারা নিজেদেরকে ধ্বংশ না করে ফেলে, যা কিন্তু অসম্ভব না)।
আমরা তাদের সম্বন্ধে কখনো জানতে পারি বা না পারি, সম্ভাবনা আছে, যে ভীনগ্রহের সভ্যতা আছে যারা অতিমানবিক, অনেক দিক থেকে দেবতুল্য, যে কোন ধর্মতাত্ত্বিকের কল্পনাতীত। তাদের কারিগরী অগ্রগতি আমাদের কাছে অতিপ্রাকৃত মনে হবে, যেমন অন্ধকার যুগের কোন কৃষককে যদি একবিংশ শতাব্দীতে নিয়ে আসা যায়, কল্পনা করুন তার প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে ল্যাপটপ বা মোবাইল টেলিফোন, হাইড্রোজেন বোমা, জাম্বো জেট দেখে। আর্থার সি ক্লার্ক যেমন লিখেছিলেন, তার তৃতীয় আইনে: ’কোন যথেষ্ট পরিমান উন্নত কোন প্রযুক্তিকে আসলে ম্যাজিক থেকে আলাদা করা যায়না’; আমাদের সভ্যতা যে প্রযুক্তি তৈরী করেছে, প্রাচীন মানুষের কাছে তা মোজেস এর সাগর দুই ভাগ করা বা যীশুর পানির উপর হাটা থেকে, কোন অংশে কম অলৌকিক মনে হবে না। আমাদের সেটি সংকেতের ভীনগ্রহবাসীরা আমাদের কাছে দেবতাদের মতই মনে হতে পারে, যেমন করে, মিশনারীদের মনে করেছিল ( এবং তারা যেভাবে তাদের অযোগ্য সন্মানকে অপব্যবহার করেছে চরমভাবে) প্রস্তর যুগীয় সভ্যতার মানুষরা যখন তারা তাদের দেশে এসেছিল অস্ত্র, টেলিস্কোপ, দিয়াশলাই আর পরবর্তী গ্রহনের তারিখ সেকেন্ড পর্যন্ত্য নির্ণয়ের জন্য পঞ্জিকা সাথে নিয়ে।
তাহলে কোন অর্থে, অতি উন্নত সেটি ভীনগ্রহীরা দেবতা হবে না? তাহলে কোন অর্থে তারা অতিমানবীয় হবে, তবে অতিপ্রাকৃত হবে না? খুব গুরুত্বপুর্ন একটি অর্থে, যা এই বইটির অন্তর্নিহিত বক্তব্য। দেবতা আর দেবতাতুল্য ভীনগ্রহীদের মধ্যে পার্থক্য তাদের গুনাবলীতে না,তাদের উৎপত্তিতে। যে কোন প্রানী যা এত জটিল যে তার বুদ্ধিমত্তা আছে, সে একটি বিবর্তন পক্রিয়ার ফসল। যখন তাদের সাথে আমাদের দেখা হবে তখন যতই তাদের দেবতাতুল্য মনে হোক না কেন, তাদের শুরুটা কিন্তু এভাবে হয়নি। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর লেখক যেমন, ড্যানিয়েল এফ গালোউয়ে, ‘কাউন্টারফিট ওয়ার্ল্ড’ এ এমনকি প্রস্তাব করেছেন ( আমি চিন্তা করতে পারছি না কিভাবে তা ভুল প্রমান করব) যে আমরা কম্পিউটারের সৃষ্ট কাল্পনিক জগতে বাস করছি যা নিয়ন্ত্রন করছে অতি উন্নত একটি সভ্যতা। কিন্তু যারা এই জগতটা তৈরী করেছে তাদেরও কোন এক জায়গা থেকে আসতে হবে। সম্ভাবনার নীতি অনুযায়ী সরল সাধারন পুর্বসুরী ছাড়া তাদের স্বতঃস্ফুর্তভাবে সৃষ্ট হবার সকল ধারনা নাকচ হয়ে যায়। তারাও সম্ভবতঃ তাদের অস্বিত্ত্বের জন্য এক ধরনের( হয়ত অপরিচিত এবং ভিন্ন) ডারউইনবাদের কাছের ঋণী: ড্যানিয়েল ডেনেটের শব্দ ব্যবহার করে বলা যায় ’স্কাইহুকের’ ‘ পরিবর্তে একধরনের ক্রমবর্ধমান (একদিকে ঘুরতে পারে এমন) হুক সমৃদ্ধ দাঁতালো চাকাযুক্ত ‘’’ক্রেইন’ [৩৫] ; স্কাইহুক – সব দেবতাসহ -শুধুমাত্র যাদুর খেলা। তারা প্রকৃতার্থে আন্তরিকভাবে কোন কিছুর ব্যাখ্যা করে না, এবং তাদের প্রদত্ত ব্যাখ্যার চেয়ে আরো বেশী ব্যাখ্যা প্রয়োজনীয়িতা অবশিষ্ট থেকে যায়। ক্রেইন হলো সেই ব্যাখ্যাকারী যন্ত্র, যা আসলে পূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম। আর প্রাকৃতিক নির্বাচন হলো সর্বকালের সেরা ক্রেইন। যা জীবনকে আদিমতম সরলতা থেকে জটিলতা, সৌন্দর্য্য আর সুস্পষ্টরুপে প্রতীয়মান নকশার সুউচ্চ শিখরে নিয়ে গেছে যা আমাদের বিস্মিত করে আজ। চতুর্থ অধ্যায়ে ‘’কেন প্রায় নিশ্চিৎভাবে কোন ঈশ্বর নেই’ এর এটাই হবে মুল ভাব । কিন্তু প্রথমে, সক্রিয়ভাবে ঈশ্বরের অস্তিত্ত্বকে অবিশ্বাস করার আমার মুল কারনে প্রবেশের আগে, আমার দ্বায়িত্ব হল বিশ্বাসের স্বপক্ষে ঐতিহাসিক সময় থেকে প্রস্তাবিত সকল ইতিবাচক যুক্তিগুলো খন্ডন করা।

(((((((((((((((((((((((((((((( দ্বিতীয় অধ্যায় সমাপ্ত । চলবে)))))))))))))))))))))))
[৩৪] http://vo.obspm.fr/exoplanetes/encyclo/encycl.html.
[৩৫] Dennett, D. (1995). Darwin’s Dangerous Idea. New York: Simon & Schuster.










